প্রশ্নের বর্ণনা

a ট্রাম দুর্ঘটনায়
b নৌকাডুবিতে
c আত্মহত্যা করে
d সর্প দংশনে
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) সর্প দংশনে ১. কেন সঠিক: শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথমা স্ত্রীর নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া। বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের লেখা চৈতন্যভাগবত ও অন্যান্য জীবনীগ্রন্থ অনুযায়ী, শ্রী চৈতন্যদেব যখন শিক্ষার্থে অধ্যয়নাধীন ছিলেন, তখন তাঁর প্রথমা স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়া সর্প দংশনে মারা যান। এই ঘটনা শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনের একটি অন্যতম মর্মান্তিক মোড় এবং তাঁর পরবর্তী বৈরাগ্য সাধনার পথে প্রারম্ভিক ভূমিকা পালন করেছিল। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: শ্রী চৈতন্যদেব বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীর প্রাণপুরুষ এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক। তাঁর জীবন ও সাধনাকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে এক বিশাল জীবনীসাহিত্য ধারা গড়ে ওঠে। মুরারি গুপ্তের কড়চা, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত এবং বৃন্দাবনদাসের চৈতন্যভাগবত এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চৈতন্যভাগবত ব্যাখ্যা: বৃন্দাবনদাস ঠাকুর রচিত এই গ্রন্থটিতে শ্রী চৈতন্যদেবের জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের সমস্ত প্রারম্ভিক ও অন্ত্যলীলা বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ আছে। উদাহরণ ২: চৈতন্যচরিতামৃত ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জীবনীমূলক ও দার্শনিক গ্রন্থ যা শ্রী চৈতন্যদেবের পরবর্তী জীবন ও দর্শন প্রচার করে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) ট্রাম দুর্ঘটনায় — শ্রী চৈতন্যদেবের আমলে বাংলায় ট্রামের কোনো প্রচলনই ছিল না কারণ ট্রাম আবিষ্কৃত ও চালিত হয়েছে অনেক পরে আধুনিক যুগে। B) নৌকাডুবিতে — লক্ষ্মীপ্রিয়ার মৃত্যুর ক্ষেত্রে নৌকাডুবির কোনো ঐতিহাসিক বা সাহিত্যিক প্রমাণ চৈতন্যজীবনীগ্রন্থে পাওয়া যায় না। C) আত্মহত্যা করে — বৈষ্ণব শাস্ত্র ও মধ্যযুগের জীবনীগ্রন্থে লক্ষ্মীপ্রিয়ার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সর্প দংশনের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, আত্মহত্যা নয়। D) সর্প দংশনে — এই অপশনটি সঠিক কারণ ঐতিহাসিক চৈতন্যজীবনীগ্রন্থে তাঁর মৃত্যুর এই কারণটিই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ৫ মনে রাখার টিপস: শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথমা স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়া বিষাক্ত সাপের কামড়ে বা সর্প দংশনে মারা গিয়েছিলেন এই তথ্যটি মনে রাখার জন্য শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথমা স্ত্রীর নাম এবং মৃত্যুর কারণ একসঙ্গে মুখস্থ রাখতে পারো। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের জীবনীকাব্যের প্রধান পুরুষ শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনের নানা ঘটনা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চৈতন্যভাগবত ও চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের রচয়িতাদের নাম বারবার পরীক্ষায় আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0