প্রশ্নের বর্ণনা

a গোবিন্দ দাস
b চূড়ামণি দাস
c অদ্বৈতবর্মণ
d সুকুমার সেন
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) অদ্বৈতবর্মণ ১. কেন সঠিক: - প্রদত্ত প্রশ্নটিতে একটি ঐতিহাসিক ভুল রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নে অনেক সময় এ ধরনের ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর অপশন থাকতে পারে। বাংলা সাহিত্য ইতিহাস অনুযায়ী শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে জীবনী সাহিত্য বা পদাবলী রচিত হয়েছিল, কিন্তু অদ্বৈতবর্মণ কোনো চৈতন্য জীবনীকার নন। - অদ্বৈতবর্মণ হলেন আধুনিক যুগের একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, যিনি মূলত জেলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে বিখ্যাত তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি রচনা করেছেন। ফলে প্রশ্ন ও উত্তরের এই মেলবন্ধনটি পরীক্ষামূলক বা তথ্যের দিক থেকে সঠিক নয়। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে রচিত জীবনী সাহিত্যকে চৈতন্য জীবনী সাহিত্য বলা হয়। এর মধ্যে বৃন্দাবাস দাসের চৈতন্যভাগবত, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত এবং লোচন দাসের চৈতন্যমঙ্গল অত্যন্ত বিখ্যাত। - অদ্বৈতবর্মণ ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের জন্য অমর হয়ে আছেন, যা বাংলা আঞ্চলিক উপন্যাসের একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চৈতন্যভাগবত ব্যাখ্যা: এটি বৃন্দাবন দাস কর্তৃক রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনের ওপর আধারিত প্রথম বাংলা জীবনী গ্রন্থ। উদাহরণ ২: তিতাস একটি নদীর নাম ব্যাখ্যা: এটি অদ্বৈতবর্মণ রচিত কালজয়ী উপন্যাস যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর তীরবর্তী মালো সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে রচিত। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) গোবিন্দ দাস — গোবিন্দ দাস একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা এবং চৈতন্য পরবর্তী যুগের কবি হলেও তিনি মূল জীবনীকার নন, তাই এটি সরাসরি সঠিক নয়। B) চূড়ামণি দাস — চূড়ামণি দাস বৈষ্ণব সাহিত্যের একজন গৌণ কবি বা লেখক, যার সঙ্গে চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের প্রধান ধারা সরাসরি যুক্ত নয়। C) অদ্বৈতবর্মণ — প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত উত্তর হিসেবে এটি থাকলেও এটি আধুনিক উপন্যাসের সঙ্গে জড়িত, মধ্যযুগীয় চৈতন্য জীবনীর সঙ্গে নয়। D) সুকুমার সেন — সুকুমার সেন একজন আধুনিককালের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক, যিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লিখেছেন কিন্তু চৈতন্য জীবনীকার নন। ৫. মনে রাখার টিপস: - মধ্যযুগের চৈতন্য জীবনীকারদের মধ্যে বৃন্দাবন দাস এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের নাম মনে রাখবে। - অদ্বৈতবর্মণ নামটি দেখলেই তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির কথা স্মরণ রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন আসতে পারে, তাই মূল সাহিত্য ইতিহাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। - মধ্যযুগের জীবনী সাহিত্য এবং আধুনিক উপন্যাসের লেখকদের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0