প্রশ্নের বর্ণনা

a নাসির উদ্দীন শাহ
b মুর্শিদ কুলি খাঁ
c শাহ সুজা
d আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ১. কেন সঠিক: - মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। - তাঁর আমলেই বাংলা সাহিত্য সংস্কৃত ও আরবি-ফারসি ভাষার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে দেশীয় রূপ লাভ করতে শুরু করে এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: - আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ১৫০৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গৌড়ের সুলতান ছিলেন এবং তাঁর রাজত্বকাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত। - তাঁর সেনাপতি ও মন্ত্রীদের উদ্যোগে এবং তাঁর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও পুরাণ গ্রন্থসমূহ বাংলায় অনূদিত হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার প্রথম বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। ব্যাখ্যা: হুসেন শাহের আমলেই তিনি রাজকীয় অনুকম্পায় মহাভারতের অংশবিশেষ বাংলায় অনুবাদ করেন। উদাহরণ ২: মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য। ব্যাখ্যা: এই কাব্য রচনার জন্য সুলতান তাঁকে গুণরাজ খাঁ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন যা সাহিত্যের বড় স্বীকৃতি। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) নাসির উদ্দীন শাহ — তিনি বাংলার একজন সুলতান হলেও অনুবাদ সাহিত্যে হুসেন শাহের মতো তাঁর ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। B) মুর্শিদ কুলি খাঁ — তিনি বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব ছিলেন এবং তাঁর সময়কাল মধ্যযুগের শেষভাগ ও নবাবী আমলের অন্তর্ভুক্ত। C) শাহ সুজা — তিনি মোগল যুবরাজ ও বাংলার সুবাদার ছিলেন, তবে অনুবাদ সাহিত্যে তাঁর চেয়ে হুসেন শাহের অবদান অনেক বেশি প্রসিদ্ধ। D) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য। ৫ মনে রাখার টিপস: - মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যে হুসেন শাহ মানেই রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বর্ণযুগের সূচনা। - হুসেন শাহের নাম দেখলে অনুবাদ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও গুণরাজ খাঁ উপাধির কথা মনে রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক শাসক হিসেবে আলাউদ্দিন হুসেন শাহের নাম সবচেয়ে বেশিবার আসে। - শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসুকে প্রাপ্ত গুণরাজ খাঁ উপাধি সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য পরীক্ষায় দেখা যায়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0