প্রশ্নের বর্ণনা

a রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
b বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
c ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
d প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১. কেন সঠিক: বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্নের সফল প্রবক্তা হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থে প্রথম সঠিকভাবে যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের মৃত ও জটিল শৈলী দূর করে তাকে সহজ ও প্রাঞ্জল করে তোলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলা বাক্যে কমা, কোলন, সেমিকোলন এবং দাড়ি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: ভ্রান্তিজনিবর্ষণ ও অন্যান্য রচনায় তিনি যতিচিহ্নের পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে বাক্যের অর্থ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ব্যাখ্যা: যতিচিহ্ন না থাকলে বাক্যের ভাব বা অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে, যা বিদ্যাসাগর অনুধাবন করেছিলেন। উদাহরণ ২: সীতার বনবাস গ্রন্থেও তিনি যতিচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ দেখিয়েছেন। এর ফলে পাঠকের পক্ষে মূল অর্থ বুঝতে সুবিধা হয়। ব্যাখ্যা: বিরামচিহ্ন গদ্যের গতি ও বিরতির স্থান নির্ধারণ করে, যা বিদ্যাসাগর সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার ছোঁয়া দিলেও যতিচিহ্নের প্রবক্তা নন। তবে তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের ব্যবহার আরও পরিশীলিত করেছেন। B) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — তিনি বাংলা উপন্যাসের জনক এবং প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক। কিন্তু যতিচিহ্নের প্রচলন তিনি করেননি। D) প্রমথ চৌধুরী — তিনি বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষার রীতির প্রবক্তা এবং সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক। তবে তিনি যতিচিহ্নের প্রবক্তা নন। ৫. মনে রাখার টিপস: বিদ্যাসাগরের বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থ দিয়েই যতিচিহ্নের যাত্রা শুরু হয়। এভাবে মনে রাখতে পারো যে বিদ্যাসাগর মানেই বিরামচিহ্নের কারিগর। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বাংলা গদ্যে প্রথম যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয় ১৮৪৭ সালে। একই সঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের স্থপতি বলা হয়।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0