প্রশ্নের বর্ণনা

a মহাভারত
b চর্যাপদ
c রামায়ণ
d জঙ্গনামা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) চর্যাপদ ১. কেন সঠিক: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ, যা মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধনা ও ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশের গান। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে এই প্রাচীন পুথি আবিষ্কার করেন। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র প্রামাণ্য নিদর্শন, যার সময়কাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ঐতিহাসিক ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছেন যে চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার আদি রূপ। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চর্যাকরণের পদকর্তা কাহ্নপা বা কৃষ্ণপাদ সর্বাধিক পদের রচয়িতা। ব্যাখ্যা: তিনি চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অর্থাৎ তেরোটি পদ রচনা করেছেন যা প্রাচীন যুগের সাহিত্যিক অবদানের এক অনন্য উদাহরণ। উদাহরণ ২: চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা। ব্যাখ্যা: কে প্রথম পদটি রচনা করেছেন তা নির্ণয় করতে গিয়ে গবেষকরা লুইপাকে চর্যাপদের আদি কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) মহাভারত — এটি সংস্কৃত ভাষার একটি প্রাচীন মহাকাব্য যা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন নয় বরং পরবর্তী সময়ে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। C) রামায়ণ — এটিও একটি সংস্কৃত মহাকাব্য এবং বাল্মীকি কর্তৃক রচিত, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয় না। D) জঙ্গনামা — এটি মধ্যযুগের মুসলিম সাহিত্য ধারার একটি কাব্য যেখানে ঐতিহাসিক যুদ্ধ বা কারবালার বিষাদময় ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ৫. মনে রাখার টিপস: চর্যাপদ হলো প্রাচীন বাংলার আদি গান, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে এর সন্ধান পান। এভাবে মনে রাখলে পরীক্ষায় সহজে উত্তর করা সম্ভব। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চর্যাপদের আবিষ্কারক, প্রাপ্ত স্থান এবং পদকর্তা সম্পর্কে প্রশ্ন প্রায়ই আসে। প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্দেশক হিসেবে চর্যাপদের ইতিহাস বারবার চর্চা করা জরুরি।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0