প্রশ্নের বর্ণনা

a প্রাকৃত পৈঙ্গল
b মনসামঙ্গল
c সেকসুভোদয়া
d শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: D) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১. কেন সঠিক: - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি মূলত নাট্যধর্মী সংলাপ বা কথোপকথনের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে, যার কারণে এটিকে নাট্যগুণসম্পন্ন আখ্যান কাব্য বলা হয়। - এই কাব্যের পদগুলো রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই এই তিনটি নির্দিষ্ট চরিত্রের পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে নাটকীয় রূপ লাভ করেছে। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস এবং এটি ১৯০৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার করেন। - এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন এবং এতে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের পৌরাণিক কাহিনীর নাটকীয় ও লৌকিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: মেঘনাদবধ কাব্য ব্যাখ্যা: এটি মহাকাব্য হলেও এর বিভিন্ন সর্গে চমৎকার নাটকীয় দ্বন্দ্ব ও সংলাপ লক্ষ করা যায়। উদাহরণ ২: পদাবলী সাহিত্য ব্যাখ্যা: পদাবলী সাহিত্যেও রাধা-কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রের কথোপকথনমূলক ভাব প্রকাশ পায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) প্রাকৃত পৈঙ্গল — এটি কোনো আখ্যান কাব্য নয়, বরং প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার ছন্দের ওপর রচিত একটি ব্যাকরণ ও ছন্দগ্রন্থ। B) মনসামঙ্গল — এটি মঙ্গলকাব্য ধারার সাহিত্য, যা দেবী মনসার মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত এবং এতে নাট্যগুণপ্রধান সংলাপের আধিক্য নেই। C) সেকসুভোদয়া — এটি গদ্য ও পদ্যে মিশ্রিত একটি ঐতিহাসিক বা লৌকিক বিবরণমূলক গ্রন্থ, যা আখ্যান কাব্য বা নাট্যগুণসম্পন্ন গ্রন্থ নয়। D) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — এটি নাট্যগুণসম্পন্ন আখ্যান কাব্য হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক। ৫ মনে রাখার টিপস: নাট্যগুণ মানেই চরিত্রের সংলাপ এবং শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে রাধা-কৃষ্ণ-বড়াইয়ের সংলাপ আছে। তাই সংলাপ বা নাট্যগুণ থাকলেই উত্তর হবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। ৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মধ্যযুগের কাব্যের মধ্যে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণকীর্তনেই সংলাপধর্মিতা বা নাট্যগুণ স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0