প্রশ্নের বর্ণনা

a অক্ষরবৃত্ত
b মাত্রাবৃত্ত
c স্বরবৃত্ত
d অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) মাত্রাবৃত্ত ১. কেন সঠিক: চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পদ সংকলন যা মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। মাত্রাবৃত্ত ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর ধ্বনিপ্রধান বা ঝোঁকপ্রধান চরিত্র এবং মুক্তাক্ষরের গণনা ও রুদ্ধাক্ষরের বিশেষ মান। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: চর্যাপদ মূলত বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র প্রামাণিক নিদর্শন যা আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এর ছন্দ মাত্রাবৃত্ত ছন্দের আদি রূপ বা সান্ধ্য ভাষা নির্দেশ করে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: তিলকাদেও মইলি হ রে ব্যাখ্যা: চর্যাপদের এই পংক্তিটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রাকৃত রূপ অনুযায়ী পঠিত হয় যেখানে মাত্রার গণনা রক্ষা পায়। উদাহরণ ২: জয় জয় শ্রীনিবাস ভকত বচ্ছল ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের পদাবলীতেও এই মাত্রাবৃত্ত ছন্দের ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) অক্ষরবৃত্ত — অক্ষরবৃত্ত ছন্দ মূলত আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান ছন্দ যার উদ্ভব ও বিকাশ চর্যাপদের যুগে হয়নি। B) মাত্রাবৃত্ত — এই অপশনটি সঠিক এবং চর্যাপদের পংক্তিগুলো মূলত এই মাত্রাবৃত্ত ছন্দের নিয়মে বিন্যস্ত। C) স্বরবৃত্ত — স্বরবৃত্ত ছন্দ হলো ছড়ার ছন্দ যা দ্রুত লয়ে পঠিত হয় এবং চর্যাপদ এই ছন্দে রচিত নয়। D) অমিত্রাক্ষর ছন্দ — মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে এই অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন যা চর্যাপদের শত শত বছর পরের সৃষ্টি। ৫. মনে রাখার টিপস: চর্যাপদ মানেই প্রাচীন যুগ এবং প্রাচীন যুগের ছন্দ হলো মাত্রাবৃত্ত। প্রাচীন নিদর্শন মনে রাখতে চর্যাপদের ছন্দের নাম মাত্রাবৃত্ত হিসেবে সহজে মনে রাখা যায়। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: চর্যাপদ কোন যুগের নিদর্শন এবং এর ছন্দ কী, এটি বিসিএস ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্দেশক হিসেবে চর্যাপদের ছন্দ সংক্রান্ত প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0