প্রশ্নের বর্ণনা

a রোমান্টিসিজম
b আধুনিকতাবাদ
c উত্তরাধুনিকতাবাদ
d বাস্তববাদ
0 10 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) উত্তরাধুনিকতাবাদ ১. কেন সঠিক: উত্তরাধুনিকতাবাদ হলো বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একটি সাহিত্যিক ও দার্শনিক ধারা, যা চরম নৈরাশ্যবাদ, খণ্ডিত সত্য এবং অস্তিত্বের অর্থহীনতার প্রকাশ ঘটায়। এই ধারার তাত্ত্বিকেরা মানুষের জীবনের সার্বজনীন কোনো অর্থ বা মুক্তির মহান narratives বা তত্ত্বকে অস্বীকার করে মানুষের অন্তহীন নিঃসঙ্গতা ও হতাশাকে তুলে ধরেন। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: উত্তরাধুনিকতাবাদ মূলত আধুনিকতাবাদের পরবর্তী পর্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বযুদ্ধোত্তর মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ ও হতাশা চরম রূপ নেয়। এই সাহিত্য আদর্শে মানবজীবনের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ইতিবাচক সমাপ্তির পরিবর্তে বিভ্রান্তি, বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং নৈরাশ্যবাদ প্রধান হয়ে ওঠে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: স্যামুয়েল বেকেটের নাটক ওয়েটিং ফর গডোট। ব্যাখ্যা: এটি উত্তরাধুনিক সাহিত্যের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ, যেখানে চরিত্রগুলো অন্তহীন ও অর্থহীন অপেক্ষার মধ্য দিয়ে চরম নৈরাশ্যবাদের প্রকাশ ঘটিয়েছে। উদাহরণ ২: ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কামুর উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা অস্তিত্ববাদ ও জীবনের অর্থহীনতা। ব্যাখ্যা: এই সাহিত্যকর্মে মানুষের অস্তিত্বের সংকট এবং পারিপার্শ্বিকতার কাছে অসহায়ত্ব নৈরাশ্যবাদী দর্শনেরই প্রতিফলন ঘটায়। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) রোমান্টিসিজম — এটি কল্পনা, আবেগ, প্রকৃতিপ্রীতি এবং আশাবাদিতা প্রকাশ করে, নৈরাশ্যবাদ এর মূল সুর নয়। B) আধুনিকতাবাদ — এতে যান্ত্রিক সভ্যতার বিরূপ প্রভাব ও বিচ্ছিন্নতা থাকলেও উত্তরাধুনিকতাবাদের মতো চরম নৈরাশ্যবাদ এককভাবে প্রধান নয়। D) বাস্তববাদ — বাস্তববাদ জীবনের নির্মম সত্যকে তুলে ধরে, তবে তা সরাসরি কোনো দার্শনিক নৈরাশ্যবাদকে নির্দেশ করে না। ৫. মনে রাখার টিপস: আধুনিক মানুষ যখন সব বিশ্বাস হারিয়ে চরম হতাশায় ভোগে এবং জীবনের কোনো অর্থ খুঁজে পায় না, তখন তাকে উত্তরাধুনিকতাবাদের নৈরাশ্যবাদ হিসেবে মনে রাখবে। উত্তরাধুনিকতা মানেই সব ব্যবস্থার ভাঙন এবং জীবনের অর্থহীনতা ও নৈরাশ্যবাদের জয়জয়কার। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাহিত্যতত্ত্ব বা সাহিত্য দর্শন থেকে প্রশ্ন আসলে বিভিন্ন মতবাদের মূল সুর যেমন নৈরাশ্যবাদ বা আশাবাদিতা ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। সাহিত্যের বিভিন্ন ধারার জন্মলগ্ন এবং তাদের মূল দার্শনিক ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে সহজেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা সম্ভব।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0