প্রশ্নের বর্ণনা

a চণ্ডীদাস
b জ্ঞানদাস
c গোবিন্দদাস
d কৃষ্ণদাস
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) গোবিন্দদাস ১. কেন সঠিক: - গোবিন্দদাস কবি বিদ্যাপতির পদাবলির ভাব, ভাষা ও সুর নিখুঁতভাবে অনুকরণ করেছিলেন বলে তাঁকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয়। - বাংলা বৈষ্ণব পদসাহিত্যে বিদ্যাপতির ব্রজবলি ভাষার প্রভাব গোবিন্দদাসের কবিতায় সবচেয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - গোবিন্দদাস ছিলেন ষোড়শ শতকের শেষার্ধ ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব পদকর্তা এবং তাঁকে রাজকবি হিসেবেও গণ্য করা হতো। - বিদ্যাপতি মৈথিলি কবি হলেও তাঁর পদ বাংলার বৈষ্ণব সাধক ও কবিদের অত্যন্ত প্রভাবিত করেছিল এবং তাঁর অনুসারীরা ব্রজবলি ভাষায় কবিতা রচনা করতেন। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: গোবিন্দদাসের পদ সুবলিত ও অলংকারসমৃদ্ধ হওয়ায় তা বিদ্যাপতির সমকক্ষ বলে বিবেচিত হয়। ব্যাখ্যা: তাঁর পদের সুর ও ভাষার মাধুর্য বিদ্যাপতির পদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। উদাহরণ ২: ব্রজবলি ভাষায় রচিত তাঁর পদগুলোতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অত্যন্ত শিল্পমণ্ডিত রূপে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাখ্যা: এই সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যই তাঁকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য হিসেবে পরিচিত করেছে। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) চণ্ডীদাস — চণ্ডীদাস বাঙালি পদকর্তা এবং তিনি বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য নন, বরং বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের সহজিয়া প্রেমের কবি। B) জ্ঞানদাস — জ্ঞানদাস শ্রীচৈতন্যের ভাবশিষ্য এবং বিদ্যাপতির পদের অনুসারী হলেও তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয় না। C) গোবিন্দদাস — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই এবং এটিই পরীক্ষিত সাহিত্যিক সত্য। D) কৃষ্ণদাস — কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যচরিতামৃতের রচয়িতা এবং তিনি মূলত জীবনচরিত ও তত্ত্বমূলক গ্রন্থ রচনার জন্য বিখ্যাত। ৫. মনে রাখার টিপস: - বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য মনে রাখতে গোবিন্দদাসের নামের সাথে বিদ্যাপতির শৈল্পিক মিলের বিষয়টি মাথায় রাখবে। - ব্রজবলি ভাষার শ্রেষ্ঠ অনুসারী হিসেবে গোবিন্দদাস নামটির সাথে বিদ্যাপতি নামটির সংযোগ মনে রাখা সহজ। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈষ্ণব পদকর্তাদের উপাধি ও গুরু-শিষ্য সম্পর্ক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। - পদসাহিত্যের কবিদের মূল ভাষা এবং তাঁদের রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 181 0 0