প্রশ্নের বর্ণনা

a মিথিলা
b নাটোর
c রোসাঙ্গ
d ত্রিপুরা
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) রোসাঙ্গ ১. কেন সঠিক: মহাকবি আলাওল সপ্তদশ শতকের মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং তিনি তৎকালীন আরাকান রাজসভার, যা রোসাঙ্গ রাজসভা নামে পরিচিত, অন্যতম প্রধান রত্ন ছিলেন। এই রাজসভায় বসে তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রীমন্ত মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তাঁর বিখ্যাত মহাকাব্য পদ্মাবতী রচনা করেন। ২. সাহিত্য ব্যাখ্যা: আলাওল ষোড়শ শতকের শেষভাগ বা সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর কর্মজীবন কাটে আরাকান রাজসভায়। রোসাঙ্গ বা আরাকান রাজসভা সে সময়ে বাঙালি কবি ও সাহিত্যিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও পৃষ্ঠপোষকতাপূর্ণ আশ্রয়স্থল ছিল যেখানে বাংলা ও ফারসি সাহিত্য সংস্কৃতির অপূর্ব মিলন ঘটেছিল। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ব্যাখ্যা: এটি আলাওলের একটি বিখ্যাত প্রণয়োপাখ্যানমূলক কাব্য যা তিনি রোসাঙ্গ রাজসভার অমাত্য সোলায়মানের অনুরোধে রচনা করেন। উদাহরণ ২: সপ্তপয়কর ব্যাখ্যা: এই কাব্যটিও আলাওল রোসাঙ্গ রাজসভায় অবস্থানকালেই ফারসি ভাষার অনুসরণে বাংলায় অনুবাদ ও রূপান্তর করেন। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) মিথিলা — মিথিলা অঞ্চলের রাজসভা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিদ্যাপতি ও উমাপতি ধরের মতো মৈথিলি ও সংস্কৃত ভাষার কবিদের জন্য বিখ্যাত ছিল, যেখানে আলাওল যুক্ত ছিলেন না। B) নাটোর — নাটোর রাজসভা পরবর্তীকালের বাংলা জমিদারির ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হলেও মধ্যযুগের রোসাঙ্গ রাজসভার মতো আলাওলের সাহিত্যকর্মের কেন্দ্র ছিল না। D) ত্রিপুরা — ত্রিপুরার রাজসভা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করলেও কবি আলাওল এই রাজসভার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। ৫ মনে রাখার টিপস: মধ্যযুগের রোসাঙ্গ রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন আলাওল এবং তাঁর অমর সৃষ্টি পদ্মাবতী এই রাজসভাতেই রচিত হয়েছিল। পরীক্ষায় আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভা দেখলে সবসময় কবি আলাওলের কথা মাথায় রাখবে। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে মধ্যযুগের কোন কবি আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন, যার উত্তর হবে আলাওল। একইভাবে দৌত কাজীর নামও আরাকান রাজসভার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা মনে রাখা জরুরি।

Leave a Comment

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

a কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
b চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো
c সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
d বোঝার উপরে শাকের আঁটি
0 161 0 0
ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: C) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে ১. কেন সঠিক: - 'উভয়কুল রক্ষা' বা উভয় পক্ষের স্বার্থ ঠিক রেখে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বোঝাতে 'সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে' প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। - প্রবচনটির আক্ষরিক অর্থ হলো এমনভাবে সাপ মারা যেন লাঠিটি না ভাঙে, যা রূপক অর্থে কোনো ক্ষতি বা কষ্ট ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা: - এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা প্রবচন, যা মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে। - প্রবচনগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বক্তব্যের ভাবকে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ৩. উদাহরণ: উদাহরণ ১: চোরও পালাবে, আবার মালও বাঁচবে। ব্যাখ্যা: এটি একই রকম আরেকটি প্রবচন যা উভয়পক্ষের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল বোঝায়। উদাহরণ ২: দুধও থাকে, তলাও পোড়ে না। ব্যাখ্যা: এটি এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হয় না। ৪. বাকি অপশন কেন ভুল: A) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ — এই প্রবচনটির অর্থ একজনের সৌভাগ্য বা লাভের বিপরীতে অন্যজনের চরম ক্ষতি হওয়া। B) চাল না চুলো, ঢোকা না কুলো — এই প্রবচনটির অর্থ অত্যন্ত দরিদ্র বা সহায়সম্বলহীন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। D) বোঝার উপরে শাকের আঁটি — এই প্রবচনটির অর্থ অতিরিক্ত বোঝা বা নতুন বিপদের ওপর আরও একটি বিপদ আসা। ৫. মনে রাখার টিপস: - উভয়কুল রক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন সাপ এবং লাঠি উভয়কেই বাঁচাতে হয়, তাই সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে প্রবচনটি সঠিক। ৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: - প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা ও প্রবচনের অর্থ প্রায়ই আসে, তাই এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
a যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
b অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
c নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
d যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
0 180 0 0