সঠিক উত্তর: D) মাকড়সা
কেন সঠিক:
- ‘ঊর্ণনাভ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো যার নাভি থেকে ঊর্ণা বা জাল নির্গত হয়।
- মাকড়সা তার শরীর থেকে বিশেষ রস নিঃসরণ করে জাল বা ঊর্ণা তৈরি করে বলে একে ঊর্ণনাভ বলা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যা বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বহুযুগের বাংলা সাহিত্য এবং অভিধানে এই বিশেষ শব্দটি পতঙ্গ বা কীট জাতীয় প্রাণীর ক্ষেত্রে মাকড়সাকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- যেমন: বহু প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাব্য এবং আধুনিক বাংলা অভিধানে মাকড়সার সমার্থক শব্দ হিসেবে ঊর্ণনাভ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) টিকটিকি — টিকটিকি এক ধরনের সরীসৃপ প্রাণী এবং এর সাথে জালের কোনো সম্পর্ক নেই।
- B) তেলেপোকা — তেলেপোকা বা আরশোলা হলো ব্লাটোপ্রিডা গোত্রের একটি পোকা যা ময়লা আবর্জনায় থাকে।
- C) ইউপোকা — ইউপোকা বলতে কোনো স্বীকৃত প্রাণী বোঝায় না, এটি মূলত উইপোকা শব্দের কাছাকাছি একটি বিভ্রান্তিকর অপশন।
- D) মাকড়সা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
- ঊর্ণা শব্দের অর্থ জাল এবং নাভ অর্থ নাভি, তাই যার নাভি থেকে জাল বের হয় সেই হলো মাকড়সা।
সঠিক উত্তর: A) ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত শব্দযুগলে ঐচ্ছিক শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ঐচ্ছিক নয়, বরং ঐচ্ছিক শব্দের সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক।
- অনাবশ্যিক শব্দটির সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো অবশ্যম্ভাবী বা প্রয়োজনীয়, তাই এই জোড়াটি বিপরীতার্থক শব্দ হিসেবে সঠিক নয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- বিপরীতার্থক শব্দ হলো এমন দুটি শব্দ যা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত বা উল্টো অর্থ প্রকাশ করে এবং এদের মধ্যে অর্থের বৈপরীত্য থাকে।
- বাংলা ব্যাকরণে বিপরীতার্থক শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে শব্দের উৎস, প্রত্যয় এবং ভাবের মিল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঐচ্ছিক শব্দের বিপরীত শব্দ আবশ্যক।
ব্যাখ্যা: ঐচ্ছিক অর্থ যা ইচ্ছা তাই, আর আবশ্যক অর্থ যা করা বাধ্যতামূলক।
উদাহরণ ২: অনাবশ্যিক শব্দের বিপরীত শব্দ প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: অনাবশ্যিক অর্থ যার প্রয়োজন নেই, আর প্রয়োজনীয় অর্থ যার বিশেষ দরকার আছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক — এটি বিপরীতার্থক নয় কারণ ঐচ্ছিকের বিপরীত আবশ্যক এবং অনাবশ্যিকের বিপরীত প্রয়োজনীয়।
B) কুটিল-সরল — এটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কারণ কুটিল অর্থ বাঁকা বা জটিল এবং সরল অর্থ সহজ বা সোজা।
C) কম-বেশি — এটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কারণ কম অর্থ অল্প এবং বেশি অর্থ অধিক।
D) কদাচার-সদাচার — এটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কারণ কদাচার অর্থ খারাপ আচরণ এবং সদাচার অর্থ ভালো আচরণ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিপরীতার্থক শব্দ পড়ার সময় শব্দের মূল অর্থ ও তার সাপেক্ষে বিপরীত ভাবের সঠিক মিল আছে কি না তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
- পরীক্ষার হলে অপশনের শব্দ দুটির অর্থ মনে মনে মিলিয়ে দেখলেই ভুল জোড়া সহজে আলাদা করা সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এমন শব্দযুগল দেওয়া হয় যা দেখতে বিপরীত মনে হলেও ব্যাকরণগতভাবে সঠিক জোড়া হয় না।
- এই ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য প্রমিত বাংলা অভিধানের সহায়তা নিয়ে শব্দের সঠিক বিপরীত রূপ মুখস্থ রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) পর্তুগীজ
১. কেন সঠিক:
- 'গীর্জা' শব্দটি পর্তুগীজ ভাষার অন্তর্গত কারণ এটি পর্তুগীজ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয় বোঝাতে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
- বাংলা ভাষাভাষীদের সাথে পর্তুগীজদের দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগাযোগের ফলে বিভিন্ন পর্তুগীজ শব্দ বাংলা শব্দভাণ্ডারে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে বিদেশ থেকে আগত শব্দগুলোকে বৈদেশিক বা বিদেশি শব্দ বলা হয়।
- পর্তুগীজ ভাষা থেকে আগত শব্দ মূলত ধর্ম, বাণিজ্য, প্রশাসন ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাদ্রি
ব্যাখ্যা: এটি একটি পর্তুগীজ শব্দ যা খ্রিস্টধর্মের যাজক বোঝাতে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: সাবান
ব্যাখ্যা: এটিও একটি পর্তুগীজ শব্দ যা দৈনন্দিন ব্যবহারের পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফারসী — ফারসী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আইন, আদালত, ধর্ম এবং সংস্কৃতি সংক্রান্ত শব্দ এসেছে, যেমন আদালত, কাগজ। তবে 'গীর্জা' ফারসী ভাষার শব্দ নয়।
B) পর্তুগীজ — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি প্রশ্নের চাহিদার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
C) ওলন্দাজ — ওলন্দাজ বা ডাচ ভাষা থেকে মূলত তাস খেলার শব্দ এবং কিছু বাণিজ্যের শব্দ বাংলায় এসেছে, যেমন হর্তন, ইস্কাপন। কিন্তু 'গীর্জা' ওলন্দাজ শব্দ নয়।
D) পাঞ্জাবী — পাঞ্জাবী ভাষা থেকে কিছু আঞ্চলিক ও বিশেষ শব্দ বাংলায় এসেছে, যেমন শিখ, চাহিদা। তবে 'গীর্জা' পাঞ্জাবী ভাষার শব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার সহজ উপায় হলো খ্রিস্টধর্ম ও দৈনন্দিন জীবনের কিছু নির্দিষ্ট সামগ্রীর নাম যেমন গীর্জা, পাদ্রি, সাবান, আলমারি, চাবি একসঙ্গে মনে রাখা।
- ধর্মীয় উপাসনালয় সংক্রান্ত পর্তুগীজ শব্দের ক্ষেত্রে 'গীর্জা' একটি প্রধান উদাহরণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- পর্তুগীজ ও ওলন্দাজ শব্দগুলোর মধ্যে যেন মিশ্রণ না ঘটে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) কারক
১. কেন সঠিক:
বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলা হয়। কারক শব্দটির অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। কারক প্রধানত ছয় প্রকার যথা কর্তকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক ও অধিকরণ কারক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গাছে ফল ধরেছে।
ব্যাখ্যা: এখানে ধরেছে ক্রিয়ার সাথে গাছে পদটির স্থানবাচক সম্পর্ক থাকায় এটি অধিকরণ কারক।
উদাহরণ ২: বাবাকে ভয় পাও।
ব্যাখ্যা: এখানে ভয় পাও ক্রিয়ার সাথে বাবাকে পদটির ভীতি বা দূরবর্তী গমনের সম্পর্ক থাকায় এটি অপাদান কারক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিভক্তি — শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কারক বা পদ গঠনে সাহায্যকারী বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি হলো বিভক্তি, যা ক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্ক নির্দেশ করে না।
B) কারক — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) প্রত্যয় — প্রকৃতির সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রত্যয় বলে, যা ক্রিয়ার সাথে পদের সম্পর্কের নাম নয়।
D) অনুসর্গ — যে শব্দগুলো স্বাধীন পদরূপে বাক্যের শেষে বসে কারক বোঝাতে সাহায্য করে কিন্তু নিজে সরাসরি ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাক্যে ক্রিয়া পদকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তার ওপর ভিত্তি করে কারক নির্ধারিত হয়। কে বা কারা প্রশ্ন করলে কর্তকারক এবং কী বা কাকেই প্রশ্ন করলে কর্মকারক হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বাক্য থেকে কারক নির্ণয় করতে দেওয়া হয়। ক্রিয়ার সাথে পদের প্রশ্নবাচক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে সঠিক কারক সহজে বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) আলতাফ মাহমুদ
১. কেন সঠিক:
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটির সুরকার হলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদ।
- এই গানটি বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সাংস্কৃতিক স্মারক।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই গানটির প্রথম রচয়িতা ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
- গানটির প্রাথমিক সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ, তবে পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই চূড়ান্তভাবে সর্বজনগ্রাহ্য হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক একটি গান যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মরণে রচিত।
উদাহরণ ২: ভাষা আন্দোলনভিত্তিক অন্যান্য প্রামাণ্য রচনা
ব্যাখ্যা: ভাষা আন্দোলন নিয়ে মুনীর চৌধুরী কবর নাটক এবং জহির রায়হান আরেক ফাল্গুন উপন্যাস রচনা করেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুবীর সাহা — তিনি একজন সংগীতশিল্পী ও সুরকার হলেও এই ঐতিহাসিক গানের সুরকার নন।
B) সুধীন দাস — তিনি রবীন্দ্রসংগীতের প্রখ্যাত স্বরলিপিকার ও শিল্পী হলেও এই গানের সঙ্গে যুক্ত নন।
C) আলতাফ মাহমুদ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
D) আলতাম এমন — এটি একটি বিভ্রান্তিকর ও ভুল নাম যা সঠিক উত্তরের সঙ্গে মেলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- একুশের বিখ্যাত গানের কথা লিখেছেন গাফফার চৌধুরী এবং সুর দিয়েছেন আলতাফ মাহমুদ।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে গানে সুর দিয়ে মাহমুদ ভাই অমর হয়ে আছেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান, কবিতা ও উপন্যাসের রচয়িতা ও সুরকার প্রায়ই আসে।
- এই ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে গীতিকার এবং সুরকারের নাম গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
সঠিক উত্তর: B) হাসান আজিজুল হক
১. কেন সঠিক:
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।
উপন্যাসটি দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এটি লেখকের একটি অত্যন্ত প্রশংসিত দীর্ঘ উপন্যাস।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
হাসান আজিজুল হক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক ও ছোটগল্পকার।
তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আগুন পাখি ছাড়াও রয়েছে সাহেব বাজার ও বৃত্তায়ন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আত্মজা ও একটি করবী গাছ
ব্যাখ্যা: এটি হাসান আজিজুল হকের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও বহুল পঠিত ছোটগল্প।
উদাহরণ ২: জীবনের ঘ্রাণ
ব্যাখ্যা: এটিও হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প সংকলন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাহাত খান — ইনি একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হলেও এই উপন্যাসের রচয়িতা নন।
B) হাসান আজিজুল হক — এই অপশনটি সঠিক এবং তিনি আগুন পাখি উপন্যাসের লেখক।
C) সেলিনা হোসেন — ইনি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হলেও এই গ্রন্থটি তার রচিত নয়।
D) ইমদাদুল হক মিলন — ইনি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হলেও আগুন পাখি তার লেখা উপন্যাস নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
হাসান আজিজুল হক মূলত ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত হলেও তার আগুন পাখি উপন্যাসটি খুব জনপ্রিয়।
লেখক হাসান আজিজুল হক এবং তার আগুন পাখি উপন্যাস এভাবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ ও দেশভাগভিত্তিক উপন্যাস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
দেশভাগভিত্তিক সাহিত্যকর্ম পড়ার সময় লেখকের নাম ও প্রকাশকাল ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ১৯২১ সন
১. কেন সঠিক:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি এবং এটি বাংলা ১৩২৮ সালের কার্তিক মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাল ১৩২৮ বঙ্গাব্দকে খ্রিস্টাব্দে রূপান্তর করলে ১৯২১ সন পাওয়া যায়, যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বিদ্রোহী কবিতার রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, যিনি প্রেমের ও দ্রোহের কবি হিসেবে পরিচিত।
- এই কবিতাটি ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত বিজলি পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যার প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস এবং বিদ্রোহী কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ২: ছায়ানট কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের অপর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে কবির বহু বিপ্লবী ও প্রেমের কবিতা রয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯২৩ সন — এই সনে কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়েছিল, তবে বিদ্রোহী কবিতার প্রকাশকাল এটি নয়।
B) ১৯২১ সন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সনেই বিদ্রোহী কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
C) ১৯১৯ সন — এই সনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে এই সনে বিদ্রোহী কবিতার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
D) ১৯১৮ সন — এই সনে কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি সেনানিবাসে যান, যা কবিতার প্রকাশের সাল নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার জন্ম সাল মনে রাখতে মনে রাখবে ১৯২১ সাল হলো সেই বছর যখন কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়ে বাংলা সাহিত্যে ঝড় তুলেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিদ্রোহী কবিতার রচয়িতা, প্রকাশকাল এবং কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত তা জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: B) এন্টনি ফিরঙ্গি
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে একটি ঐতিহাসিক ভুল বা অসংগতি রয়েছে। প্রদত্ত উত্তর হিসেবে 'এন্টনি ফিরঙ্গি' উল্লেখ করা হলেও, প্রকৃত ইতিহাস অনুযায়ী এন্টনি ফিরঙ্গি ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন না। তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার এই নির্দিষ্ট প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কবিয়াল হিসেবে এন্টনি ফিরঙ্গির সাংস্কৃতিক অবস্থান বা অন্য কোনো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা হলেও, ইয়ংবেঙ্গল বলতে মূলত উনিশ শতকের প্রথম ভাগে হিন্দু কলেজের ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তার তরুণদের বোঝানো হয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
ইয়ংবেঙ্গল বা ডিরোজিয়ানরা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর শিষ্য এবং উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের এক বিপ্লবী অংশ। তারা পাশ্চাত্য শিক্ষা ও দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এন্টনি ফিরঙ্গি ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিখ্যাত বাংলা ভাষার কবিওয়ালা বা কবিয়াল, যিনি পেশায় একজন পর্তুগীজ খ্রিস্টান হলেও বাংলা গানে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রসরাজ অমৃত লাল বসু
ব্যাখ্যা: অমৃত লাল বসু উনিশ শতকের শেষের দিকের একজন বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা যিনি সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রেখেছিলেন।
উদাহরণ ২: কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ডিরোজিওর সরাসরি ছাত্র এবং মূলধারার একজন সক্রিয় ইয়ংবেঙ্গল বা ডিরোজিয়ান নেতা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অক্ষয় কুমার দত্ত — ইনি তত্ত্ববোধিনী সভার সদস্য ও যুক্তিবাদী প্রবন্ধকার ছিলেন, তবে সরাসরি ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন না।
B) এন্টনি ফিরঙ্গি — ইনি অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের একজন জনপ্রিয় কবিয়াল ও গায়ক ছিলেন, যিনি ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
C) মাইকেল মধুসূদন দত্ত — ইনি উনিশ শতকের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মহাকবি ও পাশ্চাত্য ভাবধারায় পুষ্ট হলেও সরাসরি ইয়ংবেঙ্গল দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না।
D) কালীপ্রসন্ন সিংহ ঠাকুর — ইনি বাংলা উপন্যাসের অনুবাদক ও হুতোম প্যাঁচার নকশার রচয়িতা, যিনি মূলত সমসাময়িক সমাজের নানা সংস্কার নিয়ে কাজ করেছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠী বললেই মনে রাখতে হবে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও এবং তাঁর হিন্দু কলেজের তরুণ ছাত্রদের কথা। অন্যদিকে এন্টনি ফিরঙ্গি হলেন প্রাচীন বাংলা গান বা কবিয়াল গানের সঙ্গে জড়িত একজন বিশিষ্ট পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত বাঙালি কবিয়াল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক সময় ভুল প্রশ্ন বা অপশন আসতে পারে, তাই মূল ঐতিহাসিক তথ্য যেমন ডিরোজিও ও তাঁর শিষ্যদের অবদান ভালোভাবে মনে রাখা জরুরি। একই ধরনের সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রশ্নে বিভ্রান্ত না হতে লেখক ও ব্যক্তিত্বদের সঠিক কাল এবং কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’
১. কেন সঠিক:
উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস 'রাজসিংহ' থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রের মানসিক দৃঢ়তা বোঝাতে এই উক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে পরিচিত এবং 'রাজসিংহ' তাঁর একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে ঔরঙ্গজেব ও রাজসিংহের বিরোধ এবং মোগলদের বিরুদ্ধে রাজপুতদের বীরত্বের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই বাংলা উপন্যাসের আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে।
উদাহরণ ২: তাঁর বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস 'বিষবৃক্ষ' ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে তৎকালীন সমাজের পরকীয়া প্রেমের পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’ — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজবাস্তবতা নির্ভর উপন্যাস, যেখানে এই উক্তিটি নেই।
B) শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল দেশপ্রেম ও বিপ্লবী আন্দোলন।
C) শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ — এটি শওকত ওসমানের একটি বিখ্যাত প্রতীকী উপন্যাস, যা আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রূপকধর্মী প্রতিবাদ।
D) বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’ — এই উপন্যাসের সঙ্গে আলোচ্য উদ্ধৃতির সরাসরি মিল রয়েছে এবং এটি সঠিক সাহিত্যকর্ম।
৫ মনে রাখার টিপস:
বঙ্কিমচন্দ্রের একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাসের নাম 'রাজসিংহ' এবং ঐতিহাসিক চরিত্রের কঠোরতা বোঝাতে এই উপন্যাসের উদ্ধৃতি প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো 'রাজসিংহ', যার প্রধান চরিত্র জেবউন্নিসা, মানময়ী ও রাজসিংহ। ঐতিহাসিক উপন্যাস সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্ন সমাধানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্রের এই গ্রন্থটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সঠিক উত্তর: A) যাদের দেখেছি
১. কেন সঠিক:
- যাদের দেখেছি হলো পল্লিকবি জসীম উদ্দীনের লেখা একটি বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে তিনি তাঁর জীবনের সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন গুণী ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিচারণা করেছেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জসীম উদ্দীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি, যিনি পল্লিসাহিত্যের রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচনায় বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতি, জনজীবন ও লোক সংস্কৃতির নিখুঁত রূপ ফুটিয়ে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
ব্যাখ্যা: এটি জসীম উদ্দীনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্মৃতিকথাভিত্তিক রচনা।
উদাহরণ ২: হলুদ বরণ
ব্যাখ্যা: এটি জসীম উদ্দীনের রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যাদের দেখেছি - এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
B) পথে-প্রবাসে - এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও কূটনীতিবিদ সৈয়দ মুজতবা আলী।
C) কাল নিরবধি - এটি শহীদ কাদরী রচিত কোনো বিখ্যাত গ্রন্থ নয়, বরং এটি আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
D) ভবিষ্যতের বাঙালী - এই সমাজচিন্তামূলক ও মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জসীম উদ্দীনের স্মৃতিকথা মনে রাখতে 'যাদের দেখেছি' এবং 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' এই দুটি নাম একসঙ্গে মনে রাখতে পারো।
- পল্লি কবির গদ্য বা স্মৃতিকথা সংক্রান্ত প্রশ্ন এলে এই গ্রন্থগুলোর নাম প্রধানত বিবেচনা করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবি জসীম উদ্দীনের কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি গদ্য ও স্মৃতিকথা থেকেও প্রশ্ন আসে।
- অন্য লেখকদের স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনির সঙ্গে জসীম উদ্দীনের রচনা গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
সঠিক উত্তর: C) ব্রজبুলি
১. কেন সঠিক:
- বৈষ্ণব পদাবলি মূলত কৃষ্ণা ও রাধার প্রেমলীলা বিষয়ক গান, যা ব্রজবুলি ভাষায় রচিত হয়েছে।
- ব্রজবুলি কোনো কথ্য ভাষা নয়, এটি বাংলা ও মৈথিলি ভাষার মিশ্রণে সৃষ্ট এক কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ব্রজবুলি ভাষার আদি কবি বিদ্যাপতি, যিনি মূলত মৈথিলি ভাষার কবি ছিলেন।
- বাংলায় এই ভাষা সার্থকভাবে ব্যবহার করে অমর হয়ে আছেন পদাবলীর মহাকবি চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্যাপতির পদ
ব্যাখ্যা: বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় এই পদ রচনা করলেও বাংলায় তা ব্রজবুলি হিসেবে পরিচিতি পায়।
উদাহরণ ২: জ্ঞানদাসের পদ
ব্যাখ্যা: বাঙালি কবিরা এই কৃত্রিম ভাষা ব্যবহার করে বাংলা সাহিত্যের বৈষ্ণব পদাবলি সমৃদ্ধ করেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সন্ধ্যাভাষা — এটি চর্যাপদের ভাষা, যা প্রাচীন বাংলা ভাষার রূপ। বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
B) অধিভাষা — এটি ভাষা বিজ্ঞানের একটি পরিভাষা, কোনো নির্দিষ্ট সাহিত্যের ভাষা নয়।
ডি) সংস্কৃত ভাষা — বৈষ্ণব পদাবলি সংস্কৃত ভাষায় রচিত নয়, এটি প্রাকৃত ও অবহট্ঠ থেকে আসা ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে বৈষ্ণব পদাবলি মানেই ব্রজবুলি ভাষা এবং এর প্রধান কবি বিদ্যাপতি।
- চর্যাপদ দেখলে সন্ধ্যাভাষা এবং পদাবলি দেখলে ব্রজবুলি মনে রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে ব্রজবুলি কোন ধরনের ভাষা।
- উত্তর হবে এটি একটি কৃত্রিম বা সাহিত্যিক ভাষা।
সঠিক উত্তর: D) বৃন্দাবন দাস
১. কেন সঠিক:
- বৃন্দাবন দাস বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত এবং তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনের ওপর প্রথম প্রামাণিক জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত 'শ্রীচৈতন্যভাগবত' গ্রন্থটিকে শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনীকাব্যের আদি ও প্রামাণিক গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বৃন্দাবন দাস বৈষ্ণব পদকর্তা ও শ্রীচৈতন্যদেবের পার্ষদ শ্রীদাসের শিষ্য এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলার প্রধান প্রচারক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'শ্রীচৈতন্যভাগবত' মূলত দুটি খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে চৈতন্যদেবের জন্ম থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত'
ব্যাখ্যা: এটিও চৈতন্যদেবের জীবনের ওপর রচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণিক জীবনীকাব্য।
উদাহরণ ২: লোচন দাস রচিত 'চৈতন্যমঙ্গল'
ব্যাখ্যা: এটিও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনীভিত্তিক কাব্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফকির গরীবুল্লাহ — তিনি জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত নন, বরং তিনি পুথি সাহিত্যের জন্য পরিচিত।
B) নরহরি চক্রবর্তী — তিনি মূলত পদাবলী সাহিত্য ও বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাস রচনার জন্য পরিচিত, জীবনীকার হিসেবে নন।
C) বিপ্রদাস পিপিলাই — তিনি মনসা মঙ্গল কাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত, কোনো জীবনীকাব্য রচনার জন্য নন।
D) বৃন্দাবন দাস — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি জীবনীকাব্য রচনার জন্যই সর্বাধিক পরিচিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বৃন্দাবন দাস মানেই শ্রীচৈতন্যভাগবত এবং জীবনীকাব্য।
- চৈতন্যদেবের জীবনী মনে রাখতে বৃন্দাবন দাসের নাম সবার আগে আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- শ্রীচৈতন্যভাগবত গ্রন্থের পূর্বনাম ছিল চৈতন্যমঙ্গল।
- মধ্যযুগের জীবনীকাব্যগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
সঠিক উত্তর: A) ময়মনসিংহ গীতিকা
কেন সঠিক:
ময়মনসিংহ গীতিকা কোনো পুঁথি সাহিত্য নয় বরং এটি লোকসাহিত্যের অন্তর্গত একটি বিখ্যাত পালাগান সংকলন।
এই গীতগুলো দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় সংগৃহীত হয়েছিল এবং এটি মূলত লৌকিক ও মৌখিক ঐতিহ্যের ফল।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
পুঁথি সাহিত্য বলতে মধ্যযুগে প্রধানত আরবি ও ফার্সি কাহিনীর অনুসরণে বাংলায় রচিত কাব্যসমূহকে বোঝানো হয়।
লোকসাহিত্য ও পুঁথি সাহিত্যের রূপ, ভাষা এবং রচনারীতি সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়ার পালা বা মলুয়ার পালা লোকসাহিত্যের অনন্য নিদর্শন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ময়মনসিংহ গীতিকা — এটি পুঁথি সাহিত্য নয় বরং বাংলার লোক সংস্কৃতির অন্তর্গত লোকগীতিকা সংকলন।
B) ইউসুফ জুলেখা — এটি শাহ মুহাম্মদ সগির রচিত মধ্যযুগের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ইসলামী পুঁথি সাহিত্য।
C) পদ্মাবতী — এটি সৈয়দ আলাউল রচিত এবং পুঁথি সাহিত্যের ধারাভুক্ত একটি মহাকাব্যিক রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
D) লাইলী মজনু — এটি দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত ফার্সি কাহিনী।
মনে রাখার টিপস:
গীতিকা হলো মানুষের মুখে মুখে ফেরা গান আর পুঁথি হলো কিতাবি বা লিখিত কাব্য।
ময়মনসিংহ মানেই লোকগীতি এবং বাকিগুলো মধ্যযুগের পুঁথি ধারার সাহিত্য।
সঠিক উত্তর: A) কাহপাদ
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে একটি ঐতিহাসিক অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি টেকনিক্যালি ভুল। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন চর্যাপদের ২৪ জন বা প্রাপ্ত টিকে থাকা ২৩.৫ জন কবির নামের প্রায় সবাইকেই 'পাদ' বা 'পাদা' যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়। অপশনে থাকা কাহপাদ (বা কাহ্নপাদ), লুইপাদ, শান্তিপাদ—সবাইই চর্যাপদের বিখ্যাত কবি এবং প্রাচীন যুগের (চর্যাকার) অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে রমনীপাদ নামে চর্যাপদে কোনো কবি পাওয়া যায় না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক সময় প্রশ্নে ত্রুটি থাকে, যেখানে 'রমনীপাদ' একটি কাল্পনিক বা ভুয়া অপশন হিসেবে থাকে এবং প্রশ্নকর্তার ভুল ধারণার বশে কাহপাদকে উত্তর হিসেবে নির্দেশ করা হয়, যা সঠিক নয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যার আবিষ্কারক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে আবিষ্কার করেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণা অনুযায়ী চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এর সময়কাল আনুমানিক ৯০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ (অন্য মতে দশম থেকে দ্বাদশ শতক)। চর্যাপদের পদকর্তারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ, যাঁদের নামের শেষে সমহিতা বা সম্মানসূচক 'পাদ' বা 'পাদা' শব্দ যুক্ত থাকত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লুইপাদ
ব্যাখ্যা: লুইপাদ চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা এবং প্রাচীন যুগের অন্যতম প্রধান সিদ্ধাচার্য ও আদি কবি হিসেবে স্বীকৃত।
উদাহরণ ২: কাহ্নপাদ
ব্যাখ্যা: কাহ্নপাদ বা কৃষ্ণপাদ চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (১৩টি) পদের রচয়িতা এবং প্রাচীন যুগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কবি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাহপাদ — এটি সঠিক উত্তর হিসেবে নির্দেশ করা হলেও তথ্যগতভাবে ভুল কারণ কাহপাদ চর্যাপদের একজন প্রকৃত ও প্রধান প্রাচীন কবি।
B) লুইপাদ — এটি ভুল অপশন কারণ লুইপাদ চর্যাপদের আদি কবি এবং তিনি নিশ্চিতভাবেই প্রাচীন যুগের কবি।
C) শান্তিপাদ — এটি ভুল অপশন কারণ শান্তিপাদ চর্যাপদের একজন সিদ্ধাচার্য ও প্রাচীন যুগের কবি।
D) রমনীপাদ — এটি সঠিক উত্তর কারণ চর্যাপদের কবিদের তালিকায় এই নামে কোনো ঐতিহাসিক সিদ্ধাচার্যের অস্তিত্ব নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
চর্যাপদের কবিদের নাম সহজে মনে রাখার উপায় হলো নামের শেষে 'পাদ' বা 'পা' থাকা। লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ—সবাই প্রাচীন যুগের কবি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ড. সুকুমার সেনের মতে পদ সংখ্যা পঞ্চাশটি এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ছিয়াচল্লিশটি। পরীক্ষার জন্য চর্যাপদের প্রথম কবি লুইপাদ এবং সর্বাধিক পদের রচয়িতা কাহ্নপাদের নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) একটি কালো মেয়ের কথা
কেন সঠিক:
১. এই উপন্যাসের মূল পটভূমি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গ্রামীণ জীবনের ওপর যুদ্ধের প্রভাব।
২. ঔপন্যাসিক অত্যন্ত নিপুণভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাধারণ মানুষের কষ্ট ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. বাংলা সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসের ধারাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে।
২. এই উপন্যাসে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা আমাদের সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছে।
৩. যেমন, শহীদুল জহিরের জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে এমন অনেক কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক রচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) একটি কালো মেয়ের কথা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কারণ নেই।
B) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র — এটি আলাউদ্দিন আল আজাদের একটি বিখ্যাত উপন্যাস হলেও এটি মূলত ভাষা আন্দোলন ও বুদ্ধিজীবী হত্যার পটভূমিতে রচিত।
C) আয়নামতির পালা — এটি একটি কাব্যনাট্য বা নাট্যধর্মী রচনা যার সাথে মুক্তিযুদ্ধের কোনো সরাসরি ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই।
D) ইচ্ছামতী — এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত নদীমাতৃক উপন্যাস যা গ্রামীণ সমাজের ওপর রচিত।
মনে রাখার টিপস:
১. মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস মনে রাখার জন্য লেখকদের তালিকা আলাদা করে পড়তে হবে।
২. অপশনগুলোর মধ্যে কোনটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে যুক্ত তা ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
১. কেন সঠিক:
প্রোষিতভর্তৃকা হলো এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন। এর মূল অর্থ হলো যে নারীর স্বামী বা পতি বর্তমানে কর্ম বা অন্য কোনো কারণে বিদেশে অবস্থান করছেন।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
এটি বাংলা ব্যাকরণের শব্দার্থ ও এককথায় প্রকাশ অংশের অন্তর্গত। সংস্কৃত প্রোষিত শব্দের অর্থ বিদেশে অবস্থিত এবং ভর্তুক শব্দের অর্থ স্বামী বা ভরণপোষণকারী, যা থেকে প্রোষিতভর্তৃকা শব্দটি গঠিত হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রোষিতভর্তৃকা নারী মেঘ দেখলেই বিরহ বেদনায় আরও বেশি কাতর হয়ে পড়েন।
ব্যাখ্যা: এখানে যার স্বামী বিদেশে আছেন এমন নারীকে বোঝাতে প্রোষিতভর্তৃকা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: বর্ষাকালে প্রোষিতভর্তৃকা নারীদের মনের অবস্থা খুব কষ্টদায়ক হয়।
ব্যাখ্যা: স্বামীর প্রবাসবাসের কারণে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে প্রকাশ করতে এই শব্দটির প্রয়োগ দেখা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভৎসনাপ্রাপ্ত তরুণী — এই অর্থের জন্য কোনো নির্দিষ্ট এককথায় প্রকাশ নেই। এটি মূলত তিরস্কারপ্রাপ্ত বা বকা খাওয়া তরুণীকে বোঝায়।
B) যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে — এটি প্রোষিতভর্তৃকা শব্দের সঠিক ও অভিধানসম্মত অর্থ। প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরটিতে সামান্য ত্রুটি থাকলেও সঠিক মূল অর্থ এটাই।
C) ভূমিতে প্রোথিত তরুমূল — এটি মাটি বা ভূমিতে গভীরভাবে পোঁতা গাছের মূল বা শিকড়কে বোঝায়। এর সঙ্গে নারীর কোনো সম্পর্ক নেই।
D) যে বিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে — এই বিশেষ অবস্থার জন্য অভিসারিকা বা অন্য কোনো শব্দ প্রযোজ্য নয়, এটি ভিন্ন একটি পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
প্রোষিত মানে প্রবাস বা বিদেশ এবং ভর্তৃ মানে স্বামী। এই দুটি অংশ মনে রাখলেই খুব সহজে সঠিক অর্থ বের করা সম্ভব।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। প্রোষিতভর্তৃকা এবং অভিসারিকা শব্দ দুটি প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে, তাই এদের অর্থ ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) কুম্ভিলকবৃত্তি
১. কেন সঠিক:
অন্যের রচনা বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করাকে এককথায় কুম্ভিলকবৃত্তি বলা হয়।
সাহিত্যের ভাষায় একে চৌর্যবৃত্তি বা প্ল্যাজিয়ারিজম নামেও অভিহিত করা হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
এটি বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ এককথায় প্রকাশ বা শব্দার্থ সংক্রান্ত প্রশ্ন।
কুম্ভিলক শব্দের অর্থ হলো চোর, বিশেষ করে যে অন্যের কবিতা বা রচনা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপরের লেখা নিবন্ধ হুবহু নিজের নামে প্রকাশ করা একপ্রকার কুম্ভিলকবৃত্তি।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে অন্যের রচনা চুরি করে প্রকাশের অপরাধকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: গবেষণাপত্র তৈরির সময় অন্যের লেখা উদ্ধৃত না করে নিজের বলে চালানো গুরুতর অপরাধ এবং এটি স্পষ্ট কুম্ভিলকবৃত্তি।
ব্যাখ্যা: গবেষণার ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি বা কুম্ভিলকবৃত্তির অনৈতিক দিকটি এখানে বোঝানো হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বেতসবৃত্তি — বেতস গাছের মতো সহজেই নমনীয় হওয়া বা সুযোগ বুঝে অবস্থান বদল করাকে বোঝায়। তাই এটি অন্যের রচনা চুরির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) পতঙ্গবৃত্তি — পতঙ্গের মতো অন্ধভাবে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া বা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে পতঙ্গবৃত্তি বলা হয়। এটি চুরির অর্থের সঙ্গে মিলে না।
C) জলৌকাবৃত্তি — জলৌকা অর্থ জোঁক। জোঁকের মতো ধীরে ধীরে রক্ত শোষণ করা বা পরজীবী হিসেবে বেঁচে থাকাকে জলৌকাবৃত্তি বলে। এটি রচনা চুরির পরিভাষা নয়।
D) কুম্ভিলকবৃত্তি — এই অপশনটি অন্যের রচনা থেকে চুরি করার সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
কুম্ভিলক শব্দের সঙ্গে চোর শব্দটির মিল খুঁজে নাও। এভাবে মনে রাখতে পারো যে কুম্ভিলক মানেই রচনার চোর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এককথায় প্রকাশের ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি এবং কুম্ভিলকবৃত্তি সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের শব্দার্থ প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: D) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১. কেন সঠিক:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা আধুনিক উপন্যাসের প্রবর্তক বলা হয় কারণ তিনিই প্রথম বাংলা সাহিত্যে সার্থক ও শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনা করেন।
- তাঁর রচিত দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের মাধ্যমেই বাংলা উপন্যাসের আধুনিক যুগের সফল সূচনা ঘটে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক বা আধুনিক প্রবর্তক হিসেবে সমাদৃত।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক উপন্যাসের ধারা উন্মোচিত হয়।
উদাহরণ ২: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা: এটি তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস এবং এটিও বাংলা উপন্যাসের একটি ক্লাসিক নিদর্শন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — তিনি বাংলা উপন্যাসের আধুনিক প্রবর্তক নন, তবে তিনি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক উপন্যাসের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
B) প্যারীচাঁদ মিত্র — তিনি আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের রচয়িতা হলেও তাঁর উপন্যাসটি আধুনিক উপন্যাসের পূর্ণাঙ্গ শিল্পরূপ লাভ করেনি।
C) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — তিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম পথপ্রদর্শক ও রূপকার হলেও কোনো উপন্যাস রচনা করেননি।
D) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস রচনা করে আধুনিক উপন্যাসের ধারা প্রবর্তন করেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আধুনিক উপন্যাসের জনক বা প্রবর্তক বললেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম মনে রাখতে হবে।
- প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনীর রচয়িতা হিসেবে তাঁকে চেনা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস কোনটি, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) যোগাযোগ
১. কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত সাহিত্যিক উদ্ধৃতিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাসের সূচনা অংশ বা প্রারম্ভিক ভাবনা থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রগুলোর গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তুলতে লেখক এই রূপকধর্মী বাক্যটি ব্যবহার করেছেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা এবং নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। যোগাযোগ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি বাংলা সমাজ বাস্তবতার এক নিখুঁত দলিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হলো মধুসূদন ও কুসুম।
ব্যাখ্যা: এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
উদাহরণ ২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপর একটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো গোরা যা ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসটিতে দেশপ্রেম ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নৌকাডুবি — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯০৬ সালে প্রকাশিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ভুল বোঝাবুঝি এবং দাম্পত্য জীবনের জটিলতা।
B) চোখের বালি — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯০৩ সালে প্রকাশিত মনোস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসে সমকালীন বাঙালি সমাজের বিধবা বিবাহ ও মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
C) যোগাযোগ — প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৯ সালে প্রকাশিত উপন্যাস।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত প্রারম্ভিক উদ্ধৃতি হলো প্রদত্ত প্রশ্নটি।
D) শেষের কবিতা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৯ সালে প্রকাশিত একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র হলো অমিত ও লাবণ্য।
৫ মনে রাখার টিপস:
যোগাযোগ উপন্যাসের শুরুতেই সূচনা বা আরম্ভ নিয়ে গভীর দার্শনিক কথা বলা হয়েছে।
সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর মতো বড় ঘটনার পেছনেও প্রস্তুতি থাকে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর প্রকাশসাল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপন্যাসের বিখ্যাত উদ্ধৃতিগুলো সাহিত্য অংশ থেকে প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: D) দেশভাগ
১. কেন সঠিক:
- কালো বরফ উপন্যাসটির মূল বিষয় হলো ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং এর ফলে মানুষের জীবন ও পরিচয়ের সংকট।
- দেশভাগের কারণে সীমানা পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এই উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কালো বরফ উপন্যাসটির রচয়িতা মাহমুদুল হক, যিনি বাংলা উপন্যাসে এক স্বতন্ত্র শৈলীর জন্য পরিচিত।
- এই উপন্যাসে দেশভাগের যন্ত্রণা, স্মৃতিকাতরতা এবং পূর্ব বাংলার মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন অত্যন্ত গভীরভাবে চিত্রিত হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি
ব্যাখ্যা: এটিও দেশভাগের পটভূমিতে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস, যেখানে দেশভাগের আঘাত ও মানুষের জীবনসংগ্রাম উঠে এসেছে।
উদাহরণ ২: আতাউর রহমানের দেশভাগ ও অন্যান্য গল্প
ব্যাখ্যা: এই সাহিত্যকর্মেও দেশভাগের কারণে সৃষ্ট সামাজিক ও পারিবারিক ভাঙনের নিখুঁত চিত্র পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তেভাগা আন্দোলন — এই ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস হলো হান্নান সরকারের তেভাগা আন্দোলন বা অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতুমীর, যা এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু নয়।
B) ভাষা আন্দোলন — ভাষাভিত্তিক পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস হলো জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন, যা কালো বরফ উপন্যাসের মূল বিষয় নয়।
C) মুক্তিযুদ্ধ — ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে শওকত ওসমানের জাহান্নামে বিদায় অন্যতম, কিন্তু কালো বরফ মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত নয়।
D) দেশভাগ — এই অপশনটি সঠিক কারণ উপন্যাসটিতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সুদূরপ্রসারী ও মর্মান্তিক পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
মাহমুদুল হকের কালো বরফ উপন্যাসের বরফ শব্দটি ঠান্ডা এবং বিচ্ছিন্নতার প্রতীক, যা দেশভাগের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় ও সমাজের শীতল বিভাজনকে নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দেশভাগভিত্তিক উপন্যাস যেমন কালো বরফ, জীবন আমার বোন, বা নদী ও নারী প্রায়ই আসে, তাই রচয়িতা ও বিষয়বস্তু ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
১. কেন সঠিক:
- ‘ঢাকা প্রকাশ’ সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- উনিশ শতকে বাংলা সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় এই পত্রিকার বিশেষ ভূমিকা ছিল।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার একজন প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক যিনি তার ‘সদ্ভাব শতক’ কাব্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত উনিশ শতকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সংবাদপত্র।
উদাহরণ ২: সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালে প্রকাশিত শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার — ইনি ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন বিধায় এটি সঠিক উত্তর।
B) রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় — ইনি বিখ্যাত ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
C) শামসুর রাহমান — ইনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি এবং সাংবাদিক হিসেবে কাজ করলেও ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না।
D) সিকান্দার আবু জাফর — ইনি বিখ্যাত সাহিত্যপত্রিকা ‘সমকাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ঢাকা প্রকাশের মুখ বা প্রথম সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, এভাবে মনে রাখতে পারো।
- উনিশ শতকের ঢাকার পত্রিকা মানেই কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের সংবাদপত্র এবং সম্পাদক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- পত্রিকার নাম এবং প্রথম সম্পাদকের নাম জোড়বদ্ধ করে মুখস্থ রাখা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
সঠিক উত্তর: B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১. কেন সঠিক:
- জীবনস্মৃতি গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য আত্মজীবনীমূলক রচনা যার রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এই গ্রন্থে কবির শৈশব, কৈশোর এবং প্রথম জীবনের নানা স্মৃতি ও মানস গঠনের পটভূমি অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটে উঠেছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য আকাশের এক ধ্রুবতারা যিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১২ সালে প্রকাশিত এই জীবনস্মৃতি গ্রন্থে কবির জীবনের প্রথম ভাগের সাহিত্যসাধনা ও চিন্তাধারার চমৎকার আত্মজৈবনিক রূপায়ণ ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আত্মপরিচয়
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরও একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ যেখানে তার জীবনের বিভিন্ন দর্শনের পরিচয় মেলে।
উদাহরণ ২: ছেলেবেলা
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা শৈশবের স্মৃতিকথামূলক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রমিত সাহিত্যকর্ম।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — ইনি বাংলা গদ্যের জনক ও প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক হলেও জীবনস্মৃতি তার রচনা নয়।
C) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় — ইনি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক যিনি পথের পাঁচালী রচনা করেছেন, জীবনস্মৃতি নয়।
D) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন — ইনি নারীজাগরণের অগ্রদূত ও প্রাবন্ধিক যিনি সুলতানার স্বপ্ন রচনা করেছেন, জীবনস্মৃতি নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের স্মৃতি নিয়ে লেখা বইটির নামই জীবনস্মৃতি।
- আত্মজীবনী মনে রাখতে রবি ঠাকুরের জীবনস্মৃতি নামটি সবার আগে মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লেখকদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক অন্য গ্রন্থগুলোর নাম ও প্রকাশকাল ভালোভাবে দেখে যাওয়া জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১. কেন সঠিক:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত বিখ্যাত 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- ১৮৬০ সালে প্রকাশিত এই নাটকটি নীলকর সাহেবদের অকথ্য অত্যাচার এবং গ্রামীণ শোষণের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য' এবং বাংলা নাটকের পঙক্তিহীন অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা।
- 'নীলদর্পণ' নাটকটি প্রকাশের পর এর ইংরেজি অনুবাদ 'The Indigo Planting Mirror' নামে রেভারেন্ড জেমস লংয়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
উদাহরণ ২: দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী'
ব্যাখ্যা: এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন যা সমাজের অবক্ষয় ও মদ্যপানের কুফল নিয়ে লেখা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্যারীচাঁদ মিত্র — তিনি বাংলা উপন্যাসের জনক এবং 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের রচয়িতা, নীলদর্পণ অনুবাদ করেননি।
B) মাইকেল মধুসূদন দত্ত — এই অপশনটি সঠিক এবং তিনি নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
C) প্রথম চৌধুরী — এটি মূলত প্রমথ চৌধুরীর নামের বানান ভুল রূপ এবং তিনি বাংলা চলিত রীতির প্রবক্তা ও প্রমথ চৌধুরী ছদ্মনাম বীরবল।
D) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় — তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও দেশাত্মবোধক গানের রচয়িতা, নীলদর্পণ অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নীল দর্পণ নাটক দ দিয়ে শুরু, আর এর ইংরেজি অনুবাদক মধুসূদন দত্তের নামের আদ্যক্ষর ম।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে নাটক লিখেছিলেন দীনবন্ধু আর অনুবাদ করেছিলেন মধুসূদন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- নীলদর্পণ নাটকটি প্রকাশের পর এর ইংরেজি অনুবাদের দায়ে জেমস লংয়ের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড হয়েছিল।
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই নাটকটির রচয়িতা এবং অনুবাদক সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: D) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নোক্ত চরণ দুটি শিশুশিক্ষার জন্য রচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কবিতার অংশ যা নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে।
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার বাংলা গদ্যের সূচনাযুগের অন্যতম প্রধান লেখক এবং শিশুদের জন্য প্রথম পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
- তাঁর রচিত 'শিশুশিক্ষা' প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ বাংলা শিক্ষায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাখি সব পাখি রবে রাতি পোহাইল।
ব্যাখ্যা: এটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের লেখা 'প্রভাতী' কবিতার বিখ্যাত লাইন।
উদাহরণ ২: আলস্য ছাড়িয়া কাজ কর মনে সুখে।
ব্যাখ্যা: এটিও তাঁর শিশুশিক্ষা গ্রন্থের একটি নৈতিক উপদেশমূলক কবিতার অংশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চণ্ডীচরণ মুনশী — ইনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের একজন পন্ডিত ছিলেন কিন্তু এই কবিতার রচয়িতা নন।
B) কাজী নজরুল ইসলাম — ইনি আমাদের জাতীয় কবি যিনি মূলত দ্রোহ ও প্রেমের কবিতা লিখেছেন।
C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — ইনি বিশ্বকবি যিনি মূলত আধুনিক বাংলা কবিতা ও গানের জন্য বিখ্যাত।
D) মদনমোহন তর্কালঙ্কার — ইনি এই বিখ্যাত শিশুতোষ কবিতার প্রকৃত রচয়িতা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শিশুদের প্রথম পাঠ এবং নীতিশিক্ষা মানেই মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা।
- প্রভাতি কবিতার লাইন পেলে চোখ বুজে মদনমোহন তর্কালঙ্কার দাগাবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় শিশুশিক্ষা গ্রন্থটির রচয়িতা প্রায়ই আসে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কার দুজনেই ঊনবিংশ শতকে শিশুসাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
সঠিক উত্তর: D) বৌদ্ধধর্ম
*(বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার প্রশ্নে প্রদত্ত সঠিক উত্তরটিতে খ্রীষ্টধর্ম উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত একটি ভুল তথ্য। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেષক হিসেবে সঠিক উত্তরটি সংশোধন করে বৌদ্ধধর্ম নির্ধারণ করা হলো। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং এটি বজ্রযান বৌদ্ধ ধর্মের সাধকদের সাধন সংগীত।)*
১. কেন সঠিক:
- চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া বা বজ্রযান শাখার দার্শনিক তত্ত্ব ও সাধনাপদ্ধতি প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।
- চর্যার পদগুলোতে রূপক ও সান্ধ্যভাষায় বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ করা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যসংকলন যা মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদকর্তারা বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া সাধক বা সিদ্ধাচার্যগণ নামে পরিচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কাহ্নপা প্রায় তেরটি পদ রচনা করেছেন।
ব্যাখ্যা: কাহ্নপার পদগুলোতে সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের সাধনার নানা দিক উন্মোচিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: চর্যাপদের আদি পদকর্তা লুইপা।
ব্যাখ্যা: লুইপার পদের মাধ্যমে সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের মূল সুর প্রকাশ পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) খ্রীষ্টধর্ম — এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য কারণ চর্যাপদের রচনার সময়ে বাংলায় খ্রীষ্টধর্মের বিস্তার ঘটেনি।
B) প্যাগনিজম — এটি প্রাচীন প্রকৃতির পূজার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং চর্যাপদের সঙ্গে এর কোনো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় মিল নেই।
C) জৈনধর্ম — এটি প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম হলেও চর্যাপদে জৈন ধর্মের কোনো প্রভাব বা তাত্ত্বিক আলোচনা পাওয়া যায় না।
D) বৌদ্ধধর্ম — এটি সঠিক উত্তর কারণ চর্যাপদ সম্পূর্ণরূপে বজ্রযান ও সহজযান বৌদ্ধ ধর্মের সাধন সংগীত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- চর্যাপদ মানেই বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া সাধনা।
- বৌদ্ধ ধর্মের সিদ্ধাচার্যদের পদ মনে রাখার জন্য লুইপা ও কাহ্নপার নাম মনে রাখা যেতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- চর্যাপদ আবিষ্কার করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে।
- চর্যাপদের ভাষা সান্ধ্যভাষা বা আলোআঁধারি ভাষা নামে পরিচিত।
সঠিক উত্তর: A) সুসময়ের বন্ধু
১. কেন সঠিক:
- 'শরতের শিশির' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা যার অর্থ হলো সুসময়ের বন্ধু বা স্বার্থপর সম্পর্কের মানুষ।
- শরৎকালের শিশির যেমন সকালবেলা ক্ষণস্থায়ী হয় এবং রোদের উত্তাপে দ্রুত উবে যায়, তেমনি সুসময়ের বন্ধুরা বিপদের দিনে বা খারাপ সময়ে পাশে থাকে না এবং দূরে সরে যায়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু বিশেষ শব্দ বা বাক্যাংশ যা আভিধানিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে থাকে।
- এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান অলংকার যা মুখের ভাষাকে আকর্ষণীয়, সংক্ষিপ্ত ও ভাবগম্ভীর করে তোলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুসময়ের বন্ধু
ব্যাখ্যা: বিপদের দিনে যাকে পাশে পাওয়া যায় না, তাকে শরতের শিশিরের মতো ক্ষণস্থায়ী বা সুসময়ের বন্ধু বলা হয়।
উদাহরণ ২: কাগজের ফুল
ব্যাখ্যা: কৃত্রিম বা দেখানোর মতো সৌন্দর্য বোঝাতে কাগজের ফুল বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুসময়ের বন্ধু — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই বাগধারাটির প্রচ্ছন্ন অর্থ ক্ষণস্থায়ী বা স্বার্থপর বন্ধু বোঝায়।
B) সুসময়ের সঞ্চয় — এই অপশনটি ভুল কারণ সঞ্চয় বলতে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা বোঝায়, যা এই বাগধারার অর্থের সঙ্গে মেলে না।
C) শরতের শোভা — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করলেও বাগধারার রূপক অর্থ প্রকাশ করে না।
D) শরতের শিউলি ফুল — এই অপশনটি ভুল কারণ শিউলি ফুল শরৎকালের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও বাগধারাটির নির্দিষ্ট অর্থের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শরৎকালের শিশির যেমন রোদ উঠলে বেশিক্ষণ থাকে না, ঠিক তেমনি সুসময়ের বন্ধুরাও বিপদ দেখলে দ্রুত সরে পড়ে।
- এই মিলটি মনে রাখলে পরীক্ষা সহজেই সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রকৃতি বা ঋতুভিত্তিক বাগধারার অর্থ জিজ্ঞাসা করা হয়।
- আভিধানিক অর্থের চেয়ে বাগধারার ভাবার্থ বা রূপক অর্থ পরীক্ষার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) একমাত্র সন্তান
১. কেন সঠিক:
- শিব রাত্রির সলতে বাগধারাটির অর্থ একমাত্র সন্তান, যা বংশের বাতির মতো একমাত্র প্রদীপের প্রতীক।
- শিবরাত্রি হিন্দুদের একটি ব্রত যেখানে সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়, আর সেই প্রদীপের শেষ সলতেটিই হলো একমাত্র ভরসা।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি বিখ্যাত বাগধারা যা কোনো পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী বা অবলম্বন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দগুচ্ছ যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ভাব বা ঐতিহ্যগত অর্থ প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বৃদ্ধ বয়সে রহিমই তার মা-বাপের শিব রাত্রির সলতে।
ব্যাখ্যা: এখানে একমাত্র সন্তান হিসেবে পিতামাতার শেষ ভরসা বোঝাতে বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: ওই পরিবারে আর কেউ বেঁচে নেই, ওই ছোট ছেলেটাই হলো ওদের শিব রাত্রির সলতে।
ব্যাখ্যা: পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য বা উত্তরাধিকারী বোঝাতে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শিবরাত্রির আলো — এটি বাগধারার আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ করলেও মূল ভাব বা প্রথাগত অর্থ নির্দেশ করে না।
B) একমাত্র সঞ্চয় — এই অপশনটি বস্তুগত বা আর্থিক জমানো সম্পদ বোঝায়, যা মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
C) একমাত্র সন্তান — এটি সঠিক কারণ এটি বাগধারার নির্ধারিত প্রমিত ও অভিধানসম্মত অর্থ।
D) শিবরাত্রির গুরত্ব — এটি একটি সাধারণ ধারণা মাত্র যা কোনো বিশেষ বাগধারার অর্থ হতে পারে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শিবরাত্রির রাতে যেমন একটিমাত্র বাতি বা সলতে জ্বালিয়ে রাত পার করতে হয়, তেমনি কোনো পরিবারে একটিমাত্র সন্তান থাকলে তাকে শিব রাত্রির সলতে বলা হয়।
- প্রদীপের শেষ সলতের সঙ্গে একমাত্র সন্তানের তুলনা করে সহজে এটি মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পরিবার বা ব্যক্তির একমাত্র অবলম্বন বোঝাতে এই বাগধারাটি আসে।
- বাগধারার ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থ বাদ দিয়ে সবসময় ঐতিহ্যগত ভাবার্থ বা প্রমিত অর্থ বেছে নিতে হয়।
সঠিক উত্তর: D) সর্বাঙ্গ + ঈন
১. কেন সঠিক:
- সর্বাঙ্গ শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ঈন যুক্ত হয়ে সর্বাঙ্গীণ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- সর্বাঙ্গ শব্দের অর্থ সমস্ত অঙ্গ বা সম্পূর্ণ শরীর, এবং ঈন প্রত্যয়টি সম্বন্ধ বা ব্যাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- শব্দ গঠনে শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত করার সময় ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে থাকে।
- এখানে সর্বাঙ্গ শব্দের অন্ত্য অ এবং প্রত্যয়ের ঈ মিলে সর্বাঙ্গীণ রূপ লাভ করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কুল + ঈন = কুলীন
ব্যাখ্যা: কুল শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ বিশেষণ পদ কুলীন গঠিত হয়েছে।
উদাহরণ২: প্রাচীন + ঈন = প্রাচীনীন
ব্যাখ্যা: প্রাচীন শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত করে নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সবঙ্গ + ঈন — সবঙ্গ কোনো সঠিক শব্দ নয় এবং মূল শব্দের রূপ সঠিক নয়।
B) সর্ব + অঙ্গীন — অঙ্গীন কোনো প্রত্যয় বা সঠিক শব্দাংশ নয় যা এখানে প্রযোজ্য।
C) সর্ব + ঙ্গীন — ঙ্গীন কোনো স্বীকৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বা শব্দাংশ নয়।
D) সর্বাঙ্গ + ঈন — এটি সঠিক কারণ সর্বাঙ্গ শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সর্বাঙ্গীণ হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সম্পূর্ণ বোঝাতে সর্বাঙ্গ শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত করে সর্বাঙ্গীণ শব্দ মনে রাখবে। প্রত্যয় যুক্ত করার সময় মূল শব্দের সঙ্গে ঈন যোগের নিয়ম খেয়াল রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তদ্ধিত প্রত্যয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মূল শব্দ ও প্রত্যয় আলাদা করার নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। একই নিয়মে গঠিত অন্যান্য শব্দ চর্চা করলে পরীক্ষায় ভুল এড়ানো সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) বেঁচে থাকার ইচ্ছা
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর B দেওয়া থাকলেও, তা ভুল। সঠিক উত্তর হবে C অর্থাৎ বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
- 'জিজীবিষা' শব্দের অর্থ বেঁচে থাকার বা জীবনকে ধরে রাখার প্রবল ইচ্ছা বা আকুলতা।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- এটি এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন বিষয়ক একটি ব্যাকরণগত প্রশ্ন।
- সংস্কৃতে ধাতুর উত্তর প্রত্যয় যোগ করে এই ধরনের মানসিক ভাববাচক শব্দ গঠিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জিজীবিষু
ব্যাখ্যা: বেঁচে থাকার ইচ্ছা আছে যার, তাকে এককথায় জিজীবিষু বলা হয়।
উদাহরণ ২: মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা: মরার ইচ্ছা বা মরে যাওয়ার অবস্থা, যা একই ধরনের মানসিক অবস্থার প্রকাশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জয়ের ইচ্ছা — জয়ের ইচ্ছাকে এককথায় জিগীষা বলা হয়, যা জিজিবিষা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
B) হত্যার ইচ্ছা — হত্যার বা বধ করার ইচ্ছাকে এককথায় জিঘাংসা বলা হয়, যা এখানে সঠিক উত্তর হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত ছিল।
C) বেঁচে থাকার ইচ্ছা — এটিই জিজিবিষা শব্দের সঠিক এবং প্রমিত অর্থ।
D) শোনার ইচ্ছা — শোনার ইচ্ছাকে এককথায় শুশ্রূষা বলা হয়, যা অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- জিজিবিষা শব্দের ভেতরে জীবন বা বেঁচে থাকার ভাবটি লুকিয়ে আছে।
- জিজীবিষা মানে বেঁচে থাকা এবং জিঘাংসা মানে হত্যা করা, এই দুটি প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গুলিয়ে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের সূক্ষ্ম বানান ও অর্থভিত্তিক প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- জিগীষা, জিজিবিষা এবং জিঘাংসা শব্দগুলোর বানান ও অর্থ খুব ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) তৎসম
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরে ত্রুটি রয়েছে। বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী 'জোছনা' শব্দটি তৎসম শব্দ নয়, এটি একটি অর্ধ-তৎসম শব্দ। সংস্কৃত 'জ্যোৎস্ননা' শব্দটি প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম রূপ হিসেবে 'জোছনা' বা 'জোসনা' হয়েছে।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে এবং সঠিক উত্তর অর্ধ-তৎসম হবে, যা অনেক বইয়ে ভুলবশত তৎসম বা তদ্ভব হিসেবে উল্লেখ থাকে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অর্ধ-তৎসম বা ভগ্ন-সংস্কৃত শব্দ হলো সেইসব শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রাকৃত বা অপভ্রংশের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত রূপে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- সংস্কৃত শব্দের প্রাকৃত উচ্চারণের সময় যে শব্দগুলো কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে, সেগুলোই অর্ধ-তৎসম শব্দ হিসেবে বাংলা ব্যাকরণে স্বীকৃতি পেয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্ষুধা থেকে খিদে
ব্যাখ্যা: মূল সংস্কৃত শব্দ ক্ষুধা প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম রূপে খিদে হয়েছে।
উদাহরণ ২: গৃহিণী থেকে গিন্নি
ব্যাখ্যা: তৎসম শব্দ গৃহিণী প্রাকৃত উচ্চারণের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম রূপে গিন্নি হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যৌগিক — যৌগিক শব্দ হলো সেইসব শব্দ যা কোনো প্রত্যয় বা সমাসের সাহায্যে গঠিত হয়ে মূলত পদের অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু জোছনা শব্দের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
B) তৎসম — জোছনা শব্দটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি অপরিবর্তিত অবস্থায় আসেনি, তাই এটি তৎসম শব্দ হতে পারে না যদিও প্রশ্নে এটি উত্তর হিসেবে বলা হয়েছে।
C) দেশী — দেশী শব্দ হলো বাংলাদেশের আদিবাসীদের ভাষা থেকে আগত শব্দ, আর জোছনা শব্দটি সংস্কৃত মূল থেকে উদ্ভূত।
D) অর্ধ-তৎসম — সংস্কৃত জ্যোৎস্না শব্দের পরিবর্তিত রূপ হওয়ায় এটি আসলে একটি নিখুঁত অর্ধ-তৎসম শব্দ, যদিও প্রদেয় তথ্যে এটি ভুল অপশনে ছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সংস্কৃত শব্দের বানান কিছুটা ভেঙে বা বিকৃত হয়ে যে শব্দগুলো বাংলায় প্রচলিত হয়েছে, যেমন জোছনা, গিন্নি, কুৎসিত থেকে কুচ্ছিত, সেগুলো সাধারণত অর্ধ-তৎসম শব্দ হয়।
- বানানে পরিবর্তন লক্ষ্য করে তৎসম ও অর্ধ-তৎসম শব্দ আলাদা করার চর্চা করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অর্ধ-তৎসম শব্দের তালিকা থেকে বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
- জাদুকর, জোছনা, গিন্নি, বৈষ্ণব থেকে বোষ্টম—এ ধরনের শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দের চমৎকার উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: B) প্রোজ্জল
১. কেন সঠিক:
- প্রোজ্জল শব্দটি গঠিত হয়েছে প্র উপসর্গ, উৎ উপসর্গ এবং জ্বল ধাতু ও ঘঞ প্রত্যয় যোগে।
- বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী উৎ উপসর্গের ত বা দ এর পরে জ বা ঝ থাকলে তা বর্গীয় জ এ পরিণত হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- সন্ধির নিয়মানুযায়ী ত বা দ এর পরে জ বা ঝ থাকলে ত বা দ এর জায়গায় বর্গীয় জ হয়।
- প্র পূর্বক উৎ এবং জ্বল যুক্ত হয়ে প্রোজ্জল শব্দটিতে দিত্ব জ বা জ্জ ধ্বনির সৃষ্টি হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উজ্জ্বল
ব্যাখ্যা: উৎ এবং উজ্জ্বল মিলে প্রোজ্জলের মতো একই নিয়মে উজ্জ্বল শব্দটি গঠিত হয় যেখানে দিত্ব জ ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: বিপজ্জল
ব্যাখ্যা: বিপদ এবং জল মিলে ত এর জায়গায় বর্গীয় জ হয়ে বিপজ্জল শব্দ গঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রজ্বল — এই বানানটিতে জ এর দ্বিত্ব বা জ্জ নেই যা ব্যাকরণগতভাবে ভুল রূপ।
B) প্রোজ্জল — এটি সঠিক বানান এবং প্রমিত বাংলা নিয়ম অনুসারে পরীক্ষিত রূপ।
C) প্রোজ্বল — এই বানানে জ এর নিচে ফলা বা দ্বিত্ব জ না থাকায় এটি অসম্পূর্ণ।
D) প্রোজ্জ্বল — এই বানানে অতিরিক্ত ও কার বা ভুল ফলা যুক্ত হয়েছে যা মূল শব্দের সঙ্গে মিলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রোজ্জল বানানে প্র এর সাথে ও কার এবং জ এর নিচে জ অর্থাৎ জ্জ যুক্ত হবে।
- উৎ উপসর্গের প্রভাবে জ সবসময় দ্বিত্ব রূপ নেয় এই বিষয়টি মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দিত্ব বর্ণঘটিত বানানগুলো প্রায়ই আসে।
- উজ্জ্বল এবং প্রোজ্জল বানানগুলোতে দ্বিত্ব জ থাকে তা ভালোভাবে খেয়াল রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) প্রত্যয়িত
১. কেন সঠিক:
- ‘Attested’-এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো প্রত্যয়িত, যার অর্থ কোনো দলিলাদি বা স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করে তা নিশ্চিত করা।
- প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে মূল নথির সঙ্গে অনুলিপির মিল পেয়ে তা সঠিক বলে প্রত্যয়ন বা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিভাষা ব্যবহার করা হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ, যা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- ইংরেজি প্রশাসনিক ও আইনি শব্দের সঠিক বাংলা রূপান্তর জানার জন্য প্রমিত পরিভাষা মুখস্থ রাখতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: Attested copy.
ব্যাখ্যা: এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো প্রত্যয়িত অনুলিপি বা সত্যায়িত অনুলিপি।
উদাহরণ ২: Attested by me.
ব্যাখ্যা: এর অর্থ আমার দ্বারা প্রত্যয়িত বা আমার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও নিশ্চিতকৃত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সত্যায়িত — এটি বহুল ব্যবহৃত হলেও সরকারি প্রমিত পরিভাষায় Attested-এর সঠিক রূপ হিসেবে 'প্রত্যয়িত' শব্দটিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
C) সত্যায়ন — এটি একটি বিশেষ্য পদ যার ইংরেজি পরিভাষা হলো Attestation, কিন্তু Attested একটি বিশেষণ পদ।
D) সংলগ্ন/সংলাগ — এই শব্দগুলোর ইংরেজি পরিভাষা যথাক্রমে Attached বা Enclosed, যা Attested শব্দের অর্থের সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- Attested শব্দের শুরুতে 'At' আছে এবং বাংলায় 'প্রত্যয়িত' শব্দের শুরুতে প্রতিশব্দমূলক মিল রয়েছে এভাবে মনে রাখতে পারো।
- ইংরেজি 'Attested' দেখলে বাংলায় 'প্রত্যয়িত' শব্দটি নির্বাচন করবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পারিভাষিক শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- একই সঙ্গে Attestation শব্দের পরিভাষা হিসেবে 'সত্যায়ন' বা 'প্রত্যয়ন' ব্যবহৃত হয়, তাই পদের রূপ ভেদে পার্থক্য মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) খেলনা
১. কেন সঠিক:
- খেলনা শব্দটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কারণ এটি ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে।
- এখানে খেল (খেলার ধাতু) ক্রিয়ামূলের সঙ্গে না প্রত্যয় যুক্ত হয়ে খেলনা শব্দটি গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- কৃৎ-প্রত্যয় হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- বাংলা ভাষায় ক্রিয়ামূলের সঙ্গে বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মূলত বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ সাধিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মোড়ক
ব্যাখ্যা: মুড় ধাতুর সঙ্গে অক প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মোড়ক শব্দটি গঠিত হয়েছে যা বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
উদাহরণ ২: বাঁক
ব্যাখ্যা: বঁক ধাতুর সঙ্গে শূন্য প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বাঁক শব্দটি গঠিত হয়েছে যা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কারক — এটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ হলেও এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো কৃ ধাতুর সঙ্গে অক (ণক) প্রত্যয়, যা মূলত সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
B) লিখিত — এটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কারণ লিখ ধাতুর সঙ্গে ইত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে।
C) বেদনা — এটি তদ্ধিত প্রত্যয় বা অন্য প্রক্রিয়া সাধিত শব্দ, যা ধাতু থেকে সরাসরি সাধিত হয়নি।
D) খেলনা — এটি সঠিক বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ হওয়ায় প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এটি নির্বাচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ধাতু থেকে শব্দ তৈরি হলে তা কৃৎ-প্রত্যয় এবং শব্দ থেকে শব্দ তৈরি হলে তা তদ্ধিত প্রত্যয়।
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে না, টি, ঝু ইত্যাদি থাকলে তা সাধারণত বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ও সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় আলাদা করার প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- ধাতু চেনার সহজ উপায় হলো শব্দের ক্রিয়ামূল বা কাজের উৎস নির্ধারণ করা।
সঠিক উত্তর: D) সুন্দর
১. কেন সঠিক:
- অভিরাম শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো যা দেখতে সুন্দর, মনোরম বা চিত্তাকর্ষক।
- এটি মূলত একটি বিশেষণ পদ যা কোনো কিছুর সৌন্দর্য বা আকর্ষকতা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থ সংক্রান্ত প্রশ্ন। বাংলা ভাষায় অনেক সংস্কৃত শব্দ তৎসম রূপে ব্যবহৃত হয় যার নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।
- অভিরাম শব্দটি সাধারণত কোনো দৃশ্য, পরিবেশ বা বস্তুর সৌন্দর্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা বিরামহীন বা চলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তার হাতের লেখাটি সত্যিই অভিরাম।
ব্যাখ্যা: এখানে লেখার সুন্দর রূপ বোঝাতে অভিরাম শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: নদীটির চারপাশের দৃশ্য অত্যন্ত অভিরাম।
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য প্রকাশ করতে এখানে অভিরাম শব্দের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিরামহীন — বিরামহীন অর্থ যা থেমে থাকে না বা নিরবচ্ছিন্ন, যা অভিরাম শব্দের অর্থ নয়।
B) বালিশ — বালিশ একটি আরামদায়ক ঘুমের উপকরণ, যা এই শব্দের অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
C) চলন — চলন অর্থ গতি বা চলাফেরার ভঙ্গি, যা অভিরাম শব্দের অর্থকে নির্দেশ করে না।
D) সুন্দর — এটি সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অভিরাম শব্দের শুরুতে অ উপসর্গ বা আ প্রত্যয় থাকলেও এটি সৌন্দর্য বা মনোরম অর্থ প্রকাশ করে।
- সুন্দর এবং অভিরাম সমার্থক শব্দ হিসেবে মনে রাখতে পারো।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দার্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই সমার্থক শব্দগুলো ভালোভাবে চর্চা করতে হবে।
- একই ধরনের শব্দ যেমন অবিরাম এবং অভিরাম শব্দ দুটির উচ্চারণ কাছাকাছি হলেও অর্থের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সঠিক উত্তর: A) তৃতীয়া বিভক্তি
১. কেন সঠিক:
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক অনুসর্গগুলো বাংলা ব্যাকরণে সাধারণত করণ কারকে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলোকে তৃতীয়া বিভক্তির নির্দেশক হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাক্যে যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে করণ কারক বলে এবং এই কারকে শব্দে তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে শব্দের সঙ্গে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে পদের রূপ দেয়, তাকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তিগুলোকে কারক চেনার সুবিধার জন্য প্রথমা থেকে সপ্তमी পর্যন্ত সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লাঠিতে আঘাত করো না।
ব্যাখ্যা: এখানে লাঠি শব্দের সঙ্গে 'তে' বিভক্তি যুক্ত হয়ে সাধিত হয়েছে যা দ্বারা বা দিয়া অর্থে করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি বুঝায়।
উদাহরণ ২: নৌকা দ্বারা নদী পার হওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: নদী পার হওয়ার মাধ্যম বা সহায়ক হিসেবে নৌকা ব্যবহৃত হয়েছে এবং 'দ্বারা' অনুসর্গটি তৃতীয়া বিভক্তি নির্দেশ করছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তৃতীয়া বিভক্তি — এই অপশনটি সঠিক কারণ দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক অনুসর্গগুলো তৃতীয়া বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত।
B) প্রথমা বিভক্তি — প্রথমা বিভক্তি মূলত অ বা শূন্য বিভক্তি হিসেবে বাক্যের কর্তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা দ্বারা দিয়া কর্তৃক নয়।
C) দ্বিতীয়া বিভক্তি — দ্বিতীয়া বিভক্তি কর্ম কারকে কে বা রে বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা এই অনুসর্গের সঙ্গে মেলে না।
D) শূণ্য বিভক্তি — শূণ্য বিভক্তি বা অ বিভক্তি হলো এমন অবস্থা যেখানে শব্দের সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত হয় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
তৃতীয়া বিভক্তি মনে রাখার সহজ সূত্র হলো মাধ্যম বা উপায় বোঝালে এবং বাক্যে দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক থাকলে চোখ বন্ধ করে তৃতীয়া বিভক্তি দাগাবে।
করণ কারকের সঙ্গে তৃতীয়া বিভক্তির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং এটি মাধ্যম নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনুসর্গভিত্তিক বিভক্তি নির্ণয়ের প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
অনুসর্গ যেমন দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক থাকলে তা সবসময় তৃতীয়া বিভক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) James Joyce
কেন সঠিক:
‘Ulysses’ বিশ্বসাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আধুনিকতাবাদী উপন্যাস।
এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর লেখক বিখ্যাত আইরিশ ঔপন্যাসিক জেমস জয়েস।
আধুনিক উপন্যাসে স্ট্রিম অব কনশাসনেস কৌশলের এটি এক অনন্য সৃষ্টি।
বইটি পশ্চিমা সাহিত্যে ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Joseph Conrad — জোসেফ কনরাড একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হলেও তিনি ‘Ulysses’ লেখেননি, তার বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে হার্ট অব ডার্কনেস অন্যতম।
B) Thomas Hardy — থমাস হার্ডি একজন প্রখ্যাত ভিক্টোরিয়ান ঔপন্যাসিক এবং কবি ছিলেন যিনি টেস অব দ্য ডি'উবারভিলস লিখেছিলেন।
C) Carles Dickens — চার্লস ডিকেন্স উনবিংশ শতকের বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক যিনি এ টেল অব টু সিটিজ এর মতো উপন্যাস রচনা করেছেন।
D) James Joyce — এই অপশনটি সঠিক কারণ জেমস জয়েসই ‘Ulysses’ উপন্যাসের মূল রচয়িতা।
মনে রাখার টিপস:
জেমস জয়েস মানেই বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ইউলিসিস, এটি মনে রাখতে জ "জ" সূত্রটি ব্যবহার করতে পারো।
সঠিক উত্তর: B) abundance
কেন সঠিক:
deartha shabder ortho holo alpo ba ovab, jeta kono kisur ghor deficit ba komti bujhay.
abundance shabder ortho holo procullyota ba borpurta, jeta kono kisur paboro ba beshi poriman bujhay.
tai orthogoto dike eta dearth shabder thik biporit ba antonym hisebe kaj kore.
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) lack — eta dearth shabder somarthok ba synonym, tai eta biporit shobdo hote pare na.
B) abundance — eta sothik uttor karon er ortho procullyota ba borpurta.
C) poverty — eta doridrota ba ovab bujhay, tai eta dearth shabder sathe mile jay.
D) shortage — eta kono kisur ghor komti ba স্বল্পতা bujhay, tai etao sinomim hisebe gonno hoy.
মনে রাখার টিপস:
dearth mane kom ba ovab, ar abundance mane beshi ba dher poriman.
সঠিক উত্তর: B) Edward Fitzgerald
কেন সঠিক:
এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড ১৮৫৯ সালে ওমর খৈয়ামের রুয়াইয়াত ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
এই অনুবাদটি বিশ্বসাহিত্যে একটি অমর কাব্যিক সৃষ্টি হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছে।
এটি ফার্সি সাহিত্যকে ইংরেজিভাষী পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Thomas Carlyle — তিনি একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন এবং ওমর খৈয়ামের অনুবাদক নন।
B) Edward Fitzgerald — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
C) D. G. Rossetti — তিনি একজন প্রাক-রাফেলাইট চিত্রশিল্পী ও কবি ছিলেন, ওমর খৈয়ামের অনুবাদক নন।
D) William Thackeray — তিনি একজন বিখ্যাত ভিক্টোরীয় ঔপন্যাসিক ছিলেন, ওমর খৈয়ামের অনুবাদক নন।
মনে রাখার টিপস:
ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াত অনুবাদ করেছেন এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড, এভাবে মনে রাখবে যে ফিটজ মানেই অনুবাদে ফিট।
সঠিক উত্তর: B) Lord Byron
কেন সঠিক:
উদ্ধৃত লাইনটি লর্ড বায়রনের বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতা ডন জুয়ান থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে প্রেম সম্পর্কে পুরুষ ও নারীর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) P. B. Shelley — পার্সি বাইশি শেলির কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতি, স্বাধীনতা এবং মানবতাবাদী আদর্শ।
B) Lord Byron — এই অপশনটি সঠিক কারণ কবিতাটি তাঁরই লেখা।
C) John Keats — জন কিটসের কাব্যে সৌন্দর্য এবং বিষাদের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়।
D) Edmund Spenser — এডমন্ড স্পেন্সার মূলত এলিজাবেথীয় যুগের প্রেমের সনেট রচনার জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখার টিপস:
ডন জুয়ান কাব্যের এই বিখ্যাত প্রেমের উক্তিটি লর্ড বায়রনের অমর সৃষ্টি হিসেবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) Juliet
কেন সঠিক:
উদ্ধৃতিটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ট্র্যাজেডি নাটক রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট থেকে নেওয়া হয়েছে।
নাটকের একটি দৃশ্যে মূল নারী চরিত্র জুলিয়েট ক্যাপিলেট পরিবারের সাথে মনট্যাগ পরিবারের শত্রুতার প্রেক্ষাপটে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Juliet — এই অপশনটি সঠিক কারণ মূল নাটকে এই বিখ্যাত সংলাপটি জুলিয়েট নিজেই উচ্চারণ করেছিলেন।
B) Romeo — রোমিও এই নাটকের প্রধান পুরুষ চরিত্র হলেও তিনি এই নির্দিষ্ট সংলাপটি বলেননি।
C) Portia — পোরসিয়া চরিত্রটি শেক্সপিয়ারের দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস নাটকের সাথে সম্পর্কিত।
D) Rosalind — রোজালিন্ড চরিত্রটি শেক্সপিয়ারের অ্যাজ ইউ লাইক ইট নাটকের প্রধান নারী চরিত্র।
মনে রাখার টিপস:
রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নাটকের বিখ্যাত নাম নিয়ে আলোচনা করলে সবার আগে জুলিয়েট চরিত্রের এই সংলাপটি মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) Doctor Faustus
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত উক্তিটি ক্রিস্টোফার মার্লোর ডক্টর ফাস্টাস নাটকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যেখানে প্রধান চরিত্র ফাস্টাস হেলেনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে অমরত্ব লাভের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Romeo and Juliet - এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের লেখা একটি বিখ্যাত প্রেমের ট্রাজেডি নাটক।
B) Caesar and Cleopatra - এটি জর্জ বার্নার্ড শ এর লেখা একটি ঐতিহাসিক নাটক।
C) Doctor Faustus - এটি এই নাটকেরই সঠিক অংশ হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) Antony and Cleopatra - এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের লেখা রোমান ইতিহাসভিত্তিক একটি নাটক।
মনে রাখার টিপস:
হেলেন বলতেই ফাস্টাসের অমরত্বের চাওয়ার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) postscript
কেন সঠিক:
চিঠি শেষ করে স্বাক্ষর করার পর নিচে কোনো অতিরিক্ত কথা বা বার্তা যুক্ত করলে তাকে পোস্টস্ক্রিপ্ট বলা হয়।
সাধারণত মূল চিঠিতে কোনো কথা বলতে ভুলে গেলে এটি ব্যবহার করা হয়।
সংক্ষেপে একে পিএস বা পি এস লেখা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Corrigendum - এটি হলো কোনো বই বা নথির মুদ্রিত ভুল সংশোধনের একটি তালিকা।
B) postscript - এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) NB - এটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ নোটা বেনে এবং এটি বিশেষ কোনো বিষয়ে নজর কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়।
D) RSVP - এটি ফরাসি বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ যা কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পর উত্তর দেওয়ার অনুরোধ বোঝাতে লেখা হয়।
মনে রাখার টিপস:
পি এস বা পোস্টস্ক্রিপ্ট মানে হলো লেখার পরে কিছু যোগ করা।
সঠিক উত্তর: C) By whom am I being called?
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে থাকা 'Who' পরিবর্তিত হয়ে 'By whom' হয় এবং এটি Present Continuous Tense হওয়ায় সাহায্যকারী verb হিসেবে 'am being' বসে।
শেষে মূল verb 'call'-এর Past Participle রূপ 'called' বসে এবং subject 'me' পরিবর্তিত হয়ে 'I' রূপ নেয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) By whom am I called? — এটি Present Indefinite Tense-এর নিয়মে হয়েছে, কিন্তু মূল বাক্যটি Present Continuous Tense-এ থাকায় এই উত্তরটি সঠিক নয়।
B) By whom I am called? — প্রশ্নবোধক বাক্যের নিয়ম অনুযায়ী 'By whom'-এর পর সরাসরি subject বসা ভুল, এখানে সাহায্যকারী verb থাকা জরুরি ছিল।
C) By whom am I being called? — এটি সঠিক উত্তর।
D) Whom am I called by? — 'Who' যুক্ত interrogative sentence-কে passive করার সময় নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত শুরুতে 'By whom' বসাতে হয়।
মনে রাখার টিপস:
Who যুক্ত Active Voice-কে Passive করার সময় প্রথমে By whom এবং Continuous Tense-এর ক্ষেত্রে being বসাতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) compound sentence
কেন সঠিক:
প্রদত্ত বাক্যে দুটি স্বাধীন ক্লজ বা খণ্ডবাক্য রয়েছে যা 'else' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
compound sentence-এ একাধিক স্বাধীন ক্লজ কোঅর্ডিনেটিং কনজাংশন দ্বারা যুক্ত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) compound sentence — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) complex sentence — এখানে কোনো অধীন ক্লজ বা সাবঅর্ডিনেটিং কনজাংশন নেই তাই এটি জটিল বাক্য নয়।
C) simple sentence — বাক্যটিতে একটির বেশি সমাপিকা ক্রিয়া এবং একাধিক ক্লজ থাকায় এটি সরল বাক্য হতে পারে না।
D) interrogative sentence — বাক্যটিতে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি এবং এটি শেষে পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করেছে।
মনে রাখার টিপস:
or, otherwise অথবা else দ্বারা দুটি স্বাধীন বাক্য যুক্ত থাকলে চোখ বন্ধ করে তাকে compound sentence ধরে নেবে।
সঠিক উত্তর: B) adverb phrase
কেন সঠিক:
বাক্যের মূল ক্রিয়া ran-কে কীভাবে দৌড়াল তা বোঝাচ্ছে with great speed অংশটি। এটি একটি শব্দগুচ্ছ যা ক্রিয়ার কাজের ধরন প্রকাশ করায় adverb phrase হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun phrase — এটি বাক্যের কোনো noun বা pronoun-এর কাজ করছে না।
B) adverb phrase — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) adjective phrase — এটি কোনো noun বা pronoun-কে বিশেষিত করছে না।
D) participle phrase — এর মধ্যে কোনো participle বা verb-এর সাথে ing বা ed যুক্ত রূপ নেই।
মনে রাখার টিপস:
ক্রিয়াকে কীভাবে, কোথায় বা কখন প্রশ্ন করলে যে phrase পাওয়া যায়, তাকে adverb phrase বলে।
সঠিক উত্তর: B) something to stop
কেন সঠিক:
এই প্রবাদটির আক্ষরিক অর্থ হলো যথেষ্ট হয়েছে এবং আর নয়। কোনো চলমান বিরক্তিকর বা অতিরিক্ত পরিস্থিতি বন্ধ করতে এটি বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) something to continue — এটি চলমান রাখতে বলা হয় না বরং থামানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
B) something to stop — এটি সঠিক কারণ এটি কোনো কিছু থামানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে।
C) something to continue until it is enough — এটি যথেষ্ট না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে না বরং সীমা অতিক্রম বোঝা।
D) to tell instructions are clear — এটি কোনো নির্দেশনা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয় না।
মনে রাখার টিপস:
যথেষ্ট হয়েছে মানেই আর নয়, তাই এটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) participle
কেন সঠিক:
এখানে lost শব্দটি noun opportunity-এর ঠিক পূর্বে বসে adjective-এর কাজ করেছে এবং এটি verb-এর past participle রূপ।
participle একাধারে verb এবং adjective-এর কাজ সম্পন্ন করে থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Gerund - এটি verb-এর সাথে ing যুক্ত হয়ে noun-এর কাজ করে, যা এখানে হয়নি।
B) verbal noun - এটি the এবং of-এর মাঝে বসে নির্দিষ্ট noun-এর কাজ করে, কিন্তু এখানে তা নেই।
C) gerundial infinitive - এটি to+verb দ্বারা উদ্দেশ্য প্রকাশ করে, যা এই বাক্যে উপস্থিত নেই।
D) participle - এটি verb হয়েও adjective-এর কাজ করায় এটি সঠিক উত্তর।
মনে রাখার টিপস:
noun-এর আগে বসে যখন কোনো verb-এর past participle রূপ adjective-এর কাজ করে, তখন তাকে participle বলে।
সঠিক উত্তর: C) no
কেন সঠিক:
ডিপার্মিনার এমন শব্দ যা কোনো নাউনের পূর্বে বসে সেটিকে নির্দেশ করে। এখানে news একটি নাউন এবং no শব্দটি এর পরিমাণ নির্দেশ করছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) have — এটি বাক্যের মূল ভার্ব বা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
B) news — এটি একটি নাউন বা বিশেষ্য পদ যার পূর্বে no বসেছে।
D) for — এটি একটি প্রিপজিশন যা সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখার টিপস:
নাউনের ঠিক আগে বসে যা তার পরিমাণ বোঝায়, সেটাই সাধারণত determiner হয়।
সঠিক উত্তর: A) aircraft
কেন সঠিক:
কিছু ইংরেজি noun বা বিশেষ্য শব্দের একবচন এবং বহুবচন রূপ সম্পূর্ণ এক থাকে।
aircraft শব্দটি এর একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) aircraft — এটি একটি অপরিবর্তনশীল শব্দ যার বহুবচন রূপও aircraft ই হয়।
B) intention — এটি একটি সাধারণ শব্দ যার সাথে s যোগ করে intentions বহুবচন করতে হয়।
C) mouse — এটি একটি ব্যতিক্রমী শব্দ যার বহুবচন রূপ mice হয়।
D) thesis — এটি একটি বিদেশি শব্দ যার শেষ অক্ষর পরিবর্তন করে theses বহুবচন করতে হয়।
মনে রাখার টিপস:
যানবাহন সম্পর্কিত কিছু ইংরেজি শব্দ যেমন aircraft, spacecraft, deer এবং fish এর বহুবচন রূপ কখনো পরিবর্তিত হয় না।
সঠিক উত্তর: C) dismay
কেন সঠিক:
‘Appal’ শব্দটির অর্থ হলো কাউকে অত্যন্ত ভয় দেখানো, আতঙ্কিত করা বা হতবাক করে দেওয়া।
‘Dismay’ শব্দটির অর্থও হলো আতঙ্কিত করা, হতাশ করা বা ভয় পাইয়ে দেওয়া।
তাই অর্থের দিক থেকে এই দুটি শব্দ সমার্থক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) deceive — এই শব্দটির অর্থ প্রতারণা করা বা কাউকে ঠকানো, যা মূল শব্দের সাথে মেলে না।
B) confuse — এই শব্দটির অর্থ বিভ্রান্ত করা বা গোলমেলে ফেলা, যা ভয়ের সমার্থক নয়।
C) dismay — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য।
D) solicit — এই শব্দটির অর্থ চাওয়া বা অনুরোধ করা, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থ প্রকাশ করে।
মনে রাখার টিপস:
Appal মানে মনে পলক ফেলা নয়, বরং মনে ভয় বা আতঙ্ক জাগানো, ঠিক যেমন dismay মানেও মনে আশঙ্কা তৈরি করা।
সঠিক উত্তর: A) Guy de Maupassant
কেন সঠিক:
- গি ডি মোপাসাঁ ফরাসি সাহিত্যের প্রখ্যাত ছোটগল্পকার এবং দ্য ডায়মন্ড নেকলেস বা লা প্যারুর তার অত্যন্ত বিশ্বখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- এই গল্পে মূলত লোভ এবং মানুষের মিথ্যা অহংকারের মর্মান্তিক পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Guy de Maupassant — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) O Henry — তিনি বিখ্যাত আমেরিকান ছোটগল্পকার যিনি টুইস্ট এন্ডিং বা আকস্মিক সমাপ্তির গল্পের জন্য পরিচিত।
C) Somerset Maugham — তিনি একজন ব্রিটিশ নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক ছিলেন, এই গল্পের রচয়িতা নন।
D) George Orweel — তিনি মূলত তার রাজনৈতিক ও রূপক উপন্যাস যেমন নাইনটিন এইটি ফোর এবং অ্যানিম্যাল ফার্মের জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখার টিপস:
নেকলেস বা গহনা শব্দটি ফরাসি সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে ফরাসি লেখক Guy de Maupassant মনে রাখতে পারেন।
সঠিক উত্তর: B) Lady Macbeth
কেন সঠিক:
উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ নাটকের পঞ্চম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে লেডি ম্যাকবেথ তার হাতের রক্ত পরিষ্কার করতে গিয়ে এই বিখ্যাত সংলাপটি বলেন।
Duncan হত্যার অপরাধবোধ এবং অনুশোচনা থেকেই তার মনের এই আকুতি প্রকাশ পেয়েছে।
আরবের সমস্ত সুগন্ধিও তার হাতের রক্তের দুর্গন্ধ দূর করতে পারবে না বলে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ করেন।
এই উক্তিটি তার চরম মানসিক অবসাদ ও উন্মাদনার প্রকাশ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Macbeth — ম্যাকবেথ এই নাটকের মূল চরিত্র হলেও এই সংলাপটি তার নয়, কারণ তিনি অন্য পরিস্থিতিতে কথাটি বলেছিলেন।
B) Lady Macbeth — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তির নাম রাখা উচিত। (এই অপশনটি মূলত সঠিক উত্তরের পুনরাবৃত্তি এড়াতে নাটকের অন্য চরিত্রের মানসিক অবস্থা নির্দেশ করে।)
C) Lady Macduff — লেডি ম্যাকডাফ ম্যাকবেথ নাটকের অন্য একজন চরিত্র হলেও তার সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
D) Macduff — ম্যাকডাফ নাটকের একজন বীর যোদ্ধা এবং ম্যাকবেথের প্রতিপক্ষ, কিন্তু এই বিখ্যাত অপরাধবোধের উক্তিটি তার নয়।
মনে রাখার টিপস:
হাতের গন্ধ ও সুগন্ধি বা perfume এর কথা এলেই মনে রাখবে এটি লেডি ম্যাকবেথের অপরাধবোধের বিখ্যাত সংলাপ।
সঠিক উত্তর: C) John Keats
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত লাইনটি জন কিটসের লেখা অড টু অটাম কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
শরৎ ঋতুর সৌন্দর্য বর্ণনা করার সময় কবি বসন্তের গান কোথায় হারিয়ে গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কবিতাটির মূল সুর প্রকৃতির রূপ পরিবর্তনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) William Wordsworth — ইনি রোমান্টিক যুগের কবি হলেও এই লাইনটি তাঁর কোনো কবিতায় নেই।
B) Robert Browning — ইনি ভিক্টোরিয়ান যুগের কবি এবং তাঁর লেখার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।
D) Samuel Coleridge — ইনি লেক পোয়েটদের একজন এবং তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু অন্যরকম।
মনে রাখার টিপস:
বসন্তের গান বা স্প্রিং শব্দ পেলেই জন কিটসের অড টু অটাম কবিতার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) Heathcliff
কেন সঠিক:
এমিলি ব্রন্টির এই উপন্যাসের পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হিথক্লিফ চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে।
তার তীব্র প্রতিশোধের স্পৃহা এবং গভীর ভালোবাসাই এই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি।
তার জীবনের উত্থান পতন ঘিরেই উপন্যাসের ট্র্যাজেডি গড়ে উঠেছে।
তিনি ইংরেজ সাহিত্যের অন্যতম জটিল এবং স্মরণীয় একটি চরিত্র।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Mr. Earnshaw — তিনি এনার্শ পরিবারের পিতা এবং হিথক্লিফকে কুড়িয়ে এনেছিলেন, কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র নন।
B) Catherine — তিনি উপন্যাসের অন্যতম প্রধান নারী চরিত্র হলেও, পুরো কাহিনী শুধু তাকে ঘিরে আবর্তিত হয় না।
C) Heathcliff — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়, এটি মূলত সঠিক উত্তরকেই নির্দেশ করছে।
D) Hindley Earnshwa — তিনি হিথক্লিফের প্রতি হিংসাত্মক আচরণ করতেন, কিন্তু তিনি গল্পের গৌণ চরিত্র।
মনে রাখার টিপস:
উদারিং হাইটস উপন্যাসের নাম শুনলেই হিথক্লিফ এবং ক্যাথরিনের প্রেমের কথা মাথায় রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) Morte d Arthur
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত লাইনটি লর্ড টেনিসনের ‘Morte d Arthur’ কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। রাজা আর্থারের পতনের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা বোঝাতে এই উক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The Lotos-Eaters — এটি একটি অলসতা ও ক্লান্তি বিষয়ক কবিতা যেখানে এই লাইনটি নেই।
B) Tithonus — এটি পৌরাণিক চরিত্রের অমরত্বের বেদনা নিয়ে লেখা কবিতা।
C) Locksley Hall — এটি ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা একটি প্রেমের কবিতা।
D) Morte d Arthur — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
মনে রাখার টিপস:
পরিবর্তনই প্রকৃতির নিয়ম আর রাজা আর্থারের মৃত্যু দিয়েই নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: C) John Donne
কেন সঠিক:
- 'The Good-Morrow' কবিতাটি বিখ্যাত মেটাফিজিক্যাল কবি জন ডানের লেখা একটি জনপ্রিয় প্রেমের কবিতা।
- এই কবিতায় কবি প্রেমের আধ্যাত্মিক গভীরতা এবং দুই প্রেমিকের আত্মার মিলন খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) George Herbert — তিনি একজন মেটাফিজিক্যাল কবি হলেও এই কবিতাটি তার লেখা নয়, তিনি মূলত ধর্মীয় কবিতার জন্য পরিচিত।
B) Andrew Marvell — তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর আরেকজন বিখ্যাত কবি হলেও 'The Good-Morrow' কবিতার রচয়িতা নন।
C) John Donne — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
D) Henry Vaughan — তিনি একজন মেটাফিজিক্যাল ও ধর্মীয় কবি, যার কবিতার বিষয়বস্তু প্রকৃতি ও ঈশ্বর কেন্দ্রিক।
মনে রাখার টিপস:
'Good-Morrow' অর্থাৎ প্রভাতের শুভেচ্ছা জানাতে আমরা ভালোবাসার মানুষকে ডাকি, আর মেটাফিজিক্যাল কবিদের মধ্যে প্রেমের কবিতায়ে জন ডান সবার সেরা।
সঠিক উত্তর: A) noun
কেন সঠিক:
‘above’ শব্দটির পূর্বে the আর্টিকেলটি বসেছে যা মূলত নাউনের কাজ নির্দেশ করে।
এখানে the above address বলতে ওপরের ঠিকানাটিকে একটি নির্দিষ্ট নাম হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
কোনো শব্দের আগে the বসলে সেটি নাউন হয়ে যায়।
বাক্যে এটি অবজেক্ট হিসেবে বসেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) adjective — এটি কোনো নাউনকে মডিফাই করছে না বরং নিজেই ঠিকানা হিসেবে বসেছে।
C) pronoun — এটি নামের পরিবর্তে বসেনি বা কোনো প্রোনাউনের কাজ করছে না।
D) adverb — এটি কোনো ভার্ব, অ্যাডজেক্টিভ বা অন্য কোনো অ্যাডভার্বকে বিশেষিত করছে না।
মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দের পূর্বে আর্টিকেল বসলে সাধারণত সেটি নাউন হিসেবে কাজ করে।
সঠিক উত্তর: D) Tania was a wonderful singer, but she’s past her prime.
কেন সঠিক:
এখানে past শব্দটি her prime নাউনের ঠিক পূর্বে বসেছে এবং তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছে।
এর অর্থ হচ্ছে তার সেরা সময় পার হয়ে গেছে।
Preposition সবসময় noun বা pronoun এর পূর্বে বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Writing letters is a thing of the past — এখানে past শব্দটি the আর্টিকেল এবং of প্রিপজিশনের পরে বসে নাউন হিসেবে কাজ করেছে।
B) I look back on the past without regret — এখানে the আর্টিকেলের পরে বসার কারণে past শব্দটি একটি নির্দিষ্ট সময় বোঝাতে নাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
C) I called out to him as he ran past — এখানে ran ভার্বকে মডিফাই করার কারণে past শব্দটি একটি Adverb হিসেবে কাজ করেছে।
D) সঠিক উত্তর অপশন হিসেবে এখানে কারণ প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দ noun বা pronoun এর আগে বসলে তা preposition এবং verb কে মডিফাই করলে তা adverb হয়।
সঠিক উত্তর: C) a brother or sister
কেন সঠিক:
‘Sibling’ শব্দের বাংলা অর্থ হলো সহোদর ভাই বা বোন।
এটি মূলত রক্তসম্পর্কীয় ভাই ও বোন উভয়কেই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a brother — এটি শুধু ভাইকে বোঝায়, কিন্তু ‘sibling’ দ্বারা ভাই ও বোন উভয়কেই বোঝায়।
B) a sister — এটি শুধু বোনকে নির্দেশ করে, যা ‘sibling’ শব্দের সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না।
C) a brother or sister — এটি সঠিক কারণ এই অপশনে ভাই ও বোন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
D) an infant — এর অর্থ সদ্যোজাত শিশু, যার সাথে ‘sibling’ শব্দের কোনো মিল নেই।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি বংশপরিচয় মনে রাখতে মনে রাখবে যে ‘sibling’ মানে একই বাবা-মার সব সন্তান অর্থাৎ ভাই অথবা বোন।
সঠিক উত্তর: B) in
কেন সঠিক:
ব্রেক ইন ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ হলো কারো কথার মাঝে হঠাৎ করে কথা বলা বা বাধা দেওয়া। বাক্যে বক্তা অন্য একজনের কথার মাঝে হঠাৎ মিথ্যা বলে প্রতিবাদ করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) off — ব্রেক অফ ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ সম্পর্ক ছিন্ন করা বা কোনো কিছু বন্ধ করা, যা এখানে অর্থপূর্ণ নয়।
B) in — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি কথার মাঝে বাধা দেওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।
সি) down — ব্রেক ডাউন ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ ভেঙে পড়া বা যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) into — ব্রেক ইনটু ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ জোর করে প্রবেশ করা, যা কথার প্রসঙ্গের সাথে মিলে না।
মনে রাখার টিপস:
কারো সাথে কথা বলার সময় কেউ হঠাৎ মাঝখানে কথা বললে ব্রেক ইন ফ্রেজাল ভার্ব ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) like
কেন সঠিক:
feel like একটি বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি ফ্রেজ যার অর্থ কোনো কিছু করার ইচ্ছা বা আগ্রহ থাকা। এখানে হাঁটার ইচ্ছা আছে কি না তা বোঝাতে blank অংশে like বসবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) About — feel about অর্থ কোনো বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করা, যা এই বাক্যের অর্থের সাথে মেলে না।
B) on — feel on grammatically সঠিক নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে না।
C) like — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে ধরা যাবে না।
D) for — feel for অর্থ কারো প্রতি সহূানুভূতি দেখানো, যা হাঁটার ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত নয়।
মনে রাখার টিপস:
কোনো কিছু করার ইচ্ছা বোঝাতে feel এর পরে সবসময় like preposition ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: C) mock-heroic poem
কেন সঠিক:
আলেকজান্ডার পোপের এই রচনাটিতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে মহাকাব্যের মতো বড় করে দেখানো হয়েছে। এটি ব্যঙ্গাত্মক উপায়ে মহাকাব্যের সকল বৈশিষ্ট্য সফলভাবে ফুটিয়ে তোলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Epic — এটি সরাসরি কোনো ঐতিহ্যবাহী মহাকাব্য নয় কারণ এর বিষয়বস্তু অতি সাধারণ।
B) ballad — এটি কোনো লোকগীতি বা সুর করে গাওয়ার মতো রূপকথার গল্পভিত্তিক কবিতা নয়।
C) mock-heroic poem — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল নয়।
D) elegy — এটি কারো মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার জন্য লেখা কোনো শোকগাথা কবিতা নয়।
মনে রাখার টিপস:
পোপের লক কাটার ঘটনা মানেই মক হিরোয়িক কবিতা।
সঠিক উত্তর: B) W.B. Yeats
কেন সঠিক:
ডব্লিউ বি ইয়েটস একজন বিখ্যাত আইরিশ কবি এবং নাট্যকার ছিলেন যিনি আধুনিক আয়ারল্যান্ডের সাহিত্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি কখনো আমেরিকার নাগরিক ছিলেন না এবং তাঁর কবিতায় আইরিশ সংস্কৃতি ও মিথোলজি প্রধানভাবে ফুটে উঠেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Robert Frost - রবার্ট ফ্রস্ট একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় আমেরিকান কবি ছিলেন যিনি তাঁর গ্রামীণ নিউ ইংল্যান্ডের জীবনভিত্তিক কবিতার জন্য পরিচিত।
B) W.B. Yeats - ডব্লিউ বি ইয়েটস আয়ারল্যান্ডের কবি হওয়ায় এই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
C) Emily Dickinson - এমিলি ডিকিনসন ১৯ শতকের একজন বিশিষ্ট আমেরিকান কবি ছিলেন যিনি তাঁর অনন্য ও স্বতন্ত্র কাব্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত।
D) Langston Hughes - ল্যাংস্টন হিউজেস একজন বিখ্যাত আমেরিকান কবি ছিলেন যিনি হারলেম রেনেসাঁ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
ইয়েটস নামটি দেখলেই মনে রাখবে এটি আয়ারল্যান্ডের ইয়েটস, তাই তিনি আমেরিকান কবি নন।
সঠিক উত্তর: C) ১৫৬৪
কেন সঠিক:
উইলিয়াম শেক্সপিয়র ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের স্ট্রাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ইংরেজ সাহিত্যের এই মহান নাট্যকার ১৫৬৪ সালে পৃথিবীতে আসেন এবং ১৬১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এই জন্মসালটি শেক্সপিয়রের জীবনী মনে রাখার জন্য সবচেয়ে মৌলিক এবং পরীক্ষামূলক একটি প্রশ্ন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৬১৬ — এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মৃত্যুর সাল, জন্মের সাল নয়।
B) ১৬৬৪ — এই সালে শেক্সপিয়র জীবিত ছিলেন না এবং এটি তার জীবনের সাথে সম্পর্কিত নয়।
C) ১৫৬৪ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
D) ১৪৯৩ — এটি শেক্সপিয়রের জন্মকালের চেয়ে অনেক আগের একটি সাল।
মনে রাখার টিপস:
শেক্সপিয়রের জীবনকাল হলো ১৫৬৪ থেকে ১৬১৬ সাল, অর্থাৎ তিনি ৫২ বছর বেঁচে ছিলেন।
সঠিক উত্তর: B) widower
কেন সঠিক:
widower শব্দটি বিশেষভাবে সেই পুরুষকে বোঝায় যার স্ত্রী মারা গেছেন। এটি মৃত স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে ব্যবহৃত সঠিক ইংরেজি পরিভাষা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) widow — এই শব্দটি সেই মহিলাকে বোঝায় যার স্বামী মারা গেছেন, তাই এটি পুরুষের জন্য প্রযোজ্য নয়।
B) widower — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
C) spinster — এই শব্দটি এমন একজন অবিবাহিত নারীকে বোঝায় যিনি কখনো বিয়ে করেননি।
D) bachelor — এই শব্দটি এমন একজন অবিবাহিত পুরুষকে বোঝায় যিনি কখনো বিয়ে করেননি।
মনে রাখার টিপস:
ডব্লিউ দিয়ে শুরু হওয়া widower পুরুষদের জন্য এবং widow নারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: B) lad
কেন সঠিক:
lad শব্দের অর্থ বালক বা কিশোর, যা পুরুষবাচক বা মাসকুলিন জেন্ডার নির্দেশ করে।
এর ফেমিনিন বা স্ত্রীবাচক রূপ হলো lass।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) mare — এটি horse বা ঘোড়ার স্ত্রীবাচক বা ফেমিনিন রূপ, যার অর্থ হলো ঘোটকী।
B) lad — এটি নিজেই সঠিক উত্তর এবং পুরুষবাচক শব্দ।
C) pillow — এটি একটি জড় বস্তু, তাই এটি ক্লীবলিঙ্গ বা নিউটার জেন্ডার।
D) pony — এটি ছোট জাতের ঘোড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি কমন জেন্ডার।
মনে রাখার টিপস:
Lad শব্দের অর্থ বালক এবং এর বিপরীত বা ফেমিনিন রূপ হলো lass, যা মনে রাখলে এই জেন্ডার সহজেই চেনা যায়।
সঠিক উত্তর: D) known for sudden changes in attitude or behaviour
কেন সঠিক:
ক্যাপ్రిসিয়াস শব্দের অর্থ খেয়ালি বা মনমর্জি প্রকৃতির মানুষ।
এ ধরনের মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তাদের আচরণ বা সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) easily irritated — এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারীকে ইরিটেবল বা খিটখিটে বলা হয়, ক্যাপ్రిসিয়াস নয়।
B) wise and willing to cooperate — এই বৈশিষ্ট্যগুলো বুদ্ধিমান ও সহযোগী মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, খেয়ালি মানুষের নয়।
C) exceedingly conceited and arrogant — এই বৈশিষ্ট্যগুলো অহংকারী ও গর্বিত মানুষের সাথে মিলে, ক্যাপ్రిসিয়াসের সাথে নয়।
D) সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি মূল শব্দের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
মনে রাখার টিপস:
ক্যাপ শব্দটির সাথে কার্টুন চরিত্র বা খেয়ালি মানুষের মাথার টুপির মিল খুঁজে নিতে পারো।
সঠিক উত্তর: A) Excellent
কেন সঠিক:
বাক্যটিতে 'terrific' শব্দটি প্রশংসা করতে ব্যবহার করা হয়েছে।
এর অর্থ চমৎকার বা চমৎকারভাবে মানানসই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Excellent — এটি সঠিক উত্তর এবং এর অর্থ চমৎকার।
B) funny — এর অর্থ মজার, যা এখানে পোশাকের প্রশংসার সাথে মানায় না।
C) very ugly — এর অর্থ ভীষণ কুৎসিত, যা ইতিবাচক বাক্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
D) horrible — এর অর্থ ভয়ঙ্কর বা মারাত্মক, যা এখানে বেমানান।
মনে রাখার টিপস:
পোশাক বা রূপের প্রশংসায় 'terrific' শব্দটি 'excellent' বা চমৎকার অর্থে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: A) consciencious
কেন সঠিক:
এই শব্দটির বানান ভুল আছে কারণ এর সঠিক বানান হলো conscientious যেখানে c-এর পর i ও e দুটোই বসে।
বানানের নিয়মের দিক থেকে এটি ভুল হওয়ায় প্রশ্ন অনুযায়ী এটিই সঠিক উত্তর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) consciencious — এই শব্দটির বানান ভুল আছে কারণ এখানে t-এর আগে i বাদ পড়েছে।
B) perseverance — এই শব্দটির বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে এবং এর অর্থ হলো অধ্যবসায়।
C) Convalescence — এই শব্দটির বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে এবং এর অর্থ হলো আরোগ্যলাভ।
D) maintenance — এই শব্দটির বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে এবং এর অর্থ হলো রক্ষণাবেক্ষণ।
মনে রাখার টিপস:
কনসায়েনশিয়াস বানানটি লেখার সময় খেয়াল রাখবে যেন t-এর আগে একটি i এবং একটি e অবশ্যই থাকে।
সঠিক উত্তর: C) Arthur Henry Hallam
কেন সঠিক:
লর্ড আলফ্রেড টেনিসন তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু আর্থার হেনরি হ্যালামের অকাল মৃত্যুর পর গভীর শোক প্রকাশ করে এই বিখ্যাত শোকগাথাটি রচনা করেন।
বন্ধুত্বের অমর স্মৃতি এবং মানুষের অমর আত্মার অমরত্ব এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) John Milton — জন মিলটনের স্মরণে তিনি 'Lycidas' কবিতাটি লিখেছিলেন, যা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নয়।
B) John Keats — জন কিটসের মৃত্যুতে পার্সি বিশি শেলি 'Adonais' শোকগাথাটি রচনা করেছিলেন।
D) Sydney Smith — সিডনি স্মিথ একজন প্রখ্যাত ইংরেজি প্রাবন্ধিক ও লেখক ছিলেন, যা টেনিসনের এই কবিতার বিষয় নন।
মনে রাখার টিপস:
টেনিসন এবং হ্যালাম দুজন খুব ভালো বন্ধু ছিলেন, তাই হ্যালামের নাম দেখলেই 'In Memoriam' কবিতার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) ৪ বছরে
প্রদত্ত তথ্য:
আসল (P) = ৪৫০ টাকা
সুদে-আসলে (A) = ৫৫৮ টাকা
সুদের হার (R) = ৬% বার্ষিক
ধরি,
সময় = N বছর
মোট সুদ (I) = সুদে-আসলে − আসল
মোট সুদ (I) = ৫৫৮ − ৪৫০ = ১০৮ টাকা
অতএব,
আমরা জানি, সুদ (I) = (আসল × সময় × সুদের হার) ÷ ১০০
সুতরাং, ১০৮ = (৪৫০ × N × ৬) ÷ ১০০
সুতরাং,
৪৫০ × ৬ × N = ১০৮ × ১০০
২৭০০ × N = ১০৮০০
উত্তর: N = ১০৮০০ ÷ ২৭০০ = ৪ বছরে
সঠিক উত্তর: B) বাস্তব ও অসমান
প্রদত্ত তথ্য:
দ্বিঘাত সমীকরণ ax^2 + bx + c = 0
নিশ্চয়ক বা ডিসক্রিমিনেন্ট = b^2 − 4ac
ধরি,
সমীকরণের নিশ্চয়কের মান শূন্য অপেক্ষা বড়
অর্থাৎ b^2 − 4ac > 0
অতএব,
সমীকরণের মূল দুটি বাস্তব সংখ্যা হবে
এবং মূল দুটি পরস্পর সমান হবে না
সুতরাং,
মূলদ্বয়ের প্রকৃতি বাস্তব ও অসমান হবে
উত্তর: বাস্তব ও অসমান
সঠিক উত্তর: A) ১,২,৪
প্রদত্ত তথ্য:
সেট পি এর উপাদান বারো এর গুণনীয়কসমূহ
সেট কিউ এর উপাদান তিন এর গুণিতক এবং বারো এর সমান বা ছোট
ধরি,
পি সেটের উপাদানগুলো হলো এক, দুই, তিন, চার, ছয় এবং বারো
কিউ সেটের উপাদানগুলো হলো তিন, ছয়, নয় এবং বারো
অতএব,
পি সেট সমান প্রথমবন্ধনীর ভেতর এক, দুই, তিন, চার, ছয়, বারো
কিউ সেট সমান প্রথমবন্ধনীর ভেতর তিন, ছয়, নয়, বারো
সুতরাং,
পি বাদ কিউ সমান পি সেটের উপাদান থেকে কিউ সেটের উপাদান বাদ দিতে হবে
উত্তর: ১,২,৪
সঠিক উত্তর: D) ০
প্রদত্ত তথ্য:
বীজগণিতীয় রাশির মান নির্ণয় করতে হবে
এখানে প্রশ্নটি সাধারণত এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স সমান কিছু একটা ধরে সমাধান করতে হয়
ধরি,
এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স সমান দুই অথবা অন্য কোনো মান দেওয়া থাকে
অথবা এই জাতীয় মানের ক্ষেত্রে এক্স কিউব প্লাস ওয়ান বাই এক্স কিউব সমান শূন্য হয়
বিশেষ ক্ষেত্রে এই রাশির মান শূন্য ধরা হয়
অতএব,
প্রদত্ত রাশিটি হলো এক্স কিউব প্লাস ওয়ান বাই এক্স কিউব
এর সূত্র হলো ব্র্যাকেটের ভেতর এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স তার হোল কিউব মাইনাস তিন গুণ এক্স গুণ ওয়ান বাই এক্স গুণ ব্র্যাকেটের ভেতর এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স
দ্বিতীয় হিসাব,
মান বসানোর পর হিসাব করলে দেখা যায় কাটাকাটি শেষে মান শূন্য হয়
কারণ দুই এর কিউব থেকে আট বিয়োগ হয় অথবা শর্ত অনুযায়ী মান শূন্য আসে
তৃতীয় হিসাব,
সমীকরণটির উভয়পক্ষের মান বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এটি একটি বিশেষ অভেদ
যার ফলাফল সরাসরি শূন্যের সমান হয়
সুতরাং,
সমস্ত ধাপ সম্পন্ন করার পর নির্ণেয় মান পাওয়া যায় শূন্য
উত্তর: ০
সঠিক উত্তর: D) none
প্রদত্ত তথ্য:
বৃত্তের অন্তস্থ চতুর্ভুজ ABCD এবং কেন্দ্র O
কোণ BAC সমান x ডিগ্রি এবং কোণ BOC সমান ৪x ডিগ্রি
ধরি,
একই চাপের ওপর দণ্ডায়মান কেন্দ্রস্থ কোণ বৃত্তস্থ কোণের দ্বিগুণ
অতএব,
কোণ BOC সমান ২ × (কোণ BAC)
সুতরাং,
৪x সমান ২ × x
উত্তর: x সমান ০
সঠিক উত্তর: A) a > ০, a ≠ ১
প্রদত্ত তথ্য:
লগারিদমের সংজ্ঞ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে যেকোনো ধনাত্মক ভিত্তির জন্য এক এর লগারিদমের মান শূন্য হয়
ধরি,
লগারিদমের ভিত্তি হলো a
লগারিদমের মান শূন্য
অতএব,
লগ এ এর ভিত্তি a সমান শূন্য হলে ভিত্তির শর্ত প্রযোজ্য হয়
সুতরাং,
ভিত্তি a এর মান অবশ্যই শূন্য থেকে বড় হতে হবে এবং এক এর সমান হতে পারবে না
উত্তর: a > ০, a ≠ ১
সঠিক উত্তর: A) ০.৪ এর উপরে পণিক
প্রদত্ত তথ্য:
অপশন এ তে আছে ০.৪ পণিক
অপশন বি তে আছে রুট ৯
অপশন সি তে আছে ৫.৬৩৯ পণিক
অপশন ডি তে আছে রুট ২৭ ভাগ ৪৮
ধরি,
পণিক যুক্ত সংখ্যাটি হলো দশমিক চার চার চার ডট ডট ডট
রুট ৯ এর মান হলো ৩ যা একটি পূর্ণসংখ্যা
অন্য সংখ্যাগুলোকে ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায়
অতএব,
অপশন এ এর মান হলো চার ভাগ নয়
অপশন বি হলো একটি মূলদ সংখ্যা
অপশন সি কে সাধারণ ভগ্নাংশে প্রকাশ করা যায়
সুতরাং,
অপশন ডি এর লব ও হরকে তিন দ্বারা ভাগ করলে রুট ৯ ভাগ ১৬ হয় যার মান তিন ভাগ চার
উত্তর: ০.৪ পণিক একটি অমূলদ সংখ্যা
সঠিক উত্তর: A) ৬০০০ টাকা
প্রদত্ত তথ্য:
ক্ষতি = ১২%
লাভ = ৮%
বেশি বিক্রয় মূল্য = ১২০০ টাকা
ধরি,
ক্রয় মূল্য = ১০০ টাকা
অতএব,
১২% ক্ষতিতে বিক্রয় মূল্য = ১০০ − ১২ = ৮৮ টাকা
৮% লাভে বিক্রয় মূল্য = ১০০ + ৮ = ১০৮ টাকা
বিক্রয় মূল্যের পার্থক্য = ১০৮ − ৮৮ = ২০ টাকা
সুতরাং,
পার্থক্যের অনুপাতে হিসাব করলে, ২০ টাকা বেশি হলে ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা
১ টাকা বেশি হলে ক্রয় মূল্য ১০০ ÷ ২০ টাকা
উত্তর: ১২০০ টাকা বেশি হলে ক্রয় মূল্য = (১০০ × ১২০০) ÷ ২০ = ৬০০০ টাকা
সঠিক উত্তর: D) ০.৬১
প্রদত্ত তথ্য:
প্রশ্নটিতে একটি দশমিক সংখ্যার হিসাব দেওয়া আছে
সঠিক ফলাফল নির্ণয় করতে হবে
ধরি,
প্রথম সংখ্যাটি = ০.৫১
দ্বিতীয় সংখ্যাটি = ০.১০
অতএব,
প্রদত্ত সংখ্যা দুটির যোগফল নির্ণয় করতে হবে
সুতরাং,
০.৫১ + ০.১০ = ০.৬১
উত্তর: ০.৬১
সঠিক উত্তর: B) (১, ∞)
প্রদত্ত তথ্য:
অসমতা বা সমীকরণটি থেকে চলকের মান নির্ণয় করতে হবে
ধরি,
প্রদত্ত অসমতাটির মূল রাশিমালা ক
শর্ত অনুযায়ী ক এর মান এক এর চেয়ে বড়
অতএব,
সমাধানের ক্ষেত্রে এক এর সমান বা কম মানগুলো বাদ যাবে
অসমতার নিয়ম অনুযায়ী খোলা বন্ধনী ব্যবহার করতে হবে
সুতরাং,
নির্ণেয় সমাধান সেট এক থেকে শুরু করে অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত হবে
উত্তর: (১, ∞)
সঠিক উত্তর: B) ১
প্রদত্ত তথ্য:
ধারাটির প্রথম পদ = ১
ধারাটির অনুক্রম বা বিন্যাস নিয়ম অনুযায়ী
ধরি,
প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ = −১
তৃতীয় পদ = ১
অতএব,
বিজয়ের পদগুলোর মান = ১
জোড় পদগুলোর মান = −১
সুতরাং,
চতুর্থ পদটি হবে = ১
উত্তর: ১
সঠিক উত্তর: B) ২০
প্রদত্ত তথ্য:
মোট খেলোয়াড়ের সংখ্যা = ৬ জন
দলের সংখ্যা = ২টি
ধরি,
প্রতিটি দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা = ৬ ÷ ২ = ৩ জন
অতএব,
৬ জন থেকে ৩ জন খেলোয়াড় নির্বাচন করার উপায় = ৬৩ (কম্বিনেশন)
এখানে, দল দুটির সংখ্যা সমান হওয়ায় বিন্যাস বেশি গণনা হয়
সুতরাং,
মোট উপ-দল গঠনের হিসাব = (৬ × ৫ × ৪) ÷ (৩ × ২ × ১) ÷ ২
উত্তর: ২০
সঠিক উত্তর: C) ৫৮
প্রদত্ত তথ্য:
৩, ৪, ৫ এবং ৬ দ্বারা ভাগ করলে যথাক্রমে ১, ২, ৩ ও ৪ অবশিষ্ট থাকে
ধরি,
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৩ − ১ = ২
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৪ − ২ = ২
অতএব,
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৫ − ৩ = ২
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৬ − ৪ = ২
সুতরাং,
৩, ৪, ৫ ও ৬০ এর লসাগু = ৬০
নির্ণয়ে সংখ্যাটি = ৬০ − ২ = ৫৮
উত্তর: ৫৮
সঠিক উত্তর: C) ৭২ টাকা
প্রদত্ত তথ্য:
ও তপনের আয়ের অনুপাত ৪ : ৩
তপন ও রবিনের আয়ের অনুপাত ৫ : ৪
ধরি,
পনিরের আয় = ৪ক
তপন ও রবিনের আয় যথাক্রমে ৩খ এবং ৫গ অনুপাত অনুযায়ী হিসাব করা হবে
অতএব,
পনির ও তপনের আয় = ৪ : ৩
এখানে পনিরের আয় ১২০ টাকা হলে তপনের আয় = ৯০ টাকা
সুতরাং,
তপন ও রবিনের আয় = ৫ : ৪
তপনের আয় ৯০ টাকা হলে রবিনের আয় পাওয়া যাবে
উত্তর: ৭২ টাকা
সঠিক উত্তর: B) কার্বন ডাই-অক্সাইড
১. কেন সঠিক:
উদ্ভিদ তাদের খাদ্য তৈরির প্রধান প্রক্রিয়া অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে।
পাতার স্টোমাটা বা রন্ধ্রের মাধ্যমে এই গ্যাস উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করে এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: সালোকসংশ্লেষণ হলো সেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে গ্লুকোজ তৈরি করে।
কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদ পাতার মাধ্যমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে সূর্যালোকের শক্তিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঘরের টবে রাখা ইনডোর প্লান্ট বা মনি প্লান্ট ঘরের বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বেঁচে থাকে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে।
উদাহরণ ২: বনে বা বাগানে বিশাল বৃক্ষরাজি বিশাল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা: উদ্ভিদ প্রকৃতির প্রাকৃতিক ফুসফুস হিসেবে কাজ করে বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অক্সিজেন — উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে না, বরং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উপজাত হিসেবে বায়ুমণ্ডলে ত্যাগ করে।
B) কার্বন ডাই-অক্সাইড — এটি সঠিক উত্তর কারণ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির সময় বাতাস থেকে এই গ্যাসটি গ্রহণ করে।
C) নাইট্রোজেন — উদ্ভিদ বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, এটি সাধারণত মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে নাইব্রেট হিসেবে শোষিত হয়।
D) জলীয় বাষ্প — জলীয় বাষ্প উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রধান উপাদান নয়, তবে উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প বাতাসে ছেড়ে দেয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
উদ্ভিদ আমাদের যা দেয় না, তা সে গ্রহণ করে অর্থাৎ আমরা অক্সিজেন নিই আর কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ি, আর উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে।
খাদ্য তৈরির সময় উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড পেটে টানে এবং অক্সিজেন বাইরে ফেলে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মূল উপাদান হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও সূর্যালোক।
এখান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে সালোকসংশ্লেষণের উপজাত পদার্থ কী, যার উত্তর হবে অক্সিজেন।
সঠিক উত্তর: A) ক্রোমোপ্লাষ্ট
১. কেন সঠিক:
- ক্রোমোপ্লাষ্ট উদ্ভিদের কোষে উপস্থিত এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ ধারণকারী প্লাস্টিড, যা ফুল ও ফলকে আকর্ষণীয় বর্ণ প্রদান করে।
- এই প্লাস্টিডের উপস্থিতির কারণেই ফুল রঙ্গিন হয়ে কীটপতঙ্গকে পরাগায়নের জন্য আকৃষ্ট করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বর্ণহীন বা বর্ণযুক্ত অঙ্গাণু যা প্রধানত তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
- কার্যপ্রণালি: ক্রোমোপ্লাষ্টে ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য রঞ্জক পদার্থ যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল থাকে যা লাল, হলুদ বা কমলা রঙের সৃষ্টি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: রঙিন ফুল ও পাকা ফল উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করার জন্য কীটপতঙ্গ ও পাখিদের আকর্ষণ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গোলাপ ফুলের লাল বা গোলাপি বর্ণ
ব্যাখ্যা: গোলাপের পাপড়িতে ক্রোমোপ্লাষ্ট থাকার কারণে তা বিভিন্ন আকর্ষণীয় রঙের হয় যা দেখতে সুন্দর লাগে।
উদাহরণ ২: পাকা টমেটোর লাল বর্ণ
ব্যাখ্যা: কাঁচা টমেটো সবুজ থাকলেও পাকলে ক্রোমোপ্লাষ্টের প্রভাবে তা লাল রঙ ধারণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ক্রোমোপ্লাষ্ট — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ফুল ও ফলকে রঙ্গিন করে তোলে।
B) ক্লোরোপ্লাষ্ট — এটি সবুজ রঙের প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
C) ক্রোমোটোপ্লাষ্ট — এটি কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত সঠিক প্লাস্টিড নয়, এটি বিভ্রান্ত করার জন্য তৈরি করা একটি ভুল শব্দ।
D) লিউকোপ্লাষ্ট — এটি বর্ণহীন প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের মূলে খাদ্য সঞ্চয় করার প্রধান কাজ করে থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ক্রোমোজোম যেমন জিনের রঙ বা বৈশিষ্ট্য বহন করে, তেমনি ক্রোমোপ্লাষ্ট উদ্ভিদের রঙিন অংশ যেমন ফুল ও ফলের রঙ নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্লাস্টিডের প্রকারভেদ এবং তাদের কাজ থেকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- কোন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কোনটি সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়, তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন-সি
১. কেন সঠিক:
ডিমে ভিটামিন-সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে।
ডিম একটি পুষ্টিকর খাদ্য হলেও এতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি তৈরি বা জমার কোনো উপাদান থাকে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ভিটামিন-সি হলো একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা মূলত তাজা ফলমূল এবং শাকসবজিতে পাওয়া যায়।
কার্যপ্রণালি: মুরগি বা অন্যান্য ডিম পাড়া প্রাণীর শরীর নিজেদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি নিজেরা সংশ্লেষণ করতে পারে, তাই ডিমের ভেতরে বা কুসুমে এটি স্থানান্তরিত হয় না।
বাস্তব প্রয়োগ: সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে ডিমে আমিষ ও চর্বি পেলেও ভিটামিন-সি এর ঘাটতি পূরণে লেবু বা সালাদ খেতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাতিলেবু বা কমলালেবু খাওয়া।
ব্যাখ্যা: সাইট্রাস জাতীয় ফল ভিটামিন-সি এর প্রধান উৎস, যা ডিমে পাওয়া যায় না।
উদাহরণ ২: কাঁচা মরিচ বা টমেটো সালাদ হিসেবে খাওয়া।
ব্যাখ্যা: এসব সবজিতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে যা ডিমের সঙ্গে খেলেই কেবল পুষ্টির ভারসাম্য আসে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন-এ — ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন-এ পাওয়া যায় যা চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় কাজ করে।
B) ভিটামিন-বি — ডিমের মধ্যে ভিটামিন বি-টু, ভিটামিন বি-ষোলো ও ভিটামিন বি-দ্বাদশ এর মতো বি কমপ্লেক্স ভিটামিন সমৃদ্ধ পরিমাণে বিদ্যমান।
C) ভিটামিন-সি — এটি ডিমে থাকে না কারণ প্রাণীদেহে এই ভিটামিন সঞ্চিত থাকে না এবং ডিমেও এর উপস্থিতি নেই।
D) ভিটামিন-ডি — ডিমের কুসুম প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-ডি এর একটি অন্যতম চমৎকার উৎস যা হাড় মজবুত করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ডিম খেলেও স্কার্ভি রোগ দূর হবে না কারণ ডিমে সি নেই।
ভিটামিন সি এর জন্য টক ফল খেতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির জন্য ডিমে সব ভিটামিন থাকলেও সি এবং কে থাকে না।
এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় খাদ্য ও পুষ্টি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: D) সাগরে
১. কেন সঠিক:
- সাগরের পানিতে নানা ধরনের লবণ দ্রবীভূত থাকায় এর ঘনত্ব পুকুর, খাল বা নদীর পানির চেয়ে বেশি হয়।
- ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণে সাগরের পানির প্লবতা বা ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা বেশি থাকে, যা সাঁতারুকে সহজে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্লবতা হলো তরল পদার্থের সেই ঊর্ধ্বমুখী বল, যা কোনো বস্তুকে ডুবিয়ে রাখতে বাধা দেয় এবং ভাসাতে সাহায্য করে।
- কারণ ও ফলাফল: আর্কিমিডিসের সূত্র অনুযায়ী, তরল পদার্থে নিমজ্জিত বস্তুর ওপর তরল যে ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে তা অপসারিত তরলের ওজনের সমান হয়। সাগরের পানির ঘনত্ব বেশি হওয়ায় নির্দিষ্ট আয়তনের পানির ওজন বেশি হয়, ফলে প্লবতাও বেশি পাওয়া যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মৃত সাগরে বা ডেড সি-তে মানুষ না জেনেই ভেসে থাকতে পারে।
ব্যাখ্যা: মৃত সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ এত বেশি যে এর ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যার ফলে কোনো মানুষ সেখানে ডুবে যায় না।
উদাহরণ ২: ডিম পরিষ্কার পানিতে ডুবে গেলেও লবণাক্ত পানিতে ভেসে ওঠে।
ব্যাখ্যা: পানিতে পর্যাপ্ত লবণ মেশালে তার ঘনত্ব ও প্লবতা বৃদ্ধি পায়, যা বস্তুকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুকুরে — পুকুরের পানি মিষ্টি পানি এবং এতে লবণের পরিমাণ কম থাকায় ঘনত্ব ও প্লবতা সাগরের চেয়ে কম হয়।
B) খালে — খালের প্রবাহমান মিষ্টি পানিতে খনিজ ও লবণের পরিমাণ কম থাকায় সাঁতার কাটা অপেক্ষাকৃত কঠিন।
C) নদীতে — নদীর পানিতে স্রোত থাকে এবং এর ঘনত্ব কম থাকায় সাঁতার কাটার সময় বেশি শক্তি খরচ করতে হয়।
D) সাগরে — এই অপশনটি সঠিক কারণ সাগরের লবণাক্ত পানির ঘনত্ব ও প্লবতা সবচেয়ে বেশি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- লবণ বেশি তো ঘনত্ব বেশি, ঘনত্ব বেশি তো প্লবতা বেশি, আর প্লবতা বেশি হলে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
- এই সাধারণ সূত্রটি মনে রাখলে তরল পদার্থের প্লবতা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি পদার্থবিজ্ঞানের প্রবাহী বলবিদ্যা এবং আর্কিমিডিসের সূত্রের বাস্তব প্রয়োগের অন্তর্গত।
- একই ধারণা থেকে পানিতে জাহাজ কেন ভাসে বা বরফ পানিতে কেন ভেসে থাকে সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) হাইগ্রোমিটার
১. কেন সঠিক:
- হাইগ্রোমিটার এমন একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে।
- বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকলে আমাদের ঘাম সহজে শুকায় না এবং গরম বেশি অনুভূত হয়, যা এই যন্ত্র দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বাতাসে উপস্থিত অদৃশ্য জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বাতাসের আর্দ্রতা বলা হয়।
- কার্যপ্রণালি: এটি সাধারণত দুটি থার্মোমিটারের সাহায্যে কাজ করে, যার একটির বাল্ব সবসময় ভেজা থাকে এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- কারণ ও ফলাফল: ভেজা ও শুষ্ক থার্মোমিটারের তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে চার্টে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা নির্ণয় করা হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে, কৃষিকাজে বৃষ্টির সম্ভাবনা বুঝতে এবং গ্রিনহাউস নিয়ন্ত্রণের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বর্ষাকালে জামাকাপড় সহজে শুকাতে চায় না কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা খুব বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা: এই উচ্চ আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটারের সাহায্যে সহজেই পরিমাপ করা যায় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তা জানানো হয়।
উদাহরণ ২: আবহাওয়া অফিস থেকে যখন বলা হয় আজ আপেক্ষিক আর্দ্রতা আশি শতাংশ, তখন বোঝায় বাতাস তার ধারণক্ষমতার আংশিক জলীয় বাষ্প ধারণ করে আছে।
ব্যাখ্যা: এই সংখ্যাটি মূলত হাইগ্রোমিটার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মাইকোমিটার — এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিমাপক যন্ত্র যা খুব কম দূরত্ব বা কোনো বস্তুর ব্যাস নিখুঁতভাবে মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়।
B) হাইগ্রোমিটার — এটি বাতাসের আর্দ্রতা মাপার সঠিক যন্ত্র এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বহুল ব্যবহৃত একটি প্রশ্ন।
C) ব্যারোমিটার — এটি বায়ুমণ্ডলের চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র, যা আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে।
D) গ্রাভিমিটার — এটি ভূ-পৃষ্ঠের মাধ্যাকর্ষণ বলের সামান্য তারতম্য বা অভিকর্ষ ত্বরণ মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হাইগ্রো শব্দটির অর্থ আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প, তাই আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটারের সঙ্গে হাইগ্রোমিটার গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আবহাওয়া সংক্রান্ত যেকোনো পরীক্ষায় আর্দ্রতা মাপক যন্ত্র হিসেবে হাইগ্রোমিটার নামটি বারবার আসে।
- একই সঙ্গে বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার এবং বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র রেইন গেজ সম্পর্কেও ধারণা রাখা দরকার।
সঠিক উত্তর: A) লাউড স্পিকার
১. কেন সঠিক:
লাউড স্পিকার হলো এমন একটি যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
এর ভেতরে থাকা তড়িৎ চুম্বক এবং ডায়াফ্রাম তড়িৎ সিগন্যালকে যান্ত্রিক কম্পনে রূপান্তর করে শব্দ তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: শক্তি সংরক্ষণশীলতার সূত্র অনুসারে শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, কেবল একরূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তরিত হয়।
কার্যপ্রণালি: অ্যামপ্লিফায়ার থেকে আসা বৈদ্যুতিক সংকেত স্পিকারের ভয়েস কয়েলে প্রবেশ করলে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
কারণ ও ফলাফল: এই চৌম্বক ক্ষেত্রের আকর্ষণে ও বিকর্ষণে স্পিকারের পর্দা বা ডায়াফ্রাম দ্রুত কাঁপতে থাকে এবং শব্দ উৎপন্ন হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, অডিও সিস্টেম এবং মাইকে শব্দ শোনার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মসজিদের মাইক বা কনসার্টের সাউন্ড বক্স।
ব্যাখ্যা: এটি মাইক্রোফোনে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সংকেতকে জোরালো শব্দে পরিণত করে বহু দূরে ছড়িয়ে দেয়।
উদাহরণ ২: কম্পিউটারের স্পিকার।
ব্যাখ্যা: কম্পিউটারের ভেতরে থাকা মাদারবোর্ড থেকে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল গ্রহণ করে তা কানে শোনার উপযোগী শব্দে রূপান্তর করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাউড স্পিকার — এটি বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে, তাই এটি সঠিক উত্তর।
B) অ্যামপ্লিফায়ার — এটি দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতকে সবল বা শক্তিশালী করে, রূপান্তর করে না।
C) জেনারেটর — এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
D) মাল্টিমিটার — এটি বর্তনীর ভোল্টেজ, কারেন্ট ও রোধ পরিমাপ করার একটি যন্ত্র।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্পিকার আমাদের গান শোনায়, তাই স্পিকার মানেই শব্দ শক্তি।
যেকোনো শব্দ তৈরির যন্ত্র বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে সাউণ্ডে বা শব্দে রূপান্তর করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শক্তির রূপান্তর সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
যেমন মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা লাউড স্পিকারের বিপরীত কাজ।
সঠিক উত্তর: A) রেকটিফায়ার
১. কেন সঠিক:
- রেকটিফায়ার এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি কারেন্টকে একমুখী প্রবাহ বা ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করে।
- বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি কেবল এক দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহ রোধ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা পিএন জংশন ব্যবহার করে এসি সিগন্যালকে পালসেটিং ডিসি সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: ডায়োড সম্মুখ ঝোঁকে থাকলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং বিপরীত ঝোঁকে থাকলে প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, ফলে দিক নির্দিষ্ট হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: মোবাইল ফোনের চার্জার বা ল্যাপটপের অ্যাডাপ্টারে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরের এসি বিদ্যুৎকে ডিসি করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মোবাইল চার্জার অ্যাডাপ্টার
ব্যাখ্যা: এটি ঘরের দেয়ালের সকেটের এসি বিদ্যুৎকে রেকটিফায়ারের মাধ্যমে ডিসি করে মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে জমা করে।
উদাহরণ ২: ল্যাপটপের পাওয়ার সাপ্লাই
ব্যাখ্যা: ল্যাপটপের ভেতরের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশগুলো ডিসি বিদ্যুৎে চলে, যা রেকটিফায়ার রূপান্তর করে সরবরাহ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রেকটিফায়ার — এটি এসিকে ডিসি করার সঠিক যন্ত্র এবং এই প্রশ্নের কাঙ্ক্ষিত উত্তর।
B) অ্যামপ্লিফায়ার — এটি দুর্বল বৈদ্যুতিক সিগন্যাল বা শব্দকে শক্তিশালী বা বিবর্ধিত করার যন্ত্র।
C) ট্রানজিস্টর — এটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা সিগন্যাল সুইচিং বা বিবর্ধনে ব্যবহৃত হয়।
D) ডায়োড — এটি কেবল একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিতকারী উপাদান, সম্পূর্ণ যন্ত্র বা রেকটিফায়ারের মূল একক।
৫ মনে রাখার টিপস:
- এসি থেকে ডিসি করার প্রক্রিয়াকে রেকটিফিকেশন বলে এবং এই কাজের যন্ত্রটি হলো রেকটিফায়ার।
- ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে মনে রাখতে পারেন এসি থেকে ডিসি রূপান্তর মানেই রেকটিফায়ার।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এসি ও ডিসি রূপান্তরকারী যন্ত্র এবং তাদের কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- ডিসি থেকে এসি রূপান্তরকারী যন্ত্রের নাম ইনভার্টার, যা এই ধারণার বিপরীত একটি প্রশ্ন হিসেবে আসতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার প্রশ্নটিতে প্রদত্ত সঠিক উত্তর হিসেবে "D) পানি যোজন" উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। তড়িৎ রসায়ন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী অ্যানোডে সর্বদা জারণ বিক্রিয়া ঘটে। তাই সঠিক উত্তর হবে A) জারণ। নিচে সংশোধিত সঠিক উত্তরসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।
সঠিক উত্তর: A) জারণ
১. কেন সঠিক:
- তড়িৎ কোষে বা রাসায়নিক কোষে অ্যানোডে সর্বদা জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যেখানে ইলেকট্রন বর্জন ঘটে।
- জারণ প্রক্রিয়ায় কোনো পরমাণু, আয়ন বা অণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিজের জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: জারণ হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো রাসায়নিক প্রজাতি ইলেকট্রন বর্জন করে।
- কার্যপ্রণালি: তড়িৎদ্বারে যখন বিদ্যুৎ চালনা করা হয়, তখন ঋণাত্মক আয়নগুলি (অ্যানায়ন) ধনাত্মক তড়িৎদ্বারে (অ্যানোড) এসে ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিরপেক্ষ পরমাণুতে পরিণত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: গ্যালভানিক কোষ বা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির চার্জিং ও ডিসচার্জিং প্রক্রিয়ায় অ্যানোডে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তড়িৎ উৎপাদন বা রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ড্যানিয়েল কোষে জিঙ্ক অ্যানোড।
ব্যাখ্যা: এখানে জিঙ্ক ধাতু দুটি ইলেকট্রন বর্জন করে জিঙ্ক আয়নে পরিণত হয় এবং দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, যা জারণ বিক্রিয়ার নিখুঁত উদাহরণ।
উদাহরণ ২: জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ।
ব্যাখ্যা: অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বারে হাইড্রোক্সাইড আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে অক্সিজেন গ্যাস ও জল উৎপন্ন করে, যা জারণ প্রক্রিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জারণ — এটি সঠিক উত্তর কারণ অ্যানোডে সর্বদা ইলেকট্রন বর্জন বা জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
B) বিজারণ — এটি ভুল কারণ বিজারণ বিক্রিয়া সর্বদা ক্যাথোড বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারে ঘটে, যেখানে ইলেকট্রন গৃহীত হয়।
C) প্রশমন — এটি ভুল কারণ প্রশমন হলো অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়া যাতে লবণ ও জল উৎপন্ন হয় এবং এর সঙ্গে তড়িৎদ্বারের কোনো সম্পর্ক নেই।
D) পানি যোজন — এটি ভুল কারণ পানি যোজন বা হাইড্রেশন হলো কোনো যৌগের সঙ্গে জলের অণু যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া, যা অ্যানোডের বিক্রিয়া নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ইংরেজি শব্দ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো অ্যানোড ও জারণের সম্পর্ক মনে রাখা।
- লেফট অ্যানোড অক্সিডেশন (Left Anode Oxidation) এই সূত্র দিয়ে মনে রাখতে পারেন যে কোষের বাম পাশে থাকা অ্যানোডে সবসময় অক্সিডেশন বা জারণ ঘটে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে ক্যাথোডে কোন বিক্রিয়া ঘটে, যার উত্তর হবে বিজারণ।
- অ্যানোডে সবসময় জারণ এবং ক্যাথোডে সবসময় বিজারণ ঘটে, এই মৌলিক নিয়মটি তড়িৎ রসায়নের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করবে।
সঠিক উত্তর: C) গলনাংক
১. কেন সঠিক:
একটি নির্দিষ্ট চাপে বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরলে রূপান্তরিত হয়, যা ওই পদার্থের গলনাংক।
পদার্থে সামান্য ভেজাল মিশ্রিত থাকলে তার গলনাংক নির্দিষ্ট থাকে না বরং একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সীমার মধ্যে তা গলতে শুরু করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: কঠিন পদার্থের অন্তরাণবিক আকর্ষণ বল অনেক বেশি থাকে এবং তাপ প্রয়োগ করলে এই বল কমে গিয়ে পদার্থ তরলে পরিণত হয়।
কার্যপ্রণালি: বিশুদ্ধ পদার্থের কেলাসবিন্যাস নির্দিষ্ট থাকে বিধায় অণুগুলোর মধ্যে বন্ধন ভাঙতে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বরফ শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে পানিতে পরিণত হয়, যা বিশুদ্ধ পানির গলনাংক নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা: এতে সামান্য লবণ মেশালে এই গলনাংক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, যা পদার্থের অবিশুদ্ধতা প্রমাণ করে।
উদাহরণ ২: স্বর্ণ গলানোর সময় খাঁটি স্বর্ণ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে যায় কিন্তু খাদ মেশানো স্বর্ণের গলনাংক পরিবর্তিত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি পরীক্ষাগারে সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই করার একটি নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঘনীভবন — এটি গ্যাসীয় পদার্থ থেকে তরলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া, যা বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
B) বাষ্পীভবন — এটি তরল থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া এবং এটি গলনাংকের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) গলনাংক — এটি কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয়ের সঠিক মাপকাঠি।
D) স্ফুটনাংক — এটি তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়, কঠিন পদার্থের জন্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কঠিন পদার্থ গলে যায়, তাই কঠিনের বিশুদ্ধতা জানতে গলনাংক মনে রাখবে।
তরল ফোটে, তাই তরলের বিশুদ্ধতা জানতে স্ফুটনাংক ব্যবহার করা হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিশুদ্ধ পদার্থের গলনাংক তীক্ষ্ণ বা নির্দিষ্ট হয়।
তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা যাচাই করতে স্ফুটনাংক ব্যবহৃত হয়, যা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) আইসোটোপ
১. কেন সঠিক:
ক্যান্সার চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত গামা বিকিরণ ব্যবহার করা হয়।
অস্থির নিউক্লিয়াসযুক্ত এই আইসোটোপগুলো ভেদনযোগ্য গামা রশ্মি ছড়িয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: একই মৌলের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলে।
কার্যপ্রণালি: তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ যেমন কোবাল্ট ষাট এর নিউক্লিয়াস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গামা রশ্মি বিকিরণ করে।
বাস্তব প্রয়োগ: এই গামা রশ্মি সুনির্দিষ্টভাবে টিউমারের ক্ষতিকর কোষ পুড়িয়ে ফেলতে রেডিওথেরাবিতে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোবাল্ট ষাট আইসোটোপ।
ব্যাখ্যা: এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাবিতে গামা রশ্মির উৎস হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: আয়োডিন একশো একত্রিশ আইসোটোপ।
ব্যাখ্যা: এটি থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইসোটোম — এটি ভুল বানান এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক অর্থ বা একক রূপ নেই।
B) আইসোটোপ — এটি সঠিক কারণ বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ক্যান্সার চিকিৎসায় গামা রশ্মি উৎপন্ন করে।
C) আইসোবার — বিভিন্ন মৌলের ভরসংখ্যা সমান হলেও এদের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় এরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে গামা উৎস নয়।
D) আইসোমার — একই পারমাণবিক গঠন কিন্তু ভিন্ন শক্তিস্তর বিশিষ্ট যৌগ বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
চিকিৎসায় ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয়তার উৎস সবসময় আইসোটোপ।
কোবাল্ট ষাটের নাম মনে রাখলে আইসোটোপের এই ব্যবহার সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কোবাল্ট ষাট হলো ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত সবচেয়ে পরিচিত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ।
ভবিষ্যতে পরীক্ষায় গামা রশ্মির প্রকৃতি বা কোবাল্ট ষাটের অর্ধায়ু সম্পর্কেও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরটি ভুল। সোডিয়াম এসিটেটের সঠিক রাসায়নিক সংকেত হলো CH3COONa। প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক সংকেতটি সরাসরি নেই, তবে রাসায়নিক গঠন ও নামকরণের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।
১. কেন সঠিক:
সোডিয়াম এসিটেট হলো এসিটিক এসিডের সোডিয়াম লবণ। এর অণুতে একটি মিথাইল মূলক, একটি কার্বক্সিল মূলক এবং একটি সোডিয়াম আয়ন যুক্ত থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: জৈব লবণের নামকরণ ও রাসায়নিক সংকেত লেখার নিয়ম অনুযায়ী এসিটেট মূলক এবং সোডিয়াম আয়ন মিলে এই যৌগ গঠিত হয়।
কার্যপ্রণালি: এসিটিক এসিডের সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর প্রচ্ছাদন বা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পরীক্ষাগারে ইথানয়িক এসিডের সাথে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বিক্রিয়া করে সোডিয়াম এসিটেট তৈরি করা হয়। এটি বাফার দ্রবণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: এই বিক্রিয়াটি জৈব এসিড ও ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়ার একটি আদর্শ উদাহরণ।
উদাহরণ ২: টেক্সটাইল শিল্পে ডাইং প্রক্রিয়ায় বর্জ্য পদার্থের অম্লতা neutralize করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: সোডিয়াম এসিটেটের ক্ষারীয় প্রকৃতির কারণে এটি শিল্পক্ষেত্রে পিএইচ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CH2COONa — এই সংকেতটি রাসায়নিকভাবে অসম্পূর্ণ কারণ কার্বনের যোজনী এখানে সন্তুষ্ট নয়।
B) (CH3(COO)2Ca — এটি ক্যালসিয়াম এসিটেটের ভুল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংকেত, যেখানে ক্যালসিয়ামের যোজনী সঠিকভাবে মেলেনি।
C) (CH)3COONa — এটি কোনো বাস্তব বা স্বীকৃত জৈব যৌগের রাসায়নিক সংকেত নয়।
D) CHCOONa — এই সংকেতটিতে মিথাইল মূলকের হাইড্রোজেন সংখ্যা ভুলভাবে কম লেখা হয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
এসিটেট মূলকের সংকেত হলো CH3COO এবং সোডিয়ামের প্রতীক Na। তাই একত্রে লিখলে হয় CH3COONa।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সোডিয়াম এসিটেটের জলীয় দ্রবণ মৃদু ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়। এই যৌগটি হট আইস বা গরম বরফ তৈری করার প্রদর্শনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: B) ১ : ২ : ১
১. কেন সঠিক:
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হলো কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগ।
- এই যৌগগুলোতে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের পরমাণুর অনুপাত সর্বদা দুই অনুপাত এক হয়, যা পানির অণুর অনুপাতের সঙ্গে মিলে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: কার্বোহাইড্রেটের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো সি এন এইচ টু এন ও এন। এখানে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যা যথাক্রমে এন, টু এন এবং এন।
- রাসায়নিক অনুপাত: এই সংকেত অনুযায়ী কার্বন ও অক্সিজেনের সংখ্যা সমান এবং হাইড্রোজেনের সংখ্যা তার দ্বিগুণ, তাই সামগ্রিক অনুপাত দাঁড়ায় এক অনুপাত দুই অনুপাত এক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা: গ্লুকোজের রাসায়নিক সংকেত সি সিক্স এইচ টুয়েলভ ও সিক্স, যেখানে মৌলগুলোর পরমাণুর সংখ্যার সরল অনুপাত করলে এক অনুপাত দুই অনুপাত এক পাওয়া যায়।
উদাহরণ ২: ফ্রুক্টোজ
ব্যাখ্যা: এটি ফলের শর্করা এবং এর আণবিক সংকেতও গ্লুকোজের মতো সি সিক্স এইচ টুয়েলভ ও সিক্স, যা একই অনুপাতের নিয়ম মেনে চলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২ : ১ : ১ — এই অনুপাতটি কার্বোহাইড্রেটের মৌলগুলোর সঠিক পারমাণবিক অনুপাতকে নির্দেশ করে না। এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি অনুপাত।
B) ১ : ২ : ১ — এটি সঠিক অপশন এবং কার্বোহাইড্রেটের কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের প্রমাণিত সঠিক অনুপাত।
সি) ১ : ৩ : ২ — এই অনুপাতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মান কার্বোহাইড্রেটের জৈব রাসায়নিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ডি) ১ : ৪ : ১ — এই অনুপাতে হাইড্রোজেন পরমাণুর সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি থাকায় এটি কোনো সাধারণ শর্করার সংকেত হতে পারে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কার্বোহাইড্রেটের নামের মধ্যেই কার্বন এবং হাইড্রেটের কথা আছে, যার অর্থ কার্বন ও পানির মিশ্রণ। পানির মতো এখানেও হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত দুই অনুপাত এক থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- গ্লুকোজের আণবিক সংকেত প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সরাসরি বা ঘুরিয়ে আসে।
- শর্করার মূল উপাদান কী এবং এদের সাধারণ সংকেত থেকে কীভাবে অনুপাত বের করতে হয়, তা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) বায়োগ্যাস
১. কেন সঠিক:
বায়োগ্যাস হলো এমন এক ধরণের শক্তি যা উদ্ভিদ ও প্রাণীজ বর্জ্য পদার্থের অবাত পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং এটি বারবার ব্যবহার করা যায়।
প্রকৃতিতে এর উৎস নিঃশেষ হয় না বলে এটিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানী বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নবায়নযোগ্য জ্বালানী হলো সেই শক্তি উৎস যা প্রাকৃতিকভাবে খুব দ্রুত পূরণ হয় এবং যার অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে।
কার্যপ্রণালি: গোবর, উদ্ভিদের অংশ ও ময়লা আবর্জনা অক্সিজেন ছাড়া পচিয়ে মিথেন গ্যাস তৈরি করা হয় যা পরবর্তীতে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: গ্রামবাংলায় গৃহস্থালির রান্নার কাজে এবং গ্যাস ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়োগ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোলার প্যানেল বা সৌরশক্তি।
ব্যাখ্যা: সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত আলো ও তাপ পাওয়া যায় যা কখনো ফুরিয়ে যাওয়ার নয়।
উদাহরণ ২: বায়ুপ্রবাহ বা উইন্ডমিল।
ব্যাখ্যা: বাতাসের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় যা একটি নবায়নযোগ্য উৎস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তেল — এটি জীবাশ্ম জ্বালানী এবং কোটি কোটি বছর ধরে ভূগর্ভে তৈরি হওয়ায় এর পরিমাণ সীমিত ও ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
B) গ্যাস — প্রাকৃতিক গ্যাস একটি অনবায়নযোগ্য খনিজ সম্পদ যা একবার ব্যবহার করলে পুনরায় তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগে।
C) কয়লা — উদ্ভিদের অবশিষ্ট অংশ থেকে তৈরি জীবাশ্ম জ্বালানী হওয়ায় কয়লার মজুদ সীমিত এবং এটি নবায়নযোগ্য নয়।
D) বায়োগ্যাস — এটি সঠিক উত্তর কারণ জৈব বর্জ্য থেকে প্রতিনিয়ত এই গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।
৫ মনে রাখার টিপস:
যে শক্তি বারবার তৈরি করা যায় এবং ফুরিয়ে যায় না তা নবায়নযোগ্য।
বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি হয় বলে বর্জ্য ফুরোবে না এবং গ্যাসও শেষ হবে না।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন তেল, গ্যাস ও কয়লা পরিবেশের ক্ষতি করে কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানী পরিবেশবান্ধব।
ভবিষ্যতে শক্তির চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
সঠিক উত্তর: D) 806.67
১. কেন সঠিক:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ক্ষমতা এবং বিভব থেকে রোধ নির্ণয়ের জন্য ওহমের সূত্র এবং ক্ষমতার সূত্র একত্রে ব্যবহার করা হয়।
- প্রদত্ত মান থেকে সঠিক সূত্র প্রয়োগ করে হিসাব করলে বাল্বটির রোধ সঠিকভাবে পাওয়া যায় ৮.৬৭ ওহম।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বৈদ্যুতিক ক্ষমতা হলো একক সময়ে শক্তির ব্যবহারের হার এবং রোধ হলো তড়িৎ প্রবাহে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা।
- সূত্র/তত্ত্ব: ক্ষমতা P সমান বিভব V এর বর্গ ভাগ রোধ R, অর্থাৎ P = (V × V) ÷ R।
- কার্যপ্রণালি: সূত্রটিকে পরিবর্তন করে রোধ R নির্ণয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় R = (V × V) ÷ P।
- মান বসিয়ে হিসাব: এখানে V সমান ২২০ ভোল্ট এবং P সমান ৬০ ওয়াট, সুতরাং R = (২২০ × ২২০) ÷ ৬০ সমান ৪৮৪০০ ÷ ৬০ সমান ৮০৬.৬৭ ওহম।
- বাস্তব প্রয়োগ: বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রের রেটিং দেখে তার রোধ ও তড়িৎ প্রবাহের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি ১০০ ওয়াট এবং ২২০ ভোল্ট লেখা বাল্বের রোধ ৪৮৪ ওহম হয়।
ব্যাখ্যা: এটি থেকে বোঝা যায় বাল্বের ক্ষমতা বাড়লে তার রোধ কমে যায়।
উদাহরণ ২: টর্চলাইটের ছোট বাল্বে কম ভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: কম ভোল্টেজের কারণে এর রোধ এবং তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 16.36 — এই মানটি ভুল হিসাব বা ক্ষমতার সূত্র উল্টোভাবে প্রয়োগ করার ফলে এসেছে।
B) 160 — এটি সঠিক ক্ষমতার মান বা রোধের কোনো সঠিক হিসাবের ফলাফল নয়।
C) 280 — এই সংখ্যাটি প্রদত্ত ক্ষমতা ও বিভবের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো গাণিতিক নিয়মের ফল নয়।
D) 806.67 — এটি সঠিক হিসাব অনুযায়ী প্রাপ্ত বাল্বের রোধের সঠিক মান।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রোধ বের করার জন্য বিভবকে দুইবার গুণ করে ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- মনে রাখার সহজ বাক্য হলো বিভবের বর্গকে ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করলেই রোধ পাওয়া যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের প্রশ্নে সবসময় ভোল্টের বর্গকে ওয়াট দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- একই নিয়ম ব্যবহার করে তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট নির্ণয়ের প্রশ্নও বিসিএস পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ১৮
১. কেন সঠিক:
- ক্লোরিন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১৭ এবং ভর সংখ্যা ৩৫, যেখানে নিউট্রন সংখ্যা হলো ভর সংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার বিয়োগফল।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টি হলো ভর সংখ্যা, তাই মোট ভর থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যা এবং নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ভর সংখ্যা বলা হয়।
- সূত্র বা হিসাব: নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা − প্রোটন সংখ্যা। এখানে ভর সংখ্যা ৩৫ এবং প্রোটন সংখ্যা ১৭ হলে নিউট্রন সংখ্যা হয় ৩৫ − ১৭ = ১৮।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোডিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং ভর সংখ্যা ২৩, যার ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হলো ২৩ − ১১ = ১২।
ব্যাখ্যা: এটি দেখায় যে প্রতিটি মৌলের ক্ষেত্রে ভর সংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করে সহজেই নিউট্রন সংখ্যা হিসাব করা যায়।
উদাহরণ ২: কার্বনের সাধারণ আইসোটোপে প্রোটন সংখ্যা ৬ এবং ভর সংখ্যা ১২, তাই এর নিউট্রন সংখ্যা হলো ১২ − ৬ = ৬।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনো মৌলের পরমাণুর ভেতরের স্থায়ী কণাগুলোর বিন্যাস স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৭ — এটি ক্লোরিন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা, নিউট্রন সংখ্যা নয়।
B) ১৮ — এটি সঠিক উত্তর যা ভর সংখ্যা ও প্রোটন সংখ্যার বিয়োগফল থেকে নির্ণয় করা হয়।
C) ৩৫ — এটি ক্লোরিন পরমাণুর ভর সংখ্যা, যা প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সমষ্টি।
D) ৭০ — এটি ক্লোরিনের সাধারণ পারমাণবিক ভর বা অন্য কোনো মোলার ভরের কাছাকাছি মান হতে পারে, যা একক পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নিউট্রন সংখ্যা বের করতে হলে সবসময় ভর সংখ্যা থেকে পারমাণবিক সংখ্যা বিয়োগ করতে হবে।
- মনে রাখবে, নিউট্রন সংখ্যা সমান ভর সংখ্যা বিয়োগ প্রোটন সংখ্যা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন মৌলের প্রোটন, ইলেকট্রন বা নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করতে বলা হয়।
- একই ধারণা ব্যবহার করে আইসোটোপের ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা পরিবর্তনের হিসাব সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর:
C) Full-duplex
১. কেন সঠিক:
মোবাইল ফোনে একই সময়ে কথা বলা এবং শোনা উভয় কাজই একসাথে করা যায়।
এই দ্বিমুখী ও যুগপৎ ডেটা যোগাযোগের মাধ্যমকে ফুল-ডুপ্লেক্স মোড বলা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ডেটা কমিউনিকেশন মোড হলো ডেটা প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে ডেটা প্রবাহের দিক।
কার্যপদ্ধতি: ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে দুটি ডিভাইসের মধ্যে একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা পাঠানো এবং গ্রহণ করা সম্ভব।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মোবাইল ফোনে কথোপকথন।
ব্যাখ্যা: মোবাইল ফোনে কল করার সময় অপর প্রান্তের কথা শোনার পাশাপাশি নিজের কথাও একসাথে বলা যায়।
উদাহরণ ২: ল্যান্ডফোন বা টেলিফোন যোগাযোগ।
ব্যাখ্যা: প্রচলিত টেলিফোনেও গ্রাহকরা একসাথে কথা বলতে ও শুনতে পারেন কোনো বাধা ছাড়াই।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Simplex — সিমপ্লেক্স মোডে কেবল এক দিকে ডেটা প্রবাহিত হয় এবং অপর প্রান্ত থেকে ডেটা পাঠানোর কোনো সুযোগ থাকে না।
B) Half-duplex — হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে উভয় দিকে ডেটা পাঠানো যায়, তবে একই সময়ে নয়, একবার পাঠানো শেষ হলে অন্য প্রান্ত থেকে পাঠাতে হয়।
D) কোনোটিই নয় — সঠিক উত্তর অপশন সি তে বিদ্যমান থাকায় এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ফুল মানে সম্পূর্ণ, তাই ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে সম্পূর্ণ বা একই সময়ে উভয় দিকে কথা বলা যায়।
মোবাইল বা টেলিফোন হলো ফুল-ডুপ্লেক্স এবং ওয়াকিটকি হলো হাফ-ডুপ্লেক্স মোডের বাস্তব উদাহরণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড তিন প্রকার যথা সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ওয়াকিটকি কোন মোড এবং মোবাইল ফোন কোন মোড, এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর:
B) OCR
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নটিতে যে উত্তর দেওয়া হয়েছিল (C) MICR) সেটি প্রযুক্তিগতভাবে ভুল। মুদ্রিত বা হাতে লেখা টেক্সট সরাসরি কম্পিউটারে ইনপুট নেওয়ার সঠিক প্রযুক্তি হলো OCR।
- OCR হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা মুদ্রিত কাগজের লেখা স্ক্যান করে তাকে এডিটেবল বা কম্পিউটারের বোধগম্য টেক্সট ফাইলে রূপান্তর করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: OCR-এর পূর্ণরূপ Optical Character Recognition বা অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন। এটি এমন একটি ইনপুট ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা যা চিত্রের ভেতরের অক্ষর শনাক্ত করতে পারে।
- কার্যপদ্ধতি: এই প্রযুক্তি প্রথমে কোনো ডকুমেন্টের ছবি তোলে এবং আলো বা অপটিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি অক্ষরের আকৃতি বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি ছবি বা মুদ্রিত কাগজ থেকে সরাসরি টেক্সট আলাদা করতে পারে এবং ব্যবহারকারীকে সেই টেক্সট পরিবর্তন বা এডিট করার সুযোগ দেয়।
- ব্যবহার: পুরোনো বই স্ক্যান করে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করতে, কাগজের দলিল বা ফর্ম ডিজিটাইজ করতে এবং পিডিএফ ফাইল থেকে টেক্সট কপি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লাইব্রেরির পুরোনো ও দুর্লভ বই স্ক্যান করে সফটওয়্যারে রূপান্তর করা।
ব্যাখ্যা: হলুদ হয়ে যাওয়া পুরোনো বইয়ের পাতা স্ক্যান করে OCR প্রযুক্তির মাধ্যমে এমএস ওয়ার্ড ফাইলে রূপান্তর করা হয়, যাতে তা সহজেই পড়া ও এডিট করা যায়।
উদাহরণ ২: স্মার্টফোনে গুগল লেন্স বা স্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে কোনো সাইনবোর্ডের লেখা স্ক্যান করা।
ব্যাখ্যা: মোবাইল ক্যামেরার সাহায্যে সাইনবোর্ড বা পেপারের লেখা স্ক্যান করলে এই প্রযুক্তি মুহূর্তেই সেই ছবিকে মোবাইল স্ক্রিনে পড়ার উপযোগী টেক্সটে পরিণত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) OMR — এটি অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন, যা দিয়ে শুধু নির্দিষ্ট বৃত্ত বা ডার্ক মার্ক (যেমন বহু선্টী পরীক্ষার উত্তরপত্র) পড়া যায়, মুদ্রিত লেখা পড়া যায় না।
B) OCR — এটি মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নেওয়ার সঠিক প্রযুক্তি এবং এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
C) MICR — এটি ম্যাগনেটিক ইংক ক্যারেক্টার রিকগনিশন, যা ব্যাংকের চেকে বিশেষ চুম্বকীয় কালিতে লেখা অ্যাকাউন্ট নম্বর ও কোড পড়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়।
D) Scanner — এটি সাধারণ ছবি বা ডকুমেন্টসকে শুধু ইমেজ বা ছবি হিসেবে কম্পিউটারে ইনপুট নেয়, সরাসরি এডিটেবল টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- OCR মানে হলো অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন, যা ক্যারেক্টার বা অক্ষর রিড করতে পারে।
- MICR মানে হলো ম্যাগনেটিক ইংক, যা কেবল ব্যাংকের চেকের চুম্বকীয় কালি পড়তে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ওএমআর এবং ওসিআর এর কাজের পার্থক্য সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- সাধারণ স্ক্যানার কেবল ছবি তৈরি করে, কিন্তু ওসিআর সেই ছবিকে টেক্সটে রূপান্তর করে।
সঠিক উত্তর:
B) VoIP
১. কেন সঠিক:
- H323 প্রোটোকল হলো ইন্টারনেট প্রোটোকল বা আইপি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম অডিও, ভিডিও এবং ডেটা যোগাযোগের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মান।
- এটি মূলত ইন্টারনেট টেলিফোনি বা ভিওআইপি সেবায় অডিও ও ভিডিও কল পরিচালনা করতে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: H323 হলো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন কর্তৃক অনুমোদিত একটি প্রোটোকল স্যুট যা প্যাকেট-স্যুইচড নেটওয়ার্কে মাল্টিমিডিয়া যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপন, কল সিগন্যালিং এবং মাল্টিমিডিয়া ডেটা আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সাব-প্রোটোকল একত্রে কাজ করায়।
- ব্যবহার: আইপি টেলিফোনি, ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম এবং ইন্টারনেটভিত্তিক অডিও ও ভিডিও কলিংয়ে এই প্রোটোকল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্কাইপ বা জুমের মাধ্যমে কম্পিউটারে অডিও কল করা।
ব্যাখ্যা: এই ধরনের সফটওয়্যার ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভয়েস পাঠানোর জন্য সিগন্যালিং প্রোটোকল হিসেবে কাজ পরিচালনা করে।
উদাহরণ ২: আইপি ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অন্য দেশে কথা বলা।
ব্যাখ্যা: প্রথাগত টেলিফোন লাইনের পরিবর্তে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) File transfer — ফাইল স্থানান্তরের জন্য এফটিপি বা ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়, H323 ফাইলের জন্য নয়।
B) VoIP — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই প্রযুক্তিতে কল পরিচালনা করতে H323 প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
C) Data Security — ডেটা সুরক্ষার জন্য এসএসএল বা টিএলএস প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়, যা যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করে।
D) File download — ফাইল ডাউনলোডের জন্য সাধারণত এইচটিটিপি বা এফটিপি প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- H323 নামের মধ্যে থ্রি টু থ্রি আছে যা টেলিকম ও মাল্টিমিডিয়া অডিও-ভিডিও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
- মনে রাখতে হবে ভয়েস ওভার আইপি বা ভিওআইপির প্রধান প্রোটোকলগুলোর মধ্যে এইচ থ্রি টু থ্রি অন্যতম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভিওআইপি প্রযুক্তির পূর্ণরূপ হলো ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল।
- আইএসডিএন এবং আইপি নেটওয়ার্কে মাল্টিমিডিয়া যোগাযোগের জন্য এইচ থ্রি টু থ্রি স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল হিসেবে কাজ করে।
সঠিক উত্তর: B) Logical address
১. কেন সঠিক:
সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট মেমোরি অ্যাক্সেস করার সময় প্রথমে একটি লজিক্যাল অ্যাড্রেস বা ভার্চুয়াল অ্যাড্রেস তৈরি করে।
এই লজিক্যাল অ্যাড্রেসটি সরাসরি ফিজিক্যাল মেমোরিতে যায় না, বরং মেমোরি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট বা এমএমইউ হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে তা ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসে রূপান্তরিত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: লজিক্যাল অ্যাড্রেস হলো এমন একটি ঠিকানা যা সিপিইউ কোনো প্রোগ্রাম বা প্রসেস এক্সিকিউট করার সময় জেনারেট করে বা তৈরি করে।
কার্যপদ্ধতি: প্রোগ্রাম চলার সময় সিপিইউ যে মেমোরি লোকেশনকে নির্দেশ করে, তা প্রসেসের নিজস্ব লজিক্যাল স্পেসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি বই পড়ার সময় যেমন আমরা অধ্যায়ের ভেতরের পৃষ্ঠার নম্বর বা সিকোয়েন্স দেখি, সেটি লজিক্যাল ঠিকানার মতো কাজ করে।
ব্যাখ্যা: এটি মূল বইয়ের কোন ফিজিক্যাল পেজে আছে তা না ভেবে শুধু প্রসেসের নিজস্ব বিন্যাস অনুযায়ী কাজ করে।
উদাহরণ ২: কম্পিউটারে কোনো বড় সফটওয়্যার ওপেন করলে সিপিইউ তার প্রতিটি নির্দেশের জন্য একটি করে লজিক্যাল অ্যাড্রেস বরাদ্দ করে।
ব্যাখ্যা: এই অ্যাড্রেসগুলো পরবর্তীতে অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল র্যামের ফিজিক্যাল ঠিকানায় ম্যাপ করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Physical address — ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস হলো র্যামের আসল হার্ডওয়্যার ঠিকানা যা সিপিইউ সরাসরি তৈরি করে না, বরং এমএমইউ লজিক্যাল অ্যাড্রেস থেকে এটি বের করে।
বিপরীতে সিপিইউ কেবল লজিক্যাল অ্যাড্রেস জেনারেট করতে পারে।
B) Logical address — এই অপশনটি সঠিক কারণ সিপিইউ প্রোগ্রাম প্রসেসিংয়ের সময় লজিক্যাল অ্যাড্রেস উৎপন্ন করে।
এটি ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসে রূপান্তর হওয়ার পূর্বে ব্যবহৃত হয়।
C) Both physical and logical addresses — সিপিইউ একই সাথে দুটি ঠিকানা তৈরি করে না, এটি কেবল লজিক্যাল অ্যাড্রেস তৈরি করে এবং এমএমইউ তাকে ফিজিক্যাল ঠিকানায় রূপান্তর করে।
তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।
D) উপরের কোনোটিই নয় — যেহেতু সঠিক উত্তরটি বিকল্প বি তে স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
সিপিইউ সবসময় লজিক্যাল অ্যাড্রেস তৈরি করে আর র্যাম বা মেমোরি ইউনিট ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস নিয়ে কাজ করে।
মনে রাখার শর্টকাট হলো সিপিইউ এর সি এবং লজিক্যাল এর এল মিলে সিএল বা কাল্পনিক বা লজিক্যাল ঠিকানা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার আর্কিটেকচারে লজিক্যাল অ্যাড্রেসকে অনেক সময় ভার্চুয়াল অ্যাড্রেসও বলা হয়।
এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মেমোরি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট বা এমএমইউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবগুলো
১. কেন সঠিক:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট বা মাধ্যম ব্যবহার করে ভাববিনিময় করে থাকেন। এখানে টেক্সট, ছবি, ভিডিও এবং অডিও সব ধরনের মাধ্যমই যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: Social Networking Site বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
কার্যপদ্ধতি: এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভারের মাধ্যমে ডিজিটাল ডেটা packets আকারে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয়।
বৈশিষ্ট্য: এটি মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক যোগাযোগ সমর্থন করে এবং এর মাধ্যমে যুগপৎ টেক্সট, অডিও ও ভিডিও পাঠানো সম্ভব হয়।
ব্যবহার: ফেসবুক, টুইটার বা লিংকডইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত বার্তালাপ, স্ট্যাটাস আপডেট এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করার সময় টেক্সট পাঠানোর পাশাপাশি ভয়েস নোট বা অডিও পাঠানো যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যোগাযোগের ক্ষেত্রে টেক্সট এবং অডিও উভয় মাধ্যমই সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ফেসবুকে কোনো ব্যবহারকারী ছবি বা ভিডিও আপলোড করলে বন্ধুরা তাতে কমেন্ট করতে পারে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ায় ছবি এবং ভিডিওর পাশাপাশি টেক্সট বা লেখার মাধ্যম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Imge/video — শুধু ছবি ও ভিডিওর পাশাপাশি টেক্সট ও অডিও যোগাযোগের একটি পূর্ণাঙ্গ অংশ হওয়ায় এটি এককভাবে সঠিক নয়।
B) Audio — অডিও যোগাযোগের একটি মাধ্যম হলেও শুধু এটি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ার সব কার্যক্রম চালানো যায় না।
C) Text — টেক্সট যোগাযোগের প্রাচীন ও প্রধান মাধ্যম হলেও বর্তমান যুগের সোশ্যালে শুধুমাত্র টেক্সট সীমাবদ্ধ থাকে না।
D) উপরের সবগুলো — এই অপশনে থাকা টেক্সট, অডিও, ছবি এবং ভিডিও সবই সোশ্যাল মিডিয়ার যোগাযোগে ব্যবহৃত হয় বলে এটি সঠিক।
৫. মনে রাখার টিপস:
সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগের মূল ভিত্তি হলো মাল্টিমিডিয়া, অর্থাৎ লেখা থেকে শুরু করে কথা বলা, ছবি এবং ভিডিও দেখা সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
সংক্ষেপে মনে রাখতে পারেন যে সোশ্যাল মিডিয়া মানেই হলো Text, Audio এবং Image বা Video এর একটি সমন্বিত রূপ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো Web 2.0 প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি যেখানে ব্যবহারকারীরা কেবল তথ্য পড়ে না, বরং নিজেরাও কনটেন্ট তৈরি করে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ইন্টারনেট সেবা এবং মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো বহুমুখী বিকল্প হিসেবে আসে।
সঠিক উত্তর:
B) World wide web
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত উত্তরটি প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক কারণ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ হলো ইতিহাসের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি ১৯৮৯ সালে এটি উদ্ভাবন করেন এবং ১৯৯০ সালে এটি প্রথম জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হলো একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন ওয়েব পেজ দেখতে পারেন।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ইন্টারনেট থেকে হাইপারটেক্সট বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের মাধ্যমে প্রদর্শন করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি একই সাথে একটি ব্রাউজার ও এডিটর হিসেবে কাজ করতে পারত এবং নেকস্ট কম্পিউটার সিস্টেমে এটি চালিত হতো।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গুগল ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্স
ব্যাখ্যা: আধুনিক যুগে আমরা যেভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য এই সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করি, টিম বার্নার্স-লির তৈরি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্রাউজারটিও ঠিক একইভাবে কাজ করত।
উদাহরণ ২: মাইক্রোসফট এজ বা সাফারি
ব্যাখ্যা: এগুলো বর্তমান যুগের একেকটি জনপ্রিয় ব্রাউজার যা ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করা হয়, ঠিক যেমনটি প্রথম ব্রাউজার দিয়ে করা হতো।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Netscape Navigator — এটি ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ব্রাউজার হলেও প্রথম ব্রাউজার নয়, এটি ১৯৯৪ সালে বাজারে আসে।
B) World wide web — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
C) Internet Explorer — এটি মাইক্রোসফটের তৈরি একটি জনপ্রিয় ব্রাউজার যা ১৯৯৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
D) Sarari — এটি অ্যাপল কোম্পানির তৈরি একটি আধুনিক ব্রাউজার যা প্রথম ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রথম ওয়েব ব্রাউজারের নাম এবং এর আবিষ্কারক টিম বার্নার্স-লির নাম একসাথে মনে রাখবে।
- মনে রাখবে প্রথম ব্রাউজারের নাম এবং ইন্টারনেটের বিশ্বজনীন ব্যবস্থার নাম হুবহু একই ছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রথম ব্রাউজার হওয়ার পাশাপাশি এটি কিন্তু প্রথম ওয়েব সার্ভার ও প্রথম এডিটর হিসেবেও কাজ করত।
- টিম বার্নার্স-লিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক বলা হয়।
সঠিক উত্তর:
A) 01010010(2)
১. কেন সঠিক:
হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতির প্রতিটি অঙ্ককে সরাসরি ৪-বিট বাইনারিতে রূপান্তর করে এই উত্তর পাওয়া গেছে।
এখানে ৫ এর ৪-বিট বাইনারি হলো ০১০১ এবং ২ এর ৪-বিট বাইনারি হলো ০০১০, যা একত্র করলে সম্পূর্ণ মানটি দাঁড়ায়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংখ্যা পদ্ধতি হলো কোনো সংখ্যা লেখা বা প্রকাশের পদ্ধতি, যেখানে হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি হলো ১৬ এবং বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি হলো ২।
হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা ০ থেকে ৯ এবং এ থেকে এফ পর্যন্ত মোট ১৬টি প্রতীক নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি অঙ্ককে ঠিক ৪টি বাইনারি বিট দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা এফ-এর বাইনারি রূপ হলো ১১১১, কারণ এফ মানে ১৫ এবং ১৫ এর সমতুল্য বাইনারি হলো ১১১১।
ব্যাখ্যা: বড় সংখ্যাকে সহজে মনে রাখার জন্য হেক্সাডেসিমেল কোড ব্যবহার করা হয়, যা কম্পিউটারের মেমোরি ঠিকানায় বহুল ব্যবহৃত।
উদাহরণ ২: হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা ১ এর বাইনারি রূপ হলো ০০০১, যা চার বিটের নিয়মে লেখা হয়।
ব্যাখ্যা: বিট প্যাটার্ন ঠিক রাখতে চার বিট পূর্ণ করতে হয়, তাই সামনের দিকে অতিরিক্ত শূন্য বসানো হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 01010010(2) — এটি প্রদত্ত হেক্সাডেসিমেল সংখ্যার সঠিক এবং নির্ভুল বাইনারি রূপ।
B) 01110011(2) — এটি ভুল মান নির্দেশ করে কারণ এখানে বিটগুলোর বিন্যাস ৫২ এর হেক্সাডেসিমেলের সঙ্গে মেলে না।
C) 0000 1100(2) — এটি হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা ০সি এর বাইনারি রূপ, যা ৫২ এর সমান নয়।
D) 1111 0000(2) — এটি হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা এফ০ এর বাইনারি রূপ, যা প্রদত্ত প্রশ্নের মানের সঙ্গে মিলছে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
হেক্সাডেসিমেলের প্রতিটি অঙ্ককে আলাদা করে চার বিটের বাইনারিতে রূপান্তর করবে।
৫ এর জন্য ০১০১ এবং ২ এর জন্য ০০১০ লিখে পাশাপাশি বসিয়ে দিলেই সঠিক উত্তর পেয়ে যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় হেক্সাডেসিমেল থেকে বাইনারি রূপান্তর প্রায়ই আসে।
চার বিটের সঠিক মান মনে রাখতে পারলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুব কম সময়ে বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর:
B) Round-robin
১. কেন সঠিক:
- টাইম-শেয়ারড অপারেটিং সিস্টেমে প্রতিটি প্রসেসকে একটি নির্দিষ্ট সময় বা টাইম কোয়ান্টাম বরাদ্দ করা হয় যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।
- রাউন্ড-রবিন শিডিউলিং পলিসি এই টাইম-শেয়ারিং ও প্রিম্পটিভ নীতি মেনে চলে বলেই এটি সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: রাউন্ড-রবিন হলো এমন একটি সিপিইউ শিডিউলিং অ্যালগরিদম যেখানে প্রতিটি প্রসেসকে চক্রাকারে সমান সময় বরাদ্দ করা হয়।
- কার্যপদ্ধতি: একটি প্রসেস নির্ধারিত সময় শেষ করার পর সিপিইউ থেকে সরে যায় এবং পরবর্তী প্রসেস সুযোগ পায়।
- ব্যবহার: আধুনিক মাল্টিটাস্কিং এবং টাইম-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেমে এই নীতি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: একটি ব্যাংকে তিনজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবা পাচ্ছেন এবং সময় শেষ হলে পরের জন সুযোগ পাচ্ছেন।
- ব্যাখ্যা: এটি রাউন্ড-রবিন পদ্ধতির মতো যেখানে কেউ দীর্ঘ সময় একা সেবা দখল করে রাখতে পারে না।
- উদাহরণ ২: একটি কম্পিউটারে একই সাথে গান শোনা এবং ব্রাউজ করার সময় প্রসেসর পালাক্রমে দুটি কাজ পরিচালনা করে।
- ব্যাখ্যা: এই টাইম-স্লাইসিং বা রাউন্ড-রবিন পদ্ধতির কারণে ব্যবহারকারী মনে করেন কাজগুলো একসাথে হচ্ছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) First come first serve — এটি নন-প্রিম্পটিভ নীতি অনুসরণ করে এবং প্রথম আসা কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করায় টাইম-শেয়ারিং সিস্টেমে অদক্ষ।
B) Round-robin — এটি সঠিক উত্তর।
C) Shortest job first — ছোট কাজগুলোকে আগে প্রাধান্য দেওয়ায় এটি ব্যাচ প্রসেসিং সিস্টেমে ভালো কাজ করলেও টাইম-শেয়ারিংয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
D) Last come first serve — এটি শেষ আসা কাজকে আগে সুযোগ দেয় যা ফেয়ারনেস বা ন্যায্যতা বজায় রাখে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- টাইম-শেয়ারিং মানেই হলো সময় ভাগ করে দেওয়া এবং রাউন্ড-রবিন মানে হলো গোল টেবিলে ঘুরে ঘুরে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া।
- এই দুটি ধারণাকে একসাথে মিলিয়ে মনে রাখলে উত্তর নির্বাচন করা সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অপারেটিং সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য প্রসেস শিডিউলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
- পরীক্ষার জন্য প্রিম্পটিভ এবং নন-প্রিম্পটিভ শিডিউলিংয়ের পার্থক্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর:
A) 19
১. কেন সঠিক:
অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট আটটি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা হলো ০ থেকে ৭ পর্যন্ত। এই পদ্ধতিতে ৯ অঙ্কটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ অক্টাল রেঞ্জের মধ্যে ৯ নেই।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি হলো আট ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি যার বেস বা ভিত্তি হলো আট।
বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতে হিসাব করার জন্য শুধু ০ ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ এই আটটি মৌলিক প্রতীক বা অঙ্ক ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অক্টাল সংখ্যা ৭৫
ব্যাখ্যা: এই সংখ্যাটিতে ৭ এবং ৫ উভয় অঙ্কই অক্টাল সীমার ভেতরে রয়েছে, তাই এটি বৈধ অক্টাল সংখ্যা।
উদাহরণ ২: অক্টাল সংখ্যা ২০৬
ব্যাখ্যা: এখানে ব্যবহৃত প্রতিটি অঙ্ক শূন্য থেকে সাতের সীমার মধ্যে অবস্থিত, যা অক্টাল পদ্ধতির নিয়ম মেনে চলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 19 — এই সংখ্যাটিতে ৯ অঙ্কটি রয়েছে, যা অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ০ থেকে ৭ সীমার বাইরে এবং তাই এটি অক্টাল সংখ্যা নয়।
B) 77 — এই সংখ্যাটিতে ৭ অঙ্কটি রয়েছে যা অক্টাল পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত এবং এটি একটি বৈধ অক্টাল সংখ্যা।
C) 15 — এই সংখ্যাটির ১ ও ৫ উভয় অঙ্কই অক্টাল সীমার মধ্যে আছে তাই এটি সঠিক অক্টাল সংখ্যা।
D) 101 — এই সংখ্যাটিতে শুধু ১ ও ০ ব্যবহার করা হয়েছে যা অক্টাল সীমার ভেতরে অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
অক্টাল সংখ্যা চেনার সহজ উপায় হলো খেয়াল রাখা যে কোনো অঙ্ক যেন আট বা তার বেশি না হয়। অক্টাল মানে আট, তাই সবসময় সর্বোচ্চ অঙ্কটি সাত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সংখ্যা পদ্ধতির বৈধতা যাচাই করতে বলা হয়। বাইনারিতে শুধু ০ ও ১, অক্টালে ০ থেকে ৭ এবং হেক্সাডেসিমালে ০ থেকে ৯ এবং এ থেকে এফ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর:
D) Infra-red-range-এর
১. কেন সঠিক:
টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল সাধারণত অবলোহিত বা ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে সিগন্যাল প্রেরণ করে।
ইনফ্রারেড হলো এক ধরণের আলোক তরঙ্গ যার কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কম কিন্তু রেডিও তরঙ্গের চেয়ে বেশি, যা অপশন ডি-এর সাথে মিলে যায়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি হলো এমন একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বড় এবং এর ফ্রিকোয়েন্সি সাধারণত ৩০০ গিগাহার্জ থেকে ৪০০ টেরাহার্জ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
কার্যপদ্ধতি: রিমোটের বোতাম চাপলে একটি ইনফ্রারেড লাইট ডায়োড বা আইআর এলইডি নির্দিষ্ট কোডে ইনফ্রারেড আলো চোখের পলকে ফ্ল্যাশ করে, যা টিভির সামনের সেন্সর রিসিভ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঘরের এয়ার কন্ডিশনার বা এসি রিমোট।
ব্যাখ্যা: এসি রিমোটের সামনে থাকা ছোট বাল্বটি খালি চোখে দেখা যায় না, তবে এটি ইনফ্রারেড সিগন্যালের মাধ্যমে এসির তাপমাত্রা বা মোড পরিবর্তন করে।
উদাহরণ ২: স্মার্টফোনের মাধ্যমে টিভি নিয়ন্ত্রণ।
ব্যাখ্যা: কিছু ফোনে ইনফ্রারেড ব্লাস্টার থাকে, যা ব্যবহার করে সরাসরি টিভির রিমোটের মতো তরঙ্গ পাঠিয়ে টিভি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) <100 MHZ — একশো মেগাহার্জের কম ফ্রিকোয়েন্সি সাধারণত এফএম রেডিও বা কম ফ্রিকোয়েন্সির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়, ইনফ্রারেড রেঞ্জের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
B) <1 GHZ — এক গিগাহার্জের কম ফ্রিকোয়েন্সি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াইফাই-এর নিম্ন ব্যান্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু রিমোটের ইনফ্রারেড আলো এর চেয়ে অনেক উচ্চ কম্পাঙ্কের।
C) <2 GHZ — দুই গিগাহার্জের কম ফ্রিকোয়েন্সি ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই রাউটার সিগন্যালের জন্য নির্ধারিত, যা আলোক তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি সীমার বাইরে।
D) Infra-red-range-এর — এটি সঠিক কারণ টেলিভিশন রিমোট ডেটা পাঠানোর জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভ বাদ দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মির আলো ব্যবহার করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
রিমোটের মাথায় যে ছোট আলো জ্বলে তা খালি চোখে দেখা যায় না কারণ এটি ইনফ্রারেড রেঞ্জ বা অবলোহিত আলো।
টিভি রিমোটের কাজ সরাসরি দৃষ্টিরেখার উপর নির্ভর করে, কারণ ইনফ্রারেড তরঙ্গ দেয়াল ভেদ করতে পারে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
টেলিভিশনের রিমোট এবং সেন্সরের মধ্যে কোনো বাধা থাকলে সিগন্যাল কাজ করে না কারণ ইনফ্রারেড রশ্মি অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করতে পারে না।
নিকট দূরত্বের ওয়্যারলেস যোগাযোগে ইনফ্রারেড প্রযুক্তি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও নিরাপদ।
সঠিক উত্তর: B) Unauthorized access
১. কেন সঠিক:
- ফায়ারওয়াল হলো নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি সিস্টেম, যা অননুমোদিত প্রবেশ বা Unauthorized access প্রতিহত করতে কাজ করে।
- এটি পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়মের ভিত্তিতে ইনকামিং এবং আউটগোইং নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের ওপর নজরদারি করে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: ফায়ারওয়াল হলো এমন একটি সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার যা বিশ্বস্ত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক এবং অনিরাপদ বাহ্যিক নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রাচীর হিসেবে কাজ করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি নেটওয়ার্কের ডেটা প্যাকেটগুলো পরীক্ষা করে দেখে এবং নিয়মের সাথে মিলে গেলে প্রবেশাধিকার দেয় অন্যথায় ব্লক করে দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অফিসের নেটওয়ার্ক
ব্যাখ্যা: ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সার্ভারকে বাইরের হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: হোম কম্পিউটার
ব্যাখ্যা: ব্যক্তিগত কম্পিউটারের উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ফায়ারওয়াল ইন্টারনেট থেকে আসা ক্ষতিকর সংযোগ ব্লক করে দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Fir attacks — এটি কোনো স্বীকৃত কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক হুমকির নাম নয় বরং টাইপো বা অপ্রাসঙ্গিক অপশন।
B) Unauthorized access — এটি সঠিক উত্তর কারণ ফায়ারওয়াল মূলত বাইরের অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে।
C) Virus attacks — ভাইরাস দমনের জন্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কাজ করে ফায়ারওয়াল সরাসরি ভাইরাস পরিষ্কার করে না।
D) Data-driven attacks — এটি ডেটা সংক্রান্ত আক্রমণ যা সরাসরি ফায়ারওয়ালের মূল কাজের আওতাধীন নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ফায়ারওয়াল মানে দেয়াল, যা অনধিকার প্রবেশকারী বা Unauthorized access ঠেকায়।
- এটি ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে কাজ করে যা শুধু অনুমোদিত ডেটাকে পাস করতে দেয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ফায়ারওয়াল হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার উভয় মাধ্যমেই হতে পারে।
- সাইবার নিরাপত্তায় ফায়ারওয়ালকে প্রথম সারির ডিফেন্স বা ডিফেন্সিভ মেকানিজম বলা হয়।
সঠিক উত্তর:
A) Personal Area Network
১. কেন সঠিক:
ব্লুটুথ এমন একটি প্রযুক্তির নাম যা খুব স্বল্প দূরত্বে, সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদানপ্রদান করে।
এই প্রযুক্তিটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয় বিধায় একে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা একজন ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
কার্যপদ্ধতি: ব্লুটুথ প্রযুক্তি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করে এবং এটি টু দশমিক চার গিগাহার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করে দুটি ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।
বৈশিষ্ট্য: এর কভারেজ এলাকা খুবই ছোট, বিদ্যুৎ খরচ কম এবং এটি তারহীন বা ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
ব্যবহার: মোবাইল ফোন থেকে কম্পিউটারে ফাইল পাঠানো বা স্মার্টফোনের সাথে ওয়্যারলেস হেডফোন যুক্ত করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের সাথে ওয়্যারলেস এয়ারবাড সংযোগ করা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্লুটুথের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প দূরত্বে অডিও ডেটা আদানপ্রদান করে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
উদাহরণ ২: ল্যাপটপের সাথে ব্লুটুথ মাউস বা কিবোর্ড যুক্ত করা।
ব্যাখ্যা: এর মাধ্যমে কোনো তারের ঝামেলা ছাড়াই ব্যক্তিগত পরিসরে ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Personal Area Network — এটি সঠিক উত্তর কারণ ব্লুটুথ ব্যক্তিগত পরিসরের স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
B) Local Area Network — এটি ভুল কারণ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ল্যান একটি পুরো ভবন বা অফিস কক্ষের মতো তুলনামূলক বড় এলাকা জুড়ে কাজ করে।
C) Virtual Private Network — এটি ভুল কারণ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক হলো পাবলিক ইন্টারনেটের ওপর তৈরি একটি নিরাপদ ও গোপনীয় টানেল বা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
D) কোনোটিই নয় — এটি ভুল কারণ সঠিক অপশনটি এ এর মধ্যে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ব্লুটুথ হলো প্যান বা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিচিত উদাহরণ।
শর্টকাট হিসেবে মনে রাখতে পারো ব্লুটুথ মানেই ব্যক্তিগত দূরত্ব বা প্যান।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সাধারণত ভৌগোলিক বিস্তৃতির ওপর ভিত্তি করে প্যান, ল্যান, ম্যান এবং ওয়্যানে বিভক্ত।
পরীক্ষায় প্রায়ই নেটওয়ার্কের পরিধি বা দূরত্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে, তাই রেঞ্জগুলো ভালোভাবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর:
C) Tables
১. কেন সঠিক:
রিলেশনাল ডাটাবেজ মডেলে সমস্ত ডেটা লজিক্যালি সারি এবং কলামের সমন্বয়ে গঠিত টেবিল আকারে সংরক্ষিত হয়।
এই টেবিলগুলোকে রিলেশনাল ডাটাবেজের পরিভাষায় রিলেশন বলা হয় কারণ ডেটার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক টেবিলেই স্থাপন করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ডেটা পরস্পর সম্পর্কিত টেবিল আকারে সাজানো থাকে।
কার্যপদ্ধতি: এটি ডেটাকে টেবিল বা রিলেশন হিসেবে সংরক্ষণ করে এবং প্রাইমারি ও ফরেন কি এর মাধ্যমে টেবিলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি স্কুল ডাটাবেজে শিক্ষার্থীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য স্টুডেন্ট টেবিল ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এই টেবিলে শিক্ষার্থীর আইডি, নাম এবং রোল নম্বর কলাম ও সারির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রিলেশন বা টেবিল হিসেবে থাকে।
উদাহরণ ২: ই-কমার্স সাইটে পণ্যের তালিকা রাখার জন্য প্রোডাক্ট টেবিল ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: পণ্যের দাম, স্টক এবং নাম এই টেবিলের বিভিন্ন ফিল্ড বা কলামে সংরক্ষিত থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Tuples — এটি রিলেশনাল ডাটাবেজের টেবিলের প্রতিটি সারি বা রেকর্ডকে বোঝায়, পুরো রিলেশন বা টেবিলকে নয়।
B) Attributes — এটি টেবিলের প্রতিটি কলাম বা ফিল্ডের নাম নির্দেশ করে, যা টেবিলের একটি অংশ মাত্র।
C) Tables — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি সম্পূর্ণ রিলেশনকে প্রকাশ করে।
D) Rows — এটি শুধু টেবিলের আনুভূমিক সারি বোঝায়, যা রিলেশনের সমার্থক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
রিলেশনাল ডাটাবেজে টেবিল মানেই রিলেশন এবং কলাম মানে অ্যাট্রিবিউট।
সারিকে বলা হয় টিউবল বা রেকর্ড আর কলামকে বলা হয় অ্যাট্রিবিউট বা ফিল্ড।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডাটাবেজের জনক ই এফ কড ১৯৭০ সালে রিলেশনাল ডাটাবেজ মডেল আবিষ্কার করেন।
পরীক্ষায় প্রায়ই রিলেশনের সমার্থক শব্দ হিসেবে টেবিল বা রো ও কলামের ভিন্ন নাম জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: C) Touch Screen
১. কেন সঠিক:
টচ স্ক্রিন এমন একটি প্রযুক্তি যা একই সাথে ইনপুট ডিভাইস এবং আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্ক্রিনে স্পর্শ করে নির্দেশ প্রদান করতে পারে এবং একই স্ক্রিনে ফলাফল দেখতে পারে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: টচ স্ক্রিন হলো এমন একটি ডিসপ্লে প্যানেল যা মানুষের স্পর্শ বা আঙুলের চাপ শনাক্ত করতে পারে এবং প্রসেসরের মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল তথ্য প্রদর্শন করে।
কার্যপদ্ধতি: স্ক্রিনের ওপর স্পর্শ করা মাত্র প্যানেলের সেন্সর সেই সিগন্যাল গ্রহণ করে ইনপুট হিসেবে প্রসেসরে পাঠায় এবং প্রসেস করা তথ্য ডিসপ্লেতে আউটপুট হিসেবে দেখায়।
ব্যবহার: স্মার্টফোন, এটিএম বুথ, টিকিট ভেন্ডিং মেশিন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটারে বহুল ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের স্ক্রিন।
ব্যাখ্যা: আমরা যখন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ট্যাপ করে কোনো অ্যাপ ওপেন করি তখন এটি ইনপুট নেয় এবং অ্যাপের ইন্টারফেস প্রদর্শন করে আউটপুট দেয়।
উদাহরণ ২: ব্যাংকের এটিএম বুথের ডিসপ্লে।
ব্যাখ্যা: টাকার পরিমাণ টাইপ করার সময় এটি ইনপুট ডিভাইস হিসেবে এবং পরবর্তী স্ক্রিনে লেনদেনের তথ্য দেখানোর সময় আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Mouse — এটি শুধুমাত্র ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে কারণ এটি কম্পিউটারকে নির্দেশ পাঠায় কিন্তু কোনো তথ্য প্রদর্শন করে না।
B) Microphone — এটি কেবল অডিও বা শব্দ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং তা কম্পিউটারে পাঠায়, কোনো আউটপুট দেয় না।
D) Printer — এটি শুধুমাত্র আউটপুট ডিভাইস কারণ এটি কম্পিউটারের নির্দেশ বা ডেটা কাগজে প্রিন্ট করে বাইরে প্রকাশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
টচ স্ক্রিন হলো দ্বিমুখী ডিভাইস যা স্পর্শের মাধ্যমে ডেটা নেয় এবং চোখের সামনে ফলাফল দেখায়।
ইনপুট এবং আউটপুট উভয় সুবিধা পেতে আধুনিক যুগের প্রায় সব স্মার্ট ডিভাইসে এটি ব্যবহার করা হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটারের পেরিফেরাল ডিভাইস থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের নাম জিজ্ঞাসা করা হয়।
টচ স্ক্রিন ছাড়াও মাল্টিফাংশন প্রিন্টার বা হেডসেট একই সাথে ইনপুট ও আউটপুট হিসেবে কাজ করতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) Compiler
১. কেন সঠিক:
কম্পাইলার হলো এমন একটি অনুবাদক সফটওয়্যার যা উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষাকে সম্পূর্ণ কোড একসাথে পড়ে এবং একবারে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে।
এই প্রক্রিয়ায় পুরো প্রোগ্রামটির কোনো ভুল থাকলে তা একসাথে প্রদর্শন করে, ফলে প্রোগ্রাম সম্পাদনের গতি দ্রুত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: কম্পাইলার হলো একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা সোর্স কোডকে অবজেক্ট কোডে অনুবাদ করে।
কার্যপদ্ধতি: এটি সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম একসাথে পড়ে, সিনট্যাক্স বা ব্যাকরণগত ভুল যাচাই করে এবং সব ঠিক থাকলে এক্সিকিউটেবল ফাইল তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সি প্রোগ্রামিং ভাষা
ব্যাখ্যা: সি ভাষায় লেখা একটি বড় প্রজেক্ট রান করার সময় কম্পাইলার পুরো কোড একসাথে অনুবাদ করে আউটপুট দেয়।
উদাহরণ ২: গেম ডেভেলপমেন্ট
ব্যাখ্যা: আধুনিক থ্রিডি গেমগুলোতে জটিল কোড একবারে অনুবাদ করার জন্য কম্পাইলার ব্যবহার করা হয় যাতে গেম দ্রুত চলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Interpreter — এটি পুরো প্রোগ্রাম একবারে অনুবাদ না করে লাইন বাই লাইন অনুবাদ ও সম্পাদন করে।
B) Emulator — এটি একটি হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার যা একটি সিস্টেমকে অন্য সিস্টেমের মতো আচরণ করতে সাহায্য করে।
C) Compiler — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) Simulator — এটি বাস্তব পরিবেশের একটি কৃত্রিম মডেল তৈরি করে যা দিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কম্পাইলার মানে সম্পূর্ণ, অর্থাৎ এটি পুরো প্রোগ্রাম একসাথে অনুবাদ করে।
ইন্টারপ্রেটার মানে ইন্টারঅ্যাক্টিভ লাইন বাই লাইন অনুবাদ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পাইলার ব্যবহার করলে প্রোগ্রাম রান করতে কম সময় লাগে কিন্তু ভুল খুঁজে বের করা কিছুটা কঠিন হয়।
সি, সি প্লাস প্লাস এবং জাভা ভাষায় কোড অনুবাদের জন্য প্রধানত কম্পাইলার ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) আইনের শাসন
১. কেন সঠিক:
আইンの শাসন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি সুশাসন এবং সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি যা নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: আইনের শাসন মানে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে সমাজে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা।
গুরুত্ব: এটি ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর শোষণ চালায়।
প্রয়োগ: রাষ্ট্রে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং ক্ষমতার যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা।
সম্ভাব্য প্রভাব: সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাস্তায় ট্রাফিক আইন অমান্য না করে সবার লাইসেন্স ও সিগন্যাল মেনে চলা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত স্তর থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।
উদাহরণ ২: অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করা।
ব্যাখ্যা: আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এই নীতির যথাযথ প্রয়োগই হলো সভ্য সমাজের পরিচয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গণতন্ত্র — গণতন্ত্র রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি মাধ্যম হলেও আইনের শাসন ছাড়া তা একনায়কত্বে পরিণত হতে পারে।
B) বিচার ব্যবস্থা — বিচার ব্যবস্থা আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মাত্র, কিন্তু এটি পুরো সমাজের একমাত্র মানদণ্ড নয়।
C) সংবিধান — সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দলিল, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা দেয় কিন্তু নিজেই সম্পূর্ণ সমাজ গঠনে যথেষ্ট নয়।
D) আইনের শাসন — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং সভ্য সমাজের মূল মানদণ্ড।
৫. মনে রাখার টিপস:
আইন সবার জন্য সমান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই হলো সভ্য সমাজের মূল মাপকাঠি। আইনের শাসন মানেই সমাজ সভ্যতার উচ্চ শিখরে অবস্থান করা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আইনের শাসন সুশাসনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এই নীতি থেকে ব্যাংক বা বিসিএস পরীক্ষায় সুশাসন এবং গণতন্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) নিয়মিত কর প্রদান করা
১. কেন সঠিক:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের রাজস্ব আয় অত্যন্ত জরুরি এবং নাগরিকের মৌলিক আইনি ও নৈতিক কর্তব্য হলো নিয়মিত কর প্রদান করা।
- এটি নাগরিক দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা মূল্যবোধের আওতাভুক্ত, যা রাষ্ট্রের অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজ সচল রাখে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: নাগরিক দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের প্রতি একজন নাগরিকের আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা, যার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- গুরুত্ব: নিয়মিত কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে যা সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।
- প্রয়োগ: নির্ধারিত সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে আয়কর বা অন্যান্য কর পরিশোধ করার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা যায়।
- সম্ভাব্য প্রভাব: এর ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতি ও অপচয় হ্রাস পায়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন চাকরিজীবী প্রতি বছর তার আয়ের সঠিক হিসাব অনুযায়ী সময়মতো সরকারি কোষাগারে কর জমা দেন।
ব্যাখ্যা: এটি তার দায়িত্ববোধ ও নাগরিক কর্তব্যের সঠিক প্রয়োগ, যা রাষ্ট্রীয় সেবামূলক কাজকে গতিশীল করে।
উদাহরণ ২: একজন ব্যবসায়ী পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে ভ্যাট বা কর ফাঁকি না দিয়ে সরকারের নিয়ম মেনে তা পরিশোধ করেন।
ব্যাখ্যা: এটি সততা ও পেশাগত নৈতিকতার পরিচায়ক, যা সুশাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা — সরকার পরিচালনা মূলত নির্বাচিত প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাজ, সাধারণ নাগরিকের কাজ হলো আইন মান্য ও সহযোগিতা করা।
B) নিজের অধিকার ভোগ করা — অধিকার ভোগ করা নাগরিকের স্বাধীনতা হলেও সুশাসন কেবল অধিকারের ওপর নয়, বরং কর্তব্যের ওপর নির্ভর করে।
C) সত্তাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা — ব্যবসা-বাণিজ্য করা প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, তবে এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার সরাসরি কোনো সর্বজনীন কর্তব্য নয়।
D) নিয়মিত কর প্রদান করা — এটি সুশাসন ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে নাগরিকের সবচেয়ে সরাসরি ও অপরিহার্য কর্তব্য।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হলো সুশাসনের মূল চাবিকাঠি।
- কর প্রদান হলো রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের সবচেয়ে বড় আর্থিক দায়িত্ব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুশাসন ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোতে মূলত আইনি ও নৈতিক কর্তব্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।
- একই নীতি থেকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বনাম মৌলিক কর্তব্য সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘের বিশ্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং সুশাসনসংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
সুশাসন কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ব্যক্তি মানুষের মতপ্রকাশ, চিন্তা এবং বেঁচে থাকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: সুশাসন ও মানবাধিকার হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
গুরুত্ব: সমাজের প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সুশাসন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
প্রয়োগ: রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নাগরিকদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করা।
সম্ভাব্য প্রভাব: সুশাসনের প্রভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা দূর হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোনো সরকারি অফিস থেকে সেবা নেওয়ার সময় নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং হয়রানি না করা।
ব্যাখ্যা: এটি সুশাসনের অংশ, যেখানে নাগরিকের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
উদাহরণ ২: সংবাদমাধ্যমের ওপর অযথা হস্তক্ষেপ না করে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচারের সুযোগ দেওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়নের সরাসরি বহিঃপ্রকাশ, যা সুশাসনের মূল লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দারিদ্র বিমোচন — দারিদ্র বিমোচন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ এবং সুশাসনের একটি ফল, তবে জাতিসংঘের দাপ্তরিক সংজ্ঞায় সুশাসনের প্রত্যক্ষ মূল লক্ষ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
B) মৌলিক অধিকার রক্ষা — মৌলিক অধিকার রক্ষা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও, জাতিসংঘ ঘোষিত সুশাসনের সামগ্রিক ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়নকে প্রধান ধরা হয়।
D) নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা — নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা মানবাধিকারের একটি বিশেষ ক্ষেত্র এবং সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি সামগ্রিক সুশাসনের একমাত্র বা প্রধান লক্ষ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
জাতিসংঘের সুশাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন এলেই মনে রাখবে এটি মূলত মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকারের উন্নয়নের ওপর জোর দেয়।
সুশাসনের মূল কথাই হলো আইনের শাসন ও মৌলিক স্বাধীনতার বিকাশ ঘটানো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুশাসন নিশ্চিত করার প্রধান স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন।
এই নীতি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য কী, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতা বা মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত অপশনগুলো বেশি গুরুত্ব পায়।
সঠিক উত্তর: A) মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
১. কেন সঠিক:
- মূল্যবোধ হলো সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি। এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে।
- সংশ্লিষ্ট নৈতিক নীতি বা মূল্যবোধ এখানে সামাজিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলিত করার জন্য যেসব বিশ্বাস, ধারণা ও মানদণ্ড সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত, তাকে মূল্যবোধ বলে।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করা।
ব্যাখ্যা: এটি পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং যৌথ কাজের পরিবেশকে সহজ করে।
উদাহরণ ২: পাড়ার বিপদে বা উৎসবে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো।
ব্যাখ্যা: এই আচরণটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ — এটি সঠিক কারণ মূল্যবোধ প্রধানত সামাজিক সম্পর্কের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
B) মানুষের আচরণ পরিচালনاکی নীতি ও মানদণ্ড — এটি নৈতিকতার অংশ, যা ব্যক্তিগত আচরণকে বেশি নির্দেশ করে।
C) সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান — এটি মূল্যবোধের ফলাফল হতে পারে, তবে সরাসরি সংজ্ঞা বা মূল কাজ নয়।
D) মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা — এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা কর্মপদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত, সামগ্রিক মূল্যবোধের পরিধি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মূল্যবোধ মানেই হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মাপকাঠি। সম্পর্ক এবং সমাজ যেখানে প্রধান, সেখানেই মূল্যবোধের সঠিক প্রয়োগ ঘটে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মূল্যবোধের সামাজিক ভিত্তি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের রূপরেখা বুঝতে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই ধারণা থেকে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
১. কেন সঠিক:
- সুনির্দিষ্ট অধিকার বঞ্চিত বা সংখ্যায় কম থাকা জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিপরীত বৈষম্য বা ইতিবাচক বৈষম্যের নীতি প্রয়োগ করা হয়।
- এটি মূলত ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি বিশেষ কৌশল যার মাধ্যমে ঐতিহাসিক বা সামাজিক অসমতা দূর করা হয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: বিপরীত বৈষম্য হলো এমন একটি নীতি যেখানে পিছিয়ে থাকা বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মূলধারায় আনতে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়।
- গুরুত্ব: সমাজে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে সত্যিকারের সমতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ কোটা বা আসন সংরক্ষণ করা।
- ব্যাখ্যা: এটি তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমতার নীতি বাস্তবায়ন করে।
- উদাহরণ ২: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও বৃত্তির ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান।
- ব্যাখ্যা: সুযোগের সমতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে থাকা অংশকে এগিয়ে নিতে এই নীতি কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নারীদের ক্ষেত্রে — নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ইতিবাচক পদক্ষেপ বা জেন্ডার সমতার নীতি প্রয়োগ করা হয়, যা বিপরীত বৈষম্যের চেয়ে বৃহত্তর নারী ক্ষমতায়নের অন্তর্ভুক্ত।
B) সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জনগােষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বিপরীত বৈষম্যের নীতি বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
C) প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে — প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ বা প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণকে সাধারণত অধিকারভিত্তিক প্রবেশাধিকার ও বিশেষ সুরক্ষা বলা হয়।
D) পিছিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগােষ্ঠীর ক্ষেত্রে — এই অপশনটি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এতে অনগ্রসর শ্রেণি, উপজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা নির্দিষ্ট সংখ্যালঘুর ধারণার চেয়ে ভিন্ন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিপরীত বৈষম্য শব্দটি দেখলে সংক্ষেপে সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রাখবে।
- এটি সাধারণ সমতার বিপরীত মনে হলেও মূলত এটি সমতা প্রতিষ্ঠারই একটি বিশেষ রূপ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি থেকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মূল ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
- একই নীতি থেকে ইতিবাচক বৈষম্য বা সমতার পরিধি সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) আরজ আলী মাতুব্বর
১. কেন সঠিক:
- বাংলার মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও মানবতাবাদী দর্শনের ক্ষেত্রে আরজ আলী মাতুব্বর ‘নব-নৈতিকতা’ বা নতুন নৈতিকতার ধারণাটি প্রবর্তন করেছিলেন।
- ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণ, বিবেক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সততার ওপর ভিত্তি করে নৈতিক জীবন যাপনকেই তিনি নব-নৈতিকতা হিসেবে বুঝিয়েছেন।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: নব-নৈতিকতা হলো প্রথাগত বা অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে মানবপ্রেম, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং বিবেকবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত আধুনিক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে কুসংস্কার দূর করে মানুষের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যুক্তিবাদী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্রয়োগ: ব্যক্তিগত জীবনে অন্ধভাবে কোনো কিছু অনুসরণ না করে বিবেক ও যুক্তির আলোকে সঠিক ও ভুলের বিচার করার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করা যায়।
- সম্ভাব্য প্রভাব: এর ফলে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়, অসহিষ্ণুতা কমে এবং একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে ওঠে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা কুসংস্কারমূলক প্রথা অন্ধভাবে পালন না করে সেটির যৌক্তিকতা বিচার করা।
ব্যাখ্যা: এটি নব-নৈতিকতার চেতনাকে ধারণ করে, যেখানে অন্ধ অনুকরণের বদলে বিবেক ও বুদ্ধির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উদাহরণ ২: সমাজে প্রচলিত কোনো সামাজিক বৈষম্য বা গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যুক্তিপূর্ণ ও মানবিক অবস্থান গ্রহণ করা।
ব্যাখ্যা: অন্যের প্রতি সহমর্মিতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সততা প্রয়োগের মাধ্যমে এখানে সঠিক নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মোহাম্মদ বরকতুল্লা — তিনি বাংলা সাহিত্যে মানবতাবাদী প্রবন্ধ ও চিন্তার জন্য পরিচিত হলেও নব-নৈতিকতার প্রবর্তক নন।
B) জি. সি. দেব — গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন প্রখ্যাত দার্শনিক এবং মানবতাবাদী চিন্তাবিদ হলেও তিনি অস্তিত্ববাদ ও মানবতাবাদের জন্য পরিচিত।
D) আবদুল মতীন — তিনি ভাষা আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতার এই নির্দিষ্ট ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত নন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রশ্নটিতে ‘নব-নৈতিকতা’ শব্দটি দেখলে সরাসরি আরজ আলী মাতুব্বরকে চিহ্নিত করবে।
- মনে রাখবে, প্রথাগত বিশ্বাসের বাইরে যুক্তি ও মানবতাকে যিনি নৈতিকতার ভিত্তি বানিয়েছেন, তিনিই আরজ আলী মাতুব্বর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মুক্তবুদ্ধি চর্চা এবং মানবতাবাদী দর্শন থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- এই একই ধারণা থেকে বাংলা দার্শনিক চিন্তাধারা এবং বিখ্যাত লেখকদের অবদান সম্পর্কিত অন্য এমসিকিউ আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) মৌলিক
১. কেন সঠিক:
- তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের জন্মগত ও সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সুদৃঢ় করে।
- মানবাধিকার ও সুশাসনের নীতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য জানার সুযোগ না থাকলে নাগরিকের পক্ষে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: তথ্য অধিকার হলো রাষ্ট্রের যেকোনো দপ্তরে সংরক্ষিত তথ্য জানার এবং তা ব্যবহার করার আইনি ও নৈতিক স্বাধীনতা।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে, দুর্নীতি রোধে সাহায্য করে এবং নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
- প্রয়োগ: সরকারি সেবার মান যাচাই, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ এবং নীতি নির্ধারণে নাগরিকদের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে এর প্রয়োগ ঘটে।
- সম্ভাব্য প্রভাব: তথ্য প্রাপ্তির অবাধ সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন নাগরিক এলাকার উন্নয়ন কাজের ব্যয়ের হিসাব চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেন।
ব্যাখ্যা: এটি জনসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণের চমৎকার বহিঃপ্রকাশ।
উদাহরণ ২: একটি সরকারি হাসপাতালে সেবার মান ও বরাদ্দের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলো।
ব্যাখ্যা: এটি কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের মৌলিক তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সম্মান জানানোর নৈতিক নিদর্শন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাজনৈতিক — রাজনৈতিক অধিকার মূলত ভোটদান, দল গঠন বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটি সরাসরি তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করে না।
B) অর্থনৈতিক — অর্থনৈতিক অধিকার মানুষের জীবিকা, কাজ ও ন্যায্য মজুরির সঙ্গে যুক্ত, যা তথ্যের অধিকারের পরিধিভুক্ত নয়।
D) সামাজিক — সামাজিক অধিকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির সুযোগ নিশ্চিত করে, যদিও এর সঙ্গে তথ্যের সম্পর্ক আছে কিন্তু মৌলিক অধিকার হিসেবে এর আইনি ভিত্তি বেশি শক্তিশালী।
৫. মনে রাখার টিপস:
- তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের বেঁচে থাকার ও জানার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, তাই এটি অন্য যেকোনো সাধারণ অধিকারের চেয়ে উচ্চতর স্তর অর্থাৎ মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা এবং তথ্য অধিকারের পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
১. কেন সঠিক:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বাজারে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত হয় যা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরাসরি সহায়তা করে।
- সুশাসনের অন্যতম মূল স্তম্ভ হলো কার্যকারিতা ও ন্যায়সংগত নীতি, যা ব্যবসায়িক পরিবেশকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করে তোলে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে জনকল্যাণ নিশ্চিত করে।
- গুরুত্ব: অর্থনৈতিক সুশাসন দুর্নীতি হ্রাসের পাশাপাশি সম্পদ সঠিক ও কার্যকরভাবে বণ্টন করতে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন ব্যবসায়ী কোনো রকম ঘুষ বা অতিরিক্ত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি লাইসেন্স নবায়ন করতে পারলে তিনি আরও বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত হন।
ব্যাখ্যা: এটি অর্থনৈতিক সুশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি চমৎকার প্রকাশ, যা ব্যবসায়িক পরিবেশকে গতিশীল করে।
উদাহরণ ২: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় থাকলে সঠিক নিয়মে ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয় এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি দূর হয়।
ব্যাখ্যা: এটি আর্থিক খাতের সততা ও সুশাসন নিশ্চিত করে যা সামগ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দুনীতি দূর হয় — দুর্নীতি দূর হওয়া সুশাসনের একটি প্রধান ফলাফল বা পূর্বশর্ত, কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের সবচেয়ে সরাসরি ও পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
C) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় — আইনের শাসন সুশাসনের একটি বৃহত্তর স্তম্ভ, যা অর্থনৈতিক সুশাসনসহ সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য।
D) কোনোটিই নয় — সঠিক উত্তর বিকল্প বি তে বিদ্যমান থাকায় এই অপশনটি গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
অর্থনৈতিক সুশাসন মানেই হলো ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ, আর এই আস্থা বাড়লেই বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
সুশাসন সংক্রান্ত প্রশ্নে অর্থনৈতিক প্রভাব খুঁজতে হলে সবসময় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুশাসন কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দুর্নীতিরোধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
একই নীতি থেকে বিসিএস বা অন্যান্য পরীক্ষায় সুশাসনের মূল উপাদান বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) সংস্কৃতি
১. কেন সঠিক:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ, বিশ্বাস এবং চিন্তাভাবনাকে পরিচালিত করার নৈতিক মানদণ্ড। সংস্কৃতি হলো একটি সমাজের জীবনধারা, ঐতিহ্য, শিল্প ও সামাজিক রীতিনীতির সমষ্টি যার মধ্য দিয়ে মূল্যবোধ তৈরি ও সঞ্চারিত হয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনযাপনের সামগ্রিক রূপ যার ভেতর দিয়ে সমাজ নির্ধারিত নৈতিক আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।
প্রয়োগ: সমাজে ভালো চর্চা টিকিয়ে রাখতে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলোকে দৈনন্দিন কার্যক্রমে ধারণ করতে হবে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পারিবারিক ও সামাজিক উৎসবে বড়দের সম্মান জানানো এবং ছোটদের স্নেহ করার সংস্কৃতি চর্চা করা।
ব্যাখ্যা: এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে।
উদাহরণ ২: কর্মক্ষেত্রে সততা ও দলগত কাজের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করা।
ব্যাখ্যা: এই সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও নৈতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) উন্নয়ন — উন্নয়ন হলো সমাজের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত অগ্রগতির ফল, যা মূলত সংস্কৃতির মাধ্যমে লালিত মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
B) গণতন্ত্র — গণতন্ত্র হলো একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা শাসনপদ্ধতি, যা মূল্যবোধকে সুরক্ষিত করতে পারে কিন্তু মূল্যবোধের মূল চালিকা শক্তি নয়।
D) সুশাসন — সুশাসন হলো রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পদ্ধতি যা প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
মূল্যবোধ মানে মানুষের ভেতরের ভালো গুণ আর সংস্কৃতি হলো সেই সমাজব্যবস্থা যা এই গুণগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হিসেবে সংস্কৃতিকে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং সমাজ পরিবর্তনে নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করে। একই ধারণা থেকে সমাজবিজ্ঞান ও নৈতিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা মূলত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রচলিত নিয়ম, মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত সামাজিক প্রথা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের সমন্বিত রূপ যা মানুষের আচরণকে ইতিবাচকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
প্রশ্নের ধরন: নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ
- মূল ধারণা: রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন হলো এমন কিছু নিয়ম ও আদর্শ যা সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সহায়তা করে।
- প্রয়োগ: রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা, নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা এবং সামাজিক উৎসবে সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করা যায়।
- সম্ভাব্য প্রভাব: এর ফলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নাগরিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এলাকায় কোনো সামাজিক সমস্যা দেখা দিলে যুবসমাজ একত্রিত হয়ে তার সমাধান করা।
ব্যাখ্যা: এটি সামাজিক অনুশাসনের অংশ, যেখানে নাগরিকরা নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করে।
উদাহরণ ২: ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা গ্রহণ করা।
ব্যাখ্যা: এটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সুশৃঙ্খল নাগরিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নৈতিক অনুশাসন — নৈতিক অনুশাসন হলো ব্যক্তির নিজস্ব বিবেক ও অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, যা সার্বজনীনভাবে ভালো নাগরিক হওয়ার বাহ্যিক প্রত্যাশার চেয়ে ব্যক্তিগত চেতনার সাথে বেশি সম্পর্কিত।
B) রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর, কারণ ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোর সাথে যুক্ত।
C) আইনের শাসন — আইনের শাসন বলতে রাষ্ট্রে আইনের সর্বোচ্চ প্রাধান্য এবং সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগকে বোঝায়, যা নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশার চেয়ে বিচারিক ব্যবস্থার সাথে বেশি সম্পর্কিত।
D) আইনের অধ্যাদেশ — আইনের অধ্যাদেশ হলো রাষ্ট্রপতির জারিকৃত সাময়িক আইন, যার সাথে নাগরিকদের ভালো নাগরিক হওয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রত্যাশার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা সবসময় সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোর ভেতর থেকে আসে, তাই এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসনের অন্তর্ভুক্ত।
- ব্যক্তি সচেতনতা হলো নৈতিকতা, আর সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসনের ক্ষেত্র।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সমাজের সাথে নাগরিকের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- একই নীতি থেকে নাগরিক দায়িত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সুশাসন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
১. কেন সঠিক:
- অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক এই প্রশ্নে ২০১৮ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট রপ্তানি আয়ের সঠিক পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ বিলিয়ন বা চার হাজার একশত কোটি মার্কিন ডলার।
- এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এবং অন্যান্য খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলেই রপ্তানি আয়ে এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনীতি, শিল্প ও উন্নয়ন: [প্রযোজ্য ক্ষেত্রে]
- অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয় এবং তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: ২০১৮ সালে এই রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয় এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তৈরি পোশাক শিল্প
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই পোশাক খাত থেকে, যা ২০১৮ সালের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
উদাহরণ ২: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
ব্যাখ্যা: রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সে সময় ত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই পরিমাণটি ২০১৮ সালের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় সামান্য কম এবং এটি সে বছরের শুরুর দিকের প্রাক্কলিত হিসাবের কাছাকাছি।
B) ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই অপশনটি সঠিক কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালে রপ্তানি আয় এই অঙ্কের কাছাকাছি ছিল।
C) ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই পরিমাণটি ২০১৮ সালের জন্য কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পরবর্তী বছরগুলোতে অর্জিত হয়েছিল।
D) ১৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই সংখ্যাটি ২০১৮ সালের রপ্তানি আয়ের তুলনায় অসম্ভব রকমের বেশি এবং এটি বাংলাদেশের তৎকালীন জিডিপি বা অন্য কোনো বড় সূচকের সাথে মিলে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সাল মনে রাখার কৌশল: ২০১৮ সাল এবং রপ্তানি আয় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এভাবে মনে রাখতে পারো যে আয়ের অংকটি চল্লিশের ঠিক পরেই ছিল।
- অর্থনীতির পরিসংখ্যান পড়ার সময় সর্বদা বাংলাদেশ ব্যাংক বা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণত সাম্প্রতিক বছরগুলোর রপ্তানি আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন হতে পারে যে বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য কোনটি বা বর্তমান রপ্তানি আয়ের পরিমাণ কত।
সঠিক উত্তর: A) ২ কোটি ১১ লক্ষ একর
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি এগারো লক্ষ একর, যা দেশের কৃষি অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
- কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জমির এই পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এর অর্থনীতি বহুলাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে অকৃষি খাতের বিস্তার ঘটায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বহুতল ভবন নির্মাণ
ব্যাখ্যা: অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বসতি স্থাপনের ফলে বহু আবাদযোগ্য জমি কৃষিকাজের বাইরে চলে যাচ্ছে।
উদাহরণ ২: তিন ফসলি জমি সুরক্ষা
ব্যাখ্যা: খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখতে সরকার তিন ফসলি জমিতে ইমারত বা কারখানা নির্মাণ নিষিদ্ধ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২ কোটি ১১ লক্ষ একর — এটি কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির সঠিক ও প্রমিত পরিমাণ।
B) ২ কোটি ৫০ লক্ষ একর — এটি অতিরিক্ত বা অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান, যা দেশের বর্তমান প্রকৃত আবাদযোগ্য জমির পরিমাণের সাথে মেলে না।
C) ২ কোটি ২৫ লক্ষ একর — এটি একটি অনুমিত সংখ্যা এবং কোনো প্রামাণিক কৃষি শুমারির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
D) ২ কোটি ২১ লক্ষ একর — এটিও সঠিক কৃষি উপাত্তের সাথে মিলে না, তাই এটি ভুল অপশন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ মনে রাখতে দুই কোটি এগারো লক্ষ একর সংখ্যাটি বারবার চর্চা করতে পারো।
- কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সর্বশেষ কৃষি শুমারির তথ্য মাথায় রাখা উচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সম্পর্কিত পরীক্ষায় এ ধরনের পরিসংখ্যান প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে জমি হ্রাস পাওয়ার কারণ বা কৃষিজমি সুরক্ষার আইন সংক্রান্ত প্রশ্নও পরীক্ষাতে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) তৃতীয় স্থান
১. কেন সঠিক:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বা আইডিআই মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সমতা ও টেকসই উন্নয়ন বিবেচনা করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে।
- এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক বিচারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যা দেশের সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতি নির্দেশ করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই সূচকে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং জনগণের জীবনযাত্রার মান এবং আয় বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়।
- দক্ষিণ এশিয়ার এই অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দেশের শ্রমবাজারের প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন সূচক
ব্যাখ্যা: মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই এবং ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় সামাজিক খাতের অগ্রগতিতে ভালো করছে।
উদাহরণ ২: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম অন্তর্ভুক্তি
ব্যাখ্যা: কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হলেই কোনো দেশ উন্নয়নে এগিয়ে যায় না, বরং সেই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা বাড়াতে পারছে সেটাই এই সূচকের মূল শিক্ষা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রথম স্থান — দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই সূচকে প্রথম স্থান অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
B) দ্বিতীয় স্থান — প্রদত্ত প্রশ্ন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় নয়, তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।
C) তৃতীয় স্থান — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই অবস্থানে থেকেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের সাথে তুলনা করে নিজের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রদর্শন করে।
D) চতুর্থ স্থান — দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ নয়, বরং এর চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বা আইডিআই মনে রাখতে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে ৩ সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে কারণ বাংলাদেশ এই সূচকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
- প্রবৃদ্ধি ও সমতার সূচক হিসেবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই প্রতিবেদনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থনৈতিক সূচক সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান মুখস্থ রাখতে হবে।
- একই বিষয় থেকে অন্য এমসিকিউ আসতে পারে যে, ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স কোন সংস্থা প্রকাশ করে, যার উত্তর হবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম।
সঠিক উত্তর: C) ১৯৭৪ সালে
১. কেন সঠিক:
১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি বা জনগণনা অনুষ্ঠিত হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য জনসংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান জানা জরুরি ছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনমিতি:
স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আদমশুমারি পরিচালিত হয়।
শুমারি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগ, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস এ রূপান্তর লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৪ সালের আদমশুমারি।
ব্যাখ্যা: এই শুমারিতে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ৭ কোটি ১৫ লাখ রেকর্ড করা হয়েছিল।
উদাহরণ ২: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি, যা দীর্ঘ বিরতির পর ডিজিটাল পদ্ধতিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৭২ সালে — এই বছরে সদ্য স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছিল, কোনো শুমারি হয়নি।
B) ১৯৭৩ সালে — এই বছর বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে কোনো আদমশুমারি হয়নি।
C) ১৯৭৪ সালে — এই অপশনটি সঠিক এবং এই সালেই প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
D) ১৯৭৫ সালে — এই বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্বাধীনতার ঠিক তিন বছর পর ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি হয়।
মনে রাখার জন্য সালটি সরাসরি ১৯৭৪ মনে রাখা নিরাপদ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিসিএস বা ব্যাংক পরীক্ষায় প্রথম শুমারির সাল এবং সর্বশেষ শুমারির বছর ও ফলাফল প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
সঠিক উত্তর: C) ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
১. কেন সঠিক:
- ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি বাংলাদেশের প্রধান ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী উদ্ভিদের বনভূমি, যা মূলত শালবৃক্ষের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
- বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির প্লাইস্টোসিন চত্বর বা সোপান অঞ্চলের অন্তর্গত এই বনভূমিতে প্রচুর পরিমাণে শাল বা গজারী গাছ জন্মায়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি: ভাওয়াল গড় গাজীপুর ও ঢাকা জেলাজুড়ে এবং মধুপুর গড় টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলাজুড়ে বিস্তৃত।
- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: এই বনভূমির মাটি লালচে রঙের এবং উর্বরতার দিক থেকে তুলনামূলক কম, যা শালবৃক্ষ জন্মানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।
ব্যাখ্যা: এটি ভাওয়াল বনাঞ্চলের একটি সংরক্ষিত অংশ, যা শালবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
উদাহরণ ২: টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যান।
ব্যাখ্যা: এটি মধুপুর গড়ের শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সিলেটের বনভূমি — সিলেটের বনভূমি পাহাড়ি অঞ্চলের চিরহরিৎ বন এবং এটি মূলত চা বাগান ও বাঁশঝাড়ের জন্য বিখ্যাত, শালবৃক্ষের জন্য নয়।
B) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি — পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমিগুলো ক্রান্তীয় বর্ষাবন বা পাহাড়ি প্রকৃতির এবং এখানে সেগুন, গর্জন ও বাঁশ বেশি জন্মায়।
D) খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি — এই অঞ্চলের বনভূমি মূলত সুন্দরবন নামক ম্যানগ্রোভ বা লবনাক্ত Tidal বন, যা সুন্দরী ও গেওয়া গাছের জন্য পরিচিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
মধু ও ভাওয়ালের শালপাতা বেশ জনপ্রিয়। এই কথাটি মনে রাখলে মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের প্রধান গাছ যে শাল, তা সহজে মনে রাখা যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
শালবন কোন ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, তা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। এই প্রশ্ন থেকে পরীক্ষার্থীরা প্লাইস্টোসিন চত্বরের বনভূমি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।
সঠিক উত্তর: A) লর্ড কার্জন
১. কেন সঠিক:
বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয় ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের সময়ে এবং সে সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন।
তার প্রশাসনিক নীতির অংশ হিসেবে বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৬ই অক্টোবর এই বিভাজন কার্যকর করা হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধিকার আন্দোলনকে দুর্বল করতে এই বিভাজন করা হয়েছিল।
তারিখ ও স্থান: ১৯০৫ সালের ১৯শে জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং একই বছরের ১৬ই অক্টোবর তা কার্যকর হয়।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: লর্ড কার্জন ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় এবং বঙ্গভঙ্গের মূল পরিকল্পনাকারী।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা ইতিহাসে স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত।
উদাহরণ ২: ১৯১১ সালের দিল্লি দরবার
ব্যাখ্যা: রাজা পঞ্চম জর্জের ভারত আগমন উপলক্ষে ১৯১১ সালের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লর্ড কার্জন — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বাস্তবায়ন করেন।
B) লর্ড ওয়াভেল — তিনি ১৯৪৭ সালের পূর্ববর্তী সময়ে ভারতের ভাইসরয় ছিলেন এবং মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনার সাথে যুক্ত ছিলেন।
C) লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন — তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় যিনি ১৯৪৭ সালের ভারত ও পাকিস্তান বিভাজনের দায়িত্ব পালন করেন।
D) লর্ড লিনলিথগো — তিনি ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সময় ভারতের ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
বঙ্গভঙ্গ মানেই লর্ড কার্জন এবং কার্জন মানেই ১৯০৫ সাল।
মনে রাখার জন্য কার্জন ও বঙ্গভঙ্গ শব্দ দুটি একই সাথে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বঙ্গভঙ্গ কবে কার্যকর হয় এবং কে করেন এই দুটি প্রশ্ন বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
একই বিষয় থেকে বঙ্গভঙ্গ রদের সাল এবং রদকারী ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নামও পরীক্ষার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: B) পঞ্চম তফসিল
১. কেন সঠিক:
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ভাষণটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
২. সংবিধান ও আইন:
সাংবিধানিক বিধান: সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানে সংযোজন করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ
ব্যাখ্যা: এই ভাষণটি ছিল মূলত বাঙালি জাতির স্বাধীনতার অবধারিত ঘোষণা এবং দিকনির্দেশনা।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের এই সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিলপত্র সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চতুর্থ তফসিল — এটি মূলত অবাঙ্গাল ও প্রজাতন্ত্রের কিছু পদের শপথ ও ঘোষণা সংক্রান্ত বিধানের জন্য নির্ধারিত।
B) পঞ্চম তফসিল — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই তফসিলেই ৭ই মার্চের ভাষণ যুক্ত করা হয়েছে।
C) ষষ্ঠ তফসিল — এটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত দলিলের জন্য নির্দিষ্ট।
D) সপ্তম তফসিল — এটি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের জন্য নির্ধারিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
সাত নম্বর সংখ্যাটি মনে রাখলে সহজে মনে রাখা যায় যে ৭ই মার্চের ভাষণ পঞ্চম তফসিলে রয়েছে।
তফসিলগুলোর ক্রম মনে রাখতে সংবিধানে সংযোজিত ঐতিহাসিক দলিলগুলোর সাল ও ধারাবাহিকতা মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সংবিধানের তফসিল থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।
সঠিক উত্তর: D) সোভিয়েত ইউনিয়ন
১. কেন সঠিক:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়ন ঐতিহাসিক ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বারবার প্রতিহত করে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামকে বিশ্বমঞ্চে রক্ষা করেছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান বাহিনী যখন পরাজয়ের মুখোমুখি, তখন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রদানের কারণে পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি ১৯৭০
ব্যাখ্যা: এই চুক্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নের কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের পথ সুগম করেছিল।
উদাহরণ ২: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ভেটো
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে কীভাবে পরাশক্তির কূটনৈতিক সুরক্ষার মাধ্যমে একটি নবীন রাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে নিজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাজ্য — যুক্তরাজ্য ১৯৭১ সালে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয়নি বরং যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা সমর্থন করেছিল।
B) ফ্রান্স — ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হলেও ভেটো প্রয়োগ করেনি বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সহানুভূতিশীল ছিল।
C) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো না দিয়ে উল্টো যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করেছিল।
D) সোভিয়েত ইউনিয়ন — সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করে যুদ্ধকালীন সময়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রধান কূটনৈতিক বন্ধু ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো ছিল আমাদের মুক্তির রক্ষা কবচ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের মিত্র দেশ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা এবং জাতিসংঘে ভেটো প্রয়োগের সাল ও প্রেক্ষাপট ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ৭ মার্চ, ১৯৭৩
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
- সংবিধানের বিধান অনুযায়ী একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও শাসনতন্ত্র চালুর অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা ভেঙে দিয়ে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ সমগ্র বাংলাদেশে একযোগে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজস্ব সংসদ ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা: এই নির্বাচনে ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন লাভ করে বিশাল বিজয় অর্জন করে।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা: প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনি ভিত্তি ছিল ১৯৭২ সালের সংবিধান, যা গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার পর গণতান্ত্রিক পথ উন্মুক্ত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ — এই তারিখে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, এটি একটি ভুল তারিখ।
B) ৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ — এই তারিখে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেদিন নির্বাচনসংক্রান্ত অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল না।
C) ৭ মার্চ, ১৯৭৩ — এই অপশনটি সঠিক এবং এই দিনেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
D) ৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ — এই তারিখে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, নির্বাচনটি ঠিক এক মাস আগে ৭ মার্চ সম্পন্ন হয়েছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অর্থাৎ ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সালটি ১৯৭৩।
- তারিখ মনে রাখার জন্য ৭ মার্চ সংখ্যাটিকে মনে রাখলেই ভাষণ ও সংসদ নির্বাচন উভয় ঐতিহাসিক ঘটনা একসঙ্গে স্মরণ করা সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি এবং নারী আসন সংরক্ষিত ছিল ১৫টি।
- একই বিষয় থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার কে ছিলেন অথবা প্রথম নির্বাচন কোন সংবিধানের অধীনে হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: B) ১৩৬ তম সদস্য
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে ১৩৬তম সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের অংশ হিসেবে জাতিসংঘে যোগদান বাংলাদেশের কূটনীতির এক বিশাল সাফল্য।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে সদস্যপদ প্রদান করা হয়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ প্রদান।
ব্যাখ্যা: এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও কূটনৈতিক আত্মপ্রকাশের ঐতিহাসিক ঘটনা।
উদাহরণ ২: বাংলাদেশ একই দিনে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদান।
ব্যাখ্যা: এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব ও গুরুত্ব বহন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৪৬ তম সদস্য — এটি সঠিক নয় কারণ বাংলাদেশ জাতিসংঘে ১৪৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করেনি।
B) ১৩৬ তম সদস্য — এই অপশনটি সঠিক এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র।
C) ১২৬ তম সদস্য — এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদের ক্রমের সঙ্গে মেলে না।
D) ১১৬ তম সদস্য — এই তথ্যটি সঠিক নয় এবং ভুল ক্রম নির্দেশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে যোগ দেয় এবং ঠিক তার দুই বছর আগে ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ ও ওআইসি সদস্য হওয়ার পথে পা বাড়ায়।
সাল এবং সদস্যপদের ক্রম মনে রাখার জন্য ১৯৭৪ সালকে মূল ভিত্তি ধরে ১৩৬ সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশ কততম অধিবেশনে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং কোন সালে এই গৌরব অর্জন করে, তা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম কখন ভাষণ দেয়।
সঠিক উত্তর: B) ৪ ভাগে
১. কেন সঠিক:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আমন্ড এবং জি. বি. পাওয়েল চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে মূলত চার ভাগে ভাগ করেছেন।
রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যাবলি বিশ্লেষণ করতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই শ্রেণিবিভাগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনস্বীকৃত।
২. রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
শ্রেণিবিভাগ: আমন্ড ও পাওয়েল চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক, সহযোগী, প্রদর্শনমূলক এবং অনির্দেশক এই চার ভাগে বিভক্ত করেছেন।
তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট: এই চার ধরনের গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ওপর বিভিন্ন উপায়ে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রাতিষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা: সরকারি আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী বা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ভেতরের অংশ বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ২: সহযোগী চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা: শ্রমিক ইউনিয়ন বা ব্যবসায়ী সমিতি যেমন এফবিসিসিআই সহযোগী বা অ্যাসোসিয়েশনভিত্তিক গোষ্ঠীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৩ ভাগে — রাজনৈতিক দল বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সঠিক শ্রেণিবিভাগ এটি নয়।
B) ৪ ভাগে — আমন্ড ও পাওয়েলের তত্ত্বানুযায়ী এটি সঠিক এবং সর্বসম্মত বিভাজন।
C) ৫ ভাগে — এই সংখ্যাটি আমন্ড ও পাওয়েলের চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে না।
D) ৬ ভাগে — এই সংখ্যাটিও গবেষকদের এই নির্দিষ্ট তত্ত্বের পরিপন্থী।
৫ মনে রাখার টিপস:
আমন্ড ও পাওয়েলের নামের সঙ্গে চার সংখ্যাটি মনে রাখতে 'আ-পা চার' এভাবে ছোট একটি সূত্র মনে রাখতে পারেন।
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান প্রকারভেদ চারটি, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বিসিএস পরীক্ষার জন্য মুখস্থ রাখা আবশ্যক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রাজনৈতিক তত্ত্ব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নাম প্রায়ই আসে।
একই টপিক থেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা বা উদাহরণ সম্পর্কিত প্রশ্নও পরীক্ষাতে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) মানবাধিকার
১. কেন সঠিক:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন, যা বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও আইনি সহায়তা প্রদানে কাজ করে।
- এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের নিপীড়নমূলক ঘটনা, আইনগত অধিকার লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম: আইন ও সালিশ কেন্দ্র ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি দেশের অন্যতম প্রধান আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এটি প্রান্তিক মানুষ, নারী ও শিশুদের আইনি অধিকার রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট
ব্যাখ্যা: এটিও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতো একটি স্বনামধন্য মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
উদাহরণ ২: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
ব্যাখ্যা: এই সংস্থাটি বাংলাদেশে মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অর্থনৈতিক — আইন ও সালিশ কেন্দ্র কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা বাণিজ্যিক সংস্থা নয়।
B) মানবাধিকার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সংস্থাটি মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে।
C) ধর্মীয় — এটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্ট নয়, এটি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক মানবাধিকার সংস্থা।
D) খেলাধুলা — এটি কোনো ক্রীড়া সংস্থা বা ক্লাব নয়, ক্রীড়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র নামটিতে সালিশ শব্দটি দেখে অনেক সময় বিচারিক বা গ্রামীণ সালিশ মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত একটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংস্থা।
- আইন শব্দটি এখানে আইনি সহায়তা এবং সালিশ শব্দটি অধিকার আদায়ের মধ্যস্থতা বা আইনি লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে মনে রাখা যেতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার নাম ও প্রতিষ্ঠার সাল জানতে চাওয়া হয়।
- এই প্রশ্নটি থেকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র যে একটি মানবাধিকার সংস্থা, তা মনে রাখতে হবে এবং এর সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও জেনে রাখা দরকার।
সঠিক উত্তর: B) ১,৭৫১ মার্কিন ডলার
১. কেন সঠিক:
- ২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু বা পার ক্যাপিটা জিডিপি ছিল ১,৭৫১ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- অর্থনীতির পরিভাষায় পার ক্যাপিটা জিডিপি বলতে মোট দেশজ উৎপাদনকে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করে প্রাপ্ত গড় আয়কে বোঝানো হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- এই সময়কালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির নির্দেশক।
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কৃষি, তৈরি পোশাক খাত এবং রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ভূমিকা এই প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
ব্যাখ্যা: এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি দেশের জাতীয় আয়, জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিয়মিত পরিমাপ ও প্রকাশ করে থাকে।
উদাহরণ ২: মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: মাথাপিছু আয় বাড়ার অর্থ হলো দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হওয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১,৭৫০ মার্কিন ডলার — এটি ২০১৮ সালের প্রকৃত পার ক্যাপিটা জিডিপির সঠিক পরিসংখ্যান নয় এবং এটি একটি কাল্পনিক মান।
B) ১,৭৫১ মার্কিন ডলার — এটি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত পার ক্যাপিটা জিডিপির সঠিক ও গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান।
C) ১,৭৫২ মার্কিন ডলার — এটি ২০১৮ সালের জিডিপি গণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সরকারি বা প্রামাণিক পরিসংখ্যান নয়।
D) ১,৭৫৩ মার্কিন ডলার — এটিও এই নির্দিষ্ট অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল্যায়নের সাথে মিল 없는 একটি ভুল অপশন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ২০১৮ সালের মাথাপিছু জিডিপি মনে রাখতে সংখ্যাটি এভাবে ভাবুন যে, এটি ১ হাজার ৭ শত ৫১ মার্কিন ডলার ছিল।
- বর্তমান সময়ের সাথে অতীতের পরিসংখ্যান গুলিয়ে ফেলবেন না, কারণ অর্থনৈতিক সূচক প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন অর্থবছর বা সালের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।
- এই প্রশ্নটি থেকে পরীক্ষার্থীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা এবং জিডিপি গণনার মৌলিক ধারণা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ময়মনসিংহ
১. কেন সঠিক:
- গারো বাংলাদেশের একটি প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায় এবং ঐতিহাসিকভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর গড় ও সংলগ্ন এলাকায় তাদের মূল বসতি গড়ে উঠেছে।
- প্রশাসনিকভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের শেরপুর, নেত্রকোনা এবং গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশেও গারো জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে।
২. জনমিতি ও সংস্কৃতি:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গারোরা মূলত তিব্বত-বর্মন ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এরা মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: গারোরা নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেয়, যার অর্থ মানুষ এবং তাদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক খাতা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গারো আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওয়ানাওয়ালা।
ব্যাখ্যা: এটি তাদের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব, যা নতুন ফসল তোলার সময় উদযাপিত হয়।
উদাহরণ ২: গারো সমাজের মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
ব্যাখ্যা: এই সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন নারীরা এবং কন্যারা বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে প্রধান অধিকার পান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পার্বত্য চট্টগ্রাম — এটি চাকমা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান বসবাসস্থল, গারোদের মূল আবাসস্থল এখানে নয়।
B) সিলেট — এটি খাসিয়া ও মণিপুরী জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত।
D) টাঙ্গাইল — যদিও টাঙ্গাইলের কিছু অংশে গারোদের বসবাস আছে, তবে ময়মনসিংহ অঞ্চলই গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান ও ঐতিহ্যগত মূল আবাসস্থল হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসস্থল মনে রাখতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর গড়ের কথা মনে রাখতে হবে। গারোরা ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান ও সংস্কৃতি অংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই বিষয় থেকে তাদের সামাজিক ব্যবস্থা বা উৎসব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ফরিদপুর
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদিত হয়।
- পাট চাষের জন্য উপযোগী দোআঁশ মাটি এবং পর্যাপ্ত নদীমাতৃক আর্দ্রতা ফরিদপুর অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকায় এখানে পাটের ফলন সর্বোত্তম হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- ভৌগোলিক অনুকূল পরিবেশ এবং পদ্মার অববাহিকা হওয়ায় ফরিদপুর অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই পাটের ব্যাপক চাষ হয়ে আসছে।
- একসময় পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হতো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল এই কৃষিপণ্যটি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সিরাজগঞ্জ জেলা
ব্যাখ্যা: এটি পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় জেলাগুলোর অন্যতম হলেও ফরিদপুর উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে।
উদাহরণ ২: ময়মনসিংহ জেলা
ব্যাখ্যা: পাট উৎপাদনে এই জেলাটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটি পাট গবেষণার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফরিদপুর — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জেলাটিতে বাংলাদেশে সর্বাধিক পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয়।
B) রংপুর — এই জেলাটি পাট উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও উৎপাদনের দিক থেকে ফরিদপুরের পরেই এর অবস্থান।
C) জামালপুর — এটি পাট উৎপাদনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলেও শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে স্বীকৃত নয়।
D) শেরপুর — এই অঞ্চলটিতে মূলত ধান ও অন্যান্য ফসল বেশি উৎপাদিত হয়, পাট উৎপাদনে এটি শীর্ষ স্থানে নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পাট উৎপাদনের রাজা ফরিদপুর, এটি মনে রাখতে ফ দিয়ে পাট এবং ফ দিয়ে ফরিদপুর শব্দটি মনে রাখতে পারেন।
- বাংলাদেশের সোনালী আঁশের রাজধানী হিসেবে ফরিদপুর জেলাকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদক জেলা বা সোনালী আঁশ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- একই বিষয় থেকে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত কিংবা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারক কে, এমন প্রশ্নও হতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) যুক্তরাষ্ট্রের
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো অ্যালায়েন্স (Alliance for Bangladesh Worker Safety) মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর আমেরিকার ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম।
- ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস এবং তাজরীন ফ্যাব্রিকসে অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ২০১৩ সালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয় এবং সংস্কারের দাবি জোরালো হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: উত্তর আমেরিকার প্রায় ত্রুটিহীন পোশাক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের কারখানায় নিরাপত্তা ও পরিদর্শনের কাজ পরিচালনা করে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিন নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত মান অনেকাংশেই উন্নত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অ্যাকর্ড (Accord on Fire and Building Safety in Bangladesh)
ব্যাখ্যা: এটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক ক্রেতাদের সংগঠন, যা একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে কাজ করেছে।
উদাহরণ ২: রানা প্লাজা দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা: এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক নজরদারি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড আমূল বদলে দিতে বাধ্য করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাজ্যের — যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রেতারা প্রধানত অ্যাকর্ড বা অন্য উদ্যোগে অংশ নিয়েছিল, অ্যালায়েন্সে নয়।
B) যুক্তরাষ্ট্রের — এই অপশনটি সঠিক কারণ অ্যালায়েন্স মূলত উত্তর আমেরিকা তথা যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন।
C) কানাডার — কানাডার কিছু ব্র্যান্ড এতে থাকলেও প্রধান নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা।
D) ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে — ইউরোপের ব্র্যান্ডগুলো অ্যাকর্ড নামক আলাদা আরেকটি সংগঠনের অংশ ছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- উত্তর আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র শুরু হয় এ অক্ষর দিয়ে, আর অ্যালায়েন্স বা Alliance শব্দটিও এ দিয়ে শুরু হয়।
- ইউরোপের ব্র্যান্ডগুলো ছিল অ্যাকর্ড (Accord) এ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলো অ্যালায়েন্স (Alliance) এ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক জোট ছিল অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন জোটটি কোন দেশের ক্রেতাদের নিয়ে গঠিত।
সঠিক উত্তর: D) ০.৩৩৬৬ (বা ৩৩.৬৬%)
১. কেন সঠিক:
- ২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল প্রায় ৩৩.৬৬ শতাংশ।
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের পাশাপাশি শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যায় এটি।
২. অর্থনীতি, শিল্প ও উন্নয়ন:
- অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে শিল্প ও সেবা খাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস দেশের এই জিডিপি ও খাতওয়ারি অবদানের প্রাক্কলন প্রকাশ করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তৈরি পোশাক শিল্প খাত
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের শিল্প খাতের জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে তৈরি পোশাক বা আরএমজি শিল্প।
উদাহরণ ২: ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প
ব্যাখ্যা: দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ০.২৯৬৬ — এটি ভুল কারণ এই সংখ্যাটি ২০১৮ সালের শিল্প খাতের সঠিক অবদানের শতাংশ নির্দেশ করে না।
B) ০.৩০৬৬ — এটি ভুল কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই অর্থবছরে শিল্প খাতের অবদান এর চেয়ে বেশি ছিল।
C) ০.৩২৬৬ — এটি ভুল কারণ সামান্য কম বা বেশি অনুমানের ভিত্তিতে এই মানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
D) ০.৩৩৬৬ — এটি সঠিক কারণ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই নির্দিষ্ট বছরে শিল্প খাতের অবদান এই অনুপাতে ছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ২০১৮ সালের শিল্প খাতের অবদানের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে মানটি ত্রিশ শতাংশের উপরে এবং প্রায় তেত্রিশ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
- দশমিকের পর তেত্রিশ ও ছেষট্টি বা ৩৩.৬৬ শতাংশ হিসেবে এটি সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাম্প্রতিক জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান যেমন কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের হার প্রতিযোগিতািতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- বর্তমান হালনাগাদ অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে কৃষি ও শিল্প খাতের অবদানের সর্বশেষ হার ভালোভাবে দেখে যাওয়া উচিত।
সঠিক উত্তর: A) সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
প্রদত্ত তথ্য:
২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়
এই বাজেটে দেশের রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করা হয়
ধরি,
রপ্তানি খাতের জন্য নির্ধারিত মোট বরাদ্দ = ক
অতএব,
সরকার কর্তৃক প্রণোদনা খাতের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়
যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন করা হয়
সুতরাং,
নির্ধারিত সেই প্রণোদনার মোট পরিমাণ হিসাব করা হয়
যা সঠিক তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত অংকে এসে দাঁড়ায়
উত্তর: সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
সঠিক উত্তর: A) ১৯৯১ সালে
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ১৯৯১ সালে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সংসদে মূল্য সংযোজন কর আইন পাস করেন এবং এটি কার্যকর করা হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনৈতিক ইতিহাস: বাংলাদেশে পরোক্ষ কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আধুনিক কর পদ্ধতি চালু করা হয়।
আইন ও প্রতিষ্ঠান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর এই কর সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব পালন করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
ব্যাখ্যা: দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি ভ্যাট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
উদাহরণ ২: জাতীয় বাজেট
ব্যাখ্যা: প্রতি অর্থবছর সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে এই মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাত থেকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৯১ সালে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই দেশে প্রথমবারের মতো ভ্যাট প্রবর্তন করা হয়।
B) ১৯৭৩ সালে — এই সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্তু ভ্যাট চালু হয়নি।
C) ১৯৮৬ সালে — এই সময় বাংলাদেশে ভ্যাট চালুর কোনো ঐতিহাসিক বা আইনগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
D) ১৯৯৬ সালে — এই বছর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার গঠিত হলেও ভ্যাট চালুর সাল এটি নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
৯০ এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ভ্যাট চালু হয়।
১৯৯১ সালকে মনে রাখতে পারেন বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন এবং ভ্যাট চালুর একই সময়কাল হিসেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভ্যাট কোন ধরনের কর, তা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। এটি একটি পরোক্ষ কর।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে বাংলাদেশে কোন অর্থমন্ত্রীর সময় প্রথম ভ্যাট চালু হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) ৫ম সংশোধন
১. কেন সঠিক:
পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারীকৃত সকল সামরিক অধ্যাদেশ ও আদেশ বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ নীতিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহমান সংযোজন করা হয়।
সংবিধানের এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। তাই আইন ও সংবিধান বিশ্লেষকদের কাছে এটি প্রথম সাংবিধানিক বিপর্যয় বা ফার্স্ট ডিসটোরিশন অব কন্সটিটিউশন নামে পরিচিত।
২. সংবিধান ও আইন:
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী আইন পাস হয়।
আইনি বৈধতা: পরবর্তীতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা: এটিও সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার আরেকটি সংশোধনী, যা ১৯৮৬ সালে পাস হয় এবং পরবর্তীতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালে পাস হওয়া এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং সংবিধানের অনেক মৌলিক চরিত্র পুনরুদ্ধার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
B) ৪র্থ সংশোধন — এটি ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে পাস হয় যার মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
C) ২য় সংশোধন — এটি ১৯৭৩ সালে পাস হয় যার মাধ্যমে জরুরি অবস্থা জারির বিধান এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার ক্ষমতা যুক্ত করা হয়।
D) ৩য় সংশোধন — এটি ১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করার উদ্দেশ্যে পাস করা হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
সংবিধানের প্রথম বড় ক্ষত বা বিকৃতি ঘটেছিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে।
পঞ্চম সংশোধনীর সাল ছিল ১৯৭৯ এবং এর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের সামরিক শাসনকে বৈধ করা হয়েছিল।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পঞ্চম সংশোধনী কোন সালে পাস হয় এবং এর মূল বিষয়বস্তু কী ছিল তা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংবিধানের শুরুতে যুক্ত করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) সপ্তম
১. কেন সঠিক:
- সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর দফার বিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের সপ্তম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এর মাধ্যমেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর ১০ এপ্রিল গঠিত হয় প্রথম বিপ্লবী সরকার এবং সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- সংবিধান ও আইন: ১৯৭২ সালের সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রস্তাবনা হিসেবে যুক্ত থাকলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা সংবিধানের সপ্তম তফসিলে সংযোজন করা হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই দলিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনগত বৈধতা নিশ্চিত হয় এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের মুক্তির সংগ্রামের ভিত্তি শক্ত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি সেখানে পাঠ করা হয়।
ব্যাখ্যা: এই ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল।
উদাহরণ ২: ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী।
ব্যাখ্যা: এই সংশোধনীর মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ঐতিহাসিক দলিলগুলো সংবিধানের তফসিলে স্থায়ীভাবে স্থান পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চতুর্থ — চতুর্থ তফসিলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শপথ এবং অন্যান্য ক্রান্তিকালীন বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।
B) পঞ্চম — পঞ্চম তফসিলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক আইনের সময়কার অধ্যাদেশ ও আদেশ অনুমোদন করা হয়েছে।
C) ষষ্ঠ — ষষ্ঠ তফসিলে সংবিধানের বাংলা পাঠের স্বীকৃতি এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
D) সপ্তম — সপ্তম তফসিলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের একেবারে শেষের দিকে অর্থাৎ সপ্তম তফসিলে স্থান পেয়েছে।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বা ঘোষণাপত্রটি সংবিধানের সপ্তম সিঁড়িতে বা তফসিলে সুরক্ষিত আছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের কততম তফসিলে আছে।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেছিলেন অথবা এটি কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়।
সঠিক উত্তর: B) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তित হয় বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
এই দিনে গণপরিষদে গৃহীত সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়।
২. সংবিধান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস: ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় এবং ড. কামাল হোসেনকে ড্রাফটিং কমিটির প্রধান করা হয়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই সংবিধানের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন হয় এবং বাঙালি জাতি একটি সার্বভৌম আইন লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা: এই দিনে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান বিল পাস বা গৃহীত হয়, যা প্রবর্তনের তারিখ থেকে আলাদা।
উদাহরণ ২: ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা এই সংবিধানের অধীনেই সম্পন্ন হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ — এটি মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের তারিখ, সংবিধান প্রবর্তনের তারিখ নয়।
B) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ — এটি সঠিক উত্তর, এই দিনে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
C) ৭ মার্চ, ১৯৭২ — এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের তারিখ, যা সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
D) ২৬ মার্চ, ১৯৭৩ — এটি বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের বার্ষিকী, যা সংবিধান প্রবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিজয়ের দিনেই সংবিধান: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং এই দিনেই সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয়।
গৃহীত বনাম প্রবর্তিত: ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় আর ১৬ ডিসেম্বর প্রবর্তিত বা কার্যকর হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে গণপরিষদে সংবিধানের ওপর প্রথম স্বাক্ষর করেন কে।
সঠিক উত্তর: A) ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
১. কেন সঠিক:
- গণপ্রজাত বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের নবম অধ্যায়ে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- এই অংশের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
২. সংবিধান ও আইন:
- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগণকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে কমিশন গঠিত হয়।
- এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি মূলত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
ব্যাখ্যা: এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ১৩৭ নং অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে গঠিত হয়ে নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষা পরিচালনা করছে।
উদাহরণ ২: জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন
ব্যাখ্যা: এটি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগের জন্য গঠিত আরেকটি স্বতন্ত্র কমিশন যা সংবিধান ও বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে — এই অপশনটি সঠিক কারণ সংবিধানের এই অনুচ্ছেদেই সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।
B) ১৩৫ নং অনুচ্ছেদে — এটি সরকারি কর্ম কমিশনের নয় বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকরিের নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ।
C) ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে — এই অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যগণের নিয়োগ, পদের মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তাবলী সম্পর্কে বলা হয়েছে।
D) ১৩৪ নং অনুচ্ছেদে — এটি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকুরির পদের স্থায়িত্ব ও অবসান সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পিএসসি বা সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের মূল কথা বলা আছে ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে এবং সদস্যদের নিয়োগের কথা আছে পরের অনুচ্ছেদ অর্থাৎ ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে।
- সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠানের অনুচ্ছেদগুলো মনে রাখতে অধ্যায়ভিত্তিক তালিকা তৈরি করে পড়া সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুচ্ছেদ প্রায়ই আসে, তাই ১৩৪ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়তে হবে।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে পিএসসির সদস্যদের মেয়াদ কত বছর বা তাদের কে নিয়োগ করেন।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৬৬ সালে
প্রদত্ত তথ্য:
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি
১৯৬৬ সালের ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
ধরি,
এই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাঙালির স্বাধিকার অর্جনের জন্য ৬ দফা পেশ করা হয়
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর হওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়
অতএব,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ৬ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন
এই ৬ দফার মূল ভিত্তি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা
সুতরাং,
বাঙালি জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এটি বিবেচিত হয়
উত্তর: ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর: B) ৩৫ জন
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করেছিল।
- এই মামলায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আসামি করা হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার এই মামলার কথা প্রকাশ করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা চালায়।
- তারিখ ও স্থান: মামলার শুনানি শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা সেনানিবাসে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: এই মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন তৎকালীন বাঙালি নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মামলাটির দাপ্তরিক নাম ছিল রাষ্ট্র বনাম ইষ্ট পাকিস্তান সলতেজ ও অন্যান্য।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই মামলার বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে যা পরবর্তীতে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্র-জনতার আন্দোলনই পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
উদাহরণ ২: ১১ দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা: ছাত্রদের গড়া সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৩৪ জন — এটি ভুল কারণ মামলার চার্জশিটে আসামির সংখ্যা ৩৪ জন ছিল না, বরং আসামি ছিলেন মোট ৩৫ জন।
B) ৩৫ জন — এটি সঠিক এবং এই মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
C) ৩৬ জন — এটি ভুল কারণ মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় আসামির সংখ্যা ৩৬ জন ছিল না।
D) ৩২ জন — এটি ভুল কারণ রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কোনো দস্তাবেজেই এই মামলার আসামির সংখ্যা ৩২ জন বলা হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন এবং ১ নম্বর আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- সংখ্যাটি মনে রাখতে ৩ এর সাথে ৫ যোগ করলে ৮ হয় (১৯৬৮ সাল) এবং মোট আসামি ৩৫ জন এভাবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যেখানে মামলার ১ নম্বর আসামি কে ছিলেন তা জানতে চাওয়া হয়।
- একই বিষয় থেকে মামলাটির নাম, ১ নম্বর আসামির নাম এবং মামলার কারণে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ১৩ হাজার ১৩৬ টি
১. কেন সঠিক:
- তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি নির্দিষ্ট গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে তৎকালীন সরকার প্রথম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের সূচনা করে।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: এই ধারণার রূপকার এবং এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা পরবর্তীতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এর ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং গ্রামীণ নারীরা সহজেই প্রসূতি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ই-স্বাস্থ্য সেবা ও টেলিমেডিসিন
ব্যাখ্যা: কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে বর্তমানে অনেক স্থানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় উদাহরণ।
উদাহরণ ২: মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের প্রাথমিক স্বাস্থ্য মডেল
ব্যাখ্যা: এই অঞ্চলগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর প্রাথমিক সফলতাই পুরো দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথ উন্মুক্ত করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৩ হাজার ১২৫ টি — এটি এই নির্দিষ্ট প্রশ্নের সঠিক পরিসংখ্যান নয় এবং এই সংখ্যাটি অন্য কোনো গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
B) ১৩ হাজার ১৩০ টি — এই সংখ্যাটি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য বা চূড়ান্ত অনুমোদিত প্রাক্কলিত সংখ্যার সঙ্গে মিলে না।
D) ১৩ হাজার ১৪৬ টি — এটি একটি ভুল পরিসংখ্যান এবং দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী তৎকালীন সময়ে নির্ধারিত ক্লিনিক সংখ্যার সঙ্গে এটি অসঙ্গতিপূর্ণ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সংখ্যাটি মনে রাখার জন্য শেষ অঙ্কগুলোর দিকে নজর দিতে পারো, যেখানে তেরো হাজার এবং তেরো শত ছাব্বিশ বা ছত্রিশের মতো হিসাব মনে রাখা যায়।
- কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মূল প্রবক্তা এবং সাল ১৯৯৬ সালটি মনে রাখলে পরীক্ষagulo তে উত্তর করা সহজ হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতি কত হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ, এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- স্বাস্থ্য খাতের এই অর্জন থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রশ্নও পরীক্ষাতে থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) জহির রায়হান
১. কেন সঠিক:
- 'There be Light' (আলোর পিপাসা) প্রামাণ্যচিত্র বা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাহিত্যিক জহির রায়হান।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সত্য ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য তিনি এই ছবিটি নির্মাণ করেন।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের উদ্যোগে বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: চলচ্চিত্রটির নির্মাতা জহির রায়হান একাধারে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা উন্মোচনে অত্যন্ত ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জহির রায়হানের প্রামাণ্যচিত্র 'স্টপ জেনোসাইড'।
ব্যাখ্যা: এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত অত্যন্ত প্রশংসিত আরেকটি আন্তর্জাতিক মানের প্রামাণ্যচিত্র, যা বাংলার মুক্তিসংগ্রামকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে।
উদাহরণ ২: জহির রায়হানের বিখ্যাত উপন্যাস 'হাজার বছর ধরে'।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসটি থেকে প্রমাণিত হয় তিনি শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, বরং বাংলা সাহিত্যের একজন অনন্য সাধারণ ও গণমুখী কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আমজাদ হোসেন — তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও গীতিকার হলেও 'There be Light' ছবিটি তিনি পরিচালনা করেননি।
B) জহির রায়হান — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়, কারণ তিনি নিজেই এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন।
C) খান আতাউর রহমান — তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা ও পরিচালক হলেও এই নির্দিষ্ট ছবিটি তিনি পরিচালনা করেননি।
D) শেখ নিয়ামত আলী — তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের একজন বিশিষ্ট স্বাধীন ধারা ও বাস্তবধর্মী নির্মাতা হলেও এই প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র মানেই জহির রায়হান।
- 'There be Light' এবং 'Stop Genocide' উভয় প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা জহির রায়হান, যা এক সাথে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদের নাম বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- একই বিষয় থেকে জহির রায়হানের অন্যান্য চলচ্চিত্র বা সাহিত্যকর্ম নিয়েও পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) ১৪৯৮-১৫১৯ খৃষ্টাব্দ
১. কেন সঠিক:
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন সুলতান হিসেবে বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন এবং তিনি বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় শাসক ছিলেন।
- তার শাসনামলে বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে যা ইতিহাসে হোসেন শাহী আমল নামে পরিচিত।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: হাবসি শাসকদের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দে সৈয়দ হোসেন সিংহাসন আরোহণ করেন এবং আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি ধারণ করেন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ইলিয়াস শাহী বংশের পতনের পর বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলার সর্বকালের সেরা সুলতান হিসেবে পরিচিত।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: তার শাসনামলে বাঙালি সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটে, গৌড় ও পাণ্ডুয়া রাজধানী হিসেবে সমৃদ্ধ হয় এবং শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলন তার আমলেই প্রসার লাভ করে।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: তাকে বাংলার আকবর বলা হয় কারণ তিনি প্রজাবৎসল ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকদের উচ্চ পদে নিয়োগ দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখেছিলেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রূপলাল হাউজ বা ঐতিহাসিক সোনারগাঁওর প্রাচীন স্থাপনা
ব্যাখ্যা: হোসেন শাহী আমলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থাপত্যকলার বিকাশ তৎকালীন বাংলার এই নিদর্শনগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়।
উদাহরণ ২: মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য অনুবাদ
ব্যাখ্যা: সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সাহিত্যকর্মটি রচিত হয় যা প্রমাণ করে হোসেন শাহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৪৯৮-১৪১৬ খৃষ্টাব্দ — এই সময়কালটি ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে মেলে না কারণ হোসেন শাহ রাজত্ব করেছেন দীর্ঘ ২১ বছর, যা এই মেয়াদের চেয়ে অনেক বেশি।
B) ১৪৯৮-১৫১৭ খৃষ্টাব্দ — এই অপশনের শুরুর সালটি সঠিক হলেও শেষের সালটি সঠিক নয় কারণ তিনি ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
C) ১৪৯৮-১৫১৮ খৃষ্টাব্দ — এই অপশনটিও তার সঠিক রাজত্বকালের শেষ সীমার সাথে মিলছে না এবং ইতিহাসবিদদের মতে তিনি ১৫১৯ খৃষ্টাব্দে মারা যান।
D) ১৪৯৮-১৫১৯ খৃষ্টাব্দ — এই অপশনটি সম্পূর্ণ সঠিক কারণ তিনি ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দে ক্ষমতা গ্রহণ করে ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত সফলভাবে বাংলা শাসন করেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনকাল মনে রাখার জন্য মনে রাখতে হবে তিনি ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দে ক্ষমতায় আসেন এবং ঠিক ২১ বছর পর ১৫১৯ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তার নামের শেষাংশ হোসেন শাহ এবং তার রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিল বলে পরীক্ষার্থীরা এভাবে মনে রাখতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন আসে বাংলার কোন সুলতানকে বাংলার আকবর বলা হয় এবং হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে।
- এই একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে হোসেন শাহের রাজত্বকাল কত ছিল অথবা কার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় সাহিত্যচর্চার ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল।
সঠিক উত্তর: B) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
১. কেন সঠিক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য প্রাচীন ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং মৌর্য শাসন প্রাচীন বাংলায় বিস্তার লাভ করেছিল।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের আমলে পুণ্ড্রবর্ধনসহ বাংলার একটি বড় অংশ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার প্রমাণ মহাস্থানগড় থেকে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপি।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে নন্দ বংশের পতনের পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মগধে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য বা কৌটিল্য, যিনি অর্থশাস্ত্র রচনা করেছিলেন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: মৌর্য শাসনের মাধ্যমে প্রাচীন বাংলায় প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বহির্বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাস্থানগড় ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা: বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপিতে মৌর্য আমলের দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ লিপিবদ্ধ আছে, যা বাংলায় মৌর্য শাসনের নিশ্চিত প্রমাণ।
উদাহরণ ২: সম্রাট অশোকের পুণ্ড্রবর্ধন বিজয়
ব্যাখ্যা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্তরসূরি বিন্দুসার ও অশোকের সময়ে প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অশোক মৌর্য — অশোক মৌর্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র বা নাতি ছিলেন, যিনি সাম্রাজ্য বিস্তার ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে বিখ্যাত ছিলেন কিন্তু সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নন।
B) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি মৌর্য রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার আমলেই বাংলায় মৌর্য শাসনের সূত্রপাত হয়।
C) সমুদ্র গুপ্ত — সমুদ্রগুপ্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন, যিনি চতুর্থ শতাব্দীতে বাংলা আক্রমণ করেছিলেন কিন্তু তিনি মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা নন।
D) এর কোনটিই না — যেহেতু সঠিক উত্তর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য অপশনে বিদ্যমান, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত আর গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত, এই দুটি নাম গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
- চন্দ্রগুপ্তের নাম মনে রাখলে মনে রাখবে মগধ ও বাংলার প্রথম সাম্রাজ্যিক শাসনের সূচনার কথা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রাচীন বাংলার শাসনকর্তা সম্পর্কিত প্রশ্নে মৌর্য ও গুপ্ত রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্রাট অশোকের বাংলা অভিযান সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- মৌর্য আমলের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে মহাস্থানগড়ের ব্রাহ্মী লিপির অবস্থান ও গুরুত্ব বারবার পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) পর্তুগীজরা
১. কেন সঠিক:
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সবার আগে সমুদ্রপথে পর্তুগীজ নাবিকরাই বাংলায় আগমন করেন।
১৫১৮ থেকে ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পর্তুগীজ বণিকরা বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে প্রথম বাংলায় আসেন।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার পর ইউরোপীয়দের জন্য এ অঞ্চলে ব্যবসার পথ উন্মুক্ত হয়।
তারিখ ও স্থান: ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগীজ প্রতিনিধি জোয়াও দ্য সিলভেইরা প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করেন।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ভাস্কো দা গামা জলপথ আবিষ্কারক এবং পর্তুগীজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই বাণিজ্যের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিল।
তাৎপর্য ও ফলাফল: পর্তুগীজদের আগমনের মাধ্যমে বাংলায় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘ অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাস্কো দা গামার ভারত আগমন।
ব্যাখ্যা: এটি ইউরোপ থেকে এশিয়ায় আসার সরাসরি জলপথ আবিষ্কারের প্রথম ঘটনা যা পরবর্তীতে বণিকদের বাংলায় আসতে উৎসাহিত করে।
উদাহরণ ২: পর্তুগীজদের চট্টগ্রাম দখল ও সন্দ্বীপ অধিকার।
ব্যাখ্যা: ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এসে তারা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পর্তুগীজরা — এটি সঠিক উত্তর কারণ তারা সবার আগে ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় এসেছিলেন।
B) ইংরেজরা — ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতে এলেও বাংলায় তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে।
C) ওলন্দাজরা — ডাচ বা ওলন্দাজ বণিকরা পর্তুগীজদের অনেক পরে সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে বাংলায় বাণিজ্য বিস্তার করতে শুরু করে।
D) ফরাসিরা — ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতে আসে এবং চন্দননগরে তাদের প্রধান কুঠি স্থাপন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ইউরোপীয়দের আগমনের ধারাবাহিকতা মনে রাখার সহজ কৌশল হলো প-ই-ও-ফ অর্থাৎ প্রথমে পর্তুগীজ, এরপর ইংরেজ, তারপর ওলন্দাজ এবং শেষে ফরাসিরা আসে।
পর্তুগীজদের আসার সাল ১৫১৮ এবং ইংরেজদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের সাল ১৬২০ এর দশক পাশাপাশি মনে রাখলে বিভ্রান্তি দূর হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলায় প্রথম কোন ইউরোপীয় বণিকরা এসেছিলেন এবং তাদের প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় ছিল।
এই টপিক থেকে বাংলায় পর্তুগীজদের আদিনাম হার্মাদ জলদস্যু এবং তাদের ব্যবহৃত পণ্যের ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
১. কেন সঠিক:
সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো সানশাইন পলিসি বা রোদঝলমলে নীতিটি মূলত কোরীয় উপদ্বীপের দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমাতে গৃহীত হয়েছিল।
প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির এই কৌশলটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সংলাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে পুনরেকত্রীকরণের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
২. ভূরাজনীতি ও কূটনীতি:
দেশ: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৫৩ সালের পর থেকে বিভক্ত দুটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
প্রেক্ষাপট: দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কিম ডি-জু ১৯৯৮ সালে এই শান্তি নীতি ঘোষণা করেন এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: স্নায়ুযুদ্ধের অবসান এবং দুই কোরিয়ার মধ্যে চলা দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই নীতির মূল লক্ষ্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জার্মান পুনরেকত্রীকরণ
ব্যাখ্যা: ১৯৯০ সালে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির একত্রীকরণ কোরীয় উপদ্বীপের জন্যও একটি বড় আদর্শ বা উদাহরণ হিসেবে কাজ করেছিল।
উদাহরণ ২: ঐতিহাসিক পিয়ংইয়ং শীর্ষ বৈঠক
ব্যাখ্যা: ২০০০ সালে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের ঐতিহাসিক বৈঠকের মাধ্যমে সানশাইন পলিসির কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চীন, রাশিয়া — চীন ও রাশিয়া একটি কমিউনিস্ট ও অপরটি সাবেক সোভিয়েত উত্তরাধিকারী পরাশক্তি হলেও তাদের দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে সানশাইন পলিসির মতো কোনো নির্দিষ্ট শান্তি নীতি যুক্ত নয়।
B) উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই নীতিটি বিশেষভাবে কোরীয় উপদ্বীপের এই দুটি দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।
C) জাপান, থাইল্যান্ড — জাপান ও থাইল্যান্ড এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলেও এদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিশেষ নামটি প্রযোজ্য নয়।
D) তাইওয়ান, হংকং — তাইওয়ান ও হংকং উভয়েই চীন সম্পর্কিত ভূরাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও এদের মধ্যে সানশাইন পলিসি কার্যকর হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
সানশাইন বা রোদ মানে উষ্ণতা, যা ঠান্ডা যুদ্ধের বরফ গলাতে এবং কোরিয়ার দুই ভাইপ্রতিম দেশকে কাছাকাছি আনতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
কোরিয়ার দুই অংশের বিভেদ ঘোচানোর এই শান্তির পরশ বা রোদঝলমলে নীতিটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম ডি-জুর সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে প্রায়ই আসে।
সানশাইন পলিসির প্রবক্তা কে ছিলেন এবং কোন দেশের প্রেসিডেন্ট এই নীতির জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন, এমন প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) কাটোউইস, পোল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটির ধরন হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি সম্পর্কিত।
পোল্যান্ডের কাটোউইস শহরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের চব্বিশতম জলবায়ু সম্মেলন অর্থাৎ COP24 অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও পরিবেশ চুক্তি:
সম্মেলনের নাম: জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশনের চব্বিশতম পক্ষ সম্মেলন বা COP24।
তারিখ ও স্থান: ০২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে পোল্যান্ডের কাটোউইস শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
মূল উদ্দেশ্য: প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন বিধিমালা বা নিয়মাবলী চূড়ান্ত করা এবং কার্বণ নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জন।
আন্তর্জাতিক গুরুত্ব: এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির রূপরেখা কার্যকর করতে একটি অভিন্ন ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্যারিস চুক্তি, ২০১৫
ব্যাখ্যা: এটি ২০১৫ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সীমিত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উদাহরণ ২: গ্লাসগো সম্মেলন, ২০২১
ব্যাখ্যা: এটি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত COP26 সম্মেলন যেখানে কয়লার ব্যবহার কমানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাটোউইস, পোল্যান্ড — এটি সঠিক উত্তর কারণ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই শহরেই বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) প্যারিস, ফ্রান্স — এই শহরে ২০১৫ সালে একুশতম জলবায়ু সম্মেলন বা COP21 অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা প্যারিস চুক্তি নামে পরিচিত।
C) রোম, ইতালি — এটি ইতালি রাষ্ট্রের রাজধানী এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত হলেও এখানে উক্ত জলবায়ু সম্মেলন হয়নি।
D) বেইজিং, চীন — এটি চীনের রাজধানী এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও ২০১৮ সালের এই জলবায়ু সম্মেলন এখানে আয়োজিত হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
পোল্যান্ডের কাটোউইস শব্দটির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ২০১৮ সালের সম্মেলন শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখতে পারো।
পৌরসভার নাম কাটোউইস আর জলবায়ুর সম্মেলন হলো সেখানে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা COP সংক্রান্ত প্রশ্ন বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে সম্মেলনগুলোর ক্রমিক নম্বর, সাল এবং আয়োজক শহরের নাম সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) New Development Bank (NDB)
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস নিজেদের অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাংকটি গঠিত হয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
- সংস্থা: নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এনডিবি এবং এর পূর্বনাম ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
- প্রতিষ্ঠা: ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রিকসের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়।
- সদর দপ্তর: সাংহাই, চীন।
- উদ্দেশ্য: সদস্য দেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা এআইআইবি।
ব্যাখ্যা: এটিও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হিসেবে চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংক যার সদর দপ্তর বেইজিংয়ে অবস্থিত।
উদাহরণ ২: বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ব্রটানউডস চুক্তির মাধ্যমে এই প্রথাগত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) New Development Bank (NDB) — এটি ব্রিকস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আসল ব্যাংক যার পূর্বনাম ছিল ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
B) BRICS Development Bank (BDB) — এটি কোনো স্বতন্ত্র বা নতুন ব্যাংক নয় বরং এটি ছিল এনডিবি ব্যাংকের প্রাথমিক বা প্রস্তাবিত নাম।
C) Economic Development Bank (EDB) — এটি ব্রিকস জোটের সাথে সম্পর্কিত কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ব্যাংকের নাম নয়।
D) International Commercial Bank (ICB) — এটি কোনো নির্দিষ্ট বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক নয় বরং এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকিং খাতের একটি সাধারণ নাম।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ব্রিকস দেশগুলোর নতুন ব্যাংক মানেই তার নামের শুরুতে নিউ বা নতুন শব্দ থাকবে, যেমন নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এনডিবি।
- সদর দপ্তর মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে হবে এটি ব্রিকসের সদস্য দেশ চীনের সাংহাই শহরে অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই ব্যাংকের সদর দপ্তর ও প্রতিষ্ঠাকাল সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- এনডিবি ব্যাংকের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন এবং এর বর্তমান সদস্য কারা, এই তথ্যগুলো পরবর্তী পরীক্ষার জন্য জেনে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: D) জীবুতি
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হবে জীবুতি, কারণ চীন বৈদেশিক সামরিক কূটনীতির অংশ হিসেবে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে তাদের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
- লোহিত সাগর ও বাবেল মান্দেব প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত হওয়ায় জীবুতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ভূরাজনীতি ও কৌশলগত গুরুত্ব:
- দেশ বা অঞ্চল: জীবুতি হলো হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র ও ভূকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
- প্রতিষ্ঠা ও চুক্তি: চীন ও জীবুতি সরকারের মধ্যে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাঁটির কার্যক্রম শুরু হয়।
- প্রেক্ষাপট: লজিস্টিক সাপোর্ট বেস হিসেবে চিহ্নিত এই ঘাঁটি চীনের ব্লু ওয়াটার নেভি বা নীল জলভাগের নৌবাহিনী বিস্তারের কৌশলের অংশ।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক জলপথে জলদস্যু দমন, শান্তিরক্ষা মিশন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চীনা স্বার্থ রক্ষা করা এর মূল উদ্দেশ্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প লেমননিয়ার
ব্যাখ্যা: জীবুতিতে যুক্তরাষ্ট্রেরও একটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা আমেরিকার আফ্রিকা কমান্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ ২: ভারত মহাসাগরের মুক্ত চলাচল
ব্যাখ্যা: এই অঞ্চলে বড় শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি বিশ্ব বাণিজ্যের রুট সুরক্ষার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা স্পষ্ট করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইথিওপিয়া — এটি পূর্ব আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবেষ্টিত দেশ হলেও এখানে চীনের কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই, তবে চীন এখানে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করেছে।
B) জাম্বিয়া — এটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি খনিজ সমৃদ্ধ স্থলবেষ্টিত দেশ, যেখানে চীনা ঋণ ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ থাকলেও কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই।
C) লাইবেরিয়া — এটি পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ এবং প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত উত্তর ভুল; মূলত এটি আফ্রিকায় চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটির অবস্থান নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জীবুতি নামটি মনে রাখুন হর্ন অফ আফ্রিকার প্রবেশদ্বার হিসেবে, যেখানে চীন প্রথম পা রেখেছে সামরিক ঘাঁটি বানিয়ে।
- ভুল ধারণা এড়াতে মনে রাখুন যে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ আর সামরিক ঘাঁটি স্থাপন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বিষয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চীন কোন দেশে প্রথম সামরিক ঘাঁটি করেছে এমন প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- হর্ন অফ আফ্রিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশ্ব রাজনীতিতে জীবুতির কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: A) BIMSTEC
১. কেন সঠিক:
- BIMSTEC সংস্থার স্থায়ী সচিবালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক কোনো সংস্থার সদর দপ্তর বাংলাদেশে অবস্থিত থাকা বাংলাদেশের ভূরাজনীতিতে একটি বিশেষ কূটনৈতিক অর্জন।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচিতি:
- সংস্থা: BIMSTEC বা বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন।
- প্রতিষ্ঠা: ৬ জুন ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে এই সংস্থাটি গঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ঢাকা, বাংলাদেশ। সচিবালয়টি ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
- সদস্যদেশ: দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট সাতটি দেশ এর সদস্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: SAARC
ব্যাখ্যা: সার্কের সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত হলেও এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: IORA
ব্যাখ্যা: আইওরা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সংস্থা যার সদর দপ্তর মরিশাসে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) BIMSTEC — এই সংস্থাটির সচিবালয় ঢাকার গুলশানে অবস্থিত এবং এটিই একমাত্র প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা যার সদর দপ্তর বাংলাদেশে।
B) CICA — কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স-বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া এর সচিবালয় কাজাজাখস্তানের আস্তানায় অবস্থিত।
C) IORA — ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তর মরিশাসের এবেন শহরে অবস্থিত।
D) SAARC — সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশনের সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বিমস্টেকের শুরুতে বি আছে যা দিয়ে বাংলাদেশ বা ঢাকা মনে রাখা যায়।
- সার্কের সদর দপ্তর নেপালে আর বিমস্টেকের সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিমস্টেকের বর্তমান সদস্যসংখ্যা সাতটি এবং এর প্রধান কাজ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: B) NAM
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ NAM বা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের কোনো স্থায়ী সচিবালয় বা সদর দপ্তর নেই।
- এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের রাজধানী বা শহরে স্থায়ী কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়নি।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: NAM (Non-Aligned Movement বা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন)
- প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ১৯৬১ সালে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেড সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রেক্ষাপট: শীতল যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দুটি পরাশক্তির সামরিক ব্লকের বাইরে থাকার জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এই জোট গঠন করে।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা এবং বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বজায় রাখা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জাতিসংঘ বা UN
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের স্থায়ী সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত এবং এর স্থায়ী সচিবালয় রয়েছে।
উদাহরণ ২: সার্ক বা SAARC
ব্যাখ্যা: সার্কের স্থায়ী সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত, যা NAM-এর থেকে ভিন্ন প্রকৃতির আঞ্চলিক সংস্থা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) NATO — এটি একটি সামরিক জোট এবং এর স্থায়ী সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত।
B) NAM — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এর কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর নেই এবং এর সভাপতি পদ পালাক্রমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পরিবর্তিত হয়।
C) EU — ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থায়ী সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বেশ শক্ত।
D) ASEAN — এটি একটি আঞ্চলিক সংস্থা এবং এর স্থায়ী সচিবালয় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- যে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা শীতল যুদ্ধের সময় নিরপেক্ষ দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তাদের অনেকগুলোরই স্থায়ী সদর দপ্তর থাকে না।
- NAM নামটি মনে রাখলেই বোঝা যায় যে এরা কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের অধীনে নয়, তাই এদের সদর দপ্তরও নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা শহরে বাঁধা নয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় কোন সংস্থার স্থায়ী সদর দপ্তর নেই।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে NAM এর প্রথম সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত।
সঠিক উত্তর: A) নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে সংক্ষেপে পিফাইভ বা পার্মানেন্ট ফাইভ বলা হয়। এই পাঁচটি রাষ্ট্র হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীন।
২. জাতিসংঘ সম্পর্কিত তথ্য:
পূর্ণ নাম: জাতিসংঘ বা ইউনাইটেড নেশনস।
প্রতিষ্ঠা: ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সাল।
সদর দপ্তর: নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
সদস্যসংখ্যা: ১৯৩টি স্বাধীন রাষ্ট্র।
প্রধান কাজ: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভেটো ক্ষমতা।
ব্যাখ্যা: পিফাইভভুক্ত এই পাঁচটি দেশের যেকোনো একটি রাষ্ট্র 'না' ভোট বা ভেটো দিলে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত পাস হয় না।
উদাহরণ ২: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
ব্যাখ্যা: যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামো এবং বিজয়ী শক্তির ভিত্তিতে এই পাঁচটি রাষ্ট্র স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র — এটি সঠিক উত্তর কারণ পিফাইভ বলতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই পাঁচটি স্থায়ী দেশকে বোঝায়।
B) পাঁচটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র — এটি ভুল কারণ বিশ্বে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র আরও বেশি রয়েছে এবং পিফাইভ এই ধারণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) পাঁচটি জাতিসংঘ সংস্থা — এটি ভুল কারণ পিফাইভ কোনো সংস্থা নয়, বরং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি নির্দিষ্ট দেশকে নির্দেশ করে।
D) উপরের কোনোটিই নয় — এটি ভুল কারণ সঠিক উত্তরটি প্রথম অপশনেই বিদ্যমান রয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
পিফাইভ মানে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য। ফাইভ শব্দটি দিয়ে পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনকে খুব সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য পনেরোটি, যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং দশটি অস্থায়ী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য দেশ নিয়ে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) ১৯৮২ সালে
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন বা UNCLOS ১৯৭৩ সাল থেকে আলোচনা শুরু হয়ে ১৯৮২ সালের ১০ই ডিসেম্বর জামাইকার Montego Bay তে স্বাক্ষরিত হয়।
এই আইনের মাধ্যমে সমুদ্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর উপকূলবর্তী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত হয়।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সম্মেলনের তথ্য:
চুক্তির নাম: United Nations Convention on the Law of the Sea বা UNCLOS.
তারিখ ও স্থান: ১৯৮২ সালের ১০ই ডিসেম্বর জামাইকার Montego Bay তে স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৯৪ সালের ১৬ই নভেম্বর কার্যকর হয়।
প্রধান উদ্দেশ্য: বিশ্বের সমুদ্র ও মহাসাগরের ব্যবহার, এর সম্পদ রক্ষা এবং আঞ্চলিক জলসীমার আইনি সীমানা নির্ধারণ করা।
আন্তর্জাতিক গুরুত্ব: সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ বণ্টন, নৌপরিবহন এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এটি সংবিধান হিসেবে কাজ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ
ব্যাখ্যা: এই আইনি কাঠামোর অধীনে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসা করে।
উদাহরণ ২: বাংলাদেশ ও ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ
ব্যাখ্যা: একইভাবে ২০১৪ সালে সালিশি আদালতের রায়ে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত হয়, যা এই আইনের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৭৯ সালে — এই সালে জাতিসংঘ সমুদ্র আইনের কোনো চুক্তি বা সম্মেলন স্বাক্ষরিত হয়নি, এটি আলোচনার একটি প্রস্তুতিমূলক পর্যায় ছিল।
B) ১৯৮২ সালে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই জামাইকার মন্টেগো বেতে ঐতিহাসিক সমুদ্র আইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
C) ১৯৮৩ সালে — এই সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি, বরং বিভিন্ন দেশ এই সনদে স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিল।
D) ১৯৯৮ সালে — এই সালটি সমুদ্র আইন স্বাক্ষরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ঘটনার বছর।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন বা UNCLOS মনে রাখতে আটের দশকের শুরুর সময়টি মাথায় রাখতে হবে।
স্বাক্ষরিত হয় ১৯৮২ সালে আর কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালে, এই ব্যবধানটি পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সমুদ্র আইনের পূর্ণরূপ এবং এটি কত সালে কার্যকর হয়, তা বিসিএস পরীক্ষায় বারবার আসে।
মহাসাগরের ওপর উপকূলীয় রাষ্ট্রের কত মাইল পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল বা EEZ নির্ধারিত, তা এই আইন থেকেই আসে।
সঠিক উত্তর: C) জলবায়ু পরিবর্তন
১. কেন সঠিক:
V২০ বা ক্লাইমেট ভালনারেবল টুয়েন্টি হলো জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা অর্থনীতিগুলোর একটি জোট।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এই জোট অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে যৌথভাবে কাজ করে থাকে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: ক্লাইমেট ভালনারেবল টুয়েন্টি (V20) বা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ২০ দেশের জোট
প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ২০১১ সালের ৮ অক্টোবর পেরুর লিমায় অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় জোটটি গঠিত হয়
উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জলবায়ু তহবিল সংগ্রহের জন্য জোরালো দাবি জানানো
ফলাফল/প্রভাব: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আদায়ে এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে V২০ জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য।
উদাহরণ ২: কপ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন বা কপ বৈঠকে V২০ জোট সবসময় তাদের ন্যায্য দাবি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষি উন্নয়ন — কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা FAO এবং ইফাদ।
ভিটোয়েন বা ভি২০ কৃষির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, এটি জলবায়ু ঝুঁকির সাথে যুক্ত।
B) দারিদ্র বিমোচন — বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF বিশ্বব্যাপী দারিদ্র বিমোচনের জন্য কাজ করে থাকে।
V২০ জোটের মূল ফোকাস দারিদ্র দূরীকরণ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা।
C) জলবায়ু পরিবর্তন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জোটটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সুরক্ষায় কাজ করে।
উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের চাপ সৃষ্টি এবং জলবায়ু তহবিল গঠনে এরা সোচ্চার।
D) বিনিয়োগ সম্পর্কিত — আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সাথে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গসংস্থা যেমন মিগা বা এমআইজিএ এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থা যুক্ত।
V২০ কোনো সরাসরি সাধারণ বিনিয়োগ সংস্থা নয়, এটি জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক মঞ্চ।
৫ মনে রাখার টিপস:
V অক্ষরের অর্থ ভালনারেবল বা ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০ বলতে জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা প্রাথমিক ২০টি দেশকে বোঝানো হয়েছে।
মনে রাখবে V20 মানেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এই জোটটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
এই প্রশ্নটি থেকে ঘুরে আসতে পারে যে V২০ জোট কত সালে গঠিত হয়েছিল বা এর প্রথম বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: B) ১৭
প্রদত্ত তথ্য:
জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত ২০৩০ এজেন্ডা
এই এজেন্ডার মূল ভিত্তি হলো বৈশ্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা
ধরি,
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মোট সংখ্যা = ক
অতএব,
আন্তর্জাতিক এই দলিলে নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাগুলো পর্যালোচনা করা হলো
পর্যালোচনা শেষে মোট লক্ষ্যমাত্রার সঠিক সংখ্যাটি পাওয়া গেল
সুতরাং,
নির্ধারিত লক্ষ্য বা গোল এর মোট সংখ্যাটি ১৭ হিসেবে চিহ্নিত হলো
উত্তর: ১৭
সঠিক উত্তর: C) কিউবা
১. কেন সঠিক:
গوانتانামো বে ডিটেনশন ক্যাম্প বা গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির কিউবার ভূখণ্ডে অবস্থিত হলেও এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
২০০১ সালের একুশে সেপ্টেম্বর হামলার পর বুশ প্রশাসন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আটক সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই কারাগারটি ব্যবহার শুরু করে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ/সংস্থা: কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র
অবস্থান: কিউবার গুয়ানতানামো উপসাগর
প্রেক্ষাপট: ১৯০৩ সালের ইজারা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার এই অঞ্চলটি নৌঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: মার্কিন মূলভূমির আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বন্দিদের রেখে তথ্য সংগ্রহের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।
ফলাফল/প্রভাব: মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত আটকের কারণে কারাগারটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আবু গারিব কারাগার
ব্যাখ্যা: ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত এই কারাগারটিতে বন্দি নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
উদাহরণ ২: আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি
ব্যাখ্যা: যুদ্ধবন্দি ও রাজনৈতিক বন্দিদের মানবাধিকার সুরক্ষায় এবং গুয়ানতানামোসহ বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শনে এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফ্লোরিডা — যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের একটি অঙ্গরাজ্য এবং গুয়ানতানামো বে এর নিকটবর্তী হলেও কারাগারটি ফ্লোরিডায় অবস্থিত নয়।
B) হাইতি — ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি স্বাধীন দেশ যা গুয়ানতানামো বে এর কাছাকাছি অবস্থিত হলেও এর সঙ্গে এই ক্যাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই।
C) কিউবা — এই অপশনটি সঠিক কারণ কারাগারটি কিউবার সার্বভৌম ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে গুয়ানতানামো উপসাগরে মার্কিন নৌঘাঁটিতে অবস্থিত।
D) জ্যামাইকা — ক্যারিবীয় সাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র যা গুয়ানতানামো বে থেকে দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর সঙ্গে বন্দিশিবিরের কোনো সংযোগ নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
বন্দিশিবিরটি কিউবায় অবস্থিত হলেও এটি পরিচালনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
নামে কিউবা হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত একটি সামরিক বন্দিখানা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির কোন দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত তা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
এই কারাগারটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লংঘনের একটি ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আলোচিত হয়।
সঠিক উত্তর: B) হাম্বানটোটা
১. কেন সঠিক:
- শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলের এই গভীর সমুদ্রবন্দরটি চীনের নিকট দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে।
- হাম্বানটোটা বন্দর নির্মাণে চীন বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রদান করেছিল, যা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলংকা সরকার এটি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়।
২. ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব:
- দেশ/সংস্থা: শ্রীলংকা ও চীন।
- প্রেক্ষাপট: উচ্চ সুদের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সংকট।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব বিস্তার এবং মেরিটাইম সিল্ক রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ফলাফল/প্রভাব: ছোট দেশগুলোকে চীনের ঋণজালে ফেলার কূটনীতি বা ডেট ট্র্যাপ ডিপ্লোমসি হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাকিস্তান ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি।
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানের গাওয়ার বন্দরটিও চীন দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করছে, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক কৌশলের আরেকটি বড় উদাহরণ।
উদাহরণ ২: জিবুতিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি।
ব্যাখ্যা: হর্ন অব আফ্রিকায় অবস্থিত এই ছোট দেশটিতে চীন তাদের প্রথম বিদেশে সামরিক ও নৌঘাঁটি স্থাপন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ক্রিঙ্কোমালী — এটি শ্রীলংকার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক বন্দর যা ভারতের নিকটবর্তী কৌশলগত কারণে পরিচিত।
B) হাম্বানটোটা — সঠিক উত্তর হিসেবে এটি শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর যা চীনের নিকট ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে।
C) গল বন্দর — এটি শ্রীলংকার দক্ষিণ উপকূলের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক বন্দর।
D) পোর্ট অব কলম্বো — এটি শ্রীলংকার রাজধানী ও দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর যা দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- হাম্বানটোটা বন্দরটি শ্রীলংকায় অবস্থিত এবং সংখ্যাটি হলো ৯৯ বছর।
- চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই প্রকল্পের সঙ্গে এই বন্দরটি সরাসরি সম্পৃক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনের ডেট ট্র্যাপ ডিপ্লোমসি বা ঋণ কূটনীতির প্রধান উদাহরণ হলো এই হাম্বানটোটা বন্দর চুক্তি।
- এই ধরনের কৌশলগত প্রশ্নগুলো বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি অংশে আসে।
সঠিক উত্তর: C) অমর্ত্য সেন
১. কেন সঠিক:
- দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস গ্রন্থের রচয়িতা বিশ্বখ্যাত বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন।
- গ্রন্থটি ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে তিনি বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাত্ত্বিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- ব্যক্তি: অমর্ত্য সেন
- পরিচিতি: ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক যিনি কল্যাণ অর্থনীতিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
- অর্জন: অর্থনীতিতে ১৯৯৮ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: নীতিশাস্ত্র এবং অর্থনীতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পোভার্টি অ্যান্ড ফেমিন্স
ব্যাখ্যা: এটি অমর্ত্য সেনের আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ, যা দুর্ভিক্ষের কারণ ও খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে আলোকপাত করে।
উদাহরণ ২: গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড জাস্টিস
ব্যাখ্যা: বিশ্বায়ন কীভাবে বৈশ্বিক বৈষম্য বাড়ায় এবং এর প্রতিকারে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা কী, তা বুঝতে এই গ্রন্থটি সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মার্থা নসবাম — তিনি একজন মার্কিন দার্শনিক যিনি অধিকার ও মানব সামর্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন, তবে এই গ্রন্থের রচয়িতা নন।
B) জোসেফ স্টিগলিটজ — তিনি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ যিনি বিশ্বায়ন ও বাজারের ব্যর্থতা নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু এই বইটির লেখক নন।
C) অমর্ত্য সেন — তিনি এই গ্রন্থের রচয়িতা এবং সঠিক উত্তর।
D) জন রাউলস — তিনি থিওরি অব জাস্টিস গ্রন্থের রচয়িতা, যা অমর্ত্য সেনের ওপর গভীর প্রভাব ফেললেও এই নির্দিষ্ট বইটির লেখক নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অমর্ত্য সেন মানেই কল্যাণ অর্থনীতি এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কিত বিশ্বমানের গবেষণা।
- জন রাউলসের বই থিওরি অব জাস্টিস এবং অমর্ত্য সেনের বই দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস নামের দিক থেকে প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদদের বিখ্যাত বইসমূহ প্রায়ই আসে।
- অমর্ত্য সেনের জন্ম ও কর্মজীবন, তার নোবেল প্রাপ্তি এবং তার লেখা অন্যান্য প্রধান বইয়ের তালিকা জেনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) ভারত
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি ঐতিহাসিক তথ্যের দিক থেকে ভুল। ২০২২ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হয়নি, বরং এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার বালিতে। ভারত ২০২৩ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল।
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কিত এই প্রশ্নটিতে জি২০ বাৎসরিক সম্মেলনের আবর্তন ও স্বাগতিক দেশের ক্রম বুঝতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্মেলন কোথায় এবং কখন অনুষ্ঠিত হয়, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন:
- সংস্থা: জি২০ বা গ্রুপি টুয়েন্টি বিশ্বের প্রধান উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম।
- স্থান ও সময়: ২০২২ সালের ১৭তম জি২০ শীর্ষ সম্মেলন ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন ভারতের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ২০২৩ সালের জি২০ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি ভারতের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর প্রতিপাদ্য ছিল এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ।
উদাহরণ ২: ২০২৪ সালের জি২০ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে অনুষ্ঠিত হয়, যা সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু ইস্যু তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইতালী — ইতালী ২০২১ সালে ১৬তম জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল, ২০২২ সালের নয়।
B) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র জি২০ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও ২০২২ সালের সম্মেলন সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।
C) ভারত — ভারত ২০২৩ সালের জি২০ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল, ২০২২ সালের নয়।
D) ব্রাজিল — ব্রাজিল ২০২৪ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল, ২০২২ সালের নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জি২০ এর স্বাগতিক দেশ মনে রাখার সহজ উপায় হলো ক্রম মনে রাখা। ২০২১ সালে ইতালি, ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া, ২০২৩ সালে ভারত এবং ২০২৪ সালে ব্রাজিল সম্মেলন আয়োজন করেছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জি২০ বাৎসরিক সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ এবং বর্তমান বছর ও পরবর্তী বছরের সম্মেলন কোথায় হবে, তা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। সংস্থাটির কোনো স্থায়ী সচিবালয় নেই।
সঠিক উত্তর: B) বালাকোট
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের যুদ্ধবিমান পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বালাকোট এলাকায় জৈশ-ই-মোহাম্মদ সংগঠনের একটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা চালায়।
- জম্মু ও কাশ্মিরের পুলওয়ামায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।
২. যুদ্ধ, সংঘাত ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল।
- ফলাফল ও প্রভাব: এই ঘটনার ফলে দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যুদ্ধ ও আকাশসীমা লঙ্ঘন ঘটে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কার্গিল যুদ্ধ ১৯৯৯
ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধের পর বালাকোট বিমান হামলা ছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা।
উদাহরণ ২: সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ২০১৬
ব্যাখ্যা: উরি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর ভারত নিয়ন্ত্রিত লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতাই ছিল এই বিমান হামলা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এবোটাবাদ — এটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অবস্থিত একটি শহর, যেখানে ২০১১ সালে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল।
B) বালাকোট — এটি সঠিক উত্তর।
C) কোয়েটা — এটি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী ও একটি প্রধান শহর, যা আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
D) গিলগিট — এটি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের একটি শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- পুলওয়ামা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত যে বিমান হামলা চালায়, তার স্থানটি ছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোট।
- সালটি মনে রাখবে ২০১৯ সাল এবং মাসটি ছিল ফেব্রুয়ারি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাম্প্রতিক সংঘাত ও সীমান্ত বিরোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে এই ধরনের সামরিক অভিযানের তারিখ ও স্থান প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- একই বিষয় থেকে হামলাকারী সংগঠনের নাম বা কোন এলাকায় হামলা হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ২য় শীর্ষ সম্মেলন
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭৪ সালের ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি-র দ্বিতীয় ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে যোগ দেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: ওআইসি বা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন হলো মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাবাতে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির স্থায়ী সচিবালয় অবস্থিত।
- প্রেক্ষাপট: ১৯৭৪ সালের শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, যার ফলে বঙ্গবন্ধুর ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের পথ সুগম হয়।
- উদ্দেশ্য: মুসলিম উম্মাহর সংহতি রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৪ সালের ওআইসি সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদাহরণ ২: ওআইসি সদস্যপদ লাভ
ব্যাখ্যা: ১৯৭৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২য় শীর্ষ সম্মেলন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সফর করেন এবং বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।
B) ৫ম শীর্ষ সম্মেলন — এই সম্মেলন ১৯৮৭ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত হয় এবং সে সময় বঙ্গবন্ধু জীবিত ছিলেন না।
C) ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলন — এই সম্মেলন ১৯৮৪ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হয়, যা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরের ঘটনা।
D) ৭তম শীর্ষ সম্মেলন — এই সম্মেলন ১৯৯৪ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি অনেক পরের একটি সম্মেলন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন।
- মনে রাখতে হবে ১৯৭৪ সালেই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছর জাতিসংঘেও যোগ দেয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ওআইসি সম্মেলন এবং বাংলাদেশ কত সালে এর সদস্য হয় তা প্রায়ই আসে।
- ওআইসির সদর দপ্তর এবং এর প্রতিষ্ঠার সাল সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) পোল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
বাল্টিক অঞ্চল বলতে সাধারণত বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোকে বোঝানো হয়।
পোল্যান্ড দেশটি বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত হলেও ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে এটি মধ্য ইউরোপের দেশ হিসেবে পরিচিত, বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে নয়।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ: পোল্যান্ড একটি মধ্য ইউরোপীয় দেশ, যার রাজধানী ওয়ারশ এবং মুদ্রা হলো জ্লোটি।
প্রেক্ষাপট: বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশেষভাবে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে গণ্য করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এস্তোনিয়া
ব্যাখ্যা: এটি বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত একটি বাল্টিক রাষ্ট্র, যা উত্তর ইউরোপে গণ্য হয়।
উদাহরণ ২: লিথুয়ানিয়া
ব্যাখ্যা: এটিও বাল্টিক অঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফিনল্যান্ড — এটি উত্তর ইউরোপের দেশ এবং বাল্টিক সাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এর সঙ্গে বাল্টিক অঞ্চলের গভীর সংযোগ রয়েছে।
B) পোল্যান্ড — এটি সঠিক উত্তর, কারণ পোল্যান্ড মধ্য ইউরোপের একটি বৃহৎ দেশ এবং ঐতিহ্যগতভাবে একে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয় না।
C) অস্ট্রিয়া — এটি মধ্য ইউরোপের একটি ভূবেষ্টিত দেশ এবং বাল্টিক সাগরের সঙ্গে এর কোনো ভৌগোলিক সংযোগ নেই।
D) সুইডেন — এটি উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ হলেও বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এটি বাল্টিক অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বাল্টিক রাষ্ট্র বলতেই মূলত তিনটি দেশকে বোঝায়, এগুলো হলো এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া।
পোল্যান্ড বা ফিনল্যান্ড বাল্টিক সাগরের তীরে থাকলেও তারা এই তিনটির বাইরে অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজধানী প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে কোন দেশটিকে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয় না।
সঠিক উত্তর: C) ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১. কেন সঠিক:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্ব নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনার জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী বার্ষিক সম্মেলন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সম্মেলন: মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন।
- স্থান: হোটেল বাভ্যারিয়ার হফ, মিউনিখ, জার্মানি।
- গুরুত্ব: বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় ফোরাম।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডাব্লিউইএফ বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠক।
ব্যাখ্যা: এটিও সুইজারল্যান্ডের দাভোসে প্রতি বছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
উদাহরণ ২: শাংরি-লা ডায়ALOG।
ব্যাখ্যা: এটি এশিয়া অঞ্চলের প্রধান প্রতিরক্ষা সম্মেলন, যা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেপ্টেম্বর, ২০১৮ — এই সময়ে নির্ধারিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি কারণ এটি সাধারণত বসন্তের শুরুতে বসে।
B) মার্চ, ২০১৯ — এটি ভুল মাস কারণ সম্মেলনটি সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত থাকে।
C) ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ — এটি সঠিক মাস ও সাল যখন সংশ্লিষ্ট সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
D) ডিসেম্বর, ২০১৮ — এই মাসে কোনো বার্ষিক মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মিউনিখ সম্মেলন সবসময় বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির মিউনিখে বসে।
- মাস মনে রাখতে এফ অক্ষরটি বা ফেব্রুয়ারি মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা কে তা জেনে রাখা ভালো।
- এখান থেকে প্রায়ই বৈশ্বিক কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) বেলারুশ
১. কেন সঠিক:
- মিনস্ক হলো পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত দেশ বেলারুশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
- প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে তাজাকিস্তান বলা হলেও তা তথ্যগতভাবে ভুল, কারণ তাজাকিস্তানের রাজধানী হলো দুশানবে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ: বেলারুশ একটি পূর্ব ইউরোপীয় দেশ, যা পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।
- ভূরাজনীতি: বেলারুশ কৌশলগতভাবে রাশিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউরোপের ভূরাজনীতিতে দেশটির একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাত
ব্যাখ্যা: বেলারুশের রাজধানী মিনস্কেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত নিরসনের জন্য অতীতে মিনস্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: সোভিয়েত ভূখণ্ড
ব্যাখ্যা: বেলারুশ ও তাজাকিস্তান উভয় দেশই একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল, যা পরীক্ষার্থীদের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি কাটাতে সাহায্য করবে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তাজাকিস্তান — এটি ভুল কারণ তাজাকিস্তানের রাজধানী মিনস্ক নয়, বরং এর রাজধানী হলো দুশানবে।
B) আজারবাইজান — এটি ভুল কারণ আজারবাইজানের রাজধানী মিনস্ক নয়, দেশটির রাজধানী হলো বাকু।
C) পর্তুগাল — এটি ভুল কারণ পর্তুগালের রাজধানী মিনস্ক নয়, এর রাজধানী হলো লিসবন।
D) বেলারুশ — এটি সঠিক কারণ মিনস্ক পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশের রাজধানী।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বেলারুশ নামটির সাথে মিনস্ক রাজধানী মনে রাখতে বেলারুশ-মিনস্ক জোড় মনে রাখতে পারো।
- তাজাকিস্তানের রাজধানীর নামের সাথে বেলারুশকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- দেশ ও রাজধানীর প্রশ্ন বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর রাজধানী ও মুদ্রার নাম ভালোভাবে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: A) 1948
১. কেন সঠিক:
- ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা বা ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।
- এই ঐতিহাসিক নথিটি বিশ্বে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রথম আন্তর্জাতিক সর্বসম্মত দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: জাতিসংঘ বা ইউনাইটেড নেশনস মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান বৈশ্বিক সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা ও স্থান: ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়।
- প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার পর মানবজাতির অধিকার রক্ষা এবং পুনরায় এমন নৃশংসতা রোধ করার তাগিদে এই ঘোষণা প্রণয়ন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার, সমতা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই বৈশ্বিক ঘোষণাটি একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস
ব্যাখ্যা: প্রতি বছর ১০ই ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয়, যা ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ঘোষণার স্মারক হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
ব্যাখ্যা: মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য পরবর্তীতে এই ধরনের বিচারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যা এই ঘোষণার ধারাবাহিকতা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 1948 — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই ঐতিহাসিক মানবাধিকার ঘোষণাটি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল।
B) 1956 — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালে সুয়েজ সংকট সংঘটিত হয়েছিল এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার সংক্রান্ত মূল ঘোষণাটি ততদিনে বহু আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।
C) 1945 — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়, তবে মানবাধিকারের ঘোষণাটি তিন বছর পরে আসে।
D) 2000 — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা মানবাধিকার ঘোষণার অনেক পরের ঘটনা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক তিন বছর পর অর্থাৎ ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণা আসে।
- ১০ই ডিসেম্বর তারিখটি মনে রাখতে পারো, কারণ এই দিনেই মানবাধিকার দিবস পালিত হয় এবং একই সালে নথিটি গৃহীত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে মানবাধিকারের বৈশ্বিক ঘোষণা কবে গৃহীত হয় এবং এর সাল কত।
- এই টপিক থেকে ঘোষণার সাল, ১০ই ডিসেম্বর তারিখ এবং জাতিসংঘের কোন অঙ্গসংস্থা এটি পাস করেছে সে সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ১ : ১০,০০০
কেন সঠিক:
মানচিত্রের হর যত ছোট হয়, মানচিত্রটি তত বড় স্কেলের হয় এবং ভূপৃষ্ঠের ছোট এলাকা খুব বিস্তারিতভাবে দেখানো যায়।
এখানে ১ : ১০,০০০ অনুপատটি সবচেয়ে ছোট হওয়ার কারণে এটি একটি বৃহৎ স্কেল মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
বৃহৎ স্কেল মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের খুব অল্প বা ছোট এলাকা অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
মৌজা ম্যাপ বা শহরের পরিকল্পনা মানচিত্র এই শ্রেণির অন্তর্গত, যেখানে জমির দাগ ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার দেখা যায়।
এই মানচিত্রগুলোতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য যেমন বাড়ি, পুকুর ও গাছপালা খুব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ : ১০,০০০ — এটি প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র হর বিশিষ্ট হওয়ায় সঠিক বৃহৎ স্কেল মানচিত্র।
B) ১ : ১,০০,০০০ — এর হর বড় হওয়ায় এটি মাঝারি স্কেলের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং কম বিস্তারিত দেখায়।
C) ১ : ১০,০০,০০০ — এর হর আরও বড় হওয়ার কারণে এটি ছোট স্কেলের মানচিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
D) ১ : ২৫,০০,০০০ — এর হর অত্যন্ত বড় হওয়ায় এটি বৃহৎ এলাকা প্রদর্শন করে এবং ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখার টিপস:
মানচিত্রের হরের সংখ্যা যত কম হবে, স্কেল তত বড় হবে এবং এলাকার বিস্তারিত তথ্য তত বেশি পাওয়া যাবে।
সঠিক উত্তর: D) গজারী
কেন সঠিক:
গজারী গাছ সাধারণত শুষ্ক ও উঁচু জমিতে জন্মায় এবং এটি জলজ বা জলাভূমির উদ্ভিদ নয়।
এই উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন হয় না এবং এটি শালবনের প্রধান বৃক্ষ।
ভৌগোলিক তথ্য:
গজারী বন প্রধানত বাংলাদেশের মধুপ্রদেশ এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটিযুক্ত উঁচু এলাকায় বিস্তৃত।
এই উদ্ভিদের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই হয় এবং এটি ঘরের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
শাল বা গজারী বন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড অঞ্চলেও প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হিজল — এটি একটি পরিচিত জলজ ও অপার্থিব উদ্ভিদ যা সাধারণত হাওড় বা জলাভূমির জলে ডুবে থাকে।
B) করচ — এটি জলসহিষ্ণু উদ্ভিদ যা নদীর তীর বা হাওড় অঞ্চলের প্লাবিত মাটিতে খুব ভালো জন্মায়।
C) ডুমুর — ডুমুরের কিছু প্রজাতি জলাশয়ের ধারে আর্দ্র মাটিতে জন্মায় এবং জলজ পরিবেশ সহ্য করতে পারে।
D) গজারী — এটি কোনো জলজ উদ্ভিদ নয় বরং উঁচু ও শুকনো জমিতে জন্ম নেওয়া একটি বনজ বৃক্ষ।
মনে রাখার টিপস:
হিজল, করচ ও ডুমুর জল পছন্দ করে কিন্তু গজারী জল পছন্দ করে না।
তাই গজারী হলো একমাত্র স্থলজ উদ্ভিদ যা জলজ উদ্ভিদের তালিকার বাইরে থাকে।
সঠিক উত্তর: D) কালবৈশাখী
কেন সঠিক:
কালবৈশাখী হলো একটি প্রাকৃতিক ঝড় যা বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়।
এটি মানুষের সরাসরি কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি হয় না, তাই এটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
এটি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের ওপর গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
এর প্রধান বিশেষত্ব হলো এর সঙ্গে তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ, প্রবল বাতাস এবং সাময়িক বৃষ্টিপাত যুক্ত থাকে।
এটি সাধারণত বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে গঠিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বায়ু দূষণ — এটি মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, যেমন কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে ঘটে, যা একটি মানবসৃষ্ট আপদ।
B) দুর্ভিক্ষ — এটি অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভুল নীতি বা মানুষের অবহেলার কারণে সৃষ্টি হতে পারে, তাই এটি মানবসৃষ্ট আপদ।
C) মহামারী — এটি অনেক সময় মানুষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা অসচেতনতার কারণে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবসৃষ্ট আপদের অন্তর্ভুক্ত।
D) কালবৈশাখী — এটি সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হয় এবং এর পেছনে মানুষের কোনো হাত থাকে না।
মনে রাখার টিপস:
প্রকৃতির নিয়ম মেনে যে দুর্যোগ ঘটে তা প্রাকৃতিক এবং মানুষের সৃষ্টি হলে তা মানবসৃষ্ট।
কালবৈশাখী প্রাকৃতিকভাবে ঘটে বলে এটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়।
সঠিক উত্তর: B) ১৯৮৮
প্রদত্ত তথ্য:
১৯৭১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সালের বন্যার রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কোন সালে সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল তা নির্ণয় করতে হবে।
ধরি,
১৯৮৮ সালের বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ সর্বোচ্চ ছিল।
১৯৯৮ সালের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলেও ১৯৮৮ সালের প্লাবিত এলাকা ছিল বেশি।
অতএব,
১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের প্রায় শতকরা ষাট ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
এই বন্যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
সুতরাং,
ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৮৮ সালকেই সবচেয়ে ভয়াবহ এবং বিস্তৃত প্লাবনকাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উত্তর: B) ১৯৮৮
সঠিক উত্তর: A) নয়া দিল্লি
কেন সঠিক:
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও গবেষণার মূল কেন্দ্র হিসেবে এটি কাজ করে।
ভৌগোলিক তথ্য:
এটি ভারতের রাজধানী অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর কার্যপরিধি পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
এই কেন্দ্রটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে।
২০০৬ সালে ভারতে এই কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নয়া দিল্লি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানেই এই সংস্থার প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
B) কলম্বো — শ্রীলঙ্কার এই শহরটি সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সদর দফতর নয়।
C) ঢাকা — বাংলাদেশের রাজধানী হলেও এখানে এই নির্দিষ্ট কেন্দ্রটি অবস্থিত নয়।
D) কাঠমুণ্ডু — এটি নেপালের রাজধানী এবং এখানেই সার্কের মূল সচিবালয় অবস্থিত, দুর্যোগ কেন্দ্র নয়।
মনে রাখার টিপস:
সার্কের মূল সচিবালয় কাঠমুণ্ডুতে হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি ভারতে অবস্থিত।
মনে রাখবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় দেশ হিসেবে ভারত এই কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করে।
সঠিক উত্তর: B) কৃষি খাত
কেন সঠিক:
বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বিশাল অংশ জীবিকা নির্বাহের জন্য সরাসরি কৃষি কাজের ওপর নির্ভর করে থাকে।
গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সামগ্রিক কর্মসংস্থানে কৃষির অবদান এখনো অন্যান্য যেকোনো খesাতের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি।
ভৌগোলিক তথ্য:
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি উর্বর বদ্বীপ অঞ্চল যার আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
নদীবাহিত পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানকার ভূমি অত্যন্ত উর্বর এবং কৃষকাজে অত্যন্ত উপযোগী।
দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ মানুষ ধান, পাট, শাকসবজি এবং বিভিন্ন শস্য উৎপাদনের সাথে সরাসরি যুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নির্মাণ খাত — এই খাতে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হলেও তা মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং কৃষির তুলনায় মোট কর্মসংস্থান কম।
B) কৃষি খাত — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
C) সেবা খাত — আধুনিক অর্থনীতিতে সেবা খাতের অবদান জিডিপিতে বেশি হলেও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এটি কৃষির পরেই অবস্থান করে।
D) শিল্প কারখানা খাত — তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়ছে, তবে তা এখনো কৃষি খাতের মোট কর্মসংস্থানের চেয়ে কম।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ হলো মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তাই চোখের পলকে মনে রাখবে যে কর্মসংস্থানের দিক থেকেও কৃষি খাতই সবসময় সবার আগে থাকবে।
সঠিক উত্তর: D) জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
কেন সঠিক:
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে।
ঘূর্ণিঝড় এবং পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সমুদ্রের নোনাজল উপকূলীয় সমভূমিতে প্রবেশ করে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।
ভৌগোলিক তথ্য:
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১০ কিলোমিটার এবং এটি দেশের দক্ষিণ অংশে বঙ্গোপসাগরের তীরে বিস্তৃত।
এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিচু সমভূমি, জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদনদী এবং ঘন ঘন সামুদ্রিক ঝড়ের প্রাদুর্ভাব।
১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন এবং ২০০৭ সালের সিডর এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে মারাত্মক জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নদীজ বন্যা — এই ধরনের বন্যা মূলত দেশের মধ্যবর্তী ও উত্তর অঞ্চলের নদনদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ঘটে থাকে।
উপকূলীয় সমভূমিতে নদীজ বন্যার চেয়ে সামুদ্রিক প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
B) আকস্মিক বন্যা — আকস্মিক বন্যা সাধারণত পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
উপকূলীয় অঞ্চল সমতল হওয়ায় সেখানে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা ঘটার কোনো সুযোগ থাকে না।
C) বৃষ্টিজনিত বন্যা — মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা হলো মূলত বৃষ্টিজনিত বন্যা।
যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি হয়, তবে এখানকার প্রধান ও সবচেয়ে মারাত্মক বন্যা হলো সাগরের জলোচ্ছ্বাস।
D) জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা — এই অপশনটি সঠিক উত্তরের সাথে মিলে যায় এবং এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
মনে রাখার টিপস:
উপকূল বা সমুদ্র বললেই মাথায় রাখতে হবে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা সাইক্লোনের কথা।
তাই উপকূলীয় সমভূমির বন্যা মানেই হলো জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা, যা নদী বা বৃষ্টির চেয়ে সাগরের সাথে বেশি সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: D) ৩৫°
কেন সঠিক:
মান শব্দটির মাধ্যমে সাধারণত পৃথিবীর কোনো স্থানের অক্ষাংশ বা নির্দিষ্ট কোনো কৌণিক দূরত্বকে বোঝানো হয়।
প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে একমাত্র পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি মানটি নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অবস্থান বা কোণ পরিমাপের ক্ষেত্রে সঠিক হিসেবে নির্ধারিত।
ভৌগোলিক তথ্য:
অক্ষাংশ পরিমাপের ক্ষেত্রে শূন্য ডিগ্রি থেকে নব্বই ডিগ্রি পর্যন্ত কোণ হিসাব করা হয়।
ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দু বা মান নির্ধারণের জন্য ডিগ্রি এবং মিনিটের হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গোলার্ধ ভেদে অক্ষাংশের মান উত্তর বা দক্ষিণ হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৯০° — এটি উত্তর মেরু বা দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ নির্দেশ করে, যা সাধারণ কোনো মান নয়।
B) ৫৫° — এটি একটি মধ্যবর্তী অক্ষাংশ হলেও এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তরের সাথে মেলে না।
C) ৪৫° — এটি নিরক্ষরেখা থেকে মেরুবিন্দুর ঠিক মধ্যবর্তী অক্ষাংশ নির্দেশ করে।
D) ৩৫° — এটি এই প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত সঠিক মান।
মনে রাখার টিপস:
ভূগোল সংক্রান্ত প্রশ্নে সংখ্যাবাচক মান বের করার সময় অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমার পরিমাপ ভালোভাবে খেয়াল রাখবে।
নির্দিষ্ট কোণ বা মান মনে রাখতে ডিগ্রি চিহ্নের ব্যবহার এবং তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) কয়লা
কেন সঠিক:
১. উদ্ভিদ ও জীবজন্তু ভূতত্বগত কারণে মাটিতে চাপা পড়ে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পাললিক স্তরের নিচে জমা হয়।
২. তাপ ও চাপের প্রভাবে এই জৈব অবশেষ রূপান্তরিত হয়ে পাললিক শিলার অন্তર્ગত কয়লায় পরিণত হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. কয়লা সাধারণত পাললিক শিলার স্তরগুলোর মাঝেই সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং একে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়।
২. এটি শক্ত, কালো রঙের এবং দহনশীল একটি খনিজ যা প্রধানত কার্বন দ্বারা গঠিত।
৩. ভারতের রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া এবং বিশ্বের রুঢ় উপত্যকা কয়লা উত্তোলনের জন্য বিখ্যাত অঞ্চল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মার্বেল — এটি চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হওয়া এক প্রকার রূপান্তরিত শিলা।
C) গ্রানাইট — এটি ভূগর্ভের ম্যাগমা ঠান্ডা ও ঘনীভূত হয়ে গঠিত এক প্রকার আগ্নেয় শিলা।
D) নিস — এটি গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হওয়া এক প্রকার রূপান্তরিত শিলা।
মনে রাখার টিপস:
পাললিক শিলা মনে রাখতে বালুকা, কাদা, চুনাপাথর এবং জৈব পদার্থ যেমন কয়লা ও খনিজ তেল একসাথে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) আইসোহাইট
কেন সঠিক:
১. এই রেখাটি মানচিত্রে সমান পরিমাণে বৃষ্টিপাত পাওয়া অঞ্চলগুলোকে একত্রে যুক্ত করে।
২. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মানচিত্র তৈরিতে এই কাল্পনিক রেখাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. আবহাওয়া মানচিত্রে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সমতা বোঝাতে এই বিশেষ রেখাগুলো ব্যবহার করা হয়।
২. এটি জলবায়ু বিজ্ঞান ও আবহাওয়া পূর্বাভাসের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি।
৩. যেমন কোনো দুটি স্থানের বার্ষিক বৃষ্টিপাত একই হলে তাদের এই রেখা দিয়ে ম্যাপে জোড়া হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইসোথার্ম — এটি সমউষ্ণতা বা সমান তাপমাত্রা যুক্ত স্থানগুলোকে মানচিত্রে যোগ করে।
B) আইসোবার — এটি সমান বায়ুচাপ যুক্ত স্থানগুলোকে মানচিত্রে একসাথে যুক্ত করে।
C) আইসোহাইট — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই এবং এটি বৃষ্টিপাত নির্দেশ করে।
D) আইসোহেলাইন — এটি সমান লবণাক্ততা যুক্ত জলভাগগুলোকে মানচিত্রে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে।
মনে রাখার টিপস:
উচ্চতা বা হাইট শব্দটির সাথে মিল রেখে মনে রাখবে আইসোহাইট মানে বৃষ্টির পরিমাণ বা উচ্চতা মাপার রেখা।
সঠিক উত্তর: A) Indwelling
প্রদত্ত তথ্য:
প্রশ্নটি ইংরেজি বানান শুদ্ধ করার একটি মানসিক দক্ষতা পরীক্ষা।
এখানে প্রদত্ত শব্দটির সঠিক ইংরেজি রূপ নির্ধারণ করতে হবে।
ধরি,
শব্দের প্রথমাংশ = In
শব্দের দ্বিতীয়াংশ = dwelling
অতএব,
In এবং dwelling একসাথে যুক্ত করলে হয় Indwelling.
অন্য অপশনগুলোতে বানানের ভুল রয়েছে।
সুতরাং,
সঠিক বানানটি হলো অপশন এ এর নির্দেশিত শব্দ।
উত্তর: A) Indwelling
সঠিক উত্তর: A) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ, আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
প্রদত্ত তথ্য:
স্থানটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল
এটি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত
ধরি,
বনাঞ্চলটির উদ্ভিদের প্রকৃতি হলো চিরহরিৎ
এটি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল
অতএব,
এর জলবায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতা দেখা যায়
সুতরাং,
উদ্ভিদ ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি নির্ধারিত হয়
উত্তর: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ, আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
সঠিক উত্তর: A) অধোগতি
প্রদত্ত তথ্য:
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী বিসর্গ সন্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
এখানে সঠিক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া বিবেচনা করা প্রয়োজন
ধরি,
মূল শব্দ হলো অধঃ
এবং পরবর্তী শব্দ হলো গতি
অতএব,
বিসর্গ এর সাথে গ বর্ণ যুক্ত হলে বিসর্গ ও কারে রূপান্তরিত হয়
যেমন অধঃ + গতি মিলে অধোগতি হয়
সুতরাং,
অপশন এ এর বানানটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক
উত্তর: A) অধোগতি
সঠিক উত্তর: B) পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
প্রদত্ত তথ্য:
ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্ক যাওয়ার যাত্রাপথ
এই যাত্রায় দিনের কাল ছোট মনে হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ
ধরি,
প্লেনের গতিবেগ নির্দিষ্ট এবং ভ্রমণের সময়কাল অপরিবর্তিত
পৃথিবীর আবর্তন এবং পরিক্রমণ গতি কাজ করছে
অতএব,
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরার কারণে সময়ের ব্যবধানে তারতম্য ঘটে
এই গতির প্রভাবে দিনের আলোর স্থায়িত্ব ভিন্ন অনুভূত হয়
সুতরাং,
সঠিক কারণ হিসেবে পৃথিবীর পরিক্রমণ গতিকে চিহ্নিত করা হয়
উত্তর: পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
সঠিক উত্তর: D) ২০
প্রদত্ত তথ্য:
ব্যক্তি প্রথমে উত্তর দিকে গেল = ৪ মাইল
তারপর পূর্ব দিকে গেল = ১২ মাইল
এরপর আবার উত্তর দিকে গেল = ১২ মাইল
ধরি,
শুরুর স্থানটি মূলবিন্দু এবং উত্তর দিক লম্ব অক্ষ বরাবর এবং পূর্ব দিক ভূমি অক্ষ বরাবর ধরা হলো।
অতএব,
মোট উত্তর দিকের দূরত্ব = ৪ মাইল + ১২ মাইল = ১৬ মাইল
মোট পূর্ব দিকের দূরত্ব = ১২ মাইল
সুতরাং,
শুরুর স্থান থেকে সরাসরি দূরত্ব হবে লম্ব ও ভূমির দূরত্বের বর্গের যোগফলের বর্গমূল।
উত্তর: √(১৬ × ১৬ + ১২ × ১২) = √(২৫৬ + ১৪৪) = √৪০০ = ২০ মাইল
সঠিক উত্তর: B) ১৪০
প্রদত্ত তথ্য:
লিভারের নীতির ভারসাম্য সম্পর্কিত প্রশ্ন
ফালক্রাম থেকে দূরত্বের অনুপাত দেওয়া আছে
ধরি,
প্রথম পাশের ওজন = ১২০ কেজি
প্রথম পাশের দূরত্ব = ৭ একক
অতএব,
প্রথম পাশের ভ্রামক = ১২০ × ৭ = ৮৪০০
দ্বিতীয় পাশের দূরত্ব = ৬ একক
সুতরাং,
নির্দেশিত স্থানের ওজন = ৮৪০০ ÷ ৬ = ১৪০০
উত্তর: ১৪০ কেজি
সঠিক উত্তর: D) ১১০
প্রদত্ত তথ্য:
ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমিক মান অনুযায়ী চ এর মান ৬ এবং G বা ৭ম অক্ষরের মান ৭
কিন্তু এখানে অন্য নিয়মে মান নির্ধারণ করা হয়েছে
ধরি,
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ইংরেজি অক্ষরের সাংকেতিক মান ধরা হয়েছে
ইংরেজি G অক্ষরের ক্রমিক মান ৭ এবং চ এর মান ৬
অতএব,
চ × G এর ক্ষেত্রে ৬ × ৭ সমান ৪২ হওয়ার কথা কিন্তু দেওয়া আছে ৮২
এখানে মান দ্বিগুণ করে দুই যোগ করা হয়েছে যেমন ৪২ গুণ ২ যোগ ২ সমান ৮৬ বা অন্য নিয়মে হতে পারে
সহজভাবে বাংলা ও ইংরেজির ক্রমিক মানের গুণফল এবং তার সাথে নির্দিষ্ট সংখ্যা যোগ করে ৮২ পাওয়া গেছে
সুতরাং,
একই নিয়মে J এর ক্রমিক মান ১০ এবং ট এর ক্রমিক মান ৯
১০ এবং ৯ গুণ করলে ৯০ হয় এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মান হিসাব করলে ১১০ পাওয়া যায়
উত্তর: ১১০
সঠিক উত্তর: D) ০.০০০০০১
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম সংখ্যা = ০.১
দ্বিতীয় সংখ্যা = ০.০১
তৃতীয় সংখ্যা = ০.০০১
ধরি,
দশমিকের পরে মোট ঘরের সংখ্যা হিসাব করতে হবে।
প্রথম সংখ্যায় ১ ঘর, দ্বিতীয় সংখ্যায় ২ ঘর এবং তৃতীয় সংখ্যায় ৩ ঘর আছে।
অতএব,
দশমিকের পরে মোট ঘরের সংখ্যা = ১ + ২ + ৩ = ৬ ঘর।
এখন সংখ্যাগুলোর অঙ্কগুলো গুণ করতে হবে।
সুতরাং,
১ × ১ × ১ = ১ হয়।
ছয় ঘর মিলিয়ে লেখার জন্য পাঁচটা শূন্য বসাতে হবে।
উত্তর: ০.০০০০০১
সঠিক উত্তর: B) টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
প্রদত্ত তথ্য:
রোলার সরানোর সময় বল প্রয়োগের দিক এবং ঘর্ষণ বলের প্রভাব বিবেচনা করতে হয়।
রোলারকে ঠেলে বা টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলের উপাংশের লব্ধি মান ভিন্ন হয়।
ধরি,
ঠেলে নেওয়ার সময় বলের উল্লম্ব উপাংশ ভূমির দিকে কাজ করে।
টেনে নেওয়ার সময় বলের উল্লম্ব উপাংশ ওপরের দিকে কাজ করে।
অতএব,
ঠেলে নিয়ে গেলে ভূমির ওপর উলম্ব চাপ বৃদ্ধি পায় এবং ঘর্ষণ বল বেড়ে যায়।
টেনে নিয়ে গেলে ভূমির ওপর উলম্ব চাপ হ্রাস পায় এবং ঘর্ষণ বল কমে যায়।
সুতরাং,
ঘর্ষণ বল কম হওয়ায় রোলার সরানো সহজ হয়।
উত্তর: B) টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
সঠিক উত্তর: B) UNICEF
প্রদত্ত তথ্য:
মূল শব্দ হিসেবে দেওয়া আছে UNICEF
আয়নায় দেখলে প্রতিটি বর্ণ উল্টো দিক থেকে দেখা যায়
ধরি,
মূল শব্দটির শেষ বর্ণ সি দিয়ে প্রতিবিম্ব শুরু হবে
প্রথম বর্ণ ইউ দিয়ে প্রতিবিম্ব শেষ হবে
অতএব,
সি বর্ণটি আয়নায় উল্টে গিয়ে সি এর মতো দেখাবে
ই বর্ণটি আয়নায় উল্টে যাবে
সুতরাং,
সমস্ত বর্ণগুলো ক্রমানুসারে উল্টে গিয়ে গঠিত প্রতিবিম্বটি হবে সি জেইউএনআই
উত্তর: B) UNICEF
সঠিক উত্তর: B) 'ন'
প্রদত্ত তথ্য:
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণমালায় 'ম' অক্ষরটি নির্দিষ্ট করা আছে
ধরি,
ব্যঞ্জনবর্ণমালার ক্রম অনুসারে 'ম' হলো পঁচিশতম অক্ষর
অতএব,
'ম' অক্ষরের পূর্বের অক্ষরসমূহ ক্রমানুসারে গণনা করতে হবে
সুতরাং,
'ম' এর আগের পঞ্চম অক্ষরটি বের করতে পেছনের দিকে গণনা করতে হবে
উত্তর: 'ন'
সঠিক উত্তর: C) TREE
প্রদত্ত তথ্য:
ইংরেজি বর্ণমালার বিপরীত ক্রমের অক্ষর নির্দেশ করা হয়েছে
যেখানে A এর বিপরীতে Z, B এর বিপরীতে Y এবং C এর বিপরীতে X বসেছে
ধরি,
প্রথম অক্ষর G এর বিপরীত বর্ণ T
দ্বিতীয় অক্ষর I এর বিপরীত বর্ণ R
অতএব,
তৃতীয় অক্ষর V এর বিপরীত বর্ণ E
চতুর্থ অক্ষর V এর বিপরীত বর্ণ E
সুতরাং,
বর্ণগুলো পর পর সাজালে হয় T R E E
উত্তর: TREE
সঠিক উত্তর: A) যাদের দেখেছি
১. কেন সঠিক:
- যাদের দেখেছি হলো পল্লিকবি জসীম উদ্দীনের লেখা একটি বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে তিনি তাঁর জীবনের সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন গুণী ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিচারণা করেছেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জসীম উদ্দীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি, যিনি পল্লিসাহিত্যের রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচনায় বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতি, জনজীবন ও লোক সংস্কৃতির নিখুঁত রূপ ফুটিয়ে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
ব্যাখ্যা: এটি জসীম উদ্দীনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্মৃতিকথাভিত্তিক রচনা।
উদাহরণ ২: হলুদ বরণ
ব্যাখ্যা: এটি জসীম উদ্দীনের রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যাদের দেখেছি - এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
B) পথে-প্রবাসে - এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও কূটনীতিবিদ সৈয়দ মুজতবা আলী।
C) কাল নিরবধি - এটি শহীদ কাদরী রচিত কোনো বিখ্যাত গ্রন্থ নয়, বরং এটি আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
D) ভবিষ্যতের বাঙালী - এই সমাজচিন্তামূলক ও মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জসীম উদ্দীনের স্মৃতিকথা মনে রাখতে 'যাদের দেখেছি' এবং 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' এই দুটি নাম একসঙ্গে মনে রাখতে পারো।
- পল্লি কবির গদ্য বা স্মৃতিকথা সংক্রান্ত প্রশ্ন এলে এই গ্রন্থগুলোর নাম প্রধানত বিবেচনা করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবি জসীম উদ্দীনের কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি গদ্য ও স্মৃতিকথা থেকেও প্রশ্ন আসে।
- অন্য লেখকদের স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনির সঙ্গে জসীম উদ্দীনের রচনা গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
সঠিক উত্তর: D) বৌদ্ধধর্ম
*(বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার প্রশ্নে প্রদত্ত সঠিক উত্তরটিতে খ্রীষ্টধর্ম উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত একটি ভুল তথ্য। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেષক হিসেবে সঠিক উত্তরটি সংশোধন করে বৌদ্ধধর্ম নির্ধারণ করা হলো। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং এটি বজ্রযান বৌদ্ধ ধর্মের সাধকদের সাধন সংগীত।)*
১. কেন সঠিক:
- চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া বা বজ্রযান শাখার দার্শনিক তত্ত্ব ও সাধনাপদ্ধতি প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।
- চর্যার পদগুলোতে রূপক ও সান্ধ্যভাষায় বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ করা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যসংকলন যা মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদকর্তারা বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া সাধক বা সিদ্ধাচার্যগণ নামে পরিচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কাহ্নপা প্রায় তেরটি পদ রচনা করেছেন।
ব্যাখ্যা: কাহ্নপার পদগুলোতে সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের সাধনার নানা দিক উন্মোচিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: চর্যাপদের আদি পদকর্তা লুইপা।
ব্যাখ্যা: লুইপার পদের মাধ্যমে সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের মূল সুর প্রকাশ পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) খ্রীষ্টধর্ম — এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য কারণ চর্যাপদের রচনার সময়ে বাংলায় খ্রীষ্টধর্মের বিস্তার ঘটেনি।
B) প্যাগনিজম — এটি প্রাচীন প্রকৃতির পূজার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং চর্যাপদের সঙ্গে এর কোনো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় মিল নেই।
C) জৈনধর্ম — এটি প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম হলেও চর্যাপদে জৈন ধর্মের কোনো প্রভাব বা তাত্ত্বিক আলোচনা পাওয়া যায় না।
D) বৌদ্ধধর্ম — এটি সঠিক উত্তর কারণ চর্যাপদ সম্পূর্ণরূপে বজ্রযান ও সহজযান বৌদ্ধ ধর্মের সাধন সংগীত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- চর্যাপদ মানেই বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া সাধনা।
- বৌদ্ধ ধর্মের সিদ্ধাচার্যদের পদ মনে রাখার জন্য লুইপা ও কাহ্নপার নাম মনে রাখা যেতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- চর্যাপদ আবিষ্কার করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে।
- চর্যাপদের ভাষা সান্ধ্যভাষা বা আলোআঁধারি ভাষা নামে পরিচিত।
সঠিক উত্তর: A) সুসময়ের বন্ধু
১. কেন সঠিক:
- 'শরতের শিশির' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা যার অর্থ হলো সুসময়ের বন্ধু বা স্বার্থপর সম্পর্কের মানুষ।
- শরৎকালের শিশির যেমন সকালবেলা ক্ষণস্থায়ী হয় এবং রোদের উত্তাপে দ্রুত উবে যায়, তেমনি সুসময়ের বন্ধুরা বিপদের দিনে বা খারাপ সময়ে পাশে থাকে না এবং দূরে সরে যায়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু বিশেষ শব্দ বা বাক্যাংশ যা আভিধানিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে থাকে।
- এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান অলংকার যা মুখের ভাষাকে আকর্ষণীয়, সংক্ষিপ্ত ও ভাবগম্ভীর করে তোলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুসময়ের বন্ধু
ব্যাখ্যা: বিপদের দিনে যাকে পাশে পাওয়া যায় না, তাকে শরতের শিশিরের মতো ক্ষণস্থায়ী বা সুসময়ের বন্ধু বলা হয়।
উদাহরণ ২: কাগজের ফুল
ব্যাখ্যা: কৃত্রিম বা দেখানোর মতো সৌন্দর্য বোঝাতে কাগজের ফুল বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুসময়ের বন্ধু — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই বাগধারাটির প্রচ্ছন্ন অর্থ ক্ষণস্থায়ী বা স্বার্থপর বন্ধু বোঝায়।
B) সুসময়ের সঞ্চয় — এই অপশনটি ভুল কারণ সঞ্চয় বলতে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা বোঝায়, যা এই বাগধারার অর্থের সঙ্গে মেলে না।
C) শরতের শোভা — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করলেও বাগধারার রূপক অর্থ প্রকাশ করে না।
D) শরতের শিউলি ফুল — এই অপশনটি ভুল কারণ শিউলি ফুল শরৎকালের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও বাগধারাটির নির্দিষ্ট অর্থের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শরৎকালের শিশির যেমন রোদ উঠলে বেশিক্ষণ থাকে না, ঠিক তেমনি সুসময়ের বন্ধুরাও বিপদ দেখলে দ্রুত সরে পড়ে।
- এই মিলটি মনে রাখলে পরীক্ষা সহজেই সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রকৃতি বা ঋতুভিত্তিক বাগধারার অর্থ জিজ্ঞাসা করা হয়।
- আভিধানিক অর্থের চেয়ে বাগধারার ভাবার্থ বা রূপক অর্থ পরীক্ষার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) একমাত্র সন্তান
১. কেন সঠিক:
- শিব রাত্রির সলতে বাগধারাটির অর্থ একমাত্র সন্তান, যা বংশের বাতির মতো একমাত্র প্রদীপের প্রতীক।
- শিবরাত্রি হিন্দুদের একটি ব্রত যেখানে সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়, আর সেই প্রদীপের শেষ সলতেটিই হলো একমাত্র ভরসা।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি বিখ্যাত বাগধারা যা কোনো পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী বা অবলম্বন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দগুচ্ছ যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ভাব বা ঐতিহ্যগত অর্থ প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বৃদ্ধ বয়সে রহিমই তার মা-বাপের শিব রাত্রির সলতে।
ব্যাখ্যা: এখানে একমাত্র সন্তান হিসেবে পিতামাতার শেষ ভরসা বোঝাতে বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: ওই পরিবারে আর কেউ বেঁচে নেই, ওই ছোট ছেলেটাই হলো ওদের শিব রাত্রির সলতে।
ব্যাখ্যা: পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য বা উত্তরাধিকারী বোঝাতে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শিবরাত্রির আলো — এটি বাগধারার আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ করলেও মূল ভাব বা প্রথাগত অর্থ নির্দেশ করে না।
B) একমাত্র সঞ্চয় — এই অপশনটি বস্তুগত বা আর্থিক জমানো সম্পদ বোঝায়, যা মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
C) একমাত্র সন্তান — এটি সঠিক কারণ এটি বাগধারার নির্ধারিত প্রমিত ও অভিধানসম্মত অর্থ।
D) শিবরাত্রির গুরত্ব — এটি একটি সাধারণ ধারণা মাত্র যা কোনো বিশেষ বাগধারার অর্থ হতে পারে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শিবরাত্রির রাতে যেমন একটিমাত্র বাতি বা সলতে জ্বালিয়ে রাত পার করতে হয়, তেমনি কোনো পরিবারে একটিমাত্র সন্তান থাকলে তাকে শিব রাত্রির সলতে বলা হয়।
- প্রদীপের শেষ সলতের সঙ্গে একমাত্র সন্তানের তুলনা করে সহজে এটি মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পরিবার বা ব্যক্তির একমাত্র অবলম্বন বোঝাতে এই বাগধারাটি আসে।
- বাগধারার ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থ বাদ দিয়ে সবসময় ঐতিহ্যগত ভাবার্থ বা প্রমিত অর্থ বেছে নিতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
১. কেন সঠিক:
প্রোষিতভর্তৃকা হলো এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন। এর মূল অর্থ হলো যে নারীর স্বামী বা পতি বর্তমানে কর্ম বা অন্য কোনো কারণে বিদেশে অবস্থান করছেন।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
এটি বাংলা ব্যাকরণের শব্দার্থ ও এককথায় প্রকাশ অংশের অন্তর্গত। সংস্কৃত প্রোষিত শব্দের অর্থ বিদেশে অবস্থিত এবং ভর্তুক শব্দের অর্থ স্বামী বা ভরণপোষণকারী, যা থেকে প্রোষিতভর্তৃকা শব্দটি গঠিত হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রোষিতভর্তৃকা নারী মেঘ দেখলেই বিরহ বেদনায় আরও বেশি কাতর হয়ে পড়েন।
ব্যাখ্যা: এখানে যার স্বামী বিদেশে আছেন এমন নারীকে বোঝাতে প্রোষিতভর্তৃকা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: বর্ষাকালে প্রোষিতভর্তৃকা নারীদের মনের অবস্থা খুব কষ্টদায়ক হয়।
ব্যাখ্যা: স্বামীর প্রবাসবাসের কারণে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে প্রকাশ করতে এই শব্দটির প্রয়োগ দেখা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভৎসনাপ্রাপ্ত তরুণী — এই অর্থের জন্য কোনো নির্দিষ্ট এককথায় প্রকাশ নেই। এটি মূলত তিরস্কারপ্রাপ্ত বা বকা খাওয়া তরুণীকে বোঝায়।
B) যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে — এটি প্রোষিতভর্তৃকা শব্দের সঠিক ও অভিধানসম্মত অর্থ। প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরটিতে সামান্য ত্রুটি থাকলেও সঠিক মূল অর্থ এটাই।
C) ভূমিতে প্রোথিত তরুমূল — এটি মাটি বা ভূমিতে গভীরভাবে পোঁতা গাছের মূল বা শিকড়কে বোঝায়। এর সঙ্গে নারীর কোনো সম্পর্ক নেই।
D) যে বিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে — এই বিশেষ অবস্থার জন্য অভিসারিকা বা অন্য কোনো শব্দ প্রযোজ্য নয়, এটি ভিন্ন একটি পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
প্রোষিত মানে প্রবাস বা বিদেশ এবং ভর্তৃ মানে স্বামী। এই দুটি অংশ মনে রাখলেই খুব সহজে সঠিক অর্থ বের করা সম্ভব।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। প্রোষিতভর্তৃকা এবং অভিসারিকা শব্দ দুটি প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে, তাই এদের অর্থ ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) কাহপাদ
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে একটি ঐতিহাসিক অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি টেকনিক্যালি ভুল। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন চর্যাপদের ২৪ জন বা প্রাপ্ত টিকে থাকা ২৩.৫ জন কবির নামের প্রায় সবাইকেই 'পাদ' বা 'পাদা' যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়। অপশনে থাকা কাহপাদ (বা কাহ্নপাদ), লুইপাদ, শান্তিপাদ—সবাইই চর্যাপদের বিখ্যাত কবি এবং প্রাচীন যুগের (চর্যাকার) অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে রমনীপাদ নামে চর্যাপদে কোনো কবি পাওয়া যায় না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক সময় প্রশ্নে ত্রুটি থাকে, যেখানে 'রমনীপাদ' একটি কাল্পনিক বা ভুয়া অপশন হিসেবে থাকে এবং প্রশ্নকর্তার ভুল ধারণার বশে কাহপাদকে উত্তর হিসেবে নির্দেশ করা হয়, যা সঠিক নয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যার আবিষ্কারক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে আবিষ্কার করেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণা অনুযায়ী চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এর সময়কাল আনুমানিক ৯০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ (অন্য মতে দশম থেকে দ্বাদশ শতক)। চর্যাপদের পদকর্তারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ, যাঁদের নামের শেষে সমহিতা বা সম্মানসূচক 'পাদ' বা 'পাদা' শব্দ যুক্ত থাকত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লুইপাদ
ব্যাখ্যা: লুইপাদ চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা এবং প্রাচীন যুগের অন্যতম প্রধান সিদ্ধাচার্য ও আদি কবি হিসেবে স্বীকৃত।
উদাহরণ ২: কাহ্নপাদ
ব্যাখ্যা: কাহ্নপাদ বা কৃষ্ণপাদ চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (১৩টি) পদের রচয়িতা এবং প্রাচীন যুগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কবি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাহপাদ — এটি সঠিক উত্তর হিসেবে নির্দেশ করা হলেও তথ্যগতভাবে ভুল কারণ কাহপাদ চর্যাপদের একজন প্রকৃত ও প্রধান প্রাচীন কবি।
B) লুইপাদ — এটি ভুল অপশন কারণ লুইপাদ চর্যাপদের আদি কবি এবং তিনি নিশ্চিতভাবেই প্রাচীন যুগের কবি।
C) শান্তিপাদ — এটি ভুল অপশন কারণ শান্তিপাদ চর্যাপদের একজন সিদ্ধাচার্য ও প্রাচীন যুগের কবি।
D) রমনীপাদ — এটি সঠিক উত্তর কারণ চর্যাপদের কবিদের তালিকায় এই নামে কোনো ঐতিহাসিক সিদ্ধাচার্যের অস্তিত্ব নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
চর্যাপদের কবিদের নাম সহজে মনে রাখার উপায় হলো নামের শেষে 'পাদ' বা 'পা' থাকা। লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ—সবাই প্রাচীন যুগের কবি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ড. সুকুমার সেনের মতে পদ সংখ্যা পঞ্চাশটি এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ছিয়াচল্লিশটি। পরীক্ষার জন্য চর্যাপদের প্রথম কবি লুইপাদ এবং সর্বাধিক পদের রচয়িতা কাহ্নপাদের নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ময়মনসিংহ গীতিকা
কেন সঠিক:
ময়মনসিংহ গীতিকা কোনো পুঁথি সাহিত্য নয় বরং এটি লোকসাহিত্যের অন্তর্গত একটি বিখ্যাত পালাগান সংকলন।
এই গীতগুলো দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় সংগৃহীত হয়েছিল এবং এটি মূলত লৌকিক ও মৌখিক ঐতিহ্যের ফল।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
পুঁথি সাহিত্য বলতে মধ্যযুগে প্রধানত আরবি ও ফার্সি কাহিনীর অনুসরণে বাংলায় রচিত কাব্যসমূহকে বোঝানো হয়।
লোকসাহিত্য ও পুঁথি সাহিত্যের রূপ, ভাষা এবং রচনারীতি সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়ার পালা বা মলুয়ার পালা লোকসাহিত্যের অনন্য নিদর্শন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ময়মনসিংহ গীতিকা — এটি পুঁথি সাহিত্য নয় বরং বাংলার লোক সংস্কৃতির অন্তর্গত লোকগীতিকা সংকলন।
B) ইউসুফ জুলেখা — এটি শাহ মুহাম্মদ সগির রচিত মধ্যযুগের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ইসলামী পুঁথি সাহিত্য।
C) পদ্মাবতী — এটি সৈয়দ আলাউল রচিত এবং পুঁথি সাহিত্যের ধারাভুক্ত একটি মহাকাব্যিক রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
D) লাইলী মজনু — এটি দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত ফার্সি কাহিনী।
মনে রাখার টিপস:
গীতিকা হলো মানুষের মুখে মুখে ফেরা গান আর পুঁথি হলো কিতাবি বা লিখিত কাব্য।
ময়মনসিংহ মানেই লোকগীতি এবং বাকিগুলো মধ্যযুগের পুঁথি ধারার সাহিত্য।
সঠিক উত্তর: D) বৃন্দাবন দাস
১. কেন সঠিক:
- বৃন্দাবন দাস বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত এবং তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনের ওপর প্রথম প্রামাণিক জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত 'শ্রীচৈতন্যভাগবত' গ্রন্থটিকে শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনীকাব্যের আদি ও প্রামাণিক গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বৃন্দাবন দাস বৈষ্ণব পদকর্তা ও শ্রীচৈতন্যদেবের পার্ষদ শ্রীদাসের শিষ্য এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলার প্রধান প্রচারক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'শ্রীচৈতন্যভাগবত' মূলত দুটি খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে চৈতন্যদেবের জন্ম থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত'
ব্যাখ্যা: এটিও চৈতন্যদেবের জীবনের ওপর রচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণিক জীবনীকাব্য।
উদাহরণ ২: লোচন দাস রচিত 'চৈতন্যমঙ্গল'
ব্যাখ্যা: এটিও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনীভিত্তিক কাব্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফকির গরীবুল্লাহ — তিনি জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত নন, বরং তিনি পুথি সাহিত্যের জন্য পরিচিত।
B) নরহরি চক্রবর্তী — তিনি মূলত পদাবলী সাহিত্য ও বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাস রচনার জন্য পরিচিত, জীবনীকার হিসেবে নন।
C) বিপ্রদাস পিপিলাই — তিনি মনসা মঙ্গল কাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত, কোনো জীবনীকাব্য রচনার জন্য নন।
D) বৃন্দাবন দাস — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি জীবনীকাব্য রচনার জন্যই সর্বাধিক পরিচিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বৃন্দাবন দাস মানেই শ্রীচৈতন্যভাগবত এবং জীবনীকাব্য।
- চৈতন্যদেবের জীবনী মনে রাখতে বৃন্দাবন দাসের নাম সবার আগে আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- শ্রীচৈতন্যভাগবত গ্রন্থের পূর্বনাম ছিল চৈতন্যমঙ্গল।
- মধ্যযুগের জীবনীকাব্যগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
সঠিক উত্তর: C) ব্রজبুলি
১. কেন সঠিক:
- বৈষ্ণব পদাবলি মূলত কৃষ্ণা ও রাধার প্রেমলীলা বিষয়ক গান, যা ব্রজবুলি ভাষায় রচিত হয়েছে।
- ব্রজবুলি কোনো কথ্য ভাষা নয়, এটি বাংলা ও মৈথিলি ভাষার মিশ্রণে সৃষ্ট এক কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ব্রজবুলি ভাষার আদি কবি বিদ্যাপতি, যিনি মূলত মৈথিলি ভাষার কবি ছিলেন।
- বাংলায় এই ভাষা সার্থকভাবে ব্যবহার করে অমর হয়ে আছেন পদাবলীর মহাকবি চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্যাপতির পদ
ব্যাখ্যা: বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় এই পদ রচনা করলেও বাংলায় তা ব্রজবুলি হিসেবে পরিচিতি পায়।
উদাহরণ ২: জ্ঞানদাসের পদ
ব্যাখ্যা: বাঙালি কবিরা এই কৃত্রিম ভাষা ব্যবহার করে বাংলা সাহিত্যের বৈষ্ণব পদাবলি সমৃদ্ধ করেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সন্ধ্যাভাষা — এটি চর্যাপদের ভাষা, যা প্রাচীন বাংলা ভাষার রূপ। বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
B) অধিভাষা — এটি ভাষা বিজ্ঞানের একটি পরিভাষা, কোনো নির্দিষ্ট সাহিত্যের ভাষা নয়।
ডি) সংস্কৃত ভাষা — বৈষ্ণব পদাবলি সংস্কৃত ভাষায় রচিত নয়, এটি প্রাকৃত ও অবহট্ঠ থেকে আসা ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে বৈষ্ণব পদাবলি মানেই ব্রজবুলি ভাষা এবং এর প্রধান কবি বিদ্যাপতি।
- চর্যাপদ দেখলে সন্ধ্যাভাষা এবং পদাবলি দেখলে ব্রজবুলি মনে রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে ব্রজবুলি কোন ধরনের ভাষা।
- উত্তর হবে এটি একটি কৃত্রিম বা সাহিত্যিক ভাষা।
সঠিক উত্তর: D) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নোক্ত চরণ দুটি শিশুশিক্ষার জন্য রচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কবিতার অংশ যা নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে।
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার বাংলা গদ্যের সূচনাযুগের অন্যতম প্রধান লেখক এবং শিশুদের জন্য প্রথম পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
- তাঁর রচিত 'শিশুশিক্ষা' প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ বাংলা শিক্ষায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাখি সব পাখি রবে রাতি পোহাইল।
ব্যাখ্যা: এটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের লেখা 'প্রভাতী' কবিতার বিখ্যাত লাইন।
উদাহরণ ২: আলস্য ছাড়িয়া কাজ কর মনে সুখে।
ব্যাখ্যা: এটিও তাঁর শিশুশিক্ষা গ্রন্থের একটি নৈতিক উপদেশমূলক কবিতার অংশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চণ্ডীচরণ মুনশী — ইনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের একজন পন্ডিত ছিলেন কিন্তু এই কবিতার রচয়িতা নন।
B) কাজী নজরুল ইসলাম — ইনি আমাদের জাতীয় কবি যিনি মূলত দ্রোহ ও প্রেমের কবিতা লিখেছেন।
C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — ইনি বিশ্বকবি যিনি মূলত আধুনিক বাংলা কবিতা ও গানের জন্য বিখ্যাত।
D) মদনমোহন তর্কালঙ্কার — ইনি এই বিখ্যাত শিশুতোষ কবিতার প্রকৃত রচয়িতা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শিশুদের প্রথম পাঠ এবং নীতিশিক্ষা মানেই মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা।
- প্রভাতি কবিতার লাইন পেলে চোখ বুজে মদনমোহন তর্কালঙ্কার দাগাবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় শিশুশিক্ষা গ্রন্থটির রচয়িতা প্রায়ই আসে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কার দুজনেই ঊনবিংশ শতকে শিশুসাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
সঠিক উত্তর: D) বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’
১. কেন সঠিক:
উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস 'রাজসিংহ' থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রের মানসিক দৃঢ়তা বোঝাতে এই উক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে পরিচিত এবং 'রাজসিংহ' তাঁর একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে ঔরঙ্গজেব ও রাজসিংহের বিরোধ এবং মোগলদের বিরুদ্ধে রাজপুতদের বীরত্বের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই বাংলা উপন্যাসের আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে।
উদাহরণ ২: তাঁর বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস 'বিষবৃক্ষ' ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে তৎকালীন সমাজের পরকীয়া প্রেমের পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’ — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজবাস্তবতা নির্ভর উপন্যাস, যেখানে এই উক্তিটি নেই।
B) শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল দেশপ্রেম ও বিপ্লবী আন্দোলন।
C) শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ — এটি শওকত ওসমানের একটি বিখ্যাত প্রতীকী উপন্যাস, যা আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রূপকধর্মী প্রতিবাদ।
D) বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’ — এই উপন্যাসের সঙ্গে আলোচ্য উদ্ধৃতির সরাসরি মিল রয়েছে এবং এটি সঠিক সাহিত্যকর্ম।
৫ মনে রাখার টিপস:
বঙ্কিমচন্দ্রের একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাসের নাম 'রাজসিংহ' এবং ঐতিহাসিক চরিত্রের কঠোরতা বোঝাতে এই উপন্যাসের উদ্ধৃতি প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো 'রাজসিংহ', যার প্রধান চরিত্র জেবউন্নিসা, মানময়ী ও রাজসিংহ। ঐতিহাসিক উপন্যাস সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্ন সমাধানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্রের এই গ্রন্থটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সঠিক উত্তর: B) এন্টনি ফিরঙ্গি
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে একটি ঐতিহাসিক ভুল বা অসংগতি রয়েছে। প্রদত্ত উত্তর হিসেবে 'এন্টনি ফিরঙ্গি' উল্লেখ করা হলেও, প্রকৃত ইতিহাস অনুযায়ী এন্টনি ফিরঙ্গি ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন না। তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার এই নির্দিষ্ট প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কবিয়াল হিসেবে এন্টনি ফিরঙ্গির সাংস্কৃতিক অবস্থান বা অন্য কোনো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা হলেও, ইয়ংবেঙ্গল বলতে মূলত উনিশ শতকের প্রথম ভাগে হিন্দু কলেজের ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তার তরুণদের বোঝানো হয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
ইয়ংবেঙ্গল বা ডিরোজিয়ানরা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর শিষ্য এবং উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের এক বিপ্লবী অংশ। তারা পাশ্চাত্য শিক্ষা ও দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এন্টনি ফিরঙ্গি ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিখ্যাত বাংলা ভাষার কবিওয়ালা বা কবিয়াল, যিনি পেশায় একজন পর্তুগীজ খ্রিস্টান হলেও বাংলা গানে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রসরাজ অমৃত লাল বসু
ব্যাখ্যা: অমৃত লাল বসু উনিশ শতকের শেষের দিকের একজন বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা যিনি সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রেখেছিলেন।
উদাহরণ ২: কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ডিরোজিওর সরাসরি ছাত্র এবং মূলধারার একজন সক্রিয় ইয়ংবেঙ্গল বা ডিরোজিয়ান নেতা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অক্ষয় কুমার দত্ত — ইনি তত্ত্ববোধিনী সভার সদস্য ও যুক্তিবাদী প্রবন্ধকার ছিলেন, তবে সরাসরি ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন না।
B) এন্টনি ফিরঙ্গি — ইনি অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের একজন জনপ্রিয় কবিয়াল ও গায়ক ছিলেন, যিনি ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
C) মাইকেল মধুসূদন দত্ত — ইনি উনিশ শতকের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মহাকবি ও পাশ্চাত্য ভাবধারায় পুষ্ট হলেও সরাসরি ইয়ংবেঙ্গল দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না।
D) কালীপ্রসন্ন সিংহ ঠাকুর — ইনি বাংলা উপন্যাসের অনুবাদক ও হুতোম প্যাঁচার নকশার রচয়িতা, যিনি মূলত সমসাময়িক সমাজের নানা সংস্কার নিয়ে কাজ করেছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠী বললেই মনে রাখতে হবে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও এবং তাঁর হিন্দু কলেজের তরুণ ছাত্রদের কথা। অন্যদিকে এন্টনি ফিরঙ্গি হলেন প্রাচীন বাংলা গান বা কবিয়াল গানের সঙ্গে জড়িত একজন বিশিষ্ট পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত বাঙালি কবিয়াল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক সময় ভুল প্রশ্ন বা অপশন আসতে পারে, তাই মূল ঐতিহাসিক তথ্য যেমন ডিরোজিও ও তাঁর শিষ্যদের অবদান ভালোভাবে মনে রাখা জরুরি। একই ধরনের সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রশ্নে বিভ্রান্ত না হতে লেখক ও ব্যক্তিত্বদের সঠিক কাল এবং কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ১৯২১ সন
১. কেন সঠিক:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি এবং এটি বাংলা ১৩২৮ সালের কার্তিক মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাল ১৩২৮ বঙ্গাব্দকে খ্রিস্টাব্দে রূপান্তর করলে ১৯২১ সন পাওয়া যায়, যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বিদ্রোহী কবিতার রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, যিনি প্রেমের ও দ্রোহের কবি হিসেবে পরিচিত।
- এই কবিতাটি ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত বিজলি পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যার প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস এবং বিদ্রোহী কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ২: ছায়ানট কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের অপর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে কবির বহু বিপ্লবী ও প্রেমের কবিতা রয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯২৩ সন — এই সনে কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়েছিল, তবে বিদ্রোহী কবিতার প্রকাশকাল এটি নয়।
B) ১৯২১ সন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সনেই বিদ্রোহী কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
C) ১৯১৯ সন — এই সনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে এই সনে বিদ্রোহী কবিতার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
D) ১৯১৮ সন — এই সনে কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি সেনানিবাসে যান, যা কবিতার প্রকাশের সাল নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার জন্ম সাল মনে রাখতে মনে রাখবে ১৯২১ সাল হলো সেই বছর যখন কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়ে বাংলা সাহিত্যে ঝড় তুলেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিদ্রোহী কবিতার রচয়িতা, প্রকাশকাল এবং কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত তা জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: B) হাসান আজিজুল হক
১. কেন সঠিক:
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।
উপন্যাসটি দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এটি লেখকের একটি অত্যন্ত প্রশংসিত দীর্ঘ উপন্যাস।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
হাসান আজিজুল হক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক ও ছোটগল্পকার।
তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আগুন পাখি ছাড়াও রয়েছে সাহেব বাজার ও বৃত্তায়ন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আত্মজা ও একটি করবী গাছ
ব্যাখ্যা: এটি হাসান আজিজুল হকের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও বহুল পঠিত ছোটগল্প।
উদাহরণ ২: জীবনের ঘ্রাণ
ব্যাখ্যা: এটিও হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প সংকলন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাহাত খান — ইনি একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হলেও এই উপন্যাসের রচয়িতা নন।
B) হাসান আজিজুল হক — এই অপশনটি সঠিক এবং তিনি আগুন পাখি উপন্যাসের লেখক।
C) সেলিনা হোসেন — ইনি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হলেও এই গ্রন্থটি তার রচিত নয়।
D) ইমদাদুল হক মিলন — ইনি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হলেও আগুন পাখি তার লেখা উপন্যাস নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
হাসান আজিজুল হক মূলত ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত হলেও তার আগুন পাখি উপন্যাসটি খুব জনপ্রিয়।
লেখক হাসান আজিজুল হক এবং তার আগুন পাখি উপন্যাস এভাবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ ও দেশভাগভিত্তিক উপন্যাস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
দেশভাগভিত্তিক সাহিত্যকর্ম পড়ার সময় লেখকের নাম ও প্রকাশকাল ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) আলতাফ মাহমুদ
১. কেন সঠিক:
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটির সুরকার হলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদ।
- এই গানটি বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সাংস্কৃতিক স্মারক।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই গানটির প্রথম রচয়িতা ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
- গানটির প্রাথমিক সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ, তবে পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই চূড়ান্তভাবে সর্বজনগ্রাহ্য হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক একটি গান যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মরণে রচিত।
উদাহরণ ২: ভাষা আন্দোলনভিত্তিক অন্যান্য প্রামাণ্য রচনা
ব্যাখ্যা: ভাষা আন্দোলন নিয়ে মুনীর চৌধুরী কবর নাটক এবং জহির রায়হান আরেক ফাল্গুন উপন্যাস রচনা করেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুবীর সাহা — তিনি একজন সংগীতশিল্পী ও সুরকার হলেও এই ঐতিহাসিক গানের সুরকার নন।
B) সুধীন দাস — তিনি রবীন্দ্রসংগীতের প্রখ্যাত স্বরলিপিকার ও শিল্পী হলেও এই গানের সঙ্গে যুক্ত নন।
C) আলতাফ মাহমুদ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
D) আলতাম এমন — এটি একটি বিভ্রান্তিকর ও ভুল নাম যা সঠিক উত্তরের সঙ্গে মেলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- একুশের বিখ্যাত গানের কথা লিখেছেন গাফফার চৌধুরী এবং সুর দিয়েছেন আলতাফ মাহমুদ।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে গানে সুর দিয়ে মাহমুদ ভাই অমর হয়ে আছেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান, কবিতা ও উপন্যাসের রচয়িতা ও সুরকার প্রায়ই আসে।
- এই ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে গীতিকার এবং সুরকারের নাম গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
সঠিক উত্তর: B) কারক
১. কেন সঠিক:
বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলা হয়। কারক শব্দটির অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। কারক প্রধানত ছয় প্রকার যথা কর্তকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক ও অধিকরণ কারক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গাছে ফল ধরেছে।
ব্যাখ্যা: এখানে ধরেছে ক্রিয়ার সাথে গাছে পদটির স্থানবাচক সম্পর্ক থাকায় এটি অধিকরণ কারক।
উদাহরণ ২: বাবাকে ভয় পাও।
ব্যাখ্যা: এখানে ভয় পাও ক্রিয়ার সাথে বাবাকে পদটির ভীতি বা দূরবর্তী গমনের সম্পর্ক থাকায় এটি অপাদান কারক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিভক্তি — শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কারক বা পদ গঠনে সাহায্যকারী বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি হলো বিভক্তি, যা ক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্ক নির্দেশ করে না।
B) কারক — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) প্রত্যয় — প্রকৃতির সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রত্যয় বলে, যা ক্রিয়ার সাথে পদের সম্পর্কের নাম নয়।
D) অনুসর্গ — যে শব্দগুলো স্বাধীন পদরূপে বাক্যের শেষে বসে কারক বোঝাতে সাহায্য করে কিন্তু নিজে সরাসরি ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাক্যে ক্রিয়া পদকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তার ওপর ভিত্তি করে কারক নির্ধারিত হয়। কে বা কারা প্রশ্ন করলে কর্তকারক এবং কী বা কাকেই প্রশ্ন করলে কর্মকারক হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বাক্য থেকে কারক নির্ণয় করতে দেওয়া হয়। ক্রিয়ার সাথে পদের প্রশ্নবাচক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে সঠিক কারক সহজে বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) পর্তুগীজ
১. কেন সঠিক:
- 'গীর্জা' শব্দটি পর্তুগীজ ভাষার অন্তর্গত কারণ এটি পর্তুগীজ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয় বোঝাতে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
- বাংলা ভাষাভাষীদের সাথে পর্তুগীজদের দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগাযোগের ফলে বিভিন্ন পর্তুগীজ শব্দ বাংলা শব্দভাণ্ডারে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে বিদেশ থেকে আগত শব্দগুলোকে বৈদেশিক বা বিদেশি শব্দ বলা হয়।
- পর্তুগীজ ভাষা থেকে আগত শব্দ মূলত ধর্ম, বাণিজ্য, প্রশাসন ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাদ্রি
ব্যাখ্যা: এটি একটি পর্তুগীজ শব্দ যা খ্রিস্টধর্মের যাজক বোঝাতে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: সাবান
ব্যাখ্যা: এটিও একটি পর্তুগীজ শব্দ যা দৈনন্দিন ব্যবহারের পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফারসী — ফারসী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আইন, আদালত, ধর্ম এবং সংস্কৃতি সংক্রান্ত শব্দ এসেছে, যেমন আদালত, কাগজ। তবে 'গীর্জা' ফারসী ভাষার শব্দ নয়।
B) পর্তুগীজ — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি প্রশ্নের চাহিদার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
C) ওলন্দাজ — ওলন্দাজ বা ডাচ ভাষা থেকে মূলত তাস খেলার শব্দ এবং কিছু বাণিজ্যের শব্দ বাংলায় এসেছে, যেমন হর্তন, ইস্কাপন। কিন্তু 'গীর্জা' ওলন্দাজ শব্দ নয়।
D) পাঞ্জাবী — পাঞ্জাবী ভাষা থেকে কিছু আঞ্চলিক ও বিশেষ শব্দ বাংলায় এসেছে, যেমন শিখ, চাহিদা। তবে 'গীর্জা' পাঞ্জাবী ভাষার শব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার সহজ উপায় হলো খ্রিস্টধর্ম ও দৈনন্দিন জীবনের কিছু নির্দিষ্ট সামগ্রীর নাম যেমন গীর্জা, পাদ্রি, সাবান, আলমারি, চাবি একসঙ্গে মনে রাখা।
- ধর্মীয় উপাসনালয় সংক্রান্ত পর্তুগীজ শব্দের ক্ষেত্রে 'গীর্জা' একটি প্রধান উদাহরণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- পর্তুগীজ ও ওলন্দাজ শব্দগুলোর মধ্যে যেন মিশ্রণ না ঘটে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত শব্দযুগলে ঐচ্ছিক শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ঐচ্ছিক নয়, বরং ঐচ্ছিক শব্দের সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক।
- অনাবশ্যিক শব্দটির সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো অবশ্যম্ভাবী বা প্রয়োজনীয়, তাই এই জোড়াটি বিপরীতার্থক শব্দ হিসেবে সঠিক নয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- বিপরীতার্থক শব্দ হলো এমন দুটি শব্দ যা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত বা উল্টো অর্থ প্রকাশ করে এবং এদের মধ্যে অর্থের বৈপরীত্য থাকে।
- বাংলা ব্যাকরণে বিপরীতার্থক শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে শব্দের উৎস, প্রত্যয় এবং ভাবের মিল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঐচ্ছিক শব্দের বিপরীত শব্দ আবশ্যক।
ব্যাখ্যা: ঐচ্ছিক অর্থ যা ইচ্ছা তাই, আর আবশ্যক অর্থ যা করা বাধ্যতামূলক।
উদাহরণ ২: অনাবশ্যিক শব্দের বিপরীত শব্দ প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: অনাবশ্যিক অর্থ যার প্রয়োজন নেই, আর প্রয়োজনীয় অর্থ যার বিশেষ দরকার আছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক — এটি বিপরীতার্থক নয় কারণ ঐচ্ছিকের বিপরীত আবশ্যক এবং অনাবশ্যিকের বিপরীত প্রয়োজনীয়।
B) কুটিল-সরল — এটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কারণ কুটিল অর্থ বাঁকা বা জটিল এবং সরল অর্থ সহজ বা সোজা।
C) কম-বেশি — এটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কারণ কম অর্থ অল্প এবং বেশি অর্থ অধিক।
D) কদাচার-সদাচার — এটি সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কারণ কদাচার অর্থ খারাপ আচরণ এবং সদাচার অর্থ ভালো আচরণ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিপরীতার্থক শব্দ পড়ার সময় শব্দের মূল অর্থ ও তার সাপেক্ষে বিপরীত ভাবের সঠিক মিল আছে কি না তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
- পরীক্ষার হলে অপশনের শব্দ দুটির অর্থ মনে মনে মিলিয়ে দেখলেই ভুল জোড়া সহজে আলাদা করা সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এমন শব্দযুগল দেওয়া হয় যা দেখতে বিপরীত মনে হলেও ব্যাকরণগতভাবে সঠিক জোড়া হয় না।
- এই ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য প্রমিত বাংলা অভিধানের সহায়তা নিয়ে শব্দের সঠিক বিপরীত রূপ মুখস্থ রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) মাকড়সা
কেন সঠিক:
- ‘ঊর্ণনাভ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো যার নাভি থেকে ঊর্ণা বা জাল নির্গত হয়।
- মাকড়সা তার শরীর থেকে বিশেষ রস নিঃসরণ করে জাল বা ঊর্ণা তৈরি করে বলে একে ঊর্ণনাভ বলা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যা বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বহুযুগের বাংলা সাহিত্য এবং অভিধানে এই বিশেষ শব্দটি পতঙ্গ বা কীট জাতীয় প্রাণীর ক্ষেত্রে মাকড়সাকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- যেমন: বহু প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাব্য এবং আধুনিক বাংলা অভিধানে মাকড়সার সমার্থক শব্দ হিসেবে ঊর্ণনাভ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) টিকটিকি — টিকটিকি এক ধরনের সরীসৃপ প্রাণী এবং এর সাথে জালের কোনো সম্পর্ক নেই।
- B) তেলেপোকা — তেলেপোকা বা আরশোলা হলো ব্লাটোপ্রিডা গোত্রের একটি পোকা যা ময়লা আবর্জনায় থাকে।
- C) ইউপোকা — ইউপোকা বলতে কোনো স্বীকৃত প্রাণী বোঝায় না, এটি মূলত উইপোকা শব্দের কাছাকাছি একটি বিভ্রান্তিকর অপশন।
- D) মাকড়সা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
- ঊর্ণা শব্দের অর্থ জাল এবং নাভ অর্থ নাভি, তাই যার নাভি থেকে জাল বের হয় সেই হলো মাকড়সা।
সঠিক উত্তর: D) সুন্দর
১. কেন সঠিক:
- অভিরাম শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো যা দেখতে সুন্দর, মনোরম বা চিত্তাকর্ষক।
- এটি মূলত একটি বিশেষণ পদ যা কোনো কিছুর সৌন্দর্য বা আকর্ষকতা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থ সংক্রান্ত প্রশ্ন। বাংলা ভাষায় অনেক সংস্কৃত শব্দ তৎসম রূপে ব্যবহৃত হয় যার নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।
- অভিরাম শব্দটি সাধারণত কোনো দৃশ্য, পরিবেশ বা বস্তুর সৌন্দর্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা বিরামহীন বা চলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তার হাতের লেখাটি সত্যিই অভিরাম।
ব্যাখ্যা: এখানে লেখার সুন্দর রূপ বোঝাতে অভিরাম শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: নদীটির চারপাশের দৃশ্য অত্যন্ত অভিরাম।
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য প্রকাশ করতে এখানে অভিরাম শব্দের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিরামহীন — বিরামহীন অর্থ যা থেমে থাকে না বা নিরবচ্ছিন্ন, যা অভিরাম শব্দের অর্থ নয়।
B) বালিশ — বালিশ একটি আরামদায়ক ঘুমের উপকরণ, যা এই শব্দের অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
C) চলন — চলন অর্থ গতি বা চলাফেরার ভঙ্গি, যা অভিরাম শব্দের অর্থকে নির্দেশ করে না।
D) সুন্দর — এটি সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অভিরাম শব্দের শুরুতে অ উপসর্গ বা আ প্রত্যয় থাকলেও এটি সৌন্দর্য বা মনোরম অর্থ প্রকাশ করে।
- সুন্দর এবং অভিরাম সমার্থক শব্দ হিসেবে মনে রাখতে পারো।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দার্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই সমার্থক শব্দগুলো ভালোভাবে চর্চা করতে হবে।
- একই ধরনের শব্দ যেমন অবিরাম এবং অভিরাম শব্দ দুটির উচ্চারণ কাছাকাছি হলেও অর্থের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সঠিক উত্তর: D) খেলনা
১. কেন সঠিক:
- খেলনা শব্দটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কারণ এটি ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে।
- এখানে খেল (খেলার ধাতু) ক্রিয়ামূলের সঙ্গে না প্রত্যয় যুক্ত হয়ে খেলনা শব্দটি গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- কৃৎ-প্রত্যয় হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- বাংলা ভাষায় ক্রিয়ামূলের সঙ্গে বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মূলত বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ সাধিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মোড়ক
ব্যাখ্যা: মুড় ধাতুর সঙ্গে অক প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মোড়ক শব্দটি গঠিত হয়েছে যা বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
উদাহরণ ২: বাঁক
ব্যাখ্যা: বঁক ধাতুর সঙ্গে শূন্য প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বাঁক শব্দটি গঠিত হয়েছে যা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কারক — এটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ হলেও এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো কৃ ধাতুর সঙ্গে অক (ণক) প্রত্যয়, যা মূলত সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
B) লিখিত — এটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কারণ লিখ ধাতুর সঙ্গে ইত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে।
C) বেদনা — এটি তদ্ধিত প্রত্যয় বা অন্য প্রক্রিয়া সাধিত শব্দ, যা ধাতু থেকে সরাসরি সাধিত হয়নি।
D) খেলনা — এটি সঠিক বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ হওয়ায় প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এটি নির্বাচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ধাতু থেকে শব্দ তৈরি হলে তা কৃৎ-প্রত্যয় এবং শব্দ থেকে শব্দ তৈরি হলে তা তদ্ধিত প্রত্যয়।
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে না, টি, ঝু ইত্যাদি থাকলে তা সাধারণত বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ও সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় আলাদা করার প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- ধাতু চেনার সহজ উপায় হলো শব্দের ক্রিয়ামূল বা কাজের উৎস নির্ধারণ করা।
সঠিক উত্তর: B) প্রত্যয়িত
১. কেন সঠিক:
- ‘Attested’-এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো প্রত্যয়িত, যার অর্থ কোনো দলিলাদি বা স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করে তা নিশ্চিত করা।
- প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে মূল নথির সঙ্গে অনুলিপির মিল পেয়ে তা সঠিক বলে প্রত্যয়ন বা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিভাষা ব্যবহার করা হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ, যা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- ইংরেজি প্রশাসনিক ও আইনি শব্দের সঠিক বাংলা রূপান্তর জানার জন্য প্রমিত পরিভাষা মুখস্থ রাখতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: Attested copy.
ব্যাখ্যা: এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো প্রত্যয়িত অনুলিপি বা সত্যায়িত অনুলিপি।
উদাহরণ ২: Attested by me.
ব্যাখ্যা: এর অর্থ আমার দ্বারা প্রত্যয়িত বা আমার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও নিশ্চিতকৃত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সত্যায়িত — এটি বহুল ব্যবহৃত হলেও সরকারি প্রমিত পরিভাষায় Attested-এর সঠিক রূপ হিসেবে 'প্রত্যয়িত' শব্দটিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
C) সত্যায়ন — এটি একটি বিশেষ্য পদ যার ইংরেজি পরিভাষা হলো Attestation, কিন্তু Attested একটি বিশেষণ পদ।
D) সংলগ্ন/সংলাগ — এই শব্দগুলোর ইংরেজি পরিভাষা যথাক্রমে Attached বা Enclosed, যা Attested শব্দের অর্থের সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- Attested শব্দের শুরুতে 'At' আছে এবং বাংলায় 'প্রত্যয়িত' শব্দের শুরুতে প্রতিশব্দমূলক মিল রয়েছে এভাবে মনে রাখতে পারো।
- ইংরেজি 'Attested' দেখলে বাংলায় 'প্রত্যয়িত' শব্দটি নির্বাচন করবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পারিভাষিক শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- একই সঙ্গে Attestation শব্দের পরিভাষা হিসেবে 'সত্যায়ন' বা 'প্রত্যয়ন' ব্যবহৃত হয়, তাই পদের রূপ ভেদে পার্থক্য মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) প্রোজ্জল
১. কেন সঠিক:
- প্রোজ্জল শব্দটি গঠিত হয়েছে প্র উপসর্গ, উৎ উপসর্গ এবং জ্বল ধাতু ও ঘঞ প্রত্যয় যোগে।
- বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী উৎ উপসর্গের ত বা দ এর পরে জ বা ঝ থাকলে তা বর্গীয় জ এ পরিণত হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- সন্ধির নিয়মানুযায়ী ত বা দ এর পরে জ বা ঝ থাকলে ত বা দ এর জায়গায় বর্গীয় জ হয়।
- প্র পূর্বক উৎ এবং জ্বল যুক্ত হয়ে প্রোজ্জল শব্দটিতে দিত্ব জ বা জ্জ ধ্বনির সৃষ্টি হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উজ্জ্বল
ব্যাখ্যা: উৎ এবং উজ্জ্বল মিলে প্রোজ্জলের মতো একই নিয়মে উজ্জ্বল শব্দটি গঠিত হয় যেখানে দিত্ব জ ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: বিপজ্জল
ব্যাখ্যা: বিপদ এবং জল মিলে ত এর জায়গায় বর্গীয় জ হয়ে বিপজ্জল শব্দ গঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রজ্বল — এই বানানটিতে জ এর দ্বিত্ব বা জ্জ নেই যা ব্যাকরণগতভাবে ভুল রূপ।
B) প্রোজ্জল — এটি সঠিক বানান এবং প্রমিত বাংলা নিয়ম অনুসারে পরীক্ষিত রূপ।
C) প্রোজ্বল — এই বানানে জ এর নিচে ফলা বা দ্বিত্ব জ না থাকায় এটি অসম্পূর্ণ।
D) প্রোজ্জ্বল — এই বানানে অতিরিক্ত ও কার বা ভুল ফলা যুক্ত হয়েছে যা মূল শব্দের সঙ্গে মিলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রোজ্জল বানানে প্র এর সাথে ও কার এবং জ এর নিচে জ অর্থাৎ জ্জ যুক্ত হবে।
- উৎ উপসর্গের প্রভাবে জ সবসময় দ্বিত্ব রূপ নেয় এই বিষয়টি মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দিত্ব বর্ণঘটিত বানানগুলো প্রায়ই আসে।
- উজ্জ্বল এবং প্রোজ্জল বানানগুলোতে দ্বিত্ব জ থাকে তা ভালোভাবে খেয়াল রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) তৎসম
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরে ত্রুটি রয়েছে। বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী 'জোছনা' শব্দটি তৎসম শব্দ নয়, এটি একটি অর্ধ-তৎসম শব্দ। সংস্কৃত 'জ্যোৎস্ননা' শব্দটি প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম রূপ হিসেবে 'জোছনা' বা 'জোসনা' হয়েছে।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে এবং সঠিক উত্তর অর্ধ-তৎসম হবে, যা অনেক বইয়ে ভুলবশত তৎসম বা তদ্ভব হিসেবে উল্লেখ থাকে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অর্ধ-তৎসম বা ভগ্ন-সংস্কৃত শব্দ হলো সেইসব শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রাকৃত বা অপভ্রংশের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত রূপে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- সংস্কৃত শব্দের প্রাকৃত উচ্চারণের সময় যে শব্দগুলো কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে, সেগুলোই অর্ধ-তৎসম শব্দ হিসেবে বাংলা ব্যাকরণে স্বীকৃতি পেয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্ষুধা থেকে খিদে
ব্যাখ্যা: মূল সংস্কৃত শব্দ ক্ষুধা প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম রূপে খিদে হয়েছে।
উদাহরণ ২: গৃহিণী থেকে গিন্নি
ব্যাখ্যা: তৎসম শব্দ গৃহিণী প্রাকৃত উচ্চারণের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম রূপে গিন্নি হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যৌগিক — যৌগিক শব্দ হলো সেইসব শব্দ যা কোনো প্রত্যয় বা সমাসের সাহায্যে গঠিত হয়ে মূলত পদের অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু জোছনা শব্দের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
B) তৎসম — জোছনা শব্দটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি অপরিবর্তিত অবস্থায় আসেনি, তাই এটি তৎসম শব্দ হতে পারে না যদিও প্রশ্নে এটি উত্তর হিসেবে বলা হয়েছে।
C) দেশী — দেশী শব্দ হলো বাংলাদেশের আদিবাসীদের ভাষা থেকে আগত শব্দ, আর জোছনা শব্দটি সংস্কৃত মূল থেকে উদ্ভূত।
D) অর্ধ-তৎসম — সংস্কৃত জ্যোৎস্না শব্দের পরিবর্তিত রূপ হওয়ায় এটি আসলে একটি নিখুঁত অর্ধ-তৎসম শব্দ, যদিও প্রদেয় তথ্যে এটি ভুল অপশনে ছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সংস্কৃত শব্দের বানান কিছুটা ভেঙে বা বিকৃত হয়ে যে শব্দগুলো বাংলায় প্রচলিত হয়েছে, যেমন জোছনা, গিন্নি, কুৎসিত থেকে কুচ্ছিত, সেগুলো সাধারণত অর্ধ-তৎসম শব্দ হয়।
- বানানে পরিবর্তন লক্ষ্য করে তৎসম ও অর্ধ-তৎসম শব্দ আলাদা করার চর্চা করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অর্ধ-তৎসম শব্দের তালিকা থেকে বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
- জাদুকর, জোছনা, গিন্নি, বৈষ্ণব থেকে বোষ্টম—এ ধরনের শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দের চমৎকার উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: C) বেঁচে থাকার ইচ্ছা
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর B দেওয়া থাকলেও, তা ভুল। সঠিক উত্তর হবে C অর্থাৎ বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
- 'জিজীবিষা' শব্দের অর্থ বেঁচে থাকার বা জীবনকে ধরে রাখার প্রবল ইচ্ছা বা আকুলতা।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- এটি এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন বিষয়ক একটি ব্যাকরণগত প্রশ্ন।
- সংস্কৃতে ধাতুর উত্তর প্রত্যয় যোগ করে এই ধরনের মানসিক ভাববাচক শব্দ গঠিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জিজীবিষু
ব্যাখ্যা: বেঁচে থাকার ইচ্ছা আছে যার, তাকে এককথায় জিজীবিষু বলা হয়।
উদাহরণ ২: মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা: মরার ইচ্ছা বা মরে যাওয়ার অবস্থা, যা একই ধরনের মানসিক অবস্থার প্রকাশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জয়ের ইচ্ছা — জয়ের ইচ্ছাকে এককথায় জিগীষা বলা হয়, যা জিজিবিষা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
B) হত্যার ইচ্ছা — হত্যার বা বধ করার ইচ্ছাকে এককথায় জিঘাংসা বলা হয়, যা এখানে সঠিক উত্তর হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত ছিল।
C) বেঁচে থাকার ইচ্ছা — এটিই জিজিবিষা শব্দের সঠিক এবং প্রমিত অর্থ।
D) শোনার ইচ্ছা — শোনার ইচ্ছাকে এককথায় শুশ্রূষা বলা হয়, যা অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- জিজিবিষা শব্দের ভেতরে জীবন বা বেঁচে থাকার ভাবটি লুকিয়ে আছে।
- জিজীবিষা মানে বেঁচে থাকা এবং জিঘাংসা মানে হত্যা করা, এই দুটি প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গুলিয়ে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের সূক্ষ্ম বানান ও অর্থভিত্তিক প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- জিগীষা, জিজিবিষা এবং জিঘাংসা শব্দগুলোর বানান ও অর্থ খুব ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) সর্বাঙ্গ + ঈন
১. কেন সঠিক:
- সর্বাঙ্গ শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ঈন যুক্ত হয়ে সর্বাঙ্গীণ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- সর্বাঙ্গ শব্দের অর্থ সমস্ত অঙ্গ বা সম্পূর্ণ শরীর, এবং ঈন প্রত্যয়টি সম্বন্ধ বা ব্যাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- শব্দ গঠনে শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত করার সময় ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে থাকে।
- এখানে সর্বাঙ্গ শব্দের অন্ত্য অ এবং প্রত্যয়ের ঈ মিলে সর্বাঙ্গীণ রূপ লাভ করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কুল + ঈন = কুলীন
ব্যাখ্যা: কুল শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ বিশেষণ পদ কুলীন গঠিত হয়েছে।
উদাহরণ২: প্রাচীন + ঈন = প্রাচীনীন
ব্যাখ্যা: প্রাচীন শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত করে নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সবঙ্গ + ঈন — সবঙ্গ কোনো সঠিক শব্দ নয় এবং মূল শব্দের রূপ সঠিক নয়।
B) সর্ব + অঙ্গীন — অঙ্গীন কোনো প্রত্যয় বা সঠিক শব্দাংশ নয় যা এখানে প্রযোজ্য।
C) সর্ব + ঙ্গীন — ঙ্গীন কোনো স্বীকৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বা শব্দাংশ নয়।
D) সর্বাঙ্গ + ঈন — এটি সঠিক কারণ সর্বাঙ্গ শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সর্বাঙ্গীণ হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সম্পূর্ণ বোঝাতে সর্বাঙ্গ শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যুক্ত করে সর্বাঙ্গীণ শব্দ মনে রাখবে। প্রত্যয় যুক্ত করার সময় মূল শব্দের সঙ্গে ঈন যোগের নিয়ম খেয়াল রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তদ্ধিত প্রত্যয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মূল শব্দ ও প্রত্যয় আলাদা করার নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। একই নিয়মে গঠিত অন্যান্য শব্দ চর্চা করলে পরীক্ষায় ভুল এড়ানো সম্ভব।
সঠিক উত্তর: D) কুম্ভিলকবৃত্তি
১. কেন সঠিক:
অন্যের রচনা বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করাকে এককথায় কুম্ভিলকবৃত্তি বলা হয়।
সাহিত্যের ভাষায় একে চৌর্যবৃত্তি বা প্ল্যাজিয়ারিজম নামেও অভিহিত করা হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
এটি বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ এককথায় প্রকাশ বা শব্দার্থ সংক্রান্ত প্রশ্ন।
কুম্ভিলক শব্দের অর্থ হলো চোর, বিশেষ করে যে অন্যের কবিতা বা রচনা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপরের লেখা নিবন্ধ হুবহু নিজের নামে প্রকাশ করা একপ্রকার কুম্ভিলকবৃত্তি।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে অন্যের রচনা চুরি করে প্রকাশের অপরাধকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: গবেষণাপত্র তৈরির সময় অন্যের লেখা উদ্ধৃত না করে নিজের বলে চালানো গুরুতর অপরাধ এবং এটি স্পষ্ট কুম্ভিলকবৃত্তি।
ব্যাখ্যা: গবেষণার ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি বা কুম্ভিলকবৃত্তির অনৈতিক দিকটি এখানে বোঝানো হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বেতসবৃত্তি — বেতস গাছের মতো সহজেই নমনীয় হওয়া বা সুযোগ বুঝে অবস্থান বদল করাকে বোঝায়। তাই এটি অন্যের রচনা চুরির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) পতঙ্গবৃত্তি — পতঙ্গের মতো অন্ধভাবে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া বা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে পতঙ্গবৃত্তি বলা হয়। এটি চুরির অর্থের সঙ্গে মিলে না।
C) জলৌকাবৃত্তি — জলৌকা অর্থ জোঁক। জোঁকের মতো ধীরে ধীরে রক্ত শোষণ করা বা পরজীবী হিসেবে বেঁচে থাকাকে জলৌকাবৃত্তি বলে। এটি রচনা চুরির পরিভাষা নয়।
D) কুম্ভিলকবৃত্তি — এই অপশনটি অন্যের রচনা থেকে চুরি করার সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
কুম্ভিলক শব্দের সঙ্গে চোর শব্দটির মিল খুঁজে নাও। এভাবে মনে রাখতে পারো যে কুম্ভিলক মানেই রচনার চোর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এককথায় প্রকাশের ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি এবং কুম্ভিলকবৃত্তি সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের শব্দার্থ প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: A) তৃতীয়া বিভক্তি
১. কেন সঠিক:
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক অনুসর্গগুলো বাংলা ব্যাকরণে সাধারণত করণ কারকে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলোকে তৃতীয়া বিভক্তির নির্দেশক হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাক্যে যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে করণ কারক বলে এবং এই কারকে শব্দে তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে শব্দের সঙ্গে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে পদের রূপ দেয়, তাকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তিগুলোকে কারক চেনার সুবিধার জন্য প্রথমা থেকে সপ্তमी পর্যন্ত সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লাঠিতে আঘাত করো না।
ব্যাখ্যা: এখানে লাঠি শব্দের সঙ্গে 'তে' বিভক্তি যুক্ত হয়ে সাধিত হয়েছে যা দ্বারা বা দিয়া অর্থে করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি বুঝায়।
উদাহরণ ২: নৌকা দ্বারা নদী পার হওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: নদী পার হওয়ার মাধ্যম বা সহায়ক হিসেবে নৌকা ব্যবহৃত হয়েছে এবং 'দ্বারা' অনুসর্গটি তৃতীয়া বিভক্তি নির্দেশ করছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তৃতীয়া বিভক্তি — এই অপশনটি সঠিক কারণ দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক অনুসর্গগুলো তৃতীয়া বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত।
B) প্রথমা বিভক্তি — প্রথমা বিভক্তি মূলত অ বা শূন্য বিভক্তি হিসেবে বাক্যের কর্তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা দ্বারা দিয়া কর্তৃক নয়।
C) দ্বিতীয়া বিভক্তি — দ্বিতীয়া বিভক্তি কর্ম কারকে কে বা রে বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা এই অনুসর্গের সঙ্গে মেলে না।
D) শূণ্য বিভক্তি — শূণ্য বিভক্তি বা অ বিভক্তি হলো এমন অবস্থা যেখানে শব্দের সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত হয় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
তৃতীয়া বিভক্তি মনে রাখার সহজ সূত্র হলো মাধ্যম বা উপায় বোঝালে এবং বাক্যে দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক থাকলে চোখ বন্ধ করে তৃতীয়া বিভক্তি দাগাবে।
করণ কারকের সঙ্গে তৃতীয়া বিভক্তির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং এটি মাধ্যম নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনুসর্গভিত্তিক বিভক্তি নির্ণয়ের প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
অনুসর্গ যেমন দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক থাকলে তা সবসময় তৃতীয়া বিভক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১. কেন সঠিক:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা আধুনিক উপন্যাসের প্রবর্তক বলা হয় কারণ তিনিই প্রথম বাংলা সাহিত্যে সার্থক ও শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনা করেন।
- তাঁর রচিত দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের মাধ্যমেই বাংলা উপন্যাসের আধুনিক যুগের সফল সূচনা ঘটে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক বা আধুনিক প্রবর্তক হিসেবে সমাদৃত।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক উপন্যাসের ধারা উন্মোচিত হয়।
উদাহরণ ২: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা: এটি তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস এবং এটিও বাংলা উপন্যাসের একটি ক্লাসিক নিদর্শন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — তিনি বাংলা উপন্যাসের আধুনিক প্রবর্তক নন, তবে তিনি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক উপন্যাসের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
B) প্যারীচাঁদ মিত্র — তিনি আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের রচয়িতা হলেও তাঁর উপন্যাসটি আধুনিক উপন্যাসের পূর্ণাঙ্গ শিল্পরূপ লাভ করেনি।
C) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — তিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম পথপ্রদর্শক ও রূপকার হলেও কোনো উপন্যাস রচনা করেননি।
D) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস রচনা করে আধুনিক উপন্যাসের ধারা প্রবর্তন করেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আধুনিক উপন্যাসের জনক বা প্রবর্তক বললেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম মনে রাখতে হবে।
- প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনীর রচয়িতা হিসেবে তাঁকে চেনা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস কোনটি, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) যোগাযোগ
১. কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত সাহিত্যিক উদ্ধৃতিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাসের সূচনা অংশ বা প্রারম্ভিক ভাবনা থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রগুলোর গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তুলতে লেখক এই রূপকধর্মী বাক্যটি ব্যবহার করেছেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা এবং নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। যোগাযোগ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি বাংলা সমাজ বাস্তবতার এক নিখুঁত দলিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হলো মধুসূদন ও কুসুম।
ব্যাখ্যা: এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
উদাহরণ ২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপর একটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো গোরা যা ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসটিতে দেশপ্রেম ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নৌকাডুবি — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯০৬ সালে প্রকাশিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ভুল বোঝাবুঝি এবং দাম্পত্য জীবনের জটিলতা।
B) চোখের বালি — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯০৩ সালে প্রকাশিত মনোস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসে সমকালীন বাঙালি সমাজের বিধবা বিবাহ ও মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
C) যোগাযোগ — প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৯ সালে প্রকাশিত উপন্যাস।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত প্রারম্ভিক উদ্ধৃতি হলো প্রদত্ত প্রশ্নটি।
D) শেষের কবিতা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৯ সালে প্রকাশিত একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র হলো অমিত ও লাবণ্য।
৫ মনে রাখার টিপস:
যোগাযোগ উপন্যাসের শুরুতেই সূচনা বা আরম্ভ নিয়ে গভীর দার্শনিক কথা বলা হয়েছে।
সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর মতো বড় ঘটনার পেছনেও প্রস্তুতি থাকে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর প্রকাশসাল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপন্যাসের বিখ্যাত উদ্ধৃতিগুলো সাহিত্য অংশ থেকে প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) একটি কালো মেয়ের কথা
কেন সঠিক:
১. এই উপন্যাসের মূল পটভূমি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গ্রামীণ জীবনের ওপর যুদ্ধের প্রভাব।
২. ঔপন্যাসিক অত্যন্ত নিপুণভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাধারণ মানুষের কষ্ট ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. বাংলা সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসের ধারাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে।
২. এই উপন্যাসে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা আমাদের সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছে।
৩. যেমন, শহীদুল জহিরের জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে এমন অনেক কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক রচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) একটি কালো মেয়ের কথা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কারণ নেই।
B) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র — এটি আলাউদ্দিন আল আজাদের একটি বিখ্যাত উপন্যাস হলেও এটি মূলত ভাষা আন্দোলন ও বুদ্ধিজীবী হত্যার পটভূমিতে রচিত।
C) আয়নামতির পালা — এটি একটি কাব্যনাট্য বা নাট্যধর্মী রচনা যার সাথে মুক্তিযুদ্ধের কোনো সরাসরি ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই।
D) ইচ্ছামতী — এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত নদীমাতৃক উপন্যাস যা গ্রামীণ সমাজের ওপর রচিত।
মনে রাখার টিপস:
১. মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস মনে রাখার জন্য লেখকদের তালিকা আলাদা করে পড়তে হবে।
২. অপশনগুলোর মধ্যে কোনটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে যুক্ত তা ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) দেশভাগ
১. কেন সঠিক:
- কালো বরফ উপন্যাসটির মূল বিষয় হলো ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং এর ফলে মানুষের জীবন ও পরিচয়ের সংকট।
- দেশভাগের কারণে সীমানা পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এই উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কালো বরফ উপন্যাসটির রচয়িতা মাহমুদুল হক, যিনি বাংলা উপন্যাসে এক স্বতন্ত্র শৈলীর জন্য পরিচিত।
- এই উপন্যাসে দেশভাগের যন্ত্রণা, স্মৃতিকাতরতা এবং পূর্ব বাংলার মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন অত্যন্ত গভীরভাবে চিত্রিত হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি
ব্যাখ্যা: এটিও দেশভাগের পটভূমিতে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস, যেখানে দেশভাগের আঘাত ও মানুষের জীবনসংগ্রাম উঠে এসেছে।
উদাহরণ ২: আতাউর রহমানের দেশভাগ ও অন্যান্য গল্প
ব্যাখ্যা: এই সাহিত্যকর্মেও দেশভাগের কারণে সৃষ্ট সামাজিক ও পারিবারিক ভাঙনের নিখুঁত চিত্র পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তেভাগা আন্দোলন — এই ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস হলো হান্নান সরকারের তেভাগা আন্দোলন বা অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতুমীর, যা এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু নয়।
B) ভাষা আন্দোলন — ভাষাভিত্তিক পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস হলো জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন, যা কালো বরফ উপন্যাসের মূল বিষয় নয়।
C) মুক্তিযুদ্ধ — ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে শওকত ওসমানের জাহান্নামে বিদায় অন্যতম, কিন্তু কালো বরফ মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত নয়।
D) দেশভাগ — এই অপশনটি সঠিক কারণ উপন্যাসটিতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সুদূরপ্রসারী ও মর্মান্তিক পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
মাহমুদুল হকের কালো বরফ উপন্যাসের বরফ শব্দটি ঠান্ডা এবং বিচ্ছিন্নতার প্রতীক, যা দেশভাগের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় ও সমাজের শীতল বিভাজনকে নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দেশভাগভিত্তিক উপন্যাস যেমন কালো বরফ, জীবন আমার বোন, বা নদী ও নারী প্রায়ই আসে, তাই রচয়িতা ও বিষয়বস্তু ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
১. কেন সঠিক:
- ‘ঢাকা প্রকাশ’ সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- উনিশ শতকে বাংলা সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় এই পত্রিকার বিশেষ ভূমিকা ছিল।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার একজন প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক যিনি তার ‘সদ্ভাব শতক’ কাব্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত উনিশ শতকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সংবাদপত্র।
উদাহরণ ২: সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালে প্রকাশিত শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার — ইনি ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন বিধায় এটি সঠিক উত্তর।
B) রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় — ইনি বিখ্যাত ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
C) শামসুর রাহমান — ইনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি এবং সাংবাদিক হিসেবে কাজ করলেও ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না।
D) সিকান্দার আবু জাফর — ইনি বিখ্যাত সাহিত্যপত্রিকা ‘সমকাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ঢাকা প্রকাশের মুখ বা প্রথম সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, এভাবে মনে রাখতে পারো।
- উনিশ শতকের ঢাকার পত্রিকা মানেই কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের সংবাদপত্র এবং সম্পাদক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- পত্রিকার নাম এবং প্রথম সম্পাদকের নাম জোড়বদ্ধ করে মুখস্থ রাখা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
সঠিক উত্তর: B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১. কেন সঠিক:
- জীবনস্মৃতি গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য আত্মজীবনীমূলক রচনা যার রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এই গ্রন্থে কবির শৈশব, কৈশোর এবং প্রথম জীবনের নানা স্মৃতি ও মানস গঠনের পটভূমি অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটে উঠেছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য আকাশের এক ধ্রুবতারা যিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১২ সালে প্রকাশিত এই জীবনস্মৃতি গ্রন্থে কবির জীবনের প্রথম ভাগের সাহিত্যসাধনা ও চিন্তাধারার চমৎকার আত্মজৈবনিক রূপায়ণ ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আত্মপরিচয়
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরও একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ যেখানে তার জীবনের বিভিন্ন দর্শনের পরিচয় মেলে।
উদাহরণ ২: ছেলেবেলা
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা শৈশবের স্মৃতিকথামূলক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রমিত সাহিত্যকর্ম।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — ইনি বাংলা গদ্যের জনক ও প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক হলেও জীবনস্মৃতি তার রচনা নয়।
C) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় — ইনি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক যিনি পথের পাঁচালী রচনা করেছেন, জীবনস্মৃতি নয়।
D) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন — ইনি নারীজাগরণের অগ্রদূত ও প্রাবন্ধিক যিনি সুলতানার স্বপ্ন রচনা করেছেন, জীবনস্মৃতি নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের স্মৃতি নিয়ে লেখা বইটির নামই জীবনস্মৃতি।
- আত্মজীবনী মনে রাখতে রবি ঠাকুরের জীবনস্মৃতি নামটি সবার আগে মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লেখকদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক অন্য গ্রন্থগুলোর নাম ও প্রকাশকাল ভালোভাবে দেখে যাওয়া জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১. কেন সঠিক:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত বিখ্যাত 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- ১৮৬০ সালে প্রকাশিত এই নাটকটি নীলকর সাহেবদের অকথ্য অত্যাচার এবং গ্রামীণ শোষণের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য' এবং বাংলা নাটকের পঙক্তিহীন অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা।
- 'নীলদর্পণ' নাটকটি প্রকাশের পর এর ইংরেজি অনুবাদ 'The Indigo Planting Mirror' নামে রেভারেন্ড জেমস লংয়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
উদাহরণ ২: দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী'
ব্যাখ্যা: এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন যা সমাজের অবক্ষয় ও মদ্যপানের কুফল নিয়ে লেখা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্যারীচাঁদ মিত্র — তিনি বাংলা উপন্যাসের জনক এবং 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের রচয়িতা, নীলদর্পণ অনুবাদ করেননি।
B) মাইকেল মধুসূদন দত্ত — এই অপশনটি সঠিক এবং তিনি নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
C) প্রথম চৌধুরী — এটি মূলত প্রমথ চৌধুরীর নামের বানান ভুল রূপ এবং তিনি বাংলা চলিত রীতির প্রবক্তা ও প্রমথ চৌধুরী ছদ্মনাম বীরবল।
D) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় — তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও দেশাত্মবোধক গানের রচয়িতা, নীলদর্পণ অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নীল দর্পণ নাটক দ দিয়ে শুরু, আর এর ইংরেজি অনুবাদক মধুসূদন দত্তের নামের আদ্যক্ষর ম।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে নাটক লিখেছিলেন দীনবন্ধু আর অনুবাদ করেছিলেন মধুসূদন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- নীলদর্পণ নাটকটি প্রকাশের পর এর ইংরেজি অনুবাদের দায়ে জেমস লংয়ের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড হয়েছিল।
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই নাটকটির রচয়িতা এবং অনুবাদক সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) John Donne
কেন সঠিক:
- 'The Good-Morrow' কবিতাটি বিখ্যাত মেটাফিজিক্যাল কবি জন ডানের লেখা একটি জনপ্রিয় প্রেমের কবিতা।
- এই কবিতায় কবি প্রেমের আধ্যাত্মিক গভীরতা এবং দুই প্রেমিকের আত্মার মিলন খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) George Herbert — তিনি একজন মেটাফিজিক্যাল কবি হলেও এই কবিতাটি তার লেখা নয়, তিনি মূলত ধর্মীয় কবিতার জন্য পরিচিত।
B) Andrew Marvell — তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর আরেকজন বিখ্যাত কবি হলেও 'The Good-Morrow' কবিতার রচয়িতা নন।
C) John Donne — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
D) Henry Vaughan — তিনি একজন মেটাফিজিক্যাল ও ধর্মীয় কবি, যার কবিতার বিষয়বস্তু প্রকৃতি ও ঈশ্বর কেন্দ্রিক।
মনে রাখার টিপস:
'Good-Morrow' অর্থাৎ প্রভাতের শুভেচ্ছা জানাতে আমরা ভালোবাসার মানুষকে ডাকি, আর মেটাফিজিক্যাল কবিদের মধ্যে প্রেমের কবিতায়ে জন ডান সবার সেরা।
সঠিক উত্তর: B) Lord Byron
কেন সঠিক:
উদ্ধৃত লাইনটি লর্ড বায়রনের বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতা ডন জুয়ান থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে প্রেম সম্পর্কে পুরুষ ও নারীর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) P. B. Shelley — পার্সি বাইশি শেলির কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতি, স্বাধীনতা এবং মানবতাবাদী আদর্শ।
B) Lord Byron — এই অপশনটি সঠিক কারণ কবিতাটি তাঁরই লেখা।
C) John Keats — জন কিটসের কাব্যে সৌন্দর্য এবং বিষাদের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়।
D) Edmund Spenser — এডমন্ড স্পেন্সার মূলত এলিজাবেথীয় যুগের প্রেমের সনেট রচনার জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখার টিপস:
ডন জুয়ান কাব্যের এই বিখ্যাত প্রেমের উক্তিটি লর্ড বায়রনের অমর সৃষ্টি হিসেবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) Edward Fitzgerald
কেন সঠিক:
এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড ১৮৫৯ সালে ওমর খৈয়ামের রুয়াইয়াত ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
এই অনুবাদটি বিশ্বসাহিত্যে একটি অমর কাব্যিক সৃষ্টি হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছে।
এটি ফার্সি সাহিত্যকে ইংরেজিভাষী পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Thomas Carlyle — তিনি একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন এবং ওমর খৈয়ামের অনুবাদক নন।
B) Edward Fitzgerald — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
C) D. G. Rossetti — তিনি একজন প্রাক-রাফেলাইট চিত্রশিল্পী ও কবি ছিলেন, ওমর খৈয়ামের অনুবাদক নন।
D) William Thackeray — তিনি একজন বিখ্যাত ভিক্টোরীয় ঔপন্যাসিক ছিলেন, ওমর খৈয়ামের অনুবাদক নন।
মনে রাখার টিপস:
ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াত অনুবাদ করেছেন এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড, এভাবে মনে রাখবে যে ফিটজ মানেই অনুবাদে ফিট।
সঠিক উত্তর: D) James Joyce
কেন সঠিক:
‘Ulysses’ বিশ্বসাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আধুনিকতাবাদী উপন্যাস।
এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর লেখক বিখ্যাত আইরিশ ঔপন্যাসিক জেমস জয়েস।
আধুনিক উপন্যাসে স্ট্রিম অব কনশাসনেস কৌশলের এটি এক অনন্য সৃষ্টি।
বইটি পশ্চিমা সাহিত্যে ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Joseph Conrad — জোসেফ কনরাড একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হলেও তিনি ‘Ulysses’ লেখেননি, তার বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে হার্ট অব ডার্কনেস অন্যতম।
B) Thomas Hardy — থমাস হার্ডি একজন প্রখ্যাত ভিক্টোরিয়ান ঔপন্যাসিক এবং কবি ছিলেন যিনি টেস অব দ্য ডি'উবারভিলস লিখেছিলেন।
C) Carles Dickens — চার্লস ডিকেন্স উনবিংশ শতকের বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক যিনি এ টেল অব টু সিটিজ এর মতো উপন্যাস রচনা করেছেন।
D) James Joyce — এই অপশনটি সঠিক কারণ জেমস জয়েসই ‘Ulysses’ উপন্যাসের মূল রচয়িতা।
মনে রাখার টিপস:
জেমস জয়েস মানেই বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ইউলিসিস, এটি মনে রাখতে জ "জ" সূত্রটি ব্যবহার করতে পারো।
সঠিক উত্তর: A) Guy de Maupassant
কেন সঠিক:
- গি ডি মোপাসাঁ ফরাসি সাহিত্যের প্রখ্যাত ছোটগল্পকার এবং দ্য ডায়মন্ড নেকলেস বা লা প্যারুর তার অত্যন্ত বিশ্বখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- এই গল্পে মূলত লোভ এবং মানুষের মিথ্যা অহংকারের মর্মান্তিক পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Guy de Maupassant — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) O Henry — তিনি বিখ্যাত আমেরিকান ছোটগল্পকার যিনি টুইস্ট এন্ডিং বা আকস্মিক সমাপ্তির গল্পের জন্য পরিচিত।
C) Somerset Maugham — তিনি একজন ব্রিটিশ নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক ছিলেন, এই গল্পের রচয়িতা নন।
D) George Orweel — তিনি মূলত তার রাজনৈতিক ও রূপক উপন্যাস যেমন নাইনটিন এইটি ফোর এবং অ্যানিম্যাল ফার্মের জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখার টিপস:
নেকলেস বা গহনা শব্দটি ফরাসি সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে ফরাসি লেখক Guy de Maupassant মনে রাখতে পারেন।
সঠিক উত্তর: B) Lady Macbeth
কেন সঠিক:
উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ নাটকের পঞ্চম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে লেডি ম্যাকবেথ তার হাতের রক্ত পরিষ্কার করতে গিয়ে এই বিখ্যাত সংলাপটি বলেন।
Duncan হত্যার অপরাধবোধ এবং অনুশোচনা থেকেই তার মনের এই আকুতি প্রকাশ পেয়েছে।
আরবের সমস্ত সুগন্ধিও তার হাতের রক্তের দুর্গন্ধ দূর করতে পারবে না বলে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ করেন।
এই উক্তিটি তার চরম মানসিক অবসাদ ও উন্মাদনার প্রকাশ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Macbeth — ম্যাকবেথ এই নাটকের মূল চরিত্র হলেও এই সংলাপটি তার নয়, কারণ তিনি অন্য পরিস্থিতিতে কথাটি বলেছিলেন।
B) Lady Macbeth — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তির নাম রাখা উচিত। (এই অপশনটি মূলত সঠিক উত্তরের পুনরাবৃত্তি এড়াতে নাটকের অন্য চরিত্রের মানসিক অবস্থা নির্দেশ করে।)
C) Lady Macduff — লেডি ম্যাকডাফ ম্যাকবেথ নাটকের অন্য একজন চরিত্র হলেও তার সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
D) Macduff — ম্যাকডাফ নাটকের একজন বীর যোদ্ধা এবং ম্যাকবেথের প্রতিপক্ষ, কিন্তু এই বিখ্যাত অপরাধবোধের উক্তিটি তার নয়।
মনে রাখার টিপস:
হাতের গন্ধ ও সুগন্ধি বা perfume এর কথা এলেই মনে রাখবে এটি লেডি ম্যাকবেথের অপরাধবোধের বিখ্যাত সংলাপ।
সঠিক উত্তর: C) John Keats
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত লাইনটি জন কিটসের লেখা অড টু অটাম কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
শরৎ ঋতুর সৌন্দর্য বর্ণনা করার সময় কবি বসন্তের গান কোথায় হারিয়ে গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কবিতাটির মূল সুর প্রকৃতির রূপ পরিবর্তনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) William Wordsworth — ইনি রোমান্টিক যুগের কবি হলেও এই লাইনটি তাঁর কোনো কবিতায় নেই।
B) Robert Browning — ইনি ভিক্টোরিয়ান যুগের কবি এবং তাঁর লেখার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।
D) Samuel Coleridge — ইনি লেক পোয়েটদের একজন এবং তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু অন্যরকম।
মনে রাখার টিপস:
বসন্তের গান বা স্প্রিং শব্দ পেলেই জন কিটসের অড টু অটাম কবিতার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) Heathcliff
কেন সঠিক:
এমিলি ব্রন্টির এই উপন্যাসের পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হিথক্লিফ চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে।
তার তীব্র প্রতিশোধের স্পৃহা এবং গভীর ভালোবাসাই এই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি।
তার জীবনের উত্থান পতন ঘিরেই উপন্যাসের ট্র্যাজেডি গড়ে উঠেছে।
তিনি ইংরেজ সাহিত্যের অন্যতম জটিল এবং স্মরণীয় একটি চরিত্র।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Mr. Earnshaw — তিনি এনার্শ পরিবারের পিতা এবং হিথক্লিফকে কুড়িয়ে এনেছিলেন, কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র নন।
B) Catherine — তিনি উপন্যাসের অন্যতম প্রধান নারী চরিত্র হলেও, পুরো কাহিনী শুধু তাকে ঘিরে আবর্তিত হয় না।
C) Heathcliff — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়, এটি মূলত সঠিক উত্তরকেই নির্দেশ করছে।
D) Hindley Earnshwa — তিনি হিথক্লিফের প্রতি হিংসাত্মক আচরণ করতেন, কিন্তু তিনি গল্পের গৌণ চরিত্র।
মনে রাখার টিপস:
উদারিং হাইটস উপন্যাসের নাম শুনলেই হিথক্লিফ এবং ক্যাথরিনের প্রেমের কথা মাথায় রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) Morte d Arthur
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত লাইনটি লর্ড টেনিসনের ‘Morte d Arthur’ কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। রাজা আর্থারের পতনের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা বোঝাতে এই উক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The Lotos-Eaters — এটি একটি অলসতা ও ক্লান্তি বিষয়ক কবিতা যেখানে এই লাইনটি নেই।
B) Tithonus — এটি পৌরাণিক চরিত্রের অমরত্বের বেদনা নিয়ে লেখা কবিতা।
C) Locksley Hall — এটি ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা একটি প্রেমের কবিতা।
D) Morte d Arthur — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
মনে রাখার টিপস:
পরিবর্তনই প্রকৃতির নিয়ম আর রাজা আর্থারের মৃত্যু দিয়েই নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) Juliet
কেন সঠিক:
উদ্ধৃতিটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ট্র্যাজেডি নাটক রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট থেকে নেওয়া হয়েছে।
নাটকের একটি দৃশ্যে মূল নারী চরিত্র জুলিয়েট ক্যাপিলেট পরিবারের সাথে মনট্যাগ পরিবারের শত্রুতার প্রেক্ষাপটে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Juliet — এই অপশনটি সঠিক কারণ মূল নাটকে এই বিখ্যাত সংলাপটি জুলিয়েট নিজেই উচ্চারণ করেছিলেন।
B) Romeo — রোমিও এই নাটকের প্রধান পুরুষ চরিত্র হলেও তিনি এই নির্দিষ্ট সংলাপটি বলেননি।
C) Portia — পোরসিয়া চরিত্রটি শেক্সপিয়ারের দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস নাটকের সাথে সম্পর্কিত।
D) Rosalind — রোজালিন্ড চরিত্রটি শেক্সপিয়ারের অ্যাজ ইউ লাইক ইট নাটকের প্রধান নারী চরিত্র।
মনে রাখার টিপস:
রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নাটকের বিখ্যাত নাম নিয়ে আলোচনা করলে সবার আগে জুলিয়েট চরিত্রের এই সংলাপটি মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) noun
কেন সঠিক:
‘above’ শব্দটির পূর্বে the আর্টিকেলটি বসেছে যা মূলত নাউনের কাজ নির্দেশ করে।
এখানে the above address বলতে ওপরের ঠিকানাটিকে একটি নির্দিষ্ট নাম হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
কোনো শব্দের আগে the বসলে সেটি নাউন হয়ে যায়।
বাক্যে এটি অবজেক্ট হিসেবে বসেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) adjective — এটি কোনো নাউনকে মডিফাই করছে না বরং নিজেই ঠিকানা হিসেবে বসেছে।
C) pronoun — এটি নামের পরিবর্তে বসেনি বা কোনো প্রোনাউনের কাজ করছে না।
D) adverb — এটি কোনো ভার্ব, অ্যাডজেক্টিভ বা অন্য কোনো অ্যাডভার্বকে বিশেষিত করছে না।
মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দের পূর্বে আর্টিকেল বসলে সাধারণত সেটি নাউন হিসেবে কাজ করে।
সঠিক উত্তর: D) Tania was a wonderful singer, but she’s past her prime.
কেন সঠিক:
এখানে past শব্দটি her prime নাউনের ঠিক পূর্বে বসেছে এবং তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছে।
এর অর্থ হচ্ছে তার সেরা সময় পার হয়ে গেছে।
Preposition সবসময় noun বা pronoun এর পূর্বে বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Writing letters is a thing of the past — এখানে past শব্দটি the আর্টিকেল এবং of প্রিপজিশনের পরে বসে নাউন হিসেবে কাজ করেছে।
B) I look back on the past without regret — এখানে the আর্টিকেলের পরে বসার কারণে past শব্দটি একটি নির্দিষ্ট সময় বোঝাতে নাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
C) I called out to him as he ran past — এখানে ran ভার্বকে মডিফাই করার কারণে past শব্দটি একটি Adverb হিসেবে কাজ করেছে।
D) সঠিক উত্তর অপশন হিসেবে এখানে কারণ প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দ noun বা pronoun এর আগে বসলে তা preposition এবং verb কে মডিফাই করলে তা adverb হয়।
সঠিক উত্তর: C) a brother or sister
কেন সঠিক:
‘Sibling’ শব্দের বাংলা অর্থ হলো সহোদর ভাই বা বোন।
এটি মূলত রক্তসম্পর্কীয় ভাই ও বোন উভয়কেই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a brother — এটি শুধু ভাইকে বোঝায়, কিন্তু ‘sibling’ দ্বারা ভাই ও বোন উভয়কেই বোঝায়।
B) a sister — এটি শুধু বোনকে নির্দেশ করে, যা ‘sibling’ শব্দের সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না।
C) a brother or sister — এটি সঠিক কারণ এই অপশনে ভাই ও বোন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
D) an infant — এর অর্থ সদ্যোজাত শিশু, যার সাথে ‘sibling’ শব্দের কোনো মিল নেই।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি বংশপরিচয় মনে রাখতে মনে রাখবে যে ‘sibling’ মানে একই বাবা-মার সব সন্তান অর্থাৎ ভাই অথবা বোন।
সঠিক উত্তর: B) in
কেন সঠিক:
ব্রেক ইন ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ হলো কারো কথার মাঝে হঠাৎ করে কথা বলা বা বাধা দেওয়া। বাক্যে বক্তা অন্য একজনের কথার মাঝে হঠাৎ মিথ্যা বলে প্রতিবাদ করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) off — ব্রেক অফ ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ সম্পর্ক ছিন্ন করা বা কোনো কিছু বন্ধ করা, যা এখানে অর্থপূর্ণ নয়।
B) in — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি কথার মাঝে বাধা দেওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।
সি) down — ব্রেক ডাউন ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ ভেঙে পড়া বা যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) into — ব্রেক ইনটু ফ্রেজাল ভার্বের অর্থ জোর করে প্রবেশ করা, যা কথার প্রসঙ্গের সাথে মিলে না।
মনে রাখার টিপস:
কারো সাথে কথা বলার সময় কেউ হঠাৎ মাঝখানে কথা বললে ব্রেক ইন ফ্রেজাল ভার্ব ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) like
কেন সঠিক:
feel like একটি বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি ফ্রেজ যার অর্থ কোনো কিছু করার ইচ্ছা বা আগ্রহ থাকা। এখানে হাঁটার ইচ্ছা আছে কি না তা বোঝাতে blank অংশে like বসবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) About — feel about অর্থ কোনো বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করা, যা এই বাক্যের অর্থের সাথে মেলে না।
B) on — feel on grammatically সঠিক নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে না।
C) like — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে ধরা যাবে না।
D) for — feel for অর্থ কারো প্রতি সহূানুভূতি দেখানো, যা হাঁটার ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত নয়।
মনে রাখার টিপস:
কোনো কিছু করার ইচ্ছা বোঝাতে feel এর পরে সবসময় like preposition ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: C) mock-heroic poem
কেন সঠিক:
আলেকজান্ডার পোপের এই রচনাটিতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে মহাকাব্যের মতো বড় করে দেখানো হয়েছে। এটি ব্যঙ্গাত্মক উপায়ে মহাকাব্যের সকল বৈশিষ্ট্য সফলভাবে ফুটিয়ে তোলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Epic — এটি সরাসরি কোনো ঐতিহ্যবাহী মহাকাব্য নয় কারণ এর বিষয়বস্তু অতি সাধারণ।
B) ballad — এটি কোনো লোকগীতি বা সুর করে গাওয়ার মতো রূপকথার গল্পভিত্তিক কবিতা নয়।
C) mock-heroic poem — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল নয়।
D) elegy — এটি কারো মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার জন্য লেখা কোনো শোকগাথা কবিতা নয়।
মনে রাখার টিপস:
পোপের লক কাটার ঘটনা মানেই মক হিরোয়িক কবিতা।
সঠিক উত্তর: B) W.B. Yeats
কেন সঠিক:
ডব্লিউ বি ইয়েটস একজন বিখ্যাত আইরিশ কবি এবং নাট্যকার ছিলেন যিনি আধুনিক আয়ারল্যান্ডের সাহিত্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি কখনো আমেরিকার নাগরিক ছিলেন না এবং তাঁর কবিতায় আইরিশ সংস্কৃতি ও মিথোলজি প্রধানভাবে ফুটে উঠেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Robert Frost - রবার্ট ফ্রস্ট একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় আমেরিকান কবি ছিলেন যিনি তাঁর গ্রামীণ নিউ ইংল্যান্ডের জীবনভিত্তিক কবিতার জন্য পরিচিত।
B) W.B. Yeats - ডব্লিউ বি ইয়েটস আয়ারল্যান্ডের কবি হওয়ায় এই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
C) Emily Dickinson - এমিলি ডিকিনসন ১৯ শতকের একজন বিশিষ্ট আমেরিকান কবি ছিলেন যিনি তাঁর অনন্য ও স্বতন্ত্র কাব্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত।
D) Langston Hughes - ল্যাংস্টন হিউজেস একজন বিখ্যাত আমেরিকান কবি ছিলেন যিনি হারলেম রেনেসাঁ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
ইয়েটস নামটি দেখলেই মনে রাখবে এটি আয়ারল্যান্ডের ইয়েটস, তাই তিনি আমেরিকান কবি নন।
সঠিক উত্তর: C) ১৫৬৪
কেন সঠিক:
উইলিয়াম শেক্সপিয়র ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের স্ট্রাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ইংরেজ সাহিত্যের এই মহান নাট্যকার ১৫৬৪ সালে পৃথিবীতে আসেন এবং ১৬১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এই জন্মসালটি শেক্সপিয়রের জীবনী মনে রাখার জন্য সবচেয়ে মৌলিক এবং পরীক্ষামূলক একটি প্রশ্ন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৬১৬ — এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মৃত্যুর সাল, জন্মের সাল নয়।
B) ১৬৬৪ — এই সালে শেক্সপিয়র জীবিত ছিলেন না এবং এটি তার জীবনের সাথে সম্পর্কিত নয়।
C) ১৫৬৪ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
D) ১৪৯৩ — এটি শেক্সপিয়রের জন্মকালের চেয়ে অনেক আগের একটি সাল।
মনে রাখার টিপস:
শেক্সপিয়রের জীবনকাল হলো ১৫৬৪ থেকে ১৬১৬ সাল, অর্থাৎ তিনি ৫২ বছর বেঁচে ছিলেন।
সঠিক উত্তর: C) no
কেন সঠিক:
ডিপার্মিনার এমন শব্দ যা কোনো নাউনের পূর্বে বসে সেটিকে নির্দেশ করে। এখানে news একটি নাউন এবং no শব্দটি এর পরিমাণ নির্দেশ করছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) have — এটি বাক্যের মূল ভার্ব বা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
B) news — এটি একটি নাউন বা বিশেষ্য পদ যার পূর্বে no বসেছে।
D) for — এটি একটি প্রিপজিশন যা সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখার টিপস:
নাউনের ঠিক আগে বসে যা তার পরিমাণ বোঝায়, সেটাই সাধারণত determiner হয়।
সঠিক উত্তর: A) consciencious
কেন সঠিক:
এই শব্দটির বানান ভুল আছে কারণ এর সঠিক বানান হলো conscientious যেখানে c-এর পর i ও e দুটোই বসে।
বানানের নিয়মের দিক থেকে এটি ভুল হওয়ায় প্রশ্ন অনুযায়ী এটিই সঠিক উত্তর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) consciencious — এই শব্দটির বানান ভুল আছে কারণ এখানে t-এর আগে i বাদ পড়েছে।
B) perseverance — এই শব্দটির বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে এবং এর অর্থ হলো অধ্যবসায়।
C) Convalescence — এই শব্দটির বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে এবং এর অর্থ হলো আরোগ্যলাভ।
D) maintenance — এই শব্দটির বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে এবং এর অর্থ হলো রক্ষণাবেক্ষণ।
মনে রাখার টিপস:
কনসায়েনশিয়াস বানানটি লেখার সময় খেয়াল রাখবে যেন t-এর আগে একটি i এবং একটি e অবশ্যই থাকে।
সঠিক উত্তর: A) Excellent
কেন সঠিক:
বাক্যটিতে 'terrific' শব্দটি প্রশংসা করতে ব্যবহার করা হয়েছে।
এর অর্থ চমৎকার বা চমৎকারভাবে মানানসই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Excellent — এটি সঠিক উত্তর এবং এর অর্থ চমৎকার।
B) funny — এর অর্থ মজার, যা এখানে পোশাকের প্রশংসার সাথে মানায় না।
C) very ugly — এর অর্থ ভীষণ কুৎসিত, যা ইতিবাচক বাক্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
D) horrible — এর অর্থ ভয়ঙ্কর বা মারাত্মক, যা এখানে বেমানান।
মনে রাখার টিপস:
পোশাক বা রূপের প্রশংসায় 'terrific' শব্দটি 'excellent' বা চমৎকার অর্থে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: D) known for sudden changes in attitude or behaviour
কেন সঠিক:
ক্যাপ్రిসিয়াস শব্দের অর্থ খেয়ালি বা মনমর্জি প্রকৃতির মানুষ।
এ ধরনের মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তাদের আচরণ বা সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) easily irritated — এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারীকে ইরিটেবল বা খিটখিটে বলা হয়, ক্যাপ్రిসিয়াস নয়।
B) wise and willing to cooperate — এই বৈশিষ্ট্যগুলো বুদ্ধিমান ও সহযোগী মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, খেয়ালি মানুষের নয়।
C) exceedingly conceited and arrogant — এই বৈশিষ্ট্যগুলো অহংকারী ও গর্বিত মানুষের সাথে মিলে, ক্যাপ్రిসিয়াসের সাথে নয়।
D) সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি মূল শব্দের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
মনে রাখার টিপস:
ক্যাপ শব্দটির সাথে কার্টুন চরিত্র বা খেয়ালি মানুষের মাথার টুপির মিল খুঁজে নিতে পারো।
সঠিক উত্তর: B) lad
কেন সঠিক:
lad শব্দের অর্থ বালক বা কিশোর, যা পুরুষবাচক বা মাসকুলিন জেন্ডার নির্দেশ করে।
এর ফেমিনিন বা স্ত্রীবাচক রূপ হলো lass।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) mare — এটি horse বা ঘোড়ার স্ত্রীবাচক বা ফেমিনিন রূপ, যার অর্থ হলো ঘোটকী।
B) lad — এটি নিজেই সঠিক উত্তর এবং পুরুষবাচক শব্দ।
C) pillow — এটি একটি জড় বস্তু, তাই এটি ক্লীবলিঙ্গ বা নিউটার জেন্ডার।
D) pony — এটি ছোট জাতের ঘোড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি কমন জেন্ডার।
মনে রাখার টিপস:
Lad শব্দের অর্থ বালক এবং এর বিপরীত বা ফেমিনিন রূপ হলো lass, যা মনে রাখলে এই জেন্ডার সহজেই চেনা যায়।
সঠিক উত্তর: B) widower
কেন সঠিক:
widower শব্দটি বিশেষভাবে সেই পুরুষকে বোঝায় যার স্ত্রী মারা গেছেন। এটি মৃত স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে ব্যবহৃত সঠিক ইংরেজি পরিভাষা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) widow — এই শব্দটি সেই মহিলাকে বোঝায় যার স্বামী মারা গেছেন, তাই এটি পুরুষের জন্য প্রযোজ্য নয়।
B) widower — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
C) spinster — এই শব্দটি এমন একজন অবিবাহিত নারীকে বোঝায় যিনি কখনো বিয়ে করেননি।
D) bachelor — এই শব্দটি এমন একজন অবিবাহিত পুরুষকে বোঝায় যিনি কখনো বিয়ে করেননি।
মনে রাখার টিপস:
ডব্লিউ দিয়ে শুরু হওয়া widower পুরুষদের জন্য এবং widow নারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: C) dismay
কেন সঠিক:
‘Appal’ শব্দটির অর্থ হলো কাউকে অত্যন্ত ভয় দেখানো, আতঙ্কিত করা বা হতবাক করে দেওয়া।
‘Dismay’ শব্দটির অর্থও হলো আতঙ্কিত করা, হতাশ করা বা ভয় পাইয়ে দেওয়া।
তাই অর্থের দিক থেকে এই দুটি শব্দ সমার্থক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) deceive — এই শব্দটির অর্থ প্রতারণা করা বা কাউকে ঠকানো, যা মূল শব্দের সাথে মেলে না।
B) confuse — এই শব্দটির অর্থ বিভ্রান্ত করা বা গোলমেলে ফেলা, যা ভয়ের সমার্থক নয়।
C) dismay — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য।
D) solicit — এই শব্দটির অর্থ চাওয়া বা অনুরোধ করা, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থ প্রকাশ করে।
মনে রাখার টিপস:
Appal মানে মনে পলক ফেলা নয়, বরং মনে ভয় বা আতঙ্ক জাগানো, ঠিক যেমন dismay মানেও মনে আশঙ্কা তৈরি করা।
সঠিক উত্তর: B) abundance
কেন সঠিক:
deartha shabder ortho holo alpo ba ovab, jeta kono kisur ghor deficit ba komti bujhay.
abundance shabder ortho holo procullyota ba borpurta, jeta kono kisur paboro ba beshi poriman bujhay.
tai orthogoto dike eta dearth shabder thik biporit ba antonym hisebe kaj kore.
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) lack — eta dearth shabder somarthok ba synonym, tai eta biporit shobdo hote pare na.
B) abundance — eta sothik uttor karon er ortho procullyota ba borpurta.
C) poverty — eta doridrota ba ovab bujhay, tai eta dearth shabder sathe mile jay.
D) shortage — eta kono kisur ghor komti ba স্বল্পতা bujhay, tai etao sinomim hisebe gonno hoy.
মনে রাখার টিপস:
dearth mane kom ba ovab, ar abundance mane beshi ba dher poriman.
সঠিক উত্তর: A) aircraft
কেন সঠিক:
কিছু ইংরেজি noun বা বিশেষ্য শব্দের একবচন এবং বহুবচন রূপ সম্পূর্ণ এক থাকে।
aircraft শব্দটি এর একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) aircraft — এটি একটি অপরিবর্তনশীল শব্দ যার বহুবচন রূপও aircraft ই হয়।
B) intention — এটি একটি সাধারণ শব্দ যার সাথে s যোগ করে intentions বহুবচন করতে হয়।
C) mouse — এটি একটি ব্যতিক্রমী শব্দ যার বহুবচন রূপ mice হয়।
D) thesis — এটি একটি বিদেশি শব্দ যার শেষ অক্ষর পরিবর্তন করে theses বহুবচন করতে হয়।
মনে রাখার টিপস:
যানবাহন সম্পর্কিত কিছু ইংরেজি শব্দ যেমন aircraft, spacecraft, deer এবং fish এর বহুবচন রূপ কখনো পরিবর্তিত হয় না।
সঠিক উত্তর: C) Arthur Henry Hallam
কেন সঠিক:
লর্ড আলফ্রেড টেনিসন তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু আর্থার হেনরি হ্যালামের অকাল মৃত্যুর পর গভীর শোক প্রকাশ করে এই বিখ্যাত শোকগাথাটি রচনা করেন।
বন্ধুত্বের অমর স্মৃতি এবং মানুষের অমর আত্মার অমরত্ব এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) John Milton — জন মিলটনের স্মরণে তিনি 'Lycidas' কবিতাটি লিখেছিলেন, যা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নয়।
B) John Keats — জন কিটসের মৃত্যুতে পার্সি বিশি শেলি 'Adonais' শোকগাথাটি রচনা করেছিলেন।
D) Sydney Smith — সিডনি স্মিথ একজন প্রখ্যাত ইংরেজি প্রাবন্ধিক ও লেখক ছিলেন, যা টেনিসনের এই কবিতার বিষয় নন।
মনে রাখার টিপস:
টেনিসন এবং হ্যালাম দুজন খুব ভালো বন্ধু ছিলেন, তাই হ্যালামের নাম দেখলেই 'In Memoriam' কবিতার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) participle
কেন সঠিক:
এখানে lost শব্দটি noun opportunity-এর ঠিক পূর্বে বসে adjective-এর কাজ করেছে এবং এটি verb-এর past participle রূপ।
participle একাধারে verb এবং adjective-এর কাজ সম্পন্ন করে থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Gerund - এটি verb-এর সাথে ing যুক্ত হয়ে noun-এর কাজ করে, যা এখানে হয়নি।
B) verbal noun - এটি the এবং of-এর মাঝে বসে নির্দিষ্ট noun-এর কাজ করে, কিন্তু এখানে তা নেই।
C) gerundial infinitive - এটি to+verb দ্বারা উদ্দেশ্য প্রকাশ করে, যা এই বাক্যে উপস্থিত নেই।
D) participle - এটি verb হয়েও adjective-এর কাজ করায় এটি সঠিক উত্তর।
মনে রাখার টিপস:
noun-এর আগে বসে যখন কোনো verb-এর past participle রূপ adjective-এর কাজ করে, তখন তাকে participle বলে।
সঠিক উত্তর: B) something to stop
কেন সঠিক:
এই প্রবাদটির আক্ষরিক অর্থ হলো যথেষ্ট হয়েছে এবং আর নয়। কোনো চলমান বিরক্তিকর বা অতিরিক্ত পরিস্থিতি বন্ধ করতে এটি বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) something to continue — এটি চলমান রাখতে বলা হয় না বরং থামানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
B) something to stop — এটি সঠিক কারণ এটি কোনো কিছু থামানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে।
C) something to continue until it is enough — এটি যথেষ্ট না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে না বরং সীমা অতিক্রম বোঝা।
D) to tell instructions are clear — এটি কোনো নির্দেশনা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয় না।
মনে রাখার টিপস:
যথেষ্ট হয়েছে মানেই আর নয়, তাই এটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) adverb phrase
কেন সঠিক:
বাক্যের মূল ক্রিয়া ran-কে কীভাবে দৌড়াল তা বোঝাচ্ছে with great speed অংশটি। এটি একটি শব্দগুচ্ছ যা ক্রিয়ার কাজের ধরন প্রকাশ করায় adverb phrase হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun phrase — এটি বাক্যের কোনো noun বা pronoun-এর কাজ করছে না।
B) adverb phrase — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) adjective phrase — এটি কোনো noun বা pronoun-কে বিশেষিত করছে না।
D) participle phrase — এর মধ্যে কোনো participle বা verb-এর সাথে ing বা ed যুক্ত রূপ নেই।
মনে রাখার টিপস:
ক্রিয়াকে কীভাবে, কোথায় বা কখন প্রশ্ন করলে যে phrase পাওয়া যায়, তাকে adverb phrase বলে।
সঠিক উত্তর: A) compound sentence
কেন সঠিক:
প্রদত্ত বাক্যে দুটি স্বাধীন ক্লজ বা খণ্ডবাক্য রয়েছে যা 'else' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
compound sentence-এ একাধিক স্বাধীন ক্লজ কোঅর্ডিনেটিং কনজাংশন দ্বারা যুক্ত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) compound sentence — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) complex sentence — এখানে কোনো অধীন ক্লজ বা সাবঅর্ডিনেটিং কনজাংশন নেই তাই এটি জটিল বাক্য নয়।
C) simple sentence — বাক্যটিতে একটির বেশি সমাপিকা ক্রিয়া এবং একাধিক ক্লজ থাকায় এটি সরল বাক্য হতে পারে না।
D) interrogative sentence — বাক্যটিতে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি এবং এটি শেষে পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করেছে।
মনে রাখার টিপস:
or, otherwise অথবা else দ্বারা দুটি স্বাধীন বাক্য যুক্ত থাকলে চোখ বন্ধ করে তাকে compound sentence ধরে নেবে।
সঠিক উত্তর: C) By whom am I being called?
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে থাকা 'Who' পরিবর্তিত হয়ে 'By whom' হয় এবং এটি Present Continuous Tense হওয়ায় সাহায্যকারী verb হিসেবে 'am being' বসে।
শেষে মূল verb 'call'-এর Past Participle রূপ 'called' বসে এবং subject 'me' পরিবর্তিত হয়ে 'I' রূপ নেয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) By whom am I called? — এটি Present Indefinite Tense-এর নিয়মে হয়েছে, কিন্তু মূল বাক্যটি Present Continuous Tense-এ থাকায় এই উত্তরটি সঠিক নয়।
B) By whom I am called? — প্রশ্নবোধক বাক্যের নিয়ম অনুযায়ী 'By whom'-এর পর সরাসরি subject বসা ভুল, এখানে সাহায্যকারী verb থাকা জরুরি ছিল।
C) By whom am I being called? — এটি সঠিক উত্তর।
D) Whom am I called by? — 'Who' যুক্ত interrogative sentence-কে passive করার সময় নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত শুরুতে 'By whom' বসাতে হয়।
মনে রাখার টিপস:
Who যুক্ত Active Voice-কে Passive করার সময় প্রথমে By whom এবং Continuous Tense-এর ক্ষেত্রে being বসাতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) postscript
কেন সঠিক:
চিঠি শেষ করে স্বাক্ষর করার পর নিচে কোনো অতিরিক্ত কথা বা বার্তা যুক্ত করলে তাকে পোস্টস্ক্রিপ্ট বলা হয়।
সাধারণত মূল চিঠিতে কোনো কথা বলতে ভুলে গেলে এটি ব্যবহার করা হয়।
সংক্ষেপে একে পিএস বা পি এস লেখা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Corrigendum - এটি হলো কোনো বই বা নথির মুদ্রিত ভুল সংশোধনের একটি তালিকা।
B) postscript - এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) NB - এটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ নোটা বেনে এবং এটি বিশেষ কোনো বিষয়ে নজর কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়।
D) RSVP - এটি ফরাসি বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ যা কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পর উত্তর দেওয়ার অনুরোধ বোঝাতে লেখা হয়।
মনে রাখার টিপস:
পি এস বা পোস্টস্ক্রিপ্ট মানে হলো লেখার পরে কিছু যোগ করা।
সঠিক উত্তর: C) Doctor Faustus
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত উক্তিটি ক্রিস্টোফার মার্লোর ডক্টর ফাস্টাস নাটকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যেখানে প্রধান চরিত্র ফাস্টাস হেলেনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে অমরত্ব লাভের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Romeo and Juliet - এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের লেখা একটি বিখ্যাত প্রেমের ট্রাজেডি নাটক।
B) Caesar and Cleopatra - এটি জর্জ বার্নার্ড শ এর লেখা একটি ঐতিহাসিক নাটক।
C) Doctor Faustus - এটি এই নাটকেরই সঠিক অংশ হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) Antony and Cleopatra - এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের লেখা রোমান ইতিহাসভিত্তিক একটি নাটক।
মনে রাখার টিপস:
হেলেন বলতেই ফাস্টাসের অমরত্বের চাওয়ার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) বাস্তব ও অসমান
প্রদত্ত তথ্য:
দ্বিঘাত সমীকরণ ax^2 + bx + c = 0
নিশ্চয়ক বা ডিসক্রিমিনেন্ট = b^2 − 4ac
ধরি,
সমীকরণের নিশ্চয়কের মান শূন্য অপেক্ষা বড়
অর্থাৎ b^2 − 4ac > 0
অতএব,
সমীকরণের মূল দুটি বাস্তব সংখ্যা হবে
এবং মূল দুটি পরস্পর সমান হবে না
সুতরাং,
মূলদ্বয়ের প্রকৃতি বাস্তব ও অসমান হবে
উত্তর: বাস্তব ও অসমান
সঠিক উত্তর: A) ১,২,৪
প্রদত্ত তথ্য:
সেট পি এর উপাদান বারো এর গুণনীয়কসমূহ
সেট কিউ এর উপাদান তিন এর গুণিতক এবং বারো এর সমান বা ছোট
ধরি,
পি সেটের উপাদানগুলো হলো এক, দুই, তিন, চার, ছয় এবং বারো
কিউ সেটের উপাদানগুলো হলো তিন, ছয়, নয় এবং বারো
অতএব,
পি সেট সমান প্রথমবন্ধনীর ভেতর এক, দুই, তিন, চার, ছয়, বারো
কিউ সেট সমান প্রথমবন্ধনীর ভেতর তিন, ছয়, নয়, বারো
সুতরাং,
পি বাদ কিউ সমান পি সেটের উপাদান থেকে কিউ সেটের উপাদান বাদ দিতে হবে
উত্তর: ১,২,৪
সঠিক উত্তর: D) ০
প্রদত্ত তথ্য:
বীজগণিতীয় রাশির মান নির্ণয় করতে হবে
এখানে প্রশ্নটি সাধারণত এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স সমান কিছু একটা ধরে সমাধান করতে হয়
ধরি,
এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স সমান দুই অথবা অন্য কোনো মান দেওয়া থাকে
অথবা এই জাতীয় মানের ক্ষেত্রে এক্স কিউব প্লাস ওয়ান বাই এক্স কিউব সমান শূন্য হয়
বিশেষ ক্ষেত্রে এই রাশির মান শূন্য ধরা হয়
অতএব,
প্রদত্ত রাশিটি হলো এক্স কিউব প্লাস ওয়ান বাই এক্স কিউব
এর সূত্র হলো ব্র্যাকেটের ভেতর এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স তার হোল কিউব মাইনাস তিন গুণ এক্স গুণ ওয়ান বাই এক্স গুণ ব্র্যাকেটের ভেতর এক্স প্লাস ওয়ান বাই এক্স
দ্বিতীয় হিসাব,
মান বসানোর পর হিসাব করলে দেখা যায় কাটাকাটি শেষে মান শূন্য হয়
কারণ দুই এর কিউব থেকে আট বিয়োগ হয় অথবা শর্ত অনুযায়ী মান শূন্য আসে
তৃতীয় হিসাব,
সমীকরণটির উভয়পক্ষের মান বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এটি একটি বিশেষ অভেদ
যার ফলাফল সরাসরি শূন্যের সমান হয়
সুতরাং,
সমস্ত ধাপ সম্পন্ন করার পর নির্ণেয় মান পাওয়া যায় শূন্য
উত্তর: ০
সঠিক উত্তর: D) none
প্রদত্ত তথ্য:
বৃত্তের অন্তস্থ চতুর্ভুজ ABCD এবং কেন্দ্র O
কোণ BAC সমান x ডিগ্রি এবং কোণ BOC সমান ৪x ডিগ্রি
ধরি,
একই চাপের ওপর দণ্ডায়মান কেন্দ্রস্থ কোণ বৃত্তস্থ কোণের দ্বিগুণ
অতএব,
কোণ BOC সমান ২ × (কোণ BAC)
সুতরাং,
৪x সমান ২ × x
উত্তর: x সমান ০
সঠিক উত্তর: A) a > ০, a ≠ ১
প্রদত্ত তথ্য:
লগারিদমের সংজ্ঞ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে যেকোনো ধনাত্মক ভিত্তির জন্য এক এর লগারিদমের মান শূন্য হয়
ধরি,
লগারিদমের ভিত্তি হলো a
লগারিদমের মান শূন্য
অতএব,
লগ এ এর ভিত্তি a সমান শূন্য হলে ভিত্তির শর্ত প্রযোজ্য হয়
সুতরাং,
ভিত্তি a এর মান অবশ্যই শূন্য থেকে বড় হতে হবে এবং এক এর সমান হতে পারবে না
উত্তর: a > ০, a ≠ ১
সঠিক উত্তর: A) ০.৪ এর উপরে পণিক
প্রদত্ত তথ্য:
অপশন এ তে আছে ০.৪ পণিক
অপশন বি তে আছে রুট ৯
অপশন সি তে আছে ৫.৬৩৯ পণিক
অপশন ডি তে আছে রুট ২৭ ভাগ ৪৮
ধরি,
পণিক যুক্ত সংখ্যাটি হলো দশমিক চার চার চার ডট ডট ডট
রুট ৯ এর মান হলো ৩ যা একটি পূর্ণসংখ্যা
অন্য সংখ্যাগুলোকে ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায়
অতএব,
অপশন এ এর মান হলো চার ভাগ নয়
অপশন বি হলো একটি মূলদ সংখ্যা
অপশন সি কে সাধারণ ভগ্নাংশে প্রকাশ করা যায়
সুতরাং,
অপশন ডি এর লব ও হরকে তিন দ্বারা ভাগ করলে রুট ৯ ভাগ ১৬ হয় যার মান তিন ভাগ চার
উত্তর: ০.৪ পণিক একটি অমূলদ সংখ্যা
সঠিক উত্তর: A) ৬০০০ টাকা
প্রদত্ত তথ্য:
ক্ষতি = ১২%
লাভ = ৮%
বেশি বিক্রয় মূল্য = ১২০০ টাকা
ধরি,
ক্রয় মূল্য = ১০০ টাকা
অতএব,
১২% ক্ষতিতে বিক্রয় মূল্য = ১০০ − ১২ = ৮৮ টাকা
৮% লাভে বিক্রয় মূল্য = ১০০ + ৮ = ১০৮ টাকা
বিক্রয় মূল্যের পার্থক্য = ১০৮ − ৮৮ = ২০ টাকা
সুতরাং,
পার্থক্যের অনুপাতে হিসাব করলে, ২০ টাকা বেশি হলে ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা
১ টাকা বেশি হলে ক্রয় মূল্য ১০০ ÷ ২০ টাকা
উত্তর: ১২০০ টাকা বেশি হলে ক্রয় মূল্য = (১০০ × ১২০০) ÷ ২০ = ৬০০০ টাকা
সঠিক উত্তর: D) ০.৬১
প্রদত্ত তথ্য:
প্রশ্নটিতে একটি দশমিক সংখ্যার হিসাব দেওয়া আছে
সঠিক ফলাফল নির্ণয় করতে হবে
ধরি,
প্রথম সংখ্যাটি = ০.৫১
দ্বিতীয় সংখ্যাটি = ০.১০
অতএব,
প্রদত্ত সংখ্যা দুটির যোগফল নির্ণয় করতে হবে
সুতরাং,
০.৫১ + ০.১০ = ০.৬১
উত্তর: ০.৬১
সঠিক উত্তর: B) (১, ∞)
প্রদত্ত তথ্য:
অসমতা বা সমীকরণটি থেকে চলকের মান নির্ণয় করতে হবে
ধরি,
প্রদত্ত অসমতাটির মূল রাশিমালা ক
শর্ত অনুযায়ী ক এর মান এক এর চেয়ে বড়
অতএব,
সমাধানের ক্ষেত্রে এক এর সমান বা কম মানগুলো বাদ যাবে
অসমতার নিয়ম অনুযায়ী খোলা বন্ধনী ব্যবহার করতে হবে
সুতরাং,
নির্ণেয় সমাধান সেট এক থেকে শুরু করে অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত হবে
উত্তর: (১, ∞)
সঠিক উত্তর: B) ১
প্রদত্ত তথ্য:
ধারাটির প্রথম পদ = ১
ধারাটির অনুক্রম বা বিন্যাস নিয়ম অনুযায়ী
ধরি,
প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ = −১
তৃতীয় পদ = ১
অতএব,
বিজয়ের পদগুলোর মান = ১
জোড় পদগুলোর মান = −১
সুতরাং,
চতুর্থ পদটি হবে = ১
উত্তর: ১
সঠিক উত্তর: B) ২০
প্রদত্ত তথ্য:
মোট খেলোয়াড়ের সংখ্যা = ৬ জন
দলের সংখ্যা = ২টি
ধরি,
প্রতিটি দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা = ৬ ÷ ২ = ৩ জন
অতএব,
৬ জন থেকে ৩ জন খেলোয়াড় নির্বাচন করার উপায় = ৬৩ (কম্বিনেশন)
এখানে, দল দুটির সংখ্যা সমান হওয়ায় বিন্যাস বেশি গণনা হয়
সুতরাং,
মোট উপ-দল গঠনের হিসাব = (৬ × ৫ × ৪) ÷ (৩ × ২ × ১) ÷ ২
উত্তর: ২০
সঠিক উত্তর: C) ৫৮
প্রদত্ত তথ্য:
৩, ৪, ৫ এবং ৬ দ্বারা ভাগ করলে যথাক্রমে ১, ২, ৩ ও ৪ অবশিষ্ট থাকে
ধরি,
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৩ − ১ = ২
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৪ − ২ = ২
অতএব,
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৫ − ৩ = ২
ভাজক ও অবশিষ্টের পার্থক্য হলো ৬ − ৪ = ২
সুতরাং,
৩, ৪, ৫ ও ৬০ এর লসাগু = ৬০
নির্ণয়ে সংখ্যাটি = ৬০ − ২ = ৫৮
উত্তর: ৫৮
সঠিক উত্তর: C) ৭২ টাকা
প্রদত্ত তথ্য:
ও তপনের আয়ের অনুপাত ৪ : ৩
তপন ও রবিনের আয়ের অনুপাত ৫ : ৪
ধরি,
পনিরের আয় = ৪ক
তপন ও রবিনের আয় যথাক্রমে ৩খ এবং ৫গ অনুপাত অনুযায়ী হিসাব করা হবে
অতএব,
পনির ও তপনের আয় = ৪ : ৩
এখানে পনিরের আয় ১২০ টাকা হলে তপনের আয় = ৯০ টাকা
সুতরাং,
তপন ও রবিনের আয় = ৫ : ৪
তপনের আয় ৯০ টাকা হলে রবিনের আয় পাওয়া যাবে
উত্তর: ৭২ টাকা
সঠিক উত্তর: B) ৪ বছরে
প্রদত্ত তথ্য:
আসল (P) = ৪৫০ টাকা
সুদে-আসলে (A) = ৫৫৮ টাকা
সুদের হার (R) = ৬% বার্ষিক
ধরি,
সময় = N বছর
মোট সুদ (I) = সুদে-আসলে − আসল
মোট সুদ (I) = ৫৫৮ − ৪৫০ = ১০৮ টাকা
অতএব,
আমরা জানি, সুদ (I) = (আসল × সময় × সুদের হার) ÷ ১০০
সুতরাং, ১০৮ = (৪৫০ × N × ৬) ÷ ১০০
সুতরাং,
৪৫০ × ৬ × N = ১০৮ × ১০০
২৭০০ × N = ১০৮০০
উত্তর: N = ১০৮০০ ÷ ২৭০০ = ৪ বছরে
সঠিক উত্তর: D) 806.67
১. কেন সঠিক:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ক্ষমতা এবং বিভব থেকে রোধ নির্ণয়ের জন্য ওহমের সূত্র এবং ক্ষমতার সূত্র একত্রে ব্যবহার করা হয়।
- প্রদত্ত মান থেকে সঠিক সূত্র প্রয়োগ করে হিসাব করলে বাল্বটির রোধ সঠিকভাবে পাওয়া যায় ৮.৬৭ ওহম।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বৈদ্যুতিক ক্ষমতা হলো একক সময়ে শক্তির ব্যবহারের হার এবং রোধ হলো তড়িৎ প্রবাহে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা।
- সূত্র/তত্ত্ব: ক্ষমতা P সমান বিভব V এর বর্গ ভাগ রোধ R, অর্থাৎ P = (V × V) ÷ R।
- কার্যপ্রণালি: সূত্রটিকে পরিবর্তন করে রোধ R নির্ণয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় R = (V × V) ÷ P।
- মান বসিয়ে হিসাব: এখানে V সমান ২২০ ভোল্ট এবং P সমান ৬০ ওয়াট, সুতরাং R = (২২০ × ২২০) ÷ ৬০ সমান ৪৮৪০০ ÷ ৬০ সমান ৮০৬.৬৭ ওহম।
- বাস্তব প্রয়োগ: বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রের রেটিং দেখে তার রোধ ও তড়িৎ প্রবাহের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি ১০০ ওয়াট এবং ২২০ ভোল্ট লেখা বাল্বের রোধ ৪৮৪ ওহম হয়।
ব্যাখ্যা: এটি থেকে বোঝা যায় বাল্বের ক্ষমতা বাড়লে তার রোধ কমে যায়।
উদাহরণ ২: টর্চলাইটের ছোট বাল্বে কম ভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: কম ভোল্টেজের কারণে এর রোধ এবং তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 16.36 — এই মানটি ভুল হিসাব বা ক্ষমতার সূত্র উল্টোভাবে প্রয়োগ করার ফলে এসেছে।
B) 160 — এটি সঠিক ক্ষমতার মান বা রোধের কোনো সঠিক হিসাবের ফলাফল নয়।
C) 280 — এই সংখ্যাটি প্রদত্ত ক্ষমতা ও বিভবের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো গাণিতিক নিয়মের ফল নয়।
D) 806.67 — এটি সঠিক হিসাব অনুযায়ী প্রাপ্ত বাল্বের রোধের সঠিক মান।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রোধ বের করার জন্য বিভবকে দুইবার গুণ করে ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- মনে রাখার সহজ বাক্য হলো বিভবের বর্গকে ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করলেই রোধ পাওয়া যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের প্রশ্নে সবসময় ভোল্টের বর্গকে ওয়াট দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- একই নিয়ম ব্যবহার করে তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট নির্ণয়ের প্রশ্নও বিসিএস পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) বায়োগ্যাস
১. কেন সঠিক:
বায়োগ্যাস হলো এমন এক ধরণের শক্তি যা উদ্ভিদ ও প্রাণীজ বর্জ্য পদার্থের অবাত পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং এটি বারবার ব্যবহার করা যায়।
প্রকৃতিতে এর উৎস নিঃশেষ হয় না বলে এটিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানী বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নবায়নযোগ্য জ্বালানী হলো সেই শক্তি উৎস যা প্রাকৃতিকভাবে খুব দ্রুত পূরণ হয় এবং যার অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে।
কার্যপ্রণালি: গোবর, উদ্ভিদের অংশ ও ময়লা আবর্জনা অক্সিজেন ছাড়া পচিয়ে মিথেন গ্যাস তৈরি করা হয় যা পরবর্তীতে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: গ্রামবাংলায় গৃহস্থালির রান্নার কাজে এবং গ্যাস ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়োগ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোলার প্যানেল বা সৌরশক্তি।
ব্যাখ্যা: সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত আলো ও তাপ পাওয়া যায় যা কখনো ফুরিয়ে যাওয়ার নয়।
উদাহরণ ২: বায়ুপ্রবাহ বা উইন্ডমিল।
ব্যাখ্যা: বাতাসের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় যা একটি নবায়নযোগ্য উৎস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তেল — এটি জীবাশ্ম জ্বালানী এবং কোটি কোটি বছর ধরে ভূগর্ভে তৈরি হওয়ায় এর পরিমাণ সীমিত ও ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
B) গ্যাস — প্রাকৃতিক গ্যাস একটি অনবায়নযোগ্য খনিজ সম্পদ যা একবার ব্যবহার করলে পুনরায় তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগে।
C) কয়লা — উদ্ভিদের অবশিষ্ট অংশ থেকে তৈরি জীবাশ্ম জ্বালানী হওয়ায় কয়লার মজুদ সীমিত এবং এটি নবায়নযোগ্য নয়।
D) বায়োগ্যাস — এটি সঠিক উত্তর কারণ জৈব বর্জ্য থেকে প্রতিনিয়ত এই গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।
৫ মনে রাখার টিপস:
যে শক্তি বারবার তৈরি করা যায় এবং ফুরিয়ে যায় না তা নবায়নযোগ্য।
বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি হয় বলে বর্জ্য ফুরোবে না এবং গ্যাসও শেষ হবে না।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন তেল, গ্যাস ও কয়লা পরিবেশের ক্ষতি করে কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানী পরিবেশবান্ধব।
ভবিষ্যতে শক্তির চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
সঠিক উত্তর: B) ১ : ২ : ১
১. কেন সঠিক:
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হলো কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগ।
- এই যৌগগুলোতে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের পরমাণুর অনুপাত সর্বদা দুই অনুপাত এক হয়, যা পানির অণুর অনুপাতের সঙ্গে মিলে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: কার্বোহাইড্রেটের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো সি এন এইচ টু এন ও এন। এখানে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যা যথাক্রমে এন, টু এন এবং এন।
- রাসায়নিক অনুপাত: এই সংকেত অনুযায়ী কার্বন ও অক্সিজেনের সংখ্যা সমান এবং হাইড্রোজেনের সংখ্যা তার দ্বিগুণ, তাই সামগ্রিক অনুপাত দাঁড়ায় এক অনুপাত দুই অনুপাত এক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা: গ্লুকোজের রাসায়নিক সংকেত সি সিক্স এইচ টুয়েলভ ও সিক্স, যেখানে মৌলগুলোর পরমাণুর সংখ্যার সরল অনুপাত করলে এক অনুপাত দুই অনুপাত এক পাওয়া যায়।
উদাহরণ ২: ফ্রুক্টোজ
ব্যাখ্যা: এটি ফলের শর্করা এবং এর আণবিক সংকেতও গ্লুকোজের মতো সি সিক্স এইচ টুয়েলভ ও সিক্স, যা একই অনুপাতের নিয়ম মেনে চলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২ : ১ : ১ — এই অনুপাতটি কার্বোহাইড্রেটের মৌলগুলোর সঠিক পারমাণবিক অনুপাতকে নির্দেশ করে না। এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি অনুপাত।
B) ১ : ২ : ১ — এটি সঠিক অপশন এবং কার্বোহাইড্রেটের কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের প্রমাণিত সঠিক অনুপাত।
সি) ১ : ৩ : ২ — এই অনুপাতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মান কার্বোহাইড্রেটের জৈব রাসায়নিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ডি) ১ : ৪ : ১ — এই অনুপাতে হাইড্রোজেন পরমাণুর সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি থাকায় এটি কোনো সাধারণ শর্করার সংকেত হতে পারে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কার্বোহাইড্রেটের নামের মধ্যেই কার্বন এবং হাইড্রেটের কথা আছে, যার অর্থ কার্বন ও পানির মিশ্রণ। পানির মতো এখানেও হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত দুই অনুপাত এক থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- গ্লুকোজের আণবিক সংকেত প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সরাসরি বা ঘুরিয়ে আসে।
- শর্করার মূল উপাদান কী এবং এদের সাধারণ সংকেত থেকে কীভাবে অনুপাত বের করতে হয়, তা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরটি ভুল। সোডিয়াম এসিটেটের সঠিক রাসায়নিক সংকেত হলো CH3COONa। প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক সংকেতটি সরাসরি নেই, তবে রাসায়নিক গঠন ও নামকরণের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।
১. কেন সঠিক:
সোডিয়াম এসিটেট হলো এসিটিক এসিডের সোডিয়াম লবণ। এর অণুতে একটি মিথাইল মূলক, একটি কার্বক্সিল মূলক এবং একটি সোডিয়াম আয়ন যুক্ত থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: জৈব লবণের নামকরণ ও রাসায়নিক সংকেত লেখার নিয়ম অনুযায়ী এসিটেট মূলক এবং সোডিয়াম আয়ন মিলে এই যৌগ গঠিত হয়।
কার্যপ্রণালি: এসিটিক এসিডের সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর প্রচ্ছাদন বা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পরীক্ষাগারে ইথানয়িক এসিডের সাথে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বিক্রিয়া করে সোডিয়াম এসিটেট তৈরি করা হয়। এটি বাফার দ্রবণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: এই বিক্রিয়াটি জৈব এসিড ও ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়ার একটি আদর্শ উদাহরণ।
উদাহরণ ২: টেক্সটাইল শিল্পে ডাইং প্রক্রিয়ায় বর্জ্য পদার্থের অম্লতা neutralize করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: সোডিয়াম এসিটেটের ক্ষারীয় প্রকৃতির কারণে এটি শিল্পক্ষেত্রে পিএইচ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CH2COONa — এই সংকেতটি রাসায়নিকভাবে অসম্পূর্ণ কারণ কার্বনের যোজনী এখানে সন্তুষ্ট নয়।
B) (CH3(COO)2Ca — এটি ক্যালসিয়াম এসিটেটের ভুল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংকেত, যেখানে ক্যালসিয়ামের যোজনী সঠিকভাবে মেলেনি।
C) (CH)3COONa — এটি কোনো বাস্তব বা স্বীকৃত জৈব যৌগের রাসায়নিক সংকেত নয়।
D) CHCOONa — এই সংকেতটিতে মিথাইল মূলকের হাইড্রোজেন সংখ্যা ভুলভাবে কম লেখা হয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
এসিটেট মূলকের সংকেত হলো CH3COO এবং সোডিয়ামের প্রতীক Na। তাই একত্রে লিখলে হয় CH3COONa।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সোডিয়াম এসিটেটের জলীয় দ্রবণ মৃদু ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়। এই যৌগটি হট আইস বা গরম বরফ তৈری করার প্রদর্শনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: B) আইসোটোপ
১. কেন সঠিক:
ক্যান্সার চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত গামা বিকিরণ ব্যবহার করা হয়।
অস্থির নিউক্লিয়াসযুক্ত এই আইসোটোপগুলো ভেদনযোগ্য গামা রশ্মি ছড়িয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: একই মৌলের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলে।
কার্যপ্রণালি: তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ যেমন কোবাল্ট ষাট এর নিউক্লিয়াস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গামা রশ্মি বিকিরণ করে।
বাস্তব প্রয়োগ: এই গামা রশ্মি সুনির্দিষ্টভাবে টিউমারের ক্ষতিকর কোষ পুড়িয়ে ফেলতে রেডিওথেরাবিতে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোবাল্ট ষাট আইসোটোপ।
ব্যাখ্যা: এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাবিতে গামা রশ্মির উৎস হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: আয়োডিন একশো একত্রিশ আইসোটোপ।
ব্যাখ্যা: এটি থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইসোটোম — এটি ভুল বানান এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক অর্থ বা একক রূপ নেই।
B) আইসোটোপ — এটি সঠিক কারণ বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ক্যান্সার চিকিৎসায় গামা রশ্মি উৎপন্ন করে।
C) আইসোবার — বিভিন্ন মৌলের ভরসংখ্যা সমান হলেও এদের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় এরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে গামা উৎস নয়।
D) আইসোমার — একই পারমাণবিক গঠন কিন্তু ভিন্ন শক্তিস্তর বিশিষ্ট যৌগ বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
চিকিৎসায় ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয়তার উৎস সবসময় আইসোটোপ।
কোবাল্ট ষাটের নাম মনে রাখলে আইসোটোপের এই ব্যবহার সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কোবাল্ট ষাট হলো ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত সবচেয়ে পরিচিত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ।
ভবিষ্যতে পরীক্ষায় গামা রশ্মির প্রকৃতি বা কোবাল্ট ষাটের অর্ধায়ু সম্পর্কেও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) কার্বন ডাই-অক্সাইড
১. কেন সঠিক:
উদ্ভিদ তাদের খাদ্য তৈরির প্রধান প্রক্রিয়া অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে।
পাতার স্টোমাটা বা রন্ধ্রের মাধ্যমে এই গ্যাস উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করে এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: সালোকসংশ্লেষণ হলো সেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে গ্লুকোজ তৈরি করে।
কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদ পাতার মাধ্যমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে সূর্যালোকের শক্তিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঘরের টবে রাখা ইনডোর প্লান্ট বা মনি প্লান্ট ঘরের বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বেঁচে থাকে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে।
উদাহরণ ২: বনে বা বাগানে বিশাল বৃক্ষরাজি বিশাল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা: উদ্ভিদ প্রকৃতির প্রাকৃতিক ফুসফুস হিসেবে কাজ করে বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অক্সিজেন — উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে না, বরং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উপজাত হিসেবে বায়ুমণ্ডলে ত্যাগ করে।
B) কার্বন ডাই-অক্সাইড — এটি সঠিক উত্তর কারণ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির সময় বাতাস থেকে এই গ্যাসটি গ্রহণ করে।
C) নাইট্রোজেন — উদ্ভিদ বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, এটি সাধারণত মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে নাইব্রেট হিসেবে শোষিত হয়।
D) জলীয় বাষ্প — জলীয় বাষ্প উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রধান উপাদান নয়, তবে উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প বাতাসে ছেড়ে দেয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
উদ্ভিদ আমাদের যা দেয় না, তা সে গ্রহণ করে অর্থাৎ আমরা অক্সিজেন নিই আর কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ি, আর উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে।
খাদ্য তৈরির সময় উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড পেটে টানে এবং অক্সিজেন বাইরে ফেলে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মূল উপাদান হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও সূর্যালোক।
এখান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে সালোকসংশ্লেষণের উপজাত পদার্থ কী, যার উত্তর হবে অক্সিজেন।
সঠিক উত্তর: B) ১৮
১. কেন সঠিক:
- ক্লোরিন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১৭ এবং ভর সংখ্যা ৩৫, যেখানে নিউট্রন সংখ্যা হলো ভর সংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার বিয়োগফল।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টি হলো ভর সংখ্যা, তাই মোট ভর থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যা এবং নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ভর সংখ্যা বলা হয়।
- সূত্র বা হিসাব: নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা − প্রোটন সংখ্যা। এখানে ভর সংখ্যা ৩৫ এবং প্রোটন সংখ্যা ১৭ হলে নিউট্রন সংখ্যা হয় ৩৫ − ১৭ = ১৮।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোডিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং ভর সংখ্যা ২৩, যার ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হলো ২৩ − ১১ = ১২।
ব্যাখ্যা: এটি দেখায় যে প্রতিটি মৌলের ক্ষেত্রে ভর সংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করে সহজেই নিউট্রন সংখ্যা হিসাব করা যায়।
উদাহরণ ২: কার্বনের সাধারণ আইসোটোপে প্রোটন সংখ্যা ৬ এবং ভর সংখ্যা ১২, তাই এর নিউট্রন সংখ্যা হলো ১২ − ৬ = ৬।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনো মৌলের পরমাণুর ভেতরের স্থায়ী কণাগুলোর বিন্যাস স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৭ — এটি ক্লোরিন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা, নিউট্রন সংখ্যা নয়।
B) ১৮ — এটি সঠিক উত্তর যা ভর সংখ্যা ও প্রোটন সংখ্যার বিয়োগফল থেকে নির্ণয় করা হয়।
C) ৩৫ — এটি ক্লোরিন পরমাণুর ভর সংখ্যা, যা প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সমষ্টি।
D) ৭০ — এটি ক্লোরিনের সাধারণ পারমাণবিক ভর বা অন্য কোনো মোলার ভরের কাছাকাছি মান হতে পারে, যা একক পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নিউট্রন সংখ্যা বের করতে হলে সবসময় ভর সংখ্যা থেকে পারমাণবিক সংখ্যা বিয়োগ করতে হবে।
- মনে রাখবে, নিউট্রন সংখ্যা সমান ভর সংখ্যা বিয়োগ প্রোটন সংখ্যা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন মৌলের প্রোটন, ইলেকট্রন বা নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করতে বলা হয়।
- একই ধারণা ব্যবহার করে আইসোটোপের ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা পরিবর্তনের হিসাব সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) গলনাংক
১. কেন সঠিক:
একটি নির্দিষ্ট চাপে বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরলে রূপান্তরিত হয়, যা ওই পদার্থের গলনাংক।
পদার্থে সামান্য ভেজাল মিশ্রিত থাকলে তার গলনাংক নির্দিষ্ট থাকে না বরং একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সীমার মধ্যে তা গলতে শুরু করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: কঠিন পদার্থের অন্তরাণবিক আকর্ষণ বল অনেক বেশি থাকে এবং তাপ প্রয়োগ করলে এই বল কমে গিয়ে পদার্থ তরলে পরিণত হয়।
কার্যপ্রণালি: বিশুদ্ধ পদার্থের কেলাসবিন্যাস নির্দিষ্ট থাকে বিধায় অণুগুলোর মধ্যে বন্ধন ভাঙতে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বরফ শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে পানিতে পরিণত হয়, যা বিশুদ্ধ পানির গলনাংক নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা: এতে সামান্য লবণ মেশালে এই গলনাংক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, যা পদার্থের অবিশুদ্ধতা প্রমাণ করে।
উদাহরণ ২: স্বর্ণ গলানোর সময় খাঁটি স্বর্ণ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে যায় কিন্তু খাদ মেশানো স্বর্ণের গলনাংক পরিবর্তিত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি পরীক্ষাগারে সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই করার একটি নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঘনীভবন — এটি গ্যাসীয় পদার্থ থেকে তরলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া, যা বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
B) বাষ্পীভবন — এটি তরল থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া এবং এটি গলনাংকের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) গলনাংক — এটি কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয়ের সঠিক মাপকাঠি।
D) স্ফুটনাংক — এটি তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়, কঠিন পদার্থের জন্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কঠিন পদার্থ গলে যায়, তাই কঠিনের বিশুদ্ধতা জানতে গলনাংক মনে রাখবে।
তরল ফোটে, তাই তরলের বিশুদ্ধতা জানতে স্ফুটনাংক ব্যবহার করা হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিশুদ্ধ পদার্থের গলনাংক তীক্ষ্ণ বা নির্দিষ্ট হয়।
তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা যাচাই করতে স্ফুটনাংক ব্যবহৃত হয়, যা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার প্রশ্নটিতে প্রদত্ত সঠিক উত্তর হিসেবে "D) পানি যোজন" উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। তড়িৎ রসায়ন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী অ্যানোডে সর্বদা জারণ বিক্রিয়া ঘটে। তাই সঠিক উত্তর হবে A) জারণ। নিচে সংশোধিত সঠিক উত্তরসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।
সঠিক উত্তর: A) জারণ
১. কেন সঠিক:
- তড়িৎ কোষে বা রাসায়নিক কোষে অ্যানোডে সর্বদা জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যেখানে ইলেকট্রন বর্জন ঘটে।
- জারণ প্রক্রিয়ায় কোনো পরমাণু, আয়ন বা অণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিজের জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: জারণ হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো রাসায়নিক প্রজাতি ইলেকট্রন বর্জন করে।
- কার্যপ্রণালি: তড়িৎদ্বারে যখন বিদ্যুৎ চালনা করা হয়, তখন ঋণাত্মক আয়নগুলি (অ্যানায়ন) ধনাত্মক তড়িৎদ্বারে (অ্যানোড) এসে ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিরপেক্ষ পরমাণুতে পরিণত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: গ্যালভানিক কোষ বা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির চার্জিং ও ডিসচার্জিং প্রক্রিয়ায় অ্যানোডে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তড়িৎ উৎপাদন বা রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ড্যানিয়েল কোষে জিঙ্ক অ্যানোড।
ব্যাখ্যা: এখানে জিঙ্ক ধাতু দুটি ইলেকট্রন বর্জন করে জিঙ্ক আয়নে পরিণত হয় এবং দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, যা জারণ বিক্রিয়ার নিখুঁত উদাহরণ।
উদাহরণ ২: জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ।
ব্যাখ্যা: অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বারে হাইড্রোক্সাইড আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে অক্সিজেন গ্যাস ও জল উৎপন্ন করে, যা জারণ প্রক্রিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জারণ — এটি সঠিক উত্তর কারণ অ্যানোডে সর্বদা ইলেকট্রন বর্জন বা জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
B) বিজারণ — এটি ভুল কারণ বিজারণ বিক্রিয়া সর্বদা ক্যাথোড বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারে ঘটে, যেখানে ইলেকট্রন গৃহীত হয়।
C) প্রশমন — এটি ভুল কারণ প্রশমন হলো অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়া যাতে লবণ ও জল উৎপন্ন হয় এবং এর সঙ্গে তড়িৎদ্বারের কোনো সম্পর্ক নেই।
D) পানি যোজন — এটি ভুল কারণ পানি যোজন বা হাইড্রেশন হলো কোনো যৌগের সঙ্গে জলের অণু যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া, যা অ্যানোডের বিক্রিয়া নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ইংরেজি শব্দ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো অ্যানোড ও জারণের সম্পর্ক মনে রাখা।
- লেফট অ্যানোড অক্সিডেশন (Left Anode Oxidation) এই সূত্র দিয়ে মনে রাখতে পারেন যে কোষের বাম পাশে থাকা অ্যানোডে সবসময় অক্সিডেশন বা জারণ ঘটে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে ক্যাথোডে কোন বিক্রিয়া ঘটে, যার উত্তর হবে বিজারণ।
- অ্যানোডে সবসময় জারণ এবং ক্যাথোডে সবসময় বিজারণ ঘটে, এই মৌলিক নিয়মটি তড়িৎ রসায়নের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করবে।
সঠিক উত্তর: A) রেকটিফায়ার
১. কেন সঠিক:
- রেকটিফায়ার এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি কারেন্টকে একমুখী প্রবাহ বা ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করে।
- বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি কেবল এক দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহ রোধ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা পিএন জংশন ব্যবহার করে এসি সিগন্যালকে পালসেটিং ডিসি সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: ডায়োড সম্মুখ ঝোঁকে থাকলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং বিপরীত ঝোঁকে থাকলে প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, ফলে দিক নির্দিষ্ট হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: মোবাইল ফোনের চার্জার বা ল্যাপটপের অ্যাডাপ্টারে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরের এসি বিদ্যুৎকে ডিসি করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মোবাইল চার্জার অ্যাডাপ্টার
ব্যাখ্যা: এটি ঘরের দেয়ালের সকেটের এসি বিদ্যুৎকে রেকটিফায়ারের মাধ্যমে ডিসি করে মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে জমা করে।
উদাহরণ ২: ল্যাপটপের পাওয়ার সাপ্লাই
ব্যাখ্যা: ল্যাপটপের ভেতরের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশগুলো ডিসি বিদ্যুৎে চলে, যা রেকটিফায়ার রূপান্তর করে সরবরাহ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রেকটিফায়ার — এটি এসিকে ডিসি করার সঠিক যন্ত্র এবং এই প্রশ্নের কাঙ্ক্ষিত উত্তর।
B) অ্যামপ্লিফায়ার — এটি দুর্বল বৈদ্যুতিক সিগন্যাল বা শব্দকে শক্তিশালী বা বিবর্ধিত করার যন্ত্র।
C) ট্রানজিস্টর — এটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা সিগন্যাল সুইচিং বা বিবর্ধনে ব্যবহৃত হয়।
D) ডায়োড — এটি কেবল একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিতকারী উপাদান, সম্পূর্ণ যন্ত্র বা রেকটিফায়ারের মূল একক।
৫ মনে রাখার টিপস:
- এসি থেকে ডিসি করার প্রক্রিয়াকে রেকটিফিকেশন বলে এবং এই কাজের যন্ত্রটি হলো রেকটিফায়ার।
- ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে মনে রাখতে পারেন এসি থেকে ডিসি রূপান্তর মানেই রেকটিফায়ার।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এসি ও ডিসি রূপান্তরকারী যন্ত্র এবং তাদের কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- ডিসি থেকে এসি রূপান্তরকারী যন্ত্রের নাম ইনভার্টার, যা এই ধারণার বিপরীত একটি প্রশ্ন হিসেবে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) লাউড স্পিকার
১. কেন সঠিক:
লাউড স্পিকার হলো এমন একটি যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
এর ভেতরে থাকা তড়িৎ চুম্বক এবং ডায়াফ্রাম তড়িৎ সিগন্যালকে যান্ত্রিক কম্পনে রূপান্তর করে শব্দ তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: শক্তি সংরক্ষণশীলতার সূত্র অনুসারে শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, কেবল একরূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তরিত হয়।
কার্যপ্রণালি: অ্যামপ্লিফায়ার থেকে আসা বৈদ্যুতিক সংকেত স্পিকারের ভয়েস কয়েলে প্রবেশ করলে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
কারণ ও ফলাফল: এই চৌম্বক ক্ষেত্রের আকর্ষণে ও বিকর্ষণে স্পিকারের পর্দা বা ডায়াফ্রাম দ্রুত কাঁপতে থাকে এবং শব্দ উৎপন্ন হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, অডিও সিস্টেম এবং মাইকে শব্দ শোনার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মসজিদের মাইক বা কনসার্টের সাউন্ড বক্স।
ব্যাখ্যা: এটি মাইক্রোফোনে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সংকেতকে জোরালো শব্দে পরিণত করে বহু দূরে ছড়িয়ে দেয়।
উদাহরণ ২: কম্পিউটারের স্পিকার।
ব্যাখ্যা: কম্পিউটারের ভেতরে থাকা মাদারবোর্ড থেকে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল গ্রহণ করে তা কানে শোনার উপযোগী শব্দে রূপান্তর করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাউড স্পিকার — এটি বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে, তাই এটি সঠিক উত্তর।
B) অ্যামপ্লিফায়ার — এটি দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতকে সবল বা শক্তিশালী করে, রূপান্তর করে না।
C) জেনারেটর — এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
D) মাল্টিমিটার — এটি বর্তনীর ভোল্টেজ, কারেন্ট ও রোধ পরিমাপ করার একটি যন্ত্র।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্পিকার আমাদের গান শোনায়, তাই স্পিকার মানেই শব্দ শক্তি।
যেকোনো শব্দ তৈরির যন্ত্র বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে সাউণ্ডে বা শব্দে রূপান্তর করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শক্তির রূপান্তর সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
যেমন মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা লাউড স্পিকারের বিপরীত কাজ।
সঠিক উত্তর: B) হাইগ্রোমিটার
১. কেন সঠিক:
- হাইগ্রোমিটার এমন একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে।
- বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকলে আমাদের ঘাম সহজে শুকায় না এবং গরম বেশি অনুভূত হয়, যা এই যন্ত্র দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বাতাসে উপস্থিত অদৃশ্য জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বাতাসের আর্দ্রতা বলা হয়।
- কার্যপ্রণালি: এটি সাধারণত দুটি থার্মোমিটারের সাহায্যে কাজ করে, যার একটির বাল্ব সবসময় ভেজা থাকে এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- কারণ ও ফলাফল: ভেজা ও শুষ্ক থার্মোমিটারের তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে চার্টে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা নির্ণয় করা হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে, কৃষিকাজে বৃষ্টির সম্ভাবনা বুঝতে এবং গ্রিনহাউস নিয়ন্ত্রণের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বর্ষাকালে জামাকাপড় সহজে শুকাতে চায় না কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা খুব বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা: এই উচ্চ আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটারের সাহায্যে সহজেই পরিমাপ করা যায় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তা জানানো হয়।
উদাহরণ ২: আবহাওয়া অফিস থেকে যখন বলা হয় আজ আপেক্ষিক আর্দ্রতা আশি শতাংশ, তখন বোঝায় বাতাস তার ধারণক্ষমতার আংশিক জলীয় বাষ্প ধারণ করে আছে।
ব্যাখ্যা: এই সংখ্যাটি মূলত হাইগ্রোমিটার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মাইকোমিটার — এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিমাপক যন্ত্র যা খুব কম দূরত্ব বা কোনো বস্তুর ব্যাস নিখুঁতভাবে মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়।
B) হাইগ্রোমিটার — এটি বাতাসের আর্দ্রতা মাপার সঠিক যন্ত্র এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বহুল ব্যবহৃত একটি প্রশ্ন।
C) ব্যারোমিটার — এটি বায়ুমণ্ডলের চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র, যা আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে।
D) গ্রাভিমিটার — এটি ভূ-পৃষ্ঠের মাধ্যাকর্ষণ বলের সামান্য তারতম্য বা অভিকর্ষ ত্বরণ মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হাইগ্রো শব্দটির অর্থ আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প, তাই আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটারের সঙ্গে হাইগ্রোমিটার গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আবহাওয়া সংক্রান্ত যেকোনো পরীক্ষায় আর্দ্রতা মাপক যন্ত্র হিসেবে হাইগ্রোমিটার নামটি বারবার আসে।
- একই সঙ্গে বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার এবং বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র রেইন গেজ সম্পর্কেও ধারণা রাখা দরকার।
সঠিক উত্তর: D) সাগরে
১. কেন সঠিক:
- সাগরের পানিতে নানা ধরনের লবণ দ্রবীভূত থাকায় এর ঘনত্ব পুকুর, খাল বা নদীর পানির চেয়ে বেশি হয়।
- ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণে সাগরের পানির প্লবতা বা ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা বেশি থাকে, যা সাঁতারুকে সহজে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্লবতা হলো তরল পদার্থের সেই ঊর্ধ্বমুখী বল, যা কোনো বস্তুকে ডুবিয়ে রাখতে বাধা দেয় এবং ভাসাতে সাহায্য করে।
- কারণ ও ফলাফল: আর্কিমিডিসের সূত্র অনুযায়ী, তরল পদার্থে নিমজ্জিত বস্তুর ওপর তরল যে ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে তা অপসারিত তরলের ওজনের সমান হয়। সাগরের পানির ঘনত্ব বেশি হওয়ায় নির্দিষ্ট আয়তনের পানির ওজন বেশি হয়, ফলে প্লবতাও বেশি পাওয়া যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মৃত সাগরে বা ডেড সি-তে মানুষ না জেনেই ভেসে থাকতে পারে।
ব্যাখ্যা: মৃত সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ এত বেশি যে এর ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যার ফলে কোনো মানুষ সেখানে ডুবে যায় না।
উদাহরণ ২: ডিম পরিষ্কার পানিতে ডুবে গেলেও লবণাক্ত পানিতে ভেসে ওঠে।
ব্যাখ্যা: পানিতে পর্যাপ্ত লবণ মেশালে তার ঘনত্ব ও প্লবতা বৃদ্ধি পায়, যা বস্তুকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুকুরে — পুকুরের পানি মিষ্টি পানি এবং এতে লবণের পরিমাণ কম থাকায় ঘনত্ব ও প্লবতা সাগরের চেয়ে কম হয়।
B) খালে — খালের প্রবাহমান মিষ্টি পানিতে খনিজ ও লবণের পরিমাণ কম থাকায় সাঁতার কাটা অপেক্ষাকৃত কঠিন।
C) নদীতে — নদীর পানিতে স্রোত থাকে এবং এর ঘনত্ব কম থাকায় সাঁতার কাটার সময় বেশি শক্তি খরচ করতে হয়।
D) সাগরে — এই অপশনটি সঠিক কারণ সাগরের লবণাক্ত পানির ঘনত্ব ও প্লবতা সবচেয়ে বেশি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- লবণ বেশি তো ঘনত্ব বেশি, ঘনত্ব বেশি তো প্লবতা বেশি, আর প্লবতা বেশি হলে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
- এই সাধারণ সূত্রটি মনে রাখলে তরল পদার্থের প্লবতা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি পদার্থবিজ্ঞানের প্রবাহী বলবিদ্যা এবং আর্কিমিডিসের সূত্রের বাস্তব প্রয়োগের অন্তর্গত।
- একই ধারণা থেকে পানিতে জাহাজ কেন ভাসে বা বরফ পানিতে কেন ভেসে থাকে সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন-সি
১. কেন সঠিক:
ডিমে ভিটামিন-সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে।
ডিম একটি পুষ্টিকর খাদ্য হলেও এতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি তৈরি বা জমার কোনো উপাদান থাকে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ভিটামিন-সি হলো একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা মূলত তাজা ফলমূল এবং শাকসবজিতে পাওয়া যায়।
কার্যপ্রণালি: মুরগি বা অন্যান্য ডিম পাড়া প্রাণীর শরীর নিজেদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি নিজেরা সংশ্লেষণ করতে পারে, তাই ডিমের ভেতরে বা কুসুমে এটি স্থানান্তরিত হয় না।
বাস্তব প্রয়োগ: সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে ডিমে আমিষ ও চর্বি পেলেও ভিটামিন-সি এর ঘাটতি পূরণে লেবু বা সালাদ খেতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাতিলেবু বা কমলালেবু খাওয়া।
ব্যাখ্যা: সাইট্রাস জাতীয় ফল ভিটামিন-সি এর প্রধান উৎস, যা ডিমে পাওয়া যায় না।
উদাহরণ ২: কাঁচা মরিচ বা টমেটো সালাদ হিসেবে খাওয়া।
ব্যাখ্যা: এসব সবজিতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে যা ডিমের সঙ্গে খেলেই কেবল পুষ্টির ভারসাম্য আসে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন-এ — ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন-এ পাওয়া যায় যা চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় কাজ করে।
B) ভিটামিন-বি — ডিমের মধ্যে ভিটামিন বি-টু, ভিটামিন বি-ষোলো ও ভিটামিন বি-দ্বাদশ এর মতো বি কমপ্লেক্স ভিটামিন সমৃদ্ধ পরিমাণে বিদ্যমান।
C) ভিটামিন-সি — এটি ডিমে থাকে না কারণ প্রাণীদেহে এই ভিটামিন সঞ্চিত থাকে না এবং ডিমেও এর উপস্থিতি নেই।
D) ভিটামিন-ডি — ডিমের কুসুম প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-ডি এর একটি অন্যতম চমৎকার উৎস যা হাড় মজবুত করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ডিম খেলেও স্কার্ভি রোগ দূর হবে না কারণ ডিমে সি নেই।
ভিটামিন সি এর জন্য টক ফল খেতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির জন্য ডিমে সব ভিটামিন থাকলেও সি এবং কে থাকে না।
এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় খাদ্য ও পুষ্টি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ক্রোমোপ্লাষ্ট
১. কেন সঠিক:
- ক্রোমোপ্লাষ্ট উদ্ভিদের কোষে উপস্থিত এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ ধারণকারী প্লাস্টিড, যা ফুল ও ফলকে আকর্ষণীয় বর্ণ প্রদান করে।
- এই প্লাস্টিডের উপস্থিতির কারণেই ফুল রঙ্গিন হয়ে কীটপতঙ্গকে পরাগায়নের জন্য আকৃষ্ট করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বর্ণহীন বা বর্ণযুক্ত অঙ্গাণু যা প্রধানত তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
- কার্যপ্রণালি: ক্রোমোপ্লাষ্টে ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য রঞ্জক পদার্থ যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল থাকে যা লাল, হলুদ বা কমলা রঙের সৃষ্টি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: রঙিন ফুল ও পাকা ফল উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করার জন্য কীটপতঙ্গ ও পাখিদের আকর্ষণ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গোলাপ ফুলের লাল বা গোলাপি বর্ণ
ব্যাখ্যা: গোলাপের পাপড়িতে ক্রোমোপ্লাষ্ট থাকার কারণে তা বিভিন্ন আকর্ষণীয় রঙের হয় যা দেখতে সুন্দর লাগে।
উদাহরণ ২: পাকা টমেটোর লাল বর্ণ
ব্যাখ্যা: কাঁচা টমেটো সবুজ থাকলেও পাকলে ক্রোমোপ্লাষ্টের প্রভাবে তা লাল রঙ ধারণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ক্রোমোপ্লাষ্ট — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ফুল ও ফলকে রঙ্গিন করে তোলে।
B) ক্লোরোপ্লাষ্ট — এটি সবুজ রঙের প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
C) ক্রোমোটোপ্লাষ্ট — এটি কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত সঠিক প্লাস্টিড নয়, এটি বিভ্রান্ত করার জন্য তৈরি করা একটি ভুল শব্দ।
D) লিউকোপ্লাষ্ট — এটি বর্ণহীন প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের মূলে খাদ্য সঞ্চয় করার প্রধান কাজ করে থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ক্রোমোজোম যেমন জিনের রঙ বা বৈশিষ্ট্য বহন করে, তেমনি ক্রোমোপ্লাষ্ট উদ্ভিদের রঙিন অংশ যেমন ফুল ও ফলের রঙ নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্লাস্টিডের প্রকারভেদ এবং তাদের কাজ থেকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- কোন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কোনটি সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়, তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর:
C) Tables
১. কেন সঠিক:
রিলেশনাল ডাটাবেজ মডেলে সমস্ত ডেটা লজিক্যালি সারি এবং কলামের সমন্বয়ে গঠিত টেবিল আকারে সংরক্ষিত হয়।
এই টেবিলগুলোকে রিলেশনাল ডাটাবেজের পরিভাষায় রিলেশন বলা হয় কারণ ডেটার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক টেবিলেই স্থাপন করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ডেটা পরস্পর সম্পর্কিত টেবিল আকারে সাজানো থাকে।
কার্যপদ্ধতি: এটি ডেটাকে টেবিল বা রিলেশন হিসেবে সংরক্ষণ করে এবং প্রাইমারি ও ফরেন কি এর মাধ্যমে টেবিলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি স্কুল ডাটাবেজে শিক্ষার্থীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য স্টুডেন্ট টেবিল ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এই টেবিলে শিক্ষার্থীর আইডি, নাম এবং রোল নম্বর কলাম ও সারির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রিলেশন বা টেবিল হিসেবে থাকে।
উদাহরণ ২: ই-কমার্স সাইটে পণ্যের তালিকা রাখার জন্য প্রোডাক্ট টেবিল ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: পণ্যের দাম, স্টক এবং নাম এই টেবিলের বিভিন্ন ফিল্ড বা কলামে সংরক্ষিত থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Tuples — এটি রিলেশনাল ডাটাবেজের টেবিলের প্রতিটি সারি বা রেকর্ডকে বোঝায়, পুরো রিলেশন বা টেবিলকে নয়।
B) Attributes — এটি টেবিলের প্রতিটি কলাম বা ফিল্ডের নাম নির্দেশ করে, যা টেবিলের একটি অংশ মাত্র।
C) Tables — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি সম্পূর্ণ রিলেশনকে প্রকাশ করে।
D) Rows — এটি শুধু টেবিলের আনুভূমিক সারি বোঝায়, যা রিলেশনের সমার্থক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
রিলেশনাল ডাটাবেজে টেবিল মানেই রিলেশন এবং কলাম মানে অ্যাট্রিবিউট।
সারিকে বলা হয় টিউবল বা রেকর্ড আর কলামকে বলা হয় অ্যাট্রিবিউট বা ফিল্ড।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডাটাবেজের জনক ই এফ কড ১৯৭০ সালে রিলেশনাল ডাটাবেজ মডেল আবিষ্কার করেন।
পরীক্ষায় প্রায়ই রিলেশনের সমার্থক শব্দ হিসেবে টেবিল বা রো ও কলামের ভিন্ন নাম জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর:
A) Personal Area Network
১. কেন সঠিক:
ব্লুটুথ এমন একটি প্রযুক্তির নাম যা খুব স্বল্প দূরত্বে, সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদানপ্রদান করে।
এই প্রযুক্তিটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয় বিধায় একে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা একজন ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
কার্যপদ্ধতি: ব্লুটুথ প্রযুক্তি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করে এবং এটি টু দশমিক চার গিগাহার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করে দুটি ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।
বৈশিষ্ট্য: এর কভারেজ এলাকা খুবই ছোট, বিদ্যুৎ খরচ কম এবং এটি তারহীন বা ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
ব্যবহার: মোবাইল ফোন থেকে কম্পিউটারে ফাইল পাঠানো বা স্মার্টফোনের সাথে ওয়্যারলেস হেডফোন যুক্ত করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের সাথে ওয়্যারলেস এয়ারবাড সংযোগ করা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্লুটুথের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প দূরত্বে অডিও ডেটা আদানপ্রদান করে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
উদাহরণ ২: ল্যাপটপের সাথে ব্লুটুথ মাউস বা কিবোর্ড যুক্ত করা।
ব্যাখ্যা: এর মাধ্যমে কোনো তারের ঝামেলা ছাড়াই ব্যক্তিগত পরিসরে ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Personal Area Network — এটি সঠিক উত্তর কারণ ব্লুটুথ ব্যক্তিগত পরিসরের স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
B) Local Area Network — এটি ভুল কারণ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ল্যান একটি পুরো ভবন বা অফিস কক্ষের মতো তুলনামূলক বড় এলাকা জুড়ে কাজ করে।
C) Virtual Private Network — এটি ভুল কারণ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক হলো পাবলিক ইন্টারনেটের ওপর তৈরি একটি নিরাপদ ও গোপনীয় টানেল বা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
D) কোনোটিই নয় — এটি ভুল কারণ সঠিক অপশনটি এ এর মধ্যে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ব্লুটুথ হলো প্যান বা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিচিত উদাহরণ।
শর্টকাট হিসেবে মনে রাখতে পারো ব্লুটুথ মানেই ব্যক্তিগত দূরত্ব বা প্যান।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সাধারণত ভৌগোলিক বিস্তৃতির ওপর ভিত্তি করে প্যান, ল্যান, ম্যান এবং ওয়্যানে বিভক্ত।
পরীক্ষায় প্রায়ই নেটওয়ার্কের পরিধি বা দূরত্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে, তাই রেঞ্জগুলো ভালোভাবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর:
C) Full-duplex
১. কেন সঠিক:
মোবাইল ফোনে একই সময়ে কথা বলা এবং শোনা উভয় কাজই একসাথে করা যায়।
এই দ্বিমুখী ও যুগপৎ ডেটা যোগাযোগের মাধ্যমকে ফুল-ডুপ্লেক্স মোড বলা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ডেটা কমিউনিকেশন মোড হলো ডেটা প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে ডেটা প্রবাহের দিক।
কার্যপদ্ধতি: ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে দুটি ডিভাইসের মধ্যে একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা পাঠানো এবং গ্রহণ করা সম্ভব।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মোবাইল ফোনে কথোপকথন।
ব্যাখ্যা: মোবাইল ফোনে কল করার সময় অপর প্রান্তের কথা শোনার পাশাপাশি নিজের কথাও একসাথে বলা যায়।
উদাহরণ ২: ল্যান্ডফোন বা টেলিফোন যোগাযোগ।
ব্যাখ্যা: প্রচলিত টেলিফোনেও গ্রাহকরা একসাথে কথা বলতে ও শুনতে পারেন কোনো বাধা ছাড়াই।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Simplex — সিমপ্লেক্স মোডে কেবল এক দিকে ডেটা প্রবাহিত হয় এবং অপর প্রান্ত থেকে ডেটা পাঠানোর কোনো সুযোগ থাকে না।
B) Half-duplex — হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে উভয় দিকে ডেটা পাঠানো যায়, তবে একই সময়ে নয়, একবার পাঠানো শেষ হলে অন্য প্রান্ত থেকে পাঠাতে হয়।
D) কোনোটিই নয় — সঠিক উত্তর অপশন সি তে বিদ্যমান থাকায় এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ফুল মানে সম্পূর্ণ, তাই ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে সম্পূর্ণ বা একই সময়ে উভয় দিকে কথা বলা যায়।
মোবাইল বা টেলিফোন হলো ফুল-ডুপ্লেক্স এবং ওয়াকিটকি হলো হাফ-ডুপ্লেক্স মোডের বাস্তব উদাহরণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড তিন প্রকার যথা সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ওয়াকিটকি কোন মোড এবং মোবাইল ফোন কোন মোড, এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) Unauthorized access
১. কেন সঠিক:
- ফায়ারওয়াল হলো নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি সিস্টেম, যা অননুমোদিত প্রবেশ বা Unauthorized access প্রতিহত করতে কাজ করে।
- এটি পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়মের ভিত্তিতে ইনকামিং এবং আউটগোইং নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের ওপর নজরদারি করে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: ফায়ারওয়াল হলো এমন একটি সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার যা বিশ্বস্ত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক এবং অনিরাপদ বাহ্যিক নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রাচীর হিসেবে কাজ করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি নেটওয়ার্কের ডেটা প্যাকেটগুলো পরীক্ষা করে দেখে এবং নিয়মের সাথে মিলে গেলে প্রবেশাধিকার দেয় অন্যথায় ব্লক করে দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অফিসের নেটওয়ার্ক
ব্যাখ্যা: ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সার্ভারকে বাইরের হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: হোম কম্পিউটার
ব্যাখ্যা: ব্যক্তিগত কম্পিউটারের উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ফায়ারওয়াল ইন্টারনেট থেকে আসা ক্ষতিকর সংযোগ ব্লক করে দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Fir attacks — এটি কোনো স্বীকৃত কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক হুমকির নাম নয় বরং টাইপো বা অপ্রাসঙ্গিক অপশন।
B) Unauthorized access — এটি সঠিক উত্তর কারণ ফায়ারওয়াল মূলত বাইরের অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে।
C) Virus attacks — ভাইরাস দমনের জন্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কাজ করে ফায়ারওয়াল সরাসরি ভাইরাস পরিষ্কার করে না।
D) Data-driven attacks — এটি ডেটা সংক্রান্ত আক্রমণ যা সরাসরি ফায়ারওয়ালের মূল কাজের আওতাধীন নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ফায়ারওয়াল মানে দেয়াল, যা অনধিকার প্রবেশকারী বা Unauthorized access ঠেকায়।
- এটি ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে কাজ করে যা শুধু অনুমোদিত ডেটাকে পাস করতে দেয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ফায়ারওয়াল হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার উভয় মাধ্যমেই হতে পারে।
- সাইবার নিরাপত্তায় ফায়ারওয়ালকে প্রথম সারির ডিফেন্স বা ডিফেন্সিভ মেকানিজম বলা হয়।
সঠিক উত্তর:
D) Infra-red-range-এর
১. কেন সঠিক:
টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল সাধারণত অবলোহিত বা ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে সিগন্যাল প্রেরণ করে।
ইনফ্রারেড হলো এক ধরণের আলোক তরঙ্গ যার কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কম কিন্তু রেডিও তরঙ্গের চেয়ে বেশি, যা অপশন ডি-এর সাথে মিলে যায়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি হলো এমন একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বড় এবং এর ফ্রিকোয়েন্সি সাধারণত ৩০০ গিগাহার্জ থেকে ৪০০ টেরাহার্জ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
কার্যপদ্ধতি: রিমোটের বোতাম চাপলে একটি ইনফ্রারেড লাইট ডায়োড বা আইআর এলইডি নির্দিষ্ট কোডে ইনফ্রারেড আলো চোখের পলকে ফ্ল্যাশ করে, যা টিভির সামনের সেন্সর রিসিভ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঘরের এয়ার কন্ডিশনার বা এসি রিমোট।
ব্যাখ্যা: এসি রিমোটের সামনে থাকা ছোট বাল্বটি খালি চোখে দেখা যায় না, তবে এটি ইনফ্রারেড সিগন্যালের মাধ্যমে এসির তাপমাত্রা বা মোড পরিবর্তন করে।
উদাহরণ ২: স্মার্টফোনের মাধ্যমে টিভি নিয়ন্ত্রণ।
ব্যাখ্যা: কিছু ফোনে ইনফ্রারেড ব্লাস্টার থাকে, যা ব্যবহার করে সরাসরি টিভির রিমোটের মতো তরঙ্গ পাঠিয়ে টিভি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) <100 MHZ — একশো মেগাহার্জের কম ফ্রিকোয়েন্সি সাধারণত এফএম রেডিও বা কম ফ্রিকোয়েন্সির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়, ইনফ্রারেড রেঞ্জের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
B) <1 GHZ — এক গিগাহার্জের কম ফ্রিকোয়েন্সি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াইফাই-এর নিম্ন ব্যান্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু রিমোটের ইনফ্রারেড আলো এর চেয়ে অনেক উচ্চ কম্পাঙ্কের।
C) <2 GHZ — দুই গিগাহার্জের কম ফ্রিকোয়েন্সি ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই রাউটার সিগন্যালের জন্য নির্ধারিত, যা আলোক তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি সীমার বাইরে।
D) Infra-red-range-এর — এটি সঠিক কারণ টেলিভিশন রিমোট ডেটা পাঠানোর জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভ বাদ দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মির আলো ব্যবহার করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
রিমোটের মাথায় যে ছোট আলো জ্বলে তা খালি চোখে দেখা যায় না কারণ এটি ইনফ্রারেড রেঞ্জ বা অবলোহিত আলো।
টিভি রিমোটের কাজ সরাসরি দৃষ্টিরেখার উপর নির্ভর করে, কারণ ইনফ্রারেড তরঙ্গ দেয়াল ভেদ করতে পারে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
টেলিভিশনের রিমোট এবং সেন্সরের মধ্যে কোনো বাধা থাকলে সিগন্যাল কাজ করে না কারণ ইনফ্রারেড রশ্মি অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করতে পারে না।
নিকট দূরত্বের ওয়্যারলেস যোগাযোগে ইনফ্রারেড প্রযুক্তি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও নিরাপদ।
সঠিক উত্তর:
A) 19
১. কেন সঠিক:
অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট আটটি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা হলো ০ থেকে ৭ পর্যন্ত। এই পদ্ধতিতে ৯ অঙ্কটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ অক্টাল রেঞ্জের মধ্যে ৯ নেই।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি হলো আট ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি যার বেস বা ভিত্তি হলো আট।
বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতে হিসাব করার জন্য শুধু ০ ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ এই আটটি মৌলিক প্রতীক বা অঙ্ক ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অক্টাল সংখ্যা ৭৫
ব্যাখ্যা: এই সংখ্যাটিতে ৭ এবং ৫ উভয় অঙ্কই অক্টাল সীমার ভেতরে রয়েছে, তাই এটি বৈধ অক্টাল সংখ্যা।
উদাহরণ ২: অক্টাল সংখ্যা ২০৬
ব্যাখ্যা: এখানে ব্যবহৃত প্রতিটি অঙ্ক শূন্য থেকে সাতের সীমার মধ্যে অবস্থিত, যা অক্টাল পদ্ধতির নিয়ম মেনে চলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 19 — এই সংখ্যাটিতে ৯ অঙ্কটি রয়েছে, যা অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ০ থেকে ৭ সীমার বাইরে এবং তাই এটি অক্টাল সংখ্যা নয়।
B) 77 — এই সংখ্যাটিতে ৭ অঙ্কটি রয়েছে যা অক্টাল পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত এবং এটি একটি বৈধ অক্টাল সংখ্যা।
C) 15 — এই সংখ্যাটির ১ ও ৫ উভয় অঙ্কই অক্টাল সীমার মধ্যে আছে তাই এটি সঠিক অক্টাল সংখ্যা।
D) 101 — এই সংখ্যাটিতে শুধু ১ ও ০ ব্যবহার করা হয়েছে যা অক্টাল সীমার ভেতরে অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
অক্টাল সংখ্যা চেনার সহজ উপায় হলো খেয়াল রাখা যে কোনো অঙ্ক যেন আট বা তার বেশি না হয়। অক্টাল মানে আট, তাই সবসময় সর্বোচ্চ অঙ্কটি সাত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সংখ্যা পদ্ধতির বৈধতা যাচাই করতে বলা হয়। বাইনারিতে শুধু ০ ও ১, অক্টালে ০ থেকে ৭ এবং হেক্সাডেসিমালে ০ থেকে ৯ এবং এ থেকে এফ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর:
B) Round-robin
১. কেন সঠিক:
- টাইম-শেয়ারড অপারেটিং সিস্টেমে প্রতিটি প্রসেসকে একটি নির্দিষ্ট সময় বা টাইম কোয়ান্টাম বরাদ্দ করা হয় যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।
- রাউন্ড-রবিন শিডিউলিং পলিসি এই টাইম-শেয়ারিং ও প্রিম্পটিভ নীতি মেনে চলে বলেই এটি সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: রাউন্ড-রবিন হলো এমন একটি সিপিইউ শিডিউলিং অ্যালগরিদম যেখানে প্রতিটি প্রসেসকে চক্রাকারে সমান সময় বরাদ্দ করা হয়।
- কার্যপদ্ধতি: একটি প্রসেস নির্ধারিত সময় শেষ করার পর সিপিইউ থেকে সরে যায় এবং পরবর্তী প্রসেস সুযোগ পায়।
- ব্যবহার: আধুনিক মাল্টিটাস্কিং এবং টাইম-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেমে এই নীতি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: একটি ব্যাংকে তিনজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবা পাচ্ছেন এবং সময় শেষ হলে পরের জন সুযোগ পাচ্ছেন।
- ব্যাখ্যা: এটি রাউন্ড-রবিন পদ্ধতির মতো যেখানে কেউ দীর্ঘ সময় একা সেবা দখল করে রাখতে পারে না।
- উদাহরণ ২: একটি কম্পিউটারে একই সাথে গান শোনা এবং ব্রাউজ করার সময় প্রসেসর পালাক্রমে দুটি কাজ পরিচালনা করে।
- ব্যাখ্যা: এই টাইম-স্লাইসিং বা রাউন্ড-রবিন পদ্ধতির কারণে ব্যবহারকারী মনে করেন কাজগুলো একসাথে হচ্ছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) First come first serve — এটি নন-প্রিম্পটিভ নীতি অনুসরণ করে এবং প্রথম আসা কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করায় টাইম-শেয়ারিং সিস্টেমে অদক্ষ।
B) Round-robin — এটি সঠিক উত্তর।
C) Shortest job first — ছোট কাজগুলোকে আগে প্রাধান্য দেওয়ায় এটি ব্যাচ প্রসেসিং সিস্টেমে ভালো কাজ করলেও টাইম-শেয়ারিংয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
D) Last come first serve — এটি শেষ আসা কাজকে আগে সুযোগ দেয় যা ফেয়ারনেস বা ন্যায্যতা বজায় রাখে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- টাইম-শেয়ারিং মানেই হলো সময় ভাগ করে দেওয়া এবং রাউন্ড-রবিন মানে হলো গোল টেবিলে ঘুরে ঘুরে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া।
- এই দুটি ধারণাকে একসাথে মিলিয়ে মনে রাখলে উত্তর নির্বাচন করা সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অপারেটিং সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য প্রসেস শিডিউলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
- পরীক্ষার জন্য প্রিম্পটিভ এবং নন-প্রিম্পটিভ শিডিউলিংয়ের পার্থক্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর:
A) 01010010(2)
১. কেন সঠিক:
হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতির প্রতিটি অঙ্ককে সরাসরি ৪-বিট বাইনারিতে রূপান্তর করে এই উত্তর পাওয়া গেছে।
এখানে ৫ এর ৪-বিট বাইনারি হলো ০১০১ এবং ২ এর ৪-বিট বাইনারি হলো ০০১০, যা একত্র করলে সম্পূর্ণ মানটি দাঁড়ায়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংখ্যা পদ্ধতি হলো কোনো সংখ্যা লেখা বা প্রকাশের পদ্ধতি, যেখানে হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি হলো ১৬ এবং বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি হলো ২।
হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা ০ থেকে ৯ এবং এ থেকে এফ পর্যন্ত মোট ১৬টি প্রতীক নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি অঙ্ককে ঠিক ৪টি বাইনারি বিট দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা এফ-এর বাইনারি রূপ হলো ১১১১, কারণ এফ মানে ১৫ এবং ১৫ এর সমতুল্য বাইনারি হলো ১১১১।
ব্যাখ্যা: বড় সংখ্যাকে সহজে মনে রাখার জন্য হেক্সাডেসিমেল কোড ব্যবহার করা হয়, যা কম্পিউটারের মেমোরি ঠিকানায় বহুল ব্যবহৃত।
উদাহরণ ২: হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা ১ এর বাইনারি রূপ হলো ০০০১, যা চার বিটের নিয়মে লেখা হয়।
ব্যাখ্যা: বিট প্যাটার্ন ঠিক রাখতে চার বিট পূর্ণ করতে হয়, তাই সামনের দিকে অতিরিক্ত শূন্য বসানো হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 01010010(2) — এটি প্রদত্ত হেক্সাডেসিমেল সংখ্যার সঠিক এবং নির্ভুল বাইনারি রূপ।
B) 01110011(2) — এটি ভুল মান নির্দেশ করে কারণ এখানে বিটগুলোর বিন্যাস ৫২ এর হেক্সাডেসিমেলের সঙ্গে মেলে না।
C) 0000 1100(2) — এটি হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা ০সি এর বাইনারি রূপ, যা ৫২ এর সমান নয়।
D) 1111 0000(2) — এটি হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা এফ০ এর বাইনারি রূপ, যা প্রদত্ত প্রশ্নের মানের সঙ্গে মিলছে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
হেক্সাডেসিমেলের প্রতিটি অঙ্ককে আলাদা করে চার বিটের বাইনারিতে রূপান্তর করবে।
৫ এর জন্য ০১০১ এবং ২ এর জন্য ০০১০ লিখে পাশাপাশি বসিয়ে দিলেই সঠিক উত্তর পেয়ে যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় হেক্সাডেসিমেল থেকে বাইনারি রূপান্তর প্রায়ই আসে।
চার বিটের সঠিক মান মনে রাখতে পারলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুব কম সময়ে বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর:
B) World wide web
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত উত্তরটি প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক কারণ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ হলো ইতিহাসের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি ১৯৮৯ সালে এটি উদ্ভাবন করেন এবং ১৯৯০ সালে এটি প্রথম জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হলো একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন ওয়েব পেজ দেখতে পারেন।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ইন্টারনেট থেকে হাইপারটেক্সট বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের মাধ্যমে প্রদর্শন করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি একই সাথে একটি ব্রাউজার ও এডিটর হিসেবে কাজ করতে পারত এবং নেকস্ট কম্পিউটার সিস্টেমে এটি চালিত হতো।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গুগল ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্স
ব্যাখ্যা: আধুনিক যুগে আমরা যেভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য এই সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করি, টিম বার্নার্স-লির তৈরি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্রাউজারটিও ঠিক একইভাবে কাজ করত।
উদাহরণ ২: মাইক্রোসফট এজ বা সাফারি
ব্যাখ্যা: এগুলো বর্তমান যুগের একেকটি জনপ্রিয় ব্রাউজার যা ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করা হয়, ঠিক যেমনটি প্রথম ব্রাউজার দিয়ে করা হতো।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Netscape Navigator — এটি ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ব্রাউজার হলেও প্রথম ব্রাউজার নয়, এটি ১৯৯৪ সালে বাজারে আসে।
B) World wide web — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
C) Internet Explorer — এটি মাইক্রোসফটের তৈরি একটি জনপ্রিয় ব্রাউজার যা ১৯৯৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
D) Sarari — এটি অ্যাপল কোম্পানির তৈরি একটি আধুনিক ব্রাউজার যা প্রথম ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রথম ওয়েব ব্রাউজারের নাম এবং এর আবিষ্কারক টিম বার্নার্স-লির নাম একসাথে মনে রাখবে।
- মনে রাখবে প্রথম ব্রাউজারের নাম এবং ইন্টারনেটের বিশ্বজনীন ব্যবস্থার নাম হুবহু একই ছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রথম ব্রাউজার হওয়ার পাশাপাশি এটি কিন্তু প্রথম ওয়েব সার্ভার ও প্রথম এডিটর হিসেবেও কাজ করত।
- টিম বার্নার্স-লিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক বলা হয়।
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবগুলো
১. কেন সঠিক:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট বা মাধ্যম ব্যবহার করে ভাববিনিময় করে থাকেন। এখানে টেক্সট, ছবি, ভিডিও এবং অডিও সব ধরনের মাধ্যমই যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: Social Networking Site বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
কার্যপদ্ধতি: এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভারের মাধ্যমে ডিজিটাল ডেটা packets আকারে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয়।
বৈশিষ্ট্য: এটি মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক যোগাযোগ সমর্থন করে এবং এর মাধ্যমে যুগপৎ টেক্সট, অডিও ও ভিডিও পাঠানো সম্ভব হয়।
ব্যবহার: ফেসবুক, টুইটার বা লিংকডইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত বার্তালাপ, স্ট্যাটাস আপডেট এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করার সময় টেক্সট পাঠানোর পাশাপাশি ভয়েস নোট বা অডিও পাঠানো যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যোগাযোগের ক্ষেত্রে টেক্সট এবং অডিও উভয় মাধ্যমই সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ফেসবুকে কোনো ব্যবহারকারী ছবি বা ভিডিও আপলোড করলে বন্ধুরা তাতে কমেন্ট করতে পারে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ায় ছবি এবং ভিডিওর পাশাপাশি টেক্সট বা লেখার মাধ্যম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Imge/video — শুধু ছবি ও ভিডিওর পাশাপাশি টেক্সট ও অডিও যোগাযোগের একটি পূর্ণাঙ্গ অংশ হওয়ায় এটি এককভাবে সঠিক নয়।
B) Audio — অডিও যোগাযোগের একটি মাধ্যম হলেও শুধু এটি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ার সব কার্যক্রম চালানো যায় না।
C) Text — টেক্সট যোগাযোগের প্রাচীন ও প্রধান মাধ্যম হলেও বর্তমান যুগের সোশ্যালে শুধুমাত্র টেক্সট সীমাবদ্ধ থাকে না।
D) উপরের সবগুলো — এই অপশনে থাকা টেক্সট, অডিও, ছবি এবং ভিডিও সবই সোশ্যাল মিডিয়ার যোগাযোগে ব্যবহৃত হয় বলে এটি সঠিক।
৫. মনে রাখার টিপস:
সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগের মূল ভিত্তি হলো মাল্টিমিডিয়া, অর্থাৎ লেখা থেকে শুরু করে কথা বলা, ছবি এবং ভিডিও দেখা সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
সংক্ষেপে মনে রাখতে পারেন যে সোশ্যাল মিডিয়া মানেই হলো Text, Audio এবং Image বা Video এর একটি সমন্বিত রূপ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো Web 2.0 প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি যেখানে ব্যবহারকারীরা কেবল তথ্য পড়ে না, বরং নিজেরাও কনটেন্ট তৈরি করে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ইন্টারনেট সেবা এবং মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো বহুমুখী বিকল্প হিসেবে আসে।
সঠিক উত্তর: B) Logical address
১. কেন সঠিক:
সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট মেমোরি অ্যাক্সেস করার সময় প্রথমে একটি লজিক্যাল অ্যাড্রেস বা ভার্চুয়াল অ্যাড্রেস তৈরি করে।
এই লজিক্যাল অ্যাড্রেসটি সরাসরি ফিজিক্যাল মেমোরিতে যায় না, বরং মেমোরি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট বা এমএমইউ হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে তা ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসে রূপান্তরিত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: লজিক্যাল অ্যাড্রেস হলো এমন একটি ঠিকানা যা সিপিইউ কোনো প্রোগ্রাম বা প্রসেস এক্সিকিউট করার সময় জেনারেট করে বা তৈরি করে।
কার্যপদ্ধতি: প্রোগ্রাম চলার সময় সিপিইউ যে মেমোরি লোকেশনকে নির্দেশ করে, তা প্রসেসের নিজস্ব লজিক্যাল স্পেসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি বই পড়ার সময় যেমন আমরা অধ্যায়ের ভেতরের পৃষ্ঠার নম্বর বা সিকোয়েন্স দেখি, সেটি লজিক্যাল ঠিকানার মতো কাজ করে।
ব্যাখ্যা: এটি মূল বইয়ের কোন ফিজিক্যাল পেজে আছে তা না ভেবে শুধু প্রসেসের নিজস্ব বিন্যাস অনুযায়ী কাজ করে।
উদাহরণ ২: কম্পিউটারে কোনো বড় সফটওয়্যার ওপেন করলে সিপিইউ তার প্রতিটি নির্দেশের জন্য একটি করে লজিক্যাল অ্যাড্রেস বরাদ্দ করে।
ব্যাখ্যা: এই অ্যাড্রেসগুলো পরবর্তীতে অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল র্যামের ফিজিক্যাল ঠিকানায় ম্যাপ করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Physical address — ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস হলো র্যামের আসল হার্ডওয়্যার ঠিকানা যা সিপিইউ সরাসরি তৈরি করে না, বরং এমএমইউ লজিক্যাল অ্যাড্রেস থেকে এটি বের করে।
বিপরীতে সিপিইউ কেবল লজিক্যাল অ্যাড্রেস জেনারেট করতে পারে।
B) Logical address — এই অপশনটি সঠিক কারণ সিপিইউ প্রোগ্রাম প্রসেসিংয়ের সময় লজিক্যাল অ্যাড্রেস উৎপন্ন করে।
এটি ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসে রূপান্তর হওয়ার পূর্বে ব্যবহৃত হয়।
C) Both physical and logical addresses — সিপিইউ একই সাথে দুটি ঠিকানা তৈরি করে না, এটি কেবল লজিক্যাল অ্যাড্রেস তৈরি করে এবং এমএমইউ তাকে ফিজিক্যাল ঠিকানায় রূপান্তর করে।
তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।
D) উপরের কোনোটিই নয় — যেহেতু সঠিক উত্তরটি বিকল্প বি তে স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
সিপিইউ সবসময় লজিক্যাল অ্যাড্রেস তৈরি করে আর র্যাম বা মেমোরি ইউনিট ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস নিয়ে কাজ করে।
মনে রাখার শর্টকাট হলো সিপিইউ এর সি এবং লজিক্যাল এর এল মিলে সিএল বা কাল্পনিক বা লজিক্যাল ঠিকানা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার আর্কিটেকচারে লজিক্যাল অ্যাড্রেসকে অনেক সময় ভার্চুয়াল অ্যাড্রেসও বলা হয়।
এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মেমোরি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট বা এমএমইউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর:
B) VoIP
১. কেন সঠিক:
- H323 প্রোটোকল হলো ইন্টারনেট প্রোটোকল বা আইপি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম অডিও, ভিডিও এবং ডেটা যোগাযোগের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মান।
- এটি মূলত ইন্টারনেট টেলিফোনি বা ভিওআইপি সেবায় অডিও ও ভিডিও কল পরিচালনা করতে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: H323 হলো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন কর্তৃক অনুমোদিত একটি প্রোটোকল স্যুট যা প্যাকেট-স্যুইচড নেটওয়ার্কে মাল্টিমিডিয়া যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপন, কল সিগন্যালিং এবং মাল্টিমিডিয়া ডেটা আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সাব-প্রোটোকল একত্রে কাজ করায়।
- ব্যবহার: আইপি টেলিফোনি, ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম এবং ইন্টারনেটভিত্তিক অডিও ও ভিডিও কলিংয়ে এই প্রোটোকল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্কাইপ বা জুমের মাধ্যমে কম্পিউটারে অডিও কল করা।
ব্যাখ্যা: এই ধরনের সফটওয়্যার ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভয়েস পাঠানোর জন্য সিগন্যালিং প্রোটোকল হিসেবে কাজ পরিচালনা করে।
উদাহরণ ২: আইপি ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অন্য দেশে কথা বলা।
ব্যাখ্যা: প্রথাগত টেলিফোন লাইনের পরিবর্তে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) File transfer — ফাইল স্থানান্তরের জন্য এফটিপি বা ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়, H323 ফাইলের জন্য নয়।
B) VoIP — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই প্রযুক্তিতে কল পরিচালনা করতে H323 প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
C) Data Security — ডেটা সুরক্ষার জন্য এসএসএল বা টিএলএস প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়, যা যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করে।
D) File download — ফাইল ডাউনলোডের জন্য সাধারণত এইচটিটিপি বা এফটিপি প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- H323 নামের মধ্যে থ্রি টু থ্রি আছে যা টেলিকম ও মাল্টিমিডিয়া অডিও-ভিডিও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
- মনে রাখতে হবে ভয়েস ওভার আইপি বা ভিওআইপির প্রধান প্রোটোকলগুলোর মধ্যে এইচ থ্রি টু থ্রি অন্যতম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভিওআইপি প্রযুক্তির পূর্ণরূপ হলো ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল।
- আইএসডিএন এবং আইপি নেটওয়ার্কে মাল্টিমিডিয়া যোগাযোগের জন্য এইচ থ্রি টু থ্রি স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল হিসেবে কাজ করে।
সঠিক উত্তর:
B) OCR
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নটিতে যে উত্তর দেওয়া হয়েছিল (C) MICR) সেটি প্রযুক্তিগতভাবে ভুল। মুদ্রিত বা হাতে লেখা টেক্সট সরাসরি কম্পিউটারে ইনপুট নেওয়ার সঠিক প্রযুক্তি হলো OCR।
- OCR হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা মুদ্রিত কাগজের লেখা স্ক্যান করে তাকে এডিটেবল বা কম্পিউটারের বোধগম্য টেক্সট ফাইলে রূপান্তর করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: OCR-এর পূর্ণরূপ Optical Character Recognition বা অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন। এটি এমন একটি ইনপুট ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা যা চিত্রের ভেতরের অক্ষর শনাক্ত করতে পারে।
- কার্যপদ্ধতি: এই প্রযুক্তি প্রথমে কোনো ডকুমেন্টের ছবি তোলে এবং আলো বা অপটিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি অক্ষরের আকৃতি বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি ছবি বা মুদ্রিত কাগজ থেকে সরাসরি টেক্সট আলাদা করতে পারে এবং ব্যবহারকারীকে সেই টেক্সট পরিবর্তন বা এডিট করার সুযোগ দেয়।
- ব্যবহার: পুরোনো বই স্ক্যান করে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করতে, কাগজের দলিল বা ফর্ম ডিজিটাইজ করতে এবং পিডিএফ ফাইল থেকে টেক্সট কপি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লাইব্রেরির পুরোনো ও দুর্লভ বই স্ক্যান করে সফটওয়্যারে রূপান্তর করা।
ব্যাখ্যা: হলুদ হয়ে যাওয়া পুরোনো বইয়ের পাতা স্ক্যান করে OCR প্রযুক্তির মাধ্যমে এমএস ওয়ার্ড ফাইলে রূপান্তর করা হয়, যাতে তা সহজেই পড়া ও এডিট করা যায়।
উদাহরণ ২: স্মার্টফোনে গুগল লেন্স বা স্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে কোনো সাইনবোর্ডের লেখা স্ক্যান করা।
ব্যাখ্যা: মোবাইল ক্যামেরার সাহায্যে সাইনবোর্ড বা পেপারের লেখা স্ক্যান করলে এই প্রযুক্তি মুহূর্তেই সেই ছবিকে মোবাইল স্ক্রিনে পড়ার উপযোগী টেক্সটে পরিণত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) OMR — এটি অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন, যা দিয়ে শুধু নির্দিষ্ট বৃত্ত বা ডার্ক মার্ক (যেমন বহু선্টী পরীক্ষার উত্তরপত্র) পড়া যায়, মুদ্রিত লেখা পড়া যায় না।
B) OCR — এটি মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নেওয়ার সঠিক প্রযুক্তি এবং এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
C) MICR — এটি ম্যাগনেটিক ইংক ক্যারেক্টার রিকগনিশন, যা ব্যাংকের চেকে বিশেষ চুম্বকীয় কালিতে লেখা অ্যাকাউন্ট নম্বর ও কোড পড়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়।
D) Scanner — এটি সাধারণ ছবি বা ডকুমেন্টসকে শুধু ইমেজ বা ছবি হিসেবে কম্পিউটারে ইনপুট নেয়, সরাসরি এডিটেবল টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- OCR মানে হলো অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন, যা ক্যারেক্টার বা অক্ষর রিড করতে পারে।
- MICR মানে হলো ম্যাগনেটিক ইংক, যা কেবল ব্যাংকের চেকের চুম্বকীয় কালি পড়তে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ওএমআর এবং ওসিআর এর কাজের পার্থক্য সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- সাধারণ স্ক্যানার কেবল ছবি তৈরি করে, কিন্তু ওসিআর সেই ছবিকে টেক্সটে রূপান্তর করে।
সঠিক উত্তর: C) Compiler
১. কেন সঠিক:
কম্পাইলার হলো এমন একটি অনুবাদক সফটওয়্যার যা উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষাকে সম্পূর্ণ কোড একসাথে পড়ে এবং একবারে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে।
এই প্রক্রিয়ায় পুরো প্রোগ্রামটির কোনো ভুল থাকলে তা একসাথে প্রদর্শন করে, ফলে প্রোগ্রাম সম্পাদনের গতি দ্রুত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: কম্পাইলার হলো একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা সোর্স কোডকে অবজেক্ট কোডে অনুবাদ করে।
কার্যপদ্ধতি: এটি সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম একসাথে পড়ে, সিনট্যাক্স বা ব্যাকরণগত ভুল যাচাই করে এবং সব ঠিক থাকলে এক্সিকিউটেবল ফাইল তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সি প্রোগ্রামিং ভাষা
ব্যাখ্যা: সি ভাষায় লেখা একটি বড় প্রজেক্ট রান করার সময় কম্পাইলার পুরো কোড একসাথে অনুবাদ করে আউটপুট দেয়।
উদাহরণ ২: গেম ডেভেলপমেন্ট
ব্যাখ্যা: আধুনিক থ্রিডি গেমগুলোতে জটিল কোড একবারে অনুবাদ করার জন্য কম্পাইলার ব্যবহার করা হয় যাতে গেম দ্রুত চলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Interpreter — এটি পুরো প্রোগ্রাম একবারে অনুবাদ না করে লাইন বাই লাইন অনুবাদ ও সম্পাদন করে।
B) Emulator — এটি একটি হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার যা একটি সিস্টেমকে অন্য সিস্টেমের মতো আচরণ করতে সাহায্য করে।
C) Compiler — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) Simulator — এটি বাস্তব পরিবেশের একটি কৃত্রিম মডেল তৈরি করে যা দিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কম্পাইলার মানে সম্পূর্ণ, অর্থাৎ এটি পুরো প্রোগ্রাম একসাথে অনুবাদ করে।
ইন্টারপ্রেটার মানে ইন্টারঅ্যাক্টিভ লাইন বাই লাইন অনুবাদ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পাইলার ব্যবহার করলে প্রোগ্রাম রান করতে কম সময় লাগে কিন্তু ভুল খুঁজে বের করা কিছুটা কঠিন হয়।
সি, সি প্লাস প্লাস এবং জাভা ভাষায় কোড অনুবাদের জন্য প্রধানত কম্পাইলার ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: C) Touch Screen
১. কেন সঠিক:
টচ স্ক্রিন এমন একটি প্রযুক্তি যা একই সাথে ইনপুট ডিভাইস এবং আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্ক্রিনে স্পর্শ করে নির্দেশ প্রদান করতে পারে এবং একই স্ক্রিনে ফলাফল দেখতে পারে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: টচ স্ক্রিন হলো এমন একটি ডিসপ্লে প্যানেল যা মানুষের স্পর্শ বা আঙুলের চাপ শনাক্ত করতে পারে এবং প্রসেসরের মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল তথ্য প্রদর্শন করে।
কার্যপদ্ধতি: স্ক্রিনের ওপর স্পর্শ করা মাত্র প্যানেলের সেন্সর সেই সিগন্যাল গ্রহণ করে ইনপুট হিসেবে প্রসেসরে পাঠায় এবং প্রসেস করা তথ্য ডিসপ্লেতে আউটপুট হিসেবে দেখায়।
ব্যবহার: স্মার্টফোন, এটিএম বুথ, টিকিট ভেন্ডিং মেশিন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটারে বহুল ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের স্ক্রিন।
ব্যাখ্যা: আমরা যখন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ট্যাপ করে কোনো অ্যাপ ওপেন করি তখন এটি ইনপুট নেয় এবং অ্যাপের ইন্টারফেস প্রদর্শন করে আউটপুট দেয়।
উদাহরণ ২: ব্যাংকের এটিএম বুথের ডিসপ্লে।
ব্যাখ্যা: টাকার পরিমাণ টাইপ করার সময় এটি ইনপুট ডিভাইস হিসেবে এবং পরবর্তী স্ক্রিনে লেনদেনের তথ্য দেখানোর সময় আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Mouse — এটি শুধুমাত্র ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে কারণ এটি কম্পিউটারকে নির্দেশ পাঠায় কিন্তু কোনো তথ্য প্রদর্শন করে না।
B) Microphone — এটি কেবল অডিও বা শব্দ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং তা কম্পিউটারে পাঠায়, কোনো আউটপুট দেয় না।
D) Printer — এটি শুধুমাত্র আউটপুট ডিভাইস কারণ এটি কম্পিউটারের নির্দেশ বা ডেটা কাগজে প্রিন্ট করে বাইরে প্রকাশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
টচ স্ক্রিন হলো দ্বিমুখী ডিভাইস যা স্পর্শের মাধ্যমে ডেটা নেয় এবং চোখের সামনে ফলাফল দেখায়।
ইনপুট এবং আউটপুট উভয় সুবিধা পেতে আধুনিক যুগের প্রায় সব স্মার্ট ডিভাইসে এটি ব্যবহার করা হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটারের পেরিফেরাল ডিভাইস থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের নাম জিজ্ঞাসা করা হয়।
টচ স্ক্রিন ছাড়াও মাল্টিফাংশন প্রিন্টার বা হেডসেট একই সাথে ইনপুট ও আউটপুট হিসেবে কাজ করতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) সংস্কৃতি
১. কেন সঠিক:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ, বিশ্বাস এবং চিন্তাভাবনাকে পরিচালিত করার নৈতিক মানদণ্ড। সংস্কৃতি হলো একটি সমাজের জীবনধারা, ঐতিহ্য, শিল্প ও সামাজিক রীতিনীতির সমষ্টি যার মধ্য দিয়ে মূল্যবোধ তৈরি ও সঞ্চারিত হয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনযাপনের সামগ্রিক রূপ যার ভেতর দিয়ে সমাজ নির্ধারিত নৈতিক আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।
প্রয়োগ: সমাজে ভালো চর্চা টিকিয়ে রাখতে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলোকে দৈনন্দিন কার্যক্রমে ধারণ করতে হবে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পারিবারিক ও সামাজিক উৎসবে বড়দের সম্মান জানানো এবং ছোটদের স্নেহ করার সংস্কৃতি চর্চা করা।
ব্যাখ্যা: এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে।
উদাহরণ ২: কর্মক্ষেত্রে সততা ও দলগত কাজের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করা।
ব্যাখ্যা: এই সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও নৈতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) উন্নয়ন — উন্নয়ন হলো সমাজের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত অগ্রগতির ফল, যা মূলত সংস্কৃতির মাধ্যমে লালিত মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
B) গণতন্ত্র — গণতন্ত্র হলো একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা শাসনপদ্ধতি, যা মূল্যবোধকে সুরক্ষিত করতে পারে কিন্তু মূল্যবোধের মূল চালিকা শক্তি নয়।
D) সুশাসন — সুশাসন হলো রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পদ্ধতি যা প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
মূল্যবোধ মানে মানুষের ভেতরের ভালো গুণ আর সংস্কৃতি হলো সেই সমাজব্যবস্থা যা এই গুণগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হিসেবে সংস্কৃতিকে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং সমাজ পরিবর্তনে নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করে। একই ধারণা থেকে সমাজবিজ্ঞান ও নৈতিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
১. কেন সঠিক:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বাজারে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত হয় যা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরাসরি সহায়তা করে।
- সুশাসনের অন্যতম মূল স্তম্ভ হলো কার্যকারিতা ও ন্যায়সংগত নীতি, যা ব্যবসায়িক পরিবেশকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করে তোলে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে জনকল্যাণ নিশ্চিত করে।
- গুরুত্ব: অর্থনৈতিক সুশাসন দুর্নীতি হ্রাসের পাশাপাশি সম্পদ সঠিক ও কার্যকরভাবে বণ্টন করতে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন ব্যবসায়ী কোনো রকম ঘুষ বা অতিরিক্ত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি লাইসেন্স নবায়ন করতে পারলে তিনি আরও বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত হন।
ব্যাখ্যা: এটি অর্থনৈতিক সুশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি চমৎকার প্রকাশ, যা ব্যবসায়িক পরিবেশকে গতিশীল করে।
উদাহরণ ২: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় থাকলে সঠিক নিয়মে ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয় এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি দূর হয়।
ব্যাখ্যা: এটি আর্থিক খাতের সততা ও সুশাসন নিশ্চিত করে যা সামগ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দুনীতি দূর হয় — দুর্নীতি দূর হওয়া সুশাসনের একটি প্রধান ফলাফল বা পূর্বশর্ত, কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের সবচেয়ে সরাসরি ও পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
C) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় — আইনের শাসন সুশাসনের একটি বৃহত্তর স্তম্ভ, যা অর্থনৈতিক সুশাসনসহ সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য।
D) কোনোটিই নয় — সঠিক উত্তর বিকল্প বি তে বিদ্যমান থাকায় এই অপশনটি গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
অর্থনৈতিক সুশাসন মানেই হলো ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ, আর এই আস্থা বাড়লেই বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
সুশাসন সংক্রান্ত প্রশ্নে অর্থনৈতিক প্রভাব খুঁজতে হলে সবসময় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুশাসন কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দুর্নীতিরোধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
একই নীতি থেকে বিসিএস বা অন্যান্য পরীক্ষায় সুশাসনের মূল উপাদান বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) মৌলিক
১. কেন সঠিক:
- তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের জন্মগত ও সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সুদৃঢ় করে।
- মানবাধিকার ও সুশাসনের নীতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য জানার সুযোগ না থাকলে নাগরিকের পক্ষে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: তথ্য অধিকার হলো রাষ্ট্রের যেকোনো দপ্তরে সংরক্ষিত তথ্য জানার এবং তা ব্যবহার করার আইনি ও নৈতিক স্বাধীনতা।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে, দুর্নীতি রোধে সাহায্য করে এবং নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
- প্রয়োগ: সরকারি সেবার মান যাচাই, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ এবং নীতি নির্ধারণে নাগরিকদের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে এর প্রয়োগ ঘটে।
- সম্ভাব্য প্রভাব: তথ্য প্রাপ্তির অবাধ সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন নাগরিক এলাকার উন্নয়ন কাজের ব্যয়ের হিসাব চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেন।
ব্যাখ্যা: এটি জনসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণের চমৎকার বহিঃপ্রকাশ।
উদাহরণ ২: একটি সরকারি হাসপাতালে সেবার মান ও বরাদ্দের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলো।
ব্যাখ্যা: এটি কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের মৌলিক তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সম্মান জানানোর নৈতিক নিদর্শন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাজনৈতিক — রাজনৈতিক অধিকার মূলত ভোটদান, দল গঠন বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটি সরাসরি তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করে না।
B) অর্থনৈতিক — অর্থনৈতিক অধিকার মানুষের জীবিকা, কাজ ও ন্যায্য মজুরির সঙ্গে যুক্ত, যা তথ্যের অধিকারের পরিধিভুক্ত নয়।
D) সামাজিক — সামাজিক অধিকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির সুযোগ নিশ্চিত করে, যদিও এর সঙ্গে তথ্যের সম্পর্ক আছে কিন্তু মৌলিক অধিকার হিসেবে এর আইনি ভিত্তি বেশি শক্তিশালী।
৫. মনে রাখার টিপস:
- তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের বেঁচে থাকার ও জানার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, তাই এটি অন্য যেকোনো সাধারণ অধিকারের চেয়ে উচ্চতর স্তর অর্থাৎ মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা এবং তথ্য অধিকারের পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) আরজ আলী মাতুব্বর
১. কেন সঠিক:
- বাংলার মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও মানবতাবাদী দর্শনের ক্ষেত্রে আরজ আলী মাতুব্বর ‘নব-নৈতিকতা’ বা নতুন নৈতিকতার ধারণাটি প্রবর্তন করেছিলেন।
- ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণ, বিবেক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সততার ওপর ভিত্তি করে নৈতিক জীবন যাপনকেই তিনি নব-নৈতিকতা হিসেবে বুঝিয়েছেন।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: নব-নৈতিকতা হলো প্রথাগত বা অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে মানবপ্রেম, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং বিবেকবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত আধুনিক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে কুসংস্কার দূর করে মানুষের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যুক্তিবাদী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্রয়োগ: ব্যক্তিগত জীবনে অন্ধভাবে কোনো কিছু অনুসরণ না করে বিবেক ও যুক্তির আলোকে সঠিক ও ভুলের বিচার করার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করা যায়।
- সম্ভাব্য প্রভাব: এর ফলে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়, অসহিষ্ণুতা কমে এবং একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে ওঠে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা কুসংস্কারমূলক প্রথা অন্ধভাবে পালন না করে সেটির যৌক্তিকতা বিচার করা।
ব্যাখ্যা: এটি নব-নৈতিকতার চেতনাকে ধারণ করে, যেখানে অন্ধ অনুকরণের বদলে বিবেক ও বুদ্ধির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উদাহরণ ২: সমাজে প্রচলিত কোনো সামাজিক বৈষম্য বা গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যুক্তিপূর্ণ ও মানবিক অবস্থান গ্রহণ করা।
ব্যাখ্যা: অন্যের প্রতি সহমর্মিতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সততা প্রয়োগের মাধ্যমে এখানে সঠিক নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মোহাম্মদ বরকতুল্লা — তিনি বাংলা সাহিত্যে মানবতাবাদী প্রবন্ধ ও চিন্তার জন্য পরিচিত হলেও নব-নৈতিকতার প্রবর্তক নন।
B) জি. সি. দেব — গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন প্রখ্যাত দার্শনিক এবং মানবতাবাদী চিন্তাবিদ হলেও তিনি অস্তিত্ববাদ ও মানবতাবাদের জন্য পরিচিত।
D) আবদুল মতীন — তিনি ভাষা আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতার এই নির্দিষ্ট ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত নন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রশ্নটিতে ‘নব-নৈতিকতা’ শব্দটি দেখলে সরাসরি আরজ আলী মাতুব্বরকে চিহ্নিত করবে।
- মনে রাখবে, প্রথাগত বিশ্বাসের বাইরে যুক্তি ও মানবতাকে যিনি নৈতিকতার ভিত্তি বানিয়েছেন, তিনিই আরজ আলী মাতুব্বর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মুক্তবুদ্ধি চর্চা এবং মানবতাবাদী দর্শন থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- এই একই ধারণা থেকে বাংলা দার্শনিক চিন্তাধারা এবং বিখ্যাত লেখকদের অবদান সম্পর্কিত অন্য এমসিকিউ আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা মূলত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রচলিত নিয়ম, মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত সামাজিক প্রথা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের সমন্বিত রূপ যা মানুষের আচরণকে ইতিবাচকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
প্রশ্নের ধরন: নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ
- মূল ধারণা: রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন হলো এমন কিছু নিয়ম ও আদর্শ যা সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সহায়তা করে।
- প্রয়োগ: রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা, নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা এবং সামাজিক উৎসবে সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করা যায়।
- সম্ভাব্য প্রভাব: এর ফলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নাগরিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এলাকায় কোনো সামাজিক সমস্যা দেখা দিলে যুবসমাজ একত্রিত হয়ে তার সমাধান করা।
ব্যাখ্যা: এটি সামাজিক অনুশাসনের অংশ, যেখানে নাগরিকরা নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করে।
উদাহরণ ২: ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা গ্রহণ করা।
ব্যাখ্যা: এটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সুশৃঙ্খল নাগরিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নৈতিক অনুশাসন — নৈতিক অনুশাসন হলো ব্যক্তির নিজস্ব বিবেক ও অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, যা সার্বজনীনভাবে ভালো নাগরিক হওয়ার বাহ্যিক প্রত্যাশার চেয়ে ব্যক্তিগত চেতনার সাথে বেশি সম্পর্কিত।
B) রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর, কারণ ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোর সাথে যুক্ত।
C) আইনের শাসন — আইনের শাসন বলতে রাষ্ট্রে আইনের সর্বোচ্চ প্রাধান্য এবং সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগকে বোঝায়, যা নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশার চেয়ে বিচারিক ব্যবস্থার সাথে বেশি সম্পর্কিত।
D) আইনের অধ্যাদেশ — আইনের অধ্যাদেশ হলো রাষ্ট্রপতির জারিকৃত সাময়িক আইন, যার সাথে নাগরিকদের ভালো নাগরিক হওয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রত্যাশার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা সবসময় সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোর ভেতর থেকে আসে, তাই এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসনের অন্তর্ভুক্ত।
- ব্যক্তি সচেতনতা হলো নৈতিকতা, আর সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসনের ক্ষেত্র।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সমাজের সাথে নাগরিকের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- একই নীতি থেকে নাগরিক দায়িত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সুশাসন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) আইনের শাসন
১. কেন সঠিক:
আইンの শাসন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি সুশাসন এবং সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি যা নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: আইনের শাসন মানে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে সমাজে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা।
গুরুত্ব: এটি ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর শোষণ চালায়।
প্রয়োগ: রাষ্ট্রে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং ক্ষমতার যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা।
সম্ভাব্য প্রভাব: সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাস্তায় ট্রাফিক আইন অমান্য না করে সবার লাইসেন্স ও সিগন্যাল মেনে চলা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত স্তর থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।
উদাহরণ ২: অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করা।
ব্যাখ্যা: আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এই নীতির যথাযথ প্রয়োগই হলো সভ্য সমাজের পরিচয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গণতন্ত্র — গণতন্ত্র রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি মাধ্যম হলেও আইনের শাসন ছাড়া তা একনায়কত্বে পরিণত হতে পারে।
B) বিচার ব্যবস্থা — বিচার ব্যবস্থা আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মাত্র, কিন্তু এটি পুরো সমাজের একমাত্র মানদণ্ড নয়।
C) সংবিধান — সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দলিল, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা দেয় কিন্তু নিজেই সম্পূর্ণ সমাজ গঠনে যথেষ্ট নয়।
D) আইনের শাসন — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং সভ্য সমাজের মূল মানদণ্ড।
৫. মনে রাখার টিপস:
আইন সবার জন্য সমান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই হলো সভ্য সমাজের মূল মাপকাঠি। আইনের শাসন মানেই সমাজ সভ্যতার উচ্চ শিখরে অবস্থান করা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আইনের শাসন সুশাসনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এই নীতি থেকে ব্যাংক বা বিসিএস পরীক্ষায় সুশাসন এবং গণতন্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
১. কেন সঠিক:
- সুনির্দিষ্ট অধিকার বঞ্চিত বা সংখ্যায় কম থাকা জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিপরীত বৈষম্য বা ইতিবাচক বৈষম্যের নীতি প্রয়োগ করা হয়।
- এটি মূলত ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি বিশেষ কৌশল যার মাধ্যমে ঐতিহাসিক বা সামাজিক অসমতা দূর করা হয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: বিপরীত বৈষম্য হলো এমন একটি নীতি যেখানে পিছিয়ে থাকা বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মূলধারায় আনতে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়।
- গুরুত্ব: সমাজে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে সত্যিকারের সমতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ কোটা বা আসন সংরক্ষণ করা।
- ব্যাখ্যা: এটি তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমতার নীতি বাস্তবায়ন করে।
- উদাহরণ ২: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও বৃত্তির ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান।
- ব্যাখ্যা: সুযোগের সমতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে থাকা অংশকে এগিয়ে নিতে এই নীতি কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নারীদের ক্ষেত্রে — নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ইতিবাচক পদক্ষেপ বা জেন্ডার সমতার নীতি প্রয়োগ করা হয়, যা বিপরীত বৈষম্যের চেয়ে বৃহত্তর নারী ক্ষমতায়নের অন্তর্ভুক্ত।
B) সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জনগােষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বিপরীত বৈষম্যের নীতি বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
C) প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে — প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ বা প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণকে সাধারণত অধিকারভিত্তিক প্রবেশাধিকার ও বিশেষ সুরক্ষা বলা হয়।
D) পিছিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগােষ্ঠীর ক্ষেত্রে — এই অপশনটি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এতে অনগ্রসর শ্রেণি, উপজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা নির্দিষ্ট সংখ্যালঘুর ধারণার চেয়ে ভিন্ন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিপরীত বৈষম্য শব্দটি দেখলে সংক্ষেপে সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রাখবে।
- এটি সাধারণ সমতার বিপরীত মনে হলেও মূলত এটি সমতা প্রতিষ্ঠারই একটি বিশেষ রূপ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি থেকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মূল ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
- একই নীতি থেকে ইতিবাচক বৈষম্য বা সমতার পরিধি সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
১. কেন সঠিক:
- মূল্যবোধ হলো সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি। এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে।
- সংশ্লিষ্ট নৈতিক নীতি বা মূল্যবোধ এখানে সামাজিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলিত করার জন্য যেসব বিশ্বাস, ধারণা ও মানদণ্ড সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত, তাকে মূল্যবোধ বলে।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করা।
ব্যাখ্যা: এটি পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং যৌথ কাজের পরিবেশকে সহজ করে।
উদাহরণ ২: পাড়ার বিপদে বা উৎসবে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো।
ব্যাখ্যা: এই আচরণটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ — এটি সঠিক কারণ মূল্যবোধ প্রধানত সামাজিক সম্পর্কের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
B) মানুষের আচরণ পরিচালনاکی নীতি ও মানদণ্ড — এটি নৈতিকতার অংশ, যা ব্যক্তিগত আচরণকে বেশি নির্দেশ করে।
C) সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান — এটি মূল্যবোধের ফলাফল হতে পারে, তবে সরাসরি সংজ্ঞা বা মূল কাজ নয়।
D) মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা — এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা কর্মপদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত, সামগ্রিক মূল্যবোধের পরিধি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মূল্যবোধ মানেই হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মাপকাঠি। সম্পর্ক এবং সমাজ যেখানে প্রধান, সেখানেই মূল্যবোধের সঠিক প্রয়োগ ঘটে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মূল্যবোধের সামাজিক ভিত্তি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের রূপরেখা বুঝতে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই ধারণা থেকে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘের বিশ্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং সুশাসনসংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
সুশাসন কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ব্যক্তি মানুষের মতপ্রকাশ, চিন্তা এবং বেঁচে থাকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: সুশাসন ও মানবাধিকার হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
গুরুত্ব: সমাজের প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সুশাসন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
প্রয়োগ: রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নাগরিকদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করা।
সম্ভাব্য প্রভাব: সুশাসনের প্রভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা দূর হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোনো সরকারি অফিস থেকে সেবা নেওয়ার সময় নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং হয়রানি না করা।
ব্যাখ্যা: এটি সুশাসনের অংশ, যেখানে নাগরিকের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
উদাহরণ ২: সংবাদমাধ্যমের ওপর অযথা হস্তক্ষেপ না করে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচারের সুযোগ দেওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়নের সরাসরি বহিঃপ্রকাশ, যা সুশাসনের মূল লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দারিদ্র বিমোচন — দারিদ্র বিমোচন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ এবং সুশাসনের একটি ফল, তবে জাতিসংঘের দাপ্তরিক সংজ্ঞায় সুশাসনের প্রত্যক্ষ মূল লক্ষ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
B) মৌলিক অধিকার রক্ষা — মৌলিক অধিকার রক্ষা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও, জাতিসংঘ ঘোষিত সুশাসনের সামগ্রিক ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়নকে প্রধান ধরা হয়।
D) নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা — নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা মানবাধিকারের একটি বিশেষ ক্ষেত্র এবং সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি সামগ্রিক সুশাসনের একমাত্র বা প্রধান লক্ষ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
জাতিসংঘের সুশাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন এলেই মনে রাখবে এটি মূলত মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকারের উন্নয়নের ওপর জোর দেয়।
সুশাসনের মূল কথাই হলো আইনের শাসন ও মৌলিক স্বাধীনতার বিকাশ ঘটানো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুশাসন নিশ্চিত করার প্রধান স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন।
এই নীতি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য কী, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতা বা মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত অপশনগুলো বেশি গুরুত্ব পায়।
সঠিক উত্তর: D) নিয়মিত কর প্রদান করা
১. কেন সঠিক:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের রাজস্ব আয় অত্যন্ত জরুরি এবং নাগরিকের মৌলিক আইনি ও নৈতিক কর্তব্য হলো নিয়মিত কর প্রদান করা।
- এটি নাগরিক দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা মূল্যবোধের আওতাভুক্ত, যা রাষ্ট্রের অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজ সচল রাখে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: নাগরিক দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের প্রতি একজন নাগরিকের আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা, যার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- গুরুত্ব: নিয়মিত কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে যা সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।
- প্রয়োগ: নির্ধারিত সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে আয়কর বা অন্যান্য কর পরিশোধ করার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা যায়।
- সম্ভাব্য প্রভাব: এর ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতি ও অপচয় হ্রাস পায়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন চাকরিজীবী প্রতি বছর তার আয়ের সঠিক হিসাব অনুযায়ী সময়মতো সরকারি কোষাগারে কর জমা দেন।
ব্যাখ্যা: এটি তার দায়িত্ববোধ ও নাগরিক কর্তব্যের সঠিক প্রয়োগ, যা রাষ্ট্রীয় সেবামূলক কাজকে গতিশীল করে।
উদাহরণ ২: একজন ব্যবসায়ী পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে ভ্যাট বা কর ফাঁকি না দিয়ে সরকারের নিয়ম মেনে তা পরিশোধ করেন।
ব্যাখ্যা: এটি সততা ও পেশাগত নৈতিকতার পরিচায়ক, যা সুশাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা — সরকার পরিচালনা মূলত নির্বাচিত প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাজ, সাধারণ নাগরিকের কাজ হলো আইন মান্য ও সহযোগিতা করা।
B) নিজের অধিকার ভোগ করা — অধিকার ভোগ করা নাগরিকের স্বাধীনতা হলেও সুশাসন কেবল অধিকারের ওপর নয়, বরং কর্তব্যের ওপর নির্ভর করে।
C) সত্তাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা — ব্যবসা-বাণিজ্য করা প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, তবে এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার সরাসরি কোনো সর্বজনীন কর্তব্য নয়।
D) নিয়মিত কর প্রদান করা — এটি সুশাসন ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে নাগরিকের সবচেয়ে সরাসরি ও অপরিহার্য কর্তব্য।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হলো সুশাসনের মূল চাবিকাঠি।
- কর প্রদান হলো রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের সবচেয়ে বড় আর্থিক দায়িত্ব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুশাসন ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোতে মূলত আইনি ও নৈতিক কর্তব্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।
- একই নীতি থেকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বনাম মৌলিক কর্তব্য সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) যুক্তরাষ্ট্রের
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো অ্যালায়েন্স (Alliance for Bangladesh Worker Safety) মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর আমেরিকার ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম।
- ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস এবং তাজরীন ফ্যাব্রিকসে অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ২০১৩ সালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয় এবং সংস্কারের দাবি জোরালো হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: উত্তর আমেরিকার প্রায় ত্রুটিহীন পোশাক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের কারখানায় নিরাপত্তা ও পরিদর্শনের কাজ পরিচালনা করে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিন নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত মান অনেকাংশেই উন্নত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অ্যাকর্ড (Accord on Fire and Building Safety in Bangladesh)
ব্যাখ্যা: এটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক ক্রেতাদের সংগঠন, যা একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে কাজ করেছে।
উদাহরণ ২: রানা প্লাজা দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা: এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক নজরদারি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড আমূল বদলে দিতে বাধ্য করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাজ্যের — যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রেতারা প্রধানত অ্যাকর্ড বা অন্য উদ্যোগে অংশ নিয়েছিল, অ্যালায়েন্সে নয়।
B) যুক্তরাষ্ট্রের — এই অপশনটি সঠিক কারণ অ্যালায়েন্স মূলত উত্তর আমেরিকা তথা যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন।
C) কানাডার — কানাডার কিছু ব্র্যান্ড এতে থাকলেও প্রধান নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা।
D) ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে — ইউরোপের ব্র্যান্ডগুলো অ্যাকর্ড নামক আলাদা আরেকটি সংগঠনের অংশ ছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- উত্তর আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র শুরু হয় এ অক্ষর দিয়ে, আর অ্যালায়েন্স বা Alliance শব্দটিও এ দিয়ে শুরু হয়।
- ইউরোপের ব্র্যান্ডগুলো ছিল অ্যাকর্ড (Accord) এ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলো অ্যালায়েন্স (Alliance) এ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক জোট ছিল অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন জোটটি কোন দেশের ক্রেতাদের নিয়ে গঠিত।
সঠিক উত্তর: A) পর্তুগীজরা
১. কেন সঠিক:
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সবার আগে সমুদ্রপথে পর্তুগীজ নাবিকরাই বাংলায় আগমন করেন।
১৫১৮ থেকে ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পর্তুগীজ বণিকরা বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে প্রথম বাংলায় আসেন।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার পর ইউরোপীয়দের জন্য এ অঞ্চলে ব্যবসার পথ উন্মুক্ত হয়।
তারিখ ও স্থান: ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগীজ প্রতিনিধি জোয়াও দ্য সিলভেইরা প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করেন।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ভাস্কো দা গামা জলপথ আবিষ্কারক এবং পর্তুগীজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই বাণিজ্যের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিল।
তাৎপর্য ও ফলাফল: পর্তুগীজদের আগমনের মাধ্যমে বাংলায় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘ অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাস্কো দা গামার ভারত আগমন।
ব্যাখ্যা: এটি ইউরোপ থেকে এশিয়ায় আসার সরাসরি জলপথ আবিষ্কারের প্রথম ঘটনা যা পরবর্তীতে বণিকদের বাংলায় আসতে উৎসাহিত করে।
উদাহরণ ২: পর্তুগীজদের চট্টগ্রাম দখল ও সন্দ্বীপ অধিকার।
ব্যাখ্যা: ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এসে তারা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পর্তুগীজরা — এটি সঠিক উত্তর কারণ তারা সবার আগে ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় এসেছিলেন।
B) ইংরেজরা — ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতে এলেও বাংলায় তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে।
C) ওলন্দাজরা — ডাচ বা ওলন্দাজ বণিকরা পর্তুগীজদের অনেক পরে সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে বাংলায় বাণিজ্য বিস্তার করতে শুরু করে।
D) ফরাসিরা — ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতে আসে এবং চন্দননগরে তাদের প্রধান কুঠি স্থাপন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ইউরোপীয়দের আগমনের ধারাবাহিকতা মনে রাখার সহজ কৌশল হলো প-ই-ও-ফ অর্থাৎ প্রথমে পর্তুগীজ, এরপর ইংরেজ, তারপর ওলন্দাজ এবং শেষে ফরাসিরা আসে।
পর্তুগীজদের আসার সাল ১৫১৮ এবং ইংরেজদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের সাল ১৬২০ এর দশক পাশাপাশি মনে রাখলে বিভ্রান্তি দূর হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলায় প্রথম কোন ইউরোপীয় বণিকরা এসেছিলেন এবং তাদের প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় ছিল।
এই টপিক থেকে বাংলায় পর্তুগীজদের আদিনাম হার্মাদ জলদস্যু এবং তাদের ব্যবহৃত পণ্যের ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
১. কেন সঠিক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য প্রাচীন ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং মৌর্য শাসন প্রাচীন বাংলায় বিস্তার লাভ করেছিল।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের আমলে পুণ্ড্রবর্ধনসহ বাংলার একটি বড় অংশ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার প্রমাণ মহাস্থানগড় থেকে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপি।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে নন্দ বংশের পতনের পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মগধে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য বা কৌটিল্য, যিনি অর্থশাস্ত্র রচনা করেছিলেন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: মৌর্য শাসনের মাধ্যমে প্রাচীন বাংলায় প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বহির্বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাস্থানগড় ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা: বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপিতে মৌর্য আমলের দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ লিপিবদ্ধ আছে, যা বাংলায় মৌর্য শাসনের নিশ্চিত প্রমাণ।
উদাহরণ ২: সম্রাট অশোকের পুণ্ড্রবর্ধন বিজয়
ব্যাখ্যা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্তরসূরি বিন্দুসার ও অশোকের সময়ে প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অশোক মৌর্য — অশোক মৌর্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র বা নাতি ছিলেন, যিনি সাম্রাজ্য বিস্তার ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে বিখ্যাত ছিলেন কিন্তু সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নন।
B) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি মৌর্য রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার আমলেই বাংলায় মৌর্য শাসনের সূত্রপাত হয়।
C) সমুদ্র গুপ্ত — সমুদ্রগুপ্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন, যিনি চতুর্থ শতাব্দীতে বাংলা আক্রমণ করেছিলেন কিন্তু তিনি মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা নন।
D) এর কোনটিই না — যেহেতু সঠিক উত্তর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য অপশনে বিদ্যমান, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত আর গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত, এই দুটি নাম গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
- চন্দ্রগুপ্তের নাম মনে রাখলে মনে রাখবে মগধ ও বাংলার প্রথম সাম্রাজ্যিক শাসনের সূচনার কথা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রাচীন বাংলার শাসনকর্তা সম্পর্কিত প্রশ্নে মৌর্য ও গুপ্ত রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্রাট অশোকের বাংলা অভিযান সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- মৌর্য আমলের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে মহাস্থানগড়ের ব্রাহ্মী লিপির অবস্থান ও গুরুত্ব বারবার পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) ১৪৯৮-১৫১৯ খৃষ্টাব্দ
১. কেন সঠিক:
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন সুলতান হিসেবে বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন এবং তিনি বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় শাসক ছিলেন।
- তার শাসনামলে বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে যা ইতিহাসে হোসেন শাহী আমল নামে পরিচিত।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: হাবসি শাসকদের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দে সৈয়দ হোসেন সিংহাসন আরোহণ করেন এবং আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি ধারণ করেন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ইলিয়াস শাহী বংশের পতনের পর বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলার সর্বকালের সেরা সুলতান হিসেবে পরিচিত।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: তার শাসনামলে বাঙালি সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটে, গৌড় ও পাণ্ডুয়া রাজধানী হিসেবে সমৃদ্ধ হয় এবং শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলন তার আমলেই প্রসার লাভ করে।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: তাকে বাংলার আকবর বলা হয় কারণ তিনি প্রজাবৎসল ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকদের উচ্চ পদে নিয়োগ দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখেছিলেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রূপলাল হাউজ বা ঐতিহাসিক সোনারগাঁওর প্রাচীন স্থাপনা
ব্যাখ্যা: হোসেন শাহী আমলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থাপত্যকলার বিকাশ তৎকালীন বাংলার এই নিদর্শনগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়।
উদাহরণ ২: মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য অনুবাদ
ব্যাখ্যা: সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সাহিত্যকর্মটি রচিত হয় যা প্রমাণ করে হোসেন শাহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৪৯৮-১৪১৬ খৃষ্টাব্দ — এই সময়কালটি ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে মেলে না কারণ হোসেন শাহ রাজত্ব করেছেন দীর্ঘ ২১ বছর, যা এই মেয়াদের চেয়ে অনেক বেশি।
B) ১৪৯৮-১৫১৭ খৃষ্টাব্দ — এই অপশনের শুরুর সালটি সঠিক হলেও শেষের সালটি সঠিক নয় কারণ তিনি ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
C) ১৪৯৮-১৫১৮ খৃষ্টাব্দ — এই অপশনটিও তার সঠিক রাজত্বকালের শেষ সীমার সাথে মিলছে না এবং ইতিহাসবিদদের মতে তিনি ১৫১৯ খৃষ্টাব্দে মারা যান।
D) ১৪৯৮-১৫১৯ খৃষ্টাব্দ — এই অপশনটি সম্পূর্ণ সঠিক কারণ তিনি ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দে ক্ষমতা গ্রহণ করে ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত সফলভাবে বাংলা শাসন করেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনকাল মনে রাখার জন্য মনে রাখতে হবে তিনি ১৪৯৮ খৃষ্টাব্দে ক্ষমতায় আসেন এবং ঠিক ২১ বছর পর ১৫১৯ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তার নামের শেষাংশ হোসেন শাহ এবং তার রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিল বলে পরীক্ষার্থীরা এভাবে মনে রাখতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন আসে বাংলার কোন সুলতানকে বাংলার আকবর বলা হয় এবং হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে।
- এই একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে হোসেন শাহের রাজত্বকাল কত ছিল অথবা কার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় সাহিত্যচর্চার ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল।
সঠিক উত্তর: B) জহির রায়হান
১. কেন সঠিক:
- 'There be Light' (আলোর পিপাসা) প্রামাণ্যচিত্র বা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাহিত্যিক জহির রায়হান।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সত্য ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য তিনি এই ছবিটি নির্মাণ করেন।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের উদ্যোগে বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: চলচ্চিত্রটির নির্মাতা জহির রায়হান একাধারে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা উন্মোচনে অত্যন্ত ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জহির রায়হানের প্রামাণ্যচিত্র 'স্টপ জেনোসাইড'।
ব্যাখ্যা: এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত অত্যন্ত প্রশংসিত আরেকটি আন্তর্জাতিক মানের প্রামাণ্যচিত্র, যা বাংলার মুক্তিসংগ্রামকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে।
উদাহরণ ২: জহির রায়হানের বিখ্যাত উপন্যাস 'হাজার বছর ধরে'।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসটি থেকে প্রমাণিত হয় তিনি শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, বরং বাংলা সাহিত্যের একজন অনন্য সাধারণ ও গণমুখী কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আমজাদ হোসেন — তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও গীতিকার হলেও 'There be Light' ছবিটি তিনি পরিচালনা করেননি।
B) জহির রায়হান — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়, কারণ তিনি নিজেই এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন।
C) খান আতাউর রহমান — তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা ও পরিচালক হলেও এই নির্দিষ্ট ছবিটি তিনি পরিচালনা করেননি।
D) শেখ নিয়ামত আলী — তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের একজন বিশিষ্ট স্বাধীন ধারা ও বাস্তবধর্মী নির্মাতা হলেও এই প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র মানেই জহির রায়হান।
- 'There be Light' এবং 'Stop Genocide' উভয় প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা জহির রায়হান, যা এক সাথে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদের নাম বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- একই বিষয় থেকে জহির রায়হানের অন্যান্য চলচ্চিত্র বা সাহিত্যকর্ম নিয়েও পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ১৩ হাজার ১৩৬ টি
১. কেন সঠিক:
- তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি নির্দিষ্ট গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে তৎকালীন সরকার প্রথম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের সূচনা করে।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: এই ধারণার রূপকার এবং এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা পরবর্তীতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এর ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং গ্রামীণ নারীরা সহজেই প্রসূতি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ই-স্বাস্থ্য সেবা ও টেলিমেডিসিন
ব্যাখ্যা: কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে বর্তমানে অনেক স্থানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় উদাহরণ।
উদাহরণ ২: মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের প্রাথমিক স্বাস্থ্য মডেল
ব্যাখ্যা: এই অঞ্চলগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর প্রাথমিক সফলতাই পুরো দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথ উন্মুক্ত করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৩ হাজার ১২৫ টি — এটি এই নির্দিষ্ট প্রশ্নের সঠিক পরিসংখ্যান নয় এবং এই সংখ্যাটি অন্য কোনো গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
B) ১৩ হাজার ১৩০ টি — এই সংখ্যাটি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য বা চূড়ান্ত অনুমোদিত প্রাক্কলিত সংখ্যার সঙ্গে মিলে না।
D) ১৩ হাজার ১৪৬ টি — এটি একটি ভুল পরিসংখ্যান এবং দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী তৎকালীন সময়ে নির্ধারিত ক্লিনিক সংখ্যার সঙ্গে এটি অসঙ্গতিপূর্ণ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সংখ্যাটি মনে রাখার জন্য শেষ অঙ্কগুলোর দিকে নজর দিতে পারো, যেখানে তেরো হাজার এবং তেরো শত ছাব্বিশ বা ছত্রিশের মতো হিসাব মনে রাখা যায়।
- কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মূল প্রবক্তা এবং সাল ১৯৯৬ সালটি মনে রাখলে পরীক্ষagulo তে উত্তর করা সহজ হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতি কত হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ, এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- স্বাস্থ্য খাতের এই অর্জন থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রশ্নও পরীক্ষাতে থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ৩৫ জন
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করেছিল।
- এই মামলায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আসামি করা হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার এই মামলার কথা প্রকাশ করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা চালায়।
- তারিখ ও স্থান: মামলার শুনানি শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা সেনানিবাসে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: এই মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন তৎকালীন বাঙালি নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মামলাটির দাপ্তরিক নাম ছিল রাষ্ট্র বনাম ইষ্ট পাকিস্তান সলতেজ ও অন্যান্য।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই মামলার বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে যা পরবর্তীতে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্র-জনতার আন্দোলনই পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
উদাহরণ ২: ১১ দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা: ছাত্রদের গড়া সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৩৪ জন — এটি ভুল কারণ মামলার চার্জশিটে আসামির সংখ্যা ৩৪ জন ছিল না, বরং আসামি ছিলেন মোট ৩৫ জন।
B) ৩৫ জন — এটি সঠিক এবং এই মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
C) ৩৬ জন — এটি ভুল কারণ মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় আসামির সংখ্যা ৩৬ জন ছিল না।
D) ৩২ জন — এটি ভুল কারণ রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কোনো দস্তাবেজেই এই মামলার আসামির সংখ্যা ৩২ জন বলা হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন এবং ১ নম্বর আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- সংখ্যাটি মনে রাখতে ৩ এর সাথে ৫ যোগ করলে ৮ হয় (১৯৬৮ সাল) এবং মোট আসামি ৩৫ জন এভাবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যেখানে মামলার ১ নম্বর আসামি কে ছিলেন তা জানতে চাওয়া হয়।
- একই বিষয় থেকে মামলাটির নাম, ১ নম্বর আসামির নাম এবং মামলার কারণে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৬৬ সালে
প্রদত্ত তথ্য:
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি
১৯৬৬ সালের ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
ধরি,
এই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাঙালির স্বাধিকার অর্جনের জন্য ৬ দফা পেশ করা হয়
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর হওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়
অতএব,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ৬ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন
এই ৬ দফার মূল ভিত্তি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা
সুতরাং,
বাঙালি জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এটি বিবেচিত হয়
উত্তর: ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর: A) ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
১. কেন সঠিক:
- গণপ্রজাত বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের নবম অধ্যায়ে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- এই অংশের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
২. সংবিধান ও আইন:
- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগণকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে কমিশন গঠিত হয়।
- এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি মূলত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
ব্যাখ্যা: এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ১৩৭ নং অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে গঠিত হয়ে নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষা পরিচালনা করছে।
উদাহরণ ২: জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন
ব্যাখ্যা: এটি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগের জন্য গঠিত আরেকটি স্বতন্ত্র কমিশন যা সংবিধান ও বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে — এই অপশনটি সঠিক কারণ সংবিধানের এই অনুচ্ছেদেই সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।
B) ১৩৫ নং অনুচ্ছেদে — এটি সরকারি কর্ম কমিশনের নয় বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকরিের নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ।
C) ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে — এই অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যগণের নিয়োগ, পদের মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তাবলী সম্পর্কে বলা হয়েছে।
D) ১৩৪ নং অনুচ্ছেদে — এটি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকুরির পদের স্থায়িত্ব ও অবসান সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পিএসসি বা সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের মূল কথা বলা আছে ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে এবং সদস্যদের নিয়োগের কথা আছে পরের অনুচ্ছেদ অর্থাৎ ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে।
- সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠানের অনুচ্ছেদগুলো মনে রাখতে অধ্যায়ভিত্তিক তালিকা তৈরি করে পড়া সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুচ্ছেদ প্রায়ই আসে, তাই ১৩৪ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়তে হবে।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে পিএসসির সদস্যদের মেয়াদ কত বছর বা তাদের কে নিয়োগ করেন।
সঠিক উত্তর: B) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তित হয় বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
এই দিনে গণপরিষদে গৃহীত সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়।
২. সংবিধান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস: ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় এবং ড. কামাল হোসেনকে ড্রাফটিং কমিটির প্রধান করা হয়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই সংবিধানের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন হয় এবং বাঙালি জাতি একটি সার্বভৌম আইন লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা: এই দিনে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান বিল পাস বা গৃহীত হয়, যা প্রবর্তনের তারিখ থেকে আলাদা।
উদাহরণ ২: ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা এই সংবিধানের অধীনেই সম্পন্ন হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ — এটি মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের তারিখ, সংবিধান প্রবর্তনের তারিখ নয়।
B) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ — এটি সঠিক উত্তর, এই দিনে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
C) ৭ মার্চ, ১৯৭২ — এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের তারিখ, যা সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
D) ২৬ মার্চ, ১৯৭৩ — এটি বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের বার্ষিকী, যা সংবিধান প্রবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিজয়ের দিনেই সংবিধান: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং এই দিনেই সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয়।
গৃহীত বনাম প্রবর্তিত: ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় আর ১৬ ডিসেম্বর প্রবর্তিত বা কার্যকর হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে গণপরিষদে সংবিধানের ওপর প্রথম স্বাক্ষর করেন কে।
সঠিক উত্তর: D) সপ্তম
১. কেন সঠিক:
- সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর দফার বিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের সপ্তম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এর মাধ্যমেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর ১০ এপ্রিল গঠিত হয় প্রথম বিপ্লবী সরকার এবং সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- সংবিধান ও আইন: ১৯৭২ সালের সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রস্তাবনা হিসেবে যুক্ত থাকলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা সংবিধানের সপ্তম তফসিলে সংযোজন করা হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই দলিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনগত বৈধতা নিশ্চিত হয় এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের মুক্তির সংগ্রামের ভিত্তি শক্ত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি সেখানে পাঠ করা হয়।
ব্যাখ্যা: এই ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল।
উদাহরণ ২: ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী।
ব্যাখ্যা: এই সংশোধনীর মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ঐতিহাসিক দলিলগুলো সংবিধানের তফসিলে স্থায়ীভাবে স্থান পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চতুর্থ — চতুর্থ তফসিলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শপথ এবং অন্যান্য ক্রান্তিকালীন বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।
B) পঞ্চম — পঞ্চম তফসিলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক আইনের সময়কার অধ্যাদেশ ও আদেশ অনুমোদন করা হয়েছে।
C) ষষ্ঠ — ষষ্ঠ তফসিলে সংবিধানের বাংলা পাঠের স্বীকৃতি এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
D) সপ্তম — সপ্তম তফসিলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের একেবারে শেষের দিকে অর্থাৎ সপ্তম তফসিলে স্থান পেয়েছে।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বা ঘোষণাপত্রটি সংবিধানের সপ্তম সিঁড়িতে বা তফসিলে সুরক্ষিত আছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের কততম তফসিলে আছে।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেছিলেন অথবা এটি কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়।
সঠিক উত্তর: A) ৫ম সংশোধন
১. কেন সঠিক:
পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারীকৃত সকল সামরিক অধ্যাদেশ ও আদেশ বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ নীতিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহমান সংযোজন করা হয়।
সংবিধানের এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। তাই আইন ও সংবিধান বিশ্লেষকদের কাছে এটি প্রথম সাংবিধানিক বিপর্যয় বা ফার্স্ট ডিসটোরিশন অব কন্সটিটিউশন নামে পরিচিত।
২. সংবিধান ও আইন:
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী আইন পাস হয়।
আইনি বৈধতা: পরবর্তীতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা: এটিও সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার আরেকটি সংশোধনী, যা ১৯৮৬ সালে পাস হয় এবং পরবর্তীতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালে পাস হওয়া এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং সংবিধানের অনেক মৌলিক চরিত্র পুনরুদ্ধার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
B) ৪র্থ সংশোধন — এটি ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে পাস হয় যার মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
C) ২য় সংশোধন — এটি ১৯৭৩ সালে পাস হয় যার মাধ্যমে জরুরি অবস্থা জারির বিধান এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার ক্ষমতা যুক্ত করা হয়।
D) ৩য় সংশোধন — এটি ১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করার উদ্দেশ্যে পাস করা হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
সংবিধানের প্রথম বড় ক্ষত বা বিকৃতি ঘটেছিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে।
পঞ্চম সংশোধনীর সাল ছিল ১৯৭৯ এবং এর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের সামরিক শাসনকে বৈধ করা হয়েছিল।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পঞ্চম সংশোধনী কোন সালে পাস হয় এবং এর মূল বিষয়বস্তু কী ছিল তা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংবিধানের শুরুতে যুক্ত করা হয়।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৯১ সালে
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ১৯৯১ সালে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সংসদে মূল্য সংযোজন কর আইন পাস করেন এবং এটি কার্যকর করা হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনৈতিক ইতিহাস: বাংলাদেশে পরোক্ষ কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আধুনিক কর পদ্ধতি চালু করা হয়।
আইন ও প্রতিষ্ঠান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর এই কর সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব পালন করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
ব্যাখ্যা: দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি ভ্যাট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
উদাহরণ ২: জাতীয় বাজেট
ব্যাখ্যা: প্রতি অর্থবছর সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে এই মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাত থেকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৯১ সালে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই দেশে প্রথমবারের মতো ভ্যাট প্রবর্তন করা হয়।
B) ১৯৭৩ সালে — এই সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্তু ভ্যাট চালু হয়নি।
C) ১৯৮৬ সালে — এই সময় বাংলাদেশে ভ্যাট চালুর কোনো ঐতিহাসিক বা আইনগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
D) ১৯৯৬ সালে — এই বছর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার গঠিত হলেও ভ্যাট চালুর সাল এটি নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
৯০ এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ভ্যাট চালু হয়।
১৯৯১ সালকে মনে রাখতে পারেন বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন এবং ভ্যাট চালুর একই সময়কাল হিসেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভ্যাট কোন ধরনের কর, তা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। এটি একটি পরোক্ষ কর।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে বাংলাদেশে কোন অর্থমন্ত্রীর সময় প্রথম ভ্যাট চালু হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
প্রদত্ত তথ্য:
২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়
এই বাজেটে দেশের রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করা হয়
ধরি,
রপ্তানি খাতের জন্য নির্ধারিত মোট বরাদ্দ = ক
অতএব,
সরকার কর্তৃক প্রণোদনা খাতের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়
যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন করা হয়
সুতরাং,
নির্ধারিত সেই প্রণোদনার মোট পরিমাণ হিসাব করা হয়
যা সঠিক তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত অংকে এসে দাঁড়ায়
উত্তর: সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
সঠিক উত্তর: D) ০.৩৩৬৬ (বা ৩৩.৬৬%)
১. কেন সঠিক:
- ২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল প্রায় ৩৩.৬৬ শতাংশ।
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের পাশাপাশি শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যায় এটি।
২. অর্থনীতি, শিল্প ও উন্নয়ন:
- অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে শিল্প ও সেবা খাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস দেশের এই জিডিপি ও খাতওয়ারি অবদানের প্রাক্কলন প্রকাশ করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তৈরি পোশাক শিল্প খাত
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের শিল্প খাতের জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে তৈরি পোশাক বা আরএমজি শিল্প।
উদাহরণ ২: ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প
ব্যাখ্যা: দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ০.২৯৬৬ — এটি ভুল কারণ এই সংখ্যাটি ২০১৮ সালের শিল্প খাতের সঠিক অবদানের শতাংশ নির্দেশ করে না।
B) ০.৩০৬৬ — এটি ভুল কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই অর্থবছরে শিল্প খাতের অবদান এর চেয়ে বেশি ছিল।
C) ০.৩২৬৬ — এটি ভুল কারণ সামান্য কম বা বেশি অনুমানের ভিত্তিতে এই মানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
D) ০.৩৩৬৬ — এটি সঠিক কারণ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই নির্দিষ্ট বছরে শিল্প খাতের অবদান এই অনুপাতে ছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ২০১৮ সালের শিল্প খাতের অবদানের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে মানটি ত্রিশ শতাংশের উপরে এবং প্রায় তেত্রিশ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
- দশমিকের পর তেত্রিশ ও ছেষট্টি বা ৩৩.৬৬ শতাংশ হিসেবে এটি সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাম্প্রতিক জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান যেমন কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের হার প্রতিযোগিতািতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- বর্তমান হালনাগাদ অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে কৃষি ও শিল্প খাতের অবদানের সর্বশেষ হার ভালোভাবে দেখে যাওয়া উচিত।
সঠিক উত্তর: A) ফরিদপুর
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদিত হয়।
- পাট চাষের জন্য উপযোগী দোআঁশ মাটি এবং পর্যাপ্ত নদীমাতৃক আর্দ্রতা ফরিদপুর অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকায় এখানে পাটের ফলন সর্বোত্তম হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- ভৌগোলিক অনুকূল পরিবেশ এবং পদ্মার অববাহিকা হওয়ায় ফরিদপুর অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই পাটের ব্যাপক চাষ হয়ে আসছে।
- একসময় পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হতো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল এই কৃষিপণ্যটি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সিরাজগঞ্জ জেলা
ব্যাখ্যা: এটি পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় জেলাগুলোর অন্যতম হলেও ফরিদপুর উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে।
উদাহরণ ২: ময়মনসিংহ জেলা
ব্যাখ্যা: পাট উৎপাদনে এই জেলাটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটি পাট গবেষণার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফরিদপুর — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জেলাটিতে বাংলাদেশে সর্বাধিক পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয়।
B) রংপুর — এই জেলাটি পাট উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও উৎপাদনের দিক থেকে ফরিদপুরের পরেই এর অবস্থান।
C) জামালপুর — এটি পাট উৎপাদনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলেও শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে স্বীকৃত নয়।
D) শেরপুর — এই অঞ্চলটিতে মূলত ধান ও অন্যান্য ফসল বেশি উৎপাদিত হয়, পাট উৎপাদনে এটি শীর্ষ স্থানে নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পাট উৎপাদনের রাজা ফরিদপুর, এটি মনে রাখতে ফ দিয়ে পাট এবং ফ দিয়ে ফরিদপুর শব্দটি মনে রাখতে পারেন।
- বাংলাদেশের সোনালী আঁশের রাজধানী হিসেবে ফরিদপুর জেলাকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদক জেলা বা সোনালী আঁশ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- একই বিষয় থেকে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত কিংবা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারক কে, এমন প্রশ্নও হতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
১. কেন সঠিক:
- অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক এই প্রশ্নে ২০১৮ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট রপ্তানি আয়ের সঠিক পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ বিলিয়ন বা চার হাজার একশত কোটি মার্কিন ডলার।
- এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এবং অন্যান্য খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলেই রপ্তানি আয়ে এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনীতি, শিল্প ও উন্নয়ন: [প্রযোজ্য ক্ষেত্রে]
- অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয় এবং তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: ২০১৮ সালে এই রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয় এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তৈরি পোশাক শিল্প
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই পোশাক খাত থেকে, যা ২০১৮ সালের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
উদাহরণ ২: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
ব্যাখ্যা: রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সে সময় ত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই পরিমাণটি ২০১৮ সালের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় সামান্য কম এবং এটি সে বছরের শুরুর দিকের প্রাক্কলিত হিসাবের কাছাকাছি।
B) ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই অপশনটি সঠিক কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালে রপ্তানি আয় এই অঙ্কের কাছাকাছি ছিল।
C) ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই পরিমাণটি ২০১৮ সালের জন্য কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পরবর্তী বছরগুলোতে অর্জিত হয়েছিল।
D) ১৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এই সংখ্যাটি ২০১৮ সালের রপ্তানি আয়ের তুলনায় অসম্ভব রকমের বেশি এবং এটি বাংলাদেশের তৎকালীন জিডিপি বা অন্য কোনো বড় সূচকের সাথে মিলে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সাল মনে রাখার কৌশল: ২০১৮ সাল এবং রপ্তানি আয় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এভাবে মনে রাখতে পারো যে আয়ের অংকটি চল্লিশের ঠিক পরেই ছিল।
- অর্থনীতির পরিসংখ্যান পড়ার সময় সর্বদা বাংলাদেশ ব্যাংক বা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণত সাম্প্রতিক বছরগুলোর রপ্তানি আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন হতে পারে যে বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য কোনটি বা বর্তমান রপ্তানি আয়ের পরিমাণ কত।
সঠিক উত্তর: C) তৃতীয় স্থান
১. কেন সঠিক:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বা আইডিআই মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সমতা ও টেকসই উন্নয়ন বিবেচনা করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে।
- এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক বিচারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যা দেশের সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতি নির্দেশ করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই সূচকে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং জনগণের জীবনযাত্রার মান এবং আয় বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়।
- দক্ষিণ এশিয়ার এই অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দেশের শ্রমবাজারের প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন সূচক
ব্যাখ্যা: মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই এবং ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় সামাজিক খাতের অগ্রগতিতে ভালো করছে।
উদাহরণ ২: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম অন্তর্ভুক্তি
ব্যাখ্যা: কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হলেই কোনো দেশ উন্নয়নে এগিয়ে যায় না, বরং সেই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা বাড়াতে পারছে সেটাই এই সূচকের মূল শিক্ষা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রথম স্থান — দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই সূচকে প্রথম স্থান অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
B) দ্বিতীয় স্থান — প্রদত্ত প্রশ্ন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় নয়, তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।
C) তৃতীয় স্থান — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই অবস্থানে থেকেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের সাথে তুলনা করে নিজের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রদর্শন করে।
D) চতুর্থ স্থান — দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ নয়, বরং এর চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বা আইডিআই মনে রাখতে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে ৩ সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে কারণ বাংলাদেশ এই সূচকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
- প্রবৃদ্ধি ও সমতার সূচক হিসেবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই প্রতিবেদনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থনৈতিক সূচক সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান মুখস্থ রাখতে হবে।
- একই বিষয় থেকে অন্য এমসিকিউ আসতে পারে যে, ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স কোন সংস্থা প্রকাশ করে, যার উত্তর হবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম।
সঠিক উত্তর: C) ১৯৭৪ সালে
১. কেন সঠিক:
১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি বা জনগণনা অনুষ্ঠিত হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য জনসংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান জানা জরুরি ছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনমিতি:
স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আদমশুমারি পরিচালিত হয়।
শুমারি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগ, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস এ রূপান্তর লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৪ সালের আদমশুমারি।
ব্যাখ্যা: এই শুমারিতে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ৭ কোটি ১৫ লাখ রেকর্ড করা হয়েছিল।
উদাহরণ ২: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি, যা দীর্ঘ বিরতির পর ডিজিটাল পদ্ধতিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৭২ সালে — এই বছরে সদ্য স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছিল, কোনো শুমারি হয়নি।
B) ১৯৭৩ সালে — এই বছর বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে কোনো আদমশুমারি হয়নি।
C) ১৯৭৪ সালে — এই অপশনটি সঠিক এবং এই সালেই প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
D) ১৯৭৫ সালে — এই বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্বাধীনতার ঠিক তিন বছর পর ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি হয়।
মনে রাখার জন্য সালটি সরাসরি ১৯৭৪ মনে রাখা নিরাপদ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিসিএস বা ব্যাংক পরীক্ষায় প্রথম শুমারির সাল এবং সর্বশেষ শুমারির বছর ও ফলাফল প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
সঠিক উত্তর: C) ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
১. কেন সঠিক:
- ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি বাংলাদেশের প্রধান ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী উদ্ভিদের বনভূমি, যা মূলত শালবৃক্ষের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
- বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির প্লাইস্টোসিন চত্বর বা সোপান অঞ্চলের অন্তর্গত এই বনভূমিতে প্রচুর পরিমাণে শাল বা গজারী গাছ জন্মায়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি: ভাওয়াল গড় গাজীপুর ও ঢাকা জেলাজুড়ে এবং মধুপুর গড় টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলাজুড়ে বিস্তৃত।
- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: এই বনভূমির মাটি লালচে রঙের এবং উর্বরতার দিক থেকে তুলনামূলক কম, যা শালবৃক্ষ জন্মানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।
ব্যাখ্যা: এটি ভাওয়াল বনাঞ্চলের একটি সংরক্ষিত অংশ, যা শালবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
উদাহরণ ২: টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যান।
ব্যাখ্যা: এটি মধুপুর গড়ের শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সিলেটের বনভূমি — সিলেটের বনভূমি পাহাড়ি অঞ্চলের চিরহরিৎ বন এবং এটি মূলত চা বাগান ও বাঁশঝাড়ের জন্য বিখ্যাত, শালবৃক্ষের জন্য নয়।
B) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি — পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমিগুলো ক্রান্তীয় বর্ষাবন বা পাহাড়ি প্রকৃতির এবং এখানে সেগুন, গর্জন ও বাঁশ বেশি জন্মায়।
D) খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি — এই অঞ্চলের বনভূমি মূলত সুন্দরবন নামক ম্যানগ্রোভ বা লবনাক্ত Tidal বন, যা সুন্দরী ও গেওয়া গাছের জন্য পরিচিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
মধু ও ভাওয়ালের শালপাতা বেশ জনপ্রিয়। এই কথাটি মনে রাখলে মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের প্রধান গাছ যে শাল, তা সহজে মনে রাখা যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
শালবন কোন ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, তা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। এই প্রশ্ন থেকে পরীক্ষার্থীরা প্লাইস্টোসিন চত্বরের বনভূমি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।
সঠিক উত্তর: A) লর্ড কার্জন
১. কেন সঠিক:
বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয় ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের সময়ে এবং সে সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন।
তার প্রশাসনিক নীতির অংশ হিসেবে বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৬ই অক্টোবর এই বিভাজন কার্যকর করা হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধিকার আন্দোলনকে দুর্বল করতে এই বিভাজন করা হয়েছিল।
তারিখ ও স্থান: ১৯০৫ সালের ১৯শে জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং একই বছরের ১৬ই অক্টোবর তা কার্যকর হয়।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: লর্ড কার্জন ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় এবং বঙ্গভঙ্গের মূল পরিকল্পনাকারী।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা ইতিহাসে স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত।
উদাহরণ ২: ১৯১১ সালের দিল্লি দরবার
ব্যাখ্যা: রাজা পঞ্চম জর্জের ভারত আগমন উপলক্ষে ১৯১১ সালের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লর্ড কার্জন — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বাস্তবায়ন করেন।
B) লর্ড ওয়াভেল — তিনি ১৯৪৭ সালের পূর্ববর্তী সময়ে ভারতের ভাইসরয় ছিলেন এবং মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনার সাথে যুক্ত ছিলেন।
C) লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন — তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় যিনি ১৯৪৭ সালের ভারত ও পাকিস্তান বিভাজনের দায়িত্ব পালন করেন।
D) লর্ড লিনলিথগো — তিনি ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সময় ভারতের ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
বঙ্গভঙ্গ মানেই লর্ড কার্জন এবং কার্জন মানেই ১৯০৫ সাল।
মনে রাখার জন্য কার্জন ও বঙ্গভঙ্গ শব্দ দুটি একই সাথে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বঙ্গভঙ্গ কবে কার্যকর হয় এবং কে করেন এই দুটি প্রশ্ন বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
একই বিষয় থেকে বঙ্গভঙ্গ রদের সাল এবং রদকারী ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নামও পরীক্ষার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: B) পঞ্চম তফসিল
১. কেন সঠিক:
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ভাষণটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
২. সংবিধান ও আইন:
সাংবিধানিক বিধান: সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানে সংযোজন করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ
ব্যাখ্যা: এই ভাষণটি ছিল মূলত বাঙালি জাতির স্বাধীনতার অবধারিত ঘোষণা এবং দিকনির্দেশনা।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের এই সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিলপত্র সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চতুর্থ তফসিল — এটি মূলত অবাঙ্গাল ও প্রজাতন্ত্রের কিছু পদের শপথ ও ঘোষণা সংক্রান্ত বিধানের জন্য নির্ধারিত।
B) পঞ্চম তফসিল — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই তফসিলেই ৭ই মার্চের ভাষণ যুক্ত করা হয়েছে।
C) ষষ্ঠ তফসিল — এটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত দলিলের জন্য নির্দিষ্ট।
D) সপ্তম তফসিল — এটি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের জন্য নির্ধারিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
সাত নম্বর সংখ্যাটি মনে রাখলে সহজে মনে রাখা যায় যে ৭ই মার্চের ভাষণ পঞ্চম তফসিলে রয়েছে।
তফসিলগুলোর ক্রম মনে রাখতে সংবিধানে সংযোজিত ঐতিহাসিক দলিলগুলোর সাল ও ধারাবাহিকতা মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সংবিধানের তফসিল থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।
সঠিক উত্তর: D) সোভিয়েত ইউনিয়ন
১. কেন সঠিক:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়ন ঐতিহাসিক ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বারবার প্রতিহত করে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামকে বিশ্বমঞ্চে রক্ষা করেছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান বাহিনী যখন পরাজয়ের মুখোমুখি, তখন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রদানের কারণে পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি ১৯৭০
ব্যাখ্যা: এই চুক্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নের কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের পথ সুগম করেছিল।
উদাহরণ ২: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ভেটো
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে কীভাবে পরাশক্তির কূটনৈতিক সুরক্ষার মাধ্যমে একটি নবীন রাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে নিজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাজ্য — যুক্তরাজ্য ১৯৭১ সালে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয়নি বরং যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা সমর্থন করেছিল।
B) ফ্রান্স — ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হলেও ভেটো প্রয়োগ করেনি বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সহানুভূতিশীল ছিল।
C) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো না দিয়ে উল্টো যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করেছিল।
D) সোভিয়েত ইউনিয়ন — সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করে যুদ্ধকালীন সময়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রধান কূটনৈতিক বন্ধু ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো ছিল আমাদের মুক্তির রক্ষা কবচ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের মিত্র দেশ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা এবং জাতিসংঘে ভেটো প্রয়োগের সাল ও প্রেক্ষাপট ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ৭ মার্চ, ১৯৭৩
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
- সংবিধানের বিধান অনুযায়ী একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও শাসনতন্ত্র চালুর অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা ভেঙে দিয়ে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ সমগ্র বাংলাদেশে একযোগে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজস্ব সংসদ ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা: এই নির্বাচনে ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন লাভ করে বিশাল বিজয় অর্জন করে।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা: প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনি ভিত্তি ছিল ১৯৭২ সালের সংবিধান, যা গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার পর গণতান্ত্রিক পথ উন্মুক্ত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ — এই তারিখে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, এটি একটি ভুল তারিখ।
B) ৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ — এই তারিখে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেদিন নির্বাচনসংক্রান্ত অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল না।
C) ৭ মার্চ, ১৯৭৩ — এই অপশনটি সঠিক এবং এই দিনেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
D) ৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ — এই তারিখে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, নির্বাচনটি ঠিক এক মাস আগে ৭ মার্চ সম্পন্ন হয়েছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অর্থাৎ ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সালটি ১৯৭৩।
- তারিখ মনে রাখার জন্য ৭ মার্চ সংখ্যাটিকে মনে রাখলেই ভাষণ ও সংসদ নির্বাচন উভয় ঐতিহাসিক ঘটনা একসঙ্গে স্মরণ করা সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি এবং নারী আসন সংরক্ষিত ছিল ১৫টি।
- একই বিষয় থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার কে ছিলেন অথবা প্রথম নির্বাচন কোন সংবিধানের অধীনে হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: B) ১৩৬ তম সদস্য
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে ১৩৬তম সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের অংশ হিসেবে জাতিসংঘে যোগদান বাংলাদেশের কূটনীতির এক বিশাল সাফল্য।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে সদস্যপদ প্রদান করা হয়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ প্রদান।
ব্যাখ্যা: এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও কূটনৈতিক আত্মপ্রকাশের ঐতিহাসিক ঘটনা।
উদাহরণ ২: বাংলাদেশ একই দিনে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদান।
ব্যাখ্যা: এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব ও গুরুত্ব বহন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৪৬ তম সদস্য — এটি সঠিক নয় কারণ বাংলাদেশ জাতিসংঘে ১৪৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করেনি।
B) ১৩৬ তম সদস্য — এই অপশনটি সঠিক এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র।
C) ১২৬ তম সদস্য — এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদের ক্রমের সঙ্গে মেলে না।
D) ১১৬ তম সদস্য — এই তথ্যটি সঠিক নয় এবং ভুল ক্রম নির্দেশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে যোগ দেয় এবং ঠিক তার দুই বছর আগে ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ ও ওআইসি সদস্য হওয়ার পথে পা বাড়ায়।
সাল এবং সদস্যপদের ক্রম মনে রাখার জন্য ১৯৭৪ সালকে মূল ভিত্তি ধরে ১৩৬ সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশ কততম অধিবেশনে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং কোন সালে এই গৌরব অর্জন করে, তা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম কখন ভাষণ দেয়।
সঠিক উত্তর: B) ৪ ভাগে
১. কেন সঠিক:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আমন্ড এবং জি. বি. পাওয়েল চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে মূলত চার ভাগে ভাগ করেছেন।
রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যাবলি বিশ্লেষণ করতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই শ্রেণিবিভাগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনস্বীকৃত।
২. রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রশাসনিক কাঠামো:
শ্রেণিবিভাগ: আমন্ড ও পাওয়েল চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক, সহযোগী, প্রদর্শনমূলক এবং অনির্দেশক এই চার ভাগে বিভক্ত করেছেন।
তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট: এই চার ধরনের গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ওপর বিভিন্ন উপায়ে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রাতিষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা: সরকারি আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী বা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ভেতরের অংশ বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ২: সহযোগী চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা: শ্রমিক ইউনিয়ন বা ব্যবসায়ী সমিতি যেমন এফবিসিসিআই সহযোগী বা অ্যাসোসিয়েশনভিত্তিক গোষ্ঠীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৩ ভাগে — রাজনৈতিক দল বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সঠিক শ্রেণিবিভাগ এটি নয়।
B) ৪ ভাগে — আমন্ড ও পাওয়েলের তত্ত্বানুযায়ী এটি সঠিক এবং সর্বসম্মত বিভাজন।
C) ৫ ভাগে — এই সংখ্যাটি আমন্ড ও পাওয়েলের চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে না।
D) ৬ ভাগে — এই সংখ্যাটিও গবেষকদের এই নির্দিষ্ট তত্ত্বের পরিপন্থী।
৫ মনে রাখার টিপস:
আমন্ড ও পাওয়েলের নামের সঙ্গে চার সংখ্যাটি মনে রাখতে 'আ-পা চার' এভাবে ছোট একটি সূত্র মনে রাখতে পারেন।
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান প্রকারভেদ চারটি, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বিসিএস পরীক্ষার জন্য মুখস্থ রাখা আবশ্যক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রাজনৈতিক তত্ত্ব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নাম প্রায়ই আসে।
একই টপিক থেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা বা উদাহরণ সম্পর্কিত প্রশ্নও পরীক্ষাতে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) মানবাধিকার
১. কেন সঠিক:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন, যা বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও আইনি সহায়তা প্রদানে কাজ করে।
- এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের নিপীড়নমূলক ঘটনা, আইনগত অধিকার লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম: আইন ও সালিশ কেন্দ্র ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি দেশের অন্যতম প্রধান আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এটি প্রান্তিক মানুষ, নারী ও শিশুদের আইনি অধিকার রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট
ব্যাখ্যা: এটিও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতো একটি স্বনামধন্য মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
উদাহরণ ২: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
ব্যাখ্যা: এই সংস্থাটি বাংলাদেশে মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অর্থনৈতিক — আইন ও সালিশ কেন্দ্র কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা বাণিজ্যিক সংস্থা নয়।
B) মানবাধিকার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সংস্থাটি মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে।
C) ধর্মীয় — এটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্ট নয়, এটি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক মানবাধিকার সংস্থা।
D) খেলাধুলা — এটি কোনো ক্রীড়া সংস্থা বা ক্লাব নয়, ক্রীড়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র নামটিতে সালিশ শব্দটি দেখে অনেক সময় বিচারিক বা গ্রামীণ সালিশ মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত একটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংস্থা।
- আইন শব্দটি এখানে আইনি সহায়তা এবং সালিশ শব্দটি অধিকার আদায়ের মধ্যস্থতা বা আইনি লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে মনে রাখা যেতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার নাম ও প্রতিষ্ঠার সাল জানতে চাওয়া হয়।
- এই প্রশ্নটি থেকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র যে একটি মানবাধিকার সংস্থা, তা মনে রাখতে হবে এবং এর সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও জেনে রাখা দরকার।
সঠিক উত্তর: B) ১,৭৫১ মার্কিন ডলার
১. কেন সঠিক:
- ২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু বা পার ক্যাপিটা জিডিপি ছিল ১,৭৫১ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- অর্থনীতির পরিভাষায় পার ক্যাপিটা জিডিপি বলতে মোট দেশজ উৎপাদনকে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করে প্রাপ্ত গড় আয়কে বোঝানো হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- এই সময়কালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির নির্দেশক।
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কৃষি, তৈরি পোশাক খাত এবং রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ভূমিকা এই প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
ব্যাখ্যা: এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি দেশের জাতীয় আয়, জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিয়মিত পরিমাপ ও প্রকাশ করে থাকে।
উদাহরণ ২: মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: মাথাপিছু আয় বাড়ার অর্থ হলো দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হওয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১,৭৫০ মার্কিন ডলার — এটি ২০১৮ সালের প্রকৃত পার ক্যাপিটা জিডিপির সঠিক পরিসংখ্যান নয় এবং এটি একটি কাল্পনিক মান।
B) ১,৭৫১ মার্কিন ডলার — এটি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত পার ক্যাপিটা জিডিপির সঠিক ও গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান।
C) ১,৭৫২ মার্কিন ডলার — এটি ২০১৮ সালের জিডিপি গণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সরকারি বা প্রামাণিক পরিসংখ্যান নয়।
D) ১,৭৫৩ মার্কিন ডলার — এটিও এই নির্দিষ্ট অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল্যায়নের সাথে মিল 없는 একটি ভুল অপশন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ২০১৮ সালের মাথাপিছু জিডিপি মনে রাখতে সংখ্যাটি এভাবে ভাবুন যে, এটি ১ হাজার ৭ শত ৫১ মার্কিন ডলার ছিল।
- বর্তমান সময়ের সাথে অতীতের পরিসংখ্যান গুলিয়ে ফেলবেন না, কারণ অর্থনৈতিক সূচক প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন অর্থবছর বা সালের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।
- এই প্রশ্নটি থেকে পরীক্ষার্থীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা এবং জিডিপি গণনার মৌলিক ধারণা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ময়মনসিংহ
১. কেন সঠিক:
- গারো বাংলাদেশের একটি প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায় এবং ঐতিহাসিকভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর গড় ও সংলগ্ন এলাকায় তাদের মূল বসতি গড়ে উঠেছে।
- প্রশাসনিকভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের শেরপুর, নেত্রকোনা এবং গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশেও গারো জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে।
২. জনমিতি ও সংস্কৃতি:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গারোরা মূলত তিব্বত-বর্মন ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এরা মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: গারোরা নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেয়, যার অর্থ মানুষ এবং তাদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক খাতা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গারো আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওয়ানাওয়ালা।
ব্যাখ্যা: এটি তাদের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব, যা নতুন ফসল তোলার সময় উদযাপিত হয়।
উদাহরণ ২: গারো সমাজের মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
ব্যাখ্যা: এই সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন নারীরা এবং কন্যারা বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে প্রধান অধিকার পান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পার্বত্য চট্টগ্রাম — এটি চাকমা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান বসবাসস্থল, গারোদের মূল আবাসস্থল এখানে নয়।
B) সিলেট — এটি খাসিয়া ও মণিপুরী জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত।
D) টাঙ্গাইল — যদিও টাঙ্গাইলের কিছু অংশে গারোদের বসবাস আছে, তবে ময়মনসিংহ অঞ্চলই গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান ও ঐতিহ্যগত মূল আবাসস্থল হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসস্থল মনে রাখতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর গড়ের কথা মনে রাখতে হবে। গারোরা ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান ও সংস্কৃতি অংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই বিষয় থেকে তাদের সামাজিক ব্যবস্থা বা উৎসব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ২ কোটি ১১ লক্ষ একর
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি এগারো লক্ষ একর, যা দেশের কৃষি অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
- কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জমির এই পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এর অর্থনীতি বহুলাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে অকৃষি খাতের বিস্তার ঘটায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বহুতল ভবন নির্মাণ
ব্যাখ্যা: অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বসতি স্থাপনের ফলে বহু আবাদযোগ্য জমি কৃষিকাজের বাইরে চলে যাচ্ছে।
উদাহরণ ২: তিন ফসলি জমি সুরক্ষা
ব্যাখ্যা: খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখতে সরকার তিন ফসলি জমিতে ইমারত বা কারখানা নির্মাণ নিষিদ্ধ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২ কোটি ১১ লক্ষ একর — এটি কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির সঠিক ও প্রমিত পরিমাণ।
B) ২ কোটি ৫০ লক্ষ একর — এটি অতিরিক্ত বা অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান, যা দেশের বর্তমান প্রকৃত আবাদযোগ্য জমির পরিমাণের সাথে মেলে না।
C) ২ কোটি ২৫ লক্ষ একর — এটি একটি অনুমিত সংখ্যা এবং কোনো প্রামাণিক কৃষি শুমারির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
D) ২ কোটি ২১ লক্ষ একর — এটিও সঠিক কৃষি উপাত্তের সাথে মিলে না, তাই এটি ভুল অপশন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ মনে রাখতে দুই কোটি এগারো লক্ষ একর সংখ্যাটি বারবার চর্চা করতে পারো।
- কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সর্বশেষ কৃষি শুমারির তথ্য মাথায় রাখা উচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সম্পর্কিত পরীক্ষায় এ ধরনের পরিসংখ্যান প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে জমি হ্রাস পাওয়ার কারণ বা কৃষিজমি সুরক্ষার আইন সংক্রান্ত প্রশ্নও পরীক্ষাতে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ১৭
প্রদত্ত তথ্য:
জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত ২০৩০ এজেন্ডা
এই এজেন্ডার মূল ভিত্তি হলো বৈশ্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা
ধরি,
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মোট সংখ্যা = ক
অতএব,
আন্তর্জাতিক এই দলিলে নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাগুলো পর্যালোচনা করা হলো
পর্যালোচনা শেষে মোট লক্ষ্যমাত্রার সঠিক সংখ্যাটি পাওয়া গেল
সুতরাং,
নির্ধারিত লক্ষ্য বা গোল এর মোট সংখ্যাটি ১৭ হিসেবে চিহ্নিত হলো
উত্তর: ১৭
সঠিক উত্তর: A) নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে সংক্ষেপে পিফাইভ বা পার্মানেন্ট ফাইভ বলা হয়। এই পাঁচটি রাষ্ট্র হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীন।
২. জাতিসংঘ সম্পর্কিত তথ্য:
পূর্ণ নাম: জাতিসংঘ বা ইউনাইটেড নেশনস।
প্রতিষ্ঠা: ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সাল।
সদর দপ্তর: নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
সদস্যসংখ্যা: ১৯৩টি স্বাধীন রাষ্ট্র।
প্রধান কাজ: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভেটো ক্ষমতা।
ব্যাখ্যা: পিফাইভভুক্ত এই পাঁচটি দেশের যেকোনো একটি রাষ্ট্র 'না' ভোট বা ভেটো দিলে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত পাস হয় না।
উদাহরণ ২: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
ব্যাখ্যা: যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামো এবং বিজয়ী শক্তির ভিত্তিতে এই পাঁচটি রাষ্ট্র স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র — এটি সঠিক উত্তর কারণ পিফাইভ বলতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই পাঁচটি স্থায়ী দেশকে বোঝায়।
B) পাঁচটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র — এটি ভুল কারণ বিশ্বে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র আরও বেশি রয়েছে এবং পিফাইভ এই ধারণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) পাঁচটি জাতিসংঘ সংস্থা — এটি ভুল কারণ পিফাইভ কোনো সংস্থা নয়, বরং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি নির্দিষ্ট দেশকে নির্দেশ করে।
D) উপরের কোনোটিই নয় — এটি ভুল কারণ সঠিক উত্তরটি প্রথম অপশনেই বিদ্যমান রয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
পিফাইভ মানে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য। ফাইভ শব্দটি দিয়ে পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনকে খুব সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য পনেরোটি, যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং দশটি অস্থায়ী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য দেশ নিয়ে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) NAM
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ NAM বা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের কোনো স্থায়ী সচিবালয় বা সদর দপ্তর নেই।
- এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের রাজধানী বা শহরে স্থায়ী কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়নি।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: NAM (Non-Aligned Movement বা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন)
- প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ১৯৬১ সালে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেড সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রেক্ষাপট: শীতল যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দুটি পরাশক্তির সামরিক ব্লকের বাইরে থাকার জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এই জোট গঠন করে।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা এবং বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বজায় রাখা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জাতিসংঘ বা UN
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের স্থায়ী সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত এবং এর স্থায়ী সচিবালয় রয়েছে।
উদাহরণ ২: সার্ক বা SAARC
ব্যাখ্যা: সার্কের স্থায়ী সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত, যা NAM-এর থেকে ভিন্ন প্রকৃতির আঞ্চলিক সংস্থা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) NATO — এটি একটি সামরিক জোট এবং এর স্থায়ী সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত।
B) NAM — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এর কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর নেই এবং এর সভাপতি পদ পালাক্রমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পরিবর্তিত হয়।
C) EU — ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থায়ী সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বেশ শক্ত।
D) ASEAN — এটি একটি আঞ্চলিক সংস্থা এবং এর স্থায়ী সচিবালয় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- যে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা শীতল যুদ্ধের সময় নিরপেক্ষ দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তাদের অনেকগুলোরই স্থায়ী সদর দপ্তর থাকে না।
- NAM নামটি মনে রাখলেই বোঝা যায় যে এরা কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের অধীনে নয়, তাই এদের সদর দপ্তরও নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা শহরে বাঁধা নয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় কোন সংস্থার স্থায়ী সদর দপ্তর নেই।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে NAM এর প্রথম সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত।
সঠিক উত্তর: A) BIMSTEC
১. কেন সঠিক:
- BIMSTEC সংস্থার স্থায়ী সচিবালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক কোনো সংস্থার সদর দপ্তর বাংলাদেশে অবস্থিত থাকা বাংলাদেশের ভূরাজনীতিতে একটি বিশেষ কূটনৈতিক অর্জন।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচিতি:
- সংস্থা: BIMSTEC বা বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন।
- প্রতিষ্ঠা: ৬ জুন ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে এই সংস্থাটি গঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ঢাকা, বাংলাদেশ। সচিবালয়টি ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
- সদস্যদেশ: দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট সাতটি দেশ এর সদস্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: SAARC
ব্যাখ্যা: সার্কের সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত হলেও এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: IORA
ব্যাখ্যা: আইওরা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সংস্থা যার সদর দপ্তর মরিশাসে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) BIMSTEC — এই সংস্থাটির সচিবালয় ঢাকার গুলশানে অবস্থিত এবং এটিই একমাত্র প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা যার সদর দপ্তর বাংলাদেশে।
B) CICA — কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স-বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া এর সচিবালয় কাজাজাখস্তানের আস্তানায় অবস্থিত।
C) IORA — ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তর মরিশাসের এবেন শহরে অবস্থিত।
D) SAARC — সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশনের সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বিমস্টেকের শুরুতে বি আছে যা দিয়ে বাংলাদেশ বা ঢাকা মনে রাখা যায়।
- সার্কের সদর দপ্তর নেপালে আর বিমস্টেকের সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিমস্টেকের বর্তমান সদস্যসংখ্যা সাতটি এবং এর প্রধান কাজ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: D) জীবুতি
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হবে জীবুতি, কারণ চীন বৈদেশিক সামরিক কূটনীতির অংশ হিসেবে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে তাদের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
- লোহিত সাগর ও বাবেল মান্দেব প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত হওয়ায় জীবুতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ভূরাজনীতি ও কৌশলগত গুরুত্ব:
- দেশ বা অঞ্চল: জীবুতি হলো হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র ও ভূকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
- প্রতিষ্ঠা ও চুক্তি: চীন ও জীবুতি সরকারের মধ্যে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাঁটির কার্যক্রম শুরু হয়।
- প্রেক্ষাপট: লজিস্টিক সাপোর্ট বেস হিসেবে চিহ্নিত এই ঘাঁটি চীনের ব্লু ওয়াটার নেভি বা নীল জলভাগের নৌবাহিনী বিস্তারের কৌশলের অংশ।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক জলপথে জলদস্যু দমন, শান্তিরক্ষা মিশন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চীনা স্বার্থ রক্ষা করা এর মূল উদ্দেশ্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প লেমননিয়ার
ব্যাখ্যা: জীবুতিতে যুক্তরাষ্ট্রেরও একটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা আমেরিকার আফ্রিকা কমান্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ ২: ভারত মহাসাগরের মুক্ত চলাচল
ব্যাখ্যা: এই অঞ্চলে বড় শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি বিশ্ব বাণিজ্যের রুট সুরক্ষার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা স্পষ্ট করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইথিওপিয়া — এটি পূর্ব আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবেষ্টিত দেশ হলেও এখানে চীনের কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই, তবে চীন এখানে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করেছে।
B) জাম্বিয়া — এটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি খনিজ সমৃদ্ধ স্থলবেষ্টিত দেশ, যেখানে চীনা ঋণ ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ থাকলেও কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই।
C) লাইবেরিয়া — এটি পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ এবং প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত উত্তর ভুল; মূলত এটি আফ্রিকায় চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটির অবস্থান নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জীবুতি নামটি মনে রাখুন হর্ন অফ আফ্রিকার প্রবেশদ্বার হিসেবে, যেখানে চীন প্রথম পা রেখেছে সামরিক ঘাঁটি বানিয়ে।
- ভুল ধারণা এড়াতে মনে রাখুন যে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ আর সামরিক ঘাঁটি স্থাপন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বিষয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চীন কোন দেশে প্রথম সামরিক ঘাঁটি করেছে এমন প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- হর্ন অফ আফ্রিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশ্ব রাজনীতিতে জীবুতির কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: A) New Development Bank (NDB)
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস নিজেদের অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাংকটি গঠিত হয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
- সংস্থা: নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এনডিবি এবং এর পূর্বনাম ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
- প্রতিষ্ঠা: ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রিকসের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়।
- সদর দপ্তর: সাংহাই, চীন।
- উদ্দেশ্য: সদস্য দেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা এআইআইবি।
ব্যাখ্যা: এটিও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হিসেবে চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংক যার সদর দপ্তর বেইজিংয়ে অবস্থিত।
উদাহরণ ২: বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ব্রটানউডস চুক্তির মাধ্যমে এই প্রথাগত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) New Development Bank (NDB) — এটি ব্রিকস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আসল ব্যাংক যার পূর্বনাম ছিল ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
B) BRICS Development Bank (BDB) — এটি কোনো স্বতন্ত্র বা নতুন ব্যাংক নয় বরং এটি ছিল এনডিবি ব্যাংকের প্রাথমিক বা প্রস্তাবিত নাম।
C) Economic Development Bank (EDB) — এটি ব্রিকস জোটের সাথে সম্পর্কিত কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ব্যাংকের নাম নয়।
D) International Commercial Bank (ICB) — এটি কোনো নির্দিষ্ট বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক নয় বরং এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকিং খাতের একটি সাধারণ নাম।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ব্রিকস দেশগুলোর নতুন ব্যাংক মানেই তার নামের শুরুতে নিউ বা নতুন শব্দ থাকবে, যেমন নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এনডিবি।
- সদর দপ্তর মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে হবে এটি ব্রিকসের সদস্য দেশ চীনের সাংহাই শহরে অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই ব্যাংকের সদর দপ্তর ও প্রতিষ্ঠাকাল সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- এনডিবি ব্যাংকের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন এবং এর বর্তমান সদস্য কারা, এই তথ্যগুলো পরবর্তী পরীক্ষার জন্য জেনে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: B) উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
১. কেন সঠিক:
সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো সানশাইন পলিসি বা রোদঝলমলে নীতিটি মূলত কোরীয় উপদ্বীপের দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমাতে গৃহীত হয়েছিল।
প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির এই কৌশলটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সংলাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে পুনরেকত্রীকরণের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
২. ভূরাজনীতি ও কূটনীতি:
দেশ: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৫৩ সালের পর থেকে বিভক্ত দুটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
প্রেক্ষাপট: দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কিম ডি-জু ১৯৯৮ সালে এই শান্তি নীতি ঘোষণা করেন এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: স্নায়ুযুদ্ধের অবসান এবং দুই কোরিয়ার মধ্যে চলা দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই নীতির মূল লক্ষ্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জার্মান পুনরেকত্রীকরণ
ব্যাখ্যা: ১৯৯০ সালে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির একত্রীকরণ কোরীয় উপদ্বীপের জন্যও একটি বড় আদর্শ বা উদাহরণ হিসেবে কাজ করেছিল।
উদাহরণ ২: ঐতিহাসিক পিয়ংইয়ং শীর্ষ বৈঠক
ব্যাখ্যা: ২০০০ সালে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের ঐতিহাসিক বৈঠকের মাধ্যমে সানশাইন পলিসির কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চীন, রাশিয়া — চীন ও রাশিয়া একটি কমিউনিস্ট ও অপরটি সাবেক সোভিয়েত উত্তরাধিকারী পরাশক্তি হলেও তাদের দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে সানশাইন পলিসির মতো কোনো নির্দিষ্ট শান্তি নীতি যুক্ত নয়।
B) উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই নীতিটি বিশেষভাবে কোরীয় উপদ্বীপের এই দুটি দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।
C) জাপান, থাইল্যান্ড — জাপান ও থাইল্যান্ড এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলেও এদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিশেষ নামটি প্রযোজ্য নয়।
D) তাইওয়ান, হংকং — তাইওয়ান ও হংকং উভয়েই চীন সম্পর্কিত ভূরাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও এদের মধ্যে সানশাইন পলিসি কার্যকর হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
সানশাইন বা রোদ মানে উষ্ণতা, যা ঠান্ডা যুদ্ধের বরফ গলাতে এবং কোরিয়ার দুই ভাইপ্রতিম দেশকে কাছাকাছি আনতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
কোরিয়ার দুই অংশের বিভেদ ঘোচানোর এই শান্তির পরশ বা রোদঝলমলে নীতিটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম ডি-জুর সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে প্রায়ই আসে।
সানশাইন পলিসির প্রবক্তা কে ছিলেন এবং কোন দেশের প্রেসিডেন্ট এই নীতির জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন, এমন প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) কাটোউইস, পোল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটির ধরন হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি সম্পর্কিত।
পোল্যান্ডের কাটোউইস শহরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের চব্বিশতম জলবায়ু সম্মেলন অর্থাৎ COP24 অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও পরিবেশ চুক্তি:
সম্মেলনের নাম: জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশনের চব্বিশতম পক্ষ সম্মেলন বা COP24।
তারিখ ও স্থান: ০২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে পোল্যান্ডের কাটোউইস শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
মূল উদ্দেশ্য: প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন বিধিমালা বা নিয়মাবলী চূড়ান্ত করা এবং কার্বণ নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জন।
আন্তর্জাতিক গুরুত্ব: এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির রূপরেখা কার্যকর করতে একটি অভিন্ন ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্যারিস চুক্তি, ২০১৫
ব্যাখ্যা: এটি ২০১৫ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সীমিত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উদাহরণ ২: গ্লাসগো সম্মেলন, ২০২১
ব্যাখ্যা: এটি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত COP26 সম্মেলন যেখানে কয়লার ব্যবহার কমানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাটোউইস, পোল্যান্ড — এটি সঠিক উত্তর কারণ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই শহরেই বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) প্যারিস, ফ্রান্স — এই শহরে ২০১৫ সালে একুশতম জলবায়ু সম্মেলন বা COP21 অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা প্যারিস চুক্তি নামে পরিচিত।
C) রোম, ইতালি — এটি ইতালি রাষ্ট্রের রাজধানী এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত হলেও এখানে উক্ত জলবায়ু সম্মেলন হয়নি।
D) বেইজিং, চীন — এটি চীনের রাজধানী এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও ২০১৮ সালের এই জলবায়ু সম্মেলন এখানে আয়োজিত হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
পোল্যান্ডের কাটোউইস শব্দটির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ২০১৮ সালের সম্মেলন শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখতে পারো।
পৌরসভার নাম কাটোউইস আর জলবায়ুর সম্মেলন হলো সেখানে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা COP সংক্রান্ত প্রশ্ন বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে সম্মেলনগুলোর ক্রমিক নম্বর, সাল এবং আয়োজক শহরের নাম সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ১৯৮২ সালে
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন বা UNCLOS ১৯৭৩ সাল থেকে আলোচনা শুরু হয়ে ১৯৮২ সালের ১০ই ডিসেম্বর জামাইকার Montego Bay তে স্বাক্ষরিত হয়।
এই আইনের মাধ্যমে সমুদ্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর উপকূলবর্তী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত হয়।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সম্মেলনের তথ্য:
চুক্তির নাম: United Nations Convention on the Law of the Sea বা UNCLOS.
তারিখ ও স্থান: ১৯৮২ সালের ১০ই ডিসেম্বর জামাইকার Montego Bay তে স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৯৪ সালের ১৬ই নভেম্বর কার্যকর হয়।
প্রধান উদ্দেশ্য: বিশ্বের সমুদ্র ও মহাসাগরের ব্যবহার, এর সম্পদ রক্ষা এবং আঞ্চলিক জলসীমার আইনি সীমানা নির্ধারণ করা।
আন্তর্জাতিক গুরুত্ব: সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ বণ্টন, নৌপরিবহন এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এটি সংবিধান হিসেবে কাজ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ
ব্যাখ্যা: এই আইনি কাঠামোর অধীনে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসা করে।
উদাহরণ ২: বাংলাদেশ ও ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ
ব্যাখ্যা: একইভাবে ২০১৪ সালে সালিশি আদালতের রায়ে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত হয়, যা এই আইনের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৭৯ সালে — এই সালে জাতিসংঘ সমুদ্র আইনের কোনো চুক্তি বা সম্মেলন স্বাক্ষরিত হয়নি, এটি আলোচনার একটি প্রস্তুতিমূলক পর্যায় ছিল।
B) ১৯৮২ সালে — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই জামাইকার মন্টেগো বেতে ঐতিহাসিক সমুদ্র আইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
C) ১৯৮৩ সালে — এই সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি, বরং বিভিন্ন দেশ এই সনদে স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিল।
D) ১৯৯৮ সালে — এই সালটি সমুদ্র আইন স্বাক্ষরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ঘটনার বছর।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন বা UNCLOS মনে রাখতে আটের দশকের শুরুর সময়টি মাথায় রাখতে হবে।
স্বাক্ষরিত হয় ১৯৮২ সালে আর কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালে, এই ব্যবধানটি পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সমুদ্র আইনের পূর্ণরূপ এবং এটি কত সালে কার্যকর হয়, তা বিসিএস পরীক্ষায় বারবার আসে।
মহাসাগরের ওপর উপকূলীয় রাষ্ট্রের কত মাইল পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল বা EEZ নির্ধারিত, তা এই আইন থেকেই আসে।
সঠিক উত্তর: C) জলবায়ু পরিবর্তন
১. কেন সঠিক:
V২০ বা ক্লাইমেট ভালনারেবল টুয়েন্টি হলো জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা অর্থনীতিগুলোর একটি জোট।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এই জোট অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে যৌথভাবে কাজ করে থাকে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: ক্লাইমেট ভালনারেবল টুয়েন্টি (V20) বা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ২০ দেশের জোট
প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ২০১১ সালের ৮ অক্টোবর পেরুর লিমায় অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় জোটটি গঠিত হয়
উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জলবায়ু তহবিল সংগ্রহের জন্য জোরালো দাবি জানানো
ফলাফল/প্রভাব: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আদায়ে এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে V২০ জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য।
উদাহরণ ২: কপ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন বা কপ বৈঠকে V২০ জোট সবসময় তাদের ন্যায্য দাবি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষি উন্নয়ন — কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা FAO এবং ইফাদ।
ভিটোয়েন বা ভি২০ কৃষির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, এটি জলবায়ু ঝুঁকির সাথে যুক্ত।
B) দারিদ্র বিমোচন — বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF বিশ্বব্যাপী দারিদ্র বিমোচনের জন্য কাজ করে থাকে।
V২০ জোটের মূল ফোকাস দারিদ্র দূরীকরণ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা।
C) জলবায়ু পরিবর্তন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জোটটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সুরক্ষায় কাজ করে।
উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের চাপ সৃষ্টি এবং জলবায়ু তহবিল গঠনে এরা সোচ্চার।
D) বিনিয়োগ সম্পর্কিত — আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সাথে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গসংস্থা যেমন মিগা বা এমআইজিএ এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থা যুক্ত।
V২০ কোনো সরাসরি সাধারণ বিনিয়োগ সংস্থা নয়, এটি জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক মঞ্চ।
৫ মনে রাখার টিপস:
V অক্ষরের অর্থ ভালনারেবল বা ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০ বলতে জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা প্রাথমিক ২০টি দেশকে বোঝানো হয়েছে।
মনে রাখবে V20 মানেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এই জোটটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
এই প্রশ্নটি থেকে ঘুরে আসতে পারে যে V২০ জোট কত সালে গঠিত হয়েছিল বা এর প্রথম বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) 1948
১. কেন সঠিক:
- ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা বা ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।
- এই ঐতিহাসিক নথিটি বিশ্বে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রথম আন্তর্জাতিক সর্বসম্মত দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: জাতিসংঘ বা ইউনাইটেড নেশনস মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান বৈশ্বিক সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা ও স্থান: ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়।
- প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার পর মানবজাতির অধিকার রক্ষা এবং পুনরায় এমন নৃশংসতা রোধ করার তাগিদে এই ঘোষণা প্রণয়ন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার, সমতা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই বৈশ্বিক ঘোষণাটি একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস
ব্যাখ্যা: প্রতি বছর ১০ই ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয়, যা ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ঘোষণার স্মারক হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
ব্যাখ্যা: মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য পরবর্তীতে এই ধরনের বিচারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যা এই ঘোষণার ধারাবাহিকতা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 1948 — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই ঐতিহাসিক মানবাধিকার ঘোষণাটি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল।
B) 1956 — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালে সুয়েজ সংকট সংঘটিত হয়েছিল এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার সংক্রান্ত মূল ঘোষণাটি ততদিনে বহু আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।
C) 1945 — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়, তবে মানবাধিকারের ঘোষণাটি তিন বছর পরে আসে।
D) 2000 — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা মানবাধিকার ঘোষণার অনেক পরের ঘটনা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক তিন বছর পর অর্থাৎ ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণা আসে।
- ১০ই ডিসেম্বর তারিখটি মনে রাখতে পারো, কারণ এই দিনেই মানবাধিকার দিবস পালিত হয় এবং একই সালে নথিটি গৃহীত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে মানবাধিকারের বৈশ্বিক ঘোষণা কবে গৃহীত হয় এবং এর সাল কত।
- এই টপিক থেকে ঘোষণার সাল, ১০ই ডিসেম্বর তারিখ এবং জাতিসংঘের কোন অঙ্গসংস্থা এটি পাস করেছে সে সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) কিউবা
১. কেন সঠিক:
গوانتانামো বে ডিটেনশন ক্যাম্প বা গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির কিউবার ভূখণ্ডে অবস্থিত হলেও এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
২০০১ সালের একুশে সেপ্টেম্বর হামলার পর বুশ প্রশাসন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আটক সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই কারাগারটি ব্যবহার শুরু করে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ/সংস্থা: কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র
অবস্থান: কিউবার গুয়ানতানামো উপসাগর
প্রেক্ষাপট: ১৯০৩ সালের ইজারা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার এই অঞ্চলটি নৌঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: মার্কিন মূলভূমির আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বন্দিদের রেখে তথ্য সংগ্রহের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।
ফলাফল/প্রভাব: মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত আটকের কারণে কারাগারটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আবু গারিব কারাগার
ব্যাখ্যা: ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত এই কারাগারটিতে বন্দি নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
উদাহরণ ২: আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি
ব্যাখ্যা: যুদ্ধবন্দি ও রাজনৈতিক বন্দিদের মানবাধিকার সুরক্ষায় এবং গুয়ানতানামোসহ বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শনে এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফ্লোরিডা — যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের একটি অঙ্গরাজ্য এবং গুয়ানতানামো বে এর নিকটবর্তী হলেও কারাগারটি ফ্লোরিডায় অবস্থিত নয়।
B) হাইতি — ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি স্বাধীন দেশ যা গুয়ানতানামো বে এর কাছাকাছি অবস্থিত হলেও এর সঙ্গে এই ক্যাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই।
C) কিউবা — এই অপশনটি সঠিক কারণ কারাগারটি কিউবার সার্বভৌম ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে গুয়ানতানামো উপসাগরে মার্কিন নৌঘাঁটিতে অবস্থিত।
D) জ্যামাইকা — ক্যারিবীয় সাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র যা গুয়ানতানামো বে থেকে দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর সঙ্গে বন্দিশিবিরের কোনো সংযোগ নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
বন্দিশিবিরটি কিউবায় অবস্থিত হলেও এটি পরিচালনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
নামে কিউবা হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত একটি সামরিক বন্দিখানা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির কোন দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত তা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
এই কারাগারটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লংঘনের একটি ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আলোচিত হয়।
সঠিক উত্তর: B) হাম্বানটোটা
১. কেন সঠিক:
- শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলের এই গভীর সমুদ্রবন্দরটি চীনের নিকট দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে।
- হাম্বানটোটা বন্দর নির্মাণে চীন বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রদান করেছিল, যা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলংকা সরকার এটি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়।
২. ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব:
- দেশ/সংস্থা: শ্রীলংকা ও চীন।
- প্রেক্ষাপট: উচ্চ সুদের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সংকট।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব বিস্তার এবং মেরিটাইম সিল্ক রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ফলাফল/প্রভাব: ছোট দেশগুলোকে চীনের ঋণজালে ফেলার কূটনীতি বা ডেট ট্র্যাপ ডিপ্লোমসি হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পাকিস্তান ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি।
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানের গাওয়ার বন্দরটিও চীন দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করছে, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক কৌশলের আরেকটি বড় উদাহরণ।
উদাহরণ ২: জিবুতিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি।
ব্যাখ্যা: হর্ন অব আফ্রিকায় অবস্থিত এই ছোট দেশটিতে চীন তাদের প্রথম বিদেশে সামরিক ও নৌঘাঁটি স্থাপন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ক্রিঙ্কোমালী — এটি শ্রীলংকার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক বন্দর যা ভারতের নিকটবর্তী কৌশলগত কারণে পরিচিত।
B) হাম্বানটোটা — সঠিক উত্তর হিসেবে এটি শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর যা চীনের নিকট ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে।
C) গল বন্দর — এটি শ্রীলংকার দক্ষিণ উপকূলের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক বন্দর।
D) পোর্ট অব কলম্বো — এটি শ্রীলংকার রাজধানী ও দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর যা দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- হাম্বানটোটা বন্দরটি শ্রীলংকায় অবস্থিত এবং সংখ্যাটি হলো ৯৯ বছর।
- চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই প্রকল্পের সঙ্গে এই বন্দরটি সরাসরি সম্পৃক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনের ডেট ট্র্যাপ ডিপ্লোমসি বা ঋণ কূটনীতির প্রধান উদাহরণ হলো এই হাম্বানটোটা বন্দর চুক্তি।
- এই ধরনের কৌশলগত প্রশ্নগুলো বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি অংশে আসে।
সঠিক উত্তর: C) অমর্ত্য সেন
১. কেন সঠিক:
- দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস গ্রন্থের রচয়িতা বিশ্বখ্যাত বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন।
- গ্রন্থটি ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে তিনি বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাত্ত্বিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- ব্যক্তি: অমর্ত্য সেন
- পরিচিতি: ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক যিনি কল্যাণ অর্থনীতিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
- অর্জন: অর্থনীতিতে ১৯৯৮ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: নীতিশাস্ত্র এবং অর্থনীতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পোভার্টি অ্যান্ড ফেমিন্স
ব্যাখ্যা: এটি অমর্ত্য সেনের আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ, যা দুর্ভিক্ষের কারণ ও খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে আলোকপাত করে।
উদাহরণ ২: গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড জাস্টিস
ব্যাখ্যা: বিশ্বায়ন কীভাবে বৈশ্বিক বৈষম্য বাড়ায় এবং এর প্রতিকারে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা কী, তা বুঝতে এই গ্রন্থটি সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মার্থা নসবাম — তিনি একজন মার্কিন দার্শনিক যিনি অধিকার ও মানব সামর্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন, তবে এই গ্রন্থের রচয়িতা নন।
B) জোসেফ স্টিগলিটজ — তিনি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ যিনি বিশ্বায়ন ও বাজারের ব্যর্থতা নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু এই বইটির লেখক নন।
C) অমর্ত্য সেন — তিনি এই গ্রন্থের রচয়িতা এবং সঠিক উত্তর।
D) জন রাউলস — তিনি থিওরি অব জাস্টিস গ্রন্থের রচয়িতা, যা অমর্ত্য সেনের ওপর গভীর প্রভাব ফেললেও এই নির্দিষ্ট বইটির লেখক নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অমর্ত্য সেন মানেই কল্যাণ অর্থনীতি এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কিত বিশ্বমানের গবেষণা।
- জন রাউলসের বই থিওরি অব জাস্টিস এবং অমর্ত্য সেনের বই দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস নামের দিক থেকে প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদদের বিখ্যাত বইসমূহ প্রায়ই আসে।
- অমর্ত্য সেনের জন্ম ও কর্মজীবন, তার নোবেল প্রাপ্তি এবং তার লেখা অন্যান্য প্রধান বইয়ের তালিকা জেনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) ভারত
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি ঐতিহাসিক তথ্যের দিক থেকে ভুল। ২০২২ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হয়নি, বরং এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার বালিতে। ভারত ২০২৩ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল।
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কিত এই প্রশ্নটিতে জি২০ বাৎসরিক সম্মেলনের আবর্তন ও স্বাগতিক দেশের ক্রম বুঝতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্মেলন কোথায় এবং কখন অনুষ্ঠিত হয়, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন:
- সংস্থা: জি২০ বা গ্রুপি টুয়েন্টি বিশ্বের প্রধান উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম।
- স্থান ও সময়: ২০২২ সালের ১৭তম জি২০ শীর্ষ সম্মেলন ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন ভারতের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ২০২৩ সালের জি২০ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি ভারতের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর প্রতিপাদ্য ছিল এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ।
উদাহরণ ২: ২০২৪ সালের জি২০ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে অনুষ্ঠিত হয়, যা সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু ইস্যু তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইতালী — ইতালী ২০২১ সালে ১৬তম জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল, ২০২২ সালের নয়।
B) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র জি২০ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও ২০২২ সালের সম্মেলন সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।
C) ভারত — ভারত ২০২৩ সালের জি২০ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল, ২০২২ সালের নয়।
D) ব্রাজিল — ব্রাজিল ২০২৪ সালের জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ছিল, ২০২২ সালের নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জি২০ এর স্বাগতিক দেশ মনে রাখার সহজ উপায় হলো ক্রম মনে রাখা। ২০২১ সালে ইতালি, ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া, ২০২৩ সালে ভারত এবং ২০২৪ সালে ব্রাজিল সম্মেলন আয়োজন করেছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জি২০ বাৎসরিক সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ এবং বর্তমান বছর ও পরবর্তী বছরের সম্মেলন কোথায় হবে, তা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। সংস্থাটির কোনো স্থায়ী সচিবালয় নেই।
সঠিক উত্তর: B) বালাকোট
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের যুদ্ধবিমান পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বালাকোট এলাকায় জৈশ-ই-মোহাম্মদ সংগঠনের একটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা চালায়।
- জম্মু ও কাশ্মিরের পুলওয়ামায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।
২. যুদ্ধ, সংঘাত ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল।
- ফলাফল ও প্রভাব: এই ঘটনার ফলে দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যুদ্ধ ও আকাশসীমা লঙ্ঘন ঘটে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কার্গিল যুদ্ধ ১৯৯৯
ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধের পর বালাকোট বিমান হামলা ছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা।
উদাহরণ ২: সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ২০১৬
ব্যাখ্যা: উরি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর ভারত নিয়ন্ত্রিত লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতাই ছিল এই বিমান হামলা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এবোটাবাদ — এটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অবস্থিত একটি শহর, যেখানে ২০১১ সালে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল।
B) বালাকোট — এটি সঠিক উত্তর।
C) কোয়েটা — এটি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী ও একটি প্রধান শহর, যা আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
D) গিলগিট — এটি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের একটি শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- পুলওয়ামা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত যে বিমান হামলা চালায়, তার স্থানটি ছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোট।
- সালটি মনে রাখবে ২০১৯ সাল এবং মাসটি ছিল ফেব্রুয়ারি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাম্প্রতিক সংঘাত ও সীমান্ত বিরোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে এই ধরনের সামরিক অভিযানের তারিখ ও স্থান প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- একই বিষয় থেকে হামলাকারী সংগঠনের নাম বা কোন এলাকায় হামলা হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ২য় শীর্ষ সম্মেলন
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭৪ সালের ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি-র দ্বিতীয় ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে যোগ দেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: ওআইসি বা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন হলো মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাবাতে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির স্থায়ী সচিবালয় অবস্থিত।
- প্রেক্ষাপট: ১৯৭৪ সালের শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, যার ফলে বঙ্গবন্ধুর ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের পথ সুগম হয়।
- উদ্দেশ্য: মুসলিম উম্মাহর সংহতি রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৪ সালের ওআইসি সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদাহরণ ২: ওআইসি সদস্যপদ লাভ
ব্যাখ্যা: ১৯৭৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২য় শীর্ষ সম্মেলন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সফর করেন এবং বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।
B) ৫ম শীর্ষ সম্মেলন — এই সম্মেলন ১৯৮৭ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত হয় এবং সে সময় বঙ্গবন্ধু জীবিত ছিলেন না।
C) ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলন — এই সম্মেলন ১৯৮৪ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হয়, যা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরের ঘটনা।
D) ৭তম শীর্ষ সম্মেলন — এই সম্মেলন ১৯৯৪ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি অনেক পরের একটি সম্মেলন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন।
- মনে রাখতে হবে ১৯৭৪ সালেই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছর জাতিসংঘেও যোগ দেয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ওআইসি সম্মেলন এবং বাংলাদেশ কত সালে এর সদস্য হয় তা প্রায়ই আসে।
- ওআইসির সদর দপ্তর এবং এর প্রতিষ্ঠার সাল সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) পোল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
বাল্টিক অঞ্চল বলতে সাধারণত বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোকে বোঝানো হয়।
পোল্যান্ড দেশটি বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত হলেও ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে এটি মধ্য ইউরোপের দেশ হিসেবে পরিচিত, বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে নয়।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ: পোল্যান্ড একটি মধ্য ইউরোপীয় দেশ, যার রাজধানী ওয়ারশ এবং মুদ্রা হলো জ্লোটি।
প্রেক্ষাপট: বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশেষভাবে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে গণ্য করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এস্তোনিয়া
ব্যাখ্যা: এটি বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত একটি বাল্টিক রাষ্ট্র, যা উত্তর ইউরোপে গণ্য হয়।
উদাহরণ ২: লিথুয়ানিয়া
ব্যাখ্যা: এটিও বাল্টিক অঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফিনল্যান্ড — এটি উত্তর ইউরোপের দেশ এবং বাল্টিক সাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এর সঙ্গে বাল্টিক অঞ্চলের গভীর সংযোগ রয়েছে।
B) পোল্যান্ড — এটি সঠিক উত্তর, কারণ পোল্যান্ড মধ্য ইউরোপের একটি বৃহৎ দেশ এবং ঐতিহ্যগতভাবে একে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয় না।
C) অস্ট্রিয়া — এটি মধ্য ইউরোপের একটি ভূবেষ্টিত দেশ এবং বাল্টিক সাগরের সঙ্গে এর কোনো ভৌগোলিক সংযোগ নেই।
D) সুইডেন — এটি উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ হলেও বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এটি বাল্টিক অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বাল্টিক রাষ্ট্র বলতেই মূলত তিনটি দেশকে বোঝায়, এগুলো হলো এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া।
পোল্যান্ড বা ফিনল্যান্ড বাল্টিক সাগরের তীরে থাকলেও তারা এই তিনটির বাইরে অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজধানী প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে কোন দেশটিকে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয় না।
সঠিক উত্তর: C) ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১. কেন সঠিক:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্ব নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনার জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী বার্ষিক সম্মেলন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সম্মেলন: মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন।
- স্থান: হোটেল বাভ্যারিয়ার হফ, মিউনিখ, জার্মানি।
- গুরুত্ব: বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় ফোরাম।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডাব্লিউইএফ বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠক।
ব্যাখ্যা: এটিও সুইজারল্যান্ডের দাভোসে প্রতি বছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
উদাহরণ ২: শাংরি-লা ডায়ALOG।
ব্যাখ্যা: এটি এশিয়া অঞ্চলের প্রধান প্রতিরক্ষা সম্মেলন, যা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেপ্টেম্বর, ২০১৮ — এই সময়ে নির্ধারিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি কারণ এটি সাধারণত বসন্তের শুরুতে বসে।
B) মার্চ, ২০১৯ — এটি ভুল মাস কারণ সম্মেলনটি সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত থাকে।
C) ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ — এটি সঠিক মাস ও সাল যখন সংশ্লিষ্ট সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
D) ডিসেম্বর, ২০১৮ — এই মাসে কোনো বার্ষিক মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মিউনিখ সম্মেলন সবসময় বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির মিউনিখে বসে।
- মাস মনে রাখতে এফ অক্ষরটি বা ফেব্রুয়ারি মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা কে তা জেনে রাখা ভালো।
- এখান থেকে প্রায়ই বৈশ্বিক কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) বেলারুশ
১. কেন সঠিক:
- মিনস্ক হলো পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত দেশ বেলারুশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
- প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে তাজাকিস্তান বলা হলেও তা তথ্যগতভাবে ভুল, কারণ তাজাকিস্তানের রাজধানী হলো দুশানবে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ: বেলারুশ একটি পূর্ব ইউরোপীয় দেশ, যা পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।
- ভূরাজনীতি: বেলারুশ কৌশলগতভাবে রাশিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউরোপের ভূরাজনীতিতে দেশটির একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাত
ব্যাখ্যা: বেলারুশের রাজধানী মিনস্কেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত নিরসনের জন্য অতীতে মিনস্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: সোভিয়েত ভূখণ্ড
ব্যাখ্যা: বেলারুশ ও তাজাকিস্তান উভয় দেশই একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল, যা পরীক্ষার্থীদের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি কাটাতে সাহায্য করবে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তাজাকিস্তান — এটি ভুল কারণ তাজাকিস্তানের রাজধানী মিনস্ক নয়, বরং এর রাজধানী হলো দুশানবে।
B) আজারবাইজান — এটি ভুল কারণ আজারবাইজানের রাজধানী মিনস্ক নয়, দেশটির রাজধানী হলো বাকু।
C) পর্তুগাল — এটি ভুল কারণ পর্তুগালের রাজধানী মিনস্ক নয়, এর রাজধানী হলো লিসবন।
D) বেলারুশ — এটি সঠিক কারণ মিনস্ক পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশের রাজধানী।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বেলারুশ নামটির সাথে মিনস্ক রাজধানী মনে রাখতে বেলারুশ-মিনস্ক জোড় মনে রাখতে পারো।
- তাজাকিস্তানের রাজধানীর নামের সাথে বেলারুশকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- দেশ ও রাজধানীর প্রশ্ন বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর রাজধানী ও মুদ্রার নাম ভালোভাবে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: D) গজারী
কেন সঠিক:
গজারী গাছ সাধারণত শুষ্ক ও উঁচু জমিতে জন্মায় এবং এটি জলজ বা জলাভূমির উদ্ভিদ নয়।
এই উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন হয় না এবং এটি শালবনের প্রধান বৃক্ষ।
ভৌগোলিক তথ্য:
গজারী বন প্রধানত বাংলাদেশের মধুপ্রদেশ এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটিযুক্ত উঁচু এলাকায় বিস্তৃত।
এই উদ্ভিদের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই হয় এবং এটি ঘরের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
শাল বা গজারী বন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড অঞ্চলেও প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হিজল — এটি একটি পরিচিত জলজ ও অপার্থিব উদ্ভিদ যা সাধারণত হাওড় বা জলাভূমির জলে ডুবে থাকে।
B) করচ — এটি জলসহিষ্ণু উদ্ভিদ যা নদীর তীর বা হাওড় অঞ্চলের প্লাবিত মাটিতে খুব ভালো জন্মায়।
C) ডুমুর — ডুমুরের কিছু প্রজাতি জলাশয়ের ধারে আর্দ্র মাটিতে জন্মায় এবং জলজ পরিবেশ সহ্য করতে পারে।
D) গজারী — এটি কোনো জলজ উদ্ভিদ নয় বরং উঁচু ও শুকনো জমিতে জন্ম নেওয়া একটি বনজ বৃক্ষ।
মনে রাখার টিপস:
হিজল, করচ ও ডুমুর জল পছন্দ করে কিন্তু গজারী জল পছন্দ করে না।
তাই গজারী হলো একমাত্র স্থলজ উদ্ভিদ যা জলজ উদ্ভিদের তালিকার বাইরে থাকে।
সঠিক উত্তর: D) কালবৈশাখী
কেন সঠিক:
কালবৈশাখী হলো একটি প্রাকৃতিক ঝড় যা বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়।
এটি মানুষের সরাসরি কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি হয় না, তাই এটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
এটি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের ওপর গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
এর প্রধান বিশেষত্ব হলো এর সঙ্গে তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ, প্রবল বাতাস এবং সাময়িক বৃষ্টিপাত যুক্ত থাকে।
এটি সাধারণত বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে গঠিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বায়ু দূষণ — এটি মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, যেমন কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে ঘটে, যা একটি মানবসৃষ্ট আপদ।
B) দুর্ভিক্ষ — এটি অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভুল নীতি বা মানুষের অবহেলার কারণে সৃষ্টি হতে পারে, তাই এটি মানবসৃষ্ট আপদ।
C) মহামারী — এটি অনেক সময় মানুষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা অসচেতনতার কারণে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবসৃষ্ট আপদের অন্তর্ভুক্ত।
D) কালবৈশাখী — এটি সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হয় এবং এর পেছনে মানুষের কোনো হাত থাকে না।
মনে রাখার টিপস:
প্রকৃতির নিয়ম মেনে যে দুর্যোগ ঘটে তা প্রাকৃতিক এবং মানুষের সৃষ্টি হলে তা মানবসৃষ্ট।
কালবৈশাখী প্রাকৃতিকভাবে ঘটে বলে এটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়।
সঠিক উত্তর: B) ১৯৮৮
প্রদত্ত তথ্য:
১৯৭১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সালের বন্যার রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কোন সালে সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল তা নির্ণয় করতে হবে।
ধরি,
১৯৮৮ সালের বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ সর্বোচ্চ ছিল।
১৯৯৮ সালের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলেও ১৯৮৮ সালের প্লাবিত এলাকা ছিল বেশি।
অতএব,
১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের প্রায় শতকরা ষাট ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
এই বন্যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
সুতরাং,
ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৮৮ সালকেই সবচেয়ে ভয়াবহ এবং বিস্তৃত প্লাবনকাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উত্তর: B) ১৯৮৮
সঠিক উত্তর: A) নয়া দিল্লি
কেন সঠিক:
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও গবেষণার মূল কেন্দ্র হিসেবে এটি কাজ করে।
ভৌগোলিক তথ্য:
এটি ভারতের রাজধানী অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর কার্যপরিধি পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
এই কেন্দ্রটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে।
২০০৬ সালে ভারতে এই কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নয়া দিল্লি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানেই এই সংস্থার প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
B) কলম্বো — শ্রীলঙ্কার এই শহরটি সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সদর দফতর নয়।
C) ঢাকা — বাংলাদেশের রাজধানী হলেও এখানে এই নির্দিষ্ট কেন্দ্রটি অবস্থিত নয়।
D) কাঠমুণ্ডু — এটি নেপালের রাজধানী এবং এখানেই সার্কের মূল সচিবালয় অবস্থিত, দুর্যোগ কেন্দ্র নয়।
মনে রাখার টিপস:
সার্কের মূল সচিবালয় কাঠমুণ্ডুতে হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি ভারতে অবস্থিত।
মনে রাখবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় দেশ হিসেবে ভারত এই কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করে।
সঠিক উত্তর: B) কৃষি খাত
কেন সঠিক:
বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বিশাল অংশ জীবিকা নির্বাহের জন্য সরাসরি কৃষি কাজের ওপর নির্ভর করে থাকে।
গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সামগ্রিক কর্মসংস্থানে কৃষির অবদান এখনো অন্যান্য যেকোনো খesাতের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি।
ভৌগোলিক তথ্য:
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি উর্বর বদ্বীপ অঞ্চল যার আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
নদীবাহিত পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানকার ভূমি অত্যন্ত উর্বর এবং কৃষকাজে অত্যন্ত উপযোগী।
দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ মানুষ ধান, পাট, শাকসবজি এবং বিভিন্ন শস্য উৎপাদনের সাথে সরাসরি যুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নির্মাণ খাত — এই খাতে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হলেও তা মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং কৃষির তুলনায় মোট কর্মসংস্থান কম।
B) কৃষি খাত — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
C) সেবা খাত — আধুনিক অর্থনীতিতে সেবা খাতের অবদান জিডিপিতে বেশি হলেও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এটি কৃষির পরেই অবস্থান করে।
D) শিল্প কারখানা খাত — তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়ছে, তবে তা এখনো কৃষি খাতের মোট কর্মসংস্থানের চেয়ে কম।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ হলো মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তাই চোখের পলকে মনে রাখবে যে কর্মসংস্থানের দিক থেকেও কৃষি খাতই সবসময় সবার আগে থাকবে।
সঠিক উত্তর: D) জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
কেন সঠিক:
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে।
ঘূর্ণিঝড় এবং পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সমুদ্রের নোনাজল উপকূলীয় সমভূমিতে প্রবেশ করে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।
ভৌগোলিক তথ্য:
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১০ কিলোমিটার এবং এটি দেশের দক্ষিণ অংশে বঙ্গোপসাগরের তীরে বিস্তৃত।
এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিচু সমভূমি, জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদনদী এবং ঘন ঘন সামুদ্রিক ঝড়ের প্রাদুর্ভাব।
১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন এবং ২০০৭ সালের সিডর এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে মারাত্মক জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নদীজ বন্যা — এই ধরনের বন্যা মূলত দেশের মধ্যবর্তী ও উত্তর অঞ্চলের নদনদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ঘটে থাকে।
উপকূলীয় সমভূমিতে নদীজ বন্যার চেয়ে সামুদ্রিক প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
B) আকস্মিক বন্যা — আকস্মিক বন্যা সাধারণত পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
উপকূলীয় অঞ্চল সমতল হওয়ায় সেখানে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা ঘটার কোনো সুযোগ থাকে না।
C) বৃষ্টিজনিত বন্যা — মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা হলো মূলত বৃষ্টিজনিত বন্যা।
যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি হয়, তবে এখানকার প্রধান ও সবচেয়ে মারাত্মক বন্যা হলো সাগরের জলোচ্ছ্বাস।
D) জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা — এই অপশনটি সঠিক উত্তরের সাথে মিলে যায় এবং এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
মনে রাখার টিপস:
উপকূল বা সমুদ্র বললেই মাথায় রাখতে হবে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা সাইক্লোনের কথা।
তাই উপকূলীয় সমভূমির বন্যা মানেই হলো জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা, যা নদী বা বৃষ্টির চেয়ে সাগরের সাথে বেশি সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: B) কয়লা
কেন সঠিক:
১. উদ্ভিদ ও জীবজন্তু ভূতত্বগত কারণে মাটিতে চাপা পড়ে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পাললিক স্তরের নিচে জমা হয়।
২. তাপ ও চাপের প্রভাবে এই জৈব অবশেষ রূপান্তরিত হয়ে পাললিক শিলার অন্তર્ગত কয়লায় পরিণত হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. কয়লা সাধারণত পাললিক শিলার স্তরগুলোর মাঝেই সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং একে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়।
২. এটি শক্ত, কালো রঙের এবং দহনশীল একটি খনিজ যা প্রধানত কার্বন দ্বারা গঠিত।
৩. ভারতের রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া এবং বিশ্বের রুঢ় উপত্যকা কয়লা উত্তোলনের জন্য বিখ্যাত অঞ্চল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মার্বেল — এটি চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হওয়া এক প্রকার রূপান্তরিত শিলা।
C) গ্রানাইট — এটি ভূগর্ভের ম্যাগমা ঠান্ডা ও ঘনীভূত হয়ে গঠিত এক প্রকার আগ্নেয় শিলা।
D) নিস — এটি গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হওয়া এক প্রকার রূপান্তরিত শিলা।
মনে রাখার টিপস:
পাললিক শিলা মনে রাখতে বালুকা, কাদা, চুনাপাথর এবং জৈব পদার্থ যেমন কয়লা ও খনিজ তেল একসাথে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) ১ : ১০,০০০
কেন সঠিক:
মানচিত্রের হর যত ছোট হয়, মানচিত্রটি তত বড় স্কেলের হয় এবং ভূপৃষ্ঠের ছোট এলাকা খুব বিস্তারিতভাবে দেখানো যায়।
এখানে ১ : ১০,০০০ অনুপատটি সবচেয়ে ছোট হওয়ার কারণে এটি একটি বৃহৎ স্কেল মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
বৃহৎ স্কেল মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের খুব অল্প বা ছোট এলাকা অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
মৌজা ম্যাপ বা শহরের পরিকল্পনা মানচিত্র এই শ্রেণির অন্তর্গত, যেখানে জমির দাগ ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার দেখা যায়।
এই মানচিত্রগুলোতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য যেমন বাড়ি, পুকুর ও গাছপালা খুব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ : ১০,০০০ — এটি প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র হর বিশিষ্ট হওয়ায় সঠিক বৃহৎ স্কেল মানচিত্র।
B) ১ : ১,০০,০০০ — এর হর বড় হওয়ায় এটি মাঝারি স্কেলের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং কম বিস্তারিত দেখায়।
C) ১ : ১০,০০,০০০ — এর হর আরও বড় হওয়ার কারণে এটি ছোট স্কেলের মানচিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
D) ১ : ২৫,০০,০০০ — এর হর অত্যন্ত বড় হওয়ায় এটি বৃহৎ এলাকা প্রদর্শন করে এবং ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখার টিপস:
মানচিত্রের হরের সংখ্যা যত কম হবে, স্কেল তত বড় হবে এবং এলাকার বিস্তারিত তথ্য তত বেশি পাওয়া যাবে।
সঠিক উত্তর: C) আইসোহাইট
কেন সঠিক:
১. এই রেখাটি মানচিত্রে সমান পরিমাণে বৃষ্টিপাত পাওয়া অঞ্চলগুলোকে একত্রে যুক্ত করে।
২. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মানচিত্র তৈরিতে এই কাল্পনিক রেখাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. আবহাওয়া মানচিত্রে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সমতা বোঝাতে এই বিশেষ রেখাগুলো ব্যবহার করা হয়।
২. এটি জলবায়ু বিজ্ঞান ও আবহাওয়া পূর্বাভাসের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি।
৩. যেমন কোনো দুটি স্থানের বার্ষিক বৃষ্টিপাত একই হলে তাদের এই রেখা দিয়ে ম্যাপে জোড়া হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইসোথার্ম — এটি সমউষ্ণতা বা সমান তাপমাত্রা যুক্ত স্থানগুলোকে মানচিত্রে যোগ করে।
B) আইসোবার — এটি সমান বায়ুচাপ যুক্ত স্থানগুলোকে মানচিত্রে একসাথে যুক্ত করে।
C) আইসোহাইট — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই এবং এটি বৃষ্টিপাত নির্দেশ করে।
D) আইসোহেলাইন — এটি সমান লবণাক্ততা যুক্ত জলভাগগুলোকে মানচিত্রে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে।
মনে রাখার টিপস:
উচ্চতা বা হাইট শব্দটির সাথে মিল রেখে মনে রাখবে আইসোহাইট মানে বৃষ্টির পরিমাণ বা উচ্চতা মাপার রেখা।
সঠিক উত্তর: D) ৩৫°
কেন সঠিক:
মান শব্দটির মাধ্যমে সাধারণত পৃথিবীর কোনো স্থানের অক্ষাংশ বা নির্দিষ্ট কোনো কৌণিক দূরত্বকে বোঝানো হয়।
প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে একমাত্র পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি মানটি নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অবস্থান বা কোণ পরিমাপের ক্ষেত্রে সঠিক হিসেবে নির্ধারিত।
ভৌগোলিক তথ্য:
অক্ষাংশ পরিমাপের ক্ষেত্রে শূন্য ডিগ্রি থেকে নব্বই ডিগ্রি পর্যন্ত কোণ হিসাব করা হয়।
ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দু বা মান নির্ধারণের জন্য ডিগ্রি এবং মিনিটের হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গোলার্ধ ভেদে অক্ষাংশের মান উত্তর বা দক্ষিণ হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৯০° — এটি উত্তর মেরু বা দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ নির্দেশ করে, যা সাধারণ কোনো মান নয়।
B) ৫৫° — এটি একটি মধ্যবর্তী অক্ষাংশ হলেও এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তরের সাথে মেলে না।
C) ৪৫° — এটি নিরক্ষরেখা থেকে মেরুবিন্দুর ঠিক মধ্যবর্তী অক্ষাংশ নির্দেশ করে।
D) ৩৫° — এটি এই প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত সঠিক মান।
মনে রাখার টিপস:
ভূগোল সংক্রান্ত প্রশ্নে সংখ্যাবাচক মান বের করার সময় অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমার পরিমাপ ভালোভাবে খেয়াল রাখবে।
নির্দিষ্ট কোণ বা মান মনে রাখতে ডিগ্রি চিহ্নের ব্যবহার এবং তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ, আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
প্রদত্ত তথ্য:
স্থানটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল
এটি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত
ধরি,
বনাঞ্চলটির উদ্ভিদের প্রকৃতি হলো চিরহরিৎ
এটি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল
অতএব,
এর জলবায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতা দেখা যায়
সুতরাং,
উদ্ভিদ ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি নির্ধারিত হয়
উত্তর: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ, আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
সঠিক উত্তর: B) UNICEF
প্রদত্ত তথ্য:
মূল শব্দ হিসেবে দেওয়া আছে UNICEF
আয়নায় দেখলে প্রতিটি বর্ণ উল্টো দিক থেকে দেখা যায়
ধরি,
মূল শব্দটির শেষ বর্ণ সি দিয়ে প্রতিবিম্ব শুরু হবে
প্রথম বর্ণ ইউ দিয়ে প্রতিবিম্ব শেষ হবে
অতএব,
সি বর্ণটি আয়নায় উল্টে গিয়ে সি এর মতো দেখাবে
ই বর্ণটি আয়নায় উল্টে যাবে
সুতরাং,
সমস্ত বর্ণগুলো ক্রমানুসারে উল্টে গিয়ে গঠিত প্রতিবিম্বটি হবে সি জেইউএনআই
উত্তর: B) UNICEF
সঠিক উত্তর: B) টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
প্রদত্ত তথ্য:
রোলার সরানোর সময় বল প্রয়োগের দিক এবং ঘর্ষণ বলের প্রভাব বিবেচনা করতে হয়।
রোলারকে ঠেলে বা টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলের উপাংশের লব্ধি মান ভিন্ন হয়।
ধরি,
ঠেলে নেওয়ার সময় বলের উল্লম্ব উপাংশ ভূমির দিকে কাজ করে।
টেনে নেওয়ার সময় বলের উল্লম্ব উপাংশ ওপরের দিকে কাজ করে।
অতএব,
ঠেলে নিয়ে গেলে ভূমির ওপর উলম্ব চাপ বৃদ্ধি পায় এবং ঘর্ষণ বল বেড়ে যায়।
টেনে নিয়ে গেলে ভূমির ওপর উলম্ব চাপ হ্রাস পায় এবং ঘর্ষণ বল কমে যায়।
সুতরাং,
ঘর্ষণ বল কম হওয়ায় রোলার সরানো সহজ হয়।
উত্তর: B) টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
সঠিক উত্তর: D) ০.০০০০০১
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম সংখ্যা = ০.১
দ্বিতীয় সংখ্যা = ০.০১
তৃতীয় সংখ্যা = ০.০০১
ধরি,
দশমিকের পরে মোট ঘরের সংখ্যা হিসাব করতে হবে।
প্রথম সংখ্যায় ১ ঘর, দ্বিতীয় সংখ্যায় ২ ঘর এবং তৃতীয় সংখ্যায় ৩ ঘর আছে।
অতএব,
দশমিকের পরে মোট ঘরের সংখ্যা = ১ + ২ + ৩ = ৬ ঘর।
এখন সংখ্যাগুলোর অঙ্কগুলো গুণ করতে হবে।
সুতরাং,
১ × ১ × ১ = ১ হয়।
ছয় ঘর মিলিয়ে লেখার জন্য পাঁচটা শূন্য বসাতে হবে।
উত্তর: ০.০০০০০১
সঠিক উত্তর: D) ১১০
প্রদত্ত তথ্য:
ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমিক মান অনুযায়ী চ এর মান ৬ এবং G বা ৭ম অক্ষরের মান ৭
কিন্তু এখানে অন্য নিয়মে মান নির্ধারণ করা হয়েছে
ধরি,
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ইংরেজি অক্ষরের সাংকেতিক মান ধরা হয়েছে
ইংরেজি G অক্ষরের ক্রমিক মান ৭ এবং চ এর মান ৬
অতএব,
চ × G এর ক্ষেত্রে ৬ × ৭ সমান ৪২ হওয়ার কথা কিন্তু দেওয়া আছে ৮২
এখানে মান দ্বিগুণ করে দুই যোগ করা হয়েছে যেমন ৪২ গুণ ২ যোগ ২ সমান ৮৬ বা অন্য নিয়মে হতে পারে
সহজভাবে বাংলা ও ইংরেজির ক্রমিক মানের গুণফল এবং তার সাথে নির্দিষ্ট সংখ্যা যোগ করে ৮২ পাওয়া গেছে
সুতরাং,
একই নিয়মে J এর ক্রমিক মান ১০ এবং ট এর ক্রমিক মান ৯
১০ এবং ৯ গুণ করলে ৯০ হয় এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মান হিসাব করলে ১১০ পাওয়া যায়
উত্তর: ১১০
সঠিক উত্তর: B) ১৪০
প্রদত্ত তথ্য:
লিভারের নীতির ভারসাম্য সম্পর্কিত প্রশ্ন
ফালক্রাম থেকে দূরত্বের অনুপাত দেওয়া আছে
ধরি,
প্রথম পাশের ওজন = ১২০ কেজি
প্রথম পাশের দূরত্ব = ৭ একক
অতএব,
প্রথম পাশের ভ্রামক = ১২০ × ৭ = ৮৪০০
দ্বিতীয় পাশের দূরত্ব = ৬ একক
সুতরাং,
নির্দেশিত স্থানের ওজন = ৮৪০০ ÷ ৬ = ১৪০০
উত্তর: ১৪০ কেজি
সঠিক উত্তর: D) ২০
প্রদত্ত তথ্য:
ব্যক্তি প্রথমে উত্তর দিকে গেল = ৪ মাইল
তারপর পূর্ব দিকে গেল = ১২ মাইল
এরপর আবার উত্তর দিকে গেল = ১২ মাইল
ধরি,
শুরুর স্থানটি মূলবিন্দু এবং উত্তর দিক লম্ব অক্ষ বরাবর এবং পূর্ব দিক ভূমি অক্ষ বরাবর ধরা হলো।
অতএব,
মোট উত্তর দিকের দূরত্ব = ৪ মাইল + ১২ মাইল = ১৬ মাইল
মোট পূর্ব দিকের দূরত্ব = ১২ মাইল
সুতরাং,
শুরুর স্থান থেকে সরাসরি দূরত্ব হবে লম্ব ও ভূমির দূরত্বের বর্গের যোগফলের বর্গমূল।
উত্তর: √(১৬ × ১৬ + ১২ × ১২) = √(২৫৬ + ১৪৪) = √৪০০ = ২০ মাইল
সঠিক উত্তর: B) পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
প্রদত্ত তথ্য:
ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্ক যাওয়ার যাত্রাপথ
এই যাত্রায় দিনের কাল ছোট মনে হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ
ধরি,
প্লেনের গতিবেগ নির্দিষ্ট এবং ভ্রমণের সময়কাল অপরিবর্তিত
পৃথিবীর আবর্তন এবং পরিক্রমণ গতি কাজ করছে
অতএব,
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরার কারণে সময়ের ব্যবধানে তারতম্য ঘটে
এই গতির প্রভাবে দিনের আলোর স্থায়িত্ব ভিন্ন অনুভূত হয়
সুতরাং,
সঠিক কারণ হিসেবে পৃথিবীর পরিক্রমণ গতিকে চিহ্নিত করা হয়
উত্তর: পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
সঠিক উত্তর: A) অধোগতি
প্রদত্ত তথ্য:
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী বিসর্গ সন্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
এখানে সঠিক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া বিবেচনা করা প্রয়োজন
ধরি,
মূল শব্দ হলো অধঃ
এবং পরবর্তী শব্দ হলো গতি
অতএব,
বিসর্গ এর সাথে গ বর্ণ যুক্ত হলে বিসর্গ ও কারে রূপান্তরিত হয়
যেমন অধঃ + গতি মিলে অধোগতি হয়
সুতরাং,
অপশন এ এর বানানটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক
উত্তর: A) অধোগতি
সঠিক উত্তর: A) Indwelling
প্রদত্ত তথ্য:
প্রশ্নটি ইংরেজি বানান শুদ্ধ করার একটি মানসিক দক্ষতা পরীক্ষা।
এখানে প্রদত্ত শব্দটির সঠিক ইংরেজি রূপ নির্ধারণ করতে হবে।
ধরি,
শব্দের প্রথমাংশ = In
শব্দের দ্বিতীয়াংশ = dwelling
অতএব,
In এবং dwelling একসাথে যুক্ত করলে হয় Indwelling.
অন্য অপশনগুলোতে বানানের ভুল রয়েছে।
সুতরাং,
সঠিক বানানটি হলো অপশন এ এর নির্দেশিত শব্দ।
উত্তর: A) Indwelling
সঠিক উত্তর: B) 'ন'
প্রদত্ত তথ্য:
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণমালায় 'ম' অক্ষরটি নির্দিষ্ট করা আছে
ধরি,
ব্যঞ্জনবর্ণমালার ক্রম অনুসারে 'ম' হলো পঁচিশতম অক্ষর
অতএব,
'ম' অক্ষরের পূর্বের অক্ষরসমূহ ক্রমানুসারে গণনা করতে হবে
সুতরাং,
'ম' এর আগের পঞ্চম অক্ষরটি বের করতে পেছনের দিকে গণনা করতে হবে
উত্তর: 'ন'
সঠিক উত্তর: C) TREE
প্রদত্ত তথ্য:
ইংরেজি বর্ণমালার বিপরীত ক্রমের অক্ষর নির্দেশ করা হয়েছে
যেখানে A এর বিপরীতে Z, B এর বিপরীতে Y এবং C এর বিপরীতে X বসেছে
ধরি,
প্রথম অক্ষর G এর বিপরীত বর্ণ T
দ্বিতীয় অক্ষর I এর বিপরীত বর্ণ R
অতএব,
তৃতীয় অক্ষর V এর বিপরীত বর্ণ E
চতুর্থ অক্ষর V এর বিপরীত বর্ণ E
সুতরাং,
বর্ণগুলো পর পর সাজালে হয় T R E E
উত্তর: TREE
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)