স্বরধ্বনির উচ্চারণগত নাম ও ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

স্বরধ্বনির উচ্চারণগত নাম ও ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

এই অংশে আমরা দুটি বড় বিষয় জানব। প্রথমত, ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোর উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কী কী নাম আছে (ঘোষ, অঘোষ, অল্পপ্রাণ, মহাপ্রাণ ইত্যাদি)। দ্বিতীয়ত, স্বরধ্বনিগুলো ঠিক কীভাবে উচ্চারিত হয়, বিশেষ করে অ ও এ ধ্বনির বিবৃত ও সংবৃত উচ্চারণ। পরীক্ষায় এই দুই জায়গা থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।

ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ ও উচ্চারণগত নাম

আগে আমরা দেখেছি, পাঁচটি বর্গ বা গুচ্ছের প্রত্যেকটিতে পাঁচটি করে বর্ণ পাওয়া যায়। এগুলো স্পৃষ্ট ধ্বনিজ্ঞাপক। ক থেকে ম পর্যন্ত এ পঁচিশটি ব্যঞ্জনকে স্পর্শ ব্যঞ্জন বা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. অঘোষ এবং ২. ঘোষ।

১. অঘোষ ধ্বনি

সংজ্ঞা: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
উদাহরণ: ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।

২. ঘোষ ধ্বনি

সংজ্ঞা: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে বলে ঘোষ ধ্বনি।
উদাহরণ: গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি।
নিজে করে দেখো: গলার মাঝখানে (কণ্ঠনালিতে) হালকা করে আঙুল রেখে ‘ক’ বলো, তারপর ‘গ’ বলো। ‘গ’ বলার সময় কম্পন টের পাবে, এটিই ঘোষ ধ্বনির লক্ষণ।

স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে আবার আরেকভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ক. অল্পপ্রাণ এবং খ. মহাপ্রাণ।

ক. অল্পপ্রাণ ধ্বনি

সংজ্ঞা: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
উদাহরণ: ক, গ, চ, জ ইত্যাদি।

খ. মহাপ্রাণ ধ্বনি

সংজ্ঞা: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
উদাহরণ: খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।

পাঁচ বর্গের ধ্বনির উচ্চারণগত নাম

প্রতিটি বর্গের পাঁচটি ধ্বনি এই নিয়মে সাজানো থাকে:

বর্গের ধ্বনিউচ্চারণগত নামউদাহরণ (ক-বর্গ)
১ম (ক, চ, ট, ত, প)অঘোষ অল্পপ্রাণক
২য় (খ, ছ, ঠ, থ, ফ)অঘোষ মহাপ্রাণখ
৩য় (গ, জ, ড, দ, ব)ঘোষ অল্পপ্রাণগ
৪র্থ (ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ)ঘোষ মহাপ্রাণঘ
৫ম (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম)ঘোষ অল্পপ্রাণ (নাসিক্য)ঙ
মনে রাখার কৌশল: প্রতি বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি অঘোষ। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম ধ্বনি ঘোষ। ১ম, ৩য় ও ৫ম ধ্বনি অল্পপ্রাণ। ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি মহাপ্রাণ।

ঊষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি

সংজ্ঞা: শ, ষ, স, হ, এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় ঊষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় ঊষ্মবর্ণ।

শ, ষ, স, এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, আর ‘হ’ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

নিজে করে দেখো: ‘স্‌স্‌স্‌স্‌’ বা ‘শ্‌শ্‌শ্‌’ বলে দেখো। যতক্ষণ বাতাস আছে, ততক্ষণ ধ্বনিটি টেনে রাখা যায়। ‘ক’ বা ‘প’ এভাবে টানা যায় না।

অন্তঃস্থ ধ্বনি

সংজ্ঞা: য (Y) এবং ব (W), এ দুটো বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণস্থান স্পর্শ ও ঊষ্মধ্বনির মাঝামাঝি। এজন্য এদের বলা হয় অন্তঃস্থ ধ্বনি।

ব্যঞ্জনধ্বনির নাম এক নজরে

ধ্বনির নামবর্ণ
স্পর্শ ব্যঞ্জনক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি
অঘোষক খ চ ছ ট ঠ ত থ প ফ
ঘোষগ ঘ ঙ জ ঝ ঞ ড ঢ ণ দ ধ ন ব ভ ম
অল্পপ্রাণক গ ঙ চ জ ঞ ট ড ণ ত দ ন প ব ম
মহাপ্রাণখ ঘ ছ ঝ ঠ ঢ থ ধ ফ ভ
ঊষ্ম বা শিশশ ষ স হ
অন্তঃস্থয ব

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

স্বরধ্বনির উচ্চারণ

স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখের ভেতরে কোথায় থাকে, কতটা উঁচুতে থাকে এবং ঠোঁট কেমন থাকে, এসবের ওপর ভিত্তি করে স্বরধ্বনিগুলোকে ভাগ করা হয়।

ই ও ঈ: এ ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা এগিয়ে আসে এবং উঁচু হয়ে অগ্রতালুর কঠিনাংশের কাছাকাছি পৌঁছে। এ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অবস্থান ই-ধ্বনির মতো সম্মুখেই হয়, কিন্তু একটু নিচে। অ্যা-ধ্বনির বেলায় আরও নিচে। ই, ঈ, এ ও অ্যা ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখভাগে দাঁতের দিকে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় সম্মুখ স্বরধ্বনি। ই ও ঈ-র উচ্চারণের বেলায় জিহ্বা উঁচু থাকে, তাই এগুলো উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি। এ হলো মধ্যবর্তী সম্মুখ স্বরধ্বনি এবং অ্যা নিম্নবর্তী সম্মুখ স্বরধ্বনি।

উ ও ঊ: এ ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা পিছিয়ে আসে এবং পশ্চাৎ তালুর কোমল অংশের কাছাকাছি ওঠে। ও-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা আরও একটু নিচে আসে। অ-ধ্বনির বেলায় তার চেয়েও নিচে আসে। উ, ঊ, ও ও অ ধ্বনির উচ্চারণকালে জিহ্বা পিছিয়ে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। উ ও ঊ-ধ্বনির উচ্চারণকালে জিহ্বা উঁচু থাকে বলে এদের বলা হয় উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। ও হলো মধ্যবর্তী পশ্চাৎ স্বরধ্বনি এবং অ নিম্নবর্তী পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

আ: আ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সাধারণত শায়িত অবস্থায় থাকে এবং কণ্ঠের দিকে আকৃষ্ট হয়। এটি মুখের সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশের মাঝামাঝি বা কেন্দ্রস্থানীয় অংশে অবস্থিত। তাই আ-কে বলা হয় কেন্দ্রীয় নিম্নাবস্থিত স্বরধ্বনি এবং বিবৃত ধ্বনিও বলা হয়।

বাংলা স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণ নিচের ছকে দেখানো হলো:

জিহ্বার উচ্চতাসম্মুখ, ওষ্ঠাধর প্রসৃতকেন্দ্রীয়, ওষ্ঠাধর বিবৃতপশ্চাৎ, ওষ্ঠাধর গোলাকৃত
উচ্চই, ঈউ, ঊ
উচ্চমধ্যএও
নিম্নমধ্যঅ্যাঅ
নিম্নআ

অ-ধ্বনির উচ্চারণ

শব্দে অবস্থানভেদে অ দুইভাবে লিখিত হয়

  • স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত অ: যেমন অমর, অনেক।
  • শব্দের মধ্যে অন্য বর্ণের সঙ্গে বিলীনভাবে ব্যবহৃত অ: যেমন কর, বল। এখানে ক ও র-এর আর ব ও ল-এর সঙ্গে অ বিলীন হয়ে আছে (ক্ + অ + র্ + অ; ব্ + অ + ল্ + অ)।

অ-ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ

উচ্চারণবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
বিবৃত বা স্বাভাবিকচোয়াল বেশি ফাঁক হয়, ঠোঁট গোল হয় নাঅমল, অনেক, কত
সংবৃত বা ও-ধ্বনির মতোচোয়ালের ফাঁক কম, ঠোঁট গোলাকৃত, উচ্চারণ অনেকটা ‘ও’-এর মতোঅধীর (ওধীর), অতুল (ওতুল), মন (মোন)

১. অ-ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ

(ক) শব্দের আদিতে:

  • না-বোধক ‘অ’ বিবৃত হয়। যেমন: অটল, অনাচার।
  • ‘অ’ কিংবা ‘আ’-যুক্ত ধ্বনির পূর্ববর্তী অ-ধ্বনি বিবৃত হয়। যেমন: অমানিশা, কথা।

(খ) শব্দের মধ্যে ও অন্তে:

  • পূর্ব স্বরের সঙ্গে মিল রেখে স্বরসঙ্গতির কারণে ‘অ’ বিবৃত হয়। যেমন: কলম, বৈধতা, যত, শ্রেয়ঃ।
  • ঋ, এ, ঐ ও ঔ-ধ্বনির পরবর্তী ‘অ’ প্রায়ই বিবৃত হয়। যেমন: তৃণ, দেব, ধৈর্য, নোলক, মৌন ইত্যাদি।
  • অনেক সময় ই-ধ্বনির পরের ‘অ’ বিবৃত হয়। যেমন: গঠিত, মিত, জনিত ইত্যাদি।

২. অ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ

অ-ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণে চোয়াল বেশি ফাঁক হয়, ঠোঁট তত বাঁকা বা গোল হয় না। কিন্তু সংবৃত উচ্চারণে চোয়ালের ফাঁক কম হয় এবং ঠোঁট গোলাকৃত হয়ে ‘ও’-এর মতো উচ্চারিত হয়।

লক্ষ করো: সংবৃত উচ্চারণকে ‘বিকৃত’, ‘অপ্রকৃত’ বা ‘অস্বাভাবিক’ উচ্চারণ বলা ঠিক নয়। সংবৃত উচ্চারণও ‘স্বাভাবিক’, ‘অবিকৃত’ ও ‘প্রকৃত’ উচ্চারণ।

(ক) শব্দের আদিতে:

  • পরবর্তী স্বর সংবৃত হলে শব্দের আদি ‘অ’ সংবৃত হয়। যেমন: অতি (ওতি), করুণ (কোরুণ), করে (অসমাপিকা, উচ্চারণ ‘কোরে’)। কিন্তু সমাপিকা ‘করে’ শব্দের ‘অ’ বিবৃত।
  • পরবর্তী ই, উ ইত্যাদির প্রভাবে পূর্ববর্তী র-ফলাযুক্ত ‘অ’ সংবৃত হয়। যেমন: প্রতিভা (প্রোতিভা), প্রচুর (প্রোচুর)। কিন্তু অ, আ ইত্যাদির প্রভাবে পূর্ব ‘অ’ বিবৃত হয়। যেমন: প্রভাত, প্রত্যয়, প্রণাম ইত্যাদি।

(খ) শব্দের মধ্যে ও অন্তে:

  • তর, তম, তন প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ পদের অন্ত্য স্বর ‘অ’ সংবৃত হয়। যেমন: প্রিয়তম (প্রিয়তমো), গুরুতর (গুরুতরো)।
  • ই, উ-এর পরবর্তী মধ্য ও অন্ত্য ‘অ’ সংবৃত হয়। যেমন: পিয় (পিয়ো), যাবতীয় (যাবতীয়ো) ইত্যাদি।

অন্যান্য স্বরধ্বনির উচ্চারণ

আ

বাংলায় আ-ধ্বনি একটি বিবৃত স্বর। এর উচ্চারণ হ্রস্ব ও দীর্ঘ দুই-ই হতে পারে। এর উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি father ও calm শব্দের ‘a’-এর মতো। যেমন: আপন, বাড়ি, মা, দাতা ইত্যাদি। একাক্ষর (Monosyllabic) শব্দে আ দীর্ঘ হয়। যেমন: যা, পান, ধান, সাজ, চাল, চাঁদ, বাঁশ।

ই ও ঈ

বাংলায় সাধারণত হ্রস্ব ই-ধ্বনি এবং দীর্ঘ ঈ-ধ্বনির উচ্চারণে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না। একাক্ষর শব্দে ই এবং ঈ দুটোই দীর্ঘ হয়। যেমন: বিষ, বিশ, দীন, দিন, শীত।

উ ও ঊ

বাংলায় উ এবং ঊ ধ্বনির উচ্চারণেও তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায় না। ই ও ঈ-ধ্বনির মতো একাক্ষর শব্দে এবং বহু অক্ষর-বিশিষ্ট শব্দে বা প্রান্তিক যুক্তাক্ষরে উচ্চারণ সামান্য দীর্ঘ হয়। যেমন: চুল (দীর্ঘ), চুলা (হ্রস্ব), ভূত, মুক্ত, তুফান, বস্তু ইত্যাদি।

ঋ

স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলে ঋ-এর উচ্চারণ ‘রি’ অথবা ‘রী’-এর মতো হয়। আর ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হলে র-ফলা + ই-কার-এর মতো উচ্চারিত হয়।

শব্দউচ্চারণ
ঋণরীন
ঋতুরীতু
মাতৃমাত্রি
কৃষ্টিক্রিষ্টি
দ্রষ্টব্য: বাংলায় ঋ-ধ্বনিকে স্বরধ্বনি বলা চলে না। সংস্কৃতে এই ধ্বনিটি স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়। সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারেই বাংলা বর্ণমালায় এটি স্বরবর্ণের মধ্যে রক্ষিত হয়েছে।

এ

এ-ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম: সংবৃত ও বিবৃত। যেমন: মেঘ (সংবৃত), খেলা (উচ্চারণ ‘খ্যালা’, বিবৃত)।

১. সংবৃত ‘এ’:

  • পদের অন্তে ‘এ’ সংবৃত হয়। যেমন: পথে, ঘাটে, দোষে, গুণে, আসে।
  • তৎসম শব্দের প্রথমে ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত এ-ধ্বনির উচ্চারণ সংবৃত হয়। যেমন: দেশ, প্রেম, শেষ।
  • একাক্ষর সর্বনাম পদের ‘এ’ সংবৃত হয়। যেমন: কে, সে, যে।
  • ‘হ’ কিংবা আকারবিহীন যুক্তধ্বনি পরে থাকলে ‘এ’ সংবৃত হয়। যেমন: দেহ, কেহ, কেষ্ট।
  • ‘ই’ বা ‘উ’-কার পরে থাকলে ‘এ’ সংবৃত হয়। যেমন: দেখি, রেণু, বেলুন।

২. বিবৃত ‘এ’: এ-ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ইংরেজি cat ও bat-এর ‘a’-এর মতো। যেমন: দেখ (উচ্চারণ ‘দ্যাখ’), একা (উচ্চারণ ‘অ্যাকা’)। এ-ধ্বনির এই বিবৃত উচ্চারণ কেবল শব্দের আদিতেই পাওয়া যায়, শব্দের মধ্যে ও অন্তে পাওয়া যায় না।

  • দুই অক্ষরবিশিষ্ট সর্বনাম বা অব্যয় পদে। যেমন: এত, হেন, কেন। ব্যতিক্রম: যেথা, সেথা, হেথা।
  • অনুস্বার ও চন্দ্রবিন্দু যুক্ত ধ্বনির আগের এ-ধ্বনি বিবৃত হয়। যেমন: খেঁড়া, চেঁড়া।
  • খাঁটি বাংলা শব্দে। যেমন: খেমটা, ঢেপসা, তেলাপোকা, তেনা, দেওর।
  • এক, এগার, তের, এ কয়টি সংখ্যাবাচক শব্দে এবং ‘এক’ যুক্ত শব্দে। যেমন: একচোট, একতলা, একঘরে।
  • ক্রিয়াপদের বর্তমান কালের অনুজ্ঞায়, তুচ্ছার্থে ও সাধারণ মধ্যম পুরুষের রূপে। যেমন: দেখ্ (দ্যাখ), দেখ (দ্যাখো), খেল্ (খ্যাল), খেল (খ্যালো), ফেল্ (ফ্যাল), ফেল (ফ্যালো)।

ঐ

ঐ ধ্বনিটি একটি যৌগিক স্বরধ্বনি। অ + ই কিংবা ও + ই মিলে অই, ওই উচ্চারণ হয়, এভাবেই ঐ-ধ্বনি সৃষ্টি হয়। যেমন: ক্ + অ + ই = কই, কৈ; ব্ + ই + ধ = বৈধ। এরূপ: বৈদেশিক, ঐক্য, চৈতন্য।

ও

বাংলা একাক্ষর শব্দে ও-কার দীর্ঘ হয়। যেমন: গো, জোর, রোগ, ভোর, কোন, বোন ইত্যাদি। অন্যত্র সাধারণত হ্রস্ব হয়। যেমন: সোনা, কারো, পুরোভাগ। ও-এর উচ্চারণ ইংরেজি boat শব্দের ‘oa’-এর মতো।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (উত্তরসহ)

প্রশ্নউত্তর
কোনটি অঘোষ ধ্বনি? (গ, ক, ঘ, জ)ক
কোনটি ঘোষ ধ্বনি? (ক, খ, গ, চ)গ
কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনি? (ক, গ, ঘ, চ)ঘ
কোনটি অল্পপ্রাণ ধ্বনি? (খ, ঘ, ছ, জ)জ
ঊষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি কোনগুলো?শ, ষ, স, হ
অন্তঃস্থ ধ্বনি কোনগুলো?য ও ব
স্পর্শ ব্যঞ্জন কয়টি?২৫টি (ক থেকে ম)
‘হ’ কী ধরনের ধ্বনি?ঘোষ মহাপ্রাণ
উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি কোনগুলো?ই, ঈ
উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনগুলো?উ, ঊ
কেন্দ্রীয় নিম্নাবস্থিত স্বরধ্বনি কোনটি?আ
‘অতি’ শব্দের উচ্চারণ কেমন?ওতি (অ সংবৃত)
‘অটল’ শব্দের ‘অ’-এর উচ্চারণ কেমন?বিবৃত
‘ঋণ’ শব্দের উচ্চারণ কেমন?রীন
‘দেশ’ শব্দের ‘এ’-এর উচ্চারণ কেমন?সংবৃত
‘দেখ’ (দ্যাখ) শব্দের ‘এ’-এর উচ্চারণ কেমন?বিবৃত
‘ঐ’ কোন ধরনের স্বর?যৌগিক স্বর
একাক্ষর শব্দে ও-কারের উচ্চারণ কেমন?দীর্ঘ

সারসংক্ষেপ

  • স্বরতন্ত্রী অনুরণিত না হলে অঘোষ, হলে ঘোষ ধ্বনি।
  • বাতাসের চাপ কম হলে অল্পপ্রাণ, বেশি হলে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
  • শ, ষ, স, হ ঊষ্মধ্বনি। য ও ব অন্তঃস্থ ধ্বনি।
  • জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি সম্মুখ, কেন্দ্রীয় ও পশ্চাৎ হয়।
  • অ-ধ্বনির উচ্চারণ বিবৃত (স্বাভাবিক) ও সংবৃত (ও-এর মতো) হয়।
  • এ-ধ্বনিও সংবৃত ও বিবৃত দুই রকম। ঋ-এর উচ্চারণ ‘রি’-এর মতো।

অনুশীলনী

  1. স্পর্শ ব্যঞ্জন কাকে বলে?
  2. ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনির পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
  3. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
  4. ঊষ্মধ্বনি কাকে বলে? ঊষ্মধ্বনিগুলোর নাম লেখো।
  5. অন্তঃস্থ ধ্বনি কাকে বলে? এগুলোকে এ নাম দেওয়া হয়েছে কেন?
  6. সম্মুখ ও পশ্চাৎ স্বরধ্বনির পার্থক্য লেখো।
  7. অ-ধ্বনির বিবৃত ও সংবৃত উচ্চারণ বলতে কী বোঝায়? প্রতিটির তিনটি করে উদাহরণ দাও।
  8. নিচের শব্দগুলোর অ-ধ্বনির উচ্চারণ বিবৃত না সংবৃত লেখো: অতি, অটল, করুণ, কথা, মন, প্রতিভা।
  9. এ-ধ্বনির সংবৃত ও বিবৃত উচ্চারণের নিয়মগুলো উদাহরণসহ লেখো।
  10. ঋ-ধ্বনির উচ্চারণ কেমন হয়? ঋ-কে স্বরধ্বনি বলা চলে না কেন?