বাংলা বর্ণমালা, বর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ (কার ও ফলা) এবং ধ্বনির উচ্চারণস্থান, এই অংশ থেকে পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। সংখ্যা, তালিকা আর পার্থক্যগুলো ভালোভাবে মনে রাখলে এখান থেকে সহজেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।
১. বাংলা বর্ণমালা
| প্রকার | বর্ণসমূহ | সংখ্যা |
|---|---|---|
| স্বরবর্ণ | অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ | ১১টি |
| ব্যঞ্জনবর্ণ | ক খ গ ঘ ঙ | ৫টি |
| চ ছ জ ঝ ঞ | ৫টি | |
| ট ঠ ড ঢ ণ | ৫টি | |
| ত থ দ ধ ন | ৫টি | |
| প ফ ব ভ ম | ৫টি | |
| য র ল | ৩টি | |
| শ ষ স হ | ৪টি | |
| ড় ঢ় য় ৎ | ৪টি | |
| ং ঃ ঁ | ৩টি | |
| মোট | ৫০টি |
২. স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ
কার
স্বরবর্ণের এবং কতগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের দুটি করে রূপ রয়েছে। স্বরবর্ণ যখন নিরপেক্ষ বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়। একে বলা হয় প্রাথমিক বা পূর্ণরূপ। এই রূপ শব্দের আদি, মধ্য ও অন্ত, যে কোনো অবস্থানে বসতে পারে।
স্বরধ্বনি যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়, তখন সে স্বরধ্বনির বর্ণ সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়। স্বরবর্ণের এ সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় সংক্ষিপ্ত রূপ বা ‘কার’। নামকরণের সময় স্বরবর্ণের নামের সঙ্গে ‘কার’ যোগ হয়। যেমন: আ-কার, ই-কার।
| স্বরবর্ণ | কার-চিহ্ন | ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে বসার স্থান | উদাহরণ (ম-এর সঙ্গে) |
|---|---|---|---|
| অ | কোনো কার নেই | — | ম |
| আ | া (আ-কার) | পরে | মা |
| ই | ি (ই-কার) | পূর্বে | মি |
| ঈ | ী (ঈ-কার) | পরে | মী |
| উ | ু (উ-কার) | নিচে | মু |
| ঊ | ূ (ঊ-কার) | নিচে | মূ |
| ঋ | ৃ (ঋ-কার) | নিচে | হৃ (হ-এ ঋ-কার) |
| এ | ে (এ-কার) | পূর্বে | মে |
| ঐ | ৈ (ঐ-কার) | পূর্বে | মৈ |
| ও | ো (ও-কার) | পূর্বে ও পরে, দুই দিকে | মো |
| ঔ | ৌ (ঔ-কার) | পূর্বে ও পরে, দুই দিকে | মৌ |
ফলা
স্বরবর্ণ যেমন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে আকৃতির পরিবর্তন হয়, তেমনি কোনো কোনো ব্যঞ্জনবর্ণও কখনো কখনো স্বর কিংবা অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহৃত হয়। ব্যঞ্জনবর্ণের এ সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় ফলা। এভাবে যে ব্যঞ্জনটি যুক্ত হয়, তার নাম অনুসারে ফলার নামকরণ করা হয়।
| ফলা | উদাহরণ |
|---|---|
| ম-এ য-ফলা | ম্য |
| ম-এ ব-ফলা | ম্ব |
| ম-এ ম-ফলা | ম্ম |
| ম-এ ল-ফলা | ম্ল |
র-ফলা ব্যঞ্জনবর্ণের পরে যুক্ত হলে লিখতে হয় নিচে (যেমন: স্র)। আবার ‘র’ যদি ম-এর আগে উচ্চারিত হয়, যেমন ‘র্ম’, তবে তা লেখা হয় ওপরে, ব্যঞ্জনটির মাথায় রেফ (র্) দিয়ে।
‘ফলা’ যুক্ত হলে যেমন, তেমনি ‘কার’ যুক্ত হলেও বর্ণের আকৃতিতে পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণ:
| ব্যঞ্জন + কার | ফল |
|---|---|
| হ + উ-কার | হু |
| গ + উ-কার | গু |
| শ + উ-কার | শু |
| স + উ-কার | সু |
| র + উ-কার | রু |
| র + ঊ-কার | রূ |
| হ + ঋ-কার | হৃ |
৩. স্পর্শধ্বনি ও বর্গীয় ধ্বনি
ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে (Plosive) উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সেই গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি। বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় বর্ণ বলা হয়।
| বর্ণ | বর্গের নাম | উচ্চারণস্থান |
|---|---|---|
| ক খ গ ঘ ঙ | ক-বর্গীয় | কণ্ঠ্য |
| চ ছ জ ঝ ঞ | চ-বর্গীয় | তালব্য |
| ট ঠ ড ঢ ণ | ট-বর্গীয় | মূর্ধন্য |
| ত থ দ ধ ন | ত-বর্গীয় | দন্ত্য |
| প ফ ব ভ ম | প-বর্গীয় | ওষ্ঠ্য |
৪. উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ
ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক হলো জিহ্বা ও ওষ্ঠ। আর উচ্চারণের স্থান হলো কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অল্পতালু, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।
উচ্চারণস্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়: ১. কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয়, ২. তালব্য বা অগ্রতালুজাত, ৩. মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়, ৪. দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং ৫. ওষ্ঠ্য।
ধ্বনি উচ্চারণের জন্য ব্যবহৃত প্রত্যঙ্গ
- ঠোঁট (ওষ্ঠ ও অধর)
- দাঁতের পাটি
- দন্তমূল বা অগ্র দন্তমূল
- অগ্রতালু বা শক্ত তালু
- পশ্চাৎতালু, নরম তালু বা মূর্ধা
- আলজিভ
- জিহ্বাগ্র
- সম্মুখ জিহ্বা
- পশ্চাৎজিহ্বা বা জিহ্বামূল
- নাসা-গহ্বর
- স্বর-পল্লব বা স্বরতন্ত্রী
- ফুসফুস
নিচে উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাজন দেখানো হলো:
| উচ্চারণস্থান | ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহ | উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম |
|---|---|---|
| জিহ্বামূল | ক খ গ ঘ ঙ | কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ |
| অগ্রতালু | চ ছ জ ঝ ঞ শ য | তালব্য বা অগ্রতালুজাত বর্ণ |
| পশ্চাৎ দন্তমূল | ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ় | মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ |
| অগ্র দন্তমূল | ত থ দ ধ ন ল স | দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ |
| ওষ্ঠ | প ফ ব ভ ম | ওষ্ঠ্য বর্ণ |
৫. খণ্ড-ত ও পরাশ্রয়ী বর্ণ
৬. অনুনাসিক বা নাসিক্য ধ্বনি
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, এ পাঁচটি বর্ণ এবং চন্দ্রবিন্দু (ঁ) যে বর্ণের সঙ্গে লিখিত হয়, সে বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস নিঃসৃত বায়ু মুখবিবর ছাড়াও নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়। অর্থাৎ এগুলো উচ্চারণে নাসিকার সাহায্য প্রয়োজন হয়। তাই এগুলোকে বলে অনুনাসিক বা নাসিক্য ধ্বনি। আর এগুলোর বর্ণকে বলা হয় অনুনাসিক বা নাসিক্য বর্ণ।
৭. স্বরধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ের স্বল্পতা ও দৈর্ঘ্য অনুসারে কোনো স্বরধ্বনি হ্রস্ব বা দীর্ঘ হয়। অর্থাৎ অল্প সময়ে উচ্চারিত স্বর হ্রস্ব, বেশি সময় নিয়ে উচ্চারিত স্বর দীর্ঘ।
বাংলা বানানে হ্রস্ব ও দীর্ঘ বর্ণ (ই/ঈ, উ/ঊ) আলাদা করে লেখা হয়। কিন্তু উচ্চারণের দৈর্ঘ্য কেবল বানানের ওপর নির্ভর করে না। একটিমাত্র ধ্বনিবিশিষ্ট শব্দের উচ্চারণ সাধারণত দীর্ঘ হয়। যেমন: দিন, তিল, পুর ইত্যাদি।
৮. যৌগিক স্বর
| মিলিত স্বর | যৌগিক স্বর | শব্দ |
|---|---|---|
| অ + ই | অই | বই |
| অ + উ | অউ | বউ |
| অ + এ | অয় | বয়, ময়না |
| অ + ও | অও | হও, লও |
| আ + ই | আই | যাই, তাই |
| আ + ও | আও | যাও, খাও |
| ই + ই | ইই | দিই |
| ই + ও | ইও | নিও, দিও |
| উ + ই | উই | শুই |
| এ + ই | এই | সেই, নেই |
| ই + উ | ইউ | শিউলি |
| ও + ও | ওও | শোও |
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা পঁচিশ।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট বর্ণ | ৫০টি |
| স্বরবর্ণ | ১১টি |
| ব্যঞ্জনবর্ণ | ৩৯টি |
| স্পর্শবর্ণ (ক থেকে ম) | ২৫টি, ৫টি বর্গে |
| পরাশ্রয়ী বর্ণ | ং, ঃ, ঁ |
| অনুনাসিক বর্ণ | ঙ, ঞ, ণ, ন, ম ও ঁ |
| যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ | ঐ, ঔ |
| কার নেই যে স্বরের | অ |
| পূর্বে বসে | ই-কার, এ-কার, ঐ-কার |
| দুই দিকে বসে | ও-কার, ঔ-কার |
| নিচে বসে | উ-কার, ঊ-কার, ঋ-কার |
| পরে বসে | আ-কার, ঈ-কার |
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (উত্তরসহ)
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ কয়টি? | ৫০টি |
| বাংলা স্বরবর্ণ কয়টি? | ১১টি |
| বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি? | ৩৯টি |
| ‘ক’ কোন বর্গীয় বর্ণ? | ক-বর্গীয় (কণ্ঠ্য) |
| ‘ট’ কোন উচ্চারণস্থানের বর্ণ? | মূর্ধন্য |
| ‘ত’ কোন উচ্চারণস্থানের বর্ণ? | দন্ত্য |
| ‘প’ কোন উচ্চারণস্থানের বর্ণ? | ওষ্ঠ্য |
| কোন স্বরবর্ণের কার-চিহ্ন নেই? | অ |
| ই-কার ব্যঞ্জনবর্ণের কোথায় বসে? | পূর্বে |
| উ-কার ব্যঞ্জনবর্ণের কোথায় বসে? | নিচে |
| পরাশ্রয়ী বর্ণ কোনগুলো? | ং, ঃ, ঁ |
| যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কোনগুলো? | ঐ, ঔ |
| কোনটি অনুনাসিক বর্ণ: ক, ঙ, চ, ত? | ঙ |
| ‘অ + ই’ মিলে কোন যৌগিক স্বর হয়? | ঐ (অই) |
| ‘ম্য’ কোন ফলার উদাহরণ? | য-ফলা |
সারসংক্ষেপ
- বাংলা বর্ণমালায় ৫০টি বর্ণ: ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ কার, ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ ফলা।
- ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি স্পর্শধ্বনি পাঁচ বর্গে বিভক্ত: কণ্ঠ্য, তালব্য, মূর্ধন্য, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য।
- ং, ঃ, ঁ পরাশ্রয়ী বর্ণ। ঙ, ঞ, ণ, ন, ম ও ঁ অনুনাসিক।
- পাশাপাশি দুটি স্বর মিলে যৌগিক স্বর হয়। ঐ ও ঔ বর্ণ দুটি যৌগিক স্বরজ্ঞাপক।
অনুশীলনী
- বাংলা বর্ণমালায় কয়টি বর্ণ আছে? স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ আলাদা করে লেখো।
- কার কাকে বলে? সব স্বরবর্ণের কার-চিহ্ন লেখো।
- ফলা কাকে বলে? তিনটি ফলার উদাহরণ দাও।
- কার ও ফলার পার্থক্য লেখো।
- বর্গীয় ধ্বনি কাকে বলে? পাঁচটি বর্গের নাম ও বর্ণ লেখো।
- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনির পাঁচটি ভাগের নাম লেখো।
- পরাশ্রয়ী বর্ণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- অনুনাসিক ধ্বনি কাকে বলে? কোন কোন বর্ণ অনুনাসিক?
- যৌগিক স্বর কাকে বলে? পাঁচটি উদাহরণ দাও।
- হ্রস্ব স্বর ও দীর্ঘ স্বর বলতে কী বোঝায়?
