সঠিক উত্তর: C) শুশ্রূষা
১. কেন সঠিক:
- সঠিক বানানটিতে প্রথমে তালব্য শ এবং নিচে উ-কার, এরপর মূর্ধন্য ষ-এর সাথে ঋ-কার এবং সর্বশেষে মূর্ধন্য ষ ও আ-কার যুক্ত হয়েছে।
- শুশ্রূষা শব্দের অর্থ হলো রোগীর সেবা করা, পরিচর্যা করা বা যত্ন নেওয়া।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা বানানরীতিতে তৎসম শব্দে মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মে ঋ-কার বা ঋ-ধ্বনির পরে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- এই শব্দটিতে শুশ্রূষা বানানের শুরুতে তালব্য শ এবং শেষের দিকে মূর্ধন্য ষ-এর নিচে ঋ-কার যুক্ত হয়ে সঠিক রূপ গঠন করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা: এটি একটি তৎসম শব্দ যেখানে মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক ব্যবহার দেখানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: পাষাণ
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও বানানের নিয়মানুযায়ী মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুশ্রুষা — এই অপশনে মূর্ধন্য ষ-এর নিচে ঋ-কার ব্যবহার করা হয়নি এবং বানানে ভুল রয়েছে।
B) শুশ্রুষা — এই অপশনে মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক কারচিহ্ন বা ঋ-কার ব্যবহার করা হয়নি।
C) শুশ্রূষা — এটি প্রশ্নানুসারে সম্পূর্ণ সঠিক বানান এবং এটিই উত্তর।
D) সুশ্রুসা — এই অপশনে তালব্য শ, উ-কার এবং দন্ত্য স ব্যবহারের কারণে বানানটি সম্পূর্ণ ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শুশ্রূষা বানানটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো প্রথমে তালব্য শ (শু), মাঝে মূর্ধন্য ষ-এর নিচে ঋ-কার (শ্রূ) এবং শেষে মূর্ধন্য ষ ও আ-কার (ষা) মনে রাখা।
- চিকিৎসালয় বা রোগীর সেবার সাথে সম্পর্কিত এই শব্দটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলা বানানে তালব্য শ এবং মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক ব্যবহার থেকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- ঋ-কারযুক্ত বর্ণে সবসময় মূর্ধন্য ষ বসে, এই নিয়মটি মনে রাখলে এ জাতীয় বানান সহজে নির্ভুল করা যায়।
প্রশ্নের ধরন: পদ ও পদ প্রকরণ
সঠিক উত্তর: D) বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতু
১. কেন সঠিক:
- ব্যাকরণ অনুযায়ী অর্থপূর্ণ শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হওয়ার পরই তা বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী হয়, যাকে পদ বলে।
- বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে পদ বলা হয় এবং এই পদকেই ব্যাকরণে 'বলতে' বা শব্দ হিসেবে পূর্ণতা লাভ করা বোঝানো হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বা ধাতুকে পদ বলা হয় এবং শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে পদ গঠিত হয়।
- প্রাতিপদিক বা মূল শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত করে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করার প্রক্রিয়াকে পদ গঠন বলা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কলম + এ = কলমে
ব্যাখ্যা: বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পদে পরিণত হয়েছে।
উদাহরণ ২: কর + ইতে = করিতে
ব্যাখ্যা: ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে এটি ক্রিয়াপদে রূপান্তরিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যে কোন শব্দ — শব্দ বাক্যে ব্যবহারের আগে বিভক্তিযুক্ত না হলে তাকে পদ বলা যায় না, তাই এটি সঠিক নয়।
B) কবিতার চরণ — কবিতার চরণ বলতে পংক্তিকে বোঝায়, যা পদের সংজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
C) প্রত্যয়ান্ত শব্দ বা ধাতু — প্রত্যয়যুক্ত শব্দ বা ধাতু কৃৎ বা তদ্ধিতান্ত শব্দ গঠন করে, যা পদের পূর্ণ রূপের জন্য যথেষ্ট নয়।
D) বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতু — এটি পদের সঠিক ও প্রমিত সংজ্ঞা নির্দেশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শব্দ বা ধাতু যোগ বিভক্তি সমান পদ। বাক্যে ব্যবহারের জন্য বিভক্তি অপরিহার্য।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পদ চেনার প্রধান উপায় হলো শব্দের সঙ্গে বিভক্তি বা অনুসর্গ যুক্ত আছে কিনা তা দেখা।
সঠিক উত্তর: D) আষাঢ়
১. কেন সঠিক:
- আষাঢ় শব্দটিতে স্বভাবতই বা নিত্য মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে কোনো নিয়ম প্রযোজ্য হয়নি।
- তৎসম শব্দে ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম ছাড়াও কিছু শব্দে সর্বদা মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়, যাকে নিত্য মূর্ধন্য ষ বলে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- তৎসম শব্দে ট-বর্গীয় ধ্বনির পূর্বে মূর্ধন্য ষ বসে এবং কিছু শব্দে কোনো কারণ ছাড়াই স্বভাবতই ষ হয়।
- আষাঢ় একটি তৎসম শব্দ যেখানে আষাঢ় মাসের নাম বোঝাতে স্বভাবগতভাবেই মূর্ধন্য ষ লেখা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাষা
ব্যাখ্যা: ভাষা শব্দটি নিত্য মূর্ধন্য ষ এর একটি অত্যন্ত প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
উদাহরণ ২: আষাঢ়
ব্যাখ্যা: আষাঢ় শব্দে ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে যুক্ত না হয়েও স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ বসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) উপনিষদ — এই শব্দটিতে ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী ই বা উ কারান্ত উপসর্গের পর ক, খ, প, ফ থাকলে মূর্ধন্য ষ হয়েছে, এটি নিত্য মূর্ধন্য ষ নয়।
B) কষ্ট — এই শব্দটিতে ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে ট-বর্গীয় ধ্বনির পূর্বে মূর্ধন্য ষ যুক্ত হয়েছে, যা নিত্য মূর্ধন্য ষ নয়।
C) কল্যাণীয়েষু — এই শব্দটিতে প্রত্যয়গত কারণে মূর্ধন্য ষ যুক্ত হয়েছে, যা নিত্য মূর্ধন্য ষ এর আওতাভুক্ত নয়।
D) আষাঢ় — এই শব্দটিতে কোনো ব্যাকরণিক নিয়ম ছাড়া স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ বসেছে, যা সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ মনে রাখার জন্য আষাঢ়, ভাষা, ভাষণ, মানুষ ও পাষাণের মতো শব্দগুলো বারবার চর্চা করবে।
- এই শব্দগুলোতে কোনো বিশেষ নিয়ম খোঁজার প্রয়োজন নেই, এগুলো মুখস্থ রাখতে হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ বা নিত্য মূর্ধন্য ষ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- নিয়মবহির্ভূত এই শব্দগুলো আলাদা করে তালিকা তৈরি করে পড়লে যেকোনো পরীক্ষায় সহজে উত্তর করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: D) দীর্ঘায়ু ব্যক্তি
১. কেন সঠিক:
কাক ভূষুন্ডি একটি পরিচিত বাংলা বাগধারা, যার আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ হলো দীর্ঘজীবী বা দীর্ঘায়ু ব্যক্তি। পুরাণ মতে, কাক ভূষুন্ডি ছিলেন একজন চিরজীবী কাক যিনি রামের ভক্ত এবং রামায়ণের নানা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
এটি বাংলা ভাষার একটি বিশেষ বাগধারা যা উপমা বা রূপকের মাধ্যমে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলে। বাংলা সাহিত্যে অতি প্রাচীন বা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা ব্যক্তিকে এই বাগধারার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দাদা মহাশয় এই বয়সেও যেভাবে সুস্থ আছেন, তাকে আক্ষরিক অর্থেই কাক ভূষুন্ডি বলা চলে।
ব্যাখ্যা: দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা এবং সুস্থ থাকার কারণে এখানে কাক ভূষুন্ডি বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: আমাদের বংশের সবচেয়ে মুরব্বি হলেন সেই কাকা, যাকে সবাই জীবন্ত কাক ভূষুন্ডি বলে মনে করে।
ব্যাখ্যা: পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ ও দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে বোঝাতে এই উদাহরণটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাকসর্বস্ব — এই অপশনটি ভুল কারণ বাকসর্বস্ব বাগধারার অর্থ হলো কেবল কথায় পটু বা সারশূন্য মানুষ, যা দীর্ঘায়ু ব্যক্তির সঙ্গে মেলে না।
B) ষড়যন্ত্রকারী — এই অপশনটি ভুল কারণ ষড়যন্ত্রকারী বলতে কুচক্রী বা চক্রান্তকারী ব্যক্তিকে বোঝায়, যার সঙ্গে কাক ভূষুন্ডি বাগধারার কোনো সম্পর্ক নেই।
C) দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ — এই অপশনটি ভুল কারণ দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ বলতে দীর্ঘকাল ধরে অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিকে বোঝায়, যা এই বাগধারার অর্থের বিপরীত।
D) দীর্ঘায়ু ব্যক্তি — এই অপশনটি সঠিক কারণ কাক ভূষুন্ডি বাগধারাটি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা বা দীর্ঘায়ু সম্পন্ন মানুষকে বোঝাতে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
কাক সাধারণত দীর্ঘজীবী হয় বলে বিশ্বাস করা হয় এবং পুরাণ অনুযায়ী কাক ভূষুন্ডি অমরত্ব লাভ করেছিলেন। এই পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে মনে রাখবে যে কাক ভূষুন্ডি মানেই দীর্ঘায়ু ব্যক্তি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পৌরাণিক চরিত্রভিত্তিক বাগধারাগুলো থেকে প্রশ্ন আসে। কাক ভূষুন্ডি ছাড়াও দীর্ঘায়ু বোঝাতে বিড়াল তপস্বী বা অন্য কোনো বাগধারা যেন গুলিয়ে না ফেলো, সেদিকে খেয়াল রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
১. কেন সঠিক:
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু গ্রন্থটির রচয়িতা বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- এটি তাঁর একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় প্রবন্ধগ্রন্থ যা সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিভিত্তিক মননশীল রচনার এক অনবদ্য দলিল।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বিংশ শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকের একজন অন্যতম প্রধান বাঙালি কথাসাহিত্যিক যিনি মূলত তাঁর অসাধারণ উপন্যাস ও ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত।
- তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে চিলেকোঠার সেপাই এবং খোয়াবনামা উপন্যাস দুটি, যা বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক মর্যাদা লাভ করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা: এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উপন্যাস যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।
উদাহরণ ২: দোজখের ওম
ব্যাখ্যা: এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি বিখ্যাত ও বহুল পঠিত ছোটগল্প সংকলন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিনয় ঘোষ — তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি সমাজবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক হলেও এই নির্দিষ্ট গ্রন্থটির রচয়িতা নন।
B) মোতাহের হোসেন চৌধুরী — তিনি একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ যিনি সংস্কৃতি কথা গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
D) রাধারমণ মিত্র — তিনি কলকাতার ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণামূলক লেখালেখির জন্য পরিচিত হলেও এই গ্রন্থের লেখক নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু প্রবন্ধটির লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এটি মনে রাখতে ইলিয়াস নামের সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন মনে রাখতে পারো।
- তাঁর উপন্যাস মনে রাখার কৌশল হলো চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা দুটি কালজয়ী সৃষ্টি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- এই লেখকের জন্ম গাইবান্ধা জেলায় এবং তাঁর সাহিত্যকর্মে গ্রামীণ জীবন ও রাজনীতির গভীর সংযোগ দেখা যায়।
সঠিক উত্তর: C) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
১. কেন সঠিক:
'আত্মঘাতী বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক নীরদচন্দ্র চৌধুরী।
এই গ্রন্থে বাঙালি জাতির আত্মঘাতী চরিত্র, মনস্তত্ত্ব ও আত্মবিশ্লেষণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রখর যুক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
নীরদচন্দ্র চৌধুরী বিশ শতকের অন্যতম প্রজ্ঞাবান ও বিতর্কিত বাঙালি লেখক যিনি তাঁর মুক্তবুদ্ধি ও ভিন্নধারার চিন্তার জন্য পরিচিত।
তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে 'আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ' ও 'অজ্ঞাতবাসের ইতিহাস' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা: এটি নীরদচন্দ্র চৌধুরীর লেখা আরেকটি বিখ্যাত ও সমালোচনামূলক সাহিত্যকর্ম।
উদাহরণ ২: আত্মঘাতী বাঙালি
ব্যাখ্যা: এটি বাঙালির স্ববিরোধী আচরণ ও আত্মধ্বংসী প্রবৃত্তি নিয়ে রচিত একটি প্রাবন্ধিক গ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় — ইনি একজন প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী দার্শনিক ও পন্ডিত হলেও 'আত্মঘাতী বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা নন।
B) অশােক মিত্র — ইনি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রাবন্ধিক হলেও এই গ্রন্থটি তাঁর রচিত নয়।
C) নীরদচন্দ্র চৌধুরী — এই অপশনটি সঠিক এবং গ্রন্থটির রচয়িতা হিসেবে পরীক্ষাসম্মতভাবে স্বীকৃত।
D) অতুল সুর — ইনি একজন খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী হলেও আলোচ্য গ্রন্থটি তাঁর লেখা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাঙালি জাতির আত্মঘাতী চরিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন যিনি, সেই বুদ্ধিজীবী হলেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী।
আত্মঘাতী সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরীর নাম মনে রাখলে পরীক্ষা সহজে উত্তর করা সম্ভব।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লেখক ও তাঁর বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ প্রায়ই আসে।
নীরদচন্দ্র চৌধুরীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'অবিস্মরণীয় জীবন' এবং 'আত্মঘাতী বাঙালি' পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: D) রাঙা জবা
১. কেন সঠিক:
রাঙা জবা হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি বিখ্যাত ভক্তিমূলক ও ইসলামি গান এবং কবিতার সংকলন।
এই গ্রন্থে কবির আধ্যাত্মিক ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাহিত্যিক তথ্য।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি হিসেবে সমাদৃত হলেও তিনি বহু শ্যামাসংগীত, ইসলামি গান ও গজল রচনা করেছেন।
রাঙা জবা গ্রন্থটি তার ইসলামি ও ভক্তিমূলক রচনার একটি অন্যতম প্রধান নিদর্শন যা তৎকালীন সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো সঞ্চিতা।
ব্যাখ্যা: সঞ্চিতা হলো কবির নির্বাচিত কবিতার একটি সংকলন যা তার কবিপ্রতিভার পরিচয় বহন করে।
উদাহরণ ২: কাজী নজরুল ইসলামের রচিত আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হলো প্রলয় শিখা।
ব্যাখ্যা: প্রলয় শিখা তার একটি দ্রোহের আগুনঝরা রাজনৈতিক গ্রন্থ যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মরুশিখা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের কোনো গ্রন্থ নয় বরং এটি কবি যতীন সেনগুপ্তের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
B) অগ্নিকোণ — এটি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কোনো গ্রন্থ নয় বরং এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর অপশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
C) মরুসূর্য — এটি কাজী নজরুল ইসলামের মূলধারার কোনো পরিচিত সাহিত্যকর্ম বা গ্রন্থ হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্বীকৃত নয়।
D) রাঙা জবা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
নজরুলের ভক্তিগীতি বা ধর্মের বাইরের নরম ভাবনার প্রকাশ দেখতে রাঙা জবা নামটি মনে রাখতে হবে।
নজরুল যেমন বিদ্রোহী তেমনই শ্যামাসংগীত ও ভক্তিমূলক গানে অনন্য, আর রাঙা জবা তেমনই একটি রচনার নাম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নজরুলের ইসলামি গান, ভক্তিমূলক গান ও রাজনৈতিক গ্রন্থগুলোর নাম আলাদা করে ছক তৈরি করে মুখস্থ করা উচিত।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কবির অপ্রধান বা ভিন্ন ধারার গ্রন্থ থেকে এমন প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) হুমায়ুন কবির
কেন সঠিক:
- নদী ও নারী বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন কবিরের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে বাংলার গ্রামীণ জীবন, নদীমাতৃক সংস্কৃতির প্রভাব এবং নারী চরিত্রের গভীর রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি সার্থক আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষ স্থান অধিকার করেছে।
- লেখক তার উপন্যাসে মানুষের জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে নদীর চিরন্তন সম্পর্কের কাব্যিক রূপায়ন করেছেন।
- এই উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলার জনপদের মানুষের সুখ, দুঃখ, সংগ্রাম ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) আবুল ফজল — তিনি মূলত সমাজসচেতন উপন্যাস, প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী রচনার জন্য বিখ্যাত, যেমন চৌচির ও রাঙ্গা প্রভাত।
- B) কাজী আব্দুল ওদুদ — তিনি বুদ্ধিমুক্তির আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এবং সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধকার।
- C) শামসুদ্দিন আবুল কালাম — তিনি বাংলার গ্রামীণ জীবনভিত্তিক উপন্যাস রচনার জন্য পরিচিত, যেমন কাঞ্চনমালা ও জীবন বিধান।
- D) হুমায়ুন কবির — এই অপশনটি নিজেই সঠিক উত্তর এবং তার রচিত একমাত্র বিখ্যাত উপন্যাস হলো নদী ও নারী।
মনে রাখার টিপস:
- হুমায়ুন কবিরের সাহিত্যকৃতির মধ্যে নদী ও নারী উপন্যাসটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- নদীর সঙ্গে নারীর রূপ ও জীবনের মিল খুঁজে পাওয়া যায় এই উপন্যাসে, যা কবির নাম মনে রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক উত্তর: D) হাসান হাফিজুর রহমান
১. কেন সঠিক:
- 'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত এই সংকলনটি ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত প্রথম ঐতিহাসিক ও প্রামাণ্য গ্রন্থ।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- হাসান হাফিজুর রহমান একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলনটি সম্পাদনা করেন ১৯৫৩ সালেরু ফেব্রুয়ারিতে।
- এই সংকলনে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও গান স্থান পেয়েছিল যা তৎকালীন বাঙালি সমাজে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা: জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: আর্তনাদ
ব্যাখ্যা: শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জহির রায়হান — তিনি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা, তবে এই সংকলনের সম্পাদক নন।
B) শওকত ওসমান — তিনি একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হলেও এই সংকলন সম্পাদনা করেননি।
C) আব্দুল গনি হাজারী — তিনি একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক হলেও এই গ্রন্থের সম্পাদক নন।
D) হাসান হাফিজুর রহমান — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনিই ১৯৫৩ সালে প্রথম এই সংকলন সম্পাদনা করেছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একুশ মানেই প্রথম প্রকাশ এবং এর পেছনে ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে প্রখ্যাত সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান প্রথম একুশের সংকলন করেছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন কোনটি, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণে এই সংকলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) শহীদুল্লাহ কায়সার
১. কেন সঠিক:
- সংশপ্তক বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উপন্যাস যার রচয়িতা শহীদুল্লাহ কায়সার।
- উপন্যাসের নামটির মাধ্যমে মূলত আত্মিক শক্তির প্রতীক এবং কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী যিনি ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে শহীদ হন।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি গ্রামীণ সমাজের পটভূমিতে রচিত হয়েছে যেখানে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সারেং বৌ
ব্যাখ্যা: এটি শহীদুল্লাহ কায়সারের অপর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রশংসিত সামাজিক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: কবি
ব্যাখ্যা: এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস যা গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শহীদুল্লাহ কায়সার — এটি সঠিক উত্তর কারণ সংশপ্তক উপন্যাসটি তাঁরই অমর সৃষ্টি।
B) মুনীর চৌধুরী — তিনি একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ হলেও সংশপ্তক তাঁর লেখা নয়, তাঁর বিখ্যাত নাটক কবর ও রক্তকবরী।
C) জহির রায়হান — তিনি একজন খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার হলেও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো জীবন থেকে নেওয়া ও হাজার বছর ধরে।
D) শওকত ওসমান — তিনি বিশিষ্ট কথাশিল্পী হলেও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো ক্রীতদাসের হাসি ও জলাঙ্গী।
৫ মনে রাখার টিপস:
শহীদুল্লাহ কায়সারের দুটি প্রধান উপন্যাস মনে রাখার সহজ কৌশল হলো তিনি সংশপ্তক উপন্যাসে সমাজের ছবি এঁকেছেন এবং সারেং বৌ উপন্যাসে নদীমাতৃক জীবনের গল্প বলেছেন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস ও তাঁর সাংবাদিক জীবন সম্পর্কে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
অন্যান্য লেখকের ক্ষেত্রে তাদের প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো আলাদা করে মুখস্থ করার বদলে বিষয়বস্তুসহ মনে রাখলে উত্তর করা সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: C) অসম্ভব ঘটনা
১. কেন সঠিক:
- 'ব্যাঙের সর্দি' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো মিল নেই।
- উভচর প্রাণী হিসেবে ব্যাঙ জলে ও স্থলে বসবাস করে এবং এদের শারীরবৃত্তীয় গঠনে মানুষের মতো সর্দি লাগার কোনো সুযোগ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তাই এটি একটি অসম্ভব ঘটনাকে বোঝায়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দসমষ্টি যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে থাকে।
- এটি বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে এবং বাক্যের সৌন্দর্য ও ভাব প্রকাশভঙ্গি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আকাশ কুসুম
ব্যাখ্যা: এই বাগধারাটির অর্থও অসম্ভব কল্পনা বা অবাস্তব আশা, যা ব্যাঙের সর্দি বাগধারার সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: কাকের থাবা
ব্যাখ্যা: এর অর্থ অসম্ভব বস্তু বা যা কখনো পাওয়া যায় না, যা ব্যাঙের সর্দি বা অবাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সম্ভাব্য ঘটনা — এই অপশনটি ভুল কারণ ব্যাঙের সর্দি কোনোভাবেই ঘটতে পারে না, এটি একটি কাল্পনিক ও অবাস্তব বিষয়।
B) রোগ বিশেষ — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি কোনো চিকিৎসাগত রোগ বোঝায় না, বরং এটি একটি আলংকারিক বাগধারা মাত্র।
C) অসম্ভব ঘটনা — এই অপশনটি সঠিক এবং এটিই বাগধারাটির অন্তর্নিহিত ভাবার্থ প্রকাশ করে।
D) প্রতারণা — এই অপশনটি ভুল কারণ প্রতারণা বলতে অন্যকে ঠকানো বোঝায়, যার সঙ্গে ব্যাঙের সর্দির কোনো সম্পর্ক নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ব্যাঙের জলে বাস করে, তাই তার সর্দি লাগা অবাস্তব।
- এই ধরনের অদ্ভুত প্রকৃতির বাগধারা দেখলে সবসময় অসম্ভব বা অবাস্তব অর্থটি বেছে নেবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের অসম্ভবার্থক বাগধারাগুলো থেকে প্রশ্ন আসে।
- আকাশ কুসুম, কূর্ম অবতার বা ঘোটক ছানার মতো বাগধারাগুলোর অর্থও প্রায় একই ধরনের অসম্ভব ঘটনা নির্দেশ করে।
সঠিক উত্তর: A) ভাই-বােন
১. কেন সঠিক:
যে সমাসে প্রতিটি পদের অর্থই সমানভাবে প্রধান থাকে এবং ব্যাসবাক্যে ও, এবং, কিংবা ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় ব্যবহৃত হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। ভাই-বােন শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো ভাই ও বােন, যেখানে পূর্বপদ ভাই এবং পরপদ বােন উভয় পদের অর্থই সমানভাবে প্রধাণ পেয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি বিশেষ্য পদের মিলন ঘটে এবং মাঝের সংযোজক অব্যয়টি সমস্তপদে লোপ পায়। পদের মিলনের ওপর ভিত্তি করে এটি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন মিলনর্থক, বিপরীতার্থক, সমার্থক ও বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাতা-পিতা
ব্যাখ্যা: মাতা ও পিতা, যা একটি মিলনর্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ এবং উভয় পদের অর্থই প্রধান।
উদাহরণ ২: জমা-খরচ
ব্যাখ্যা: জমা ও খরচ, যা একটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ এবং পরস্পর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভাই-বােন — এটি দ্বন্দ্ব সমাসের সঠিক উদাহরণ।
B) সিংহাসন — এটি মধ্যপদলুপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, যার ব্যাসবাক্য সিংহ চিহ্নিত আসন।
C) কানাকানি — এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ, যার ব্যাসবাক্য কানে কানে যে কথা বা মারামারি।
D) গাছপাকা — এটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ, যার ব্যাসবাক্য গাছে পাকা।
৫. মনে রাখার টিপস:
দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে মনে রাখবে যে সমস্তপদে সাধারণত একটি হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন থাকে এবং ব্যাসবাক্য করলে এবং, ও, বা সংযোজক অব্যয় বসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থই প্রধান থাকে, যা অন্য অনেক সমাস থেকে এটিকে আলাদা করে। পরীক্ষার হলে ব্যাসবাক্য করে সংযোজক অব্যয় থাকলে তবেই দ্বন্দ্ব সমাস দাগাবে।
সঠিক উত্তর: C) ধ্বন্যাত্মক শব্দ
১. কেন সঠিক:
‘টাপুর টুপুর’ শব্দটি বৃষ্টির পড়ার কাল্পনিক বা অনুসারী ধ্বনি প্রকাশ করে, যা বাংলা ব্যাকরণে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
মানুষ বা প্রাণীর কণ্ঠস্বর ছাড়া বস্তু, প্রকৃতি বা কল্পনার কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে গঠিত শব্দই হলো ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দে কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার বা প্রতিধ্বনি প্রকাশিত হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা অনুকার শব্দ বলে।
বৃষ্টির পতনের শব্দ বোঝাতে ‘টাপুর টুপুর’ ধ্বনিটি যুগপৎভাবে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ শব্দের রূপ ধারণ করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঝিরঝির হাওয়া বইছে।
ব্যাখ্যা: এখানে ‘ঝিরঝির’ মৃদু বাতাসের ধ্বনি বা ভাব প্রকাশ করেছে।
উদাহরণ ২: কলকল নদী বয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এখানে ‘কলকল’ পানির প্রবাহের কাল্পনিক ধ্বনি প্রকাশ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাক্যালঙ্কার শব্দ — বাক্যালঙ্কার শব্দ বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে কিন্তু ‘টাপুর টুপুর’ সরাসরি কোনো ধ্বনি নির্দেশ করে, তাই এটি সঠিক নয়।
B) অবস্থাবাচক শব্দ — অবস্থাবাচক শব্দ কোনো বিশেষ অবস্থা বা গুণ বোঝায়, কিন্তু এটি কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনি নয়।
C) ধ্বন্যাত্মক শব্দ — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি বৃষ্টির পড়ার ধ্বনি নির্দেশ করছে।
D) দ্বিরুক্ত শব্দ — এটি দ্বিরুক্ত শব্দ হলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বেস্ট চয়েস হিসেবে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বেশি নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত।
৫. মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দ যদি কান দিয়ে শোনা যায় এমন কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনি বা আওয়াজ বোঝায়, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ দাগাবে।
বৃষ্টির পড়া, বাতাসের বয়ে চলা কিংবা পাখির ডাক জাতীয় শব্দগুলো সবসময় ধ্বন্যাত্মক শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
‘ঝমঝম’, ‘রিমঝিম’, ‘ঘণ্টার ধ্বনি’ বা ‘কাকলী’ শব্দগুলো কোন প্রকৃতির তা ভালোভাবে আয়ত্ত রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) নিরালােকে দিব্যরথ
১. কেন সঠিক:
- নিরালােকে দিব্যরথ কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত সৃষ্টি।
- প্রশ্নের মূল বিষয় হলো লেখকের নামের সঙ্গে তার সাহিত্যকর্মের সঠিক মিল খুঁজে বের করা।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শামসুর রাহমান বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধে আবির্ভূত একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি ও সাংবাদিক।
- তার কবিতায় নাগরিক জীবন, সমসাময়িক রাজনীতি এবং বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা: এটি কবি শামসুর রাহমানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
উদাহরণ ২: রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা: এই কাব্যগ্রন্থটিও কবি শামসুর রাহমানের সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নির্জন স্বাক্ষর — এটি কবি বুদ্ধদেব বসুর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, শামসুর রাহমানের নয়।
B) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি — এটি কথাসাহিত্যিক ও কবি শহীদ কাদরীর একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
C) নিরালােকে দিব্যরথ — এটি শামসুর রাহমানের রচনা বিধায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
D) নির্বাণ — এটি অন্য কোনো লেখকের সাহিত্যকর্ম, যা শামসুর রাহমানের রচিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ মনে রাখার জন্য তার বিখ্যাত গ্রন্থ যেমন রৌদ্র করোটিতে এবং প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে বারবার পড়তে হবে।
- লেখকের নামের সঙ্গে কাব্যগ্রন্থের নাম মিলিয়ে ছোট তালিকা তৈরি করে চর্চা করা যেতে পারে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবি ও লেখকের কাব্যগ্রন্থের নাম থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- শামসুর রাহমান আধুনিক যুগের কবি হওয়ায় তার সাহিত্যকর্মগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: A) আগুনের পরশমণি
১. কেন সঠিক:
- আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি পরিবারের অবরুদ্ধ জীবন ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো আগুনের পরশমণি।
- এই উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক মধ্যবিত্ত পরিবারের মনস্তত্ত্ব ও মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা: এটিও হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি সুবিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: মাত্রাতিরিক্ত বা রতি উপন্যাসের বাইরে এটি ইতিহাসের একটি দলিল
ব্যাখ্যা: লেখকের নিজস্ব শৈলীতে এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণিক দলিল হিসেবে সমাদৃত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আগুনের পরশমণি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
B) চিলেকোঠার সেপাই — এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
C) একাত্তরের দিনগুলাে — এটি জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথা বা দিনলিপি, উপন্যাস নয়।
D) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় — এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য, উপন্যাস নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে আগুনের পরশমণি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- স্মৃতিকথা ও উপন্যাসের পার্থক্য মনে রাখলে সহজেই এমন প্রশ্ন সমাধান করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটিতে জনার সাথে রূপ বা Genre আলাদা করার প্রশ্ন এটি।
- উপন্যাস, নাটক ও স্মৃতিকথার পার্থক্য ভালোভাবে জানা থাকলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: C) অগ্নিবীণা
কেন সঠিক:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত ও বহুল পরিচিত কাব্যগ্রন্থ এটি।
- এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩২৯ সালের কার্তিক মাসে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে এটি একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি একটি কাব্যগ্রন্থ যার মধ্যে বিদ্রোহী চেতনা ও দেশপ্রেমের অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে।
- এই বইটিতে প্রলয়উল্লাস, বিদ্রোহী, কামাল পাশা সহ মোট বারটি বিখ্যাত কবিতা রয়েছে।
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্র তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) ব্যথার দান — এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প সংকলন, কাব্যগ্রন্থ নয়।
- B) রাজবন্দীর জবানবন্দী — এটি তাঁর একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ, কাব্যগ্রন্থ নয়।
- C) অগ্নিবীণা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য তথ্য প্রযোজ্য নয়।
- D) নবযুগ — এটি কাজী নজরুল ইসলাম ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক সম্পাদিত একটি দৈনিক পত্রিকা।
মনে রাখার টিপস:
- নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থের শুরু হয় আগুন দিয়ে, তাই প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো অগ্নিবীণা।
সঠিক উত্তর: A) শেষ লেখা
১. কেন সঠিক:
- শেষ লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থ বলতে এমন একটি সাহিত্যকর্মকে বোঝায় যেখানে একাধিক কবিতা সংকলিত থাকে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও ঔপন্যাসিক যিনি গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- শেষ লেখা তাঁর অন্তিম জীবনের কবিতাগুচ্ছ নিয়ে গঠিত একটি প্রখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পুরবী
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরও একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
উদাহরণ ২: বনবাণী
ব্যাখ্যা: এটি প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শেষ লেখা — এটি একটি কাব্যগ্রন্থ এবং সঠিক উত্তর।
B) শেষ প্রশ্ন — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
C) শেষের কবিতা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
D) শেষের পরিচয় — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত একটি উপন্যাস যা প্রবোধচন্দ্র ঘোষ সমাপ্ত করেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথের শেষ লেখা একটি কাব্য আর শেষের কবিতা একটি উপন্যাস।
- এই দুটি নামের বিভ্রান্তি দূর করতে শেষের শব্দটির পরের অংশটি খেয়াল রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কাব্যগ্রন্থ হলো শেষ লেখা এবং শেষ উপন্যাস হলো চার অধ্যায়।
- কবিদের শেষ রচনা বা উপন্যাসগুলো প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) মীর মশাররফ হােসেন
১. কেন সঠিক:
বিষাদ-সিন্ধু হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস যা কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত।
মীর মশাররফ হোসেন মহরমের বিষাদময় ট্র্যাজেডিকে এই উপন্যাসে রূপায়িত করেছেন যা বাংলা কথাসাহিত্যে অনন্য স্থান দখল করে আছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মীর মশাররফ হোসেন বাংলা গদ্যসাহিত্যের অন্যতম প্রধান রূপকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
তার এই মহাকাব্যিক উপন্যাসে ইমাম হোসেনের শাহাদাত এবং ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ঐতিহাসিক ঘটনার আবেগময় রূপায়ন ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা: এটি মীর মশাররফ হোসেনের একটি বিখ্যাত নাটক যা নীলকর সাহেবদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রচিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: গাজী মিঞার বস্তানী
ব্যাখ্যা: এটি মীর মশাররফ হোসেনের রচিত একটি বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক ও সামাজিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মীর মশাররফ হােসেন — এটি সঠিক উত্তর কারণ বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসটি তারই অমর সৃষ্টি।
B) কায়কোবাদ — তিনি বিশ শতকের প্রারম্ভিক যুগের মহাকাব্যিক ধারার একজন বিখ্যাত মুসলিম কবি ছিলেন।
C) মােজাম্মেল হক — তিনি একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন যিনি মূলত কাব্যচর্চার জন্য পরিচিত।
D) ইসমাইল হােসেন সিরাজী — তিনি বিশ শতকের প্রথমার্ধের একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সমাজসংস্কারক ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
মীর মশাররফ হোসেন মানেই বিষাদ-সিন্ধুর বিষাদময় ট্র্যাজেডি, এভাবে সহজে মনে রাখা যায়।
ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে রাখতে মীর মশাররফ হোসেনের নাম প্রথমে স্মরণ করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিষাদ-সিন্ধু মূলত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং এর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে তাই এর রচয়িতার নাম ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) স্পষ্টভাষী
১. কেন সঠিক:
- ঠোট-কাটা একটি পরিচিত বাংলা বাগধারা যার আক্ষরিক অর্থ ঠোঁট কাটা হলেও এর ভাবার্থ হলো অত্যন্ত স্পষ্টভাষী বা নির্দ্বিধায় সত্য কথা বলা।
- এই ধরনের ব্যক্তি সামাজিক শিষ্টাচার বা কারোর মনকষ্টের কথা না ভেবে মুখের ওপর সত্য কথা স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পছন্দ করেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি বিশেষ বাগধারা বা প্রবাদমূলক শব্দগুচ্ছ যা সাধারণ অর্থের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ ও রূপক অর্থ প্রকাশ করে।
- বাগধারার শব্দগুলোকে আক্ষরিক অর্থে না ধরে এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বা প্রথাগত অর্থ বুঝতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লোকটা বড়ই ঠোঁট-কাটা, কার কি মনে লাগবে তা না ভেবে মুখের ওপর সত্যি কথাটা বলে দেয়।
ব্যাখ্যা: এখানে স্পষ্টভাষী বোঝাতে ঠোঁট-কাটা বাগধারাটি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: সভায় সবাই চুপ থাকলেও ওই ঠোঁট-কাটা মানুষটি অন্যায়ের প্রতিবাদে সবার সামনে সোচ্চার হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে নির্ভীক ও স্পষ্ট ভাষায় সত্য প্রকাশের ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্পষ্টভাষী — এটি সঠিক উত্তর কারণ ঠোঁট-কাটা বাগধারার প্রকৃত ভাবার্থ হলো মুখের ওপর স্পষ্ট কথা বলা।
B) অহংকারী — এটি ভুল কারণ অহংকার বলতে দম্ভ বা আত্মগরিমা বোঝায়, যা স্পষ্টভাষিতার সমার্থক বা ভাবার্থ নয়।
C) মিথ্যাবাদী — এটি ভুল কারণ ঠোঁট-কাটা ব্যক্তি মিথ্যা বলে না বরং অপ্রিয় হলেও সত্য কথা মুখের ওপর বলে দেয়।
D) পক্ষপাতদুষ্ট — এটি ভুল কারণ পক্ষপাতদুষ্ট অর্থ একপক্ষের প্রতি অন্যায্য ঝোঁক বা পক্ষপাত থাকা, যা এই বাগধারার সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ঠোঁট কাটা থাকলে যেমন কোনো বাধা থাকে না, তেমনি স্পষ্টভাষী মানুষের কথা বলতেও কোনো রাখঢাক থাকে না।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারার প্রশ্ন আসার ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থের চেয়ে ভাবার্থ বা রূপক অর্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) দুরতিক্রম্য
১. কেন সঠিক:
- 'যা সহজে অতিক্রম করা যায় না' বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো দুরতিক্রম্য। এটি মূলত দূর উপসর্গ যোগে গঠিত একটি বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ।
- এখানে 'দূর' উপসর্গটি কঠিন বা সহজে নয় এমন অর্থ প্রকাশ করে এবং 'অতিক্রম্য' শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে এই বিশেষ অর্থ তৈরি করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এককথায় প্রকাশ বা বাক্যসংক্ষেপণ বাংলা ব্যাকরণের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে বড় একটি ভাবকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করা যায়।
- এই ধরনের শব্দ গঠনে প্রায়শই উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসের সাহায্য নেওয়া হয় এবং শব্দের মূল অর্থ ঠিক রেখে সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যা সহজে জয় করা যায় না = দুর্জয়
ব্যাখ্যা: এটিও দুরতিক্রম্য শব্দের মতো দূর উপসর্গ যোগে গঠিত একটি এককথায় প্রকাশের উদাহরণ।
উদাহরণ ২: যা নিবারণ করা যায় না = অনিবার্য
ব্যাখ্যা: এটিও একটি বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অলঙ্ঘ্য — এর অর্থ যা লঙ্ঘন করা যায় না, যা মূল প্রশ্নের অর্থের সাথে মেলে না।
B) অনতিক্রম্য — এর অর্থ যা অতিক্রম করা যায় না, কিন্তু প্রশ্নে 'সহজে' শব্দটি থাকার কারণে এটি সঠিক নয়।
D) দুর্গম — এর অর্থ যেখানে সহজে যাওয়া যায় না, যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বাক্যে যদি 'সহজে অতিক্রম করা যায় না' থাকে তবে উত্তর হবে দুরতিক্রম্য আর যদি শুধু 'অতিক্রম করা যায় না' থাকে তবে উত্তর হবে অনতিক্রম্য।
- শব্দের শুরুতে 'দূর' বা 'অন্' উপসর্গ দেখে বাক্যাংশের কাঠिन্যের মাত্রা অনুমান করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- সামান্য শব্দের পার্থーク্যের কারণে উত্তর বদলে যেতে পারে, তাই মূল বাক্যাংশের প্রতিটি শব্দ সতর্কতার সাথে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: C) accelerating— intensifying
কেন সঠিক:
এই বাক্যে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব বোঝানো হয়েছে।
তাই শূন্যস্থানে এমন দুটি শব্দ বসবে যা ধনসম্পদ ও ক্ষমতা মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে জমা হওয়াকে বাড়িয়ে দেয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) undermining- neutralizing — এই শব্দদুটি কমানোর অর্থ প্রকাশ করে যা বাক্যের মূল ভাবের সাথে মিলে না।
B) proliferating – diminishing — প্রথমটি বাড়ালেও দ্বিতীয়টি কমানোর অর্থ দেয় যা পরস্পরবিরোধী।
C) accelerating— intensifying — এই অপশনটি সঠিক কারণ দুটি শব্দই বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।
D) aggravating- demokishing — দ্বিতীয় শব্দটির বানান ভুল এবং তা অর্থসঙ্গতি রক্ষা করতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
নেতিবাচক বাক্যে একই রকম অর্থ প্রকাশকারী দুটি শক্তিশালী সমার্থক শব্দ সাধারণত শূন্যস্থানে বসে।
সঠিক উত্তর: A) oppressed — scorned
কেন সঠিক:
বাক্যের অর্থ হলো বিশ্বের নারীরা নির্যাতিত ও অবহেলিত, যার নেতিবাচক দিক কেউ নিতে চায় না।
এখানে নারীদের প্রতি নেতিবাচক আচরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ যুগল ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রস্তাবনার নেতিবাচক দিক হিসেবে এই বিশেষণ দুটি পুরোপুরি মানানসই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) oppressed — scorned — এটিই সঠিক উত্তর কারণ এটি প্রদত্ত প্রমিজের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
B) admired – provoked — প্রশংসা এবং উত্যক্ত করা পরস্পর বিরোধী এবং এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
C) rebuked – regaled — তিরস্কার করা এবং আপ্যায়ন করা একসাথে মানায় না।
D) slighted — celebrated — অবহেলা করা এবং উদযাপন করা দুটি বিপরীত ধারণা প্রকাশ করে।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যের ভেতরের মূল ভাবটি ইতিবাচক না নেতিবাচক তা আগে বুঝতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) inevitable – desire
কেন সঠিক:
- বাক্যটির অর্থ হলো রাগ যতই অনিবার্য হোক না কেন, এর একটি গুণ আছে যে এটি ইচ্ছাকে দমন করে।
- অনিবার্য রাগ মানুষের অতিরিক্ত বা ক্ষতিকর চাওয়া বা ইচ্ছাকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) inevitable – desire — এটি সঠিক এবং বাক্যের অর্থের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
B) sinful – sloth — পাপপূর্ণ রাগ অলসতাকে দূর করে, এমন ভাবার্থ বাক্যটির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
C) unnecessary — malic — অপ্রয়োজনীয় রাগ বিদ্বেষকে অতিক্রম করে, এই অর্থ ব্যাকরণগত ও ভাবগতভাবে সঠিক নয়।
D) intense – hate — তীব্র রাগ ঘৃণাকে অতিক্রম করে, এটি অর্থের দিক থেকে সাংঘর্ষিক কারণ রাগ নিজেই এক ধরণের ঘৃণা।
মনে রাখার টিপস:
অনিবার্য (inevitable) রাগের একটি ভালো গুণ হলো তা আমাদের তীব্র ইচ্ছা (desire) দমন করতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) waste time
কেন সঠিক:
‘ডিলি ড্যালি’ একটি ইংরেজি বাগধারা যার অর্থ কোনো কাজ করতে অকারণে দেরি করা।
এর মূল ভাব হলো কাজের গতি ধীর করে সময় নষ্ট করা।
তাই এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) wait impatiently — এই কথাটির অর্থ হলো অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করা যা মূল শব্দের সাথে মিলে না।
B) to diluten — এটি কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নয় এবং এটি ভুল বানান নির্দেশ করে।
C) repeat — এর অর্থ হলো কোনো কিছু পুনরাবৃত্তি করা যা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়।
D) waste time — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল নয়।
মনে রাখার টিপস:
‘ডিলি ড্যালি’ বললে বুঝবে দেরি করে সময় নষ্ট করা।
সঠিক উত্তর: A) description of a disagreeable thing by an agreeable name
কেন সঠিক:
ইউফেমিজম বা উপমিত শব্দ বলতে এমন কোনো অপ্রীতিকর, কঠিন বা বেদনাদায়ক বিষয়কে বোঝায় যা সরাসরি না বলে একটি সুন্দর বা মিষ্টি শব্দে প্রকাশ করা হয়। যেমন মৃত্যুর পরিবর্তে চলে যাওয়া বলা একটি ইউফেমিজম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) description of a disagreeable thing by an agreeable name — এটি সঠিক উত্তর এবং এর অর্থ অপ্রীতিকর বিষয়কে সুন্দর নামে প্রকাশ করা।
B) stating one thing like another — এটি সিমিলি বা রূপক অলংকারকে নির্দেশ করে যেখানে এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর তুলনা করা হয়।
C) contrast of words is made in the same sentence — এটি অ্যান্টিথিসিস বা বৈপরীত্য অলংকারকে বোঝায় যেখানে একই বাক্যে বিপরীত শব্দের তুলনা থাকে।
D) a statement is made emphatic by overstatement — এটি হাইপারবোল বা অতিশয়োক্তিকে নির্দেশ করে যেখানে কোনো কথাকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলা হয়।
মনে রাখার টিপস:
ইউফেমিজম মানে হলো কানে শুনতে খারাপ লাগে এমন কোনো সত্য কথাকে মিষ্টি বা ভদ্র ভাষায় প্রকাশ করা।
সঠিক উত্তর: C) The wounded man was being helped by some children
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি Past Continuous Tense-এর Active Voice-এ আছে, তাই Passive করার সময় was being এবং মূল Verb-এর Past Participle রূপ বসে।
- Subject ও Object-এর স্থান পরিবর্তন হয়ে Active-এর Object (the wounded man) Passive-এর Subject হয়েছে এবং by বসে Subject বস2ছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The wounded man was helping some children — এটি Active Voice-এর অর্থ পরিবর্তন করে অন্য অর্থ প্রকাশ করেছে এবং Passive গঠন হয়নি।
B) The wounded man was helped by some children — এটি Simple Past Tense-এর Passive রূপ, কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নটি Continuous Tense-এ ছিল।
C) The wounded man was being helped by some children — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এখানে Past Continuous Tense-এর নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়েছে।
D) The wounded man was to be helped by some children — এটি Infinitive বা Obligation-এর Passive রূপ, যা এই Tense-এর জন্য প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
Continuous Tense-এর Passive করার সময় auxiliary verb-এর সাথে always being যোগ করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) the nature of rumor
কেন সঠিক:
অনুচ্ছেদটিতে মূলত গুঞ্জন কীভাবে তৈরি হয়, তা কীভাবে মানুষের মুখে মুখে ছড়ায় এবং এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো কী তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তাই পুরো লেখা জুড়েই গুঞ্জনের মৌলিক প্রকৃতি বা স্বভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
লেখকের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুঞ্জনের ধরণ বা প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা।
এই কারণে সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন বি নির্বাচন করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) the fascination of rumors — গুঞ্জনের আকর্ষণ বিষয়টি ছোট একটি অংশ মাত্র, পুরো লেখার মূল বিষয় নয়।
B) the nature of rumor — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) rumor as primitive man’s newspaper — এটি গুঞ্জনের একটি ঐতিহাসিক উপমা মাত্র, প্রধান বিষয় নয়।
D) the breeding places of rumors — গুঞ্জন কোথায় জন্ম নেয় তা গৌণ বিষয়, এর সামগ্রিক প্রকৃতিই মূল আলোচ্য।
মনে রাখার টিপস:
কোনো অনুচ্ছেদের মূল ভাব খুঁজতে পুরো লেখার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুর দিকে নজর দিতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) are hardy in their growth
কেন সঠিক:
গুজব খুব দ্রুত ছড়ায় এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। তাই এর বৃদ্ধি অত্যন্ত শক্তিশালী বা hardy হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) are hardy in their growth — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
B) alarm their hearers — গুজব সব সময় শোত্রাদের আতঙ্কিত করে না, বরং কখনো কখনো কৌতূহলও তৈরি করে।
C) are disheartening — গুজব সবসময় নিরাশাজনক হয় না, অনেক সময় এটি বিনোদন বা উত্তেজনার খোরাক জোগায়।
D) can be suppressed by censorship — সেন্সরশিপ বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সহজে গুজব দমন করা যায় না, এটি আরও গোপনে ছড়িয়ে পড়ে।
মনে রাখার টিপস:
'Hardy' শব্দের অর্থ শক্তিশালী। মনে রাখবে গুজব সহজে মরে না, বরং অনেক শক্তভাবে বেঁচে থাকে।
সঠিক উত্তর: C) limited information
কেন সঠিক:
যুদ্ধকালীন সময়ে সেন্সরশিপের কারণে সংবাদ মাধ্যমগুলো সব সত্যি ঘটনা প্রকাশ করতে পারে না।
তাই তারা পাঠকদের কাছে ঘটনার খুব সামান্য বা সীমাবদ্ধ তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
এর ফলে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) pessimistic reports — যুদ্ধের সময় শুধু নিরাশাজনক খবরই প্রকাশ করা হয় না, বরং অনেক সময় অতিরঞ্জিত আশার বাণীও শোনানো হয়।
B) optimistic reports — সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক খবর প্রচার করা হলেও তা শুধু আশাবাদী প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
D) government propaganda — সরকারি প্রোপাগান্ডা একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু মূল কথা হলো সেখানে তথ্যের মারাত্মক ঘাটতি থাকে।
মনে রাখার টিপস:
যুদ্ধের সময় খবরের কাগজ বা গণমাধ্যম কখনোই পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ করে না, তাই উত্তর হবে সীমাবদ্ধ তথ্য বা limited information।
সঠিক উত্তর: C) Acute indignation
কেন সঠিক:
লেখক লেখার মধ্যে গুজবের ক্ষতিকর প্রভাব ও মিথ্যা প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশের জন্যই উত্তরটি সঠিক।
সমাজে এর খারাপ দিক দেখে লেখকের মনে গভীর বিরক্তি কাজ করেছে।
তাই লেখকের এই মনোভাবকে তীব্র ক্ষোভ বা প্রতিবাদের সাথে তুলনা করা চলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Morbid curiosity — লেখকের মনোভাব কোনো অসুস্থ বা বিকৃত কৌতূহল ছিল না বরং তিনি এর কুফল নিয়ে গম্ভীর ছিলেন।
B) Excited enthusiasm — গুজব নিয়ে লেখকের মধ্যে কোনো আনন্দ বা উত্তেজনাকর উদ্দীপনা কাজ করেনি।
C) Acute indignation — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এটি ভুল নয়।
D) Philosophical timterest — লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাত্ত্বিক বা দার্শনিক কৌতূহলভিত্তিক ছিল না।
মনে রাখার টিপস:
লেখকের ক্ষোভ বা অসন্তোষ বোঝাতে Indignation শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: C) stick together
কেন সঠিক:
Cohesive শব্দের বাংলা অর্থ হলো সংগী বা একত্রে লেগে থাকার প্রবণতা। এটি পদার্থ বিজ্ঞানে কোনো পদার্থের কণার নিজেদের মধ্যে আকর্ষণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) bend without too much difficulty — এটি নমনীয়তা বা বলপ্রয়োগে বাঁকানোর ক্ষমতা বোঝায়, যা এই শব্দের অর্থ নয়।
B) retain heat — তাপ ধরে রাখার ক্ষমতাকে তাপ নিরোধক বা থার্মাল প্রপার্টি বলা হয়।
C) stick together — এটিই সঠিক কারণ কোহেসিভ বা সংশ্লেষ বল কণাগুলোকে একত্রে আটকে রাখে।
D) break easily — সহজে ভেঙে যাওয়া পদার্থকে ভঙ্গুর বলা হয়, যা এর বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
Cohesive শব্দের শুরুতে কো আছে, যার মানে কোঅপারেশন বা একত্রে মিলে কাজ করা, তাই এর অর্থ একসাথে লেগে থাকা।
সঠিক উত্তর: C) the university will employ me
কেন সঠিক:
বক্তার বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী ডিগ্রি শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে চাকরি দেবে। এই অর্থে বাক্যটির সাবজেক্ট ও অবজেক্টের গঠন সঠিক এবং অর্থ পরিষ্কার হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) employment will be given to me by the university — বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হলেও এটি প্যাসিভ ভয়েসে থাকায় মূল বাক্যের সাথে সাবজেক্টের মিল থাকে না।
B) my education will be employed by the university — শিক্ষা কখনো চাকরি বা নিয়োগ পেতে পারে না তাই এই অর্থ সম্পূর্ণ অর্থহীন।
C) the university will employ me — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
D) I will be employed of the university — এমপ্লয়েড শব্দের সাথে অব preposition বসে না বরং with বা by বসে তাই এই গঠনটি ভুল।
মনে রাখার টিপস:
শর্তমূলক বাক্যের সাবজেক্ট এবং অ্যাক্টিভ ভয়েসের সঠিক ব্যবহার চেনার মাধ্যমে সহজেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা যায়।
সঠিক উত্তর: A) beyond
কেন সঠিক:
বুল বুদ্ধিজীবীরা সমাজের সীমানার বাইরে একা থাকেন না, বরং তারা সমাজের সাথেই বসবাস করেন। বাক্যটির অর্থ প্রকাশ করতে এখানে মার্জিনের বাইরে অর্থে beyond শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) beyond — এটি সঠিক উত্তর এবং এখানে সীমার বাইরে অর্থ বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
B) against — এর অর্থ বিরুদ্ধে, যা এই বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয় এবং ব্যাকরণগতভাবে বেমানান।
C) inside — এর অর্থ ভেতরে, কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান বোঝাতে এটি এখানে উপযুক্ত নয়।
D) before — এর অর্থ পূর্বে বা সামনে, যা এই শূন্যস্থানে বসালে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
মনে রাখার টিপস:
সমাজের প্রান্ত বা মার্জিন বোঝাতে সাধারণত beyond শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: A) had escaped
কেন সঠিক:
মূল বাক্যের প্রথম অংশ 'was conducted' পাস্ট টেন্সে আছে। তাই পরের অংশের কাজটিও অতীতের আগের অতীত বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স (had + V3) হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সঠিক উত্তর — এটি সঠিক পাস্ট পারফেক্ট টেন্স গঠন করেছে।
B) have had escaped — এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল এবং অপ্রয়োজনীয় গঠন।
C) are escaping — এটি প্রেজেন্ট কন্টিনিউয়াস টেন্স, যা পাস্ট টেন্সের সাথে মেলে না।
D) have been escaping — এটি প্রেজেন্ট পারফেক্ট কন্টিনিউয়াস টেন্স, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
প্রধান ক্লজটি পাস্ট টেন্সে থাকলে এবং আগের কোনো ঘটনা বোঝালে সাব-অর্ডিনেট ক্লজে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স (had + V3) ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) although
কেন সঠিক:
বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে বিপরীত বা অসঙ্গতিপূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে although ব্যবহৃত হয়।
কাঁচ দেখতে কঠিন মনে হলেও এর আণবিক গঠন তরলের মতো, তাই এখানে বিপরীত অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে।
বাকি conjunction গুলো এই বিপরীতমুখী ভাব প্রকাশ করতে পারে না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Since — কারণ বা যেহেতু অর্থ প্রকাশ করে, যা এখানে বিপরীত ভাবের সাথে মেলে না।
B) because — কারণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক নেই বরং বৈপরীত্য আছে।
C) although — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) if — শর্ত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের অর্থের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যের দুটি অংশে বিপরীত অর্থ থাকলে although বা though ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) antidote: counteract
কেন সঠিক:
মূল শব্দজোড়ায় ভেক্সিন বা টিকা কোনো রোগ প্রতিরোধ করতে কাজ করে এবং এটি একটি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ঠিক তেমনি প্রতিষেধক বা অ্যান্টিডোট বিষ বা ক্ষতিকর প্রভাব নিষ্ক্রিয় করতে বা প্রতিহত করতে কাজ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) victim: attend — এখানে ভিকটিম বা শিকার এবং তাকে দেখাশোনার বিষয়টি মূল জোড়ার মতো কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
B) Wound: heal — ক্ষত এবং নিরাময় সম্পর্কিত হলেও এটি সরাসরি প্রতিরোধমূলক বিষ বা ক্ষতিকর প্রভাব দূর করার ভাব প্রকাশ করে না।
C) antidote: counteract — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) diagnosis: cure — রোগ নির্ণয় এবং নিরাময় সম্পূর্ণ দুটি আলাদা ধাপ, যা সরাসরি প্রতিরোধ বা নিষ্ক্রিয় করার সমকক্ষ নয়।
মনে রাখার টিপস:
মূল শব্দের কার্যকারিতা দেখতে হবে যেমন টিকা যেমন রোগ আটকায়, প্রতিষেধক তেমনি বিষ প্রতিহত করে।
সঠিক উত্তর: B) penury: wealth
কেন সঠিক:
ANARCHY শব্দের অর্থ নৈরাজ্য বা যেখানে সরকার বা নিয়ম নেই। GOVERNMENT হলো সরকারের উপস্থিতি, যা ANARCHY এর বিপরীতার্থক শব্দ।
penury শব্দের অর্থ চরম দারিদ্র্য এবং wealth শব্দের অর্থ সম্পদ।
এই দুটি শব্দও পরস্পরের বিপরীতার্থক সম্পর্ক প্রকাশ করে।
মূল প্রশ্নের জোড়ার সাথে হুবহু মিল রয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) chaos: disorder — chaos এবং disorder সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক নয়।
B) penury: wealth — এটি সঠিক উত্তর।
C) monarchy: republic — monarchy এবং republic উভয়ই সরকার পরিচালনার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি।
D) verbosity: words — verbosity হলো অতিরিক্ত শব্দের ব্যবহার, যা বিপরীতার্থক নয়।
মনে রাখার টিপস:
মূল প্রশ্নটির শব্দ দুটি খেয়াল করো। একটি না থাকলে অন্যটি বোঝায়। অপশন থেকেও বিপরীতার্থক জোড়াটি খুঁজে বের করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) detain : dispatch
কেন সঠিক:
- DELAY (বিলম্ব করা) এবং EXPEDITE (দ্রুততর করা) শব্দ দুটি পরস্পর বিপরীতার্থক বা অ্যান্টনিম।
- প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে DETAIN ( আটকে রাখা) এবং DISPATCH (পাঠানো বা ছেড়ে দেওয়া) শব্দ দুটিও পরস্পর বিপরীতার্থক সম্পর্ক প্রকাশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) blick : obstruct — blick এবং obstruct শব্দ দুটির মধ্যে বিপরীতার্থক সম্পর্ক নেই, বরং obstruct অর্থ বাধা দেওয়া।
B) related : halt — related এবং halt শব্দ দুটির মধ্যে কোনো যৌক্তিক বিপরীত সম্পর্ক নেই এবং এদের অর্থ ভিন্ন।
C) drag : procrastinate — drag এবং procrastinate সমার্থক শব্দ, যা বিপরীতার্থক সম্পর্ক নির্দেশ করে না।
D) detain : dispatch — এটি সঠিক কারণ detain অর্থ আটকে রাখা এবং dispatch অর্থ পাঠানো, যা মূল শব্দের বিপরীত সম্পর্কের সাথে মিলে যায়।
মনে রাখার টিপস:
মূল প্রশ্নটির শব্দ দুটির বিপরীত অর্থ মনে রাখুন এবং অপশনগুলোর মধ্যে বিপরীতার্থক জোড়টি খুঁজে বের করুন।
সঠিক উত্তর: D) stimulate: cool down
কেন সঠিক:
মূল প্রশ্নে দেওয়া EXCITE এবং CALM শব্দ দুটি বিপরীতার্থক অর্থ প্রকাশ করে।
ঠিক একইভাবে stimulate এবং cool down শব্দ দুটিও পরস্পর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) agitate : trouble — এই শব্দ দুটি সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে, বিপরীতার্থক নয়।
B) restrain : compose — এই শব্দ দুটির মধ্যে বিপরীত সম্পর্কের চেয়ে নিয়ন্ত্রণের মিল বেশি।
C) upset : preturb — এই জোড়ার শব্দ দুটিও সমার্থক এবং একই ভাব প্রকাশ করে।
D) stimulate: cool down — এটি সঠিক কারণ উদ্দীপিত করা এবং ঠান্ডা করা সম্পূর্ণ বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
শব্দ জোড়ার সম্পর্ক বুঝতে প্রথমে মূল শব্দ দুটির অর্থ একে অপরের বিপরীত না সমার্থক তা যাচাই করে নেবে।
সঠিক উত্তর: B) abruptly
কেন সঠিক:
লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি হঠাৎ থেমে যায়।
হঠাৎ বা আকস্মিক বোঝাতে abruptly শব্দটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) equitable — এর অর্থ ন্যায্য বা সমতাভিত্তিক, যা এখানে গাড়ী থামানোর গতির সাথে মেলে না।
B) abruptly — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
C) ambiguously — এর অর্থ দ্বর্থক বা অস্পষ্ট, যা এই বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে না।
D) incisively — এর অর্থ তীক্ষ্ণভাবে বা গভীরভাবে, যা গাড়ী থামানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
লাল বাতি দেখলে চালক সবসময় হঠাৎ (abruptly) ব্রেক কষে গাড়ি থামান।
সঠিক উত্তর: C) ১০
প্রদত্ত তথ্য:
x ও y-এর মানের গড় ৯
z এর মান ১২
ধরি,
x ও y এর মানের সমষ্টি = ৯ × ২ = ১৮
z এর মান = ১২
অতএব,
x, y ও z এর মানের মোট সমষ্টি = ১৮ + ১২ = ৩০
মোট পদের সংখ্যা = ৩
সুতরাং,
x, y এবং z এর মানের গড় = ৩০ ÷ ৩ = ১০
উত্তর: ১০
সঠিক উত্তর: C) ৩৬ এবং ৯ বছর
প্রদত্ত তথ্য:
পিতার বর্তমান বয়স পুত্রের বয়সের চারগুণ
৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স পুত্রের বয়সের দশগুণ ছিল
ধরি,
পুত্রের বর্তমান বয়স = ক বছর
পিতার বর্তমান বয়স = ৪ক বছর
অতএব,
৬ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স = ক − ৬ বছর
৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স = ৪ক − ৬ বছর
প্রশ্নমতে, ৪ক − ৬ = ১০ × (ক − ৬)
সুতরাং,
৪ক − ৬ = ১০ক − ৬০
১০ক − ৪ক = ৬০ − ৬
৬ক = ৫৪
উত্তর: ক = ৯ এবং পিতার বয়স ৩৬ বছর
সঠিক উত্তর: A) ২৪ মি. এবং ১২ মি
প্রদত্ত তথ্য:
দুইটি নল একত্রে একটি চৌবাচ্চা পূর্ণ করে ৮ মিনিটে
নল দুইটি খুলে দেওয়ার ৪ মিনিট পর প্রথম নল বন্ধ করা হলো
ধরি,
প্রথম নল চৌবাচ্চাটি পূর্ণ করে ক মিনিটে
দ্বিতীয় নল চৌবাচ্চাটি পূর্ণ করে খ মিনিটে
অতএব,
নল দুইটি ৪ মিনিটে পূর্ণ করে চৌবাচ্চাটির ৪ অংশ ৮ ভাগের এক অংশ
বাকি থাকে এক বিয়োগ চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ চৌবাচ্চা
সুতরাং,
দ্বিতীয় নল বাকি চার ভাগের তিন ভাগ পূর্ণ করে ৬ মিনিটে
সম্পূর্ণ চৌবাচ্চাটি দ্বিতীয় নল পূর্ণ করে ১২ মিনিটে
উত্তর: ২৪ মি. এবং ১২ মি
সঠিক উত্তর: B) (2y2−x2)/xy
প্রدত্ত তথ্য:
ভগ্নাংশটি হলো x ÷ y
নির্ণয় করতে হবে কত যোগ করলে যোগফল 2x ÷ y হবে
ধরি,
নির্ণয় সংখ্যাটি ক
অতএব,
(x ÷ y) + ক = 2x ÷ y
সুতরাং,
ক = (2x ÷ y) − (x ÷ y)
ক = (2x2 − x2) ÷ xy
উত্তর: (2y2 − x2) ÷ xy
সঠিক উত্তর: C) ২২
প্রদত্ত তথ্য:
x বর্গ + y বর্গ = ৮
x ও y এর গুণফল = ৭
ধরি,
প্রথম রাশি = x বর্গ + y বর্গ = ৮
দ্বিতীয় রাশি = x y = ৭
অতএব,
আমরা জানি, (x + y) এর হোল স্কয়ার এর সূত্র হলো (x বর্গ + y বর্গ + ২xy)
এখন মানের জায়গায় সংখ্যাগুলো বসিয়ে পাই
সুতরাং,
৮ + (২ × ৭)
= ৮ + ১৪
= ২২
উত্তর: ২২
সঠিক উত্তর: A) ৩৭.৫ কি. মি.
প্রদত্ত তথ্য:
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দূরত্ব = ৩০০ কি. মি.
ট্রেন ছাড়ার সময় = সকাল ৭ টা এবং পৌঁছানোর সময় = বিকেল ৩ টা
ধরি,
সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত মোট সময় = ৮ ঘন্টা
ট্রেনটির অতিক্রান্ত মোট দূরত্ব = ৩০০ কি. মি.
গতিবেগ নির্ণয়ের সূত্র = মোট দূরত্ব ÷ মোট সময়
অতএব,
ট্রেনটির গতিবেগ = ৩০০ কি. মি. ÷ ৮ ঘন্টা
হিসাব করে পাই, ৩০০ ÷ ৮ = ৩৭.৫
সুতরাং,
ট্রেনটির ঘন্টায় গতি ছিল ৩৭.৫ কি. মি.
উত্তর: ৩৭.৫ কি. মি.
সঠিক উত্তর: C) ৪৮ ঘ. মি.
প্রদত্ত তথ্য:
সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি = ১৬ মিটার
অপর দুটি সমান বাহুর প্রতিটি = ১০ মিটার
ধরি,
ত্রিভুজের ভূমিকে b = ১৬ এবং সমান বাহুদ্বয়কে a = ১০ ধরলাম
অতএব,
সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্রটি হলো
ক্ষেত্রফল = (b ÷ ৪) × √(৪ × a × a − b × b)
সুতরাং,
মান বসিয়ে পাই, ক্ষেত্রফল = (১৬ ÷ ৪) × √(৪ × ১০ × ১০ − ১৬ × ১৬)
ক্ষেত্রফল = ৪ × √(৪০০ − ২৫৬) = ৪ × √১৪৪ = ৪ × ১২ = ৪৮
উত্তর: ৪৮ ঘ. মি.
সঠিক উত্তর: D) ১০ ও ১৬
প্রদত্ত তথ্য:
দুটি সংখ্যার অনুপাত ৫ ও ৮
উভয়ের সাথে ২ যোগ করলে নতুন অনুপাত হয় ২ ও ৩
ধরি,
প্রথম সংখ্যাটি = ৫ক
দ্বিতীয় সংখ্যাটি = ৮ক
অতএব,
শর্তমতে লেখা যায়, (৫ক + ২) ÷ (৮ক + ২) = ২ ÷ ৩
বা, ৩ গুণ (৫ক + ২) = ২ গুণ (৮ক + ২)
বা, ১৫ক + ৬ = ১৬ক + ৪
সুতরাং,
১৬ক − ১৫ক = ৬ − ৪
ক = ২
উত্তর: প্রথম সংখ্যা = ৫ গুণ ২ = ১০ এবং দ্বিতীয় সংখ্যা = ৮ গুণ ২ = ১৬
সঠিক উত্তর: C) চারগুণ
প্রদত্ত তথ্য:
একটি সরল রেখা এবং তার অর্ধেকের উপর বর্গ অঙ্কিত হবে
ধরি,
সরল রেখাটির দৈর্ঘ্য = ক
অতএব,
সরল রেখার উপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফল = ক × ক = ক২
সুতরাং,
সরল রেখার অর্ধেকের দৈর্ঘ্য = ক ÷ ২
উত্তর: অর্ধেকের উপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফল = (ক ÷ ২) × (ক ÷ ২) = ক২ ÷ ৪, যা মূল বর্গের চারগুণ
সঠিক উত্তর: B) দর্পণ
১. কেন সঠিক:
যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত বা সুষম প্রতিফলন ঘটে, তাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় দর্পণ বলা হয়।
দর্পণের পৃষ্ঠ অত্যন্ত মসৃণ হওয়ায় আলোর রশ্মি আপতিত হয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিফলিত হয়, যার ফলে স্পষ্ট বিম্ব গঠিত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: দর্পণ বা আয়না হলো এমন একটি মসৃণ তল যেখানে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
কার্যপ্রণালি: আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: বাসা-বাড়িতে মুখ দেখার জন্য এবং বিভিন্ন অপটিক্যাল যন্ত্রে দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সমতল আয়না
ব্যাখ্যা: প্রতিদিন সকালে আমরা যে আয়নায় মুখ দেখি তা একটি সমতল দর্পণ, যা আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিচ্ছবি দেখায়।
উদাহরণ ২: গাড়ির সাইড ভিউ মিরর
ব্যাখ্যা: উত্তল দর্পণ ব্যবহার করে গাড়ির পেছনের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লেন্স — লেন্স হলো আলোর প্রতিসরণকারী স্বচ্ছ মাধ্যম, যেখানে আলোর প্রতিফলন নয় বরং প্রতিসরণ ঘটে।
B) দর্পণ — এটি সঠিক উত্তর, কারণ মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন এখানেই ঘটে।
C) প্রিজম — প্রিজম হলো আলোর প্রতিসরণের জন্য ব্যবহৃত ত্রিভুজাকার স্বচ্ছ মাধ্যম যা বর্ণালী সৃষ্টি করে।
D) বিম্ব — বিম্ব হলো কোনো বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মি প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে যেখানে মিলিত হয় বা মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নিয়মিত প্রতিফলন মানেই দর্পণ এবং প্রতিসরণ মানেই লেন্স বা প্রিজম।
আয়না বা দর্পণে আলো বাধা পেয়ে ফিরে আসে, আর লেন্সের ভেতর দিয়ে আলো পার হয়ে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আলোর নিয়মিত ও ব্যাপ্ত প্রতিফলন সংক্রান্ত প্রশ্ন বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় প্রায়ই আসে।
মসৃণ তলে নিয়মিত এবং অমসৃণ বা রুক্ষ তলে ব্যাপ্ত প্রতিফলন ঘটে, এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ইনসুলিন
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহের অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন হরমোন উৎপাদিত হয়।
- ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করতে সহায়তা করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ইনসুলিন একটি পেপটাইড হরমোন যা রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করতে বাধ্য করে।
- কার্যপ্রণালি: শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি বা এর কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তা ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ সৃষ্টি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর স্বাভাবিক মানুষের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনসুলিন নিঃসরণ করে রক্তের শর্করা কমিয়ে দেয়।
ব্যাখ্যা: এটি ইনসুলিনের স্বাভাবিক গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী কার্যকারিতাকে প্রমাণ করে।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসায় বাইরে থেকে কৃত্রিম ইনসুলিন ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ইনসুলিনের অভাব পূরণের মাধ্যমে রক্তের শর্করা নিরাপদ সীটায় রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গ্লুকাগন — এটি অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে তা বাড়াতে সাহায্য করে।
B) থাইবাসিন — এটি থাইমাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বা লিম্ফোসাইট তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
C) এড্রিনালিন — এটি এড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং ভীতি, উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
D) ইনসুলিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ইনসুলিন শব্দটির সঙ্গে ইনজেকশন শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখতে পারো যে ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন নিতে হয়।
- বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে এবং আলফা কোষ গ্লুকাগন তৈরি করে, এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগটি মূলত ইনসুলিন হরমোনের অপর্যাপ্ততার কারণে হয়ে থাকে।
- অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কারণ এটি একই সঙ্গে হরমোন এবং পরিপাক রস উভয়ই নিঃসরণ করে।
সঠিক উত্তর: C) হাওয়ার্ড এইকিন
১. কেন সঠিক:
হাওয়ার্ড এইকিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি আইবিএম কোম্পানির সহযোগিতায় বিশ্বের প্রথম পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার মার্ক ওয়ান আবিষ্কার করেন।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তির ইতিহাসে হাওয়ার্ড এইকিন প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কার্যপ্রণালি: মার্ক ওয়ান কম্পিউটারটি সুইচ, গিয়ার এবং রিলে এর সাহায্যে বৈদ্যুতিন ও যান্ত্রিকভাবে জটিল গণনার কাজ পরিচালনা করত।
বাস্তব প্রয়োগ: এই ধরনের প্রাথমিক কম্পিউটারগুলোর প্রযুক্তি বর্তমান যুগের আধুনিক ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও স্মার্টফোনের মেমোরি ও প্রসেসরের ভিত্তি তৈরি করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হার্ভার্ড মার্ক ওয়ান কম্পিউটার।
ব্যাখ্যা: এটি একসঙ্গে একাধিক গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে পারত যা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ গবেষণা ও জটিল গণনায় সাহায্য করেছিল।
উদাহরণ ২: আধুনিক ডিজিটাল ক্যালকুলেটর বা ডেস্কটপ।
ব্যাখ্যা: এটি আদি কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নত রূপ যা আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ সহজ করে দিয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্লেইসি প্যাসকেল — তিনি আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার করেননি, বরং প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর বা পাস্কালিন আবিষ্কার করেছিলেন।
B) উইলিয়াম অটরেড — তিনি স্লাইড রুল বা গুনাঙ্ক মাপার যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন যা গণনার কাজে ব্যবহৃত হতো।
D) আবাকাস — এটি কোনো ব্যক্তি নয়, বরং গণনার সবচেয়ে প্রাচীন একটি যন্ত্র বা গণনাযন্ত্র যার নির্দিষ্ট কোনো একক আবিষ্কারক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেছিলেন এইকিন, তাই মনে রাখুন আইকিন বা এইকিন মানেই কম্পিউটারের আধুনিক রূপকার। চার্লস ব্যাবেজ হলেন তাত্ত্বিক জনক, কিন্তু হাওয়ার্ড এইকিন হলেন মার্ক ওয়ান কম্পিউটারের নির্মাতা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটারের জনক বলা হয় চার্লস ব্যাবেজকে এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয় জন ভন নিউম্যানকে। এই তথ্যগুলো বিসিএস পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: B) ফ্যাদোমিটার
১. কেন সঠিক:
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে শব্দের প্রতিফলন ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা হয়।
- পানির নিচে শব্দের বেগ এবং শব্দ পাঠিয়ে ফিরে আসতে লাগা সময় হিসাব করে গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: একে ইকো সাউন্ডিং প্রযুক্তি বলা হয়, যা সোনার তরঙ্গের প্রতিধ্বনি নীতির ওপর কাজ করে।
- কার্যপ্রণালি: জাহাজের তলা থেকে পানির নিচে শব্দ তরঙ্গ পাঠানো হয়, যা সমুদ্রের তলায় বাধা পেয়ে আবার ফিরে আসে।
- কারণ ও ফলাফল: শব্দ যাওয়ার এবং আসার মোট সময়কে শব্দের বেগ দিয়ে গুণ করে দুই দিয়ে ভাগ করলে গভীরতা পাওয়া যায়।
- বাস্তব প্রয়োগ: সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, নিরাপদ নেভিগেশন এবং জলবায়ু গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইকো সাউন্ডিং প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা: জাহাজে স্থাপিত এই যন্ত্রটি তরঙ্গ পাঠিয়ে নিমিষেই সমুদ্রের গভীরতা স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলে।
উদাহরণ ২: সোনাক ও বাদুড়ের চলাফেরা
ব্যাখ্যা: বাদুড় যেমন প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে পথ চলে, ফ্যাদোমিটারও ঠিক তেমনি প্রতিধ্বনির সাহায্যে গভীরতা মাপে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাইরাে কম্পাস — এটি এমন একটি কম্পাস যা পৃথিবীর ঘূর্ণন ব্যবহার করে উত্তর দিক নির্দেশ করে এবং দিক পরিবর্তনে সহায়তা করে।
B) ফ্যাদোমিটার — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি সমুদ্রের গভীরতা মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়।
C) সাবমেরিন — এটি সমুদ্রের পানির নিচে চলাফেরা করতে সক্ষম একটি জলযান, কোনো পরিমাপক যন্ত্র নয়।
D) এনিওমিটার — এটি বাতাসের গতিবেগ ও চাপ পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত একটি আবহাওয়া সংক্রান্ত যন্ত্র।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ফ্যাদোমিটার শব্দের শেষে মিটার আছে যা পরিমাপের নির্দেশ করে।
- গভীরতার একক ফ্যদম হওয়ায় এর নাম হয়েছে ফ্যাদোমিটার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমুদ্রের গভীরতার একক এবং পরিমাপক যন্ত্র প্রায়ই আসে।
- শব্দের বেগ এবং প্রতিধ্বনির সময় সংক্রান্ত গাণিতিক প্রশ্নও এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
সঠিক উত্তর: C) লাউড স্পিকার
১. কেন সঠিক:
লাউড স্পিকার এমন একটি শক্তি রূপান্তরকারী যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক সংকেতকে শ্রবণযোগ্য শব্দ তরঙ্গে রূপান্তরিত করে।
তড়িৎ প্রবাহ যখন স্পিকারের কয়েলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে কয়েলটি গতিশীল হয় এবং সাথে সংযুক্ত পর্দা কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: শক্তি সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়।
কার্যপ্রণালি: বৈদ্যুতিক শক্তি প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে এবং পরে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: রেডিও, টেলিভিশন, মাইক এবং মোবাইলে গান শোনার সময় এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি প্রতিনিয়ত ঘটে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কনসার্ট বা জলসায় ব্যবহৃত সাউন্ড সিস্টেম।
ব্যাখ্যা: অ্যাম্প্লিফায়ার থেকে আসা বিদ্যুৎ সংকেত লাউড স্পিকারের মাধ্যমে জোরালো শব্দ শক্তিতে পরিণত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
উদাহরণ ২: মসজিদের মাইক বা জনসভার লাউড স্পিকার।
ব্যাখ্যা: বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে মুখের কথা বা অডিও সিগন্যালকে অনেক দূর পর্যন্ত শব্দ আকারে পৌঁছানো হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেনারেটর — এই যন্ত্রটি যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে, যা ঠিক উল্টো প্রক্রিয়া।
B) এমপ্লিফাইয়ার — এটি দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতের মান বা শক্তি বৃদ্ধি করে, কোনো শক্তি রূপান্তর করে না।
C) লাউড স্পিকার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
D) মাইক্রোফোন — এই যন্ত্রটি শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা লাউড স্পিকারের বিপরীত কাজ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
লাউড স্পিকার মানেই শব্দ বা স্পিকারের আওয়াজ, তাই এটি বিদ্যুৎ থেকে শব্দ বানায়।
মাইক্রোফোনের কাজ ঠিক উল্টো, কারণ মাইক্রোফোনে আমরা কথা বলি অর্থাৎ শব্দ দিই এবং সেটি বিদ্যুৎ হয়ে প্রবেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শক্তির রূপান্তর থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
জেনারেটর, মাইক্রোফোন এবং লাউড স্পিকারের কাজগুলোর বিপরীত সম্পর্ক ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) হেস
১. কেন সঠিক:
ভিক্টর হেস ১৯১২ সালে বেলুনে চড়ে উঁচুতে উঠে পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করেন যে মহাকাশ থেকে একপ্রকার অতি ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন অদৃশ্য রশ্মি পৃথিবীতে আসে।
এই অবদানের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মহাজাগতিক রশ্মি হলো উচ্চ শক্তির চার্জযুক্ত কণা, যা প্রধানত প্রোটন এবং পারমাণবিক নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত।
বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে এসে এগুলো গ্যাসের অণুর সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে সেকেন্ডারি কণা তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অরোরা বা মেরুপ্রভা সৃষ্টির পেছনে মহাজাগতিক কণা এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া কাজ করে।
ব্যাখ্যা: চার্জযুক্ত কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে ধাক্কা লেগে আলো বিকিরণ করে।
উদাহরণ ২: উচ্চ altitude বা পাহাড়ি এলাকায় মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব কম থাকায় সেখানে রশ্মিগুলোর বাধা কম পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গোল্ডস্টাইন — গোল্ডস্টাইন অ্যানোড রশ্মি বা প্রোটন আবিষ্কারের সাথে যুক্ত।
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
B) হেস — ভিক্টর হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এটিই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
C) রাদারফোর্ড — রাদারফোর্ড পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস এবং আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করেছেন।
তিনি এই রশ্মি আবিষ্কার করেননি।
D) আইনস্টাইন — আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এবং আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার জন্য বিখ্যাত।
তিনি মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পাননি।
৫ মনে রাখার টিপস:
মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে আবিষ্কারক মনে রাখতে হেস নামটির সাথে হাই বা উঁচুতে ওড়ার বেলুন বিষয়টি মনে রাখতে পারেন।
উঁচু আকাশে বেলুনে চড়ে হেস এই রশ্মি আবিষ্কার করেছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভিক্টর হেস ১৯৩৬ সালে ভিক্টর ফ্রাঙ্কস হেস হিসেবে নোবেল পুরস্কার পান।
একই রকম প্রশ্ন আসতে পারে এক্স-রে বা তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারক কে তা নিয়ে।
সঠিক উত্তর: A) মাইক্রোওয়েভ
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রশ্নে প্রদত্ত সঠিক উত্তর B) গামা রশ্মি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। রাডারে মূলত মাইক্রোওয়েভ বা অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। গামা রশ্মি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিপজ্জনক তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ হওয়ায় রাডারে তা ব্যবহার করা হয় না।
১. কেন সঠিক:
- রাডারে তড়িৎ চৌম্বকীয় স্পন্দন পাঠানোর জন্য মাইক্রোওয়েভ বা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- এই তরঙ্গগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকায় যেকোনো বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রাডার শব্দের অর্থ হলো রেডিও ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং। এটি তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী বস্তুর অবস্থান, গতি ও দূরত্ব নির্ণয় করে।
- কার্যপ্রণালি: ট্রান্সমিটার থেকে মাইক্রোওয়েভ নির্গত হয়ে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যায় এবং কোনো বস্তুর গায়ে লেগে প্রতিসংকেত হিসেবে রিসিভারে ফিরে আসে।
- বাস্তব প্রয়োগ: বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং নৌচলাচলের দিক নির্ণয়ে মাইক্রোওয়েভভিত্তিক রাডার ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিমানবন্দর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল
ব্যাখ্যা: রাডার সিস্টেম মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে আকাশে চলাচলকারী বিমানের সঠিক অবস্থান ও গতি নির্ণয় করে দুর্ঘটনা রোধ করে।
উদাহরণ ২: আবহাওয়া পূর্বাভাসে ব্যবহৃত রাডার
ব্যাখ্যা: আকাশে মেঘের অবস্থান এবং বৃষ্টির পরিমাণ মাপতে মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মাইক্রোওয়েভ — রাডারে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত সঠিক তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ।
B) গামা রশ্মি — এটি অত্যন্ত উচ্চ শক্তির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ যা রাডারে ব্যবহার করা অসম্ভব ও ক্ষতিকর।
C) অবলােহিত বিকিরণ — এটি মূলত তাপীয় বিকিরণ হিসেবে কাজ করে, যা রাডার প্রযুক্তির জন্য উপযোগী নয়।
D) আলােক তরঙ্গ — এটি দৃশ্যমান বর্ণালীর অংশ এবং কুয়াশা বা মেঘ ভেদ করতে না পারায় রাডারে ব্যবহার করা হয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রাডার শব্দটি রেডিও তরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
- মনে রাখবে, রাডার মানেই অদৃশ্য মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে দূরবর্তী বস্তু খোঁজা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তড়িৎ চৌম্বক স্পেকট্রাম থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে রাডার কোন নীতিতে কাজ করে অথবা আলোর গতির সঙ্গে রাডার তরঙ্গের সম্পর্ক কী।
সঠিক উত্তর: C) এলুমিনিয়াম
১. কেন সঠিক:
- এলুমিনিয়াম একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ, যা চুম্বক দ্বারা জোরালোভাবে আকৃষ্ট হয় না।
- এটি চুম্বকত্ব প্রদর্শনে অক্ষম হওয়ায় চৌম্বক পদার্থের তালিকায় পড়ে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: চুম্বকের প্রতি পদার্থের আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে পদার্থকে প্রধানত ফেরোচৌম্বক, প্যারাচৌম্বক এবং ডায়াচৌম্বক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে লোহা বা ইস্পাত চুম্বকে পরিণত হয়, কিন্তু এলুমিনিয়াম সামান্য সাড়া দিলেও তা স্থায়ী বা প্রবল আকর্ষণ তৈরি করে না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ফ্রিজের দরজায় চুম্বকের আকর্ষণ।
ব্যাখ্যা: ফ্রিজের দরজায় লোহা বা ইস্পাত থাকে বলে চুম্বক সহজে আটকে থাকে, কিন্তু এলুমিনিয়ামের দরজায় তা হয় না।
উদাহরণ ২: পাটের তৈরি বা প্লাস্টিকের বস্তুর ওপর চুম্বকের প্রভাব।
ব্যাখ্যা: লোহা ছাড়া বেশিরভাগ ধাতব ও অধাতব পদার্থ চুম্বককে আকর্ষণ করে না, যেমন এলুমিনিয়াম বা কাঠ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইস্পাত — এটি একটি সংকর ধাতু এবং শক্তিশালী ফেরোচৌম্বক পদার্থ, তাই এটি চৌম্বক পদার্থ।
B) কাঁচা লৌহ — এটি নরম লোহা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ফেরোচৌম্বক পদার্থ, যা দ্রুত চুম্বকত্ব লাভ করে।
C) এলুমিনিয়াম — এটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ এবং চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না, তাই এটি সঠিক উত্তর।
D) কোবাল্ট — এটি একটি পরিচিত চৌম্বক ধাতু এবং ফেরোচৌম্বক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- লোহা, ইস্পাত ও কোবাল্ট চুম্বকের বন্ধু, কিন্তু এলুমিনিয়াম তাদের দলভুক্ত নয়।
- চৌম্বক পদার্থ মনে রাখতে লোহা, নিকেল ও কোবাল্টের নাম মনে রাখলেই চলে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই চৌম্বক ও অ-চৌম্বক পদার্থের উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়।
- ফেরোচৌম্বক পদার্থগুলোর নাম ভালোভাবে মুখস্থ রাখলে এই ধরনের প্রশ্ন সহজে উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: C) লৌহ
১. কেন সঠিক:
বিজ্ঞানের ভাষায় স্থিতিস্থাপকতা বলতে বোঝায় কোনো বস্তুর ওপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে বিকৃত করার পর বল সরিয়ে নিলে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতা। রাবারকে বেশি প্রসারিত করা গেলেও বাহ্যিক বল সরিয়ে নিলে এটি নিখুঁতভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না, কিন্তু লৌহ তার অণুগুলোর শক্তিশালী আন্তঃআণবিক আকর্ষণের কারণে বাহ্যিক বল সরানোর পর নিখুঁতভাবে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: স্থিতিস্থাপকতা হলো পদার্থের এমন একটি ধর্ম যার ফলে বাহ্যিক বল প্রয়োগের কারণে সৃষ্ট বিকৃতি বস্তু বাধা দেয় এবং বল অপসারণ করলে পূর্বের আকৃতি ফিরে পায়।
কারণ ও ফলাফল: রাবারকে সহজেই অনেক বেশি লম্বা করা যায় কিন্তু এর স্থিতিস্থাপক ক্লান্তি বেশি এবং এটি স্থায়ীভাবে কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে লৌহ বা ইস্পাতের অণুগুলোর ভেতরের আন্তঃআণবিক বল অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এর স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে বেশি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইস্পাতের তৈরি সেতু বা স্প্রিং বারবার ভারী বোঝা বহন করার পরেও তার পূর্বের আকারে ফিরে আসে।
ব্যাখ্যা: এর কারণ ইস্পাত বা লৌহের স্থিতিস্থাপকতা অনেক বেশি হওয়ায় এটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী হয়।
উদাহরণ ২: একটি রাবার ব্যান্ড বারবার টানলে তা একসময় ঢিলে হয়ে যায় এবং সহজে আগের আকৃতি ফিরে পায় না।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে বাহ্যিক প্রসারণ বেশি হলেও রাবারের স্থিতিস্থাপকতা লৌহের চেয়ে কম।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এলুমিনিয়াম — এটি একটি ধাতু হলেও এর আন্তঃআণবিক বন্ধন লৌহের তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী হওয়ায় এর স্থিতিস্থাপকতা লৌহের চেয়ে কম।
B) রাবার — সাধারণ ধারণায় রাবারকে বেশি নমনীয় ভাবা হলেও পদার্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী এর স্থিতিস্থাপকতা লৌহের চেয়ে কম।
C) লৌহ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অণুগুলোর ভেতরের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপক সীমা অন্য অপশনগুলোর তুলনায় বেশি।
D) তামা — তামার নমনীয়তা ও ঘাতসহনশীলতা বেশি হলেও এর স্থিতিস্থাপকতা লৌহের মতো অতটা প্রবল নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
যে ধাতু যত বেশি কঠিন এবং যার অণুগুলোর আকর্ষণ যত বেশি দৃঢ়, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী তার স্থিতিস্থাপকতাও তত বেশি হয়। রাবার নরম হওয়ায় অনেকেই একে বেশি স্থিতিস্থাপক মনে করে ভুল করেন, যা বর্জন করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে যেখানে রাবার এবং লোহার মধ্যে স্থিতিস্থাপকতার তুলনামূলক পার্থক্য জানতে চাওয়া হয়। মনে রাখতে হবে, বিকৃতির পরিমাণ এবং স্থিতিস্থাপকতা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈজ্ঞানিক ধারণা।
সঠিক উত্তর: B) লৌহ
১. কেন সঠিক:
লৌহ বা লোহা কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়, এটি একটি সাধারণ এবং অত্যন্ত পরিচিত চৌম্বকীয় ধাতু। তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে হলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে অত্যন্ত ভারী এবং অস্থায়ী হতে হয়, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: তেজস্ক্রিয়তা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলফা, বিটা বা গামা কণা নির্গমন করে স্থায়ী মৌলে রূপান্তরিত হয়। লৌহের পারমাণবিক সংখ্যা ছাব্বিশ এবং এর পারমাণবিক ভর ছাপ্পান, যা তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শনের জন্য যথেষ্ট ভারী নয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঘরের দরজা বা জানালার গ্রিল তৈরিতে লোহা ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: লোহা সাধারণ তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও অতেজস্ক্রিয় ধাতু হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ ২: মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের প্রধান উপাদান হিসেবে লোহা থাকে।
ব্যাখ্যা: লোহা জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং এর কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নেই বলেই এটি মানবদেহের জন্য নিরাপদ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইউরেনিয়াম — এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অত্যন্ত ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা বিরানব্বই।
B) লৌহ — এটি সাধারণ ধাতু এবং সঠিক উত্তর কারণ এটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটায় না।
C) প্লুটোনিয়াম — এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরিকৃত ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা চুরানব্বই।
D) নেপচুনিয়াম — এটি একটি তেজস্ক্রিয় অ্যাক্টিনাইড মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা তিরানব্বই।
৫ মনে রাখার টিপস:
তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত বিরাশি বা তার বেশি হয়ে থাকে। লোহা অনেক হালকা ধাতু বিধায় এটি তেজস্ক্রিয় হতে পারে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল হলো ইউরেনিয়াম। একই ধরনের প্রশ্নে প্রায়ই তেজস্ক্রিয় এবং অতেজস্ক্রিয় মৌল আলাদা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: A) জয়নুল আবেদীন
১. কেন সঠিক:
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক দৃশ্য নিজের তুলিতে ফুটিয়ে তুলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
তার এই চিত্রকর্মগুলো বাংলার মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও মানবিক বিপর্যয়ের এক অবিনাশী দলিল হিসেবে ইতিহাসে সংরক্ষিত আছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের খাদ্য নীতি ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে ১৯৪৩ সালে বাংলায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা যায়, যা জয়নুল আবেদীনকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি কলকাতার রাস্তায় ঘুরে স্কেচ করেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা: তিনি সে সময়ে বাংলার মানুষের ওপর চলা শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কলম ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন।
উদাহরণ ২: শিল্পী এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা: তিনি বাংলার গ্রামীণ জনপদের কৃষক ও মেহনতি মানুষের শক্তি ও জীবন সংগ্রাম তার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জয়নুল আবেদীন — তিনি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের উপর ছবি এঁকে বিখ্যাত হন এবং বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার জনক হিসেবে পরিচিত।
B) এস এম সুলতান — তিনি বাংলার গ্রামীণ কৃষক সমাজের জীবনযাত্রা এবং তাদের পেশীশক্তির চিত্রায়নের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
C) কামরুল হাসান — তিনি একজন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আঁকা পাকিস্তানি জেনারেল ইয়াহিয়ার মুখের পশুর চিত্রটির জন্য পরিচিত।
D) শফিউদ্দিন আহমদ — তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং প্রিন্টমেকার, যিনি নদী ও মাছের জীবন নিয়ে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ছবি মানেই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
তার আঁকা দুর্ভিক্ষের স্কেচগুলো তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং তাকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
জয়নুল আবেদীনের চিত্রকর্ম এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ৫০
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
- বর্তমান বিধান অনুযায়ী সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে।
২. সংবিধান ও আইন:
- সংবিধান ও আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত আছে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রে নারীক্ষমতায়ন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ সরাসরি নিশ্চিত করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা: এই নির্বাচনে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীরা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালে সংবিধোধনের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৫ — এই সংখ্যাটি সঠিক নয় কারণ এটি বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের প্রকৃত হিসাবের সাথে মেলে না।
B) ২০ — এটি অপর্যাপ্ত এবং অতীতে বা বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ছিল না।
C) ৩০ — এটি পূর্ববর্তী সংবিধানের কোনো কোনো সংশোধনীর সময়কার সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ছিল, যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়।
D) ৫০ — এটি সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী সঠিক এবং নির্ভুল উত্তর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখার কৌশল: বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদ মোট ৩৫০ সদস্যের, যার মধ্যে ৩০০ সাধারণ এবং ৫০ সংরক্ষিত নারী আসন।
- সংক্ষেপে মনে রাখুন মোট আসন তিনশো যোগ পঞ্চাশ সমান সাড়ে তিনশো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এই প্রশ্নটি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ছাড়াও মোট আসন সংখ্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭
১. কেন সঠিক:
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘ আড়াই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে এবং শান্তি ফিরে আসে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৭ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও অধিকার আদায়ের নামে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছিল।
তারিখ ও স্থান: ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: সরকারের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সরকারের প্রধান হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পাহাড়িদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটে এবং আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন।
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এই সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন।
ব্যাখ্যা: এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন যা জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭ — এই অপশনটি সঠিক কারণ চুক্তিটি এই দিনেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
B) নভেম্বর ১২, ১৯৯৭ — এই তারিখটি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
C) ডিসেম্বর ১৬, ১৯৯৭ — এটি বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, যা শান্তিচুক্তির তারিখ নয়।
D) ডিসেম্বর ২৫, ১৯৯৭ — এটি খ্রিস্টধর্মের বড়দিন এবং এই তারিখে শান্তিচুক্তি হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৯৭ সালের শেষের দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিজয় দিবসের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই চুক্তি কোন সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত হয় তা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) ১১টি
১. কেন সঠিক:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি ভৌগোলিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলগত সুবিধা এবং সামরিক কমান্ড সুদৃঢ় করার জন্য এই বিভাজন করা হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য:
১৯৭১ সালের ১১ই জুলাই অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডার্স কনফারেন্সে এই ১১টি সেক্টর এবং একজন করে সেক্টর কমান্ডার চূড়ান্ত করা হয়।
১০ নম্বর সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমী বা নৌ সেক্টর, যার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল না এবং এটি সাবমেরিন ও নৌ অপারেশন পরিচালনা করত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা: চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে গঠিত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে মেজর রফিকুল ইসলাম।
উদাহরণ ২: ১১ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা: রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা নিয়ে গঠিত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ তাহের এবং পরবর্তীতে স্কোয়াড্রন লিডার এম হামিদুল্লাহ খান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১১টি - এটি সঠিক উত্তর কারণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
B) ৯টি - এই সংখ্যাটি ভুল কারণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরের সংখ্যা ৯টি ছিল না, বরং ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টর ছিল।
C) ১৫টি - এই সংখ্যাটি ভুল এবং ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে এর কোনো মিল নেই, কারণ সেক্টরের সংখ্যা ১১টি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
D) ১৭টি - এই সংখ্যাটি ভুল কারণ মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরের সংখ্যা ১৭টি ছিল না, এটি একটি বিভ্রান্তিকর অপশন।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সংখ্যা মনে রাখতে মনে রাখুন বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সেক্টর সংখ্যা ১১।
নৌ সেক্টর ছাড়া বাকি ১০টি সেক্টরের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল এবং এর সাথে ১০ যোগ করলে ১১ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ১০ নম্বর সেক্টর সম্পর্কে প্রশ্ন আসে যার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
সেক্টর ছাড়াও সমগ্র দেশকে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সঠিক উত্তর: B) ২৪০০ বর্গমাইল
১. কেন সঠিক:
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার, যার বাংলাদেশ অংশ প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বা ২৪০০ বর্গমাইল।
- প্রচলিত প্রশ্নগুলোতে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন বর্গমাইল এককে ২৪০০ বর্গমাইল হিসেবে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্ত: সুন্দরবন বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি রামসার সাইট হিসেবেও সংরক্ষিত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ
ব্যাখ্যা: সুন্দরী গাছের নামানুসারেই এই বনের নাম সুন্দরবন হয়েছে যা লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়।
উদাহরণ ২: রয়েল বেঙ্গল টাইগার
ব্যাখ্যা: সুন্দরবন বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৫০ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের সঠিক আয়তন নয় বরং অন্য কোনো ভৌগোলিক এলাকার পরিমাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
B) ২৪০০ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের সঠিক আয়তন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এটিই সঠিক বলে গণ্য হয়।
C) ১৮৬০ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের আয়তনের সঙ্গে মিলে না এবং এটি একটি ভুল পরিমাপ।
D) ৯২৫ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের মোট আয়তন বা বাংলাদেশ অংশের পরিমাণের তুলনায় অনেক কম এবং বিভ্রান্তিকর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ২৪০০ বর্গমাইল বা প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার সংখ্যা দুটি মনে রাখলে যেকোনো অপশন সহজে চিহ্নিত করা যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুন্দরবন কোন কোন জেলায় বিস্তৃত এবং ইউনেস্কো কবে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে তা প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: B) 1972
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি অর্জনের অংশ হিসেবে কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩২তম সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বৈদেশিক নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তাৎপর্য ও ফলাফল: কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ করে।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়।
ব্যাখ্যা: এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দরজা খুলে দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 1973 — এই সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করেনি, বরং ১৯৭২ সালেই এই অর্জন সম্পন্ন হয়েছিল।
B) 1972 — এই অপশনটি সঠিক কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পরেই এই সদস্যপদ পায়।
C) 1974 — এই সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যপদ পায়নি, তবে এই বছরেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছিল।
D) 1975 — এই সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক রাজনীতিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল, যা কমনওয়েলথ সদস্যপদ লাভের সাল নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথের সদস্য হয়।
জাতিসংঘে যোগদানের সাল ১৯৭৪ এবং কমনওয়েলথে যোগদানের সাল ১৯৭২, এই দুটি সাল গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কমনওয়েলথ হলো মূলত ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলাদেশ কততম সদস্য হিসেবে কমনওয়েলথে যোগ দেয়, যার সঠিক উত্তর হলো ৩২তম।
সঠিক উত্তর: A) ট্রপিক অব ক্যানসার
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ কর্কটক্রান্তি রেখা বা ট্রপিক অব ক্যানসার এর ওপর অবস্থিত।
- এই কাল্পনিক রেখাটি দেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
২. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্ত:
- ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ: এটি ২০° ৩৪ থেকে ২৬° ৩৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮° ০১ থেকে ৯২° ৪১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা শুধু বাংলাদেশের ওপর দিয়েই নয়, ভারতের কয়েকটি রাজ্যের ওপর দিয়েও অতিক্রম করেছে।
উদাহরণ ২: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় বা মৌসুমী প্রকৃতির হয়ে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ট্রপিক অব ক্যানসার - এটি সঠিক উত্তর কারণ এই রেখাটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গেছে।
B) ট্রাপিক অব ক্যপ্রিকন - এটি মকরক্রান্তি রেখা যা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে হওয়ায় এটি প্রযোজ্য নয়।
C) ইকুয়েটর - এটি বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা যা পৃথিবীর মাঝ বরাবর অবস্থিত এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ দিক দিয়ে গেছে, এর ওপর বাংলাদেশ অবস্থিত নয়।
D) আর্কটিক সার্কেল - এটি উত্তর বৃত্ত যা পৃথিবীর উত্তর মেরু অঞ্চলে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের অবস্থান এর অনেক দক্ষিণে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থিত।
- কর্কটক্রান্তি রেখার ইংরেজি নাম ট্রপিক অব ক্যানসার এবং এর মান ২৩.৫° উত্তর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বাংলাদেশের অক্ষাংশগত অবস্থান এবং কোন রেখাটি দেশের ওপর দিয়ে গেছে তা জানতে চাওয়া হয়।
- এই প্রশ্নটি ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ভৌগোলিক অবস্থান সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশ্নও সহজে সমাধান করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) ৬৮ জন
১. কেন সঠিক:
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মোট সংখ্যা ৬৭৬ জন। এর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীর প্রতীক প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৭৫ জন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৮ জন এবং সর্বোচ্চ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭ জন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও খেতাব পরিচিতি:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার চার ধরণের বীরত্বসূচক খেতাব ঘোষণা করে। বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের ১৫ জুন এই খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট প্রকাশিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা: তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
উদাহরণ ২: কে এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা: তিনি এস ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন এবং সাহসিকতার জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৫৮ জন — এটি সঠিক সংখ্যা নয় কারণ মুক্তিযুদ্ধে বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫৮ জন ছিল না।
B) ৪২ জন — এই সংখ্যাটি সঠিক নয় কারণ বীর উত্তমের নির্দিষ্ট সংখ্যা ৪২ জন নয়।
D) ৬২ জন — এটি ভুল সংখ্যা কারণ বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের সঠিক তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যাটি প্রযোজ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বীরত্বসূচক খেতাবগুলো মনে রাখার সহজ উপায় হলো মোট খেতাবপ্রাপ্তদের সংখ্যা মনে রাখা যা হলো ৬৭৬ জন। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্তদের সংখ্যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন আসতে পারে যেমন মুক্তিযুদ্ধে মোট কতজন বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন অথবা মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশী নাগরিক কে।
সঠিক উত্তর: C) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অপারেশন সার্চলাইট শুরুর প্রাক্কালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান এই দম্ভোক্তি করেছিলেন।
- বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলন দমাতে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতা এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই সামরিক দম্ভের মাধ্যমেই মূলত ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা অবধারিত হয়ে ওঠে এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা: ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর যে বর্বর গণহত্যা চালায় তা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
উদাহরণ ২: ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা
ব্যাখ্যা: ইয়াহিয়া খানের এই দমনপীড়ন ও গ্রেফতারের আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যা এই আত্মত্যাগী যুদ্ধের ভিত্তি স্থাপন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেনারেল টিক্কা খান — তিনি অপারেশন সার্চলাইটের সময় পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন প্রশাসক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের প্রধান বাস্তবায়নকারী ছিলেন, তবে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি তার নয়।
B) জেনারেল নিয়াজী — তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন।
D) জেনারেল হামিদ খান — তিনি সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন এবং সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ১৯৭১ সালের শুরুতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সামরিক শাসক ছিলেন ইয়াহিয়া খান, তাই নীতিগত দম্ভোক্তি বা হুমকি তিনিই দিয়েছিলেন।
- টিক্কা খান ছিলেন মাঠে রক্তপাত ঘটানো জল্লাদ, আর ইয়াহিয়া ছিলেন সামগ্রিক দমনপীড়নের প্রধান নির্দেশদাতা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অপারেশন সার্চলাইটের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা কে ছিলেন, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত এবং ইয়াহিয়া খানের ভূমিকা সম্পর্কিত প্রশ্ন বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) হিটলার
১. কেন সঠিক:
উক্তিটি নাৎসি জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের উগ্র ও যুদ্ধংদেহী মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তার রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনে যুদ্ধকে মানবজীবনের একটি স্বাভাবিক ও শ্রেষ্ঠ অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
অ্যাডলফ হিটলার বিশ্বাস করতেন সামরিক শক্তি ও আগ্রাসনের মাধ্যমেই জাতির বিস্তার ও টিকে থাকা সম্ভব।
তার এই আগ্রাসী নীতি ও বিশ্বজয়ের স্বপ্নই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার প্রধান কারণ ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হিটলারের আত্মজীবনী মেইন কামফ।
ব্যাখ্যা: এই বইটিতে তার উগ্র জাতীয়তাবাদী ও যুদ্ধবাদী দর্শনের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।
উদাহরণ ২: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
ব্যাখ্যা: হিটলারের এই যুদ্ধংদেহী নীতির পরিণামে পুরো বিশ্বে কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফ্রাঙ্কো — ইনি স্পেনের একনায়ক ছিলেন তবে এই বিশেষ উক্তিটির সঙ্গে তার সরাসরি ঐতিহাসিক সংযোগ নেই।
B) সালজার — ইনি পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার শাসনপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন ধারার ছিল।
D) মুসােলিনী — ইনি ইতালির ফ্যাসিস্ট নেতা হলেও এই নির্দিষ্ট উক্তিটি হিটলারের বলেই বিশ্ব রাজনীতিতে পরিচিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
যুদ্ধকে জীবন বলে মনে করতেন উগ্র যুদ্ধবাজ নেতা হিটলার।
তার মেইন কামফ বই ও নাৎসি মতাদর্শের মূল ভিত্তি ছিল রক্ত ও যুদ্ধ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিশ্ব ইতিহাসের বিখ্যাত রাজনৈতিক উক্তিগুলো প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নও পরীক্ষাতে থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) চট্টগ্রামে
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আশির দশকে বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের সূচনা হয়। এই নীতির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রথম ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তারিখ ও স্থান: চট্টগ্রামের হালিশহরে ১৯৮৩ সালে প্রথম এই ইপিজেড আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা এই অঞ্চলগুলোর সামগ্রিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: চট্টগ্রাম ইপিজেডের সফলতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আরও ইপিজেড স্থাপনে উৎসাহিত করে। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা ইপিজেড
ব্যাখ্যা: চট্টগ্রামের সাফল্যের পর ১৯৯৩ সালে সাভারে দ্বিতীয় ইপিজেড বা ঢাকা ইপিজেড স্থাপিত হয়।
উদাহরণ ২: মংলা ইপিজেড
ব্যাখ্যা: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ২০০১ সালে মোংলা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এই ইপিজেড স্থাপন করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চট্টগ্রামে — এটি সঠিক উত্তর কারণ বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড এখানেই ১৯৮৩ সালে স্থাপিত হয়েছিল।
B) সাভারে — সাভারে দেশের দ্বিতীয় বা ঢাকা ইপিজেড অবস্থিত, যা প্রথম ইপিজেড নয়।
C) মংলায় — মংলা ইপিজেড পরবর্তীতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়।
D) ঈশ্বরদীতে — ঈশ্বরদী ইপিজেড উত্তরের অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পরবর্তীতে স্থাপিত একটি ইপিজেড।
৫. মনে রাখার টিপস:
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় প্রথম ইপিজেডও চট্টগ্রামেই স্থাপিত হয়েছিল। সালটি মনে রাখতে পারেন ১৯৮৩ সাল, যা বাংলাদেশে ইপিজেড যুগের সূচনা করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বেপজা কত সালে গঠিত হয় এবং এর অধীনে বর্তমানে কতটি সচল ইপিজেড রয়েছে, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে দেশের প্রথম ইপিজেড কোন সালে চালু হয়।
সঠিক উত্তর: A) ৪.৮ কি. মি.
১. কেন সঠিক:
বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হলো ৪.৮ কিলোমিটার বা ৪৮০০ মিটার, যা যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম রেল ও সড়ক সেতু।
এই সেতুটি যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল এবং পশ্চিম পাড়ের সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
২. ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত প্রেক্ষাপট:
ভৌগোলিক অবস্থান: যমুনা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অর্থনৈতিক তাৎপর্য: ১৯৯৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি জাতীয় জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখছে এবং যমুনা নদী পারাপারের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পদ্মা সেতু।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম বহুমুখী সেতু যার দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
উদাহরণ ২: হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।
ব্যাখ্যা: এটি পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেলসেতু, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৮ কিলোমিটার এবং এটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪.৮ কি. মি. — এটি বঙ্গবন্ধু সেতুর সঠিক দৈর্ঘ্য এবং এটি যমুনা নদীর দুই তীরকে সংযুক্ত করেছে।
B) ৪.৫ কি. মি. — এটি একটি ভুল পরিমাপ এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর সঠিক দৈর্ঘ্যের সঙ্গে মিল নেই।
C) ৫.২ কি. মি. — এই মাপটি ভুল কারণ বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটারের কম।
D) ৬.২ কি. মি. — এই সংখ্যাটি পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি, যা বঙ্গবন্ধু সেতুর সঠিক দৈর্ঘ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য মনে রাখতে মনে রাখুন এর দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের সামান্য কম অর্থাৎ চার দশমিক আট কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ছয় দশমিক এক পাঁচ কিলোমিটার আর বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য চার দশমিক আট কিলোমিটার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হয় ২৩ জুন ১৯৯৮ সালে এবং এর ওপর দিয়ে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২১ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য এবং নদী নিয়ে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: A) ১৮ বছর
১. কেন সঠিক:
- গণপ্রজাত বাংলাদেশের সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
২. সংবিধান ও আইন:
- সংবিধান ও আইন: গণপ্রজাত বাংলাদেশের সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত হয়েছে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই বিধানের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণ সমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা: দেশের সাধারণ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হওয়া বাধ্যতামূলক শর্ত।
উদাহরণ ২: স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ব্যাখ্যা: উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই বয়সসীমা প্রযোজ্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৮ বছর — এটি ভোটার হওয়ার সঠিক এবং সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ন্যূনতম বয়স।
B) ১৬ বছর — এই বয়সে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কেউ প্রাপ্তবয়স্ক বা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য হন না।
C) ১৯ বছর — এই বয়সসীমা ভোটার হওয়ার ন্যূনতম শর্তের চেয়ে বেশি, তাই এটি সঠিক নয়।
D) ২১ বছর — অতীতে কিছু ক্ষেত্রে বয়সসীমা ভিন্ন থাকলেও বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এটি সঠিক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ১৮ বছর বয়সে ভোটার হওয়া যায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়, যা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আইনি স্বীকৃতি।
- এই বয়সসীমা সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত।
- একই বিষয় থেকে অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে, যেমন ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণের সাংবিধানিক বিধান কোন অনুচ্ছেদে আছে।
সঠিক উত্তর: C) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলের মাধ্যমে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুয়দয় ঘটে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনী ও বাঙালি জাতির যৌথ আঘাতের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা এক মিনিটে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এই ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকার এবং পাকিস্তানের পক্ষে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মুজিবনগর সরকার
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এই অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল।
উদাহরণ ২: বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা: আত্মসমর্পণের ঠিক প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে, যা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গভীর শোকের অধ্যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পল্টন ময়দানে — পল্টন ময়দান ঐতিহাসিক বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের সাক্ষী হলেও ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী এখানে আত্মসমর্পণ করেনি।
B) রমনা পার্কে — রমনা পার্ক রেসকোর্স ময়দানের সংলগ্ন এলাকা হলেও মূল আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
D) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে — এটি সঠিক উত্তর, তবে প্রশ্নে এই অপশনটি পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং এটিই মূল ঐতিহাসিক স্থান।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, এটি মনে রাখা অত্যন্ত সহজ।
- সাল ১৯৭১ এবং স্থান রেসকোর্স ময়দান, এই দুটি তথ্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সর্বদা মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আত্মসমর্পণের দলিলে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেছিলেন, এই প্রশ্নটি প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- একই বিষয় থেকে দলিল স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি, সময়কাল এবং তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাপতির নাম নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) মেহেরপুরে
১. কেন সঠিক:
মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আমবাগানকে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠনের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
এই ঐতিহাসিক স্থানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখান থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালানা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ১০ এপ্রিল জারীকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয় এবং স্থানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুজিবনগর।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা মুজিবনগর সরকার।
ব্যাখ্যা: এই সরকার গঠনের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক ও কাঠামোগত রূপ লাভ করে।
উদাহরণ ২: ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
ব্যাখ্যা: এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ জাতির উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মেহেরপুরে — এই অপশনটি সঠিক কারণ মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত এবং এখানেই প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) সাতক্ষীরায় — এই অপশনটি ভুল কারণ সাতক্ষীরা বাংলাদেশের একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যা মুক্তিযুদ্ধের সময় আট নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল কিন্তু মুজিবনগর এখানে অবস্থিত নয়।
C) চুয়াডাঙ্গায় — এই অপশনটি ভুল কারণ চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর সংলগ্ন একটি জেলা হলেও ঐতিহাসিক মুজিবনগর মূলত মেহেরপুর জেলার ভবেরপাড়া বা বৈদ্যনাথতলায় অবস্থিত।
D) নবাবগঞ্জে — এই অপশনটি ভুল কারণ নবাবগঞ্জ বা বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের একটি সীমান্ত জেলা যা মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুজিবনগর শব্দটি শুনলেই মনে রাখতে হবে এটি মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার পুরোনো নাম।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালের এই দিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছিল যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান মাইলফলক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে মুজিবনগর সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন যার সঠিক উত্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
একইভাবে প্রশ্ন আসতে পারে মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন কে যার সঠিক উত্তর অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
সঠিক উত্তর: C) পুণ্ড্র
১. কেন সঠিক:
- পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্র বাংলার প্রাচীনতম জনপদ ও ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- মৌর্য ও গুপ্ত আমল থেকে শুরু করে প্রাচীন বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে পুণ্ড্র সবচেয়ে প্রাচীন জনপদের মর্যাদা লাভ করেছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদের কেন্দ্র ছিল বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়।
- ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা: এটি পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল এবং বাংলার প্রাচীনতম নগরী হিসেবে পরিচিত।
উদাহরণ ২: পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি
ব্যাখ্যা: গুপ্ত ও পাল যুগে পুণ্ড্র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল বা ভুক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিক্রমপুর — এটি প্রাচীন বাংলার একটি জনপদ ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হলেও পুণ্ড্রর মতো প্রাচীনতম স্থান নয়।
B) সােনারগাঁও — এটি মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতানদের রাজধানী ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল।
D) গোপালগঞ্জ — এটি বাংলাদেশের একটি আধুনিক জেলা এবং প্রাচীন বাংলার প্রধান ঐতিহাসিক জনপদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- প্রাচীনতম স্থান বা জনপদ বললে পুণ্ড্র বা মহাস্থানগড় মনে রাখবে।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ই প্রাচীন পুণ্ড্রনগরীর অবশিষ্টাংশ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলার প্রাচীন জনপদ ও তাদের রাজধানীর নাম প্রায়ই আসে।
- পুণ্ড্র জনপদের বর্তমান অবস্থান কোথায়, তা মহাস্থানগড় বা বগুড়া হিসেবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
১. কেন সঠিক:
হাজী শরীয়ত উল্লাহ ছিলেন বাংলার ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সূচনাকারী।
তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ ভারতের অধঃপতিত মুসলিম সমাজে ইসলামের মৌলিক অনুশাসন প্রচার এবং সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে এই আন্দোলন শুরু করেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ফরায়েজী আন্দোলন মূলত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপ লাভ করে।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের কুসংস্কার ও বেদআত মুক্ত করা এবং ধর্মের আবশ্যিক কর্তব্য বা ফায়েজ পালন নিশ্চিত করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে বাংলার গ্রামীণ কৃষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল।
উদাহরণ ২: ইব্রাহিম খাঁ ও দুধু মিয়া।
ব্যাখ্যা: হাজী শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুধু মিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাজী মােহাম্মদ মহসীন — ইনি একজন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন যিনি মহসীন ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন কিন্তু ফরায়েজী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
B) তিতুমীর — ইনি বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।
C) হাজী শরীয়ত উল্লাহ — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন।
D) হাজী দানেশ — ইনি তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফরায়েজী আন্দোলনের 'ফ' থেকে শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলনের নাম এবং 'হাজী শরীয়ত উল্লাহ' নামটি মনে রাখা সহজ।
তিতুমীর ও হাজী শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলন দুটি যেন গুলিয়ে না যায়, কারণ তিতুমীরের আন্দোলন ছিল বাঁশের কেল্লা কেন্দ্রিক আর শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলন ছিল ফরায়েজী।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে বা দুধু মিয়া কে ছিলেন তা জানতে চাওয়া হয়।
এই টপিক থেকে ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং এর পরবর্তী নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) দ্বাদশ
১. কেন সঠিক:
দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ সালে পাস হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ফিরে আসে এবং রাষ্ট্রপতি হন সাংবিধানিক প্রধান।
২. সংবিধান ও আইন:
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট: সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
আইনগত পরিবর্তন: দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের বিধান এবং ৪৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি পদের রূপ পরিবর্তন করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট প্রণীত ও পাসকৃত দ্বাদশ সংশোধনী।
ব্যাখ্যা: এই সংশোধনী পাসের মাধ্যমে দেশে দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদীয় ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিশ্চিত হয়।
উদাহরণ ২: ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত গণভোট।
ব্যাখ্যা: দ্বাদশ সংশোধনী কার্যকর করার পূর্বে জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নবম — এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একই ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং উপরাষ্ট্রপতি পদ সম্পর্কিত বিধান আনা হয়েছিল।
B) অষ্টম — এই সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয় এবং বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল।
C) একাদশ — এই সংশোধনী ১৯৯১ সালে পাস হয় এবং এর মাধ্যমে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের সরকারের বৈধতা ও তার স্ব পদে ফিরে যাওয়ার বিধান নিশ্চিত করা হয়।
D) দ্বাদশ — এই অপশনটি সঠিক কারণ এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
দ্বাদশ মানে বারো এবং সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা বারো মাস জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেন।
১৯৯১ সালে সংবিধানের এই দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুনর্জন্ম ঘটেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি রাষ্ট্রপতিশাসিত থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে, দ্বাদশ সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: C) ৬৪টি
১. কেন সঠিক:
- বর্তমান বাংলাদেশে প্রশাসনিক জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য জেলাগুলোর পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং ১৯৮৪ সালে বর্তমান ৬৪টি জেলার রূপ চূড়ান্ত হয়।
২. প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা:
- প্রশাসনিক কাঠামো: বাংলাদেশকে বর্তমানে ৮টি প্রশাসনিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগের অধীনে একাধিক জেলা রয়েছে।
- স্থানীয় সরকার: জেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা জেলা
ব্যাখ্যা: ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী জেলা এবং এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ২: রাঙ্গামাটি জেলা
ব্যাখ্যা: আয়তনের দিক থেকে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৫৪টি — এটি বাংলাদেশের বর্তমান জেলার সঠিক সংখ্যা নয়।
B) ৩৬টি — অতীতে বৃহত্তর জেলার সংখ্যা বা অন্য কোনো প্রশাসনিক একক বোঝাতে এই সংখ্যা আসে, যা বর্তমান জেলার সংখ্যা নয়।
C) ৬৪টি — এটি বর্তমান বাংলাদেশের জেলার সঠিক ও অনুমোদিত সংখ্যা।
D) ৪৪টি — এটি বাংলাদেশের জেলার সঠিক সংখ্যা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বাংলাদেশের বিভাগ ৮টি এবং প্রতিটি বিভাগে গড়ে ৮টি করে জেলা থাকলে আট গুণ আট সমান চৌষষ্টি বা ৬৪ হয়, এভাবেই মনে রাখা যায়।
- ৮ বিভাগ গুণ ৮ জেলা সমান ৬৪ জেলা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জেলা সংখ্যা, উপজেলা সংখ্যা এবং বিভাগ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- একই বিষয় থেকে সর্বশেষ গঠিত জেলা বা উপজেলার নাম সম্পর্কিত প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে। এর মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন দেশের শাসনতান্ত্রিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
২. বাংলাদেশ সংবিধান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
তারিখ ও স্থান: ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন গণপরিষদে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
সংবিধান ও আইন: ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সংবিধান কার্যকর হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়।
ব্যাখ্যা: সংবিধান গৃহীত হওয়া এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ দুটি আলাদা, যা পরীক্ষার্থীদের প্রায়ই বিভ্রান্ত করে।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
ব্যাখ্যা: স্বাক্ষর করার দুই দিন পর সংবিধান কার্যকর করা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দিন থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
B) জানুয়ারি ১০, ১৯৭২ — এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক তারিখ।
C) নভেম্বর ৪, ১৯৭২ — এটি সেই দিন যেদিন গণপরিষদে সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছিল।
D) অক্টোবর ১১, ১৯৭২ — এটি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংবিধান খসড়া কমিটির খসড়া পেশ করার তারিখ।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং বিজয়ের দিন অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর তা কার্যকর করা হয়।
সংবিধান গ্রহণের মাস নভেম্বর এবং কার্যকর করার মাস ডিসেম্বর এভাবে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংবিধান গৃহীত হওয়ার তারিখ এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ আলাদা তা মনে রাখতে হবে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে সংবিধানের খসড়া কমিটি কবে গঠিত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) ইয়াংসিকিয়াং
১. কেন সঠিক:
- ইয়াংসিকিয়াং বা ইয়াংসি নদী এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।
- এটি চীনের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্ব চীন সাগরে পতিত হয়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩০০ কিলোমিটার।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ/সংস্থা: চীন
- ভৌগোলিক অবস্থান: নদীটি সম্পূর্ণভাবে চীন দেশের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: এটি চীনের অর্থনীতি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ফলাফল/প্রভাব: চীনের তিন গোর্জ বাঁধ বা থ্রি গর্জেস ড্যাম এই নদীর ওপর অবস্থিত যা বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমাজন নদী
ব্যাখ্যা: এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত এবং জলপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম নদী।
উদাহরণ ২: নীল নদ
ব্যাখ্যা: এটি আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বেও দীর্ঘতম নদী হিসেবে পরিচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইয়াংসিকিয়াং — এটি এশিয়ার দীর্ঘতম নদী এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩০০ কিলোমিটার।
B) হােয়াংহাে — এটি চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং একে পীত নদী বা হলুদ নদী বলা হয়।
C) গঙ্গা — এটি বাংলাদেশ ও ভারতের একটি প্রধান আন্তর্জাতিক নদী যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫২৫ কিলোমিটার।
D) সিন্ধু — এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান নদী যা পাকিস্তান ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং আর বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- চীনের সবচেয়ে দীর্ঘ নদী ইয়াংসিকিয়াং মনে রাখলে এশিয়ার দীর্ঘতম নদীর উত্তরও সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- নদী ও ভৌগোলিক অবস্থান থেকে প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
- থ্রি গর্জেস ড্যাম কোন নদীর ওপর অবস্থিত এই প্রশ্নটিও পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ৯টি
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতায় তৎকালীন সময়ের উদীয়মান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো অংশ নিয়েছিল এবং সঠিক উত্তর হিসেবে মোট ৯টি দল অংশগ্রহণ করেছিল।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
ক্রিকেট প্রতিযোগিতা: উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ বা আইসিসি ট্রফি ক্রিকেট ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট।
প্রেক্ষাপট: টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বাইরে সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আইসিসি ট্রফি ১৯৯৭
ব্যাখ্যা: পরবর্তীতে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
উদাহরণ ২: আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
ব্যাখ্যা: উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ পরবর্তী সময়ে বর্তমানের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার হিসেবে পরিচিত লাভ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৯টি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই প্রতিযোগিতায় মোট নয়টি দল অংশগ্রহণ করেছিল।
B) ৭টি — এই সংখ্যাটি সঠিক নয় কারণ টুর্নামেন্টের গঠন ও দলের বিন্যাস অনুযায়ী ৭টি দল অংশ নেয়নি।
C) ১১টি — ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে ১১ জন খেলোয়াড় থাকলেও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ১১টি ছিল না।
D) ১২টি — এই সংখ্যাটি এই নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতার দলসংখ্যার সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
১৯৯৫ সালের ঢাকা টুর্নামেন্টের কথা মনে রাখতে ৯ সংখ্যাটি মনে রাখুন।
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগের বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সঙ্গে এটি গভীরভাবে জড়িত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের ঐতিহাসিক ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: A) ম্যাক্স ওয়েবার
১. কেন সঠিক:
- ম্যাক্স ওয়েবার আধুনিক আমলাতন্ত্রের ধারণা এবং এর তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রথম সফলভাবে তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে তাকে আমলাতন্ত্রের জনক বা প্রধান প্রবক্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২. তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট:
- প্রবক্তা: জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই তত্ত্ব দেন।
- মূল বৈশিষ্ট্য: লিখিত নিয়ম, পদসোপান, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা হলো এর প্রধান ভিত্তি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: যেকোনো দেশের সচিবালয় ও সরকারি প্রশাসন এই ওয়েবারীয় আমলাতন্ত্রের নীতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়।
উদাহরণ ২: আন্তর্জাতিক সংস্থা
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ বা বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ম্যাক্স ওয়েবার — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ রূপ বা মডেল প্রবর্তন করেছিলেন।
B) এফ এম মার্কস — তিনি মূলত লোকপ্রশাসন ও তুলনামূলক প্রশাসন নিয়ে কাজ করেছেন, আমলাতন্ত্রের মূল প্রবক্তা নন।
C) রবার্ট প্রেসথাস — তিনি সংগঠনের আচরণ ও আমলাতন্ত্রের মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন।
D) কার্ল মার্কস — তিনি সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ নিয়ে তত্ত্ব দিয়েছেন, যিনি আমলাতন্ত্রকে মূলত শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ওয়েবার ও আমলাতন্ত্র—উভয় শব্দ মনে রাখতে নামের প্রথম অক্ষর মেলাতে পারো।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার মানেই আমলাতন্ত্রের জনক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লোকপ্রশাসন অংশ থেকে এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে।
- ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে রিট লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নও হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: D) হােসে সারামাগাে
প্রদত্ত তথ্য:
সালটি হলো ১৯৯৮ সাল
পুরস্কারটি হলো সাহিত্যে নােবেল পুরস্কার
ধরি,
মনোনীত লেখকদের তালিকা থেকে সঠিক লেখককে চিহ্নিত করতে হবে
অতএব,
অপশনগুলো বিশ্লেষণ করে সঠিক সাহিত্যিককে খুঁজে বের করতে হবে
সুতরাং,
পর্তুগিজ ঔপন্যাসিক হােসে সারামাগাে এই পুরস্কার লাভ করেছিলেন
উত্তর: D) হােসে সারামাগাে
সঠিক উত্তর: B) থাইল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
- থাইল্যান্ড দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ যা অতীতে কোনো পশ্চিমা শক্তির উপনিবেশে পরিণত হয়নি।
- রাজা চতুর্থ চুরালংকর্ন এবং পঞ্চম চুরালংকর্নের দূরদর্শী কূটনীতির কারণে দেশটি ব্রিটিশ ও ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- দেশ: থাইল্যান্ড, যার পূর্ব নাম ছিল শ্যামদেশ এবং বর্তমান আনুষ্ঠানিক নাম থাইল্যান্ড রাজ্য।
- প্রেক্ষাপট: উনিশ শতকে যখন পুরো দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দখলে চলে যায়, তখন থাইল্যান্ড একটি স্বাধীন বাফার রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকে।
- গুরুত্ব: দেশটি চতুর কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে উপনিবেশবাদ এড়াতে পেরেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য এক দৃষ্টান্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ব্রিটিশ উপনিবেশ মায়ানমার
ব্যাখ্যা: মায়ানমার অতীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং দীর্ঘ সংঘাতে পরাজিত হয়ে উপনিবেশে পরিণত হয়।
উদাহরণ ২: ফরাসি উপনিবেশ ইন্দোচীন
ব্যাখ্যা: বর্তমান ভিয়েতনামী অঞ্চলসহ সমগ্র ইন্দোচীন ফরাসি উপনিবেশের অধীনে ছিল, যা থাইল্যান্ডের স্বাধীন থাকার সম্পূর্ণ বিপরীত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মায়ানমার — এটি দীর্ঘকাল ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল এবং উনিশ শতকের বিভিন্ন যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা এটি দখল করে নেয়।
B) থাইল্যান্ড — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দেশটি কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির উপনিবেশে পরিণত হয়নি।
C) ইন্দোনেশিয়া — এটি শত শত বছর ধরে ওলন্দাজ বা ডাচদের উপনিবেশ হিসেবে শাসিত হয়েছিল।
D) মালয়েশিয়া — এই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সরাসরি উপনিবেশ ও প্রভাবাধীন ছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- থাইল্যান্ড মানে স্বাধীনতার ল্যান্ড বা ভূমি, যা কখনোই পরাধীন হয়নি।
- দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশের মাঝখানে স্বাধীন দ্বীপের মতো ছিল থাইল্যান্ড।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এশিয়ার কোন দেশ উপনিবেশ হয়নি এমন প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- শ্যামদেশ কোন দেশের প্রাচীন নাম, এই সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯
১. কেন সঠিক:
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯ সালে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চালু হয়।
তবে প্রথম তিন বছর এটি শুধু হিসাবের একক বা অদৃশ্য মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্যাশ নোট ও কয়েন বাজারে আসে ১ জানুয়ারি, ২০০২ সালে।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
সংস্থা: ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বা European Union (EU)
প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি: ১৯৫৭ সালের রোম চুক্তির মাধ্যমে গঠিত ইকোনমিক কমিউনিটির বিবর্তনে ১৯৯৩ সালের ১ নভেম্বর মাস্ট্রিক্ট চুক্তির মাধ্যমে আধুনিক ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আত্মপ্রকাশ করে।
সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
সদস্যসংখ্যা: বর্তমান সদস্যদেশ ২৭টি
উদ্দেশ্য: ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক একীকরণ জোরদার করা এবং অভিন্ন বাজার তৈরি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইউরোজোন
ব্যাখ্যা: ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যেসব দেশ তাদের জাতীয় মুদ্রা বাদ দিয়ে ইউরোকে একক মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাদেরকে সম্মিলিতভাবে ইউরোজোন বলা হয় এবং বর্তমানে এর সদস্য ২০টি দেশ।
উদাহরণ ২: মাস্ট্রিক্ট চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমেই ইউরোপের দেশগুলোতে একক মুদ্রা ইউরো চালুর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা প্রতিযোগী পরীক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ জুলাই, ১৯৯৯ — এই তারিখে ইউরো মুদ্রা চালু হয়নি, বরং এটি ইউরোর চালুর সময়ের কাছাকাছি একটি বিভ্রান্তিকর তারিখ মাত্র।
C) ১ মার্চ, ২০০০ — এই তারিখে ইউরো চালুর কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি অপশন।
D) ১ জুলাই, ২০০০ — এই তারিখেও ইউরো চালুর কোনো সম্পর্ক নেই, এটি একটি বিভ্রান্তিকর অপশন হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ইউরো মুদ্রা অদৃশ্য বা হিসাবের খাতায় চালু হয় ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি এবং দৃশ্যমান বা হাতে পাওয়ার নোট হিসেবে চালু হয় ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি।
১৯৯৯ এবং ২০০২ এই দুটি সাল মনে রাখলে ইউরো সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুব সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো কবে থেকে দৃশ্যমান বা নোট আকারে চালু হয়, এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে, বর্তমানে কতটি দেশ ইউরো ব্যবহার করে বা কোন দেশ সবার শেষে ইউরো জোনে যোগ দিয়েছে।
সঠিক উত্তর: A) এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিকস্মৃতি
১. কেন সঠিক:
সার্বীয়দের কাছে কসোভো কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং তাদের জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয়ের মূল কেন্দ্র। ১৩৮৯ সালের ঐতিহাসিক কসোভোর যুদ্ধে সার্বীয়রা অটোমান সাম্রাজ্যের কাছে পরাজিত হলেও ওই যুদ্ধকে তারা তাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করে।
কসোভো অঞ্চলে সার্বীয় অর্থেডক্স গির্জার বহু প্রাচীন মঠ ও পবিত্র স্থান রয়েছে। এই কারণে সার্বীয়রা এই ভূখণ্ডটিকে তাদের সংস্কৃতির সূতিকাগার ও পবিত্র ভূমি হিসেবে বিবেচনা করে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ বা অঞ্চল: কসোভাে ও সার্বিয়া
প্রেক্ষাপট: কসোভো মূলত আলবেনীয় মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও মধ্যযুগে এটি সার্বীয় সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল। ১৯৯০ এর দশকে যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের সময় এই অঞ্চলটি নিয়ে তীব্র জাতিগত সংঘাত শুরু হয়।
উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: সার্বিয়ার কাছে কসোভোর হার মানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো। অন্যদিকে কসোভোর আলবেনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এটি তাদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের লড়াই।
ফলাফল বা প্রভাব: ২০০৮ সালে কসোভো একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও সার্বিয়া আজও এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে না। এই বিরোধ বলকান অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে এখনো একটি বড় সংকট হিসেবে বিদ্যমান।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জেরুজালেম শহর
ব্যাখ্যা: জেরুজালেমের ক্ষেত্রেও ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম—তিনটি ধর্মেরই পবিত্র ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। ধর্মের সঙ্গে ভূখণ্ডের এই গভীর আবেগীয় সংযোগই কসোভোর মতো জেরুজালেম সংকটকেও অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
উদাহরণ ২: কাশ্মীর সংকট
ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর সংকটের মূলে রয়েছে ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক আবেগ। পরীক্ষার্থীরা এখান থেকে বুঝতে পারে যে আবেগ ও ইতিহাসের সংঘাত সাধারণ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা কতটা কঠিন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিকস্মৃতি — এটি সঠিক উত্তর কারণ সার্বীয়দের ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাস কসোভোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
B) এর রণকৌশলগত গুরুত্ব — সামরিক বা কৌশলগত সুবিধা বড় বিষয় হলেও সার্বীয়দের স্পর্শকাতর অনুভূতির মূল কারণ তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।
C) মুসলিম বিদ্বেষের প্রবণতা — সার্বীয় ও কসোভোর আলবেনীয়দের সংঘাতের মূল কারণ ধর্মীয় বিদ্বেষের চেয়ে বরং ভূখণ্ডগত ও ঐতিহাসিক মালিকানার দাবি।
D) আলবেনীয়দের ঔদ্ধত্য — আলবেনীয়দের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবিকে সার্বীয়রা তাদের সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে মনে করে, যা ঔদ্ধত্য নয় বরং জাতিগত অধিকারের প্রশ্ন।
৫. মনে রাখার টিপস:
কসোভো সম্পর্কিত প্রশ্ন এলে মনে রাখবে এটি সার্বিয়ার ঐতিহাসিক ও পবিত্র ভূমি।
১৩৮৯ সালের কসোভো যুদ্ধ সার্বীয়দের কাছে সবচেয়ে আবেগঘন ঐতিহাসিক স্মৃতি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কসোভো ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
সার্বিয়া কসোভোকে এখনো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং জাতিসংঘের অনেক দেশ কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
সঠিক উত্তর: C) হংকংয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখা
১. কেন সঠিক:
চিনের সর্বোচ্চ নেতা দেং জিয়াওপিং উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রবর্তন করেন।
এর মূল লক্ষ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক মূল ভূখণ্ডের রাজনৈতিক কাঠামোর আওতায় থেকেও হংকং ও ম্যাকাওয়ের মতো পুঁজিবাদী অঞ্চলগুলোর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রাকে সচল রাখা।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
প্রেক্ষাপট: যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে চুক্তির পর ১৯৯৭ সালে হংকং চিনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
গুরুত্ব: এই নীতির মাধ্যমে হংকংয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতি অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা: এটি এই নীতির সফল প্রয়োগ যেখানে সমাজতান্ত্রিক চিনের অধীনে থেকেও হংকং নিজস্ব মুদ্রা ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ধরে রেখেছে।
উদাহরণ ২: ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা: ১৯৯৯ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে হস্তান্তরের পর ম্যাকাওয়েও একই নীতির ভিত্তিতে অর্থনীতি ও জুয়া ব্যবসার লাইসেন্স সচল রাখা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণযােগ্য করা — এটি মূল উদ্দেশ্য ছিল না কারণ চিন নিজস্ব উপায়ে সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি তৈরি করেছিল।
B) বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণযােগ্য করা — বিকল্প অপশনটি একই হওয়ায় এটি সঠিক উত্তরের দাবিদার হতে পারে না।
D) তাইওয়ানকে চীনের অন্তর্ভুক্তিকরণ — এই নীতি তাইওয়ানের ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা হলেও দ্বৈত অর্থনীতির ধারণাটি মূলত হংকংয়ের বিশেষ প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
চিনের দ্বৈত অর্থনীতি মানেই হলো হংকংয়ের পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সমাজতান্ত্রিক চিনের ভেতরে বাঁচিয়ে রাখা।
দেং জিয়াওপিংয়ের এই নীতি হংকং হস্তান্তরের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত একটি কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
এক দেশ দুই ব্যবস্থা নীতিটি কত সালে এবং কোন নেতার মাধ্যমে প্রণীত হয়েছিল, তা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: A) ভ্লাদিভস্টক
১. কেন সঠিক:
ভ্লাদিভস্টক শহরটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে দেশটির সর্ববৃহৎ বন্দর ও শহর।
এই শহরটি রাশিয়ার ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের সর্বশেষ স্টেশন হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ: রাশিয়া
অবস্থান: রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চল, প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল
প্রেক্ষাপট: ১৯ শতকের শেষের দিকে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও বন্দর হিসেবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ রক্ষা এবং বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে
ব্যাখ্যা: মস্কো থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার দূরে ভ্লাদিভস্টকে এসে শেষ হয় এই বিখ্যাত রেলপথ।
উদাহরণ ২: এপেক শীর্ষ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: ২০১২ সালে ভ্লাদিভস্টক শহরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা এপেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা শহরটির বৈশ্বিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভ্লাদিভস্টক — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শহর ও বন্দর।
B) সাইবেরিয়া — এটি কোনো নির্দিষ্ট শহর নয়, বরং উত্তর এশিয়ার একটি বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চল।
C) খাবারভস্ক — এটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হলেও ভ্লাদিভস্টক এর চেয়ে আয়তনে ও জনবহুলতায় বড়।
D) বোখারা — এটি উজবেকিস্তানের একটি ঐতিহাসিক শহর এবং মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত, রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র বললে ভ্লাদিভস্টক মনে রাখতে হবে।
সাইবেরিয়া একটি বিশাল অঞ্চল, তাই একে একক শহর হিসেবে চিহ্নিত করা ভুল হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভ্লাদিভস্টক শহরটি ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের শেষ প্রান্ত বিন্দু হিসেবে প্রায়শ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবেও শহরটি পরিচিত।
সঠিক উত্তর: A) কুইবেক
১. কেন সঠিক:
- কানাডার কুইবেক প্রদেশে ফরাসিভাষী বা ফ্রাঙ্কোফোন জনগােষ্ঠী সর্বাধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- কানাডা একটি দ্বভাষিক দেশ হলেও এর কুইবেক অঙ্গরাজ্যে ফরাসি ভাষা প্রধান ও সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ: কানাডা, উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র।
- প্রেক্ষাপট: সপ্তদশ শতাব্দীতে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের ফলেই কুইবেক অঞ্চলে ফরাসি সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করার জন্য কুইবেক কানাডার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা: বেলজিয়ামেও ফরাসি ও ডাচভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন রয়েছে।
উদাহরণ ২: সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা: সুইজারল্যান্ডে জার্মান ও ফরাসি উভয়ভাষী মানুষ বসবাস করে, যা ভূখণ্ডগত বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কুইবেক — এটি কানাডার ফরাসিভাষী প্রধান অঙ্গরাজ্য এবং সঠিক উত্তর।
B) আলবার্টা — এটি কানাডার একটি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ যেখানে মূলত ইংরেজিভাষী মানুষ বাস করে।
C) মেনিটোবা — এটি কানাডার মধ্যভাগের একটি প্রদেশ এবং এর প্রধান ভাষা ইংরেজি।
D) নােভাস্কোশিয়া — এটি কানাডার পূর্ব উপকূলের একটি প্রদেশ যেখানে প্রধানত ইংরেজিভাষী জনগোষ্ঠী বাস করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কানাডায় ফরাসি ভাষা মানেই কুইবেক প্রদেশ মনে রাখতে হবে।
- কানাডার বাকি প্রদেশগুলোতে ইংরেজি প্রধান ভাষা হলেও কুইবেক ব্যতিক্রম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কানাডার সাংবিধানিক রাজধানী ও ফরাসি সংস্কৃতির কেন্দ্র কুইবেক নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
- কানাডার সরকারি ভাষা কয়টি এবং কী কী, তা জেনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) মাজার-ই-শরীফ
১. কেন সঠিক:
১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে তালেবানরা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের শহর মাজার-ই-শরীফ দখল করার সময় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালায়।
এই হামলায় ইরানি কূটনীতিক ও সাংবাদিকসহ মোট ১১ জন নিহত হন, যা ইরান ও তালেবানের মধ্যে চরম কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছিল।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
প্রেক্ষাপট: আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ইতিহাসে এই ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সৌদি আরব ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া
ব্যাখ্যা: ২০১৬ সালে ইরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের জন্য ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ ২: ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা: কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলেটের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কীভাবে আন্তর্জাতিক সংকটের জন্ম দেয়, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হেরাট — এটি আফগানিস্তানের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহর হলেও এখানে ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
B) মাজার-ই-শরীফ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানেই ১৯৯৮ সালে ইরানি কূটনীতিকরা নিহত হয়েছিলেন।
C) জালালাবাদ — এটি আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান বাণিজ্য শহর এবং এখানে অন্য নানা সংঘাত ঘটলেও এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি ঘটেনি।
D) কান্দাহার — এটি তালেবানের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রস্থল হলেও মাজার-ই-শরীফের মতো ইরানি কূটনীতিক হত্যার ঘটনা এখানে ঘটেনি।
৫. মনে রাখার টিপস:
মাজার-ই-শরীফ শহরটির নাম মনে রাখলেই উত্তরটি সহজে চেনা যায়, কারণ উত্তর আফগানিস্তানের এই শহরেই ইরানবিরোধী চরম পদক্ষেপ নিয়েছিল তালেবান।
কূটনৈতিক মিশনের ওপর হামলার সবচেয়ে বড় এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি উত্তর আফগানিস্তানের সঙ্গেই যুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই ধরনের প্রশ্ন থেকে প্রায়ই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত কূটনীতি সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
একই বিষয় থেকে অন্য এমসিকিউ আসতে পারে মাজার-ই-শরীফ কোন দেশের শহর বা কত সালে এই ঘটনা ঘটেছিল তা নিয়ে।
সঠিক উত্তর: B) জ্যামিতিক সীমারেখা
১. কেন সঠিক:
উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমারেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জ্যামিতিক সীমারেখা। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো মরুভূমির ওপর দিয়ে কাল্পনিক রেখা টেনে বা দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশ অনুসরণ করে এসব দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করেছিল।
আফ্রিকার ভূরাজনীতি ও ঔপনিবেশিক ইতিহাস বুঝতে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সীমানা নির্ধারণের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
প্রেক্ষাপট: বার্লিন সম্মেলন ও ঔপনিবেশিক যুগের সময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশকে ভাগ করে নেয়।
উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি বা ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এই জ্যামিতিক সীমারেখা টানা হয়েছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিশর ও সুদান
ব্যাখ্যা: এই দুটি দেশের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণের সময় উত্তর অক্ষাংশের একটি নির্দিষ্ট রেখাকে জ্যামিতিক সীমানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
উদাহরণ ২: আলজেরিয়া ও মালি
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমির বুক চিরে অঙ্কিত এই দেশগুলোর সীমান্ত জ্যামিতিক রেখা টানার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঔপনিবেশিক সীমারেখা — এটি সার্বিক অর্থে সঠিক হলেও ভৌগোলিক কাঠামোর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হিসেবে জ্যামিতিক সীমারেখা বেশি নিখুঁত।
C) উপজাতিভিত্তিক সীমারেখা — উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে কৃত্রিমভাবে জ্যামিতিক সীমারেখা টানার কারণে উপজাতিগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাই এটি সঠিক নয়।
D) অচিহ্নিত সীমারেখা — বর্তমানে এই সীমান্তগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং চিহ্নিত, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
উত্তর আফ্রিকা মানেই সাহারা মরুভূমি এবং মরুভূমিতে পাহাড় বা নদীর অভাব থাকায় স্কেল ও মানচিত্রের সাহায্যে জ্যামিতিক রেখা টেনে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আফ্রিকা মহাদেশের বেশিরভাগ সীমান্ত কৃত্রিম বা জ্যামিতিক প্রকৃতির।
একই বিষয় থেকে অন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে যে, কোন মহাদেশের সীমান্ত সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম উপায়ে নির্ধারিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর: C) জাপান
১. কেন সঠিক:
- মানব ইতিহাসের প্রথম আণবিক বোমা ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে ফেলা হয়েছিল।
- এর তিন দিন পর ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় আণবিক বোমা ফেলা হয়।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
- যুদ্ধ/সংঘাত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে।
- ফলাফল/প্রভাব: এই হামলার পরপরই জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হিরোশিমার লিটল বয়
ব্যাখ্যা: হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত আণবিক বোমাটির নাম ছিল লিটল বয়, যা ইউরেনিয়াম ভিত্তিক ছিল।
উদাহরণ ২: নাগাসাকির ফ্যাট ম্যান
ব্যাখ্যা: নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত আণবিক বোমাটির নাম ছিল ফ্যাট ম্যান, যা প্লুটোনিয়াম ভিত্তিক ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জার্মানি — জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির প্রধান দেশ হলেও তাদের ওপর কোনো আণবিক বোমা ফেলা হয়নি।
B) ইতালি — ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি পক্ষ ছিল কিন্তু তাদের ওপর আণবিক বোমা হামলার কোনো ঘটনা ঘটে নি।
D) চীন — চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তাদের ওপর বোমা ফেলা হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আণবিক বোমা হামলার শিকার প্রথম দেশ হিরোশিমার জাপান, যা ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধের গতিপথ বদলে দিয়েছিল।
- সাল ১৯৪৫ এবং শহর হিরোশিমা ও নাগাসাকি মনে রাখলে বিসিএস বা অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় সহজেই উত্তর করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত বোমার নাম ছিল লিটল বয় এবং নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমার নাম ছিল ফ্যাট ম্যান।
- এই ধরনের প্রশ্ন সাধারণত বিশ্বযুদ্ধ ও ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: D) CIRDAP
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করার কারণ হলো CIRDAP সংস্থার প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক অনেক সংস্থার সদর দপ্তর বিশ্বের অন্যান্য দেশে হলেও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়নবিষয়ক এই বিশেষ সংস্থাটির সদর দপ্তর ঢাকায় স্থাপন করা হয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: CIRDAP (Centre on Integrated Rural Development for Asia and the Pacific) বা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্র।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই FAO-এর সহায়তায় এই আঞ্চলিক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: চামেলী হাউজ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
- উদ্দেশ্য: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোতে গ্রামীণ উন্নয়ন জোরদার করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা
ব্যাখ্যা: ঢাকায় সদর দপ্তর রয়েছে এমন আন্তর্জাতিক সংস্থা খুব কমই আছে, তাই CIRDAP সংক্রান্ত প্রশ্নটি বাংলাদেশের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ ২: সার্ক (SAARC)
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এই সংস্থার সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত, যা প্রায়ই ঢাকায় অবস্থিত CIRDAP-এর সাথে পরীক্ষার্থীরা গুলিয়ে ফেলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) APEC — এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা, যার সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত এবং এর সাথে ঢাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
B) SAARC — এটি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা, যার সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত এবং এটি ঢাকায় অবস্থিত নয়।
C) APEC — এটি পুনরাবৃত্ত অপশন এবং এর সদর দপ্তরও সিঙ্গাপুরে অবস্থিত, ঢাকায় নয়।
D) CIRDAP — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই আঞ্চলিক সংস্থার সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ঢাকায় সদর দপ্তর আছে এমন প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা হলো CIRDAP।
- সার্কের জন্ম ঢাকায় হলেও এর সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে, আর CIRDAP-এর জন্ম ও সদর দপ্তর দুটোই ঢাকায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- CIRDAP কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর পূর্ণরূপ কী, তা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- আঞ্চলিক সংস্থার সদর দপ্তর সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো BCS ও ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৮৫
১. কেন সঠিক:
সার্ক বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সংস্থা গঠিত হয়।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
সংস্থা: সার্ক বা SAARC (South Asian Association for Regional Cooperation)
প্রতিষ্ঠা ও তারিখ: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫
সদর দপ্তর: কাঠমান্ডু, নেপাল
সদস্যদেশ: ৮টি (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান)
উদ্দেশ্য: দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের কল্যাণ সাধন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আসিয়ান (ASEAN)
ব্যাখ্যা: এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা, যা ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর জাকার্তায় অবস্থিত।
উদাহরণ ২: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)
ব্যাখ্যা: এটি ইউরোপের দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট, যা ১৯৫৭ সালের রোম চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৮৫ — এটি সার্ক প্রতিষ্ঠার সঠিক সাল হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়েছে।
B) ১৯৭৫ — এই সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন চুক্তি বা ঘটনা এই বছরে ঘটে থাকতে পারে।
C) ১৯৮৭ — এই সালটি সার্ক প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরের এবং এটি সংস্থার সচিবালয় চালুর বছর হিসেবে পরিচিত।
D) ১৯৯০ — এই সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এটি নব্বইয়ের দশকের একটি সাধারণ সাল মাত্র।
৫ মনে রাখার টিপস:
সার্ক প্রতিষ্ঠার সাল মনে রাখতে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাব উত্থাপনের সময়কাল এবং ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি মনে রাখতে পারো।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই সালটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাধারণ জ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
সংস্থাটির সদর দপ্তর এবং বর্তমান সদস্যদেশের সংখ্যা নিয়েও প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) মালয়েশিয়া
১. কেন সঠিক:
১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নীতিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্ত করা হয়।
এই বরখাস্তের ঘটনাটি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে একটি বড় মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ছিল এবং এর ফলে দেশটিতে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
২. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
দেশ: মালয়েশিয়া, যার রাজধানী কুয়ালালামপুর এবং মুদ্রা রিঙ্গিত।
প্রেক্ষাপট: অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছিল যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
প্রভাব: এই ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটে এবং পরবর্তীতে আনোয়ার ইব্রাহিম দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাহাথির মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা: তিনি মালয়েশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি দেশের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের রাজনৈতিক সংকটে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।
উদাহরণ ২: আনোয়ার ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা: বরখাস্তের পর তিনি সংস্কার আন্দোলন বা রিমফর্মাসি গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বর্তমানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) থাইল্যান্ড — থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ হলেও ১৯৯৮ সালে এই ধরনের কোনো আলোচিত উপ-প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের ঘটনা ঘটেনি।
B) সিঙ্গাপুর — সিঙ্গাপুরে উপ-প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা ১৯৯৮ সালের এই আন্তর্জাতিক প্ররিপ্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য নয়।
C) ইন্দোনেশিয়া — ১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় সুহান্তর দীর্ঘ পতনের বছর ছিল, কিন্তু এই নির্দিষ্ট উপ-প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের ঘটনাটি এই দেশের নয়।
D) মালয়েশিয়া — এই অপশনটি সঠিক কারণ মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে এই বছরেই বরখাস্ত করা হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
১৯৯৮ সালটি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে আনোয়ার ইব্রাহিমের বরখাস্ত ও সংস্কার আন্দোলনের জন্য স্মরণীয়।
মালয়েশিয়ার রাজনীতি মানেই মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার ক্ষমতার সমীকরণ মনে রাখা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন সাধারণত কোনো দেশের প্রধান রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ঐতিহাসিক সংকট থেকে আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে ১৯৯৮ সালে কোন মালয়েশিয়ান নেতা বরখাস্ত হয়েছিলেন অথবা সংস্কার আন্দোলনের পটভূমি কোন দেশে তৈরি হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) আয়ারল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
উত্তর আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটে ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে।
এই শান্তি চুক্তিটি ইউরোপের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের একটি ঐতিহাসিক ও সফল উদাহরণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
প্রেক্ষাপট: আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের পর উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকে এবং সেখানে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।
উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: গুড ফ্রাইডে চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং সহিংসতার চিরতরে অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
ব্যাখ্যা: ডেটন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বলকান অঞ্চলের এই দেশের আন্ত জাতিগত যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।
উদাহরণ ২: সাইপ্রাস সংঘাত
ব্যাখ্যা: এটি ইউরোপের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাত যা এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আয়ারল্যান্ড — সঠিক উত্তর কারণ এখানে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে।
B) স্কটল্যান্ড — এখানে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও কোনো সশস্ত্র জাতিগত সংঘাতের সমাপ্তির ইতিহাস নেই।
C) নেদারল্যান্ড — এটি একটি শান্তিপূর্ণ দেশ এবং আধুনিককালে এখানে কোনো জাতিসত্তা সংঘাতের সমস্যা ছিল না।
D) সুইজারল্যান্ড — বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ এখানে শান্তিতে বসবাস করে এবং এখানে কোনো জাতিগত সংঘাতের রেকর্ড নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটেছিল গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে, যা ইউরোপের শান্তির এক অনন্য দলিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র ও যুক্তরাজ্য সরকার সরাসরি যুক্ত ছিল।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
গুড ফ্রাইডে চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয় তা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
এই ধরনের প্রশ্ন থেকে শান্তি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রভাব সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়।
সঠিক উত্তর: C) ইউরোপ
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইউরোপ মহাদেশের পর্তুগাল দেশের নাগরিক।
পর্তুগাল দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের ইবেরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর রাজধানী লিসবন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: জাতিসংঘ (United Nations - UN) একটি বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
প্রতিষ্ঠা: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ সালে এই সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
সদর দপ্তর: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের মূল সদর দপ্তর অবস্থিত।
উদ্দেশ্য: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আন্তোনিও গুতেরেস
ব্যাখ্যা: তিনি ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘের নবম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি ইউরোপের দেশ পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
উদাহরণ ২: কুর্ত ওয়াইল্ডহেইম
ব্যাখ্যা: তিনি জাতিসংঘের চতুর্থ মহাসচিব ছিলেন এবং ইউরোপ মহাদেশের অস্ট্রিয়া দেশের নাগরিক ছিলেন, যা প্রমাণ করে ইউরোপ থেকে একাধিক মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আফ্রিকা — এটি সঠিক নয় কারণ বর্তমান মহাসচিব আফ্রিকা মহাদেশের নন, তবে বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি ছিলেন প্রথম আফ্রিকান মহাসচিব।
B) এশিয়া — এটি সঠিক নয় কারণ বর্তমান মহাসচিব এশিয়া মহাদেশের নন, তবে উ থান্ট ছিলেন প্রথম এশিয়ান মহাসচিব।
C) ইউরোপ — এটি সঠিক উত্তর কারণ পর্তুগাল ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান মহাসচিব এখান থেকেই এসেছেন।
D) দক্ষিণ আমেরিকা — এটি সঠিক নয় কারণ বর্তমান মহাসচিব দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের নন, এই মহাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মহাসচিব নির্বাচিত হননি।
৫ মনে রাখার টিপস:
বর্তমান মহাসচিব যে দেশের নাগরিক, অর্থাৎ পর্তুগাল, তা ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত এটি মনে রাখলেই উত্তর সহজে মেলানো সম্ভব।
আফ্রিকা বা এশিয়ার কথা এলে আগের মহাসচিবদের নাম মনে করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম এবং তাঁর দেশ ও মহাদেশ প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে।
এই প্রশ্ন থেকে মহাসচিবের কার্যকাল এবং জাতিসংঘের ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: C) পর্তুগাল
১. কেন সঠিক:
ম্যাকাও অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় পর্তুগালের ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ১৯৯৯ সালে এটি চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২. ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দেশ বা অঞ্চল: ম্যাকাও হলো চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল।
প্রেক্ষাপট: এটি এশিয়ায় ইউরোপীয়দের প্রথম এবং সর্বশেষ উপনিবেশ ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হংকং
ব্যাখ্যা: এটিও একটি উপনিবেশ ছিল যা পরে চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
উদাহরণ ২: গোয়া
ব্যাখ্যা: এটি ভারতে অবস্থিত যা পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্পেন — স্পেন এশিয়ায় মূলত ফিলিপাইন শাসন করেছিল কিন্তু ম্যাকাও শাসন করেনি।
B) নেদারল্যান্ড — নেদারল্যান্ড প্রধানত ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল ম্যাকাও নয়।
C) পর্তুগাল — এই দেশটি ম্যাকাও শাসন করেছিল তাই এটি সঠিক উত্তর।
D) ইউকে — যুক্তরাজ্য বা ইউকে হংকং শাসন করেছিল ম্যাকাও নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ম্যাকাও ও গোয়া উভয়ই পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল।
হংকং ছিল যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ আর ম্যাকাও ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ম্যাকাও ১৯৯৯ সালে চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
এক দেশ দুই নীতি নীতির অধীনে ম্যাকাও বর্তমানে পরিচালিত হয়।
সঠিক উত্তর: C) ডেটন চুক্তি
১. কেন সঠিক:
১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত ডেটন চুক্তি বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরে এই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং এর মাধ্যমেই বসনিয়া সংকট সমাধানের পথ সুগম হয়।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
চুক্তির নাম: ডেটন শান্তিচুক্তি।
তারিখ ও স্থান: ২১ নভেম্বর ১৯৯৫ সালে প্রাথমিক স্বাক্ষর এবং ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে প্যারিসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়; স্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাইট-প্যাটারসন এয়ার ফোর্স বেস, ডেটন, ওহাইও।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ: বসনিয়ার রাষ্ট্রপতি আলিজা ইজেতবেগোভিচ, সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি সলোবোদান মিলোশেভিচ এবং ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি ফ্রানিও তুজমান।
প্রধান উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে বহাল রাখা, তবে একে দুটি স্বায়ত্তশাসিত অংশে বিভক্ত করা হয়, যথা ফেডারেশন অব বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিন এবং রিপাবলিক স্প্রপস্কা।
আন্তর্জাতিক প্রভাব বা গুরুত্ব: এই চুক্তি ঠান্ডা যুদ্ধোত্তর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতে সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং বর্তমান বসনিয়ার সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৭৮ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শান্তির পথ সুগম করেছিল, যা ডেটন চুক্তির মতো মার্কিন কূটনীতির একটি বড় সাফল্য।
উদাহরণ ২: গুড ফ্রাইডে চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটায় এবং ডেটন চুক্তির মতো অভ্যন্তরীণ জাতিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার গুরুত্ব শেখায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মাদ্রিদ চুক্তি — এটি মূলত স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বোঝায়, যার সঙ্গে বসনিয়া সংকট সমাধানের কোনো সম্পর্ক নেই।
B) জেনেভা চুক্তি — এটি সাধারণত ১৯৫৪ সালের ইন্দোচীন বা ১৯৮৮ সালের আফগানিস্তান সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা বসনিয়ার গৃহযুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখেনি।
D) প্যারিস চুক্তি — এটি বসনিয়া চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের স্থান হলেও, সংকট সমাধানের মূল রূপরেখা ডেটন শহরেই চূড়ান্ত হয়েছিল বলে ডেটন চুক্তিই সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
বসনিয়া সংকট মানেই ওহাইওর ডেটন শহর এবং ডেটন চুক্তি।
ডেটন শব্দের শুরুতে ডি অক্ষর আছে, যা ডেমোক্রেসি বা শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকটি মনে রাখতে সাহায্য করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডেটন চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মধ্যস্থতাকারী দেশ কে ছিল, তা প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে।
এই চুক্তি সম্পর্কিত অন্য প্রশ্ন হিসেবে আসতে পারে যে এই চুক্তির ফলে বসনিয়া কয়টি ভাগে বিভক্ত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: C) দুরতিক্রম্য
১. কেন সঠিক:
- 'যা সহজে অতিক্রম করা যায় না' বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো দুরতিক্রম্য। এটি মূলত দূর উপসর্গ যোগে গঠিত একটি বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ।
- এখানে 'দূর' উপসর্গটি কঠিন বা সহজে নয় এমন অর্থ প্রকাশ করে এবং 'অতিক্রম্য' শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে এই বিশেষ অর্থ তৈরি করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এককথায় প্রকাশ বা বাক্যসংক্ষেপণ বাংলা ব্যাকরণের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে বড় একটি ভাবকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করা যায়।
- এই ধরনের শব্দ গঠনে প্রায়শই উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসের সাহায্য নেওয়া হয় এবং শব্দের মূল অর্থ ঠিক রেখে সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যা সহজে জয় করা যায় না = দুর্জয়
ব্যাখ্যা: এটিও দুরতিক্রম্য শব্দের মতো দূর উপসর্গ যোগে গঠিত একটি এককথায় প্রকাশের উদাহরণ।
উদাহরণ ২: যা নিবারণ করা যায় না = অনিবার্য
ব্যাখ্যা: এটিও একটি বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অলঙ্ঘ্য — এর অর্থ যা লঙ্ঘন করা যায় না, যা মূল প্রশ্নের অর্থের সাথে মেলে না।
B) অনতিক্রম্য — এর অর্থ যা অতিক্রম করা যায় না, কিন্তু প্রশ্নে 'সহজে' শব্দটি থাকার কারণে এটি সঠিক নয়।
D) দুর্গম — এর অর্থ যেখানে সহজে যাওয়া যায় না, যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বাক্যে যদি 'সহজে অতিক্রম করা যায় না' থাকে তবে উত্তর হবে দুরতিক্রম্য আর যদি শুধু 'অতিক্রম করা যায় না' থাকে তবে উত্তর হবে অনতিক্রম্য।
- শব্দের শুরুতে 'দূর' বা 'অন্' উপসর্গ দেখে বাক্যাংশের কাঠिन্যের মাত্রা অনুমান করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- সামান্য শব্দের পার্থーク্যের কারণে উত্তর বদলে যেতে পারে, তাই মূল বাক্যাংশের প্রতিটি শব্দ সতর্কতার সাথে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: D) আষাঢ়
১. কেন সঠিক:
- আষাঢ় শব্দটিতে স্বভাবতই বা নিত্য মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে কোনো নিয়ম প্রযোজ্য হয়নি।
- তৎসম শব্দে ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম ছাড়াও কিছু শব্দে সর্বদা মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়, যাকে নিত্য মূর্ধন্য ষ বলে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- তৎসম শব্দে ট-বর্গীয় ধ্বনির পূর্বে মূর্ধন্য ষ বসে এবং কিছু শব্দে কোনো কারণ ছাড়াই স্বভাবতই ষ হয়।
- আষাঢ় একটি তৎসম শব্দ যেখানে আষাঢ় মাসের নাম বোঝাতে স্বভাবগতভাবেই মূর্ধন্য ষ লেখা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাষা
ব্যাখ্যা: ভাষা শব্দটি নিত্য মূর্ধন্য ষ এর একটি অত্যন্ত প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
উদাহরণ ২: আষাঢ়
ব্যাখ্যা: আষাঢ় শব্দে ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে যুক্ত না হয়েও স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ বসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) উপনিষদ — এই শব্দটিতে ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী ই বা উ কারান্ত উপসর্গের পর ক, খ, প, ফ থাকলে মূর্ধন্য ষ হয়েছে, এটি নিত্য মূর্ধন্য ষ নয়।
B) কষ্ট — এই শব্দটিতে ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে ট-বর্গীয় ধ্বনির পূর্বে মূর্ধন্য ষ যুক্ত হয়েছে, যা নিত্য মূর্ধন্য ষ নয়।
C) কল্যাণীয়েষু — এই শব্দটিতে প্রত্যয়গত কারণে মূর্ধন্য ষ যুক্ত হয়েছে, যা নিত্য মূর্ধন্য ষ এর আওতাভুক্ত নয়।
D) আষাঢ় — এই শব্দটিতে কোনো ব্যাকরণিক নিয়ম ছাড়া স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ বসেছে, যা সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ মনে রাখার জন্য আষাঢ়, ভাষা, ভাষণ, মানুষ ও পাষাণের মতো শব্দগুলো বারবার চর্চা করবে।
- এই শব্দগুলোতে কোনো বিশেষ নিয়ম খোঁজার প্রয়োজন নেই, এগুলো মুখস্থ রাখতে হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ বা নিত্য মূর্ধন্য ষ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- নিয়মবহির্ভূত এই শব্দগুলো আলাদা করে তালিকা তৈরি করে পড়লে যেকোনো পরীক্ষায় সহজে উত্তর করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: D) দীর্ঘায়ু ব্যক্তি
১. কেন সঠিক:
কাক ভূষুন্ডি একটি পরিচিত বাংলা বাগধারা, যার আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ হলো দীর্ঘজীবী বা দীর্ঘায়ু ব্যক্তি। পুরাণ মতে, কাক ভূষুন্ডি ছিলেন একজন চিরজীবী কাক যিনি রামের ভক্ত এবং রামায়ণের নানা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
এটি বাংলা ভাষার একটি বিশেষ বাগধারা যা উপমা বা রূপকের মাধ্যমে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলে। বাংলা সাহিত্যে অতি প্রাচীন বা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা ব্যক্তিকে এই বাগধারার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দাদা মহাশয় এই বয়সেও যেভাবে সুস্থ আছেন, তাকে আক্ষরিক অর্থেই কাক ভূষুন্ডি বলা চলে।
ব্যাখ্যা: দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা এবং সুস্থ থাকার কারণে এখানে কাক ভূষুন্ডি বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: আমাদের বংশের সবচেয়ে মুরব্বি হলেন সেই কাকা, যাকে সবাই জীবন্ত কাক ভূষুন্ডি বলে মনে করে।
ব্যাখ্যা: পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ ও দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে বোঝাতে এই উদাহরণটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাকসর্বস্ব — এই অপশনটি ভুল কারণ বাকসর্বস্ব বাগধারার অর্থ হলো কেবল কথায় পটু বা সারশূন্য মানুষ, যা দীর্ঘায়ু ব্যক্তির সঙ্গে মেলে না।
B) ষড়যন্ত্রকারী — এই অপশনটি ভুল কারণ ষড়যন্ত্রকারী বলতে কুচক্রী বা চক্রান্তকারী ব্যক্তিকে বোঝায়, যার সঙ্গে কাক ভূষুন্ডি বাগধারার কোনো সম্পর্ক নেই।
C) দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ — এই অপশনটি ভুল কারণ দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ বলতে দীর্ঘকাল ধরে অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিকে বোঝায়, যা এই বাগধারার অর্থের বিপরীত।
D) দীর্ঘায়ু ব্যক্তি — এই অপশনটি সঠিক কারণ কাক ভূষুন্ডি বাগধারাটি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা বা দীর্ঘায়ু সম্পন্ন মানুষকে বোঝাতে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
কাক সাধারণত দীর্ঘজীবী হয় বলে বিশ্বাস করা হয় এবং পুরাণ অনুযায়ী কাক ভূষুন্ডি অমরত্ব লাভ করেছিলেন। এই পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে মনে রাখবে যে কাক ভূষুন্ডি মানেই দীর্ঘায়ু ব্যক্তি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পৌরাণিক চরিত্রভিত্তিক বাগধারাগুলো থেকে প্রশ্ন আসে। কাক ভূষুন্ডি ছাড়াও দীর্ঘায়ু বোঝাতে বিড়াল তপস্বী বা অন্য কোনো বাগধারা যেন গুলিয়ে না ফেলো, সেদিকে খেয়াল রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
১. কেন সঠিক:
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু গ্রন্থটির রচয়িতা বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- এটি তাঁর একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় প্রবন্ধগ্রন্থ যা সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিভিত্তিক মননশীল রচনার এক অনবদ্য দলিল।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বিংশ শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকের একজন অন্যতম প্রধান বাঙালি কথাসাহিত্যিক যিনি মূলত তাঁর অসাধারণ উপন্যাস ও ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত।
- তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে চিলেকোঠার সেপাই এবং খোয়াবনামা উপন্যাস দুটি, যা বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক মর্যাদা লাভ করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা: এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উপন্যাস যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।
উদাহরণ ২: দোজখের ওম
ব্যাখ্যা: এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি বিখ্যাত ও বহুল পঠিত ছোটগল্প সংকলন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিনয় ঘোষ — তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি সমাজবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক হলেও এই নির্দিষ্ট গ্রন্থটির রচয়িতা নন।
B) মোতাহের হোসেন চৌধুরী — তিনি একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ যিনি সংস্কৃতি কথা গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
D) রাধারমণ মিত্র — তিনি কলকাতার ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণামূলক লেখালেখির জন্য পরিচিত হলেও এই গ্রন্থের লেখক নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু প্রবন্ধটির লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এটি মনে রাখতে ইলিয়াস নামের সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন মনে রাখতে পারো।
- তাঁর উপন্যাস মনে রাখার কৌশল হলো চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা দুটি কালজয়ী সৃষ্টি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- এই লেখকের জন্ম গাইবান্ধা জেলায় এবং তাঁর সাহিত্যকর্মে গ্রামীণ জীবন ও রাজনীতির গভীর সংযোগ দেখা যায়।
সঠিক উত্তর: C) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
১. কেন সঠিক:
'আত্মঘাতী বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক নীরদচন্দ্র চৌধুরী।
এই গ্রন্থে বাঙালি জাতির আত্মঘাতী চরিত্র, মনস্তত্ত্ব ও আত্মবিশ্লেষণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রখর যুক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
নীরদচন্দ্র চৌধুরী বিশ শতকের অন্যতম প্রজ্ঞাবান ও বিতর্কিত বাঙালি লেখক যিনি তাঁর মুক্তবুদ্ধি ও ভিন্নধারার চিন্তার জন্য পরিচিত।
তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে 'আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ' ও 'অজ্ঞাতবাসের ইতিহাস' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা: এটি নীরদচন্দ্র চৌধুরীর লেখা আরেকটি বিখ্যাত ও সমালোচনামূলক সাহিত্যকর্ম।
উদাহরণ ২: আত্মঘাতী বাঙালি
ব্যাখ্যা: এটি বাঙালির স্ববিরোধী আচরণ ও আত্মধ্বংসী প্রবৃত্তি নিয়ে রচিত একটি প্রাবন্ধিক গ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় — ইনি একজন প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী দার্শনিক ও পন্ডিত হলেও 'আত্মঘাতী বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা নন।
B) অশােক মিত্র — ইনি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রাবন্ধিক হলেও এই গ্রন্থটি তাঁর রচিত নয়।
C) নীরদচন্দ্র চৌধুরী — এই অপশনটি সঠিক এবং গ্রন্থটির রচয়িতা হিসেবে পরীক্ষাসম্মতভাবে স্বীকৃত।
D) অতুল সুর — ইনি একজন খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী হলেও আলোচ্য গ্রন্থটি তাঁর লেখা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাঙালি জাতির আত্মঘাতী চরিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন যিনি, সেই বুদ্ধিজীবী হলেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী।
আত্মঘাতী সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরীর নাম মনে রাখলে পরীক্ষা সহজে উত্তর করা সম্ভব।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লেখক ও তাঁর বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ প্রায়ই আসে।
নীরদচন্দ্র চৌধুরীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'অবিস্মরণীয় জীবন' এবং 'আত্মঘাতী বাঙালি' পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: D) রাঙা জবা
১. কেন সঠিক:
রাঙা জবা হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি বিখ্যাত ভক্তিমূলক ও ইসলামি গান এবং কবিতার সংকলন।
এই গ্রন্থে কবির আধ্যাত্মিক ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাহিত্যিক তথ্য।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি হিসেবে সমাদৃত হলেও তিনি বহু শ্যামাসংগীত, ইসলামি গান ও গজল রচনা করেছেন।
রাঙা জবা গ্রন্থটি তার ইসলামি ও ভক্তিমূলক রচনার একটি অন্যতম প্রধান নিদর্শন যা তৎকালীন সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো সঞ্চিতা।
ব্যাখ্যা: সঞ্চিতা হলো কবির নির্বাচিত কবিতার একটি সংকলন যা তার কবিপ্রতিভার পরিচয় বহন করে।
উদাহরণ ২: কাজী নজরুল ইসলামের রচিত আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হলো প্রলয় শিখা।
ব্যাখ্যা: প্রলয় শিখা তার একটি দ্রোহের আগুনঝরা রাজনৈতিক গ্রন্থ যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মরুশিখা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের কোনো গ্রন্থ নয় বরং এটি কবি যতীন সেনগুপ্তের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
B) অগ্নিকোণ — এটি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কোনো গ্রন্থ নয় বরং এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর অপশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
C) মরুসূর্য — এটি কাজী নজরুল ইসলামের মূলধারার কোনো পরিচিত সাহিত্যকর্ম বা গ্রন্থ হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্বীকৃত নয়।
D) রাঙা জবা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
নজরুলের ভক্তিগীতি বা ধর্মের বাইরের নরম ভাবনার প্রকাশ দেখতে রাঙা জবা নামটি মনে রাখতে হবে।
নজরুল যেমন বিদ্রোহী তেমনই শ্যামাসংগীত ও ভক্তিমূলক গানে অনন্য, আর রাঙা জবা তেমনই একটি রচনার নাম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নজরুলের ইসলামি গান, ভক্তিমূলক গান ও রাজনৈতিক গ্রন্থগুলোর নাম আলাদা করে ছক তৈরি করে মুখস্থ করা উচিত।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কবির অপ্রধান বা ভিন্ন ধারার গ্রন্থ থেকে এমন প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) হুমায়ুন কবির
কেন সঠিক:
- নদী ও নারী বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন কবিরের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে বাংলার গ্রামীণ জীবন, নদীমাতৃক সংস্কৃতির প্রভাব এবং নারী চরিত্রের গভীর রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি সার্থক আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষ স্থান অধিকার করেছে।
- লেখক তার উপন্যাসে মানুষের জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে নদীর চিরন্তন সম্পর্কের কাব্যিক রূপায়ন করেছেন।
- এই উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলার জনপদের মানুষের সুখ, দুঃখ, সংগ্রাম ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) আবুল ফজল — তিনি মূলত সমাজসচেতন উপন্যাস, প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী রচনার জন্য বিখ্যাত, যেমন চৌচির ও রাঙ্গা প্রভাত।
- B) কাজী আব্দুল ওদুদ — তিনি বুদ্ধিমুক্তির আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এবং সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধকার।
- C) শামসুদ্দিন আবুল কালাম — তিনি বাংলার গ্রামীণ জীবনভিত্তিক উপন্যাস রচনার জন্য পরিচিত, যেমন কাঞ্চনমালা ও জীবন বিধান।
- D) হুমায়ুন কবির — এই অপশনটি নিজেই সঠিক উত্তর এবং তার রচিত একমাত্র বিখ্যাত উপন্যাস হলো নদী ও নারী।
মনে রাখার টিপস:
- হুমায়ুন কবিরের সাহিত্যকৃতির মধ্যে নদী ও নারী উপন্যাসটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- নদীর সঙ্গে নারীর রূপ ও জীবনের মিল খুঁজে পাওয়া যায় এই উপন্যাসে, যা কবির নাম মনে রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক উত্তর: D) হাসান হাফিজুর রহমান
১. কেন সঠিক:
- 'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত এই সংকলনটি ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত প্রথম ঐতিহাসিক ও প্রামাণ্য গ্রন্থ।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- হাসান হাফিজুর রহমান একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলনটি সম্পাদনা করেন ১৯৫৩ সালেরু ফেব্রুয়ারিতে।
- এই সংকলনে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও গান স্থান পেয়েছিল যা তৎকালীন বাঙালি সমাজে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা: জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: আর্তনাদ
ব্যাখ্যা: শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জহির রায়হান — তিনি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা, তবে এই সংকলনের সম্পাদক নন।
B) শওকত ওসমান — তিনি একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হলেও এই সংকলন সম্পাদনা করেননি।
C) আব্দুল গনি হাজারী — তিনি একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক হলেও এই গ্রন্থের সম্পাদক নন।
D) হাসান হাফিজুর রহমান — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনিই ১৯৫৩ সালে প্রথম এই সংকলন সম্পাদনা করেছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একুশ মানেই প্রথম প্রকাশ এবং এর পেছনে ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে প্রখ্যাত সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান প্রথম একুশের সংকলন করেছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন কোনটি, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণে এই সংকলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) শহীদুল্লাহ কায়সার
১. কেন সঠিক:
- সংশপ্তক বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উপন্যাস যার রচয়িতা শহীদুল্লাহ কায়সার।
- উপন্যাসের নামটির মাধ্যমে মূলত আত্মিক শক্তির প্রতীক এবং কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী যিনি ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে শহীদ হন।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি গ্রামীণ সমাজের পটভূমিতে রচিত হয়েছে যেখানে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সারেং বৌ
ব্যাখ্যা: এটি শহীদুল্লাহ কায়সারের অপর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রশংসিত সামাজিক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: কবি
ব্যাখ্যা: এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস যা গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শহীদুল্লাহ কায়সার — এটি সঠিক উত্তর কারণ সংশপ্তক উপন্যাসটি তাঁরই অমর সৃষ্টি।
B) মুনীর চৌধুরী — তিনি একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ হলেও সংশপ্তক তাঁর লেখা নয়, তাঁর বিখ্যাত নাটক কবর ও রক্তকবরী।
C) জহির রায়হান — তিনি একজন খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার হলেও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো জীবন থেকে নেওয়া ও হাজার বছর ধরে।
D) শওকত ওসমান — তিনি বিশিষ্ট কথাশিল্পী হলেও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো ক্রীতদাসের হাসি ও জলাঙ্গী।
৫ মনে রাখার টিপস:
শহীদুল্লাহ কায়সারের দুটি প্রধান উপন্যাস মনে রাখার সহজ কৌশল হলো তিনি সংশপ্তক উপন্যাসে সমাজের ছবি এঁকেছেন এবং সারেং বৌ উপন্যাসে নদীমাতৃক জীবনের গল্প বলেছেন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস ও তাঁর সাংবাদিক জীবন সম্পর্কে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
অন্যান্য লেখকের ক্ষেত্রে তাদের প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো আলাদা করে মুখস্থ করার বদলে বিষয়বস্তুসহ মনে রাখলে উত্তর করা সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: C) অসম্ভব ঘটনা
১. কেন সঠিক:
- 'ব্যাঙের সর্দি' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো মিল নেই।
- উভচর প্রাণী হিসেবে ব্যাঙ জলে ও স্থলে বসবাস করে এবং এদের শারীরবৃত্তীয় গঠনে মানুষের মতো সর্দি লাগার কোনো সুযোগ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তাই এটি একটি অসম্ভব ঘটনাকে বোঝায়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দসমষ্টি যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও ভাবার্থ প্রকাশ করে থাকে।
- এটি বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে এবং বাক্যের সৌন্দর্য ও ভাব প্রকাশভঙ্গি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আকাশ কুসুম
ব্যাখ্যা: এই বাগধারাটির অর্থও অসম্ভব কল্পনা বা অবাস্তব আশা, যা ব্যাঙের সর্দি বাগধারার সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: কাকের থাবা
ব্যাখ্যা: এর অর্থ অসম্ভব বস্তু বা যা কখনো পাওয়া যায় না, যা ব্যাঙের সর্দি বা অবাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সম্ভাব্য ঘটনা — এই অপশনটি ভুল কারণ ব্যাঙের সর্দি কোনোভাবেই ঘটতে পারে না, এটি একটি কাল্পনিক ও অবাস্তব বিষয়।
B) রোগ বিশেষ — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি কোনো চিকিৎসাগত রোগ বোঝায় না, বরং এটি একটি আলংকারিক বাগধারা মাত্র।
C) অসম্ভব ঘটনা — এই অপশনটি সঠিক এবং এটিই বাগধারাটির অন্তর্নিহিত ভাবার্থ প্রকাশ করে।
D) প্রতারণা — এই অপশনটি ভুল কারণ প্রতারণা বলতে অন্যকে ঠকানো বোঝায়, যার সঙ্গে ব্যাঙের সর্দির কোনো সম্পর্ক নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ব্যাঙের জলে বাস করে, তাই তার সর্দি লাগা অবাস্তব।
- এই ধরনের অদ্ভুত প্রকৃতির বাগধারা দেখলে সবসময় অসম্ভব বা অবাস্তব অর্থটি বেছে নেবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের অসম্ভবার্থক বাগধারাগুলো থেকে প্রশ্ন আসে।
- আকাশ কুসুম, কূর্ম অবতার বা ঘোটক ছানার মতো বাগধারাগুলোর অর্থও প্রায় একই ধরনের অসম্ভব ঘটনা নির্দেশ করে।
প্রশ্নের ধরন: পদ ও পদ প্রকরণ
সঠিক উত্তর: D) বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতু
১. কেন সঠিক:
- ব্যাকরণ অনুযায়ী অর্থপূর্ণ শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হওয়ার পরই তা বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী হয়, যাকে পদ বলে।
- বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে পদ বলা হয় এবং এই পদকেই ব্যাকরণে 'বলতে' বা শব্দ হিসেবে পূর্ণতা লাভ করা বোঝানো হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বা ধাতুকে পদ বলা হয় এবং শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে পদ গঠিত হয়।
- প্রাতিপদিক বা মূল শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত করে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করার প্রক্রিয়াকে পদ গঠন বলা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কলম + এ = কলমে
ব্যাখ্যা: বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পদে পরিণত হয়েছে।
উদাহরণ ২: কর + ইতে = করিতে
ব্যাখ্যা: ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে এটি ক্রিয়াপদে রূপান্তরিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যে কোন শব্দ — শব্দ বাক্যে ব্যবহারের আগে বিভক্তিযুক্ত না হলে তাকে পদ বলা যায় না, তাই এটি সঠিক নয়।
B) কবিতার চরণ — কবিতার চরণ বলতে পংক্তিকে বোঝায়, যা পদের সংজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
C) প্রত্যয়ান্ত শব্দ বা ধাতু — প্রত্যয়যুক্ত শব্দ বা ধাতু কৃৎ বা তদ্ধিতান্ত শব্দ গঠন করে, যা পদের পূর্ণ রূপের জন্য যথেষ্ট নয়।
D) বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতু — এটি পদের সঠিক ও প্রমিত সংজ্ঞা নির্দেশ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শব্দ বা ধাতু যোগ বিভক্তি সমান পদ। বাক্যে ব্যবহারের জন্য বিভক্তি অপরিহার্য।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পদ চেনার প্রধান উপায় হলো শব্দের সঙ্গে বিভক্তি বা অনুসর্গ যুক্ত আছে কিনা তা দেখা।
সঠিক উত্তর: A) ভাই-বােন
১. কেন সঠিক:
যে সমাসে প্রতিটি পদের অর্থই সমানভাবে প্রধান থাকে এবং ব্যাসবাক্যে ও, এবং, কিংবা ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় ব্যবহৃত হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। ভাই-বােন শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো ভাই ও বােন, যেখানে পূর্বপদ ভাই এবং পরপদ বােন উভয় পদের অর্থই সমানভাবে প্রধাণ পেয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি বিশেষ্য পদের মিলন ঘটে এবং মাঝের সংযোজক অব্যয়টি সমস্তপদে লোপ পায়। পদের মিলনের ওপর ভিত্তি করে এটি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন মিলনর্থক, বিপরীতার্থক, সমার্থক ও বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাতা-পিতা
ব্যাখ্যা: মাতা ও পিতা, যা একটি মিলনর্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ এবং উভয় পদের অর্থই প্রধান।
উদাহরণ ২: জমা-খরচ
ব্যাখ্যা: জমা ও খরচ, যা একটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ এবং পরস্পর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভাই-বােন — এটি দ্বন্দ্ব সমাসের সঠিক উদাহরণ।
B) সিংহাসন — এটি মধ্যপদলুপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, যার ব্যাসবাক্য সিংহ চিহ্নিত আসন।
C) কানাকানি — এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ, যার ব্যাসবাক্য কানে কানে যে কথা বা মারামারি।
D) গাছপাকা — এটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ, যার ব্যাসবাক্য গাছে পাকা।
৫. মনে রাখার টিপস:
দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে মনে রাখবে যে সমস্তপদে সাধারণত একটি হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন থাকে এবং ব্যাসবাক্য করলে এবং, ও, বা সংযোজক অব্যয় বসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থই প্রধান থাকে, যা অন্য অনেক সমাস থেকে এটিকে আলাদা করে। পরীক্ষার হলে ব্যাসবাক্য করে সংযোজক অব্যয় থাকলে তবেই দ্বন্দ্ব সমাস দাগাবে।
সঠিক উত্তর: C) ধ্বন্যাত্মক শব্দ
১. কেন সঠিক:
‘টাপুর টুপুর’ শব্দটি বৃষ্টির পড়ার কাল্পনিক বা অনুসারী ধ্বনি প্রকাশ করে, যা বাংলা ব্যাকরণে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
মানুষ বা প্রাণীর কণ্ঠস্বর ছাড়া বস্তু, প্রকৃতি বা কল্পনার কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে গঠিত শব্দই হলো ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দে কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার বা প্রতিধ্বনি প্রকাশিত হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা অনুকার শব্দ বলে।
বৃষ্টির পতনের শব্দ বোঝাতে ‘টাপুর টুপুর’ ধ্বনিটি যুগপৎভাবে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ শব্দের রূপ ধারণ করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঝিরঝির হাওয়া বইছে।
ব্যাখ্যা: এখানে ‘ঝিরঝির’ মৃদু বাতাসের ধ্বনি বা ভাব প্রকাশ করেছে।
উদাহরণ ২: কলকল নদী বয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এখানে ‘কলকল’ পানির প্রবাহের কাল্পনিক ধ্বনি প্রকাশ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাক্যালঙ্কার শব্দ — বাক্যালঙ্কার শব্দ বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে কিন্তু ‘টাপুর টুপুর’ সরাসরি কোনো ধ্বনি নির্দেশ করে, তাই এটি সঠিক নয়।
B) অবস্থাবাচক শব্দ — অবস্থাবাচক শব্দ কোনো বিশেষ অবস্থা বা গুণ বোঝায়, কিন্তু এটি কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনি নয়।
C) ধ্বন্যাত্মক শব্দ — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি বৃষ্টির পড়ার ধ্বনি নির্দেশ করছে।
D) দ্বিরুক্ত শব্দ — এটি দ্বিরুক্ত শব্দ হলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বেস্ট চয়েস হিসেবে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বেশি নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত।
৫. মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দ যদি কান দিয়ে শোনা যায় এমন কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনি বা আওয়াজ বোঝায়, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ দাগাবে।
বৃষ্টির পড়া, বাতাসের বয়ে চলা কিংবা পাখির ডাক জাতীয় শব্দগুলো সবসময় ধ্বন্যাত্মক শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
‘ঝমঝম’, ‘রিমঝিম’, ‘ঘণ্টার ধ্বনি’ বা ‘কাকলী’ শব্দগুলো কোন প্রকৃতির তা ভালোভাবে আয়ত্ত রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) নিরালােকে দিব্যরথ
১. কেন সঠিক:
- নিরালােকে দিব্যরথ কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত সৃষ্টি।
- প্রশ্নের মূল বিষয় হলো লেখকের নামের সঙ্গে তার সাহিত্যকর্মের সঠিক মিল খুঁজে বের করা।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শামসুর রাহমান বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধে আবির্ভূত একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি ও সাংবাদিক।
- তার কবিতায় নাগরিক জীবন, সমসাময়িক রাজনীতি এবং বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা: এটি কবি শামসুর রাহমানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
উদাহরণ ২: রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা: এই কাব্যগ্রন্থটিও কবি শামসুর রাহমানের সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নির্জন স্বাক্ষর — এটি কবি বুদ্ধদেব বসুর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, শামসুর রাহমানের নয়।
B) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি — এটি কথাসাহিত্যিক ও কবি শহীদ কাদরীর একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
C) নিরালােকে দিব্যরথ — এটি শামসুর রাহমানের রচনা বিধায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
D) নির্বাণ — এটি অন্য কোনো লেখকের সাহিত্যকর্ম, যা শামসুর রাহমানের রচিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ মনে রাখার জন্য তার বিখ্যাত গ্রন্থ যেমন রৌদ্র করোটিতে এবং প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে বারবার পড়তে হবে।
- লেখকের নামের সঙ্গে কাব্যগ্রন্থের নাম মিলিয়ে ছোট তালিকা তৈরি করে চর্চা করা যেতে পারে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবি ও লেখকের কাব্যগ্রন্থের নাম থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- শামসুর রাহমান আধুনিক যুগের কবি হওয়ায় তার সাহিত্যকর্মগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: A) আগুনের পরশমণি
১. কেন সঠিক:
- আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি পরিবারের অবরুদ্ধ জীবন ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো আগুনের পরশমণি।
- এই উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক মধ্যবিত্ত পরিবারের মনস্তত্ত্ব ও মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা: এটিও হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি সুবিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: মাত্রাতিরিক্ত বা রতি উপন্যাসের বাইরে এটি ইতিহাসের একটি দলিল
ব্যাখ্যা: লেখকের নিজস্ব শৈলীতে এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণিক দলিল হিসেবে সমাদৃত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আগুনের পরশমণি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
B) চিলেকোঠার সেপাই — এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
C) একাত্তরের দিনগুলাে — এটি জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথা বা দিনলিপি, উপন্যাস নয়।
D) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় — এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য, উপন্যাস নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে আগুনের পরশমণি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- স্মৃতিকথা ও উপন্যাসের পার্থক্য মনে রাখলে সহজেই এমন প্রশ্ন সমাধান করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটিতে জনার সাথে রূপ বা Genre আলাদা করার প্রশ্ন এটি।
- উপন্যাস, নাটক ও স্মৃতিকথার পার্থক্য ভালোভাবে জানা থাকলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: C) অগ্নিবীণা
কেন সঠিক:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত ও বহুল পরিচিত কাব্যগ্রন্থ এটি।
- এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩২৯ সালের কার্তিক মাসে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে এটি একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি একটি কাব্যগ্রন্থ যার মধ্যে বিদ্রোহী চেতনা ও দেশপ্রেমের অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে।
- এই বইটিতে প্রলয়উল্লাস, বিদ্রোহী, কামাল পাশা সহ মোট বারটি বিখ্যাত কবিতা রয়েছে।
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্র তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) ব্যথার দান — এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প সংকলন, কাব্যগ্রন্থ নয়।
- B) রাজবন্দীর জবানবন্দী — এটি তাঁর একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ, কাব্যগ্রন্থ নয়।
- C) অগ্নিবীণা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য তথ্য প্রযোজ্য নয়।
- D) নবযুগ — এটি কাজী নজরুল ইসলাম ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক সম্পাদিত একটি দৈনিক পত্রিকা।
মনে রাখার টিপস:
- নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থের শুরু হয় আগুন দিয়ে, তাই প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো অগ্নিবীণা।
সঠিক উত্তর: A) শেষ লেখা
১. কেন সঠিক:
- শেষ লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থ বলতে এমন একটি সাহিত্যকর্মকে বোঝায় যেখানে একাধিক কবিতা সংকলিত থাকে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও ঔপন্যাসিক যিনি গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- শেষ লেখা তাঁর অন্তিম জীবনের কবিতাগুচ্ছ নিয়ে গঠিত একটি প্রখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পুরবী
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরও একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
উদাহরণ ২: বনবাণী
ব্যাখ্যা: এটি প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শেষ লেখা — এটি একটি কাব্যগ্রন্থ এবং সঠিক উত্তর।
B) শেষ প্রশ্ন — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
C) শেষের কবিতা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
D) শেষের পরিচয় — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত একটি উপন্যাস যা প্রবোধচন্দ্র ঘোষ সমাপ্ত করেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথের শেষ লেখা একটি কাব্য আর শেষের কবিতা একটি উপন্যাস।
- এই দুটি নামের বিভ্রান্তি দূর করতে শেষের শব্দটির পরের অংশটি খেয়াল রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কাব্যগ্রন্থ হলো শেষ লেখা এবং শেষ উপন্যাস হলো চার অধ্যায়।
- কবিদের শেষ রচনা বা উপন্যাসগুলো প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) মীর মশাররফ হােসেন
১. কেন সঠিক:
বিষাদ-সিন্ধু হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস যা কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত।
মীর মশাররফ হোসেন মহরমের বিষাদময় ট্র্যাজেডিকে এই উপন্যাসে রূপায়িত করেছেন যা বাংলা কথাসাহিত্যে অনন্য স্থান দখল করে আছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মীর মশাররফ হোসেন বাংলা গদ্যসাহিত্যের অন্যতম প্রধান রূপকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
তার এই মহাকাব্যিক উপন্যাসে ইমাম হোসেনের শাহাদাত এবং ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ঐতিহাসিক ঘটনার আবেগময় রূপায়ন ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা: এটি মীর মশাররফ হোসেনের একটি বিখ্যাত নাটক যা নীলকর সাহেবদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রচিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: গাজী মিঞার বস্তানী
ব্যাখ্যা: এটি মীর মশাররফ হোসেনের রচিত একটি বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক ও সামাজিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মীর মশাররফ হােসেন — এটি সঠিক উত্তর কারণ বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসটি তারই অমর সৃষ্টি।
B) কায়কোবাদ — তিনি বিশ শতকের প্রারম্ভিক যুগের মহাকাব্যিক ধারার একজন বিখ্যাত মুসলিম কবি ছিলেন।
C) মােজাম্মেল হক — তিনি একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন যিনি মূলত কাব্যচর্চার জন্য পরিচিত।
D) ইসমাইল হােসেন সিরাজী — তিনি বিশ শতকের প্রথমার্ধের একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সমাজসংস্কারক ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
মীর মশাররফ হোসেন মানেই বিষাদ-সিন্ধুর বিষাদময় ট্র্যাজেডি, এভাবে সহজে মনে রাখা যায়।
ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে রাখতে মীর মশাররফ হোসেনের নাম প্রথমে স্মরণ করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিষাদ-সিন্ধু মূলত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং এর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে তাই এর রচয়িতার নাম ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) স্পষ্টভাষী
১. কেন সঠিক:
- ঠোট-কাটা একটি পরিচিত বাংলা বাগধারা যার আক্ষরিক অর্থ ঠোঁট কাটা হলেও এর ভাবার্থ হলো অত্যন্ত স্পষ্টভাষী বা নির্দ্বিধায় সত্য কথা বলা।
- এই ধরনের ব্যক্তি সামাজিক শিষ্টাচার বা কারোর মনকষ্টের কথা না ভেবে মুখের ওপর সত্য কথা স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পছন্দ করেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি বিশেষ বাগধারা বা প্রবাদমূলক শব্দগুচ্ছ যা সাধারণ অর্থের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ ও রূপক অর্থ প্রকাশ করে।
- বাগধারার শব্দগুলোকে আক্ষরিক অর্থে না ধরে এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বা প্রথাগত অর্থ বুঝতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লোকটা বড়ই ঠোঁট-কাটা, কার কি মনে লাগবে তা না ভেবে মুখের ওপর সত্যি কথাটা বলে দেয়।
ব্যাখ্যা: এখানে স্পষ্টভাষী বোঝাতে ঠোঁট-কাটা বাগধারাটি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: সভায় সবাই চুপ থাকলেও ওই ঠোঁট-কাটা মানুষটি অন্যায়ের প্রতিবাদে সবার সামনে সোচ্চার হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে নির্ভীক ও স্পষ্ট ভাষায় সত্য প্রকাশের ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্পষ্টভাষী — এটি সঠিক উত্তর কারণ ঠোঁট-কাটা বাগধারার প্রকৃত ভাবার্থ হলো মুখের ওপর স্পষ্ট কথা বলা।
B) অহংকারী — এটি ভুল কারণ অহংকার বলতে দম্ভ বা আত্মগরিমা বোঝায়, যা স্পষ্টভাষিতার সমার্থক বা ভাবার্থ নয়।
C) মিথ্যাবাদী — এটি ভুল কারণ ঠোঁট-কাটা ব্যক্তি মিথ্যা বলে না বরং অপ্রিয় হলেও সত্য কথা মুখের ওপর বলে দেয়।
D) পক্ষপাতদুষ্ট — এটি ভুল কারণ পক্ষপাতদুষ্ট অর্থ একপক্ষের প্রতি অন্যায্য ঝোঁক বা পক্ষপাত থাকা, যা এই বাগধারার সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ঠোঁট কাটা থাকলে যেমন কোনো বাধা থাকে না, তেমনি স্পষ্টভাষী মানুষের কথা বলতেও কোনো রাখঢাক থাকে না।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারার প্রশ্ন আসার ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থের চেয়ে ভাবার্থ বা রূপক অর্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) শুশ্রূষা
১. কেন সঠিক:
- সঠিক বানানটিতে প্রথমে তালব্য শ এবং নিচে উ-কার, এরপর মূর্ধন্য ষ-এর সাথে ঋ-কার এবং সর্বশেষে মূর্ধন্য ষ ও আ-কার যুক্ত হয়েছে।
- শুশ্রূষা শব্দের অর্থ হলো রোগীর সেবা করা, পরিচর্যা করা বা যত্ন নেওয়া।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা বানানরীতিতে তৎসম শব্দে মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মে ঋ-কার বা ঋ-ধ্বনির পরে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- এই শব্দটিতে শুশ্রূষা বানানের শুরুতে তালব্য শ এবং শেষের দিকে মূর্ধন্য ষ-এর নিচে ঋ-কার যুক্ত হয়ে সঠিক রূপ গঠন করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা: এটি একটি তৎসম শব্দ যেখানে মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক ব্যবহার দেখানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: পাষাণ
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও বানানের নিয়মানুযায়ী মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুশ্রুষা — এই অপশনে মূর্ধন্য ষ-এর নিচে ঋ-কার ব্যবহার করা হয়নি এবং বানানে ভুল রয়েছে।
B) শুশ্রুষা — এই অপশনে মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক কারচিহ্ন বা ঋ-কার ব্যবহার করা হয়নি।
C) শুশ্রূষা — এটি প্রশ্নানুসারে সম্পূর্ণ সঠিক বানান এবং এটিই উত্তর।
D) সুশ্রুসা — এই অপশনে তালব্য শ, উ-কার এবং দন্ত্য স ব্যবহারের কারণে বানানটি সম্পূর্ণ ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শুশ্রূষা বানানটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো প্রথমে তালব্য শ (শু), মাঝে মূর্ধন্য ষ-এর নিচে ঋ-কার (শ্রূ) এবং শেষে মূর্ধন্য ষ ও আ-কার (ষা) মনে রাখা।
- চিকিৎসালয় বা রোগীর সেবার সাথে সম্পর্কিত এই শব্দটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলা বানানে তালব্য শ এবং মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক ব্যবহার থেকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- ঋ-কারযুক্ত বর্ণে সবসময় মূর্ধন্য ষ বসে, এই নিয়মটি মনে রাখলে এ জাতীয় বানান সহজে নির্ভুল করা যায়।
সঠিক উত্তর: C) accelerating— intensifying
কেন সঠিক:
এই বাক্যে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব বোঝানো হয়েছে।
তাই শূন্যস্থানে এমন দুটি শব্দ বসবে যা ধনসম্পদ ও ক্ষমতা মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে জমা হওয়াকে বাড়িয়ে দেয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) undermining- neutralizing — এই শব্দদুটি কমানোর অর্থ প্রকাশ করে যা বাক্যের মূল ভাবের সাথে মিলে না।
B) proliferating – diminishing — প্রথমটি বাড়ালেও দ্বিতীয়টি কমানোর অর্থ দেয় যা পরস্পরবিরোধী।
C) accelerating— intensifying — এই অপশনটি সঠিক কারণ দুটি শব্দই বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।
D) aggravating- demokishing — দ্বিতীয় শব্দটির বানান ভুল এবং তা অর্থসঙ্গতি রক্ষা করতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
নেতিবাচক বাক্যে একই রকম অর্থ প্রকাশকারী দুটি শক্তিশালী সমার্থক শব্দ সাধারণত শূন্যস্থানে বসে।
সঠিক উত্তর: C) Acute indignation
কেন সঠিক:
লেখক লেখার মধ্যে গুজবের ক্ষতিকর প্রভাব ও মিথ্যা প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশের জন্যই উত্তরটি সঠিক।
সমাজে এর খারাপ দিক দেখে লেখকের মনে গভীর বিরক্তি কাজ করেছে।
তাই লেখকের এই মনোভাবকে তীব্র ক্ষোভ বা প্রতিবাদের সাথে তুলনা করা চলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Morbid curiosity — লেখকের মনোভাব কোনো অসুস্থ বা বিকৃত কৌতূহল ছিল না বরং তিনি এর কুফল নিয়ে গম্ভীর ছিলেন।
B) Excited enthusiasm — গুজব নিয়ে লেখকের মধ্যে কোনো আনন্দ বা উত্তেজনাকর উদ্দীপনা কাজ করেনি।
C) Acute indignation — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এটি ভুল নয়।
D) Philosophical timterest — লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাত্ত্বিক বা দার্শনিক কৌতূহলভিত্তিক ছিল না।
মনে রাখার টিপস:
লেখকের ক্ষোভ বা অসন্তোষ বোঝাতে Indignation শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: C) limited information
কেন সঠিক:
যুদ্ধকালীন সময়ে সেন্সরশিপের কারণে সংবাদ মাধ্যমগুলো সব সত্যি ঘটনা প্রকাশ করতে পারে না।
তাই তারা পাঠকদের কাছে ঘটনার খুব সামান্য বা সীমাবদ্ধ তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
এর ফলে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) pessimistic reports — যুদ্ধের সময় শুধু নিরাশাজনক খবরই প্রকাশ করা হয় না, বরং অনেক সময় অতিরঞ্জিত আশার বাণীও শোনানো হয়।
B) optimistic reports — সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক খবর প্রচার করা হলেও তা শুধু আশাবাদী প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
D) government propaganda — সরকারি প্রোপাগান্ডা একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু মূল কথা হলো সেখানে তথ্যের মারাত্মক ঘাটতি থাকে।
মনে রাখার টিপস:
যুদ্ধের সময় খবরের কাগজ বা গণমাধ্যম কখনোই পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ করে না, তাই উত্তর হবে সীমাবদ্ধ তথ্য বা limited information।
সঠিক উত্তর: A) are hardy in their growth
কেন সঠিক:
গুজব খুব দ্রুত ছড়ায় এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। তাই এর বৃদ্ধি অত্যন্ত শক্তিশালী বা hardy হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) are hardy in their growth — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
B) alarm their hearers — গুজব সব সময় শোত্রাদের আতঙ্কিত করে না, বরং কখনো কখনো কৌতূহলও তৈরি করে।
C) are disheartening — গুজব সবসময় নিরাশাজনক হয় না, অনেক সময় এটি বিনোদন বা উত্তেজনার খোরাক জোগায়।
D) can be suppressed by censorship — সেন্সরশিপ বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সহজে গুজব দমন করা যায় না, এটি আরও গোপনে ছড়িয়ে পড়ে।
মনে রাখার টিপস:
'Hardy' শব্দের অর্থ শক্তিশালী। মনে রাখবে গুজব সহজে মরে না, বরং অনেক শক্তভাবে বেঁচে থাকে।
সঠিক উত্তর: B) the nature of rumor
কেন সঠিক:
অনুচ্ছেদটিতে মূলত গুঞ্জন কীভাবে তৈরি হয়, তা কীভাবে মানুষের মুখে মুখে ছড়ায় এবং এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো কী তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তাই পুরো লেখা জুড়েই গুঞ্জনের মৌলিক প্রকৃতি বা স্বভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
লেখকের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুঞ্জনের ধরণ বা প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা।
এই কারণে সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন বি নির্বাচন করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) the fascination of rumors — গুঞ্জনের আকর্ষণ বিষয়টি ছোট একটি অংশ মাত্র, পুরো লেখার মূল বিষয় নয়।
B) the nature of rumor — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) rumor as primitive man’s newspaper — এটি গুঞ্জনের একটি ঐতিহাসিক উপমা মাত্র, প্রধান বিষয় নয়।
D) the breeding places of rumors — গুঞ্জন কোথায় জন্ম নেয় তা গৌণ বিষয়, এর সামগ্রিক প্রকৃতিই মূল আলোচ্য।
মনে রাখার টিপস:
কোনো অনুচ্ছেদের মূল ভাব খুঁজতে পুরো লেখার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুর দিকে নজর দিতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) The wounded man was being helped by some children
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি Past Continuous Tense-এর Active Voice-এ আছে, তাই Passive করার সময় was being এবং মূল Verb-এর Past Participle রূপ বসে।
- Subject ও Object-এর স্থান পরিবর্তন হয়ে Active-এর Object (the wounded man) Passive-এর Subject হয়েছে এবং by বসে Subject বস2ছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The wounded man was helping some children — এটি Active Voice-এর অর্থ পরিবর্তন করে অন্য অর্থ প্রকাশ করেছে এবং Passive গঠন হয়নি।
B) The wounded man was helped by some children — এটি Simple Past Tense-এর Passive রূপ, কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নটি Continuous Tense-এ ছিল।
C) The wounded man was being helped by some children — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এখানে Past Continuous Tense-এর নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়েছে।
D) The wounded man was to be helped by some children — এটি Infinitive বা Obligation-এর Passive রূপ, যা এই Tense-এর জন্য প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
Continuous Tense-এর Passive করার সময় auxiliary verb-এর সাথে always being যোগ করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) description of a disagreeable thing by an agreeable name
কেন সঠিক:
ইউফেমিজম বা উপমিত শব্দ বলতে এমন কোনো অপ্রীতিকর, কঠিন বা বেদনাদায়ক বিষয়কে বোঝায় যা সরাসরি না বলে একটি সুন্দর বা মিষ্টি শব্দে প্রকাশ করা হয়। যেমন মৃত্যুর পরিবর্তে চলে যাওয়া বলা একটি ইউফেমিজম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) description of a disagreeable thing by an agreeable name — এটি সঠিক উত্তর এবং এর অর্থ অপ্রীতিকর বিষয়কে সুন্দর নামে প্রকাশ করা।
B) stating one thing like another — এটি সিমিলি বা রূপক অলংকারকে নির্দেশ করে যেখানে এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর তুলনা করা হয়।
C) contrast of words is made in the same sentence — এটি অ্যান্টিথিসিস বা বৈপরীত্য অলংকারকে বোঝায় যেখানে একই বাক্যে বিপরীত শব্দের তুলনা থাকে।
D) a statement is made emphatic by overstatement — এটি হাইপারবোল বা অতিশয়োক্তিকে নির্দেশ করে যেখানে কোনো কথাকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলা হয়।
মনে রাখার টিপস:
ইউফেমিজম মানে হলো কানে শুনতে খারাপ লাগে এমন কোনো সত্য কথাকে মিষ্টি বা ভদ্র ভাষায় প্রকাশ করা।
সঠিক উত্তর: D) waste time
কেন সঠিক:
‘ডিলি ড্যালি’ একটি ইংরেজি বাগধারা যার অর্থ কোনো কাজ করতে অকারণে দেরি করা।
এর মূল ভাব হলো কাজের গতি ধীর করে সময় নষ্ট করা।
তাই এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) wait impatiently — এই কথাটির অর্থ হলো অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করা যা মূল শব্দের সাথে মিলে না।
B) to diluten — এটি কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নয় এবং এটি ভুল বানান নির্দেশ করে।
C) repeat — এর অর্থ হলো কোনো কিছু পুনরাবৃত্তি করা যা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়।
D) waste time — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল নয়।
মনে রাখার টিপস:
‘ডিলি ড্যালি’ বললে বুঝবে দেরি করে সময় নষ্ট করা।
সঠিক উত্তর: A) inevitable – desire
কেন সঠিক:
- বাক্যটির অর্থ হলো রাগ যতই অনিবার্য হোক না কেন, এর একটি গুণ আছে যে এটি ইচ্ছাকে দমন করে।
- অনিবার্য রাগ মানুষের অতিরিক্ত বা ক্ষতিকর চাওয়া বা ইচ্ছাকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) inevitable – desire — এটি সঠিক এবং বাক্যের অর্থের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
B) sinful – sloth — পাপপূর্ণ রাগ অলসতাকে দূর করে, এমন ভাবার্থ বাক্যটির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
C) unnecessary — malic — অপ্রয়োজনীয় রাগ বিদ্বেষকে অতিক্রম করে, এই অর্থ ব্যাকরণগত ও ভাবগতভাবে সঠিক নয়।
D) intense – hate — তীব্র রাগ ঘৃণাকে অতিক্রম করে, এটি অর্থের দিক থেকে সাংঘর্ষিক কারণ রাগ নিজেই এক ধরণের ঘৃণা।
মনে রাখার টিপস:
অনিবার্য (inevitable) রাগের একটি ভালো গুণ হলো তা আমাদের তীব্র ইচ্ছা (desire) দমন করতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) oppressed — scorned
কেন সঠিক:
বাক্যের অর্থ হলো বিশ্বের নারীরা নির্যাতিত ও অবহেলিত, যার নেতিবাচক দিক কেউ নিতে চায় না।
এখানে নারীদের প্রতি নেতিবাচক আচরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ যুগল ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রস্তাবনার নেতিবাচক দিক হিসেবে এই বিশেষণ দুটি পুরোপুরি মানানসই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) oppressed — scorned — এটিই সঠিক উত্তর কারণ এটি প্রদত্ত প্রমিজের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
B) admired – provoked — প্রশংসা এবং উত্যক্ত করা পরস্পর বিরোধী এবং এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
C) rebuked – regaled — তিরস্কার করা এবং আপ্যায়ন করা একসাথে মানায় না।
D) slighted — celebrated — অবহেলা করা এবং উদযাপন করা দুটি বিপরীত ধারণা প্রকাশ করে।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যের ভেতরের মূল ভাবটি ইতিবাচক না নেতিবাচক তা আগে বুঝতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) stimulate: cool down
কেন সঠিক:
মূল প্রশ্নে দেওয়া EXCITE এবং CALM শব্দ দুটি বিপরীতার্থক অর্থ প্রকাশ করে।
ঠিক একইভাবে stimulate এবং cool down শব্দ দুটিও পরস্পর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) agitate : trouble — এই শব্দ দুটি সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে, বিপরীতার্থক নয়।
B) restrain : compose — এই শব্দ দুটির মধ্যে বিপরীত সম্পর্কের চেয়ে নিয়ন্ত্রণের মিল বেশি।
C) upset : preturb — এই জোড়ার শব্দ দুটিও সমার্থক এবং একই ভাব প্রকাশ করে।
D) stimulate: cool down — এটি সঠিক কারণ উদ্দীপিত করা এবং ঠান্ডা করা সম্পূর্ণ বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
শব্দ জোড়ার সম্পর্ক বুঝতে প্রথমে মূল শব্দ দুটির অর্থ একে অপরের বিপরীত না সমার্থক তা যাচাই করে নেবে।
সঠিক উত্তর: B) abruptly
কেন সঠিক:
লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি হঠাৎ থেমে যায়।
হঠাৎ বা আকস্মিক বোঝাতে abruptly শব্দটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) equitable — এর অর্থ ন্যায্য বা সমতাভিত্তিক, যা এখানে গাড়ী থামানোর গতির সাথে মেলে না।
B) abruptly — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
C) ambiguously — এর অর্থ দ্বর্থক বা অস্পষ্ট, যা এই বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে না।
D) incisively — এর অর্থ তীক্ষ্ণভাবে বা গভীরভাবে, যা গাড়ী থামানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
লাল বাতি দেখলে চালক সবসময় হঠাৎ (abruptly) ব্রেক কষে গাড়ি থামান।
সঠিক উত্তর: C) stick together
কেন সঠিক:
Cohesive শব্দের বাংলা অর্থ হলো সংগী বা একত্রে লেগে থাকার প্রবণতা। এটি পদার্থ বিজ্ঞানে কোনো পদার্থের কণার নিজেদের মধ্যে আকর্ষণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) bend without too much difficulty — এটি নমনীয়তা বা বলপ্রয়োগে বাঁকানোর ক্ষমতা বোঝায়, যা এই শব্দের অর্থ নয়।
B) retain heat — তাপ ধরে রাখার ক্ষমতাকে তাপ নিরোধক বা থার্মাল প্রপার্টি বলা হয়।
C) stick together — এটিই সঠিক কারণ কোহেসিভ বা সংশ্লেষ বল কণাগুলোকে একত্রে আটকে রাখে।
D) break easily — সহজে ভেঙে যাওয়া পদার্থকে ভঙ্গুর বলা হয়, যা এর বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
Cohesive শব্দের শুরুতে কো আছে, যার মানে কোঅপারেশন বা একত্রে মিলে কাজ করা, তাই এর অর্থ একসাথে লেগে থাকা।
সঠিক উত্তর: C) the university will employ me
কেন সঠিক:
বক্তার বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী ডিগ্রি শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে চাকরি দেবে। এই অর্থে বাক্যটির সাবজেক্ট ও অবজেক্টের গঠন সঠিক এবং অর্থ পরিষ্কার হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) employment will be given to me by the university — বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হলেও এটি প্যাসিভ ভয়েসে থাকায় মূল বাক্যের সাথে সাবজেক্টের মিল থাকে না।
B) my education will be employed by the university — শিক্ষা কখনো চাকরি বা নিয়োগ পেতে পারে না তাই এই অর্থ সম্পূর্ণ অর্থহীন।
C) the university will employ me — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
D) I will be employed of the university — এমপ্লয়েড শব্দের সাথে অব preposition বসে না বরং with বা by বসে তাই এই গঠনটি ভুল।
মনে রাখার টিপস:
শর্তমূলক বাক্যের সাবজেক্ট এবং অ্যাক্টিভ ভয়েসের সঠিক ব্যবহার চেনার মাধ্যমে সহজেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা যায়।
সঠিক উত্তর: A) beyond
কেন সঠিক:
বুল বুদ্ধিজীবীরা সমাজের সীমানার বাইরে একা থাকেন না, বরং তারা সমাজের সাথেই বসবাস করেন। বাক্যটির অর্থ প্রকাশ করতে এখানে মার্জিনের বাইরে অর্থে beyond শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) beyond — এটি সঠিক উত্তর এবং এখানে সীমার বাইরে অর্থ বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
B) against — এর অর্থ বিরুদ্ধে, যা এই বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয় এবং ব্যাকরণগতভাবে বেমানান।
C) inside — এর অর্থ ভেতরে, কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান বোঝাতে এটি এখানে উপযুক্ত নয়।
D) before — এর অর্থ পূর্বে বা সামনে, যা এই শূন্যস্থানে বসালে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
মনে রাখার টিপস:
সমাজের প্রান্ত বা মার্জিন বোঝাতে সাধারণত beyond শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: A) had escaped
কেন সঠিক:
মূল বাক্যের প্রথম অংশ 'was conducted' পাস্ট টেন্সে আছে। তাই পরের অংশের কাজটিও অতীতের আগের অতীত বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স (had + V3) হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সঠিক উত্তর — এটি সঠিক পাস্ট পারফেক্ট টেন্স গঠন করেছে।
B) have had escaped — এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল এবং অপ্রয়োজনীয় গঠন।
C) are escaping — এটি প্রেজেন্ট কন্টিনিউয়াস টেন্স, যা পাস্ট টেন্সের সাথে মেলে না।
D) have been escaping — এটি প্রেজেন্ট পারফেক্ট কন্টিনিউয়াস টেন্স, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
প্রধান ক্লজটি পাস্ট টেন্সে থাকলে এবং আগের কোনো ঘটনা বোঝালে সাব-অর্ডিনেট ক্লজে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স (had + V3) ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) although
কেন সঠিক:
বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে বিপরীত বা অসঙ্গতিপূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে although ব্যবহৃত হয়।
কাঁচ দেখতে কঠিন মনে হলেও এর আণবিক গঠন তরলের মতো, তাই এখানে বিপরীত অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে।
বাকি conjunction গুলো এই বিপরীতমুখী ভাব প্রকাশ করতে পারে না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Since — কারণ বা যেহেতু অর্থ প্রকাশ করে, যা এখানে বিপরীত ভাবের সাথে মেলে না।
B) because — কারণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক নেই বরং বৈপরীত্য আছে।
C) although — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) if — শর্ত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের অর্থের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যের দুটি অংশে বিপরীত অর্থ থাকলে although বা though ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) antidote: counteract
কেন সঠিক:
মূল শব্দজোড়ায় ভেক্সিন বা টিকা কোনো রোগ প্রতিরোধ করতে কাজ করে এবং এটি একটি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ঠিক তেমনি প্রতিষেধক বা অ্যান্টিডোট বিষ বা ক্ষতিকর প্রভাব নিষ্ক্রিয় করতে বা প্রতিহত করতে কাজ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) victim: attend — এখানে ভিকটিম বা শিকার এবং তাকে দেখাশোনার বিষয়টি মূল জোড়ার মতো কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
B) Wound: heal — ক্ষত এবং নিরাময় সম্পর্কিত হলেও এটি সরাসরি প্রতিরোধমূলক বিষ বা ক্ষতিকর প্রভাব দূর করার ভাব প্রকাশ করে না।
C) antidote: counteract — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) diagnosis: cure — রোগ নির্ণয় এবং নিরাময় সম্পূর্ণ দুটি আলাদা ধাপ, যা সরাসরি প্রতিরোধ বা নিষ্ক্রিয় করার সমকক্ষ নয়।
মনে রাখার টিপস:
মূল শব্দের কার্যকারিতা দেখতে হবে যেমন টিকা যেমন রোগ আটকায়, প্রতিষেধক তেমনি বিষ প্রতিহত করে।
সঠিক উত্তর: B) penury: wealth
কেন সঠিক:
ANARCHY শব্দের অর্থ নৈরাজ্য বা যেখানে সরকার বা নিয়ম নেই। GOVERNMENT হলো সরকারের উপস্থিতি, যা ANARCHY এর বিপরীতার্থক শব্দ।
penury শব্দের অর্থ চরম দারিদ্র্য এবং wealth শব্দের অর্থ সম্পদ।
এই দুটি শব্দও পরস্পরের বিপরীতার্থক সম্পর্ক প্রকাশ করে।
মূল প্রশ্নের জোড়ার সাথে হুবহু মিল রয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) chaos: disorder — chaos এবং disorder সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক নয়।
B) penury: wealth — এটি সঠিক উত্তর।
C) monarchy: republic — monarchy এবং republic উভয়ই সরকার পরিচালনার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি।
D) verbosity: words — verbosity হলো অতিরিক্ত শব্দের ব্যবহার, যা বিপরীতার্থক নয়।
মনে রাখার টিপস:
মূল প্রশ্নটির শব্দ দুটি খেয়াল করো। একটি না থাকলে অন্যটি বোঝায়। অপশন থেকেও বিপরীতার্থক জোড়াটি খুঁজে বের করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) detain : dispatch
কেন সঠিক:
- DELAY (বিলম্ব করা) এবং EXPEDITE (দ্রুততর করা) শব্দ দুটি পরস্পর বিপরীতার্থক বা অ্যান্টনিম।
- প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে DETAIN ( আটকে রাখা) এবং DISPATCH (পাঠানো বা ছেড়ে দেওয়া) শব্দ দুটিও পরস্পর বিপরীতার্থক সম্পর্ক প্রকাশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) blick : obstruct — blick এবং obstruct শব্দ দুটির মধ্যে বিপরীতার্থক সম্পর্ক নেই, বরং obstruct অর্থ বাধা দেওয়া।
B) related : halt — related এবং halt শব্দ দুটির মধ্যে কোনো যৌক্তিক বিপরীত সম্পর্ক নেই এবং এদের অর্থ ভিন্ন।
C) drag : procrastinate — drag এবং procrastinate সমার্থক শব্দ, যা বিপরীতার্থক সম্পর্ক নির্দেশ করে না।
D) detain : dispatch — এটি সঠিক কারণ detain অর্থ আটকে রাখা এবং dispatch অর্থ পাঠানো, যা মূল শব্দের বিপরীত সম্পর্কের সাথে মিলে যায়।
মনে রাখার টিপস:
মূল প্রশ্নটির শব্দ দুটির বিপরীত অর্থ মনে রাখুন এবং অপশনগুলোর মধ্যে বিপরীতার্থক জোড়টি খুঁজে বের করুন।
সঠিক উত্তর: C) ৩৬ এবং ৯ বছর
প্রদত্ত তথ্য:
পিতার বর্তমান বয়স পুত্রের বয়সের চারগুণ
৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স পুত্রের বয়সের দশগুণ ছিল
ধরি,
পুত্রের বর্তমান বয়স = ক বছর
পিতার বর্তমান বয়স = ৪ক বছর
অতএব,
৬ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স = ক − ৬ বছর
৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স = ৪ক − ৬ বছর
প্রশ্নমতে, ৪ক − ৬ = ১০ × (ক − ৬)
সুতরাং,
৪ক − ৬ = ১০ক − ৬০
১০ক − ৪ক = ৬০ − ৬
৬ক = ৫৪
উত্তর: ক = ৯ এবং পিতার বয়স ৩৬ বছর
সঠিক উত্তর: A) ২৪ মি. এবং ১২ মি
প্রদত্ত তথ্য:
দুইটি নল একত্রে একটি চৌবাচ্চা পূর্ণ করে ৮ মিনিটে
নল দুইটি খুলে দেওয়ার ৪ মিনিট পর প্রথম নল বন্ধ করা হলো
ধরি,
প্রথম নল চৌবাচ্চাটি পূর্ণ করে ক মিনিটে
দ্বিতীয় নল চৌবাচ্চাটি পূর্ণ করে খ মিনিটে
অতএব,
নল দুইটি ৪ মিনিটে পূর্ণ করে চৌবাচ্চাটির ৪ অংশ ৮ ভাগের এক অংশ
বাকি থাকে এক বিয়োগ চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ চৌবাচ্চা
সুতরাং,
দ্বিতীয় নল বাকি চার ভাগের তিন ভাগ পূর্ণ করে ৬ মিনিটে
সম্পূর্ণ চৌবাচ্চাটি দ্বিতীয় নল পূর্ণ করে ১২ মিনিটে
উত্তর: ২৪ মি. এবং ১২ মি
সঠিক উত্তর: B) (2y2−x2)/xy
প্রدত্ত তথ্য:
ভগ্নাংশটি হলো x ÷ y
নির্ণয় করতে হবে কত যোগ করলে যোগফল 2x ÷ y হবে
ধরি,
নির্ণয় সংখ্যাটি ক
অতএব,
(x ÷ y) + ক = 2x ÷ y
সুতরাং,
ক = (2x ÷ y) − (x ÷ y)
ক = (2x2 − x2) ÷ xy
উত্তর: (2y2 − x2) ÷ xy
সঠিক উত্তর: C) ২২
প্রদত্ত তথ্য:
x বর্গ + y বর্গ = ৮
x ও y এর গুণফল = ৭
ধরি,
প্রথম রাশি = x বর্গ + y বর্গ = ৮
দ্বিতীয় রাশি = x y = ৭
অতএব,
আমরা জানি, (x + y) এর হোল স্কয়ার এর সূত্র হলো (x বর্গ + y বর্গ + ২xy)
এখন মানের জায়গায় সংখ্যাগুলো বসিয়ে পাই
সুতরাং,
৮ + (২ × ৭)
= ৮ + ১৪
= ২২
উত্তর: ২২
সঠিক উত্তর: A) ৩৭.৫ কি. মি.
প্রদত্ত তথ্য:
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দূরত্ব = ৩০০ কি. মি.
ট্রেন ছাড়ার সময় = সকাল ৭ টা এবং পৌঁছানোর সময় = বিকেল ৩ টা
ধরি,
সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত মোট সময় = ৮ ঘন্টা
ট্রেনটির অতিক্রান্ত মোট দূরত্ব = ৩০০ কি. মি.
গতিবেগ নির্ণয়ের সূত্র = মোট দূরত্ব ÷ মোট সময়
অতএব,
ট্রেনটির গতিবেগ = ৩০০ কি. মি. ÷ ৮ ঘন্টা
হিসাব করে পাই, ৩০০ ÷ ৮ = ৩৭.৫
সুতরাং,
ট্রেনটির ঘন্টায় গতি ছিল ৩৭.৫ কি. মি.
উত্তর: ৩৭.৫ কি. মি.
সঠিক উত্তর: C) ৪৮ ঘ. মি.
প্রদত্ত তথ্য:
সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি = ১৬ মিটার
অপর দুটি সমান বাহুর প্রতিটি = ১০ মিটার
ধরি,
ত্রিভুজের ভূমিকে b = ১৬ এবং সমান বাহুদ্বয়কে a = ১০ ধরলাম
অতএব,
সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্রটি হলো
ক্ষেত্রফল = (b ÷ ৪) × √(৪ × a × a − b × b)
সুতরাং,
মান বসিয়ে পাই, ক্ষেত্রফল = (১৬ ÷ ৪) × √(৪ × ১০ × ১০ − ১৬ × ১৬)
ক্ষেত্রফল = ৪ × √(৪০০ − ২৫৬) = ৪ × √১৪৪ = ৪ × ১২ = ৪৮
উত্তর: ৪৮ ঘ. মি.
সঠিক উত্তর: D) ১০ ও ১৬
প্রদত্ত তথ্য:
দুটি সংখ্যার অনুপাত ৫ ও ৮
উভয়ের সাথে ২ যোগ করলে নতুন অনুপাত হয় ২ ও ৩
ধরি,
প্রথম সংখ্যাটি = ৫ক
দ্বিতীয় সংখ্যাটি = ৮ক
অতএব,
শর্তমতে লেখা যায়, (৫ক + ২) ÷ (৮ক + ২) = ২ ÷ ৩
বা, ৩ গুণ (৫ক + ২) = ২ গুণ (৮ক + ২)
বা, ১৫ক + ৬ = ১৬ক + ৪
সুতরাং,
১৬ক − ১৫ক = ৬ − ৪
ক = ২
উত্তর: প্রথম সংখ্যা = ৫ গুণ ২ = ১০ এবং দ্বিতীয় সংখ্যা = ৮ গুণ ২ = ১৬
সঠিক উত্তর: C) চারগুণ
প্রদত্ত তথ্য:
একটি সরল রেখা এবং তার অর্ধেকের উপর বর্গ অঙ্কিত হবে
ধরি,
সরল রেখাটির দৈর্ঘ্য = ক
অতএব,
সরল রেখার উপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফল = ক × ক = ক২
সুতরাং,
সরল রেখার অর্ধেকের দৈর্ঘ্য = ক ÷ ২
উত্তর: অর্ধেকের উপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফল = (ক ÷ ২) × (ক ÷ ২) = ক২ ÷ ৪, যা মূল বর্গের চারগুণ
সঠিক উত্তর: C) ১০
প্রদত্ত তথ্য:
x ও y-এর মানের গড় ৯
z এর মান ১২
ধরি,
x ও y এর মানের সমষ্টি = ৯ × ২ = ১৮
z এর মান = ১২
অতএব,
x, y ও z এর মানের মোট সমষ্টি = ১৮ + ১২ = ৩০
মোট পদের সংখ্যা = ৩
সুতরাং,
x, y এবং z এর মানের গড় = ৩০ ÷ ৩ = ১০
উত্তর: ১০
সঠিক উত্তর: B) লৌহ
১. কেন সঠিক:
লৌহ বা লোহা কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়, এটি একটি সাধারণ এবং অত্যন্ত পরিচিত চৌম্বকীয় ধাতু। তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে হলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে অত্যন্ত ভারী এবং অস্থায়ী হতে হয়, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: তেজস্ক্রিয়তা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলফা, বিটা বা গামা কণা নির্গমন করে স্থায়ী মৌলে রূপান্তরিত হয়। লৌহের পারমাণবিক সংখ্যা ছাব্বিশ এবং এর পারমাণবিক ভর ছাপ্পান, যা তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শনের জন্য যথেষ্ট ভারী নয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঘরের দরজা বা জানালার গ্রিল তৈরিতে লোহা ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: লোহা সাধারণ তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও অতেজস্ক্রিয় ধাতু হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ ২: মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের প্রধান উপাদান হিসেবে লোহা থাকে।
ব্যাখ্যা: লোহা জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং এর কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নেই বলেই এটি মানবদেহের জন্য নিরাপদ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইউরেনিয়াম — এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অত্যন্ত ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা বিরানব্বই।
B) লৌহ — এটি সাধারণ ধাতু এবং সঠিক উত্তর কারণ এটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটায় না।
C) প্লুটোনিয়াম — এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরিকৃত ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা চুরানব্বই।
D) নেপচুনিয়াম — এটি একটি তেজস্ক্রিয় অ্যাক্টিনাইড মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা তিরানব্বই।
৫ মনে রাখার টিপস:
তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত বিরাশি বা তার বেশি হয়ে থাকে। লোহা অনেক হালকা ধাতু বিধায় এটি তেজস্ক্রিয় হতে পারে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল হলো ইউরেনিয়াম। একই ধরনের প্রশ্নে প্রায়ই তেজস্ক্রিয় এবং অতেজস্ক্রিয় মৌল আলাদা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: C) লৌহ
১. কেন সঠিক:
বিজ্ঞানের ভাষায় স্থিতিস্থাপকতা বলতে বোঝায় কোনো বস্তুর ওপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে বিকৃত করার পর বল সরিয়ে নিলে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতা। রাবারকে বেশি প্রসারিত করা গেলেও বাহ্যিক বল সরিয়ে নিলে এটি নিখুঁতভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না, কিন্তু লৌহ তার অণুগুলোর শক্তিশালী আন্তঃআণবিক আকর্ষণের কারণে বাহ্যিক বল সরানোর পর নিখুঁতভাবে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: স্থিতিস্থাপকতা হলো পদার্থের এমন একটি ধর্ম যার ফলে বাহ্যিক বল প্রয়োগের কারণে সৃষ্ট বিকৃতি বস্তু বাধা দেয় এবং বল অপসারণ করলে পূর্বের আকৃতি ফিরে পায়।
কারণ ও ফলাফল: রাবারকে সহজেই অনেক বেশি লম্বা করা যায় কিন্তু এর স্থিতিস্থাপক ক্লান্তি বেশি এবং এটি স্থায়ীভাবে কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে লৌহ বা ইস্পাতের অণুগুলোর ভেতরের আন্তঃআণবিক বল অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এর স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে বেশি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইস্পাতের তৈরি সেতু বা স্প্রিং বারবার ভারী বোঝা বহন করার পরেও তার পূর্বের আকারে ফিরে আসে।
ব্যাখ্যা: এর কারণ ইস্পাত বা লৌহের স্থিতিস্থাপকতা অনেক বেশি হওয়ায় এটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী হয়।
উদাহরণ ২: একটি রাবার ব্যান্ড বারবার টানলে তা একসময় ঢিলে হয়ে যায় এবং সহজে আগের আকৃতি ফিরে পায় না।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে বাহ্যিক প্রসারণ বেশি হলেও রাবারের স্থিতিস্থাপকতা লৌহের চেয়ে কম।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এলুমিনিয়াম — এটি একটি ধাতু হলেও এর আন্তঃআণবিক বন্ধন লৌহের তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী হওয়ায় এর স্থিতিস্থাপকতা লৌহের চেয়ে কম।
B) রাবার — সাধারণ ধারণায় রাবারকে বেশি নমনীয় ভাবা হলেও পদার্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী এর স্থিতিস্থাপকতা লৌহের চেয়ে কম।
C) লৌহ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অণুগুলোর ভেতরের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপক সীমা অন্য অপশনগুলোর তুলনায় বেশি।
D) তামা — তামার নমনীয়তা ও ঘাতসহনশীলতা বেশি হলেও এর স্থিতিস্থাপকতা লৌহের মতো অতটা প্রবল নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
যে ধাতু যত বেশি কঠিন এবং যার অণুগুলোর আকর্ষণ যত বেশি দৃঢ়, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী তার স্থিতিস্থাপকতাও তত বেশি হয়। রাবার নরম হওয়ায় অনেকেই একে বেশি স্থিতিস্থাপক মনে করে ভুল করেন, যা বর্জন করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে যেখানে রাবার এবং লোহার মধ্যে স্থিতিস্থাপকতার তুলনামূলক পার্থক্য জানতে চাওয়া হয়। মনে রাখতে হবে, বিকৃতির পরিমাণ এবং স্থিতিস্থাপকতা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈজ্ঞানিক ধারণা।
সঠিক উত্তর: C) এলুমিনিয়াম
১. কেন সঠিক:
- এলুমিনিয়াম একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ, যা চুম্বক দ্বারা জোরালোভাবে আকৃষ্ট হয় না।
- এটি চুম্বকত্ব প্রদর্শনে অক্ষম হওয়ায় চৌম্বক পদার্থের তালিকায় পড়ে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: চুম্বকের প্রতি পদার্থের আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে পদার্থকে প্রধানত ফেরোচৌম্বক, প্যারাচৌম্বক এবং ডায়াচৌম্বক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে লোহা বা ইস্পাত চুম্বকে পরিণত হয়, কিন্তু এলুমিনিয়াম সামান্য সাড়া দিলেও তা স্থায়ী বা প্রবল আকর্ষণ তৈরি করে না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ফ্রিজের দরজায় চুম্বকের আকর্ষণ।
ব্যাখ্যা: ফ্রিজের দরজায় লোহা বা ইস্পাত থাকে বলে চুম্বক সহজে আটকে থাকে, কিন্তু এলুমিনিয়ামের দরজায় তা হয় না।
উদাহরণ ২: পাটের তৈরি বা প্লাস্টিকের বস্তুর ওপর চুম্বকের প্রভাব।
ব্যাখ্যা: লোহা ছাড়া বেশিরভাগ ধাতব ও অধাতব পদার্থ চুম্বককে আকর্ষণ করে না, যেমন এলুমিনিয়াম বা কাঠ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইস্পাত — এটি একটি সংকর ধাতু এবং শক্তিশালী ফেরোচৌম্বক পদার্থ, তাই এটি চৌম্বক পদার্থ।
B) কাঁচা লৌহ — এটি নরম লোহা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ফেরোচৌম্বক পদার্থ, যা দ্রুত চুম্বকত্ব লাভ করে।
C) এলুমিনিয়াম — এটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ এবং চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না, তাই এটি সঠিক উত্তর।
D) কোবাল্ট — এটি একটি পরিচিত চৌম্বক ধাতু এবং ফেরোচৌম্বক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- লোহা, ইস্পাত ও কোবাল্ট চুম্বকের বন্ধু, কিন্তু এলুমিনিয়াম তাদের দলভুক্ত নয়।
- চৌম্বক পদার্থ মনে রাখতে লোহা, নিকেল ও কোবাল্টের নাম মনে রাখলেই চলে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই চৌম্বক ও অ-চৌম্বক পদার্থের উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়।
- ফেরোচৌম্বক পদার্থগুলোর নাম ভালোভাবে মুখস্থ রাখলে এই ধরনের প্রশ্ন সহজে উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) দর্পণ
১. কেন সঠিক:
যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত বা সুষম প্রতিফলন ঘটে, তাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় দর্পণ বলা হয়।
দর্পণের পৃষ্ঠ অত্যন্ত মসৃণ হওয়ায় আলোর রশ্মি আপতিত হয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিফলিত হয়, যার ফলে স্পষ্ট বিম্ব গঠিত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: দর্পণ বা আয়না হলো এমন একটি মসৃণ তল যেখানে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
কার্যপ্রণালি: আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: বাসা-বাড়িতে মুখ দেখার জন্য এবং বিভিন্ন অপটিক্যাল যন্ত্রে দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সমতল আয়না
ব্যাখ্যা: প্রতিদিন সকালে আমরা যে আয়নায় মুখ দেখি তা একটি সমতল দর্পণ, যা আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিচ্ছবি দেখায়।
উদাহরণ ২: গাড়ির সাইড ভিউ মিরর
ব্যাখ্যা: উত্তল দর্পণ ব্যবহার করে গাড়ির পেছনের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লেন্স — লেন্স হলো আলোর প্রতিসরণকারী স্বচ্ছ মাধ্যম, যেখানে আলোর প্রতিফলন নয় বরং প্রতিসরণ ঘটে।
B) দর্পণ — এটি সঠিক উত্তর, কারণ মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন এখানেই ঘটে।
C) প্রিজম — প্রিজম হলো আলোর প্রতিসরণের জন্য ব্যবহৃত ত্রিভুজাকার স্বচ্ছ মাধ্যম যা বর্ণালী সৃষ্টি করে।
D) বিম্ব — বিম্ব হলো কোনো বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মি প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে যেখানে মিলিত হয় বা মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নিয়মিত প্রতিফলন মানেই দর্পণ এবং প্রতিসরণ মানেই লেন্স বা প্রিজম।
আয়না বা দর্পণে আলো বাধা পেয়ে ফিরে আসে, আর লেন্সের ভেতর দিয়ে আলো পার হয়ে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আলোর নিয়মিত ও ব্যাপ্ত প্রতিফলন সংক্রান্ত প্রশ্ন বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় প্রায়ই আসে।
মসৃণ তলে নিয়মিত এবং অমসৃণ বা রুক্ষ তলে ব্যাপ্ত প্রতিফলন ঘটে, এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: A) মাইক্রোওয়েভ
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রশ্নে প্রদত্ত সঠিক উত্তর B) গামা রশ্মি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। রাডারে মূলত মাইক্রোওয়েভ বা অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। গামা রশ্মি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিপজ্জনক তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ হওয়ায় রাডারে তা ব্যবহার করা হয় না।
১. কেন সঠিক:
- রাডারে তড়িৎ চৌম্বকীয় স্পন্দন পাঠানোর জন্য মাইক্রোওয়েভ বা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- এই তরঙ্গগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকায় যেকোনো বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রাডার শব্দের অর্থ হলো রেডিও ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং। এটি তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী বস্তুর অবস্থান, গতি ও দূরত্ব নির্ণয় করে।
- কার্যপ্রণালি: ট্রান্সমিটার থেকে মাইক্রোওয়েভ নির্গত হয়ে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যায় এবং কোনো বস্তুর গায়ে লেগে প্রতিসংকেত হিসেবে রিসিভারে ফিরে আসে।
- বাস্তব প্রয়োগ: বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং নৌচলাচলের দিক নির্ণয়ে মাইক্রোওয়েভভিত্তিক রাডার ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিমানবন্দর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল
ব্যাখ্যা: রাডার সিস্টেম মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে আকাশে চলাচলকারী বিমানের সঠিক অবস্থান ও গতি নির্ণয় করে দুর্ঘটনা রোধ করে।
উদাহরণ ২: আবহাওয়া পূর্বাভাসে ব্যবহৃত রাডার
ব্যাখ্যা: আকাশে মেঘের অবস্থান এবং বৃষ্টির পরিমাণ মাপতে মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মাইক্রোওয়েভ — রাডারে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত সঠিক তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ।
B) গামা রশ্মি — এটি অত্যন্ত উচ্চ শক্তির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ যা রাডারে ব্যবহার করা অসম্ভব ও ক্ষতিকর।
C) অবলােহিত বিকিরণ — এটি মূলত তাপীয় বিকিরণ হিসেবে কাজ করে, যা রাডার প্রযুক্তির জন্য উপযোগী নয়।
D) আলােক তরঙ্গ — এটি দৃশ্যমান বর্ণালীর অংশ এবং কুয়াশা বা মেঘ ভেদ করতে না পারায় রাডারে ব্যবহার করা হয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রাডার শব্দটি রেডিও তরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
- মনে রাখবে, রাডার মানেই অদৃশ্য মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে দূরবর্তী বস্তু খোঁজা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তড়িৎ চৌম্বক স্পেকট্রাম থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে রাডার কোন নীতিতে কাজ করে অথবা আলোর গতির সঙ্গে রাডার তরঙ্গের সম্পর্ক কী।
সঠিক উত্তর: B) হেস
১. কেন সঠিক:
ভিক্টর হেস ১৯১২ সালে বেলুনে চড়ে উঁচুতে উঠে পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করেন যে মহাকাশ থেকে একপ্রকার অতি ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন অদৃশ্য রশ্মি পৃথিবীতে আসে।
এই অবদানের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মহাজাগতিক রশ্মি হলো উচ্চ শক্তির চার্জযুক্ত কণা, যা প্রধানত প্রোটন এবং পারমাণবিক নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত।
বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে এসে এগুলো গ্যাসের অণুর সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে সেকেন্ডারি কণা তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অরোরা বা মেরুপ্রভা সৃষ্টির পেছনে মহাজাগতিক কণা এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া কাজ করে।
ব্যাখ্যা: চার্জযুক্ত কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে ধাক্কা লেগে আলো বিকিরণ করে।
উদাহরণ ২: উচ্চ altitude বা পাহাড়ি এলাকায় মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব কম থাকায় সেখানে রশ্মিগুলোর বাধা কম পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গোল্ডস্টাইন — গোল্ডস্টাইন অ্যানোড রশ্মি বা প্রোটন আবিষ্কারের সাথে যুক্ত।
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
B) হেস — ভিক্টর হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এটিই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
C) রাদারফোর্ড — রাদারফোর্ড পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস এবং আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করেছেন।
তিনি এই রশ্মি আবিষ্কার করেননি।
D) আইনস্টাইন — আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এবং আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার জন্য বিখ্যাত।
তিনি মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পাননি।
৫ মনে রাখার টিপস:
মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে আবিষ্কারক মনে রাখতে হেস নামটির সাথে হাই বা উঁচুতে ওড়ার বেলুন বিষয়টি মনে রাখতে পারেন।
উঁচু আকাশে বেলুনে চড়ে হেস এই রশ্মি আবিষ্কার করেছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভিক্টর হেস ১৯৩৬ সালে ভিক্টর ফ্রাঙ্কস হেস হিসেবে নোবেল পুরস্কার পান।
একই রকম প্রশ্ন আসতে পারে এক্স-রে বা তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারক কে তা নিয়ে।
সঠিক উত্তর: C) লাউড স্পিকার
১. কেন সঠিক:
লাউড স্পিকার এমন একটি শক্তি রূপান্তরকারী যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক সংকেতকে শ্রবণযোগ্য শব্দ তরঙ্গে রূপান্তরিত করে।
তড়িৎ প্রবাহ যখন স্পিকারের কয়েলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে কয়েলটি গতিশীল হয় এবং সাথে সংযুক্ত পর্দা কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: শক্তি সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়।
কার্যপ্রণালি: বৈদ্যুতিক শক্তি প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে এবং পরে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: রেডিও, টেলিভিশন, মাইক এবং মোবাইলে গান শোনার সময় এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি প্রতিনিয়ত ঘটে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কনসার্ট বা জলসায় ব্যবহৃত সাউন্ড সিস্টেম।
ব্যাখ্যা: অ্যাম্প্লিফায়ার থেকে আসা বিদ্যুৎ সংকেত লাউড স্পিকারের মাধ্যমে জোরালো শব্দ শক্তিতে পরিণত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
উদাহরণ ২: মসজিদের মাইক বা জনসভার লাউড স্পিকার।
ব্যাখ্যা: বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে মুখের কথা বা অডিও সিগন্যালকে অনেক দূর পর্যন্ত শব্দ আকারে পৌঁছানো হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেনারেটর — এই যন্ত্রটি যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে, যা ঠিক উল্টো প্রক্রিয়া।
B) এমপ্লিফাইয়ার — এটি দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতের মান বা শক্তি বৃদ্ধি করে, কোনো শক্তি রূপান্তর করে না।
C) লাউড স্পিকার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
D) মাইক্রোফোন — এই যন্ত্রটি শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা লাউড স্পিকারের বিপরীত কাজ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
লাউড স্পিকার মানেই শব্দ বা স্পিকারের আওয়াজ, তাই এটি বিদ্যুৎ থেকে শব্দ বানায়।
মাইক্রোফোনের কাজ ঠিক উল্টো, কারণ মাইক্রোফোনে আমরা কথা বলি অর্থাৎ শব্দ দিই এবং সেটি বিদ্যুৎ হয়ে প্রবেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শক্তির রূপান্তর থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
জেনারেটর, মাইক্রোফোন এবং লাউড স্পিকারের কাজগুলোর বিপরীত সম্পর্ক ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ফ্যাদোমিটার
১. কেন সঠিক:
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে শব্দের প্রতিফলন ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা হয়।
- পানির নিচে শব্দের বেগ এবং শব্দ পাঠিয়ে ফিরে আসতে লাগা সময় হিসাব করে গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: একে ইকো সাউন্ডিং প্রযুক্তি বলা হয়, যা সোনার তরঙ্গের প্রতিধ্বনি নীতির ওপর কাজ করে।
- কার্যপ্রণালি: জাহাজের তলা থেকে পানির নিচে শব্দ তরঙ্গ পাঠানো হয়, যা সমুদ্রের তলায় বাধা পেয়ে আবার ফিরে আসে।
- কারণ ও ফলাফল: শব্দ যাওয়ার এবং আসার মোট সময়কে শব্দের বেগ দিয়ে গুণ করে দুই দিয়ে ভাগ করলে গভীরতা পাওয়া যায়।
- বাস্তব প্রয়োগ: সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, নিরাপদ নেভিগেশন এবং জলবায়ু গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইকো সাউন্ডিং প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা: জাহাজে স্থাপিত এই যন্ত্রটি তরঙ্গ পাঠিয়ে নিমিষেই সমুদ্রের গভীরতা স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলে।
উদাহরণ ২: সোনাক ও বাদুড়ের চলাফেরা
ব্যাখ্যা: বাদুড় যেমন প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে পথ চলে, ফ্যাদোমিটারও ঠিক তেমনি প্রতিধ্বনির সাহায্যে গভীরতা মাপে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাইরাে কম্পাস — এটি এমন একটি কম্পাস যা পৃথিবীর ঘূর্ণন ব্যবহার করে উত্তর দিক নির্দেশ করে এবং দিক পরিবর্তনে সহায়তা করে।
B) ফ্যাদোমিটার — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি সমুদ্রের গভীরতা মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়।
C) সাবমেরিন — এটি সমুদ্রের পানির নিচে চলাফেরা করতে সক্ষম একটি জলযান, কোনো পরিমাপক যন্ত্র নয়।
D) এনিওমিটার — এটি বাতাসের গতিবেগ ও চাপ পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত একটি আবহাওয়া সংক্রান্ত যন্ত্র।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ফ্যাদোমিটার শব্দের শেষে মিটার আছে যা পরিমাপের নির্দেশ করে।
- গভীরতার একক ফ্যদম হওয়ায় এর নাম হয়েছে ফ্যাদোমিটার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমুদ্রের গভীরতার একক এবং পরিমাপক যন্ত্র প্রায়ই আসে।
- শব্দের বেগ এবং প্রতিধ্বনির সময় সংক্রান্ত গাণিতিক প্রশ্নও এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
সঠিক উত্তর: C) হাওয়ার্ড এইকিন
১. কেন সঠিক:
হাওয়ার্ড এইকিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি আইবিএম কোম্পানির সহযোগিতায় বিশ্বের প্রথম পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার মার্ক ওয়ান আবিষ্কার করেন।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তির ইতিহাসে হাওয়ার্ড এইকিন প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কার্যপ্রণালি: মার্ক ওয়ান কম্পিউটারটি সুইচ, গিয়ার এবং রিলে এর সাহায্যে বৈদ্যুতিন ও যান্ত্রিকভাবে জটিল গণনার কাজ পরিচালনা করত।
বাস্তব প্রয়োগ: এই ধরনের প্রাথমিক কম্পিউটারগুলোর প্রযুক্তি বর্তমান যুগের আধুনিক ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও স্মার্টফোনের মেমোরি ও প্রসেসরের ভিত্তি তৈরি করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হার্ভার্ড মার্ক ওয়ান কম্পিউটার।
ব্যাখ্যা: এটি একসঙ্গে একাধিক গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে পারত যা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ গবেষণা ও জটিল গণনায় সাহায্য করেছিল।
উদাহরণ ২: আধুনিক ডিজিটাল ক্যালকুলেটর বা ডেস্কটপ।
ব্যাখ্যা: এটি আদি কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নত রূপ যা আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ সহজ করে দিয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্লেইসি প্যাসকেল — তিনি আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার করেননি, বরং প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর বা পাস্কালিন আবিষ্কার করেছিলেন।
B) উইলিয়াম অটরেড — তিনি স্লাইড রুল বা গুনাঙ্ক মাপার যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন যা গণনার কাজে ব্যবহৃত হতো।
D) আবাকাস — এটি কোনো ব্যক্তি নয়, বরং গণনার সবচেয়ে প্রাচীন একটি যন্ত্র বা গণনাযন্ত্র যার নির্দিষ্ট কোনো একক আবিষ্কারক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেছিলেন এইকিন, তাই মনে রাখুন আইকিন বা এইকিন মানেই কম্পিউটারের আধুনিক রূপকার। চার্লস ব্যাবেজ হলেন তাত্ত্বিক জনক, কিন্তু হাওয়ার্ড এইকিন হলেন মার্ক ওয়ান কম্পিউটারের নির্মাতা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটারের জনক বলা হয় চার্লস ব্যাবেজকে এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয় জন ভন নিউম্যানকে। এই তথ্যগুলো বিসিএস পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: D) ইনসুলিন
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহের অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন হরমোন উৎপাদিত হয়।
- ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করতে সহায়তা করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ইনসুলিন একটি পেপটাইড হরমোন যা রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করতে বাধ্য করে।
- কার্যপ্রণালি: শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি বা এর কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তা ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ সৃষ্টি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর স্বাভাবিক মানুষের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনসুলিন নিঃসরণ করে রক্তের শর্করা কমিয়ে দেয়।
ব্যাখ্যা: এটি ইনসুলিনের স্বাভাবিক গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী কার্যকারিতাকে প্রমাণ করে।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসায় বাইরে থেকে কৃত্রিম ইনসুলিন ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ইনসুলিনের অভাব পূরণের মাধ্যমে রক্তের শর্করা নিরাপদ সীটায় রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গ্লুকাগন — এটি অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে তা বাড়াতে সাহায্য করে।
B) থাইবাসিন — এটি থাইমাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বা লিম্ফোসাইট তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
C) এড্রিনালিন — এটি এড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং ভীতি, উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
D) ইনসুলিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ইনসুলিন শব্দটির সঙ্গে ইনজেকশন শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখতে পারো যে ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন নিতে হয়।
- বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে এবং আলফা কোষ গ্লুকাগন তৈরি করে, এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগটি মূলত ইনসুলিন হরমোনের অপর্যাপ্ততার কারণে হয়ে থাকে।
- অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কারণ এটি একই সঙ্গে হরমোন এবং পরিপাক রস উভয়ই নিঃসরণ করে।
সঠিক উত্তর: A) চট্টগ্রামে
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আশির দশকে বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের সূচনা হয়। এই নীতির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রথম ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তারিখ ও স্থান: চট্টগ্রামের হালিশহরে ১৯৮৩ সালে প্রথম এই ইপিজেড আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা এই অঞ্চলগুলোর সামগ্রিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: চট্টগ্রাম ইপিজেডের সফলতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আরও ইপিজেড স্থাপনে উৎসাহিত করে। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা ইপিজেড
ব্যাখ্যা: চট্টগ্রামের সাফল্যের পর ১৯৯৩ সালে সাভারে দ্বিতীয় ইপিজেড বা ঢাকা ইপিজেড স্থাপিত হয়।
উদাহরণ ২: মংলা ইপিজেড
ব্যাখ্যা: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ২০০১ সালে মোংলা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এই ইপিজেড স্থাপন করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চট্টগ্রামে — এটি সঠিক উত্তর কারণ বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড এখানেই ১৯৮৩ সালে স্থাপিত হয়েছিল।
B) সাভারে — সাভারে দেশের দ্বিতীয় বা ঢাকা ইপিজেড অবস্থিত, যা প্রথম ইপিজেড নয়।
C) মংলায় — মংলা ইপিজেড পরবর্তীতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়।
D) ঈশ্বরদীতে — ঈশ্বরদী ইপিজেড উত্তরের অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পরবর্তীতে স্থাপিত একটি ইপিজেড।
৫. মনে রাখার টিপস:
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় প্রথম ইপিজেডও চট্টগ্রামেই স্থাপিত হয়েছিল। সালটি মনে রাখতে পারেন ১৯৮৩ সাল, যা বাংলাদেশে ইপিজেড যুগের সূচনা করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বেপজা কত সালে গঠিত হয় এবং এর অধীনে বর্তমানে কতটি সচল ইপিজেড রয়েছে, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে দেশের প্রথম ইপিজেড কোন সালে চালু হয়।
সঠিক উত্তর: C) হিটলার
১. কেন সঠিক:
উক্তিটি নাৎসি জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের উগ্র ও যুদ্ধংদেহী মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তার রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনে যুদ্ধকে মানবজীবনের একটি স্বাভাবিক ও শ্রেষ্ঠ অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
অ্যাডলফ হিটলার বিশ্বাস করতেন সামরিক শক্তি ও আগ্রাসনের মাধ্যমেই জাতির বিস্তার ও টিকে থাকা সম্ভব।
তার এই আগ্রাসী নীতি ও বিশ্বজয়ের স্বপ্নই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার প্রধান কারণ ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হিটলারের আত্মজীবনী মেইন কামফ।
ব্যাখ্যা: এই বইটিতে তার উগ্র জাতীয়তাবাদী ও যুদ্ধবাদী দর্শনের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।
উদাহরণ ২: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
ব্যাখ্যা: হিটলারের এই যুদ্ধংদেহী নীতির পরিণামে পুরো বিশ্বে কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফ্রাঙ্কো — ইনি স্পেনের একনায়ক ছিলেন তবে এই বিশেষ উক্তিটির সঙ্গে তার সরাসরি ঐতিহাসিক সংযোগ নেই।
B) সালজার — ইনি পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার শাসনপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন ধারার ছিল।
D) মুসােলিনী — ইনি ইতালির ফ্যাসিস্ট নেতা হলেও এই নির্দিষ্ট উক্তিটি হিটলারের বলেই বিশ্ব রাজনীতিতে পরিচিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
যুদ্ধকে জীবন বলে মনে করতেন উগ্র যুদ্ধবাজ নেতা হিটলার।
তার মেইন কামফ বই ও নাৎসি মতাদর্শের মূল ভিত্তি ছিল রক্ত ও যুদ্ধ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিশ্ব ইতিহাসের বিখ্যাত রাজনৈতিক উক্তিগুলো প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নও পরীক্ষাতে থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অপারেশন সার্চলাইট শুরুর প্রাক্কালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান এই দম্ভোক্তি করেছিলেন।
- বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলন দমাতে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতা এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই সামরিক দম্ভের মাধ্যমেই মূলত ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা অবধারিত হয়ে ওঠে এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা: ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর যে বর্বর গণহত্যা চালায় তা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
উদাহরণ ২: ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা
ব্যাখ্যা: ইয়াহিয়া খানের এই দমনপীড়ন ও গ্রেফতারের আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যা এই আত্মত্যাগী যুদ্ধের ভিত্তি স্থাপন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেনারেল টিক্কা খান — তিনি অপারেশন সার্চলাইটের সময় পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন প্রশাসক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের প্রধান বাস্তবায়নকারী ছিলেন, তবে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি তার নয়।
B) জেনারেল নিয়াজী — তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন।
D) জেনারেল হামিদ খান — তিনি সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন এবং সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ১৯৭১ সালের শুরুতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সামরিক শাসক ছিলেন ইয়াহিয়া খান, তাই নীতিগত দম্ভোক্তি বা হুমকি তিনিই দিয়েছিলেন।
- টিক্কা খান ছিলেন মাঠে রক্তপাত ঘটানো জল্লাদ, আর ইয়াহিয়া ছিলেন সামগ্রিক দমনপীড়নের প্রধান নির্দেশদাতা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অপারেশন সার্চলাইটের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা কে ছিলেন, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত এবং ইয়াহিয়া খানের ভূমিকা সম্পর্কিত প্রশ্ন বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) ৬৮ জন
১. কেন সঠিক:
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মোট সংখ্যা ৬৭৬ জন। এর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীর প্রতীক প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৭৫ জন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৮ জন এবং সর্বোচ্চ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭ জন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও খেতাব পরিচিতি:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার চার ধরণের বীরত্বসূচক খেতাব ঘোষণা করে। বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের ১৫ জুন এই খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট প্রকাশিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা: তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
উদাহরণ ২: কে এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা: তিনি এস ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন এবং সাহসিকতার জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৫৮ জন — এটি সঠিক সংখ্যা নয় কারণ মুক্তিযুদ্ধে বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫৮ জন ছিল না।
B) ৪২ জন — এই সংখ্যাটি সঠিক নয় কারণ বীর উত্তমের নির্দিষ্ট সংখ্যা ৪২ জন নয়।
D) ৬২ জন — এটি ভুল সংখ্যা কারণ বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের সঠিক তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যাটি প্রযোজ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বীরত্বসূচক খেতাবগুলো মনে রাখার সহজ উপায় হলো মোট খেতাবপ্রাপ্তদের সংখ্যা মনে রাখা যা হলো ৬৭৬ জন। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্তদের সংখ্যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন আসতে পারে যেমন মুক্তিযুদ্ধে মোট কতজন বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন অথবা মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশী নাগরিক কে।
সঠিক উত্তর: A) ট্রপিক অব ক্যানসার
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ কর্কটক্রান্তি রেখা বা ট্রপিক অব ক্যানসার এর ওপর অবস্থিত।
- এই কাল্পনিক রেখাটি দেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
২. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্ত:
- ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ: এটি ২০° ৩৪ থেকে ২৬° ৩৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮° ০১ থেকে ৯২° ৪১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা শুধু বাংলাদেশের ওপর দিয়েই নয়, ভারতের কয়েকটি রাজ্যের ওপর দিয়েও অতিক্রম করেছে।
উদাহরণ ২: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় বা মৌসুমী প্রকৃতির হয়ে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ট্রপিক অব ক্যানসার - এটি সঠিক উত্তর কারণ এই রেখাটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গেছে।
B) ট্রাপিক অব ক্যপ্রিকন - এটি মকরক্রান্তি রেখা যা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে হওয়ায় এটি প্রযোজ্য নয়।
C) ইকুয়েটর - এটি বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা যা পৃথিবীর মাঝ বরাবর অবস্থিত এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ দিক দিয়ে গেছে, এর ওপর বাংলাদেশ অবস্থিত নয়।
D) আর্কটিক সার্কেল - এটি উত্তর বৃত্ত যা পৃথিবীর উত্তর মেরু অঞ্চলে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের অবস্থান এর অনেক দক্ষিণে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থিত।
- কর্কটক্রান্তি রেখার ইংরেজি নাম ট্রপিক অব ক্যানসার এবং এর মান ২৩.৫° উত্তর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বাংলাদেশের অক্ষাংশগত অবস্থান এবং কোন রেখাটি দেশের ওপর দিয়ে গেছে তা জানতে চাওয়া হয়।
- এই প্রশ্নটি ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ভৌগোলিক অবস্থান সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশ্নও সহজে সমাধান করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) 1972
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি অর্জনের অংশ হিসেবে কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩২তম সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বৈদেশিক নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তাৎপর্য ও ফলাফল: কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ করে।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়।
ব্যাখ্যা: এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দরজা খুলে দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 1973 — এই সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করেনি, বরং ১৯৭২ সালেই এই অর্জন সম্পন্ন হয়েছিল।
B) 1972 — এই অপশনটি সঠিক কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পরেই এই সদস্যপদ পায়।
C) 1974 — এই সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যপদ পায়নি, তবে এই বছরেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছিল।
D) 1975 — এই সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক রাজনীতিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল, যা কমনওয়েলথ সদস্যপদ লাভের সাল নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথের সদস্য হয়।
জাতিসংঘে যোগদানের সাল ১৯৭৪ এবং কমনওয়েলথে যোগদানের সাল ১৯৭২, এই দুটি সাল গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কমনওয়েলথ হলো মূলত ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলাদেশ কততম সদস্য হিসেবে কমনওয়েলথে যোগ দেয়, যার সঠিক উত্তর হলো ৩২তম।
সঠিক উত্তর: B) ২৪০০ বর্গমাইল
১. কেন সঠিক:
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার, যার বাংলাদেশ অংশ প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বা ২৪০০ বর্গমাইল।
- প্রচলিত প্রশ্নগুলোতে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন বর্গমাইল এককে ২৪০০ বর্গমাইল হিসেবে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্ত: সুন্দরবন বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি রামসার সাইট হিসেবেও সংরক্ষিত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ
ব্যাখ্যা: সুন্দরী গাছের নামানুসারেই এই বনের নাম সুন্দরবন হয়েছে যা লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়।
উদাহরণ ২: রয়েল বেঙ্গল টাইগার
ব্যাখ্যা: সুন্দরবন বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৫০ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের সঠিক আয়তন নয় বরং অন্য কোনো ভৌগোলিক এলাকার পরিমাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
B) ২৪০০ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের সঠিক আয়তন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এটিই সঠিক বলে গণ্য হয়।
C) ১৮৬০ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের আয়তনের সঙ্গে মিলে না এবং এটি একটি ভুল পরিমাপ।
D) ৯২৫ বর্গমাইল — এটি সুন্দরবনের মোট আয়তন বা বাংলাদেশ অংশের পরিমাণের তুলনায় অনেক কম এবং বিভ্রান্তিকর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ২৪০০ বর্গমাইল বা প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার সংখ্যা দুটি মনে রাখলে যেকোনো অপশন সহজে চিহ্নিত করা যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুন্দরবন কোন কোন জেলায় বিস্তৃত এবং ইউনেস্কো কবে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে তা প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) ১১টি
১. কেন সঠিক:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি ভৌগোলিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলগত সুবিধা এবং সামরিক কমান্ড সুদৃঢ় করার জন্য এই বিভাজন করা হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য:
১৯৭১ সালের ১১ই জুলাই অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডার্স কনফারেন্সে এই ১১টি সেক্টর এবং একজন করে সেক্টর কমান্ডার চূড়ান্ত করা হয়।
১০ নম্বর সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমী বা নৌ সেক্টর, যার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল না এবং এটি সাবমেরিন ও নৌ অপারেশন পরিচালনা করত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা: চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে গঠিত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে মেজর রফিকুল ইসলাম।
উদাহরণ ২: ১১ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা: রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা নিয়ে গঠিত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ তাহের এবং পরবর্তীতে স্কোয়াড্রন লিডার এম হামিদুল্লাহ খান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১১টি - এটি সঠিক উত্তর কারণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
B) ৯টি - এই সংখ্যাটি ভুল কারণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরের সংখ্যা ৯টি ছিল না, বরং ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টর ছিল।
C) ১৫টি - এই সংখ্যাটি ভুল এবং ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে এর কোনো মিল নেই, কারণ সেক্টরের সংখ্যা ১১টি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
D) ১৭টি - এই সংখ্যাটি ভুল কারণ মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরের সংখ্যা ১৭টি ছিল না, এটি একটি বিভ্রান্তিকর অপশন।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সংখ্যা মনে রাখতে মনে রাখুন বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সেক্টর সংখ্যা ১১।
নৌ সেক্টর ছাড়া বাকি ১০টি সেক্টরের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল এবং এর সাথে ১০ যোগ করলে ১১ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ১০ নম্বর সেক্টর সম্পর্কে প্রশ্ন আসে যার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
সেক্টর ছাড়াও সমগ্র দেশকে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সঠিক উত্তর: A) ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭
১. কেন সঠিক:
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘ আড়াই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে এবং শান্তি ফিরে আসে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৭ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও অধিকার আদায়ের নামে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছিল।
তারিখ ও স্থান: ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: সরকারের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সরকারের প্রধান হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পাহাড়িদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটে এবং আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন।
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এই সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন।
ব্যাখ্যা: এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন যা জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭ — এই অপশনটি সঠিক কারণ চুক্তিটি এই দিনেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
B) নভেম্বর ১২, ১৯৯৭ — এই তারিখটি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
C) ডিসেম্বর ১৬, ১৯৯৭ — এটি বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, যা শান্তিচুক্তির তারিখ নয়।
D) ডিসেম্বর ২৫, ১৯৯৭ — এটি খ্রিস্টধর্মের বড়দিন এবং এই তারিখে শান্তিচুক্তি হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৯৭ সালের শেষের দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিজয় দিবসের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই চুক্তি কোন সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত হয় তা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) জয়নুল আবেদীন
১. কেন সঠিক:
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক দৃশ্য নিজের তুলিতে ফুটিয়ে তুলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
তার এই চিত্রকর্মগুলো বাংলার মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও মানবিক বিপর্যয়ের এক অবিনাশী দলিল হিসেবে ইতিহাসে সংরক্ষিত আছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের খাদ্য নীতি ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে ১৯৪৩ সালে বাংলায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা যায়, যা জয়নুল আবেদীনকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি কলকাতার রাস্তায় ঘুরে স্কেচ করেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা: তিনি সে সময়ে বাংলার মানুষের ওপর চলা শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কলম ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন।
উদাহরণ ২: শিল্পী এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা: তিনি বাংলার গ্রামীণ জনপদের কৃষক ও মেহনতি মানুষের শক্তি ও জীবন সংগ্রাম তার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জয়নুল আবেদীন — তিনি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের উপর ছবি এঁকে বিখ্যাত হন এবং বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার জনক হিসেবে পরিচিত।
B) এস এম সুলতান — তিনি বাংলার গ্রামীণ কৃষক সমাজের জীবনযাত্রা এবং তাদের পেশীশক্তির চিত্রায়নের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
C) কামরুল হাসান — তিনি একজন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আঁকা পাকিস্তানি জেনারেল ইয়াহিয়ার মুখের পশুর চিত্রটির জন্য পরিচিত।
D) শফিউদ্দিন আহমদ — তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং প্রিন্টমেকার, যিনি নদী ও মাছের জীবন নিয়ে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ছবি মানেই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
তার আঁকা দুর্ভিক্ষের স্কেচগুলো তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং তাকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
জয়নুল আবেদীনের চিত্রকর্ম এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য জরুরি।
সঠিক উত্তর: A) ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে। এর মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন দেশের শাসনতান্ত্রিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
২. বাংলাদেশ সংবিধান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
তারিখ ও স্থান: ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন গণপরিষদে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
সংবিধান ও আইন: ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সংবিধান কার্যকর হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়।
ব্যাখ্যা: সংবিধান গৃহীত হওয়া এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ দুটি আলাদা, যা পরীক্ষার্থীদের প্রায়ই বিভ্রান্ত করে।
উদাহরণ ২: ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
ব্যাখ্যা: স্বাক্ষর করার দুই দিন পর সংবিধান কার্যকর করা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দিন থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
B) জানুয়ারি ১০, ১৯৭২ — এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক তারিখ।
C) নভেম্বর ৪, ১৯৭২ — এটি সেই দিন যেদিন গণপরিষদে সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছিল।
D) অক্টোবর ১১, ১৯৭২ — এটি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংবিধান খসড়া কমিটির খসড়া পেশ করার তারিখ।
৫. মনে রাখার টিপস:
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং বিজয়ের দিন অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর তা কার্যকর করা হয়।
সংবিধান গ্রহণের মাস নভেম্বর এবং কার্যকর করার মাস ডিসেম্বর এভাবে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংবিধান গৃহীত হওয়ার তারিখ এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ আলাদা তা মনে রাখতে হবে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে সংবিধানের খসড়া কমিটি কবে গঠিত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) ৪.৮ কি. মি.
১. কেন সঠিক:
বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হলো ৪.৮ কিলোমিটার বা ৪৮০০ মিটার, যা যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম রেল ও সড়ক সেতু।
এই সেতুটি যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল এবং পশ্চিম পাড়ের সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
২. ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত প্রেক্ষাপট:
ভৌগোলিক অবস্থান: যমুনা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অর্থনৈতিক তাৎপর্য: ১৯৯৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি জাতীয় জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখছে এবং যমুনা নদী পারাপারের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পদ্মা সেতু।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম বহুমুখী সেতু যার দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
উদাহরণ ২: হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।
ব্যাখ্যা: এটি পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেলসেতু, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৮ কিলোমিটার এবং এটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪.৮ কি. মি. — এটি বঙ্গবন্ধু সেতুর সঠিক দৈর্ঘ্য এবং এটি যমুনা নদীর দুই তীরকে সংযুক্ত করেছে।
B) ৪.৫ কি. মি. — এটি একটি ভুল পরিমাপ এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর সঠিক দৈর্ঘ্যের সঙ্গে মিল নেই।
C) ৫.২ কি. মি. — এই মাপটি ভুল কারণ বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটারের কম।
D) ৬.২ কি. মি. — এই সংখ্যাটি পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি, যা বঙ্গবন্ধু সেতুর সঠিক দৈর্ঘ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য মনে রাখতে মনে রাখুন এর দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের সামান্য কম অর্থাৎ চার দশমিক আট কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ছয় দশমিক এক পাঁচ কিলোমিটার আর বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য চার দশমিক আট কিলোমিটার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হয় ২৩ জুন ১৯৯৮ সালে এবং এর ওপর দিয়ে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২১ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য এবং নদী নিয়ে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) ৫০
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
- বর্তমান বিধান অনুযায়ী সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে।
২. সংবিধান ও আইন:
- সংবিধান ও আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত আছে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রে নারীক্ষমতায়ন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ সরাসরি নিশ্চিত করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা: এই নির্বাচনে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীরা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালে সংবিধোধনের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৫ — এই সংখ্যাটি সঠিক নয় কারণ এটি বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের প্রকৃত হিসাবের সাথে মেলে না।
B) ২০ — এটি অপর্যাপ্ত এবং অতীতে বা বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ছিল না।
C) ৩০ — এটি পূর্ববর্তী সংবিধানের কোনো কোনো সংশোধনীর সময়কার সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ছিল, যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়।
D) ৫০ — এটি সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী সঠিক এবং নির্ভুল উত্তর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখার কৌশল: বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদ মোট ৩৫০ সদস্যের, যার মধ্যে ৩০০ সাধারণ এবং ৫০ সংরক্ষিত নারী আসন।
- সংক্ষেপে মনে রাখুন মোট আসন তিনশো যোগ পঞ্চাশ সমান সাড়ে তিনশো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এই প্রশ্নটি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ছাড়াও মোট আসন সংখ্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ১৮ বছর
১. কেন সঠিক:
- গণপ্রজাত বাংলাদেশের সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
২. সংবিধান ও আইন:
- সংবিধান ও আইন: গণপ্রজাত বাংলাদেশের সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত হয়েছে।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই বিধানের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণ সমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা: দেশের সাধারণ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হওয়া বাধ্যতামূলক শর্ত।
উদাহরণ ২: স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ব্যাখ্যা: উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই বয়সসীমা প্রযোজ্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৮ বছর — এটি ভোটার হওয়ার সঠিক এবং সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ন্যূনতম বয়স।
B) ১৬ বছর — এই বয়সে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কেউ প্রাপ্তবয়স্ক বা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য হন না।
C) ১৯ বছর — এই বয়সসীমা ভোটার হওয়ার ন্যূনতম শর্তের চেয়ে বেশি, তাই এটি সঠিক নয়।
D) ২১ বছর — অতীতে কিছু ক্ষেত্রে বয়সসীমা ভিন্ন থাকলেও বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এটি সঠিক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ১৮ বছর বয়সে ভোটার হওয়া যায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়, যা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আইনি স্বীকৃতি।
- এই বয়সসীমা সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত।
- একই বিষয় থেকে অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে, যেমন ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণের সাংবিধানিক বিধান কোন অনুচ্ছেদে আছে।
সঠিক উত্তর: C) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলের মাধ্যমে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুয়দয় ঘটে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনী ও বাঙালি জাতির যৌথ আঘাতের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা এক মিনিটে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এই ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকার এবং পাকিস্তানের পক্ষে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মুজিবনগর সরকার
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এই অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল।
উদাহরণ ২: বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা: আত্মসমর্পণের ঠিক প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে, যা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গভীর শোকের অধ্যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পল্টন ময়দানে — পল্টন ময়দান ঐতিহাসিক বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের সাক্ষী হলেও ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী এখানে আত্মসমর্পণ করেনি।
B) রমনা পার্কে — রমনা পার্ক রেসকোর্স ময়দানের সংলগ্ন এলাকা হলেও মূল আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
D) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে — এটি সঠিক উত্তর, তবে প্রশ্নে এই অপশনটি পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং এটিই মূল ঐতিহাসিক স্থান।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, এটি মনে রাখা অত্যন্ত সহজ।
- সাল ১৯৭১ এবং স্থান রেসকোর্স ময়দান, এই দুটি তথ্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সর্বদা মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আত্মসমর্পণের দলিলে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেছিলেন, এই প্রশ্নটি প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- একই বিষয় থেকে দলিল স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি, সময়কাল এবং তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাপতির নাম নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) মেহেরপুরে
১. কেন সঠিক:
মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আমবাগানকে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠনের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
এই ঐতিহাসিক স্থানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখান থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালানা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ১০ এপ্রিল জারীকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয় এবং স্থানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুজিবনগর।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা মুজিবনগর সরকার।
ব্যাখ্যা: এই সরকার গঠনের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক ও কাঠামোগত রূপ লাভ করে।
উদাহরণ ২: ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
ব্যাখ্যা: এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ জাতির উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মেহেরপুরে — এই অপশনটি সঠিক কারণ মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত এবং এখানেই প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) সাতক্ষীরায় — এই অপশনটি ভুল কারণ সাতক্ষীরা বাংলাদেশের একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যা মুক্তিযুদ্ধের সময় আট নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল কিন্তু মুজিবনগর এখানে অবস্থিত নয়।
C) চুয়াডাঙ্গায় — এই অপশনটি ভুল কারণ চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর সংলগ্ন একটি জেলা হলেও ঐতিহাসিক মুজিবনগর মূলত মেহেরপুর জেলার ভবেরপাড়া বা বৈদ্যনাথতলায় অবস্থিত।
D) নবাবগঞ্জে — এই অপশনটি ভুল কারণ নবাবগঞ্জ বা বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের একটি সীমান্ত জেলা যা মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুজিবনগর শব্দটি শুনলেই মনে রাখতে হবে এটি মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার পুরোনো নাম।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালের এই দিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছিল যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান মাইলফলক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে মুজিবনগর সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন যার সঠিক উত্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
একইভাবে প্রশ্ন আসতে পারে মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন কে যার সঠিক উত্তর অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
সঠিক উত্তর: C) পুণ্ড্র
১. কেন সঠিক:
- পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্র বাংলার প্রাচীনতম জনপদ ও ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- মৌর্য ও গুপ্ত আমল থেকে শুরু করে প্রাচীন বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে পুণ্ড্র সবচেয়ে প্রাচীন জনপদের মর্যাদা লাভ করেছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদের কেন্দ্র ছিল বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়।
- ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা: এটি পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল এবং বাংলার প্রাচীনতম নগরী হিসেবে পরিচিত।
উদাহরণ ২: পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি
ব্যাখ্যা: গুপ্ত ও পাল যুগে পুণ্ড্র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল বা ভুক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিক্রমপুর — এটি প্রাচীন বাংলার একটি জনপদ ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হলেও পুণ্ড্রর মতো প্রাচীনতম স্থান নয়।
B) সােনারগাঁও — এটি মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতানদের রাজধানী ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল।
D) গোপালগঞ্জ — এটি বাংলাদেশের একটি আধুনিক জেলা এবং প্রাচীন বাংলার প্রধান ঐতিহাসিক জনপদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- প্রাচীনতম স্থান বা জনপদ বললে পুণ্ড্র বা মহাস্থানগড় মনে রাখবে।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ই প্রাচীন পুণ্ড্রনগরীর অবশিষ্টাংশ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলার প্রাচীন জনপদ ও তাদের রাজধানীর নাম প্রায়ই আসে।
- পুণ্ড্র জনপদের বর্তমান অবস্থান কোথায়, তা মহাস্থানগড় বা বগুড়া হিসেবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
১. কেন সঠিক:
হাজী শরীয়ত উল্লাহ ছিলেন বাংলার ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সূচনাকারী।
তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ ভারতের অধঃপতিত মুসলিম সমাজে ইসলামের মৌলিক অনুশাসন প্রচার এবং সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে এই আন্দোলন শুরু করেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ফরায়েজী আন্দোলন মূলত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপ লাভ করে।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের কুসংস্কার ও বেদআত মুক্ত করা এবং ধর্মের আবশ্যিক কর্তব্য বা ফায়েজ পালন নিশ্চিত করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে বাংলার গ্রামীণ কৃষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল।
উদাহরণ ২: ইব্রাহিম খাঁ ও দুধু মিয়া।
ব্যাখ্যা: হাজী শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুধু মিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাজী মােহাম্মদ মহসীন — ইনি একজন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন যিনি মহসীন ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন কিন্তু ফরায়েজী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
B) তিতুমীর — ইনি বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।
C) হাজী শরীয়ত উল্লাহ — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন।
D) হাজী দানেশ — ইনি তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফরায়েজী আন্দোলনের 'ফ' থেকে শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলনের নাম এবং 'হাজী শরীয়ত উল্লাহ' নামটি মনে রাখা সহজ।
তিতুমীর ও হাজী শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলন দুটি যেন গুলিয়ে না যায়, কারণ তিতুমীরের আন্দোলন ছিল বাঁশের কেল্লা কেন্দ্রিক আর শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলন ছিল ফরায়েজী।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে বা দুধু মিয়া কে ছিলেন তা জানতে চাওয়া হয়।
এই টপিক থেকে ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং এর পরবর্তী নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) দ্বাদশ
১. কেন সঠিক:
দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ সালে পাস হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ফিরে আসে এবং রাষ্ট্রপতি হন সাংবিধানিক প্রধান।
২. সংবিধান ও আইন:
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট: সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
আইনগত পরিবর্তন: দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের বিধান এবং ৪৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি পদের রূপ পরিবর্তন করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট প্রণীত ও পাসকৃত দ্বাদশ সংশোধনী।
ব্যাখ্যা: এই সংশোধনী পাসের মাধ্যমে দেশে দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদীয় ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিশ্চিত হয়।
উদাহরণ ২: ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত গণভোট।
ব্যাখ্যা: দ্বাদশ সংশোধনী কার্যকর করার পূর্বে জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নবম — এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একই ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং উপরাষ্ট্রপতি পদ সম্পর্কিত বিধান আনা হয়েছিল।
B) অষ্টম — এই সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয় এবং বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল।
C) একাদশ — এই সংশোধনী ১৯৯১ সালে পাস হয় এবং এর মাধ্যমে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের সরকারের বৈধতা ও তার স্ব পদে ফিরে যাওয়ার বিধান নিশ্চিত করা হয়।
D) দ্বাদশ — এই অপশনটি সঠিক কারণ এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
দ্বাদশ মানে বারো এবং সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা বারো মাস জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেন।
১৯৯১ সালে সংবিধানের এই দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুনর্জন্ম ঘটেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি রাষ্ট্রপতিশাসিত থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে, দ্বাদশ সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: C) ৬৪টি
১. কেন সঠিক:
- বর্তমান বাংলাদেশে প্রশাসনিক জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য জেলাগুলোর পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং ১৯৮৪ সালে বর্তমান ৬৪টি জেলার রূপ চূড়ান্ত হয়।
২. প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা:
- প্রশাসনিক কাঠামো: বাংলাদেশকে বর্তমানে ৮টি প্রশাসনিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগের অধীনে একাধিক জেলা রয়েছে।
- স্থানীয় সরকার: জেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা জেলা
ব্যাখ্যা: ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী জেলা এবং এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ২: রাঙ্গামাটি জেলা
ব্যাখ্যা: আয়তনের দিক থেকে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৫৪টি — এটি বাংলাদেশের বর্তমান জেলার সঠিক সংখ্যা নয়।
B) ৩৬টি — অতীতে বৃহত্তর জেলার সংখ্যা বা অন্য কোনো প্রশাসনিক একক বোঝাতে এই সংখ্যা আসে, যা বর্তমান জেলার সংখ্যা নয়।
C) ৬৪টি — এটি বর্তমান বাংলাদেশের জেলার সঠিক ও অনুমোদিত সংখ্যা।
D) ৪৪টি — এটি বাংলাদেশের জেলার সঠিক সংখ্যা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বাংলাদেশের বিভাগ ৮টি এবং প্রতিটি বিভাগে গড়ে ৮টি করে জেলা থাকলে আট গুণ আট সমান চৌষষ্টি বা ৬৪ হয়, এভাবেই মনে রাখা যায়।
- ৮ বিভাগ গুণ ৮ জেলা সমান ৬৪ জেলা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জেলা সংখ্যা, উপজেলা সংখ্যা এবং বিভাগ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- একই বিষয় থেকে সর্বশেষ গঠিত জেলা বা উপজেলার নাম সম্পর্কিত প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) মাজার-ই-শরীফ
১. কেন সঠিক:
১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে তালেবানরা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের শহর মাজার-ই-শরীফ দখল করার সময় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালায়।
এই হামলায় ইরানি কূটনীতিক ও সাংবাদিকসহ মোট ১১ জন নিহত হন, যা ইরান ও তালেবানের মধ্যে চরম কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছিল।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
প্রেক্ষাপট: আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ইতিহাসে এই ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সৌদি আরব ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া
ব্যাখ্যা: ২০১৬ সালে ইরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের জন্য ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ ২: ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা: কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলেটের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কীভাবে আন্তর্জাতিক সংকটের জন্ম দেয়, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হেরাট — এটি আফগানিস্তানের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহর হলেও এখানে ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
B) মাজার-ই-শরীফ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানেই ১৯৯৮ সালে ইরানি কূটনীতিকরা নিহত হয়েছিলেন।
C) জালালাবাদ — এটি আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান বাণিজ্য শহর এবং এখানে অন্য নানা সংঘাত ঘটলেও এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি ঘটেনি।
D) কান্দাহার — এটি তালেবানের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রস্থল হলেও মাজার-ই-শরীফের মতো ইরানি কূটনীতিক হত্যার ঘটনা এখানে ঘটেনি।
৫. মনে রাখার টিপস:
মাজার-ই-শরীফ শহরটির নাম মনে রাখলেই উত্তরটি সহজে চেনা যায়, কারণ উত্তর আফগানিস্তানের এই শহরেই ইরানবিরোধী চরম পদক্ষেপ নিয়েছিল তালেবান।
কূটনৈতিক মিশনের ওপর হামলার সবচেয়ে বড় এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি উত্তর আফগানিস্তানের সঙ্গেই যুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই ধরনের প্রশ্ন থেকে প্রায়ই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত কূটনীতি সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
একই বিষয় থেকে অন্য এমসিকিউ আসতে পারে মাজার-ই-শরীফ কোন দেশের শহর বা কত সালে এই ঘটনা ঘটেছিল তা নিয়ে।
সঠিক উত্তর: C) ডেটন চুক্তি
১. কেন সঠিক:
১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত ডেটন চুক্তি বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরে এই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং এর মাধ্যমেই বসনিয়া সংকট সমাধানের পথ সুগম হয়।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
চুক্তির নাম: ডেটন শান্তিচুক্তি।
তারিখ ও স্থান: ২১ নভেম্বর ১৯৯৫ সালে প্রাথমিক স্বাক্ষর এবং ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে প্যারিসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়; স্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাইট-প্যাটারসন এয়ার ফোর্স বেস, ডেটন, ওহাইও।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ: বসনিয়ার রাষ্ট্রপতি আলিজা ইজেতবেগোভিচ, সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি সলোবোদান মিলোশেভিচ এবং ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি ফ্রানিও তুজমান।
প্রধান উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে বহাল রাখা, তবে একে দুটি স্বায়ত্তশাসিত অংশে বিভক্ত করা হয়, যথা ফেডারেশন অব বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিন এবং রিপাবলিক স্প্রপস্কা।
আন্তর্জাতিক প্রভাব বা গুরুত্ব: এই চুক্তি ঠান্ডা যুদ্ধোত্তর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতে সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং বর্তমান বসনিয়ার সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৭৮ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শান্তির পথ সুগম করেছিল, যা ডেটন চুক্তির মতো মার্কিন কূটনীতির একটি বড় সাফল্য।
উদাহরণ ২: গুড ফ্রাইডে চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটায় এবং ডেটন চুক্তির মতো অভ্যন্তরীণ জাতিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার গুরুত্ব শেখায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মাদ্রিদ চুক্তি — এটি মূলত স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বোঝায়, যার সঙ্গে বসনিয়া সংকট সমাধানের কোনো সম্পর্ক নেই।
B) জেনেভা চুক্তি — এটি সাধারণত ১৯৫৪ সালের ইন্দোচীন বা ১৯৮৮ সালের আফগানিস্তান সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা বসনিয়ার গৃহযুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখেনি।
D) প্যারিস চুক্তি — এটি বসনিয়া চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের স্থান হলেও, সংকট সমাধানের মূল রূপরেখা ডেটন শহরেই চূড়ান্ত হয়েছিল বলে ডেটন চুক্তিই সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
বসনিয়া সংকট মানেই ওহাইওর ডেটন শহর এবং ডেটন চুক্তি।
ডেটন শব্দের শুরুতে ডি অক্ষর আছে, যা ডেমোক্রেসি বা শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকটি মনে রাখতে সাহায্য করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডেটন চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মধ্যস্থতাকারী দেশ কে ছিল, তা প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে।
এই চুক্তি সম্পর্কিত অন্য প্রশ্ন হিসেবে আসতে পারে যে এই চুক্তির ফলে বসনিয়া কয়টি ভাগে বিভক্ত হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: C) পর্তুগাল
১. কেন সঠিক:
ম্যাকাও অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় পর্তুগালের ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ১৯৯৯ সালে এটি চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২. ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দেশ বা অঞ্চল: ম্যাকাও হলো চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল।
প্রেক্ষাপট: এটি এশিয়ায় ইউরোপীয়দের প্রথম এবং সর্বশেষ উপনিবেশ ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হংকং
ব্যাখ্যা: এটিও একটি উপনিবেশ ছিল যা পরে চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
উদাহরণ ২: গোয়া
ব্যাখ্যা: এটি ভারতে অবস্থিত যা পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্পেন — স্পেন এশিয়ায় মূলত ফিলিপাইন শাসন করেছিল কিন্তু ম্যাকাও শাসন করেনি।
B) নেদারল্যান্ড — নেদারল্যান্ড প্রধানত ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল ম্যাকাও নয়।
C) পর্তুগাল — এই দেশটি ম্যাকাও শাসন করেছিল তাই এটি সঠিক উত্তর।
D) ইউকে — যুক্তরাজ্য বা ইউকে হংকং শাসন করেছিল ম্যাকাও নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ম্যাকাও ও গোয়া উভয়ই পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল।
হংকং ছিল যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ আর ম্যাকাও ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ম্যাকাও ১৯৯৯ সালে চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
এক দেশ দুই নীতি নীতির অধীনে ম্যাকাও বর্তমানে পরিচালিত হয়।
সঠিক উত্তর: C) ইউরোপ
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইউরোপ মহাদেশের পর্তুগাল দেশের নাগরিক।
পর্তুগাল দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের ইবেরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর রাজধানী লিসবন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: জাতিসংঘ (United Nations - UN) একটি বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
প্রতিষ্ঠা: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ সালে এই সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
সদর দপ্তর: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের মূল সদর দপ্তর অবস্থিত।
উদ্দেশ্য: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আন্তোনিও গুতেরেস
ব্যাখ্যা: তিনি ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘের নবম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি ইউরোপের দেশ পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
উদাহরণ ২: কুর্ত ওয়াইল্ডহেইম
ব্যাখ্যা: তিনি জাতিসংঘের চতুর্থ মহাসচিব ছিলেন এবং ইউরোপ মহাদেশের অস্ট্রিয়া দেশের নাগরিক ছিলেন, যা প্রমাণ করে ইউরোপ থেকে একাধিক মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আফ্রিকা — এটি সঠিক নয় কারণ বর্তমান মহাসচিব আফ্রিকা মহাদেশের নন, তবে বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি ছিলেন প্রথম আফ্রিকান মহাসচিব।
B) এশিয়া — এটি সঠিক নয় কারণ বর্তমান মহাসচিব এশিয়া মহাদেশের নন, তবে উ থান্ট ছিলেন প্রথম এশিয়ান মহাসচিব।
C) ইউরোপ — এটি সঠিক উত্তর কারণ পর্তুগাল ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান মহাসচিব এখান থেকেই এসেছেন।
D) দক্ষিণ আমেরিকা — এটি সঠিক নয় কারণ বর্তমান মহাসচিব দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের নন, এই মহাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মহাসচিব নির্বাচিত হননি।
৫ মনে রাখার টিপস:
বর্তমান মহাসচিব যে দেশের নাগরিক, অর্থাৎ পর্তুগাল, তা ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত এটি মনে রাখলেই উত্তর সহজে মেলানো সম্ভব।
আফ্রিকা বা এশিয়ার কথা এলে আগের মহাসচিবদের নাম মনে করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম এবং তাঁর দেশ ও মহাদেশ প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে।
এই প্রশ্ন থেকে মহাসচিবের কার্যকাল এবং জাতিসংঘের ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: A) আয়ারল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
উত্তর আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটে ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে।
এই শান্তি চুক্তিটি ইউরোপের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের একটি ঐতিহাসিক ও সফল উদাহরণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
প্রেক্ষাপট: আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের পর উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকে এবং সেখানে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।
উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: গুড ফ্রাইডে চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং সহিংসতার চিরতরে অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
ব্যাখ্যা: ডেটন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বলকান অঞ্চলের এই দেশের আন্ত জাতিগত যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।
উদাহরণ ২: সাইপ্রাস সংঘাত
ব্যাখ্যা: এটি ইউরোপের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাত যা এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আয়ারল্যান্ড — সঠিক উত্তর কারণ এখানে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে।
B) স্কটল্যান্ড — এখানে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও কোনো সশস্ত্র জাতিগত সংঘাতের সমাপ্তির ইতিহাস নেই।
C) নেদারল্যান্ড — এটি একটি শান্তিপূর্ণ দেশ এবং আধুনিককালে এখানে কোনো জাতিসত্তা সংঘাতের সমস্যা ছিল না।
D) সুইজারল্যান্ড — বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ এখানে শান্তিতে বসবাস করে এবং এখানে কোনো জাতিগত সংঘাতের রেকর্ড নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটেছিল গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে, যা ইউরোপের শান্তির এক অনন্য দলিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র ও যুক্তরাজ্য সরকার সরাসরি যুক্ত ছিল।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
গুড ফ্রাইডে চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয় তা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
এই ধরনের প্রশ্ন থেকে শান্তি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রভাব সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়।
সঠিক উত্তর: D) মালয়েশিয়া
১. কেন সঠিক:
১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নীতিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্ত করা হয়।
এই বরখাস্তের ঘটনাটি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে একটি বড় মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ছিল এবং এর ফলে দেশটিতে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
২. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
দেশ: মালয়েশিয়া, যার রাজধানী কুয়ালালামপুর এবং মুদ্রা রিঙ্গিত।
প্রেক্ষাপট: অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছিল যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
প্রভাব: এই ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটে এবং পরবর্তীতে আনোয়ার ইব্রাহিম দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাহাথির মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা: তিনি মালয়েশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি দেশের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের রাজনৈতিক সংকটে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।
উদাহরণ ২: আনোয়ার ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা: বরখাস্তের পর তিনি সংস্কার আন্দোলন বা রিমফর্মাসি গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বর্তমানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) থাইল্যান্ড — থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ হলেও ১৯৯৮ সালে এই ধরনের কোনো আলোচিত উপ-প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের ঘটনা ঘটেনি।
B) সিঙ্গাপুর — সিঙ্গাপুরে উপ-প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা ১৯৯৮ সালের এই আন্তর্জাতিক প্ররিপ্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য নয়।
C) ইন্দোনেশিয়া — ১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় সুহান্তর দীর্ঘ পতনের বছর ছিল, কিন্তু এই নির্দিষ্ট উপ-প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের ঘটনাটি এই দেশের নয়।
D) মালয়েশিয়া — এই অপশনটি সঠিক কারণ মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে এই বছরেই বরখাস্ত করা হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
১৯৯৮ সালটি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে আনোয়ার ইব্রাহিমের বরখাস্ত ও সংস্কার আন্দোলনের জন্য স্মরণীয়।
মালয়েশিয়ার রাজনীতি মানেই মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার ক্ষমতার সমীকরণ মনে রাখা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন সাধারণত কোনো দেশের প্রধান রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ঐতিহাসিক সংকট থেকে আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে ১৯৯৮ সালে কোন মালয়েশিয়ান নেতা বরখাস্ত হয়েছিলেন অথবা সংস্কার আন্দোলনের পটভূমি কোন দেশে তৈরি হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৮৫
১. কেন সঠিক:
সার্ক বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সংস্থা গঠিত হয়।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
সংস্থা: সার্ক বা SAARC (South Asian Association for Regional Cooperation)
প্রতিষ্ঠা ও তারিখ: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫
সদর দপ্তর: কাঠমান্ডু, নেপাল
সদস্যদেশ: ৮টি (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান)
উদ্দেশ্য: দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের কল্যাণ সাধন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আসিয়ান (ASEAN)
ব্যাখ্যা: এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা, যা ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর জাকার্তায় অবস্থিত।
উদাহরণ ২: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)
ব্যাখ্যা: এটি ইউরোপের দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট, যা ১৯৫৭ সালের রোম চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৮৫ — এটি সার্ক প্রতিষ্ঠার সঠিক সাল হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়েছে।
B) ১৯৭৫ — এই সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন চুক্তি বা ঘটনা এই বছরে ঘটে থাকতে পারে।
C) ১৯৮৭ — এই সালটি সার্ক প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরের এবং এটি সংস্থার সচিবালয় চালুর বছর হিসেবে পরিচিত।
D) ১৯৯০ — এই সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এটি নব্বইয়ের দশকের একটি সাধারণ সাল মাত্র।
৫ মনে রাখার টিপস:
সার্ক প্রতিষ্ঠার সাল মনে রাখতে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাব উত্থাপনের সময়কাল এবং ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি মনে রাখতে পারো।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই সালটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাধারণ জ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
সংস্থাটির সদর দপ্তর এবং বর্তমান সদস্যদেশের সংখ্যা নিয়েও প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) CIRDAP
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করার কারণ হলো CIRDAP সংস্থার প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক অনেক সংস্থার সদর দপ্তর বিশ্বের অন্যান্য দেশে হলেও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়নবিষয়ক এই বিশেষ সংস্থাটির সদর দপ্তর ঢাকায় স্থাপন করা হয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: CIRDAP (Centre on Integrated Rural Development for Asia and the Pacific) বা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্র।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই FAO-এর সহায়তায় এই আঞ্চলিক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: চামেলী হাউজ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
- উদ্দেশ্য: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোতে গ্রামীণ উন্নয়ন জোরদার করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা
ব্যাখ্যা: ঢাকায় সদর দপ্তর রয়েছে এমন আন্তর্জাতিক সংস্থা খুব কমই আছে, তাই CIRDAP সংক্রান্ত প্রশ্নটি বাংলাদেশের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ ২: সার্ক (SAARC)
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এই সংস্থার সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত, যা প্রায়ই ঢাকায় অবস্থিত CIRDAP-এর সাথে পরীক্ষার্থীরা গুলিয়ে ফেলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) APEC — এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা, যার সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত এবং এর সাথে ঢাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
B) SAARC — এটি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা, যার সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত এবং এটি ঢাকায় অবস্থিত নয়।
C) APEC — এটি পুনরাবৃত্ত অপশন এবং এর সদর দপ্তরও সিঙ্গাপুরে অবস্থিত, ঢাকায় নয়।
D) CIRDAP — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই আঞ্চলিক সংস্থার সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ঢাকায় সদর দপ্তর আছে এমন প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা হলো CIRDAP।
- সার্কের জন্ম ঢাকায় হলেও এর সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে, আর CIRDAP-এর জন্ম ও সদর দপ্তর দুটোই ঢাকায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- CIRDAP কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর পূর্ণরূপ কী, তা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- আঞ্চলিক সংস্থার সদর দপ্তর সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো BCS ও ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) জাপান
১. কেন সঠিক:
- মানব ইতিহাসের প্রথম আণবিক বোমা ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে ফেলা হয়েছিল।
- এর তিন দিন পর ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় আণবিক বোমা ফেলা হয়।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
- যুদ্ধ/সংঘাত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে।
- ফলাফল/প্রভাব: এই হামলার পরপরই জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হিরোশিমার লিটল বয়
ব্যাখ্যা: হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত আণবিক বোমাটির নাম ছিল লিটল বয়, যা ইউরেনিয়াম ভিত্তিক ছিল।
উদাহরণ ২: নাগাসাকির ফ্যাট ম্যান
ব্যাখ্যা: নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত আণবিক বোমাটির নাম ছিল ফ্যাট ম্যান, যা প্লুটোনিয়াম ভিত্তিক ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জার্মানি — জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির প্রধান দেশ হলেও তাদের ওপর কোনো আণবিক বোমা ফেলা হয়নি।
B) ইতালি — ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি পক্ষ ছিল কিন্তু তাদের ওপর আণবিক বোমা হামলার কোনো ঘটনা ঘটে নি।
D) চীন — চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তাদের ওপর বোমা ফেলা হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আণবিক বোমা হামলার শিকার প্রথম দেশ হিরোশিমার জাপান, যা ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধের গতিপথ বদলে দিয়েছিল।
- সাল ১৯৪৫ এবং শহর হিরোশিমা ও নাগাসাকি মনে রাখলে বিসিএস বা অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় সহজেই উত্তর করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত বোমার নাম ছিল লিটল বয় এবং নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমার নাম ছিল ফ্যাট ম্যান।
- এই ধরনের প্রশ্ন সাধারণত বিশ্বযুদ্ধ ও ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) জ্যামিতিক সীমারেখা
১. কেন সঠিক:
উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমারেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জ্যামিতিক সীমারেখা। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো মরুভূমির ওপর দিয়ে কাল্পনিক রেখা টেনে বা দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশ অনুসরণ করে এসব দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করেছিল।
আফ্রিকার ভূরাজনীতি ও ঔপনিবেশিক ইতিহাস বুঝতে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সীমানা নির্ধারণের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
প্রেক্ষাপট: বার্লিন সম্মেলন ও ঔপনিবেশিক যুগের সময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশকে ভাগ করে নেয়।
উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি বা ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এই জ্যামিতিক সীমারেখা টানা হয়েছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিশর ও সুদান
ব্যাখ্যা: এই দুটি দেশের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণের সময় উত্তর অক্ষাংশের একটি নির্দিষ্ট রেখাকে জ্যামিতিক সীমানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
উদাহরণ ২: আলজেরিয়া ও মালি
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমির বুক চিরে অঙ্কিত এই দেশগুলোর সীমান্ত জ্যামিতিক রেখা টানার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঔপনিবেশিক সীমারেখা — এটি সার্বিক অর্থে সঠিক হলেও ভৌগোলিক কাঠামোর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হিসেবে জ্যামিতিক সীমারেখা বেশি নিখুঁত।
C) উপজাতিভিত্তিক সীমারেখা — উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে কৃত্রিমভাবে জ্যামিতিক সীমারেখা টানার কারণে উপজাতিগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাই এটি সঠিক নয়।
D) অচিহ্নিত সীমারেখা — বর্তমানে এই সীমান্তগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং চিহ্নিত, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
উত্তর আফ্রিকা মানেই সাহারা মরুভূমি এবং মরুভূমিতে পাহাড় বা নদীর অভাব থাকায় স্কেল ও মানচিত্রের সাহায্যে জ্যামিতিক রেখা টেনে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আফ্রিকা মহাদেশের বেশিরভাগ সীমান্ত কৃত্রিম বা জ্যামিতিক প্রকৃতির।
একই বিষয় থেকে অন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে যে, কোন মহাদেশের সীমান্ত সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম উপায়ে নির্ধারিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর: A) ইয়াংসিকিয়াং
১. কেন সঠিক:
- ইয়াংসিকিয়াং বা ইয়াংসি নদী এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।
- এটি চীনের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্ব চীন সাগরে পতিত হয়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩০০ কিলোমিটার।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ/সংস্থা: চীন
- ভৌগোলিক অবস্থান: নদীটি সম্পূর্ণভাবে চীন দেশের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: এটি চীনের অর্থনীতি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ফলাফল/প্রভাব: চীনের তিন গোর্জ বাঁধ বা থ্রি গর্জেস ড্যাম এই নদীর ওপর অবস্থিত যা বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমাজন নদী
ব্যাখ্যা: এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত এবং জলপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম নদী।
উদাহরণ ২: নীল নদ
ব্যাখ্যা: এটি আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বেও দীর্ঘতম নদী হিসেবে পরিচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইয়াংসিকিয়াং — এটি এশিয়ার দীর্ঘতম নদী এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩০০ কিলোমিটার।
B) হােয়াংহাে — এটি চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং একে পীত নদী বা হলুদ নদী বলা হয়।
C) গঙ্গা — এটি বাংলাদেশ ও ভারতের একটি প্রধান আন্তর্জাতিক নদী যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫২৫ কিলোমিটার।
D) সিন্ধু — এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান নদী যা পাকিস্তান ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং আর বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- চীনের সবচেয়ে দীর্ঘ নদী ইয়াংসিকিয়াং মনে রাখলে এশিয়ার দীর্ঘতম নদীর উত্তরও সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- নদী ও ভৌগোলিক অবস্থান থেকে প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
- থ্রি গর্জেস ড্যাম কোন নদীর ওপর অবস্থিত এই প্রশ্নটিও পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) কুইবেক
১. কেন সঠিক:
- কানাডার কুইবেক প্রদেশে ফরাসিভাষী বা ফ্রাঙ্কোফোন জনগােষ্ঠী সর্বাধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- কানাডা একটি দ্বভাষিক দেশ হলেও এর কুইবেক অঙ্গরাজ্যে ফরাসি ভাষা প্রধান ও সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ: কানাডা, উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র।
- প্রেক্ষাপট: সপ্তদশ শতাব্দীতে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের ফলেই কুইবেক অঞ্চলে ফরাসি সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করার জন্য কুইবেক কানাডার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা: বেলজিয়ামেও ফরাসি ও ডাচভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন রয়েছে।
উদাহরণ ২: সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা: সুইজারল্যান্ডে জার্মান ও ফরাসি উভয়ভাষী মানুষ বসবাস করে, যা ভূখণ্ডগত বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কুইবেক — এটি কানাডার ফরাসিভাষী প্রধান অঙ্গরাজ্য এবং সঠিক উত্তর।
B) আলবার্টা — এটি কানাডার একটি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ যেখানে মূলত ইংরেজিভাষী মানুষ বাস করে।
C) মেনিটোবা — এটি কানাডার মধ্যভাগের একটি প্রদেশ এবং এর প্রধান ভাষা ইংরেজি।
D) নােভাস্কোশিয়া — এটি কানাডার পূর্ব উপকূলের একটি প্রদেশ যেখানে প্রধানত ইংরেজিভাষী জনগোষ্ঠী বাস করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কানাডায় ফরাসি ভাষা মানেই কুইবেক প্রদেশ মনে রাখতে হবে।
- কানাডার বাকি প্রদেশগুলোতে ইংরেজি প্রধান ভাষা হলেও কুইবেক ব্যতিক্রম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কানাডার সাংবিধানিক রাজধানী ও ফরাসি সংস্কৃতির কেন্দ্র কুইবেক নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
- কানাডার সরকারি ভাষা কয়টি এবং কী কী, তা জেনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: A) ভ্লাদিভস্টক
১. কেন সঠিক:
ভ্লাদিভস্টক শহরটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে দেশটির সর্ববৃহৎ বন্দর ও শহর।
এই শহরটি রাশিয়ার ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের সর্বশেষ স্টেশন হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ: রাশিয়া
অবস্থান: রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চল, প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল
প্রেক্ষাপট: ১৯ শতকের শেষের দিকে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও বন্দর হিসেবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ রক্ষা এবং বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে
ব্যাখ্যা: মস্কো থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার দূরে ভ্লাদিভস্টকে এসে শেষ হয় এই বিখ্যাত রেলপথ।
উদাহরণ ২: এপেক শীর্ষ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: ২০১২ সালে ভ্লাদিভস্টক শহরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা এপেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা শহরটির বৈশ্বিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভ্লাদিভস্টক — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শহর ও বন্দর।
B) সাইবেরিয়া — এটি কোনো নির্দিষ্ট শহর নয়, বরং উত্তর এশিয়ার একটি বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চল।
C) খাবারভস্ক — এটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হলেও ভ্লাদিভস্টক এর চেয়ে আয়তনে ও জনবহুলতায় বড়।
D) বোখারা — এটি উজবেকিস্তানের একটি ঐতিহাসিক শহর এবং মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত, রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র বললে ভ্লাদিভস্টক মনে রাখতে হবে।
সাইবেরিয়া একটি বিশাল অঞ্চল, তাই একে একক শহর হিসেবে চিহ্নিত করা ভুল হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভ্লাদিভস্টক শহরটি ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের শেষ প্রান্ত বিন্দু হিসেবে প্রায়শ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবেও শহরটি পরিচিত।
সঠিক উত্তর: A) এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিকস্মৃতি
১. কেন সঠিক:
সার্বীয়দের কাছে কসোভো কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং তাদের জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয়ের মূল কেন্দ্র। ১৩৮৯ সালের ঐতিহাসিক কসোভোর যুদ্ধে সার্বীয়রা অটোমান সাম্রাজ্যের কাছে পরাজিত হলেও ওই যুদ্ধকে তারা তাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করে।
কসোভো অঞ্চলে সার্বীয় অর্থেডক্স গির্জার বহু প্রাচীন মঠ ও পবিত্র স্থান রয়েছে। এই কারণে সার্বীয়রা এই ভূখণ্ডটিকে তাদের সংস্কৃতির সূতিকাগার ও পবিত্র ভূমি হিসেবে বিবেচনা করে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ বা অঞ্চল: কসোভাে ও সার্বিয়া
প্রেক্ষাপট: কসোভো মূলত আলবেনীয় মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও মধ্যযুগে এটি সার্বীয় সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল। ১৯৯০ এর দশকে যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের সময় এই অঞ্চলটি নিয়ে তীব্র জাতিগত সংঘাত শুরু হয়।
উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: সার্বিয়ার কাছে কসোভোর হার মানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো। অন্যদিকে কসোভোর আলবেনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এটি তাদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের লড়াই।
ফলাফল বা প্রভাব: ২০০৮ সালে কসোভো একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও সার্বিয়া আজও এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে না। এই বিরোধ বলকান অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে এখনো একটি বড় সংকট হিসেবে বিদ্যমান।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জেরুজালেম শহর
ব্যাখ্যা: জেরুজালেমের ক্ষেত্রেও ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম—তিনটি ধর্মেরই পবিত্র ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। ধর্মের সঙ্গে ভূখণ্ডের এই গভীর আবেগীয় সংযোগই কসোভোর মতো জেরুজালেম সংকটকেও অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
উদাহরণ ২: কাশ্মীর সংকট
ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর সংকটের মূলে রয়েছে ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক আবেগ। পরীক্ষার্থীরা এখান থেকে বুঝতে পারে যে আবেগ ও ইতিহাসের সংঘাত সাধারণ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা কতটা কঠিন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিকস্মৃতি — এটি সঠিক উত্তর কারণ সার্বীয়দের ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাস কসোভোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
B) এর রণকৌশলগত গুরুত্ব — সামরিক বা কৌশলগত সুবিধা বড় বিষয় হলেও সার্বীয়দের স্পর্শকাতর অনুভূতির মূল কারণ তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।
C) মুসলিম বিদ্বেষের প্রবণতা — সার্বীয় ও কসোভোর আলবেনীয়দের সংঘাতের মূল কারণ ধর্মীয় বিদ্বেষের চেয়ে বরং ভূখণ্ডগত ও ঐতিহাসিক মালিকানার দাবি।
D) আলবেনীয়দের ঔদ্ধত্য — আলবেনীয়দের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবিকে সার্বীয়রা তাদের সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে মনে করে, যা ঔদ্ধত্য নয় বরং জাতিগত অধিকারের প্রশ্ন।
৫. মনে রাখার টিপস:
কসোভো সম্পর্কিত প্রশ্ন এলে মনে রাখবে এটি সার্বিয়ার ঐতিহাসিক ও পবিত্র ভূমি।
১৩৮৯ সালের কসোভো যুদ্ধ সার্বীয়দের কাছে সবচেয়ে আবেগঘন ঐতিহাসিক স্মৃতি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কসোভো ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
সার্বিয়া কসোভোকে এখনো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং জাতিসংঘের অনেক দেশ কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
সঠিক উত্তর: C) হংকংয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখা
১. কেন সঠিক:
চিনের সর্বোচ্চ নেতা দেং জিয়াওপিং উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রবর্তন করেন।
এর মূল লক্ষ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক মূল ভূখণ্ডের রাজনৈতিক কাঠামোর আওতায় থেকেও হংকং ও ম্যাকাওয়ের মতো পুঁজিবাদী অঞ্চলগুলোর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রাকে সচল রাখা।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
প্রেক্ষাপট: যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে চুক্তির পর ১৯৯৭ সালে হংকং চিনের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
গুরুত্ব: এই নীতির মাধ্যমে হংকংয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতি অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা: এটি এই নীতির সফল প্রয়োগ যেখানে সমাজতান্ত্রিক চিনের অধীনে থেকেও হংকং নিজস্ব মুদ্রা ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ধরে রেখেছে।
উদাহরণ ২: ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা: ১৯৯৯ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে হস্তান্তরের পর ম্যাকাওয়েও একই নীতির ভিত্তিতে অর্থনীতি ও জুয়া ব্যবসার লাইসেন্স সচল রাখা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণযােগ্য করা — এটি মূল উদ্দেশ্য ছিল না কারণ চিন নিজস্ব উপায়ে সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি তৈরি করেছিল।
B) বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণযােগ্য করা — বিকল্প অপশনটি একই হওয়ায় এটি সঠিক উত্তরের দাবিদার হতে পারে না।
D) তাইওয়ানকে চীনের অন্তর্ভুক্তিকরণ — এই নীতি তাইওয়ানের ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা হলেও দ্বৈত অর্থনীতির ধারণাটি মূলত হংকংয়ের বিশেষ প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
চিনের দ্বৈত অর্থনীতি মানেই হলো হংকংয়ের পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সমাজতান্ত্রিক চিনের ভেতরে বাঁচিয়ে রাখা।
দেং জিয়াওপিংয়ের এই নীতি হংকং হস্তান্তরের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত একটি কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
এক দেশ দুই ব্যবস্থা নীতিটি কত সালে এবং কোন নেতার মাধ্যমে প্রণীত হয়েছিল, তা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯
১. কেন সঠিক:
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯ সালে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চালু হয়।
তবে প্রথম তিন বছর এটি শুধু হিসাবের একক বা অদৃশ্য মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্যাশ নোট ও কয়েন বাজারে আসে ১ জানুয়ারি, ২০০২ সালে।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
সংস্থা: ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বা European Union (EU)
প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি: ১৯৫৭ সালের রোম চুক্তির মাধ্যমে গঠিত ইকোনমিক কমিউনিটির বিবর্তনে ১৯৯৩ সালের ১ নভেম্বর মাস্ট্রিক্ট চুক্তির মাধ্যমে আধুনিক ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আত্মপ্রকাশ করে।
সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
সদস্যসংখ্যা: বর্তমান সদস্যদেশ ২৭টি
উদ্দেশ্য: ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক একীকরণ জোরদার করা এবং অভিন্ন বাজার তৈরি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইউরোজোন
ব্যাখ্যা: ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যেসব দেশ তাদের জাতীয় মুদ্রা বাদ দিয়ে ইউরোকে একক মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাদেরকে সম্মিলিতভাবে ইউরোজোন বলা হয় এবং বর্তমানে এর সদস্য ২০টি দেশ।
উদাহরণ ২: মাস্ট্রিক্ট চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমেই ইউরোপের দেশগুলোতে একক মুদ্রা ইউরো চালুর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা প্রতিযোগী পরীক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ জুলাই, ১৯৯৯ — এই তারিখে ইউরো মুদ্রা চালু হয়নি, বরং এটি ইউরোর চালুর সময়ের কাছাকাছি একটি বিভ্রান্তিকর তারিখ মাত্র।
C) ১ মার্চ, ২০০০ — এই তারিখে ইউরো চালুর কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি অপশন।
D) ১ জুলাই, ২০০০ — এই তারিখেও ইউরো চালুর কোনো সম্পর্ক নেই, এটি একটি বিভ্রান্তিকর অপশন হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ইউরো মুদ্রা অদৃশ্য বা হিসাবের খাতায় চালু হয় ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি এবং দৃশ্যমান বা হাতে পাওয়ার নোট হিসেবে চালু হয় ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি।
১৯৯৯ এবং ২০০২ এই দুটি সাল মনে রাখলে ইউরো সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুব সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো কবে থেকে দৃশ্যমান বা নোট আকারে চালু হয়, এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে, বর্তমানে কতটি দেশ ইউরো ব্যবহার করে বা কোন দেশ সবার শেষে ইউরো জোনে যোগ দিয়েছে।
সঠিক উত্তর: B) থাইল্যান্ড
১. কেন সঠিক:
- থাইল্যান্ড দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ যা অতীতে কোনো পশ্চিমা শক্তির উপনিবেশে পরিণত হয়নি।
- রাজা চতুর্থ চুরালংকর্ন এবং পঞ্চম চুরালংকর্নের দূরদর্শী কূটনীতির কারণে দেশটি ব্রিটিশ ও ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- দেশ: থাইল্যান্ড, যার পূর্ব নাম ছিল শ্যামদেশ এবং বর্তমান আনুষ্ঠানিক নাম থাইল্যান্ড রাজ্য।
- প্রেক্ষাপট: উনিশ শতকে যখন পুরো দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দখলে চলে যায়, তখন থাইল্যান্ড একটি স্বাধীন বাফার রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকে।
- গুরুত্ব: দেশটি চতুর কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে উপনিবেশবাদ এড়াতে পেরেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য এক দৃষ্টান্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ব্রিটিশ উপনিবেশ মায়ানমার
ব্যাখ্যা: মায়ানমার অতীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং দীর্ঘ সংঘাতে পরাজিত হয়ে উপনিবেশে পরিণত হয়।
উদাহরণ ২: ফরাসি উপনিবেশ ইন্দোচীন
ব্যাখ্যা: বর্তমান ভিয়েতনামী অঞ্চলসহ সমগ্র ইন্দোচীন ফরাসি উপনিবেশের অধীনে ছিল, যা থাইল্যান্ডের স্বাধীন থাকার সম্পূর্ণ বিপরীত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মায়ানমার — এটি দীর্ঘকাল ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল এবং উনিশ শতকের বিভিন্ন যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা এটি দখল করে নেয়।
B) থাইল্যান্ড — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দেশটি কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির উপনিবেশে পরিণত হয়নি।
C) ইন্দোনেশিয়া — এটি শত শত বছর ধরে ওলন্দাজ বা ডাচদের উপনিবেশ হিসেবে শাসিত হয়েছিল।
D) মালয়েশিয়া — এই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সরাসরি উপনিবেশ ও প্রভাবাধীন ছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- থাইল্যান্ড মানে স্বাধীনতার ল্যান্ড বা ভূমি, যা কখনোই পরাধীন হয়নি।
- দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশের মাঝখানে স্বাধীন দ্বীপের মতো ছিল থাইল্যান্ড।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এশিয়ার কোন দেশ উপনিবেশ হয়নি এমন প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- শ্যামদেশ কোন দেশের প্রাচীন নাম, এই সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) হােসে সারামাগাে
প্রদত্ত তথ্য:
সালটি হলো ১৯৯৮ সাল
পুরস্কারটি হলো সাহিত্যে নােবেল পুরস্কার
ধরি,
মনোনীত লেখকদের তালিকা থেকে সঠিক লেখককে চিহ্নিত করতে হবে
অতএব,
অপশনগুলো বিশ্লেষণ করে সঠিক সাহিত্যিককে খুঁজে বের করতে হবে
সুতরাং,
পর্তুগিজ ঔপন্যাসিক হােসে সারামাগাে এই পুরস্কার লাভ করেছিলেন
উত্তর: D) হােসে সারামাগাে
সঠিক উত্তর: A) ম্যাক্স ওয়েবার
১. কেন সঠিক:
- ম্যাক্স ওয়েবার আধুনিক আমলাতন্ত্রের ধারণা এবং এর তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রথম সফলভাবে তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে তাকে আমলাতন্ত্রের জনক বা প্রধান প্রবক্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২. তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট:
- প্রবক্তা: জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই তত্ত্ব দেন।
- মূল বৈশিষ্ট্য: লিখিত নিয়ম, পদসোপান, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা হলো এর প্রধান ভিত্তি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: যেকোনো দেশের সচিবালয় ও সরকারি প্রশাসন এই ওয়েবারীয় আমলাতন্ত্রের নীতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়।
উদাহরণ ২: আন্তর্জাতিক সংস্থা
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ বা বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ম্যাক্স ওয়েবার — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ রূপ বা মডেল প্রবর্তন করেছিলেন।
B) এফ এম মার্কস — তিনি মূলত লোকপ্রশাসন ও তুলনামূলক প্রশাসন নিয়ে কাজ করেছেন, আমলাতন্ত্রের মূল প্রবক্তা নন।
C) রবার্ট প্রেসথাস — তিনি সংগঠনের আচরণ ও আমলাতন্ত্রের মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন।
D) কার্ল মার্কস — তিনি সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ নিয়ে তত্ত্ব দিয়েছেন, যিনি আমলাতন্ত্রকে মূলত শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ওয়েবার ও আমলাতন্ত্র—উভয় শব্দ মনে রাখতে নামের প্রথম অক্ষর মেলাতে পারো।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার মানেই আমলাতন্ত্রের জনক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লোকপ্রশাসন অংশ থেকে এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে।
- ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে রিট লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নও হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: A) ৯টি
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতায় তৎকালীন সময়ের উদীয়মান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো অংশ নিয়েছিল এবং সঠিক উত্তর হিসেবে মোট ৯টি দল অংশগ্রহণ করেছিল।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
ক্রিকেট প্রতিযোগিতা: উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ বা আইসিসি ট্রফি ক্রিকেট ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট।
প্রেক্ষাপট: টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বাইরে সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আইসিসি ট্রফি ১৯৯৭
ব্যাখ্যা: পরবর্তীতে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
উদাহরণ ২: আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
ব্যাখ্যা: উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ পরবর্তী সময়ে বর্তমানের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার হিসেবে পরিচিত লাভ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৯টি — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই প্রতিযোগিতায় মোট নয়টি দল অংশগ্রহণ করেছিল।
B) ৭টি — এই সংখ্যাটি সঠিক নয় কারণ টুর্নামেন্টের গঠন ও দলের বিন্যাস অনুযায়ী ৭টি দল অংশ নেয়নি।
C) ১১টি — ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে ১১ জন খেলোয়াড় থাকলেও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ১১টি ছিল না।
D) ১২টি — এই সংখ্যাটি এই নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতার দলসংখ্যার সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
১৯৯৫ সালের ঢাকা টুর্নামেন্টের কথা মনে রাখতে ৯ সংখ্যাটি মনে রাখুন।
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগের বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সঙ্গে এটি গভীরভাবে জড়িত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের ঐতিহাসিক ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)