ব্যাখ্যাঃ
সঠিক উত্তর: B) কার
১. কেন সঠিক:
- স্বরবর্ণ যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার পূর্ণরূপ না বসে একটি সংক্ষিপ্ত রূপ বসে। স্বরবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত রূপকে ব্যাকরণের পরিভাষায় কার বলা হয়।
- বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ মোট এগারোটি হলেও কার বা সংক্ষিপ্ত রূপ দশটি, কারণ অ বর্ণটির নিজস্ব কোনো কার নেই।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনি ও বর্ণ প্রকরণে স্বরবর্ণের দুটি রূপ রয়েছে, যথা পূর্ণরূপ ও সংক্ষিপ্ত রূপ। শব্দের আদিতে বা একা বসলে স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পরে বসলে কার ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা বর্ণমালায় আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ এই দশটি স্বরবর্ণের নির্দিষ্ট কার চিহ্ন যথাক্রমে আকার, ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার, ঋ-কার, একার, ওইকার, ওকার ও ঔকার নামে পরিচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কলম শব্দের ক ব্যঞ্জনের সঙ্গে অ স্বরবর্ণ যুক্ত আছে এবং এর কোনো দৃশ্যমান কার নেই।
ব্যাখ্যা: অ স্বরবর্ণের কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা কার না থাকায় এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে অদৃশ্যভাবে যুক্ত থাকে।
উদাহরণ ২: পিতা শব্দের প ব্যঞ্জনের সঙ্গে ই স্বরবর্ণ যুক্ত হওয়ার কারণে ই-কার ব্যবহৃত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে স্বরবর্ণ যুক্ত করার সময় ই-বর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ই-কার ব্যবহার করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফলা — ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলা হয়, স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে নয়।
B) কার — এটি স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ, যা প্রশ্নানুসারে সঠিক উত্তর।
C) ধ্বনি — মানুষের মুখনিঃসৃত অর্থপূর্ণ আওয়াজ বা শব্দকে ধ্বনি বলা হয়, এটি কোনো বর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নয়।
D) অক্ষর — উচ্চারণের একক বা মুখের এক ঝটকায় যতটুকু উচ্চারণ করা যায় তাকে অক্ষর বলা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো কার এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ফলা।
- মনে রাখবে স্বরবর্ণ হলো দশটি কারের উৎস এবং অ হলো কারহীন বর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলায় কার চিহ্নের সংখ্যা মোট দশটি এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ বা ফলার সংখ্যা ছয়টি।
- এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও বিসিএস পরীক্ষায় ধ্বনি ও বর্ণ অধ্যায় থেকে আসে।