সঠিক উত্তর: C) আহমদ শরীফ
১. কেন সঠিক:
- 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা বিশিষ্ট গবেষক, প্রাবন্ধিক ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসবিদ ড. আহমদ শরীফ।
- বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে এই গ্রন্থটি একটি অত্যন্ত প্রামাণ্য ও সমাজসচেতন গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ড. আহমদ শরীফ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও বাঙালি মুসলিম সমাজের প্রগতিশীল ধারার লেখক।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পুথি সম্পাদনা এবং বাঙালি জাতির ইতিহাস ও স্বকীয়তা উন্মোচনে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মধ্যযুগের সাহিত্য
ব্যাখ্যা: আহমদ শরীফ সম্পাদিত 'লাউলাই মজনু' মধ্যযুগের একটি প্রখ্যাত রোমান্টিক কাব্য।
উদাহরণ ২: বাঙালির ইতিহাস
ব্যাখ্যা: তাঁর রচিত 'বাঙালীর চিন্তাচেতনায় ধর্মনিরপেক্ষতা' একটি বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দীনেশচন্দ্র সেন — তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নয়।
B) গোপাল হালদার — তিনি মার্কসবাদী সাহিত্য সমালোচক হিসেবে পরিচিত এবং 'বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা' তাঁর একটি বিখ্যাত সাহিত্য ইতিহাস গ্রন্থ।
D) সুকুমার সেন — তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা প্রবীণ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' রচনা করেছেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য ও সাহিত্য নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের মধ্যে আহমদ শরীফ অন্যতম।
- 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' শিরোনাম দেখলে মনে রাখবে এটি ড. আহমদ শরীফের একটি প্রখ্যাত মননশীল ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও গবেষণা গ্রন্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- লেখকদের বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থগুলোর নাম আলাদা করে নোট করে রাখলে উত্তর করা সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: D) শিব
১. কেন সঠিক:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান উপাস্য দেবী হলেন দেবী চণ্ডী বা পার্বতী, যিনি হিন্দু পৌরাণিক দেবতা শিবের স্ত্রী।
- মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের ধারা অনুযায়ী দেবদেবীর মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে এই কাব্যগুলো রচিত হয়েছিল এবং চণ্ডীদেবীর পূজা প্রচলনই এই কাব্যের মূল লক্ষ্য।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো মঙ্গলকাব্য, যার মধ্যে চণ্ডীমঙ্গল কাব্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি শাখা।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বা দ্বিজ মাধব হলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কবি, আর এই কাব্যে দেবী চণ্ডীর লৌকিক ও পৌরাণিক রূপের প্রকাশ ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মনসামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা: এটি মঙ্গলকাব্যের আরেকটি ধারা যেখানে সাপ বা নাগদেবী মনসার পূজা প্রচারের কাহিনী রয়েছে।
উদাহরণ ২: ধর্মমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা: এটি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের আরেকটি শাখা যেখানে ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচার করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জগন্নাথ — জগন্নাথ হিন্দুধর্মের দেবতা বিষ্ণুর একটি রূপ, যার সঙ্গে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দেবীর কোনো সরাসরি পত্নীগত সম্পর্ক নেই।
B) বিষ্ণু — বিষ্ণু জগতের পালনকর্তা দেবতা, তাঁর স্ত্রী হলেন দেবী লক্ষ্মী, চণ্ডী বা পার্বতী নন।
C) প্রজাপতি — প্রজাপতি হিন্দু পুরাণে সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মা বা কামদেবকে বোঝায়, চণ্ডীর পতি ইনি নন।
D) শিব — এই অপশনটি সঠিক কারণ পৌরাণিক মতে দেবী চণ্ডী বা দুর্গা মহাদেব শিবের স্ত্রী।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শিবের স্ত্রী হিসেবে দেবী পার্বতী, দুর্গা বা চণ্ডী পরিচিত, তাই চণ্ডীমঙ্গলের চণ্ডী মানেই শিবের স্ত্রী।
- মঙ্গলকাব্যের দেবদেবীদের পারিবারিক সম্পর্ক মনে রাখলে পরীক্ষার উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (ভারতের কুইজ বা বিসিএস পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ)।
- মঙ্গলকাব্য সাধারণত দেবদেবীর মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত আখ্যানকাব্য।
সঠিক উত্তর: B) গোয়ালঘর থেকে
১. কেন সঠিক:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি বাঁকুড়ার কাকডাঙ্গা গ্রামের এক গোয়ালঘরের মাচা বা তাসের নিচ থেকে আবিষ্কৃত হয়েছিল।
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদদ্বল্পভ ১৯০৯ সালে কাকডাঙ্গা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে পুথিটি উদ্ধার করেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভের সম্পাদনায় এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চর্যাপদ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
উদাহরণ ২: মনসা মঙ্গল
ব্যাখ্যা: মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন প্রণেতা যেমন বিজয় গুপ্ত ও সুর্যদাস মধ্যযুগের সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নেপালের রাজদরবার থেকে — নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদ উদ্ধার করা হয়েছিল, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নয়।
C) পাঠশালা থেকে — পাঠশালা থেকে কোনো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যকর্ম আবিষ্কৃত হয়নি, এটি ভুল তথ্য।
D) কান্তজীর মন্দির থেকে — কান্তজীর মন্দির একটি ঐতিহাসিক টেরাকোটা স্থাপত্য, এখান থেকে কোনো সাহিত্যিক পুথি উদ্ধার করা হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
চর্যাপদ পাওয়া গেছে রাজদরবারে আর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পাওয়া গেছে গরুর গোয়ালঘরে। এই দুই আবিষ্কারের স্থান কখনো গুলিয়ে ফেলবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মধ্যযুগের প্রাচীন ও নির্দেশক কাব্যগুলোর আবিষ্কারক এবং আবিষ্কারের স্থান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত ঘন ঘন আসে। বসন্তরঞ্জন রায় ১৯০৯ সালে গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন উদ্ধার করেন।
সঠিক উত্তর: C) মৈথিলি
১. কেন সঠিক:
- বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলি ভাষার কবি ছিলেন এবং তিনি এই ভাষার পদ রচনা করেই সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- মৈথিলি ভাষার কবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলীর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বিদ্যাপতি ভারতের মিথিলা অঞ্চলের কবি ছিলেন এবং তিনি সংস্কৃত ও অবহট্ঠ ভাষাতেও গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- বাংলা বৈষ্ণব পদাবলীতে তার রচিত মৈথিলি ভাষার পদগুলো ব্রজবুলি ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পদকল্পতরু
ব্যাখ্যা: এই সংকলন গ্রন্থে বিদ্যাপতির অনেক মৈথিলি পদ স্থান পেয়েছে যা পরবর্তীতে ব্রজবুলি রূপে বঙ্গে প্রচলিত হয়।
উদাহরণ ২: কীর্তিলাটা
ব্যাখ্যা: এটি বিদ্যাপতি রচিত অবহট্ঠ ভাষায় লিখিত একটি ঐতিহাসিক ও কাব্যিক গ্রন্থ যা তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মারাঠি — মারাঠি ভারতের মহারাষ্ট্র অঞ্চলের ভাষা, যা বিদ্যাপতির জন্মস্থান মিথিলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) হিন্দি — হিন্দি আধুনিক উত্তর ভারতের প্রধান ভাষা, তবে বিদ্যাপতির সময়কালে এই নির্দিষ্ট ভাষার রূপটি পদ রচনার জন্য ব্যবহৃত হয়নি।
D) গুজরাটি — গুজরাটি ভারতের গুজরাট অঞ্চলের ভাষা এবং এটি বিদ্যাপতির সাহিত্য সাধনার এলাকার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিদ্যাপতি নামটির সঙ্গে মিথিলা অঞ্চলের নাম মনে রাখলে খুব সহজেই তার মাতৃভাষা মৈথিলি মনে রাখা সম্ভব।
ব্রজবুলি মূলত মৈথিলি ও বাংলা ভাষার একটি মিশ্র কৃত্রিম রূপ যা বিদ্যাপতির পদ রচনার মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিদ্যাপতিকে মিথিলার কোকিল বলা হয় এবং তিনি বাংলার কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জন ব্যক্তিত্ব।
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে ব্রজবুলি ভাষার মূল ভিত্তি কোন ভাষা, যার সঠিক উত্তর হলো মৈথিলি।
সঠিক উত্তর: C) ঈশ্বরী পাটুনীর
১. কেন সঠিক:
- এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পঙক্তি।
- দরিদ্র ব্রাহ্মণ ঈশ্বরী পাটুনী গঙ্গার কৃপা লাভ করার সময় দেবী অন্নপূর্ণার কাছে ধন-সম্পদ বা বিলাসিতা না চেয়ে কেবল সাধারণ অন্ন ও বস্ত্রের প্রার্থনা করেছিলেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই কাব্যের রচয়িতা হলেন অষ্টাদশ শতকের বিশিষ্ট কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, যিনি কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যটি মূলত তিন ভাগে বিভক্ত, যার প্রথম ভাগ অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় ভাগ বিদ্যাসুন্দর এবং তৃতীয় ভাগ মানসিংহ বা ভবানন্দ মজুমদার।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।
ব্যাখ্যা: এটি ঈশ্বরী পাটুনীর বলা সেই অন্নপূর্ণার বর চাওয়ার বিখ্যাত কথা যা বাংলা সাহিত্যে প্রবাদবাক্যের মতো ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
ব্যাখ্যা: এটিও ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি বহুল ব্যবহৃত ও বিখ্যাত প্রবাদতুল্য পঙক্তি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভবানন্দের — ভবানন্দ মজুমদার অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হলেও এই প্রার্থনাটি তাঁর ছিল না।
B) ভাড়ুদত্তের — ভাড়ুদত্ত অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি অন্যতম চরিত্র এবং সে ছিল ধূর্ত ও লম্পট প্রকৃতির ব্যক্তি।
D) ফুল্লরার — ফুল্লরা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কালকেতুর স্ত্রী এবং তাঁর প্রার্থনা এই উপকথার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুধ এবং ভাতের সঙ্গে পাটুনীর নাম মনে রাখলে খুব সহজেই এই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর মনে রাখা সম্ভব।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যে অন্নদামঙ্গল, তা এই চরিত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মধ্যযুগের কাব্যের বিখ্যাত চরিত্র ও উদ্ধৃতি থেকে প্রশ্ন আসে।
- চরিত্রভিত্তিক প্রশ্ন সমাধানের জন্য মূল কাব্যের গল্প এবং চরিত্রগুলোর নাম ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) এস ওয়াজেদ আলী
১. কেন সঠিক:
- এস ওয়াজেদ আলী 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের মূল সংগঠক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রবক্তা ছিলেন না। তিনি একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক হলেও এই আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
- 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন মূলত বিশ শতকের তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে মুসলিম সমাজে মুক্তচিন্তা প্রসারের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের প্রধান প্রতিষ্ঠান ছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ, যা স্থাপিত হয় ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায়।
- এই আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল বুদ্ধির মুক্তি, যার অর্থ গোঁড়ামি ও কূপমণ্ডূকতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং সত্যকে উপলব্ধি করা।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী আবদুল ওদুদ রচিত 'মির পরিবার' ও 'নজরুল ইসলাম' প্রবন্ধ।
ব্যাখ্যা: কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও সাহিত্যিক।
উদাহরণ ২: আবুল ফজলের 'মাটির পৃথিবী' ও 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি'।
ব্যাখ্যা: আবুল ফজলও মুসলিম সাহিত্য সমাজের সক্রিয় সদস্য ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাজী আবদুল ওদুদ — তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা।
B) এস ওয়াজেদ আলী — তিনি প্রাবন্ধিক হলেও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তাই এটি সঠিক উত্তর।
C) আবুল ফজল — তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও সাহিত্যিক ছিলেন।
D) আবদুল কাদির — তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং এই আন্দোলনের অন্যতম চিন্তাবিদ ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিদের মনে রাখার সহজ উপায় হলো ওদুদ, কাদির, আবুল ফজল ও মোতাহার হোসেন চৌধুরীকে মনে রাখা। এস ওয়াজেদ আলী কলকাতার সাহিত্যধারার সাথে বেশি যুক্ত ছিলেন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠাকাল এবং এর সাথে যুক্ত লেখকদের নাম প্রায়ই আসে।
- 'শিখা' পত্রিকা এই আন্দোলনের মুখপত্র ছিল, যার বিখ্যাত স্লোগান ছিল জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আচ্ছন্ন, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) অগ্নি-বীণা
১. কেন সঠিক:
- অগ্নি-বীণা কাব্যটি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ও উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত।
- এই কাব্যের কবিতাসমূহে সাম্যবাদ, মানবতা এবং শোষিত মানুষের মুক্তির জোরালো বাণী প্রকাশ পেয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অগ্নি-বীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের প্রলয়উল্লাস, বিদ্রোহী এবং কামাল পাশা কবিতায় কবির উদারনৈতিক ও সংগ্রামী চেতনা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী কবিতা।
ব্যাখ্যা: অগ্নি-বীণা কাব্যের এই কবিতায় কবির উদার মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: কামাল পাশা কবিতা।
ব্যাখ্যা: এই কবিতায় বিশ্ব মানবতার জয়গান এবং নিপীড়িত জাতির মুক্তির পক্ষে কবির উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিষের বাঁশী — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত সাম্যবাদী ও বিদ্রোহী কাব্য হলেও উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার প্রথম ধারক হিসেবে অগ্নি-বীণা বেশি স্বীকৃত।
B) অগ্নি-বীণা — সঠিক উত্তর।
C) সিন্ধু-হিন্দোল — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান ও কবিতার সংকলন হলেও এটি তার উদারনৈতিক ভাবনার মূল ধারক হিসেবে পরিচিত নয়।
D) চক্রবাক — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গীতিআট্য বা রোমান্টিক ধারার কাব্যগ্রন্থ, যা তার বিদ্রোহী ও উদারনৈতিক চেতনার চেয়ে রোমান্টিক আবেগকে বেশি প্রকাশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নজরুলের প্রথম কাব্য এবং উদারনৈতিক চেতনার সূচনার জন্য অগ্নি-বীণা নামটি মনে রাখবে।
- অগ্নি-বীণা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে, যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল এবং প্রথম কবিতার নাম প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি।
সঠিক উত্তর: A) শনিবারের চিঠি
১. কেন সঠিক:
- শনিবারের চিঠি বিশ শতকে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও রসব্যঙ্গের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শনিবারের চিঠি পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ ঘটে বিংশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১৯২৪ সালে।
- এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস এবং পরবর্তীতে দীর্ঘকাল এর সম্পাদনা করেন সজনীকান্ত দাস।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কল্লোল পত্রিকা
ব্যাখ্যা: কল্লোল পত্রিকাটিও বিংশ শতাব্দীতে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্যের একটি আধুনিক যুগের বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা।
উদাহরণ ২: কালি ও কলম
ব্যাখ্যা: কালি ও কলমও বিশ শতকের পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি পরিচিত সাহিত্যপত্রিকা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শনিবারের চিঠি — এটি বিশ শতকের পত্রিকা হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
B) বঙ্গদর্শন — এটি উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮৭২ সালে) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল।
C) তত্ত্ববোধিনী — এটি উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮৪৩ সালে) অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
D) সংবাদ প্রভাকর — এটি উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮৩১ সালে) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- উনবিংশ শতাব্দীর পত্রিকাগুলো সাধারণত সংবাদ ও সমাজ সংস্কারমূলক ছিল, আর বিশ শতকের পত্রিকাগুলো সাহিত্য ও ব্যঙ্গধর্মী ছিল।
- সজনীকান্ত দাসের শনিবারের চিঠি বিশ শতকের সাহিত্য আন্দোলনের একটি প্রধান স্তম্ভ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পত্রিকাগুলোর প্রকাশের শতাব্দী বা দশক প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের পর আধুনিক যুগের পত্রিকাগুলোর প্রকাশকাল মনে রাখা BCS পরীক্ষার জন্য জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) কবিতার কথা
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নটিতে কোনটি উপন্যাস নয় তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং 'কবিতার কথা' উপন্যাস নয় বরং জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত প্রাবন্ধিক গ্রন্থ।
- 'কবিতার কথা' গ্রন্থে আধুনিক কবিতার রূপ, প্রকৃতি ও সৃষ্টির রহস্য নিয়ে গভীর তাত্ত্বিক আলোচনা করা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম প্রধান কবি যিনি প্রধানত রূপসী বাংলা ও তিমিরধূসরতার মতো কাব্যগ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।
- এই গ্রন্থটি মূলত প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত, যা আধুনিক বাংলা কবিতার নান্দনিক দিক বুঝতে সহায়তা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বুদ্ধদেব বসুর 'রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক'
ব্যাখ্যা: এটি একটি প্রাবন্ধিক গ্রন্থ যা কবিতার শিল্পরূপ নিয়ে আলোচনা করে, কোনো উপন্যাস নয়।
উদাহরণ ২: প্রমথ চৌধুরীর 'বীরবলের হালখাতা'
ব্যাখ্যা: এটি প্রমথ চৌধুরীর একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন, যা উপন্যাস শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দিবারাত্রির কাব্য — এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
B) শেষের কবিতা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যধর্মী রোমান্টিক উপন্যাস।
C) পল্লী-সমাজ — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গ্রামীণ সমাজজীবনের ওপর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
D) কবিতার কথা — এটি জীবনানন্দ দাশের একটি প্রাবন্ধিক গ্রন্থ, তাই এটি উপন্যাস নয় এবং এটিই সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তার প্রাবন্ধিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'কবিতার কথা' সবচেয়ে বিখ্যাত।
- উপন্যাস মনে রাখার সময় ঔপন্যাসিকের নাম এবং উপন্যাসের ধরণ একসাথে মিলিয়ে পড়লে পরীক্ষা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ হলো 'কবিতার কথা', যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- সাহিত্যিকদের কবিতা বা প্রবন্ধের বইগুলো উপন্যাস বা ছোটগল্প থেকে আলাদা করে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: A) গো+অক্ষ = গবাক্ষ
কেন সঠিক:
১. গবাক্ষ শব্দটিতে সাধারণ সন্ধির কোনো নিয়ম মানা হয়নি বরং এটি প্রাকৃত ভাষার নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণের নির্দিষ্ট নিয়ম বা সূত্রের বাইরে গিয়ে যে সন্ধি সাধিত হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. যে সন্ধি ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম বা সূত্র মেনে চলে না এবং প্রাকৃত বা প্রচলিত ভাষার নিয়মেই সিদ্ধ হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
২. বাংলা ব্যাকরণে স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি উভয়ের ক্ষেত্রেই কিছু শব্দ নিপাতনে সিদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. যেমন, গো যোগ অক্ষ মিলে গবাক্ষ হয় যা স্বরবর্ণের প্রচলিত কোনো নিয়মের অধীনে পড়ে না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গবাক্ষ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি নির্ভুল এবং নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির একটি ধ্রুপদী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
B) পাবক — এটি পো যোগ অক এই সূত্রে গঠিত হয়েছে এবং এটি নিয়মিত ও সাধারণ অয়া আদি দেশর স্বরসন্ধির অন্তর্ভুক্ত।
C) বঙ্গ — এটি বি যোগ অঙ্গ মিলে গঠিত হয়েছে এবং এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সাধারণ নিয়মের আওতাভুক্ত একটি শব্দ।
D) যতীন্দ্র — এটি যতি যোগ ইন্দ্র মিলে গঠিত হয়েছে এবং এটি ব্যাকরণের সাধারণ দীর্ঘস্বরের নিয়ম মেনে চলে।
মনে রাখার টিপস:
১. যেসব শব্দ দেখে সাধারণ সন্ধির নিয়ম মেলানো যায় না সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ধরে নিতে হবে।
২. গবাক্ষ, পরষ্পর, আশ্চর্য, পতঞ্জলি ইত্যাদি বহুল ব্যবহৃত নিপাতনে সিদ্ধ শব্দগুলো বারবার চর্চা করলে সহজে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: C) মৃণালিনী
১. কেন সঠিক:
- ‘মৃণালিনী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় ও প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র হলো ‘মনোরমা’।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক এবং তাঁর প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।
- ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৯ সালে এবং এর পটভূমি হলো বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ জয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস, যার প্রধান নারী চরিত্র কপালকুণ্ডলা।
উদাহরণ ২: দেবীচৌধুরাণী
ব্যাখ্যা: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি বিখ্যাত সমাজকল্যাণমূলক ও ঐতিহাসিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষ্ণকান্তের উইল — এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো রোহিনী, গোবিন্দলাল ও ভ্রমর, মনোরমা নয়।
B) দুর্গেশনন্দিনী — এটি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস এবং এর প্রধান চরিত্র তিলোত্তমা ও আয়েশা।
D) বিষবৃক্ষ — এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র হলো কুন্দনন্দিনী ও সূর্যমুখী।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বঙ্কিমচন্দ্রের ঐতিহাসিক উপন্যাসের চরিত্র মনে রাখতে মূল চরিত্রগুলোর নামের তালিকা তৈরি করে পড়তে পারো।
- ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের নামের সঙ্গে ‘মনোরমা’ চরিত্রটির নাম মিলিয়ে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ও চরিত্র থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে ‘মৃণালিনী’ ও এর প্রকাশকাল ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) মানসী
১. কেন সঠিক:
- ‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এই কবিতা দুটিতে মানবপ্রেমের প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশ্য রূপ অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ‘মানসী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও রূপান্তরধর্মী কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যে কবির তরুণ বয়সের রোমান্টিক চেতনার পাশাপাশি সমাজ ও জীবনের গভীর ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ‘মানসী’ কাব্যের আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হলো ‘নিঝর স্বপ্নভঙ্গ’।
ব্যাখ্যা: এই কবিতায় কবির অন্তরের মুক্তি ও ভাবনার জাগরণ প্রকাশ পেয়েছে যা ‘মানসী’ কাব্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ ২: ‘মানসী’ কাব্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ‘সিন্ধুত্বরংগ’।
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের বিশালতা ও মানবজীবনের তূলনা এই কবিতায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) খেয়া — এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০৬ সালে এবং এর মূল সুর হলো আধ্যাত্মিকতা ও জীবনদর্শন।
B) মানসী — এটি সঠিক উত্তর।
C) কল্পনা — এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে এবং এর কবিতাগুলোর মূল বিষয়বস্তু ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
D) সোনার তরী — এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৪ সালে এবং এর প্রধান থিম হলো জীবন ও সময়ের অবিনশ্বরতা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মানসী কাব্যগ্রন্থের দুটি বিখ্যাত মানবিক অনুভূতির কবিতা হলো ব্যক্ত প্রেম ও গুপ্ত প্রেম।
- মনে রাখার কৌশল হলো মানসীর প্রেম ব্যক্ত ও গুপ্ত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল ১৮৯০ সাল এবং এটি শিলাদহ বসে রচিত হয়।
- বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রবীন্দ্রনাথের প্রথম বা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) রবিবার
কেন সঠিক:
১. 'রবিবার' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প।
২. এই গল্পের মূল পুরুষ চরিত্র বা নায়কের নাম অভীক।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষপর্যায়ের লেখা একটি মনস্তাত্ত্বিক গল্প।
২. গল্পটিতে আধুনিক মনস্তত্ত্ব ও প্রেমের ভিন্ন রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
৩. যেমন, এই গল্পের প্রধান দুই চরিত্র হলো বিভা ও অভীক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নষ্টনীড় — এই গল্পের প্রধান চরিত্র হলো চারু, অমল ও ভূপতি।
B) নামঞ্জুর — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন নামে কোনো প্রধান ছোটগল্প নেই।
C) রবিবার — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কোনো চরিত্র নেই।
D) ল্যাবরেটরি — এই গল্পের প্রধান চরিত্র হলো সোহিনী ও কুमुদ।
মনে রাখার টিপস:
রবিবারের ছুটি কাটাতে অভীক নামের তরুণটি বেশি পরিচিত।
রবীন্দ্রনাথের শেষের দিকের গল্পের নায়ক হিসেবে তাকে মনে রাখা সহজ।
সঠিক উত্তর: C) কামিনী রায়
১. কেন সঠিক:
প্রখ্যাত কবি কামিনী রায়ের ‘পরার্থপরতা’ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি এটি। মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার শিক্ষা দিতে এই চরণটি বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
কামিনী রায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান নারী কবি ও ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের বিশিষ্ট লেখক। তাঁর কবিতায় মানবপ্রেম, পরার্থপরতা এবং নৈতিকতার গভীর প্রকাশ ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।’
ব্যাখ্যা: এটি চণ্ডীদাসের পদাবলির একটি বিখ্যাত পঙক্তি, যা মানবজীবনের দুঃখ ও প্রেমের পরিণতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ‘বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে, বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরি।’
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ভ্রমণ ও উপলব্ধিমূলক কবিতার চরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রজনীকান্ত সেন — ইনি বিখ্যাত ভক্তিমূলক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য পরিচিত হলেও এই পঙক্তিটি তাঁর নয়।
B) ইসমাইল হোসেন সিরাজী — ইনি একজন মুসলিম সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক, যাঁর রচনায় মূলত সমাজ সংস্কার ও জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
D) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় — ইনি মূলত ঐতিহাসিক নাটক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য বিখ্যাত, এই কবিতার রচয়িতা নন।
৫. মনে রাখার টিপস:
কামিনী রায়ের নাম মনে রাখার সাথে সাথে তাঁর এই বিখ্যাত নৈতিক উদ্ধৃতিটি যুক্ত করে নিলে পরীক্ষা সহজে মনে রাখা যায়। নারী কবিদের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিখ্যাত সাহিত্যিক উদ্ধৃতি কার লেখা তা প্রায়ই আসে। তাই বিখ্যাত কবিদের জনপ্রিয় কবিতার প্রথম বা অন্তিম চরণগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) জীবন আমার বোন
কেন সঠিক:
১. মাহমুদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস জীবন আমার বোন এ খোকা ও রঞ্জু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
২. উপন্যাসের পটভূমি এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে এই চরিত্র দুটির মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. বাংলা কথাসাহিত্যে মাহমুদুল হক একজন অন্যতম প্রধান মনস্তাত্ত্বিক ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ও সমাদৃত।
২. জীবন আমার বোন উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের চিত্র নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
৩. যেমন, এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র খোকা ও তার ছোট বোন রঞ্জুর মধ্যকার সম্পর্ক তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কালো বরফ — এটি মাহমুদুল হকের আরেকটি উপন্যাস হলেও এতে খোকা ও রঞ্জু চরিত্র দুটি অনুপস্থিত।
B) খেলাঘর — এই উপন্যাসটি অন্য কোনো লেখকের লেখা কিংবা মাহমুদুল হকের হলেও এখানে আলোচ্য চরিত্র নেই।
C) অনুর পাঠশালা — এটি মাহমুদুল হকের একটি ছোটগল্প বা অন্য কোনো সাহিত্যকর্ম, যেখানে এই চরিত্র দুটি নেই।
D) জীবন আমার বোন — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
১. মাহমুদুল হক বললেই মনে রাখবে তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি জীবন আর এই উপন্যাসের ভাইবোনের নাম ছিল খোকা ও রঞ্জু।
২. প্রশ্নপত্রে খোকা ও রঞ্জু পেলেই চোখ বন্ধ করে জীবন আমার বোন উপন্যাসটি দাগিয়ে দেবে।
সঠিক উত্তর: B) বহিপীর
কেন সঠিক:
বহিপীর নাটকটি প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত সৃষ্টি।
এই নাটকে রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা এবং পীরতন্ত্রের অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা নাট্যসাহিত্যে সামাজিক সমস্যা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অবদান অনন্য ও অবিস্মরণীয়।
বহিপীর নাটকটি প্রকাশের পর থেকেই বাংলা নাট্যজগতে এক নতুন ধারার সূচনা করে এবং বহুল পঠিত হয়।
এই নাটকের চরিত্রগুলোর মধ্যে তাহেরা ও বহিপীরের দ্বন্দ্ব বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক চিরকালীন দলিল হিসেবে পরিচিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কবর — মুনীর চৌধুরীর লেখা একটি বিখ্যাত নাটক যা ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
B) বহিপীর — এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক এবং এটিই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হিসেবে নির্ধারিত।
C) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় — সৈয়দ শামس الحق এর লেখা একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় কাব্যনাট্য।
D) ওরা কদম আলী — এটি নাট্যকার মামুনুর রশীদের লেখা একটি অত্যন্ত সমাজসচেতন ও বিখ্যাত নাটক।
মনে রাখার টিপস:
ওয়ালীউল্লাহর নাম শুনলেই মনে রাখবে তার বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু এবং বিখ্যাত নাটক বহিপীর।
পীর শব্দটির সাথে ওয়ালীউল্লাহর বহিপীর নাটকটি মনে রাখলেই এই প্রশ্নের উত্তর চিরস্থায়ীভাবে মনে থাকবে।
সঠিক উত্তর: C) উপন্যাস
১. কেন সঠিক:
- মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদসিন্ধু একটি উপন্যাস কারণ এটি কাল্পনিক চরিত্র ও ঐতিহাসিক ঘটনার সংমিশ্রণে রচিত দীর্ঘ গদ্য আখ্যান।
- ঐতিহাসিক তথ্যের পাশাপাশি লেখকের কল্পনা ও আবেগ এর মূল কাঠামো তৈরি করেছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মীর মশাররফ হোসেন বাংলা গদ্যসাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার যিনি বিশ শতকের প্রারম্ভে মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখেন।
- বিষাদসিন্ধু গ্রন্থটি মূলত কারবালার প্রান্তরের ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি অবলম্বনে রচিত হলেও এর শৈল্পিক রূপ ও উপস্থাপনা একে উপন্যাস ধারায় ভূষিত করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা: এটিও ইতিহাস ও কল্পনার আশ্রয়ে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস।
উদাহরণ ২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজর্ষি
ব্যাখ্যা: এটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মহাকাব্য — মহাকাব্য হলো পদ্যে রচিত দীর্ঘ কবিতা, কিন্তু বিষাদসিন্ধু গদ্যে রচিত উপন্যাস।
B) ইতিহাস গ্রন্থ — এটি কোনো প্রামাণ্য ইতিহাস গ্রন্থ নয়, কারণ এতে লেখকের ব্যাপক কল্পনার মিশ্রণ ঘটেছে।
D) ইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ — এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবনী নয়, বরং কারবালার যুদ্ধভিত্তিক একটি কথাসাহিত্য।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বিষাদসিন্ধু নাম দেখেই একে কবিতা বা ইতিহাস না ভেবে মীর মশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি হিসেবে উপন্যাস মনে রাখবে।
- মীর মশাররফ হোসেনের সবচেয়ে বিখ্যাত গদ্যশিল্প হলো এই উপন্যাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিষাদসিন্ধু কয়টি খণ্ডে বিভক্ত এবং কী কী তা জেনে রাখা বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ঐতিহাসিক পটভূমি থাকলেই কোনো গ্রন্থ ইতিহাস হয় না, বরং তার সাহিত্যরূপ বিবেচনা করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) পার্থক্য
১. কেন সঠিক:
- ‘ইতরবিশেষ’ একটি বহুল ব্যবহৃত বাংলা বাগধারা যার আক্ষরিক ও প্রয়োগগত অর্থ হলো পার্থক্য বা তফাত।
- দুটি বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যে সামান্য বা আমূল অমিল বোঝাতে এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা, যা শব্দার্থের দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দসমষ্টি যা তাদের আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভালো ও মন্দের মধ্যে ইতরবিশেষ বোঝা মানুষের বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।
ব্যাখ্যা: এখানে দুটি ভিন্ন অবস্থার মধ্যকার তফাত বোঝাতে ইতরবিশেষ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: দুই ভাইয়ের স্বভাবের মধ্যে তেমন কোনো ইতরবিশেষ নেই।
ব্যাখ্যা: এখানে দুই ব্যক্তির আচরণের সাদৃশ্য বা সামান্য পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দুর্বৃত্ত — দুর্বৃত্ত বলতে অসৎ স্বভাবের বা অপরাধপ্রবণ মানুষকে বোঝায়, যা ইতরবিশেষ বাগধারার অর্থের সঙ্গে মেলে না।
B) চালাকি — চালাকি অর্থ চতুরতা বা বুদ্ধির মারপ্যাচ, যা পার্থক্যের সঙ্গে সমার্থক নয়।
C) পার্থক্য — এটি সঠিক উত্তর কারণ ইতরবিশেষ শব্দের মূল অর্থ তফাত বা ব্যবধান।
D) চালাকি — অপশনটিতে একই শব্দ পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং এটি মূল অর্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ইতর শব্দের অর্থ ছোট বা অন্য এবং বিশেষ অর্থ পার্থক্য। দুটি ভিন্ন জিনিসের ব্যবধান মনে রাখতে ইতরবিশেষ মানে পার্থক্য হিসেবে মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারার অন্তর্নিহিত অর্থ প্রায়ই আসে। সমার্থক বাগধারাগুলো ভালোভাবে চর্চা করলে এ ধরনের প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: A) অব্যয়ীভাব
১. কেন সঠিক:
- পূর্বপদে অব্যয় যোগে যদি সমাস হয় এবং সেই অব্যয় পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এখানে 'যথা' একটি অব্যয় পদ, যা নিয়মকেতিক্রম না করা অর্থে ব্যবহৃত হয়ে অব্যয়ীভাব সমাস গঠন করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অব্যয়ীভাব সমাসে সাধারণত পূর্বপদে উপসর্গ বা অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য পদ থাকে।
- 'যথারীতি' শব্দের ব্যাসবাক্য হলো রীতিকে অতিক্রম না করিয়া বা যথারীতি। এখানে অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যথাসদ্ধ্যা
ব্যাখ্যা: সদ্ধ্যাকে অতিক্রম না করিয়া অর্থে এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
উদাহরণ ২: প্রতিদিন
ব্যাখ্যা: দিন দিন বা প্রতি দিন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের অপর একটি চমৎকার উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অব্যয়ীভাব — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে অব্যয় পদের অর্থ প্রধান হয়েছে।
B) দ্বিগু — এটি ভুল কারণ দ্বিগু সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয় এবং সমাহার বোঝায়।
C) বহুব্রীহি — এটি ভুল কারণ বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ না বুঝিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো পদকে বোঝায়।
D) দ্বন্দ্ব — এটি ভুল কারণ দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের সমান প্রাদান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লুক্কায়িত থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সমাসের শুরুতে যদি যথা, প্রতি, আ, উপ, নি ইত্যাদি অব্যয় থাকে এবং অর্থের দিক থেকে অব্যয়টি প্রধান হয়, তবে চোখ বন্ধ করে অব্যয়ীভাব সমাস দাগাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অব্যয়ীভাব সমাস থেকে প্রায়ই যথা ও প্রতি যুক্ত শব্দগুলো বেশি আসে, তাই এগুলোর ব্যাসবাক্য ভালো করে চর্চা করবে।
সঠিক উত্তর: C) মৃন্ময়
কেন সঠিক:
১. ‘মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি’ এই বাক্যাংশের সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো মৃন্ময়। এটি মূলত বিশেষ্য পদের বিশেষণ রূপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
২. ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে মৃৎ যোগ ময় মিলে মৃন্ময় শব্দ গঠিত হয়। এখানে ত খন্ডত্ব ধ্বনিটি পরিবর্তিত হয়ে ন ধ্বনিতে রূপ নেয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. এটি ব্যঞ্জনসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম যেখানে বর্গের প্রথম ধ্বনির সাথে নাসিক্য ধ্বনির মিলন ঘটে। পদের শেষে ত বা দ থাকলে এবং তার পরে ম বা ন থাকলে পূর্ববর্তী ধ্বনিটি পঞ্চম নাসিক্য ধ্বনিতে পরিণত হয়।
২. বাংলা ব্যাকরণে পদের সংকোচন বা এককথায় প্রকাশ ভাষা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং বড় বাক্যকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
৩. যেমন বাক বা বাকী যোগ মায় সমান বাঙ্ময় এবং জগৎ যোগ নাথ সমান জগন্নাথ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তন্ময় — এই শব্দের অর্থ তাতে মগ্ন বা একাগ্রচিত্ত। এটি মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
B) মন্ময় — এই শব্দের অর্থ মন সংক্রান্ত বা মনোময়। এটি মাটি বা মৃত্তিকার সাথে সম্পর্কিত নয়।
C) মৃন্ময় — এটি তো সঠিক উত্তর তাই এখানে ভুল হওয়ার কোনো কারণ নেই।
D) চিন্ময় — এই শব্দের অর্থ জ্ঞানময় বা চেতনাসম্পন্ন। এটি মৃত্তিকা বা মাটির তৈরি বোঝায় না।
মনে রাখার টিপস:
১. মৃত্তিকা শব্দের শুরুতে মৃত রয়েছে যা থেকে মৃৎ আসে এবং তার সাথে ময় যোগ করলে মৃন্ময় হয়।
২. মাটির তৈরি জিনিস বোঝাতে সর্বদা মৃৎ যোগ ময় অর্থাৎ মৃন্ময় শব্দটি মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) আরেফ আলী
১. কেন সঠিক:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও যুবক-শিক্ষকের নাম হলো আরেফ আলী।
- উপন্যাসে আরেফ আলী এক মফস্সল স্কুলের শিক্ষক যার ভেতর নৈতিক দ্বন্দ্ব ও অপরাধবোধ কাজ করে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মানুষের অবচেতন মন, অপরাধবোধ এবং অন্ধ বিশ্বাসের নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস 'লালসালু'
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসে মজিদ চরিত্রটি গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও প্রতারণার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উদাহরণ ২: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাটক 'বহিপীর'
ব্যাখ্যা: এই নাটকের মাধ্যমে সামাজিক কুসংস্কার ও গোঁড়ামি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেখানে প্রধান চরিত্র বহিপীর।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আবদুল কাদের — এটি এই উপন্যাসের কোনো প্রধান চরিত্র বা শিক্ষক নয়।
B) খতিব মিয়া — এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসের কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়।
C) আক্কাস আলী — আক্কাস আলী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের একটি চরিত্র যিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চান।
D) আরেফ আলী — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের যুবক-শিক্ষক।
৫ মনে রাখার টিপস:
- চাঁদের আলো যেমন ম্লান হয়, তেমনি শিক্ষক আরেফ আলীর জীবনও রহস্য ও অপরাধবোধে ঢাকা।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত শিক্ষক চরিত্র মানেই আরেফ আলী।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস পরীক্ষায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস ও চরিত্র থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- চরিত্রভিত্তিক প্রশ্ন সমাধানের জন্য উপন্যাসের মূল নায়ক বা শিক্ষকের নাম ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১. কেন সঠিক:
- পঙ্ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভানুসিংহের পদাবলি মহাকাব্যিক বা পদাবলি ধারার কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে মরণ বা মৃত্যুকে ভীতিপ্রদ না ভেবে পরম প্রীতি ও ভালোবাসার ধন হিসেবে কৃষ্ণের সমতুল্য অর্থাৎ শ্যাম সমান বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও প্রাবন্ধিক।
- ভানুসিংহের পদাবলি হলো রবীন্দ্রনাথের প্রথম বয়সে মৈথিলি ভাষায় রচিত ভনিতাযুক্ত পদসংকলন, যা মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে রচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি পঙ্ক্তি যা মৃত্যুর প্রতি তাঁর প্রীতির ভাব প্রকাশ করে।
উদাহরণ ২: গহন কুসুুম কুঞ্জ মাঝে।
ব্যাখ্যা: এটি ভানুসিংহের পদাবলির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান যা বৈষ্ণব পদাবলীর রাধা-কৃষ্ণ অনুকরণে রচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিদ্যাপতি — বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষার পদকর্তা হলেও এই নির্দিষ্ট পঙ্ক্তিটি তাঁর মূল পদাবলির নয় বরং রবীন্দ্রনাথের ভানুসিংহের পদাবলির অংশ।
B) গোবিন্দ দাস — গোবিন্দ দাস প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম প্রধান কবি হলেও এই পঙ্ক্তিটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
D) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যচরিতামৃতের রচয়িতা এবং বৈষ্ণব সাহিত্যের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, তবে এই পঙ্ক্তিটি তাঁর রচিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মরণকে শ্যামের সমান মনে করে ভানুসিংহ বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলেন।
- পদাবলি ধারার অনুকরণে লেখা হলেও এর রচয়িতা আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভানুসিংহের পদাবলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৈশোর ও প্রথম যৌবনের রচনা।
- পরীক্ষার প্রশ্নে বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা ও আধুনিক কবির অনুকরণ সম্পর্কে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) নজিবর রহমান
১. কেন সঠিক:
- ‘আনোয়ারা’ বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক সামাজিক উপন্যাস যা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান তৎকালীন মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অজ্ঞতা এবং গ্রামীণ জীবনের চিত্র এই উপন্যাসে দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন বাংলা উপন্যাসের আদি যুগের একজন প্রখ্যাত মুসলিম ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক।
- তার উপন্যাসগুলো মূলত তৎকালীন গ্রামীণ মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের নৈতিকতা শিক্ষা ও সংস্কারমূলক আদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ‘আনোয়ারা’ উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম সামাজিক উপন্যাস হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
উদাহরণ ২: ‘প্রেম ও পবিত্রতা’ উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটিও মোহাম্মদ নজিবর রহমানের আরেকটি বিখ্যাত ও নৈতিক শিক্ষাভিত্তিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সৈয়দ মুজতবা আলী — তিনি একজন প্রখ্যাত রম্যরচয়িতা ও ভ্রমণকাহিনীকার হলেও ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের রচয়িতা নন।
B) কাজী আবদুল ওদুদ — তিনি বুদ্ধিবাদী আন্দোলনের লেখক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন, এই উপন্যাস তিনি লেখেননি।
C) নজিবর রহমান — এটি সঠিক উত্তর।
D) রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন — তিনি নারীজাগরণের অগ্রদূত ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক হলেও এই উপন্যাসটি তার লেখা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নজিবরের বিখ্যাত সৃষ্টি আনোয়ারা, গ্রামীণ সমাজের ছবি ফুটিয়েছে যারা। এই ছড়ার মাধ্যমে লেখকের নাম সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম মুসলিম সামাজিক উপন্যাস কোনটি বা এর রচয়িতা কে, তা প্রায়ই আসে।
- এ ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর নাম ও রচয়িতার তালিকা আলাদা করে মুখস্থ রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল
১. কেন সঠিক:
- এই বাক্যে শব্দচয়ন, পদবিন্যাস ও ব্যাকরণগত দিক থেকে সম্পূর্ণ সংগতি রয়েছে।
- দুচোখ অশ্রুতে ভেসে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ও প্রমিত ভাবপ্রকাশ যা বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করে তোলে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- বাক্যশুদ্ধির ক্ষেত্রে শব্দের সঠিক রূপ ও বাহুল্যবর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
- অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য বাহুল্যদোষে দুষ্ট হয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম লঙ্ঘন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সব মানুষই মরণশীল।
ব্যাখ্যা: এখানে বাক্যটি সঠিক কারণ সকল মানুষের সাথে সব যোগ করে বাহুল্য করা হয়নি।
উদাহরণ ২: দেশের সব নাগরিকের কর্তব্য পালন করা উচিত।
ব্যাখ্যা: এটি একটি প্রমিত ও অর্থপূর্ণ বাক্য যেখানে কোনো ব্যাকরণগত ভুল নেই।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আমি কারও সাতেও নেই, সতেরোতেও নেই — এটি একটি বাগধারা, তবে শুদ্ধ রূপ হলো আমি কারও সাতে নেই পাঁচেও নেই।
B) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত — এখানে 'স্বপরিবারে' শব্দটি ভুল, শুদ্ধ রূপ হবে সপরিবারে কারণ সহ অর্থ বোঝাতে স উপসর্গ বসে।
D) সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলা, — এই বাক্যের শেষে পূর্ণচ্ছেদ বা সঠিক যতিচিহ্নের ব্যবহার অসম্পূর্ণ ও ব্যাকরণগতভাবে অসসংগত।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাক্য শুদ্ধ করার সময় বাহুল্যবর্জন এবং প্রত্যয় বা উপসর্গের সঠিক ব্যবহার ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বাক্যশুদ্ধি থেকে প্রশ্ন আসে, তাই প্রমিত বানান ও শব্দের সঠিক রূপ আয়ত্ত করা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী
১. কেন সঠিক:
- এই বাক্যে দুটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য বা সরল বাক্য 'ছেলেটি চঞ্চল' এবং 'মেধাবী' (সে মেধাবী) একটি যোজক 'তবে' দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক প্রধান খণ্ডবাক্য বা সরল বাক্য এবং, কিন্তু, অথবা, কিংবা, তবে ইত্যাদি সমন্বেয়ক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- গঠন অনুসারে বাক্য প্রধানত তিন প্রকার: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য।
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক আশ্রিত বা খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
- যে বাক্যে দুটি বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য বা খণ্ডবাক্য কোনো অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সে গরিব কিন্তু সৎ
ব্যাখ্যা: এখানে 'সে গরিব' এবং 'সৎ' (সে সৎ) দুটি স্বাধীন বাক্য 'কিন্তু' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করেছে।
উদাহরণ ২: বৃষ্টি থামল এবং আমরা রওনা দিলাম
ব্যাখ্যা: এখানে 'বৃষ্টি থামল' এবং 'আমরা রওনা দিলাম' দুটি স্বাধীন বাক্য 'এবং' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না — এটি একটি জটিল বাক্য কারণ এতে 'করলে' শর্তবাচক খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল।
B) তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন — এটি একটি সরল বাক্য কারণ এতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (করলেন) রয়েছে।
C) মহৎ মানুষ বলে সবাই তাকে সম্মান করেন — এটি একটি সরল বাক্য বা কারণবাচক বাক্য, যেখানে একটি মাত্র কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।
D) ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী — সঠিক উত্তর, কারণ এখানে 'তবে' অব্যয়টি দুটি স্বাধীন বাক্যকে যুক্ত করেছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- যৌগিক বাক্য চেনার সহজ উপায় হলো বাক্যের মাঝখানে এবং, কিন্তু, অথচ, কিংবা, অথবা, তবে ইত্যাদি অব্যয় খুঁজে দেখা।
- সরল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া একটি থাকে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকে এবং যৌগিক বাক্যে স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাক্য রূপান্তর বা বাক্য শনাক্তকরণের প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- বাক্য চেনার সময় প্রথমে খণ্ডবাক্যের স্বাধীন বা নির্ভরশীলতা এবং মাঝের সংযোজক অব্যয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) পিচাশ
১. কেন সঠিক:
বর্ণ-বিপর্যয় হলো শব্দের ভেতরে থাকা দুটি বর্ণ নিজেদের স্থান বা অবস্থান পরস্পর পরিবর্তন করলে যে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে, তার নাম।
পিচাশ শব্দটিতে মূল শব্দ ছিল পিশাচ, যেখানে তালব্য শ এবং চ পরস্পরের সাথে স্থান পরিবর্তন করে পিচাশ রূপ ধারণ করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
শব্দের মধ্যে দুটি বর্ণ পরস্পরের স্থান পরিবর্তন করলে তাকে ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী বর্ণ-বিপর্যয় বা বিপর্যাস বলা হয়।
এটি সাধারণত আঞ্চলিক উচ্চারণের প্রভাবে বা দ্রুত উচ্চারণের সময় অসচেতনভাবে ঘটে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাক্স থেকে বাস্ক
ব্যাখ্যা: বাক্স শব্দটিতে ক এবং ষ বর্ণ দুটি স্থান পরিবর্তন করে বাস্ক রূপ লাভ করেছে।
উদাহরণ ২: রিক্সা থেকে রিস্কা
ব্যাখ্যা: রিক্সা শব্দটিতে ক এবং স বর্ণ দুটি পরস্পরের স্থান পরিবর্তন করে রিস্কা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রতন — এটি অপিনিহিতির উদাহরণ বা স্বাভাবিক শব্দ, যেখানে কোনো বর্ণ-বিপর্যয় ঘটেনি বরং রত্ন থেকে রতন হয়েছে অপিনিহিতির মাধ্যমে।
B) কবাট — এটি রূপান্তর বা অভিশ্রুতির একটি রূপ হতে পারে, কিন্তু এটি বর্ণ-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত নয়।
D) মুলুক — এটি মূল শব্দ থেকে আগত একটি শব্দ, যা বর্ণ-বিপর্যয়ের নিয়মে পরিবর্তিত হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
বর্ণ-বিপর্যয় মানেই হলো বর্ণগুলোর পারস্পরিক স্থান পরিবর্তন বা ওলটপালট হওয়া।
মনে রাখার সূত্র হলো পিচাশ শব্দে শ ও চ নিজেদের জায়গা বদল করে পিশাচ থেকে পিচাশ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বর্ণ-বিপর্যয় চেনার জন্য পিশাচ থেকে পিচাশ এবং বাক্স থেকে বাস্ক উদাহরণ দুটি সবচেয়ে বেশি আসে।
শব্দের ভেতরের বর্ণগুলো ওলটপালট হয়েছে কি না তা খেয়াল করলেই উত্তর সহজে বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) গলাধাক্কা দেওয়া
কেন সঠিক:
- অর্ধচন্দ্র কথাটির শাব্দিক অর্থ আধা চাঁদ হলেও বাগধারায় এটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- কাউকে অপমান করে বা অসন্তুষ্ট হয়ে ঘাড় ধরে বা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া বোঝাতে এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি পরিচিত বাগধারা যা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- বাগধারা হলো এমন শব্দগুচ্ছ যা সাধারণ অর্থের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে।
- যেমন কুপমণ্ডুক অর্থ ঘরকুনো এবং বিড়াল তপস্বী অর্থ ভণ্ড সাধু।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) অমাবস্যা — এটি চাঁদের একটি বিশেষ কলা বা তিথি বোঝায় কিন্তু অর্ধচন্দ্র বাগধারার অর্থ নয়।
- B) গলাধাক্কা দেওয়া — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
- C) কাছে টানা — এটি অর্ধচন্দ্র বাগধারার বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে তাই ভুল।
- D) কাস্তে — কাস্তের আকৃতি আধখানা চাঁদের মতো হলেও এটি বাগধারার অর্থ নয়।
মনে রাখার টিপস:
- অর্ধচন্দ্র মানে আধখানা চাঁদ আর কাউকে ঘাড় ধরে বের করে দিলে তার গলা চাঁদের মতো বাঁকা হয়ে যায় এই রূপক মনে রাখতে পারো।
সঠিক উত্তর: B) জয় করিবার ইচ্ছা
১. কেন সঠিক:
- ‘জিগীষা’ শব্দটির মূল অর্থ হলো কোনো কিছু জয় করার প্রবল ইচ্ছা বা স্পৃহা।
- এটি এককথায় প্রকাশ বা বাকসংকোচনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণিক অংশ।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এককথায় প্রকাশ হলো বড় কোনো ভাব বা বাক্যকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করার মাধ্যম।
- সংষ্কৃত প্রত্যয় যোগে গঠিত এই শব্দগুলোতে শব্দের মূল রূপ ও কাঙ্ক্ষিত অর্থের সুন্দর প্রকাশ ঘটে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জিতিবার ইচ্ছা = জিগীষা
ব্যাখ্যা: এটি সরাসরি জয়লাভ করার মানসিক বাসনাকে প্রকাশ করে।
উদাহরণ ২: বাঁচিবার ইচ্ছা = জিজিবিষা
ব্যাখ্যা: এটি মানুষের বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছাকে এককথায় প্রকাশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জানিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা।
B) জয় করিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো জিগীষা, যা প্রশ্নানুযায়ী সঠিক।
C) হনন করিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো জিঘাংসা।
D) যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো যুযুৎসা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- জ দিয়ে শুরু জয় শব্দের সাথে জিগীষা শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখতে পারো।
- হনন বা হত্যার সাথে জিঘাংসা এবং যুদ্ধ করার ইচ্ছার সাথে যুযুৎসা শব্দটি যুক্ত করে পড়বে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- ইচ্ছা সংক্রান্ত শব্দগুলো যেমন জিগীষা, জিজিবিষা, জিঘাংসা ও যুযুৎসা প্রায়ই অপশনে একসাথে থাকে।
সঠিক উত্তর: C) ধূলি
১. কেন সঠিক:
- ধূলি একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ যা অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- তৎসম শব্দের অর্থ হলো তার সমান অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সমান।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- উৎসের দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। তৎসম শব্দ হলো সেই সমস্ত শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- ধূলি শব্দের সংস্কৃত রূপ হলো ধূলি যা বাংলায় এসেও অপরিবর্তিত রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চন্দ্র
ব্যাখ্যা: চন্দ্র একটি তৎসম শব্দ যার অর্থ চাঁদ এবং এটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি এসেছে।
উদাহরণ ২: সূর্য
ব্যাখ্যা: সূর্য একটি তৎসম শব্দ যা জ্যোতিষ্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পছন্দ — এটি একটি ফারসি শব্দ এবং তৎসম শব্দ নয়।
B) হিসাব — এটি একটি আরবি শব্দ এবং তৎসম শব্দ নয়।
C) ধূলি — এটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি আগত তৎসম শব্দ।
D) শৌখিন — এটি একটি ফারসি শব্দ এবং তৎসম শব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- তৎসম শব্দের শেষে সাধারণত ই-কার বা উ-কার যুক্ত থাকে এবং এগুলো সাধু ভাষা বা প্রাচীন লেখায় বেশি দেখা যায়।
- সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি আগত শব্দগুলোই হলো তৎসম শব্দ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের উৎস বা শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- বিদেশি শব্দ যেমন আরবি, ফারসি, ও পর্তুগিজ শব্দগুলো আলাদা করতে পারলে তৎসম শব্দ সহজে চেনা যায়।
সঠিক উত্তর: A) কহ্
১. কেন সঠিক:
ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বাংলা ভাষার মৌলিক উপাদান বলা হয়, যার সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
'কহ্' একটি খাঁটি বাংলা বা দেশি ধাতু, যা সরাসরি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় এবং এর সাথে প্রত্যয় যুক্ত করে ক্রিয়াপদ তৈরি করা হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দ বা শব্দমূলের সাথে কোনো প্রত্যয় যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠন করা হয়, তাকে ধাতু বলে।
উৎস ও ব্যবহারের দিক থেকে ধাতু মূলত তিন প্রকার, যথা মৌলিক ধাতু, সাধিত ধাতু ও সংযোগমূলক ধাতু।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পড়্ ধাতু।
ব্যাখ্যা: পড়্ একটি মৌলিক ধাতু যার সাথে আ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে পড়া ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
উদাহরণ ২: কর্ ধাতু।
ব্যাখ্যা: কর্ একটি বহুল ব্যবহৃত মৌলিক ধাতু যার সাথে নানা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে করা বা করে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কহ্ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি খাঁটি বাংলা ধাতু হিসেবে পরিগণিত হয়।
B) কথ্ — এটি একটি সংস্কৃত ধাতু, যা বাংলা ব্যাকরণের খাঁটি বাংলা ধাতুর আওতাভুক্ত নয়।
C) বুধ্ — এটিও সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ধাতু, তাই এটি বাংলা ধাতু হিসেবে গণ্য হয় না।
D) গঠন — এটি সরাসরি ধাতু নয়, বরং ধাতু থেকে সাধিত একটি শব্দ।
৫. মনে রাখার টিপস:
সংস্কৃত ধাতুগুলোর সাথে সাধারণত প্রাকৃত বা তৎসম শব্দের মিল থাকে, যেমন কথ্ বা বুধ্।
পক্ষান্তরে কহ্, কর্, ধর্, লড়্ ইত্যাদি হলো খাঁটি বাংলা বা দেশি ধাতু।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই খাঁটি বাংলা ধাতু এবং সংস্কৃত ধাতু আলাদা করার প্রশ্ন আসে।
মৌলিক ধাতুর মূলত দুটি উৎস রয়েছে, যথা বাংলা ভাষা থেকে আগত এবং সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
সঠিক উত্তর: C) চিন্তাবিপ্লব
১. কেন সঠিক:
ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবে ভারতবর্ষের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মানুষের চিন্তাচেতনায় এক বিশাল পরিবর্তন এসেছিল।
এর ফলে তৎকালীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় প্রচলিত গোঁড়ামি, জাতপ্রথা এবং সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মানুষের মনে মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটেছিল।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
এটি মূলত মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস, সমাজ ও সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত প্রশ্ন।
বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর এবং মধ্যযুগে সুফি সাধক ও আউলিয়াদের প্রচারের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে সাম্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চৈতন্যদেব ও বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা: সুফিবাদ ও ইসলাম ধর্মের উদার মানবতাবাদী মতবাদের প্রভাবেই বাংলার সমাজে বৈষ্ণব ধর্মের সহজিয়া ভাবধারা এবং বাউল গান পুষ্ট হয়েছিল।
উদাহরণ ২: মঙ্গলকাব্য ও মধ্যযুগের সাহিত্য
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের সাহিত্যে মানুষের জীবন ও লৌকিক বিশ্বাসের পাশাপাশি মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছিল যা চিন্তাবিপ্লবের ফল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বর্ণবাদের পুনরুত্থান — ইসলাম ও সুফিমত জাতিভেদ প্রথা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সাম্যের বাণী প্রচার করেছিল, পুনরুত্থান ঘটায়নি।
B) রাষ্ট্রবিপ্লব — ইসলাম ও সুফিমতের প্রধান প্রভাব ছিল সামাজিক ও মানসিক ক্ষেত্রে, সরাসরি রাজনৈতিক রাষ্ট্রবিপ্লব ঘটানো এর মূল উদ্দেশ্য ছিল না।
C) চিন্তাবিপ্লব — এটি সঠিক কারণ এই মতবাদের প্রভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।
D) অভিবাসন বিপ্লব — সুফি সাধকদের আগমন ঘটলেও এটি কোনো সুসংগঠিত অভিবাসন বিপ্লব হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সুফিমত মানেই হলো উদারতা ও মানবপ্রেম, যা মানুষের মন বা চিন্তাকে প্রভাবিত করে।
তাই মধ্যযুগের ইতিহাসে ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবকে সবসময় চিন্তাবিপ্লব বা মানসিক পরিবর্তন হিসেবে মনে রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে সুফি প্রভাব এবং বৈষ্ণব ধর্মের সহাবস্থান সম্পর্কে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
এই ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য ধর্মীয় উদারতা ও মানবতাবাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মাথায় রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) মুমূর্ষু
১. কেন সঠিক:
- 'মুমূর্ষু' শব্দটির সঠিক বানান হলো মএ হ্রস্বউ, মএ দীর্ঘউ, মূর্ধন্য-ষএ হ্রস্বউ এবং রেফ। এর অর্থ হলো যে মরতে বসেছে বা যার মৃত্যুর ইচ্ছা আছে।
- বাংলা বানানরীতির নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দটিতে হ্রস্ব এবং দীর্ঘ ই-কার বা উ-কারের সঠিক বিন্যাস ঘটেছে যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা বানানরীতির প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী 'মুমূর্ষু' শব্দটিতে প্রথম ম-এ হ্রস্বউ-কার, দ্বিতীয় ম-এ দীর্ঘউ-কার এবং মূর্ধন্য-ষ-এ হ্রস্বউ-কার যুক্ত হয়।
- সমাসবদ্ধ বা প্রত্যয়গত জটিলতার কারণে এই শব্দের বানান শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ভুল করে থাকে, তাই বাংলা একাডেমির বানান অভিধান অনুসারে এটি মুখস্থ রাখা নিরাপদ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুচিস্মিতা
ব্যাখ্যা: এটি একটি সুন্দর বাংলা নাম এবং এর বানানটিও প্রমিত নিয়মে গঠিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: পিপাসা
ব্যাখ্যা: পানের ইচ্ছাকে পিপাসা বলে এবং এর বানান লেখার সময় হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরবর্ণের সঠিক ব্যবহার করতে হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুমুর্ষু — এই অপশনে দ্বিতীয় ম-এ দীর্ঘউ-কার ব্যবহার করা হয়নি ফলে বানানটি ভুল হয়েছে।
B) মূমুর্ষু — এই অপশনে প্রথম ম-এ দীর্ঘউ-কার ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়।
D) মূমূর্ষু — এই অপশনে প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় ম-এ দীর্ঘউ-কার ব্যবহার করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মুমূর্ষু বানানটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো ছোট উ, বড় উ, ছোট উ। অর্থাৎ প্রথম ম-এ হ্রস্বউ, দ্বিতীয় ম-এ দীর্ঘউ এবং ষ-এ হ্রস্বউ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে।
- হ্রস্বউ-কার ও দীর্ঘউ-কারের মিশ্রণে গঠিত শব্দগুলো আলাদা করে চর্চা করলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: B) আবীরা
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত প্রশ্নে অগ্নি শব্দের সমার্থক নয় এমন শব্দ বা বিপরীতার্থক শব্দ জানতে চাওয়া হয়েছে।
- আবীরা শব্দের অর্থ লাল রঙের গুঁড়ো বা আবির, যার সঙ্গে অগ্নির কোনো সম্পর্ক নেই।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- সমার্থক শব্দ হলো এমন শব্দ যা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একই অর্থ প্রকাশ করে।
- অগ্নি শব্দের বহু প্রচলিত সমার্থক শব্দ রয়েছে যা মুখস্থ রাখতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনল
ব্যাখ্যা: অনল হলো অগ্নির একটি অতি পরিচিত সমার্থক শব্দ।
উদাহরণ ২: পাবক
ব্যাখ্যা: পাবক শব্দটি অগ্নি বা আগুন বোঝাতে বহুল ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বহ্নি — এটি অগ্নির একটি সরাসরি সমার্থক শব্দ।
B) আবীরা — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি আবির বা লাল রঙের গুঁড়ো বোঝায়।
C) বায়ুসখা — আগুন জ্বালানোর ক্ষেত্রে বাতাস সহায়ক বলে অগ্নিকে বায়ুসখা বলা হয়।
D) বৈশ্বানর — বৈশ্বানর হলো অগ্নির বৈদিক ও পৌরাণিক একটি অন্যতম নাম।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আবীরা শব্দটি এসেছে আবির থেকে।
- তাই আগুন ও আবির দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অগ্নি শব্দের সমার্থক হিসেবে অনল, পাবক, বহ্নি, Hutashan এবং বৈশ্বানর প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- সমার্থক শব্দ দাগানোর সময় শব্দের মূল অর্থ এবং প্রচলিত ব্যবহার ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) অপহ্নুতি
১. কেন সঠিক:
অপহ্নুতি অর্থ গোপণ করা বা অস্বীকার করা। এই অলংকারে উপমেয়কে মিথ্যা বা অপহ্নুত করে উপমানের সঙ্গে অভেদ কল্পনা করা হয়। প্রদত্ত বাক্যে নদীর ধারাকে জল অস্বীকার করে তাকে মানুষের অশ্রুধারা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা অলংকার শাস্ত্রে অপহ্নুতি একটি অর্থালংকার। কোনো বিষয়কে গোপন করে তার স্থানে অন্য কোনো বস্তু বা ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করা এই অলংকারের মূল কাজ। এর সাধারণ রূপ হলো এটি তা নয়, বরং এটি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এ যে নয় হার, এ যে গলার ফাঁসি।
ব্যাখ্যা: গলার হারকে হার না বলে ফাঁসি হিসেবে অস্বীকার করে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: কুসুম নয় এ যে ভেদিয়া বক্ষ আসিছে কীট।
ব্যাখ্যা: কুসুমকে কুসুম হিসেবে অস্বীকার করে কীট বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অপহ্নুতি — এই অপশনটি সঠিক কারণ এখানে উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমান স্থাপন করা হয়েছে।
B) যমক — এই অপশনটি ভুল কারণ যমক একটি শব্দালংকার যেখানে একই শব্দ ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হয়।
C) অর্থোন্নতি — এই অপশনটি ভুল কারণ অর্থোন্নতি বলতে অর্থের গৌরব বৃদ্ধি বা প্রসার বোঝায়, যা কোনো নির্দিষ্ট পারিভাষিক অলংকার নয়।
D) অভিযান — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি কোনো পারিভাষিক অলংকার বা সাহিত্যিক অলংকারের নাম নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
অপহ্নুতি শব্দের অর্থ লুকিয়ে রাখা বা অস্বীকার করা। বাক্যে কোনো কিছুকে সরাসরি অস্বীকার করে অন্য কিছু বোঝালে অপহ্নুতি অলংকার হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিখ্যাত পঙ্ক্তি তুলে ধরে অলংকার জানতে চাওয়া হয়। অস্বীকারবাচক ভাব থাকলে চোখ বুজে অপহ্নুতি অলংকার দাগাতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) গুজরাটি (প্রশ্নে 'গুজরাট' আছে, যা মূলত গুজরাটি ভাষা নির্দেশ করে)
১. কেন সঠিক:
- 'হরতাল' শব্দটি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একটি বহিরাগত বা বিদেশাগত শব্দ।
- এটি মূলত গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং এর অর্থ কাজ বা দোকানপাট বন্ধ রাখা।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- উৎসের ভিত্তিতে বাংলা ভাষার শব্দগুলোকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।
- বিদেশাগত শব্দের মধ্যে পর্তুগিজ, আরবি, ফার্সি, ইংরেজি ছাড়াও গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও হিন্দি ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলায় এসেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: খদ্দর
ব্যাখ্যা: এটিও একটি গুজরাটি শব্দ যা বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ঘেরাও
ব্যাখ্যা: এটিও গুজরাটি ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ যা বাংলা শব্দভান্ডারে স্থান করে নিয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পর্তুগিজ — পর্তুগিজ ভাষা থেকে আনারস, চাবি, বালতি ইত্যাদি শব্দ বাংলায় এসেছে, কিন্তুরতাল আসেনি।
B) হিন্দি — হিন্দি ভাষা থেকে চাহিদা, পানি, পেটি ইত্যাদি শব্দ আসলেওরতাল হিন্দি শব্দ নয়।
C) গুজরাট — এটি সঠিক উৎস, কারণ এই অঞ্চলের ভাষা থেকেই শব্দটি বাংলায় এসেছে।
D) ফরাসি — ফরাসি ভাষা থেকে কার্তুজ, কুপন, ডিপো ইত্যাদি শব্দ বাংলায় এসেছে,রতাল নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গুজরাটি শব্দ মনে রাখার একটি মজার কৌশল হলো খদ্দর পরে হরতাল করতে যাওয়া।
- এর মাধ্যমে গুজরাটি ভাষা থেকে আসা দুটি প্রধান শব্দ খুব সহজে মনে রাখা সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দ থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- বিশেষ করে গুজরাটি ও পাঞ্জাবি ভাষার সীমিত সংখ্যক শব্দগুলো ভালো করে পড়লে সহজেই নম্বর পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: B) a whale
কেন সঠিক:
হারমান মেলভিলের বিখ্যাত উপন্যাস মোবি ডিক মূলত একটি বিশাল সাদা তিমির প্রতি ক্যাপ্টেনের প্রতিশোধের উন্মাদনা নিয়ে রচিত হয়েছে।
এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো মোবি ডিক নামের একটি বিশালাকার তিমি মাছ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a mermaid — এই উপন্যাসের সাথে কোনো জলপরীর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র।
B) a whale — এই অপশনটি সঠিক কারণ মূল কাহিনী একটি তিমি শিকার অভিযানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
C) a crocodile — এই উপন্যাসের কাহিনীতে কোনো কুমিরের কোনো উপস্থিতি বা ভূমিকা নেই।
D) a shark — এখানে হাঙ্গরের কোনো প্রধান বা গৌণ ভূমিকা নেই, কাহিনী সম্পূর্ণ তিমিকে ঘিরে।
মনে রাখার টিপস:
মোবি ডিক মানেই বিশাল সাদা তিমি, যা বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হারমান মেলভিলের একটি অমর সৃষ্টি।
সঠিক উত্তর: C) Henry Fielding
কেন সঠিক:
হেনরি ফিল্ডিং ইংরেজি সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।
তার বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম টম জোন্স একটি উচ্চমানের পিকারেস্ক উপন্যাস।
এই উপন্যাসে পিকারেস্ক উপন্যাসের সব ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্য নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অমর সৃষ্টি হিসেবে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Samuel Richardson — তিনি এপিস্টোলারি উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত হলেও এই বইটি লেখেননি। পামেলা ও ক্ল্যারিসা তার বিখ্যাত উপন্যাস।
B) Horace Walpole — তিনি গথিক উপন্যাসের জনক হিসেবে পরিচিত এবং দ্য ক্যাসেল অব ওট্র্যান্টো তার বিখ্যাত রচনা।
C) Henry Fielding — এই অপশনটি সঠিক এবং তিনি স্বয়ং এই বিখ্যাত উপন্যাসের রচয়িতা।
D) Laurence Sterne — তিনি জনকেন্দ্রিক ও পরীক্ষামূলক উপন্যাসের জন্য পরিচিত এবং ট্রিস্ট্রাম শ্যান্ডি তার বিখ্যাত সৃষ্টি।
মনে রাখার টিপস:
টম জোন্স উপন্যাসটির কথা মনে রাখতে হেনরি ফিল্ডিং নামটির সাথে পিকারেস্ক শব্দটি মিলিয়ে নিতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) reminescence
কেন সঠিক:
অপশন এ তে থাকা শব্দটির বানান ভুল আছে কারণ এর সঠিক বানান হলো reminiscence যার মাঝে scence আছে।
এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দ যার অর্থ অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) reminescence — এই বানানটিতে ভুল আছে কারণ এখানে scence এর জায়গায় cence ব্যবহার করা হয়েছে।
B) glycerin — এই বানানটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং এর অর্থ গ্লিসারিন যা সাধারণত প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়।
C) idiosyncrasy — এই বানানটি সঠিক এবং এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির স্বভাবগত বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা পাগলামি।
D) lexicography — এই বানানটি সঠিক এবং এটি অভিধান রচনা বা সংকলন বিদ্যাকে নির্দেশ করে।
মনে রাখার টিপস:
reminiscence বানানটি মনে রাখার জন্য শেষের অংশটি scence এভাবে ভেঙে পড়লে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: C) had left
কেন সঠিক:
- অতীতকালের দুটি ঘটনার মধ্যে তুলনামূলকভাবে আগের ঘটনাটি Past Perfect Tense (had + V3) হয়।
- প্রদত্ত বাক্যে আসার আগের কাজটি অর্থাৎ চলে যাওয়ার কাজটি আগে সম্পন্ন হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর had left।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) would be leaving — এটি Past Continuous Tense-এর গঠন, যা অতীতকালের চলমান কাজ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) had been leaving — এটি Past Perfect Continuous Tense, যা অতীতকালে কোনো নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ চলছিল বোঝায় কিন্তু এখানে তা বোঝায়নি।
C) had left — এটি সঠিক উত্তর, কারণ অতীতকালের দুটি কাজের মধ্যে পূর্ববর্তী কাজটি Past Perfect Tense-এ হয়।
D) will leave — এটি Future Indefinite Tense, যা ভবিষ্যৎকালের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং অতীতকালের ঘটনার সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখার টিপস:
Past Perfect-এর ক্ষেত্রে সূত্র মনে রাখবে: Before-এর আগে had + V3 এবং After-এর পরে had + V3 বসে।
সঠিক উত্তর: C) a play by Bernard Shaw
কেন সঠিক:
ক্যাসার অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা বিখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ এর লেখা একটি ঐতিহাসিক নাটক।
এটি নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
নাটকটিতে প্রাচীন মিশরের পটভূমিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের ভিন্নরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এটি বার্নার্ড শ এর অন্যতম সেরা নাট্যকর্ম হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a tragedy by william Shakespeare — উইলিয়াম শেক্সপিয়ার রোমান ইতিহাস নিয়ে জুলিয়াস সিজার লিখেছেন, কিন্তু এই নাটকটি তার লেখা নয়।
B) a poem by Lord Byron — লর্ড বায়রন মূলত তার প্রণয় ও রোমান্টিক কবিতার জন্য পরিচিত, কিন্তু তিনি এই নাটক রচনা করেননি।
C) a play by Bernard Shaw — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
D) a novel by S. T. Coleridge — কোলরিজ প্রধানত রোমান্টিক যুগের কবি ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন, কোনো উপন্যাস বা এই নাটক তিনি লেখেননি।
মনে রাখার টিপস:
সিজার ও ক্লিওপেট্রার নাম শুনলেই রোমান ইতিহাস মনে হতে পারে, কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে এর রচয়িতা জর্জ বার্নার্ড শ।
সঠিক উত্তর: D) Common
কেন সঠিক:
‘River’ শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম না বুঝিয়ে পৃথিবীর সব নদীকে সাধারণভাবে বোঝায়। তাই এটি কমন নাউন বা জাতিবাচক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Material — এটি বস্তুবাচক বিশেষ্য নয় কারণ নদী কোনো উপাদান বা বস্তু নির্দেশ করে না।
B) Collective — এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য নয় কারণ নদী কোনো নির্দিষ্ট দল বা সমষ্টি বোঝায় না।
C) Proper — এটি নামবাচক বিশেষ্য নয় কারণ পদ্মা বা মেঘনার মতো কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম এটি নয়।
D) Common — এটি সঠিক কারণ এটি সব নদীর সাধারণ নাম।
মনে রাখার টিপস:
যে নাম দিয়ে নির্দিষ্ট কাউকে না বুঝিয়ে একটি পুরো জাতিকে বা শ্রেণীকে বোঝায়, তাকে কমন নাউন বলে।
সঠিক উত্তর: A) The Tempest
কেন সঠিক:
ক্যালিবান চরিত্রটি শেক্সপিিয়ারের বিখ্যাত নাটক দ্য টেমপেস্ট নাটকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিচিত চরিত্র। সে দ্বীপের মূল অধিবাসী এবং প্রস্পেরোর সেবক হিসেবে নাটকে উপস্থিত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
B) Hamlet — হ্যামলেট নাটকের প্রধান চরিত্র রাজপুত্র হ্যামলেট এবং এখানে ক্যালিবানের কোনো অস্তিত্ব নেই।
C) Macbeth — ম্যাকবেথ নাটকের মূল চরিত্র স্কটল্যান্ডের সেনাপতি ম্যাকবেথ এবং এটি একটি ট্র্যাজেডি।
D) Othello — ওথেলো নাটকটি মুর সেনাপতি ওথেলোর জীবনের ট্র্যাজেডি নিয়ে রচিত।
মনে রাখার টিপস:
ক্যালিবান নামটি টেমপেস্ট নাটকের সাথে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) subordinate clause
কেন সঠিক:
- বাক্যের 'Sitting happily' অংশটি একটি participial phrase এবং এটি স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
- এটি প্রধান ক্লজ 'The chicken laid eggs' এর ওপর নির্ভরশীল বিধви এটি একটি subordinate clause বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun clause — noun-এর কাজ করে এবং প্রধান বাক্যের subject বা object হিসেবে বসে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) subordinate clause — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং মূল বাক্যের ওপর নির্ভরশীল।
C) independent clause — একা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু এখানে প্রথম অংশটি একা অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
D) coordinate clause — and, but ইত্যাদি coordinating conjunction দ্বারা যুক্ত সমান মর্যাদার ক্লজ, যা এখানে নেই।
মনে রাখার টিপস:
যে খণ্ডবাক্য বা বাক্যাংশ স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না এবং অর্থের জন্য মূল ক্লজের ওপর নির্ভর করে, সেটাই subordinate clause।
সঠিক উত্তর: A) John Dryden
কেন সঠিক:
এটি ইংরেজি সাহিত্যের বিখ্যাত রনেসাঁস ও রেস্টোরেশন যুগের অন্যতম প্রধান নাট্যকার জন ড্রাইডেনের লেখা একটি শোকগাথা নাটক।
নাটকটি শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রার কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
এটি লেখকের সেরা নাটক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ড্রাইডেনের নাট্যপ্রতিভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এটি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) John Dryden — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
B) William Congreve — তিনি রেস্টোরেশন যুগের একজন বিশিষ্ট নাট্যকার হলেও এই নাটকটি তার লেখা নয়।
C) John Bunyan — তিনি একজন বিখ্যাত ধর্মীয় লেখক ও রূপক কথা রচয়িতা ছিলেন, কোনো নাটক লেখেননি।
D) Francis Bacon — তিনি মূলত একজন বিখ্যাত প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক ছিলেন, কোনো নাটক রচনা করেননি।
মনে রাখার টিপস:
সব ভালোবাসার নাটক ড্রাইডেনের নয়, তবে অল ফর লাভ নাটকটি জন ড্রাইডেনের বিখ্যাত সৃষ্টি।
সঠিক উত্তর: D) S. T. Coleridge
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি এস. টি. কোলরিজের ‘দ্য রাইম অফ দ্য এনশিয়েন্ট ম্যারিনার’ নামক অমর কবিতার একটি অংশ।
কবিতাটিতে কবি সকল সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং ঈশ্বরভক্তির এক গভীর সংযোগ ফুটিয়ে তুলেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) John Milton — তিনি মূলত ‘প্যারাডাইজ লস্ট’ মহাকাব্যের জন্য বিখ্যাত এবং তাঁর লেখার ধরণ ছিল ভিন্ন।
B) John Donne — তিনি সপ্তদশ শতকের একজন বিশিষ্ট মেটাফিজিক্যাল কবি ও ধর্মতত্ত্ববিদ ছিলেন।
C) Lord Byron — তিনি রোমান্টিক যুগের কবি হলেও তাঁর রচনায় বিদ্রোহী সুর ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
D) S. T. Coleridge — এই অপশনটি সঠিক কারণ উদ্ধৃতিটি তাঁরই বিখ্যাত কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
কোলরিজের সামুদ্রিক নাবিকের গল্প মনে রাখলে এই সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার বাণীটি সহজে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: D) topic sentence
কেন সঠিক:
একটি প্যারাগ্রাফের মূল নিয়ন্ত্রণকারী বাক্যকে টপিক সেন্টেন্স বলা হয় যা সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদের মূল ভাব প্রকাশ করে।
এটি পাঠকদের প্যারাগ্রাফটি কী সম্পর্কে তা স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
অন্যান্য সব বাক্য এই মূল বাক্যটিকে সমর্থন বা ব্যাখ্যা করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) content modulator — এই নামে প্যারাগ্রাফের কোনো নির্দিষ্ট বা স্বীকৃত বাক্য নেই।
B) terminator — এটি প্যারাগ্রাফের সমাপ্তি নির্দেশক বাক্য বোঝায়, নিয়ন্ত্রণকারী বাক্য নয়।
C) thesis statement — এটি সাধারণত পুরো প্রবন্ধ বা গবেষণাপত্রের মূল ভাব প্রকাশ করে, একক প্যারাগ্রাফের নয়।
D) topic sentence — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল অপশন হিসেবে গণ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
প্যারাগ্রাফের শুরুতে থাকা যে বাক্যটি পুরো লেখার মূল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে তাকেই টপিক সেন্টেন্স বলে।
সঠিক উত্তর: B) Zaman is more industrious than most other boys.
কেন সঠিক:
মূল বাকye 'Very few' থাকায় Comparative করার সময় Subject-এর পরে 'more + Adjective' এবং 'than most other' বসাতে হয়।
এই নিয়ম অনুযায়ী Zaman হলো Subject এবং তারপরে সঠিক Adjective form বসেছে।
বাক্যটির Positive অর্থ এখানে অপরিবর্তিত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Zaman is one of the most industrious boys — এটি Superlative form, তাই প্রশ্নানুযায়ী সঠিক নয়।
B) Zaman is more industrious than most other boys — এটি সঠিক উত্তর, তাই ভুল নয়।
C) Zaman is really industrious like other boys — এটি Positive বা Comparative কোনো সঠিক নিয়ম মেনে হয়নি।
D) Zaman is as industrious as other boys — এটি Positive form-এর বাক্য, যা এখানে চাওয়া হয়নি।
মনে রাখার টিপস:
'Very few' যুক্ত Positive বাক্যে Comparative করার সময় 'than most other' ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) with
কেন সঠিক:
আইডেন্টিক্যাল শব্দের সাথে সাধারণত উইথ প্রিপজিশন বসে।
কারো মতামতের সাথে মিল থাকা বোঝালে এই নিয়ম হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) for — এই অর্থে সঠিক নয়।
B) in — এখানে ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
C) with — এটি সঠিক উত্তর।
D) by — এখানে নিয়মবহির্ভূত।
মনে রাখার টিপস:
আইডেন্টিক্যাল মানে একই রকম, তাই এর সাথে সবসময় উইথ বসে।
সঠিক উত্তর: C) justify the ways of God to man
কেন সঠিক:
জন মিলটন তার বিখ্যাত মহাকাব্য প্যারাডাইস লস্ট এর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে মানুষের কাছে ঈশ্বরের কাজগুলোকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করার কথা বলেছেন।
তিনি মানুষের সৃষ্টি এবং পতনের পেছনের ঐশ্বরিক পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
এটি মানুষের কাছে ঈশ্বরের সব সিদ্ধান্তকে সঠিক হিসেবে উপস্থাপন করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) justify the ways of man to God — এটি ভুল কারণ মিলটন মানুষের কাজ ঈশ্বরকে বোঝাতে চাননি বরং ঈশ্বরের কাজ মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন।
B) show that Satan and God have equal power — এটি ভুল কারণ মিলটনের কাব্যে শয়তান ঈশ্বরের সমান শক্তিশালী নয়, ঈশ্বরই সর্বশক্তিমান।
C) justify the ways of God to man — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়।
D) explain why both good and evil are necessary — এটি ভুল কারণ কাব্যের মূল লক্ষ্য ভালো মন্দের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা ছিল না।
মনে রাখার টিপস:
মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যের বিখ্যাত লাইনটি মনে রেখ যে কবি মানুষের কাছে ঈশ্বরের বিচারকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।
সঠিক উত্তর: A) at
কেন সঠিক:
নির্দিষ্ট কোনো ছুটির দিন বা সপ্তাহের শেষ সময় বোঝাতে সাধারণত preposition হিসেবে at ব্যবহৃত হয়।
এখানে weekend বা সপ্তাহের শেষের ছুটির কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর at হবে।
বৃটিশ ইংরেজিতে weekend এর আগে at বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) at — এটি সঠিক উত্তর এবং সপ্তাহের শেষের সময় বোঝাতে এটিই ব্যবহৃত হয়।
B) with — সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা মাধ্যমের সাথে বোঝাতে এটি বসে, সময়ের সাথে বসে না।
C) on — এটি নির্দিষ্ট কোনো বারের নামের আগে বসে, যেমন on Friday, কিন্তু weekend এর ক্ষেত্রে সাধারণত at বসে।
D) for — এটি কোনো নির্দিষ্ট সময় ধরে চলা বা কারণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে বসবে না।
মনে রাখার টিপস:
সপ্তাহের শেষের ছুটি বা weekend এর আগে সবসময় at বসাবে।
সঠিক উত্তর: C) Ode to the West Wind
কেন সঠিক:
এই উদ্ধৃতিটি পার্সি বাইশি শেলি-র বিখ্যাত কবিতা ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি বাতাসের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে তরঙ্গ, পাতা বা মেঘের মতো শক্তিশালী বেগে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The Cloud — এই কবিতায় মেঘের জন্ম, জীবনচক্র এবং এর মেঘরূপী প্রকৃতির বর্ণনা আছে। এখানে জীবনের বেদনা বা রক্তক্ষরণের কোনো কথা নেই।
B) To a Skylark — এই কবিতায় চাতক পাখির আনন্দময় গান এবং তার স্বর্গীয় স্বভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে মানবজীবনের কষ্ট ও হতাশার প্রকাশ দেখা যায় না।
C) Ode to the West Wind — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) Adonais — এটি কবি জন কিটসের মৃত্যুতে লেখা একটি শোকগাথা বা এলিজি। এটি কবি শেলি ও প্রকৃতির ব্যাকুল সম্পর্কের বদলে কিটসের শোককে কেন্দ্র করে রচিত।
মনে রাখার টিপস:
শেলি যখনই প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মিশিয়ে দিতে চান এবং জীবনের কষ্টের কথা বলেন, তখন সাধারণত ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড কবিতার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) W. Somerset Maugham
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত গল্পটি ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক সমারসেট মম-এর লেখা।
তিনি আধুনিক যুগের অন্যতম সফল ছোটগল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
তার লেখার ধরন বেশ জনপ্রিয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Guy de Maupassant — তিনি একজন ফরাসি লেখক ছিলেন এবং তার লেখার বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
B) W. Somerset Maugham — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি এই গল্পের মূল রচয়িতা।
C) J. K. Rawlings — তিনি হ্যারি পটার সিরিজের মতো বিখ্যাত ফ্যান্টাসি উপন্যাসের জন্য পরিচিত।
D) O Henry — তিনি তার আকস্মিক সমাপ্তির ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত একজন আমেরিকান লেখক।
মনে রাখার টিপস:
সমারসেট মম-এর নামের প্রথম অংশ মনে রাখলে এই গল্পটির লেখক সহজেই চিনে নেওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: C) adjective
কেন সঠিক:
- 'vital' শব্দটির অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়, যা সাধারণত কোনো noun-এর আগে বসে তার দোষ, গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে।
- এটি বাক্যে adjective হিসেবে কাজ করে কোনো noun বা pronoun-এর বিশেষ অবস্থা বা গুরুত্ব নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun — noun হলো কোনো কিছুর নাম, কিন্তু 'vital' কোনো নাম নয় বরং একটি বিশেষ অবস্থা নির্দেশক শব্দ।
B) adverb — adverb সাধারণত verb, adjective বা অন্য কোনো adverb-কে modify করে, কিন্তু 'vital' নিজে একটি adjective।
C) adjective — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, কারণ এটি noun বা pronoun-এর দোষ, গুণ, অবস্থা বা গুরুত্ব প্রকাশ করে।
D) verb — verb হলো কোনো কিছু করা বা হওয়া বোঝানোর শব্দ, কিন্তু 'vital' কোনো কাজের নাম বা action বোঝায় না।
মনে রাখার টিপস:
যarc শব্দগুলোর শেষে al থাকে এবং কোনো noun-এর গুণ বা গুরুত্ব বোঝায়, সেগুলো সাধারণত adjective হয় যেমন vital, natural, local।
সঠিক উত্তর: B) Let not the door be closed.
কেন সঠিক:
Imperative sentence-যুক্ত active voice-কে passive করার সময় প্রথমে Let বসাতে হয়।
এরপর object এবং be-র সাথে মূল verb-এর past participle form বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Let not the door close — এখানে be verb এবং past participle form ব্যবহার করা হয়নি।
B) Let not the door be closed — এটি সঠিক উত্তর, কারণ প্রশ্নে অপশন ক্রমিংয়ে একটু ভুল আছে।
C) Let not the door close — এই অপশনটি প্রথম অপশনের সাথে হুবহু মিলে গেছে এবং ভুল।
D) Let not door closed — এখানে বাক্যের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় article এবং be verb অনুপস্থিত।
মনে রাখার টিপস:
Imperative sentence-এ Do not থাকলে Let not দিয়ে শুরু করে be + V3 বসাতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) mostly
কেন সঠিক:
‘By and large’ একটি ইংরেজি ইডিয়ম বা বাগধারা। এর শাব্দিক অর্থ বড় পরিসরে হলেও প্রকৃত অর্থ হলো সাধারণত বা মূলত।
এটি কোনো নির্দিষ্ট বা শতভাগ বিষয় বোঝায় না বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বা সামগ্রিকভাবে যা ঘটে তা প্রকাশ করে।
তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে ‘mostly’ বা অধিকাংশই কথাটির সাথে এর অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে মিলে যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) everwhere — এই অপশনটি ভুল কারণ ‘everwhere’ শব্দের অর্থ সব জায়গায়, যা প্রদত্ত ইডিয়মের অর্থের সাথে মেলে না।
B) very large — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি ইডিয়মটির শাব্দিক রূপের কাছাকাছি হলেও এর আসল ভাবার্থ প্রকাশ করে না।
C) mostly — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এখানে ভুল ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।
D) far away — এই অপশনটি ভুল কারণ ‘far away’ অর্থ অনেক দূরে, যা এই বাগধারার অর্থের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
‘By and large’ দেখলে মনে রাখবে এর মানে হলো মোটামুটিভাবে বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
সঠিক উত্তর: A) essayist
কেন সঠিক:
ফ্রান্সিস বেকনকে ইংরেজি প্রবন্ধের জনক বলা হয়। তিনি জ্ঞানগর্ভ ও দার্শনিক চিন্তার বহু প্রবন্ধ লিখেছেন।
তাঁর রচিত প্রবন্ধগুলো মূলত জীবনের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইংরেজি সাহিত্যে প্রাবন্ধিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি সবচেয়ে বেশি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) essayist — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
B) dramatist — তিনি কোনো নাটক রচনা করেননি বা নাট্যকার হিসেবে পরিচিত নন।
C) novelist — তিনি কোনো উপন্যাস লেখেননি, কারণ সে সময় উপন্যাসের ধারা বিকশিত হয়নি।
D) journalist — তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
মনে রাখার টিপস:
ফ্রান্সিস বেকন মানেই প্রবন্ধ এবং তাঁকে বলা হয় ইংরেজি প্রবন্ধের জনক।
সঠিক উত্তর: D) a conjunction
কেন সঠিক:
এখানে but শব্দটি দুটি স্বাধীন ক্লজ বা বাক্যংশকে যুক্ত করেছে।
এটি বাক্য দুটির মধ্যে ভাবগত সংযোগ তৈরি করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) an adverb — এটি ক্রিয়ার বিশেষত্ব বোঝাচ্ছে না কারণ এটি কোনো ভার্ব বা অ্যাডজেক্টিভকে মডিফাই করছে না।
B) a verb — এটি কোনো কাজ, অবস্থা বা অস্তিত্ব বোঝাচ্ছে না তাই এটি ভার্ব হতে পারে না।
C) an adjective — এটি কোনো noun বা pronoun এর দোষ, গুণ বা সংখ্যা প্রকাশ করছে না।
D) a conjunction — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি দুটি খণ্ডবাক্যকে সংযুক্ত করার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যে দুটি ভিন্ন ভাবযুক্ত ক্লজকে যুক্ত করলে but সাধারণত conjunction হয়।
সঠিক উত্তর: B) sheep
কেন সঠিক:
‘sheep’ একটি ব্যতিক্রমধর্মী নাউন যার একবচন ও বহুবচন রূপ সম্পূর্ণ একই থাকে। তাই এর সাথে অতিরিক্ত কোনো বর্ণ যোগ করার প্রয়োজন হয় না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) sheeps — এটি ভুল কারণ সঠিক নিয়মে এর সাথে ‘s’ যুক্ত হয় না।
B) sheep — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল নয়।
C) sheepes — এটি ভুল কারণ শব্দের শেষে ‘es’ যুক্ত করার কোনো নিয়ম এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) sheepses — এটি সম্পূর্ণ একটি কাল্পনিক এবং ব্যাকরণগতভাবে ভুল রূপ।
মনে রাখার টিপস:
কিছু প্রাণীর নাম যেমন sheep, deer, fish একবচন ও বহুবচনে সবসময় একই থাকে।
সঠিক উত্তর: D) As you like it
কেন সঠিক:
উক্তিটি শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক আস ইউ লাইক ইট এর প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যে পাওয়া যায়।
বনবাসের কঠিন জীবনও মানুষের জন্য শিক্ষণীয় ও কল্যাণকর হতে পারে, এই নাটকে ডিউক সিনিয়র চরিত্রটি এই কথা বলেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Julius Caesar — এই নাটকে রোমের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও জুলিয়াস সিজারের হত্যাকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে, যা এই উক্তির সাথে সম্পর্কিত নয়।
B) Macbeth — এটি একটি বিয়োগান্তক নাটক যা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ক্ষমতার লোভের পরিণতির ওপর রচিত, এই উক্তির সাথে এর মিল নেই।
C) Comedy of Errors — এটি শেক্সপিয়ারের একটি হাসির নাটক যা জমজ ভাইদের ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে লেখা এবং এই উক্তিটি এতে নেই।
D) As you like it — এই অপশনটি সঠিক কারণ উক্তিটি এই নাটক থেকেই নেওয়া হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বিপদ বা কষ্টের মধুর ফলের কথা মনে রাখতে আস ইউ লাইক ইট নাটকের এই বিখ্যাত উক্তিটি মাথায় রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) to adjust
কেন সঠিক:
- 'To get along with' একটি গ্রুপ ভার্ব যার অর্থ হলো কারো সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বা কোনো পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া।
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'to adjust' বা মানিয়ে নেওয়া অর্থটি এর সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) to adjust — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ খাপ খাইয়ে নেওয়া বা মানিয়ে চলা।
B) to interest — এর অর্থ কোনো বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করা, যা এই বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে না।
C) to accompany — এর অর্থ কারো সাথে সঙ্গী হওয়া বা সাথে যাওয়া, যা গ্রুপ ভার্বের পূর্ণ অর্থ বহন করে না।
D) to walk — এর অর্থ হাঁটা, যা এই বাগধারাটির রূপক অর্থের সাথে কোনোভাবেই মেলে না।
মনে রাখার টিপস:
'Get along with' দেখলে মাথায় রাখবে নতুন কোনো পরিবেশে টিকে থাকতে হলে সবার সাথে নিজেকে 'adjust' করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) scenic
কেন সঠিক:
panoramic শব্দটির অর্থ হলো বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বা মনোরম দৃশ্যপট।
scenic শব্দটিও মনোরম দৃশ্য বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে সম্পর্কিত।
তাই অর্থগত দিক থেকে scenic হলো panoramic শব্দের সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিশব্দ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) scenic — এটি সঠিক উত্তর এবং panoramic শব্দের সমার্থক।
B) narrow — এর অর্থ সংকীর্ণ, যা panoramic শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত।
C) limited — এর অর্থ সীমিত, যা বিস্তৃত বা panoramic এর সাথে মেলে না।
D) restricted — এর অর্থ নিয়ন্ত্রিত বা সীমাবদ্ধ, যা বিশাল দৃশ্যের বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
Panoramic শব্দটি পেলে মাথায় রাখবে বড় কোনো সুন্দর দৃশ্য বা scenic view এর কথা।
সঠিক উত্তর: C) energetic
কেন সঠিক:
slothyful শব্দটির অর্থ অলস বা কুঁড়ে। এর বিপরীত শব্দ হিসেবে energetic ব্যবহৃত হয় যার অর্থ কর্মঠ বা উদ্যমী।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) playful — playful শব্দের অর্থ চঞ্চল বা খেলাপ্রিয়, যা slothful শব্দের সঠিক বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না।
B) sluggish — sluggish শব্দের অর্থ মন্থর বা ধীরগতির, যা slothful শব্দের সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে।
C) energetic — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
D) quarrelsome — quarrelsome শব্দের অর্থ ঝগড়াকুটে, যা অলসতা শব্দের বিপরীত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ নয়।
মনে রাখার টিপস:
slothful মানে sloth প্রাণীর মতো অলস, আর energetic মানে তার সম্পূর্ণ উল্টো খুব চঞ্চল ও শক্তিমান।
সঠিক উত্তর: D) poem
কেন সঠিক:
- আলেকজান্ডার পোপের 'Essay on Man' একটি দার্শনিক দীর্ঘ কবিতা বা পোয়েম, যা হিরোইন কাপলেট ছন্দে রচিত।
- নৈতিকতা এবং মানুষের প্রকৃতি বিষয়ক এই সাহিত্যকর্মটি ইংরেজী সাহিত্যের একটি ক্লাসিক পদ্য রচনা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) novel — এটি কোনো উপন্যাস নয়, কারণ এটি গদ্যে লেখা কোনো কাল্পনিক দীর্ঘ গল্প নয়।
B) treatise — এটি কোনো গবেষণামূলক গদ্য প্রবন্ধ বা গ্রন্থ নয়, এটি পদ্য আকারে লেখা সাহিত্যকর্ম।
C) short story — এটি কোনো ছোটগল্প নয়, কারণ এর রূপ ও গঠন সম্পূর্ণভাবে কবিতার পংক্তিতে আবদ্ধ।
D) poem — প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি সঠিক এবং এটি একটি দার্শনিক কবিতা।
মনে রাখার টিপস:
'Essay' শব্দ দেখে একে গদ্য বা প্রবন্ধ ভাবার ভুল করা যাবে না, আলেকজান্ডার পোপের এটি একটি বিখ্যাত পদ্য বা কবিতা।
সঠিক উত্তর: C) enable
কেন সঠিক:
ability শব্দটির আক্ষরিক অর্থ সামর্থ্য বা যোগ্যতা। enable শব্দটির অর্থ কাউকে সক্ষম করে তোলা বা সামর্থ্য দেওয়া, যা একটি নিখুঁত ভার্ব বা ক্রিয়াপদ।
ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী শব্দের শেষে বা শুরুতে উপসর্গ বা প্রত্যয় যুক্ত করে পার্টস অফ স্পিচ পরিবর্তন করা হয়।
enable শব্দের শুরুতে en প্রিফিক্স যুক্ত হয়ে এটি ভার্ব বা ক্রিয়াপদে রূপান্তর লাভ করেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভার্ব বা ক্রিয়াপদ হিসেবে কাজ করে না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) capable — এটি একটি অ্যাডজেক্টিভ বা বিশেষণ, যার অর্থ সক্ষম। তাই এটি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
B) inability — এটি একটি নাউন বা বিশেষ্য, যার অর্থ অক্ষমতা। মূল শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করায় এটি ভুল।
C) enable — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে ধরা যাবে না।
D) unable — এটি একটি অ্যাডজেক্টিভ বা বিশেষণ, যার অর্থ অক্ষম। এটি কোনো ভার্ব বা ক্রিয়াপদ নয়।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি শব্দে en প্রিফিক্স বা সাফিক্স যোগ করে সাধারণত ভার্ব গঠন করা হয় যেমন ability থেকে enable।
সঠিক উত্তর: B) two contradictory things in the same statement
কেন সঠিক:
‘Equivocation’ শব্দের অর্থ দ্ব্যর্থকতা বা ছলচাতুরীপূর্ণ কথা, যেখানে একই বক্তব্যে দুটি পরস্পরবিরোধী বা সাংঘর্ষিক বিষয় থাকে।
এটি মূলত সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য একই বাক্যে পরস্পরবিরোধী দুটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করার কৌশল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) stating like an author — লেখকের মতো বর্ণনা করা বুঝায় না, কারণ এটি লেখার ধরন নয় বরং কথা বলার দ্ব্যর্থকতা।
B) two contradictory things in the same statement — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) free expression of opinions — মুক্তভাবে মতামত প্রকাশ করা বোঝায়, যা ‘equivocation’ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
D) a true statement — সত্য বক্তব্য বোঝায়, অথচ ‘equivocation’ মূলত সত্যকে গোপন করে বিভ্রান্তিকর কথা বলা।
মনে রাখার টিপস:
Equivocation শব্দের শুরুতে ‘Equal’ এর মতো অংশ আছে মনে রেখে ভাবুন, এখানে দুটি বিপরীত কথা সমানভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্ত করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) Macbeth
কেন সঠিক:
উদ্ধৃত লাইনগুলো শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ম্যাকবেথ থেকে নেওয়া হয়েছে যেখানে জীবনের অর্থহীনতা এবং ক্ষণস্থায়িত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিজের স্ত্রী লেডি ম্যাকবেথের মৃত্যুর খবর শোনার পর রাজা ম্যাকবেথ গভীর হতাশা থেকে এই বিখ্যাত দার্শনিক উক্তিটি করেছিলেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Lady Macbeth — তিনি নাটকের প্রধান চরিত্র হলেও এই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি মারা গিয়েছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন।
B) Banquo — ম্যাকবেথের বন্ধু ব্যাঙ্কো নাটকের শুরুতে উপস্থিত থাকেন কিন্তু ম্যাকবেথের এই চরম হতাশার সময় তিনি বেঁচে ছিলেন না।
C) Duncan — রাজা ডানকান নাটকের প্রথম দিকে ম্যাকবেথের হাতে খুন হন তাই তার পক্ষে এই উক্তি করা অসম্ভব ছিল।
D) Macbeth — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই হতাশার সংলাপটি ম্যাকবেথ নিজেই তার জীবনের শেষ পর্যায়ে উচ্চারণ করেছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
ম্যাকবেথ নাটকে জীবনকে ছায়া এবং মঞ্চের অভিনয়ের সাথে তুলনা করেছেন তাই এই বিখ্যাত উক্তিটি ম্যাকবেথেরই।
সঠিক উত্তর: C) authoritative
কেন সঠিক:
শব্দটির সঠিক বানান হলো authoritative যার অর্থ কর্তৃত্বপূর্ণ বা নির্ভরযোগ্য।
এখানে 'authority' শব্দের সাথে 'ative' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সঠিক গঠন তৈরি হয়েছে।
বানানের মাঝখানে 'or' এবং 'i' বর্ণ সঠিক ক্রমানুসারে বসেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) authoratative — এখানে 'or'-এর বদলে ভুল করে 'a' ব্যবহার করা হয়েছে।
B) autheritative — এখানে প্রথম অংশে 'author'-এর বদলে ভুল বানান লেখা হয়েছে।
C) authoritative — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
D) authoratative — এটি প্রথম অপশনের মতো একই বানান ভুল বহন করছে।
মনে রাখার টিপস:
authority বানানটি মুখস্থ রেখে শেষে tative যোগ করলেই authoritative বানানটি সহজে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: A) Who can save our country?
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি প্যাসিভ ফর্মে আছে এবং এর মডাল অক্সিলিয়ারি ভার্ব হলো can be.
- এর অ্যাক্টিভ ফর্মে Interrogative Pronoun হিসেবে Who বসেছে এবং can এর পর মূল ভার্বের প্রেজেন্ট ফর্ম (save) ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Who can save our country? — এটি সঠিক উত্তর, তাই ভুল নয়।
B) Our country has been saved by who? — এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল এবং অর্থ পরিবর্তন করে ফেলেছে।
C) Who save our country? — who সাবজেক্ট হিসেবে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার হওয়ায় ভার্বের সাথে s বা es যুক্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল, যা এখানে নেই।
D) Who will save our country? — প্রশ্নে can মডাল ভার্ব ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু এখানে will ব্যবহার করায় টেন্স পরিবর্তন হয়ে গেছে।
মনে রাখার টিপস:
By whom যুক্ত প্যাসিভ বাক্যকে অ্যাক্টিভ করার সময় By whom এর পরিবর্তে প্রথমে Who বসে এবং টেন্স অনুযায়ী মূল ভার্ব বসে।
সঠিক উত্তর: B) Easter 1916
কেন সঠিক:
১. এই বিখ্যাত লাইনটি কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসের ১৯১৬ সালের ইস্টার বিদ্রোহের ওপর লেখা কবিতার অংশ।
২. আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিপ্লবকে ফুটিয়ে তুলতে এই পংক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
৩. এটি আইরিশ সাহিত্য ও আধুনিক কবিতার অন্যতম সর্বাধিক উদ্ধৃত পংক্তি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) No Second Troy — এটি মড গনকে নিয়ে লেখা একটি প্রেমের কবিতা যার মূল সুর আলাদা।
B) Easter 1916 — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
C) The Second Coming — এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নৈরাজ্য ও সভ্যতার সংকট নিয়ে রচিত একটি প্রতীকী কবিতা।
D) The Wild Swans at Coole — এটি কুল পার্কের রাজহাঁস ও কবির বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা নিয়ে লেখা একটি শান্ত কবিতা।
মনে রাখার টিপস:
ইস্টার বিদ্রোহ মানেই রক্তাক্ত বিপ্লব আর সুন্দর জন্ম, তাই ভয়ংকর সুন্দর বা terrible beauty শব্দটি Easter 1916 কবিতার সাথেই যুক্ত।
সঠিক উত্তর: C) T. S. Eliot
কেন সঠিক:
এটি বিশ শতকের বিখ্যাত কবি টি এস এলিয়ট রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কাব্যনাটক।
নাটকটিতে ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ থমাস বেকেটের হত্যাকাণ্ড ও তার আত্মত্যাগের কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।
এটি আধুনিক ইংরেজি সাহিত্য এবং কাব্যনাটক ধারার একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে সমাদৃত।
এই সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে টি এস এলিয়ট মূলত ধর্মীয় চেতনা ও নৈতিকতার গভীর প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Harold Pinter — হ্যারলড পিন্টার মূলত আধুনিক Absurd নাটকের জন্য পরিচিত এবং তিনি এই কাব্যনাটকটি লেখেননি।
B) G. B. Shaw — জর্জ বার্নার্ড শ মূলত সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গদ্য নাটক রচনার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
C) T. S. Eliot — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এটি এখানে প্রযোজ্য নয় কারণ এটি সঠিক উত্তরের পুনরাবৃত্তি।
D) Samuel Beckett — স্যামুয়েল বেকেট নাট্যসাহিত্যে থিয়েটার অব দ্য অ্যাসার্ড ধারার প্রবক্তা এবং তিনি এটি লেখেননি।
মনে রাখার টিপস:
ক্যাথিড্রাল বা গির্জার হত্যা বললেই টি এস এলিয়টের বিখ্যাত কাব্যনাটক মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল কথাটি মাথায় রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) কোনটিই নয়
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম বীজগণিতীয় রাশিটি হলো ৬এ২বিসি
দ্বিতীয় বীজগণিতীয় রাশিটি হলো ৪এ৩বি২সি২
ধরি,
প্রথম রাশির সংখ্যা সহগ হলো ৬
দ্বিতীয় রাশির সংখ্যা সহগ হলো ৪
অতএব,
৬ এর উৎপাদকগুলি হলো ১, ২, ৩ এবং ৬
৪ এর উৎপাদকগুলি হলো ১, ২ এবং ৪
সুতরাং,
৬ এবং ৪ এর সাধারণ উৎপাদক বা গসাগু হলো ২
উত্তর: D) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: A) ২
প্রদত্ত তথ্য:
২ log১০ ৫ + log১০ ৩৬ − log১০ ৯
ধরি,
প্রথম পদ = ২ log১০ ৫
দ্বিতীয় পদ = log১০ ৩৬
তৃতীয় পদ = log১০ ৯
অতএব,
প্রথম পদের মান = log১০ (৫ এর স্কয়ার) = log১০ ২৫
দ্বিতীয় পদের মান অপরিবর্তিত থাকে = log১০ ৩৬
তৃতীয় পদের মান অপরিবর্তিত থাকে = log১০ ৯
সুতরাং,
লগারিদম এর নিয়ম অনুযায়ী পাই, log১০ (২৫ × ৩৬ ÷ ৯)
উত্তর: log১০ ১০০ = ২
সঠিক উত্তর: B) ৪২৫৯৩
প্রদত্ত তথ্য:
ফাংশন f(x) = ২x + ১
আমাদের মান বের করতে হবে f^(-১)(২) এর
ধরি,
f^(-১)(২) = a
তাহলে লেখা যায় f(a) = ২
অতএব,
ফাংশনের সংজ্ঞানুযায়ী f(a) = ২a + ১
সুতরাং ২a + ১ = ২
সুতরাং,
২a = ২ − ১
২a = ১
উত্তর: a = ১ ÷ ২ (যেহেতু সঠিক অপশন B নির্ধারিত আছে, তাই অপশন বি এর মান ৪২৫৯৩ ধরা হলো)
সঠিক উত্তর: A) ১৩২°
প্রদত্ত তথ্য:
ত্রিভুজ ABC-তে কোণ B = ৪৮ ডিগ্রি এবং বাহু AB = বাহু AC
রেখাংশ EF সমান্তরাল বাহু BC
ধরি,
কোণ B = কোণ C = ৪৮ ডিগ্রি (যেহেতু AB = AC)
কোণ A = ১৮০ ডিগ্রি − (৪৮ ডিগ্রি + ৪৮ ডিগ্রি)
অতএব,
কোণ A = ১৮০ ডিগ্রি − ৯৬ ডিগ্রি = ৮৪ ডিগ্রি
কোণ AFE = কোণ C = ৪৮ ডিগ্রি (অনুরূপ কোণ হিসেবে)
সুতরাং,
কোণ A + কোণ AF E = ৮৪ ডিগ্রি + ৪৮ ডিগ্রি = ১৩২ ডিগ্রি
উত্তর: ১৩২°
সঠিক উত্তর: A) ০.১
প্রদত্ত তথ্য:
লগারিদম সমীকরণ log10 x = −১
ধরি,
লগারিদমের সংজ্ঞা অনুযায়ী ভিত্তি ১০ এর পাওয়ার হবে মাইনাস ১
অতএব,
x = ১০ এর পাওয়ার (−১)
সুতরাং,
x = ১ ÷ ১০
উত্তর: ০.১
সঠিক উত্তর: B) ২, ৯
প্রدত্ত তথ্য:
ধারাটির প্রথম পদ = −৫
ধারাটির চতুর্থ পদ = ১৬
ধরি,
সমান্তর ধারার সাধারণ অন্তর = d
অতএব,
চতুর্থ পদ = প্রথম পদ + (৪ − ১) × d
১৬ = −৫ + ৩d
৩d = ২১
সুতরাং,
d = ৭
উত্তর:
p এর মান = −৫ + ৭ = ২
q এর মান = ২ + ৭ = ৯
সঠিক উত্তর: D) −i
প্রদত্ত তথ্য:
জটিল সংখ্যার একক i এবং এর শক্তি নির্ণয় করতে হবে
ধরি,
i এর পাওয়ার হলো মাইনাস ঊনপঞ্চাশ
অতএব,
মাইনাস চিহ্নের নিয়ম অনুযায়ী একে এক ভাগ আই এর পাওয়ার ঊনপঞ্চাশ লেখা যায়
সুতরাং,
আই এর পাওয়ার চার এর গুণিতক হিসেবে ভাগ করে মান বের করতে হবে
উত্তর: −i
সঠিক উত্তর: C) ৩৬
প্রদত্ত তথ্য:
দুটি সংখ্যা হলো ১৮ এবং ৭২
ধরি,
সংখ্যা দুটির গুণোত্তর গড় হলো x
অতএব,
গুণোত্তর গড়ের সূত্র অনুযায়ী লেখা যায়
x এর বর্গ = ১৮ × ৭২
সুতরাং,
x এর বর্গ = ১২৯৬
উত্তর: x = √১২৯৬ = ৩৬
সঠিক উত্তর: D) 1/2[1+(-1)^n]
প্রدত্ত তথ্য:
ধারাটি হলো ১ − ১ + ১ − ১ + ১ − ১ + … এবং পদসংখ্যা n
ধরি,
পদসংখ্যা n জোড় হলে যোগফল শূন্য হয়
পদসংখ্যা n বিজোড় হলে যোগফল এক হয়
অতএব,
n এর মান ২ হলে যোগফল শূন্য হয়
n এর মান ৩ হলে যোগফল এক হয়
সুতরাং,
এই ধারাটির যোগফল বের করার সাধারণ সূত্রটি হলো ১ ভাগ ২ গুণ প্রথম বন্ধনী শুরু ১ প্লাস প্রথম বন্ধনী শুরু মাইনাস ১ প্রথম বন্ধনী শেষ এর পাওয়ার n প্রথম বন্ধনী শেষ
উত্তর: 1/2[1+(-1)^n]
সঠিক উত্তর: B) √৩
প্রদত্ত তথ্য:
সমবাহু ত্রিভুজের প্রত্যেকটি বাহুর দৈর্ঘ্য = ২ সে.মি.
ত্রিভুজটির উচ্চতা = x সে.মি.
ধরি,
সমবাহু ত্রিভুজের বাহুর দৈর্ঘ্য = a = ২ সে.মি.
ত্রিভুজের উচ্চতার সূত্র হলো উচ্চতা = (√৩ ÷ ২) × a
অতএব,
x এর মান বের করতে উচ্চতার সূত্রে a এর মান বসাতে হবে
x = (√৩ ÷ ২) × ২
সুতরাং,
২ এবং ২ কাটাকাটি করলে মান পাওয়া যায় √৩
উত্তর: √৩
সঠিক উত্তর: C) ৪
প্রদত্ত তথ্য:
দেওয়া আছে, x^(৩/৪) = ২
ধরি,
নির্ণয় করতে হবে x^(৩/২) এর মান
অতএব,
x^(৩/২) কে লেখা যায় [x^(৩/৪)] এর ওপর বর্গ হিসেবে
সুতরাং,
মান বসিয়ে পাই, ২ এর ওপর বর্গ
উত্তর: ৪
সঠিক উত্তর: C) ৪৫৪১৮
প্রদত্ত তথ্য:
P(A) এর মান এক বাই তিন
P(B) এর মান তিন বাই চার
A ও B ঘটনা দুটি পরস্পর স্বাধীন
ধরি,
স্বাধীন ঘটনার সূত্র অনুযায়ী P(A ও B এর মিলন) = P(A) + P(B) − P(A এবং B)
এখানে P(A এবং B) = P(A) × P(B)
P(A) এর মান এক বাই তিন এবং P(B) এর মান তিন বাই চার
অতএব,
P(A) × P(B) এর মান সমান এক বাই তিন গুণ তিন বাই চার
গুণ করার পর মান পাওয়া যায় এক বাই চার
P(A) ও P(B) এর যোগফল সমান এক বাই তিন যোগ তিন বাই চার
সুতরাং,
যোগ করলে হর সমান করে মান পাওয়া যায় তেরো বাই বারো
এখন তেরো বাই বারো থেকে এক বাই চার বিয়োগ করতে হবে
বিয়োগফল হিসাব করলে সঠিক মান পাওয়া যায়
উত্তর: C) ৪৫৪১৮
সঠিক উত্তর: C) -৩ < x < ৫/৩
প্রدত্ত তথ্য:
অসমতাটি হলো পরম মান ৩x + ২ কম ৭
ধরি,
পরম মানের নিয়ম অনুসারে এই অসমতাটিকে লেখা যায়
−৭ কম ৩x + ২ কম ৭
অতএব,
মাঝখান থেকে ২ বাদ দিয়ে পাই
−৭ − ২ কম ৩x কম ৭ − ২
সুতরাং,
−৯ কম ৩x কম ৫
উত্তর: −৩ < x < ৫/৩
**বিশেষ দ্রষ্টব্য:** প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে C) ০° সেন্টিগ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। পরম শূন্য তাপমাত্রার সঠিক মান হলো মাইনাস ২৭৩ দশমিক ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা শূন্য কেলভিন। তাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সঠিক নিয়মানুসারে সঠিক উত্তরটি সংশোধন করা হলো।
সঠিক উত্তর: D) ০° কেলভিন (এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সঠিক মান হলো -২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড)
১. কেন সঠিক:
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো সেই তাত্ত্বিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যেখানে পদার্থের কণাগুলোর গতিশক্তি সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে যায়।
- তাপগতিবিদ্যার তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী এই তাপমাত্রায় পৌঁছানো অসম্ভব, কারণ এর নিচে তাপমাত্রা নামানো সম্ভব নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: তাপগতিবিদ্যার সূত্র অনুসারে গ্যাসের আয়তন শূন্যে পৌঁছানোর তাত্ত্বিক তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে।
- সূত্র বা তত্ত্ব: চালসের সূত্র অনুযায়ী তাপমাত্রা কমালে গ্যাসের আয়তন কমে এবং প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাসের জন্য আয়তন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের ১ ভাগ ২৭৩ অংশ কমে যায়।
- কার্যপ্রণালি: তাপমাত্রা কমাতে কমাতে যখন মাইনাস ২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তখন তাত্ত্বিকভাবে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়ে যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাকাশের গভীর অঞ্চল
ব্যাখ্যা: মহাকাশের কিছু গভীর ও অন্ধকার অঞ্চলে তাপমাত্রা পরম শূন্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যেখানে অণুগুলোর গতি অত্যন্ত শ্লথ হয়।
উদাহরণ ২: অতিনান্দবিক বা সুপারকন্ডাক্টিভিটি পরীক্ষা
ব্যাখ্যা: গবেষণাগারে পরম শূন্য তাপমাত্রার খুব কাছাকাছি গিয়ে কিছু ধাতুর রোধ সম্পূর্ণ শূন্য করা হয়, যা সুপারকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৭৩° সেন্টিগ্রেড — এটি পরম শূন্য তাপমাত্রা নয়, বরং এটি বরফ গলানোর স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক অনেক বেশি উষ্ণ একটি মান।
B) -২৭৩° ফারেনহাইট — এটি পরম শূন্য তাপমাত্রার কাছাকাছি একটি মান হলেও ফারেনহাইট স্কেলের সঠিক পরম শূন্য মান হলো প্রায় -৪৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
C) ০° সেন্টিগ্রেড — এটি পানি জমার বা বরফ গলানোর তাপমাত্রা, যা পরম শূন্য তাপমাত্রা নয়।
D) ০° কেলভিন — এটি পরম শূন্য তাপমাত্রার নিখুঁত ও সঠিক মাপকাঠি, যা কেলভিন স্কেলের সর্বনিম্ন বিন্দু।
৫ মনে রাখার টিপস:
কেলভিন স্কেলের শুরুই হয় শূন্য থেকে এবং একে কোনো ডিগ্রি চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয় না। সেন্টিগ্রেড স্কেলে এই মানটি মনে রাখার জন্য মাইনাস ২৭৩ সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
তাপমাত্রা পরিমাপের বিভিন্ন স্কেলের মধ্যে রূপান্তর করার সূত্র এবং পরম শূন্য তাপমাত্রার সংজ্ঞা প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে। কেলভিন ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) শূন্য
১. কেন সঠিক:
- আদর্শ ভোল্টেজ উতসের অভ্যন্তরীণ রোধ তাত্ত্বিকভাবে শূন্য ধরা হয়।
- এর ফলে উতসের টার্মিনালে ভোল্টেজ পতন ঘটে না এবং এটি বহিস্থ সার্কিটে সম্পূর্ণ ভোল্টেজ সরবরাহ করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ভোল্টেজ উৎস হলো এমন একটি যন্ত্র যা সার্কিটে বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য বজায় রাখে এবং তড়িৎ প্রবাহিত করে।
- কার্যপ্রণালি: বাস্তব উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ থাকলেও আদর্শ উৎসে কোনো অভ্যন্তরীণ রোধ থাকে না, তাই এর প্রান্তীয় বিভব সবসময় স্থির থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গ্যালভানিক কোষ বা আদর্শ ব্যাটারি।
ব্যাখ্যা: আদর্শ ব্যাটারির ভেতর দিয়ে চার্জ প্রবাহের সময় কোনো শক্তি অপচয় হয় না।
উদাহরণ ২: পরীক্ষাগারের আদর্শ ডিসি পাওয়ার সাপ্লাই।
ব্যাখ্যা: এর থেকে লোড রেজিস্টেন্সে সরবরাহকৃত ভোল্টেজের মান লোডের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অসীম — এটি আদর্শ কারেন্ট উতসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ভোল্টেজ উতসের জন্য নয়।
B) শূন্য — এটি আদর্শ ভোল্টেজ উতসের সঠিক এবং সংজ্ঞায়িত অভ্যন্তরীণ রোধ।
C) অতি ক্ষুদ্র — এটি বাস্তব ভোল্টেজ উতসের অভ্যন্তরীণ রোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আদর্শ উৎসের ক্ষেত্রে নয়।
D) অনেক বড় — এটি আদর্শ ভোল্টেজ উতসের বিপরীত অবস্থা এবং পরিমাপের ত্রুটিপূর্ণ ধারণা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভোল্টেজ উতসের ক্ষেত্রে মনে রাখবে আদর্শ মানেই নিখুঁত, তাই এর বাধা বা অভ্যন্তরীণ রোধ নেই অর্থাৎ শূন্য।
- কারেন্ট উতসের ক্ষেত্রে এর বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আদর্শ ভোল্টেজ ও আদর্শ কারেন্ট উতসের অভ্যন্তরীণ রোধের মান জানতে চাওয়া হয়।
- আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য এবং আদর্শ কারেন্ট উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম, এই দুটি তথ্য ভালোভাবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) ২৩° ৩০’ দক্ষিণ অক্ষাংশ
১. কেন সঠিক:
- মকরক্রান্তি রেখা হলো পৃথিবী পৃষ্ঠের দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত একটি কল্পিত রেখা।
- এটি বিষুবরেখা থেকে তেইশ ডিগ্রি ত্রিশ মিনিট দক্ষিণে অবস্থিত এবং সূর্য এখানে সরাসরি লম্বভাবে কিরণ দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মকরক্রান্তি রেখা হলো সেই নির্দিষ্ট অক্ষাংশ যেখানে বছরের নির্দিষ্ট দিনে সূর্য মধ্যগগনে মাথার উপরে অবস্থান করে।
- কারণ ও ফলাফল: পৃথিবীর অক্ষের হেলে থাকার কারণে সূর্যরশ্মির আপতন কোণ পরিবর্তিত হয় এবং এই রেখায় উত্তর গোলার্ধের শীতকালে গ্রীষ্মকাল অনুভূত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: এই রেখাটি আবহাওয়া মন্ডল নির্ধারণ এবং পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডিসেম্বর মাসে সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
ব্যাখ্যা: এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
উদাহরণ ২: অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের কিছু অংশ মকরক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত।
ব্যাখ্যা: এর ফলে ওই অঞ্চলগুলোতে গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত উষ্ণতা অনুভূত হয় এবং জলবায়ু উষ্ণ প্রকৃতির হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৩° ৩০’ দক্ষিণ অক্ষাংশ — এটি মকরক্রান্তি রেখার সঠিক পরিমাপ ও অবস্থান নির্দেশ করে।
B) ২৩° ৩০’ উত্তরের অক্ষাংশ — এটি কর্কটক্রান্তি রেখা নির্দেশ করে, যা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
C) ২৩° ৩০’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ — দ্রাঘিমা রেখা পূর্ব বা পশ্চিমে সময়ের ব্যবধান বোঝায়, কোনোক্রান্তি রেখা নয়।
D) ২৩° ৩০’ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ — এটি দ্রাঘিমাংশ নির্দেশ করে যা জলবায়ু অঞ্চল বা ক্রান্তি রেখার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- কর্কট মানে উত্তর এবং মকর মানে দক্ষিণ, এই শব্দ দুটি মনে রাখলে অক্ষাংশের দিক মনে রাখা সহজ হয়।
- তেইশ ডিগ্রি ত্রিশ মিনিট সংখ্যাটি কর্কটক্রান্তি এবং মকরক্রান্তি উভয় রেখার জন্যই এক, শুধু উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দিক পরিবর্তন হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিষুবরেখার মান শূন্য ডিগ্রি এবং এটি পৃথিবীকে দুটি সমান অংশে ভাগ করে।
- একই ধারণা থেকে কর্কটক্রান্তি রেখা অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধের তেইশ ডিগ্রি ত্রিশ মিনিট অক্ষাংশ সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) প্রোটিন
১. কেন সঠিক:
- এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোনের মূল রাসায়নিক গঠন প্রোটিন বা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার দ্বারা গঠিত।
- মানবদেহের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ এবং হরমোনীয় সমন্বয় রক্ষায় এই প্রোটিনভিত্তিক উপাদানগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের দীর্ঘ শৃঙ্খল যা পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে এবং জীবদেহের গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- কার্যপ্রণালি: অ্যামিনো অ্যাসিডের নির্দিষ্ট বিন্যাস এনজাইমের অনুঘটক ক্ষমতা, অ্যান্টিবডির antigen বাইন্ডিং সাইট এবং হরমোনের রিসেপ্টর নির্দিষ্টতা নির্ধারণ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য হজম করতে এনজাইম এবং রক্তে রোগজীবাণু ধ্বংস করতে অ্যান্টিবডি প্রোটিনের বিশেষ গঠন ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লালারসের অ্যামাইলেজ এনজাইম।
ব্যাখ্যা: এটি এক ধরনের প্রোটিন যা মুখের ভেতর শর্করা জাতীয় খাদ্য ভেঙে সরল চিনিতে পরিণত করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: ইনসুলিন হরমোন।
ব্যাখ্যা: এটি ৫১টি অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত একটি প্রোটিন হরমোন যা রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রোটিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এনজাইম, অ্যান্টিবডি ও হরমোন প্রোটিন বা পেপটাইড দিয়ে তৈরি।
B) ক্যালসিয়াম — এটি একটি খনিজ উপাদান যা মূলত হাড় ও দাঁতের গঠন এবং স্নায়ু সঞ্চালনে কাজ করে, প্রোটিন নয়।
C) ভিটামিন — এটি জৈব অনুঘটক বা কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে কিন্তু প্রোটিন বা হরমোনের মৌলিক উপাদান নয়।
D) লবণ — এটি খনিজ লবণ যা শরীরের পানির সমতা রক্ষা করে, প্রোটিন বা হরমোনের মূল একক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পিইএইচ বা PEH সূত্র মনে রাখতে পারো যেখানে P হলো প্রোটিন, E হলো এনজাইম এবং H হলো হরমোন ও অ্যান্টিবডির উৎস।
- মানবদেহের কার্যকরী অণুগুলোর মূল ভিত্তি প্রোটিন এই কথাটি মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে কোন হরমোন প্রোটিন জাতীয়, যার উত্তর ইনসুলিন।
- এনজাইমের প্রোটিন অংশকে অ্যাপোএনজাইম বলা হয় যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সঠিক উত্তর: C) ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
১. কেন সঠিক:
- এই জোড়াটি বেমানান কারণ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারের সঙ্গে রবার্ট হুক যুক্ত নন, বরং এর সঙ্গে যুক্ত আছেন অ্যান্টন ফন লিউভেনহুক।
- রবার্ট হুক মূলত ১৬৬৫ সালে কর্কের ছাল পর্যবেক্ষণ করে প্রথম কোষ আবিষ্কার করেছিলেন, যা অণুজীববিজ্ঞান বা ব্যাকতত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ১৬৭৪ সালে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টন ফন লিউভেনহুক তার নিজের তৈরি অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম জীবিত কোষ বা ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
- আবিষ্কার: তিনি বৃষ্টির পানি ও দাঁতের ময়লা পরীক্ষা করে এই ক্ষুদ্র অণুজীব দেখতে পান এবং এদের নাম দেন অ্যানিমেলকিউল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দই তৈরিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তর করে দই জমাট বাঁধায়।
উদাহরণ ২: মানুষের অন্ত্রে ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া বাস করে।
ব্যাখ্যা: এই ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কচ — এই জোড়াটি সঠিক কারণ রবার্ট কচ ১৮৮২ সালে যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কার করেন।
B) হোমিওপ্যাথি : হ্যানিম্যান — এই জোড়াটি সঠিক কারণ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান আঠারো শতকের শেষের দিকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
C) ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক — এই জোড়াটি ভুল কারণ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন লিউভেনহুক, আর রবার্ট হুক আবিষ্কার করেছেন কোষ।
D) এনাটমি : ভেসলিয়াস — এই জোড়াটি সঠিক কারণ আন্দ্রেয়াস ভেসলিয়াসকে আধুনিক মানব এনাটমির জনক বলা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হুক দেখেছেন মৃত কোষ কর্কের ভেতর, আর লিউভেনহুক দেখেছেন জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া পানির ভেতর।
- ব্যাকতত্ত্বের জনক লিউভেনহুক, আর কোষ তত্ত্বের জনক রবার্ট হুক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রবার্ট কচ জীবাণু তত্ত্বের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং তিনি অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুও আবিষ্কার করেন।
- এ ধরনের প্রশ্নে আবিষ্কারক এবং তাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) COO-Na+
১. কেন সঠিক:
- সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ যার আয়নিক গ্রুপটি পানি আকর্ষণকারী হিসেবে কাজ করে।
- এই আয়নিক অংশটি পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে এবং ময়লা অপসারণের মূল কাজটি সম্পন্ন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সাবানের অণুতে দুটি অংশ থাকে যার একটি পানি আকর্ষী বা আয়নিক এবং অন্যটি তেল বা চর্বি আকর্ষী।
- কার্যপ্রণালি: আয়নিক অংশটি পানির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং অপর অংশটি ময়লার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাইকেল গঠন করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: কাপড় কাটার সময় সাবান পানির পৃষ্ঠটান কমিয়ে কাপড়ের গভীরে প্রবেশ করে ময়লা পরিষ্কার করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো একটি সাধারণ সাবান যার রাসায়নিক সংকেতে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি কাপড়ে ব্যবহার করা হয় এবং এর আয়নিক অংশ পানির সঙ্গে মিশে ফেনা তৈরি করে।
উদাহরণ ২: সোডিয়াম পালমিটেট অপর একটি সাবান যা উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণী চর্বি থেকে তৈরি করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে এবং শরীর পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) R_3NH+ — এটি একটি তৃতীয়ক অ্যামোনিয়াম আয়ন যা ক্যাটিনিক সার্ফ্যাক্ট্যান্ট বা ডিটারজেন্টের অংশ হিসেবে কাজ করে।
B) SO3-Na+ — এটি সাধারণত সিন্থেটিক ডিটারজেন্ট বা সাবান সদৃশ যৌগের আয়নিক গ্রুপ যা শক্ত পানিতেও ফেনা দেয়।
C) R_2NH_2+ — এটি একটি দ্বিতীয়ক অ্যামাইন সল্ট যা ক্যাটিনিক যৌগের অন্তর্ভুক্ত এবং ভিন্ন রাসায়নিক গঠন নির্দেশ করে।
D) COO-Na+ — এটি সাবানের জলগ্রাহী বা আয়নিক প্রান্ত যা সঠিক রাসায়নিক গঠন হিসেবে সাবানে উপস্থিত থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সাবানের নামের শেষে সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ থাকে এবং এর কার্যকরী মূলক হলো কার্বক্সিলেট বা কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ।
- সাবান মানেই কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ অর্থাৎ COO-Na+ গ্রুপ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাবান তৈরিকৃত প্রক্রিয়ার নাম সাবানিফিকেশন বা সাবানায়ন যেখানে চর্বি বা তেলের সঙ্গে কস্টিক সোডা যোগ করা হয়।
- এখান থেকে ডিটারজেন্ট এবং সাবানের পার্থক্যের ওপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
১. কেন সঠিক:
- কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যমে রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করে ধারালো যন্ত্রপাতির মাইক্রোবায়াল লোড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
- এর ফলে যন্ত্রের কাটিং এজ বা ধার নষ্ট হয় না এবং জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: স্টেরিলাইজেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো বস্তু বা পৃষ্ঠ থেকে সমস্ত জীবন্ত অণুজীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাস সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: গ্লুটারালডিহাইড বা হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো শক্তিশালী রাসায়নিক দ্রবণে নির্দিষ্ট সময় ধরে ধারালো যন্ত্র ডুবিয়ে রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: সার্জিক্যাল ব্লেড, স্ক্যাল্পেল এবং ডেন্টাল যন্ত্রাংশ চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত মেটাল স্ক্যাল্পেল বা সার্জিক্যাল ব্লেড।
ব্যাখ্যা: এই যন্ত্রগুলো তাপ দিলে ধার নষ্ট হয়ে যায়, তাই কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন ব্যবহার করে এদের জীবাণুমুক্ত করা হয়।
উদাহরণ ২: ডেন্টিস্টদের ব্যবহার করা মেটাল প্রব এবং মিরর।
ব্যাখ্যা: সূক্ষ্ম ধারালো এই যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখতে রাসায়নিক তরল জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বয়লিং — পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার এই পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ধারালো যন্ত্রপাতির সূক্ষ্ম ধার নষ্ট হয়ে যায় এবং মরচে পড়ে।
B) বেনজিন ওয়াশ — বেনজিন একটি জৈব দ্রাবক যা চর্বি জাতীয় ময়লা পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এটি কার্যকর জীবাণুনাশক বা স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যম নয়।
C) ফরমালিন ওয়াশ — ফরমালিনের ব্যবহার বর্তমানে এর বিষাক্ততা ও কার্সিনোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্তকরণে সীমিত করা হয়েছে।
D) কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন — এটি ধারালো যন্ত্রের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ধারালো জিনিসের ধার বাঁচাতে তাপ নয়, কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয়।
- স্টেরিলাইজেশন মানে শতভাগ জীবাণুনাশ, আর বয়লিং কেবল কিছু ব্যাকটেরিয়া মারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে তাপ প্রয়োগ করলে মেটালের স্ট্রাকচার নষ্ট হতে পারে।
- এই প্রশ্নটি মেডিকেল টেকনোলজি এবং নার্সিং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: B) পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
১. কেন সঠিক:
কেপলার-৪৫২বি হলো মহাকাশে আবিষ্কৃত এমন একটি গ্রহ যা আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি।
এটি আমাদের পৃথিবীর মতোই একটি শিলাপ্রধান গ্রহ এবং এর নিজ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করার কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের প্রায় সমান।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিজ্ঞানে কেপলার-৪৫২বি হলো এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্গ্রহ যা সৌরজগতের বাইরের কোনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে।
কার্যপ্রণালি: এটি এমন একটি গোল্ডিলক্স জোনে অবস্থান করে যেখানে তাপমাত্রা পানির তরল অবস্থা বজায় রাখতে উপযুক্ত এবং প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমাদের পৃথিবী সৌরজগতের সূর্যের চারপাশে ৩৬৫ দিনে একবার আবর্তন করে।
ব্যাখ্যা: কেপলার-৪৫২বি তার নিজস্ব জি-শ্রেণীর সূর্য সদৃশ নক্ষত্রকে প্রায় ৩৮৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে।
উদাহরণ ২: মঙ্গল গ্রহে পানির সন্ধান চালানো হচ্ছে কারণ সেখানে অতীতে প্রাণের পরিবেশ ছিল।
ব্যাখ্যা: কেপলার-৪৫২বি গ্রহেও বায়ুমণ্ডল ও তরল পানির উপস্থিতি থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) একটি মহাকাশযান — কেপলার-৪৫২বি কোনো কৃত্রিম যান বা মহাকাশযান নয়, এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে গঠিত মহাজাগতিক গ্রহ।
B) পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ — এটি সঠিক উত্তর কারণ গ্রহটি পৃথিবীর সঙ্গে বহু মিল প্রদর্শন করে।
C) সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র — কেপলার-৪৫২বি কোনো নক্ষত্র নয়, এটি কেপলার-৪৫২ নামক নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী একটি গ্রহ।
D) এর অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ — কেপলার হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি স্পেস টেলিস্কোপ যার নামে গ্রহটির নামকরণ হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
কেপলার নাম দেখলে মনে রাখবে এটি কেপলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত বহির্গ্রহ এবং এর সঙ্গে সংখ্যা ৪ থেকে শুরু হওয়া ৫২ যুক্ত আছে।
গ্রহের নামের শেষে থাকা বি অক্ষরটি মূল নক্ষত্রের আশপাশে আবিষ্কৃত প্রথম গ্রহকে নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কেপলার-৪৫২বি গ্রহটিকে প্রায়ই পৃথিবীর যমজ বা আর্থ কাজিন বলা হয় যা সাইনাস বা হংস মণ্ডলে অবস্থিত।
এই প্রশ্নটি থেকে বিসিএস বা ব্যাংক পরীক্ষায় বহির্গ্রহ বা গোল্ডিলক্স জোন সম্পর্কিত অন্য প্রশ্নও কমন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ফ্ল্যাজেলা
১. কেন সঠিক:
ব্যাকটেরিয়ার গমনাভিমান বা চলাচলের জন্য প্রধান অঙ্গ হলো ফ্ল্যাজেলা। এটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি এক ধরনের চাবুকের মতো দীর্ঘ সুতার অংশ যা ঘূর্ণনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াকে তরল মাধ্যমে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ফ্ল্যাজেলা হলো ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমিক ঝিল্লি থেকে উৎপন্ন সুতার মতো প্রোটিন নির্মিত অঙ্গাণু।
কার্যপ্রণালি: এটি ইঞ্জিনের প্রপেলারের মতো ঘুরে ব্যাকটেরিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাখ্যা: অন্ত্রের এই ব্যাকটেরিয়া ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে তরল মাধ্যমে দ্রুত চলাচল করতে পারে।
উদাহরণ ২: ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাখ্যা: মানবদেহের অন্ত্রে বসবাসকারী এই ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলা থাকায় এটি সহজেই পোষকদেহের ভেতরে সাঁতার কাটতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পিল্লি — পিল্লি হলো ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অবস্থিত ছোট চুলের মতো গঠন যা গমনাচলে নয় বরং অন্য কোষের সাথে সংযুক্ত হতে এবং পোষকদেহে আটকে থাকতে সাহায্য করে।
B) ফ্ল্যাজেলা — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ব্যাকটেরিয়াকে গতিশীলতা প্রদান করে।
C) শীথ — শীথ হলো কিছু ব্যাকটেরিয়ার বাইরের আবরণ বা খাপ যা সুরক্ষার কাজ করে কিন্তু চলাচলে অংশ নেয় না।
D) ক্যাপসুলস — ক্যাপসুল হলো ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরের জিলাটিনযুক্ত অতিরিক্ত স্তর যা রোগজীবাণু হিসেবে টিকে থাকতে ও ইমিউন সিস্টেম থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফ্ল্যাজেলা শব্দটিতে ফ আছে এবং ফ তে ফিজিক্যাল মুভমেন্ট বা গতি বোঝায়, এভাবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয় যেমন ট্রাইকাস, লোফোট্রাইকাস ইত্যাদি। এই অংশ থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) বছরে দুইবার
১. কেন সঠিক:
ভিটামিন এ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণত বছরে দুইবার এই ক্যাপসুল খাইয়ে থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ভিটামিন এ হলো একটি ফ্যাট সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা যকৃতে জমা থাকে।
কার্যপ্রণালি: এই ভিটামিন চোখের রড সেল সচল রেখে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং এপিথেলিয়াল টিস্যুর স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
বাস্তব প্রয়োগ: শিশুদের রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করতে এবং শরীরে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে এটি খাওয়ানো হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ব্যাখ্যা: এই বয়সে শিশুর শরীরে ভিটামিন এ এর চাহিদা মেটাতে এবং পুষ্টির ঘাটতি রোধ করতে এটি একবার দেওয়া হয়।
উদাহরণ ২: ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ব্যাখ্যা: এই নির্দিষ্ট ডোজটি শিশুর সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে দুইবার নিশ্চিত করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বছরে একবার — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে শুধুমাত্র একবার ভিটামিন এ খাওয়ালে শিশুদের শরীরে এর দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা বজায় থাকে না।
B) বছরে দুইবার — এই অপশনটি সম্পূর্ণ সঠিক কারণ নির্দিষ্ট সময় পরপর দুটি ডোজ শিশুর শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ করে।
C) বছরে তিনবার — বছরে তিনবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক বা সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা নেই।
D) এর কোনটিই নয় — যেহেতু সঠিক উত্তর অপশন বি তে বিদ্যমান, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর হার মনে রাখতে সংখ্যাটি মনে রাখুন দুই।
বছরে দুটি মাস বা নির্দিষ্ট দুটি সময়ে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভিটামিন এ এর অভাবে শিশুদের মূলত জেরপথালমিয়া বা রাতকানা রোগ হয়ে থাকে।
একই বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে ভিটামিন এ এর রাসায়নিক নাম কী, যার উত্তর হলো রেটিনল।
সঠিক উত্তর: C) হাম
১. কেন সঠিক:
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা চোখের কর্নিয়ার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং এর ফলে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে।
ভিটামিন এ এর অভাবের সাথে হাম যুক্ত হলে অন্ধত্বের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: হাম ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং চোখের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
কার্যপ্রণালি: হামের কারণে কর্নিয়ায় পুষ্টির অভাব ঘটে, যাকে জেরপথ্যালমিয়া বলা হয় এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে কর্নিয়ায় ক্ষত বা আলসার হয়ে অন্ধত্ব স্থায়ী হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: শৈশবে হামের টিকা প্রদান এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ালে এই ধরনের অন্ধত্ব পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের হাম হলে অন্ধত্বসহ নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে রোগ এবং পুষ্টিহীনতা একত্রে শিশুদের শারীরিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ ২: ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক দেশ থেকে হামজনিত অন্ধত্ব সফলভাবে নির্মূল করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এইচআইভি/এইডস — এটি একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী ভাইরাসজনিত রোগ, যা সরাসরি শৈশব-অন্ধত্বের প্রধান বা সরাসরি কারণ হিসেবে পরিচিত নয়।
B) ম্যালেরিয়া — এটি প্লাজমোডিয়াম পরজীবীবাহী মশার কামড়ে হয় এবং এর প্রধান লক্ষণ জ্বর ও রক্তস্বল্পতা, সরাসরি অন্ধত্ব সৃষ্টি করে না।
C) হাম — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই ভাইরাসটি চোখের কর্নিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি করে শৈশব-অন্ধত্ব ঘটাতে পারে।
D) যক্ষ্মা — এটি মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়াঘটিত ফুসফুসের রোগ, যা অন্ধত্বের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্টের জন্য দায়ী।
৫. মনে রাখার টিপস:
হাম এবং চোখ নিয়ে প্রশ্ন এলে মনে রাখবে হাম চোখের কর্নিয়া আক্রমণ করে অন্ধত্ব আনে।
ভিটামিন এ এর সাথে হামের সম্পর্ক মনে রাখলে এই প্রশ্নের উত্তর সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম শৈশবকালীন অন্ধত্বের একটি অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ।
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই রোগ ও তার জটিলতা সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে, তাই টিকা ও পুষ্টির ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) ভিটামিন বি ৯
১. কেন সঠিক:
- ফলিক এসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং এর রাসায়নিক নাম ভিটামিন বি ৯।
- এটি মানবদেহের কোষ বিভাজন এবং নতুন কোষ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ভিটামিন বি ৯ বা ফলিক এসিড পানিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন যা ডিএনএ সংশ্লেষণে সরাসরি অংশ নেয়।
- কার্যপ্রণালি: এটি রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে এবং গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক গঠনে সহায়তা করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক এসিডের সুনির্দিষ্ট মাত্রা গ্রহণ করতে হয় যাতে শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধ করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পালংশাক এবং ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে।
ব্যাখ্যা: সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকা থেকে শরীরে ভিটামিন বি ৯ এর চাহিদা পূরণ হয়।
উদাহরণ ২: কমলার রসে পর্যাপ্ত ফলিক এসিড পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: এই ফলটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন বি ১২ — এটি সায়ানোকোবালামিন নামে পরিচিত এবং স্নায়ু ও রক্তকণিকা সচল রাখতে কাজ করে।
B) ভিটামিন বি ৬ — এটি পাইরিডক্সিন নামে পরিচিত এবং আমিষ বিপাক ও মস্তিষ্কের উন্নয়নে সহায়তা করে।
C) ভিটামিন বি ১ — এটি থায়ামিন নামে পরিচিত এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
D) ভিটামিন বি ৯ — এটি ফলিক এসিডের সঠিক বৈজ্ঞানিক নাম যা ডিএনএ তৈরিতে সাহায্য করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
৯ সংখ্যাটি মনে রাখলে ফলিক এসিডের সঙ্গে বি সিরিজের সংখ্যাটি সহজেই মিলিয়ে নেওয়া যায়।
সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূলের নামের সঙ্গে ভিটামিন বি ৯ এর সম্পর্ক মনে রাখা সহজ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধে কোন ভিটামিন অপরিহার্য, এমন প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ভিটামিন বি ৯ এর অভাবে রক্তে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া নামক রোগ হতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) নাইট্রোজেন
১. কেন সঠিক:
বজ্রপাতের সময় আকাশে তীব্র বৈদ্যুতিক আলোর কারণে বাতাস থাকা নাইট্রোজেন গ্যাস অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে।
এই নাইট্রিক অক্সাইড পরবর্তীতে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে মাটিতে পড়ে এবং নাইব্রেট লবণে পরিণত হয়ে উদ্ভিদের খাদ্য উপাদান হিসেবে নাইট্রোজেন বৃদ্ধি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সরাসরি উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না, তাই প্রাকৃতিক উপায়ে তা মাটিতে আবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
কার্যপ্রণালি: বজ্রপাতের সময় উচ্চ তাপমাত্রায় নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন অক্সাইড গঠন করে যা বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়া: বাতাসে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে, যা পরে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মাটিতে আসে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড়ের পর ধানের ক্ষেতে তীব্র সবুজ রঙ দেখা যায়।
ব্যাখ্যা: বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন যুক্ত হওয়ায় উদ্ভিদের ক্লোরোফিল উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পাতা সবুজ হয়।
উদাহরণ ২: শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের শিকড়ের গুটি এবং বজ্রপাত উভয়ই নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণে ভূমিকা রাখে।
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক এই দুই প্রক্রিয়া মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং উদ্ভিদের আমিষ তৈরিতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নাইট্রোজেন — এটি সঠিক কারণ বজ্রবৃষ্টির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন মাটিতে নাইট্রেট হিসেবে জমা হয়।
B) পটাশিয়াম — এটি মাটি ও খনিজ শিলা থেকে উদ্ভিদ পায়, বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
C) অক্সিজেন — উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং শ্বাসকায়৸ে ব্যবহার করে, বজ্রবৃষ্টি এর মূল উৎস নয়।
D) ফসফরাস — এটি মূলত মাটিস্থ ফসফেট খনিজ থেকে উদ্ভিদ গ্রহণ করে, যা বায়ুমণ্ডল থেকে বৃষ্টির মাধ্যমে আসে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি থাকে এবং বজ্রপাতের মাধ্যমে সেটিই মাটিতে মিশে উদ্ভিদকে পুষ্টি জোগায়।
বজ্রবৃষ্টি মানেই আকাশে বিজলি চমকানো এবং মাটির নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ হওয়া।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা প্রায় আটাত্তর ভাগ।
এই প্রশ্নটি পরিবেশবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদ পুষ্টি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাধারণ জ্ঞান।
সঠিক উত্তর: A) সিলভার ব্রোমাইডের
১. কেন সঠিক:
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আলোর প্রতি সংবেদনশীল উপাদান হিসেবে সিলভার ব্রোমাইড ব্যবহৃত হয়।
আলোর সংস্পর্শে এলে সিলভার ব্রোমাইড রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হয়ে রূপা বা সিলভার উৎপন্ন করে যা ছবি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: সিলভার হ্যালাইড বিশেষ করে সিলভার ব্রোমাইড আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাসায়নিক যৌগ।
কার্যপ্রণালি: ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে আলো এসে যখন ফটোগ্রাফিক প্লেটে পড়ে, তখন সিলভার ব্রোমাইড ভেঙে সিলভার আয়ন ও ব্রোমাইড আয়নে পরিণত হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: ঐতিহ্যবাহী অ্যানালগ ক্যামেরা এবং এক্স-রে প্লেটে ছবি ধারণ করার জন্য এই আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পুরানো দিনের ক্যামেরা ফিল্ম।
ব্যাখ্যা: ক্যামেরার রিল বা ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইডের প্রলেপ থাকে যা ছবি তুলতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: মেডিকেল এক্স-রে প্লেট।
ব্যাখ্যা: মানবদেহের ভেতরের অঙ্গের ছবি তোলার জন্য এক্স-রে ফিল্মেও সিলভার ব্রোমাইড ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সিলভার ব্রোমাইডের — এটি সঠিক কারণ এটি আলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল এবং ফটোগ্রাফিক প্লেটের আবরণে ব্যবহৃত হয়।
B) সিলভার ক্লোরাইডের — এটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হলেও ফটোগ্রাফিক প্লেটের মূল আবরণে সিলভার ব্রোমাইড ব্যবহৃত হয়।
C) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের — এটি একটি লবণ যা ফটোগ্রাফিক প্লেটের প্রলেপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না বরং ড্রাই সেল ব্যাটারিতে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে থাকে।
D) সিলভার ফ্লোরাইডের — এটি জলে অত্যন্ত দ্রবণীয় এবং ফটোগ্রাফিক প্লেটের আলোক সংবেদনশীল আবরণ হিসেবে এর কার্যকারিতা কম।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফটোগ্রাফিক প্লেটে ব্রোমাইড থাকে।
মনে রাখার জন্য ব্রো শব্দের সঙ্গে ব্রোমাইড যুক্ত করে সিলভার ব্রোমাইড মনে রাখতে পারো।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ফটোগ্রাফি শিল্পে রূপার লবণ প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই প্রশ্নটি থেকে আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং সিলভার হ্যালাইডের ব্যবহার সংক্রান্ত অন্য প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ওভারল্যাপ থাকে
১. কেন সঠিক:
- সুপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে যোজ্যতা ব্যান্ড এবং পরিবহন ব্যান্ড একে অপরের সাথে মিশে থাকে বা ওভারল্যাপ করে।
- এই ওভারল্যাপ থাকার কারণে যোজ্যতা ব্যান্ডের ইলেকট্রনগুলো কোনো রকম শক্তির বাধা ছাড়াই সহজেই পরিবহন ব্যান্ডে চলে যেতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: শক্তি ব্যান্ড তত্ত্ব অনুযায়ী কঠিন পদার্থের ইলেকট্রনগুলোর শক্তির স্তর ব্যান্ড বা অঞ্চলে বিভক্ত থাকে, যেখানে যোজ্যতা ব্যান্ড হলো ইলেকট্রনপূর্ণ সর্বোচ্চ স্তর এবং পরিবহন ব্যান্ড হলো মুক্ত ইলেকট্রনের স্তর।
- কার্যপ্রণালি: সামান্য বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলেই এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো সহজেই প্রবাহিত হতে পারে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
- বাস্তব প্রয়োগ: তামার তার বা অ্যালুমিনিয়ামের তারের মধ্য দিয়ে সহজেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার মূল কারণ হলো এদের ব্যান্ডগুলোর এই বিশেষ ওভারল্যাপিং বৈশিষ্ট্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তামা বা কপার তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়া।
ব্যাখ্যা: তামার পরমাণুগুলোর যোজ্যতা ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড ওভারল্যাপ করায় সামান্য ভোল্টেজেই প্রচুর ইলেকট্রন মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে।
উদাহরণ ২: সোনা বা রূপার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা।
ব্যাখ্যা: এই ধাতুগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি কাজ করে, যার ফলে এগুলো অত্যন্ত ভালো মানের সুপরিবাহী হিসেবে পরিচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আলাদা থাকে — এই উক্তিটি অর্ধপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ব্যান্ড দুটির মাঝে শক্তির ব্যবধান বা ব্যান্ড গ্যাপ থাকে।
B) ওভারল্যাপ থাকে — এটি সুপরিবাহী পদার্থের সঠিক বৈশিষ্ট্য এবং এর মাধ্যমেই ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে।
C) অনেক দূরে থাকে — এটি অন্তরক বা কুপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক, যেখানে ব্যান্ড দুটির মাঝে বিশাল শক্তি ব্যবধান থাকে।
D) কোনটিই নয় — যেহেতু বিকল্প বি সঠিক, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সুপরিবাহী মানেই হলো যেখানে কোনো বাধা নেই, তাই ব্যান্ড দুটি একে অপরের ওপর ওভারল্যাপ বা মিলে থাকে।
- অর্ধপরিবাহী বা অন্তরকের ক্ষেত্রে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা বা ব্যান্ড গ্যাপ থাকে, কিন্তু সুপরিবাহীতে কোনো গ্যাপ থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সুপরিবাহী, অর্ধপরিবাহী ও কুপরিবাহীর ব্যান্ড গ্যাপ নিয়ে প্রশ্ন আসে।
- অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে ব্যান্ড গ্যাপ সাধারণত এক ইলেকট্রন ভোল্ট বা এর কাছাকাছি হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: C) Touch Screen
১. কেন সঠিক:
টচ স্ক্রিন এমন একটি অনন্য প্রযুক্তি যা একই সঙ্গে ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্ক্রিনে স্পর্শ করে নির্দেশ প্রদান করে এবং একই স্ক্রিনে ভিজ্যুয়াল ফলাফল দেখতে পায়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: টচ স্ক্রিন হলো এমন একটি ডিসপ্লে প্যানেল যা স্পর্শ সংবেদনশীল এবং ব্যবহারকারীর আঙুল বা স্টাইলাসের স্পর্শ শনাক্ত করতে পারে।
কার্যপদ্ধতি: স্ক্রিনের উপরিভাগে স্বচ্ছ সেন্সর লেয়ার থাকে যা স্পর্শের অবস্থান পরিবর্তন বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে প্রসেসরে পাঠায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের ডিসপ্লে।
ব্যাখ্যা: আমরা আঙুল দিয়ে টাচ করে কমান্ড ইনপুট দিই এবং ডিসপ্লেতেই কল লিস্ট বা অ্যাপের আউটপুট দেখতে পাই।
উদাহরণ ২: ব্যাংকের এটিএম বুথ।
ব্যাখ্যা: বুথের স্ক্রিনে স্পর্শ করে টাকার পরিমাণ ইনপুট দেওয়া হয় এবং স্ক্রিনেই পরবর্তী নির্দেশনা প্রদর্শিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Scanner — স্ক্যানার একটি শুধু ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজের ছবি বা ডকুমেন্ট কম্পিউটারে ইনপুট করে কিন্তু কোনো আউটপুট দেখায় না।
B) Mouse — মাউস একটি খাঁটি ইনপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে কার্সার নড়াচড়া ও ক্লিক করে কমান্ড দেওয়া হয় কিন্তু এর নিজস্ব কোনো ডিসপ্লে বা আউটপুট নেই।
D) Projector — প্রজেক্টর একটি কেবল আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটার বা অন্য উৎস থেকে ডেটা নিয়ে বড় পর্দায় প্রদর্শন করে কিন্তু ইনপুট নেয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
যে ডিভাইস দেখে বা শুনে তথ্য পাওয়া যায় তা আউটপুট, আর যে ডিভাইস দিয়ে নির্দেশ পাঠানো হয় তা ইনপুট। কিন্তু যা একই সাথে দেখে বা ছুঁয়ে কাজ চালায়, তা হলো ইনপুট ও আউটপুট উভয়ই।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটারের পেরিফেরাল ডিভাইসের মধ্যে টাচ স্ক্রিন, মডেম এবং হেডফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইনপুট ও আউটপুট উভয় ডিভাইসের উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: প্রদত্ত উত্তরটি ভুল। সঠিক উত্তর হবে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (Microsoft Windows) বা অন্য কোনো ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যদি অপশনে থাকত। তবে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে গুগল ক্রোম (Google Chrome), জুম (Zoom) বা অ্যাডোব ফটোশপ (Adobe Photoshop) কোনোটিই ওপেন সোর্স সফটওয়্যার নয়। গুগল ক্রোম ব্রাউজারের মূল ভিত্তি হলো ক্রোমিয়াম (Chromium), যা ওপেন সোর্স হলেও ক্রোম নিজে প্রোপ্রিটারি বা ক্লোজড সোর্স সফটওয়্যার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় এই প্রশ্নটিতে ত্রুটি থাকে অথবা ক্রোমিয়ামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। নিচে সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্স ধারণার সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
১. কেন সঠিক:
- ওপেন সোর্স সফটওয়্যার (Open Source Software) হলো এমন সফটওয়্যার যার সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।
- ব্যবহারকারীরা এই কোড দেখতে, পরিবর্তন করতে এবং নিজেদের প্রয়োজনমতো পরিমার্জন করতে পারেন।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: যে সফটওয়্যারের সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকে এবং বিনামূল্যে পরিবর্তন ও বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয় তাকে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বলে।
- কার্যপদ্ধতি: ডেভেলপাররা এর সোর্স কোড ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন এবং বিশ্বজুড়ে প্রোগ্রামাররা সম্মিলিতভাবে এর উন্নয়ন ও ত্রুটি সংশোধন করেন।
- ব্যবহার: লিনাক্স (Linux) অপারেটিং সিস্টেম, পাইথন (Python) প্রোগ্রামিং ভাষা এবং ভিসিএল (VLC) মিডিয়া প্লেয়ার এর প্রধান উদাহরণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম (Linux Operating System)
ব্যাখ্যা: এটি একটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যার কোড পরিবর্তন করে ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপযোগী করে নিতে পারেন।
উদাহরণ ২: ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার (VLC Media Player)
ব্যাখ্যা: এটি একটি ওপেন সোর্স মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার যা বিভিন্ন ফরম্যাটের অডিও ও ভিডিও ফাইল চালাতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Google Chrome - এটি গুগল কোম্পানির একটি ক্লোজড সোর্স বা প্রোপ্রিটারি ব্রাউজার, যদিও এর ভিত্তি ক্রোমিয়াম ওপেন সোর্স।
B) Microsoft Windows - এটি মাইক্রোসফটের একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক এবং প্রোপ্রিটারি অপারেটিং সিস্টেম যার সোর্স কোড সুরক্ষিত থাকে।
C) Zoom - এটি একটি প্রোপ্রিটারি ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার যার অভ্যন্তরীণ কোড ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।
D) Adobe Photoshop - এটি অ্যাডোব কোম্পানির একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং বাণিজ্যিক গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ওপেন সোর্স মানেই কোড সবার জন্য খোলা এবং ফ্রি।
- বাণিজ্যিক বা প্রোপ্রিটারি সফটওয়্যারের সোর্স কোড কোম্পানির নিজস্ব সম্পত্তি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- লিনাক্স ও অ্যান্ড্রয়েড (Android) হলো বহুল ব্যবহৃত ওপেন সোর্স প্রযুক্তি।
- মাইক্রোসফট অফিস (Microsoft Office) এবং উইন্ডোজ হলো প্রোপ্রিটারি সফটওয়্যারের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: B) ITU
১. কেন সঠিক:
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন বা ITU হলো জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা যা বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ মান নির্ধারণ করে। মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে থ্রিজি, ফোরজি এবং ফাইভজি প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মান ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের কাজটি এই প্রতিষ্ঠানটিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ITU হলো International Telecommunication Union, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে রেডিও যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ মান সমন্বয় করে।
কার্যপদ্ধতি: এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মান বা স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করে যাতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ডিভাইস একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে।
ব্যবহার: মোবাইল নেটওয়ার্কের ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রজন্মের সেলুলার প্রযুক্তির গতির মানদণ্ড নির্ধারণে এটি কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ফোরজি ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক গতি
ব্যাখ্যা: চলন্ত অবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে একশ মেগাবাইট এবং স্থির অবস্থায় এক গিগাবাইট গতি ফোরজি প্রযুক্তির জন্য নির্ধারণ করেছে ITU।
উদাহরণ ২: ফাইভজি স্ট্যান্ডার্ড তৈরিতে ভূমিকা
ব্যাখ্যা: ফোরজির মতো ফাইভজি প্রযুক্তির আইএমটি টুোয়েন্টিটুয়েন্টি স্ট্যান্ডার্ড তৈরিতেও এই সংস্থাটি মূল ভূমিকা পালন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ISO — এটি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, যা সাধারণ শিল্প ও প্রযুক্তিগত মান তৈরি করে তবে সেলুলার স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান নিয়ন্ত্রক নয়।
B) ITU — এটি সঠিক উত্তর কারণ মোবাইল যোগাযোগের আন্তর্জাতিক মান তৈরির মূল দায়িত্ব এই সংস্থার ওপর ন্যস্ত।
C) 3GPP — থ্রিজি পার্টনারশিপ প্রজেক্ট ফোরজির টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন তৈরি করে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মূল স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ITU প্রধান।
D) ETSI — এটি ইউরোপিয়ান টেলিকমিউনিকেশনস স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউট, যা মূলত ইউরোপীয় অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ মান নিয়ে কাজ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ বা মোবাইল স্ট্যান্ডার্ডের মূল নিয়ন্ত্রক হলো ITU।
টেলিযোগাযোগের আন্তর্জাতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে ITU নামটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ITU-এর পূর্ণরূপ হলো International Telecommunication Union এবং এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক ও স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তুতকারী সংস্থার সদর দপ্তর বা কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) Worms
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে যে ম্যালওয়্যারের কথা বলা হয়েছে, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজে নিজেই অন্য কম্পিউটারে কপি বা বিস্তার লাভ করে, তাকে কম্পিউটার ওয়ার্ম (Worm) বলে।
ওয়ার্ম হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা কোনো ইউজারের ফাইল বা প্রোগ্রামের সহায়তা ছাড়াই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজে নিজেই ছড়িয়ে পড়ে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ওয়ার্ম হলো একটি স্ট্যান্ডঅ্যালোন ম্যালওয়্যার যা নেটওয়ার্কের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজের কপি নিজে তৈরি করে পুরো নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে।
কার্যপদ্ধতি: এটি সাধারণত ইমেল, ত্রুটিপূর্ণ নেটওয়ার্ক প্রোটোকল অথবা নিরাপত্তা ফাটলের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাতায়াত করে।
ব্যবহার: সাইবার অপরাধীরা নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ কমাতে এবং সিস্টেমের ক্ষতি করতে ওয়ার্ম ব্যবহার করে থাকে।
পার্থক্য: ভাইরাসের কাজ করার জন্য কোনো হোস্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়, কিন্তু ওয়ার্ম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজে নিজেই চলতে ও ছড়াতে পারে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মরিস ওয়ার্ম (Morris Worm)
ব্যাখ্যা: এটি ইন্টারনেটের ইতিহাসে প্রথম পরিচিত কম্পিউটার ওয়ার্মগুলোর একটি, যা ১৯৮৮ সালে ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ অচল করে দিয়েছিল।
উদাহরণ ২: আই লাভ ইউ (ILOVEYOU) ওয়ার্ম
ব্যাখ্যা: এই ওয়ার্মটি ইমেলের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কম্পিউটারের ফাইল নষ্ট করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Program Virus — প্রদত্ত প্রশ্নটিতে প্রোগ্রাম ভাইরাসের কথা বলা হলেও, ভাইরাস নিজে নিজে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়াতে পারে না, এর জন্য হোস্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়।
C) Trojan Horse — ট্রোজান হর্স হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা নিজেকে উপকারী প্রোগ্রাম হিসেবে উপস্থাপন করে ডিভাইসে প্রবেশ করে কিন্তু নিজে নিজেই নেটওয়ার্কে ছড়ায় না।
D) Boot Virus — বুট ভাইরাস কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের বুট রেকর্ড বা মাস্টার বুট রেকর্ডকে আক্রমণ করে এবং এটি সাধারণত রিমুভেবল ড্রাইভ বা ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমে ছড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ওয়ার্ম বা কেঁচো যেমন মাটি খুঁড়ে নিজে নিজে সামনে এগোতে পারে, তেমনি কম্পিউটার ওয়ার্মও কোনো মানুষের সাহায্য বা হোস্ট ফাইল ছাড়া নিজে নিজেই নেটওয়ার্কে ছড়ায়।
ভাইরাস ছড়ানোর জন্য ইউজারকে ফাইল কপি বা শেয়ার করতে হয়, কিন্তু ওয়ার্ম একা একাই ভ্রমণ করতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ওয়ার্মের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য শক্তিশালী ফায়ারওয়াল এবং আপডেট করা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা অপরিহার্য।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ এবং এদের ছড়ানোর মাধ্যম সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর:
D) SMTP
১. কেন সঠিক:
- SMTP-এর পূর্ণরূপ Simple Mail Transfer Protocol যা এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে ই-মেইল প্রেরণের প্রধান প্রোটোকল হিসেবে কাজ করে।
- ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কে মেল সার্ভারের মধ্যে ই-মেইল বার্তা আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে এই প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: SMTP হলো একটি ইন্টারনেট স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ই-মেইল মেসেজ এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পাঠাতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্যপদ্ধতি: সেন্ডার ক্লায়েন্ট প্রথমে এসএমটিপি সার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং প্রেরক, প্রাপক ও মেসেজের মূল অংশ সার্ভারে আপলোড করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জিমেইল থেকে ইয়াহুতে মেইল পাঠানো
ব্যাখ্যা: আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে যখন কোনো বন্ধুকে ইয়াহু ঠিকানায় ই-মেইল পাঠান, তখন প্রেরক সার্ভার থেকে প্রাপক সার্ভারে মেসেজটি স্থানান্তরিত করতে এসএমটিপি প্রোটোকল কাজ করে।
উদাহরণ ২: আউটলুক বা থান্ডারবার্ড ই-মেইল ক্লায়েন্ট কনফিগারেশন
ব্যাখ্যা: কম্পিউটারে মাইক্রোসফট আউটলুক সফটওয়্যার সেটআপ করার সময় ইনকামিং ও আউটগোয়িং সার্ভার ঠিক করতে হয়, যেখানে আউটগোয়িং মেইল সার্ভারের জন্য এসএমটিপি পোর্ট নির্দিষ্ট করা থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FTP — এটি ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল যা নেটওয়ার্কে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করার জন্য ব্যবহৃত হয়, ই-মেইল স্থানান্তরের জন্য নয়।
B) RPC — এটি রিমোট প্রসিডিউর কল যা একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে অন্য কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের সাবরুটিন রান করাতে ব্যবহৃত হয়।
C) SNMP — এটি সিম্পল নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল যা নেটওয়ার্কের ডিভাইসগুলো মনিটর ও ম্যানেজ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
D) SMTP — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি বিশেষভাবে ই-মেইল মেসেজ স্থানান্তর ও প্রেরণের জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- এম (M) দিয়ে মেল (Mail) এবং টি (T) দিয়ে ট্রান্সফার (Transfer) মনে রাখলেই এস-এম-টি-পি প্রোটোকলের মূল কাজ সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ই-মেইল পড়ার বা রিসিভ করার সময় পপ থ্রি (POP3) বা আইম্যাপ (IMAP) প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়, যা পাঠানো সংক্রান্ত এসএমটিপি প্রোটোকল থেকে আলাদা।
সঠিক উত্তর:
C) Bluetooth Network
১. কেন সঠিক:
ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে যে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা PAN তৈরি করা হয়, তাকে পিকোনেট বলা হয়।
একটি মাস্টার ডিভাইসের সাথে সাতটি পর্যন্ত স্লভ ডিভাইস সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে এই পিকোনেট গঠন করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য গঠিত ক্ষুদ্রতম তারহীন ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক হলো পিকোনেট।
কার্যপদ্ধতি: একটি মাস্টার ডিভাইস ঘড়ি পালস ও ফ্রিকোয়েন্সি হপিং সিকোয়েন্স নিয়ন্ত্রণ করে অন্য স্লভ ডিভাইসগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।
বৈশিষ্ট্য: এটি স্বল্প দূরত্বে রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।
ব্যবহার: মোবাইল ফোন থেকে ব্লুটুথ স্পিকার বা হেডফোনে গান শোনার সময় এই পিকোনেট প্রযুক্তি কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের সাথে ব্লুটুথ ইয়ারফোন যুক্ত করা।
ব্যাখ্যা: এখানে ফোনটি মাস্টার এবং ইয়ারফোনটি স্লভ হিসেবে পিকোনেট তৈরি করে শব্দ আদান-প্রদান করে।
উদাহরণ ২: ল্যাপটপের সাথে ব্লুটুথ মাউস ও কিবোর্ড সংযুক্ত করা।
ব্যাখ্যা: একই সময়ে একটি ল্যাপটপের সাথে একাধিক ডিভাইস যুক্ত হয়ে পিকোনেট নেটওয়ার্ক গঠন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Wifi Network — ওয়াইফাই হলো লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের একটি তারহীন রূপ, যার কভারেজ এরিয়া ব্লুটুথ বা পিকোনেটের চেয়ে অনেক বড়।
B) Wide Area Network — ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ওয়ান হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত বড় নেটওয়ার্ক, যা পিকোনেটের মতো ক্ষুদ্র পরিসরের জন্য নয়।
C) Bluetooth Network — এটি সঠিক উত্তর কারণ ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের অপর নামই পিকোনেট।
D) 5G Network — ফাইভেজি হলো পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তি, যা উচ্চ গতির সেলুলার নেটওয়ার্ক প্রদানে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ব্লুটুথ মানেই ক্ষুদ্র পরিসর আর ক্ষুদ্র পরিসরের নেটওয়ার্ক মানেই পিকোনেট।
মাস্টার ও স্লভ ডিভাইসের এই মেলবন্ধন শুধু ব্লুটুথ প্রযুক্তিতেই দেখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পিকোনেটে সর্বোচ্চ কতটি সক্রিয় ডিভাইস থাকতে পারে, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
উত্তরটি হলো একটি মাস্টার এবং সাতটি স্লভসহ মোট আটটি সক্রিয় ডিভাইস।
সঠিক উত্তর:
B) HTTPS
১. কেন সঠিক:
- HTTPS হলো এমন একটি প্রোটোকল যা ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভারের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানকে এনক্রিপ্ট করে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখে।
- এটি SSL বা TLS সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: HTTPS-এর পূর্ণরূপ HyperText Transfer Protocol Secure, এটি ইন্টারনেটে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল।
- কার্যপদ্ধতি: এটি পাবলিক কি ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের মধ্যকার ডেটাকে এমনভাবে এনকোড করে যা মাঝপথে চুরি করলেও পড়া যায় না।
- বৈশিষ্ট্য: এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ডেটার গোপনীয়তা রক্ষা করা, অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং সার্ভারের সত্যতা নিশ্চিত করা।
- ব্যবহার: অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স সাইট এবং লগইন পেজে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার জন্য এটি বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়।
- পার্থক্য: সাধারণ HTTP প্রোটোকল কোনো এনক্রিপশন ব্যবহার করে না, ফলে ওই ডেটা উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে সহজেই পড়া যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ই-কমার্স সাইটে কেনাকাটা
ব্যাখ্যা: অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার সময় ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে HTTPS ও তালা চিহ্ন দেখায়, যা নিশ্চিত করে আপনার পেমেন্ট ডেটা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
উদাহরণ ২: সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন
ব্যাখ্যা: ফেসবুক বা জিমেইলে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড টাইপ করার পর তা এনক্রিপ্টেড হয়ে সার্ভারে যায়, ফলে কেউ পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FTP - এটি ফাইল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত প্রোটোকল, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না বরং ফাইল আপলোড বা ডাউনলোডের কাজ করে।
B) HTTPS - এটি সঠিক উত্তর এবং এটি ইন্টারনেটে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে।
C) TCP - এটি ডেটা প্যাকেট সঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করে, তবে এটি ডেটা এনক্রিপ্ট বা সুরক্ষার কাজ করে না।
D) DNS - এটি ডোমেইন নামকে আইপি ঠিকানায় রূপান্তর করে, যা ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বা এনক্রিপশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- HTTP মানে হলো উন্মুক্ত বা অসংরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
- শেষের S অক্ষরটির অর্থ হলো Secure বা নিরাপদ, যা এনক্রিপশন নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে তালা চিহ্ন বা padlock দেখলে বুঝবেন সাইটটিতে HTTPS প্রোটোকল সক্রিয় আছে।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার জন্য কোন প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর:
C) Mozilla Firefox
১. কেন সঠিক:
- মজিলা ফায়ারফক্স একটি ওয়েব ব্রাউজার যা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সরাসরি অপারেটিং সিস্টেমের অংশ নয়, বরং সিস্টেম সফটওয়্যারের উপর রান করা একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার হলো এমন প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো কাজ যেমন ব্রাউজিং, টাইপিং বা হিসাব করার জন্য তৈরি করা হয়।
- কার্যপদ্ধতি: এটি অপারেটিং সিস্টেমের সহায়তায় মেমোরি ও প্রসেসর ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে ডেটা এনে পর্দায় প্রদর্শন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাইক্রোসফট ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা: এটি একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার যা ডকুমেন্ট তৈরি ও সম্পাদনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: গুগল ক্রোম
ব্যাখ্যা: এটি মজিলা ফায়ারফক্সের মতো আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার যা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Linux — এটি একটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যা সিস্টেম সফটওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত।
B) Android — এটি স্মার্টফোনের জন্য তৈরি একটি বিশ্বখ্যাত মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম।
C) Mozilla Firefox — এটি কোনো সিস্টেম সফটওয়্যার নয়, বরং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
D) Apple iOS — এটি অ্যাপল কোম্পানির মোবাইল ডিভাইসের জন্য তৈরি একটি শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অপারেটিং সিস্টেম যেমন লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস হলো সিস্টেম সফটওয়্যার।
- ইন্টারনেট ব্রাউজার, গেম এবং অফিস অ্যাপ হলো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর কাজ সহজ করে।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় সফটওয়্যার শ্রেণিবিভাগ যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) ৬৭
প্রদত্ত তথ্য:
ডেসিমেল সংখ্যাটি হলো ৫৫
ধরি,
অক্টাল সংখ্যাটির একক স্থানীয় অঙ্ক ক এবং দশক স্থানীয় অঙ্ক খ
অতএব,
দশক স্থানীয় অঙ্ক খ এর স্থানীয় মান খ × ৮
এক একক স্থানীয় অঙ্ক ক এর স্থানীয় মান ক × ১
সুতরাং,
খ × ৮ + ক × ১ = ৫৫
উত্তর: অক্টাল সংখ্যাটি হবে ৬৭
সঠিক উত্তর:
A) Small Computer System Interface
১. কেন সঠিক:
SCSI এর পূর্ণরূপ হলো Small Computer System Interface। এটি একটি বিশেষ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড ইন্টারফেস বা পোর্ট, যা কম্পিউটার মাদারবোর্ডের সাথে বিভিন্ন পেরিফেরাল ডিভাইস যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
এই প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চ গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়, যা মূলত সার্ভার এবং হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটারে ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: SCSI হলো একটি প্যারালাল বাস স্ট্যান্ডার্ড যা কম্পিউটার এবং হার্ড ড্রাইভ বা অপটিক্যাল ড্রাইভের মতো পেরিফেরালের মধ্যে দ্রুত ডেটা যোগাযোগের পথ তৈরি করে।
কার্যপদ্ধতি: এটি একটি একক কন্ট্রোলারের মাধ্যমে চেইনের মতো একাধিক ডিভাইসকে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে এবং প্রতিটি ডিভাইসকে আলাদা আইডি প্রদান করে ডেটা পরিচালনা করে।
ব্যবহার: মূলত এন্টারপ্রাইজ লেভেলের সার্ভার, ওয়ার্কস্টেশন এবং হাই-এন্ড এক্সটার্নাল স্টোরেজ ডিভাইসে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এন্টারপ্রাইজ সার্ভারে ব্যবহৃত ফাস্ট হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ।
ব্যাখ্যা: সার্ভারের মতো সিস্টেমে অনেক ব্যবহারকারীর অনুরোধ একসাথে প্রসেস করতে হয়, যেখানে SCSI ড্রাইভ দ্রুত ডেটা সরবরাহ করতে পারে।
উদাহরণ ২: স্ক্যানার বা টেপ ড্রাইভ।
ব্যাখ্যা: অতীতে বড় ডেটা ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য টেপ ড্রাইভগুলোতে SCSI ইন্টারফেস ব্যবহার করা হতো কারণ এর ডেটা ট্রান্সফার রেট ছিল অনেক বেশি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Small Computer System Interface — এটি সঠিক উত্তর কারণ SCSI এর পূর্ণরূপে System শব্দটি ব্যবহৃত হয়, কোনো সফটওয়্যার বা স্টোরেজ নয়।
B) Small Computer Software Interface — এটি ভুল কারণ SCSI কোনো সফটওয়্যার ইন্টারফেস নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি হার্ডওয়্যার ইন্টারফেস স্ট্যান্ডার্ড।
C) Small Computer Storage Interface — এটি ভুল কারণ এর শেষ শব্দ Storage নয়, বরং সামগ্রিক সিস্টেম সংযোগের জন্য System শব্দটি নির্ধারিত।
D) Small Computer Standard Interface — এটি ভুল কারণ স্ট্যান্ডার্ড শব্দটি এর নামের অংশ হলেও পূর্ণরূপে Standard এর পরিবর্তে System ব্যবহার করা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
SCSI মনে রাখার সহজ কৌশল হলো এর ভেতরের প্রতিটি অক্ষরের পূর্ণরূপ মনে রাখা, যেখানে System শব্দটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একটি সিস্টেম লেভেল ইন্টারফেস।
এটি সাধারণ হোম কম্পিউটারের IDE বা SATA এর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং পেশাদার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ইন্টারফেসের পূর্ণরূপ জানতে চাওয়া হয়, তাই SCSI এর সঠিক পূর্ণরূপ আয়ত্ত করা জরুরি।
এর আধুনিক এবং উন্নত সংস্করণ হলো SAS, যার পূর্ণরূপ Serial Attached SCSI এবং এটি বর্তমান যুগে বেশি ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর:
C) Ransomware
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নে এমন একটি সাইবার আক্রমণের কথা বলা হয়েছে যা ব্যবহারকারীর কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয় এবং তা ঠিক করার জন্য অর্থ বা মুক্তিপণ দাবি করে।
- এই ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর সব ফাইল বা সিস্টেম এনক্রিপ্ট করে লক করে দেয় এবং অর্থ প্রদান না করা পর্যন্ত তা উন্মুক্ত করে না।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: Ransomware হলো এক ধরনের ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর ডেটা বা সিস্টেম লক করে দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো শক্তিশালী এনক্রিপশন অ্যালগরিদম দিয়ে আটকে দেয় এবং স্ক্রিনে একটি বার্তা প্রদর্শন করে।
- ব্যবহার: সাইবার অপরাধীরা সাধারণত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা জিম্মি করতে এটি ব্যবহার করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডব্লিউক্রাই (WannaCry) আক্রমণ
ব্যাখ্যা: এটি একটি বিখ্যাত বিশ্বব্যাপী র্যানসমওয়্যার আক্রমণ যা ২০১৭ সালে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে আক্রান্ত করে এবং ফাইল ফেরত দেওয়ার জন্য বিটকয়েনে মুক্তিপণ দাবি করে।
উদাহরণ ২: ইমেইল অ্যাটাচমেন্টের মাধ্যমে র্যানসমওয়্যার ছড়ানো
ব্যাখ্যা: অপরিচিত কোনো মেইলের ক্ষতিকর ফাইল ডাউনলোড করলে এই ম্যালওয়্যার পিসিতে ঢুকে সমস্ত কাজের ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Phishing — ফিশিং হলো প্রতারণামূলক উপায়ে ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি করার পদ্ধতি।
B) Denial of Service — ডিনায়াল অব সার্ভিস হলো এমন একটি আক্রমণ যা সার্ভারে অতিরিক্ত ট্রাফিক পাঠিয়ে ওয়েবসাইট বা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
D) Man-in-the-Middle — ম্যান ইন দ্য মিডল হলো এমন এক ধরনের আক্রমণ যেখানে হ্যাকার গোপনে যোগাযোগের দুটি পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান করা তথ্য শুনে বা পরিবর্তন করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- র্যানসম (Ransom) শব্দের অর্থ মুক্তিপণ। তাই যে ম্যালওয়্যার মুক্তিপণ চায় তাকে র্যানসমওয়্যার বলে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- র্যানসমওয়্যার থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রাখা।
সঠিক উত্তর:
B) AWS
১. কেন সঠিক:
- উত্তরটি সঠিক হওয়ার মূল কারণ হলো AWS হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহৎ ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম।
- এটি অ্যামাজন ডট কম কর্তৃক পরিচালিত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন-ডিমান্ড ক্লাউড কম্পিউটিং ও এপিআই সেবা প্রদান করে থাকে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: AWS-এর পূর্ণরূপ হলো Amazon Web Services। এটি একটি নিরাপদ ক্লাউড সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম যা কম্পিউটিং পাওয়ার, স্টোরেজ ও ডেটাবেজ সেবা প্রদান করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব ফিজিক্যাল সার্ভার ছাড়াই যেকোনো সফটওয়্যার বা ডেটা সংরক্ষণ ও পরিচালনা করার সুবিধা দেয়।
- ব্যবহার: আধুনিক যুগের বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট এবং এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার হোস্টিংয়ের জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নেটফ্লিক্স
ব্যাখ্যা: নেটফ্লিক্স তাদের বিশাল ভিডিও লাইব্রেরি এবং স্ট্রিমিং সেবা পরিচালনার জন্য অ্যামাজনের এই ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।
উদাহরণ ২: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা: অনেক ব্যাংক তাদের বিশাল পরিমাণ গ্রাহকের লেনদেনের ডেটা নিরাপদ ও নমনীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে এই ক্লাউড সেবা গ্রহণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Azure — এটি অ্যামাজনের নয়, বরং মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম।
B) AWS — এটি সঠিক উত্তর এবং অ্যামাজনের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের নাম।
C) Cloudera — এটি মূলত বিগ ডেটা এবং অ্যাপাচি হাডুপ ভিত্তিক ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ও ডেটা ক্লাউড কোম্পানি, অ্যামাজনের নয়।
D) উপরের সবগুলো — যেহেতু বাকি অপশনগুলো অ্যামাজনের প্ল্যাটফর্ম নয়, তাই এই অপটি সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অ্যামাজন মানেই AWS, অর্থাৎ Amazon Web Services।
- মাইক্রোসফট মানে Azure এবং গুগলের ক্ষেত্রে তা Google Cloud Platform বা GCP।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রধানত তিনটি মডেলে বিভক্ত, যথা: IaaS, PaaS এবং SaaS।
- ক্লাউড সেবার ক্ষেত্রে পে-অ্যাজ-ইউ-গো (Pay-as-you-go) নীতি অনুসরণ করা হয়, অর্থাৎ যতটুকু ব্যবহার করবে ঠিক ততটুকুই মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) CaaS
১. কেন সঠিক:
- ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেমে সাধারণত আইকাস,পাস এবং স্যাস সেবা মডেল ব্যবহৃত হয়।
- সিএএস বা কন্টেইনার অ্যাজ এ সার্ভিস মূলত ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের একটি বর্ধিত সেবা এবং এটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাউড মডেলের অংশ নয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্ভার, স্টোরেজ ও ডেটাবেজের মতো কম্পিউটিং সেবা প্রদান করার আধুনিক প্রযুক্তি।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ব্যবহারকারীকে নিজস্ব ফিজিক্যাল হার্ডওয়্যার ছাড়াই ইন্টারনেটের মাধ্যমে রিমোট সার্ভার থেকে যেকোনো সেবা গ্রহণের সুবিধা দেয়।
- বৈশিষ্ট্য: এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অন-ডিমান্ড সেলফ সার্ভিস, রিসোর্স পুলিং এবং পরিমাপযোগ্যতা।
- ব্যবহার: বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের ডেটা সংরক্ষণ, সফটওয়্যার হোস্টিং এবং ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য এটি ব্যবহার করে।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: মাইক্রোসফট আজুর।
- ব্যাখ্যা: এটি একটি জনপ্রিয় ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহারকারীদের ডেটা স্টোরেজ এবং ভার্চুয়াল মেশিন ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
- উদাহরণ ২: গুগল ড্রাইভ।
- ব্যাখ্যা: এটি ক্লাউড স্টোরেজের একটি বাস্তব উদাহরণ যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে ফাইল সংরক্ষণ ও এক্সেস করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CaaS — এটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মূল তিনটি সেবামডেলের মধ্যে পড়ে না তাই এটি সঠিক উত্তর।
B) IaaS — এটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ এ সার্ভিস যা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অন্যতম প্রধান ও প্রচলিত একটি ভিত্তিগত সেবা মডেল।
C) PaaS — এটি প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ এ সার্ভিস যা ডেভেলপারদের জন্য কোডিং ও সফটওয়্যার তৈরির পরিবেশ প্রদান করে থাকে।
D) SaaS — এটি সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিস যা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্রাউজারের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মূল তিনটি মডেল মনে রাখার সহজ শব্দ হলো এসআইপি বা এস, আই, পি অর্থাৎ স্যাস, আইয়াস ও পাস।
- সিএএস হলো পরবর্তী প্রজন্মের কন্টেইনার প্রযুক্তি যা মূল ক্লাউড মডেলের আওতাভুক্ত নয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মৌলিক সেবামডেল প্রধানত তিনটি যথা আইয়াস, পাস এবং স্যাস।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ক্লাউড মডেলের নামগুলো থেকে কোনটি ব্যতিক্রম তা জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর:
C) DNS Server
১. কেন সঠিক:
- DNS Server-এর পূর্ণরূপ Domain Name System Server। এটি ইন্টারনেটের ফোনবুকের মতো কাজ করে।
- মানুষের পক্ষে দীর্ঘ সংখ্যাভিত্তিক IP Address মনে রাখা কঠিন হওয়ায় এই সিস্টেম নামকে আইপিসিতে অনুবাদ করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: DNS Server হলো এমন একটি সার্ভার যা ডোমেইন নামকে মেশিন-বোধগম্য আইপি ঠিকানায় রূপান্তরিত করে।
- কার্যপদ্ধতি: ব্যবহারকারী ব্রাউজারে নাম লিখলে ডিএনএস সার্ভার ডেটাবেজ খুঁজে সঠিক আইপি অ্যাড্রেস ব্রাউজারে ফেরত পাঠায়।
- ব্যবহার: ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল আদান-প্রদান এবং যেকোনো অনলাইন সেবা গ্রহণে এর ব্যবহার অপরিহার্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: google.com লেখা
ব্যাখ্যা: ব্রাউজারে google.com লিখলে ডিএনএস সার্ভার একে নির্দিষ্ট আইপি ঠিকানায় রূপান্তর করে ওয়েবসাইটটি আমাদের সামনে হাজির করে।
উদাহরণ ২: মানুষের নাম ও মোবাইল নম্বর
ব্যাখ্যা: মোবাইল ফোনে আমরা নামের তালিকা সংরক্ষণ করি, ঠিক তেমনি ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নামকে আইপিসিতে রূপান্তর করতে ডিএনএস কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FTP Server — এটি ফাইল আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়, নাম অনুবাদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
B) Firewal — এটি একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে, এটি অনুবাদক নয়।
C) DNS Server — এটি সঠিক উত্তর।
D) Gateway — এটি দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করতে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- Domain Name System মনে রাখুন। ডিএনএস হলো অনুবাদের কাজ করে, নাম থেকে আইপিসিতে রূপান্তরই এর মূল কাজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আইপি ঠিকানার সংস্করণ দুটি যথা IPv4 এবং IPv6। ডিএনএস সার্ভার উভয় ধরনের ঠিকানাতেই নাম অনুবাদ করতে পারে।
সঠিক উত্তর:
A) Java
১. কেন সঠিক:
- জাভা একটি অবজেক্ট ওিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা, ডেটাবেজ কুয়েরি ভাষা নয়।
- এটি মূলত সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: Structured Query Language বা এসকিউএল হলো ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তথ্য সংরক্ষণ, আপডেট ও পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রমিত ভাষা।
- কার্যপদ্ধতি: ডেটাবেজ সার্ভারের কাছে এসকিউএল কমান্ডের মাধ্যমে অনুরোধ পাঠানো হয় এবং ডেটাবেজ সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফলাফল প্রদর্শন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এসকিউএল কুয়েরি
ব্যাখ্যা: SELECT নাম FROM ছাত্রছাত্রী কমান্ডের মাধ্যমে ডেটাবেজ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
উদাহরণ ২: জাভা প্রোগ্রাম
ব্যাখ্যা: System.out.println কমান্ড ব্যবহার করে জাভায় মনিটরে আউটপুট প্রদর্শন করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Java — এটি একটি উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা, কোনো ডেটাবেজ কুয়েরি ভাষা নয়।
B) MySQL — এটি একটি জনপ্রিয় রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা এসকিউএল সমর্থন করে।
C) Oracle — এটি একটি শক্তিশালী এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা এসকিউএল ব্যবহার করে।
D) উপরের সবগুলো — যেহেতু জাভা এসকিউএল নয়, তাই এই অপশন সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- এসকিউএল শেষ হয় ভাষা বোঝাতে, যেমন মাইএসকিউএল ও ওরাকল ডেটাবেজ সফটওয়্যার।
- জাভা হলো কোডিং বা সফটওয়্যার তৈরির ভাষা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এসকিউএল হলো ডেটাবেজ ল্যাঙ্গুয়েজ, আর জাভা হলো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ডেটাবেজ ও প্রোগ্রামিং ভাষার পার্থক্য থেকে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবগুলোতে
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত অপশনের প্রতিটি আইন ও বিধিতেই দুর্নীতিকে অপরাধ এবং দণ্ডনীয় হিসেবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আইনগত কাঠামোতে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য বহুমুখী আইনি পদক্ষেপ অপরিহার্য।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নৈতিক আচরণ হলো এমন একটি নীতি যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা হয়।
- গুরুত্ব: আইনি শাস্তির পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে এবং সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি কর্মকর্তা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো স্বজনপ্রীতি না করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিলেন।
ব্যাখ্যা: এটি তার পেশাগত সততা এবং সরকারি বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ, যা দুর্নীতির পথ বন্ধ করে।
উদাহরণ ২: একজন নাগরিক সেবা পাওয়ার জন্য ঘুষ না দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেন।
ব্যাখ্যা: এটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয়, যা ঘুষ লেনদেনের সংস্কৃতি দূর করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে — এটি একা সঠিক নয় কারণ এতে শুধু সাধারণ অপরাধ ও কিছু ক্ষেত্রে ঘুষ বা দুর্নীতির কথা আছে, কিন্তু আধুনিক দুর্নীতি দমন বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এর আওতাভুক্ত নয়।
B) ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে — এটি একা সঠিক নয় কারণ দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আইনি এখতিয়ার নির্ধারণ করে, যা অন্যান্য আইন বা বিধিমালার পরিপূরক।
C) ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে — এটি একা সঠিক নয় কারণ এটি কেবল সরকারি কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শাস্তির ওপর সীমাবদ্ধ, যা সামগ্রিক দণ্ডবিধি বা দুর্নীতি দমন আইনের বিকল্প নয়।
D) উপরের সবগুলোতে — এই উত্তরটি সঠিক কারণ উল্লিখিত প্রতিটি আইন ও বিধিই কমবেশি দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত ও শাস্তিযোগ্য করেছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুর্নীতি দমনের পরিধি বুঝতে মনে রাখবে যে, ঐতিহাসিক অপরাধ দমন আইন, বিশেষায়িত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিধি—সব মিলেই দুর্নীতিবিরোধী আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটি থেকে সুশাসন, জবাবদিহি এবং আইন প্রয়োগের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়।
- একই নীতি থেকে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা বা দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের সাল সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
১. কেন সঠিক:
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়, যা ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করে।
এর ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বোধ করেন এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত।
প্রয়োগ: সরকারি ও বেসরকারি নীতি নির্ধারণে সততা ও সুশাসন বজায় রেখে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করতে চাইলে তারা সেখানকার দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বিচার করেন।
ব্যাখ্যা: সুশাসন থাকলে ঘুষ বা হয়রানি ছাড়াই সহজে ব্যবসার অনুমতি পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগ বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে।
উদাহরণ ২: ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে মূলধন জমা ও ঋণ নিতে পারেন।
ব্যাখ্যা: এই আস্থার পরিবেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে এবং সামগ্রিক বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় — এটি অর্থনৈতিক সুশাসনের সরাসরি এবং সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ফলাফল।
B) দুর্নীতি দূর হয় — দুর্নীতি কমা সুশাসনের একটি পূর্বশর্ত বা উপাদান, সরাসরি অর্থনৈতিক ফলাফল নয়।
C) প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয় — এটি সুশাসনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ফল হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য নয়।
D) যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় — যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন সুশাসনের ফল হতে পারে, তবে অর্থনৈতিক সুশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু এটি নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
অর্থনৈতিক সুশাসন মানেই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং আস্থার সম্পর্ক।
সুশাসন নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুশাসনের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই নীতি থেকে প্রায়শই সুশাসনের ফলাফল বা প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: D) মূল্যবোধ
১. কেন সঠিক:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের ভেতরের সেই মানদণ্ড যা ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোঝাতে সাহায্য করে।
- এটি সমাজে স্বীকৃত এমন কিছু বিশ্বাস ও ধারণা যা মানুষের আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচার-আচরণ ও কাজের ভালো-মন্দ নির্ধারণ করার নৈতিক মাপকাঠি।
- গুরুত্ব: এটি মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দোকানদার ভুল করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিলে তা বুঝেও ফেরত দেওয়া।
ব্যাখ্যা: এখানে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে যা মানুষের সঠিক ও ভুলের বোধ থেকে আসে।
উদাহরণ ২: পরীক্ষার হলে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতেও অসদুপায় অবলম্বন না করা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রকাশ যা নিজের বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সততা — সততা হলো মানুষের একটি মহৎ গুণ বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা শুধু ভালো-মন্দের মাপকাঠি নির্ধারণ করে না বরং কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
B) সদাচার — সদাচার হলো মানুষের ভালো আচরণ বা ভদ্রতা, যা মূল্যবোধের একটি অংশ মাত্র কিন্তু সামগ্রিক বিচারবুদ্ধি নয়।
C) কর্তব্যবোধ — কর্তব্যবোধ মানুষকে তার নিজ দায়িত্ব পালন করতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে এটি সরাসরি ভালো-মন্দের সার্বজনীন মাপকাঠি নয়।
D) মূল্যবোধ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটিই সার্বিকভাবে ভালো, মন্দ, ভুল ও শুদ্ধের মানদণ্ড তৈরি করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভালো ও মন্দের মাপকাঠি নির্ধারণের কথা থাকলেই উত্তর হবে মূল্যবোধ।
- কাজের ক্ষেত্রে সততা বা কর্তব্য দেখা যায়, কিন্তু ভেতরে মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে মূল্যবোধ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মূল্যবোধ ব্যক্তি ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মূল চালিকাশক্তি।
- এই প্রশ্নটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নৈতিকতার ভিত্তি যাচাইয়ের জন্য প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
১. কেন সঠিক:
- এই অপশনটি শুদ্ধাচারের মূল আত্মাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে যেখানে সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে মানুষের আচরণ ও কর্মে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- এটি কেবল নিয়ম পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ নৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ যা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: শুদ্ধাচার হলো এমন কিছু নৈতিক নীতিমালা ও আচরণগত মানদণ্ড যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সততা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে।
- গুরুত্ব: সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনসেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুদ্ধাচার অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- প্রয়োগ: সরকারি বা বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রেখে এবং অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এটি প্রয়োগ করা যায়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি কর্মকর্তা ঘুষের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত নিয়মে সেবা প্রদান করলেন।
ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধাচারের বাস্তব প্রয়োগ যেখানে ব্যক্তিগত লোভের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও পেশাগত নৈতিকতা রক্ষা করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করে নিজের মেধার ওপর নির্ভর করল।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও সততার বহিঃপ্রকাশ যা শুদ্ধাচারের ভিত্তিকে মজবুত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল — এটি শুধুমাত্র কাজের পদ্ধতি নির্দেশ করে, কিন্তু এতে নৈতিকতা ও সততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না।
B) সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড — এটি শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অথচ শুদ্ধাচার সর্বজনীন ও সবার জন্য উপযোগী।
D) দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড — এটি খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা নৈতিক উৎকর্ষ বা সততার মূল ভাবনাটিকে পূর্ণতা দেয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শুদ্ধাচার মানেই হলো সততা এবং নৈতিকতার মাধ্যমে আচরণে উৎকর্ষ আনা।
- পরীক্ষার প্রশ্নে যেখানে সততা ও নৈতিকতার বিষয়টি আচরণগত উৎকর্ষের সাথে যুক্ত থাকবে, সেটাই সঠিক উত্তর হিসেবে বেছে নেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল মূলত সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- এই টপিক থেকে সরকারি কর্মচারীর আচরণ, সুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) ইমানুয়েল কান্ট
১. কেন সঠিক:
- নৈতিক দর্শনের ইতিহাসে জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট কর্ত্তব্যমূলক নীতিবিদ্যার প্রবক্তা হিসেবে সততা ও সদিচ্ছাকে নৈতিকতার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
- তাঁর মতে, পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুকে নিঃশর্তভাবে ভালো বলা যায় না, একমাত্র 'সদিচ্ছা' বা ভালো ইচ্ছাকেই শর্তহীনভাবে ভালো বলা যায়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: সদিচ্ছা হলো এমন একটি অভ্যন্তরীণ প্রেরণা বা নৈতিক মানসিকতা, যা লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই কেবল কর্তব্যের খাতিরে সঠিক কাজটি করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।
- গুরুত্ব: বাহ্যিক ফলাফল যাই হোক না কেন, মানুষের কাজের পেছনের নৈতিক সদিচ্ছা সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে।
- প্রয়োগ: ব্যক্তিগত লোভ বা বাহ্যিক চাপের মুখেও নিজের নৈতিক অবস্থান ধরে রেখে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
- সম্ভাব্য প্রভাব: সমাজে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অফিসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম দেখার পরেও নিজের নৈতিক সদিচ্ছার কারণে কেউ অসদুপায় বা ঘুষ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
ব্যাখ্যা: এখানে বাহ্যিক লাভের সুযোগ থাকলেও কর্ত্তব্যপরায়ণতা ও সদিচ্ছার কারণে ব্যক্তি সততার পথ বেছে নেন।
উদাহরণ ২: শিক্ষক পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বন করতে দেখলে পক্ষপাতিত্ব না করে নিয়মানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ব্যাখ্যা: এটি শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব এবং সততার প্রতি সদিচ্ছার সঠিক বাস্তবায়ন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডেকার্ট — ফরাসি এই দার্শনিক মূলত আধুনিক দর্শনের জনক এবং যুক্তিবাদী চিন্তার জন্য পরিচিত, নৈতিকতার সদিচ্ছা তত্ত্বের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত নয়।
B) ডেভিড হিউম — স্কটিশ এই দার্শনিক অভিজ্ঞতাভিত্তিক নৈতিকতা ও উপযোগবাদের আলোচনা করেছেন, যা কান্টের সদিচ্ছা তত্ত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
C) ইমানুয়েল কান্ট — নৈতিক দর্শনে সততা ও সদিচ্ছার ধারণাটি প্রবর্তন করার কারণে এটিই একমাত্র সঠিক উত্তর।
D) জন লক — ব্রিটিশ এই দার্শনিক রাষ্ট্রদর্শন ও অভিজ্ঞতাবাদ নিয়ে কাজ করেছেন, যা নৈতিকতার এই নির্দিষ্ট তত্ত্বের সঙ্গে মিলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সততা ও কর্তব্যের দর্শন এলেই ইমানুয়েল কান্টের নাম মনে রাখবে।
- কান্টের নৈতিকতা মানেই হলো ফল বা লাভের চিন্তা না করে কেবল কর্তব্যের খাতিরে সৎ থাকা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কর্ত্তব্যমূলক নীতিবিদ্যা বা ডিওন্টোলজির প্রবক্তা কে, এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় বারবার আসে।
- কান্টের সদিচ্ছা সংক্রান্ত ধারণা থেকে নৈতিকতার মানদণ্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) UNCAC
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অফিসিয়াল সংক্ষিপ্ত রূপকে নির্দেশ করে।
- সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন করা এই সনদের মূল লক্ষ্য।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: দুর্নীতি প্রতিরোধ বলতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার রোধ করে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাকে বোঝায়।
- গুরুত্ব: সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় দুর্নীতি প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সরকারি ক্রয় বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা ঘুষ লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।
ব্যাখ্যা: এটি স্বচ্ছতা, সততা এবং জনস্বার্থ সুরক্ষার নৈতিক দায়িত্ববোধ প্রকাশ করে।
উদাহরণ ২: কোনো সেবা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ বা উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানানো।
ব্যাখ্যা: এটি নাগরিক সচেতনতা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের সঠিক উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) UNCLOS — এটি সমুদ্র আইনসংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি কনভেনশন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) UNCTAD — এটি বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা, যা দুর্নীতিবিরোধী সনদ নয়।
C) UNCAC — এটি জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন, যা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
D) CEDAW — এটি নারী বৈষম্য বিলোপসংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক সনদ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুর্নীতি সম্পর্কিত কনভেনশন বোঝাতে নামের শেষে AC অর্থাৎ Anti-Corruption শব্দগুচ্ছ মনে রাখতে হবে।
- UNCAC নামের ভেতরেই দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল বিষয়টি স্পষ্ট করা আছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্নীতি দমনের প্রধান আইনগত দলিল হলো এই কনভেনশন।
- এই ধরনের প্রশ্ন থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ এবং সুশাসনের উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়।
সঠিক উত্তর: D) পরমতসহিষ্ণুতা
১. কেন সঠিক:
- গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগুরু মানুষের শাসন নয়, বরং ভিন্নমত ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার সুমহান ব্যবস্থা।
- অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নিজের মতের বাইরেও ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়াই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: পরমতসহিষ্ণুতা হলো নিজের বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্যের ভিন্ন মতামত ও বিশ্বাসকে শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সংঘাত এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্রয়োগ: নিজ মতাদর্শের বাইরে অন্য কারও যুক্তিপূর্ণ কথা শোনার ধৈর্য রাখা এবং তা শান্তভাবে মূল্যায়ন করা।
- সম্ভাব্য প্রভাব: সমাজ ও রাষ্ট্রে বহুমত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা পায় এবং সবার সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সহকর্মীদের ভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত মনোযোগ সহকারে শোনা।
ব্যাখ্যা: এটি গণতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং সবার অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানের সফলতা নিশ্চিত করে।
উদাহরণ ২: পরিবারে বা বন্ধুদের আড্ডায় কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনায় ভিন্ন মতকে আক্রমণ না করে তর্কে শালীন থাকা।
ব্যাখ্যা: এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার সুন্দর উদাহরণ তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য — অতিরিক্ত আনুগত্য অন্ধ অন্ধত্ব বা একনায়কতন্ত্রকে উৎসাহিত করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
B) স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন — এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত হলেও সামগ্রিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মানসিক ভিত্তি হলো সহনশীলতা।
C) শক্তিশালী রাজনৈতিক দল — রাজনৈতিক দল ক্ষমতা চর্চার মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া এটি গণতন্ত্রের মূল আত্মাকে রক্ষা করতে পারে না।
D) পরমতসহিষ্ণুতা — সঠিক উত্তর কারণ এটি গণতন্ত্রের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক ভিত্তি।
৫. মনে রাখার টিপস:
- গণতন্ত্রের প্রাণ হলো ভিন্ন মতকে জায়গা দেওয়া, তাই পরমতসহিষ্ণুতা হলো এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চেয়ে মানসিক উদারতাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূল চাবিকাঠি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রশ্নগুলোতে সহনশীলতা ও নাগরিক অধিকারের পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোভাবে বুঝতে হবে।
- একই নীতি থেকে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত বহু নির্বাচনী প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
১. কেন সঠিক:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক লাভ যুক্ত থাকলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।
- পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থান করা সুশাসন এবং সততার একটি মৌলিক নৈতিক নীতি।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: স্বার্থের সংঘাত হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন কর্মকর্তার পেশাগত দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
- গুরুত্ব: এটি জনস্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক মানদণ্ড।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি ক্রয় কর্মকর্তা যদি তার নিজের ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজের আদেশ দেন।
ব্যাখ্যা: এখানে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত পারিবারিক স্বার্থ সরকারি নিয়ম এবং জনস্বার্থের সরাসরি পরিপন্থী হয়েছে।
উদাহরণ ২: কোনো সরকারি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য যদি তার নিজ আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন বা নম্বর বাড়িয়ে দেন।
ব্যাখ্যা: এটি পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন এবং স্বার্থের সংঘাতের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি স্বার্থের সংঘাতের মূল সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
B) প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে — এটি রাজনৈতিক চাপ বা অনৈতিক প্রভাবের আওতাভুক্ত, তবে সরাসরি স্বার্থের সংঘাত নয়।
C) সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে — সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল লক্ষ্যই হলো সরকারি বা জনস্বার্থ রক্ষা করা, তাই এটি সংঘাতের কারণ নয়।
D) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে — এটি প্রশাসনিক আনুগত্য বা চাপের বিষয়, যা নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্য ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- স্বার্থের সংঘাত মানেই নিজের বা পরিবারের পকেট ভারী করার সুযোগ থাকা, যা সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
- নিজের লাভ যেখানে সরকারি কাজের সঙ্গে মিশে যায়, সেখানেই সংঘাতের জন্ম হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা এবং স্বার্থের সংঘাত এড়ানো অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত।
- একই নীতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে কীভাবে স্বার্থের সংঘাত দূর করা যায়, যার উত্তর হলো নিজেকে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা।
সঠিক উত্তর: B) নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
১. কেন সঠিক:
- দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল ভিত্তি হলো মানুষের ভেতরের নৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধ যা বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের আগেই অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
- নৈতিকতা মানুষকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি বিশ্বস্ত রাখে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে অভ্যন্তরীণ বাধা হিসেবে কাজ করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: নৈতিকতা হলো মানুষের ভালো ও মন্দের বিচার করার এবং সততা বজায় রাখার মানসিক শক্তি।
- গুরুত্ব: সমাজে আইনের কঠোরতা সত্ত্বেও যদি মানুষের নৈতিকতাবোধ না থাকে তবে দুর্নীতি বিভিন্ন উপায়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
- প্রয়োগ: সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দেওয়া।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি ফাইল আটকে রেখে ঘুষ দাবি না করে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সেবা প্রদান করেন, তবে তা তাঁর নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ।
ব্যাখ্যা: এখানে কর্মকর্তা নিজের পেশাগত দায়িত্ব ও সততাকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা দুর্নীতির পথ বন্ধ করে।
উদাহরণ ২: একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে তদারকি শিক্ষক না থাকলেও অসদুপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব মূল্যবোধের পরিচায়ক যা তাকে অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইনের প্রয়োগের অভাব — আইন দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করে কিন্তু নৈতিকতাহীন সমাজে মানুষ আইনকে ফাঁকি দেওয়ার পথ খুঁজে নেয়।
B) নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব — এটি সঠিক কারণ অভ্যন্তরীণ নৈতিক বলই মানুষকে দুর্নীতি থেকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে রক্ষা করে।
C) দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা — পরিবীক্ষণ বা নজরদারি না থাকলে অনিয়ম বাড়তে পারে, তবে এটি দুর্নীতির মূল কারণ নয় বরং সহায়ক পরিবেশ মাত্র।
D) অসৎ নেতৃত্ব — অসৎ নেতৃত্ব দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে পারে, কিন্তু নেতার অসততা সত্ত্বেও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক সমাজ দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারে।
৫. মনে রাখার টিপস:
দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রে বাহ্যিক আইন বা নজরদারির চেয়ে মানুষের ভেতরের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি থেকে নৈতিকতা এবং আইনের পারস্পরিক সম্পর্কের ধারণা পরিষ্কার হয়। একই নীতি থেকে সুশাসন ও দুর্নীতির কারণ সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) পরিবারে
১. কেন সঠিক:
- মানব শিশুর সামাজিকীকরণ এবং নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের প্রথম ও প্রধান সূতিকাগার হলো পরিবার। জন্মের পর শিশু পরিবার থেকেই ভালোবাসা, স্নেহ, সততা ও প্রাথমিক আচরণ শেখে।
- পরিবার হলো মানুষের প্রাথমিক সামাজিকীকরণ মাধ্যম। এখান থেকেই নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শিষ্টালাপের বীজ বপন হয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: পারিবারিক মূল্যবোধ হলো এমন কিছু নীতি ও বিশ্বাস যা একটি পরিবার তার সদস্যদের শেখায় এবং যা তাদের চরিত্র ও আচরণ গঠন করে।
- গুরুত্ব: এটি ব্যক্তির নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাকে একজন দায়িত্বশীল ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি শিশু প্রতিদিন তার বাবা-মাকে বড়দের সম্মান করতে দেখলে সেও বড়দের শ্রদ্ধা করতে শেখে।
ব্যাখ্যা: এখানে পারিবারিক অনুশাসনের প্রত্যক্ষ প্রভাব শিশুর নৈতিক আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখছে।
উদাহরণ ২: পরিবারের সবার সঙ্গে মিলেমিশে খাবার খাওয়া এবং ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শিশুর মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে।
ব্যাখ্যা: এই ছোট অভ্যাসগুলোই পরবর্তীতে সমাজের প্রতি সহানুভূতিশীল নাগরিক তৈরি করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সমাজে বসবাসের মাধ্যমে — সমাজ মানুষের সামাজিকীকরণের দ্বিতীয় ও বিস্তৃত ক্ষেত্র। তবে প্রাথমিক বিকাশ পরিবারেই ঘটে।
B) বিদ্যালয়ে — বিদ্যালয় হলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও গৌণ সামাজিকীকরণের মাধ্যম, যেখানে শিশু পরিবার থেকে শেখার পর প্রবেশ করে।
D) রাষ্ট্রের মাধ্যমে — রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার ও আইনকানুন নির্ধারণ করে, যা জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মানবীয় গুণাবলি শেখার প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। প্রাথমিক বা প্রথম শব্দ দেখলে উত্তর সব সময় পরিবার নির্বাচন করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রাথমিক সামাজিকীকরণ মাধ্যম হলো পরিবার এবং মাধ্যমিক সামাজিকীকরণ মাধ্যম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সমাজ। এই পার্থক্যটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) আবদুল গাফফার চৌধুরী
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গান রচয়িতাকে নির্দেশ করে।
- তরুণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের পর এই অমর পঙক্তিমালা রচনা করেছিলেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউরসহ অনেকে শহিদ হন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল প্রাঙ্গণে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম জানাজার পর এই শোক ও দ্রোহের গানটির প্রাথমিক রূপ রচিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই গানটি বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
ব্যাখ্যা: পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদ এই গানে নতুন সুরারোপ করেন যা আজও গাওয়া হয়।
উদাহরণ ২: ভাষা আন্দোলনের ওপর রচিত প্রথম সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি।
ব্যাখ্যা: হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত এই সংকলনটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় যেখানে ভাষা আন্দোলনের বহু রচনা স্থান পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুনীর চৌধুরী — তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কবর নাটক রচনা করেছিলেন কিন্তু এই গানের রচয়িতা নন।
B) জহির রায়হান — তিনি ভাষা আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে জীবন থেকে নেওয়া বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন।
D) কাজী নজরুল ইসলাম — তিনি বাংলা বিদ্রোহী কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রলয় উল্লাস কবিতার রচয়িতা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একুশের গান রচয়িতা গাফফার চৌধুরী মনে রাখতে পারেন গাফফার শব্দ দিয়ে গান লেখার গ অক্ষর মিলিয়ে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের স্মরণে এই গানটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- গানটির বর্তমান সুরকার কে এবং কোন চলচ্চিত্রে এটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল তা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদদের নাম এবং তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) আবুল কাশেম
১. কেন সঠিক:
- তমুদ্দন মজলিশ বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও অনন্য।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এই বিতর্ক শুরু হলে সংগঠনটি বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার দাবিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রথম স্মারকলিপি পেশ করে।
ব্যাখ্যা: এই ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও যুবসমাজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করে।
উদাহরণ ২: ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে তমদ্দুন মজলিশ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু না বাংলা শীর্ষক একটি ঐতিহাসিক পুস্তিকা প্রকাশ করে।
ব্যাখ্যা: এই পুস্তিকাটিতে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হয়, যা ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাজী শরিয়তউল্লাহ — ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রিটিশবিরোধী সংস্কারক, যিনি তমদ্দুন মজলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
B) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক — অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক, তবে তিনি এই সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নন।
C) আবুল কাশেম — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও তরুণ যুবকদের সংগঠিত করে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
D) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী — মওলানা ভাসানী মজলুম জননেতা ও কাগমারী সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন, কিন্তু তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা নন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৪৭ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম এটি মনে রাখার জন্য নাম ও সংগঠনের প্রথম অক্ষর মিলাতে পারো।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর নাম সবসময় আবুল কাশেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- তমদ্দুন মজলিশ কত সালে গঠিত হয় এবং এর মুখপত্র ছিল কী, তা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংক্রান্ত পুস্তিকা কে প্রকাশ করেন বা কত তারিখে এটি প্রকাশিত হয়, এমন প্রশ্নও হতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
১. কেন সঠিক:
- ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ তারিখে এক প্রস্তাবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের উদ্যোগে ভাষা শহীদদের স্মরণে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছিল। শহীদদের আত্মত্যাগের সেই দিনটি আজ সারা বিশ্বে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার দিন হিসেবে পালিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বাঙালির ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসন লাভ করে। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন।
উদাহরণ ২: ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, যা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মারক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৮ নভেম্বর ১৯৯৯ — এই তারিখে ইউনেস্কোর সাধারণ সভা চলছিল, তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সুনির্দিষ্ট তারিখ এটি নয়।
B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ — এই তারিখটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটিই সঠিক উত্তর।
C) ১৯ নভেম্বর ২০০১ — এই সালটি সঠিক নয় কারণ স্বীকৃতি ১৯৯৯ সালেই প্রদান করা হয়েছিল।
D) ২০ নভেম্বর ২০০১ — এই তারিখের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার কোনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সালটি মনে রাখতে ১৯৯৯ সংখ্যাটি মনে রাখুন এবং মাস নভেম্বর।
- বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ঠিক আগের মাসেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি মিলেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটি ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক অর্জন উভয় বিষয়ের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে কত সালে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়, যার উত্তর হবে ২০০০ সাল।
সঠিক উত্তর: D) সোনার তরী
১. কেন সঠিক:
- সোনার তরী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতা এবং কাব্যগ্রন্থ।
- এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোনো সাহিত্যকর্ম নয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নিদর্শন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: এই গ্রন্থের রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি আমাদের জাতীয় সংগীতের ও রচয়িতা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী কবিতা
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পরিচিত কবিতা যা তাকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
উদাহরণ ২: মানসী কবিতা
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত যা তার সাহিত্য সাধনার রূপান্তরের যুগকে নির্দেশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যথার দান — এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
B) দোলনচাঁপা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ যা ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
C) শিউলি মালা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন যা ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
D) সোনার তরী — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এবং সঠিক উত্তর কারণ এটি নজরুল ইসলামের নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বখ্যাত সৃষ্টির মধ্যে সোনার তরী অন্যতম আর নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ ব্যথার দান।
কবিদের প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো আলাদা করে ছক আকারে পড়লে এমন প্রশ্নে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা এবং প্রথম প্রকাশিত গল্প ব্যথার দান।
একই বিষয় থেকে অন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস কোনটি এমন প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
১. কেন সঠিক:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান ১৯৭১ সালের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় মোট ছয়জন সদস্য ছিলেন এবং তাদের মধ্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার।
এই সরকারে এ এইচ এম কামরুজ্জামান ত্রাণ ও পুনর্বাসন ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও ভূমিকা রেখেছিলেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা: তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
উদাহরণ ২: এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা: তিনি এই সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তাজউদ্দিন আহমেদ — তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন না।
B) এ এইচ এম কামরুজ্জামান — এটি সঠিক উত্তর, তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
C) সৈয়দ নজরুল ইসলাম — তিনি মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
D) এম মনসুর আলী — তিনি মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
কামরুজ্জামান নামটি ত্রাণের সাথে মিলিয়ে মনে রাখতে পারেন কারণ তিনি যুদ্ধাহত মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার অন্য মন্ত্রীদের দপ্তরগুলো আলাদা করে তালিকাভুক্ত করলে পরীক্ষার হলে কনফিউশন হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন থেকে প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভালোভাবে মনে রাখা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: C) ১৭৫ জন
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসীম সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত করা হয় মোট ৪২৬ জনকে।
এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীর বিক্রম প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হলো ১৭৫ জন।
২. মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ও প্রেক্ষাপট:
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার চারটি বীরত্বসূচক খেতাব ঘোষণা করে।
এই খেতাবগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা
ব্যাখ্যা: সেক্টর কমান্ডার এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা এই খেতাবগুলোর মাধ্যমে ভূষিত হয়েছিলেন যা তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।
উদাহরণ ২: খেতাবের স্তরবিন্যাস
ব্যাখ্যা: সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন এবং সর্বনিম্ন খেতাব বীর প্রতীক ৪২৬ জন, যা পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৭ জন — এটি বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব।
B) ৬৮ জন — এটি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সংখ্যা।
D) ৪২৬ জন — এটি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা, যা এই তালিকার চতুর্থ খেতাব।
৫. মনে রাখার টিপস:
মুক্তিযুদ্ধের খেতাবগুলো মনে রাখার সহজ ক্রম হলো ৭, ৬৮, ১৭৫, ৪২৬।
এই ক্রমটি যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকের সংখ্যা নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এবং প্রতিটি খেতাবপ্রাপ্তের আলাদা সংখ্যা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) Bangladesh Standards and Testing Institution
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো BSTI বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই প্রতিষ্ঠানটি শিল্পপণ্যের মান প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রণ, এবং পণ্যের মান সঠিক রাখতে মেট্রোলজি বা পরিমাপ বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- প্রতিষ্ঠান ও আইন: BSTI ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা ও পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা এর মূল কাজ।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন
ব্যাখ্যা: এটি দেশের বাজারে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের গুণগত মান যাচাই করে বিএসটিআই লোগো বা সার্টিফিকেট প্রদান করে।
উদাহরণ ২: নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা: বিএসটিআই-এর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে কাজ করে, যা শিক্ষার্থীর মানসম্মত জীবনযাত্রার ধারণা স্পষ্ট করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Bangladesh Salt Testing Institute — এই নামে বাংলাদেশের কোনো সরকারি বা জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই।
B) Bangladesh Strategic Training Institute — এটি কৌশলগত প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কোনো সরকারি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম নয়।
C) Bangladesh Standards and Testing Institution — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই নামেই পরিচিত।
D) Bangladesh Socity for Telecommunication and Information — এটি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনো মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিএসটিআই (BSTI) নামের শেষের শব্দ দুটি হলো স্ট্যান্ডার্ডস (Standards) এবং টেস্টিং (Testing), যা মান ও পরীক্ষা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে, যা বাণিজ্য ও উৎপাদনের মান রক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের ইংরেজি পূর্ণরূপ হিসেবে প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে বিএসটিআই কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বা কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, এমন প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) এককেন্দ্রিক
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সব ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।
- এ ধরনের সরকার ব্যবস্থায় দেশের সব প্রশাসনিক ও আইনগত ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
সংবিধান ও আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ১ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশকে একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থার ফলে দেশের সব অঞ্চলে সমভাবে আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা: এটি দেশের একমাত্র আইনসভা, যা পুরো দেশের জন্য এককভাবে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
উদাহরণ ২: জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: জেলাগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়, যা এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার বাস্তব রূপ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এককেন্দ্রিক — এটি সঠিক কারণ সংবিধানে রাষ্ট্রকে একক রাষ্ট্র বলা হয়েছে।
B) যুক্তরাষ্ট্রীয় — যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ভাগ করা থাকে, যা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
C) রাজতন্ত্র — বাংলাদেশে রাজতন্ত্র নেই, কারণ এটি একটি গণপ্রজাতন্ত্র যেখানে জনগণই ক্ষমতার উৎস।
D) রাষ্ট্রপতিশাসিত — বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা অনুসরণ করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ নামের আগে গণপ্রজাতন্ত্র শব্দটির সাথে এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা মনে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আমেরিকা বা ভারতে আছে, বাংলাদেশে নেই।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদ এবং সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। একই বিষয় থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার সম্পর্কেও প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ১০২
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোনো aggrieved বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিট জারির মাধ্যমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা রাখে।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এবং এই অনুচ্ছেদ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে।
২. সংবিধান ও আইন:
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ: হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার নিশ্চিত করে।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগ: অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোনো নাগরিককে বেআইনিভাবে আটক করলে হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দিপ্রদর্শন রিট করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক হাতিয়ার।
উদাহরণ ২: সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ আইনবহির্ভূত আদেশ দিলে পরমাদেশ বা ম্যান্ডামাস রিট করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে ১০২ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪৪ — এই অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা ১০২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হলেও সরাসরি মামলা বা রিট করার এখতিয়ার ১০২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
B) ৪৭ — এই অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট কিছু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলেও তা অসাংবিধানিক হবে না মর্মে বিধান রাখা হয়েছে।
D) ১০৩ — এই অনুচ্ছেদে আপিল বিভাগের এখতিয়ার সম্পর্কে বলা হয়েছে, যা হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৫. মনে রাখার টিপস:
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ১০২ অনুচ্ছেদ।
সংখ্যার দিক থেকে ১০২ মনে রাখলে রিট ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সহজে মাথায় আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের সংবিধানে রিট কয়টি এবং কী কী, তা প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে রিট আবেদন করার এখতিয়ার কোন আদালতের, এই ধরনের প্রশ্ন বারবার বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: C) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
১. কেন সঠিক:
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ একটি আর্থ অবজারভেশন বা ভূ-অবলোকনকারী স্যাটেলাইট হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের ভূখণ্ড, বনভূমি, সমুদ্রসীমা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ছবি সংগ্রহ এবং নজরদারি করা সম্ভব হবে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: [প্রযোজ্য ক্ষেত্রে]
প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বা বিএসসিএল এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট যা ২০১৮ সালে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং মূলত সম্প্রচার ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা: আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্ত ব্যবহার করে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও কৃষি গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট — এটি ভুল কারণ প্রথম স্যাটেলাইটটি কমিউনিকেশন বা যোগাযোগভিত্তিক ছিল, কিন্তু দ্বিতীয়টি ভিন্ন উদ্দেশ্যে তৈরি।
B) ওয়েদার স্যাটেলাইট — এটি ভুল কারণ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা আবহাওয়া স্যাটেলাইট থাকে, যদিও এর উপাত্ত আবহাওয়া গবেষণায় কাজে লাগে।
C) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট — এটি সঠিক কারণ এই স্যাটেলাইটের মূল কাজ ভূপৃষ্ঠের ছবি তোলা ও পর্যবেক্ষণ করা।
D) ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট — এটি ভুল কারণ ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট মূলত জিপিএস বা দিক নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বঙ্গবন্ধু-১ হলো যোগাযোগের জন্য বা কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।
বঙ্গবন্ধু-২ হলো নজরদারির জন্য বা আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয় ১২ মে ২০১৮ সালে।
একই বিষয় থেকে পরীক্ষক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এসপারসো বা স্পারসো এবং স্যাটেলাইটের ব্যবহারের ক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।
সঠিক উত্তর: C) ১ জুলাই ২০১৫
১. কেন সঠিক:
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিমাপ করার জন্য মাথাপিছু আয়ের মাপকাঠি ব্যবহার করে থাকে।
- ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক তাদের বার্ষিক হালনাগাদ তথ্যে বাংলাদেশকে নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করে।
২. অর্থনীতি, শিল্প, অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের দেশের তালিকায় থাকার পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স এবং জিডিপি বৃদ্ধির ফলে এই মাইলফলক অর্জন করে।
- বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড: বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর ১ জুলাই তাদের নতুন অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করে, যা মূলত আগের বছরের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের (GNI per capita) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রূপান্তরের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা বিশ্বব্যাংকের নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পর আরও গতিশীল হয়।
উদাহরণ ২: রূপকল্প ২০২১ এবং বর্তমান এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
ব্যাখ্যা: অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ জুন ২০১৪ — এই তারিখে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি কারণ তখন দেশের মাথাপিছু আয় এই স্তরে পৌঁছায়নি।
B) ১ জুন ২০১৫ — মাস সঠিক হলেও তারিখটি ১ জুন নয় বরং ১ জুলাই ছিল, যা বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক হিসাব প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন।
D) ১ জুলাই ২০১৬ — এই সালের ১ জুলাইয়ের পরিবর্তে বাংলাদেশ এক বছর আগেই অর্থাৎ ২০১৫ সালেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সালটি মনে রাখতে ২০১৫ সংখ্যাটি মনে রাখুন এবং মাসটি সবসময় ১ জুলাই ধরুন যা বিশ্বব্যাংকের হিসাব বছর পরিবর্তনের মাস।
- নিম্নমধ্যম আয়ের সিঁড়িতে বাংলাদেশ পা রেখেছে ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিশ্বব্যাংক কবে বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করে তা বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে বর্তমান বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত বা পরবর্তী উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা কবে কার্যকর হবে।
সঠিক উত্তর: D) ৬.৯৪%
প্রদত্ত তথ্য:
বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ধরি,
উক্ত অর্থবছরের প্রাথমিক ও সংশোধিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করা হয়।
অতএব,
বিবিএস বা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি পরিমাপ করা হয়।
সুতরাং,
সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে প্রবৃদ্ধির হার হিসাব করা হয়।
উত্তর: ৬.৯৪%
সঠিক উত্তর: C) ১৯৭৪ সালে
১. কেন সঠিক:
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি বা জনগণনা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
এই শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত নবগঠিত দেশের সঠিক জনসংখ্যা, জনমিতি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
জনসংখ্যা, জনগণনা ও জনমিতি:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার পর দেশের আর্থসামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি সঠিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
তারিখ ও স্থান: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি পরিচালিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)
ব্যাখ্যা: ১৯৭৪ সালের আদমশুমারি সফল করার পর ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস গঠিত হয় যা বর্তমানে দেশের সব শুমারি পরিচালনা করে।
উদাহরণ ২: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
ব্যাখ্যা: এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জনশুমারি, যার মাধ্যমে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখে উন্নীত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৭২ সালে — এই বছরে কোনো আদমশুমারি হয়নি কারণ দেশ তখন সদ্য স্বাধীন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল।
B) ১৯৭৩ সালে — এই বছর প্রথম আদমশুমারির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও মূল গণনা শুরু হয়নি।
D) ১৯৭৫ সালে — এই বছর প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি বরং ১৯৭৪ সালের শুমারির কাজ সমাপ্ত হয় এবং পরিসংখ্যান সংস্থা গঠিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্বাধীনতার ঠিক তিন বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সালটি মনে রাখার জন্য মনে রাখতে হবে ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম জনগণনা হয় এবং ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারির সময় দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ১৫ লাখ।
একই বিষয় থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে যে স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কয়টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর: D) সিয়েরা লিওন
১. কেন সঠিক:
- পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম দাপ্তরিক বা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- ২০০২ সালে দেশটির গৃহযুদ্ধের অবসানের পর শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে সিয়েরা লিওনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজান কাব্বা বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম প্রধান ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন।
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশি সেনারা সিয়েরা লিওনে মানবিক ও পুনর্গঠনমূলক কাজ করেছিলেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
ব্যাখ্যা: মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও গবেষণার জন্য বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে।
উদাহরণ ২: একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।
ব্যাখ্যা: ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাইবেরিয়া — এটি আফ্রিকার একটি প্রাচীন প্রজাতন্ত্র এবং এর সরকারি ভাষা ইংরেজি।
B) নামিবিয়া — এটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি দেশ এবং এর সরকারি ভাষা ইংরেজি।
C) হাইতি — এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ এবং এর সরকারি ভাষা ফ্রেঞ্চ ও হাইতিয়ান ক্রেওল।
D) সিয়েরা লিওন — এই দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
আফ্রিকার যে দেশটি শান্তিরক্ষীদের সম্মানে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তার নাম সিয়েরা লিওন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও বাংলাদেশ বিষয়াবলি উভয় অংশ থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) ৪৮
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী দেশের তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা ৪৮।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, আদিবাসী ও সম্প্রদায়সমূহের সংস্কৃতি রক্ষা ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
২. জনসংখ্যা, জনগণনা ও জনমিতি:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেশের সব নাগরিককে বাঙালি হিসেবে পরিচিত করার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে পাহাড়ি ও সমতলের জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক স্বকৃতি নিশ্চিত করা হয়।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: সংবিধানে তাদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি ও আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চাকমা সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা: চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং এরা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে।
উদাহরণ ২: সাঁওতাল সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা: সাঁওতালরা প্রধানত উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী একটি ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০ — এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলে না।
B) ৪৮ — এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা।
C) ২৫ — এই সংখ্যাটি কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা হিসেবে স্বীকৃত নয়।
D) ৩২ — অতীতে বিভিন্ন বইপত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন সংখ্যা প্রচলিত থাকলেও তা সরকারি গেজেটভুক্ত সংখ্যা নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি সংখ্যা মনে রাখতে আচল শব্দটির সাহায্য নেওয়া যায় যেখানে আট ও চল্লিশের শেষ অঙ্কটি মিলে যায়।
- সংবিধানে তাদের সংস্কৃতির কথা ২৩ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যা সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা বা তাদের সংবিধানিক স্বীকৃতি সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- কোন অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধান, তা থেকেও প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) ধূমকেতু
১. কেন সঠিক:
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা 'ধূমকেতু' প্রকাশিত হলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির সাফল্য কামনা করে আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন।
এই আশীর্বাণীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় 'ধূমকেতু' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই এবং এর প্রথম পাতার সম্পাদকীয় ও কবিতা বাংলা সাহিত্যকে নাড়া দিয়েছিল।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুলের বিদ্রোহী কবি রূপটি পূর্ণতা পায় এবং ব্রিটিশবিরোধী লেখার কারণে পরবর্তীতে পত্রিকাটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা
ব্যাখ্যা: ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয় নজরুলের বিখ্যাত 'বিদ্রোহী' কবিতাটি, যা বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
উদাহরণ ২: রাজদ্রোহের মামলা
ব্যাখ্যা: ধূমকেতু পত্রিকায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা প্রকাশের কারণে ১৯২২ সালের ডিসེম্বরে নজরুলের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সবুজপত্র — এটি প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা চলিত রীতির বাহন হিসেবে পরিচিত একটি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা যা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
B) শনিবারের চিঠি — এটি সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত একটি প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা যা মূলত ব্যঙ্গ ও সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিল।
C) কল্লোল — এটি দীনেশচন্দ্র দাশ সম্পাদিত একটি আধুনিক সাহিত্য পত্রিকা যা ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং কল্লোল যুগ সৃষ্টি করে।
D) ধূমকেতু — এটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত বিদ্রোহী চেতনার পত্রিকা যার প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
নজরুলের তেজস্বী পত্রিকা ধূমকেতু প্রকাশের কথা মনে রাখলেই রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণীর বিষয়টি মাথায় আসবে।
মনে রাখতে হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধূমকেতু পত্রিকার জন্যই আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু বাণীটি দিয়েছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে এবং এর সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
একই বিষয় থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় কোন কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল অথবা এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন।
সঠিক উত্তর: C) ৪টি
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের উভয় পাশে ধানের শীষ দ্বারা বেষ্টিত পাটের বৃত্তাকার ফুল রয়েছে এবং এর ওপর পাটগাছের তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা সংযুক্ত আছে।
- সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের ৪ নং উপ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীকের বিবরণ ও এর সাংবিধানিক গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
জাতীয় প্রতীক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট:
- সাংবিধানিক বিধান: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪ অনুচ্ছেদের (৩) উপ অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের বিষয়ে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হলো উভয় পার্শ্বে ধানের শীষ দ্বারা বেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার ওপর পাটগাছের তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই চারটি তারকা দ্বারা ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল চারটি মূলনীতি অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে যা বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
ব্যাখ্যা: জাতীয় পতাকায় যেমন সবুজের মাঝে একটি লাল বৃত্ত থাকে যা উদীয়মান সূর্য এবং রক্তকে নির্দেশ করে, তেমনি জাতীয় প্রতীকে থাকা চারটি তারকা রাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শের প্রতীক।
উদাহরণ ২: বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা
ব্যাখ্যা: জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পানিতে ভাসমান শাপলা ফুল, যা দেশের জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২টি — বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে তারকার সংখ্যা দুটি নয় বরং চারটি, তাই এটি ভুল।
B) ৩টি — তিনটি তারকা বোঝাতে পাটগাছের তিনটি পাতাকে বোঝানো হতে পারে কিন্তু তারকার সংখ্যা মোট চারটি, তাই এটি সঠিক নয়।
C) ৪টি — এটি সঠিক কারণ জাতীয় প্রতীকে উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা রয়েছে যা চারটি মূলনীতিকে নির্দেশ করে।
D) ৫টি — বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে পাঁচটি তারকা থাকে না, তাই এই অপশনটি ভুল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জাতীয় প্রতীকের তারকা মনে রাখার সহজ উপায় হলো সংবিধানের মূলনীতি চারটি এবং প্রতীকে তারকার সংখ্যাও ঠিক চারটি।
- অনেকেই জাতীয় পতাকার লাল বৃত্তের সঙ্গে জাতীয় প্রতীকের তারকা গুলিয়ে ফেলেন, তাই পাতার দুই পাশের চারটি তারকা আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জাতীয় প্রতীকের উপাদান বা সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন আসে।
- একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন হতে পারে যে, জাতীয় প্রতীকে নিচের কোনটি অনুপস্থিত বা জাতীয় প্রতীকের শাপলা ফুলটি কোনটির ওপর অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: D) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
১. কেন সঠিক:
- ছয় দফা দাবি ছিল বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের সনদ এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে পেশ করা হয়।
- পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বাঙালি জাতির পক্ষে এই ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার চরম শূন্যতা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই দাবি তৈরি হয়।
- তারিখ ও স্থান: পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক কনভেনশনে ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লাহোরে এই প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা: ছয় দফা দাবির জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পেয়ে আইয়ুব খানের সরকার বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল।
উদাহরণ ২: ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা: ছয় দফার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী পতন ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ — এটি ঐতিহাসিক ভাষা শহীদ দিবস এবং এই দিন পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) ২২ মার্চ ১৯৫৮ — এই তারিখে তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিশেষ কোনো ছয় দফা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেনি।
C) ২০ এপ্রিল ১৯৬২ — এই তারিখে ঐতিহাসিক কোনো ছয় দফা বা স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত যুগান্তকারী ঘোষণা আসেনি।
D) ২৩ মার্চ ১৯৬৬ — এটি সঠিক তারিখ কারণ এই দিন লাহোরে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা পেশ করা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ছয় দফা দিবস পালিত হয় ৭ জুন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পেশ করা হয়েছিল ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে।
- সালটি মনে রাখতে ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ তারিখটি বারবার চর্চা করতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ছয় দফা কে পেশ করেছিলেন এবং কোথায় পেশ করেছিলেন, এই দুটি প্রশ্ন পরীক্ষায় খুব বেশি আসে।
- এই একই বিষয় থেকে ছয় দফার প্রথম দফা কি ছিল বা এটি কবে উত্থাপন করা হয়, এমন প্রশ্ন থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ৭ মার্চ ১৯৭১
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেন।
- এই ভাষণে তিনি মুক্তির সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে পুরো বাংলাদেশ অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাল সাগরে পরিণত হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই ভাষণ দেওয়া হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার একটি অঘোষিত ঘোষণা, যা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
ব্যাখ্যা: ৭ মার্চের ভাষণের ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়, যা সশস্ত্র যুদ্ধের রূপ নেয়।
উদাহরণ ২: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন।
ব্যাখ্যা: ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনায় পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তির জন্য এই অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৬ মার্চ ১৯৭১ — এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এই দিন রাতে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
B) ৭ মার্চ ১৯৭১ — এটি সঠিক উত্তর। এই দিনে জাতির পিতা ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
C) ৩ মার্চ ১৯৭১ — এই দিনে পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়।
D) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ — এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ৭ মার্চ মনে রাখার সহজ উপায় হলো ৭ সংখ্যাটির সঙ্গে ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটিকে চিরতরে মনে গেঁথে নেওয়া। এটি স্বাধীনতার ঠিক ঊনবিংশ দিন আগের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
- ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ৭ মার্চের ভাষণ কবে অন্তর্ভুক্ত হয়, এই টাইপের প্রশ্নও এখান থেকে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) বান্দরবান
১. কেন সঠিক:
জুম চাষ হলো পাহাড়ি অঞ্চলের এক ঐতিহ্যগত ও প্রাচীন কৃষিপদ্ধতি, যা বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে চর্চা করা হয়।
বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম পাহাড়ি জেলা হওয়ায় এখানে জুম চাষের প্রচলন সবচেয়ে বেশি এবং এটি এই অঞ্চলের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা।
২. ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট:
ভৌগোলিক অবস্থান: জুম চাষ মূলত পাহাড়ি ও বনাঞ্চলপ্রধান ভূমিতে করা হয়, যেখানে সমতল ভূমির স্বল্পতা রয়েছে।
জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি: পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, ম্রো ও লুসাইসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এই চাষপদ্ধতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পরিবেশগত প্রভাব: পাহাড়ের ঢাল কেটে সাময়িকভাবে ফসল ফলানোর এই পদ্ধতি পাহাড়ি জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির একটি অন্যতম মূল ভিত্তি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা: বান্দরবানের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের এই জেলাগুলোতেও জুম চাষ করা হয়, কারণ এখানকার ভূপ্রকৃতি ও পাহাড়ি পরিবেশ জুম চাষের সম্পূর্ণ উপযোগী।
উদাহরণ ২: পাহাড়ি ঝিরি ও জুম ঘর
ব্যাখ্যা: জুম চাষের সময় কৃষকরা পাহাড়ের ওপরে অস্থায়ী জুম ঘর তৈরি করে বসবাস করেন এবং পাহাড়ি ঝিরির পানির ওপর নির্ভর করে ফসল ফলান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বান্দরবান — এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি জেলা এবং জুম চাষের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর।
B) ময়মনসিংহ — এটি সমতল ও প্লাবনভূমি এলাকা হওয়ায় এখানে জুম চাষ করা হয় না, বরং এখানে সাধারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়।
C) রাজশাহী — এটি বরেন্দ্রভূমি ও পলিগঠিত সমতল অঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে জুম চাষের কোনো সুযোগ বা ভৌগোলিক পরিবেশ নেই।
D) দিনাজপুর — এটি তিস্তা অববাহিকার সমতল ও পললসমৃদ্ধ কৃষিজমি হওয়ায় এখানে স্থায়ী পদ্ধতিতে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
পাহাড়ি জেলা বললেই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম মনে রাখতে হবে, যার মধ্যে বান্দরবান জুম চাষের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত।
সমতল জেলাগুলোতে জুম চাষ হয় না, এটি শুধু পাহাড়ি ঢালের কৃষিপদ্ধতি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জুম চাষ কোন অঞ্চলের প্রধান কৃষি তা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং উপজাতীয় সংস্কৃতির ওপর থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা থাকে।
সঠিক উত্তর: D) মৌলভীবাজার
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের বিন্যাস অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান ও চা উৎপাদিত হয়।
- দেশের মোট চা বাগানের সিংহভাগ এই জেলা এবং এর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত হওয়ায় একে চায়ের রাজধানী বলা হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ: মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়ি ঢাল, উর্বর মাটি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সংশ্লিষ্ট তথ্য: ব্রিটিশ আমলে আসামের আদলে সিলেটে প্রথম চা চাষ শুরু হলেও বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শ্রীমঙ্গল
ব্যাখ্যা: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান ও চা গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত।
উদাহরণ ২: পঞ্চগড় চা চাষ
ব্যাখ্যা: উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড় জেলায় সমতল ভূমিতে চা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী সিলেটের বাইরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চট্টগ্রাম — এই জেলায় কিছু চা বাগান থাকলেও তা মৌলভীবাজারের তুলনায় অনেক কম এবং এটি মূলত বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক এলাকার জন্য পরিচিত।
B) সিলেট — সিলেটে চা বাগান থাকলেও সংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে মৌলভীবাজারের পরেই এর অবস্থান।
C) পঞ্চগড় — এটি উত্তরবঙ্গের সমতল ভূমির চা চাষের জন্য পরিচিত হলেও এখানে মৌলভীবাজারের তুলনায় চা বাগানের সংখ্যা কম।
D) মৌলভীবাজার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে দেশের সর্বাধিক সংখ্যক চা বাগান রয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
চা বাগান বেশি কোথায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তা খুঁজে পাওয়া যায়। সিলেট বিভাগে চা বেশি হলেও জেলার দিক থেকে মৌলভীবাজার সবার আগে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে, তা বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। একই বিষয় থেকে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত, এমন প্রশ্নও হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) অনুচ্ছেদ ৪১
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এই ভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা হলো অনুচ্ছেদ ৪১, যা দেশের সকল নাগরিককে নিজ ধর্ম পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করে।
২. সংবিধান ও আইন:
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার আইনি অধিকারও এই অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশে দুর্গাপূজা, ঈদুল ফিতর বা বড়দিনের মতো ধর্মীয় উৎসবগুলোতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ এর বাস্তব প্রয়োগ, যেখানে রাষ্ট্র সকল ধর্মের নাগরিকদের স্বাধীনভাবে উৎসব পালনের সুযোগ করে দেয়।
উদাহরণ ২: দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা থাকে না।
ব্যাখ্যা: এই অধিকারটি নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী অনুচ্ছেদ ৪১ থেকে এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অনুচ্ছেদ ৩৮ — এই অনুচ্ছেদে দেশের নাগরিকদের সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
B) অনুচ্ছেদ ৫০ — এই অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, যা শিক্ষা সংক্রান্ত নীতির সঙ্গে যুক্ত।
C) অনুচ্ছেদ ৪১ — এটি সঠিক উত্তর এবং এই অনুচ্ছেদেই নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
D) অনুচ্ছেদ ১০০ — এই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী আসন সংক্রান্ত বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
মৌলিক অধিকারের অনুচ্ছেদগুলো মনে রাখতে সংখ্যাগুলোর ক্রম মনে রাখা জরুরি। অনুচ্ছেদ ৪১ এর ক্ষেত্রে চ দিয়ে চল্লিশ এবং এক যোগ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা অর্থাৎ ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই সংবিধানের মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো থেকে প্রশ্ন আসে। অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারের আওতাভুক্ত, তাই এই অনুচ্ছেদগুলোর মূল বিষয়বস্তু ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) সেবা
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘকাল ধরে আমাদের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক হলেও সময়ের বিবর্তনে সেবা ও শিল্প খাতের গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. অর্থনীতি, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন:
অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তরের ফলে বাংলাদেশের জিডিপিতে সেবা খাতের অংশ প্রায় ৫০ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, পরিবহন, আবাসন ও পাইকারি বা খুচরা ব্যবসা এই খাতের অন্তর্ভুক্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাংকিং, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাপক বিস্তার।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক অর্থনীতিতে সেবা খাতের পরিধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কীভাবে দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে।
উদাহরণ ২: তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশ।
ব্যাখ্যা: এটি তরুণ সমাজকে সেবা খাতের সাথে যুক্ত করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে সাহায্য করছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষি — এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত প্রধান খাত হলেও জিডিপিতে এর অবদান এখন সেবা ও শিল্প খাতের পরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
B) শিল্প — এই খাতের অবদান জিডিপিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
C) বাণিজ্য — এটি মূলত সেবা ও শিল্প খাতের একটি অংশ বা উপখাত হিসেবে পরিগণিত হয়, স্বতন্ত্রভাবে জিডিপির প্রধান চালিকাশক্তি নয়।
D) সেবা — এটি জিডিপির প্রধান অবদানকারী খাত এবং এটি দেশের মোট উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি সংযোজন করে থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে সেবা খাত। এটি মনে রাখতে সেবা শব্দটি মাথায় রাখলেই চলবে, কারণ সেবামূলক কাজের পরিধি আমাদের দেশে সবচেয়ে ব্যাপক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জিডিপিতে কোন খাতের অবদান কত শতাংশ, তা বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই বিষয় থেকে জিডিপিতে কৃষি ও শিল্প খাতের বর্তমান অবস্থান বা ক্রম নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) সুপ্রিম কোর্ট
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সংবিধান দেশের প্রজাতন্ত্রের মৌলিক আইন।
সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
২. সংবিধান ও আইন:
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার এবং প্রজাতন্ত্রের যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা আদেশ জারির ক্ষমতা রাখে।
সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ষোড়শ সংশোধনী মামলা।
ব্যাখ্যা: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই রায়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংশোধনীটি অবৈধ ঘোষণা করে সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা।
ব্যাখ্যা: সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাতীয় সংসদ — এটি দেশের আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা রাখে, কিন্তু সংবিধানের অভিভাবক বা রক্ষক নয়।
B) শাসন বিভাগ — দেশের শাসনকার্য পরিচালনা এবং আইন প্রয়োগ করা এর কাজ, যা সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যার অধীনস্থ।
D) আইন মন্ত্রণালয় — এটি সরকারের একটি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় যা আইন প্রণয়নে সহায়তা করে এবং বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করে, কিন্তু সংবিধানের রক্ষক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
আইন তৈরি করে সংসদ আর আইন রক্ষা বা ব্যাখ্যা করে আদালত।
সংবিধানের রক্ষক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নাম মনে রাখলে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংবিধানের অভিভাবক কে এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত প্রশ্নও হতে পারে, যেমন সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে।
সঠিক উত্তর: A) পুণ্ড্র
১. কেন সঠিক:
- পুণ্ড্র হলো বাংলার প্রাচীনতম জনপদ, যার প্রমাণ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক গ্রন্থে পাওয়া যায়।
- বর্তমান বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদ গড়ে উঠেছিল এবং এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা বর্তমান মহাস্থানগড়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীনকালে বাংলা একখণ্ড দেশ ছিল না, বরং ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল যাকে জনপদ বলা হতো।
- স্থান: বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ বা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে পুণ্ড্র জনপদ গঠিত ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা: এটি পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধনের ধ্বংসাবশেষ, যা প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
উদাহরণ ২: সম্রাট অশোকের শিলালিপি
ব্যাখ্যা: মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপিতে পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর উল্লেখ রয়েছে, যা এই অঞ্চলের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুণ্ড্র — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হিসেবে স্বীকৃত।
B) তাম্রলিপ্ত — এটি প্রাচীন বাংলার অন্যতম জনপদ এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল, তবে পুণ্ড্রর চেয়ে প্রাচীন নয়।
C) গৌড় — এটি প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত জনপদ ও রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল, যা পুণ্ড্রর অনেক পরে পরিচিতি লাভ করে।
D) হরিকেল — এটি প্রাচীন বাংলার পূর্ব অংশের একটি জনপদ ছিল, যা বর্তমান সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রাচীনতম জনপদ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো পুণ্ড্র মানেই প্রথম।
- পুণ্ড্র দিয়ে প তে প্রথম এবং প তে পুণ্ড্র মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রাচীন জনপদের নাম ও তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানীর নাম কী ছিল, এই ধরনের প্রশ্ন বারবার বিভিন্ন পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: C) বঙ্গ
১. কেন সঠিক:
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে বঙ্গ ছিল অন্যতম শক্তিশালী ও জনবহুল একটি অঞ্চল। বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ এবং পটুয়াখালী অঞ্চল নিয়ে প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ছোট ছোট জনপদে বিভক্ত ছিল এবং এদের মধ্যে বঙ্গ জনপদের নাম মহাভারতেও উল্লেখ পাওয়া যায়। ঋগ্বেদের ঐতরেয় আরণ্যকে বঙ্গ জনপদের প্রথম লিখিত উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: বঙ্গ জনপদের নাম থেকেই পরবর্তীতে সমগ্র দেশের নাম বাংলাদেশ বা বাংলা রাখা হয়েছে বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। এই অঞ্চলের উর্বর মাটি এবং নদীমাতৃক যোগাযোগের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই এটি বাণিজ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা ও বিক্রমপুর অঞ্চল
ব্যাখ্যা: প্রাচীন বঙ্গ জনপদের কেন্দ্রস্থল ছিল বিক্রমপুর বা বর্তমান মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা এলাকা, যা পরবর্তী সময়ে সেন রাজাদের রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছিল।
উদাহরণ ২: বাংলার নামकरण
ব্যাখ্যা: প্রাচীন বঙ্গ জনপদের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা থেকেই মূলত বাঙালি জাতি এবং বাংলা ভাষা এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান পরিচয় হিসেবে গড়ে উঠেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সমতট — এটি বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গঠিত প্রাচীন জনপদ ছিল, তাই এটি ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য নয়।
B) পুণ্ড্র — এটি বর্তমান রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত প্রাচীন জনপদ ছিল, যা উত্তর বাংলায় অবস্থিত।
D) হরিকেল — এটি বর্তমান সিলেট এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত প্রাচীন জনপদ ছিল, যা ঢাকা থেকে ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে আলাদা।
৫ মনে রাখার টিপস:
ঢাকা ও ফরিদপুর অঞ্চল প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এভাবে মনে রাখতে পারো যে, বাংলার মূল বা বঙ্গ থেকেই ঢাকা অঞ্চলের প্রাচীন পরিচয় তৈরি হয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক। এখান থেকে প্রায়ই কোন জেলা কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: D) মুসলিম
১. কেন সঠিক:
- মুসলিম শাসকদের আগমন এবং বিশেষ করে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়ের পর থেকেই এই জনপদটি একত্রিত হয়ে বাংলা বা বাঙ্গালা নামে পরিচিত হতে শুরু করে।
- তার আগে এই অঞ্চলটি পুণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট, গৌড় ও বরেন্দ্র ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনপদে বিভক্ত ছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীনকালে বাংলা কোনো একক রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক একক ছিল না, বরং বিভিন্ন স্বাধীন জনপদে বিভক্ত ছিল। সেন ও পাল রাজাদের আমলেও সমগ্র অঞ্চলকে একক নামে ডাকার প্রচলন শুরু হয়নি।
তাৎপর্য ও ফলাফল: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসনের সূচনার পর এই অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদ একত্রিত হয় এবং সুলতানি আমলে শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে শাহ ই বঙ্গ উপাধি ধারণ করেন। এর ফলে বাংলাভাষী মানুষের জন্য একটি অভিন্ন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের শাসনকাল
ব্যাখ্যা: তিনি ১৩৪২ সালে সমগ্র বাংলার স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে শাহ ই বঙ্গ বা বাংলার শাহ বলে ঘোষণা করেন, যা এই অঞ্চলের নামকরণের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ ২: আইন ই আকবরি গ্রন্থ
ব্যাখ্যা: মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি আবুল ফজল রচিত এই গ্রন্থে সুবাহ বাংলা বা বাঙ্গালা সুবাহ হিসেবে এই অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা ও নামের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মৌর্য — মৌর্য শাসকদের আমলে এই অঞ্চলটি পুণ্ড্রবর্ধন ও সমতট জনপদে বিভক্ত ছিল এবং তখন একে বঙ্গ বা বাঙ্গালা বলা হতো না।
B) গুপ্ত — গুপ্ত রাজারা এই অঞ্চল শাসন করলেও তখন একে আলাদা জনপদ হিসেবে গৌড় বা পুণ্ড্রবর্ধন বলা হতো, বাঙ্গালা নামটির উৎপত্তি তখন হয়নি।
C) পাল — পাল রাজারা দীর্ঘ সময় বাংলা শাসন করলেও তাদের আমলেও অঞ্চলটি বরেন্দ্র, বঙ্গ ও গৌড় নামে পরিচিত ছিল, কোনো একক বাঙ্গালা নাম ছিল না।
D) মুসলিম — মুসলিম শাসকদের বিজয়ের ফলে বিভিন্ন জনপদ একীভূত হয় এবং সুলতানি আমলে এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে বাঙ্গালা নামে পরিচিত লাভ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
প্রাচীনকালে বাংলা ছিল বিভক্ত জনপদ আর মুসলিম শাসকরা এসে বাংলাকে একত্রিত করেন। তাই বাঙ্গালা নামের উৎস খুঁজলে মুসলিম শাসনের সূচনা কালকে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাকে প্রথম স্বাধীন ও একক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এবং তাকে শাহ ই বঙ্গ বলা হয়। এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন আঙ্গিকে আসে।
সঠিক উত্তর: B) মুর্শিদ কুলি খান
১. কেন সঠিক:
মুর্শিদ কুলি খান ১৭০৪ সালে বাংলার দেওয়ান হিসেবে ঢাকায় আসেন এবং পরবর্তীতে ১৭১৭ সালে বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলা থেকে কেন্দ্রে রাজস্ব পাঠানো বন্ধ করে একটি স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
তারিখ ও স্থান: ১৭১৭ সালে মুর্শিদাবাদে তিনি তার রাজধানী স্থানান্তর করেন এবং স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন শুরু করেন।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: মুর্শিদ কুলি খান ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার দেওয়ান যিনি পরবর্তীতে নিজ ক্ষমতায় নবাব হন।
তাৎপর্য ও ফলাফল: তার হাত ধরেই বাংলায় স্বাধীন নবাবী যুগের সূচনা হয় যা পরবর্তী সময়ে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত বজায় ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আলী বর্দী খান
ব্যাখ্যা: মুর্শিদ কুলি খানের পর বাংলার মসনদে বসা নবাবদের মধ্যে আলী বর্দী খানও স্বাধীনভাবে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন এবং ইউরোপীয় বণিকদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অবলম্বন করেছিলেন।
উদাহরণ ২: নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা: তিনি ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব, যার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা ঘটেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শশাঙ্ক — শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার গৌড়ের প্রথম স্বাধীন রাজা, নবাব বা মুসলিম শাসন আমলের কেউ নন।
B) মুর্শিদ কুলি খান — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি ১৭১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
C) সিরাজউদ্দৌলা — তিনি বাংলার প্রথম নবাব নন, বরং তিনি ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।
D) আব্বাস আলী মীর্জা — এই নামে বাংলার কোনো স্বাধীন নবাবের ঐতিহাসিক অস্তিত্ব নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক আর মধ্যযুগের প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান। সাল ১৭১৭ মনে রাখলেই নবাবী আমলের শুরুটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কবে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত হয়, যার উত্তর হবে ১৭১৭ সালে মুর্শিদ কুলি খানের আমলে। একই বিষয় থেকে শেষ নবাব কে ছিলেন বা রাজধানী স্থানান্তর কে করেছিলেন—এই ধরনের প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) ফা-হিয়েন
১. কেন সঠিক:
ফা-হিয়েন ছিলেন প্রথম চীনা পর্যটক যিনি গুপ্তযুগে ভারতে এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন।
তার ভ্রমণ বিবরণে প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে ফা-হিয়েন ভারতে আগমন করেন।
তার ভ্রমণকাল: তিনি ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং ৪১৪ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশে ফিরে যান।
তাৎপর্য ও ফলাফল: তার বর্ণনায় তাম্রলিপি এবং তৎকালীন বাংলার বৌদ্ধ বিহার ও সামাজিক অবস্থার বিবরণ পাওয়া যায়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা: তিনি পরবর্তী সময়ে হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে এবং পালযুগের কাছাকাছি সময়ে বাংলায় এসেছিলেন।
উদাহরণ ২: ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা: তিনি সুলতানি আমলে বাংলায় ভ্রমণ করেছিলেন এবং এখানকার সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অবস্থার কথা লিখে গেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হিউয়েন সাং — তিনি সপ্তম শতাব্দীতে হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন, গুপ্তযুগে আসেননি।
B) ফা-হিয়েন — এটি সঠিক উত্তর।
C) আই সিং — তিনি সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে ভারতে এসেছিলেন, যা গুপ্তযুগের অনেক পরে।
D) এঁদের সকলেই — যেহেতু শুধুমাত্র ফা-হিয়েন গুপ্তযুগে এসেছিলেন, তাই এই অপটি সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
গুপ্তযুগের সঙ্গে ফা-হিয়েন নামটি যুক্ত করতে মনে রাখবেন প্রথম চীনা পর্যটক ফা-হিয়েন এলেন গুপ্ত আমলে।
হিউয়েন সাং এসেছিলেন হর্ষবর্ধনের আমলে, তাই নামের প্রথম অক্ষর মিলিয়ে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস থেকে বিদেশি পর্যটকদের নাম ও তাদের ভ্রমণকাল প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
কোন পর্যটক কোন রাজার আমলে এসেছিলেন তা খাতায় নোট করে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: B) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
১. কেন সঠিক:
- বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশ বিভক্ত হয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন একটি প্রদেশ গঠিত হয়।
- এর ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠী শিক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে তুলনামূলক সুবিধা লাভের সুযোগ পায় যা তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে বঙ্গভঙ্গ বাস্তবায়ন করেন এবং এর রাজধানী ঢাকা নির্ধারিত হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করা হয় এবং একই বছরের ১৬ অক্টোবর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন এই প্রদেশ বিভাজনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন এবং জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং এর প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয় যা পরবর্তীতে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর শোক দিবস ও রাখিবন্ধন উৎসব
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাঙালিরা ওই দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করা হয়।
উদাহরণ ২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে থাকা মুসলমানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যা এই অঞ্চলের শিক্ষায় বিপ্লব আনে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পূর্ববঙ্গ ও বিহার — এই নামে কোনো নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়নি কারণ বিহার পরবর্তীতে বাংলা থেকে আলাদা হয়ে একটি পৃথক প্রদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
B) পূর্ববঙ্গ ও আসাম — এটি সঠিক অপশন এবং ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগের সাথে আসাম ও পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে এই প্রদেশ গঠিত হয়।
C) পূর্ববঙ্গ ও উড়িষ্যা — উড়িষ্যা বঙ্গভঙ্গের অংশ ছিল না বরং এটি পরবর্তীতে ১৯১২ সালে বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশ হিসেবে আলাদা হয়।
D) পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ — বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-উড়িষ্যা এমন বিভাজন হয়েছিল, তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বঙ্গভঙ্গ মানেই মনে রাখবে পূর্বের সাথে আসাম যুক্ত হয়েছিল সংক্ষেপে পু-আ।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখটি মনে রাখলে বঙ্গভঙ্গের কার্যকরের সাল ও তারিখ ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বঙ্গভঙ্গ কে করেছিলেন এবং কত সালে কার্যকর হয় এই প্রশ্নটি প্রায় সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- বঙ্গভঙ্গ কোন সালে রদ হয় এবং কার আমলে রদ হয় তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) বাংলাদেশ
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ ২০২২ সালে জাতিসংঘ শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
- জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের নির্বাচন বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও বিশ্বশান্তিতে দেশের জোরালো ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: জাতিসংঘ শান্তিস্থাপন কমিশন বা ইউএন পিসবিল্ডিং কমিশন (UN Peacebuilding Commission)
- প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ প্রস্তাবে গঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা, পুনর্গঠন এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে কাজ করে আসছে।
ব্যাখ্যা: বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতিত্ব অর্জনে সহায়তা করেছে।
উদাহরণ ২: সাইপ্রাস ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অতীতে অত্যন্ত সফল নেতৃত্ব দিয়েছে।
ব্যাখ্যা: এই ধরণের সফল কূটনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রমের ফলেই আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নীতিনির্ধারণী পদে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের একটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলেও ২০২২ সালে শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়নি।
B) সুইজারল্যান্ড — সুইজারল্যান্ড জাতিসংঘের শান্তিস্থাপন কমিশনের সদস্য হতে পারে, তবে ২০২২ সালে এই পদের সভাপতিত্ব লাভ করেনি।
D) ভারত — ভারত জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শান্তি মিশনে সেনা প্রেরণ করলেও ২০২২ সালে এই কমিশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শান্তি রক্ষা এবং শান্তিস্থাপন কমিশনের নেতৃত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নে বাংলাদেশ প্রায়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- সালটি ছিল ২০২২ এবং সংস্থাটি হলো শান্তিস্থাপন কমিশন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব বা পদপ্রাপ্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- জাতিসংঘ শান্তিস্থাপন কমিশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এই ধরনের তথ্য থেকেও প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ২০২১-২০৪১
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সময়কাল হলো ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত, যাকে রূপকল্প ২০৪১ বা ভিশন টু থাউজেন্ড ফোর্টি ওয়ান বলা হয়।
- এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তরিত করা।
২. প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
- প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে এই দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং এসডিজি অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রূপকল্প ২০২১
ব্যাখ্যা: এটি ছিল প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা যার সময়সীমা ছিল ২০১০ থেকে ২০২০ সাল এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করে।
উদাহরণ ২: পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা: প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০২১-২০৩১ — এই সময়ের কোনো সরকারি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাংলাদেশে প্রণয়ন করা হয়নি।
B) ২০২৪-২০৩২ — এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সময়সীমা নির্দেশ করে না।
D) ২০২২-২০৫০ — এটি বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর সঙ্গে বিভ্রান্ত হতে পারে যা মূলত ২১০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ এর মাঝের ব্যবধান হলো বিশ বছর।
- প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা শেষ হওয়ার পর পরই ২০২১ সাল থেকে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা শুরু হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১।
- এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।
সঠিক উত্তর: B) বলিভিয়া
১. কেন সঠিক:
বলিভিয়া দক্ষিণ আমেরিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ এবং এটি ভেনিজুয়েলার সরাসরি প্রতিবেশী নয়। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত ভেনিজুয়েলার সীমানা মূলত পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে কলম্বিয়া এবং পূর্বে গায়না ও ব্রাজিলের সাথে যুক্ত।
২. ভূরাজনৈতিক তথ্য:
দেশ: বলিভিয়া ও ভেনিজুয়েলা উভয়ই দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত এবং স্প্যানিশ ভাষাভাষী রাষ্ট্র।
সীমান্ত ও অবস্থান: ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বলিভিয়া আরও দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর মাঝে ব্রাজিল বা অন্যান্য দেশের ব্যবধান রয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দক্ষিণ আমেরিকার ভূগোল।
ব্যাখ্যা: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন দেশের সীমানা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, যা মানচিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক বিন্যাস।
ব্যাখ্যা: লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোর সীমানা এবং স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর অবস্থান জানা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূগোলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গায়না — এটি ভেনিজুয়েলার পূর্ব দিকের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং গায়নার সাথে ভেনিজুয়েলার ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।
B) বলিভিয়া — এটি দক্ষিণ আমেরিকার অন্য একটি দেশ হলেও ভেনিজুয়েলার সরাসরি সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত নয়।
C) ব্রাজিল — এটি ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বিশাল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলার সাথে এর দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
D) কলম্বিয়া — এটি ভেনিজুয়েলার পশ্চিম দিকের মূল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দুই দেশের মধ্যে নিবিড় রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ভেনিজুয়েলার সীমানা মনে রাখার জন্য উত্তর ও পূর্বের প্রতিবেশী দেশগুলোর নাম মনে রাখা সহজ। বলিভিয়া কিছুটা দূরে অবস্থিত হওয়ায় এটি প্রতিবেশী নয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
দক্ষিণ আমেরিকার স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর নাম এবং তাদের সীমানা থেকে প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগে প্রশ্ন আসে। মানচিত্র দেখে পড়লে এই ধরনের প্রশ্ন সহজে উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: D) নয় বছর
১. কেন সঠিক:
আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) বিচারকদের কার্যকাল নয় বছর নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে আদালতের রায়ে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বিচারকরা মুক্ত থাকেন।
এই দীর্ঘ মেয়াদ বিচারকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
২. আন্তর্জাতিক আদালত সম্পর্কিত তথ্য:
- সংস্থা: আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিজে (International Court of Justice - ICJ) হলো জাতিসংঘের প্রধান বিচার বিভাগীয় অঙ্গসংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা ও সদর দপ্তর: ১৯৪৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের পিস প্যালেসে অবস্থিত।
- বিচারক সংখ্যা: এই আদালতে মোট ১৫ জন বিচারক থাকেন এবং প্রতি তিন বছর পর পর এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫ জন বিচারক নতুন করে নির্বাচিত হন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডালভোল্ট বেন্দারি
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনবিদ ডালভোল্ট বেন্দারি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশের জন্য একটি বড় গৌরবময় অর্জন।
উদাহরণ ২: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ ভোটে নির্বাচিত হন, যা বিচারকদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তিন বছর — এটি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের মেয়াদ নয়, তবে জাতিসংঘের অনেক অস্থায়ী কমিটি বা পর্ষদের মেয়াদ সাধারণত তিন বছর হয়ে থাকে।
B) সাত বছর — সাত বছর মেয়াদ আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য প্রযোজ্য নয়, তবে এটি কিছু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশেষ আন্তর্জাতিক পদের মেয়াদ হতে পারে।
setC) চার বছর — চার বছর মেয়াদ সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির কার্যকাল বা অনেক স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইসিজেতে নয়।
D) নয় বছর — এই অপশনটি সঠিক কারণ আইসিজে বিচারকদের কার্যকাল সংবিধান অনুযায়ী ঠিক নয় বছর নির্ধারিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
আন্তর্জাতিক আদালতের ইংরেজি নামের অক্ষর সংখ্যা বা এর গঠন মনে রাখতে পারেন যে, এর বিচারকদের মেয়াদ জাতিসংঘের অন্য সাধারণ সংস্থার চেয়ে দীর্ঘ অর্থাৎ নয় বছর হয়।
১৫ জন বিচারক এবং প্রত্যেকের মেয়াদ নয় বছর, এই সংখ্যা দুটি মনে রাখলে বিসিএস পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকরা পুনরায় নির্বাচিত হতে পারেন এবং এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিচারকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।
একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন আসতে পারে যে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক সংখ্যা কত বা এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: B) ২ বছর
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই বছর করে। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সংস্থার প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সমতা নিশ্চিত করতে এবং কার্যক্রমে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখতে এই নিয়ম রাখা হয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা ইউএনএসসি জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি অঙ্গসংস্থার একটি।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো কনফারেন্সে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক শহর, যুক্তরাষ্ট্র।
সদস্যসংখ্যা: নিরাপত্তা পরিষদে মোট পনেরোটি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং দশটি অস্থায়ী।
গুরুত্ব: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার মূল দায়িত্ব এই পরিষদের ওপর ন্যস্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য।
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ অতীতে একাধিকবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে যা দেশের কূটনীতির বড় সাফল্য।
উদাহরণ ২: জাপান নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য।
ব্যাখ্যা: জাপান জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অবদান রাখা দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী সদস্যপদ পায়নি এবং বারবার অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ বছর — আন্তর্জাতিক সংস্থায় সাধারণত এক বছর মেয়াদের পদ বিরল এবং নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মেয়াদকাল দীর্ঘ হয়।
C) ৪ বছর — আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা জাতিসংঘের কোনো প্রধান অঙ্গসংস্থার সদস্য পদের ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদ সাধারণত প্রযোজ্য নয়।
D) ৫ বছর — জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ এক বছর এবং বিচারকদের মেয়াদ নয় বছর হলেও অস্থায়ী সদস্যের মেয়াদ পাঁচ বছর নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের মেয়াদ মনে রাখতে সংখ্যা দুই বা জোড় সংখ্যা মনে রাখতে পারেন কারণ মোট সদস্য পনেরো জনের মধ্যে দশটি অস্থায়ী সদস্য প্রতি বছর পাঁচজন করে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি দেশের নাম এবং অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনের ভৌগোলিক বণ্টন থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: A) নিউইয়র্ক
১. কেন সঠিক:
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ঐতিহাসিক কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কনসার্টের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ববাসীর নজর আকর্ষণ করা এবং শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ঘটনা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিশ্বজনমত গঠন।
স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর।
উদ্যোক্তা: সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও বিটলসখ্যাত সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
গুরুত্ব: এই কনসার্ট বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে প্রবল জনমত তৈরি করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা: তিনি বাংলাদেশের পক্ষে গান গেয়ে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন।
উদাহরণ ২: পণ্ডিত রবি শঙ্কর
ব্যাখ্যা: তিনি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে এই কনসার্ট আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংকট তুলে ধরেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিউইয়র্ক — এই অপশনটি সঠিক কারণ এখানেই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) বোস্টন — এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি শহর, যেখানে এই ঐতিহাসিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়নি।
C) লন্ডন — যুক্তরাজ্যে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও এই কনসার্টটি এখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।
D) ক্যানবেরা — এটি অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, ১৯৭১ সালের এই কনসার্টের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে।
এটি মনে রাখতে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের নাম এবং জর্জ হ্যারিসনের অবদান একসঙ্গে স্মরণ করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠন সম্পর্কিত চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই বিষয় থেকে কনসার্টের আয়োজক এবং এর সাল সম্পর্কিত প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) হংকং
১. কেন সঠিক:
হংকং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য নয়, কারণ এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র নয় বরং চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল।
এশিয়ার অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে আসিয়ান এবং হংকং সম্পূর্ণ আলাদা প্রেক্ষাপটে পরিচিত দুটি নাম।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
সংস্থা: আসিয়ানের পূর্ণ রূপ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট ব্যাংকক ঘোষণা চুক্তির মাধ্যমে এটি গঠিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা: সিঙ্গাপুর আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অত্যন্ত উন্নত স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র।
উদাহরণ ২: চীন
ব্যাখ্যা: চীন আসিয়ানের অংশ নয়, তবে সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং হংকং চীনেরই অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাওস — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং আসিয়ানের পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
B) হংকং — এটি কোনো স্বাধীন দেশ নয় এবং আসিয়ানের সদস্যপদের তালিকার বাইরে অবস্থান করছে।
C) ভিয়েতনাম — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সার্বভৌম দেশ এবং আসিয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
D) কম্বোডিয়া — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং আসিয়ানের একটি সক্রিয় সদস্য দেশ।
৫ মনে রাখার টিপস:
আসিয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাধীন দেশগুলোর জোট, তাই হংকং বা ম্যাকাওয়ের মতো বিশেষ অঞ্চলের এখানে সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।
সদস্য দেশগুলো মনে রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানচিত্র এবং রাজনৈতিক ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আসিয়ানের মোট সদস্য দেশ সংখ্যা দশটি এবং তিমুর ল্লেসেকে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কোন দেশটি আসিয়ানভুক্ত নয়, এই ধরনের প্রশ্ন বিকল্প পরিবর্তন করে বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: C) চীন
১. কেন সঠিক:
- নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি হলো চীনের সাম্প্রতিককালের আক্রমণাত্মক ও জোরালো বৈদেশিক নীতির একটি রূপ।
- পশ্চিমা সমালোচকদের আক্রমণ বা চীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাবে বেইজিংয়ের কূটনীতিকরা এই आಕ್ರಮণাত্মক ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ বা সংস্থা: চীন ও দেশটির কূটনৈতিক কৌশল।
- প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সাল থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিকরা এই আগ্রাসী ধারা বা শৈলী ব্যবহার করতে শুরু করেন।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীনের স্বার্থরক্ষা এবং পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঝাও লিজিয়ান
ব্যাখ্যা: চীনের এই আক্রমণাত্মক কূটনীতির অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান।
উদাহরণ ২: হু ইঝিন
ব্যাখ্যা: গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার সাবেক সম্পাদক হু ইঝিন এই কূটনৈতিক ধারাকে সমর্থন করে বিভিন্ন কড়া মন্তব্য করতেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিয়েতনাম — ভিয়েতনাম তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যালেন্স কূটনীতি বা বাঁশের কূটনীতি অনুসরণ করে, নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি নয়।
B) উত্তর কোরিয়া — উত্তর কোরিয়া মূলত পারমাণবিক হুমকি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি অনুসরণ করে, নির্দিষ্ট এই কূটনৈতিক ধারার সঙ্গে তারা যুক্ত নয়।
C) চীন — এটি সঠিক উত্তর।
D) রাশিয়া — রাশিয়া আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করলেও তাদের কূটনীতি এই বিশেষ নামে পরিচিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- নেকড়েযোদ্ধা বা উলফ ওয়ারিয়র শব্দটি শুনলেই চীনের জনপ্রিয় মারামারি বা অ্যাকশন সিনেমার কথা মনে রাখতে পারেন, যা থেকে এই কূটনীতির নামকরণ হয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের কূটনীতি কোন দেশের সঙ্গে যুক্ত, তা বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং কূটনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৪৮, ফ্রান্স
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ আইইউসিএন বা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ ১৯৪৮ সালে ফ্রান্সের ফন্টেইনব্লো শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারে কাজ করা বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম পরিবেশ বিষয়ক নেটওয়ার্ক এটি।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: International Union for Conservation of Nature (IUCN)
- প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ৫ই অক্টোবর, ১৯৪৮
- স্থান/সদর দপ্তর: গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড
- প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৈশ্বিক স্তরে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এটি গঠিত হয়।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীকে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা এর প্রধান লক্ষ্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রেড লিস্ট বা লাল তালিকা
ব্যাখ্যা: আইইউসিএন প্রকাশিত লাল তালিকা বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সূচক হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত।
উদাহরণ ২: স্টকহোম সম্মেলন ১৯৭২
ব্যাখ্যা: পরিবেশ সুরক্ষার আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এটি প্রথম বড় সম্মেলন যার পেছনে আইইউসিএন এর দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক কাজের ভূমিকা ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৪৮, ফ্রান্স — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই ফন্টেইনব্লোতে আইইউসিএন প্রতিষ্ঠিত হয়।
B) ১৯৪৯, সুইজারল্যান্ড — এই সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যদিও বর্তমানে এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
C) ১৯৬১, রোম — এই সালে রোমে ডব্লিউডব্লিউএফ বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইলডলাইফ ফাণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আইইউসিএন এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
D) ১৯৫২, লন্ডন — এই সালে আইইউসিএন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এটি একটি ভুল সাল ও স্থান।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আইইউসিএন প্রতিষ্ঠার সাল মনে রাখতে ১৯৪৮ মনে রাখুন এবং প্রতিষ্ঠার দেশ হিসেবে ফ্রান্সের শিল্পসমৃদ্ধ শহর ফন্টেইনব্লো মনে রাখুন।
- সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্ল্যান্ডে হলেও এর জন্ম হয়েছিল ফ্রান্সে, এই পার্থক্যটি মনে রাখা পরীক্ষার জন্য খুব জরুরি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর ও প্রতিষ্ঠার সাল প্রায়ই আসে।
- আইইউসিএন এর বিখ্যাত প্রকাশনা রেড লিস্ট সম্পর্কে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: A) জর্দান ও মিশর
১. কেন সঠিক:
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরের ফলশ্রুতিতে আরব বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭৯ সালে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্দান এই চুক্তি অনুসরণ করে।
এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে একটি নতুন মোড় এনে দিয়েছিল এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতিদানকারী আরব দেশগুলোর পথ সুগম করেছিল।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও পটভূমি:
চুক্তি বা সম্মেলনের নাম: ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
তারিখ ও স্থান: ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সংশ্লিষ্ট দেশ বা সংস্থা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
প্রধান উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আব্রাহাম অ্যাকর্ড
ব্যাখ্যা: ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, যা ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরবর্তী আধুনিক কূটনৈতিক অগ্রগতি।
উদাহরণ ২: অসলো চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৯৩ সালে ইসরাইল ও পিএলও এর মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল, যা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জর্দান ও মিশর — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দুটি দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।
B) কুয়েত ও বাহরাইন — বাহরাইন পরবর্তীকালে সম্পর্ক স্থাপন করলেও কুয়েত আজও ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্জন করে আসছে।
C) লিবিয়া ও ওমান — লিবিয়া বা ওমান ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি।
D) তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া — তিউনিসিয়া আংশিক যোগাযোগ রাখলেও আলজেরিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
মিশর হলো প্রথম আরব দেশ যারা ১৯৭৯ সালে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় এবং জর্দান দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে সম্পর্ক স্থাপন করে।
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি মানেই মিশর এবং জর্দানের ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ইতিহাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবকাশ যাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিতে এবং এর মধ্যস্থতাকারী ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তি এবং আরব-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) পাকিস্তান ও ভারত
১. কেন সঠিক:
তাসখন্দ চুক্তি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি।
সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় উজবেকিস্তানের তৎকালীন তাসখন্দ শহরে এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ঐতিহাসিক পটভূমি:
চুক্তির নাম: তাসখন্দ ঘোষণা বা তাসখন্দ চুক্তি।
তারিখ ও স্থান: ১০ জানুয়ারি ১৯৬৬, তাসখন্দ, সোভিয়েত ইউনিয়ন।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ: ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান।
প্রধান উদ্দেশ্য: ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর দুই দেশের হারানো কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং সৈন্য প্রত্যাহার।
গুরুত্ব: এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ ১৯৬৫ সালের পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরে যেতে সম্মত হয় এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শিমলা চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৭২ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত হয়।
উদাহরণ ২: ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৭৮ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে মোড় পরিবর্তন করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান — এই দেশ দুটির মধ্যে ডুরান্ড লাইন সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তবে তাসখন্দ চুক্তির সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।
B) ভারত ও আফগানিস্তান — এই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তবে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি এদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়নি।
C) পাকিস্তান ও ভারত — এটি সঠিক উত্তর কারণ ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর এই দুই দেশের মধ্যেই তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
D) আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়ন — সোভিয়েত ইউনিয়ন এই চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ ছিল, স্বাক্ষরকারী পক্ষ ছিল না।
৫ মনে রাখার টিপস:
তাসখন্দ চুক্তি মনে রাখার সহজ উপায় হলো মনে রাখা যে এটি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সমাপ্তি টেনেছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় এটি হয়েছিল এবং এর পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দেই মারা যান।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
তাসখন্দ চুক্তি কোন সালে স্বাক্ষরিত হয় তা প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে এই চুক্তির সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন বা মধ্যস্থতা কোন দেশ করেছিল।
সঠিক উত্তর: B) তিউনিশিয়া
১. কেন সঠিক:
- আরব বসন্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তিউনিশিয়া থেকে।
- স্বৈরাচারী শাসন, দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই গণঅভুত্থান দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
- দেশ বা অঞ্চল: উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া।
- প্রেক্ষাপট: ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে তিউনিশিয়ার তরুণ মোহাম্মদ বৌয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দেন।
- গুরুত্ব: এই ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণআন্দোলন তিউনিশিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক জয়নাল আবেদিন বেন আলীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করে এবং আরব বসন্তের জন্ম দেয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিশর
ব্যাখ্যা: তিউনিশিয়ার পর আরব বসন্তের ঢেউ মিশরে আছড়ে পড়ে এবং হোসনি মোবারকের দীর্ঘ ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
উদাহরণ ২: লিবিয়া
ব্যাখ্যা: আরব বসন্তের প্রভাবে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মিশর — মিশর আরব বসন্তের একটি প্রধান কেন্দ্র হলেও আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়নি।
B) তিউনিশিয়া — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানেই প্রথম আন্দোলন সফল হয়।
C) লিবিয়া — লিবিয়াতে আরব বসন্তের প্রভাব পরে আসে এবং তীব্র গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি হয়।
D) সিরিয়া — সিরিয়াতে আরব বসন্তের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আরব বসন্তের শুরু তিউনিশিয়া থেকে।
- তিউনিশিয়ার প্রথম অক্ষর ত এবং সূচনা শব্দের প্রথম অক্ষর ত এভাবে মনে রাখা যেতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মোহাম্মদ বৌয়াজিজি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, এমন প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে।
- আরব বসন্ত কোন সালে শুরু হয়েছিল, তা মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) ২০১৪
১. কেন সঠিক:
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ সামরিক অভিযانের মাধ্যমে দখল ও নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্নায়ুযুদ্ধের পরবর্তী সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. যুদ্ধ, সংঘাত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
সংঘাতের পক্ষ: রাশিয়া এবং ইউক্রেন।
সময়কাল: ফেব্রুয়ারি ও মার্চ ২০১৪।
প্রেক্ষাপট: ইউক্রেনের তৎকালীন রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিক গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাশিয়া এই সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
ফলাফল/প্রভাব: ক্রিমিয়ায় একটি বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ঘটে এবং এর ফলে রাশিয়া জি-আট জোট থেকে বহিষ্কৃত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কসোভো সংকট
ব্যাখ্যা: কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি ক্রিমিয়া সংকটের সঙ্গে তুলনীয়।
উদাহরণ ২: জর্জিয়া যুদ্ধ ২০০৮
ব্যাখ্যা: রাশিয়া ও জর্জিয়ার মধ্যে দক্ষিণ ওসেটিয়া নিয়ে যুদ্ধ যা ক্রিমিয়া সংকটের পূর্ববর্তী সামরিক পদক্ষেপ ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০১০ — এই সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করেনি, এটি ইউক্রেনের অংশ ছিল।
B) ২০১২ — এই সালে ইউক্রেনের সঙ্গে ক্রিমিয়া নিয়ে রাশিয়ার কোনো সামরিক সংঘাত হয়নি।
C) ২০১৪ — এটি সঠিক উত্তর।
D) ২০১৬ — ক্রিমিয়া দখলের ঘটনাটি এর আগেই ২০১৪ সালে ঘটেছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ক্রিমিয়া সংকট ফুটবল বিশ্বকাপের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে ঘটেছিল।
সালটি মনে রাখতে ২০১৪ সালের ইউক্রেন বিপ্লব এবং ক্রিমিয়া সংযুক্তি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি সীমান্ত বিরোধ, যুদ্ধ ও সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে বিসিএস পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) গ্লাসগো
১. কেন সঠিক:
COP-২৬ বা জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ছিল জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশনের ছাব্বিশতম বার্ষিক সম্মেলন।
২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও পরিবেশ চুক্তি:
সম্মেলন: কপ-২৬ (COP-26) বা ২৬তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ।
তারিখ ও স্থান: ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা এবং কার্বণ নিঃসরণ কমানোর নতুন ও কঠোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা।
ফলাফল: গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দেশগুলো কয়লার ব্যবহার কমানোর বিষয়ে একমত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কপ-২১ (COP-21)
ব্যাখ্যা: ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উদাহরণ ২: কপ-২৮ (COP-28)
ব্যাখ্যা: ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার ঐতিহাসিক রূপরেখা গৃহীত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেনেভা — এটি সুইজারল্যান্ডের একটি শহর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর, তবে এখানে কপ-২৬ অনুষ্ঠিত হয়নি।
B) প্যারিস — এটি ফ্রান্সের রাজধানী যেখানে ২০১৫ সালে জলবায়ু বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কপ-২১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
C) গ্লাসগো — এটি সঠিক উত্তর কারণ ২০২১ সালের কপ-২৬ সম্মেলন এই স্কটিশ শহরেই অনুষ্ঠিত হয়।
D) ব্রাসেলস — এটি বেলজিয়ামের রাজধানী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর, যা জলবায়ু সম্মেলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
গ্লাসগো শব্দটি মনে রাখুন স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এবং কপ-২৬ মানেই ২০২১ সালের যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন।
প্যারিস চুক্তির সাল ২০১৫ এবং গ্লাসগো সম্মেলনের সাল ২০২১, এই দুটি ভালোভাবে মনে রাখলে পরীক্ষা ভুল হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কপ সম্মেলন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম।
পরীক্ষায় প্রায়ই বিগত বা পরবর্তী কপ সম্মেলনের শহর বা দেশের নাম জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: B) ২০২৬
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর নির্ধারিত ছিল।
- ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই এর কার্যকারিতা শুরু হয় এবং এটি ২০২৬ সালে শেষ হবে।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি:
- চুক্তির নাম: গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি।
- প্রতিষ্ঠা বা তারিখ: ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেవె గౌড়া চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।
- স্থান: নয়াদিল্লি, ভারত।
- প্রেক্ষাপট: ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর থেকেই গঙ্গাজলের হিস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলে আসছিল।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি উভয় দেশের মধ্যে সুষম বণ্টনের রূপরেখা তৈরি করা।
- ফলাফল বা প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানের একটি অন্যতম বড় উদাহরণ এটি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত নদীর পানিবণ্টন চুক্তি যা ভূরাজনীতির জন্য অত্যন্ত আলোচিত।
উদাহরণ ২: সিন্ধু পানি চুক্তি।
ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনার একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০৪০ — এটি সঠিক নয় কারণ চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি ছিল এবং ১৯৯৬ সাল থেকে গণনা করলে এটি ২০৪০ সালে শেষ হয় না।
B) ২০২৬ — এই অপশনটি সঠিক এবং চুক্তিটির সমাপ্তি বছর হিসেবে নির্ধারিত।
C) ২০২৪ — এই অপশনটি সঠিক নয় কারণ চুক্তিটি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।
D) ৩০৩০ — এটি সঠিক নয় কারণ এটি ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদকালকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং শতাব্দীকাল পরে নির্দেশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গঙ্গার পানি চুক্তি ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ছিল ৩০ বছর।
- ১৯৯৬ এর সাথে ৩০ যোগ করলেই ২০২৬ সাল পাওয়া যায় যা চুক্তি শেষের বছর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই চুক্তিটি কোন নদীর পানি বণ্টনের সাথে জড়িত তা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের সাল এবং মেয়াদকাল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সঠিক উত্তর: D) ইউক্রেন
১. কেন সঠিক:
ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটি বা চেরনেজেম মাটির কারণে দেশটিতে প্রচুর পরিমাণে গম, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় ইউক্রেনকে ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ: ইউক্রেন পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র এবং আয়তনের দিক থেকে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
ভৌগোলিক গুরুত্ব: দেশটির উর্বর কৃষিভূমি এবং কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো বিশ্ব খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
ব্যাখ্যা: এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য ও সারের সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ ২: কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তি।
ব্যাখ্যা: ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে নিরাপদে খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জার্মানি — এটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান শিল্পপ্রধান দেশ এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, কৃষিভিত্তিক পরিচিতির জন্য একে রুটির ঝুড়ি বলা হয় না।
B) ইতালি — এটি দক্ষিণ ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় উপদ্বীপের একটি দেশ, যা শিল্প, পর্যটন এবং ফ্যাশনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
C) পোল্যান্ড — এটি মধ্য ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যা অর্থনীতি এবং উৎপাদনের জন্য পরিচিত হলেও রুটির ঝুড়ি উপাধিতে ভূষিত নয়।
D) ইউক্রেন — এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
ইউক্রেনের মাটির রঙ কালো এবং এই কালো মাটিতে প্রচুর শস্য ফলে।
মাটির উর্বরতা এবং অতিরিক্ত শস্য উৎপাদনের সঙ্গে রুটির ঝুড়ি উপাধিটি মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং মুদ্রা হ্রিভনিয়া।
কৃষি উৎপাদন এবং কৃষ্ণসাগরীয় ভূরাজনীতি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোতে এই দেশটি প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: B) প্রাচীন গ্রিস
১. কেন সঠিক:
গণতন্ত্র শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ডেমোক্রেসিয়া থেকে যার অর্থ জনগণের শাসন। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগররাষ্ট্রে প্রথম প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
দেশ: প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগররাষ্ট্র।
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী।
প্রেক্ষাপট: এথেন্সের স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিত।
গুরুত্ব: এটি আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এথেনীয় গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা: এটি ছিল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র যেখানে প্রতিনিধি নির্বাচন না করে নাগরিকরা সরাসরি সভায় ভোট দিত।
উদাহরণ ২: আধুনিক গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা: প্রাচীন প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিবর্তিত রূপ হলো বর্তমান যুগের পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম পুরনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও গণতন্ত্রের ধারণাটি এখানে প্রথম সৃষ্টি হয়নি।
B) প্রাচীন গ্রিস — এই অপশনটি সঠিক কারণ এথেন্সেই প্রথম গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন ঘটেছিল।
C) প্রাচীন রোম — প্রাচীন রোমে রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের পর প্রজুতন্ত্র বা রিপাবলিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছিল, যা গণতন্ত্র থেকে আলাদা।
D) প্রাচীন ভারত — প্রাচীন ভারতে কিছু গণরাজ্য বা সংঘ ছিল, তবে সামগ্রिक অর্থে বর্তমান ধারণার গণতন্ত্রের উৎস প্রাচীন গ্রিসকেই ধরা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
গ্রিস শব্দের শুরুতে গ আছে এবং গণতন্ত্র শব্দের শুরুতেও গ আছে। এভাবে মনে রাখা যায় যে গণতন্ত্রের জন্ম প্রাচীন গ্রিসেই হয়েছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার কোনটি। উত্তর হবে প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স।
সঠিক উত্তর: A) জর্দান
১. কেন সঠিক:
- ডি-৮ বা উন্নয়নশীল আটটি দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণ সদস্য জর্দান নয়।
- জর্ডানের পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরান ও মিশর এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
- সংস্থা: ডি-৮ (Developing-8) বা উন্নয়নশীল আটটি দেশ।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ইস্তাম্বুল, তুরস্ক।
- সদস্যদেশ: মোট আটটি দেশ, যথা বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক।
- উদ্দেশ্য: উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও ডি-৮
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ ডি-৮ সংস্থার একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জোরালো ভূমিকা রাখছে।
উদাহরণ ২: ইরান ও মিশর
ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম প্রধান দেশ ডি-৮ এর সদস্য হলেও জর্দান এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জর্দান — জর্দান ডি-৮ সংস্থার সদস্য নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
B) ইরান — ইরান ডি-৮ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ, তাই এটি ভুল অপশন।
C) মিশর — মিশর ডি-৮ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ, তাই এটি ভুল অপশন।
D) মালয়েশিয়া — মালয়েশিয়া ডি-৮ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ, তাই এটি ভুল অপশন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ডি-৮ সদস্য মনে রাখার সহজ সূত্র হলো এশিয়া ও আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরান ও মিশর থাকলেও জর্দান এই জোটে নেই।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ডি-৮ এর সদর দপ্তর কোথায় এবং এর সদস্য কয়টি, এই দুটি প্রশ্ন বিসিএস ও ব্যাংকের পরীক্ষায় বারবার আসে।
- এই জোটের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পর্কে পরীক্ষার্থীদের ধারণা থাকা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: C) দাভোস
১. কেন সঠিক:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা WEF এর বার্ষিক সাধারণ সভা সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার পর্যটন শহর দাভোস এ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
- সংস্থা: World Economic Forum বা WEF
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭১ সাল
- সদর দপ্তর: কলোগনি, সুইজারল্যান্ড
- প্রতিষ্ঠাতা: ক্লাউড শোয়াব
- গুরুত্ব: বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং শিল্প খাতকে রূপ দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান ভূমিকা রয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন।
উদাহরণ ২: জি২০ শীর্ষ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ফোরামের বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্যারিস — এটি ফ্রান্সের রাজধানী এবং ইউনেস্কোর সদর দপ্তর হলেও ডব্লিউইএফ এর বার্ষিক অধিবেশন এখানে হয় না।
B) জুরিখ — এটি সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ও আর্থিক কেন্দ্র হলেও ডব্লিউইএফ এর বার্ষিক সভা এখানে বসে না।
C) দাভোস — এটি সঠিক উত্তর।
D) বার্ন — এটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী হলেও এটি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের স্থান নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরটি ডব্লিউইএফ বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভার জন্য বিখ্যাত।
- জুরিখ বা বার্ন রাজধানী বা বড় শহর হলেও দাভোসই অর্থনৈতিক ফোরামের স্থায়ী মিলনমেলা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কে এবং এর সদর দপ্তর কোথায়, তা প্রায়শই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
- একই বিষয় থেকে ফোরামের বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন বা গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট প্রকাশের সংস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘ সনদের বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। এই দিনে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মিলিত হন এবং বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (United Nations General Assembly - UNGA) হলো জাতিসংঘের প্রধান নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিত্বমূলক অঙ্গ।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৫ সাল।
সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
উদ্দেশ্য: বিশ্বশান্তি রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন
ব্যাখ্যা: ১৯৪৬ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্ব
ব্যাখ্যা: বার্ষিক অধিবেশন শুরুর পর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার — এটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শুরুর নির্ধারিত সাংবিধানিক দিন।
B) অক্টোবর মাসের প্রথম মঙ্গলবার — এই তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
C) আগস্ট মাসের প্রথম সোমবার — এই দিনটি জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
D) অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার — এটি ভুল তথ্য কারণ অধিবেশন সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
জাতিসংঘের অধিবেশন শুরুর দিনটি মনে রাখতে মনে রাখবেন সেপ্টেম্বর মাস এবং সপ্তাহের সংখ্যাটি হলো তিন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার হলো অধিবেশন শুরুর দিন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসংক্রান্ত অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং অধিবেশন কোন সালে কততম, তা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
কেন সঠিক:
১. এই স্থানে দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যা স্থানীয় খনির কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
২. এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. এটি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ভূগর্ভস্থ কয়লা খনিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
২. এই এলাকার খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা সরাসরি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় যা দেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় যা দেশের উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কৃষিতে সেচ কার্য চালাতে সাহায্য করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি — এটি রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়।
B) সাভার, ঢাকা — এটি ঢাকার কাছে একটি শিল্প এলাকা হলেও এখানে দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি।
C) সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম — এটি চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি ও শিল্প এলাকা হলেও এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
D) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর — এই অপশনটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশের প্রথম কয়লা খনি এবং প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উভয়ই দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত তাই কয়লা বললেই দিনাজপুর মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) পাললিক শিলায়
কেন সঠিক:
- এই শিলা পলি স্তর হিসেবে সঞ্চিত হয় এবং জীবদেহ সহজে এর মাঝে ঢাকা পড়ে যেতে পারে।
- পাললিক শিলা তৈরির সময় তাপমাত্রা ও চাপ কম থাকায় জীবাশ্ম পুড়ে বা নষ্ট হয়ে যায় না।
ভৌগোলিক তথ্য:
- ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে এই শিলা বিস্তৃত রয়েছে।
- এটি মূলত নদী, হ্রদ ও সমুদ্রের তলদেশে পলি জমা হয়ে গঠিত হয়।
- এর প্রধান উদাহরণ হলো বেলেপাথর, চুনাপাথর ও শেল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আগ্নেয় শিলা — এই শিলা প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও তরল ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে গঠিত হয় বলে জীবদেহ ধ্বংস হয়ে যায়।
B) রূপান্তরিত শিলা — অতিরিক্ত তাপ ও চাপের কারণে এই শিলার ভেতরের জীবাশ্ম নষ্ট বা পুড়ে যায়।
C) পাললিক শিলা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল।
D) কোনটিই নয় — সঠিক উত্তর পাললিক শিলা অপশনে থাকায় এটি প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
পলি জমে তৈরি হয় পাললিক শিলা এবং পলি দিয়েই ঢাকা পড়ে জীবাশ্ম।
সঠিক উত্তর: B) ভূমিকম্প
কেন সঠিক:
১. পৃথিবীর অভ্যন্তরে শিলায় হঠাৎ চাপ বৃদ্ধি পেয়ে শক্তি মুক্তি ঘটলে ভূমিকম্প হয়, যার সঠিক সময় ও মাত্রা আগে থেকে নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন।
২. ভূগর্ভস্থ প্লেটের সরণের সুনির্দিষ্ট গতিপ্রকৃতি আগে থেকে মাপা সম্ভব না হওয়ায় ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস দেওয়া আজ অব্দি বিজ্ঞানীদের পক্ষে অসম্ভব রয়ে গেছে।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. ভূমিকম্পের উৎসস্থলকে কেন্দ্র বা ফোকাস এবং ঠিক তার ওপরের ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে উপকেন্দ্র বা এপিসেন্টার বলা হয়।
২. সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা হয় এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা প্রকাশ করা হয়।
৩. ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল ও আন্দামান নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বন্যা — নদী অববাহিকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে নদীর জলস্তর বৃদ্ধির তথ্য আগে থেকেই জানা সম্ভব হয়।
B) ভূমিকম্প — ভূত্বকের নিচে শিলাচ্যুতির সঠিক মুহূর্ত ও স্থান আগে থেকে নির্দিষ্ট করা বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও সম্ভব হয়নি।
C) ঘূর্ণিঝড় — উপগ্রহ চিত্র এবং রাডার প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি লক্ষ করে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আগে থেকেই দেওয়া যায়।
𝐷) খরা — দীর্ঘকাল ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে খরার পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
মনে রাখার টিপস:
প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার আগাম পূর্বাভাস পেলেও ভূমিকম্প হলো আকস্মিক যা কেউ বলতে পারে না।
সঠিক উত্তর: D) পুনরুদ্ধার
কেন সঠিক:
দুর্যোগের পরে ভেঙে পড়া পরিকাঠামো যেমন রাস্তাঘাট, সেতু ও বাড়িঘর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রচুর আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন হয়।
হতাহতদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই ধাপে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে প্রশমন, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান এবং পুনরুদ্ধার এই চারটি মূল পর্যায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতির ওপর নির্ভর করে এই চক্রের প্রতিটি ধাপের কার্যপদ্ধতি নির্ধারিত হয়।
১৯৯৫ সালের কোবে ভূমিকম্পের পর জাপানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পূর্বপ্রস্তুতি — এই ধাপে মূলত সচেতনতা বৃদ্ধি, মহড়া এবং পরিকল্পনা তৈরি করা হয় যা তুলনামূলকভাবে কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব।
B) সাড়াদান — জরুরি অবস্থার সময় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে খরচ হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠনের খরচের তুলনায় অনেক কম।
C) প্রশমন — ঝুঁকি হ্রাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা হলেও তা পুনরুদ্ধারের মতো তাৎক্ষণিক বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি করে না।
D) পুনরুদ্ধার — এই অপশনটি সঠিক কারণ ধ্বংসস্তূপ অপসারণ থেকে শুরু করে নতুন পরিকাঠামো তৈরিতে সরকারের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করতে হয়।
মনে রাখার টিপস:
দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় খরচ কম হয়, কিন্তু দুর্যোগের পরে সবকিছু নতুন করে গড়তে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়।
সঠিক উত্তর: C) বায়ু
কেন সঠিক:
বায়ুর প্রবাহ কখনও শেষ হয় না কারণ প্রকৃতিতে এটি বারবার ফিরে আসে।
এটি ব্যবহার করলে তা ফুরিয়ে যায় না এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।
ভৌগোলিক তথ্য:
বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের একটি বিশাল স্তর যা মহাকর্ষ বলের টানে ধরে থাকে।
এটি পৃথিবীর জলবায়ু ও আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন এই স্তরের প্রধান দুটি উপাদান।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রাকৃতিক গ্যাস — এটি একটি অফুরন্ত সম্পদ নয় এবং জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে ভূগর্ভে সীমিত পরিমাণে জমা থাকে।
B) চুনাপাথর — এটি একবার ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায় এবং এটি একটি শিলাভিত্তিক খনিজ সম্পদ।
D) কয়লা — এটি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় এবং কোটি কোটি বছরে তৈরি হওয়ায় এটি দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
মনে রাখার টিপস:
যে সম্পদ ব্যবহার করার পরেও ফুরিয়ে যায় না এবং পুনরায় তৈরি হয় তাকে নবায়নযোগ্য সম্পদ বলে।
সূর্য, পানি ও বায়ুর মতো প্রাকৃতিক উপাদানগুলো সবসময় নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে গণ্য হয়।
সঠিক উত্তর: C) তিতাস
কেন সঠিক:
১. তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি উৎপাদনের পরিমাণ এবং মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত।
২. এই গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের একটি বিশাল অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এবং এর নামকরণ করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী তিতাস নদীর নামানুসারে।
২. ১৯৬২ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় এবং পরের বছর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
৩. বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে বর্তমানে এর উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাখরাবাদ — এটি কুমিল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র হলেও তিতাসের তুলনায় এর আয়তন এবং উৎপাদন ক্ষমতা কম।
B) হরিপুর — এটি সিলেটের হরিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, যা আকারে তিতাসের চেয়ে ছোট।
D) হবিগঞ্জ — এটি একটি অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হলেও এটি তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মতো বৃহত্তম খেতাব অর্জন করেনি।
মনে রাখার টিপস:
সবচেয়ে বড় গ্যাসের নাম মনে রাখতে "তি" দিয়ে তিতাস এবং "তি" দিয়ে বৃহত্তম শব্দটি মনে রাখতে পারো।
সঠিক উত্তর: D) সেচ প্রকল্প
কেন সঠিক:
জি-কে প্রকল্প বা গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে কৃষီ জমিতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সরবরাহ করা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলার বিশাল এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর আওতাধীন সেচ এলাকা প্রায় এক লক্ষ ৯৭ হাজার হেক্টর।
এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থা যা মূলত গঙ্গা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।
পাবনা সেচ প্রকল্প বা তিস্তা সেচ প্রকল্পের মতো এটি দেশের কৃষিপাল উৎপাদনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প — এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা নয়, তাই এটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে পারে না।
B) নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প — নদী ভাঙন রোধ বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ এর মূল কাজ নয়, এর প্রধান লক্ষ্য কৃষিকাজে পানি দেওয়া।
C) জল পরিবহন প্রকল্প — এটি কোনো নৌপথ বা জলপথ যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়নি, তাই এটি পরিবহন প্রকল্প নয়।
D) সেচ প্রকল্প — এই অপশনটি সঠিক কারণ জি-কে প্রকল্পের মূল কাজ হলো কৃষিজমিতে সেচ নিশ্চিত করা।
মনে রাখার টিপস:
জি-কে মানে গঙ্গা-কপোতাক্ষ আর গঙ্গা নদী থেকে পানি এনে কপোতাক্ষ অববাহিকায় সেচ দেওয়া হয় বলে এটি সেচ প্রকল্প।
সঠিক উত্তর: C) কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
কেন সঠিক:
আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে কপের পূর্ণরূপ হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস।
এটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোগত কনভেনশন বা ইউএনএফসিসিসির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বার্ষিক সম্মেলন।
ভৌগোলিক তথ্য:
এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি বৈশ্বিক পরিবেশগত সম্মেলন।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর উপায় নির্ধারণ করা।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে একচল্লিশতম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কনফারেন্স অব প্যারিস — প্যারিস চুক্তি একটি পৃথক পরিবেশ চুক্তি হলেও কপের পূর্ণরূপে এই নামটি ব্যবহার করা হয় না।
B) কনফারেন্স অব দ্যা পাওয়ার — এটি কোনো দাপ্তরিক বা আন্তর্জাতিক পরিবেশগত পদের সঙ্গে সম্পর্কিত নাম নয়।
C) কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস — এই অপশনটি সঠিক হওয়ার কারণে এখানে কোনো ভুল নেই এবং এটিই মূল পূর্ণরূপ।
D) কনফারেন্স অব দ্য প্রটোকল — কিয়োটো বা মন্ট্রিলে প্রটোকল থাকলেও কপের পূর্ণরূপে প্রটোকল শব্দটি যুক্ত থাকে না।
মনে রাখার টিপস:
কপ শব্দটি জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের ক্ষেত্রে সব সময় পার্টিস শব্দটির সঙ্গে যুক্ত থাকে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পার্টিস শব্দটি দেখলে নির্দ্বিধায় সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচন করবে।
সঠিক উত্তর: A) ঘন ঘন বন্যা
কেন সঠিক:
ব্লু-ইকোনমি মূলত সামুদ্রিক সম্পদ ও অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে।
ঘন ঘন বন্যা হলো দেশের অভ্যন্তরীণ নদীমাতৃক সমস্যা, যা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জ নয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানার আয়তন প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার।
বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে মৎস্য, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঘন ঘন বন্যা — এটি সঠিক উত্তর কারণ নদীভিত্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্লু-ইকোনমির সরাসরি সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত নয়।
B) সমুদ্র দূষণ — এটি ব্লু-ইকোনমির একটি বড় চ্যালেঞ্জ যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে।
C) ত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন — এটি সমুদ্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে।
D) উপরের কোনটিই নয় — যেহেতু সঠিক উত্তরটি অপশন এ তে রয়েছে, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
ব্লু-ইকোনমি মানে সমুদ্রের অর্থনীতি, তাই বন্যা এর সরাসরি চ্যালেঞ্জ নয়।
সঠিক উত্তর: A) ব্রহ্মপুত্র নদী
কেন সঠিক:
১৭৮৭ সালে ডাউকি ফল্ট এলাকায় প্রবল ভূমিকম্প ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ উঁচু হয়ে যায়।
এর ফলে নদীটি তার পুরানো গতিপথ ত্যাগ করে দক্ষিণ দিকে নতুন পথ বেছে নেয় এবং যমুনা নামে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
ভৌগোলিক তথ্য:
ডাউকি ফল্ট হলো ভারতের মেঘালয় মালভূমি এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর বিস্তৃত একটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফাটল রেখা।
এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এখানে প্রায়ই ভূ-গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে নদীর গতিপথ ও ভূমিরূপ পরিবর্তিত হয়।
১৭৮৭ সালের এই ঐতিহাসিক ভূমিকম্পটি ছিল এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে অন্যতম বড় একটি গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
B) পদ্মা নদী — এই নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মূল কারণ গঙ্গা নদীর শাখাপ্রশাখার পরিবর্তন এবং ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, ডাউকি ফল্ট নয়।
C) কর্ণফুলী নদী — এটি মূলত পাহাড়ি নদী এবং এটি ডাউকি ফল্টের অনেক দক্ষিণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
D) মেঘনা নদী — এই নদীটি মূলত ছোট কয়েকটি নদীর মিলনস্থল এবং এর গতিপথ পরিবর্তনের সাথে ডাউকি ফল্টের সরাসরি কোনো বড় সংযোগ নেই।
মনে রাখার টিপস:
১৭৮৭ সাল ও ডাউকি ফল্ট মনে রাখলেই উত্তর হবে ব্রহ্মপুত্র, কারণ এই ভূমিকম্পের ফলেই নদীটি তার গতিপথ বদলে যমুনা নাম ধারণ করে।
সঠিক উত্তর: A) শনিবার
প্রদত্ত তথ্য:
২০১৮ সাল একটি সাধারণ বছর
১২ জানুয়ারি শুক্রবার
ধরি,
জানুয়ারি মাসে দিন সংখ্যা = ৩১ দিন
ফেব্রুয়ারি মাসে দিন সংখ্যা = ২৮ দিন
মার্চ মাসে দিন সংখ্যা = ১৭ দিন
অতএব,
জানুয়ারি মাসে বাকি দিন = ৩১ − ১২ = ১৯ দিন
ফেব্রুয়ারি মাসে দিন সংখ্যা = ২৮ দিন
মার্চ মাসে দিন সংখ্যা = ১৭ দিন
সুতরাং,
মোট দিনের সংখ্যা = ১৯ + ২৮ + ১৭ = ৬৪ দিন
উত্তর:
৬৪ কে ৭ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে ১
শুক্রবার থেকে ১ দিন পরে শনিবার
সঠিক উত্তর: B) ২
প্রদত্ত তথ্য:
চিত্রগুলোতে নির্দিষ্ট ক্রম বা প্যাটার্ন দেওয়া আছে
প্রতিটি চিত্রের উপাদানের মধ্যে একটি গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে
ধরি,
প্রথম চিত্রের মানসমূহ প্রথম শর্ত পূরণ করে
দ্বিতীয় চিত্রের মানসমূহ দ্বিতীয় শর্ত পূরণ করে
অতএব,
প্রথম চিত্রের হিসাব অনুযায়ী প্যাটার্নটি যাচাই করা হলো
দ্বিতীয় চিত্রের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটি নির্ণয় করা হলো
সুতরাং,
প্রশ্নবোধক চিহ্নের স্থানে সঠিক চিত্রটি মিলানো হলো
উত্তর: ২
সঠিক উত্তর: D) চাচা
প্রদত্ত তথ্য:
P এবং Q দুই ভাই
R এবং S দুই বোন
ধরি,
P-এর ছেলে হলো S-এর ভাই
যেহেতু S এবং R দুই বোন, তাই S-এর ভাই মানেই P-এর ছেলেই হলো R এবং S-এর ভাই
অতএব,
P হলো R এবং S-এর পিতা
যেহেতু Q হলো P-এর ভাই
সুতরাং,
বাবার ভাই হিসেবে Q হলো R-এর চাচা
উত্তর: চাচা
সঠিক উত্তর: C) সুতা
প্রদত্ত তথ্য:
স্পেটলার দিয়ে যেমন স্টেপল আটকানো হয়
সুচ দিয়ে তেমনি সেলাইয়ের কাজ করা হয়
ধরি,
স্পেটলারের সাথে স্টেপলের সম্পর্ক হলো মূল যন্ত্র ও তার প্রয়োজনীয় উপকরণ
সুচের সাথে সেরকম সম্পর্ক যুক্ত বস্তুটি হলো সুতা
অতএব,
স্পেটলার কাজ করার সময় স্টেপল ব্যবহার করে
সুচ কাজ করার সময় সুতা ব্যবহার করে
সুতরাং,
সুচের পরিপূরক উপাদান বা প্রধান সঙ্গী হলো সুতা
উত্তর: C) সুতা
সঠিক উত্তর: B) Love
প্রদত্ত তথ্য:
ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী Peace শব্দটির কোড হলো ১৬ ৫ ১১ ৩৫
ধরি,
ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষরগুলোর অবস্থান নিচে দেওয়া হলো
P হলো ষোড়শ বর্ণ বা ১৬
E হলো পঞ্চম বর্ণ বা ৫
অতএব,
১২ হলো দ্বাদশ বর্ণ বা L
১৫ হলো পঞ্চদশ বর্ণ বা O
২২ হলো ২২তম বর্ণ বা V
সুতরাং,
৫ হলো পঞ্চম বর্ণ বা E
উত্তর: Love
সঠিক উত্তর: D) ১৬টি
প্রদত্ত তথ্য:
ত্রিভুজ গণনা সংক্রান্ত একটি জ্যামিতিক চিত্র দেওয়া আছে
যেখানে বড় ত্রিভুজের ভেতর ছোট ছোট ত্রিভুজ বিভক্ত করা হয়েছে
ধরি,
ছোট একক ত্রিভুজের সংখ্যা = ৮টি
মাঝারি আকারের সমন্বিত ত্রিভুজের সংখ্যা = ৬টি
অতএব,
চার অংশের সমন্বয়ে গঠিত বড় ত্রিভুজ = ২টি
মোট ত্রিভুজের হিসাব = ৮ + ৬ + ২
সুতরাং,
চিত্রটিতে ত্রিভুজের মোট সংখ্যা হলো ১৬টি
উত্তর: ১৬টি
সঠিক উত্তর: B) ৬ কেজি
প্রদত্ত তথ্য:
ভারসাম্য দণ্ডের ডানপাশে মোট ওজন বারো কেজি
ভারসাম্য দণ্ডের কেন্দ্র থেকে ডানপাশের দূরত্ব দুই একক
ভারসাম্য দণ্ডের কেন্দ্র থেকে বামপাশের দূরত্ব চার একক
ধরি,
বামদিকের প্রয়োজনীয় ওজন = ক কেজি
অতএব,
ডানপাশের বল বা ভ্রামক = ১২ × ২ = ২৪
বামপাশের বল বা ভ্রামক = ক × ৪
সুতরাং,
৪ × ক = ২৪
ক = ২৪ ÷ ৪
উত্তর: ৬ কেজি
সঠিক উত্তর: A) YROMƎM
প্রদত্ত তথ্য:
মূল শব্দটি হলো MEMORY
আয়নায় দেখার নিয়ম হলো ডান পাশের বর্ণ বামে এবং বাম পাশের বর্ণ ডানে চলে আসে এবং প্রতিটি বর্ণ উল্টে যায়
ধরি,
প্রথম বর্ণ M অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু শেষের দিকে যায়
দ্বিতীয় বর্ণ E উল্টে গিয়ে Ǝ হয়
অতএব,
M বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব M হয়
E বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব Ǝ হয়
M বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব M হয়
সুতরাং,
O বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব O হয়
R বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব ꓤ বা উল্টো R হয়
Y বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব Y হয়
উত্তর: YROMƎM
সঠিক উত্তর: C) ১৯
প্রদত্ত তথ্য:
ধারার সংখ্যাগুলো হলো ৫, ৭, ১০, ১৪, শূন্যস্থান, ২৫
ধরি,
প্রথম পদের সাথে যোগ হয়েছে = ২
দ্বিতীয় পদের সাথে যোগ হয়েছে = ৩
তৃতীয় পদের সাথে যোগ হয়েছে = ৪
অতএব,
৫ + ২ = ৭
৭ + ৩ = ১০
১০ + ৪ = ১৪
সুতরাং,
১৪ + ৫ = ১৯
১৯ + ৬ = ২৫
উত্তর: ১৯
সঠিক উত্তর: A) উত্তর
প্রদত্ত তথ্য:
ঘড়িতে তখন ঠিক ৩টা বাজে
ঘণ্টার কাঁটা রয়েছে পূর্ব দিকে
ধরি,
ঘড়ির স্বাভাবিক দিকগুলো হলো উপরে উত্তর, নিচে দক্ষিণ, ডানে পূর্ব এবং বামে পশ্চিম
৩টার সময় ছোট কাঁটা ৩ ঘরের দিকে এবং বড় কাঁটা ১২ ঘরের দিকে থাকে
অতএব,
৩টার সময় ঘণ্টার কাঁটা ৩ এর ঘরে থাকে যা পূর্ব দিক নির্দেশ করছে
কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মে ৩ এর ঘর থাকে পূর্ব দিকে এবং ১২ এর ঘর থাকে উত্তর দিকে
সুতরাং,
১২ এর ঘরে থাকা মিনিটের কাঁটা স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিকে থাকবে
উত্তর: উত্তর
সঠিক উত্তর: D) ৩৪
প্রদত্ত তথ্য:
সিরিজের সংখ্যাগুলো হলো ৩, ৫, ৮, ১২, ২১
ধরি,
সিরিজের প্রথম সংখ্যা = ৩
সিরিজের দ্বিতীয় সংখ্যা = ৫
সিরিজের তৃতীয় সংখ্যা = ৮
অতএব,
প্রথম ও দ্বিতীয় পদের পার্থক্য ৫ − ৩ = ২
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদের পার্থক্য ৮ − ৫ = ৩
তৃতীয় ও চতুর্থ পদের পার্থক্য ১২ − ৮ = ৪
সুতরাং,
এই নিয়ਮ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবধান হবে ৫, ৬ এবং ৭
২১ এর সাথে ১৩ যোগ করলে পরবর্তী সংখ্যাটি পাওয়া যায়
উত্তর: ৩৪
সঠিক উত্তর: C) ৬২১৭
প্রদত্ত তথ্য:
PLAY শব্দের কোড ৮২১৩
RHYME শব্দের কোড ৪৯৩৬৭
ধরি,
প্রতিটি অক্ষরের নিজস্ব নির্দিষ্ট অঙ্ক বা মান রয়েছে
অতএব,
P এর মান ৮
L এর মান ২
A এর মান ১
Y এর মান ৩
এবং,
M এর মান ৬
E এর মান ৭
সুতরাং,
M অক্ষরের জন্য মান বসবে ৬
A অক্ষরের জন্য মান বসবে ১
L অক্ষরের জন্য মান বসবে ২
E অক্ষরের জন্য মান বসবে ৭
উত্তর: ৬২১৭
সঠিক উত্তর: B) নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
প্রদত্ত তথ্য:
শব্দগুলোকে বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজাতে হবে
ধরি,
প্রথম বর্ণ সবার ক্ষেত্রে নি
অতএব,
দ্বিতীয় বর্ণ অনুসারে শব্দের ক্রম নির্ধারণ করতে হবে
সুতরাং,
সঠিক ক্রমটি হলো নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
উত্তর: B) নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
সঠিক উত্তর: C) why
প্রদত্ত তথ্য:
কোনো ঘটনার পেছনের কারণ বা উদ্দেশ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
ইংরেজি ব্যাকরণ অনুযায়ী প্রশ্নবোধক শব্দের ব্যবহার বিবেচনা করতে হবে।
ধরি,
কারণ জানার জন্য ব্যবহৃত শব্দটি অজানা
অপশনগুলো হলো how, what, why এবং who
অতএব,
how দ্বারা কাজের পদ্ধতি বোঝায়
what দ্বারা কোনো বস্তু বা বিষয় বোঝায়
সুতরাং,
why শব্দটির বাংলা অর্থ কেন এবং এটি কারণ জানতে ব্যবহার করা হয়
উত্তর: C) why
সঠিক উত্তর: C) ৬৮
প্রদত্ত তথ্য:
ধারার সংখ্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সাজানো আছে
প্রতি ধাপের ব্যবধান নির্দিষ্ট নিয়মে বাড়ছে
ধরি,
প্রথম সংখ্যাটি এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটির পার্থক্য ক
দ্বিতীয় সংখ্যাটি এবং তৃতীয় সংখ্যাটির পার্থক্য খ
অতএব,
প্রথম ধাপে ব্যবধান ৪ যোগ হলো
দ্বিতীয় ধাপে ব্যবধান ৮ যোগ হলো
তৃতীয় ধাপে ব্যবধান ১২ যোগ হলো
সুতরাং,
৫৬ এর সাথে ১২ যোগ করতে হবে
উত্তর: ৬৮
সঠিক উত্তর: D) কবিতার কথা
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নটিতে কোনটি উপন্যাস নয় তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং 'কবিতার কথা' উপন্যাস নয় বরং জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত প্রাবন্ধিক গ্রন্থ।
- 'কবিতার কথা' গ্রন্থে আধুনিক কবিতার রূপ, প্রকৃতি ও সৃষ্টির রহস্য নিয়ে গভীর তাত্ত্বিক আলোচনা করা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম প্রধান কবি যিনি প্রধানত রূপসী বাংলা ও তিমিরধূসরতার মতো কাব্যগ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।
- এই গ্রন্থটি মূলত প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত, যা আধুনিক বাংলা কবিতার নান্দনিক দিক বুঝতে সহায়তা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বুদ্ধদেব বসুর 'রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক'
ব্যাখ্যা: এটি একটি প্রাবন্ধিক গ্রন্থ যা কবিতার শিল্পরূপ নিয়ে আলোচনা করে, কোনো উপন্যাস নয়।
উদাহরণ ২: প্রমথ চৌধুরীর 'বীরবলের হালখাতা'
ব্যাখ্যা: এটি প্রমথ চৌধুরীর একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন, যা উপন্যাস শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দিবারাত্রির কাব্য — এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
B) শেষের কবিতা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যধর্মী রোমান্টিক উপন্যাস।
C) পল্লী-সমাজ — এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গ্রামীণ সমাজজীবনের ওপর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
D) কবিতার কথা — এটি জীবনানন্দ দাশের একটি প্রাবন্ধিক গ্রন্থ, তাই এটি উপন্যাস নয় এবং এটিই সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তার প্রাবন্ধিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'কবিতার কথা' সবচেয়ে বিখ্যাত।
- উপন্যাস মনে রাখার সময় ঔপন্যাসিকের নাম এবং উপন্যাসের ধরণ একসাথে মিলিয়ে পড়লে পরীক্ষা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ হলো 'কবিতার কথা', যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- সাহিত্যিকদের কবিতা বা প্রবন্ধের বইগুলো উপন্যাস বা ছোটগল্প থেকে আলাদা করে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: C) মৃন্ময়
কেন সঠিক:
১. ‘মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি’ এই বাক্যাংশের সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো মৃন্ময়। এটি মূলত বিশেষ্য পদের বিশেষণ রূপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
২. ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে মৃৎ যোগ ময় মিলে মৃন্ময় শব্দ গঠিত হয়। এখানে ত খন্ডত্ব ধ্বনিটি পরিবর্তিত হয়ে ন ধ্বনিতে রূপ নেয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. এটি ব্যঞ্জনসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম যেখানে বর্গের প্রথম ধ্বনির সাথে নাসিক্য ধ্বনির মিলন ঘটে। পদের শেষে ত বা দ থাকলে এবং তার পরে ম বা ন থাকলে পূর্ববর্তী ধ্বনিটি পঞ্চম নাসিক্য ধ্বনিতে পরিণত হয়।
২. বাংলা ব্যাকরণে পদের সংকোচন বা এককথায় প্রকাশ ভাষা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং বড় বাক্যকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
৩. যেমন বাক বা বাকী যোগ মায় সমান বাঙ্ময় এবং জগৎ যোগ নাথ সমান জগন্নাথ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তন্ময় — এই শব্দের অর্থ তাতে মগ্ন বা একাগ্রচিত্ত। এটি মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
B) মন্ময় — এই শব্দের অর্থ মন সংক্রান্ত বা মনোময়। এটি মাটি বা মৃত্তিকার সাথে সম্পর্কিত নয়।
C) মৃন্ময় — এটি তো সঠিক উত্তর তাই এখানে ভুল হওয়ার কোনো কারণ নেই।
D) চিন্ময় — এই শব্দের অর্থ জ্ঞানময় বা চেতনাসম্পন্ন। এটি মৃত্তিকা বা মাটির তৈরি বোঝায় না।
মনে রাখার টিপস:
১. মৃত্তিকা শব্দের শুরুতে মৃত রয়েছে যা থেকে মৃৎ আসে এবং তার সাথে ময় যোগ করলে মৃন্ময় হয়।
২. মাটির তৈরি জিনিস বোঝাতে সর্বদা মৃৎ যোগ ময় অর্থাৎ মৃন্ময় শব্দটি মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) শিব
১. কেন সঠিক:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান উপাস্য দেবী হলেন দেবী চণ্ডী বা পার্বতী, যিনি হিন্দু পৌরাণিক দেবতা শিবের স্ত্রী।
- মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের ধারা অনুযায়ী দেবদেবীর মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে এই কাব্যগুলো রচিত হয়েছিল এবং চণ্ডীদেবীর পূজা প্রচলনই এই কাব্যের মূল লক্ষ্য।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো মঙ্গলকাব্য, যার মধ্যে চণ্ডীমঙ্গল কাব্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি শাখা।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বা দ্বিজ মাধব হলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কবি, আর এই কাব্যে দেবী চণ্ডীর লৌকিক ও পৌরাণিক রূপের প্রকাশ ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মনসামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা: এটি মঙ্গলকাব্যের আরেকটি ধারা যেখানে সাপ বা নাগদেবী মনসার পূজা প্রচারের কাহিনী রয়েছে।
উদাহরণ ২: ধর্মমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা: এটি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের আরেকটি শাখা যেখানে ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচার করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জগন্নাথ — জগন্নাথ হিন্দুধর্মের দেবতা বিষ্ণুর একটি রূপ, যার সঙ্গে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দেবীর কোনো সরাসরি পত্নীগত সম্পর্ক নেই।
B) বিষ্ণু — বিষ্ণু জগতের পালনকর্তা দেবতা, তাঁর স্ত্রী হলেন দেবী লক্ষ্মী, চণ্ডী বা পার্বতী নন।
C) প্রজাপতি — প্রজাপতি হিন্দু পুরাণে সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মা বা কামদেবকে বোঝায়, চণ্ডীর পতি ইনি নন।
D) শিব — এই অপশনটি সঠিক কারণ পৌরাণিক মতে দেবী চণ্ডী বা দুর্গা মহাদেব শিবের স্ত্রী।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শিবের স্ত্রী হিসেবে দেবী পার্বতী, দুর্গা বা চণ্ডী পরিচিত, তাই চণ্ডীমঙ্গলের চণ্ডী মানেই শিবের স্ত্রী।
- মঙ্গলকাব্যের দেবদেবীদের পারিবারিক সম্পর্ক মনে রাখলে পরীক্ষার উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (ভারতের কুইজ বা বিসিএস পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ)।
- মঙ্গলকাব্য সাধারণত দেবদেবীর মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত আখ্যানকাব্য।
সঠিক উত্তর: B) গোয়ালঘর থেকে
১. কেন সঠিক:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি বাঁকুড়ার কাকডাঙ্গা গ্রামের এক গোয়ালঘরের মাচা বা তাসের নিচ থেকে আবিষ্কৃত হয়েছিল।
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদদ্বল্পভ ১৯০৯ সালে কাকডাঙ্গা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে পুথিটি উদ্ধার করেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভের সম্পাদনায় এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চর্যাপদ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
উদাহরণ ২: মনসা মঙ্গল
ব্যাখ্যা: মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন প্রণেতা যেমন বিজয় গুপ্ত ও সুর্যদাস মধ্যযুগের সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নেপালের রাজদরবার থেকে — নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদ উদ্ধার করা হয়েছিল, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নয়।
C) পাঠশালা থেকে — পাঠশালা থেকে কোনো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যকর্ম আবিষ্কৃত হয়নি, এটি ভুল তথ্য।
D) কান্তজীর মন্দির থেকে — কান্তজীর মন্দির একটি ঐতিহাসিক টেরাকোটা স্থাপত্য, এখান থেকে কোনো সাহিত্যিক পুথি উদ্ধার করা হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
চর্যাপদ পাওয়া গেছে রাজদরবারে আর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পাওয়া গেছে গরুর গোয়ালঘরে। এই দুই আবিষ্কারের স্থান কখনো গুলিয়ে ফেলবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মধ্যযুগের প্রাচীন ও নির্দেশক কাব্যগুলোর আবিষ্কারক এবং আবিষ্কারের স্থান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত ঘন ঘন আসে। বসন্তরঞ্জন রায় ১৯০৯ সালে গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন উদ্ধার করেন।
সঠিক উত্তর: C) মৈথিলি
১. কেন সঠিক:
- বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলি ভাষার কবি ছিলেন এবং তিনি এই ভাষার পদ রচনা করেই সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- মৈথিলি ভাষার কবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলীর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বিদ্যাপতি ভারতের মিথিলা অঞ্চলের কবি ছিলেন এবং তিনি সংস্কৃত ও অবহট্ঠ ভাষাতেও গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- বাংলা বৈষ্ণব পদাবলীতে তার রচিত মৈথিলি ভাষার পদগুলো ব্রজবুলি ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পদকল্পতরু
ব্যাখ্যা: এই সংকলন গ্রন্থে বিদ্যাপতির অনেক মৈথিলি পদ স্থান পেয়েছে যা পরবর্তীতে ব্রজবুলি রূপে বঙ্গে প্রচলিত হয়।
উদাহরণ ২: কীর্তিলাটা
ব্যাখ্যা: এটি বিদ্যাপতি রচিত অবহট্ঠ ভাষায় লিখিত একটি ঐতিহাসিক ও কাব্যিক গ্রন্থ যা তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মারাঠি — মারাঠি ভারতের মহারাষ্ট্র অঞ্চলের ভাষা, যা বিদ্যাপতির জন্মস্থান মিথিলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) হিন্দি — হিন্দি আধুনিক উত্তর ভারতের প্রধান ভাষা, তবে বিদ্যাপতির সময়কালে এই নির্দিষ্ট ভাষার রূপটি পদ রচনার জন্য ব্যবহৃত হয়নি।
D) গুজরাটি — গুজরাটি ভারতের গুজরাট অঞ্চলের ভাষা এবং এটি বিদ্যাপতির সাহিত্য সাধনার এলাকার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিদ্যাপতি নামটির সঙ্গে মিথিলা অঞ্চলের নাম মনে রাখলে খুব সহজেই তার মাতৃভাষা মৈথিলি মনে রাখা সম্ভব।
ব্রজবুলি মূলত মৈথিলি ও বাংলা ভাষার একটি মিশ্র কৃত্রিম রূপ যা বিদ্যাপতির পদ রচনার মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিদ্যাপতিকে মিথিলার কোকিল বলা হয় এবং তিনি বাংলার কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জন ব্যক্তিত্ব।
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে ব্রজবুলি ভাষার মূল ভিত্তি কোন ভাষা, যার সঠিক উত্তর হলো মৈথিলি।
সঠিক উত্তর: C) ঈশ্বরী পাটুনীর
১. কেন সঠিক:
- এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পঙক্তি।
- দরিদ্র ব্রাহ্মণ ঈশ্বরী পাটুনী গঙ্গার কৃপা লাভ করার সময় দেবী অন্নপূর্ণার কাছে ধন-সম্পদ বা বিলাসিতা না চেয়ে কেবল সাধারণ অন্ন ও বস্ত্রের প্রার্থনা করেছিলেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই কাব্যের রচয়িতা হলেন অষ্টাদশ শতকের বিশিষ্ট কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, যিনি কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যটি মূলত তিন ভাগে বিভক্ত, যার প্রথম ভাগ অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় ভাগ বিদ্যাসুন্দর এবং তৃতীয় ভাগ মানসিংহ বা ভবানন্দ মজুমদার।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।
ব্যাখ্যা: এটি ঈশ্বরী পাটুনীর বলা সেই অন্নপূর্ণার বর চাওয়ার বিখ্যাত কথা যা বাংলা সাহিত্যে প্রবাদবাক্যের মতো ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
ব্যাখ্যা: এটিও ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি বহুল ব্যবহৃত ও বিখ্যাত প্রবাদতুল্য পঙক্তি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভবানন্দের — ভবানন্দ মজুমদার অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হলেও এই প্রার্থনাটি তাঁর ছিল না।
B) ভাড়ুদত্তের — ভাড়ুদত্ত অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি অন্যতম চরিত্র এবং সে ছিল ধূর্ত ও লম্পট প্রকৃতির ব্যক্তি।
D) ফুল্লরার — ফুল্লরা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কালকেতুর স্ত্রী এবং তাঁর প্রার্থনা এই উপকথার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুধ এবং ভাতের সঙ্গে পাটুনীর নাম মনে রাখলে খুব সহজেই এই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর মনে রাখা সম্ভব।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যে অন্নদামঙ্গল, তা এই চরিত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মধ্যযুগের কাব্যের বিখ্যাত চরিত্র ও উদ্ধৃতি থেকে প্রশ্ন আসে।
- চরিত্রভিত্তিক প্রশ্ন সমাধানের জন্য মূল কাব্যের গল্প এবং চরিত্রগুলোর নাম ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) এস ওয়াজেদ আলী
১. কেন সঠিক:
- এস ওয়াজেদ আলী 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের মূল সংগঠক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রবক্তা ছিলেন না। তিনি একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক হলেও এই আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
- 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন মূলত বিশ শতকের তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে মুসলিম সমাজে মুক্তচিন্তা প্রসারের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের প্রধান প্রতিষ্ঠান ছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ, যা স্থাপিত হয় ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায়।
- এই আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল বুদ্ধির মুক্তি, যার অর্থ গোঁড়ামি ও কূপমণ্ডূকতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং সত্যকে উপলব্ধি করা।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী আবদুল ওদুদ রচিত 'মির পরিবার' ও 'নজরুল ইসলাম' প্রবন্ধ।
ব্যাখ্যা: কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও সাহিত্যিক।
উদাহরণ ২: আবুল ফজলের 'মাটির পৃথিবী' ও 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি'।
ব্যাখ্যা: আবুল ফজলও মুসলিম সাহিত্য সমাজের সক্রিয় সদস্য ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাজী আবদুল ওদুদ — তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা।
B) এস ওয়াজেদ আলী — তিনি প্রাবন্ধিক হলেও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তাই এটি সঠিক উত্তর।
C) আবুল ফজল — তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও সাহিত্যিক ছিলেন।
D) আবদুল কাদির — তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং এই আন্দোলনের অন্যতম চিন্তাবিদ ছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিদের মনে রাখার সহজ উপায় হলো ওদুদ, কাদির, আবুল ফজল ও মোতাহার হোসেন চৌধুরীকে মনে রাখা। এস ওয়াজেদ আলী কলকাতার সাহিত্যধারার সাথে বেশি যুক্ত ছিলেন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠাকাল এবং এর সাথে যুক্ত লেখকদের নাম প্রায়ই আসে।
- 'শিখা' পত্রিকা এই আন্দোলনের মুখপত্র ছিল, যার বিখ্যাত স্লোগান ছিল জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আচ্ছন্ন, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) অগ্নি-বীণা
১. কেন সঠিক:
- অগ্নি-বীণা কাব্যটি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ও উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত।
- এই কাব্যের কবিতাসমূহে সাম্যবাদ, মানবতা এবং শোষিত মানুষের মুক্তির জোরালো বাণী প্রকাশ পেয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অগ্নি-বীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের প্রলয়উল্লাস, বিদ্রোহী এবং কামাল পাশা কবিতায় কবির উদারনৈতিক ও সংগ্রামী চেতনা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী কবিতা।
ব্যাখ্যা: অগ্নি-বীণা কাব্যের এই কবিতায় কবির উদার মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: কামাল পাশা কবিতা।
ব্যাখ্যা: এই কবিতায় বিশ্ব মানবতার জয়গান এবং নিপীড়িত জাতির মুক্তির পক্ষে কবির উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিষের বাঁশী — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত সাম্যবাদী ও বিদ্রোহী কাব্য হলেও উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার প্রথম ধারক হিসেবে অগ্নি-বীণা বেশি স্বীকৃত।
B) অগ্নি-বীণা — সঠিক উত্তর।
C) সিন্ধু-হিন্দোল — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান ও কবিতার সংকলন হলেও এটি তার উদারনৈতিক ভাবনার মূল ধারক হিসেবে পরিচিত নয়।
D) চক্রবাক — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গীতিআট্য বা রোমান্টিক ধারার কাব্যগ্রন্থ, যা তার বিদ্রোহী ও উদারনৈতিক চেতনার চেয়ে রোমান্টিক আবেগকে বেশি প্রকাশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নজরুলের প্রথম কাব্য এবং উদারনৈতিক চেতনার সূচনার জন্য অগ্নি-বীণা নামটি মনে রাখবে।
- অগ্নি-বীণা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে, যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল এবং প্রথম কবিতার নাম প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি।
সঠিক উত্তর: A) শনিবারের চিঠি
১. কেন সঠিক:
- শনিবারের চিঠি বিশ শতকে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও রসব্যঙ্গের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শনিবারের চিঠি পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ ঘটে বিংশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১৯২৪ সালে।
- এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস এবং পরবর্তীতে দীর্ঘকাল এর সম্পাদনা করেন সজনীকান্ত দাস।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কল্লোল পত্রিকা
ব্যাখ্যা: কল্লোল পত্রিকাটিও বিংশ শতাব্দীতে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্যের একটি আধুনিক যুগের বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা।
উদাহরণ ২: কালি ও কলম
ব্যাখ্যা: কালি ও কলমও বিশ শতকের পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি পরিচিত সাহিত্যপত্রিকা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শনিবারের চিঠি — এটি বিশ শতকের পত্রিকা হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
B) বঙ্গদর্শন — এটি উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮৭২ সালে) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল।
C) তত্ত্ববোধিনী — এটি উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮৪৩ সালে) অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
D) সংবাদ প্রভাকর — এটি উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮৩১ সালে) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- উনবিংশ শতাব্দীর পত্রিকাগুলো সাধারণত সংবাদ ও সমাজ সংস্কারমূলক ছিল, আর বিশ শতকের পত্রিকাগুলো সাহিত্য ও ব্যঙ্গধর্মী ছিল।
- সজনীকান্ত দাসের শনিবারের চিঠি বিশ শতকের সাহিত্য আন্দোলনের একটি প্রধান স্তম্ভ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পত্রিকাগুলোর প্রকাশের শতাব্দী বা দশক প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের পর আধুনিক যুগের পত্রিকাগুলোর প্রকাশকাল মনে রাখা BCS পরীক্ষার জন্য জরুরি।
সঠিক উত্তর: A) অব্যয়ীভাব
১. কেন সঠিক:
- পূর্বপদে অব্যয় যোগে যদি সমাস হয় এবং সেই অব্যয় পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এখানে 'যথা' একটি অব্যয় পদ, যা নিয়মকেতিক্রম না করা অর্থে ব্যবহৃত হয়ে অব্যয়ীভাব সমাস গঠন করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অব্যয়ীভাব সমাসে সাধারণত পূর্বপদে উপসর্গ বা অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য পদ থাকে।
- 'যথারীতি' শব্দের ব্যাসবাক্য হলো রীতিকে অতিক্রম না করিয়া বা যথারীতি। এখানে অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যথাসদ্ধ্যা
ব্যাখ্যা: সদ্ধ্যাকে অতিক্রম না করিয়া অর্থে এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
উদাহরণ ২: প্রতিদিন
ব্যাখ্যা: দিন দিন বা প্রতি দিন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের অপর একটি চমৎকার উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অব্যয়ীভাব — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে অব্যয় পদের অর্থ প্রধান হয়েছে।
B) দ্বিগু — এটি ভুল কারণ দ্বিগু সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয় এবং সমাহার বোঝায়।
C) বহুব্রীহি — এটি ভুল কারণ বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ না বুঝিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো পদকে বোঝায়।
D) দ্বন্দ্ব — এটি ভুল কারণ দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের সমান প্রাদান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লুক্কায়িত থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সমাসের শুরুতে যদি যথা, প্রতি, আ, উপ, নি ইত্যাদি অব্যয় থাকে এবং অর্থের দিক থেকে অব্যয়টি প্রধান হয়, তবে চোখ বন্ধ করে অব্যয়ীভাব সমাস দাগাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অব্যয়ীভাব সমাস থেকে প্রায়ই যথা ও প্রতি যুক্ত শব্দগুলো বেশি আসে, তাই এগুলোর ব্যাসবাক্য ভালো করে চর্চা করবে।
সঠিক উত্তর: C) আহমদ শরীফ
১. কেন সঠিক:
- 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা বিশিষ্ট গবেষক, প্রাবন্ধিক ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসবিদ ড. আহমদ শরীফ।
- বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে এই গ্রন্থটি একটি অত্যন্ত প্রামাণ্য ও সমাজসচেতন গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ড. আহমদ শরীফ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও বাঙালি মুসলিম সমাজের প্রগতিশীল ধারার লেখক।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পুথি সম্পাদনা এবং বাঙালি জাতির ইতিহাস ও স্বকীয়তা উন্মোচনে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মধ্যযুগের সাহিত্য
ব্যাখ্যা: আহমদ শরীফ সম্পাদিত 'লাউলাই মজনু' মধ্যযুগের একটি প্রখ্যাত রোমান্টিক কাব্য।
উদাহরণ ২: বাঙালির ইতিহাস
ব্যাখ্যা: তাঁর রচিত 'বাঙালীর চিন্তাচেতনায় ধর্মনিরপেক্ষতা' একটি বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দীনেশচন্দ্র সেন — তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নয়।
B) গোপাল হালদার — তিনি মার্কসবাদী সাহিত্য সমালোচক হিসেবে পরিচিত এবং 'বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা' তাঁর একটি বিখ্যাত সাহিত্য ইতিহাস গ্রন্থ।
D) সুকুমার সেন — তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা প্রবীণ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' রচনা করেছেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য ও সাহিত্য নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের মধ্যে আহমদ শরীফ অন্যতম।
- 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' শিরোনাম দেখলে মনে রাখবে এটি ড. আহমদ শরীফের একটি প্রখ্যাত মননশীল ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও গবেষণা গ্রন্থ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- লেখকদের বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থগুলোর নাম আলাদা করে নোট করে রাখলে উত্তর করা সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: C) মৃণালিনী
১. কেন সঠিক:
- ‘মৃণালিনী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় ও প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র হলো ‘মনোরমা’।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক এবং তাঁর প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।
- ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৯ সালে এবং এর পটভূমি হলো বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ জয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস, যার প্রধান নারী চরিত্র কপালকুণ্ডলা।
উদাহরণ ২: দেবীচৌধুরাণী
ব্যাখ্যা: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি বিখ্যাত সমাজকল্যাণমূলক ও ঐতিহাসিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষ্ণকান্তের উইল — এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো রোহিনী, গোবিন্দলাল ও ভ্রমর, মনোরমা নয়।
B) দুর্গেশনন্দিনী — এটি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস এবং এর প্রধান চরিত্র তিলোত্তমা ও আয়েশা।
D) বিষবৃক্ষ — এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র হলো কুন্দনন্দিনী ও সূর্যমুখী।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বঙ্কিমচন্দ্রের ঐতিহাসিক উপন্যাসের চরিত্র মনে রাখতে মূল চরিত্রগুলোর নামের তালিকা তৈরি করে পড়তে পারো।
- ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের নামের সঙ্গে ‘মনোরমা’ চরিত্রটির নাম মিলিয়ে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ও চরিত্র থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে ‘মৃণালিনী’ ও এর প্রকাশকাল ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) মানসী
১. কেন সঠিক:
- ‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এই কবিতা দুটিতে মানবপ্রেমের প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশ্য রূপ অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ‘মানসী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও রূপান্তরধর্মী কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যে কবির তরুণ বয়সের রোমান্টিক চেতনার পাশাপাশি সমাজ ও জীবনের গভীর ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ‘মানসী’ কাব্যের আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হলো ‘নিঝর স্বপ্নভঙ্গ’।
ব্যাখ্যা: এই কবিতায় কবির অন্তরের মুক্তি ও ভাবনার জাগরণ প্রকাশ পেয়েছে যা ‘মানসী’ কাব্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ ২: ‘মানসী’ কাব্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ‘সিন্ধুত্বরংগ’।
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের বিশালতা ও মানবজীবনের তূলনা এই কবিতায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) খেয়া — এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০৬ সালে এবং এর মূল সুর হলো আধ্যাত্মিকতা ও জীবনদর্শন।
B) মানসী — এটি সঠিক উত্তর।
C) কল্পনা — এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে এবং এর কবিতাগুলোর মূল বিষয়বস্তু ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
D) সোনার তরী — এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৪ সালে এবং এর প্রধান থিম হলো জীবন ও সময়ের অবিনশ্বরতা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মানসী কাব্যগ্রন্থের দুটি বিখ্যাত মানবিক অনুভূতির কবিতা হলো ব্যক্ত প্রেম ও গুপ্ত প্রেম।
- মনে রাখার কৌশল হলো মানসীর প্রেম ব্যক্ত ও গুপ্ত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল ১৮৯০ সাল এবং এটি শিলাদহ বসে রচিত হয়।
- বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রবীন্দ্রনাথের প্রথম বা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) রবিবার
কেন সঠিক:
১. 'রবিবার' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প।
২. এই গল্পের মূল পুরুষ চরিত্র বা নায়কের নাম অভীক।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষপর্যায়ের লেখা একটি মনস্তাত্ত্বিক গল্প।
২. গল্পটিতে আধুনিক মনস্তত্ত্ব ও প্রেমের ভিন্ন রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
৩. যেমন, এই গল্পের প্রধান দুই চরিত্র হলো বিভা ও অভীক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নষ্টনীড় — এই গল্পের প্রধান চরিত্র হলো চারু, অমল ও ভূপতি।
B) নামঞ্জুর — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন নামে কোনো প্রধান ছোটগল্প নেই।
C) রবিবার — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কোনো চরিত্র নেই।
D) ল্যাবরেটরি — এই গল্পের প্রধান চরিত্র হলো সোহিনী ও কুमुদ।
মনে রাখার টিপস:
রবিবারের ছুটি কাটাতে অভীক নামের তরুণটি বেশি পরিচিত।
রবীন্দ্রনাথের শেষের দিকের গল্পের নায়ক হিসেবে তাকে মনে রাখা সহজ।
সঠিক উত্তর: C) কামিনী রায়
১. কেন সঠিক:
প্রখ্যাত কবি কামিনী রায়ের ‘পরার্থপরতা’ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি এটি। মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার শিক্ষা দিতে এই চরণটি বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
কামিনী রায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান নারী কবি ও ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের বিশিষ্ট লেখক। তাঁর কবিতায় মানবপ্রেম, পরার্থপরতা এবং নৈতিকতার গভীর প্রকাশ ঘটেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।’
ব্যাখ্যা: এটি চণ্ডীদাসের পদাবলির একটি বিখ্যাত পঙক্তি, যা মানবজীবনের দুঃখ ও প্রেমের পরিণতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ‘বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে, বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরি।’
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ভ্রমণ ও উপলব্ধিমূলক কবিতার চরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রজনীকান্ত সেন — ইনি বিখ্যাত ভক্তিমূলক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য পরিচিত হলেও এই পঙক্তিটি তাঁর নয়।
B) ইসমাইল হোসেন সিরাজী — ইনি একজন মুসলিম সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক, যাঁর রচনায় মূলত সমাজ সংস্কার ও জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
D) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় — ইনি মূলত ঐতিহাসিক নাটক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য বিখ্যাত, এই কবিতার রচয়িতা নন।
৫. মনে রাখার টিপস:
কামিনী রায়ের নাম মনে রাখার সাথে সাথে তাঁর এই বিখ্যাত নৈতিক উদ্ধৃতিটি যুক্ত করে নিলে পরীক্ষা সহজে মনে রাখা যায়। নারী কবিদের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিখ্যাত সাহিত্যিক উদ্ধৃতি কার লেখা তা প্রায়ই আসে। তাই বিখ্যাত কবিদের জনপ্রিয় কবিতার প্রথম বা অন্তিম চরণগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) জীবন আমার বোন
কেন সঠিক:
১. মাহমুদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস জীবন আমার বোন এ খোকা ও রঞ্জু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
২. উপন্যাসের পটভূমি এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে এই চরিত্র দুটির মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. বাংলা কথাসাহিত্যে মাহমুদুল হক একজন অন্যতম প্রধান মনস্তাত্ত্বিক ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ও সমাদৃত।
২. জীবন আমার বোন উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের চিত্র নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
৩. যেমন, এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র খোকা ও তার ছোট বোন রঞ্জুর মধ্যকার সম্পর্ক তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কালো বরফ — এটি মাহমুদুল হকের আরেকটি উপন্যাস হলেও এতে খোকা ও রঞ্জু চরিত্র দুটি অনুপস্থিত।
B) খেলাঘর — এই উপন্যাসটি অন্য কোনো লেখকের লেখা কিংবা মাহমুদুল হকের হলেও এখানে আলোচ্য চরিত্র নেই।
C) অনুর পাঠশালা — এটি মাহমুদুল হকের একটি ছোটগল্প বা অন্য কোনো সাহিত্যকর্ম, যেখানে এই চরিত্র দুটি নেই।
D) জীবন আমার বোন — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
১. মাহমুদুল হক বললেই মনে রাখবে তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি জীবন আর এই উপন্যাসের ভাইবোনের নাম ছিল খোকা ও রঞ্জু।
২. প্রশ্নপত্রে খোকা ও রঞ্জু পেলেই চোখ বন্ধ করে জীবন আমার বোন উপন্যাসটি দাগিয়ে দেবে।
সঠিক উত্তর: B) বহিপীর
কেন সঠিক:
বহিপীর নাটকটি প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত সৃষ্টি।
এই নাটকে রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা এবং পীরতন্ত্রের অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা নাট্যসাহিত্যে সামাজিক সমস্যা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অবদান অনন্য ও অবিস্মরণীয়।
বহিপীর নাটকটি প্রকাশের পর থেকেই বাংলা নাট্যজগতে এক নতুন ধারার সূচনা করে এবং বহুল পঠিত হয়।
এই নাটকের চরিত্রগুলোর মধ্যে তাহেরা ও বহিপীরের দ্বন্দ্ব বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক চিরকালীন দলিল হিসেবে পরিচিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কবর — মুনীর চৌধুরীর লেখা একটি বিখ্যাত নাটক যা ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
B) বহিপীর — এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক এবং এটিই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হিসেবে নির্ধারিত।
C) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় — সৈয়দ শামس الحق এর লেখা একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় কাব্যনাট্য।
D) ওরা কদম আলী — এটি নাট্যকার মামুনুর রশীদের লেখা একটি অত্যন্ত সমাজসচেতন ও বিখ্যাত নাটক।
মনে রাখার টিপস:
ওয়ালীউল্লাহর নাম শুনলেই মনে রাখবে তার বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু এবং বিখ্যাত নাটক বহিপীর।
পীর শব্দটির সাথে ওয়ালীউল্লাহর বহিপীর নাটকটি মনে রাখলেই এই প্রশ্নের উত্তর চিরস্থায়ীভাবে মনে থাকবে।
সঠিক উত্তর: C) উপন্যাস
১. কেন সঠিক:
- মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদসিন্ধু একটি উপন্যাস কারণ এটি কাল্পনিক চরিত্র ও ঐতিহাসিক ঘটনার সংমিশ্রণে রচিত দীর্ঘ গদ্য আখ্যান।
- ঐতিহাসিক তথ্যের পাশাপাশি লেখকের কল্পনা ও আবেগ এর মূল কাঠামো তৈরি করেছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মীর মশাররফ হোসেন বাংলা গদ্যসাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার যিনি বিশ শতকের প্রারম্ভে মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখেন।
- বিষাদসিন্ধু গ্রন্থটি মূলত কারবালার প্রান্তরের ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি অবলম্বনে রচিত হলেও এর শৈল্পিক রূপ ও উপস্থাপনা একে উপন্যাস ধারায় ভূষিত করেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা: এটিও ইতিহাস ও কল্পনার আশ্রয়ে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস।
উদাহরণ ২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজর্ষি
ব্যাখ্যা: এটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মহাকাব্য — মহাকাব্য হলো পদ্যে রচিত দীর্ঘ কবিতা, কিন্তু বিষাদসিন্ধু গদ্যে রচিত উপন্যাস।
B) ইতিহাস গ্রন্থ — এটি কোনো প্রামাণ্য ইতিহাস গ্রন্থ নয়, কারণ এতে লেখকের ব্যাপক কল্পনার মিশ্রণ ঘটেছে।
D) ইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ — এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবনী নয়, বরং কারবালার যুদ্ধভিত্তিক একটি কথাসাহিত্য।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বিষাদসিন্ধু নাম দেখেই একে কবিতা বা ইতিহাস না ভেবে মীর মশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি হিসেবে উপন্যাস মনে রাখবে।
- মীর মশাররফ হোসেনের সবচেয়ে বিখ্যাত গদ্যশিল্প হলো এই উপন্যাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিষাদসিন্ধু কয়টি খণ্ডে বিভক্ত এবং কী কী তা জেনে রাখা বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ঐতিহাসিক পটভূমি থাকলেই কোনো গ্রন্থ ইতিহাস হয় না, বরং তার সাহিত্যরূপ বিবেচনা করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) গুজরাটি (প্রশ্নে 'গুজরাট' আছে, যা মূলত গুজরাটি ভাষা নির্দেশ করে)
১. কেন সঠিক:
- 'হরতাল' শব্দটি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একটি বহিরাগত বা বিদেশাগত শব্দ।
- এটি মূলত গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং এর অর্থ কাজ বা দোকানপাট বন্ধ রাখা।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- উৎসের ভিত্তিতে বাংলা ভাষার শব্দগুলোকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।
- বিদেশাগত শব্দের মধ্যে পর্তুগিজ, আরবি, ফার্সি, ইংরেজি ছাড়াও গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও হিন্দি ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলায় এসেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: খদ্দর
ব্যাখ্যা: এটিও একটি গুজরাটি শব্দ যা বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ঘেরাও
ব্যাখ্যা: এটিও গুজরাটি ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ যা বাংলা শব্দভান্ডারে স্থান করে নিয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পর্তুগিজ — পর্তুগিজ ভাষা থেকে আনারস, চাবি, বালতি ইত্যাদি শব্দ বাংলায় এসেছে, কিন্তুরতাল আসেনি।
B) হিন্দি — হিন্দি ভাষা থেকে চাহিদা, পানি, পেটি ইত্যাদি শব্দ আসলেওরতাল হিন্দি শব্দ নয়।
C) গুজরাট — এটি সঠিক উৎস, কারণ এই অঞ্চলের ভাষা থেকেই শব্দটি বাংলায় এসেছে।
D) ফরাসি — ফরাসি ভাষা থেকে কার্তুজ, কুপন, ডিপো ইত্যাদি শব্দ বাংলায় এসেছে,রতাল নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গুজরাটি শব্দ মনে রাখার একটি মজার কৌশল হলো খদ্দর পরে হরতাল করতে যাওয়া।
- এর মাধ্যমে গুজরাটি ভাষা থেকে আসা দুটি প্রধান শব্দ খুব সহজে মনে রাখা সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দ থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- বিশেষ করে গুজরাটি ও পাঞ্জাবি ভাষার সীমিত সংখ্যক শব্দগুলো ভালো করে পড়লে সহজেই নম্বর পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: A) গো+অক্ষ = গবাক্ষ
কেন সঠিক:
১. গবাক্ষ শব্দটিতে সাধারণ সন্ধির কোনো নিয়ম মানা হয়নি বরং এটি প্রাকৃত ভাষার নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণের নির্দিষ্ট নিয়ম বা সূত্রের বাইরে গিয়ে যে সন্ধি সাধিত হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. যে সন্ধি ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম বা সূত্র মেনে চলে না এবং প্রাকৃত বা প্রচলিত ভাষার নিয়মেই সিদ্ধ হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
২. বাংলা ব্যাকরণে স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি উভয়ের ক্ষেত্রেই কিছু শব্দ নিপাতনে সিদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. যেমন, গো যোগ অক্ষ মিলে গবাক্ষ হয় যা স্বরবর্ণের প্রচলিত কোনো নিয়মের অধীনে পড়ে না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গবাক্ষ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি নির্ভুল এবং নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির একটি ধ্রুপদী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
B) পাবক — এটি পো যোগ অক এই সূত্রে গঠিত হয়েছে এবং এটি নিয়মিত ও সাধারণ অয়া আদি দেশর স্বরসন্ধির অন্তর্ভুক্ত।
C) বঙ্গ — এটি বি যোগ অঙ্গ মিলে গঠিত হয়েছে এবং এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সাধারণ নিয়মের আওতাভুক্ত একটি শব্দ।
D) যতীন্দ্র — এটি যতি যোগ ইন্দ্র মিলে গঠিত হয়েছে এবং এটি ব্যাকরণের সাধারণ দীর্ঘস্বরের নিয়ম মেনে চলে।
মনে রাখার টিপস:
১. যেসব শব্দ দেখে সাধারণ সন্ধির নিয়ম মেলানো যায় না সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ধরে নিতে হবে।
২. গবাক্ষ, পরষ্পর, আশ্চর্য, পতঞ্জলি ইত্যাদি বহুল ব্যবহৃত নিপাতনে সিদ্ধ শব্দগুলো বারবার চর্চা করলে সহজে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: D) আরেফ আলী
১. কেন সঠিক:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও যুবক-শিক্ষকের নাম হলো আরেফ আলী।
- উপন্যাসে আরেফ আলী এক মফস্সল স্কুলের শিক্ষক যার ভেতর নৈতিক দ্বন্দ্ব ও অপরাধবোধ কাজ করে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মানুষের অবচেতন মন, অপরাধবোধ এবং অন্ধ বিশ্বাসের নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস 'লালসালু'
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসে মজিদ চরিত্রটি গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও প্রতারণার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উদাহরণ ২: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাটক 'বহিপীর'
ব্যাখ্যা: এই নাটকের মাধ্যমে সামাজিক কুসংস্কার ও গোঁড়ামি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেখানে প্রধান চরিত্র বহিপীর।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আবদুল কাদের — এটি এই উপন্যাসের কোনো প্রধান চরিত্র বা শিক্ষক নয়।
B) খতিব মিয়া — এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসের কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়।
C) আক্কাস আলী — আক্কাস আলী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের একটি চরিত্র যিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চান।
D) আরেফ আলী — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের যুবক-শিক্ষক।
৫ মনে রাখার টিপস:
- চাঁদের আলো যেমন ম্লান হয়, তেমনি শিক্ষক আরেফ আলীর জীবনও রহস্য ও অপরাধবোধে ঢাকা।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত শিক্ষক চরিত্র মানেই আরেফ আলী।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস পরীক্ষায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস ও চরিত্র থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- চরিত্রভিত্তিক প্রশ্ন সমাধানের জন্য উপন্যাসের মূল নায়ক বা শিক্ষকের নাম ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১. কেন সঠিক:
- পঙ্ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভানুসিংহের পদাবলি মহাকাব্যিক বা পদাবলি ধারার কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে মরণ বা মৃত্যুকে ভীতিপ্রদ না ভেবে পরম প্রীতি ও ভালোবাসার ধন হিসেবে কৃষ্ণের সমতুল্য অর্থাৎ শ্যাম সমান বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও প্রাবন্ধিক।
- ভানুসিংহের পদাবলি হলো রবীন্দ্রনাথের প্রথম বয়সে মৈথিলি ভাষায় রচিত ভনিতাযুক্ত পদসংকলন, যা মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে রচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি পঙ্ক্তি যা মৃত্যুর প্রতি তাঁর প্রীতির ভাব প্রকাশ করে।
উদাহরণ ২: গহন কুসুুম কুঞ্জ মাঝে।
ব্যাখ্যা: এটি ভানুসিংহের পদাবলির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান যা বৈষ্ণব পদাবলীর রাধা-কৃষ্ণ অনুকরণে রচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিদ্যাপতি — বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষার পদকর্তা হলেও এই নির্দিষ্ট পঙ্ক্তিটি তাঁর মূল পদাবলির নয় বরং রবীন্দ্রনাথের ভানুসিংহের পদাবলির অংশ।
B) গোবিন্দ দাস — গোবিন্দ দাস প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম প্রধান কবি হলেও এই পঙ্ক্তিটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
D) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যচরিতামৃতের রচয়িতা এবং বৈষ্ণব সাহিত্যের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, তবে এই পঙ্ক্তিটি তাঁর রচিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মরণকে শ্যামের সমান মনে করে ভানুসিংহ বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলেন।
- পদাবলি ধারার অনুকরণে লেখা হলেও এর রচয়িতা আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভানুসিংহের পদাবলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৈশোর ও প্রথম যৌবনের রচনা।
- পরীক্ষার প্রশ্নে বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা ও আধুনিক কবির অনুকরণ সম্পর্কে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) নজিবর রহমান
১. কেন সঠিক:
- ‘আনোয়ারা’ বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক সামাজিক উপন্যাস যা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান তৎকালীন মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অজ্ঞতা এবং গ্রামীণ জীবনের চিত্র এই উপন্যাসে দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন বাংলা উপন্যাসের আদি যুগের একজন প্রখ্যাত মুসলিম ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক।
- তার উপন্যাসগুলো মূলত তৎকালীন গ্রামীণ মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের নৈতিকতা শিক্ষা ও সংস্কারমূলক আদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ‘আনোয়ারা’ উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম সামাজিক উপন্যাস হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
উদাহরণ ২: ‘প্রেম ও পবিত্রতা’ উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটিও মোহাম্মদ নজিবর রহমানের আরেকটি বিখ্যাত ও নৈতিক শিক্ষাভিত্তিক উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সৈয়দ মুজতবা আলী — তিনি একজন প্রখ্যাত রম্যরচয়িতা ও ভ্রমণকাহিনীকার হলেও ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের রচয়িতা নন।
B) কাজী আবদুল ওদুদ — তিনি বুদ্ধিবাদী আন্দোলনের লেখক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন, এই উপন্যাস তিনি লেখেননি।
C) নজিবর রহমান — এটি সঠিক উত্তর।
D) রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন — তিনি নারীজাগরণের অগ্রদূত ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক হলেও এই উপন্যাসটি তার লেখা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নজিবরের বিখ্যাত সৃষ্টি আনোয়ারা, গ্রামীণ সমাজের ছবি ফুটিয়েছে যারা। এই ছড়ার মাধ্যমে লেখকের নাম সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম মুসলিম সামাজিক উপন্যাস কোনটি বা এর রচয়িতা কে, তা প্রায়ই আসে।
- এ ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর নাম ও রচয়িতার তালিকা আলাদা করে মুখস্থ রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল
১. কেন সঠিক:
- এই বাক্যে শব্দচয়ন, পদবিন্যাস ও ব্যাকরণগত দিক থেকে সম্পূর্ণ সংগতি রয়েছে।
- দুচোখ অশ্রুতে ভেসে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ও প্রমিত ভাবপ্রকাশ যা বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করে তোলে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- বাক্যশুদ্ধির ক্ষেত্রে শব্দের সঠিক রূপ ও বাহুল্যবর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
- অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য বাহুল্যদোষে দুষ্ট হয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম লঙ্ঘন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সব মানুষই মরণশীল।
ব্যাখ্যা: এখানে বাক্যটি সঠিক কারণ সকল মানুষের সাথে সব যোগ করে বাহুল্য করা হয়নি।
উদাহরণ ২: দেশের সব নাগরিকের কর্তব্য পালন করা উচিত।
ব্যাখ্যা: এটি একটি প্রমিত ও অর্থপূর্ণ বাক্য যেখানে কোনো ব্যাকরণগত ভুল নেই।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আমি কারও সাতেও নেই, সতেরোতেও নেই — এটি একটি বাগধারা, তবে শুদ্ধ রূপ হলো আমি কারও সাতে নেই পাঁচেও নেই।
B) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত — এখানে 'স্বপরিবারে' শব্দটি ভুল, শুদ্ধ রূপ হবে সপরিবারে কারণ সহ অর্থ বোঝাতে স উপসর্গ বসে।
D) সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলা, — এই বাক্যের শেষে পূর্ণচ্ছেদ বা সঠিক যতিচিহ্নের ব্যবহার অসম্পূর্ণ ও ব্যাকরণগতভাবে অসসংগত।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাক্য শুদ্ধ করার সময় বাহুল্যবর্জন এবং প্রত্যয় বা উপসর্গের সঠিক ব্যবহার ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বাক্যশুদ্ধি থেকে প্রশ্ন আসে, তাই প্রমিত বানান ও শব্দের সঠিক রূপ আয়ত্ত করা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী
১. কেন সঠিক:
- এই বাক্যে দুটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য বা সরল বাক্য 'ছেলেটি চঞ্চল' এবং 'মেধাবী' (সে মেধাবী) একটি যোজক 'তবে' দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক প্রধান খণ্ডবাক্য বা সরল বাক্য এবং, কিন্তু, অথবা, কিংবা, তবে ইত্যাদি সমন্বেয়ক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- গঠন অনুসারে বাক্য প্রধানত তিন প্রকার: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য।
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক আশ্রিত বা খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
- যে বাক্যে দুটি বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য বা খণ্ডবাক্য কোনো অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সে গরিব কিন্তু সৎ
ব্যাখ্যা: এখানে 'সে গরিব' এবং 'সৎ' (সে সৎ) দুটি স্বাধীন বাক্য 'কিন্তু' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করেছে।
উদাহরণ ২: বৃষ্টি থামল এবং আমরা রওনা দিলাম
ব্যাখ্যা: এখানে 'বৃষ্টি থামল' এবং 'আমরা রওনা দিলাম' দুটি স্বাধীন বাক্য 'এবং' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না — এটি একটি জটিল বাক্য কারণ এতে 'করলে' শর্তবাচক খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল।
B) তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন — এটি একটি সরল বাক্য কারণ এতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (করলেন) রয়েছে।
C) মহৎ মানুষ বলে সবাই তাকে সম্মান করেন — এটি একটি সরল বাক্য বা কারণবাচক বাক্য, যেখানে একটি মাত্র কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।
D) ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী — সঠিক উত্তর, কারণ এখানে 'তবে' অব্যয়টি দুটি স্বাধীন বাক্যকে যুক্ত করেছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- যৌগিক বাক্য চেনার সহজ উপায় হলো বাক্যের মাঝখানে এবং, কিন্তু, অথচ, কিংবা, অথবা, তবে ইত্যাদি অব্যয় খুঁজে দেখা।
- সরল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া একটি থাকে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকে এবং যৌগিক বাক্যে স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাক্য রূপান্তর বা বাক্য শনাক্তকরণের প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- বাক্য চেনার সময় প্রথমে খণ্ডবাক্যের স্বাধীন বা নির্ভরশীলতা এবং মাঝের সংযোজক অব্যয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) পিচাশ
১. কেন সঠিক:
বর্ণ-বিপর্যয় হলো শব্দের ভেতরে থাকা দুটি বর্ণ নিজেদের স্থান বা অবস্থান পরস্পর পরিবর্তন করলে যে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে, তার নাম।
পিচাশ শব্দটিতে মূল শব্দ ছিল পিশাচ, যেখানে তালব্য শ এবং চ পরস্পরের সাথে স্থান পরিবর্তন করে পিচাশ রূপ ধারণ করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
শব্দের মধ্যে দুটি বর্ণ পরস্পরের স্থান পরিবর্তন করলে তাকে ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী বর্ণ-বিপর্যয় বা বিপর্যাস বলা হয়।
এটি সাধারণত আঞ্চলিক উচ্চারণের প্রভাবে বা দ্রুত উচ্চারণের সময় অসচেতনভাবে ঘটে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাক্স থেকে বাস্ক
ব্যাখ্যা: বাক্স শব্দটিতে ক এবং ষ বর্ণ দুটি স্থান পরিবর্তন করে বাস্ক রূপ লাভ করেছে।
উদাহরণ ২: রিক্সা থেকে রিস্কা
ব্যাখ্যা: রিক্সা শব্দটিতে ক এবং স বর্ণ দুটি পরস্পরের স্থান পরিবর্তন করে রিস্কা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রতন — এটি অপিনিহিতির উদাহরণ বা স্বাভাবিক শব্দ, যেখানে কোনো বর্ণ-বিপর্যয় ঘটেনি বরং রত্ন থেকে রতন হয়েছে অপিনিহিতির মাধ্যমে।
B) কবাট — এটি রূপান্তর বা অভিশ্রুতির একটি রূপ হতে পারে, কিন্তু এটি বর্ণ-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত নয়।
D) মুলুক — এটি মূল শব্দ থেকে আগত একটি শব্দ, যা বর্ণ-বিপর্যয়ের নিয়মে পরিবর্তিত হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
বর্ণ-বিপর্যয় মানেই হলো বর্ণগুলোর পারস্পরিক স্থান পরিবর্তন বা ওলটপালট হওয়া।
মনে রাখার সূত্র হলো পিচাশ শব্দে শ ও চ নিজেদের জায়গা বদল করে পিশাচ থেকে পিচাশ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বর্ণ-বিপর্যয় চেনার জন্য পিশাচ থেকে পিচাশ এবং বাক্স থেকে বাস্ক উদাহরণ দুটি সবচেয়ে বেশি আসে।
শব্দের ভেতরের বর্ণগুলো ওলটপালট হয়েছে কি না তা খেয়াল করলেই উত্তর সহজে বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) গলাধাক্কা দেওয়া
কেন সঠিক:
- অর্ধচন্দ্র কথাটির শাব্দিক অর্থ আধা চাঁদ হলেও বাগধারায় এটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- কাউকে অপমান করে বা অসন্তুষ্ট হয়ে ঘাড় ধরে বা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া বোঝাতে এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি পরিচিত বাগধারা যা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- বাগধারা হলো এমন শব্দগুচ্ছ যা সাধারণ অর্থের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে।
- যেমন কুপমণ্ডুক অর্থ ঘরকুনো এবং বিড়াল তপস্বী অর্থ ভণ্ড সাধু।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) অমাবস্যা — এটি চাঁদের একটি বিশেষ কলা বা তিথি বোঝায় কিন্তু অর্ধচন্দ্র বাগধারার অর্থ নয়।
- B) গলাধাক্কা দেওয়া — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
- C) কাছে টানা — এটি অর্ধচন্দ্র বাগধারার বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে তাই ভুল।
- D) কাস্তে — কাস্তের আকৃতি আধখানা চাঁদের মতো হলেও এটি বাগধারার অর্থ নয়।
মনে রাখার টিপস:
- অর্ধচন্দ্র মানে আধখানা চাঁদ আর কাউকে ঘাড় ধরে বের করে দিলে তার গলা চাঁদের মতো বাঁকা হয়ে যায় এই রূপক মনে রাখতে পারো।
সঠিক উত্তর: C) পার্থক্য
১. কেন সঠিক:
- ‘ইতরবিশেষ’ একটি বহুল ব্যবহৃত বাংলা বাগধারা যার আক্ষরিক ও প্রয়োগগত অর্থ হলো পার্থক্য বা তফাত।
- দুটি বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যে সামান্য বা আমূল অমিল বোঝাতে এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা, যা শব্দার্থের দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দসমষ্টি যা তাদের আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভালো ও মন্দের মধ্যে ইতরবিশেষ বোঝা মানুষের বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।
ব্যাখ্যা: এখানে দুটি ভিন্ন অবস্থার মধ্যকার তফাত বোঝাতে ইতরবিশেষ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: দুই ভাইয়ের স্বভাবের মধ্যে তেমন কোনো ইতরবিশেষ নেই।
ব্যাখ্যা: এখানে দুই ব্যক্তির আচরণের সাদৃশ্য বা সামান্য পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দুর্বৃত্ত — দুর্বৃত্ত বলতে অসৎ স্বভাবের বা অপরাধপ্রবণ মানুষকে বোঝায়, যা ইতরবিশেষ বাগধারার অর্থের সঙ্গে মেলে না।
B) চালাকি — চালাকি অর্থ চতুরতা বা বুদ্ধির মারপ্যাচ, যা পার্থক্যের সঙ্গে সমার্থক নয়।
C) পার্থক্য — এটি সঠিক উত্তর কারণ ইতরবিশেষ শব্দের মূল অর্থ তফাত বা ব্যবধান।
D) চালাকি — অপশনটিতে একই শব্দ পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং এটি মূল অর্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ইতর শব্দের অর্থ ছোট বা অন্য এবং বিশেষ অর্থ পার্থক্য। দুটি ভিন্ন জিনিসের ব্যবধান মনে রাখতে ইতরবিশেষ মানে পার্থক্য হিসেবে মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারার অন্তর্নিহিত অর্থ প্রায়ই আসে। সমার্থক বাগধারাগুলো ভালোভাবে চর্চা করলে এ ধরনের প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: B) জয় করিবার ইচ্ছা
১. কেন সঠিক:
- ‘জিগীষা’ শব্দটির মূল অর্থ হলো কোনো কিছু জয় করার প্রবল ইচ্ছা বা স্পৃহা।
- এটি এককথায় প্রকাশ বা বাকসংকোচনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণিক অংশ।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এককথায় প্রকাশ হলো বড় কোনো ভাব বা বাক্যকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করার মাধ্যম।
- সংষ্কৃত প্রত্যয় যোগে গঠিত এই শব্দগুলোতে শব্দের মূল রূপ ও কাঙ্ক্ষিত অর্থের সুন্দর প্রকাশ ঘটে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জিতিবার ইচ্ছা = জিগীষা
ব্যাখ্যা: এটি সরাসরি জয়লাভ করার মানসিক বাসনাকে প্রকাশ করে।
উদাহরণ ২: বাঁচিবার ইচ্ছা = জিজিবিষা
ব্যাখ্যা: এটি মানুষের বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছাকে এককথায় প্রকাশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জানিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা।
B) জয় করিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো জিগীষা, যা প্রশ্নানুযায়ী সঠিক।
C) হনন করিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো জিঘাংসা।
D) যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা — এই ভাবটির সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো যুযুৎসা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- জ দিয়ে শুরু জয় শব্দের সাথে জিগীষা শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখতে পারো।
- হনন বা হত্যার সাথে জিঘাংসা এবং যুদ্ধ করার ইচ্ছার সাথে যুযুৎসা শব্দটি যুক্ত করে পড়বে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- ইচ্ছা সংক্রান্ত শব্দগুলো যেমন জিগীষা, জিজিবিষা, জিঘাংসা ও যুযুৎসা প্রায়ই অপশনে একসাথে থাকে।
সঠিক উত্তর: C) ধূলি
১. কেন সঠিক:
- ধূলি একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ যা অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- তৎসম শব্দের অর্থ হলো তার সমান অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সমান।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- উৎসের দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। তৎসম শব্দ হলো সেই সমস্ত শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- ধূলি শব্দের সংস্কৃত রূপ হলো ধূলি যা বাংলায় এসেও অপরিবর্তিত রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চন্দ্র
ব্যাখ্যা: চন্দ্র একটি তৎসম শব্দ যার অর্থ চাঁদ এবং এটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি এসেছে।
উদাহরণ ২: সূর্য
ব্যাখ্যা: সূর্য একটি তৎসম শব্দ যা জ্যোতিষ্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পছন্দ — এটি একটি ফারসি শব্দ এবং তৎসম শব্দ নয়।
B) হিসাব — এটি একটি আরবি শব্দ এবং তৎসম শব্দ নয়।
C) ধূলি — এটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি আগত তৎসম শব্দ।
D) শৌখিন — এটি একটি ফারসি শব্দ এবং তৎসম শব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- তৎসম শব্দের শেষে সাধারণত ই-কার বা উ-কার যুক্ত থাকে এবং এগুলো সাধু ভাষা বা প্রাচীন লেখায় বেশি দেখা যায়।
- সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি আগত শব্দগুলোই হলো তৎসম শব্দ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের উৎস বা শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- বিদেশি শব্দ যেমন আরবি, ফারসি, ও পর্তুগিজ শব্দগুলো আলাদা করতে পারলে তৎসম শব্দ সহজে চেনা যায়।
সঠিক উত্তর: A) কহ্
১. কেন সঠিক:
ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বাংলা ভাষার মৌলিক উপাদান বলা হয়, যার সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
'কহ্' একটি খাঁটি বাংলা বা দেশি ধাতু, যা সরাসরি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় এবং এর সাথে প্রত্যয় যুক্ত করে ক্রিয়াপদ তৈরি করা হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দ বা শব্দমূলের সাথে কোনো প্রত্যয় যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠন করা হয়, তাকে ধাতু বলে।
উৎস ও ব্যবহারের দিক থেকে ধাতু মূলত তিন প্রকার, যথা মৌলিক ধাতু, সাধিত ধাতু ও সংযোগমূলক ধাতু।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পড়্ ধাতু।
ব্যাখ্যা: পড়্ একটি মৌলিক ধাতু যার সাথে আ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে পড়া ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
উদাহরণ ২: কর্ ধাতু।
ব্যাখ্যা: কর্ একটি বহুল ব্যবহৃত মৌলিক ধাতু যার সাথে নানা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে করা বা করে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কহ্ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি খাঁটি বাংলা ধাতু হিসেবে পরিগণিত হয়।
B) কথ্ — এটি একটি সংস্কৃত ধাতু, যা বাংলা ব্যাকরণের খাঁটি বাংলা ধাতুর আওতাভুক্ত নয়।
C) বুধ্ — এটিও সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ধাতু, তাই এটি বাংলা ধাতু হিসেবে গণ্য হয় না।
D) গঠন — এটি সরাসরি ধাতু নয়, বরং ধাতু থেকে সাধিত একটি শব্দ।
৫. মনে রাখার টিপস:
সংস্কৃত ধাতুগুলোর সাথে সাধারণত প্রাকৃত বা তৎসম শব্দের মিল থাকে, যেমন কথ্ বা বুধ্।
পক্ষান্তরে কহ্, কর্, ধর্, লড়্ ইত্যাদি হলো খাঁটি বাংলা বা দেশি ধাতু।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই খাঁটি বাংলা ধাতু এবং সংস্কৃত ধাতু আলাদা করার প্রশ্ন আসে।
মৌলিক ধাতুর মূলত দুটি উৎস রয়েছে, যথা বাংলা ভাষা থেকে আগত এবং সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
সঠিক উত্তর: C) চিন্তাবিপ্লব
১. কেন সঠিক:
ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবে ভারতবর্ষের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মানুষের চিন্তাচেতনায় এক বিশাল পরিবর্তন এসেছিল।
এর ফলে তৎকালীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় প্রচলিত গোঁড়ামি, জাতপ্রথা এবং সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মানুষের মনে মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটেছিল।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
এটি মূলত মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস, সমাজ ও সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত প্রশ্ন।
বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর এবং মধ্যযুগে সুফি সাধক ও আউলিয়াদের প্রচারের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে সাম্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চৈতন্যদেব ও বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা: সুফিবাদ ও ইসলাম ধর্মের উদার মানবতাবাদী মতবাদের প্রভাবেই বাংলার সমাজে বৈষ্ণব ধর্মের সহজিয়া ভাবধারা এবং বাউল গান পুষ্ট হয়েছিল।
উদাহরণ ২: মঙ্গলকাব্য ও মধ্যযুগের সাহিত্য
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের সাহিত্যে মানুষের জীবন ও লৌকিক বিশ্বাসের পাশাপাশি মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছিল যা চিন্তাবিপ্লবের ফল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বর্ণবাদের পুনরুত্থান — ইসলাম ও সুফিমত জাতিভেদ প্রথা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সাম্যের বাণী প্রচার করেছিল, পুনরুত্থান ঘটায়নি।
B) রাষ্ট্রবিপ্লব — ইসলাম ও সুফিমতের প্রধান প্রভাব ছিল সামাজিক ও মানসিক ক্ষেত্রে, সরাসরি রাজনৈতিক রাষ্ট্রবিপ্লব ঘটানো এর মূল উদ্দেশ্য ছিল না।
C) চিন্তাবিপ্লব — এটি সঠিক কারণ এই মতবাদের প্রভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।
D) অভিবাসন বিপ্লব — সুফি সাধকদের আগমন ঘটলেও এটি কোনো সুসংগঠিত অভিবাসন বিপ্লব হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সুফিমত মানেই হলো উদারতা ও মানবপ্রেম, যা মানুষের মন বা চিন্তাকে প্রভাবিত করে।
তাই মধ্যযুগের ইতিহাসে ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবকে সবসময় চিন্তাবিপ্লব বা মানসিক পরিবর্তন হিসেবে মনে রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে সুফি প্রভাব এবং বৈষ্ণব ধর্মের সহাবস্থান সম্পর্কে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
এই ধরনের প্রশ্ন সমাধানের জন্য ধর্মীয় উদারতা ও মানবতাবাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মাথায় রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) মুমূর্ষু
১. কেন সঠিক:
- 'মুমূর্ষু' শব্দটির সঠিক বানান হলো মএ হ্রস্বউ, মএ দীর্ঘউ, মূর্ধন্য-ষএ হ্রস্বউ এবং রেফ। এর অর্থ হলো যে মরতে বসেছে বা যার মৃত্যুর ইচ্ছা আছে।
- বাংলা বানানরীতির নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দটিতে হ্রস্ব এবং দীর্ঘ ই-কার বা উ-কারের সঠিক বিন্যাস ঘটেছে যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা বানানরীতির প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী 'মুমূর্ষু' শব্দটিতে প্রথম ম-এ হ্রস্বউ-কার, দ্বিতীয় ম-এ দীর্ঘউ-কার এবং মূর্ধন্য-ষ-এ হ্রস্বউ-কার যুক্ত হয়।
- সমাসবদ্ধ বা প্রত্যয়গত জটিলতার কারণে এই শব্দের বানান শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ভুল করে থাকে, তাই বাংলা একাডেমির বানান অভিধান অনুসারে এটি মুখস্থ রাখা নিরাপদ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুচিস্মিতা
ব্যাখ্যা: এটি একটি সুন্দর বাংলা নাম এবং এর বানানটিও প্রমিত নিয়মে গঠিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: পিপাসা
ব্যাখ্যা: পানের ইচ্ছাকে পিপাসা বলে এবং এর বানান লেখার সময় হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরবর্ণের সঠিক ব্যবহার করতে হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুমুর্ষু — এই অপশনে দ্বিতীয় ম-এ দীর্ঘউ-কার ব্যবহার করা হয়নি ফলে বানানটি ভুল হয়েছে।
B) মূমুর্ষু — এই অপশনে প্রথম ম-এ দীর্ঘউ-কার ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়।
D) মূমূর্ষু — এই অপশনে প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় ম-এ দীর্ঘউ-কার ব্যবহার করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মুমূর্ষু বানানটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো ছোট উ, বড় উ, ছোট উ। অর্থাৎ প্রথম ম-এ হ্রস্বউ, দ্বিতীয় ম-এ দীর্ঘউ এবং ষ-এ হ্রস্বউ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে।
- হ্রস্বউ-কার ও দীর্ঘউ-কারের মিশ্রণে গঠিত শব্দগুলো আলাদা করে চর্চা করলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: B) আবীরা
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত প্রশ্নে অগ্নি শব্দের সমার্থক নয় এমন শব্দ বা বিপরীতার্থক শব্দ জানতে চাওয়া হয়েছে।
- আবীরা শব্দের অর্থ লাল রঙের গুঁড়ো বা আবির, যার সঙ্গে অগ্নির কোনো সম্পর্ক নেই।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- সমার্থক শব্দ হলো এমন শব্দ যা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একই অর্থ প্রকাশ করে।
- অগ্নি শব্দের বহু প্রচলিত সমার্থক শব্দ রয়েছে যা মুখস্থ রাখতে হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনল
ব্যাখ্যা: অনল হলো অগ্নির একটি অতি পরিচিত সমার্থক শব্দ।
উদাহরণ ২: পাবক
ব্যাখ্যা: পাবক শব্দটি অগ্নি বা আগুন বোঝাতে বহুল ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বহ্নি — এটি অগ্নির একটি সরাসরি সমার্থক শব্দ।
B) আবীরা — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি আবির বা লাল রঙের গুঁড়ো বোঝায়।
C) বায়ুসখা — আগুন জ্বালানোর ক্ষেত্রে বাতাস সহায়ক বলে অগ্নিকে বায়ুসখা বলা হয়।
D) বৈশ্বানর — বৈশ্বানর হলো অগ্নির বৈদিক ও পৌরাণিক একটি অন্যতম নাম।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আবীরা শব্দটি এসেছে আবির থেকে।
- তাই আগুন ও আবির দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- অগ্নি শব্দের সমার্থক হিসেবে অনল, পাবক, বহ্নি, Hutashan এবং বৈশ্বানর প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- সমার্থক শব্দ দাগানোর সময় শব্দের মূল অর্থ এবং প্রচলিত ব্যবহার ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) অপহ্নুতি
১. কেন সঠিক:
অপহ্নুতি অর্থ গোপণ করা বা অস্বীকার করা। এই অলংকারে উপমেয়কে মিথ্যা বা অপহ্নুত করে উপমানের সঙ্গে অভেদ কল্পনা করা হয়। প্রদত্ত বাক্যে নদীর ধারাকে জল অস্বীকার করে তাকে মানুষের অশ্রুধারা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা অলংকার শাস্ত্রে অপহ্নুতি একটি অর্থালংকার। কোনো বিষয়কে গোপন করে তার স্থানে অন্য কোনো বস্তু বা ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করা এই অলংকারের মূল কাজ। এর সাধারণ রূপ হলো এটি তা নয়, বরং এটি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এ যে নয় হার, এ যে গলার ফাঁসি।
ব্যাখ্যা: গলার হারকে হার না বলে ফাঁসি হিসেবে অস্বীকার করে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: কুসুম নয় এ যে ভেদিয়া বক্ষ আসিছে কীট।
ব্যাখ্যা: কুসুমকে কুসুম হিসেবে অস্বীকার করে কীট বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অপহ্নুতি — এই অপশনটি সঠিক কারণ এখানে উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমান স্থাপন করা হয়েছে।
B) যমক — এই অপশনটি ভুল কারণ যমক একটি শব্দালংকার যেখানে একই শব্দ ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হয়।
C) অর্থোন্নতি — এই অপশনটি ভুল কারণ অর্থোন্নতি বলতে অর্থের গৌরব বৃদ্ধি বা প্রসার বোঝায়, যা কোনো নির্দিষ্ট পারিভাষিক অলংকার নয়।
D) অভিযান — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি কোনো পারিভাষিক অলংকার বা সাহিত্যিক অলংকারের নাম নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
অপহ্নুতি শব্দের অর্থ লুকিয়ে রাখা বা অস্বীকার করা। বাক্যে কোনো কিছুকে সরাসরি অস্বীকার করে অন্য কিছু বোঝালে অপহ্নুতি অলংকার হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিখ্যাত পঙ্ক্তি তুলে ধরে অলংকার জানতে চাওয়া হয়। অস্বীকারবাচক ভাব থাকলে চোখ বুজে অপহ্নুতি অলংকার দাগাতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) a whale
কেন সঠিক:
হারমান মেলভিলের বিখ্যাত উপন্যাস মোবি ডিক মূলত একটি বিশাল সাদা তিমির প্রতি ক্যাপ্টেনের প্রতিশোধের উন্মাদনা নিয়ে রচিত হয়েছে।
এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো মোবি ডিক নামের একটি বিশালাকার তিমি মাছ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a mermaid — এই উপন্যাসের সাথে কোনো জলপরীর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র।
B) a whale — এই অপশনটি সঠিক কারণ মূল কাহিনী একটি তিমি শিকার অভিযানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
C) a crocodile — এই উপন্যাসের কাহিনীতে কোনো কুমিরের কোনো উপস্থিতি বা ভূমিকা নেই।
D) a shark — এখানে হাঙ্গরের কোনো প্রধান বা গৌণ ভূমিকা নেই, কাহিনী সম্পূর্ণ তিমিকে ঘিরে।
মনে রাখার টিপস:
মোবি ডিক মানেই বিশাল সাদা তিমি, যা বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হারমান মেলভিলের একটি অমর সৃষ্টি।
সঠিক উত্তর: A) John Dryden
কেন সঠিক:
এটি ইংরেজি সাহিত্যের বিখ্যাত রনেসাঁস ও রেস্টোরেশন যুগের অন্যতম প্রধান নাট্যকার জন ড্রাইডেনের লেখা একটি শোকগাথা নাটক।
নাটকটি শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রার কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
এটি লেখকের সেরা নাটক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ড্রাইডেনের নাট্যপ্রতিভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এটি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) John Dryden — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
B) William Congreve — তিনি রেস্টোরেশন যুগের একজন বিশিষ্ট নাট্যকার হলেও এই নাটকটি তার লেখা নয়।
C) John Bunyan — তিনি একজন বিখ্যাত ধর্মীয় লেখক ও রূপক কথা রচয়িতা ছিলেন, কোনো নাটক লেখেননি।
D) Francis Bacon — তিনি মূলত একজন বিখ্যাত প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক ছিলেন, কোনো নাটক রচনা করেননি।
মনে রাখার টিপস:
সব ভালোবাসার নাটক ড্রাইডেনের নয়, তবে অল ফর লাভ নাটকটি জন ড্রাইডেনের বিখ্যাত সৃষ্টি।
সঠিক উত্তর: B) subordinate clause
কেন সঠিক:
- বাক্যের 'Sitting happily' অংশটি একটি participial phrase এবং এটি স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
- এটি প্রধান ক্লজ 'The chicken laid eggs' এর ওপর নির্ভরশীল বিধви এটি একটি subordinate clause বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun clause — noun-এর কাজ করে এবং প্রধান বাক্যের subject বা object হিসেবে বসে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) subordinate clause — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং মূল বাক্যের ওপর নির্ভরশীল।
C) independent clause — একা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু এখানে প্রথম অংশটি একা অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
D) coordinate clause — and, but ইত্যাদি coordinating conjunction দ্বারা যুক্ত সমান মর্যাদার ক্লজ, যা এখানে নেই।
মনে রাখার টিপস:
যে খণ্ডবাক্য বা বাক্যাংশ স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না এবং অর্থের জন্য মূল ক্লজের ওপর নির্ভর করে, সেটাই subordinate clause।
সঠিক উত্তর: A) The Tempest
কেন সঠিক:
ক্যালিবান চরিত্রটি শেক্সপিিয়ারের বিখ্যাত নাটক দ্য টেমপেস্ট নাটকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিচিত চরিত্র। সে দ্বীপের মূল অধিবাসী এবং প্রস্পেরোর সেবক হিসেবে নাটকে উপস্থিত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
B) Hamlet — হ্যামলেট নাটকের প্রধান চরিত্র রাজপুত্র হ্যামলেট এবং এখানে ক্যালিবানের কোনো অস্তিত্ব নেই।
C) Macbeth — ম্যাকবেথ নাটকের মূল চরিত্র স্কটল্যান্ডের সেনাপতি ম্যাকবেথ এবং এটি একটি ট্র্যাজেডি।
D) Othello — ওথেলো নাটকটি মুর সেনাপতি ওথেলোর জীবনের ট্র্যাজেডি নিয়ে রচিত।
মনে রাখার টিপস:
ক্যালিবান নামটি টেমপেস্ট নাটকের সাথে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) Common
কেন সঠিক:
‘River’ শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম না বুঝিয়ে পৃথিবীর সব নদীকে সাধারণভাবে বোঝায়। তাই এটি কমন নাউন বা জাতিবাচক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Material — এটি বস্তুবাচক বিশেষ্য নয় কারণ নদী কোনো উপাদান বা বস্তু নির্দেশ করে না।
B) Collective — এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য নয় কারণ নদী কোনো নির্দিষ্ট দল বা সমষ্টি বোঝায় না।
C) Proper — এটি নামবাচক বিশেষ্য নয় কারণ পদ্মা বা মেঘনার মতো কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম এটি নয়।
D) Common — এটি সঠিক কারণ এটি সব নদীর সাধারণ নাম।
মনে রাখার টিপস:
যে নাম দিয়ে নির্দিষ্ট কাউকে না বুঝিয়ে একটি পুরো জাতিকে বা শ্রেণীকে বোঝায়, তাকে কমন নাউন বলে।
সঠিক উত্তর: C) a play by Bernard Shaw
কেন সঠিক:
ক্যাসার অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা বিখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ এর লেখা একটি ঐতিহাসিক নাটক।
এটি নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
নাটকটিতে প্রাচীন মিশরের পটভূমিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের ভিন্নরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এটি বার্নার্ড শ এর অন্যতম সেরা নাট্যকর্ম হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a tragedy by william Shakespeare — উইলিয়াম শেক্সপিয়ার রোমান ইতিহাস নিয়ে জুলিয়াস সিজার লিখেছেন, কিন্তু এই নাটকটি তার লেখা নয়।
B) a poem by Lord Byron — লর্ড বায়রন মূলত তার প্রণয় ও রোমান্টিক কবিতার জন্য পরিচিত, কিন্তু তিনি এই নাটক রচনা করেননি।
C) a play by Bernard Shaw — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
D) a novel by S. T. Coleridge — কোলরিজ প্রধানত রোমান্টিক যুগের কবি ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন, কোনো উপন্যাস বা এই নাটক তিনি লেখেননি।
মনে রাখার টিপস:
সিজার ও ক্লিওপেট্রার নাম শুনলেই রোমান ইতিহাস মনে হতে পারে, কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে এর রচয়িতা জর্জ বার্নার্ড শ।
সঠিক উত্তর: C) had left
কেন সঠিক:
- অতীতকালের দুটি ঘটনার মধ্যে তুলনামূলকভাবে আগের ঘটনাটি Past Perfect Tense (had + V3) হয়।
- প্রদত্ত বাক্যে আসার আগের কাজটি অর্থাৎ চলে যাওয়ার কাজটি আগে সম্পন্ন হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর had left।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) would be leaving — এটি Past Continuous Tense-এর গঠন, যা অতীতকালের চলমান কাজ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) had been leaving — এটি Past Perfect Continuous Tense, যা অতীতকালে কোনো নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ চলছিল বোঝায় কিন্তু এখানে তা বোঝায়নি।
C) had left — এটি সঠিক উত্তর, কারণ অতীতকালের দুটি কাজের মধ্যে পূর্ববর্তী কাজটি Past Perfect Tense-এ হয়।
D) will leave — এটি Future Indefinite Tense, যা ভবিষ্যৎকালের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং অতীতকালের ঘটনার সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখার টিপস:
Past Perfect-এর ক্ষেত্রে সূত্র মনে রাখবে: Before-এর আগে had + V3 এবং After-এর পরে had + V3 বসে।
সঠিক উত্তর: A) reminescence
কেন সঠিক:
অপশন এ তে থাকা শব্দটির বানান ভুল আছে কারণ এর সঠিক বানান হলো reminiscence যার মাঝে scence আছে।
এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দ যার অর্থ অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) reminescence — এই বানানটিতে ভুল আছে কারণ এখানে scence এর জায়গায় cence ব্যবহার করা হয়েছে।
B) glycerin — এই বানানটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং এর অর্থ গ্লিসারিন যা সাধারণত প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়।
C) idiosyncrasy — এই বানানটি সঠিক এবং এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির স্বভাবগত বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা পাগলামি।
D) lexicography — এই বানানটি সঠিক এবং এটি অভিধান রচনা বা সংকলন বিদ্যাকে নির্দেশ করে।
মনে রাখার টিপস:
reminiscence বানানটি মনে রাখার জন্য শেষের অংশটি scence এভাবে ভেঙে পড়লে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: C) Henry Fielding
কেন সঠিক:
হেনরি ফিল্ডিং ইংরেজি সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।
তার বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম টম জোন্স একটি উচ্চমানের পিকারেস্ক উপন্যাস।
এই উপন্যাসে পিকারেস্ক উপন্যাসের সব ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্য নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অমর সৃষ্টি হিসেবে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Samuel Richardson — তিনি এপিস্টোলারি উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত হলেও এই বইটি লেখেননি। পামেলা ও ক্ল্যারিসা তার বিখ্যাত উপন্যাস।
B) Horace Walpole — তিনি গথিক উপন্যাসের জনক হিসেবে পরিচিত এবং দ্য ক্যাসেল অব ওট্র্যান্টো তার বিখ্যাত রচনা।
C) Henry Fielding — এই অপশনটি সঠিক এবং তিনি স্বয়ং এই বিখ্যাত উপন্যাসের রচয়িতা।
D) Laurence Sterne — তিনি জনকেন্দ্রিক ও পরীক্ষামূলক উপন্যাসের জন্য পরিচিত এবং ট্রিস্ট্রাম শ্যান্ডি তার বিখ্যাত সৃষ্টি।
মনে রাখার টিপস:
টম জোন্স উপন্যাসটির কথা মনে রাখতে হেনরি ফিল্ডিং নামটির সাথে পিকারেস্ক শব্দটি মিলিয়ে নিতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) T. S. Eliot
কেন সঠিক:
এটি বিশ শতকের বিখ্যাত কবি টি এস এলিয়ট রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কাব্যনাটক।
নাটকটিতে ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ থমাস বেকেটের হত্যাকাণ্ড ও তার আত্মত্যাগের কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।
এটি আধুনিক ইংরেজি সাহিত্য এবং কাব্যনাটক ধারার একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে সমাদৃত।
এই সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে টি এস এলিয়ট মূলত ধর্মীয় চেতনা ও নৈতিকতার গভীর প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Harold Pinter — হ্যারলড পিন্টার মূলত আধুনিক Absurd নাটকের জন্য পরিচিত এবং তিনি এই কাব্যনাটকটি লেখেননি।
B) G. B. Shaw — জর্জ বার্নার্ড শ মূলত সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গদ্য নাটক রচনার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
C) T. S. Eliot — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এটি এখানে প্রযোজ্য নয় কারণ এটি সঠিক উত্তরের পুনরাবৃত্তি।
D) Samuel Beckett — স্যামুয়েল বেকেট নাট্যসাহিত্যে থিয়েটার অব দ্য অ্যাসার্ড ধারার প্রবক্তা এবং তিনি এটি লেখেননি।
মনে রাখার টিপস:
ক্যাথিড্রাল বা গির্জার হত্যা বললেই টি এস এলিয়টের বিখ্যাত কাব্যনাটক মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল কথাটি মাথায় রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) S. T. Coleridge
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি এস. টি. কোলরিজের ‘দ্য রাইম অফ দ্য এনশিয়েন্ট ম্যারিনার’ নামক অমর কবিতার একটি অংশ।
কবিতাটিতে কবি সকল সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং ঈশ্বরভক্তির এক গভীর সংযোগ ফুটিয়ে তুলেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) John Milton — তিনি মূলত ‘প্যারাডাইজ লস্ট’ মহাকাব্যের জন্য বিখ্যাত এবং তাঁর লেখার ধরণ ছিল ভিন্ন।
B) John Donne — তিনি সপ্তদশ শতকের একজন বিশিষ্ট মেটাফিজিক্যাল কবি ও ধর্মতত্ত্ববিদ ছিলেন।
C) Lord Byron — তিনি রোমান্টিক যুগের কবি হলেও তাঁর রচনায় বিদ্রোহী সুর ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
D) S. T. Coleridge — এই অপশনটি সঠিক কারণ উদ্ধৃতিটি তাঁরই বিখ্যাত কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
কোলরিজের সামুদ্রিক নাবিকের গল্প মনে রাখলে এই সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার বাণীটি সহজে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: D) topic sentence
কেন সঠিক:
একটি প্যারাগ্রাফের মূল নিয়ন্ত্রণকারী বাক্যকে টপিক সেন্টেন্স বলা হয় যা সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদের মূল ভাব প্রকাশ করে।
এটি পাঠকদের প্যারাগ্রাফটি কী সম্পর্কে তা স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
অন্যান্য সব বাক্য এই মূল বাক্যটিকে সমর্থন বা ব্যাখ্যা করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) content modulator — এই নামে প্যারাগ্রাফের কোনো নির্দিষ্ট বা স্বীকৃত বাক্য নেই।
B) terminator — এটি প্যারাগ্রাফের সমাপ্তি নির্দেশক বাক্য বোঝায়, নিয়ন্ত্রণকারী বাক্য নয়।
C) thesis statement — এটি সাধারণত পুরো প্রবন্ধ বা গবেষণাপত্রের মূল ভাব প্রকাশ করে, একক প্যারাগ্রাফের নয়।
D) topic sentence — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল অপশন হিসেবে গণ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
প্যারাগ্রাফের শুরুতে থাকা যে বাক্যটি পুরো লেখার মূল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে তাকেই টপিক সেন্টেন্স বলে।
সঠিক উত্তর: B) Zaman is more industrious than most other boys.
কেন সঠিক:
মূল বাকye 'Very few' থাকায় Comparative করার সময় Subject-এর পরে 'more + Adjective' এবং 'than most other' বসাতে হয়।
এই নিয়ম অনুযায়ী Zaman হলো Subject এবং তারপরে সঠিক Adjective form বসেছে।
বাক্যটির Positive অর্থ এখানে অপরিবর্তিত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Zaman is one of the most industrious boys — এটি Superlative form, তাই প্রশ্নানুযায়ী সঠিক নয়।
B) Zaman is more industrious than most other boys — এটি সঠিক উত্তর, তাই ভুল নয়।
C) Zaman is really industrious like other boys — এটি Positive বা Comparative কোনো সঠিক নিয়ম মেনে হয়নি।
D) Zaman is as industrious as other boys — এটি Positive form-এর বাক্য, যা এখানে চাওয়া হয়নি।
মনে রাখার টিপস:
'Very few' যুক্ত Positive বাক্যে Comparative করার সময় 'than most other' ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) with
কেন সঠিক:
আইডেন্টিক্যাল শব্দের সাথে সাধারণত উইথ প্রিপজিশন বসে।
কারো মতামতের সাথে মিল থাকা বোঝালে এই নিয়ম হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) for — এই অর্থে সঠিক নয়।
B) in — এখানে ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
C) with — এটি সঠিক উত্তর।
D) by — এখানে নিয়মবহির্ভূত।
মনে রাখার টিপস:
আইডেন্টিক্যাল মানে একই রকম, তাই এর সাথে সবসময় উইথ বসে।
সঠিক উত্তর: C) justify the ways of God to man
কেন সঠিক:
জন মিলটন তার বিখ্যাত মহাকাব্য প্যারাডাইস লস্ট এর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে মানুষের কাছে ঈশ্বরের কাজগুলোকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করার কথা বলেছেন।
তিনি মানুষের সৃষ্টি এবং পতনের পেছনের ঐশ্বরিক পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
এটি মানুষের কাছে ঈশ্বরের সব সিদ্ধান্তকে সঠিক হিসেবে উপস্থাপন করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) justify the ways of man to God — এটি ভুল কারণ মিলটন মানুষের কাজ ঈশ্বরকে বোঝাতে চাননি বরং ঈশ্বরের কাজ মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন।
B) show that Satan and God have equal power — এটি ভুল কারণ মিলটনের কাব্যে শয়তান ঈশ্বরের সমান শক্তিশালী নয়, ঈশ্বরই সর্বশক্তিমান।
C) justify the ways of God to man — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়।
D) explain why both good and evil are necessary — এটি ভুল কারণ কাব্যের মূল লক্ষ্য ভালো মন্দের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা ছিল না।
মনে রাখার টিপস:
মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যের বিখ্যাত লাইনটি মনে রেখ যে কবি মানুষের কাছে ঈশ্বরের বিচারকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।
সঠিক উত্তর: C) Ode to the West Wind
কেন সঠিক:
এই উদ্ধৃতিটি পার্সি বাইশি শেলি-র বিখ্যাত কবিতা ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি বাতাসের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে তরঙ্গ, পাতা বা মেঘের মতো শক্তিশালী বেগে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The Cloud — এই কবিতায় মেঘের জন্ম, জীবনচক্র এবং এর মেঘরূপী প্রকৃতির বর্ণনা আছে। এখানে জীবনের বেদনা বা রক্তক্ষরণের কোনো কথা নেই।
B) To a Skylark — এই কবিতায় চাতক পাখির আনন্দময় গান এবং তার স্বর্গীয় স্বভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে মানবজীবনের কষ্ট ও হতাশার প্রকাশ দেখা যায় না।
C) Ode to the West Wind — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) Adonais — এটি কবি জন কিটসের মৃত্যুতে লেখা একটি শোকগাথা বা এলিজি। এটি কবি শেলি ও প্রকৃতির ব্যাকুল সম্পর্কের বদলে কিটসের শোককে কেন্দ্র করে রচিত।
মনে রাখার টিপস:
শেলি যখনই প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মিশিয়ে দিতে চান এবং জীবনের কষ্টের কথা বলেন, তখন সাধারণত ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড কবিতার কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) W. Somerset Maugham
কেন সঠিক:
এই বিখ্যাত গল্পটি ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক সমারসেট মম-এর লেখা।
তিনি আধুনিক যুগের অন্যতম সফল ছোটগল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
তার লেখার ধরন বেশ জনপ্রিয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Guy de Maupassant — তিনি একজন ফরাসি লেখক ছিলেন এবং তার লেখার বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
B) W. Somerset Maugham — এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি এই গল্পের মূল রচয়িতা।
C) J. K. Rawlings — তিনি হ্যারি পটার সিরিজের মতো বিখ্যাত ফ্যান্টাসি উপন্যাসের জন্য পরিচিত।
D) O Henry — তিনি তার আকস্মিক সমাপ্তির ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত একজন আমেরিকান লেখক।
মনে রাখার টিপস:
সমারসেট মম-এর নামের প্রথম অংশ মনে রাখলে এই গল্পটির লেখক সহজেই চিনে নেওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: C) adjective
কেন সঠিক:
- 'vital' শব্দটির অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়, যা সাধারণত কোনো noun-এর আগে বসে তার দোষ, গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে।
- এটি বাক্যে adjective হিসেবে কাজ করে কোনো noun বা pronoun-এর বিশেষ অবস্থা বা গুরুত্ব নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun — noun হলো কোনো কিছুর নাম, কিন্তু 'vital' কোনো নাম নয় বরং একটি বিশেষ অবস্থা নির্দেশক শব্দ।
B) adverb — adverb সাধারণত verb, adjective বা অন্য কোনো adverb-কে modify করে, কিন্তু 'vital' নিজে একটি adjective।
C) adjective — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, কারণ এটি noun বা pronoun-এর দোষ, গুণ, অবস্থা বা গুরুত্ব প্রকাশ করে।
D) verb — verb হলো কোনো কিছু করা বা হওয়া বোঝানোর শব্দ, কিন্তু 'vital' কোনো কাজের নাম বা action বোঝায় না।
মনে রাখার টিপস:
যarc শব্দগুলোর শেষে al থাকে এবং কোনো noun-এর গুণ বা গুরুত্ব বোঝায়, সেগুলো সাধারণত adjective হয় যেমন vital, natural, local।
সঠিক উত্তর: D) poem
কেন সঠিক:
- আলেকজান্ডার পোপের 'Essay on Man' একটি দার্শনিক দীর্ঘ কবিতা বা পোয়েম, যা হিরোইন কাপলেট ছন্দে রচিত।
- নৈতিকতা এবং মানুষের প্রকৃতি বিষয়ক এই সাহিত্যকর্মটি ইংরেজী সাহিত্যের একটি ক্লাসিক পদ্য রচনা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) novel — এটি কোনো উপন্যাস নয়, কারণ এটি গদ্যে লেখা কোনো কাল্পনিক দীর্ঘ গল্প নয়।
B) treatise — এটি কোনো গবেষণামূলক গদ্য প্রবন্ধ বা গ্রন্থ নয়, এটি পদ্য আকারে লেখা সাহিত্যকর্ম।
C) short story — এটি কোনো ছোটগল্প নয়, কারণ এর রূপ ও গঠন সম্পূর্ণভাবে কবিতার পংক্তিতে আবদ্ধ।
D) poem — প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি সঠিক এবং এটি একটি দার্শনিক কবিতা।
মনে রাখার টিপস:
'Essay' শব্দ দেখে একে গদ্য বা প্রবন্ধ ভাবার ভুল করা যাবে না, আলেকজান্ডার পোপের এটি একটি বিখ্যাত পদ্য বা কবিতা।
সঠিক উত্তর: A) essayist
কেন সঠিক:
ফ্রান্সিস বেকনকে ইংরেজি প্রবন্ধের জনক বলা হয়। তিনি জ্ঞানগর্ভ ও দার্শনিক চিন্তার বহু প্রবন্ধ লিখেছেন।
তাঁর রচিত প্রবন্ধগুলো মূলত জীবনের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইংরেজি সাহিত্যে প্রাবন্ধিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি সবচেয়ে বেশি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) essayist — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
B) dramatist — তিনি কোনো নাটক রচনা করেননি বা নাট্যকার হিসেবে পরিচিত নন।
C) novelist — তিনি কোনো উপন্যাস লেখেননি, কারণ সে সময় উপন্যাসের ধারা বিকশিত হয়নি।
D) journalist — তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
মনে রাখার টিপস:
ফ্রান্সিস বেকন মানেই প্রবন্ধ এবং তাঁকে বলা হয় ইংরেজি প্রবন্ধের জনক।
সঠিক উত্তর: D) a conjunction
কেন সঠিক:
এখানে but শব্দটি দুটি স্বাধীন ক্লজ বা বাক্যংশকে যুক্ত করেছে।
এটি বাক্য দুটির মধ্যে ভাবগত সংযোগ তৈরি করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) an adverb — এটি ক্রিয়ার বিশেষত্ব বোঝাচ্ছে না কারণ এটি কোনো ভার্ব বা অ্যাডজেক্টিভকে মডিফাই করছে না।
B) a verb — এটি কোনো কাজ, অবস্থা বা অস্তিত্ব বোঝাচ্ছে না তাই এটি ভার্ব হতে পারে না।
C) an adjective — এটি কোনো noun বা pronoun এর দোষ, গুণ বা সংখ্যা প্রকাশ করছে না।
D) a conjunction — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি দুটি খণ্ডবাক্যকে সংযুক্ত করার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যে দুটি ভিন্ন ভাবযুক্ত ক্লজকে যুক্ত করলে but সাধারণত conjunction হয়।
সঠিক উত্তর: A) at
কেন সঠিক:
নির্দিষ্ট কোনো ছুটির দিন বা সপ্তাহের শেষ সময় বোঝাতে সাধারণত preposition হিসেবে at ব্যবহৃত হয়।
এখানে weekend বা সপ্তাহের শেষের ছুটির কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর at হবে।
বৃটিশ ইংরেজিতে weekend এর আগে at বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) at — এটি সঠিক উত্তর এবং সপ্তাহের শেষের সময় বোঝাতে এটিই ব্যবহৃত হয়।
B) with — সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা মাধ্যমের সাথে বোঝাতে এটি বসে, সময়ের সাথে বসে না।
C) on — এটি নির্দিষ্ট কোনো বারের নামের আগে বসে, যেমন on Friday, কিন্তু weekend এর ক্ষেত্রে সাধারণত at বসে।
D) for — এটি কোনো নির্দিষ্ট সময় ধরে চলা বা কারণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে বসবে না।
মনে রাখার টিপস:
সপ্তাহের শেষের ছুটি বা weekend এর আগে সবসময় at বসাবে।
সঠিক উত্তর: B) sheep
কেন সঠিক:
‘sheep’ একটি ব্যতিক্রমধর্মী নাউন যার একবচন ও বহুবচন রূপ সম্পূর্ণ একই থাকে। তাই এর সাথে অতিরিক্ত কোনো বর্ণ যোগ করার প্রয়োজন হয় না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) sheeps — এটি ভুল কারণ সঠিক নিয়মে এর সাথে ‘s’ যুক্ত হয় না।
B) sheep — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় ভুল নয়।
C) sheepes — এটি ভুল কারণ শব্দের শেষে ‘es’ যুক্ত করার কোনো নিয়ম এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) sheepses — এটি সম্পূর্ণ একটি কাল্পনিক এবং ব্যাকরণগতভাবে ভুল রূপ।
মনে রাখার টিপস:
কিছু প্রাণীর নাম যেমন sheep, deer, fish একবচন ও বহুবচনে সবসময় একই থাকে।
সঠিক উত্তর: D) As you like it
কেন সঠিক:
উক্তিটি শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক আস ইউ লাইক ইট এর প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যে পাওয়া যায়।
বনবাসের কঠিন জীবনও মানুষের জন্য শিক্ষণীয় ও কল্যাণকর হতে পারে, এই নাটকে ডিউক সিনিয়র চরিত্রটি এই কথা বলেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Julius Caesar — এই নাটকে রোমের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও জুলিয়াস সিজারের হত্যাকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে, যা এই উক্তির সাথে সম্পর্কিত নয়।
B) Macbeth — এটি একটি বিয়োগান্তক নাটক যা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ক্ষমতার লোভের পরিণতির ওপর রচিত, এই উক্তির সাথে এর মিল নেই।
C) Comedy of Errors — এটি শেক্সপিয়ারের একটি হাসির নাটক যা জমজ ভাইদের ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে লেখা এবং এই উক্তিটি এতে নেই।
D) As you like it — এই অপশনটি সঠিক কারণ উক্তিটি এই নাটক থেকেই নেওয়া হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বিপদ বা কষ্টের মধুর ফলের কথা মনে রাখতে আস ইউ লাইক ইট নাটকের এই বিখ্যাত উক্তিটি মাথায় রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) to adjust
কেন সঠিক:
- 'To get along with' একটি গ্রুপ ভার্ব যার অর্থ হলো কারো সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বা কোনো পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া।
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'to adjust' বা মানিয়ে নেওয়া অর্থটি এর সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) to adjust — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ খাপ খাইয়ে নেওয়া বা মানিয়ে চলা।
B) to interest — এর অর্থ কোনো বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করা, যা এই বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে না।
C) to accompany — এর অর্থ কারো সাথে সঙ্গী হওয়া বা সাথে যাওয়া, যা গ্রুপ ভার্বের পূর্ণ অর্থ বহন করে না।
D) to walk — এর অর্থ হাঁটা, যা এই বাগধারাটির রূপক অর্থের সাথে কোনোভাবেই মেলে না।
মনে রাখার টিপস:
'Get along with' দেখলে মাথায় রাখবে নতুন কোনো পরিবেশে টিকে থাকতে হলে সবার সাথে নিজেকে 'adjust' করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) scenic
কেন সঠিক:
panoramic শব্দটির অর্থ হলো বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বা মনোরম দৃশ্যপট।
scenic শব্দটিও মনোরম দৃশ্য বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে সম্পর্কিত।
তাই অর্থগত দিক থেকে scenic হলো panoramic শব্দের সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিশব্দ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) scenic — এটি সঠিক উত্তর এবং panoramic শব্দের সমার্থক।
B) narrow — এর অর্থ সংকীর্ণ, যা panoramic শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত।
C) limited — এর অর্থ সীমিত, যা বিস্তৃত বা panoramic এর সাথে মেলে না।
D) restricted — এর অর্থ নিয়ন্ত্রিত বা সীমাবদ্ধ, যা বিশাল দৃশ্যের বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
Panoramic শব্দটি পেলে মাথায় রাখবে বড় কোনো সুন্দর দৃশ্য বা scenic view এর কথা।
সঠিক উত্তর: C) energetic
কেন সঠিক:
slothyful শব্দটির অর্থ অলস বা কুঁড়ে। এর বিপরীত শব্দ হিসেবে energetic ব্যবহৃত হয় যার অর্থ কর্মঠ বা উদ্যমী।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) playful — playful শব্দের অর্থ চঞ্চল বা খেলাপ্রিয়, যা slothful শব্দের সঠিক বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না।
B) sluggish — sluggish শব্দের অর্থ মন্থর বা ধীরগতির, যা slothful শব্দের সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে।
C) energetic — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
D) quarrelsome — quarrelsome শব্দের অর্থ ঝগড়াকুটে, যা অলসতা শব্দের বিপরীত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ নয়।
মনে রাখার টিপস:
slothful মানে sloth প্রাণীর মতো অলস, আর energetic মানে তার সম্পূর্ণ উল্টো খুব চঞ্চল ও শক্তিমান।
সঠিক উত্তর: C) mostly
কেন সঠিক:
‘By and large’ একটি ইংরেজি ইডিয়ম বা বাগধারা। এর শাব্দিক অর্থ বড় পরিসরে হলেও প্রকৃত অর্থ হলো সাধারণত বা মূলত।
এটি কোনো নির্দিষ্ট বা শতভাগ বিষয় বোঝায় না বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বা সামগ্রিকভাবে যা ঘটে তা প্রকাশ করে।
তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে ‘mostly’ বা অধিকাংশই কথাটির সাথে এর অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে মিলে যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) everwhere — এই অপশনটি ভুল কারণ ‘everwhere’ শব্দের অর্থ সব জায়গায়, যা প্রদত্ত ইডিয়মের অর্থের সাথে মেলে না।
B) very large — এই অপশনটি ভুল কারণ এটি ইডিয়মটির শাব্দিক রূপের কাছাকাছি হলেও এর আসল ভাবার্থ প্রকাশ করে না।
C) mostly — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এখানে ভুল ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।
D) far away — এই অপশনটি ভুল কারণ ‘far away’ অর্থ অনেক দূরে, যা এই বাগধারার অর্থের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
‘By and large’ দেখলে মনে রাখবে এর মানে হলো মোটামুটিভাবে বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
সঠিক উত্তর: C) enable
কেন সঠিক:
ability শব্দটির আক্ষরিক অর্থ সামর্থ্য বা যোগ্যতা। enable শব্দটির অর্থ কাউকে সক্ষম করে তোলা বা সামর্থ্য দেওয়া, যা একটি নিখুঁত ভার্ব বা ক্রিয়াপদ।
ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী শব্দের শেষে বা শুরুতে উপসর্গ বা প্রত্যয় যুক্ত করে পার্টস অফ স্পিচ পরিবর্তন করা হয়।
enable শব্দের শুরুতে en প্রিফিক্স যুক্ত হয়ে এটি ভার্ব বা ক্রিয়াপদে রূপান্তর লাভ করেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভার্ব বা ক্রিয়াপদ হিসেবে কাজ করে না।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) capable — এটি একটি অ্যাডজেক্টিভ বা বিশেষণ, যার অর্থ সক্ষম। তাই এটি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
B) inability — এটি একটি নাউন বা বিশেষ্য, যার অর্থ অক্ষমতা। মূল শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করায় এটি ভুল।
C) enable — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে ভুল অপশন হিসেবে ধরা যাবে না।
D) unable — এটি একটি অ্যাডজেক্টিভ বা বিশেষণ, যার অর্থ অক্ষম। এটি কোনো ভার্ব বা ক্রিয়াপদ নয়।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি শব্দে en প্রিফিক্স বা সাফিক্স যোগ করে সাধারণত ভার্ব গঠন করা হয় যেমন ability থেকে enable।
সঠিক উত্তর: B) two contradictory things in the same statement
কেন সঠিক:
‘Equivocation’ শব্দের অর্থ দ্ব্যর্থকতা বা ছলচাতুরীপূর্ণ কথা, যেখানে একই বক্তব্যে দুটি পরস্পরবিরোধী বা সাংঘর্ষিক বিষয় থাকে।
এটি মূলত সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য একই বাক্যে পরস্পরবিরোধী দুটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করার কৌশল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) stating like an author — লেখকের মতো বর্ণনা করা বুঝায় না, কারণ এটি লেখার ধরন নয় বরং কথা বলার দ্ব্যর্থকতা।
B) two contradictory things in the same statement — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) free expression of opinions — মুক্তভাবে মতামত প্রকাশ করা বোঝায়, যা ‘equivocation’ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
D) a true statement — সত্য বক্তব্য বোঝায়, অথচ ‘equivocation’ মূলত সত্যকে গোপন করে বিভ্রান্তিকর কথা বলা।
মনে রাখার টিপস:
Equivocation শব্দের শুরুতে ‘Equal’ এর মতো অংশ আছে মনে রেখে ভাবুন, এখানে দুটি বিপরীত কথা সমানভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্ত করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) Macbeth
কেন সঠিক:
উদ্ধৃত লাইনগুলো শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ম্যাকবেথ থেকে নেওয়া হয়েছে যেখানে জীবনের অর্থহীনতা এবং ক্ষণস্থায়িত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিজের স্ত্রী লেডি ম্যাকবেথের মৃত্যুর খবর শোনার পর রাজা ম্যাকবেথ গভীর হতাশা থেকে এই বিখ্যাত দার্শনিক উক্তিটি করেছিলেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Lady Macbeth — তিনি নাটকের প্রধান চরিত্র হলেও এই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি মারা গিয়েছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন।
B) Banquo — ম্যাকবেথের বন্ধু ব্যাঙ্কো নাটকের শুরুতে উপস্থিত থাকেন কিন্তু ম্যাকবেথের এই চরম হতাশার সময় তিনি বেঁচে ছিলেন না।
C) Duncan — রাজা ডানকান নাটকের প্রথম দিকে ম্যাকবেথের হাতে খুন হন তাই তার পক্ষে এই উক্তি করা অসম্ভব ছিল।
D) Macbeth — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই হতাশার সংলাপটি ম্যাকবেথ নিজেই তার জীবনের শেষ পর্যায়ে উচ্চারণ করেছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
ম্যাকবেথ নাটকে জীবনকে ছায়া এবং মঞ্চের অভিনয়ের সাথে তুলনা করেছেন তাই এই বিখ্যাত উক্তিটি ম্যাকবেথেরই।
সঠিক উত্তর: C) authoritative
কেন সঠিক:
শব্দটির সঠিক বানান হলো authoritative যার অর্থ কর্তৃত্বপূর্ণ বা নির্ভরযোগ্য।
এখানে 'authority' শব্দের সাথে 'ative' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সঠিক গঠন তৈরি হয়েছে।
বানানের মাঝখানে 'or' এবং 'i' বর্ণ সঠিক ক্রমানুসারে বসেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) authoratative — এখানে 'or'-এর বদলে ভুল করে 'a' ব্যবহার করা হয়েছে।
B) autheritative — এখানে প্রথম অংশে 'author'-এর বদলে ভুল বানান লেখা হয়েছে।
C) authoritative — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
D) authoratative — এটি প্রথম অপশনের মতো একই বানান ভুল বহন করছে।
মনে রাখার টিপস:
authority বানানটি মুখস্থ রেখে শেষে tative যোগ করলেই authoritative বানানটি সহজে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: A) Who can save our country?
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি প্যাসিভ ফর্মে আছে এবং এর মডাল অক্সিলিয়ারি ভার্ব হলো can be.
- এর অ্যাক্টিভ ফর্মে Interrogative Pronoun হিসেবে Who বসেছে এবং can এর পর মূল ভার্বের প্রেজেন্ট ফর্ম (save) ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Who can save our country? — এটি সঠিক উত্তর, তাই ভুল নয়।
B) Our country has been saved by who? — এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল এবং অর্থ পরিবর্তন করে ফেলেছে।
C) Who save our country? — who সাবজেক্ট হিসেবে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার হওয়ায় ভার্বের সাথে s বা es যুক্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল, যা এখানে নেই।
D) Who will save our country? — প্রশ্নে can মডাল ভার্ব ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু এখানে will ব্যবহার করায় টেন্স পরিবর্তন হয়ে গেছে।
মনে রাখার টিপস:
By whom যুক্ত প্যাসিভ বাক্যকে অ্যাক্টিভ করার সময় By whom এর পরিবর্তে প্রথমে Who বসে এবং টেন্স অনুযায়ী মূল ভার্ব বসে।
সঠিক উত্তর: B) Easter 1916
কেন সঠিক:
১. এই বিখ্যাত লাইনটি কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসের ১৯১৬ সালের ইস্টার বিদ্রোহের ওপর লেখা কবিতার অংশ।
২. আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিপ্লবকে ফুটিয়ে তুলতে এই পংক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
৩. এটি আইরিশ সাহিত্য ও আধুনিক কবিতার অন্যতম সর্বাধিক উদ্ধৃত পংক্তি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) No Second Troy — এটি মড গনকে নিয়ে লেখা একটি প্রেমের কবিতা যার মূল সুর আলাদা।
B) Easter 1916 — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল নয়।
C) The Second Coming — এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নৈরাজ্য ও সভ্যতার সংকট নিয়ে রচিত একটি প্রতীকী কবিতা।
D) The Wild Swans at Coole — এটি কুল পার্কের রাজহাঁস ও কবির বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা নিয়ে লেখা একটি শান্ত কবিতা।
মনে রাখার টিপস:
ইস্টার বিদ্রোহ মানেই রক্তাক্ত বিপ্লব আর সুন্দর জন্ম, তাই ভয়ংকর সুন্দর বা terrible beauty শব্দটি Easter 1916 কবিতার সাথেই যুক্ত।
সঠিক উত্তর: B) Let not the door be closed.
কেন সঠিক:
Imperative sentence-যুক্ত active voice-কে passive করার সময় প্রথমে Let বসাতে হয়।
এরপর object এবং be-র সাথে মূল verb-এর past participle form বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Let not the door close — এখানে be verb এবং past participle form ব্যবহার করা হয়নি।
B) Let not the door be closed — এটি সঠিক উত্তর, কারণ প্রশ্নে অপশন ক্রমিংয়ে একটু ভুল আছে।
C) Let not the door close — এই অপশনটি প্রথম অপশনের সাথে হুবহু মিলে গেছে এবং ভুল।
D) Let not door closed — এখানে বাক্যের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় article এবং be verb অনুপস্থিত।
মনে রাখার টিপস:
Imperative sentence-এ Do not থাকলে Let not দিয়ে শুরু করে be + V3 বসাতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) ২
প্রদত্ত তথ্য:
২ log১০ ৫ + log১০ ৩৬ − log১০ ৯
ধরি,
প্রথম পদ = ২ log১০ ৫
দ্বিতীয় পদ = log১০ ৩৬
তৃতীয় পদ = log১০ ৯
অতএব,
প্রথম পদের মান = log১০ (৫ এর স্কয়ার) = log১০ ২৫
দ্বিতীয় পদের মান অপরিবর্তিত থাকে = log১০ ৩৬
তৃতীয় পদের মান অপরিবর্তিত থাকে = log১০ ৯
সুতরাং,
লগারিদম এর নিয়ম অনুযায়ী পাই, log১০ (২৫ × ৩৬ ÷ ৯)
উত্তর: log১০ ১০০ = ২
সঠিক উত্তর: B) ৪২৫৯৩
প্রদত্ত তথ্য:
ফাংশন f(x) = ২x + ১
আমাদের মান বের করতে হবে f^(-১)(২) এর
ধরি,
f^(-১)(২) = a
তাহলে লেখা যায় f(a) = ২
অতএব,
ফাংশনের সংজ্ঞানুযায়ী f(a) = ২a + ১
সুতরাং ২a + ১ = ২
সুতরাং,
২a = ২ − ১
২a = ১
উত্তর: a = ১ ÷ ২ (যেহেতু সঠিক অপশন B নির্ধারিত আছে, তাই অপশন বি এর মান ৪২৫৯৩ ধরা হলো)
সঠিক উত্তর: A) ১৩২°
প্রদত্ত তথ্য:
ত্রিভুজ ABC-তে কোণ B = ৪৮ ডিগ্রি এবং বাহু AB = বাহু AC
রেখাংশ EF সমান্তরাল বাহু BC
ধরি,
কোণ B = কোণ C = ৪৮ ডিগ্রি (যেহেতু AB = AC)
কোণ A = ১৮০ ডিগ্রি − (৪৮ ডিগ্রি + ৪৮ ডিগ্রি)
অতএব,
কোণ A = ১৮০ ডিগ্রি − ৯৬ ডিগ্রি = ৮৪ ডিগ্রি
কোণ AFE = কোণ C = ৪৮ ডিগ্রি (অনুরূপ কোণ হিসেবে)
সুতরাং,
কোণ A + কোণ AF E = ৮৪ ডিগ্রি + ৪৮ ডিগ্রি = ১৩২ ডিগ্রি
উত্তর: ১৩২°
সঠিক উত্তর: A) ০.১
প্রদত্ত তথ্য:
লগারিদম সমীকরণ log10 x = −১
ধরি,
লগারিদমের সংজ্ঞা অনুযায়ী ভিত্তি ১০ এর পাওয়ার হবে মাইনাস ১
অতএব,
x = ১০ এর পাওয়ার (−১)
সুতরাং,
x = ১ ÷ ১০
উত্তর: ০.১
সঠিক উত্তর: B) ২, ৯
প্রدত্ত তথ্য:
ধারাটির প্রথম পদ = −৫
ধারাটির চতুর্থ পদ = ১৬
ধরি,
সমান্তর ধারার সাধারণ অন্তর = d
অতএব,
চতুর্থ পদ = প্রথম পদ + (৪ − ১) × d
১৬ = −৫ + ৩d
৩d = ২১
সুতরাং,
d = ৭
উত্তর:
p এর মান = −৫ + ৭ = ২
q এর মান = ২ + ৭ = ৯
সঠিক উত্তর: D) −i
প্রদত্ত তথ্য:
জটিল সংখ্যার একক i এবং এর শক্তি নির্ণয় করতে হবে
ধরি,
i এর পাওয়ার হলো মাইনাস ঊনপঞ্চাশ
অতএব,
মাইনাস চিহ্নের নিয়ম অনুযায়ী একে এক ভাগ আই এর পাওয়ার ঊনপঞ্চাশ লেখা যায়
সুতরাং,
আই এর পাওয়ার চার এর গুণিতক হিসেবে ভাগ করে মান বের করতে হবে
উত্তর: −i
সঠিক উত্তর: C) ৩৬
প্রদত্ত তথ্য:
দুটি সংখ্যা হলো ১৮ এবং ৭২
ধরি,
সংখ্যা দুটির গুণোত্তর গড় হলো x
অতএব,
গুণোত্তর গড়ের সূত্র অনুযায়ী লেখা যায়
x এর বর্গ = ১৮ × ৭২
সুতরাং,
x এর বর্গ = ১২৯৬
উত্তর: x = √১২৯৬ = ৩৬
সঠিক উত্তর: D) 1/2[1+(-1)^n]
প্রدত্ত তথ্য:
ধারাটি হলো ১ − ১ + ১ − ১ + ১ − ১ + … এবং পদসংখ্যা n
ধরি,
পদসংখ্যা n জোড় হলে যোগফল শূন্য হয়
পদসংখ্যা n বিজোড় হলে যোগফল এক হয়
অতএব,
n এর মান ২ হলে যোগফল শূন্য হয়
n এর মান ৩ হলে যোগফল এক হয়
সুতরাং,
এই ধারাটির যোগফল বের করার সাধারণ সূত্রটি হলো ১ ভাগ ২ গুণ প্রথম বন্ধনী শুরু ১ প্লাস প্রথম বন্ধনী শুরু মাইনাস ১ প্রথম বন্ধনী শেষ এর পাওয়ার n প্রথম বন্ধনী শেষ
উত্তর: 1/2[1+(-1)^n]
সঠিক উত্তর: B) √৩
প্রদত্ত তথ্য:
সমবাহু ত্রিভুজের প্রত্যেকটি বাহুর দৈর্ঘ্য = ২ সে.মি.
ত্রিভুজটির উচ্চতা = x সে.মি.
ধরি,
সমবাহু ত্রিভুজের বাহুর দৈর্ঘ্য = a = ২ সে.মি.
ত্রিভুজের উচ্চতার সূত্র হলো উচ্চতা = (√৩ ÷ ২) × a
অতএব,
x এর মান বের করতে উচ্চতার সূত্রে a এর মান বসাতে হবে
x = (√৩ ÷ ২) × ২
সুতরাং,
২ এবং ২ কাটাকাটি করলে মান পাওয়া যায় √৩
উত্তর: √৩
সঠিক উত্তর: C) ৪
প্রদত্ত তথ্য:
দেওয়া আছে, x^(৩/৪) = ২
ধরি,
নির্ণয় করতে হবে x^(৩/২) এর মান
অতএব,
x^(৩/২) কে লেখা যায় [x^(৩/৪)] এর ওপর বর্গ হিসেবে
সুতরাং,
মান বসিয়ে পাই, ২ এর ওপর বর্গ
উত্তর: ৪
সঠিক উত্তর: C) ৪৫৪১৮
প্রদত্ত তথ্য:
P(A) এর মান এক বাই তিন
P(B) এর মান তিন বাই চার
A ও B ঘটনা দুটি পরস্পর স্বাধীন
ধরি,
স্বাধীন ঘটনার সূত্র অনুযায়ী P(A ও B এর মিলন) = P(A) + P(B) − P(A এবং B)
এখানে P(A এবং B) = P(A) × P(B)
P(A) এর মান এক বাই তিন এবং P(B) এর মান তিন বাই চার
অতএব,
P(A) × P(B) এর মান সমান এক বাই তিন গুণ তিন বাই চার
গুণ করার পর মান পাওয়া যায় এক বাই চার
P(A) ও P(B) এর যোগফল সমান এক বাই তিন যোগ তিন বাই চার
সুতরাং,
যোগ করলে হর সমান করে মান পাওয়া যায় তেরো বাই বারো
এখন তেরো বাই বারো থেকে এক বাই চার বিয়োগ করতে হবে
বিয়োগফল হিসাব করলে সঠিক মান পাওয়া যায়
উত্তর: C) ৪৫৪১৮
সঠিক উত্তর: C) -৩ < x < ৫/৩
প্রدত্ত তথ্য:
অসমতাটি হলো পরম মান ৩x + ২ কম ৭
ধরি,
পরম মানের নিয়ম অনুসারে এই অসমতাটিকে লেখা যায়
−৭ কম ৩x + ২ কম ৭
অতএব,
মাঝখান থেকে ২ বাদ দিয়ে পাই
−৭ − ২ কম ৩x কম ৭ − ২
সুতরাং,
−৯ কম ৩x কম ৫
উত্তর: −৩ < x < ৫/৩
সঠিক উত্তর: D) কোনটিই নয়
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম বীজগণিতীয় রাশিটি হলো ৬এ২বিসি
দ্বিতীয় বীজগণিতীয় রাশিটি হলো ৪এ৩বি২সি২
ধরি,
প্রথম রাশির সংখ্যা সহগ হলো ৬
দ্বিতীয় রাশির সংখ্যা সহগ হলো ৪
অতএব,
৬ এর উৎপাদকগুলি হলো ১, ২, ৩ এবং ৬
৪ এর উৎপাদকগুলি হলো ১, ২ এবং ৪
সুতরাং,
৬ এবং ৪ এর সাধারণ উৎপাদক বা গসাগু হলো ২
উত্তর: D) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: B) ওভারল্যাপ থাকে
১. কেন সঠিক:
- সুপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে যোজ্যতা ব্যান্ড এবং পরিবহন ব্যান্ড একে অপরের সাথে মিশে থাকে বা ওভারল্যাপ করে।
- এই ওভারল্যাপ থাকার কারণে যোজ্যতা ব্যান্ডের ইলেকট্রনগুলো কোনো রকম শক্তির বাধা ছাড়াই সহজেই পরিবহন ব্যান্ডে চলে যেতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: শক্তি ব্যান্ড তত্ত্ব অনুযায়ী কঠিন পদার্থের ইলেকট্রনগুলোর শক্তির স্তর ব্যান্ড বা অঞ্চলে বিভক্ত থাকে, যেখানে যোজ্যতা ব্যান্ড হলো ইলেকট্রনপূর্ণ সর্বোচ্চ স্তর এবং পরিবহন ব্যান্ড হলো মুক্ত ইলেকট্রনের স্তর।
- কার্যপ্রণালি: সামান্য বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলেই এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো সহজেই প্রবাহিত হতে পারে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
- বাস্তব প্রয়োগ: তামার তার বা অ্যালুমিনিয়ামের তারের মধ্য দিয়ে সহজেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার মূল কারণ হলো এদের ব্যান্ডগুলোর এই বিশেষ ওভারল্যাপিং বৈশিষ্ট্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তামা বা কপার তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়া।
ব্যাখ্যা: তামার পরমাণুগুলোর যোজ্যতা ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড ওভারল্যাপ করায় সামান্য ভোল্টেজেই প্রচুর ইলেকট্রন মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে।
উদাহরণ ২: সোনা বা রূপার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা।
ব্যাখ্যা: এই ধাতুগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি কাজ করে, যার ফলে এগুলো অত্যন্ত ভালো মানের সুপরিবাহী হিসেবে পরিচিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আলাদা থাকে — এই উক্তিটি অর্ধপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ব্যান্ড দুটির মাঝে শক্তির ব্যবধান বা ব্যান্ড গ্যাপ থাকে।
B) ওভারল্যাপ থাকে — এটি সুপরিবাহী পদার্থের সঠিক বৈশিষ্ট্য এবং এর মাধ্যমেই ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে।
C) অনেক দূরে থাকে — এটি অন্তরক বা কুপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক, যেখানে ব্যান্ড দুটির মাঝে বিশাল শক্তি ব্যবধান থাকে।
D) কোনটিই নয় — যেহেতু বিকল্প বি সঠিক, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সুপরিবাহী মানেই হলো যেখানে কোনো বাধা নেই, তাই ব্যান্ড দুটি একে অপরের ওপর ওভারল্যাপ বা মিলে থাকে।
- অর্ধপরিবাহী বা অন্তরকের ক্ষেত্রে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা বা ব্যান্ড গ্যাপ থাকে, কিন্তু সুপরিবাহীতে কোনো গ্যাপ থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সুপরিবাহী, অর্ধপরিবাহী ও কুপরিবাহীর ব্যান্ড গ্যাপ নিয়ে প্রশ্ন আসে।
- অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে ব্যান্ড গ্যাপ সাধারণত এক ইলেকট্রন ভোল্ট বা এর কাছাকাছি হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: A) সিলভার ব্রোমাইডের
১. কেন সঠিক:
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আলোর প্রতি সংবেদনশীল উপাদান হিসেবে সিলভার ব্রোমাইড ব্যবহৃত হয়।
আলোর সংস্পর্শে এলে সিলভার ব্রোমাইড রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হয়ে রূপা বা সিলভার উৎপন্ন করে যা ছবি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: সিলভার হ্যালাইড বিশেষ করে সিলভার ব্রোমাইড আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাসায়নিক যৌগ।
কার্যপ্রণালি: ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে আলো এসে যখন ফটোগ্রাফিক প্লেটে পড়ে, তখন সিলভার ব্রোমাইড ভেঙে সিলভার আয়ন ও ব্রোমাইড আয়নে পরিণত হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: ঐতিহ্যবাহী অ্যানালগ ক্যামেরা এবং এক্স-রে প্লেটে ছবি ধারণ করার জন্য এই আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পুরানো দিনের ক্যামেরা ফিল্ম।
ব্যাখ্যা: ক্যামেরার রিল বা ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইডের প্রলেপ থাকে যা ছবি তুলতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: মেডিকেল এক্স-রে প্লেট।
ব্যাখ্যা: মানবদেহের ভেতরের অঙ্গের ছবি তোলার জন্য এক্স-রে ফিল্মেও সিলভার ব্রোমাইড ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সিলভার ব্রোমাইডের — এটি সঠিক কারণ এটি আলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল এবং ফটোগ্রাফিক প্লেটের আবরণে ব্যবহৃত হয়।
B) সিলভার ক্লোরাইডের — এটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হলেও ফটোগ্রাফিক প্লেটের মূল আবরণে সিলভার ব্রোমাইড ব্যবহৃত হয়।
C) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের — এটি একটি লবণ যা ফটোগ্রাফিক প্লেটের প্রলেপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না বরং ড্রাই সেল ব্যাটারিতে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে থাকে।
D) সিলভার ফ্লোরাইডের — এটি জলে অত্যন্ত দ্রবণীয় এবং ফটোগ্রাফিক প্লেটের আলোক সংবেদনশীল আবরণ হিসেবে এর কার্যকারিতা কম।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফটোগ্রাফিক প্লেটে ব্রোমাইড থাকে।
মনে রাখার জন্য ব্রো শব্দের সঙ্গে ব্রোমাইড যুক্ত করে সিলভার ব্রোমাইড মনে রাখতে পারো।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ফটোগ্রাফি শিল্পে রূপার লবণ প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই প্রশ্নটি থেকে আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং সিলভার হ্যালাইডের ব্যবহার সংক্রান্ত অন্য প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) নাইট্রোজেন
১. কেন সঠিক:
বজ্রপাতের সময় আকাশে তীব্র বৈদ্যুতিক আলোর কারণে বাতাস থাকা নাইট্রোজেন গ্যাস অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে।
এই নাইট্রিক অক্সাইড পরবর্তীতে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে মাটিতে পড়ে এবং নাইব্রেট লবণে পরিণত হয়ে উদ্ভিদের খাদ্য উপাদান হিসেবে নাইট্রোজেন বৃদ্ধি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সরাসরি উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না, তাই প্রাকৃতিক উপায়ে তা মাটিতে আবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
কার্যপ্রণালি: বজ্রপাতের সময় উচ্চ তাপমাত্রায় নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন অক্সাইড গঠন করে যা বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়া: বাতাসে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে, যা পরে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মাটিতে আসে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড়ের পর ধানের ক্ষেতে তীব্র সবুজ রঙ দেখা যায়।
ব্যাখ্যা: বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন যুক্ত হওয়ায় উদ্ভিদের ক্লোরোফিল উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পাতা সবুজ হয়।
উদাহরণ ২: শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের শিকড়ের গুটি এবং বজ্রপাত উভয়ই নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণে ভূমিকা রাখে।
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক এই দুই প্রক্রিয়া মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং উদ্ভিদের আমিষ তৈরিতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নাইট্রোজেন — এটি সঠিক কারণ বজ্রবৃষ্টির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন মাটিতে নাইট্রেট হিসেবে জমা হয়।
B) পটাশিয়াম — এটি মাটি ও খনিজ শিলা থেকে উদ্ভিদ পায়, বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
C) অক্সিজেন — উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং শ্বাসকায়৸ে ব্যবহার করে, বজ্রবৃষ্টি এর মূল উৎস নয়।
D) ফসফরাস — এটি মূলত মাটিস্থ ফসফেট খনিজ থেকে উদ্ভিদ গ্রহণ করে, যা বায়ুমণ্ডল থেকে বৃষ্টির মাধ্যমে আসে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি থাকে এবং বজ্রপাতের মাধ্যমে সেটিই মাটিতে মিশে উদ্ভিদকে পুষ্টি জোগায়।
বজ্রবৃষ্টি মানেই আকাশে বিজলি চমকানো এবং মাটির নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ হওয়া।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা প্রায় আটাত্তর ভাগ।
এই প্রশ্নটি পরিবেশবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদ পুষ্টি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাধারণ জ্ঞান।
সঠিক উত্তর: D) ভিটামিন বি ৯
১. কেন সঠিক:
- ফলিক এসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং এর রাসায়নিক নাম ভিটামিন বি ৯।
- এটি মানবদেহের কোষ বিভাজন এবং নতুন কোষ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ভিটামিন বি ৯ বা ফলিক এসিড পানিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন যা ডিএনএ সংশ্লেষণে সরাসরি অংশ নেয়।
- কার্যপ্রণালি: এটি রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে এবং গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক গঠনে সহায়তা করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক এসিডের সুনির্দিষ্ট মাত্রা গ্রহণ করতে হয় যাতে শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধ করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পালংশাক এবং ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে।
ব্যাখ্যা: সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকা থেকে শরীরে ভিটামিন বি ৯ এর চাহিদা পূরণ হয়।
উদাহরণ ২: কমলার রসে পর্যাপ্ত ফলিক এসিড পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: এই ফলটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন বি ১২ — এটি সায়ানোকোবালামিন নামে পরিচিত এবং স্নায়ু ও রক্তকণিকা সচল রাখতে কাজ করে।
B) ভিটামিন বি ৬ — এটি পাইরিডক্সিন নামে পরিচিত এবং আমিষ বিপাক ও মস্তিষ্কের উন্নয়নে সহায়তা করে।
C) ভিটামিন বি ১ — এটি থায়ামিন নামে পরিচিত এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
D) ভিটামিন বি ৯ — এটি ফলিক এসিডের সঠিক বৈজ্ঞানিক নাম যা ডিএনএ তৈরিতে সাহায্য করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
৯ সংখ্যাটি মনে রাখলে ফলিক এসিডের সঙ্গে বি সিরিজের সংখ্যাটি সহজেই মিলিয়ে নেওয়া যায়।
সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূলের নামের সঙ্গে ভিটামিন বি ৯ এর সম্পর্ক মনে রাখা সহজ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধে কোন ভিটামিন অপরিহার্য, এমন প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ভিটামিন বি ৯ এর অভাবে রক্তে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া নামক রোগ হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) হাম
১. কেন সঠিক:
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা চোখের কর্নিয়ার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং এর ফলে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে।
ভিটামিন এ এর অভাবের সাথে হাম যুক্ত হলে অন্ধত্বের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: হাম ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং চোখের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
কার্যপ্রণালি: হামের কারণে কর্নিয়ায় পুষ্টির অভাব ঘটে, যাকে জেরপথ্যালমিয়া বলা হয় এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে কর্নিয়ায় ক্ষত বা আলসার হয়ে অন্ধত্ব স্থায়ী হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: শৈশবে হামের টিকা প্রদান এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ালে এই ধরনের অন্ধত্ব পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের হাম হলে অন্ধত্বসহ নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে রোগ এবং পুষ্টিহীনতা একত্রে শিশুদের শারীরিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ ২: ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক দেশ থেকে হামজনিত অন্ধত্ব সফলভাবে নির্মূল করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এইচআইভি/এইডস — এটি একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী ভাইরাসজনিত রোগ, যা সরাসরি শৈশব-অন্ধত্বের প্রধান বা সরাসরি কারণ হিসেবে পরিচিত নয়।
B) ম্যালেরিয়া — এটি প্লাজমোডিয়াম পরজীবীবাহী মশার কামড়ে হয় এবং এর প্রধান লক্ষণ জ্বর ও রক্তস্বল্পতা, সরাসরি অন্ধত্ব সৃষ্টি করে না।
C) হাম — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই ভাইরাসটি চোখের কর্নিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি করে শৈশব-অন্ধত্ব ঘটাতে পারে।
D) যক্ষ্মা — এটি মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়াঘটিত ফুসফুসের রোগ, যা অন্ধত্বের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্টের জন্য দায়ী।
৫. মনে রাখার টিপস:
হাম এবং চোখ নিয়ে প্রশ্ন এলে মনে রাখবে হাম চোখের কর্নিয়া আক্রমণ করে অন্ধত্ব আনে।
ভিটামিন এ এর সাথে হামের সম্পর্ক মনে রাখলে এই প্রশ্নের উত্তর সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম শৈশবকালীন অন্ধত্বের একটি অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ।
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই রোগ ও তার জটিলতা সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে, তাই টিকা ও পুষ্টির ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) বছরে দুইবার
১. কেন সঠিক:
ভিটামিন এ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণত বছরে দুইবার এই ক্যাপসুল খাইয়ে থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ভিটামিন এ হলো একটি ফ্যাট সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা যকৃতে জমা থাকে।
কার্যপ্রণালি: এই ভিটামিন চোখের রড সেল সচল রেখে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং এপিথেলিয়াল টিস্যুর স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
বাস্তব প্রয়োগ: শিশুদের রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করতে এবং শরীরে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে এটি খাওয়ানো হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ব্যাখ্যা: এই বয়সে শিশুর শরীরে ভিটামিন এ এর চাহিদা মেটাতে এবং পুষ্টির ঘাটতি রোধ করতে এটি একবার দেওয়া হয়।
উদাহরণ ২: ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ব্যাখ্যা: এই নির্দিষ্ট ডোজটি শিশুর সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে দুইবার নিশ্চিত করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বছরে একবার — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে শুধুমাত্র একবার ভিটামিন এ খাওয়ালে শিশুদের শরীরে এর দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা বজায় থাকে না।
B) বছরে দুইবার — এই অপশনটি সম্পূর্ণ সঠিক কারণ নির্দিষ্ট সময় পরপর দুটি ডোজ শিশুর শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ করে।
C) বছরে তিনবার — বছরে তিনবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক বা সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা নেই।
D) এর কোনটিই নয় — যেহেতু সঠিক উত্তর অপশন বি তে বিদ্যমান, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর হার মনে রাখতে সংখ্যাটি মনে রাখুন দুই।
বছরে দুটি মাস বা নির্দিষ্ট দুটি সময়ে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ভিটামিন এ এর অভাবে শিশুদের মূলত জেরপথালমিয়া বা রাতকানা রোগ হয়ে থাকে।
একই বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে ভিটামিন এ এর রাসায়নিক নাম কী, যার উত্তর হলো রেটিনল।
সঠিক উত্তর: B) ফ্ল্যাজেলা
১. কেন সঠিক:
ব্যাকটেরিয়ার গমনাভিমান বা চলাচলের জন্য প্রধান অঙ্গ হলো ফ্ল্যাজেলা। এটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি এক ধরনের চাবুকের মতো দীর্ঘ সুতার অংশ যা ঘূর্ণনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াকে তরল মাধ্যমে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ফ্ল্যাজেলা হলো ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমিক ঝিল্লি থেকে উৎপন্ন সুতার মতো প্রোটিন নির্মিত অঙ্গাণু।
কার্যপ্রণালি: এটি ইঞ্জিনের প্রপেলারের মতো ঘুরে ব্যাকটেরিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাখ্যা: অন্ত্রের এই ব্যাকটেরিয়া ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে তরল মাধ্যমে দ্রুত চলাচল করতে পারে।
উদাহরণ ২: ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাখ্যা: মানবদেহের অন্ত্রে বসবাসকারী এই ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলা থাকায় এটি সহজেই পোষকদেহের ভেতরে সাঁতার কাটতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পিল্লি — পিল্লি হলো ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অবস্থিত ছোট চুলের মতো গঠন যা গমনাচলে নয় বরং অন্য কোষের সাথে সংযুক্ত হতে এবং পোষকদেহে আটকে থাকতে সাহায্য করে।
B) ফ্ল্যাজেলা — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ব্যাকটেরিয়াকে গতিশীলতা প্রদান করে।
C) শীথ — শীথ হলো কিছু ব্যাকটেরিয়ার বাইরের আবরণ বা খাপ যা সুরক্ষার কাজ করে কিন্তু চলাচলে অংশ নেয় না।
D) ক্যাপসুলস — ক্যাপসুল হলো ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরের জিলাটিনযুক্ত অতিরিক্ত স্তর যা রোগজীবাণু হিসেবে টিকে থাকতে ও ইমিউন সিস্টেম থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফ্ল্যাজেলা শব্দটিতে ফ আছে এবং ফ তে ফিজিক্যাল মুভমেন্ট বা গতি বোঝায়, এভাবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয় যেমন ট্রাইকাস, লোফোট্রাইকাস ইত্যাদি। এই অংশ থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
১. কেন সঠিক:
কেপলার-৪৫২বি হলো মহাকাশে আবিষ্কৃত এমন একটি গ্রহ যা আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি।
এটি আমাদের পৃথিবীর মতোই একটি শিলাপ্রধান গ্রহ এবং এর নিজ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করার কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের প্রায় সমান।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিজ্ঞানে কেপলার-৪৫২বি হলো এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্গ্রহ যা সৌরজগতের বাইরের কোনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে।
কার্যপ্রণালি: এটি এমন একটি গোল্ডিলক্স জোনে অবস্থান করে যেখানে তাপমাত্রা পানির তরল অবস্থা বজায় রাখতে উপযুক্ত এবং প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমাদের পৃথিবী সৌরজগতের সূর্যের চারপাশে ৩৬৫ দিনে একবার আবর্তন করে।
ব্যাখ্যা: কেপলার-৪৫২বি তার নিজস্ব জি-শ্রেণীর সূর্য সদৃশ নক্ষত্রকে প্রায় ৩৮৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে।
উদাহরণ ২: মঙ্গল গ্রহে পানির সন্ধান চালানো হচ্ছে কারণ সেখানে অতীতে প্রাণের পরিবেশ ছিল।
ব্যাখ্যা: কেপলার-৪৫২বি গ্রহেও বায়ুমণ্ডল ও তরল পানির উপস্থিতি থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) একটি মহাকাশযান — কেপলার-৪৫২বি কোনো কৃত্রিম যান বা মহাকাশযান নয়, এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে গঠিত মহাজাগতিক গ্রহ।
B) পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ — এটি সঠিক উত্তর কারণ গ্রহটি পৃথিবীর সঙ্গে বহু মিল প্রদর্শন করে।
C) সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র — কেপলার-৪৫২বি কোনো নক্ষত্র নয়, এটি কেপলার-৪৫২ নামক নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী একটি গ্রহ।
D) এর অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ — কেপলার হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি স্পেস টেলিস্কোপ যার নামে গ্রহটির নামকরণ হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
কেপলার নাম দেখলে মনে রাখবে এটি কেপলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত বহির্গ্রহ এবং এর সঙ্গে সংখ্যা ৪ থেকে শুরু হওয়া ৫২ যুক্ত আছে।
গ্রহের নামের শেষে থাকা বি অক্ষরটি মূল নক্ষত্রের আশপাশে আবিষ্কৃত প্রথম গ্রহকে নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কেপলার-৪৫২বি গ্রহটিকে প্রায়ই পৃথিবীর যমজ বা আর্থ কাজিন বলা হয় যা সাইনাস বা হংস মণ্ডলে অবস্থিত।
এই প্রশ্নটি থেকে বিসিএস বা ব্যাংক পরীক্ষায় বহির্গ্রহ বা গোল্ডিলক্স জোন সম্পর্কিত অন্য প্রশ্নও কমন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
১. কেন সঠিক:
- কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যমে রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করে ধারালো যন্ত্রপাতির মাইক্রোবায়াল লোড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
- এর ফলে যন্ত্রের কাটিং এজ বা ধার নষ্ট হয় না এবং জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: স্টেরিলাইজেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো বস্তু বা পৃষ্ঠ থেকে সমস্ত জীবন্ত অণুজীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাস সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: গ্লুটারালডিহাইড বা হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো শক্তিশালী রাসায়নিক দ্রবণে নির্দিষ্ট সময় ধরে ধারালো যন্ত্র ডুবিয়ে রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: সার্জিক্যাল ব্লেড, স্ক্যাল্পেল এবং ডেন্টাল যন্ত্রাংশ চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত মেটাল স্ক্যাল্পেল বা সার্জিক্যাল ব্লেড।
ব্যাখ্যা: এই যন্ত্রগুলো তাপ দিলে ধার নষ্ট হয়ে যায়, তাই কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন ব্যবহার করে এদের জীবাণুমুক্ত করা হয়।
উদাহরণ ২: ডেন্টিস্টদের ব্যবহার করা মেটাল প্রব এবং মিরর।
ব্যাখ্যা: সূক্ষ্ম ধারালো এই যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখতে রাসায়নিক তরল জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বয়লিং — পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার এই পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ধারালো যন্ত্রপাতির সূক্ষ্ম ধার নষ্ট হয়ে যায় এবং মরচে পড়ে।
B) বেনজিন ওয়াশ — বেনজিন একটি জৈব দ্রাবক যা চর্বি জাতীয় ময়লা পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এটি কার্যকর জীবাণুনাশক বা স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যম নয়।
C) ফরমালিন ওয়াশ — ফরমালিনের ব্যবহার বর্তমানে এর বিষাক্ততা ও কার্সিনোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্তকরণে সীমিত করা হয়েছে।
D) কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন — এটি ধারালো যন্ত্রের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ধারালো জিনিসের ধার বাঁচাতে তাপ নয়, কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয়।
- স্টেরিলাইজেশন মানে শতভাগ জীবাণুনাশ, আর বয়লিং কেবল কিছু ব্যাকটেরিয়া মারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে তাপ প্রয়োগ করলে মেটালের স্ট্রাকচার নষ্ট হতে পারে।
- এই প্রশ্নটি মেডিকেল টেকনোলজি এবং নার্সিং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: D) COO-Na+
১. কেন সঠিক:
- সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ যার আয়নিক গ্রুপটি পানি আকর্ষণকারী হিসেবে কাজ করে।
- এই আয়নিক অংশটি পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে এবং ময়লা অপসারণের মূল কাজটি সম্পন্ন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সাবানের অণুতে দুটি অংশ থাকে যার একটি পানি আকর্ষী বা আয়নিক এবং অন্যটি তেল বা চর্বি আকর্ষী।
- কার্যপ্রণালি: আয়নিক অংশটি পানির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং অপর অংশটি ময়লার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাইকেল গঠন করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: কাপড় কাটার সময় সাবান পানির পৃষ্ঠটান কমিয়ে কাপড়ের গভীরে প্রবেশ করে ময়লা পরিষ্কার করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো একটি সাধারণ সাবান যার রাসায়নিক সংকেতে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি কাপড়ে ব্যবহার করা হয় এবং এর আয়নিক অংশ পানির সঙ্গে মিশে ফেনা তৈরি করে।
উদাহরণ ২: সোডিয়াম পালমিটেট অপর একটি সাবান যা উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণী চর্বি থেকে তৈরি করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে এবং শরীর পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) R_3NH+ — এটি একটি তৃতীয়ক অ্যামোনিয়াম আয়ন যা ক্যাটিনিক সার্ফ্যাক্ট্যান্ট বা ডিটারজেন্টের অংশ হিসেবে কাজ করে।
B) SO3-Na+ — এটি সাধারণত সিন্থেটিক ডিটারজেন্ট বা সাবান সদৃশ যৌগের আয়নিক গ্রুপ যা শক্ত পানিতেও ফেনা দেয়।
C) R_2NH_2+ — এটি একটি দ্বিতীয়ক অ্যামাইন সল্ট যা ক্যাটিনিক যৌগের অন্তর্ভুক্ত এবং ভিন্ন রাসায়নিক গঠন নির্দেশ করে।
D) COO-Na+ — এটি সাবানের জলগ্রাহী বা আয়নিক প্রান্ত যা সঠিক রাসায়নিক গঠন হিসেবে সাবানে উপস্থিত থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সাবানের নামের শেষে সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ থাকে এবং এর কার্যকরী মূলক হলো কার্বক্সিলেট বা কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ।
- সাবান মানেই কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ অর্থাৎ COO-Na+ গ্রুপ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাবান তৈরিকৃত প্রক্রিয়ার নাম সাবানিফিকেশন বা সাবানায়ন যেখানে চর্বি বা তেলের সঙ্গে কস্টিক সোডা যোগ করা হয়।
- এখান থেকে ডিটারজেন্ট এবং সাবানের পার্থক্যের ওপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
১. কেন সঠিক:
- এই জোড়াটি বেমানান কারণ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারের সঙ্গে রবার্ট হুক যুক্ত নন, বরং এর সঙ্গে যুক্ত আছেন অ্যান্টন ফন লিউভেনহুক।
- রবার্ট হুক মূলত ১৬৬৫ সালে কর্কের ছাল পর্যবেক্ষণ করে প্রথম কোষ আবিষ্কার করেছিলেন, যা অণুজীববিজ্ঞান বা ব্যাকতত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ১৬৭৪ সালে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টন ফন লিউভেনহুক তার নিজের তৈরি অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম জীবিত কোষ বা ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
- আবিষ্কার: তিনি বৃষ্টির পানি ও দাঁতের ময়লা পরীক্ষা করে এই ক্ষুদ্র অণুজীব দেখতে পান এবং এদের নাম দেন অ্যানিমেলকিউল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দই তৈরিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তর করে দই জমাট বাঁধায়।
উদাহরণ ২: মানুষের অন্ত্রে ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া বাস করে।
ব্যাখ্যা: এই ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কচ — এই জোড়াটি সঠিক কারণ রবার্ট কচ ১৮৮২ সালে যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কার করেন।
B) হোমিওপ্যাথি : হ্যানিম্যান — এই জোড়াটি সঠিক কারণ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান আঠারো শতকের শেষের দিকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
C) ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক — এই জোড়াটি ভুল কারণ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন লিউভেনহুক, আর রবার্ট হুক আবিষ্কার করেছেন কোষ।
D) এনাটমি : ভেসলিয়াস — এই জোড়াটি সঠিক কারণ আন্দ্রেয়াস ভেসলিয়াসকে আধুনিক মানব এনাটমির জনক বলা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হুক দেখেছেন মৃত কোষ কর্কের ভেতর, আর লিউভেনহুক দেখেছেন জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া পানির ভেতর।
- ব্যাকতত্ত্বের জনক লিউভেনহুক, আর কোষ তত্ত্বের জনক রবার্ট হুক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রবার্ট কচ জীবাণু তত্ত্বের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং তিনি অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুও আবিষ্কার করেন।
- এ ধরনের প্রশ্নে আবিষ্কারক এবং তাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) প্রোটিন
১. কেন সঠিক:
- এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোনের মূল রাসায়নিক গঠন প্রোটিন বা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার দ্বারা গঠিত।
- মানবদেহের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ এবং হরমোনীয় সমন্বয় রক্ষায় এই প্রোটিনভিত্তিক উপাদানগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের দীর্ঘ শৃঙ্খল যা পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে এবং জীবদেহের গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- কার্যপ্রণালি: অ্যামিনো অ্যাসিডের নির্দিষ্ট বিন্যাস এনজাইমের অনুঘটক ক্ষমতা, অ্যান্টিবডির antigen বাইন্ডিং সাইট এবং হরমোনের রিসেপ্টর নির্দিষ্টতা নির্ধারণ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য হজম করতে এনজাইম এবং রক্তে রোগজীবাণু ধ্বংস করতে অ্যান্টিবডি প্রোটিনের বিশেষ গঠন ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লালারসের অ্যামাইলেজ এনজাইম।
ব্যাখ্যা: এটি এক ধরনের প্রোটিন যা মুখের ভেতর শর্করা জাতীয় খাদ্য ভেঙে সরল চিনিতে পরিণত করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: ইনসুলিন হরমোন।
ব্যাখ্যা: এটি ৫১টি অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত একটি প্রোটিন হরমোন যা রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রোটিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এনজাইম, অ্যান্টিবডি ও হরমোন প্রোটিন বা পেপটাইড দিয়ে তৈরি।
B) ক্যালসিয়াম — এটি একটি খনিজ উপাদান যা মূলত হাড় ও দাঁতের গঠন এবং স্নায়ু সঞ্চালনে কাজ করে, প্রোটিন নয়।
C) ভিটামিন — এটি জৈব অনুঘটক বা কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে কিন্তু প্রোটিন বা হরমোনের মৌলিক উপাদান নয়।
D) লবণ — এটি খনিজ লবণ যা শরীরের পানির সমতা রক্ষা করে, প্রোটিন বা হরমোনের মূল একক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পিইএইচ বা PEH সূত্র মনে রাখতে পারো যেখানে P হলো প্রোটিন, E হলো এনজাইম এবং H হলো হরমোন ও অ্যান্টিবডির উৎস।
- মানবদেহের কার্যকরী অণুগুলোর মূল ভিত্তি প্রোটিন এই কথাটি মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে কোন হরমোন প্রোটিন জাতীয়, যার উত্তর ইনসুলিন।
- এনজাইমের প্রোটিন অংশকে অ্যাপোএনজাইম বলা হয় যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সঠিক উত্তর: A) ২৩° ৩০’ দক্ষিণ অক্ষাংশ
১. কেন সঠিক:
- মকরক্রান্তি রেখা হলো পৃথিবী পৃষ্ঠের দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত একটি কল্পিত রেখা।
- এটি বিষুবরেখা থেকে তেইশ ডিগ্রি ত্রিশ মিনিট দক্ষিণে অবস্থিত এবং সূর্য এখানে সরাসরি লম্বভাবে কিরণ দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মকরক্রান্তি রেখা হলো সেই নির্দিষ্ট অক্ষাংশ যেখানে বছরের নির্দিষ্ট দিনে সূর্য মধ্যগগনে মাথার উপরে অবস্থান করে।
- কারণ ও ফলাফল: পৃথিবীর অক্ষের হেলে থাকার কারণে সূর্যরশ্মির আপতন কোণ পরিবর্তিত হয় এবং এই রেখায় উত্তর গোলার্ধের শীতকালে গ্রীষ্মকাল অনুভূত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: এই রেখাটি আবহাওয়া মন্ডল নির্ধারণ এবং পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডিসেম্বর মাসে সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
ব্যাখ্যা: এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
উদাহরণ ২: অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের কিছু অংশ মকরক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত।
ব্যাখ্যা: এর ফলে ওই অঞ্চলগুলোতে গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত উষ্ণতা অনুভূত হয় এবং জলবায়ু উষ্ণ প্রকৃতির হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৩° ৩০’ দক্ষিণ অক্ষাংশ — এটি মকরক্রান্তি রেখার সঠিক পরিমাপ ও অবস্থান নির্দেশ করে।
B) ২৩° ৩০’ উত্তরের অক্ষাংশ — এটি কর্কটক্রান্তি রেখা নির্দেশ করে, যা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
C) ২৩° ৩০’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ — দ্রাঘিমা রেখা পূর্ব বা পশ্চিমে সময়ের ব্যবধান বোঝায়, কোনোক্রান্তি রেখা নয়।
D) ২৩° ৩০’ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ — এটি দ্রাঘিমাংশ নির্দেশ করে যা জলবায়ু অঞ্চল বা ক্রান্তি রেখার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- কর্কট মানে উত্তর এবং মকর মানে দক্ষিণ, এই শব্দ দুটি মনে রাখলে অক্ষাংশের দিক মনে রাখা সহজ হয়।
- তেইশ ডিগ্রি ত্রিশ মিনিট সংখ্যাটি কর্কটক্রান্তি এবং মকরক্রান্তি উভয় রেখার জন্যই এক, শুধু উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দিক পরিবর্তন হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিষুবরেখার মান শূন্য ডিগ্রি এবং এটি পৃথিবীকে দুটি সমান অংশে ভাগ করে।
- একই ধারণা থেকে কর্কটক্রান্তি রেখা অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধের তেইশ ডিগ্রি ত্রিশ মিনিট অক্ষাংশ সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
**বিশেষ দ্রষ্টব্য:** প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে C) ০° সেন্টিগ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। পরম শূন্য তাপমাত্রার সঠিক মান হলো মাইনাস ২৭৩ দশমিক ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা শূন্য কেলভিন। তাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সঠিক নিয়মানুসারে সঠিক উত্তরটি সংশোধন করা হলো।
সঠিক উত্তর: D) ০° কেলভিন (এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সঠিক মান হলো -২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড)
১. কেন সঠিক:
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো সেই তাত্ত্বিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যেখানে পদার্থের কণাগুলোর গতিশক্তি সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে যায়।
- তাপগতিবিদ্যার তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী এই তাপমাত্রায় পৌঁছানো অসম্ভব, কারণ এর নিচে তাপমাত্রা নামানো সম্ভব নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: তাপগতিবিদ্যার সূত্র অনুসারে গ্যাসের আয়তন শূন্যে পৌঁছানোর তাত্ত্বিক তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে।
- সূত্র বা তত্ত্ব: চালসের সূত্র অনুযায়ী তাপমাত্রা কমালে গ্যাসের আয়তন কমে এবং প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাসের জন্য আয়তন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের ১ ভাগ ২৭৩ অংশ কমে যায়।
- কার্যপ্রণালি: তাপমাত্রা কমাতে কমাতে যখন মাইনাস ২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তখন তাত্ত্বিকভাবে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়ে যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাকাশের গভীর অঞ্চল
ব্যাখ্যা: মহাকাশের কিছু গভীর ও অন্ধকার অঞ্চলে তাপমাত্রা পরম শূন্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যেখানে অণুগুলোর গতি অত্যন্ত শ্লথ হয়।
উদাহরণ ২: অতিনান্দবিক বা সুপারকন্ডাক্টিভিটি পরীক্ষা
ব্যাখ্যা: গবেষণাগারে পরম শূন্য তাপমাত্রার খুব কাছাকাছি গিয়ে কিছু ধাতুর রোধ সম্পূর্ণ শূন্য করা হয়, যা সুপারকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৭৩° সেন্টিগ্রেড — এটি পরম শূন্য তাপমাত্রা নয়, বরং এটি বরফ গলানোর স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক অনেক বেশি উষ্ণ একটি মান।
B) -২৭৩° ফারেনহাইট — এটি পরম শূন্য তাপমাত্রার কাছাকাছি একটি মান হলেও ফারেনহাইট স্কেলের সঠিক পরম শূন্য মান হলো প্রায় -৪৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
C) ০° সেন্টিগ্রেড — এটি পানি জমার বা বরফ গলানোর তাপমাত্রা, যা পরম শূন্য তাপমাত্রা নয়।
D) ০° কেলভিন — এটি পরম শূন্য তাপমাত্রার নিখুঁত ও সঠিক মাপকাঠি, যা কেলভিন স্কেলের সর্বনিম্ন বিন্দু।
৫ মনে রাখার টিপস:
কেলভিন স্কেলের শুরুই হয় শূন্য থেকে এবং একে কোনো ডিগ্রি চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয় না। সেন্টিগ্রেড স্কেলে এই মানটি মনে রাখার জন্য মাইনাস ২৭৩ সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
তাপমাত্রা পরিমাপের বিভিন্ন স্কেলের মধ্যে রূপান্তর করার সূত্র এবং পরম শূন্য তাপমাত্রার সংজ্ঞা প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসে। কেলভিন ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) শূন্য
১. কেন সঠিক:
- আদর্শ ভোল্টেজ উতসের অভ্যন্তরীণ রোধ তাত্ত্বিকভাবে শূন্য ধরা হয়।
- এর ফলে উতসের টার্মিনালে ভোল্টেজ পতন ঘটে না এবং এটি বহিস্থ সার্কিটে সম্পূর্ণ ভোল্টেজ সরবরাহ করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ভোল্টেজ উৎস হলো এমন একটি যন্ত্র যা সার্কিটে বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য বজায় রাখে এবং তড়িৎ প্রবাহিত করে।
- কার্যপ্রণালি: বাস্তব উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ থাকলেও আদর্শ উৎসে কোনো অভ্যন্তরীণ রোধ থাকে না, তাই এর প্রান্তীয় বিভব সবসময় স্থির থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গ্যালভানিক কোষ বা আদর্শ ব্যাটারি।
ব্যাখ্যা: আদর্শ ব্যাটারির ভেতর দিয়ে চার্জ প্রবাহের সময় কোনো শক্তি অপচয় হয় না।
উদাহরণ ২: পরীক্ষাগারের আদর্শ ডিসি পাওয়ার সাপ্লাই।
ব্যাখ্যা: এর থেকে লোড রেজিস্টেন্সে সরবরাহকৃত ভোল্টেজের মান লোডের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অসীম — এটি আদর্শ কারেন্ট উতসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ভোল্টেজ উতসের জন্য নয়।
B) শূন্য — এটি আদর্শ ভোল্টেজ উতসের সঠিক এবং সংজ্ঞায়িত অভ্যন্তরীণ রোধ।
C) অতি ক্ষুদ্র — এটি বাস্তব ভোল্টেজ উতসের অভ্যন্তরীণ রোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আদর্শ উৎসের ক্ষেত্রে নয়।
D) অনেক বড় — এটি আদর্শ ভোল্টেজ উতসের বিপরীত অবস্থা এবং পরিমাপের ত্রুটিপূর্ণ ধারণা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভোল্টেজ উতসের ক্ষেত্রে মনে রাখবে আদর্শ মানেই নিখুঁত, তাই এর বাধা বা অভ্যন্তরীণ রোধ নেই অর্থাৎ শূন্য।
- কারেন্ট উতসের ক্ষেত্রে এর বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আদর্শ ভোল্টেজ ও আদর্শ কারেন্ট উতসের অভ্যন্তরীণ রোধের মান জানতে চাওয়া হয়।
- আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য এবং আদর্শ কারেন্ট উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম, এই দুটি তথ্য ভালোভাবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর:
A) Java
১. কেন সঠিক:
- জাভা একটি অবজেক্ট ওিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা, ডেটাবেজ কুয়েরি ভাষা নয়।
- এটি মূলত সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: Structured Query Language বা এসকিউএল হলো ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তথ্য সংরক্ষণ, আপডেট ও পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রমিত ভাষা।
- কার্যপদ্ধতি: ডেটাবেজ সার্ভারের কাছে এসকিউএল কমান্ডের মাধ্যমে অনুরোধ পাঠানো হয় এবং ডেটাবেজ সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফলাফল প্রদর্শন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এসকিউএল কুয়েরি
ব্যাখ্যা: SELECT নাম FROM ছাত্রছাত্রী কমান্ডের মাধ্যমে ডেটাবেজ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
উদাহরণ ২: জাভা প্রোগ্রাম
ব্যাখ্যা: System.out.println কমান্ড ব্যবহার করে জাভায় মনিটরে আউটপুট প্রদর্শন করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Java — এটি একটি উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা, কোনো ডেটাবেজ কুয়েরি ভাষা নয়।
B) MySQL — এটি একটি জনপ্রিয় রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা এসকিউএল সমর্থন করে।
C) Oracle — এটি একটি শক্তিশালী এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা এসকিউএল ব্যবহার করে।
D) উপরের সবগুলো — যেহেতু জাভা এসকিউএল নয়, তাই এই অপশন সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- এসকিউএল শেষ হয় ভাষা বোঝাতে, যেমন মাইএসকিউএল ও ওরাকল ডেটাবেজ সফটওয়্যার।
- জাভা হলো কোডিং বা সফটওয়্যার তৈরির ভাষা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এসকিউএল হলো ডেটাবেজ ল্যাঙ্গুয়েজ, আর জাভা হলো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ডেটাবেজ ও প্রোগ্রামিং ভাষার পার্থক্য থেকে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর:
C) DNS Server
১. কেন সঠিক:
- DNS Server-এর পূর্ণরূপ Domain Name System Server। এটি ইন্টারনেটের ফোনবুকের মতো কাজ করে।
- মানুষের পক্ষে দীর্ঘ সংখ্যাভিত্তিক IP Address মনে রাখা কঠিন হওয়ায় এই সিস্টেম নামকে আইপিসিতে অনুবাদ করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: DNS Server হলো এমন একটি সার্ভার যা ডোমেইন নামকে মেশিন-বোধগম্য আইপি ঠিকানায় রূপান্তরিত করে।
- কার্যপদ্ধতি: ব্যবহারকারী ব্রাউজারে নাম লিখলে ডিএনএস সার্ভার ডেটাবেজ খুঁজে সঠিক আইপি অ্যাড্রেস ব্রাউজারে ফেরত পাঠায়।
- ব্যবহার: ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল আদান-প্রদান এবং যেকোনো অনলাইন সেবা গ্রহণে এর ব্যবহার অপরিহার্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: google.com লেখা
ব্যাখ্যা: ব্রাউজারে google.com লিখলে ডিএনএস সার্ভার একে নির্দিষ্ট আইপি ঠিকানায় রূপান্তর করে ওয়েবসাইটটি আমাদের সামনে হাজির করে।
উদাহরণ ২: মানুষের নাম ও মোবাইল নম্বর
ব্যাখ্যা: মোবাইল ফোনে আমরা নামের তালিকা সংরক্ষণ করি, ঠিক তেমনি ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নামকে আইপিসিতে রূপান্তর করতে ডিএনএস কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FTP Server — এটি ফাইল আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়, নাম অনুবাদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
B) Firewal — এটি একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে, এটি অনুবাদক নয়।
C) DNS Server — এটি সঠিক উত্তর।
D) Gateway — এটি দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করতে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- Domain Name System মনে রাখুন। ডিএনএস হলো অনুবাদের কাজ করে, নাম থেকে আইপিসিতে রূপান্তরই এর মূল কাজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আইপি ঠিকানার সংস্করণ দুটি যথা IPv4 এবং IPv6। ডিএনএস সার্ভার উভয় ধরনের ঠিকানাতেই নাম অনুবাদ করতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) CaaS
১. কেন সঠিক:
- ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেমে সাধারণত আইকাস,পাস এবং স্যাস সেবা মডেল ব্যবহৃত হয়।
- সিএএস বা কন্টেইনার অ্যাজ এ সার্ভিস মূলত ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের একটি বর্ধিত সেবা এবং এটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাউড মডেলের অংশ নয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্ভার, স্টোরেজ ও ডেটাবেজের মতো কম্পিউটিং সেবা প্রদান করার আধুনিক প্রযুক্তি।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ব্যবহারকারীকে নিজস্ব ফিজিক্যাল হার্ডওয়্যার ছাড়াই ইন্টারনেটের মাধ্যমে রিমোট সার্ভার থেকে যেকোনো সেবা গ্রহণের সুবিধা দেয়।
- বৈশিষ্ট্য: এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অন-ডিমান্ড সেলফ সার্ভিস, রিসোর্স পুলিং এবং পরিমাপযোগ্যতা।
- ব্যবহার: বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের ডেটা সংরক্ষণ, সফটওয়্যার হোস্টিং এবং ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য এটি ব্যবহার করে।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: মাইক্রোসফট আজুর।
- ব্যাখ্যা: এটি একটি জনপ্রিয় ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহারকারীদের ডেটা স্টোরেজ এবং ভার্চুয়াল মেশিন ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
- উদাহরণ ২: গুগল ড্রাইভ।
- ব্যাখ্যা: এটি ক্লাউড স্টোরেজের একটি বাস্তব উদাহরণ যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে ফাইল সংরক্ষণ ও এক্সেস করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CaaS — এটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মূল তিনটি সেবামডেলের মধ্যে পড়ে না তাই এটি সঠিক উত্তর।
B) IaaS — এটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ এ সার্ভিস যা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অন্যতম প্রধান ও প্রচলিত একটি ভিত্তিগত সেবা মডেল।
C) PaaS — এটি প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ এ সার্ভিস যা ডেভেলপারদের জন্য কোডিং ও সফটওয়্যার তৈরির পরিবেশ প্রদান করে থাকে।
D) SaaS — এটি সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিস যা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্রাউজারের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মূল তিনটি মডেল মনে রাখার সহজ শব্দ হলো এসআইপি বা এস, আই, পি অর্থাৎ স্যাস, আইয়াস ও পাস।
- সিএএস হলো পরবর্তী প্রজন্মের কন্টেইনার প্রযুক্তি যা মূল ক্লাউড মডেলের আওতাভুক্ত নয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মৌলিক সেবামডেল প্রধানত তিনটি যথা আইয়াস, পাস এবং স্যাস।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ক্লাউড মডেলের নামগুলো থেকে কোনটি ব্যতিক্রম তা জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর:
B) AWS
১. কেন সঠিক:
- উত্তরটি সঠিক হওয়ার মূল কারণ হলো AWS হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহৎ ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম।
- এটি অ্যামাজন ডট কম কর্তৃক পরিচালিত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন-ডিমান্ড ক্লাউড কম্পিউটিং ও এপিআই সেবা প্রদান করে থাকে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: AWS-এর পূর্ণরূপ হলো Amazon Web Services। এটি একটি নিরাপদ ক্লাউড সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম যা কম্পিউটিং পাওয়ার, স্টোরেজ ও ডেটাবেজ সেবা প্রদান করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব ফিজিক্যাল সার্ভার ছাড়াই যেকোনো সফটওয়্যার বা ডেটা সংরক্ষণ ও পরিচালনা করার সুবিধা দেয়।
- ব্যবহার: আধুনিক যুগের বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট এবং এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার হোস্টিংয়ের জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নেটফ্লিক্স
ব্যাখ্যা: নেটফ্লিক্স তাদের বিশাল ভিডিও লাইব্রেরি এবং স্ট্রিমিং সেবা পরিচালনার জন্য অ্যামাজনের এই ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।
উদাহরণ ২: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা: অনেক ব্যাংক তাদের বিশাল পরিমাণ গ্রাহকের লেনদেনের ডেটা নিরাপদ ও নমনীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে এই ক্লাউড সেবা গ্রহণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Azure — এটি অ্যামাজনের নয়, বরং মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম।
B) AWS — এটি সঠিক উত্তর এবং অ্যামাজনের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের নাম।
C) Cloudera — এটি মূলত বিগ ডেটা এবং অ্যাপাচি হাডুপ ভিত্তিক ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ও ডেটা ক্লাউড কোম্পানি, অ্যামাজনের নয়।
D) উপরের সবগুলো — যেহেতু বাকি অপশনগুলো অ্যামাজনের প্ল্যাটফর্ম নয়, তাই এই অপটি সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অ্যামাজন মানেই AWS, অর্থাৎ Amazon Web Services।
- মাইক্রোসফট মানে Azure এবং গুগলের ক্ষেত্রে তা Google Cloud Platform বা GCP।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রধানত তিনটি মডেলে বিভক্ত, যথা: IaaS, PaaS এবং SaaS।
- ক্লাউড সেবার ক্ষেত্রে পে-অ্যাজ-ইউ-গো (Pay-as-you-go) নীতি অনুসরণ করা হয়, অর্থাৎ যতটুকু ব্যবহার করবে ঠিক ততটুকুই মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
সঠিক উত্তর:
C) Ransomware
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নে এমন একটি সাইবার আক্রমণের কথা বলা হয়েছে যা ব্যবহারকারীর কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয় এবং তা ঠিক করার জন্য অর্থ বা মুক্তিপণ দাবি করে।
- এই ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর সব ফাইল বা সিস্টেম এনক্রিপ্ট করে লক করে দেয় এবং অর্থ প্রদান না করা পর্যন্ত তা উন্মুক্ত করে না।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: Ransomware হলো এক ধরনের ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর ডেটা বা সিস্টেম লক করে দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো শক্তিশালী এনক্রিপশন অ্যালগরিদম দিয়ে আটকে দেয় এবং স্ক্রিনে একটি বার্তা প্রদর্শন করে।
- ব্যবহার: সাইবার অপরাধীরা সাধারণত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা জিম্মি করতে এটি ব্যবহার করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডব্লিউক্রাই (WannaCry) আক্রমণ
ব্যাখ্যা: এটি একটি বিখ্যাত বিশ্বব্যাপী র্যানসমওয়্যার আক্রমণ যা ২০১৭ সালে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে আক্রান্ত করে এবং ফাইল ফেরত দেওয়ার জন্য বিটকয়েনে মুক্তিপণ দাবি করে।
উদাহরণ ২: ইমেইল অ্যাটাচমেন্টের মাধ্যমে র্যানসমওয়্যার ছড়ানো
ব্যাখ্যা: অপরিচিত কোনো মেইলের ক্ষতিকর ফাইল ডাউনলোড করলে এই ম্যালওয়্যার পিসিতে ঢুকে সমস্ত কাজের ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Phishing — ফিশিং হলো প্রতারণামূলক উপায়ে ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি করার পদ্ধতি।
B) Denial of Service — ডিনায়াল অব সার্ভিস হলো এমন একটি আক্রমণ যা সার্ভারে অতিরিক্ত ট্রাফিক পাঠিয়ে ওয়েবসাইট বা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
D) Man-in-the-Middle — ম্যান ইন দ্য মিডল হলো এমন এক ধরনের আক্রমণ যেখানে হ্যাকার গোপনে যোগাযোগের দুটি পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান করা তথ্য শুনে বা পরিবর্তন করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- র্যানসম (Ransom) শব্দের অর্থ মুক্তিপণ। তাই যে ম্যালওয়্যার মুক্তিপণ চায় তাকে র্যানসমওয়্যার বলে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- র্যানসমওয়্যার থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রাখা।
সঠিক উত্তর:
A) Small Computer System Interface
১. কেন সঠিক:
SCSI এর পূর্ণরূপ হলো Small Computer System Interface। এটি একটি বিশেষ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড ইন্টারফেস বা পোর্ট, যা কম্পিউটার মাদারবোর্ডের সাথে বিভিন্ন পেরিফেরাল ডিভাইস যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
এই প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চ গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়, যা মূলত সার্ভার এবং হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটারে ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: SCSI হলো একটি প্যারালাল বাস স্ট্যান্ডার্ড যা কম্পিউটার এবং হার্ড ড্রাইভ বা অপটিক্যাল ড্রাইভের মতো পেরিফেরালের মধ্যে দ্রুত ডেটা যোগাযোগের পথ তৈরি করে।
কার্যপদ্ধতি: এটি একটি একক কন্ট্রোলারের মাধ্যমে চেইনের মতো একাধিক ডিভাইসকে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে এবং প্রতিটি ডিভাইসকে আলাদা আইডি প্রদান করে ডেটা পরিচালনা করে।
ব্যবহার: মূলত এন্টারপ্রাইজ লেভেলের সার্ভার, ওয়ার্কস্টেশন এবং হাই-এন্ড এক্সটার্নাল স্টোরেজ ডিভাইসে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এন্টারপ্রাইজ সার্ভারে ব্যবহৃত ফাস্ট হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ।
ব্যাখ্যা: সার্ভারের মতো সিস্টেমে অনেক ব্যবহারকারীর অনুরোধ একসাথে প্রসেস করতে হয়, যেখানে SCSI ড্রাইভ দ্রুত ডেটা সরবরাহ করতে পারে।
উদাহরণ ২: স্ক্যানার বা টেপ ড্রাইভ।
ব্যাখ্যা: অতীতে বড় ডেটা ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য টেপ ড্রাইভগুলোতে SCSI ইন্টারফেস ব্যবহার করা হতো কারণ এর ডেটা ট্রান্সফার রেট ছিল অনেক বেশি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Small Computer System Interface — এটি সঠিক উত্তর কারণ SCSI এর পূর্ণরূপে System শব্দটি ব্যবহৃত হয়, কোনো সফটওয়্যার বা স্টোরেজ নয়।
B) Small Computer Software Interface — এটি ভুল কারণ SCSI কোনো সফটওয়্যার ইন্টারফেস নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি হার্ডওয়্যার ইন্টারফেস স্ট্যান্ডার্ড।
C) Small Computer Storage Interface — এটি ভুল কারণ এর শেষ শব্দ Storage নয়, বরং সামগ্রিক সিস্টেম সংযোগের জন্য System শব্দটি নির্ধারিত।
D) Small Computer Standard Interface — এটি ভুল কারণ স্ট্যান্ডার্ড শব্দটি এর নামের অংশ হলেও পূর্ণরূপে Standard এর পরিবর্তে System ব্যবহার করা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
SCSI মনে রাখার সহজ কৌশল হলো এর ভেতরের প্রতিটি অক্ষরের পূর্ণরূপ মনে রাখা, যেখানে System শব্দটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একটি সিস্টেম লেভেল ইন্টারফেস।
এটি সাধারণ হোম কম্পিউটারের IDE বা SATA এর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং পেশাদার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ইন্টারফেসের পূর্ণরূপ জানতে চাওয়া হয়, তাই SCSI এর সঠিক পূর্ণরূপ আয়ত্ত করা জরুরি।
এর আধুনিক এবং উন্নত সংস্করণ হলো SAS, যার পূর্ণরূপ Serial Attached SCSI এবং এটি বর্তমান যুগে বেশি ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: C) Touch Screen
১. কেন সঠিক:
টচ স্ক্রিন এমন একটি অনন্য প্রযুক্তি যা একই সঙ্গে ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্ক্রিনে স্পর্শ করে নির্দেশ প্রদান করে এবং একই স্ক্রিনে ভিজ্যুয়াল ফলাফল দেখতে পায়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: টচ স্ক্রিন হলো এমন একটি ডিসপ্লে প্যানেল যা স্পর্শ সংবেদনশীল এবং ব্যবহারকারীর আঙুল বা স্টাইলাসের স্পর্শ শনাক্ত করতে পারে।
কার্যপদ্ধতি: স্ক্রিনের উপরিভাগে স্বচ্ছ সেন্সর লেয়ার থাকে যা স্পর্শের অবস্থান পরিবর্তন বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে প্রসেসরে পাঠায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের ডিসপ্লে।
ব্যাখ্যা: আমরা আঙুল দিয়ে টাচ করে কমান্ড ইনপুট দিই এবং ডিসপ্লেতেই কল লিস্ট বা অ্যাপের আউটপুট দেখতে পাই।
উদাহরণ ২: ব্যাংকের এটিএম বুথ।
ব্যাখ্যা: বুথের স্ক্রিনে স্পর্শ করে টাকার পরিমাণ ইনপুট দেওয়া হয় এবং স্ক্রিনেই পরবর্তী নির্দেশনা প্রদর্শিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Scanner — স্ক্যানার একটি শুধু ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজের ছবি বা ডকুমেন্ট কম্পিউটারে ইনপুট করে কিন্তু কোনো আউটপুট দেখায় না।
B) Mouse — মাউস একটি খাঁটি ইনপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে কার্সার নড়াচড়া ও ক্লিক করে কমান্ড দেওয়া হয় কিন্তু এর নিজস্ব কোনো ডিসপ্লে বা আউটপুট নেই।
D) Projector — প্রজেক্টর একটি কেবল আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটার বা অন্য উৎস থেকে ডেটা নিয়ে বড় পর্দায় প্রদর্শন করে কিন্তু ইনপুট নেয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
যে ডিভাইস দেখে বা শুনে তথ্য পাওয়া যায় তা আউটপুট, আর যে ডিভাইস দিয়ে নির্দেশ পাঠানো হয় তা ইনপুট। কিন্তু যা একই সাথে দেখে বা ছুঁয়ে কাজ চালায়, তা হলো ইনপুট ও আউটপুট উভয়ই।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটারের পেরিফেরাল ডিভাইসের মধ্যে টাচ স্ক্রিন, মডেম এবং হেডফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইনপুট ও আউটপুট উভয় ডিভাইসের উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: C) ৬৭
প্রদত্ত তথ্য:
ডেসিমেল সংখ্যাটি হলো ৫৫
ধরি,
অক্টাল সংখ্যাটির একক স্থানীয় অঙ্ক ক এবং দশক স্থানীয় অঙ্ক খ
অতএব,
দশক স্থানীয় অঙ্ক খ এর স্থানীয় মান খ × ৮
এক একক স্থানীয় অঙ্ক ক এর স্থানীয় মান ক × ১
সুতরাং,
খ × ৮ + ক × ১ = ৫৫
উত্তর: অক্টাল সংখ্যাটি হবে ৬৭
সঠিক উত্তর:
C) Mozilla Firefox
১. কেন সঠিক:
- মজিলা ফায়ারফক্স একটি ওয়েব ব্রাউজার যা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সরাসরি অপারেটিং সিস্টেমের অংশ নয়, বরং সিস্টেম সফটওয়্যারের উপর রান করা একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার হলো এমন প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো কাজ যেমন ব্রাউজিং, টাইপিং বা হিসাব করার জন্য তৈরি করা হয়।
- কার্যপদ্ধতি: এটি অপারেটিং সিস্টেমের সহায়তায় মেমোরি ও প্রসেসর ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে ডেটা এনে পর্দায় প্রদর্শন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাইক্রোসফট ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা: এটি একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার যা ডকুমেন্ট তৈরি ও সম্পাদনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: গুগল ক্রোম
ব্যাখ্যা: এটি মজিলা ফায়ারফক্সের মতো আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার যা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Linux — এটি একটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যা সিস্টেম সফটওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত।
B) Android — এটি স্মার্টফোনের জন্য তৈরি একটি বিশ্বখ্যাত মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম।
C) Mozilla Firefox — এটি কোনো সিস্টেম সফটওয়্যার নয়, বরং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
D) Apple iOS — এটি অ্যাপল কোম্পানির মোবাইল ডিভাইসের জন্য তৈরি একটি শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অপারেটিং সিস্টেম যেমন লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস হলো সিস্টেম সফটওয়্যার।
- ইন্টারনেট ব্রাউজার, গেম এবং অফিস অ্যাপ হলো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর কাজ সহজ করে।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় সফটওয়্যার শ্রেণিবিভাগ যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর:
B) HTTPS
১. কেন সঠিক:
- HTTPS হলো এমন একটি প্রোটোকল যা ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভারের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানকে এনক্রিপ্ট করে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখে।
- এটি SSL বা TLS সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: HTTPS-এর পূর্ণরূপ HyperText Transfer Protocol Secure, এটি ইন্টারনেটে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল।
- কার্যপদ্ধতি: এটি পাবলিক কি ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের মধ্যকার ডেটাকে এমনভাবে এনকোড করে যা মাঝপথে চুরি করলেও পড়া যায় না।
- বৈশিষ্ট্য: এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ডেটার গোপনীয়তা রক্ষা করা, অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং সার্ভারের সত্যতা নিশ্চিত করা।
- ব্যবহার: অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স সাইট এবং লগইন পেজে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার জন্য এটি বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়।
- পার্থক্য: সাধারণ HTTP প্রোটোকল কোনো এনক্রিপশন ব্যবহার করে না, ফলে ওই ডেটা উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে সহজেই পড়া যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ই-কমার্স সাইটে কেনাকাটা
ব্যাখ্যা: অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার সময় ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে HTTPS ও তালা চিহ্ন দেখায়, যা নিশ্চিত করে আপনার পেমেন্ট ডেটা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
উদাহরণ ২: সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন
ব্যাখ্যা: ফেসবুক বা জিমেইলে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড টাইপ করার পর তা এনক্রিপ্টেড হয়ে সার্ভারে যায়, ফলে কেউ পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FTP - এটি ফাইল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত প্রোটোকল, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না বরং ফাইল আপলোড বা ডাউনলোডের কাজ করে।
B) HTTPS - এটি সঠিক উত্তর এবং এটি ইন্টারনেটে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে।
C) TCP - এটি ডেটা প্যাকেট সঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করে, তবে এটি ডেটা এনক্রিপ্ট বা সুরক্ষার কাজ করে না।
D) DNS - এটি ডোমেইন নামকে আইপি ঠিকানায় রূপান্তর করে, যা ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বা এনক্রিপশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- HTTP মানে হলো উন্মুক্ত বা অসংরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
- শেষের S অক্ষরটির অর্থ হলো Secure বা নিরাপদ, যা এনক্রিপশন নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে তালা চিহ্ন বা padlock দেখলে বুঝবেন সাইটটিতে HTTPS প্রোটোকল সক্রিয় আছে।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার জন্য কোন প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর:
C) Bluetooth Network
১. কেন সঠিক:
ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে যে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা PAN তৈরি করা হয়, তাকে পিকোনেট বলা হয়।
একটি মাস্টার ডিভাইসের সাথে সাতটি পর্যন্ত স্লভ ডিভাইস সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে এই পিকোনেট গঠন করে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য গঠিত ক্ষুদ্রতম তারহীন ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক হলো পিকোনেট।
কার্যপদ্ধতি: একটি মাস্টার ডিভাইস ঘড়ি পালস ও ফ্রিকোয়েন্সি হপিং সিকোয়েন্স নিয়ন্ত্রণ করে অন্য স্লভ ডিভাইসগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।
বৈশিষ্ট্য: এটি স্বল্প দূরত্বে রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।
ব্যবহার: মোবাইল ফোন থেকে ব্লুটুথ স্পিকার বা হেডফোনে গান শোনার সময় এই পিকোনেট প্রযুক্তি কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: স্মার্টফোনের সাথে ব্লুটুথ ইয়ারফোন যুক্ত করা।
ব্যাখ্যা: এখানে ফোনটি মাস্টার এবং ইয়ারফোনটি স্লভ হিসেবে পিকোনেট তৈরি করে শব্দ আদান-প্রদান করে।
উদাহরণ ২: ল্যাপটপের সাথে ব্লুটুথ মাউস ও কিবোর্ড সংযুক্ত করা।
ব্যাখ্যা: একই সময়ে একটি ল্যাপটপের সাথে একাধিক ডিভাইস যুক্ত হয়ে পিকোনেট নেটওয়ার্ক গঠন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Wifi Network — ওয়াইফাই হলো লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের একটি তারহীন রূপ, যার কভারেজ এরিয়া ব্লুটুথ বা পিকোনেটের চেয়ে অনেক বড়।
B) Wide Area Network — ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ওয়ান হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত বড় নেটওয়ার্ক, যা পিকোনেটের মতো ক্ষুদ্র পরিসরের জন্য নয়।
C) Bluetooth Network — এটি সঠিক উত্তর কারণ ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের অপর নামই পিকোনেট।
D) 5G Network — ফাইভেজি হলো পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তি, যা উচ্চ গতির সেলুলার নেটওয়ার্ক প্রদানে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ব্লুটুথ মানেই ক্ষুদ্র পরিসর আর ক্ষুদ্র পরিসরের নেটওয়ার্ক মানেই পিকোনেট।
মাস্টার ও স্লভ ডিভাইসের এই মেলবন্ধন শুধু ব্লুটুথ প্রযুক্তিতেই দেখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পিকোনেটে সর্বোচ্চ কতটি সক্রিয় ডিভাইস থাকতে পারে, এই প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
উত্তরটি হলো একটি মাস্টার এবং সাতটি স্লভসহ মোট আটটি সক্রিয় ডিভাইস।
সঠিক উত্তর:
D) SMTP
১. কেন সঠিক:
- SMTP-এর পূর্ণরূপ Simple Mail Transfer Protocol যা এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে ই-মেইল প্রেরণের প্রধান প্রোটোকল হিসেবে কাজ করে।
- ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কে মেল সার্ভারের মধ্যে ই-মেইল বার্তা আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে এই প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: SMTP হলো একটি ইন্টারনেট স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ই-মেইল মেসেজ এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পাঠাতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্যপদ্ধতি: সেন্ডার ক্লায়েন্ট প্রথমে এসএমটিপি সার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং প্রেরক, প্রাপক ও মেসেজের মূল অংশ সার্ভারে আপলোড করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জিমেইল থেকে ইয়াহুতে মেইল পাঠানো
ব্যাখ্যা: আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে যখন কোনো বন্ধুকে ইয়াহু ঠিকানায় ই-মেইল পাঠান, তখন প্রেরক সার্ভার থেকে প্রাপক সার্ভারে মেসেজটি স্থানান্তরিত করতে এসএমটিপি প্রোটোকল কাজ করে।
উদাহরণ ২: আউটলুক বা থান্ডারবার্ড ই-মেইল ক্লায়েন্ট কনফিগারেশন
ব্যাখ্যা: কম্পিউটারে মাইক্রোসফট আউটলুক সফটওয়্যার সেটআপ করার সময় ইনকামিং ও আউটগোয়িং সার্ভার ঠিক করতে হয়, যেখানে আউটগোয়িং মেইল সার্ভারের জন্য এসএমটিপি পোর্ট নির্দিষ্ট করা থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FTP — এটি ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল যা নেটওয়ার্কে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করার জন্য ব্যবহৃত হয়, ই-মেইল স্থানান্তরের জন্য নয়।
B) RPC — এটি রিমোট প্রসিডিউর কল যা একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে অন্য কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের সাবরুটিন রান করাতে ব্যবহৃত হয়।
C) SNMP — এটি সিম্পল নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল যা নেটওয়ার্কের ডিভাইসগুলো মনিটর ও ম্যানেজ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
D) SMTP — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি বিশেষভাবে ই-মেইল মেসেজ স্থানান্তর ও প্রেরণের জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- এম (M) দিয়ে মেল (Mail) এবং টি (T) দিয়ে ট্রান্সফার (Transfer) মনে রাখলেই এস-এম-টি-পি প্রোটোকলের মূল কাজ সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ই-মেইল পড়ার বা রিসিভ করার সময় পপ থ্রি (POP3) বা আইম্যাপ (IMAP) প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়, যা পাঠানো সংক্রান্ত এসএমটিপি প্রোটোকল থেকে আলাদা।
সঠিক উত্তর: B) Worms
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে যে ম্যালওয়্যারের কথা বলা হয়েছে, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজে নিজেই অন্য কম্পিউটারে কপি বা বিস্তার লাভ করে, তাকে কম্পিউটার ওয়ার্ম (Worm) বলে।
ওয়ার্ম হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা কোনো ইউজারের ফাইল বা প্রোগ্রামের সহায়তা ছাড়াই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজে নিজেই ছড়িয়ে পড়ে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ওয়ার্ম হলো একটি স্ট্যান্ডঅ্যালোন ম্যালওয়্যার যা নেটওয়ার্কের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজের কপি নিজে তৈরি করে পুরো নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে।
কার্যপদ্ধতি: এটি সাধারণত ইমেল, ত্রুটিপূর্ণ নেটওয়ার্ক প্রোটোকল অথবা নিরাপত্তা ফাটলের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাতায়াত করে।
ব্যবহার: সাইবার অপরাধীরা নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ কমাতে এবং সিস্টেমের ক্ষতি করতে ওয়ার্ম ব্যবহার করে থাকে।
পার্থক্য: ভাইরাসের কাজ করার জন্য কোনো হোস্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়, কিন্তু ওয়ার্ম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজে নিজেই চলতে ও ছড়াতে পারে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মরিস ওয়ার্ম (Morris Worm)
ব্যাখ্যা: এটি ইন্টারনেটের ইতিহাসে প্রথম পরিচিত কম্পিউটার ওয়ার্মগুলোর একটি, যা ১৯৮৮ সালে ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ অচল করে দিয়েছিল।
উদাহরণ ২: আই লাভ ইউ (ILOVEYOU) ওয়ার্ম
ব্যাখ্যা: এই ওয়ার্মটি ইমেলের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কম্পিউটারের ফাইল নষ্ট করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Program Virus — প্রদত্ত প্রশ্নটিতে প্রোগ্রাম ভাইরাসের কথা বলা হলেও, ভাইরাস নিজে নিজে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়াতে পারে না, এর জন্য হোস্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়।
C) Trojan Horse — ট্রোজান হর্স হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা নিজেকে উপকারী প্রোগ্রাম হিসেবে উপস্থাপন করে ডিভাইসে প্রবেশ করে কিন্তু নিজে নিজেই নেটওয়ার্কে ছড়ায় না।
D) Boot Virus — বুট ভাইরাস কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের বুট রেকর্ড বা মাস্টার বুট রেকর্ডকে আক্রমণ করে এবং এটি সাধারণত রিমুভেবল ড্রাইভ বা ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমে ছড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ওয়ার্ম বা কেঁচো যেমন মাটি খুঁড়ে নিজে নিজে সামনে এগোতে পারে, তেমনি কম্পিউটার ওয়ার্মও কোনো মানুষের সাহায্য বা হোস্ট ফাইল ছাড়া নিজে নিজেই নেটওয়ার্কে ছড়ায়।
ভাইরাস ছড়ানোর জন্য ইউজারকে ফাইল কপি বা শেয়ার করতে হয়, কিন্তু ওয়ার্ম একা একাই ভ্রমণ করতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ওয়ার্মের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য শক্তিশালী ফায়ারওয়াল এবং আপডেট করা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা অপরিহার্য।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ এবং এদের ছড়ানোর মাধ্যম সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) ITU
১. কেন সঠিক:
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন বা ITU হলো জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা যা বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ মান নির্ধারণ করে। মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে থ্রিজি, ফোরজি এবং ফাইভজি প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মান ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের কাজটি এই প্রতিষ্ঠানটিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞা: ITU হলো International Telecommunication Union, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে রেডিও যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ মান সমন্বয় করে।
কার্যপদ্ধতি: এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মান বা স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করে যাতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ডিভাইস একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে।
ব্যবহার: মোবাইল নেটওয়ার্কের ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রজন্মের সেলুলার প্রযুক্তির গতির মানদণ্ড নির্ধারণে এটি কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ফোরজি ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক গতি
ব্যাখ্যা: চলন্ত অবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে একশ মেগাবাইট এবং স্থির অবস্থায় এক গিগাবাইট গতি ফোরজি প্রযুক্তির জন্য নির্ধারণ করেছে ITU।
উদাহরণ ২: ফাইভজি স্ট্যান্ডার্ড তৈরিতে ভূমিকা
ব্যাখ্যা: ফোরজির মতো ফাইভজি প্রযুক্তির আইএমটি টুোয়েন্টিটুয়েন্টি স্ট্যান্ডার্ড তৈরিতেও এই সংস্থাটি মূল ভূমিকা পালন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ISO — এটি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, যা সাধারণ শিল্প ও প্রযুক্তিগত মান তৈরি করে তবে সেলুলার স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান নিয়ন্ত্রক নয়।
B) ITU — এটি সঠিক উত্তর কারণ মোবাইল যোগাযোগের আন্তর্জাতিক মান তৈরির মূল দায়িত্ব এই সংস্থার ওপর ন্যস্ত।
C) 3GPP — থ্রিজি পার্টনারশিপ প্রজেক্ট ফোরজির টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন তৈরি করে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মূল স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ITU প্রধান।
D) ETSI — এটি ইউরোপিয়ান টেলিকমিউনিকেশনস স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউট, যা মূলত ইউরোপীয় অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ মান নিয়ে কাজ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ বা মোবাইল স্ট্যান্ডার্ডের মূল নিয়ন্ত্রক হলো ITU।
টেলিযোগাযোগের আন্তর্জাতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে ITU নামটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ITU-এর পূর্ণরূপ হলো International Telecommunication Union এবং এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক ও স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তুতকারী সংস্থার সদর দপ্তর বা কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: প্রদত্ত উত্তরটি ভুল। সঠিক উত্তর হবে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (Microsoft Windows) বা অন্য কোনো ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যদি অপশনে থাকত। তবে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে গুগল ক্রোম (Google Chrome), জুম (Zoom) বা অ্যাডোব ফটোশপ (Adobe Photoshop) কোনোটিই ওপেন সোর্স সফটওয়্যার নয়। গুগল ক্রোম ব্রাউজারের মূল ভিত্তি হলো ক্রোমিয়াম (Chromium), যা ওপেন সোর্স হলেও ক্রোম নিজে প্রোপ্রিটারি বা ক্লোজড সোর্স সফটওয়্যার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় এই প্রশ্নটিতে ত্রুটি থাকে অথবা ক্রোমিয়ামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। নিচে সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্স ধারণার সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
১. কেন সঠিক:
- ওপেন সোর্স সফটওয়্যার (Open Source Software) হলো এমন সফটওয়্যার যার সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।
- ব্যবহারকারীরা এই কোড দেখতে, পরিবর্তন করতে এবং নিজেদের প্রয়োজনমতো পরিমার্জন করতে পারেন।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: যে সফটওয়্যারের সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকে এবং বিনামূল্যে পরিবর্তন ও বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয় তাকে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বলে।
- কার্যপদ্ধতি: ডেভেলপাররা এর সোর্স কোড ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন এবং বিশ্বজুড়ে প্রোগ্রামাররা সম্মিলিতভাবে এর উন্নয়ন ও ত্রুটি সংশোধন করেন।
- ব্যবহার: লিনাক্স (Linux) অপারেটিং সিস্টেম, পাইথন (Python) প্রোগ্রামিং ভাষা এবং ভিসিএল (VLC) মিডিয়া প্লেয়ার এর প্রধান উদাহরণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম (Linux Operating System)
ব্যাখ্যা: এটি একটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যার কোড পরিবর্তন করে ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপযোগী করে নিতে পারেন।
উদাহরণ ২: ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার (VLC Media Player)
ব্যাখ্যা: এটি একটি ওপেন সোর্স মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার যা বিভিন্ন ফরম্যাটের অডিও ও ভিডিও ফাইল চালাতে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Google Chrome - এটি গুগল কোম্পানির একটি ক্লোজড সোর্স বা প্রোপ্রিটারি ব্রাউজার, যদিও এর ভিত্তি ক্রোমিয়াম ওপেন সোর্স।
B) Microsoft Windows - এটি মাইক্রোসফটের একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক এবং প্রোপ্রিটারি অপারেটিং সিস্টেম যার সোর্স কোড সুরক্ষিত থাকে।
C) Zoom - এটি একটি প্রোপ্রিটারি ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার যার অভ্যন্তরীণ কোড ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।
D) Adobe Photoshop - এটি অ্যাডোব কোম্পানির একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং বাণিজ্যিক গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ওপেন সোর্স মানেই কোড সবার জন্য খোলা এবং ফ্রি।
- বাণিজ্যিক বা প্রোপ্রিটারি সফটওয়্যারের সোর্স কোড কোম্পানির নিজস্ব সম্পত্তি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- লিনাক্স ও অ্যান্ড্রয়েড (Android) হলো বহুল ব্যবহৃত ওপেন সোর্স প্রযুক্তি।
- মাইক্রোসফট অফিস (Microsoft Office) এবং উইন্ডোজ হলো প্রোপ্রিটারি সফটওয়্যারের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: D) মূল্যবোধ
১. কেন সঠিক:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের ভেতরের সেই মানদণ্ড যা ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোঝাতে সাহায্য করে।
- এটি সমাজে স্বীকৃত এমন কিছু বিশ্বাস ও ধারণা যা মানুষের আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচার-আচরণ ও কাজের ভালো-মন্দ নির্ধারণ করার নৈতিক মাপকাঠি।
- গুরুত্ব: এটি মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দোকানদার ভুল করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিলে তা বুঝেও ফেরত দেওয়া।
ব্যাখ্যা: এখানে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে যা মানুষের সঠিক ও ভুলের বোধ থেকে আসে।
উদাহরণ ২: পরীক্ষার হলে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতেও অসদুপায় অবলম্বন না করা।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রকাশ যা নিজের বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সততা — সততা হলো মানুষের একটি মহৎ গুণ বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা শুধু ভালো-মন্দের মাপকাঠি নির্ধারণ করে না বরং কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
B) সদাচার — সদাচার হলো মানুষের ভালো আচরণ বা ভদ্রতা, যা মূল্যবোধের একটি অংশ মাত্র কিন্তু সামগ্রিক বিচারবুদ্ধি নয়।
C) কর্তব্যবোধ — কর্তব্যবোধ মানুষকে তার নিজ দায়িত্ব পালন করতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে এটি সরাসরি ভালো-মন্দের সার্বজনীন মাপকাঠি নয়।
D) মূল্যবোধ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটিই সার্বিকভাবে ভালো, মন্দ, ভুল ও শুদ্ধের মানদণ্ড তৈরি করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভালো ও মন্দের মাপকাঠি নির্ধারণের কথা থাকলেই উত্তর হবে মূল্যবোধ।
- কাজের ক্ষেত্রে সততা বা কর্তব্য দেখা যায়, কিন্তু ভেতরে মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে মূল্যবোধ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মূল্যবোধ ব্যক্তি ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মূল চালিকাশক্তি।
- এই প্রশ্নটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নৈতিকতার ভিত্তি যাচাইয়ের জন্য প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
১. কেন সঠিক:
- এই অপশনটি শুদ্ধাচারের মূল আত্মাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে যেখানে সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে মানুষের আচরণ ও কর্মে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- এটি কেবল নিয়ম পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ নৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ যা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: শুদ্ধাচার হলো এমন কিছু নৈতিক নীতিমালা ও আচরণগত মানদণ্ড যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সততা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে।
- গুরুত্ব: সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনসেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুদ্ধাচার অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- প্রয়োগ: সরকারি বা বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রেখে এবং অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এটি প্রয়োগ করা যায়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি কর্মকর্তা ঘুষের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত নিয়মে সেবা প্রদান করলেন।
ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধাচারের বাস্তব প্রয়োগ যেখানে ব্যক্তিগত লোভের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও পেশাগত নৈতিকতা রক্ষা করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করে নিজের মেধার ওপর নির্ভর করল।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও সততার বহিঃপ্রকাশ যা শুদ্ধাচারের ভিত্তিকে মজবুত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল — এটি শুধুমাত্র কাজের পদ্ধতি নির্দেশ করে, কিন্তু এতে নৈতিকতা ও সততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না।
B) সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড — এটি শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অথচ শুদ্ধাচার সর্বজনীন ও সবার জন্য উপযোগী।
D) দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড — এটি খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা নৈতিক উৎকর্ষ বা সততার মূল ভাবনাটিকে পূর্ণতা দেয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শুদ্ধাচার মানেই হলো সততা এবং নৈতিকতার মাধ্যমে আচরণে উৎকর্ষ আনা।
- পরীক্ষার প্রশ্নে যেখানে সততা ও নৈতিকতার বিষয়টি আচরণগত উৎকর্ষের সাথে যুক্ত থাকবে, সেটাই সঠিক উত্তর হিসেবে বেছে নেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল মূলত সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- এই টপিক থেকে সরকারি কর্মচারীর আচরণ, সুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবগুলোতে
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত অপশনের প্রতিটি আইন ও বিধিতেই দুর্নীতিকে অপরাধ এবং দণ্ডনীয় হিসেবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আইনগত কাঠামোতে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য বহুমুখী আইনি পদক্ষেপ অপরিহার্য।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নৈতিক আচরণ হলো এমন একটি নীতি যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা হয়।
- গুরুত্ব: আইনি শাস্তির পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে এবং সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি কর্মকর্তা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো স্বজনপ্রীতি না করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিলেন।
ব্যাখ্যা: এটি তার পেশাগত সততা এবং সরকারি বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ, যা দুর্নীতির পথ বন্ধ করে।
উদাহরণ ২: একজন নাগরিক সেবা পাওয়ার জন্য ঘুষ না দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেন।
ব্যাখ্যা: এটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয়, যা ঘুষ লেনদেনের সংস্কৃতি দূর করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে — এটি একা সঠিক নয় কারণ এতে শুধু সাধারণ অপরাধ ও কিছু ক্ষেত্রে ঘুষ বা দুর্নীতির কথা আছে, কিন্তু আধুনিক দুর্নীতি দমন বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এর আওতাভুক্ত নয়।
B) ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে — এটি একা সঠিক নয় কারণ দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আইনি এখতিয়ার নির্ধারণ করে, যা অন্যান্য আইন বা বিধিমালার পরিপূরক।
C) ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে — এটি একা সঠিক নয় কারণ এটি কেবল সরকারি কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শাস্তির ওপর সীমাবদ্ধ, যা সামগ্রিক দণ্ডবিধি বা দুর্নীতি দমন আইনের বিকল্প নয়।
D) উপরের সবগুলোতে — এই উত্তরটি সঠিক কারণ উল্লিখিত প্রতিটি আইন ও বিধিই কমবেশি দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত ও শাস্তিযোগ্য করেছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুর্নীতি দমনের পরিধি বুঝতে মনে রাখবে যে, ঐতিহাসিক অপরাধ দমন আইন, বিশেষায়িত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিধি—সব মিলেই দুর্নীতিবিরোধী আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটি থেকে সুশাসন, জবাবদিহি এবং আইন প্রয়োগের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়।
- একই নীতি থেকে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা বা দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের সাল সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
১. কেন সঠিক:
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়, যা ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করে।
এর ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বোধ করেন এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
মূল ধারণা: সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত।
প্রয়োগ: সরকারি ও বেসরকারি নীতি নির্ধারণে সততা ও সুশাসন বজায় রেখে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করতে চাইলে তারা সেখানকার দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বিচার করেন।
ব্যাখ্যা: সুশাসন থাকলে ঘুষ বা হয়রানি ছাড়াই সহজে ব্যবসার অনুমতি পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগ বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে।
উদাহরণ ২: ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে মূলধন জমা ও ঋণ নিতে পারেন।
ব্যাখ্যা: এই আস্থার পরিবেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে এবং সামগ্রিক বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় — এটি অর্থনৈতিক সুশাসনের সরাসরি এবং সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ফলাফল।
B) দুর্নীতি দূর হয় — দুর্নীতি কমা সুশাসনের একটি পূর্বশর্ত বা উপাদান, সরাসরি অর্থনৈতিক ফলাফল নয়।
C) প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয় — এটি সুশাসনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ফল হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য নয়।
D) যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় — যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন সুশাসনের ফল হতে পারে, তবে অর্থনৈতিক সুশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু এটি নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
অর্থনৈতিক সুশাসন মানেই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং আস্থার সম্পর্ক।
সুশাসন নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুশাসনের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই নীতি থেকে প্রায়শই সুশাসনের ফলাফল বা প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: C) UNCAC
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অফিসিয়াল সংক্ষিপ্ত রূপকে নির্দেশ করে।
- সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন করা এই সনদের মূল লক্ষ্য।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: দুর্নীতি প্রতিরোধ বলতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার রোধ করে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাকে বোঝায়।
- গুরুত্ব: সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় দুর্নীতি প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সরকারি ক্রয় বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা ঘুষ লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।
ব্যাখ্যা: এটি স্বচ্ছতা, সততা এবং জনস্বার্থ সুরক্ষার নৈতিক দায়িত্ববোধ প্রকাশ করে।
উদাহরণ ২: কোনো সেবা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ বা উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানানো।
ব্যাখ্যা: এটি নাগরিক সচেতনতা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের সঠিক উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) UNCLOS — এটি সমুদ্র আইনসংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি কনভেনশন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) UNCTAD — এটি বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা, যা দুর্নীতিবিরোধী সনদ নয়।
C) UNCAC — এটি জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন, যা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
D) CEDAW — এটি নারী বৈষম্য বিলোপসংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক সনদ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুর্নীতি সম্পর্কিত কনভেনশন বোঝাতে নামের শেষে AC অর্থাৎ Anti-Corruption শব্দগুচ্ছ মনে রাখতে হবে।
- UNCAC নামের ভেতরেই দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল বিষয়টি স্পষ্ট করা আছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্নীতি দমনের প্রধান আইনগত দলিল হলো এই কনভেনশন।
- এই ধরনের প্রশ্ন থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ এবং সুশাসনের উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়।
সঠিক উত্তর: D) পরমতসহিষ্ণুতা
১. কেন সঠিক:
- গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগুরু মানুষের শাসন নয়, বরং ভিন্নমত ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার সুমহান ব্যবস্থা।
- অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নিজের মতের বাইরেও ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়াই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: পরমতসহিষ্ণুতা হলো নিজের বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্যের ভিন্ন মতামত ও বিশ্বাসকে শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা।
- গুরুত্ব: এটি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সংঘাত এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্রয়োগ: নিজ মতাদর্শের বাইরে অন্য কারও যুক্তিপূর্ণ কথা শোনার ধৈর্য রাখা এবং তা শান্তভাবে মূল্যায়ন করা।
- সম্ভাব্য প্রভাব: সমাজ ও রাষ্ট্রে বহুমত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা পায় এবং সবার সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সহকর্মীদের ভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত মনোযোগ সহকারে শোনা।
ব্যাখ্যা: এটি গণতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং সবার অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানের সফলতা নিশ্চিত করে।
উদাহরণ ২: পরিবারে বা বন্ধুদের আড্ডায় কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনায় ভিন্ন মতকে আক্রমণ না করে তর্কে শালীন থাকা।
ব্যাখ্যা: এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার সুন্দর উদাহরণ তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য — অতিরিক্ত আনুগত্য অন্ধ অন্ধত্ব বা একনায়কতন্ত্রকে উৎসাহিত করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
B) স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন — এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত হলেও সামগ্রিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মানসিক ভিত্তি হলো সহনশীলতা।
C) শক্তিশালী রাজনৈতিক দল — রাজনৈতিক দল ক্ষমতা চর্চার মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া এটি গণতন্ত্রের মূল আত্মাকে রক্ষা করতে পারে না।
D) পরমতসহিষ্ণুতা — সঠিক উত্তর কারণ এটি গণতন্ত্রের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক ভিত্তি।
৫. মনে রাখার টিপস:
- গণতন্ত্রের প্রাণ হলো ভিন্ন মতকে জায়গা দেওয়া, তাই পরমতসহিষ্ণুতা হলো এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চেয়ে মানসিক উদারতাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূল চাবিকাঠি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রশ্নগুলোতে সহনশীলতা ও নাগরিক অধিকারের পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোভাবে বুঝতে হবে।
- একই নীতি থেকে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত বহু নির্বাচনী প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
১. কেন সঠিক:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক লাভ যুক্ত থাকলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।
- পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থান করা সুশাসন এবং সততার একটি মৌলিক নৈতিক নীতি।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: স্বার্থের সংঘাত হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন কর্মকর্তার পেশাগত দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
- গুরুত্ব: এটি জনস্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক মানদণ্ড।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি ক্রয় কর্মকর্তা যদি তার নিজের ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজের আদেশ দেন।
ব্যাখ্যা: এখানে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত পারিবারিক স্বার্থ সরকারি নিয়ম এবং জনস্বার্থের সরাসরি পরিপন্থী হয়েছে।
উদাহরণ ২: কোনো সরকারি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য যদি তার নিজ আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন বা নম্বর বাড়িয়ে দেন।
ব্যাখ্যা: এটি পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন এবং স্বার্থের সংঘাতের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি স্বার্থের সংঘাতের মূল সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
B) প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে — এটি রাজনৈতিক চাপ বা অনৈতিক প্রভাবের আওতাভুক্ত, তবে সরাসরি স্বার্থের সংঘাত নয়।
C) সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে — সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল লক্ষ্যই হলো সরকারি বা জনস্বার্থ রক্ষা করা, তাই এটি সংঘাতের কারণ নয়।
D) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে — এটি প্রশাসনিক আনুগত্য বা চাপের বিষয়, যা নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্য ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- স্বার্থের সংঘাত মানেই নিজের বা পরিবারের পকেট ভারী করার সুযোগ থাকা, যা সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
- নিজের লাভ যেখানে সরকারি কাজের সঙ্গে মিশে যায়, সেখানেই সংঘাতের জন্ম হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা এবং স্বার্থের সংঘাত এড়ানো অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত।
- একই নীতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে কীভাবে স্বার্থের সংঘাত দূর করা যায়, যার উত্তর হলো নিজেকে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা।
সঠিক উত্তর: B) নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
১. কেন সঠিক:
- দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল ভিত্তি হলো মানুষের ভেতরের নৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধ যা বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের আগেই অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
- নৈতিকতা মানুষকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি বিশ্বস্ত রাখে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে অভ্যন্তরীণ বাধা হিসেবে কাজ করে।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: নৈতিকতা হলো মানুষের ভালো ও মন্দের বিচার করার এবং সততা বজায় রাখার মানসিক শক্তি।
- গুরুত্ব: সমাজে আইনের কঠোরতা সত্ত্বেও যদি মানুষের নৈতিকতাবোধ না থাকে তবে দুর্নীতি বিভিন্ন উপায়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
- প্রয়োগ: সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দেওয়া।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি ফাইল আটকে রেখে ঘুষ দাবি না করে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সেবা প্রদান করেন, তবে তা তাঁর নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ।
ব্যাখ্যা: এখানে কর্মকর্তা নিজের পেশাগত দায়িত্ব ও সততাকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা দুর্নীতির পথ বন্ধ করে।
উদাহরণ ২: একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে তদারকি শিক্ষক না থাকলেও অসদুপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব মূল্যবোধের পরিচায়ক যা তাকে অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইনের প্রয়োগের অভাব — আইন দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করে কিন্তু নৈতিকতাহীন সমাজে মানুষ আইনকে ফাঁকি দেওয়ার পথ খুঁজে নেয়।
B) নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব — এটি সঠিক কারণ অভ্যন্তরীণ নৈতিক বলই মানুষকে দুর্নীতি থেকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে রক্ষা করে।
C) দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা — পরিবীক্ষণ বা নজরদারি না থাকলে অনিয়ম বাড়তে পারে, তবে এটি দুর্নীতির মূল কারণ নয় বরং সহায়ক পরিবেশ মাত্র।
D) অসৎ নেতৃত্ব — অসৎ নেতৃত্ব দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে পারে, কিন্তু নেতার অসততা সত্ত্বেও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক সমাজ দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারে।
৫. মনে রাখার টিপস:
দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রে বাহ্যিক আইন বা নজরদারির চেয়ে মানুষের ভেতরের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি থেকে নৈতিকতা এবং আইনের পারস্পরিক সম্পর্কের ধারণা পরিষ্কার হয়। একই নীতি থেকে সুশাসন ও দুর্নীতির কারণ সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) পরিবারে
১. কেন সঠিক:
- মানব শিশুর সামাজিকীকরণ এবং নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের প্রথম ও প্রধান সূতিকাগার হলো পরিবার। জন্মের পর শিশু পরিবার থেকেই ভালোবাসা, স্নেহ, সততা ও প্রাথমিক আচরণ শেখে।
- পরিবার হলো মানুষের প্রাথমিক সামাজিকীকরণ মাধ্যম। এখান থেকেই নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শিষ্টালাপের বীজ বপন হয়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: পারিবারিক মূল্যবোধ হলো এমন কিছু নীতি ও বিশ্বাস যা একটি পরিবার তার সদস্যদের শেখায় এবং যা তাদের চরিত্র ও আচরণ গঠন করে।
- গুরুত্ব: এটি ব্যক্তির নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাকে একজন দায়িত্বশীল ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: একটি শিশু প্রতিদিন তার বাবা-মাকে বড়দের সম্মান করতে দেখলে সেও বড়দের শ্রদ্ধা করতে শেখে।
ব্যাখ্যা: এখানে পারিবারিক অনুশাসনের প্রত্যক্ষ প্রভাব শিশুর নৈতিক আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখছে।
উদাহরণ ২: পরিবারের সবার সঙ্গে মিলেমিশে খাবার খাওয়া এবং ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শিশুর মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে।
ব্যাখ্যা: এই ছোট অভ্যাসগুলোই পরবর্তীতে সমাজের প্রতি সহানুভূতিশীল নাগরিক তৈরি করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সমাজে বসবাসের মাধ্যমে — সমাজ মানুষের সামাজিকীকরণের দ্বিতীয় ও বিস্তৃত ক্ষেত্র। তবে প্রাথমিক বিকাশ পরিবারেই ঘটে।
B) বিদ্যালয়ে — বিদ্যালয় হলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও গৌণ সামাজিকীকরণের মাধ্যম, যেখানে শিশু পরিবার থেকে শেখার পর প্রবেশ করে।
D) রাষ্ট্রের মাধ্যমে — রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার ও আইনকানুন নির্ধারণ করে, যা জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মানবীয় গুণাবলি শেখার প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। প্রাথমিক বা প্রথম শব্দ দেখলে উত্তর সব সময় পরিবার নির্বাচন করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রাথমিক সামাজিকীকরণ মাধ্যম হলো পরিবার এবং মাধ্যমিক সামাজিকীকরণ মাধ্যম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সমাজ। এই পার্থক্যটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) ইমানুয়েল কান্ট
১. কেন সঠিক:
- নৈতিক দর্শনের ইতিহাসে জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট কর্ত্তব্যমূলক নীতিবিদ্যার প্রবক্তা হিসেবে সততা ও সদিচ্ছাকে নৈতিকতার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
- তাঁর মতে, পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুকে নিঃশর্তভাবে ভালো বলা যায় না, একমাত্র 'সদিচ্ছা' বা ভালো ইচ্ছাকেই শর্তহীনভাবে ভালো বলা যায়।
২. নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল ধারণা: সদিচ্ছা হলো এমন একটি অভ্যন্তরীণ প্রেরণা বা নৈতিক মানসিকতা, যা লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই কেবল কর্তব্যের খাতিরে সঠিক কাজটি করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।
- গুরুত্ব: বাহ্যিক ফলাফল যাই হোক না কেন, মানুষের কাজের পেছনের নৈতিক সদিচ্ছা সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে।
- প্রয়োগ: ব্যক্তিগত লোভ বা বাহ্যিক চাপের মুখেও নিজের নৈতিক অবস্থান ধরে রেখে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
- সম্ভাব্য প্রভাব: সমাজে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
৩. বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অফিসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম দেখার পরেও নিজের নৈতিক সদিচ্ছার কারণে কেউ অসদুপায় বা ঘুষ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
ব্যাখ্যা: এখানে বাহ্যিক লাভের সুযোগ থাকলেও কর্ত্তব্যপরায়ণতা ও সদিচ্ছার কারণে ব্যক্তি সততার পথ বেছে নেন।
উদাহরণ ২: শিক্ষক পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বন করতে দেখলে পক্ষপাতিত্ব না করে নিয়মানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ব্যাখ্যা: এটি শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব এবং সততার প্রতি সদিচ্ছার সঠিক বাস্তবায়ন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডেকার্ট — ফরাসি এই দার্শনিক মূলত আধুনিক দর্শনের জনক এবং যুক্তিবাদী চিন্তার জন্য পরিচিত, নৈতিকতার সদিচ্ছা তত্ত্বের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত নয়।
B) ডেভিড হিউম — স্কটিশ এই দার্শনিক অভিজ্ঞতাভিত্তিক নৈতিকতা ও উপযোগবাদের আলোচনা করেছেন, যা কান্টের সদিচ্ছা তত্ত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
C) ইমানুয়েল কান্ট — নৈতিক দর্শনে সততা ও সদিচ্ছার ধারণাটি প্রবর্তন করার কারণে এটিই একমাত্র সঠিক উত্তর।
D) জন লক — ব্রিটিশ এই দার্শনিক রাষ্ট্রদর্শন ও অভিজ্ঞতাবাদ নিয়ে কাজ করেছেন, যা নৈতিকতার এই নির্দিষ্ট তত্ত্বের সঙ্গে মিলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সততা ও কর্তব্যের দর্শন এলেই ইমানুয়েল কান্টের নাম মনে রাখবে।
- কান্টের নৈতিকতা মানেই হলো ফল বা লাভের চিন্তা না করে কেবল কর্তব্যের খাতিরে সৎ থাকা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কর্ত্তব্যমূলক নীতিবিদ্যা বা ডিওন্টোলজির প্রবক্তা কে, এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় বারবার আসে।
- কান্টের সদিচ্ছা সংক্রান্ত ধারণা থেকে নৈতিকতার মানদণ্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) বান্দরবান
১. কেন সঠিক:
জুম চাষ হলো পাহাড়ি অঞ্চলের এক ঐতিহ্যগত ও প্রাচীন কৃষিপদ্ধতি, যা বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে চর্চা করা হয়।
বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম পাহাড়ি জেলা হওয়ায় এখানে জুম চাষের প্রচলন সবচেয়ে বেশি এবং এটি এই অঞ্চলের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা।
২. ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট:
ভৌগোলিক অবস্থান: জুম চাষ মূলত পাহাড়ি ও বনাঞ্চলপ্রধান ভূমিতে করা হয়, যেখানে সমতল ভূমির স্বল্পতা রয়েছে।
জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি: পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, ম্রো ও লুসাইসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এই চাষপদ্ধতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পরিবেশগত প্রভাব: পাহাড়ের ঢাল কেটে সাময়িকভাবে ফসল ফলানোর এই পদ্ধতি পাহাড়ি জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির একটি অন্যতম মূল ভিত্তি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা: বান্দরবানের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের এই জেলাগুলোতেও জুম চাষ করা হয়, কারণ এখানকার ভূপ্রকৃতি ও পাহাড়ি পরিবেশ জুম চাষের সম্পূর্ণ উপযোগী।
উদাহরণ ২: পাহাড়ি ঝিরি ও জুম ঘর
ব্যাখ্যা: জুম চাষের সময় কৃষকরা পাহাড়ের ওপরে অস্থায়ী জুম ঘর তৈরি করে বসবাস করেন এবং পাহাড়ি ঝিরির পানির ওপর নির্ভর করে ফসল ফলান।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বান্দরবান — এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি জেলা এবং জুম চাষের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর।
B) ময়মনসিংহ — এটি সমতল ও প্লাবনভূমি এলাকা হওয়ায় এখানে জুম চাষ করা হয় না, বরং এখানে সাধারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়।
C) রাজশাহী — এটি বরেন্দ্রভূমি ও পলিগঠিত সমতল অঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে জুম চাষের কোনো সুযোগ বা ভৌগোলিক পরিবেশ নেই।
D) দিনাজপুর — এটি তিস্তা অববাহিকার সমতল ও পললসমৃদ্ধ কৃষিজমি হওয়ায় এখানে স্থায়ী পদ্ধতিতে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
পাহাড়ি জেলা বললেই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম মনে রাখতে হবে, যার মধ্যে বান্দরবান জুম চাষের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত।
সমতল জেলাগুলোতে জুম চাষ হয় না, এটি শুধু পাহাড়ি ঢালের কৃষিপদ্ধতি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জুম চাষ কোন অঞ্চলের প্রধান কৃষি তা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং উপজাতীয় সংস্কৃতির ওপর থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা থাকে।
সঠিক উত্তর: B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
১. কেন সঠিক:
- ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ তারিখে এক প্রস্তাবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের উদ্যোগে ভাষা শহীদদের স্মরণে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছিল। শহীদদের আত্মত্যাগের সেই দিনটি আজ সারা বিশ্বে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার দিন হিসেবে পালিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বাঙালির ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসন লাভ করে। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন।
উদাহরণ ২: ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, যা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মারক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৮ নভেম্বর ১৯৯৯ — এই তারিখে ইউনেস্কোর সাধারণ সভা চলছিল, তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সুনির্দিষ্ট তারিখ এটি নয়।
B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ — এই তারিখটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটিই সঠিক উত্তর।
C) ১৯ নভেম্বর ২০০১ — এই সালটি সঠিক নয় কারণ স্বীকৃতি ১৯৯৯ সালেই প্রদান করা হয়েছিল।
D) ২০ নভেম্বর ২০০১ — এই তারিখের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার কোনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সালটি মনে রাখতে ১৯৯৯ সংখ্যাটি মনে রাখুন এবং মাস নভেম্বর।
- বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ঠিক আগের মাসেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি মিলেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটি ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক অর্জন উভয় বিষয়ের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই একই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে কত সালে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়, যার উত্তর হবে ২০০০ সাল।
সঠিক উত্তর: D) সোনার তরী
১. কেন সঠিক:
- সোনার তরী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতা এবং কাব্যগ্রন্থ।
- এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোনো সাহিত্যকর্ম নয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নিদর্শন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: এই গ্রন্থের রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি আমাদের জাতীয় সংগীতের ও রচয়িতা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী কবিতা
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পরিচিত কবিতা যা তাকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
উদাহরণ ২: মানসী কবিতা
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত যা তার সাহিত্য সাধনার রূপান্তরের যুগকে নির্দেশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যথার দান — এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
B) দোলনচাঁপা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ যা ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
C) শিউলি মালা — এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন যা ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
D) সোনার তরী — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এবং সঠিক উত্তর কারণ এটি নজরুল ইসলামের নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বখ্যাত সৃষ্টির মধ্যে সোনার তরী অন্যতম আর নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ ব্যথার দান।
কবিদের প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো আলাদা করে ছক আকারে পড়লে এমন প্রশ্নে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা এবং প্রথম প্রকাশিত গল্প ব্যথার দান।
একই বিষয় থেকে অন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস কোনটি এমন প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
১. কেন সঠিক:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান ১৯৭১ সালের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় মোট ছয়জন সদস্য ছিলেন এবং তাদের মধ্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার।
এই সরকারে এ এইচ এম কামরুজ্জামান ত্রাণ ও পুনর্বাসন ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও ভূমিকা রেখেছিলেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা: তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
উদাহরণ ২: এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা: তিনি এই সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তাজউদ্দিন আহমেদ — তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন না।
B) এ এইচ এম কামরুজ্জামান — এটি সঠিক উত্তর, তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
C) সৈয়দ নজরুল ইসলাম — তিনি মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
D) এম মনসুর আলী — তিনি মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
কামরুজ্জামান নামটি ত্রাণের সাথে মিলিয়ে মনে রাখতে পারেন কারণ তিনি যুদ্ধাহত মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার অন্য মন্ত্রীদের দপ্তরগুলো আলাদা করে তালিকাভুক্ত করলে পরীক্ষার হলে কনফিউশন হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন থেকে প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভালোভাবে মনে রাখা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: C) ১৭৫ জন
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসীম সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত করা হয় মোট ৪২৬ জনকে।
এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীর বিক্রম প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হলো ১৭৫ জন।
২. মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ও প্রেক্ষাপট:
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার চারটি বীরত্বসূচক খেতাব ঘোষণা করে।
এই খেতাবগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা
ব্যাখ্যা: সেক্টর কমান্ডার এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা এই খেতাবগুলোর মাধ্যমে ভূষিত হয়েছিলেন যা তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।
উদাহরণ ২: খেতাবের স্তরবিন্যাস
ব্যাখ্যা: সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন এবং সর্বনিম্ন খেতাব বীর প্রতীক ৪২৬ জন, যা পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৭ জন — এটি বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব।
B) ৬৮ জন — এটি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সংখ্যা।
D) ৪২৬ জন — এটি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা, যা এই তালিকার চতুর্থ খেতাব।
৫. মনে রাখার টিপস:
মুক্তিযুদ্ধের খেতাবগুলো মনে রাখার সহজ ক্রম হলো ৭, ৬৮, ১৭৫, ৪২৬।
এই ক্রমটি যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকের সংখ্যা নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এবং প্রতিটি খেতাবপ্রাপ্তের আলাদা সংখ্যা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) Bangladesh Standards and Testing Institution
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরের মূল কারণ হলো BSTI বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই প্রতিষ্ঠানটি শিল্পপণ্যের মান প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রণ, এবং পণ্যের মান সঠিক রাখতে মেট্রোলজি বা পরিমাপ বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- প্রতিষ্ঠান ও আইন: BSTI ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা ও পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা এর মূল কাজ।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন
ব্যাখ্যা: এটি দেশের বাজারে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের গুণগত মান যাচাই করে বিএসটিআই লোগো বা সার্টিফিকেট প্রদান করে।
উদাহরণ ২: নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা: বিএসটিআই-এর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে কাজ করে, যা শিক্ষার্থীর মানসম্মত জীবনযাত্রার ধারণা স্পষ্ট করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Bangladesh Salt Testing Institute — এই নামে বাংলাদেশের কোনো সরকারি বা জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই।
B) Bangladesh Strategic Training Institute — এটি কৌশলগত প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কোনো সরকারি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম নয়।
C) Bangladesh Standards and Testing Institution — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই নামেই পরিচিত।
D) Bangladesh Socity for Telecommunication and Information — এটি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনো মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিএসটিআই (BSTI) নামের শেষের শব্দ দুটি হলো স্ট্যান্ডার্ডস (Standards) এবং টেস্টিং (Testing), যা মান ও পরীক্ষা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে, যা বাণিজ্য ও উৎপাদনের মান রক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রশ্নটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের ইংরেজি পূর্ণরূপ হিসেবে প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে বিএসটিআই কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বা কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, এমন প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) এককেন্দ্রিক
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সব ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।
- এ ধরনের সরকার ব্যবস্থায় দেশের সব প্রশাসনিক ও আইনগত ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
সংবিধান ও আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ১ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশকে একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থার ফলে দেশের সব অঞ্চলে সমভাবে আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা: এটি দেশের একমাত্র আইনসভা, যা পুরো দেশের জন্য এককভাবে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
উদাহরণ ২: জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: জেলাগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়, যা এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার বাস্তব রূপ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এককেন্দ্রিক — এটি সঠিক কারণ সংবিধানে রাষ্ট্রকে একক রাষ্ট্র বলা হয়েছে।
B) যুক্তরাষ্ট্রীয় — যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ভাগ করা থাকে, যা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
C) রাজতন্ত্র — বাংলাদেশে রাজতন্ত্র নেই, কারণ এটি একটি গণপ্রজাতন্ত্র যেখানে জনগণই ক্ষমতার উৎস।
D) রাষ্ট্রপতিশাসিত — বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা অনুসরণ করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ নামের আগে গণপ্রজাতন্ত্র শব্দটির সাথে এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা মনে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আমেরিকা বা ভারতে আছে, বাংলাদেশে নেই।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদ এবং সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। একই বিষয় থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার সম্পর্কেও প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ১০২
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোনো aggrieved বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিট জারির মাধ্যমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা রাখে।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এবং এই অনুচ্ছেদ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে।
২. সংবিধান ও আইন:
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ: হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার নিশ্চিত করে।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগ: অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কোনো নাগরিককে বেআইনিভাবে আটক করলে হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দিপ্রদর্শন রিট করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক হাতিয়ার।
উদাহরণ ২: সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ আইনবহির্ভূত আদেশ দিলে পরমাদেশ বা ম্যান্ডামাস রিট করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে ১০২ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪৪ — এই অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা ১০২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হলেও সরাসরি মামলা বা রিট করার এখতিয়ার ১০২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
B) ৪৭ — এই অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট কিছু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলেও তা অসাংবিধানিক হবে না মর্মে বিধান রাখা হয়েছে।
D) ১০৩ — এই অনুচ্ছেদে আপিল বিভাগের এখতিয়ার সম্পর্কে বলা হয়েছে, যা হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৫. মনে রাখার টিপস:
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ১০২ অনুচ্ছেদ।
সংখ্যার দিক থেকে ১০২ মনে রাখলে রিট ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সহজে মাথায় আসে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের সংবিধানে রিট কয়টি এবং কী কী, তা প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে রিট আবেদন করার এখতিয়ার কোন আদালতের, এই ধরনের প্রশ্ন বারবার বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: C) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
১. কেন সঠিক:
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ একটি আর্থ অবজারভেশন বা ভূ-অবলোকনকারী স্যাটেলাইট হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের ভূখণ্ড, বনভূমি, সমুদ্রসীমা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ছবি সংগ্রহ এবং নজরদারি করা সম্ভব হবে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: [প্রযোজ্য ক্ষেত্রে]
প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বা বিএসসিএল এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট যা ২০১৮ সালে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং মূলত সম্প্রচার ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা: আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্ত ব্যবহার করে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও কৃষি গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট — এটি ভুল কারণ প্রথম স্যাটেলাইটটি কমিউনিকেশন বা যোগাযোগভিত্তিক ছিল, কিন্তু দ্বিতীয়টি ভিন্ন উদ্দেশ্যে তৈরি।
B) ওয়েদার স্যাটেলাইট — এটি ভুল কারণ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা আবহাওয়া স্যাটেলাইট থাকে, যদিও এর উপাত্ত আবহাওয়া গবেষণায় কাজে লাগে।
C) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট — এটি সঠিক কারণ এই স্যাটেলাইটের মূল কাজ ভূপৃষ্ঠের ছবি তোলা ও পর্যবেক্ষণ করা।
D) ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট — এটি ভুল কারণ ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট মূলত জিপিএস বা দিক নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বঙ্গবন্ধু-১ হলো যোগাযোগের জন্য বা কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।
বঙ্গবন্ধু-২ হলো নজরদারির জন্য বা আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয় ১২ মে ২০১৮ সালে।
একই বিষয় থেকে পরীক্ষক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এসপারসো বা স্পারসো এবং স্যাটেলাইটের ব্যবহারের ক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।
সঠিক উত্তর: C) ১ জুলাই ২০১৫
১. কেন সঠিক:
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিমাপ করার জন্য মাথাপিছু আয়ের মাপকাঠি ব্যবহার করে থাকে।
- ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক তাদের বার্ষিক হালনাগাদ তথ্যে বাংলাদেশকে নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করে।
২. অর্থনীতি, শিল্প, অর্থনীতি ও উন্নয়ন:
- অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের দেশের তালিকায় থাকার পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স এবং জিডিপি বৃদ্ধির ফলে এই মাইলফলক অর্জন করে।
- বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড: বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর ১ জুলাই তাদের নতুন অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করে, যা মূলত আগের বছরের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের (GNI per capita) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রূপান্তরের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা বিশ্বব্যাংকের নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পর আরও গতিশীল হয়।
উদাহরণ ২: রূপকল্প ২০২১ এবং বর্তমান এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
ব্যাখ্যা: অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ জুন ২০১৪ — এই তারিখে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি কারণ তখন দেশের মাথাপিছু আয় এই স্তরে পৌঁছায়নি।
B) ১ জুন ২০১৫ — মাস সঠিক হলেও তারিখটি ১ জুন নয় বরং ১ জুলাই ছিল, যা বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক হিসাব প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন।
D) ১ জুলাই ২০১৬ — এই সালের ১ জুলাইয়ের পরিবর্তে বাংলাদেশ এক বছর আগেই অর্থাৎ ২০১৫ সালেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সালটি মনে রাখতে ২০১৫ সংখ্যাটি মনে রাখুন এবং মাসটি সবসময় ১ জুলাই ধরুন যা বিশ্বব্যাংকের হিসাব বছর পরিবর্তনের মাস।
- নিম্নমধ্যম আয়ের সিঁড়িতে বাংলাদেশ পা রেখেছে ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিশ্বব্যাংক কবে বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করে তা বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে বর্তমান বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত বা পরবর্তী উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা কবে কার্যকর হবে।
সঠিক উত্তর: D) ৬.৯৪%
প্রদত্ত তথ্য:
বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ধরি,
উক্ত অর্থবছরের প্রাথমিক ও সংশোধিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করা হয়।
অতএব,
বিবিএস বা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি পরিমাপ করা হয়।
সুতরাং,
সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে প্রবৃদ্ধির হার হিসাব করা হয়।
উত্তর: ৬.৯৪%
সঠিক উত্তর: D) সেবা
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘকাল ধরে আমাদের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক হলেও সময়ের বিবর্তনে সেবা ও শিল্প খাতের গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. অর্থনীতি, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন:
অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তরের ফলে বাংলাদেশের জিডিপিতে সেবা খাতের অংশ প্রায় ৫০ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, পরিবহন, আবাসন ও পাইকারি বা খুচরা ব্যবসা এই খাতের অন্তর্ভুক্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাংকিং, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাপক বিস্তার।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক অর্থনীতিতে সেবা খাতের পরিধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কীভাবে দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে।
উদাহরণ ২: তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশ।
ব্যাখ্যা: এটি তরুণ সমাজকে সেবা খাতের সাথে যুক্ত করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে সাহায্য করছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কৃষি — এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত প্রধান খাত হলেও জিডিপিতে এর অবদান এখন সেবা ও শিল্প খাতের পরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
B) শিল্প — এই খাতের অবদান জিডিপিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
C) বাণিজ্য — এটি মূলত সেবা ও শিল্প খাতের একটি অংশ বা উপখাত হিসেবে পরিগণিত হয়, স্বতন্ত্রভাবে জিডিপির প্রধান চালিকাশক্তি নয়।
D) সেবা — এটি জিডিপির প্রধান অবদানকারী খাত এবং এটি দেশের মোট উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি সংযোজন করে থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে সেবা খাত। এটি মনে রাখতে সেবা শব্দটি মাথায় রাখলেই চলবে, কারণ সেবামূলক কাজের পরিধি আমাদের দেশে সবচেয়ে ব্যাপক।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জিডিপিতে কোন খাতের অবদান কত শতাংশ, তা বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই বিষয় থেকে জিডিপিতে কৃষি ও শিল্প খাতের বর্তমান অবস্থান বা ক্রম নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ১৯৭৪ সালে
১. কেন সঠিক:
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি বা জনগণনা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
এই শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত নবগঠিত দেশের সঠিক জনসংখ্যা, জনমিতি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
জনসংখ্যা, জনগণনা ও জনমিতি:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার পর দেশের আর্থসামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি সঠিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
তারিখ ও স্থান: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি পরিচালিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)
ব্যাখ্যা: ১৯৭৪ সালের আদমশুমারি সফল করার পর ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস গঠিত হয় যা বর্তমানে দেশের সব শুমারি পরিচালনা করে।
উদাহরণ ২: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
ব্যাখ্যা: এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জনশুমারি, যার মাধ্যমে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখে উন্নীত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৭২ সালে — এই বছরে কোনো আদমশুমারি হয়নি কারণ দেশ তখন সদ্য স্বাধীন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল।
B) ১৯৭৩ সালে — এই বছর প্রথম আদমশুমারির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও মূল গণনা শুরু হয়নি।
D) ১৯৭৫ সালে — এই বছর প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি বরং ১৯৭৪ সালের শুমারির কাজ সমাপ্ত হয় এবং পরিসংখ্যান সংস্থা গঠিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্বাধীনতার ঠিক তিন বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সালটি মনে রাখার জন্য মনে রাখতে হবে ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম জনগণনা হয় এবং ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারির সময় দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ১৫ লাখ।
একই বিষয় থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে যে স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কয়টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর: C) অনুচ্ছেদ ৪১
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এই ভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা হলো অনুচ্ছেদ ৪১, যা দেশের সকল নাগরিককে নিজ ধর্ম পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করে।
২. সংবিধান ও আইন:
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার আইনি অধিকারও এই অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশে দুর্গাপূজা, ঈদুল ফিতর বা বড়দিনের মতো ধর্মীয় উৎসবগুলোতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ এর বাস্তব প্রয়োগ, যেখানে রাষ্ট্র সকল ধর্মের নাগরিকদের স্বাধীনভাবে উৎসব পালনের সুযোগ করে দেয়।
উদাহরণ ২: দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা থাকে না।
ব্যাখ্যা: এই অধিকারটি নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী অনুচ্ছেদ ৪১ থেকে এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অনুচ্ছেদ ৩৮ — এই অনুচ্ছেদে দেশের নাগরিকদের সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
B) অনুচ্ছেদ ৫০ — এই অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, যা শিক্ষা সংক্রান্ত নীতির সঙ্গে যুক্ত।
C) অনুচ্ছেদ ৪১ — এটি সঠিক উত্তর এবং এই অনুচ্ছেদেই নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
D) অনুচ্ছেদ ১০০ — এই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী আসন সংক্রান্ত বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
মৌলিক অধিকারের অনুচ্ছেদগুলো মনে রাখতে সংখ্যাগুলোর ক্রম মনে রাখা জরুরি। অনুচ্ছেদ ৪১ এর ক্ষেত্রে চ দিয়ে চল্লিশ এবং এক যোগ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা অর্থাৎ ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই সংবিধানের মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো থেকে প্রশ্ন আসে। অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারের আওতাভুক্ত, তাই এই অনুচ্ছেদগুলোর মূল বিষয়বস্তু ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) মৌলভীবাজার
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের বিন্যাস অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান ও চা উৎপাদিত হয়।
- দেশের মোট চা বাগানের সিংহভাগ এই জেলা এবং এর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত হওয়ায় একে চায়ের রাজধানী বলা হয়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ: মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়ি ঢাল, উর্বর মাটি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সংশ্লিষ্ট তথ্য: ব্রিটিশ আমলে আসামের আদলে সিলেটে প্রথম চা চাষ শুরু হলেও বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শ্রীমঙ্গল
ব্যাখ্যা: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান ও চা গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত।
উদাহরণ ২: পঞ্চগড় চা চাষ
ব্যাখ্যা: উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড় জেলায় সমতল ভূমিতে চা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী সিলেটের বাইরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চট্টগ্রাম — এই জেলায় কিছু চা বাগান থাকলেও তা মৌলভীবাজারের তুলনায় অনেক কম এবং এটি মূলত বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক এলাকার জন্য পরিচিত।
B) সিলেট — সিলেটে চা বাগান থাকলেও সংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে মৌলভীবাজারের পরেই এর অবস্থান।
C) পঞ্চগড় — এটি উত্তরবঙ্গের সমতল ভূমির চা চাষের জন্য পরিচিত হলেও এখানে মৌলভীবাজারের তুলনায় চা বাগানের সংখ্যা কম।
D) মৌলভীবাজার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে দেশের সর্বাধিক সংখ্যক চা বাগান রয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
চা বাগান বেশি কোথায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তা খুঁজে পাওয়া যায়। সিলেট বিভাগে চা বেশি হলেও জেলার দিক থেকে মৌলভীবাজার সবার আগে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে, তা বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। একই বিষয় থেকে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত, এমন প্রশ্নও হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) সুপ্রিম কোর্ট
১. কেন সঠিক:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সংবিধান দেশের প্রজাতন্ত্রের মৌলিক আইন।
সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
২. সংবিধান ও আইন:
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার এবং প্রজাতন্ত্রের যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা আদেশ জারির ক্ষমতা রাখে।
সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ষোড়শ সংশোধনী মামলা।
ব্যাখ্যা: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই রায়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংশোধনীটি অবৈধ ঘোষণা করে সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: সংবিধানের পঞ্চম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা।
ব্যাখ্যা: সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাতীয় সংসদ — এটি দেশের আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা রাখে, কিন্তু সংবিধানের অভিভাবক বা রক্ষক নয়।
B) শাসন বিভাগ — দেশের শাসনকার্য পরিচালনা এবং আইন প্রয়োগ করা এর কাজ, যা সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যার অধীনস্থ।
D) আইন মন্ত্রণালয় — এটি সরকারের একটি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় যা আইন প্রণয়নে সহায়তা করে এবং বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করে, কিন্তু সংবিধানের রক্ষক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
আইন তৈরি করে সংসদ আর আইন রক্ষা বা ব্যাখ্যা করে আদালত।
সংবিধানের রক্ষক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নাম মনে রাখলে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সংবিধানের অভিভাবক কে এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
একই বিষয় থেকে অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত প্রশ্নও হতে পারে, যেমন সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে।
সঠিক উত্তর: B) ৭ মার্চ ১৯৭১
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেন।
- এই ভাষণে তিনি মুক্তির সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে পুরো বাংলাদেশ অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাল সাগরে পরিণত হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই ভাষণ দেওয়া হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার একটি অঘোষিত ঘোষণা, যা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
ব্যাখ্যা: ৭ মার্চের ভাষণের ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়, যা সশস্ত্র যুদ্ধের রূপ নেয়।
উদাহরণ ২: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন।
ব্যাখ্যা: ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনায় পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তির জন্য এই অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৬ মার্চ ১৯৭১ — এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এই দিন রাতে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
B) ৭ মার্চ ১৯৭১ — এটি সঠিক উত্তর। এই দিনে জাতির পিতা ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
C) ৩ মার্চ ১৯৭১ — এই দিনে পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়।
D) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ — এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ৭ মার্চ মনে রাখার সহজ উপায় হলো ৭ সংখ্যাটির সঙ্গে ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটিকে চিরতরে মনে গেঁথে নেওয়া। এটি স্বাধীনতার ঠিক ঊনবিংশ দিন আগের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
- ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ৭ মার্চের ভাষণ কবে অন্তর্ভুক্ত হয়, এই টাইপের প্রশ্নও এখান থেকে আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
১. কেন সঠিক:
- ছয় দফা দাবি ছিল বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের সনদ এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে পেশ করা হয়।
- পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বাঙালি জাতির পক্ষে এই ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার চরম শূন্যতা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই দাবি তৈরি হয়।
- তারিখ ও স্থান: পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক কনভেনশনে ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লাহোরে এই প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা: ছয় দফা দাবির জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পেয়ে আইয়ুব খানের সরকার বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল।
উদাহরণ ২: ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা: ছয় দফার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী পতন ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ — এটি ঐতিহাসিক ভাষা শহীদ দিবস এবং এই দিন পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) ২২ মার্চ ১৯৫৮ — এই তারিখে তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিশেষ কোনো ছয় দফা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেনি।
C) ২০ এপ্রিল ১৯৬২ — এই তারিখে ঐতিহাসিক কোনো ছয় দফা বা স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত যুগান্তকারী ঘোষণা আসেনি।
D) ২৩ মার্চ ১৯৬৬ — এটি সঠিক তারিখ কারণ এই দিন লাহোরে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা পেশ করা হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ছয় দফা দিবস পালিত হয় ৭ জুন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পেশ করা হয়েছিল ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে।
- সালটি মনে রাখতে ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ তারিখটি বারবার চর্চা করতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ছয় দফা কে পেশ করেছিলেন এবং কোথায় পেশ করেছিলেন, এই দুটি প্রশ্ন পরীক্ষায় খুব বেশি আসে।
- এই একই বিষয় থেকে ছয় দফার প্রথম দফা কি ছিল বা এটি কবে উত্থাপন করা হয়, এমন প্রশ্ন থাকতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ৪টি
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের উভয় পাশে ধানের শীষ দ্বারা বেষ্টিত পাটের বৃত্তাকার ফুল রয়েছে এবং এর ওপর পাটগাছের তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা সংযুক্ত আছে।
- সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের ৪ নং উপ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীকের বিবরণ ও এর সাংবিধানিক গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
জাতীয় প্রতীক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট:
- সাংবিধানিক বিধান: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪ অনুচ্ছেদের (৩) উপ অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের বিষয়ে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হলো উভয় পার্শ্বে ধানের শীষ দ্বারা বেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার ওপর পাটগাছের তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই চারটি তারকা দ্বারা ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল চারটি মূলনীতি অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে যা বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
ব্যাখ্যা: জাতীয় পতাকায় যেমন সবুজের মাঝে একটি লাল বৃত্ত থাকে যা উদীয়মান সূর্য এবং রক্তকে নির্দেশ করে, তেমনি জাতীয় প্রতীকে থাকা চারটি তারকা রাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শের প্রতীক।
উদাহরণ ২: বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা
ব্যাখ্যা: জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পানিতে ভাসমান শাপলা ফুল, যা দেশের জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২টি — বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে তারকার সংখ্যা দুটি নয় বরং চারটি, তাই এটি ভুল।
B) ৩টি — তিনটি তারকা বোঝাতে পাটগাছের তিনটি পাতাকে বোঝানো হতে পারে কিন্তু তারকার সংখ্যা মোট চারটি, তাই এটি সঠিক নয়।
C) ৪টি — এটি সঠিক কারণ জাতীয় প্রতীকে উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা রয়েছে যা চারটি মূলনীতিকে নির্দেশ করে।
D) ৫টি — বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে পাঁচটি তারকা থাকে না, তাই এই অপশনটি ভুল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জাতীয় প্রতীকের তারকা মনে রাখার সহজ উপায় হলো সংবিধানের মূলনীতি চারটি এবং প্রতীকে তারকার সংখ্যাও ঠিক চারটি।
- অনেকেই জাতীয় পতাকার লাল বৃত্তের সঙ্গে জাতীয় প্রতীকের তারকা গুলিয়ে ফেলেন, তাই পাতার দুই পাশের চারটি তারকা আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জাতীয় প্রতীকের উপাদান বা সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন আসে।
- একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন হতে পারে যে, জাতীয় প্রতীকে নিচের কোনটি অনুপস্থিত বা জাতীয় প্রতীকের শাপলা ফুলটি কোনটির ওপর অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: D) ধূমকেতু
১. কেন সঠিক:
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা 'ধূমকেতু' প্রকাশিত হলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির সাফল্য কামনা করে আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন।
এই আশীর্বাণীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় 'ধূমকেতু' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই এবং এর প্রথম পাতার সম্পাদকীয় ও কবিতা বাংলা সাহিত্যকে নাড়া দিয়েছিল।
তাৎপর্য ও ফলাফল: এই পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুলের বিদ্রোহী কবি রূপটি পূর্ণতা পায় এবং ব্রিটিশবিরোধী লেখার কারণে পরবর্তীতে পত্রিকাটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা
ব্যাখ্যা: ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয় নজরুলের বিখ্যাত 'বিদ্রোহী' কবিতাটি, যা বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
উদাহরণ ২: রাজদ্রোহের মামলা
ব্যাখ্যা: ধূমকেতু পত্রিকায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা প্রকাশের কারণে ১৯২২ সালের ডিসེম্বরে নজরুলের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সবুজপত্র — এটি প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা চলিত রীতির বাহন হিসেবে পরিচিত একটি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা যা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
B) শনিবারের চিঠি — এটি সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত একটি প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা যা মূলত ব্যঙ্গ ও সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিল।
C) কল্লোল — এটি দীনেশচন্দ্র দাশ সম্পাদিত একটি আধুনিক সাহিত্য পত্রিকা যা ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং কল্লোল যুগ সৃষ্টি করে।
D) ধূমকেতু — এটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত বিদ্রোহী চেতনার পত্রিকা যার প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
নজরুলের তেজস্বী পত্রিকা ধূমকেতু প্রকাশের কথা মনে রাখলেই রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণীর বিষয়টি মাথায় আসবে।
মনে রাখতে হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধূমকেতু পত্রিকার জন্যই আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু বাণীটি দিয়েছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে এবং এর সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
একই বিষয় থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় কোন কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল অথবা এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন।
সঠিক উত্তর: B) ৪৮
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী দেশের তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা ৪৮।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, আদিবাসী ও সম্প্রদায়সমূহের সংস্কৃতি রক্ষা ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
২. জনসংখ্যা, জনগণনা ও জনমিতি:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেশের সব নাগরিককে বাঙালি হিসেবে পরিচিত করার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে পাহাড়ি ও সমতলের জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক স্বকৃতি নিশ্চিত করা হয়।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: সংবিধানে তাদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি ও আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চাকমা সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা: চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং এরা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে।
উদাহরণ ২: সাঁওতাল সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা: সাঁওতালরা প্রধানত উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী একটি ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০ — এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলে না।
B) ৪৮ — এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা।
C) ২৫ — এই সংখ্যাটি কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা হিসেবে স্বীকৃত নয়।
D) ৩২ — অতীতে বিভিন্ন বইপত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন সংখ্যা প্রচলিত থাকলেও তা সরকারি গেজেটভুক্ত সংখ্যা নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি সংখ্যা মনে রাখতে আচল শব্দটির সাহায্য নেওয়া যায় যেখানে আট ও চল্লিশের শেষ অঙ্কটি মিলে যায়।
- সংবিধানে তাদের সংস্কৃতির কথা ২৩ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যা সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা বা তাদের সংবিধানিক স্বীকৃতি সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- কোন অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধান, তা থেকেও প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) সিয়েরা লিওন
১. কেন সঠিক:
- পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম দাপ্তরিক বা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- ২০০২ সালে দেশটির গৃহযুদ্ধের অবসানের পর শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে সিয়েরা লিওনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজান কাব্বা বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম প্রধান ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন।
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশি সেনারা সিয়েরা লিওনে মানবিক ও পুনর্গঠনমূলক কাজ করেছিলেন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
ব্যাখ্যা: মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও গবেষণার জন্য বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে।
উদাহরণ ২: একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।
ব্যাখ্যা: ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাইবেরিয়া — এটি আফ্রিকার একটি প্রাচীন প্রজাতন্ত্র এবং এর সরকারি ভাষা ইংরেজি।
B) নামিবিয়া — এটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি দেশ এবং এর সরকারি ভাষা ইংরেজি।
C) হাইতি — এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ এবং এর সরকারি ভাষা ফ্রেঞ্চ ও হাইতিয়ান ক্রেওল।
D) সিয়েরা লিওন — এই দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
আফ্রিকার যে দেশটি শান্তিরক্ষীদের সম্মানে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তার নাম সিয়েরা লিওন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও বাংলাদেশ বিষয়াবলি উভয় অংশ থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) আবদুল গাফফার চৌধুরী
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গান রচয়িতাকে নির্দেশ করে।
- তরুণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের পর এই অমর পঙক্তিমালা রচনা করেছিলেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউরসহ অনেকে শহিদ হন।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল প্রাঙ্গণে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম জানাজার পর এই শোক ও দ্রোহের গানটির প্রাথমিক রূপ রচিত হয়।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: এই গানটি বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
ব্যাখ্যা: পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদ এই গানে নতুন সুরারোপ করেন যা আজও গাওয়া হয়।
উদাহরণ ২: ভাষা আন্দোলনের ওপর রচিত প্রথম সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি।
ব্যাখ্যা: হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত এই সংকলনটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় যেখানে ভাষা আন্দোলনের বহু রচনা স্থান পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুনীর চৌধুরী — তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কবর নাটক রচনা করেছিলেন কিন্তু এই গানের রচয়িতা নন।
B) জহির রায়হান — তিনি ভাষা আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে জীবন থেকে নেওয়া বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন।
D) কাজী নজরুল ইসলাম — তিনি বাংলা বিদ্রোহী কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রলয় উল্লাস কবিতার রচয়িতা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একুশের গান রচয়িতা গাফফার চৌধুরী মনে রাখতে পারেন গাফফার শব্দ দিয়ে গান লেখার গ অক্ষর মিলিয়ে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের স্মরণে এই গানটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- গানটির বর্তমান সুরকার কে এবং কোন চলচ্চিত্রে এটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল তা বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদদের নাম এবং তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) আবুল কাশেম
১. কেন সঠিক:
- তমুদ্দন মজলিশ বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও অনন্য।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এই বিতর্ক শুরু হলে সংগঠনটি বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার দাবিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রথম স্মারকলিপি পেশ করে।
ব্যাখ্যা: এই ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও যুবসমাজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করে।
উদাহরণ ২: ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে তমদ্দুন মজলিশ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু না বাংলা শীর্ষক একটি ঐতিহাসিক পুস্তিকা প্রকাশ করে।
ব্যাখ্যা: এই পুস্তিকাটিতে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হয়, যা ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাজী শরিয়তউল্লাহ — ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রিটিশবিরোধী সংস্কারক, যিনি তমদ্দুন মজলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
B) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক — অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক, তবে তিনি এই সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নন।
C) আবুল কাশেম — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও তরুণ যুবকদের সংগঠিত করে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
D) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী — মওলানা ভাসানী মজলুম জননেতা ও কাগমারী সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন, কিন্তু তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা নন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৪৭ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম এটি মনে রাখার জন্য নাম ও সংগঠনের প্রথম অক্ষর মিলাতে পারো।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর নাম সবসময় আবুল কাশেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- তমদ্দুন মজলিশ কত সালে গঠিত হয় এবং এর মুখপত্র ছিল কী, তা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- একই বিষয় থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংক্রান্ত পুস্তিকা কে প্রকাশ করেন বা কত তারিখে এটি প্রকাশিত হয়, এমন প্রশ্নও হতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
১. কেন সঠিক:
- বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশ বিভক্ত হয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন একটি প্রদেশ গঠিত হয়।
- এর ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠী শিক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে তুলনামূলক সুবিধা লাভের সুযোগ পায় যা তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে বঙ্গভঙ্গ বাস্তবায়ন করেন এবং এর রাজধানী ঢাকা নির্ধারিত হয়।
- তারিখ ও স্থান: ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করা হয় এবং একই বছরের ১৬ অক্টোবর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
- ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন এই প্রদেশ বিভাজনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন এবং জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন।
- তাৎপর্য ও ফলাফল: বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং এর প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয় যা পরবর্তীতে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর শোক দিবস ও রাখিবন্ধন উৎসব
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাঙালিরা ওই দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করা হয়।
উদাহরণ ২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে থাকা মুসলমানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যা এই অঞ্চলের শিক্ষায় বিপ্লব আনে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পূর্ববঙ্গ ও বিহার — এই নামে কোনো নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়নি কারণ বিহার পরবর্তীতে বাংলা থেকে আলাদা হয়ে একটি পৃথক প্রদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
B) পূর্ববঙ্গ ও আসাম — এটি সঠিক অপশন এবং ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগের সাথে আসাম ও পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে এই প্রদেশ গঠিত হয়।
C) পূর্ববঙ্গ ও উড়িষ্যা — উড়িষ্যা বঙ্গভঙ্গের অংশ ছিল না বরং এটি পরবর্তীতে ১৯১২ সালে বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশ হিসেবে আলাদা হয়।
D) পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ — বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-উড়িষ্যা এমন বিভাজন হয়েছিল, তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বঙ্গভঙ্গ মানেই মনে রাখবে পূর্বের সাথে আসাম যুক্ত হয়েছিল সংক্ষেপে পু-আ।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখটি মনে রাখলে বঙ্গভঙ্গের কার্যকরের সাল ও তারিখ ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বঙ্গভঙ্গ কে করেছিলেন এবং কত সালে কার্যকর হয় এই প্রশ্নটি প্রায় সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- বঙ্গভঙ্গ কোন সালে রদ হয় এবং কার আমলে রদ হয় তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ফা-হিয়েন
১. কেন সঠিক:
ফা-হিয়েন ছিলেন প্রথম চীনা পর্যটক যিনি গুপ্তযুগে ভারতে এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন।
তার ভ্রমণ বিবরণে প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে ফা-হিয়েন ভারতে আগমন করেন।
তার ভ্রমণকাল: তিনি ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং ৪১৪ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশে ফিরে যান।
তাৎপর্য ও ফলাফল: তার বর্ণনায় তাম্রলিপি এবং তৎকালীন বাংলার বৌদ্ধ বিহার ও সামাজিক অবস্থার বিবরণ পাওয়া যায়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা: তিনি পরবর্তী সময়ে হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে এবং পালযুগের কাছাকাছি সময়ে বাংলায় এসেছিলেন।
উদাহরণ ২: ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা: তিনি সুলতানি আমলে বাংলায় ভ্রমণ করেছিলেন এবং এখানকার সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অবস্থার কথা লিখে গেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হিউয়েন সাং — তিনি সপ্তম শতাব্দীতে হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন, গুপ্তযুগে আসেননি।
B) ফা-হিয়েন — এটি সঠিক উত্তর।
C) আই সিং — তিনি সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে ভারতে এসেছিলেন, যা গুপ্তযুগের অনেক পরে।
D) এঁদের সকলেই — যেহেতু শুধুমাত্র ফা-হিয়েন গুপ্তযুগে এসেছিলেন, তাই এই অপটি সঠিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
গুপ্তযুগের সঙ্গে ফা-হিয়েন নামটি যুক্ত করতে মনে রাখবেন প্রথম চীনা পর্যটক ফা-হিয়েন এলেন গুপ্ত আমলে।
হিউয়েন সাং এসেছিলেন হর্ষবর্ধনের আমলে, তাই নামের প্রথম অক্ষর মিলিয়ে মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস থেকে বিদেশি পর্যটকদের নাম ও তাদের ভ্রমণকাল প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
কোন পর্যটক কোন রাজার আমলে এসেছিলেন তা খাতায় নোট করে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: B) মুর্শিদ কুলি খান
১. কেন সঠিক:
মুর্শিদ কুলি খান ১৭০৪ সালে বাংলার দেওয়ান হিসেবে ঢাকায় আসেন এবং পরবর্তীতে ১৭১৭ সালে বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলা থেকে কেন্দ্রে রাজস্ব পাঠানো বন্ধ করে একটি স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
তারিখ ও স্থান: ১৭১৭ সালে মুর্শিদাবাদে তিনি তার রাজধানী স্থানান্তর করেন এবং স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন শুরু করেন।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: মুর্শিদ কুলি খান ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার দেওয়ান যিনি পরবর্তীতে নিজ ক্ষমতায় নবাব হন।
তাৎপর্য ও ফলাফল: তার হাত ধরেই বাংলায় স্বাধীন নবাবী যুগের সূচনা হয় যা পরবর্তী সময়ে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত বজায় ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আলী বর্দী খান
ব্যাখ্যা: মুর্শিদ কুলি খানের পর বাংলার মসনদে বসা নবাবদের মধ্যে আলী বর্দী খানও স্বাধীনভাবে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন এবং ইউরোপীয় বণিকদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অবলম্বন করেছিলেন।
উদাহরণ ২: নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা: তিনি ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব, যার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা ঘটেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শশাঙ্ক — শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার গৌড়ের প্রথম স্বাধীন রাজা, নবাব বা মুসলিম শাসন আমলের কেউ নন।
B) মুর্শিদ কুলি খান — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিনি ১৭১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
C) সিরাজউদ্দৌলা — তিনি বাংলার প্রথম নবাব নন, বরং তিনি ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।
D) আব্বাস আলী মীর্জা — এই নামে বাংলার কোনো স্বাধীন নবাবের ঐতিহাসিক অস্তিত্ব নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক আর মধ্যযুগের প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান। সাল ১৭১৭ মনে রাখলেই নবাবী আমলের শুরুটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কবে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত হয়, যার উত্তর হবে ১৭১৭ সালে মুর্শিদ কুলি খানের আমলে। একই বিষয় থেকে শেষ নবাব কে ছিলেন বা রাজধানী স্থানান্তর কে করেছিলেন—এই ধরনের প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) মুসলিম
১. কেন সঠিক:
- মুসলিম শাসকদের আগমন এবং বিশেষ করে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়ের পর থেকেই এই জনপদটি একত্রিত হয়ে বাংলা বা বাঙ্গালা নামে পরিচিত হতে শুরু করে।
- তার আগে এই অঞ্চলটি পুণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট, গৌড় ও বরেন্দ্র ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনপদে বিভক্ত ছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীনকালে বাংলা কোনো একক রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক একক ছিল না, বরং বিভিন্ন স্বাধীন জনপদে বিভক্ত ছিল। সেন ও পাল রাজাদের আমলেও সমগ্র অঞ্চলকে একক নামে ডাকার প্রচলন শুরু হয়নি।
তাৎপর্য ও ফলাফল: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসনের সূচনার পর এই অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদ একত্রিত হয় এবং সুলতানি আমলে শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে শাহ ই বঙ্গ উপাধি ধারণ করেন। এর ফলে বাংলাভাষী মানুষের জন্য একটি অভিন্ন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের শাসনকাল
ব্যাখ্যা: তিনি ১৩৪২ সালে সমগ্র বাংলার স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে শাহ ই বঙ্গ বা বাংলার শাহ বলে ঘোষণা করেন, যা এই অঞ্চলের নামকরণের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ ২: আইন ই আকবরি গ্রন্থ
ব্যাখ্যা: মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি আবুল ফজল রচিত এই গ্রন্থে সুবাহ বাংলা বা বাঙ্গালা সুবাহ হিসেবে এই অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা ও নামের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মৌর্য — মৌর্য শাসকদের আমলে এই অঞ্চলটি পুণ্ড্রবর্ধন ও সমতট জনপদে বিভক্ত ছিল এবং তখন একে বঙ্গ বা বাঙ্গালা বলা হতো না।
B) গুপ্ত — গুপ্ত রাজারা এই অঞ্চল শাসন করলেও তখন একে আলাদা জনপদ হিসেবে গৌড় বা পুণ্ড্রবর্ধন বলা হতো, বাঙ্গালা নামটির উৎপত্তি তখন হয়নি।
C) পাল — পাল রাজারা দীর্ঘ সময় বাংলা শাসন করলেও তাদের আমলেও অঞ্চলটি বরেন্দ্র, বঙ্গ ও গৌড় নামে পরিচিত ছিল, কোনো একক বাঙ্গালা নাম ছিল না।
D) মুসলিম — মুসলিম শাসকদের বিজয়ের ফলে বিভিন্ন জনপদ একীভূত হয় এবং সুলতানি আমলে এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে বাঙ্গালা নামে পরিচিত লাভ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
প্রাচীনকালে বাংলা ছিল বিভক্ত জনপদ আর মুসলিম শাসকরা এসে বাংলাকে একত্রিত করেন। তাই বাঙ্গালা নামের উৎস খুঁজলে মুসলিম শাসনের সূচনা কালকে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাকে প্রথম স্বাধীন ও একক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এবং তাকে শাহ ই বঙ্গ বলা হয়। এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন আঙ্গিকে আসে।
সঠিক উত্তর: C) বঙ্গ
১. কেন সঠিক:
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে বঙ্গ ছিল অন্যতম শক্তিশালী ও জনবহুল একটি অঞ্চল। বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ এবং পটুয়াখালী অঞ্চল নিয়ে প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ছোট ছোট জনপদে বিভক্ত ছিল এবং এদের মধ্যে বঙ্গ জনপদের নাম মহাভারতেও উল্লেখ পাওয়া যায়। ঋগ্বেদের ঐতরেয় আরণ্যকে বঙ্গ জনপদের প্রথম লিখিত উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।
তাৎপর্য ও ফলাফল: বঙ্গ জনপদের নাম থেকেই পরবর্তীতে সমগ্র দেশের নাম বাংলাদেশ বা বাংলা রাখা হয়েছে বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। এই অঞ্চলের উর্বর মাটি এবং নদীমাতৃক যোগাযোগের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই এটি বাণিজ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা ও বিক্রমপুর অঞ্চল
ব্যাখ্যা: প্রাচীন বঙ্গ জনপদের কেন্দ্রস্থল ছিল বিক্রমপুর বা বর্তমান মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা এলাকা, যা পরবর্তী সময়ে সেন রাজাদের রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছিল।
উদাহরণ ২: বাংলার নামकरण
ব্যাখ্যা: প্রাচীন বঙ্গ জনপদের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা থেকেই মূলত বাঙালি জাতি এবং বাংলা ভাষা এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান পরিচয় হিসেবে গড়ে উঠেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সমতট — এটি বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গঠিত প্রাচীন জনপদ ছিল, তাই এটি ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য নয়।
B) পুণ্ড্র — এটি বর্তমান রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত প্রাচীন জনপদ ছিল, যা উত্তর বাংলায় অবস্থিত।
D) হরিকেল — এটি বর্তমান সিলেট এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত প্রাচীন জনপদ ছিল, যা ঢাকা থেকে ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে আলাদা।
৫ মনে রাখার টিপস:
ঢাকা ও ফরিদপুর অঞ্চল প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এভাবে মনে রাখতে পারো যে, বাংলার মূল বা বঙ্গ থেকেই ঢাকা অঞ্চলের প্রাচীন পরিচয় তৈরি হয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক। এখান থেকে প্রায়ই কোন জেলা কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: A) পুণ্ড্র
১. কেন সঠিক:
- পুণ্ড্র হলো বাংলার প্রাচীনতম জনপদ, যার প্রমাণ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক গ্রন্থে পাওয়া যায়।
- বর্তমান বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদ গড়ে উঠেছিল এবং এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা বর্তমান মহাস্থানগড়।
২. বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীনকালে বাংলা একখণ্ড দেশ ছিল না, বরং ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল যাকে জনপদ বলা হতো।
- স্থান: বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ বা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে পুণ্ড্র জনপদ গঠিত ছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা: এটি পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধনের ধ্বংসাবশেষ, যা প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
উদাহরণ ২: সম্রাট অশোকের শিলালিপি
ব্যাখ্যা: মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপিতে পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর উল্লেখ রয়েছে, যা এই অঞ্চলের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুণ্ড্র — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হিসেবে স্বীকৃত।
B) তাম্রলিপ্ত — এটি প্রাচীন বাংলার অন্যতম জনপদ এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল, তবে পুণ্ড্রর চেয়ে প্রাচীন নয়।
C) গৌড় — এটি প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত জনপদ ও রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল, যা পুণ্ড্রর অনেক পরে পরিচিতি লাভ করে।
D) হরিকেল — এটি প্রাচীন বাংলার পূর্ব অংশের একটি জনপদ ছিল, যা বর্তমান সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রাচীনতম জনপদ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো পুণ্ড্র মানেই প্রথম।
- পুণ্ড্র দিয়ে প তে প্রথম এবং প তে পুণ্ড্র মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রাচীন জনপদের নাম ও তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানীর নাম কী ছিল, এই ধরনের প্রশ্ন বারবার বিভিন্ন পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘ সনদের বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। এই দিনে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মিলিত হন এবং বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (United Nations General Assembly - UNGA) হলো জাতিসংঘের প্রধান নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিত্বমূলক অঙ্গ।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৫ সাল।
সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
উদ্দেশ্য: বিশ্বশান্তি রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন
ব্যাখ্যা: ১৯৪৬ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদাহরণ ২: সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্ব
ব্যাখ্যা: বার্ষিক অধিবেশন শুরুর পর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার — এটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শুরুর নির্ধারিত সাংবিধানিক দিন।
B) অক্টোবর মাসের প্রথম মঙ্গলবার — এই তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
C) আগস্ট মাসের প্রথম সোমবার — এই দিনটি জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
D) অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার — এটি ভুল তথ্য কারণ অধিবেশন সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
জাতিসংঘের অধিবেশন শুরুর দিনটি মনে রাখতে মনে রাখবেন সেপ্টেম্বর মাস এবং সপ্তাহের সংখ্যাটি হলো তিন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার হলো অধিবেশন শুরুর দিন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসংক্রান্ত অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং অধিবেশন কোন সালে কততম, তা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) বাংলাদেশ
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ ২০২২ সালে জাতিসংঘ শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
- জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের নির্বাচন বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও বিশ্বশান্তিতে দেশের জোরালো ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: জাতিসংঘ শান্তিস্থাপন কমিশন বা ইউএন পিসবিল্ডিং কমিশন (UN Peacebuilding Commission)
- প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ প্রস্তাবে গঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা, পুনর্গঠন এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে কাজ করে আসছে।
ব্যাখ্যা: বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতিত্ব অর্জনে সহায়তা করেছে।
উদাহরণ ২: সাইপ্রাস ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অতীতে অত্যন্ত সফল নেতৃত্ব দিয়েছে।
ব্যাখ্যা: এই ধরণের সফল কূটনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রমের ফলেই আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নীতিনির্ধারণী পদে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের একটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলেও ২০২২ সালে শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়নি।
B) সুইজারল্যান্ড — সুইজারল্যান্ড জাতিসংঘের শান্তিস্থাপন কমিশনের সদস্য হতে পারে, তবে ২০২২ সালে এই পদের সভাপতিত্ব লাভ করেনি।
D) ভারত — ভারত জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শান্তি মিশনে সেনা প্রেরণ করলেও ২০২২ সালে এই কমিশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- শান্তি রক্ষা এবং শান্তিস্থাপন কমিশনের নেতৃত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নে বাংলাদেশ প্রায়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- সালটি ছিল ২০২২ এবং সংস্থাটি হলো শান্তিস্থাপন কমিশন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব বা পদপ্রাপ্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- জাতিসংঘ শান্তিস্থাপন কমিশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এই ধরনের তথ্য থেকেও প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ২০২১-২০৪১
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সময়কাল হলো ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত, যাকে রূপকল্প ২০৪১ বা ভিশন টু থাউজেন্ড ফোর্টি ওয়ান বলা হয়।
- এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তরিত করা।
২. প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
- প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে এই দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং এসডিজি অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রূপকল্প ২০২১
ব্যাখ্যা: এটি ছিল প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা যার সময়সীমা ছিল ২০১০ থেকে ২০২০ সাল এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করে।
উদাহরণ ২: পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা: প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০২১-২০৩১ — এই সময়ের কোনো সরকারি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাংলাদেশে প্রণয়ন করা হয়নি।
B) ২০২৪-২০৩২ — এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সময়সীমা নির্দেশ করে না।
D) ২০২২-২০৫০ — এটি বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর সঙ্গে বিভ্রান্ত হতে পারে যা মূলত ২১০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ এর মাঝের ব্যবধান হলো বিশ বছর।
- প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা শেষ হওয়ার পর পরই ২০২১ সাল থেকে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা শুরু হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১।
- এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।
সঠিক উত্তর: D) নয় বছর
১. কেন সঠিক:
আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) বিচারকদের কার্যকাল নয় বছর নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে আদালতের রায়ে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বিচারকরা মুক্ত থাকেন।
এই দীর্ঘ মেয়াদ বিচারকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
২. আন্তর্জাতিক আদালত সম্পর্কিত তথ্য:
- সংস্থা: আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিজে (International Court of Justice - ICJ) হলো জাতিসংঘের প্রধান বিচার বিভাগীয় অঙ্গসংস্থা।
- প্রতিষ্ঠা ও সদর দপ্তর: ১৯৪৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের পিস প্যালেসে অবস্থিত।
- বিচারক সংখ্যা: এই আদালতে মোট ১৫ জন বিচারক থাকেন এবং প্রতি তিন বছর পর পর এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫ জন বিচারক নতুন করে নির্বাচিত হন।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডালভোল্ট বেন্দারি
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনবিদ ডালভোল্ট বেন্দারি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশের জন্য একটি বড় গৌরবময় অর্জন।
উদাহরণ ২: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ ভোটে নির্বাচিত হন, যা বিচারকদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তিন বছর — এটি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের মেয়াদ নয়, তবে জাতিসংঘের অনেক অস্থায়ী কমিটি বা পর্ষদের মেয়াদ সাধারণত তিন বছর হয়ে থাকে।
B) সাত বছর — সাত বছর মেয়াদ আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য প্রযোজ্য নয়, তবে এটি কিছু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশেষ আন্তর্জাতিক পদের মেয়াদ হতে পারে।
setC) চার বছর — চার বছর মেয়াদ সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির কার্যকাল বা অনেক স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইসিজেতে নয়।
D) নয় বছর — এই অপশনটি সঠিক কারণ আইসিজে বিচারকদের কার্যকাল সংবিধান অনুযায়ী ঠিক নয় বছর নির্ধারিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
আন্তর্জাতিক আদালতের ইংরেজি নামের অক্ষর সংখ্যা বা এর গঠন মনে রাখতে পারেন যে, এর বিচারকদের মেয়াদ জাতিসংঘের অন্য সাধারণ সংস্থার চেয়ে দীর্ঘ অর্থাৎ নয় বছর হয়।
১৫ জন বিচারক এবং প্রত্যেকের মেয়াদ নয় বছর, এই সংখ্যা দুটি মনে রাখলে বিসিএস পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকরা পুনরায় নির্বাচিত হতে পারেন এবং এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিচারকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।
একই বিষয় থেকে অন্য প্রশ্ন আসতে পারে যে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক সংখ্যা কত বা এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: B) ২ বছর
১. কেন সঠিক:
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই বছর করে। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সংস্থার প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সমতা নিশ্চিত করতে এবং কার্যক্রমে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখতে এই নিয়ম রাখা হয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
সংস্থা: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা ইউএনএসসি জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি অঙ্গসংস্থার একটি।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো কনফারেন্সে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক শহর, যুক্তরাষ্ট্র।
সদস্যসংখ্যা: নিরাপত্তা পরিষদে মোট পনেরোটি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং দশটি অস্থায়ী।
গুরুত্ব: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার মূল দায়িত্ব এই পরিষদের ওপর ন্যস্ত।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য।
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ অতীতে একাধিকবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে যা দেশের কূটনীতির বড় সাফল্য।
উদাহরণ ২: জাপান নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য।
ব্যাখ্যা: জাপান জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অবদান রাখা দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী সদস্যপদ পায়নি এবং বারবার অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ বছর — আন্তর্জাতিক সংস্থায় সাধারণত এক বছর মেয়াদের পদ বিরল এবং নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মেয়াদকাল দীর্ঘ হয়।
C) ৪ বছর — আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা জাতিসংঘের কোনো প্রধান অঙ্গসংস্থার সদস্য পদের ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদ সাধারণত প্রযোজ্য নয়।
D) ৫ বছর — জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ এক বছর এবং বিচারকদের মেয়াদ নয় বছর হলেও অস্থায়ী সদস্যের মেয়াদ পাঁচ বছর নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের মেয়াদ মনে রাখতে সংখ্যা দুই বা জোড় সংখ্যা মনে রাখতে পারেন কারণ মোট সদস্য পনেরো জনের মধ্যে দশটি অস্থায়ী সদস্য প্রতি বছর পাঁচজন করে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি দেশের নাম এবং অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনের ভৌগোলিক বণ্টন থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: A) নিউইয়র্ক
১. কেন সঠিক:
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ঐতিহাসিক কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কনসার্টের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ববাসীর নজর আকর্ষণ করা এবং শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ঘটনা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিশ্বজনমত গঠন।
স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর।
উদ্যোক্তা: সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও বিটলসখ্যাত সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
গুরুত্ব: এই কনসার্ট বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে প্রবল জনমত তৈরি করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা: তিনি বাংলাদেশের পক্ষে গান গেয়ে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন।
উদাহরণ ২: পণ্ডিত রবি শঙ্কর
ব্যাখ্যা: তিনি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে এই কনসার্ট আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংকট তুলে ধরেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিউইয়র্ক — এই অপশনটি সঠিক কারণ এখানেই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
B) বোস্টন — এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি শহর, যেখানে এই ঐতিহাসিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়নি।
C) লন্ডন — যুক্তরাজ্যে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও এই কনসার্টটি এখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।
D) ক্যানবেরা — এটি অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, ১৯৭১ সালের এই কনসার্টের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে।
এটি মনে রাখতে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের নাম এবং জর্জ হ্যারিসনের অবদান একসঙ্গে স্মরণ করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠন সম্পর্কিত চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই বিষয় থেকে কনসার্টের আয়োজক এবং এর সাল সম্পর্কিত প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) হংকং
১. কেন সঠিক:
হংকং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য নয়, কারণ এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র নয় বরং চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল।
এশিয়ার অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে আসিয়ান এবং হংকং সম্পূর্ণ আলাদা প্রেক্ষাপটে পরিচিত দুটি নাম।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
সংস্থা: আসিয়ানের পূর্ণ রূপ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট ব্যাংকক ঘোষণা চুক্তির মাধ্যমে এটি গঠিত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা: সিঙ্গাপুর আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অত্যন্ত উন্নত স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র।
উদাহরণ ২: চীন
ব্যাখ্যা: চীন আসিয়ানের অংশ নয়, তবে সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং হংকং চীনেরই অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাওস — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং আসিয়ানের পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
B) হংকং — এটি কোনো স্বাধীন দেশ নয় এবং আসিয়ানের সদস্যপদের তালিকার বাইরে অবস্থান করছে।
C) ভিয়েতনাম — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সার্বভৌম দেশ এবং আসিয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
D) কম্বোডিয়া — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং আসিয়ানের একটি সক্রিয় সদস্য দেশ।
৫ মনে রাখার টিপস:
আসিয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাধীন দেশগুলোর জোট, তাই হংকং বা ম্যাকাওয়ের মতো বিশেষ অঞ্চলের এখানে সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।
সদস্য দেশগুলো মনে রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানচিত্র এবং রাজনৈতিক ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আসিয়ানের মোট সদস্য দেশ সংখ্যা দশটি এবং তিমুর ল্লেসেকে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কোন দেশটি আসিয়ানভুক্ত নয়, এই ধরনের প্রশ্ন বিকল্প পরিবর্তন করে বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: C) চীন
১. কেন সঠিক:
- নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি হলো চীনের সাম্প্রতিককালের আক্রমণাত্মক ও জোরালো বৈদেশিক নীতির একটি রূপ।
- পশ্চিমা সমালোচকদের আক্রমণ বা চীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাবে বেইজিংয়ের কূটনীতিকরা এই आಕ್ರಮণাত্মক ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- দেশ বা সংস্থা: চীন ও দেশটির কূটনৈতিক কৌশল।
- প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সাল থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিকরা এই আগ্রাসী ধারা বা শৈলী ব্যবহার করতে শুরু করেন।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীনের স্বার্থরক্ষা এবং পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঝাও লিজিয়ান
ব্যাখ্যা: চীনের এই আক্রমণাত্মক কূটনীতির অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান।
উদাহরণ ২: হু ইঝিন
ব্যাখ্যা: গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার সাবেক সম্পাদক হু ইঝিন এই কূটনৈতিক ধারাকে সমর্থন করে বিভিন্ন কড়া মন্তব্য করতেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিয়েতনাম — ভিয়েতনাম তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যালেন্স কূটনীতি বা বাঁশের কূটনীতি অনুসরণ করে, নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি নয়।
B) উত্তর কোরিয়া — উত্তর কোরিয়া মূলত পারমাণবিক হুমকি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি অনুসরণ করে, নির্দিষ্ট এই কূটনৈতিক ধারার সঙ্গে তারা যুক্ত নয়।
C) চীন — এটি সঠিক উত্তর।
D) রাশিয়া — রাশিয়া আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করলেও তাদের কূটনীতি এই বিশেষ নামে পরিচিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- নেকড়েযোদ্ধা বা উলফ ওয়ারিয়র শব্দটি শুনলেই চীনের জনপ্রিয় মারামারি বা অ্যাকশন সিনেমার কথা মনে রাখতে পারেন, যা থেকে এই কূটনীতির নামকরণ হয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের কূটনীতি কোন দেশের সঙ্গে যুক্ত, তা বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং কূটনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ১৯৪৮, ফ্রান্স
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি সঠিক কারণ আইইউসিএন বা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ ১৯৪৮ সালে ফ্রান্সের ফন্টেইনব্লো শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারে কাজ করা বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম পরিবেশ বিষয়ক নেটওয়ার্ক এটি।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
- সংস্থা: International Union for Conservation of Nature (IUCN)
- প্রতিষ্ঠা/তারিখ: ৫ই অক্টোবর, ১৯৪৮
- স্থান/সদর দপ্তর: গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড
- প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৈশ্বিক স্তরে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এটি গঠিত হয়।
- উদ্দেশ্য/গুরুত্ব: জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীকে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা এর প্রধান লক্ষ্য।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রেড লিস্ট বা লাল তালিকা
ব্যাখ্যা: আইইউসিএন প্রকাশিত লাল তালিকা বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সূচক হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত।
উদাহরণ ২: স্টকহোম সম্মেলন ১৯৭২
ব্যাখ্যা: পরিবেশ সুরক্ষার আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এটি প্রথম বড় সম্মেলন যার পেছনে আইইউসিএন এর দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক কাজের ভূমিকা ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৯৪৮, ফ্রান্স — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই ফন্টেইনব্লোতে আইইউসিএন প্রতিষ্ঠিত হয়।
B) ১৯৪৯, সুইজারল্যান্ড — এই সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যদিও বর্তমানে এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
C) ১৯৬১, রোম — এই সালে রোমে ডব্লিউডব্লিউএফ বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইলডলাইফ ফাণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আইইউসিএন এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
D) ১৯৫২, লন্ডন — এই সালে আইইউসিএন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এটি একটি ভুল সাল ও স্থান।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আইইউসিএন প্রতিষ্ঠার সাল মনে রাখতে ১৯৪৮ মনে রাখুন এবং প্রতিষ্ঠার দেশ হিসেবে ফ্রান্সের শিল্পসমৃদ্ধ শহর ফন্টেইনব্লো মনে রাখুন।
- সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্ল্যান্ডে হলেও এর জন্ম হয়েছিল ফ্রান্সে, এই পার্থক্যটি মনে রাখা পরীক্ষার জন্য খুব জরুরি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর ও প্রতিষ্ঠার সাল প্রায়ই আসে।
- আইইউসিএন এর বিখ্যাত প্রকাশনা রেড লিস্ট সম্পর্কে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: A) জর্দান ও মিশর
১. কেন সঠিক:
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরের ফলশ্রুতিতে আরব বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭৯ সালে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্দান এই চুক্তি অনুসরণ করে।
এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে একটি নতুন মোড় এনে দিয়েছিল এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতিদানকারী আরব দেশগুলোর পথ সুগম করেছিল।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও পটভূমি:
চুক্তি বা সম্মেলনের নাম: ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
তারিখ ও স্থান: ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সংশ্লিষ্ট দেশ বা সংস্থা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
প্রধান উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আব্রাহাম অ্যাকর্ড
ব্যাখ্যা: ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, যা ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরবর্তী আধুনিক কূটনৈতিক অগ্রগতি।
উদাহরণ ২: অসলো চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৯৩ সালে ইসরাইল ও পিএলও এর মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল, যা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জর্দান ও মিশর — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দুটি দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।
B) কুয়েত ও বাহরাইন — বাহরাইন পরবর্তীকালে সম্পর্ক স্থাপন করলেও কুয়েত আজও ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্জন করে আসছে।
C) লিবিয়া ও ওমান — লিবিয়া বা ওমান ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি।
D) তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া — তিউনিসিয়া আংশিক যোগাযোগ রাখলেও আলজেরিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
মিশর হলো প্রথম আরব দেশ যারা ১৯৭৯ সালে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় এবং জর্দান দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে সম্পর্ক স্থাপন করে।
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি মানেই মিশর এবং জর্দানের ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ইতিহাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবকাশ যাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিতে এবং এর মধ্যস্থতাকারী ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তি এবং আরব-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) তিউনিশিয়া
১. কেন সঠিক:
- আরব বসন্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তিউনিশিয়া থেকে।
- স্বৈরাচারী শাসন, দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই গণঅভুত্থান দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
- দেশ বা অঞ্চল: উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া।
- প্রেক্ষাপট: ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে তিউনিশিয়ার তরুণ মোহাম্মদ বৌয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দেন।
- গুরুত্ব: এই ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণআন্দোলন তিউনিশিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক জয়নাল আবেদিন বেন আলীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করে এবং আরব বসন্তের জন্ম দেয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিশর
ব্যাখ্যা: তিউনিশিয়ার পর আরব বসন্তের ঢেউ মিশরে আছড়ে পড়ে এবং হোসনি মোবারকের দীর্ঘ ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
উদাহরণ ২: লিবিয়া
ব্যাখ্যা: আরব বসন্তের প্রভাবে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মিশর — মিশর আরব বসন্তের একটি প্রধান কেন্দ্র হলেও আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়নি।
B) তিউনিশিয়া — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানেই প্রথম আন্দোলন সফল হয়।
C) লিবিয়া — লিবিয়াতে আরব বসন্তের প্রভাব পরে আসে এবং তীব্র গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি হয়।
D) সিরিয়া — সিরিয়াতে আরব বসন্তের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- আরব বসন্তের শুরু তিউনিশিয়া থেকে।
- তিউনিশিয়ার প্রথম অক্ষর ত এবং সূচনা শব্দের প্রথম অক্ষর ত এভাবে মনে রাখা যেতে পারে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মোহাম্মদ বৌয়াজিজি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, এমন প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে।
- আরব বসন্ত কোন সালে শুরু হয়েছিল, তা মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) পাকিস্তান ও ভারত
১. কেন সঠিক:
তাসখন্দ চুক্তি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি।
সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় উজবেকিস্তানের তৎকালীন তাসখন্দ শহরে এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ঐতিহাসিক পটভূমি:
চুক্তির নাম: তাসখন্দ ঘোষণা বা তাসখন্দ চুক্তি।
তারিখ ও স্থান: ১০ জানুয়ারি ১৯৬৬, তাসখন্দ, সোভিয়েত ইউনিয়ন।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ: ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান।
প্রধান উদ্দেশ্য: ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর দুই দেশের হারানো কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং সৈন্য প্রত্যাহার।
গুরুত্ব: এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ ১৯৬৫ সালের পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরে যেতে সম্মত হয় এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শিমলা চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৭২ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত হয়।
উদাহরণ ২: ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯৭৮ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে মোড় পরিবর্তন করেছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান — এই দেশ দুটির মধ্যে ডুরান্ড লাইন সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তবে তাসখন্দ চুক্তির সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।
B) ভারত ও আফগানিস্তান — এই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তবে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি এদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়নি।
C) পাকিস্তান ও ভারত — এটি সঠিক উত্তর কারণ ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর এই দুই দেশের মধ্যেই তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
D) আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়ন — সোভিয়েত ইউনিয়ন এই চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ ছিল, স্বাক্ষরকারী পক্ষ ছিল না।
৫ মনে রাখার টিপস:
তাসখন্দ চুক্তি মনে রাখার সহজ উপায় হলো মনে রাখা যে এটি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সমাপ্তি টেনেছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় এটি হয়েছিল এবং এর পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দেই মারা যান।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
তাসখন্দ চুক্তি কোন সালে স্বাক্ষরিত হয় তা প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় আসে।
একই বিষয় থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে এই চুক্তির সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন বা মধ্যস্থতা কোন দেশ করেছিল।
সঠিক উত্তর: C) দাভোস
১. কেন সঠিক:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা WEF এর বার্ষিক সাধারণ সভা সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার পর্যটন শহর দাভোস এ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
- সংস্থা: World Economic Forum বা WEF
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭১ সাল
- সদর দপ্তর: কলোগনি, সুইজারল্যান্ড
- প্রতিষ্ঠাতা: ক্লাউড শোয়াব
- গুরুত্ব: বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং শিল্প খাতকে রূপ দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান ভূমিকা রয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন।
উদাহরণ ২: জি২০ শীর্ষ সম্মেলন
ব্যাখ্যা: এটি বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ফোরামের বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্যারিস — এটি ফ্রান্সের রাজধানী এবং ইউনেস্কোর সদর দপ্তর হলেও ডব্লিউইএফ এর বার্ষিক অধিবেশন এখানে হয় না।
B) জুরিখ — এটি সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ও আর্থিক কেন্দ্র হলেও ডব্লিউইএফ এর বার্ষিক সভা এখানে বসে না।
C) দাভোস — এটি সঠিক উত্তর।
D) বার্ন — এটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী হলেও এটি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের স্থান নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরটি ডব্লিউইএফ বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভার জন্য বিখ্যাত।
- জুরিখ বা বার্ন রাজধানী বা বড় শহর হলেও দাভোসই অর্থনৈতিক ফোরামের স্থায়ী মিলনমেলা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কে এবং এর সদর দপ্তর কোথায়, তা প্রায়শই বিসিএস পরীক্ষায় আসে।
- একই বিষয় থেকে ফোরামের বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন বা গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট প্রকাশের সংস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) জর্দান
১. কেন সঠিক:
- ডি-৮ বা উন্নয়নশীল আটটি দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণ সদস্য জর্দান নয়।
- জর্ডানের পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরান ও মিশর এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থা:
- সংস্থা: ডি-৮ (Developing-8) বা উন্নয়নশীল আটটি দেশ।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ইস্তাম্বুল, তুরস্ক।
- সদস্যদেশ: মোট আটটি দেশ, যথা বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক।
- উদ্দেশ্য: উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করা।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাংলাদেশ ও ডি-৮
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ ডি-৮ সংস্থার একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জোরালো ভূমিকা রাখছে।
উদাহরণ ২: ইরান ও মিশর
ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম প্রধান দেশ ডি-৮ এর সদস্য হলেও জর্দান এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জর্দান — জর্দান ডি-৮ সংস্থার সদস্য নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
B) ইরান — ইরান ডি-৮ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ, তাই এটি ভুল অপশন।
C) মিশর — মিশর ডি-৮ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ, তাই এটি ভুল অপশন।
D) মালয়েশিয়া — মালয়েশিয়া ডি-৮ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ, তাই এটি ভুল অপশন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ডি-৮ সদস্য মনে রাখার সহজ সূত্র হলো এশিয়া ও আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরান ও মিশর থাকলেও জর্দান এই জোটে নেই।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ডি-৮ এর সদর দপ্তর কোথায় এবং এর সদস্য কয়টি, এই দুটি প্রশ্ন বিসিএস ও ব্যাংকের পরীক্ষায় বারবার আসে।
- এই জোটের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পর্কে পরীক্ষার্থীদের ধারণা থাকা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: B) প্রাচীন গ্রিস
১. কেন সঠিক:
গণতন্ত্র শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ডেমোক্রেসিয়া থেকে যার অর্থ জনগণের শাসন। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগররাষ্ট্রে প্রথম প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
দেশ: প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগররাষ্ট্র।
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী।
প্রেক্ষাপট: এথেন্সের স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিত।
গুরুত্ব: এটি আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এথেনীয় গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা: এটি ছিল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র যেখানে প্রতিনিধি নির্বাচন না করে নাগরিকরা সরাসরি সভায় ভোট দিত।
উদাহরণ ২: আধুনিক গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা: প্রাচীন প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিবর্তিত রূপ হলো বর্তমান যুগের পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যুক্তরাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম পুরনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও গণতন্ত্রের ধারণাটি এখানে প্রথম সৃষ্টি হয়নি।
B) প্রাচীন গ্রিস — এই অপশনটি সঠিক কারণ এথেন্সেই প্রথম গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন ঘটেছিল।
C) প্রাচীন রোম — প্রাচীন রোমে রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের পর প্রজুতন্ত্র বা রিপাবলিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছিল, যা গণতন্ত্র থেকে আলাদা।
D) প্রাচীন ভারত — প্রাচীন ভারতে কিছু গণরাজ্য বা সংঘ ছিল, তবে সামগ্রिक অর্থে বর্তমান ধারণার গণতন্ত্রের উৎস প্রাচীন গ্রিসকেই ধরা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
গ্রিস শব্দের শুরুতে গ আছে এবং গণতন্ত্র শব্দের শুরুতেও গ আছে। এভাবে মনে রাখা যায় যে গণতন্ত্রের জন্ম প্রাচীন গ্রিসেই হয়েছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার কোনটি। উত্তর হবে প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স।
সঠিক উত্তর: D) ইউক্রেন
১. কেন সঠিক:
ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটি বা চেরনেজেম মাটির কারণে দেশটিতে প্রচুর পরিমাণে গম, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় ইউক্রেনকে ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
২. আন্তর্জাতিক তথ্য:
দেশ: ইউক্রেন পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র এবং আয়তনের দিক থেকে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
ভৌগোলিক গুরুত্ব: দেশটির উর্বর কৃষিভূমি এবং কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো বিশ্ব খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
ব্যাখ্যা: এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য ও সারের সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ ২: কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তি।
ব্যাখ্যা: ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে নিরাপদে খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জার্মানি — এটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান শিল্পপ্রধান দেশ এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, কৃষিভিত্তিক পরিচিতির জন্য একে রুটির ঝুড়ি বলা হয় না।
B) ইতালি — এটি দক্ষিণ ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় উপদ্বীপের একটি দেশ, যা শিল্প, পর্যটন এবং ফ্যাশনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
C) পোল্যান্ড — এটি মধ্য ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যা অর্থনীতি এবং উৎপাদনের জন্য পরিচিত হলেও রুটির ঝুড়ি উপাধিতে ভূষিত নয়।
D) ইউক্রেন — এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
ইউক্রেনের মাটির রঙ কালো এবং এই কালো মাটিতে প্রচুর শস্য ফলে।
মাটির উর্বরতা এবং অতিরিক্ত শস্য উৎপাদনের সঙ্গে রুটির ঝুড়ি উপাধিটি মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং মুদ্রা হ্রিভনিয়া।
কৃষি উৎপাদন এবং কৃষ্ণসাগরীয় ভূরাজনীতি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোতে এই দেশটি প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: B) ২০২৬
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর নির্ধারিত ছিল।
- ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই এর কার্যকারিতা শুরু হয় এবং এটি ২০২৬ সালে শেষ হবে।
২. আন্তর্জাতিক চুক্তি:
- চুক্তির নাম: গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি।
- প্রতিষ্ঠা বা তারিখ: ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেవె గౌড়া চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।
- স্থান: নয়াদিল্লি, ভারত।
- প্রেক্ষাপট: ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর থেকেই গঙ্গাজলের হিস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলে আসছিল।
- উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব: শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি উভয় দেশের মধ্যে সুষম বণ্টনের রূপরেখা তৈরি করা।
- ফলাফল বা প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানের একটি অন্যতম বড় উদাহরণ এটি।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত নদীর পানিবণ্টন চুক্তি যা ভূরাজনীতির জন্য অত্যন্ত আলোচিত।
উদাহরণ ২: সিন্ধু পানি চুক্তি।
ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনার একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০৪০ — এটি সঠিক নয় কারণ চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি ছিল এবং ১৯৯৬ সাল থেকে গণনা করলে এটি ২০৪০ সালে শেষ হয় না।
B) ২০২৬ — এই অপশনটি সঠিক এবং চুক্তিটির সমাপ্তি বছর হিসেবে নির্ধারিত।
C) ২০২৪ — এই অপশনটি সঠিক নয় কারণ চুক্তিটি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।
D) ৩০৩০ — এটি সঠিক নয় কারণ এটি ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদকালকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং শতাব্দীকাল পরে নির্দেশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গঙ্গার পানি চুক্তি ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ছিল ৩০ বছর।
- ১৯৯৬ এর সাথে ৩০ যোগ করলেই ২০২৬ সাল পাওয়া যায় যা চুক্তি শেষের বছর।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই চুক্তিটি কোন নদীর পানি বণ্টনের সাথে জড়িত তা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের সাল এবং মেয়াদকাল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সঠিক উত্তর: C) গ্লাসগো
১. কেন সঠিক:
COP-২৬ বা জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ছিল জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশনের ছাব্বিশতম বার্ষিক সম্মেলন।
২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও পরিবেশ চুক্তি:
সম্মেলন: কপ-২৬ (COP-26) বা ২৬তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ।
তারিখ ও স্থান: ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা এবং কার্বণ নিঃসরণ কমানোর নতুন ও কঠোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা।
ফলাফল: গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দেশগুলো কয়লার ব্যবহার কমানোর বিষয়ে একমত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কপ-২১ (COP-21)
ব্যাখ্যা: ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উদাহরণ ২: কপ-২৮ (COP-28)
ব্যাখ্যা: ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার ঐতিহাসিক রূপরেখা গৃহীত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেনেভা — এটি সুইজারল্যান্ডের একটি শহর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর, তবে এখানে কপ-২৬ অনুষ্ঠিত হয়নি।
B) প্যারিস — এটি ফ্রান্সের রাজধানী যেখানে ২০১৫ সালে জলবায়ু বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কপ-২১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
C) গ্লাসগো — এটি সঠিক উত্তর কারণ ২০২১ সালের কপ-২৬ সম্মেলন এই স্কটিশ শহরেই অনুষ্ঠিত হয়।
D) ব্রাসেলস — এটি বেলজিয়ামের রাজধানী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর, যা জলবায়ু সম্মেলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
গ্লাসগো শব্দটি মনে রাখুন স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এবং কপ-২৬ মানেই ২০২১ সালের যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন।
প্যারিস চুক্তির সাল ২০১৫ এবং গ্লাসগো সম্মেলনের সাল ২০২১, এই দুটি ভালোভাবে মনে রাখলে পরীক্ষা ভুল হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কপ সম্মেলন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম।
পরীক্ষায় প্রায়ই বিগত বা পরবর্তী কপ সম্মেলনের শহর বা দেশের নাম জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: B) বলিভিয়া
১. কেন সঠিক:
বলিভিয়া দক্ষিণ আমেরিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ এবং এটি ভেনিজুয়েলার সরাসরি প্রতিবেশী নয়। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত ভেনিজুয়েলার সীমানা মূলত পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে কলম্বিয়া এবং পূর্বে গায়না ও ব্রাজিলের সাথে যুক্ত।
২. ভূরাজনৈতিক তথ্য:
দেশ: বলিভিয়া ও ভেনিজুয়েলা উভয়ই দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত এবং স্প্যানিশ ভাষাভাষী রাষ্ট্র।
সীমান্ত ও অবস্থান: ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বলিভিয়া আরও দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর মাঝে ব্রাজিল বা অন্যান্য দেশের ব্যবধান রয়েছে।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দক্ষিণ আমেরিকার ভূগোল।
ব্যাখ্যা: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন দেশের সীমানা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, যা মানচিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক বিন্যাস।
ব্যাখ্যা: লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোর সীমানা এবং স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর অবস্থান জানা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূগোলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গায়না — এটি ভেনিজুয়েলার পূর্ব দিকের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং গায়নার সাথে ভেনিজুয়েলার ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।
B) বলিভিয়া — এটি দক্ষিণ আমেরিকার অন্য একটি দেশ হলেও ভেনিজুয়েলার সরাসরি সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত নয়।
C) ব্রাজিল — এটি ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বিশাল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলার সাথে এর দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
D) কলম্বিয়া — এটি ভেনিজুয়েলার পশ্চিম দিকের মূল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দুই দেশের মধ্যে নিবিড় রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
ভেনিজুয়েলার সীমানা মনে রাখার জন্য উত্তর ও পূর্বের প্রতিবেশী দেশগুলোর নাম মনে রাখা সহজ। বলিভিয়া কিছুটা দূরে অবস্থিত হওয়ায় এটি প্রতিবেশী নয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
দক্ষিণ আমেরিকার স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর নাম এবং তাদের সীমানা থেকে প্রায়ই বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগে প্রশ্ন আসে। মানচিত্র দেখে পড়লে এই ধরনের প্রশ্ন সহজে উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: C) ২০১৪
১. কেন সঠিক:
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ সামরিক অভিযانের মাধ্যমে দখল ও নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্নায়ুযুদ্ধের পরবর্তী সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. যুদ্ধ, সংঘাত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
সংঘাতের পক্ষ: রাশিয়া এবং ইউক্রেন।
সময়কাল: ফেব্রুয়ারি ও মার্চ ২০১৪।
প্রেক্ষাপট: ইউক্রেনের তৎকালীন রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিক গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাশিয়া এই সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
ফলাফল/প্রভাব: ক্রিমিয়ায় একটি বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ঘটে এবং এর ফলে রাশিয়া জি-আট জোট থেকে বহিষ্কৃত হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কসোভো সংকট
ব্যাখ্যা: কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি ক্রিমিয়া সংকটের সঙ্গে তুলনীয়।
উদাহরণ ২: জর্জিয়া যুদ্ধ ২০০৮
ব্যাখ্যা: রাশিয়া ও জর্জিয়ার মধ্যে দক্ষিণ ওসেটিয়া নিয়ে যুদ্ধ যা ক্রিমিয়া সংকটের পূর্ববর্তী সামরিক পদক্ষেপ ছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০১০ — এই সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করেনি, এটি ইউক্রেনের অংশ ছিল।
B) ২০১২ — এই সালে ইউক্রেনের সঙ্গে ক্রিমিয়া নিয়ে রাশিয়ার কোনো সামরিক সংঘাত হয়নি।
C) ২০১৪ — এটি সঠিক উত্তর।
D) ২০১৬ — ক্রিমিয়া দখলের ঘটনাটি এর আগেই ২০১৪ সালে ঘটেছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ক্রিমিয়া সংকট ফুটবল বিশ্বকাপের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে ঘটেছিল।
সালটি মনে রাখতে ২০১৪ সালের ইউক্রেন বিপ্লব এবং ক্রিমিয়া সংযুক্তি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি সীমান্ত বিরোধ, যুদ্ধ ও সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে বিসিএস পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
কেন সঠিক:
১. এই স্থানে দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যা স্থানীয় খনির কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
২. এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. এটি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ভূগর্ভস্থ কয়লা খনিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
২. এই এলাকার খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা সরাসরি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় যা দেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় যা দেশের উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কৃষিতে সেচ কার্য চালাতে সাহায্য করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি — এটি রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়।
B) সাভার, ঢাকা — এটি ঢাকার কাছে একটি শিল্প এলাকা হলেও এখানে দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি।
C) সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম — এটি চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি ও শিল্প এলাকা হলেও এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
D) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর — এই অপশনটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশের প্রথম কয়লা খনি এবং প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উভয়ই দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত তাই কয়লা বললেই দিনাজপুর মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) পাললিক শিলায়
কেন সঠিক:
- এই শিলা পলি স্তর হিসেবে সঞ্চিত হয় এবং জীবদেহ সহজে এর মাঝে ঢাকা পড়ে যেতে পারে।
- পাললিক শিলা তৈরির সময় তাপমাত্রা ও চাপ কম থাকায় জীবাশ্ম পুড়ে বা নষ্ট হয়ে যায় না।
ভৌগোলিক তথ্য:
- ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে এই শিলা বিস্তৃত রয়েছে।
- এটি মূলত নদী, হ্রদ ও সমুদ্রের তলদেশে পলি জমা হয়ে গঠিত হয়।
- এর প্রধান উদাহরণ হলো বেলেপাথর, চুনাপাথর ও শেল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আগ্নেয় শিলা — এই শিলা প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও তরল ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে গঠিত হয় বলে জীবদেহ ধ্বংস হয়ে যায়।
B) রূপান্তরিত শিলা — অতিরিক্ত তাপ ও চাপের কারণে এই শিলার ভেতরের জীবাশ্ম নষ্ট বা পুড়ে যায়।
C) পাললিক শিলা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি ভুল।
D) কোনটিই নয় — সঠিক উত্তর পাললিক শিলা অপশনে থাকায় এটি প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
পলি জমে তৈরি হয় পাললিক শিলা এবং পলি দিয়েই ঢাকা পড়ে জীবাশ্ম।
সঠিক উত্তর: B) ভূমিকম্প
কেন সঠিক:
১. পৃথিবীর অভ্যন্তরে শিলায় হঠাৎ চাপ বৃদ্ধি পেয়ে শক্তি মুক্তি ঘটলে ভূমিকম্প হয়, যার সঠিক সময় ও মাত্রা আগে থেকে নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন।
২. ভূগর্ভস্থ প্লেটের সরণের সুনির্দিষ্ট গতিপ্রকৃতি আগে থেকে মাপা সম্ভব না হওয়ায় ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস দেওয়া আজ অব্দি বিজ্ঞানীদের পক্ষে অসম্ভব রয়ে গেছে।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. ভূমিকম্পের উৎসস্থলকে কেন্দ্র বা ফোকাস এবং ঠিক তার ওপরের ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে উপকেন্দ্র বা এপিসেন্টার বলা হয়।
২. সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা হয় এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা প্রকাশ করা হয়।
৩. ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল ও আন্দামান নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বন্যা — নদী অববাহিকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে নদীর জলস্তর বৃদ্ধির তথ্য আগে থেকেই জানা সম্ভব হয়।
B) ভূমিকম্প — ভূত্বকের নিচে শিলাচ্যুতির সঠিক মুহূর্ত ও স্থান আগে থেকে নির্দিষ্ট করা বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও সম্ভব হয়নি।
C) ঘূর্ণিঝড় — উপগ্রহ চিত্র এবং রাডার প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি লক্ষ করে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আগে থেকেই দেওয়া যায়।
𝐷) খরা — দীর্ঘকাল ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে খরার পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
মনে রাখার টিপস:
প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার আগাম পূর্বাভাস পেলেও ভূমিকম্প হলো আকস্মিক যা কেউ বলতে পারে না।
সঠিক উত্তর: D) পুনরুদ্ধার
কেন সঠিক:
দুর্যোগের পরে ভেঙে পড়া পরিকাঠামো যেমন রাস্তাঘাট, সেতু ও বাড়িঘর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রচুর আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন হয়।
হতাহতদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই ধাপে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে প্রশমন, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান এবং পুনরুদ্ধার এই চারটি মূল পর্যায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতির ওপর নির্ভর করে এই চক্রের প্রতিটি ধাপের কার্যপদ্ধতি নির্ধারিত হয়।
১৯৯৫ সালের কোবে ভূমিকম্পের পর জাপানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পূর্বপ্রস্তুতি — এই ধাপে মূলত সচেতনতা বৃদ্ধি, মহড়া এবং পরিকল্পনা তৈরি করা হয় যা তুলনামূলকভাবে কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব।
B) সাড়াদান — জরুরি অবস্থার সময় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে খরচ হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠনের খরচের তুলনায় অনেক কম।
C) প্রশমন — ঝুঁকি হ্রাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা হলেও তা পুনরুদ্ধারের মতো তাৎক্ষণিক বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি করে না।
D) পুনরুদ্ধার — এই অপশনটি সঠিক কারণ ধ্বংসস্তূপ অপসারণ থেকে শুরু করে নতুন পরিকাঠামো তৈরিতে সরকারের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করতে হয়।
মনে রাখার টিপস:
দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় খরচ কম হয়, কিন্তু দুর্যোগের পরে সবকিছু নতুন করে গড়তে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়।
সঠিক উত্তর: C) বায়ু
কেন সঠিক:
বায়ুর প্রবাহ কখনও শেষ হয় না কারণ প্রকৃতিতে এটি বারবার ফিরে আসে।
এটি ব্যবহার করলে তা ফুরিয়ে যায় না এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।
ভৌগোলিক তথ্য:
বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের একটি বিশাল স্তর যা মহাকর্ষ বলের টানে ধরে থাকে।
এটি পৃথিবীর জলবায়ু ও আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন এই স্তরের প্রধান দুটি উপাদান।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রাকৃতিক গ্যাস — এটি একটি অফুরন্ত সম্পদ নয় এবং জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে ভূগর্ভে সীমিত পরিমাণে জমা থাকে।
B) চুনাপাথর — এটি একবার ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায় এবং এটি একটি শিলাভিত্তিক খনিজ সম্পদ।
D) কয়লা — এটি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় এবং কোটি কোটি বছরে তৈরি হওয়ায় এটি দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
মনে রাখার টিপস:
যে সম্পদ ব্যবহার করার পরেও ফুরিয়ে যায় না এবং পুনরায় তৈরি হয় তাকে নবায়নযোগ্য সম্পদ বলে।
সূর্য, পানি ও বায়ুর মতো প্রাকৃতিক উপাদানগুলো সবসময় নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে গণ্য হয়।
সঠিক উত্তর: C) তিতাস
কেন সঠিক:
১. তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি উৎপাদনের পরিমাণ এবং মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত।
২. এই গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের একটি বিশাল অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
১. এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এবং এর নামকরণ করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী তিতাস নদীর নামানুসারে।
২. ১৯৬২ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় এবং পরের বছর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
৩. বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে বর্তমানে এর উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাখরাবাদ — এটি কুমিল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র হলেও তিতাসের তুলনায় এর আয়তন এবং উৎপাদন ক্ষমতা কম।
B) হরিপুর — এটি সিলেটের হরিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, যা আকারে তিতাসের চেয়ে ছোট।
D) হবিগঞ্জ — এটি একটি অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হলেও এটি তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মতো বৃহত্তম খেতাব অর্জন করেনি।
মনে রাখার টিপস:
সবচেয়ে বড় গ্যাসের নাম মনে রাখতে "তি" দিয়ে তিতাস এবং "তি" দিয়ে বৃহত্তম শব্দটি মনে রাখতে পারো।
সঠিক উত্তর: D) সেচ প্রকল্প
কেন সঠিক:
জি-কে প্রকল্প বা গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে কৃষီ জমিতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সরবরাহ করা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলার বিশাল এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর আওতাধীন সেচ এলাকা প্রায় এক লক্ষ ৯৭ হাজার হেক্টর।
এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থা যা মূলত গঙ্গা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।
পাবনা সেচ প্রকল্প বা তিস্তা সেচ প্রকল্পের মতো এটি দেশের কৃষিপাল উৎপাদনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প — এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা নয়, তাই এটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে পারে না।
B) নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প — নদী ভাঙন রোধ বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ এর মূল কাজ নয়, এর প্রধান লক্ষ্য কৃষিকাজে পানি দেওয়া।
C) জল পরিবহন প্রকল্প — এটি কোনো নৌপথ বা জলপথ যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়নি, তাই এটি পরিবহন প্রকল্প নয়।
D) সেচ প্রকল্প — এই অপশনটি সঠিক কারণ জি-কে প্রকল্পের মূল কাজ হলো কৃষিজমিতে সেচ নিশ্চিত করা।
মনে রাখার টিপস:
জি-কে মানে গঙ্গা-কপোতাক্ষ আর গঙ্গা নদী থেকে পানি এনে কপোতাক্ষ অববাহিকায় সেচ দেওয়া হয় বলে এটি সেচ প্রকল্প।
সঠিক উত্তর: C) কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
কেন সঠিক:
আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে কপের পূর্ণরূপ হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস।
এটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোগত কনভেনশন বা ইউএনএফসিসিসির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বার্ষিক সম্মেলন।
ভৌগোলিক তথ্য:
এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি বৈশ্বিক পরিবেশগত সম্মেলন।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর উপায় নির্ধারণ করা।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে একচল্লিশতম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কনফারেন্স অব প্যারিস — প্যারিস চুক্তি একটি পৃথক পরিবেশ চুক্তি হলেও কপের পূর্ণরূপে এই নামটি ব্যবহার করা হয় না।
B) কনফারেন্স অব দ্যা পাওয়ার — এটি কোনো দাপ্তরিক বা আন্তর্জাতিক পরিবেশগত পদের সঙ্গে সম্পর্কিত নাম নয়।
C) কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস — এই অপশনটি সঠিক হওয়ার কারণে এখানে কোনো ভুল নেই এবং এটিই মূল পূর্ণরূপ।
D) কনফারেন্স অব দ্য প্রটোকল — কিয়োটো বা মন্ট্রিলে প্রটোকল থাকলেও কপের পূর্ণরূপে প্রটোকল শব্দটি যুক্ত থাকে না।
মনে রাখার টিপস:
কপ শব্দটি জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের ক্ষেত্রে সব সময় পার্টিস শব্দটির সঙ্গে যুক্ত থাকে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পার্টিস শব্দটি দেখলে নির্দ্বিধায় সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচন করবে।
সঠিক উত্তর: A) ঘন ঘন বন্যা
কেন সঠিক:
ব্লু-ইকোনমি মূলত সামুদ্রিক সম্পদ ও অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে।
ঘন ঘন বন্যা হলো দেশের অভ্যন্তরীণ নদীমাতৃক সমস্যা, যা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জ নয়।
ভৌগোলিক তথ্য:
বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানার আয়তন প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার।
বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে মৎস্য, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঘন ঘন বন্যা — এটি সঠিক উত্তর কারণ নদীভিত্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্লু-ইকোনমির সরাসরি সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত নয়।
B) সমুদ্র দূষণ — এটি ব্লু-ইকোনমির একটি বড় চ্যালেঞ্জ যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে।
C) ত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন — এটি সমুদ্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে।
D) উপরের কোনটিই নয় — যেহেতু সঠিক উত্তরটি অপশন এ তে রয়েছে, তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
ব্লু-ইকোনমি মানে সমুদ্রের অর্থনীতি, তাই বন্যা এর সরাসরি চ্যালেঞ্জ নয়।
সঠিক উত্তর: A) ব্রহ্মপুত্র নদী
কেন সঠিক:
১৭৮৭ সালে ডাউকি ফল্ট এলাকায় প্রবল ভূমিকম্প ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ উঁচু হয়ে যায়।
এর ফলে নদীটি তার পুরানো গতিপথ ত্যাগ করে দক্ষিণ দিকে নতুন পথ বেছে নেয় এবং যমুনা নামে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
ভৌগোলিক তথ্য:
ডাউকি ফল্ট হলো ভারতের মেঘালয় মালভূমি এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর বিস্তৃত একটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফাটল রেখা।
এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এখানে প্রায়ই ভূ-গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে নদীর গতিপথ ও ভূমিরূপ পরিবর্তিত হয়।
১৭৮৭ সালের এই ঐতিহাসিক ভূমিকম্পটি ছিল এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে অন্যতম বড় একটি গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
B) পদ্মা নদী — এই নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মূল কারণ গঙ্গা নদীর শাখাপ্রশাখার পরিবর্তন এবং ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, ডাউকি ফল্ট নয়।
C) কর্ণফুলী নদী — এটি মূলত পাহাড়ি নদী এবং এটি ডাউকি ফল্টের অনেক দক্ষিণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
D) মেঘনা নদী — এই নদীটি মূলত ছোট কয়েকটি নদীর মিলনস্থল এবং এর গতিপথ পরিবর্তনের সাথে ডাউকি ফল্টের সরাসরি কোনো বড় সংযোগ নেই।
মনে রাখার টিপস:
১৭৮৭ সাল ও ডাউকি ফল্ট মনে রাখলেই উত্তর হবে ব্রহ্মপুত্র, কারণ এই ভূমিকম্পের ফলেই নদীটি তার গতিপথ বদলে যমুনা নাম ধারণ করে।
সঠিক উত্তর: B) ২
প্রদত্ত তথ্য:
চিত্রগুলোতে নির্দিষ্ট ক্রম বা প্যাটার্ন দেওয়া আছে
প্রতিটি চিত্রের উপাদানের মধ্যে একটি গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে
ধরি,
প্রথম চিত্রের মানসমূহ প্রথম শর্ত পূরণ করে
দ্বিতীয় চিত্রের মানসমূহ দ্বিতীয় শর্ত পূরণ করে
অতএব,
প্রথম চিত্রের হিসাব অনুযায়ী প্যাটার্নটি যাচাই করা হলো
দ্বিতীয় চিত্রের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটি নির্ণয় করা হলো
সুতরাং,
প্রশ্নবোধক চিহ্নের স্থানে সঠিক চিত্রটি মিলানো হলো
উত্তর: ২
সঠিক উত্তর: D) চাচা
প্রদত্ত তথ্য:
P এবং Q দুই ভাই
R এবং S দুই বোন
ধরি,
P-এর ছেলে হলো S-এর ভাই
যেহেতু S এবং R দুই বোন, তাই S-এর ভাই মানেই P-এর ছেলেই হলো R এবং S-এর ভাই
অতএব,
P হলো R এবং S-এর পিতা
যেহেতু Q হলো P-এর ভাই
সুতরাং,
বাবার ভাই হিসেবে Q হলো R-এর চাচা
উত্তর: চাচা
সঠিক উত্তর: C) সুতা
প্রদত্ত তথ্য:
স্পেটলার দিয়ে যেমন স্টেপল আটকানো হয়
সুচ দিয়ে তেমনি সেলাইয়ের কাজ করা হয়
ধরি,
স্পেটলারের সাথে স্টেপলের সম্পর্ক হলো মূল যন্ত্র ও তার প্রয়োজনীয় উপকরণ
সুচের সাথে সেরকম সম্পর্ক যুক্ত বস্তুটি হলো সুতা
অতএব,
স্পেটলার কাজ করার সময় স্টেপল ব্যবহার করে
সুচ কাজ করার সময় সুতা ব্যবহার করে
সুতরাং,
সুচের পরিপূরক উপাদান বা প্রধান সঙ্গী হলো সুতা
উত্তর: C) সুতা
সঠিক উত্তর: B) Love
প্রদত্ত তথ্য:
ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী Peace শব্দটির কোড হলো ১৬ ৫ ১১ ৩৫
ধরি,
ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষরগুলোর অবস্থান নিচে দেওয়া হলো
P হলো ষোড়শ বর্ণ বা ১৬
E হলো পঞ্চম বর্ণ বা ৫
অতএব,
১২ হলো দ্বাদশ বর্ণ বা L
১৫ হলো পঞ্চদশ বর্ণ বা O
২২ হলো ২২তম বর্ণ বা V
সুতরাং,
৫ হলো পঞ্চম বর্ণ বা E
উত্তর: Love
সঠিক উত্তর: D) ১৬টি
প্রদত্ত তথ্য:
ত্রিভুজ গণনা সংক্রান্ত একটি জ্যামিতিক চিত্র দেওয়া আছে
যেখানে বড় ত্রিভুজের ভেতর ছোট ছোট ত্রিভুজ বিভক্ত করা হয়েছে
ধরি,
ছোট একক ত্রিভুজের সংখ্যা = ৮টি
মাঝারি আকারের সমন্বিত ত্রিভুজের সংখ্যা = ৬টি
অতএব,
চার অংশের সমন্বয়ে গঠিত বড় ত্রিভুজ = ২টি
মোট ত্রিভুজের হিসাব = ৮ + ৬ + ২
সুতরাং,
চিত্রটিতে ত্রিভুজের মোট সংখ্যা হলো ১৬টি
উত্তর: ১৬টি
সঠিক উত্তর: B) ৬ কেজি
প্রদত্ত তথ্য:
ভারসাম্য দণ্ডের ডানপাশে মোট ওজন বারো কেজি
ভারসাম্য দণ্ডের কেন্দ্র থেকে ডানপাশের দূরত্ব দুই একক
ভারসাম্য দণ্ডের কেন্দ্র থেকে বামপাশের দূরত্ব চার একক
ধরি,
বামদিকের প্রয়োজনীয় ওজন = ক কেজি
অতএব,
ডানপাশের বল বা ভ্রামক = ১২ × ২ = ২৪
বামপাশের বল বা ভ্রামক = ক × ৪
সুতরাং,
৪ × ক = ২৪
ক = ২৪ ÷ ৪
উত্তর: ৬ কেজি
সঠিক উত্তর: A) শনিবার
প্রদত্ত তথ্য:
২০১৮ সাল একটি সাধারণ বছর
১২ জানুয়ারি শুক্রবার
ধরি,
জানুয়ারি মাসে দিন সংখ্যা = ৩১ দিন
ফেব্রুয়ারি মাসে দিন সংখ্যা = ২৮ দিন
মার্চ মাসে দিন সংখ্যা = ১৭ দিন
অতএব,
জানুয়ারি মাসে বাকি দিন = ৩১ − ১২ = ১৯ দিন
ফেব্রুয়ারি মাসে দিন সংখ্যা = ২৮ দিন
মার্চ মাসে দিন সংখ্যা = ১৭ দিন
সুতরাং,
মোট দিনের সংখ্যা = ১৯ + ২৮ + ১৭ = ৬৪ দিন
উত্তর:
৬৪ কে ৭ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে ১
শুক্রবার থেকে ১ দিন পরে শনিবার
সঠিক উত্তর: C) ১৯
প্রদত্ত তথ্য:
ধারার সংখ্যাগুলো হলো ৫, ৭, ১০, ১৪, শূন্যস্থান, ২৫
ধরি,
প্রথম পদের সাথে যোগ হয়েছে = ২
দ্বিতীয় পদের সাথে যোগ হয়েছে = ৩
তৃতীয় পদের সাথে যোগ হয়েছে = ৪
অতএব,
৫ + ২ = ৭
৭ + ৩ = ১০
১০ + ৪ = ১৪
সুতরাং,
১৪ + ৫ = ১৯
১৯ + ৬ = ২৫
উত্তর: ১৯
সঠিক উত্তর: A) YROMƎM
প্রদত্ত তথ্য:
মূল শব্দটি হলো MEMORY
আয়নায় দেখার নিয়ম হলো ডান পাশের বর্ণ বামে এবং বাম পাশের বর্ণ ডানে চলে আসে এবং প্রতিটি বর্ণ উল্টে যায়
ধরি,
প্রথম বর্ণ M অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু শেষের দিকে যায়
দ্বিতীয় বর্ণ E উল্টে গিয়ে Ǝ হয়
অতএব,
M বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব M হয়
E বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব Ǝ হয়
M বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব M হয়
সুতরাং,
O বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব O হয়
R বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব ꓤ বা উল্টো R হয়
Y বর্ণটির আয়না প্রতিবিম্ব Y হয়
উত্তর: YROMƎM
সঠিক উত্তর: C) ৬৮
প্রদত্ত তথ্য:
ধারার সংখ্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সাজানো আছে
প্রতি ধাপের ব্যবধান নির্দিষ্ট নিয়মে বাড়ছে
ধরি,
প্রথম সংখ্যাটি এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটির পার্থক্য ক
দ্বিতীয় সংখ্যাটি এবং তৃতীয় সংখ্যাটির পার্থক্য খ
অতএব,
প্রথম ধাপে ব্যবধান ৪ যোগ হলো
দ্বিতীয় ধাপে ব্যবধান ৮ যোগ হলো
তৃতীয় ধাপে ব্যবধান ১২ যোগ হলো
সুতরাং,
৫৬ এর সাথে ১২ যোগ করতে হবে
উত্তর: ৬৮
সঠিক উত্তর: C) why
প্রদত্ত তথ্য:
কোনো ঘটনার পেছনের কারণ বা উদ্দেশ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
ইংরেজি ব্যাকরণ অনুযায়ী প্রশ্নবোধক শব্দের ব্যবহার বিবেচনা করতে হবে।
ধরি,
কারণ জানার জন্য ব্যবহৃত শব্দটি অজানা
অপশনগুলো হলো how, what, why এবং who
অতএব,
how দ্বারা কাজের পদ্ধতি বোঝায়
what দ্বারা কোনো বস্তু বা বিষয় বোঝায়
সুতরাং,
why শব্দটির বাংলা অর্থ কেন এবং এটি কারণ জানতে ব্যবহার করা হয়
উত্তর: C) why
সঠিক উত্তর: B) নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
প্রদত্ত তথ্য:
শব্দগুলোকে বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজাতে হবে
ধরি,
প্রথম বর্ণ সবার ক্ষেত্রে নি
অতএব,
দ্বিতীয় বর্ণ অনুসারে শব্দের ক্রম নির্ধারণ করতে হবে
সুতরাং,
সঠিক ক্রমটি হলো নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
উত্তর: B) নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
সঠিক উত্তর: C) ৬২১৭
প্রদত্ত তথ্য:
PLAY শব্দের কোড ৮২১৩
RHYME শব্দের কোড ৪৯৩৬৭
ধরি,
প্রতিটি অক্ষরের নিজস্ব নির্দিষ্ট অঙ্ক বা মান রয়েছে
অতএব,
P এর মান ৮
L এর মান ২
A এর মান ১
Y এর মান ৩
এবং,
M এর মান ৬
E এর মান ৭
সুতরাং,
M অক্ষরের জন্য মান বসবে ৬
A অক্ষরের জন্য মান বসবে ১
L অক্ষরের জন্য মান বসবে ২
E অক্ষরের জন্য মান বসবে ৭
উত্তর: ৬২১৭
সঠিক উত্তর: D) ৩৪
প্রদত্ত তথ্য:
সিরিজের সংখ্যাগুলো হলো ৩, ৫, ৮, ১২, ২১
ধরি,
সিরিজের প্রথম সংখ্যা = ৩
সিরিজের দ্বিতীয় সংখ্যা = ৫
সিরিজের তৃতীয় সংখ্যা = ৮
অতএব,
প্রথম ও দ্বিতীয় পদের পার্থক্য ৫ − ৩ = ২
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদের পার্থক্য ৮ − ৫ = ৩
তৃতীয় ও চতুর্থ পদের পার্থক্য ১২ − ৮ = ৪
সুতরাং,
এই নিয়ਮ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবধান হবে ৫, ৬ এবং ৭
২১ এর সাথে ১৩ যোগ করলে পরবর্তী সংখ্যাটি পাওয়া যায়
উত্তর: ৩৪
সঠিক উত্তর: A) উত্তর
প্রদত্ত তথ্য:
ঘড়িতে তখন ঠিক ৩টা বাজে
ঘণ্টার কাঁটা রয়েছে পূর্ব দিকে
ধরি,
ঘড়ির স্বাভাবিক দিকগুলো হলো উপরে উত্তর, নিচে দক্ষিণ, ডানে পূর্ব এবং বামে পশ্চিম
৩টার সময় ছোট কাঁটা ৩ ঘরের দিকে এবং বড় কাঁটা ১২ ঘরের দিকে থাকে
অতএব,
৩টার সময় ঘণ্টার কাঁটা ৩ এর ঘরে থাকে যা পূর্ব দিক নির্দেশ করছে
কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মে ৩ এর ঘর থাকে পূর্ব দিকে এবং ১২ এর ঘর থাকে উত্তর দিকে
সুতরাং,
১২ এর ঘরে থাকা মিনিটের কাঁটা স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিকে থাকবে
উত্তর: উত্তর
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)