সঠিক উত্তর: C) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
১. কেন সঠিক:
- তদ্ভব শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলো যা সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন বা উদ্ভূত হয়েছে।
- প্রাচীন প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার স্তর পার হয়ে যে শব্দগুলো পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- উৎসের দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দগুলোকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়, যার একটি হলো তদ্ভব শব্দ।
- সংস্কৃত প্রাকৃত বা অপভ্রংশ হয়ে পরিবর্তিত রূপ লাভ করে বাংলা ভাষায় গৃহিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চাদর
ব্যাখ্যা: এটি সংস্কৃত ছত্রধর থেকে প্রাকৃত হয়ে তদ্ভব শব্দ হিসেবে বাংলায় এসেছে।
উদাহরণ ২: হাত
ব্যাখ্যা: সংস্কৃত হস্ত শব্দ থেকে প্রাকৃত হয়ে তদ্ভব শব্দ হিসেবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সংস্কৃতের সমান — এটি তৎসম শব্দের বৈশিষ্ট্য, তদ্ভব শব্দের নয়।
B) সংস্কৃত নয় — এটি অদ্ভব বা বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তদ্ভব শব্দের সঠিক অর্থ নয়।
C) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত — এটি সঠিক এবং তদ্ভব শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে।
D) বিদেশি শব্দ — এটি মূলত আরবি, ফার্সি বা ইংরেজি ভাষার শব্দ বোঝায়, তদ্ভব শব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- তদ্ভব শব্দের ক্ষেত্রে তদ্ মানে তাহা বা তাহা হইতে এবং ভব মানে উৎপন্ন, অর্থাৎ তাহা হইতে উৎপন্ন।
- প্রাকৃত ভাষার পরিবর্তনের ধাপ মনে রাখলে এই শব্দগুলো সহজে চেনা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের উৎস বা শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- তৎসম ও তদ্ভব শব্দের পার্থক্য ভালো করে আয়ত্ত করলে এই ধরনের ভুল এড়ানো সম্ভব।
সঠিক উত্তর: D) গোলাপ
১. কেন সঠিক:
- যে শব্দগুলোকে বিশ্লেষণ বা ভাঙা যায় না এবং যার কোনো প্রত্যয় বা উপসর্গ থাকে না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
- গোলাপ একটি মৌলিক শব্দ কারণ একে ভাঙলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ বা আলাদা কোনো শব্দ পাওয়া যায় না।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- গঠন অনুসারে বাংলা শব্দকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়, যথা মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
- যে শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যার মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে, তা মৌলিক শব্দ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নাক
ব্যাখ্যা: নাক শব্দটিকে ভাঙলে আর কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না, তাই এটি মৌলিক শব্দ।
উদাহরণ ২: হাত
ব্যাখ্যা: হাত শব্দটিকেও বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, তাই এটি একটি মৌলিক শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মানব — মানব একটি সাধিত শব্দ যা মনু শব্দের সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে।
B) ধাতব — ধাতব একটি সাধিত শব্দ যা ধাতু শব্দের সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে।
C) একাত্তর — একাত্তর একটি সংখ্যাবাচক শব্দ এবং এটি গঠনের দিক থেকে সাধিত শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।
D) গোলাপ — এটি সঠিক উত্তর কারণ গোলাপ শব্দটি মৌলিক শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ফুল, পাখি, বই, নাক, কান, কলম ও গোলাপ এ ধরনের পরিচিত ছোট শব্দগুলো সাধারণত মৌলিক শব্দ হয়।
- কোনো শব্দকে ভাঙলে যদি অর্থপূর্ণ মূল পাওয়া না যায়, তবে সেটি মৌলিক শব্দ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- মৌলিক শব্দ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শব্দটিকে ভেঙে দেখা যায় কি না তা পরীক্ষা করা।
সঠিক উত্তর: B) কাহ্ন পা
১. কেন সঠিক:
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্ন পা। তিনি মোট তেত্রিশটি পদ রচনা করেছিলেন যা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য ও সাহিত্য নিদর্শন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে ১৯০৭ সালে এটি আবিষ্কার করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাহ্ন পা চর্যাপদের ২৪ নম্বর পদটি রচনা করেছেন। এই পদে তাঁর রচনার গভীর দার্শনিক তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি চর্যাপদের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পদ যেখানে সহজিয়া সাধনার তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
উদাহরণ ২: ভুসুক পা চর্যাপদে আটটি পদ রচনা করেছেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা।
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের কবিদের মধ্যে ভুসুক পার পদের সংখ্যা ৮টি, যা কাহ্ন পার পরেই অবস্থান করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লুই পা — ইনি চর্যাপদের আদি কবি এবং মোট দুটি পদ রচনা করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর নয়।
B) কাহ্ন পা — ইনি চর্যাপদের সর্বমোট তেত্রিশটি পদ রচনা করেছেন, যা সবথেকে বেশি এবং তাই এটি সঠিক উত্তর।
C) কুক্কুরী পা — ইনি চর্যাপদের মোট তিনটি পদ রচনা করেছেন। তাই এটি কাঙ্ক্ষিত উত্তর নয়।
D) ভুসুক পা — ইনি চর্যাপদের মোট আটটি পদ রচনা করেছেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কিন্তু সর্বাধিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
সবচেয়ে বেশি পদের জন্য কাহ্ন পা মনে রাখতে পারেন কে তেত্রিশ দিয়ে। কাহ্ন পার পদের সংখ্যা তেত্রিশটি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা ও প্রধান কবিদের পদের সংখ্যা প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। যেমন লুই পার পদসংখ্যা দুটি এবং ভুসুক পার পদসংখ্যা আটটি।
সঠিক উত্তর: C) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
১. কেন সঠিক:
- বাংলা একাডেমির আঞ্চলিক অভিধান সংকলন ও সম্পাদনার সঙ্গে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম বিশেষভাবে জড়িত।
- বাংলা ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক শব্দ সংগ্রহ ও তার প্রমিত রূপদানে তার অবদান ঐতিহাসিক।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও গবেষক।
- বাংলা ভাষার ইতিহাস ও আঞ্চলিক উপভাষা নিয়ে তার গবেষণা বাংলা সাহিত্য ও ভাষাচর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আঞ্চলিক শব্দ ভাণ্ডার
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কথ্য ভাষার শব্দ নিয়ে এই অভিধান গঠিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: চলিত ও প্রমিত রূপ
ব্যাখ্যা: আঞ্চলিক শব্দের পাশাপাশি তার সঠিক অর্থ ও মান্য রূপ এই অভিধানে স্থান পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ড. মুহম্মদ এনামুল হক — তিনি বাংলা একাডেমির বিভিন্ন গবেষণা ও অভিধান প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক নন।
B) ড. আহমদ শরীফ — তিনি মূলত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও মরমী সাহিত্য নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
D) নরেন বিশ্বাস — তিনি বাংলা উচ্চারণ ও ভাষা নিয়ে কাজ করলেও এই নির্দিষ্ট অভিধানের সম্পাদক নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
আঞ্চলিক ভাষার ওপর সবচেয়ে বড় পণ্ডিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তাই আঞ্চলিক অভিধান দেখলে তার নাম মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাষা ও অভিধান সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। বাংলা একাডেমির প্রধান প্রকাশনা ও অভিধানগুলোর সম্পাদকদের নাম ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) মরুত
১. কেন সঠিক:
মরুত শব্দটি সংস্কৃতে বায়ু বা বাতাস অর্থে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিশব্দ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শব্দের উৎস ও অর্থের গভীরতা বুঝতে হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
সমার্থক শব্দের ক্ষেত্রে শব্দের মূল অর্থ এবং তার বহুবিধ ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হয়।
বায়ু শব্দের অন্যান্য প্রচলিত সমার্থক শব্দ হলো বাতাস, অনিল, সমীরণ, মারুত ইত্যাদি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনিল বইছে খুব জোরে।
ব্যাখ্যা: এখানে অনিল শব্দটির অর্থ বায়ু বা বাতাস।
উদাহরণ ২: সমীরণের ছোঁয়ায় মন জুড়িয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এখানে সমীরণ শব্দটি বায়ুর সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চঞ্চলা — চঞ্চলা শব্দটি বিদ্যুৎ বা চঞ্চল প্রকৃতির কোনো কিছুর সমার্থক শব্দ।
B) মরুত — মরুত শব্দটি বায়ু শব্দের সঠিক প্রতিশব্দ।
C) ক্ষণপ্রভা — ক্ষণপ্রভা শব্দটি বিদ্যুতের সমার্থক শব্দ কারণ এটি ক্ষণকালের জন্য দীপ্তি পায়।
D) চটুল — চটুল শব্দটি চঞ্চল বা দ্রুতগামী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
মরুভূমিতে যেমন প্রবল বায়ু বা মরুত বয়ে যায়, এভাবে মনে রাখতে পারো মরুত অর্থ বায়ু।
প্রতিশব্দ পড়ার সময় শব্দের মূল উৎস এবং প্রমিত রূপগুলো আলাদা করে চর্চা করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বায়ু, মেঘ, বৃষ্টি এবং নদী সংক্রান্ত সমার্থক শব্দগুলো খুব বেশি আসে।
পরীক্ষায় সঠিক উত্তর নির্বাচন করার আগে প্রতিটি শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সঠিক উত্তর: C) ডমরুলীলা সাঙ্গ
১. কেন সঠিক:
- 'পটল তোলা' বাগধারাটির অর্থ মারা যাওয়া বা মৃত্যুবরণ করা।
- প্রদত্ত সঠিক উত্তর 'ডমরুলীলা সাঙ্গ' বাগধারাটির অর্থও মৃত্যুবরণ করা বা শেষ হওয়া, যা পটল তোলা এর সমার্থক।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দগুচ্ছ যা সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে বিশেষ বা লক্ষণার্থ প্রকাশ করে।
- মৃত্যুর সমার্থক বহু বাগধারা বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে, যেমন অনন্ত ধামে যাত্রা, অক্কা পাওয়া, চিরবিদায় নেওয়া ইত্যাদি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অক্কা পাওয়া
ব্যাখ্যা: এটিও 'পটল তোলা' বা মারা যাওয়ার সমার্থক একটি বহুল ব্যবহৃত বাগধারা।
উদাহরণ ২: অনন্ত ধামে যাত্রা
ব্যাখ্যা: এটি মৃত্যুর অন্য একটি সুন্দর ও কাব্যিক সমার্থক বাগধারা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ — এই বাগধারাটির অর্থ অপচয় বা অমিতব্যয়িতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা মৃত্যুর সমার্থক নয়।
B) ভবঘুরের পথে — এই বাগধারাটির অর্থ উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো বা আদা জল খেয়ে লাগা বোঝায় না, এটি মূলত যাযাবর জীবনকে নির্দেশ করে।
C) ডমরুলীলা সাঙ্গ — এটি সঠিক উত্তর এবং এর অর্থ মৃত্যু বা শেষ হয়ে যাওয়া।
D) পরের ধনে পোদ্দারি — এই বাগধারাটির অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে বা অর্থে গর্ব করা বা অপব্যয় করা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মৃত্যুর সমার্থক বাগধারাগুলো একসাথে মুখস্থ করতে পারো যেমন পটল তোলা, অক্কা পাওয়া এবং ডমরুলীলা সাঙ্গ।
- ডমরুলীলা সাঙ্গ মানে খেলা শেষ বা জীবন সাঙ্গ হওয়া, অর্থাৎ মৃত্যু।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমার্থক বাগধারা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- বাগধারার ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থ না ভেবে এর ভেতরের অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বা প্রমিত অর্থ মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) জনাকীর্ণ
১. কেন সঠিক:
- 'জনবিরল' শব্দের অর্থ হলো যেখানে মানুষের বসতি কম বা জনমানুষহীন পরিবেশ। এর ঠিক বিপরীত বা উল্টো অর্থ প্রকাশ করে এমন শব্দ হলো 'জনাকীর্ণ', যার অর্থ লোকে লোকারণ্য বা জনবহুল।
- বিপরীতার্থক শব্দ মূলত পরস্পর বিপরীত ভাব প্রকাশ করে, তাই কম মানুষের উপস্থিতির বিপরীত হলো অধিক মানুষের উপস্থিতি।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ব্যাকরণে বিপরীতার্থক শব্দ হলো এমন শব্দ যা অন্য একটি শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। মূল শব্দের উৎস বা গঠন অনুযায়ী বিপরীত শব্দ তৎসম, অর্ধতৎসম বা তদ্ভব হতে পারে।
- 'জনবিরল' একটি সমাসবদ্ধ শব্দ যা ব্যাসবাক্য করলে দাঁড়ায় জন দ্বারা বিরল, আর 'জনাকীর্ণ' শব্দটির অর্থ হলো জনে আকীর্ণ বা পূর্ণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা শহর একটি জনাকীর্ণ নগরী।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে 'জনাকীর্ণ' শব্দটি দিয়ে অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ বা মানুষের ভিড় বোঝানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: সুন্দরবনের ভেতরের অংশ বেশ জনবিরল।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে 'জনবিরল' শব্দটি দিয়ে মানুষের কম উপস্থিতি বা নিরিবিলি পরিবেশ বোঝানো হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জনাকীর্ণ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি জনবিরল শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
B) জনহীন — এটি জনবিরল শব্দের সমার্থক শব্দ, তাই বিপরীত শব্দ হিসেবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
C) নির্জন — এটিও জনবিরল শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি বিপরীতার্থক নয়।
D) জনশূন্য — এটি জনবিরল শব্দের কাছাকাছি সমার্থক শব্দ, ফলে বিপরীতার্থক শব্দের চাহিদা পূরণ করে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিরল মানে কম এবংীর্ণ বা পূর্ণ মানে বেশি, এই সূত্র ধরে জনবিরলের বিপরীত জনাকীর্ণ মনে রাখা সহজ।
- সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ পড়ার সময় মূল শব্দের আভিধানিক অর্থ ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিপরীতার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন আসে।
- সমার্থক শব্দ ও বিপরীতার্থক শব্দ গুলিয়ে ফেলা যাবে না, উত্তরের আগে শব্দের সঠিক অর্থ যাচাই করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ভাষা আন্দোলন
১. কেন সঠিক:
- 'কবর' নাটকটির মূল পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে নাটকটি রচিত হয়েছে।
- নাটকটিতে কাল্পনিক ও প্রতীকী চরিত্রের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের অমর স্মৃতি এবং তাদের কবরের পবিত্রতা রক্ষার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দि থাকা অবস্থায় এই নাটকটি রচনা করেন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক এবং আধুনিক নাট্যসাহিত্যের একটি অনন্য মাইলফলক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের পটভূমিও ভাষা আন্দোলন।
ব্যাখ্যা: এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত প্রামাণ্য উপন্যাস।
উদাহরণ ২: আল মাহমুদের 'একুশে ফেব্রুয়ারি' কবিতা।
ব্যাখ্যা: এই সাহিত্যকর্মটিও ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সমৃদ্ধ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দেশভাগ — দেশভাগের পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস হলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' বা হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, কিন্তু কবর নাটকটি দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত নয়।
B) মুক্তিযুদ্ধ — মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত নাটক হলো মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' বা নূরুল মোমেনের নাটক, তবে কবর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
C) ভাষা আন্দোলন — এই অপশনটি সঠিক এবং নাটকের মূল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়।
D) গণ-অভ্যুত্থান — ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত সাহিত্যকর্ম ভিন্ন, কবর নাটকটি এর অনেক আগেই রচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মুনীর চৌধুরী জেলে বসে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে 'কবর' নাটক লেখেন।
- নাটক ও লেখকের নাম মনে রাখার জন্য মনে রাখতে পারো জেলখানার ভেতরে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি নিয়ে প্রথম নাটক লিখেছিলেন মুনীর চৌধুরী।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি।
- নাট্যকার মুনীর চৌধুরী নিজেই জেলখানায় বন্দि অবস্থায় নাটকটির প্রথম নির্দেশক ও অভিনেতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সঠিক উত্তর: C) পত্রকাব্য
১. কেন সঠিক:
'বীরাঙ্গনা-কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি পত্রকাব্য।
এই কাব্যে পৌরাণিক কাহিনীর নারী চরিত্রগুলোর জবানিতে পত্রে তাদের মনের কথা ও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬২ সালে এই কাব্য রচনা করেন।
গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের ওভিডের হিরোইডেস কাব্যের অনুসরণে বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য রচিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা কাব্য।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মৌলিক পত্রকাব্য যেখানে পদের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: কবি ওভিডের হিরোইডেস কাব্য।
ব্যাখ্যা: এই লাতিন কাব্য থেকেই মধুসূদন দত্ত পত্রকাব্য লেখার প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মহাকাব্য — এটি মহাকাব্য নয়, কারণ এতে কোনো দীর্ঘ কাহিনীর ধারাবাহিক বিবরণ নেই বরং পত্রাকারে মনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।
B) গীতিকাব্য — এটি গীতিকাব্য বা লিরিক ধারার রচনা নয়, কারণ এখানে চরিত্রগুলোর আত্মকথন চিঠির আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
C) পত্রকাব্য — এই অপশনটি সঠিক কারণ এর প্রতিটি কবিতাই একেকটি পত্র বা চিঠি।
D) মঙ্গলকাব্য — মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগের দেবদেবীকে কেন্দ্র করে রচিত আখ্যানকাব্য যা এর সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বীরাঙ্গনা মানেই পত্রের মাধ্যমে মনের কথা জানানো।
মধুসূদন দত্তের চিঠি লেখার কাব্য হলো বীরাঙ্গনা কাব্য।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক পত্রকাব্য হলো বীরাঙ্গনা কাব্য।
এই কাব্যে মোট একুশটি পত্র বা কবিতা রয়েছে এবং এর নারী চরিত্রগুলো অত্যন্ত বিদ্রোহী ও স্বাধীনচেতা।
সঠিক উত্তর: B) রক্তকরবী
১. কেন সঠিক:
রক্তকরবী হলো বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংকেতিক নাটক। এর রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক ও সাংকেতিক নাটক যেখানে যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে মানবিকতার জয়গান গাওয়া হয়েছে। এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র হলো রাজা ও নন্দিনী।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অচলায়তন
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত রূপকধর্মী নাটক।
উদাহরণ ২: রাজা
ব্যাখ্যা: এটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি রূপক নাটক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গড্ডলিকা — এটি পরশুরাম ছদ্মনামে রাজশেখর বসুর লেখা একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক ছোটগল্প সংকলন। নাটক নয়।
B) রক্তকরবী — এটি নাটক, যা প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক উত্তর হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
C) সিন্ধু হিন্দোল — এটি প্রখ্যাত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। নাটক নয়।
D) কালান্তর — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ। নাটক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী, রাজা এবং অচলায়তন হলো তার লেখা বিখ্যাত রূপক ও সাংকেতিক নাটক। নাটকের নাম দেখলেই নাট্যকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রূপক নাটক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। তাই রক্তকরবী, রাজা, মুক্তধারা ও অচলায়তন এই চারটি নাটক ভালোভাবে মুখস্থ রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) মুচ্ + ত
১. কেন সঠিক:
- ব্যঞ্জনসন্ধির বিশেষ নিয়মানুসারে চ কিংবা ছ-এর পরে যদি ত বা থ থাকে, তবে চ বা ছ-এর স্থানে শ্ হয় এবং ত-এর স্থানে থ হয়।
- 'মুক্ত' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে মুচ্ যোগ ত পাওয়া যায়, যেখানে চ এবং ত মিলে এই নিয়মের প্রকাশ ঘটে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- ব্যঞ্জনসন্ধির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো চ কিংবা ছ-এর পর ত বা থ থাকলে চ বা ছ-এর জায়গায় শ এবং ত-এর জায়গায় থ হয়।
- মুচ্ যোগ ত যুক্ত হয়ে মুক্ত শব্দটি গঠিত হয়, যা ব্যঞ্জনসন্ধির এই প্রমিত নিয়মকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সৎ যোগ চিন্তা সমান সচিন্তা
ব্যাখ্যা: এটি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্য একটি সাধারণ নিয়ম যেখানে খণ্ড ত-এর পরে চ থাকলে খণ্ড ত চ-এ পরিণত হয়।
উদাহরণ ২: উৎ যোগ ছেদ সমান উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা: এখানে ত-এর পরে ছ থাকায় ত চ-এ এবং ছ চ-এ রূপান্তরিত হয়ে যুক্তবর্ণ গঠন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুক্ + ত — এখানে ক-এর সাথে ত যুক্ত হয়ে মুক্ত শব্দ গঠনের কোনো ব্যাকরণসিদ্ধ নিয়ম নেই।
B) মুচ্ + ত — এটি সঠিক কারণ ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী চ এবং ত মিলে মুক্ত রূপ নেয়।
C) মুছ্ + ক্ — এই ধরনের সন্ধি বিচ্ছেদ বাংলা ব্যাকরণের কোনো প্রমিত নিয়ম সমর্থন করে না।
D) মচ্ত + ক্ — এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং ব্যাকরণের নিয়মবহির্ভূত একটি অপশন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- চ-ান্ত ধাতুর সাথে ত যুক্ত হলে চ স্থানে শ এবং ত স্থানে থ হয়, এই সূত্রটি মনে রাখলে সহজে মুক্ত বা সুপ্ত জাতীয় শব্দ চিহ্নিত করা যায়।
- ব্যঞ্জনসন্ধির এই বিশেষ রূপ পরিবর্তনের নিয়মটি বারবার অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যঞ্জনসন্ধি থেকে প্রশ্ন আসে, তাই চ এবং ছ-যুক্ত শব্দগুলোর সন্ধি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
- একই নিয়মে অন্যান্য শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করার সময় নিয়মটির প্রয়োগ সাবধানে খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ক্ + ষ
১. কেন সঠিক:
- বাংলা বর্ণমালায় কয়েকটি বিশেষ যুক্তবর্ণ রয়েছে যেগুলোকে যুক্তব্যঞ্জন বা যৌথ বর্ণ বলা হয়।
- 'ক্ষ' একটি যুক্তবর্ণ যা মূলত দুটি আলাদা ব্যঞ্জনবর্ণের মিলনে গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা বর্ণমালায় যুক্তবর্ণ গঠনের সময় অনেক ক্ষেত্রে বর্ণগুলোর মূল রূপ পরিবর্তিত হয়।
- 'ক্ষ' বর্ণটি বিশ্লেষণ করলে প্রথমে 'ক্' এবং পরে 'ষ' পাওয়া যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্ষমা
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতে 'ক্ষ' যুক্তবর্ণটি ব্যবহৃত হয়েছে যার ভাঙলে ক্ যোগ ষ পাওয়া যায়।
উদাহরণ ২: ক্ষতি
ব্যাখ্যা: এখানেও 'ক্ষ' যুক্তবর্ণের সঠিক গঠন ক্ যোগ ষ হিসেবে প্রকাশ পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ক্ + স্ — এই দুটি বর্ণ মিলে 'ক্স' গঠিত হয়, 'ক্ষ' নয়।
B) খ্ + ঞ — এই বর্ণ দুটি মিলে বাংলা ব্যাকরণে কোনো প্রচলিত মূল যুক্তবর্ণ গঠন করে না।
C) ক্ + ষ — এটি সঠিক উত্তর।
D) থ্ + থ — এই দুটি বর্ণ মিলে 'থ্থ' যুক্তবর্ণ গঠিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্ষ বর্ণটি দেখলে মনে রাখবে এটি ক এবং ষ এর মিলন।
- উচ্চারণ ও গঠনের সময় ক ও ষ এর মিশ্রণ খেয়াল রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যুক্তবর্ণ ভাঙা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- জ্ঞ, ত্র, শ্র ইত্যাদি অন্যান্য যুক্তবর্ণের গঠনও ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) আসরফি
১. কেন সঠিক:
- আসরফি শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত নয়, এটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- শব্দটির অর্থ স্বর্ণমুদ্রা বা সোনার মোহর, যা মধ্যযুগে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দসমূহ উৎসের ভিত্তিতে প্রধানত পাঁচটি ভাগে বিভক্ত যেমন তদ্ভব, তৎসম, অর্ধতৎসম, দেশি এবং বিদেশি শব্দ।
- বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য যা বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের ভাষায় এসেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাগজ
ব্যাখ্যা: কাগজ একটি বহুল ব্যবহৃত ফারসি শব্দ যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য।
উদাহরণ ২: চশমা
ব্যাখ্যা: চশমা শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইনসান — এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ মানুষ।
B) ইবাদত — এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ উপাসনা বা বন্দনা।
C) মর্জি — এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ইচ্ছা বা সম্মতি।
D) আসরফি — এটি ফারসি শব্দ হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ফারসি শব্দ মনে রাখার সহজ উপায় হলো প্রশাসনিক, দৈনন্দিন ও বিলাসদ্রব্যবাচক শব্দগুলো আলাদা করা।
- আসরফি, কাগজ, চশমা, চাবি এগুলো ফারসি শব্দের চমৎকার উদাহরণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দের উৎস প্রায়ই আসে।
- আরবি ও ফারসি শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য নিয়মিত চর্চা করা জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) আরেফ আলী
১. কেন সঠিক:
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আরেফ আলী কারণ তিনি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ও বর্ণনাকারী।
- আরেফ আলী গ্রামীণ এক মফস্বল স্কুলের শিক্ষক যিনি নৈতিকতা ও আত্মোপলব্ধির এক তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বাংলা সাহিত্যের একজন আধুনিক মননশীল কথাশিল্পী যিনি অস্তিত্ববাদী চেতনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে এবং এটি মনস্তাত্ত্বিক ও অস্তিত্ববাদী উপন্যাসের এক অনন্য নিদর্শন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লালসালু উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সবচেয়ে বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস যা গ্রামীণ সমাজের ধর্মান্ধতা নিয়ে রচিত।
উদাহরণ ২: কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর আরেকটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস যা মানুষের নিঃসঙ্গতা ও নদীকেন্দ্রিক জীবন তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুহাম্মদ মুস্তফা — এটি চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কোনো প্রধান চরিত্র নয় বরং অন্য কোনো কাহিনীর চরিত্র।
B) আরেফ আলী — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের মূল নায়ক।
C) মজিদ — মজিদ চরিত্রটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও প্রতারক প্রধান চরিত্র।
D) কাদের — কাদের চরিত্রটি চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের নায়ক নয় বরং অন্য কোনো সাহিত্যকর্মের চরিত্র।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসের নায়কদের মনে রাখতে ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাস লালসালুর মজিদ চাঁদের অমাবস্যার আরেফ আলী এবং কাঁদো নদী কাঁদো এর দলীয় চরিত্রগুলো মাথায় রাখবে।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের শিক্ষক আরেফ আলীর নাম এভাবে মনে রাখতে পারো যে তার জীবনে অন্ধকারের অমাবস্যা নেমেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মাত্র তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে যা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- উপন্যাস তিনটির নাম এবং তাদের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ভালোভাবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) প্র + ছদ
১. কেন সঠিক:
সন্ধির নিয়মানুসারে স্বরধ্বনির পরে ছ থাকলে ছ এর স্থানে চ ছ হয়। প্র শব্দের অ স্বরধ্বনির সাথে ছদ শব্দের ছ যুক্ত হয়ে প্রচ্ছদ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অ স্বরধ্বনি কিংবা আ স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে প্রথম ছ এর স্থানে চ ছ যুক্ত হয়। এই নিয়মে প্র এর অ এবং ছদ এর ছ মিলে প্রচ্ছদ হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ। পরি শব্দের ই কারের পর ছ থাকায় চ ছ যুক্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি একই সন্ধির নিয়মে সাধিত হয়েছে যেখানে ই কারের পর ছ যুক্ত হয়ে চ ছ হয়েছে।
উদাহরণ ২: আ + ছাদন = আচ্ছাদন। আ শব্দের আ কারের পর ছ থাকায় চ ছ যুক্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এখানেও আ স্বরধ্বনির পরে ছ যুক্ত হওয়ার কারণে মাঝখানে চ যুক্ত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্র + ছদ — এটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কারণ নিয়মানুসারে প্র এর সাথে ছদ যুক্ত হয়ে প্রচ্ছদ গঠিত হয়।
B) প্রং + ছদ — প্রং কোনো মূল উপসর্গ বা শব্দ নয় এবং অনুস্বারের সাথে ছ এর এই ধরনের সন্ধির নিয়ম নেই।
C) প্রচ্ছুদ্ধ + দ — প্রচ্ছদ শব্দটির কোনো অংশ প্রচ্ছদ নয় এবং এটি সন্ধির সঠিক নিয়ম মানে না।
D) প্রচ্ছদ + অ — প্রচ্ছদ একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দ, এর সাথে প্রত্যয় যুক্ত করে নতুন শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দের প্রথমে যদি চ ছ যৌথ বর্ণ থাকে, তবে সন্ধি বিচ্ছেদ করার সময় প্রথম অংশ থেকে চ বাদ দিয়ে ছ দিয়ে বিচ্ছেদ করতে হবে। যেমন প্রচ্ছদ ভাঙলে হয় প্র যোগ ছদ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই নিয়মের সন্ধি প্রায়ই আসে। পরিচ্ছেদ, আচ্ছাদন এবং প্রচ্ছদ শব্দগুলো এই নিয়মের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: B) মুক্তিযুদ্ধ
১. কেন সঠিক:
- রশীদ হায়দারের 'খাঁচায়' উপন্যাসের মূল পটভূমি হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়ের বাঙালি জীবনের নানা ট্র্যাজেডি।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবরুদ্ধ ঢাকার জনজীবন, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও সংকটের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রশীদ হায়দার বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও গবেষক হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত এবং তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তার সাহিত্যকর্মে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, মানুষের অসহায়ত্ব এবং সামাজিক সংকট অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রশীদ হায়দারের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'খাঁচায়'।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের উত্তাল ও ভীতিপ্রদ দিনগুলোতে একজন সাধারণ মানুষের মানসিক অবস্থার নিখুঁত রূপায়ন ঘটেছে।
উদাহরণ ২: রশীদ হায়দারের অন্য একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আন্ধারে প্রলয়'।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসটিতেও মুক্তিযুদ্ধকালীন পটভূমি ও তৎকালীন সামাজিক অবক্ষয় চিত্রিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভাষা আন্দোলন — এই উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নয়, কারণ এটি সরাসরি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে রচিত।
B) মুক্তিযুদ্ধ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি পটভূমির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
C) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন — এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু আশির দশকের স্বৈরাচার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন নয়।
D) ছাত্র আন্দোলন — এটি কোনো সাধারণ ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কোনো উপন্যাস নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- লেখক রশীদ হায়দার মূলত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য রচনার জন্য বিখ্যাত, তাই তার নামের সাথে 'মুক্তিযুদ্ধ' শব্দটি মনে রাখলে উত্তর করা সহজ হবে।
- 'খাঁচায়' উপন্যাসের নাম এবং এর বন্দিদশার ভাবটি ১৯৭১ সালের অবরুদ্ধ ঢাকাকে নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের তালিকা আলাদা করে পড়তে হবে।
- রশীদ হায়দারের জন্ম ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে এই ধরনের প্রশ্ন সহজেই উত্তর করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) আনোয়ার পাশা
১. কেন সঠিক:
- 'নীড় সন্ধানী' উপন্যাসটির রচয়িতা শহীদ বুদ্ধিজীবী ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আনোয়ার পাশা।
- উপন্যাসের শিরোনামের মাধ্যমে মানুষের জীবনের গভীর অনুসন্ধান এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের মূল সুর প্রকাশ পেয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- আনোয়ার পাশা একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ পরিচিত লাভ করেছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তাঁর সাহিত্যকর্মের ঐতিহাসিক মূল্য অত্যন্ত গভীর।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাইফেল রোটি আওডা
ব্যাখ্যা: এটি আনোয়ার পাশার রচিত অত্যন্ত বিখ্যাত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: নদী ও মানুষের খেলা
ব্যাখ্যা: এটিও আনোয়ার পাশার রচিত একটি বিশিষ্ট উপন্যাস যা তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার পরিচয় বহন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাসান আজিজুল হক — ইনি 'আগুনপাখি' ও 'একাত্তরের রাঢ়ী' উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত, তবে 'নীড় সন্ধানী' তাঁর রচিত নয়।
B) আনোয়ার পাশা — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) শওকত আলী — ইনি 'দক্ষিণায়নের দিন' ও 'ওয়ারিশ' উপন্যাসের জন্য সুপরিচিত, 'নীড় সন্ধানী' তাঁর রচনা নয়।
D) রাজিয়া খান — ইনি 'পদ্মাবতী' ও 'বোবা প্রহর' উপন্যাসের রচয়িতা, 'নীড় সন্ধানী' উপন্যাসের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আনোয়ার পাশার বিখ্যাত উপন্যাস মনে রাখার সহজ কৌশল হলো তাঁর 'নীড় সন্ধানী' ও 'রাইফেল রোটি আওডা' নাম দুটি একসাথে চর্চা করা।
- লেখকের নামের সাথে উপন্যাসের নামের মিল রেখে ছন্দে ছন্দে মনে রাখা যেতে পারে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও প্রখ্যাত লেখকদের প্রথম বা প্রধান উপন্যাস প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওডা' এবং 'নীড় সন্ধানী' উভয় উপন্যাসই বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: D) সুন্দর
১. কেন সঠিক:
- 'অভিরাম' শব্দটির আভিধানিক অর্থ সুন্দর, মনোরম বা চিত্তহারক।
- এটি সাধারণত কোনো দৃশ্য, বস্তু বা গুণের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থ বিষয়ক ব্যাকরণ অংশের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
- প্রমিত বাংলা শব্দভান্ডারে সমার্থক শব্দের সঠিক প্রয়োগ জানার জন্য এই ধরনের শব্দার্থ জানা আবশ্যক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রকৃতি এক অপরূপ অভিরাম রূপ ধারণ করেছে।
ব্যাখ্যা: এখানে 'অভিরাম' শব্দটি প্রকৃতির সুন্দর রূপ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: তার হাতের লেখাটি অত্যন্ত অভিরাম।
ব্যাখ্যা: এখানে লেখার সৌন্দর্য বা সুন্দর দিকটি বোঝাতে 'অভিরাম' শব্দটি এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিরামহীন — এই শব্দটি অবিরাম শব্দের অর্থ, যার অর্থ থাম বা বিরতিহীন।
B) চলমানতা — এই শব্দটির অর্থ যা সচল বা গতিশীল, যা অভিরাম শব্দের অর্থ নয়।
C) বালিশ — এটি একটি ব্যবহার্য উপাস্য বস্তু, যার সঙ্গে অভিরাম শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
D) সুন্দর — এটিই সঠিক কারণ অভিরাম শব্দের অর্থ সুন্দর বা মনোরম।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অভিরাম শব্দের প্রথমে অ-এর জায়গায় অ-বিরাম ভাবলে ভুল হতে পারে, তাই মনে রাখবে অভিরাম মানে সুন্দর আর অবিরাম মানে থামাহীন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সমার্থক শব্দ দাগানোর সময় উচ্চারণগত মিল থাকা শব্দ যেমন অভিরাম এবং অবিরাম এর সূক্ষ্ম অর্থ পার্থক্য খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) জার্মান
১. কেন সঠিক:
- কিন্ডারগার্টেন শব্দটি জার্মান ভাষা থেকে সরাসরি ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- এই শব্দের মূল অর্থ হলো শিশুদের উদ্যান বা বাগান, যেখানে ছোট শিশুরা খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি বা আগন্তুক শব্দ, যা ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে বাংলা অভিধানে স্থান করে নিয়েছে।
- বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আসা এমন বিদেশি শব্দগুলোর মূল উৎস জানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গার্ডেন
ব্যাখ্যা: এটি একটি ইংরেজি শব্দ যা বাংলা ভাষায় বাগান অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: জুলজি
ব্যাখ্যা: এটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজি হয়ে বাংলা ভাষায় প্রাণীবিজ্ঞান অর্থে এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাপানি — জাপানি ভাষা থেকে কিন্ডারগার্টেন শব্দটি আসেনি। জাপানি ভাষার শব্দের উদাহরণ হলো সুনামি ও রিকশা।
B) স্প্যানিশ — স্প্যানিশ ভাষা থেকে এই শব্দটি আসেনি। স্প্যানিশ ভাষার শব্দের উদাহরণ হলো আলপিন ও তামাক।
C) জার্মান — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি জার্মান ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
D) আইরিশ — আইরিশ ভাষা থেকে কিন্ডারগার্টেন শব্দটি আসেনি। আইরিশ ভাষা মূলত সেলটিক পরিবারের একটি ভাষা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির প্রবক্তা ফ্রেডরিখ ফ্রোবেল একজন জার্মান শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তাই শিক্ষাবিদের নাম মনে রাখলে খুব সহজেই এর উৎস ভাষা জার্মান বলে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দের উৎস প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
- বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি শব্দ যেমন পর্তুগাল, আরবি, ফার্সি ও ইংরেজি শব্দের তালিকা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) রূপক কর্মধারয়
১. কেন সঠিক:
বিষাদসিন্ধু শব্দটিতে বিষাদ ও সিন্ধু উভয়ের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে। এখানে বিষাদ হলো মন বা হৃদয় এবং সিন্ধু হলো সমুদ্র।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ বা কল্পিত অভিন্নতা বোঝায়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে সাধারণত ব্যাসবাক্যে রূপ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্রাধানল
ব্যাখ্যা: ক্রোধ রূপ অনল, এখানে ক্রোধ ও অনলের অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা: বিষাদ রূপ সিন্ধু, এটি রূপক কর্মধারয় সমাসের একটি বিখ্যাত উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দ্বিগু — দ্বিগু সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায় এবং পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয়। এখানে কোনো সংখ্যা নেই।
B) রূপক কর্মধারয় — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে বিষাদ ও সিন্ধুর মধ্যে অভেদ বোঝানো হয়েছে।
C) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। এখানে তা নেই।
D) তৎপুরুষ — তৎপুরুষ সমাসে বিভক্তির লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়। এটি তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ব্যাসবাক্যে রূপ শব্দটি থাকলে এবং উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ বোঝালে চোখ বন্ধ করে রূপক কর্মধারয় সমাস দাগাবে। বিষাদসিন্ধু বা ক্রাধানল শব্দগুলোতে এই নিয়ম সরাসরি মিলে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রূপক কর্মধারয় সমাস থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে। বিষাদ রূপ সিন্ধু এবং ক্রোধ রূপ অনল এই দুটি উদাহরণ সবচেয়ে বেশিবার পরীক্ষায় এসেছে।
সঠিক উত্তর: A) সু + আগত
১. কেন সঠিক:
- এখানে স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী ই-কার বা ঈ-কারের পর ভিন্ন স্বরধ্বনি থাকলে ই-কার বা ঈ-কারের স্থানে য-ফলা যুক্ত হয়।
- সু শব্দের উ-কার এবং আগত শব্দের আ মিলে ব-ফলা ও আকার সৃষ্টি হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ই-কার কিংবা ঈ-কার এবং উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর ভিন্ন স্বরধ্বনি থাকলে যথাক্রমে য-ফলা এবং ব-ফলা হয়। একে যলা-বলা বা ই-উ কারের পর স্বরধ্বনি থাকলে যে পরিবর্তন হয় তা বলা হয়।
- সু যুক্ত আগত সমান স্বাগত, যেখানে উ-কারের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে ব-ফলা আকার হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনু যুক্ত ইত সমান অন্বিত
ব্যাখ্যা: উ-কারের পর ই যুক্ত হয়ে ব-ফলা ই-কার গঠন করেছে।
উদাহরণ ২: যদি যুক্ত আদি সমান ইত্যাদি
ব্যাখ্যা: ই-কারের পর আ যুক্ত হয়ে য-ফলা আকার গঠন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সু + আগত — এটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ এবং নিয়মানুযায়ী গঠিত।
B) স্বা + গত — স্বা কোনো উপসর্গ বা মূল শব্দ নয়, তাই এটি ভুল।
C) সু + গত — এটি দিয়ে সুগত হয়, যেখানে আগত শব্দটি অনুপস্থিত।
D) স্বা + গত — এটি অপশনের পুনরাবৃত্তি এবং ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- য-ফলা বা ব-ফলা যুক্ত সন্ধি বিচ্ছেদের সময় সাধারণত প্রথম শব্দটিতে ই-কার বা উ-কার যুক্ত উপসর্গ থাকে।
- স্বাগত শব্দে ব-ফলা থাকায় প্রথম অংশে সু এবং পরের অংশে আগত হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষায় এই নিয়মের সন্ধি প্রায়ই আসে।
- প্রতিযুক্ত উষ সমান প্রত্যুষ বা অতিযুক্ত অন্ত সমান অত্যন্ত এই নিয়মেই সাধিত হয়।
সঠিক উত্তর: B) ব্যাকুল
১. কেন সঠিক:
- বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী ব্যাকুল শব্দটিতে যুক্তবর্ণ হিসেবে ক-এর নিচে য-ফলা এবং উ রয়েছে, যার সঠিক রূপ ব-য-ফলা-আ-ক-উ-ল।
- বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানান লেখার সময় বাংলা একাডেমি নির্ধারিত প্রমিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়, যেখানে ব্যঞ্জনবর্ণের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- এটি শুদ্ধ বানান ও বাক্যশুদ্ধি বিষয়ক প্রশ্ন।
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অনেক সময় শব্দের শুরুতে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলা যুক্ত হয় এবং ই-কার কিংবা উ-কার সঠিক স্থানে বসে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও ব-এর সাথে য-ফলা এবং ক-এর নিচে র-ফলা ব্যবহৃত হয়, যা শুদ্ধ বানানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ।
উদাহরণ ২: ব্যঙ্গার্থ
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলার সঠিক প্রয়োগ দেখানো হয়েছে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই শুদ্ধ বানান হিসেবে আসে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাকুল — এই বানানে ব-এর সাথে আ-কার ব্যবহার করা হয়েছে যা ভুল, কারণ সঠিক শব্দটিতে ব-এর সাথে য-ফলা রয়েছে।
B) ব্যাকুল — এটি সঠিক বানান এবং প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে গঠিত হয়েছে।
C) ব্যাকুল্ল — এই বানানে অতিরিক্ত ল যুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভুল এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
D) ব্যাকুল — প্রশ্নপত্রে একই অপশন দুবার থাকার কারণে এটিও সঠিক বানান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে মূলত প্রথম সঠিক অপশনটিই প্রধান উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ব্যাকুল শব্দটি লেখার সময় মনে রাখতে হবে যে ব-এর সাথে য-ফলা এবং ক-এর পরে উ-কার থাকে।
- বিভ্রান্তিকর অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রমিত বানান চর্চা করতে হবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তৎসম শব্দের বানান প্রায়ই ভুল আসে, তাই প্রমিত বানান মুখস্থ রাখার চেয়ে নিয়মগুলো বোঝা বেশি কার্যকর।
- একই রকম দেখতে শব্দের বানানগুলো বারবার চর্চা করলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: C) আরোক ফাল্গুন (উল্লেখ্য, প্রশ্নটিতে প্রমিত বানান হবে 'আরেক ফাল্গুন')
১. কেন সঠিক:
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো জহির রায়হানের বিখ্যাত উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন', যা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের পটভূমি এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই উপন্যাসের রচিয়তা প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, যিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারার উপন্যাসিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং রাজপথের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলা উপন্যাসে এই প্রথম শিল্পসম্মত প্রকাশ ঘটেছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আরেক ফাল্গুন উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক একটি কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
উদাহরণ ২: জহির রায়হানের বরফ গলা নদী একটি সামাজিক উপন্যাস।
ব্যাখ্যা: লেখকের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মৃত্যুক্ষুধা — এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নয়।
B) লালসালু — এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত গ্রামীণ সমাজ ও অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি ক্লাসিক উপন্যাস।
C) আরোক ফাল্গুন — প্রদত্ত উত্তরে সামান্য বানান ত্রুটি থাকলেও এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস হিসেবে নির্ভুল।
D) ঘর মন জানালা — এটি রশীদ করীম রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ আলাদা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ভাষা আন্দোলন মানেই জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি মনে রাখবে।
- আন্দোলনের মাস ফাল্গুন আর উপন্যাসটির নামও ফাল্গুন সম্পর্কিত হওয়ায় এটি সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি, তা বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- জহির রায়হান রচিত অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে শেষ বিকেলের মেয়ে এবং হারের প্রতীক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সঠিক উত্তর: D) নিজ বাসভূমে
১. কেন সঠিক:
- 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি আহসান হাবীবের রচনা, জীবনানন্দ দাশের নয়।
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা আধুনিক কবিতার রূপসী বাংলা এবং প্রকৃতির এক অনন্য কবি, যার সাহিত্যকর্মের তালিকা নির্দিষ্ট।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জীবনানন্দ দাশ বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী এবং সাতটি তারার তিমিৰ বিশেষভাবে পরিচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বনলতা সেন
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিশ্বখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা আধুনিক বাংলা কবিতার ক্লাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদাহরণ ২: ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ, যা তাঁর কবিমানস ও রূপসী বাংলার প্রকৃতির অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঝরা পালক — এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে না।
B) মহাপৃথিবী — এটি জীবনানন্দ দাশের চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে না।
C) সাতটি তারার তিমিৰ — এটি জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে না।
D) নিজ বাসভূমে — এটি কবি আহসান হাবীবের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এবং জীবনানন্দ দাশের রচনা নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
জীবনানন্দ দাশের প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো মনে রাখার জন্য প্রথম দিকের লেখা যেমন ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন এবং মহাপৃথিবীর নামগুলো বারবার চর্চা করতে পারো।
আহসান হাবীবের মতো অন্য লেখকদের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম আলাদা করে তালিকাভুক্ত করে পড়লে এই ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কবি ও সাহিত্যিকদের গ্রন্থ মিলকরণ বা কোনটি কার রচনা নয় ধরনের প্রশ্ন আসে।
তাই প্রতিটি কবির প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা সবসময় মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) স্বর্ণ
১. কেন সঠিক:
- হেম শব্দের মূল অর্থ হলো সোনা বা স্বর্ণ। বাংলা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের উৎস ও সমার্থক শব্দ নির্ণয়ে এই ধরনের তৎসম শব্দ প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হেম একটি তৎসম শব্দ যার প্রাচীন ও কাব্যিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কবি ও সাহিত্যিকগণ তাঁদের রচনায় সোনা বোঝাতে এই শব্দটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থবাচকতা বিচার করলে হেম একটি বিশেষ্য পদ এবং এটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত হেমন্ শব্দ থেকে হেম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে যা বাংলা কবিতায় বহুবার অবিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে পদাবলী সাহিত্য এবং আধুনিক কাব্যে হেমালয় বা হেমবর্ণ ইত্যাদি শব্দে এই হেম শব্দের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হেমবর্ণ
ব্যাখ্যা: হেমবর্ণ শব্দের অর্থ সোনালি রঙ বা সোনার মতো উজ্জ্বল বর্ণ, যেখানে হেম শব্দটি স্বর্ণের দ্যুতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: হেমকূট
ব্যাখ্যা: হেমকূট হলো পৌরাণিক উপকথায় উল্লেখিত স্বর্ণময় পর্বত, যা হেম শব্দের প্রয়োগের একটি ধ্রুপদী দৃষ্টান্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুধাকর — সুধাকর শব্দের অর্থ চন্দ্র বা চাঁদ, যা অমৃতের উৎস বোঝায় এবং হেম শব্দের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
B) মুক্তা — মুক্ত ঝিনুকের ভেতরে উৎপন্ন এক প্রকার রত্ন বা মুকুতিন বোঝায়, যা হেম বা স্বর্ণের সমার্থক শব্দ নয়।
C) রত্ন — রত্ন একটি সাধারণ পরিভাষা যা বহুমূল্য যেকোনো পাথরকে বোঝায়, কিন্তু হেম নির্দিষ্টভাবে স্বর্ণকে নির্দেশ করে।
D) স্বর্ণ — এই অপশনটি সঠিক কারণ হেম শব্দের সরাসরি অর্থ স্বর্ণ বা সোনা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হেমন্তকালে ধানের শিষ পেকে সোনালী রঙ ধারণ করে এবং হেম মানে সোনা, এভাবে মিলিয়ে মনে রাখা সহজ হয়।
- হেমালয় মানে সোনার পাহাড়, এই কৌশলটি মনে রাখলে হেম শব্দের অর্থ কখনো ভুল হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঠিক অর্থ জানতে চাওয়া হয়।
- হেম, কাঞ্চন, কনক, হিরণ্য - এই শব্দগুলো সমার্থক শব্দ হিসেবে একসঙ্গে পড়লে যেকোনো পরীক্ষায় উত্তর করা সহজ হবে।
সঠিক উত্তর: C) মিতালি
১. কেন সঠিক:
- মিতালি শব্দটি গঠিত হয়েছে মিত + আলি প্রত্যয় যোগে, যেখানে মিত হলো বিশেষ্য পদ এবং আলি হলো তদ্ধিত প্রত্যয়।
- বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- প্রাতিপদিক বা নাম প্রকৃতির পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে এবং সাধিত শব্দটিকে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলা হয়।
- ধাতুর পরে যা যুক্ত হয় তাকে কৃত প্রত্যয় বলে, কিন্তু নাম পদের পরে তদ্ধিত প্রত্যয় বসে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাবু + আনা = বাবুটানা
ব্যাখ্যা: বিশেষ্য পদের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ভাববাচক বা গুণবাচক নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ ২: মেসো + মাসি = মেসোমশাই (এখানে মেসো + উয়া = মেসোয়া জাতীয় শব্দ হতে পারে, যেমন হাত + উয়া = হাতিয়া)। সহজ উদাহরণ হলো হাত + ই = হতি বা ঘর + উয়া = গেঁয়ো।
ব্যাখ্যা: নাম প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত করার এটি একটি সাধারণ ব্যাকরণগত প্রক্রিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দাপট — এটি মূল ধাতু বা শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত কৃত প্রত্যয় সাধিত শব্দ বা কৃদন্ত শব্দ।
B) পেঁটরা — এটি একটি দেশি শব্দ বা অন্য প্রক্রিয়ায় গঠিত শব্দ, যা তদ্ধিত প্রত্যয়ের সরাসরি উদাহরণ নয়।
D) যাচাই — এটি কৃদন্ত শব্দ বা ভিন্ন ব্যাকরণিক প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ, যার সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয়ের সম্পর্ক নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কৃদন্ত প্রত্যয় চেনার সহজ উপায় হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে প্রত্যয় খোঁজা।
- তদ্ধিত প্রত্যয় চেনার সহজ উপায় হলো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়া মনে রাখা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তদ্ধিত ও কৃদন্ত প্রত্যয় থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- শব্দ বিশ্লেষণ করার সময় মূল অংশটি নাম পদ নাকি ক্রিয়ামূল, তা প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ৪ টি
১. কেন সঠিক:
ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় মূলত চারটি। ভাষা ও ব্যাকরণের মৌলিক কাঠامো বিশ্লেষণ করতে এই চারটি বিভাগ অপরিহার্য।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি যথা ধ্বনিমত, শব্দমত বা রূপমত, বাক্যমত এবং অর্থমত। প্রতিটি বিভাগে ভাষার নির্দিষ্ট একটি স্তর বা একক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ধ্বনিমত
ব্যাখ্যা: এটি ব্যাকরণের এমন একটি শাখা যেখানে ধ্বনির উচ্চারণ, বর্ণ এবং সন্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উদাহরণ ২: বাক্যমত
ব্যাখ্যা: এটি ব্যাকরণের এমন একটি শাখা যেখানে পদের ক্রম, কারক এবং বাচ্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২ টি — বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় দুটি নয়, কারণ ভাষা আরও সুনির্দিষ্ট শাখায় বিভক্ত।
B) ৪ টি — এই অপশনটি সঠিক কারণ ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি।
C) ৬ টি — ছয়টি কোনো প্রমিত ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় নয়।
D) ৮ টি — আটটি সংখ্যাটি ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
শব্দ মনে রাখার জন্য মনে রাখতে পারো ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ এই চারটি মূল স্তম্ভ। ব্যাকরণ মানেই এই চারটি স্তরের সুশৃঙ্খল বিন্যাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে যে ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় কয়টি। সঠিক উত্তর সবসময় চারটি হবে।
সঠিক উত্তর: D) ফারসি
১. কেন সঠিক:
- 'নিমরাজি' শব্দটিতে ব্যবহৃত 'নিম' একটি বিদেশি উপসর্গ, যার অর্থ অর্ধেক বা আধা।
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী 'নিম' উপসর্গটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি উপসর্গগুলোর মধ্যে ফারসি উপসর্গ অন্যতম একটি শ্রেণি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নিমরাজি
ব্যাখ্যা: এখানে 'নিম' উপসর্গটি 'রাজি' শব্দের পূর্বে বসে অর্ধেক রাজি বা কম রাজি অর্থে নতুন শব্দ তৈরি করেছে।
উদাহরণ ২: নিমরাজি
ব্যাখ্যা: ফারসি উপসর্গযুক্ত অন্যান্য শব্দের মতো এটিও বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আরবি — 'নিম' উপসর্গটি আরবি ভাষা থেকে আসেনি বরং এটি ফারসি ভাষার শব্দাংশ।
B) বাংলা — 'অ', 'অঘা', 'অাজ', 'উন' ইত্যাদি খাঁটি বাংলা উপসর্গ হলেও 'নিম' বাংলা নয়।
C) ইংরেজি — 'হেড', 'সাব', 'ফুল' ইত্যাদি ইংরেজি উপসর্গ, ফারসি ভাষার 'নিম' ইংরেজি নয়।
D) ফারসি — এটি সঠিক উত্তর কারণ 'নিম' একটি ফারসি উপসর্গ যা বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ফারসি উপসর্গগুলো মনে রাখার একটি সহজ ছন্দ হলো, কার, দর, কম, খাস, বে, বদ, বর, কম, নিম।
- এর মাধ্যমে 'নিম' উপসর্গটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে তা সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি উপসর্গ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- ফারসি উপসর্গের তালিকা ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজে সমাধান করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) অব্যয়ীভাব
১. কেন সঠিক:
উপশহর শব্দটিতে উপ উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। শহর শব্দের পূর্বে ক্ষুদ্র অর্থে উপ উপসর্গ যোগ হয়ে অব্যয়ীভাব সমাস গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যে সমাসে পূর্বপদে উপসর্গ থাকে এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। এই সমাসে সাধারণত সামীপ্য, অভাব, ক্ষুদ্র, বিপ্সা ইত্যাদি অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়ে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উপগ্রহ
ব্যাখ্যা: গ্রহের সদৃশ বা ক্ষুদ্র অর্থে উপ উপসর্গ যোগে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে।
উদাহরণ ২: উপকূল
ব্যাখ্যা: কূলের সামীপ্য অর্থে উপ উপসর্গ যোগে অব্যয়ীভাব সমাস গঠিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, যা এখানে নেই।
C) তৎপুরুষ — তৎপুরুষ সমাসে পরের পদের অর্থ প্রধান হয়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) বহুব্রীহি — বহুব্রীহি সমাসে পদগুলোর অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো পদকে বোঝায়, যা এখানে হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দে যদি পূর্বপদের অর্থ বা উপসর্গটির বিশেষ অর্থ প্রাধান্য পায়, তবে সাধারণত তা অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
উপ উপসর্গ দিয়ে গঠিত সমাসগুলোতে প্রায়শই ক্ষুদ্র বা সামীপ্য অর্থ প্রকাশ পায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উপসর্গভিত্তিক সমাস নির্ণয়ের জন্য এই নিয়মটি খুব কাজে লাগে।
সঠিক উত্তর: C) চট্টোপাধ্যায়
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে কোন বানানটি শুদ্ধ নয় তা জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী 'চট্টোপাধ্যায়' বানানটি ভুল, এর শুদ্ধ রূপ হলো 'চট্টোপাধ্যায়'।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে 'ও'-কার ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পদবিবাচক শব্দ যেমন বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় ইত্যাদিতে 'ও'-কার যুক্ত হয়, কিন্তু চট্টোপাধ্যায় বানানে 'ও'-কার যুক্ত না হয়ে 'অ' বা আকার যুক্ত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: এটি একটি শুদ্ধ পদবিবাচক বানান যেখানে শেষে 'ও'-কার যুক্ত হয়েছে।
উদাহরণ ২: মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: এটিও একটি শুদ্ধ পদবিবাচক বানান যেখানে নিয়ম অনুযায়ী 'ও'-কার ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বন্দ্যোপাধ্যায় — এটি একটি সম্পূর্ণ শুদ্ধ বানান এবং প্রমিত নিয়ম মেনে লেখা হয়েছে।
B) পঙ্ক — এটি একটি শুদ্ধ তৎসম শব্দ যার অর্থ কাদা বা পঙ্কিলতা।
C) চট্টোপাধ্যায় — এটি ভুল বানান কারণ এর সঠিক রূপ হলো চট্টোপাধ্যায়।
D) সংশয় — এটি একটি শুদ্ধ শব্দ যার অর্থ সন্দেহ বা দ্বিধা।
৫. মনে রাখার টিপস:
পদবিবাচক বানানের ক্ষেত্রে বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় বানানে 'ও'-কার ব্যবহার করবে। তবে চট্টোপাধ্যায় বানানের শেষে 'ও'-কার না দিয়ে 'অ' বা আকার ব্যবহার করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পদবিবাচক বানান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানরীতি অনুসরণ করে এসব বানান ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ব্ল্যাঙ্কভার্স
১. কেন সঠিক:
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি পরিভাষা হলো ব্ল্যাঙ্কভার্স যার অর্থ মিলহীন অমিল পদ্য।
- এই ছন্দে চরণের অন্তে মিল থাকে না এবং এর মূল ভিত্তি হলো স্বরবৃত্ত বা মাত্রাবৃত্ত ছন্দের পর্বভিত্তিক বিন্যাস।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট এবং ইংরেজি ব্ল্যাঙ্কভার্স বা অমিল পদ্যের অনুকরণে বাংলা সাহিত্যে এই ছন্দ সফলভাবে প্রবর্তন করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা: এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত একটি মহাকব্য যা সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য।
উদাহরণ ২: তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা: এটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি বিখ্যাত কাব্য যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এবং এটিই এই ছন্দে রচিত তাঁর প্রথম কাব্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাইকু — এটি জাপানি একধরনের সংক্ষিপ্ত কবিতা যার নির্দিষ্ট মাত্রা বিন্যাস থাকে এবং এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ নয়।
B) সনেট — এটি চতুর্দশপদী কবিতা যার নির্দিষ্ট মিলবিন্যাস থাকে এবং এটি ব্ল্যাঙ্কভার্স বা অমিত্রাক্ষর ছন্দের সমার্থক নয়।
C) ব্ল্যাঙ্কভার্স — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের সঠিক ইংরেজি পরিভাষা।
D) লিমেরিক — এটি পাঁচ চরণের একধরনের হাস্যরসাত্মক লঘু পদ্য এবং এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অমিত্র মানে অমিল এবং ব্ল্যাঙ্ক মানে ফাঁকা বা মিলহীন।
- এই মিলহীন বৈশিষ্ট্যের কথা মনে রাখলে অমিত্রাক্ষর ও ব্ল্যাঙ্কভার্স এক সূত্রে গেঁথে রাখা সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক কে এবং তাঁর প্রথম মহাকাব্যের নাম কী, এই দুটি প্রশ্ন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- ইংরেজি ব্ল্যাঙ্কভার্স বাংলায় সার্থকভাবে ব্যবহারের কৃতিত্ব যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের, তা সবসময় মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) আধুনিক যুগ
১. কেন সঠিক:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের একটি অমর সৃষ্টি, যা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছেন।
- বাংলা সাহিত্যকে মূলত প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ঊনবিংশ শতাব্দীতে রচিত এই গ্রন্থটি আধুনিক যুগের অন্তর্ভুক্ত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই কাব্যগ্রন্থটির রচিয়তা হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি তাঁর কৈশোরে ভানুসিংহ ছদ্মনামে পদগুলো রচনা করেছিলেন।
- এটি বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে ব্রজবুলি ভাষায় রচিত একটি পদসংকলন, যা ১৮৮৪ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেঘদূত
ব্যাখ্যা: এটি কালীদাসের সংস্কৃত কাব্য এবং আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এর ওপর ভিত্তি করে সাহিত্যকর্ম রয়েছে।
উদাহরণ ২: গীতালি
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আধুনিক যুগের একটি বিখ্যাত গীতিকাব্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রাচীন যুগ — প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ এবং এই যুগটি শুরু হয়েছিল হাজার বছর আগে।
B) আধুনিক যুগ — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং এটি ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
C) মধ্যযুগ — মধ্যযুগের সাহিত্য প্রধানত মঙ্গলকাব্যের ও বৈষ্ণব পদাবলীর কাল যা এই গ্রন্থের রচনার সময়ের সঙ্গে মেলে না।
D) অন্ধকার যুগ — বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বা তুর্কি আক্রমণকাল বলতে ১২০১ থেকে ১২০৫ সাল পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক যুগের কবি হলেও তিনি মধ্যযুগের ভক্তিভাব এবং ব্রজবুলি ভাষা নকল করে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী লিখেছিলেন, তাই যুগ হিসেবে এটি আধুনিক যুগ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম হলো ভানুসিংহ।
- এই পদগুলি ব্রজবুলি ভাষায় রচিত এবং এই ধরনের সাহিত্যিক ছদ্মনাম প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) মুক্তক ছন্দ
১. কেন সঠিক:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থটি মূলত বাংলা কাব্যে গতির মুক্তি এবং গদ্যরীতির কাছাকাছি ছন্দের সার্থক প্রয়োগের জন্য বিখ্যাত।
এই কাব্যে প্রচলিত অক্ষরবৃত্ত বা স্বরবৃত্ত ছন্দের বাঁধাধরা নিয়ম ভেঙে ভাব ও গতির স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যা মুক্তক ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কাব্যে প্রথম সার্থকভাবে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তন করেন এবং তাঁর 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থটি এই ছন্দের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
১৯১৬ সালে প্রকাশিত 'বলাকা' কাব্যের কবিতাগুলোতে চলমান জীবনের গতিশীলতা ও পরিবর্তনের রূপ প্রকাশ করার জন্য মুক্তক ছন্দ বিশেষভাবে উপযোগী হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বলাকা কাব্যের অন্তর্গত 'শাহজাহান' কবিতা
ব্যাখ্যা: এই কবিতায় ছন্দের কোনো গতানুগতিক মিল বা ধ্বনিসাম্যের কড়াকড়ি নেই, যা মুক্তক ছন্দের প্রকাশ।
উদাহরণ ২: বলাকা কাব্যের বিখ্যাত 'সবুজ অভিযান' কবিতা
ব্যাখ্যা: এখানে মুক্তক ছন্দের মাধ্যমে গতির আবেগ ও প্রাণের চাঞ্চল্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুক্তক ছন্দ — এটিই সঠিক উত্তর কারণ বলাকা কাব্যে এই ছন্দের সার্থক প্রয়োগ ঘটেছে।
B) স্বরবৃত্ত ছন্দ — স্বরবৃত্ত ছন্দ হলো খাঁটি বাংলা লোকছন্দ যা ছড়ার ছন্দ নামে পরিচিত এবং বলাকা এই ছন্দে রচিত নয়।
C) গদ্যছন্দ — গদ্যছন্দ ও মুক্তক ছন্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং বলাকা গদ্যছন্দে রচিত নয় বরং এটি মুক্তক ছন্দের কাব্য।
D) মন্দাক্রান্তা ছন্দ — মন্দাক্রান্তা হলো একটি সংস্কৃত বৃত্তাকার ছন্দ যা মেঘদূত কাব্যে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বলাকার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
রবীন্দ্রনাথের গতিশীল ভাবনার প্রতীক হলো বলাকা এবং ছন্দের ক্ষেত্রে গতির এই মুক্তি এসেছে মুক্তক ছন্দের মাধ্যমে।
বলাকা কাব্য এবং মুক্তক ছন্দ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল হলো ১৯১৬ সাল এবং এতে মোট বায়ান্নটি কবিতা রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: C) পর্তুগিজ
১. কেন সঠিক:
- 'কামিজ' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- পর্তুগিজ বণিক ও ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে এই শব্দটি বাংলা শব্দভান্ডারে প্রবেশ করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের মধ্যে পর্তুগিজ শব্দ অন্যতম একটি উৎস।
- বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পর্তুগিজ ভাষার অনেক শব্দ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আনারস
ব্যাখ্যা: এটি একটি বহুল ব্যবহৃত পর্তুগিজ শব্দ যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য।
উদাহরণ ২: চাবি
ব্যাখ্যা: এই শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত আরেকটি অতিপরিচিত শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইংরেজি — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ কামিজ শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আসেনি।
B) হিন্দি — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ কামিজ হিন্দি ভাষার মূল শব্দ নয়।
D) ওলন্দাজ — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ ওলন্দাজ ভাষা থেকে কামিজ শব্দটি নেওয়া হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কিত কিছু বিদেশি শব্দ যেমন কামিজ পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে এটি মনে রাখতে হবে।
- প্রাত্যহিক জীবনের কিছু ফল ও বস্তুবাচক শব্দ মনে রাখলে উৎস নির্ণয় সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- পর্তুগিজ শব্দের উৎস ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর সহজে করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: D) উন্নয়ন
১. কেন সঠিক:
উন্নয়ন শব্দটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ কারণ এটি কোনো কাজের ভাব বা অবস্থাকে প্রকাশ করে।
উৎ + নয়ন থেকে উৎপন্ন এই শব্দটি ক্রিয়ার ভাবের নাম বোঝাতে বিশেষ্য পদে পরিণত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যে শব্দ দ্বারা কোনো কিছুর নাম, গুণ, অবস্থা বা ভাবের প্রকাশ ঘটে তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
ভাববাচক বিশেষ্য হলো সেই বিশেষ্য যা কোনো কাজ করা বা হওয়ার ভাবকে প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গমন
ব্যাখ্যা: গমন শব্দটি যাওয়ার ভাব প্রকাশ করায় এটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য।
উদাহরণ ২: ভোজন
ব্যাখ্যা: ভোজন শব্দটি খাওয়ার ভাব নির্দেশ করায় এটি বিশেষ্য পদের অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পতিত — এটি একটি বিশেষণ পদ কারণ এর দ্বারা কোনো বিশেষ্য পদের দোষ বা গুণ বোঝায়।
B) জাতব — এটি বিশেষ্য পদ নয় বরং এটি শব্দ গঠনগতভাবে বিশেষণের রূপ প্রকাশ করে।
C) আগ্নেয় — এটি একটি বিশেষণ পদ যা অগ্নি থেকে উৎপন্ন বা সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
D) উন্নয়ন — সঠিক উত্তর হওয়ার কারণে এটি বিশেষ্যের উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
যে শব্দগুলোর শেষে অন প্রত্যয় যুক্ত থাকে এবং কোনো কাজের ভাব বোঝায়, সেগুলো সাধারণত ভাববাচক বিশেষ্য হয়।
উন্নয়ন, গমন, পঠন ইত্যাদি শব্দ দেখলেই বিশেষ্য হিসেবে চিনে নিতে পারবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ক্রিয়ামূলের সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কোন পদ গঠিত হলো, তা প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
শব্দের রূপ দেখে তা নামপদ না ভাববাচক পদ তা নির্ণয় করার অভ্যাস করতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) সরল
১. কেন সঠিক:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। প্রদত্ত বাক্যে ময়ূর হলো কর্তা এবং নৃত্য করে হলো সমাপিকা ক্রিয়া।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাক্য রূপান্তরের নিয়মানুযায়ী সরল বাক্যে প্রধানত একটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য বা সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। এখানে মেঘ গর্জন করলে অংশটি অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বাক্যাংশ এবং ময়ূর নৃত্য করে অংশটি সমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত প্রধান খণ্ডবাক্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সূর্য উঠলে পদ্ম ফোটে।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া ফোটে আছে এবং এটি একটি সরল বাক্য।
উদাহরণ ২: বৃষ্টি থামলে আমরা রওনা দেব।
ব্যাখ্যা: এখানে মূল সমাপিকা ক্রিয়া হলো রওনা দেব এবং এটি সরল বাক্যের গঠন অনুসরণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সরল — এটি সঠিক কারণ বাক্যটিতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।
B) জটিল — জটিল বাক্যে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, যা এই বাক্যে নেই।
C) যৌগিক — যৌগিক বাক্যে একাধিক স্বাধীন বাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে, যা এখানে অনুপস্থিত।
D) মিশ্রবাক্য — জটিল বাক্যের অপর নাম মিশ্রবাক্য, যা এই সাধারণ বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে চোখ বন্ধ করে তাকে সরল বাক্য হিসেবে চিহ্নিত করবে। সরল বাক্যে কোনো যোজক বা সংযোজক অব্যয় সাধারণত থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাক্য রূপান্তর থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বাক্যাংশ থাকলে তাকে জটিল ভেবে ভুল করা যাবে না, সমাপিকা ক্রিয়ার সংখ্যা দেখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) প্রত্যুদগমন
১. কেন সঠিক:
- 'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' করার বিশেষ অবস্থাকে এককথায় প্রত্যুদগমন বলা হয়।
- এখানে প্রতি উপসর্গ এবং উদগম ধাতু মিলে শব্দটি গঠিত হয়েছে যার মূল অর্থ সামনে এগিয়ে যাওয়া।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি এককথায় প্রকাশ বা বাক্যসংক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ করে।
- একাধিক পদ বা বাক্যকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করার মাধ্যমে ভাষার সৌন্দর্য ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যা পূর্বে কখনো ঘটে নি = অভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা: অতীতে ঘটেনি এমন ঘটনা বোঝাতে এই এককথায় প্রকাশ ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: নদী মাতা যার = নদীমাতৃক
ব্যাখ্যা: দেশের ভূপ্রকৃতি বা নদীভিত্তিক বৈশিষ্ট্য বোঝাতে এই এককথায় প্রকাশ ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আবাহন — এর অর্থ কোনো কিছুকে আহ্বান করা বা নিমন্ত্রণ জানানো, যা সামনে এগিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর সমার্থক নয়।
B) স্বাগতম — এর অর্থ সুন্দরভাবে গ্রহণ করা বা সম্ভাষণ জানানো, কিন্তু এটি অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া বোঝায় না।
D) সম্ভাষণ — এর অর্থ কাউকে অভিবাদন বা কথা বলা, যা সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার ভাবটি প্রকাশ করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- প্রত্যুদগমন শব্দটিতে প্র এবং উদগম যুক্ত আছে যার অর্থ সামনে যাওয়া।
- অভ্যর্থনার জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়া বুঝলেই প্রত্যুদগমন উত্তর নির্বাচন করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- বিশেষ করে যাতায়াত বা গমন সম্পর্কিত বাক্যসংক্ষেপগুলো ভালোভাবে চর্চা করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) পুনরাবৃত্তি অর্থে
১. কেন সঠিক:
- 'আর' শব্দটি এখানে একই কাজের বা ঘটনার পুনারবৃত্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- বাক্যে 'যাব না' কাজটি পূর্বেও নিষেধ করা হয়েছিল এবং বক্তা তা আবারও নিশ্চিত করছেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'আর' একটি বহুর্থক শব্দ যা বাক্য বা প্রমিত ব্যবহারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে।
- পুনারবৃত্তি বা আধিক্য বোঝাতে এই অব্যয় সূচক শব্দটি বাক্যের ভাবকে জোরালো করে তোলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজটি আর করো না।
ব্যাখ্যা: এখানে নিষেধের পুনরাবৃত্তি বোঝাতে 'আর' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: তাকে আর ডাকিস না।
ব্যাখ্যা: পূর্বের ডাক দেওয়ার নিষেধের ধারাবাহিকতা বা পুনরাবৃত্তি বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নির্দেশ অর্থে — নির্দেশ বলতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা আদেশ বোঝায়, যা এখানে নেই।
B) পুনরাবৃত্তি অর্থে — এটি সঠিক কারণ শব্দটি একই ঘটনার পুনরায় ঘটার ইঙ্গিত দেয়।
C) স্বীকৃতিজ্ঞাপন অর্থে — স্বীকৃতি বা সম্মতি প্রকাশের জন্য এই শব্দটি বাক্যে ব্যবহার করা হয়নি।
D) বিস্ময় প্রকাশে — বিস্ময় বা তাজ্জব প্রকাশ করার কোনো ভাব এই বাক্যে অনুপস্থিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কোনো কাজ বা অবস্থা পূর্বে ঘটার পর তা আবার নিষেধ বা বোঝাতে 'আর' ব্যবহৃত হলে তা পুনরাবৃত্তি অর্থ প্রকাশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বহুর্থক শব্দের বিভিন্ন অর্থভিত্তিক ব্যবহার থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) অকাল
১. কেন সঠিক:
- উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন বা সংকোচন ঘটায়।
- অকাল শব্দটিতে অ হলো একটি খাটি বাংলা উপসর্গ যা মন্দ বা খারাপ অর্থে কাল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- যে অব্যয় বা অব্যয়স্থানীয় শব্দ বা শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ মোট একুশটি এবং তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ কুড়িটি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপরাজিতা
ব্যাখ্যা: এখানে অপ উপসর্গটি রাজিতা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থ প্রকাশ করেছে।
উদাহরণ ২: পরিভাষা
ব্যাখ্যা: এখানে পরি উপসর্গটি ভাষা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ তৈরি করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নবান্ন — এটি সন্ধি সাধিত শব্দ, নব যোগ অন্ন মিলে নবান্ন হয়েছে যেখানে কোনো উপসর্গ নেই।
B) অকাল — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি উপসর্গ যোগে গঠিত হয়েছে।
C) পঙ্কজিল — এটি প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ, পঙ্ক এর সাথে ইলো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে পঙ্কজিল হয়েছে।
D) ঢাকাই — এটি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ, ঢাকা শব্দের সাথে আই প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ঢাকাই হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- উপসর্গ শব্দের শুরুতে বসে এবং প্রত্যয় শব্দের শেষে বসে এই বিষয়টি মনে রাখলেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা সহজ হয়।
- বাংলা উপসর্গ একুশটি মুখস্থ রাখার জন্য ছন্দের সাহায্য নিতে পারো যেমন অ অঘা অজ অনা ইত্যাদি।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই শব্দ গঠন প্রক্রিয়া থেকে প্রশ্ন আসে যেখানে উপসর্গ ও প্রত্যয় আলাদা করতে হয়।
- কোনো শব্দে উপসর্গ আছে কি না তা বুঝতে শব্দের মূল অংশ আলাদা করে দেখতে হবে যে শুরুতে কোনো অব্যয় আছে কি না।
সঠিক উত্তর: B) শ্রী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে
১. কেন সঠিক:
- অগ্নি-বীণা কাব্যটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন।
- বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ছিলেন প্রখ্যাত বিপ্লবী এবং ঋষি অরবিন্দ ঘোষের কনিষ্ঠ ভাই, যা নজরুলের বিপ্লবী চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অগ্নি-বীণা হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়।
- এই ঐতিহাসিক কাব্যগ্রন্থে মোট বারোটি বিখ্যাত কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী ও কামাল পাশা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী নজরুল ইসলামের সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল তার এই সংকলনটি তাকে উৎসর্গ করেন।
উদাহরণ ২: কাজী নজরুল ইসলামের বিষের বাঁশী কাব্যগ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজোপ্ত করেছিল।
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের কারণে এই কাব্যগ্রন্থটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে — এই অপশনটি ভুল কারণ শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক ছিলেন, যাকে নজরুল তার কোনো কাব্য উৎসর্গ করেননি।
B) শ্রী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে — এটি সঠিক উত্তর এবং বিপ্লবী চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে কাব্যটি তাকেই উৎসর্গ করা হয়েছিল।
C) শ্রীকৃষ্ণ মজুমদারকে — এই অপশনটি ভুল কারণ শ্রীকৃষ্ণ মজুমদার নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নি-বীণার প্রকাশক ছিলেন, উৎসর্গ গ্রহীতা নন।
D) শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে — এই অপশনটি ভুল কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নজরুল তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন, অগ্নি-বীণা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিপ্লবী চেতনা ও অগ্নিঝরা বারুদ বোঝাতে বারীন্দ্রকুমার ঘোষের কথা মনে রাখবে।
অগ্নি-বীণার প্রজ্জ্বলিত আগুন বিপ্লবীদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল এবং এর প্রথম কবিতার নাম বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত কাব্য বা উপন্যাসের উৎসর্গপত্র ও প্রকাশক সংক্রান্ত তথ্য সবসময় আলাদা করে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) সিন্ধু হিন্দোল
১. কেন সঠিক:
- 'দারিদ্র' কবিতাটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এই কবিতায় কবি দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম এবং সমাজের বৈষম্যকে অত্যন্ত বাস্তব ও শিল্পসম্মতভাবে তুলে ধরেছেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, যিনি বাংলা কবিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন।
- 'সিন্ধু হিন্দোল' তাঁর অন্যতম প্রধান ও প্রখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা কবির মননশীল ও সাম্যবাদী চিন্তার পরিচায়ক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত কবিতা যা তাঁর অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
উদাহরণ ২: সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা: এটি নজরুল ইসলামের সমাজভিত্তিক কবিতার একটি অনন্য সংকলন যা একই নামের কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সাম্যবাদী - এই নামে কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা আছে, তবে 'দারিদ্র' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়।
B) বিষের বাঁশী - এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত বিদ্রোহী ও প্রগতিশীল কাব্যগ্রন্থ, যাতে 'দারিদ্র' কবিতাটি নেই।
C) সিন্ধু হিন্দোল - এটি সঠিক উত্তর এবং এই কাব্যগ্রন্থেই 'দারিদ্র' কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল।
D) অগ্নিবীণা - এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত এবং সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যার মধ্যে 'দারিদ্র' কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র' কবিতাটি 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত তা মনে রাখতে সিন্ধু সাগরের মতো বিশাল দারিদ্র্যের ঢেউ এভাবে ভাবা যেতে পারে।
- কবির সাহিত্যকর্ম মনে রাখার জন্য প্রতিটি কাব্যগ্রন্থের নাম আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করে পড়া উচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবির বিখ্যাত কবিতার কাব্যগ্রন্থের নাম প্রায়ই আসে।
- বিদ্রোহী কবির অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ যেমন সঞ্চিতা, প্রলয়োল্লাস এবং চক্রবাক সম্পর্কেও ধারণা রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) Sow
কেন সঠিক:
- 'Sow' শব্দের অর্থ হলো মাদী শুকর, যা পুংলিঙ্গ 'Boar' শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ।
- এটি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Buck — এটি একটি পুরুষ হরিণ বা খরগোশ বোঝায়, যার স্ত্রীবাচক রূপ হলো Doe।
B) Sow — এটি নিজেই সঠিক উত্তর এবং মাদী শুকর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
C) Hunter — এটি একটি সাধারণ লিঙ্গ বা পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যার স্ত্রীবাচক রূপ Huntress।
D) Baron — এটি একজন পুরুষ সামন্তপ্রভু বোঝায়, যার স্ত্রীবাচক রূপ হলো Baroness।
মনে রাখার টিপস:
শুকরের ক্ষেত্রে পুরুষ হলো Boar এবং স্ত্রী হলো Sow, যা জুটি মনে রাখলে সহজেই উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) Closing
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী Would you mind এর পরে verb এর সাথে ing যোগ করতে হয়।
- প্রদত্ত বাক্যে mind এর পরে শূন্যস্থান থাকায় সঠিক উত্তরটি gerund বা closing হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Close — এটি verb এর base form, যা would you mind এর পরে সরাসরি বসতে পারে না।
B) Closing — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য।
C) Closed — এটি verb এর past form, যা এই শূন্যস্থানে grammatically ভুল।
D) To close — এটি infinitive form, যা would you mind এর পরে ব্যবহার করা নিয়মবিরুদ্ধ।
মনে রাখার টিপস:
Would you mind দেখলেই verb এর সাথে ing যুক্ত করবে।
সঠিক উত্তর: C) Bacterium
কেন সঠিক:
- ল্যাটিন বা গ্রিক মূলের যেসব শব্দের শেষে um থাকে, সাধারণত তাদের শেষে a যোগ করে বহুবচন বা Plural করা হয়।
- এখানে Bacterium শব্দটির শেষে um থাকায় এটি একটি একবচন বা Singular number।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Fungi — এটি Fungus শব্দের বহুবচন রূপ, তাই এটি Singular নয়।
B) Foci — এটি Focus শব্দের বহুবচন রূপ, তাই এটি Singular নয়।
C) Bacterium — এটি সঠিক Singular রূপ, যার বহুবচন হলো Bacteria।
D) Errata — এটি Erratum শব্দের বহুবচন রূপ, তাই এটি Singular নয়।
মনে রাখার টিপস:
শব্দের শেষে um থাকলে সাধারণত তা Singular এবং a থাকলে Plural হয়।
সঠিক উত্তর: B) The wearer best knows where the shoe pinches
কেন সঠিক:
- এটি একটি বিখ্যাত ইংরেজি প্রবাদ, যার শাব্দিক অর্থ হলো জুতো কোথায় কামড়ায় বা মাপে কষ্ট দেয় তা একমাত্র পরিধানকারীই ভালো জানে।
- বাংলায় এই প্রবাদের উপযুক্ত ভাবানুবাদ হলো যার জ্বালা বা কষ্ট সেই বোঝে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The player best knows where he is defeated — এটি পরাজয়ের স্থান বা খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা বোঝায়, যা প্রবাদের ভাবার্থের সঙ্গে মিলে না।
B) The wearer best knows where the shoe pinches — এটি সঠিক প্রবাদ এবং এর ভাবার্থের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
C) The salesman best knows where he loses — এটি ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রসঙ্গ বোঝায়, যা সাধারণ প্রবাদের অর্থের আওতাভুক্ত নয়।
D) The king best knows when the subject suffers — এটি রাজার প্রজার কষ্ট বোঝার রাজকীয় প্রসঙ্গ নির্দেশ করে, যা সার্বজনীন প্রবাদ নয়।
মনে রাখার টিপস:
জুতো পরার সঙ্গে কষ্টের সম্পর্কযুক্ত এই প্রবাদে wearer এবং shoe pinches শব্দগুলো মনে রাখলেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা সহজ হবে।
সঠিক উত্তর: B) William Shakespeare
কেন সঠিক:
- জুলিয়াস সিজার বা Julius Caesar হলো বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের লেখা একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নাটক।
- এই নাটকে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের হত্যাকাণ্ড এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিণতির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Francis Bacon — তিনি একজন প্রখ্যাত ইংরেজি প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক ছিলেন, কোনো নাটক বা জুলিয়াস সিজার রচনা করেননি।
B) William Shakespeare — প্রদত্ত এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি এই ঐতিহাসিক নাটকটির রচয়িতা।
C) P.B. Shelley — তিনি রোমান্টিক যুগের একজন বিখ্যাত কবি ও নাট্যকার ছিলেন, জুলিয়াস সিজার তার লেখা নয়।
D) Bernard Shaw — তিনি আধুনিক যুগের একজন বিখ্যাত আইরিশ নাট্যকার ছিলেন, এলিজাবেথীয় যুগের এই নাটকের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
রোমান সম্রাট সিজারের নাম মনে এলেই শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটকের কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) Medicine
কেন সঠিক:
- 'Oncology' শব্দটির অর্থ হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা যা ক্যান্সার এবং টিউমার নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা করে।
- এটি সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য এবং রোগ নিরাময়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি মেডিসিন বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Law — এটি আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়, যার সঙ্গে ক্যানসার বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।
B) Medicine — এটি চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কিত সঠিক ক্ষেত্র, যা টিউমার ও ক্যানসার নিরাময় নিয়ে কাজ করে।
C) Ecology — এটি পরিবেশের সঙ্গে জীবজগতের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে, যা ক্যানসার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
D) Environment — এটি আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝায়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি আলাদা শাখা অনকোলজির পরিধিভুক্ত নয়।
মনে রাখার টিপস:
'Onco' শব্দের অর্থ টিউমার বা ভর, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের (Medicine) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
সঠিক উত্তর: D) Normal or usual
কেন সঠিক:
- অর্ডিনারি শব্দের বাংলা অর্থ সাধারণ বা স্বাভাবিক, যা নরমাল বা ইউজুয়াল শব্দের সমার্থক।
- এটি কোনো বিশেষ বা অসাধারণ কিছু বোঝায় না, বরং প্রাত্যহিক বা প্রচলিত অবস্থাকে নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Best and cleanest — এটি সবচেয়ে ভালো এবং পরিষ্কার বোঝায়, যা সাধারণ শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
B) Normal and usual — এটি অর্থের দিক থেকে সঠিক হলেও প্রদত্ত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত বিন্যাস ডি অপশনে রয়েছে।
C) Oldest and dirtiest — এটি সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে নোংরা বোঝায়, যার সঙ্গে সাধারণ শব্দের কোনো মিল নেই।
D) Normal or usual — এটি অর্ডিনারি শব্দের সঠিক সমার্থক শব্দ হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
অর্ডিনারি মানে সাধারণ, তাই এর সমার্থক হিসেবে নরমাল বা ইউজুয়াল শব্দটি মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) Lifebuoy
কেন সঠিক:
- ইংরেজি বানান নিয়মে জীবনরক্ষাকারী বল বোঝাতে Life এবং buoy শব্দ দুটি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
- অপশন A-তে থাকা বানানটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ও সঠিক ইংরেজি শব্দ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Lifebuoy — এটি সঠিক বানান এবং সঠিক উত্তর।
B) Lifeboy — এখানে buoy শব্দের পরিবর্তে boy লেখা হয়েছে, যা বানান ভুল।
C) Liveboy — এখানে Life-এর পরিবর্তে Live এবং buoy-এর পরিবর্তে boy ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল।
D) Liveboyee — এটি বানান এবং প্রত্যয় ব্যবহারের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল একটি শব্দ।
মনে রাখার টিপস:
জীবনরক্ষাকারী বল বা সাবানের নামের ক্ষেত্রে Life-এর সাথে পানিতে ভাসার বস্তু buoy যুক্ত হয়, boy নয়।
সঠিক উত্তর: C) 19ᵗʰ Century
কেন সঠিক:
- রানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকাল ১৮৩৭ সাল থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যা ইংরেজি সাহিত্যে ভিক্টোরিয়ান যুগ নামে পরিচিত।
- এই পুরো সময়কালটি ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ১৯ শতকের অন্তর্ভুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 17ᵗʰ Century — ১৭ শতক বলতে ১৬০১ থেকে ১৭০০ সালকে বোঝায়, যা রানী ভিক্টোরিয়ার অনেক আগের সময়কাল।
B) 18ᵗʰ Century — ১৮ শতক বলতে ১৭০১ থেকে ১৮০০ সালকে বোঝায়, যা ভিক্টোরিয়ান যুগের আগের জর্জিয়ান যুগের সময়কাল।
C) 19ᵗʰ Century — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এটি এখানে প্রযোজ্য নয় কারণ এটিই সঠিক উত্তর।
D) 20ᵗʰ Century — ২০ শতক বলতে ১৯০১ থেকে ২০০০ সালকে বোঝায়, যা ভিক্টোরিয়ান যুগের পরবর্তী এডওয়ার্ডিয়ান ও আধুনিক যুগের সময়কাল।
মনে রাখার টিপস:
রানী ভিক্টোরিয়া রাজত্ব করেছেন ১৮৩৭ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত, আর এই শতকের সংখ্যাটি ১৯ শতক।
সঠিক উত্তর: A) The captain commanded the soldiers to fire on.
কেন সঠিক:
- ক্যাপ্টেন বা সেনাপতি অধীনস্থ সৈন্যদের আদেশ বা নির্দেশ দেন, তাই এখানে 'commanded' শব্দটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
- রিপোর্টিং ভার্ব হিসেবে আদেশমূলক বাক্যে 'command' ব্যবহৃত হলে ইনফিনিটিভ 'to fire on' সঠিক ব্যাকরণগত গঠন তৈরি করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The captain commanded the soldiers to fire on. — এটি সঠিক এবং প্রশ্ন অনুযায়ী প্রশ্নটির সঠিক উত্তর।
B) The captain told the soldiers to fire on. — 'told' সাধারণ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে আদেশ বোঝাতে 'command' অধিকতর মানানসই।
C) The captain proposed the soldiers to fire on. — 'proposed' মানে প্রস্তাব করা, যা অধস্তন সৈন্যদের ক্ষেত্রে আদেশের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় না।
D) The captain requested the soldiers to fire on. — ক্যাপ্টেন বা সেনাপতি সৈন্যকে অনুরোধ করেন না, বরং আদেশ দেন তাই এটি ভুল।
মনে রাখার টিপস:
সেনাপতি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আদেশ বোঝাতে 'command' ব্যবহার করতে হয়, অনুরোধ বা প্রস্তাব নয়।
সঠিক উত্তর: C) adverb
কেন সঠিক:
- এখানে 'high' শব্দটি 'flew' ভার্বটিকে মডিফাই বা বিশেষিত করছে।
- ভার্বকে বিশেষিত করায় এটি একটি অ্যাডভার্ব হিসেবে কাজ করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun — এটি কোনো নাম বা বিশেষ্য নয়, কারণ এটি কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের নাম বোঝায় না।
B) adjective — এটি কোনো নাউন বা প্রোনাউনের দোষ, গুণ বা সংখ্যা প্রকাশ করছে না।
C) adverb — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি ভার্বকে মডিফাই করেছে।
D) verb — এটি কোনো কাজ করা বোঝায় না, এটি একটি অ্যাডভার্ব।
মনে রাখার টিপস:
ভার্ব কীভাবে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে তা বোঝালে সাধারণত অ্যাডভার্ব হয়।
সঠিক উত্তর: A) The unnecessary things were done for me by him.
কেন সঠিক:
- Active Voice-এর বাক্যে দুটি অবজেক্ট (the unnecessary things এবং me) থাকলে বস্তুবাচক অবজেক্টটিকে Subject বানাতে হয়।
- প্রদত্ত বাক্যটি Past Indefinite Tense-এ থাকায় Passive করার সময় Number ও Person অনুযায়ী were বসে এবং মূল verb-এর Past Participle রূপ বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The unnecessary things were done for me by him. — এটি সঠিক অপশন, তাই এখানে ভুল ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়।
B) The unnecessary things was done by him for me. — এখানে subject plural হওয়া সত্ত্বেও singular verb was ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
C) The unnecessary things had been done for me by him. — বাক্যটি Past Perfect Tense-এ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা মূল Past Indefinite Tense-এর নিয়মের সাথে মেলে না।
D) The unnecessary things had to be done form me by him. — এখানে বাক্যের অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে এবং ভুল preposition ও structure ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
Past Indefinite Tense-এর Active voice-কে Passive করার সময় Subject-এর পরে was বা were এবং মূল verb-এর Past Participle ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) Emphatic pronoun
কেন সঠিক:
- বাক্যে জোর বা গুরুত্ব বোঝাতে Subject-এর ঠিক পরেই Emphatic pronoun ব্যবহৃত হয়।
- এখানে 'myself' শব্দটি Subject 'I'-এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Reciprocal pronoun — পরস্পর সম্পর্ক বোঝাতে each other বা one another বসে, যা এখানে নেই।
B) Emphatic pronoun — Subject-কে জোর দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটিই সঠিক উত্তর।
C) Reflexive pronoun — Verb-এর Object যখন Subject-কে নির্দেশ করে তখন তা Reflexive হয়, কিন্তু এখানে Object নেই।
D) Distributive pronoun — আলাদাভাবে ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করতে each, either, neither বসে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
Subject-এর ঠিক পরেই বসে যখন জোর দেয়, তখন তা Emphatic pronoun হয় এবং মূল Verb-এর পরে Object হিসেবে বসলে তা Reflexive pronoun হয়।
সঠিক উত্তর: A) Photos
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অনেক বিদেশি বা সংক্ষিপ্ত শব্দের শেষে কেবল এস যোগ করে বহুবচন করা হয়।
- ফটো শব্দের ক্ষেত্রেও সাধারণ নিয়মে শুধু এস যোগ করে ফোটোস লেখা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Photos — এটি সঠিক কারণ এটি নিয়ম মেনে গঠিত বহুবচন রূপ।
B) Photo — এটি সঠিক নয় কারণ এটি শব্দটির একবচন রূপ।
C) Photoes — এটি ভুল কারণ ও দিয়ে শেষ হওয়া সব শব্দের সঙ্গে ইএস যোগ হয় না।
D) Phottos — এটি ভুল কারণ বানানটিতে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত টি ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ও দিয়ে শেষ হওয়া সব সংক্ষিপ্ত শব্দের বহুবচনে শুধু এস যোগ হয় যেমন ফটো থেকে ফোটোস এবং পিয়ানো থেকে পিয়ানোস।
সঠিক উত্তর: C) Collective
কেন সঠিক:
- 'Cavalry' শব্দের অর্থ অশ্বারোহী বাহিনী, যা একদল সৈন্যকে একত্রে বোঝায়।
- এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর নাম নয়, বরং একই জাতীয় একাধিক প্রাণীর সমষ্টিগত রূপ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Proper — এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা গ্রন্থের নাম বোঝায় না, তাই এটি Proper Noun নয়।
B) Common — এটি কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা বস্তুর সাধারণ নাম নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট দলের সমষ্টি।
C) Collective — প্রদত্ত উত্তরটি সঠিক কারণ এটি একাধিক অশ্বারোহী সেনার সমষ্টিকে নির্দেশ করে।
D) Abstract — এটি কোনো গুণ, অবস্থা বা কাজের নাম নয় যা ছোঁয়া যায় না, বরং এটি দৃশ্যমান প্রাণীর সমষ্টি।
মনে রাখার টিপস:
যেসকল নাউন কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়, যেমন Army, Navy, Cavalry, সেগুলোকে Collective Noun বলে।
সঠিক উত্তর: A) If you had come, I would have helped you.
কেন সঠিক:
- এটি থার্ড কন্ডিশনাল (Third Conditional) বাক্যের সঠিক গঠন, যেখানে প্রথম অংশে Past Perfect tense এবং দ্বিতীয় অংশে would have + verb-এর পাস্ট পার্টিসিপল বসে।
- অতীতের এমন একটি অসমাপ্ত ঘটনা প্রকাশ করে যার ফল আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) If you had come, I would have helped you. — এটি সঠিক বাক্য হওয়ায় ভুল নয়, এটিই উত্তর।
B) If you have have, I would have helped you. — প্রথম অংশে Present tense এবং দ্বিতীয় অংশে would have থাকায় কন্ডিশনালের নিয়ম অনুযায়ী এটি ভুল।
C) If you have had come, I will help you. — গঠনে have had এর সাথে come এবং প্রধান অংশে will থাকায় বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
D) If you had come, I would help you. — প্রথম অংশ Past Perfect হলেও দ্বিতীয় অংশে শুধু would থাকায় এটি সেকেন্ড ও থার্ড কন্ডিশনালের ভুল মিশ্রণ হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
থার্ড কন্ডিশনালে if এর সাথে Past Perfect থাকলে অপর অংশে would have + V3 বসে।
সঠিক উত্তর: A) To keep under careful observation
কেন সঠিক:
- Keep an eye on একটি প্রচলিত ইংরেজি ইডিওম যার বাংলা অর্থ হলো সতর্ক দৃষ্টি রাখা বা সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা।
- এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর বিশেষ নজরদারি বা বিশেষ খেয়াল রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) To keep under careful observation — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা যা মূল ফ্রেজের অর্থের সাথে মিলে যায়।
B) To remain awake — এর অর্থ জেগে থাকা, যা সতর্ক দৃষ্টি রাখার ধারণার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) To continue doing something — এর অর্থ কোনো কিছু চালিয়ে যাওয়া, যা এই ইডিওমের নির্ধারিত অর্থের সাথে মেলে না।
D) To look at someone — এর অর্থ কেবল কারো দিকে তাকানো, কিন্তু নজর রাখা বা পর্যবেক্ষণের গভীর অর্থ এখানে প্রকাশ পায় না।
মনে রাখার টিপস:
চোখ (eye) কোনো কিছুর ওপর রাখা মানেই হলো সেটির প্রতি বিশেষ নজর রাখা বা পর্যবেক্ষণ করা।
সঠিক উত্তর: B) Auxiliary
কেন সঠিক:
- বানানটিতে 'Auxili' অংশের পরে 'ary' যুক্ত হয়ে সঠিক রূপ গঠিত হয়েছে।
- এটি ইংরেজি বানানের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ নির্ভুল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Auxilary — এই বানানটিতে মাঝের 'i' বর্ণটি বাদ পড়েছে, তাই এটি ভুল।
B) Auxiliary — এটি প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক উত্তর।
C) Auxilery — এই বানানটিতে 'ary'-এর জায়গায় ভুল করে 'ery' লেখা হয়েছে।
D) Auxilliary — এই বানানটিতে অতিরিক্ত একটি 'l' ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এটি ভুল।
মনে রাখার টিপস:
বানানটি মনে রাখার জন্য শব্দটিকে ভেঙে পড়তে পারেন, যেমন Aux + ili + ary।
সঠিক উত্তর: D) Imperative
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি দিয়ে কোনো আদেশ, উপদেশ বা অনুরোধ বোঝানো হয়েছে।
- যে Sentence দ্বারা আদেশ, নিষেধ, উপদেশ বা অনুরোধ প্রকাশ করা হয়, তাকে Imperative sentence বলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Assertive — এটি কোনো সাধারণ বিবৃতিমূলক বাক্য নয়, কারণ এটি কোনো তথ্য বা ঘটনা বর্ণনা করে না।
B) Interrogative — এটি কোনো প্রশ্নবোধক বাক্য নয়, কারণ এর শেষে কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন নেই এবং এটি কিছু জানতে চায় না।
C) Optative — এটি কোনো ইচ্ছা বা প্রার্থনা প্রকাশকারী বাক্য নয়, কারণ এটি দ্বারা কারো মঙ্গল কামনা করা হচ্ছে না।
D) Imperative — এটি সঠিক উত্তর কারণ বাক্যটি দ্বারা সত্য কথা বলার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
যে বাক্য শুরু হয় মূল Verb দিয়ে এবং আদেশ, উপদেশ বা অনুরোধ বোঝায়, সেটিই Imperative sentence.
সঠিক উত্তর: D) Make known publicly
কেন সঠিক:
- 'Proclaim' একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ কোনো কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বা জনসমক্ষে ঘোষণা করা।
- অপশন ডি-তে থাকা 'Make known publicly' কথাটির অর্থ সবার সামনে কোনো বিষয় প্রকাশ করা, যা মূল শব্দের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Claim loudly — এর অর্থ উচ্চস্বরে দাবি করা, যা 'Proclaim' শব্দের সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না।
B) Shout — এর অর্থ চিৎকার করা, যা কেবল শব্দ করার সাথে সম্পর্কিত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সমার্থক নয়।
সি) Make known publicly through cry — এর অর্থ কান্নার মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা, যা ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক।
D) Make known publicly — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি 'Proclaim' শব্দের আসল ও সর্বজনস্বীকৃত অর্থ নির্দেশ করে।
মনে রাখার টিপস:
Proclaim শব্দের প্রো (Pro) অর্থ সামনে এবং ক্লেইম (Claim) অর্থ দাবি করা, অর্থাৎ সবার সামনে কিছু ঘোষণা করা।
সঠিক উত্তর: B) lose
কেন সঠিক:
- শূন্যস্থানের আগে infinitival marker 'to' রয়েছে, যার পরে verb-এর base form বসে।
- 'lose' হলো একটি verb যার অর্থ হারানো বা ওজন কমানো।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) loose — এটি একটি adjective যার অর্থ ঢিলা বা আলগা, যা এখানে verb-এর কাজ করতে পারে না।
B) lose — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি verb এবং ওজন কমানোর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
C) loss — এটি একটি noun যার অর্থ ক্ষতি, তাই এটি verb-এর জায়গায় বসতে পারে না।
D) lost — এটি verb-এর past বা past participle রূপ, যা 'to'-র পরে বসে না।
মনে রাখার টিপস:
Lose বানানে একটি o আছে এবং এটি verb। Loose বানানে দুটি o আছে এবং এটি adjective।
সঠিক উত্তর: A) Show
কেন সঠিক:
- বাক্যে make হলো একটি causative verb যার পর object এবং তারপর verb এর base form বা bare infinitive বসে।
- এই নিয়মানুসারে to ছাড়া মূল verb বসে, তাই show সঠিক উত্তর।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Show — এটি সঠিক কারণ causative verb এর পর verb এর base form বসে।
B) To show — ভুল কারণ causative verb এর পর infinitives বা to বসানো যায় না।
C) Showing — ভুল কারণ causative verb এর পর verb এর সঙ্গে ing যুক্ত হয় না।
D) Have shown — ভুল কারণ এখানে perfect tense এর কোনো প্রয়োজন নেই।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যে make, let, help ইত্যাদি থাকলে পরের verb টি সর্বদা base form হয়।
সঠিক উত্তর: C) Irritate
কেন সঠিক:
- Soothe শব্দটির অর্থ শান্ত করা, সান্ত্বনা দেওয়া বা ব্যথা কমানো।
- Irritate শব্দটির অর্থ বিরক্ত করা বা উত্যক্ত করা, যা Soothe শব্দটির বিপরীতার্থক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Conceal — এর অর্থ লুকানো বা গোপন করা, যা Soothe শব্দের বিপরীত নয়।
B) Charm — এর অর্থ মুগ্ধ করা বা আকর্ষণ করা, যা Soothe শব্দের কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে।
C) Irritate — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, যার অর্থ বিরক্ত করা।
D) Tolerate — এর অর্থ সহ্য করা, যা Soothe শব্দের বিপরীত বা সঠিক এন্টোনিম নয়।
মনে রাখার টিপস:
Soothe মানে প্রশান্তি, আর Irritate মানে বিরক্তি। শান্ত করার বিপরীত হলো বিরক্ত করা।
সঠিক উত্তর: A) Transient
কেন সঠিক:
- 'Ephemeral' শব্দের অর্থ ক্ষণস্থায়ী বা অল্পস্থায়ী, যা দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
- প্রদত্ত উত্তরের 'Transient' শব্দটির অর্থও ক্ষণস্থায়ী বা স্বল্পস্থায়ী, যা মূল শব্দের সমার্থক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Transient — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ ক্ষণস্থায়ী, যা 'ephemeral' শব্দের সমার্থক।
B) Necessary — এর অর্থ প্রয়োজনীয়, যা ক্ষণস্থায়ী বা পরিবর্তনের ধারণার সাথে মেলে না।
C) Obvious — এর অর্থ স্পষ্ট বা দৃশ্যমান, যা শব্দের মূল অর্থের সাথে সম্পর্কিত নয়।
D) Custom — এর অর্থ প্রথা বা রীতিনীতি, যা এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
মনে রাখার টিপস:
'Ephemeral' এবং 'Transient' উভয় শব্দই ক্ষণস্থায়ী বা স্বল্পস্থায়ী কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: A) out
কেন সঠিক:
- Blow out একটি গ্রুপ ভার্ব, যার অর্থ নিভিয়ে ফেলা।
- বাতাস বা ফুঁ দিয়ে আগুন বা মোমবাতি নেভানোর ক্ষেত্রে out প্রিপজিশনটি ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) out — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি আগুন বা মোমবাতি নিভিয়ে ফেলার সঠিক গ্রুপ ভার্ব গঠন করে।
B) away — এটি কোনো কিছু দূরে সরিয়ে নেওয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা মোমবাতি নিভানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
C) up — এটি সাধারণত কোনো কিছু ওপরের দিকে তোলা বা ধ্বংস করা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে সঠিক নয়।
D) of — এটি সাধারণত উৎস বা অধিকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের অর্থের সঙ্গে সংগত নয়।
মনে রাখার টিপস:
বাতাস দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে ফেলা বোঝালে সবসময় Blow এর সাথে out ব্যবহার করবে।
সঠিক উত্তর: A) Discern
কেন সঠিক:
- বাক্যে 'make out' ফ্রেজাল ভার্বটি অস্পষ্ট বৃষ্টির মধ্যে ট্রাফিক সংকেত দেখতে বা বুঝতে পারার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
- 'Discern' শব্দটির অর্থ কোনো কিছু কষ্টে হলেও স্পষ্টভাবে দেখা বা উপলব্ধি করা, যা প্রদত্ত বাক্যের অর্থের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Discern — এই অপশনটি সঠিক কারণ এর অর্থ দেখা বা বুঝতে পারা, যা 'make out'-এর সমার্থক।
B) Violet — এটি একটি রঙের নাম, যার সঙ্গে দেখার বা বোঝার কোনো সম্পর্ক নেই।
C) Obey — এর অর্থ মান্য করা বা আদেশ পালন করা, যা এখানে অর্থ প্রকাশ করে না।
D) Await — এর অর্থ অপেক্ষা করা, যা বাক্যের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখার টিপস:
অস্পষ্ট কিছু কষ্ট করে চোখে পড়া বা বুঝতে পারা বোঝালে 'make out' এবং 'discern' সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) To remain neutral
কেন সঠিক:
- এই ইডিয়মটির আক্ষরিক অর্থ হলো কোনো বেড়ার ওপর বসে থাকা, যা দুটি পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থান বোঝায়।
- এটি রূপক অর্থে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষে না থেকে নিরপেক্ষ থাকা বা সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় থাকাকে নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) To keep away — এর অর্থ দূরে থাকা, যা নিরপেক্ষ থাকার সমার্থক নয়।
B) To remain neutral — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ নিরপেক্ষ থাকা।
C) To be in danger — এর অর্থ বিপদে থাকা, যা এই ইডিয়মের ভাবের সাথে মেলে না।
D) To guard someone— এর অর্থ কাউকে পাহারা দেওয়া, যা বেড়ার ওপর বসার সাথে সম্পর্কিত নয়।
মনে রাখার টিপস:
বেড়ার ওপর (Fence) বসে থাকা ব্যক্তি ঘরের ভেতরেও যায় না, বাইরেও যায় না; সে দুই দলের মাঝামাঝি অর্থাৎ নিরপেক্ষ থাকে।
বিষয়: ভাষা ও ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর: B) than
কেন সঠিক:
- No sooner এর পর সাধারণত Past Indefinite Tense এবং পরের অংশে than এর পর Past Indefinite Tense বসে।
- No sooner যুক্ত বাক্যের correlative conjunction হিসেবে हमेशा than ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) after — এটি Scarcely বা Hardly এর সাথে when ব্যবহৃত হয়, No sooner এর সাথে নয়।
B) than — এটি প্রদত্ত বাক্যের সঠিক উত্তর কারণ এটি No sooner এর সাথে জোড়া গঠন করে।
সি) before — এটি Hardly বা Barely এর সাথে ব্যবহৃত হয়, No sooner এর সাথে বসে না।
ডি) then — এটি দেখতে কাছাকাছি হলেও No sooner এর সাথে নিয়ম অনুযায়ী ভুল শব্দ।
মনে রাখার টিপস:
No sooner দেখলে মনে রাখবে জোড়ায় জোড়ায় than বসে।
সঠিক উত্তর: B) had not
কেন সঠিক:
- প্রধান ক্লজটি পাস্ট টেন্সে (We asked) থাকায় পরবর্তী ক্লজেও পাস্ট টেন্স বা তার আগের ঘটনা বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স ব্যবহৃত হয়।
- নির্দিষ্ট সময়ের (earlier) আগে কোনো কাজ সম্পন্ন না হওয়া বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্সের নেতিবাচক রূপ (had not) সঠিক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) did not — এটি প্রেজেন্ট বা পাস্ট ইনডিফিনিট টেন্সে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের পাস্ট পারফেক্ট প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মেলে না।
B) had not — এটি সঠিক উত্তর, কারণ প্রধান ক্লজ পাস্ট টেন্সে থাকায় আগের ঘটনা বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স বসেছে।
C) has not — এটি প্রেজেন্ট পারফেক্ট টেন্স, কিন্তু প্রধান ক্লজটি পাস্ট টেন্সে থাকায় এটি এখানে ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
D) was not — এটি পাস্ট কন্টিনিউয়াস টেন্সের নেতিবাচক রূপ বা প্যাসিভ গঠন, যা এখানে অর্থপূর্ণ নয়।
মনে রাখার টিপস:
প্রধান ক্লজ পাস্ট টেন্সে থাকলে পরের অংশে আগের ঘটনা বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট (had + verb এর পাস্ট পার্টিসিপল) ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) does she
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি নেতিবাচক বা না-বোধক (doesn't like), তাই এর ট্যাগ কোশ্চেনটি অবশ্যই ইতিবাচক বা হ্যাঁ-বোধক হবে।
- মূল বাক্যের সাবজেক্ট হলো My sister (নারী বা স্ত্রীবাচক), যার পরিবর্তে প্রোনাউন হিসেবে she ব্যবহৃত হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) does she — এটি সঠিক উত্তর কারণ মূল বাক্য না-বোধক হওয়ায় এখানে ইতিবাচক সাহায্যকারী ভাব ও সঠিক প্রোনাউন ব্যবহার করা হয়েছে।
B) did she — বাক্যটি বর্তমান কালের (doesn't), কিন্তু এই অপশনে অতীত কালের সাহায্যকারী ভাব ব্যবহার করা হয়েছে।
C) doesn’t she — মূল বাক্যটি ইতিমধ্যে না-বোধক হওয়ায় ট্যাগ কোশ্চেনটি না-বোধক হতে পারে না।
D) won’t she — বাক্যটি বর্তমান কালের সাধারণ সত্য প্রকাশ করছে, কিন্তু এখানে ভবিষ্যৎ কালের সাহায্যকারী ভাব ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বাক্য না-বোধক হলে ট্যাগ কোশ্চেন হ্যাঁ-বোধক হয় এবং বাক্য হ্যাঁ-বোধক হলে ট্যাগ কোশ্চেন না-বোধক হয়।
সঠিক উত্তর: B) neither do I
কেন সঠিক:
- পূর্বের নেতিবাচক বক্তব্যের সাথে নিজের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বোঝাতে Neither + auxiliary verb + subject এই গঠন ব্যবহার করা হয়।
- এখানে প্রথম বাক্যের auxiliary verb হিসেবে doesn ব্যবহৃত হয়েছে যার present indefinite রূপের জন্য Do ব্যবহার করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) neither I do — এখানে Subject এবং Auxiliary verb এর বিন্যাস ভুল রয়েছে কারণ Neither এর পর প্রথমে Auxiliary verb বসাতে হয়।
B) neither do I — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং এর গঠন সম্পূর্ণ ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী নির্ভুল।
C) either do I — Either সাধারণত নেতিবাচক বাক্যের শেষে বসে, কিন্তু বাক্যের শুরুতে নেতিবাচক সম্মতি জানাতে Neither ব্যবহার করতে হয়।
D) I do either — এই গঠনটি ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়মের সাথে মিলে না এবং অর্থ প্রকাশে ব্যর্থ হয়।
মনে রাখার টিপস:
নেতিবাচক বাক্যের সাথে একমত হতে Neither এর পর প্রথমে Auxiliary verb এবং পরে Subject বসবে।
সঠিক উত্তর: A) Obligatory
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত শব্দ 'obligate' হলো একটি ভার্ব, যার সাথে '-ory'Suffix যুক্ত হয়ে অ্যাডজেক্টিভ গঠিত হয়।
- 'Obligatory' শব্দটি কোনো কিছু বাধ্যতামূলক বা অবশ্যপালনীয় বোঝাতে অ্যাডজেক্টিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Obligatory — এটি একটি সঠিক অ্যাডজেক্টিভ রূপ, যা বাধ্যতামূলক অর্থ প্রকাশ করে।
B) Obligatoriness — এটি একটি নাউন, যার অর্থ বাধ্যতামূলকতা বা আবশ্যকতা।
C) Obligative — এটি ব্যাকরণগতভাবে আদর্শ বা প্রচলিত শব্দ নয়, তাই সঠিক অ্যাডজেক্টিভ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
D) Obligation — এটি একটি নাউন, যার অর্থ বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্ব।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি শব্দে সাধারণত '-ory' যুক্ত থাকলে তা অ্যাডজেক্টিভ হয়, যেমন- obligate থেকে obligatory।
সঠিক উত্তর: A) The teacher said that Honesty is the best policy.
কেন সঠিক:
- রিপোর্টেড স্পিচটি যদি চিরন্তন সত্য বা অভ্যাসগত সত্য প্রকাশ করে, তবে ইনডাইরেক্ট ন্যারেশনে টেন্সের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এখানে Honesty is the best policy একটি চিরন্তন সত্য প্রবাদ, তাই এর ভেতরের Present Indefinite Tense অপরিবর্তিত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The teacher said that Honesty is the best policy. — এই অপশনটি সঠিক কারণ চিরন্তন সত্যের ক্ষেত্রে টেন্সের পরিবর্তন হয় না।
B) The teacher said that Honesty was the best policy. — এই অপশনটি ভুল কারণ চিরন্তন সত্যের ক্ষেত্রে প্রেজেন্ট টেন্সকে পাস্ট টেন্সে রূপান্তর করা নিয়মবহির্ভূত।
C) The teacher said that Honesty was the best policy. — অপশন সি এবং অপশন বি একই হওয়ায় এটিও টেন্স পরিবর্তনের ভুলের কারণে সঠিক নয়।
D) The teacher said that Honesty should be the best policy. — এই অপশনটি ভুল কারণ প্রবাদের মূল অর্থ পরিবর্তন করে Modal Auxiliary যুক্ত করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ন্যারেশন পরিবর্তনের সময় রিপোর্টেড স্পিচটি চিরন্তন সত্য হলে চোখ বন্ধ করে প্রেজেন্ট টেন্স অপরিবর্তিত রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) no article
কেন সঠিক:
- ভাষার নামের পূর্বে সাধারণত কোনো আর্টিকেল বসে না।
- স্প্যানিশ একটি ভাষা হওয়ায় এখানে শূন্য আর্টিকেল বা D অপশনটি সঠিক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a — ভাষার নামের পূর্বে ইনডিফিনিট আর্টিকেল বসে না।
B) an — স্বরবর্ণের উচ্চারণ থাকলেও ভাষার নামের পূর্বে an বসে না।
C) the — ভাষা বা বিষয়ের নামের পূর্বে নির্দিষ্ট করে বোঝাতেও the বসে না।
D) no article — এটি সঠিক কারণ ভাষা বা বিষয়ের নামের পূর্বে সাধারণত কোনো আর্টিকেল বসে না।
মনে রাখার টিপস:
ভাষা, খেলাধুলা এবং খাবারের নামের আগে সাধারণত কোনো আর্টিকেল বসে না।
সঠিক উত্তর: B) may
কেন সঠিক:
- বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো কাজের সম্ভাবনা বোঝাতে Modal auxiliary verb হিসেবে may ব্যবহৃত হয়।
- আজকের বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০ ভাগ বা মাঝারি প্রকৃতির হওয়ায় এখানে may সবচেয়ে উপযুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) shall — ভবিষ্যৎকালের নিশ্চয়তা বা প্রথম পুরুষের সাথে ব্যবহৃত হয়, যা সম্ভাবনার অর্থে সঠিক নয়।
B) may — এটি বর্তমান বাক্যের জন্য সঠিক উত্তর, কারণ এটি ৫০ ভাগ সম্ভাব্যতা প্রকাশ করে।
C) might — এটি অতি ক্ষীণ সম্ভাবনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য নয়।
D) must — এটি নিশ্চিত বাধ্যবাধকতা বা ১০০ ভাগ সম্ভাবনা বোঝায়, যা আজকের বৃষ্টির ক্ষেত্রে অতি শক্তিশালী।
মনে রাখার টিপস:
কোনো কাজের সম্ভাবনা নিশ্চিত না হয়ে যদি মাঝারি বা পঞ্চাশ ভাগ নিশ্চিত হয়, তবে সেখানে may ব্যবহার করবে।
সঠিক উত্তর: C) our
কেন সঠিক:
- 'my' হলো ফার্স্ট পারসন সিঙ্গुलर প্রোনাউনের পজিটিভ ফর্ম, যার প্লুরাল বা বহুবচন রূপ হলো 'our'।
- পজিটিভ প্রোনাউন হিসেবে 'my' এর বহুবচন হলো 'our' এবং পজিটিভ প্রোনাউন হিসেবে 'mine' এর বহুবচন হলো 'ours'।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) we — এটি ফার্স্ট পারসন প্রোনাউনের সাবজেক্টিভ ফর্ম, পজিটিভ ফর্ম নয়।
B) me — এটি ফার্স্ট পারসন সিঙ্গুলার প্রোনাউনের অবজেক্টিভ ফর্ম, পজিটিভ ফর্ম নয়।
C) our — এটি সঠিক পজিটিভ প্রোনাউনের প্লুরাল ফর্ম।
D) us — এটি ফার্স্ট পারসন প্রোনাউনের অবজেক্টিভ ফর্ম, পজিটিভ ফর্ম নয়।
মনে রাখার টিপস:
আই প্রোনাউনের প্লুরাল উই, মি প্রোনাউনের প্লুরাল আস এবং মাই প্রোনাউনের প্লুরাল আওয়ার।
সঠিক উত্তর: D) as soon as
কেন সঠিক:
- শূন্যস্থানের উভয় পাশের দুটি ক্লজ বা খণ্ডবাক্যের মধ্যে একটি কাজ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আরেকটি কাজ শুরু হওয়ার তাৎক্ষণিক সম্পর্ক বোঝাতে এই linker ব্যবহৃত হয়।
- প্রধান ক্লজটি ভবিষ্যতের নির্দেশ করলেও সময় নির্দেশক এই subordinating conjunction-এর পরের অংশটি Present Indefinite Tense-এ গঠিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Whereas — এটি দুটি বিপরীতধর্মী ধারণার মধ্যে তুলনা করতে ব্যবহৃত হয়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) so — এটি ফলাফল বা পরিণাম প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়, যা দুটি কাজের ধারাবাহিক সময় নির্দেশ করে না।
C) but — এটি দুটি বিপরীত বা অসঙ্গতিপূর্ণ বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটাতে ব্যবহৃত হয়, যা এখানে অর্থসংগত নয়।
D) as soon as — এটি সঠিক কারণ এটি ঘরের কাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে দেখা করার তাৎক্ষণিক সময় বুঝিয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
কোনো কাজ মাত্রই শেষ হওয়া মাত্রই আরেকটি কাজ ঘটবে এমন তাৎক্ষণিক সময় বোঝাতে as soon as ব্যবহার করবে।
সঠিক উত্তর: D) has been
কেন সঠিক:
- বাক্যে since-এর পর অতীতকালের একটি নির্দিষ্ট সময় বা ক্লজ (since I was a young boy) থাকলে তার আগের অংশ সাধারণত Present Perfect Tense হয়।
- আমার চাচা অতীতের কোনো এক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন, যা বোঝাতে Present Perfect Tense (has been) ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) was being — এটি Past Continuous Tense, যা অতীতের চলমান কাজ বোঝায় এবং এখানে বর্তমান পর্যন্ত ব্যাপ্তির নিয়ম লঙ্ঘন করে।
B) will be — এটি Future Indefinite Tense, যা ভবিষ্যৎকালের ঘটনা নির্দেশ করে কিন্তু বাক্যের since clause-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
C) is being — এটি Present Continuous Tense, যা বর্তমানের চলমান বা সাময়িক অবস্থা বোঝায় এবং এখানে অব্যাহত অতীত বোঝাতে ব্যর্থ।
D) has been — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, কারণ এটি অতীত থেকে শুরু হওয়া কাজ বা অবস্থা বর্তমান পর্যন্ত বজায় থাকা বোঝায়।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যে since-এর সাথে Past Indefinite Tense থাকলে অপর অংশে Present Perfect Tense (have/has + V3) ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) A day dreamer
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণ অংশের এই প্রশ্নটিতে একটি জনপ্রিয় Idiom বা বাগধারা এর অর্থ চাওয়া হয়েছে।
- head in the clouds এই বাগধারাটির শাব্দিক অর্থ মাথায় মেঘ থাকা হলেও ভাবার্থ হলো দিবাগত স্বপ্ন দেখা বা বাস্তববিমুখ হওয়া।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Extraordinary — এই শব্দটির অর্থ অসাধারণ, যা বাস্তববিমুখ বা দিবাগত স্বপ্ন দেখার ধারণার সাথে মিলে না।
B) A day dreamer — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, যার অর্থ দিবাগত স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এটি head in the clouds বাগধারাটির সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
C) An aviator — এই শব্দটির অর্থ বিমানচালক বা বৈমানিক, যা এই বাগধারার সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
D) Proud — এই শব্দটির অর্থ অহংকারী বা গর্বিত, যা এই বিশেষ বাগধারার ভাবার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মনে রাখার টিপস:
মেঘের মধ্যে মাথা থাকা মানে মাটিতে পা না রেখে কল্পনার জগতে ভেসে বেড়ানো বা দিবাগত স্বপ্ন দেখা।
সঠিক উত্তর: A) Pledged
কেন সঠিক:
- Pledged শব্দের অর্থ প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা জোরালোভাবে সমর্থন ঘোষণা করা।
- বাক্যের অর্থ দাঁড়াচ্ছে তারা আমাদের পক্ষে তাদের সমর্থন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে বা ঘোষণা করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Pledged — সমর্থনের ক্ষেত্রে এটি সঠিক প্রতিশ্রুতি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
B) Discovered — আবিষ্কৃত করা, যা সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে অর্থহীন।
C) Provided — সরবরাহ করা, কিন্তু সমর্থন সরবরাহের চেয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা Pledge করা অধিক উপযুক্ত।
D) Deferred — স্থগিত করা, যা বাক্যের মূল অর্থের সঙ্গে বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
সমর্থন বা প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে Pledge শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: A) a + b
প্রদত্ত তথ্য:
a এর মান = √৩
b এর মান = √১২
ধরি,
b এর মান সরল করে পাই, b = √(৪ × ৩) = ২√৩
অতএব,
অপশন এ এর হিসাব: a + b = √৩ + ২√৩ = ৩√৩
অপশন বি এর হিসাব: ab = √৩ × ২√৩ = ২ × ৩ = ৬
অপশন সি এর হিসাব: a ÷ b = √৩ ÷ (২√৩) = ১ ÷ ২
সুতরাং,
অপশন এ এর ফলাফল ৩√৩ একটি অমূলদ সংখ্যা কারণ এর নির্দিষ্ট কোনো পূর্ণবর্গ মান নেই
উত্তর: A) a + b
সঠিক উত্তর: A) ৮০%
প্রদত্ত তথ্য:
ভগ্নাংশটি হলো ৪ ভাগ ৫ বা ৪/৫
ধরি,
শতকরা প্রকাশ করতে হলে সংখ্যাটিকে ১০০ দিয়ে গুণ করতে হবে
অতএব,
৪ ÷ ৫ × ১০০
= ৪ × (১০০ ÷ ৫)
= ৪ × ২০
সুতরাং,
৪ × ২০ = ৮০
উত্তর: ৮০%
সঠিক উত্তর: B) ১৩/১৫
প্রدত্ত তথ্য:
ভগ্নাংশগুলো হলো ২/৩, ১৩/১৫, ৪/৫ এবং ২৩/৩০
ধরি,
হরগুলোর লসাগু হলো ৩০
অতএব,
প্রথম ভগ্নাংশ = ২০/৩০
দ্বিতীয় ভগ্নাংশ = ২৬/৩০
তৃতীয় ভগ্নাংশ = ২৪/৩০
সুতরাং,
চতুর্থ ভগ্নাংশ = ২৩/৩০
উত্তর: ১৩/১৫
সঠিক উত্তর: C) ২
প্রদত্ত তথ্য:
সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে
মৌলিক সংখ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী ১ এর চেয়ে বড় যে সংখ্যা শুধু ১ এবং সেই সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য তা মৌলিক সংখ্যা
ধরি,
সংখ্যাগুলো হলো শূন্য, এক, দুই এবং তিন
অতএব,
শূন্য এবং এক মৌলিক সংখ্যা নয়
দুই একটি মৌলিক সংখ্যা যা কেবল এক এবং দুই দ্বারা বিভাজ্য
সুতরাং,
দুই এর চেয়ে ছোট কোনো মৌলিক সংখ্যা নেই
উত্তর: ২
সঠিক উত্তর: A) √−৩
প্রদত্ত তথ্য:
অপশনগুলোতে চারটি ভিন্ন সংখ্যা দেওয়া আছে।
এর মধ্যে তিনটি বাস্তব সংখ্যা এবং একটি অমূলক বা কাল্পনিক সংখ্যা।
ধরি,
বাস্তব সংখ্যার ক্ষেত্রে বর্গমূলের ভেতরের মান ঋণাত্মক হতে পারে না।
অপশন এ এর ভেতরে মাইনাস তিন আছে যা একটি ঋণাত্মক সংখ্যা।
অতএব,
কোনো ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূল বাস্তব সংখ্যার সেটভুক্ত নয়।
এটি একটি কাল্পনিক সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।
সুতরাং,
√−৩ একটি বাস্তব সংখ্যা নয়।
উত্তর: A) √−৩
সঠিক উত্তর: D) ২ জটিল সংখ্যা নয়
প্রদত্ত তথ্য:
সংখ্যাটি হলো ২
যা একটি বাস্তব সংখ্যা
ধরি,
বাস্তব সংখ্যা মানেই তা জটিল সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত
কারণ সব বাস্তব সংখ্যাকে ক + খই আকারে লেখা যায়
অতএব,
২ সংখ্যাটিকে লেখা যায় ২ + ০ই
যা জটিল সংখ্যার সংজ্ঞাকে পূর্ণ করে
সুতরাং,
২ একটি জটিল সংখ্যা এবং অপশনের দাবিটি মিথ্যা
উত্তর: D) ২ জটিল সংখ্যা নয়
সঠিক উত্তর: B) ৭ টি
প্রদত্ত তথ্য:
সেট A এর উপাদান সংখ্যা ৩ টি
ধরি,
সেট A = a, b, c
উপাদান সংখ্যা n = ৩
অতএব,
মোট উপসেট সংখ্যা = ২ এর উপর ৩ এর পাওয়ার = ৮ টি
সুতরাং,
প্রকৃত উপসেট সংখ্যা = মোট উপসেট সংখ্যা − ১
উত্তর: ৮ − ১ = ৭ টি
সঠিক উত্তর: A) ০
প্রদত্ত তথ্য:
মূল রাশিটি হলো প্রথম বন্ধনীর ভেতরের অংশ এবং বাইরে বিয়োগ চিহ্ন।
রাশিটি হলো ১ বিয়োগ এক ষষ্ঠাংশ যোগ এক দ্বিতীয়াংশ এবং সবশেষে বিয়োগ এক তৃতীয়াংশ।
ধরি,
প্রথম বন্ধনীর ভেতরের হিসাবটি আগে সম্পন্ন করতে হবে।
বন্ধনীর ভেতর আছে এক ষষ্ঠাংশ যোগ এক দ্বিতীয়াংশ।
অতএব,
হরগুলোর লসাগু হবে ছয়।
এক ষষ্ঠাংশ যোগ এক দ্বিতীয়াংশ সমান এক যোগ তিন ভাগ ছয়।
যা হিসাব করলে হয় চার ভাগ ছয় বা দুই ভাগ তিন।
সুতরাং,
এখন প্রথম বন্ধনীর কাজটি শেষ করে পাই এক বিয়োগ দুই ভাগ তিন।
এক থেকে দুই ভাগ তিন বিয়োগ করলে থাকে এক ভাগ তিন।
উত্তর: এক ভাগ তিন বিয়োগ এক ভাগ তিন সমান শূন্য
সঠিক উত্তর: A) ৪
প্রদত্ত তথ্য:
লগারিদম এর ভিত্তি হলো ২√২ এবং এর মান নির্ণয় করতে হবে ৬৪ এর জন্য
ধরি,
লগ এর মান হলো x
তাহলে সূচকের নিয়মে লেখা যায় (২√২) এর পাওয়ার x সমান ৬৪
অতএব,
২√২ কে লেখা যায় ২ এর পাওয়ার ১ গুণ ২ এর পাওয়ার ১÷২
এটিকে সরল করলে পাওয়া যায় ২ এর পাওয়ার ৩÷২ এর হোল পাওয়ার x সমান ৬৪
সুতরাং,
২ এর পাওয়ার (৩x÷২) সমান ৬৪
যেহেতু ৬৪ সমান ২ এর পাওয়ার ৬, তাই ভিত্তি সমান ধরে পাই ৩x÷২ সমান ৬
উত্তর: x সমান ৪
সঠিক উত্তর: B) −৪
প্রদত্ত তথ্য:
সমীকরণটি হলো ৪ শক্তির ওপর (x + ১) সমান ২ শক্তির ওপর (x − ২)
ধরি,
বাম পক্ষের ভিত্তি ৪ কে ভেঙে লেখা যায় ২ এর বর্গ অর্থাৎ ২ গুণ ২
অতএব,
সমীকরণটি দাঁড়ায় (২ এর বর্গ) শক্তির ওপর (x + ১) সমান ২ শক্তির ওপর (x − ২)
পাওয়ারের নিয়ম অনুযায়ী গুণ করলে হয় ২ শক্তির ওপর (২x + ২) সমান ২ শক্তির ওপর (x − ২)
উভয় পক্ষ থেকে ভিত্তি ২ বাদ দিলে পাই (২x + ২) সমান (x − ২)
সুতরাং,
পক্ষান্তর করে পাই ২x − x সমান −২ − ২
উত্তর: x = −৪
সঠিক উত্তর: C) a, b
প্রদত্ত তথ্য:
দ্বিঘাত সমীকরণটি হলো x² − (a + b)x + ab = 0
ধরি,
সমীকরণটির উৎপাদক বিশ্লেষণ করতে হবে
অতএব,
x² − ax − bx + ab = 0
x(x − a) − b(x − a) = 0
(x − a)(x − b) = 0
সুতরাং,
x − a = 0 অথবা x − b = 0
x = a অথবা x = b
উত্তর: a, b
সঠিক উত্তর: B) b² = ac
প্রদত্ত তথ্য:
a, b, c রাশি তিনটি ক্রমিক সমানুপাতিক
ধরি,
প্রথম রাশির সাথে দ্বিতীয় রাশির অনুপাত = দ্বিতীয় রাশির সাথে তৃতীয় রাশির অনুপাত
অতএব,
a অনুপাত b = b অনুপাত c
সুতরাং,
a ভাগ b = b ভাগ c
উত্তর: b² = ac
সঠিক উত্তর: C) ৩
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম সমীকরণ ১ ভাগ x + ১ ভাগ y = ৩
দ্বিতীয় সমীকরণ ১ ভাগ x এর বর্গ − ১ ভাগ y এর বর্গ = ৯
ধরি,
১ ভাগ x এর মান = a
১ ভাগ y এর মান = b
অতএব,
a + b = ৩
a এর বর্গ − b এর বর্গ = ৯
সুতরাং,
(a + b) × (a − b) = ৯
৩ × (a − b) = ৯
উত্তর: a − b = ৩
সঠিক উত্তর: B) ১
প্রদত্ত তথ্য:
এখানে লগারিদম ফাংশন দেওয়া আছে
যার ভিত্তি হলো ই এবং আর্গুমেন্ট হলো ই
ধরি,
লগারিদমের নিয়ম অনুযায়ী লেখা যায়
লগ এর ভিত্তি ই এবং আর্গুমেন্ট ই এর মান
যা নির্ণয় করতে হবে
অতএব,
ই এর উপর কত ঘাত বসালে ই পাওয়া যায়
সেই মানটি আমাদের বের করতে হবে
আমরা জানি যে কোনো সংখ্যার উপর ঘাত এক বসালে সেই সংখ্যাই পাওয়া যায়
সুতরাং,
ই এর ঘাত এক সমান ই লেখা যায়
তাই এই লগারিদম রাশির মান এক হয়
উত্তর: ১
সঠিক উত্তর: B) ৪৮ মিটার
প্রদত্ত তথ্য:
আয়তাকার ঘরের ক্ষেত্রফল = ১২৮ বর্গমিটার
দৈর্ঘ্য বিস্তারের দ্বিগুণ
ধরি,
ঘরের বিস্তার = ক মিটার
ঘরের দৈর্ঘ্য = ২ক মিটার
অতএব,
ক্ষেত্রফল = (২ক × ক) বর্গমিটার
২ক বর্গ = ১২৮ বর্গমিটার
ক বর্গ = ৬৪ বর্গমিটার
সুতরাং,
ক = ৮ মিটার
বিস্তার = ৮ মিটার এবং দৈর্ঘ্য = ১৬ মিটার
উত্তর: পরিসীমা = ২ × (১৬ + ৮) = ৪৮ মিটার
সঠিক উত্তর: D) ১৩ : ১২ : ৫
প্রদত্ত তথ্য:
সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর অনুপাত যাচাই করতে হবে
পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী অতিভুজের ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল অপর দুই বাহুর ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলের সমষ্টির সমান
ধরি,
ত্রিভুজটির বাহু তিনটি ১৩, ১২ এবং ৫
এখানে সবচেয়ে বড় বাহু অর্থাৎ অতিভুজ = ১৩
অপর বাহু দুটি ১২ এবং ৫
অতএব,
অতিভুজের বর্গ = ১৩ গুণ ১৩ = ১৬৯
লম্বের বর্গ = ১২ গুণ ১২ = ১৪৪
ভূমির বর্গ = ৫ গুণ ৫ = ২৫
সুতরাং,
অপর দুই বাহুর বর্গের সমষ্টি = ১৪৪ + ২৫ = ১৬৯
যা অতিভুজের বর্গের মানের সমান অর্থাৎ ১৬৯ = ১৬৯
উত্তর: ১৩ : ১২ : ৫
সঠিক উত্তর: A) ৬ একক
প্রদত্ত তথ্য:
সমকোণী ত্রিভুজের উচ্চতা ভূমির এক-তৃতীয়াংশ
সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল ৬ বর্গএকক
ধরি,
ভূমির দৈর্ঘ্য = ক একক
উচ্চতা = ক ÷ ৩ একক
অতএব,
ক্ষেত্রফল = ১ ÷ ২ × ভূমি × উচ্চতা
ক্ষেত্রফল = ১ ÷ ২ × ক × (ক ÷ ৩)
সুতরাং,
৬ = ক × ক ÷ ৬
ক গুণ ক = ৩৬
উত্তর: ক = ৬ একক
সঠিক উত্তর: D) ১১
প্রদত্ত তথ্য:
ধারাটি হলো ৫ + ১১ + ১৭ + ...... + ৬৫
এটি একটি সমান্তর ধারা
ধরি,
প্রথম পদ, ক = ৫
সাধারণ অন্তর, সাধারণ পার্থক্য = ১১ − ৫ = ৬
শেষ পদ = ৬৫
অতএব,
ধরি, পদসংখ্যা = ন
আমরা জানি, শেষ পদ = ক + (ন − ১) × সাধারণ অন্তর
সুতরাং, ৬৫ = ৫ + (ন − ১) × ৬
সুতরাং,
৬৫ − ৫ = (ন − ১) × ৬
৬০ = (ন − ১) × ৬
ন − ১ = ৬০ ÷ ৬ = ১০
উত্তর: ন = ১০ + ১ = ১১
সঠিক উত্তর: A) ১/৪৫
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম ভগ্নাংশটি = ২/৫
দ্বিতীয় ভগ্নাংশটি = ৫/৯
ধরি,
লব দুটি = ২ এবং ৫
হর দুটি = ৫ এবং ৯
অতএব,
লব দুটির গসাসু = ১
হর দুটির লসাসু = ৫ × ৯ = ৪৫
সুতরাং,
ভগ্নাংশ দুটির গসাসু = লব দুটির গসাসু ÷ হর দুটির লসাসু
উত্তর: ১/৪৫
সঠিক উত্তর: D) ১৭
প্রদত্ত তথ্য:
দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর ১৭
ধরি,
ছোট সংখ্যাটি = ক
বড় সংখ্যাটি = ক + ১
অতএব,
(ক + ১)এর বর্গ − ক এর বর্গ = ১৭
ক এর বর্গ + ২ক + ১ − ক এর বর্গ = ১৭
২ক + ১ = ১৭
সুতরাং,
২ক = ১৭ − ১
২ক = ১৬
ক = ৮
উত্তর: সংখ্যা দুইটি ৮ ও ৯ এবং সংখ্যাদ্বয়ের যোগফল = ৮ + ৯ = ১৭
সঠিক উত্তর: B) ৩৬
প্রদত্ত তথ্য:
৩ এর বর্গ = ৩ × ৩
যোগ করতে হবে = ৩
ধরি,
অজানা সংখ্যাটি = ক
অতএব,
৩ এর বর্গ = ৯
বর্গমূলের সাথে ৩ যোগ করলে হয় = ৯
সুতরাং,
সংখ্যাটির বর্গমূল = ৯ − ৩ = ৬
উত্তর: ৬ এর বর্গ = ৩৬
সঠিক উত্তর: C) ১৫
প্রদত্ত তথ্য:
তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফল = ১২০
ধরি,
সংখ্যা তিনটি যথাক্রমে ক − ১, ক এবং ক + ১
অতএব,
(ক − ১) × ক × (ক + ১) = ১২০
ক × (ক × ক − ১) = ১২০
সুতরাং,
সংখ্যা তিনটি ৪, ৫ এবং ৬
কারণ ৪ × ৫ × ৬ = ১২০
উত্তর: ৪ + ৫ + ৬ = ১৫
সঠিক উত্তর: D) ৩৩০
প্রদত্ত তথ্য:
ধারাটি হলো ৬ + ১২ + ১৮ + ২৪ + ......
ধারার প্রথম পদ (a) = ৬
সাধারণ অন্তর (d) = ১২ − ৬ = ৬
ধরি,
পদের সংখ্যা (n) = ১০
অতএব,
সমান্তর ধারার যোগফলের সূত্র হলো (n ÷ ২) × ২ × a + (n − ১) × d
মানগুলো বসিয়ে পাই, (১০ ÷ ২) × ২ × ৬ + (১০ − ১) × ৬
সুতরাং,
হিসাব করে পাই, ৫ × (১২ + ৯ × ৬)
বা, ৫ × (১২ + ৫৪) = ৫ × ৬৬ = ৩৩০
উত্তর: ৩৩০
সঠিক উত্তর: B) ১
প্রদত্ত তথ্য:
x বর্গ − ৪x + ১ = ০
ধরি,
x বর্গ + ১ = ৪x
প্রদত্ত রাশির হর হলো (x বর্গ − ৩x + ১)
অতএব,
হর = (x বর্গ + ১) − ৩x
হর = ৪x − ৩x
সুতরাং,
হর = x
উত্তর: x + (১ ÷ x) = x + (১ ÷ x), মান নির্ণয় শেষে উত্তর পাওয়া যায় ১
সঠিক উত্তর: C) ৩ বছরে
প্রদত্ত তথ্য:
আসল (P) = ৯৬ টাকা
মুনাফার হার (r) = ২৫/৪% বা ৬.২৫%
মোট মুনাফা (I) = ১৮ টাকা
ধরি,
সময় = n বছর
আমরা জানি, মুনাফা (I) = P × n × r ÷ ১০০
অতএব,
১৮ = ৯৬ × n × (২৫ ÷ ১০০) ÷ ১০০
১৮ = ৯৬ × n × (১ ÷ ৪) ÷ ১০০
সুতরাং,
২৪ × n ÷ ১০০ = ১৮
n = (১৮ × ১০০) ÷ ২৪
উত্তর: ৩ বছরে
সঠিক উত্তর: D) ৮ টি
প্রদত্ত তথ্য:
সেটের উপাদান সংখ্যা = ৩ টি
ধরি,
সেটটি A = a, b, c
অতএব,
উপাদান সংখ্যা n = ৩
সুতরাং,
শক্তি সেটের উপাদান সংখ্যা = ২ এর উপর পাওয়ার n = ২ × ২ × ২
উত্তর: ৮ টি
সঠিক উত্তর: C) ৭.৪৭ kmh⁻¹
প্রদত্ত তথ্য:
যাওয়ার বেগ = ৮ kmh⁻¹
আসার বেগ = ৭ kmh⁻¹
ধরি,
নির্দিষ্ট দূরত্ব = d কিলোমিটার
অতএব,
যাওয়ার সময় = d ÷ ৮ ঘণ্টা
আসার সময় = d ÷ ৭ ঘণ্টা
সুতরাং,
মোট দূরত্ব = d + d = ২d কিলোমিটার
মোট সময় = (d ÷ ৮) + (d ÷ ৭) = ১৫d ÷ ৫৬ ঘণ্টা
উত্তর: গড়বেগ = মোট দূরত্ব ÷ মোট সময় = ২d ÷ (১৫d ÷ ৫৬) = ৭.৪৭ kmh⁻¹
সঠিক উত্তর: B) a vector perpendicular to b vector
প্রدত্ত তথ্য:
দেওয়া আছে মডুলাস এর ভেতরে a vector + b vector সমান মডুলাস এর ভেতরে a vector − b vector
ধরি,
উভয় পক্ষের সমীকরণ বর্গ করা হলো যাতে মডুলাস চিহ্ন তুলে ফেলা যায়
অতএব,
প্রথম পক্ষের বর্গ সমান a vector এর বর্গ + b vector এর বর্গ + ২ ডট গুণন a vector এবং b vector
দ্বিতীয় পক্ষের বর্গ সমান a vector এর বর্গ + b vector এর বর্গ − ২ ডট গুণন a vector এবং b vector
সুতরাং,
উভয় পক্ষ থেকে a vector এর বর্গ এবং b vector এর বর্গ বাদ দিয়ে পাই ৪ ডট গুণন a vector এবং b vector সমান শূন্য
উত্তর: a vector perpendicular to b vector
সঠিক উত্তর: B) হামিদুর রহমান
কেন সঠিক:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশা ও স্থপতি ছিলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সরকারের সহযোগিতায় তাঁর নকশা অনুযায়ী শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শামীম শিকদার — তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ভাস্কর হলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি নন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর।
B) হামিদুর রহমান — ইনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল স্থপতি ও নকশাবিদ, যিনি এই ঐতিহাসিক সৌধটির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করেছিলেন।
C) মৃণাল হক — তিনি একজন আধুনিক ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী, যিনি পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্মাণ করলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
D) কামরুল হাসান — তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পটুয়া, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরের স্বোপার্জিত স্বাধীনতার ভাস্কর্য বা শহীদ মিনারের স্থপতি নন।
মনে রাখার টিপস:
শহীদ মিনারের নকশাকার বা স্থপতি মনে রাখতে নামের শুরুটি মনে রাখুন, শহীদ মিনার ও হামিদুর রহমান উভয়েই 'হ' বর্ণ দিয়ে শুরু।
সঠিক উত্তর: A) কক্সবাজার
কেন সঠিক:
- মাতারবাড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত একটি দ্বীপ এলাকা।
- এখানে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত হওয়ার কারণে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কক্সবাজার — এটি সঠিক উত্তর কারণ মাতারবাড়ি ভৌগোলিকভাবে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত।
B) কুমিল্লা — এটি দেশের পূর্বাঞ্চলের একটি জেলা এবং মাতারবাড়ি প্রকল্পের সঙ্গে এর কোনো ভৌগোলিক বা প্রশাসনিক সংযোগ নেই।
C) নোয়াখালী — এটি উপকূলীয় জেলা হলেও মাতারবাড়ি এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়, এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত।
D) ভোলা — এটি দেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা হলেও মাতারবাড়ি দ্বীপটি ভোলায় নয়, বরং কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত।
মনে রাখার টিপস:
মাতারবাড়ি ও মহেশখালী উভয়ই 'ম' দিয়ে শুরু এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: B) পুণ্ড্র
কেন সঠিক:
- ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র মতে পুণ্ড্র জনপদটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ হিসেবে স্বীকৃত।
- মৌর্য আমল থেকেই পুণ্ড্রবর্ধন নামের এই জনপদের প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অস্তিত্বের শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গৌড় — এটি বাংলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন অঞ্চল হলেও পুণ্ড্রর মতো সর্বপ্রাচীন জনপদ নয়।
B) পুণ্ড্র — এটিই বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ এবং এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা বর্তমান মহাস্থানগড়।
C) সমতট — এটি প্রাচীন বাংলার একটি জনপদ হলেও তা পুণ্ড্রর চেয়ে পরবর্তীকালের জনপদ।
D) হরিকেল — এটি প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি জনপদ, যা সর্বপ্রাচীন নয়।
মনে রাখার টিপস:
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ মনে রাখতে আদি অক্ষর প দিয়ে পুণ্ড্র মনে রাখতে পারো।
সঠিক উত্তর: B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
কেন সঠিক:
- ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ — এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার তারিখ নয়, বরং এটি বাংলা ভাষার শহিদ দিবস।
B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এই দিনেই ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
C) ১৯ নভেম্বর ২০০০ — এটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতির তারিখের সঙ্গে মিলে না এবং এটি একটি ভুল সাল।
D) ২০ নভেম্বর ২০০০ — এটিও সঠিক স্বীকৃতির তারিখ নয় এবং এটি পরের বছরের একটি কাল্পনিক সাল।
মনে রাখার টিপস:
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেয় এবং পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।
সঠিক উত্তর: C) তিতাস
কেন সঠিক:
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র।
- এখান থেকে প্রতিদিন দেশের একটি বিশাল অংশে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাখরাবাদ — এটি কুমিল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র হলেও বৃহত্তম নয়।
B) হরিপুর — এটি সিলেটের হরিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র।
D) হবিগঞ্জ — এটি তুলনামূলকভাবে বড় গ্যাসক্ষেত্র হলেও আয়তন ও উৎপাদনে তিতাসের চেয়ে ছোট।
মনে রাখার টিপস:
বৃহৎ মানে তিতাস নদী যেমন বড়, তেমনি তিতাস গ্যাসক্ষেত্রও দেশের সবচেয়ে বড়।
সঠিক উত্তর: C) আইন
কেন সঠিক:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
- চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায় আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ১৯৪৯ সালে বহিষ্কার করেছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাষ্ট্রবিজ্ঞান — এটি সঠিক নয় কারণ তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হননি, বরং আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
B) সমাজবিজ্ঞান — এটি সঠিক নয় কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন এই বিভাগটি তার ভর্তির সময় প্রধান পঠিত বিষয় ছিল না।
C) আইন — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং তিনি এই বিভাগেই ভর্তি হয়েছিলেন।
D) অর্থনীতি — এটি সঠিক নয় কারণ তিনি অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হননি, তার মূল শিক্ষাগত ঝোঁক ছিল আইনের প্রতি।
মনে রাখার টিপস:
বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি বহিষ্কৃত হন।
সঠিক উত্তর: C) ৮ নম্বর
কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা তথা বর্তমান মুজিবনগর ৮ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে পরিচালিত হতো এবং এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও পরবর্তীকালে মেজর এস এম হামজা হোসেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ নম্বর — এই সেক্টরটি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল, যা মুজিবনগর এলাকার আওতাভুক্ত ছিল না।
B) ৫ নম্বর — এই সেক্টরটি মূলত বৃহত্তর সিলেট জেলার কিছু অংশ এবং ময়মনসিংহের কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।
C) ৮ নম্বর — এটি সঠিক উত্তর, কারণ মুজিবনগর এই সেক্টরের ভৌগোলিক সীমানা ও সামরিক অপারেশনের আওতাধীন ছিল।
D) ১০ নম্বর — এটি নৌ সেক্টর ছিল, যা নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক এলাকার পরিবর্তে নদী ও সমুদ্রপথে সাবমেরিন এবং গানবোটের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
মনে রাখার টিপস:
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান মেহেরপুর কুষ্টিয়া অঞ্চলের অংশ হওয়ায় এটি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে পরিচালিত হতো।
সঠিক উত্তর: C) আনোয়ার পারভেজ
কেন সঠিক:
- 'জয় বাংলা, বাংলার জয়' গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার হলেও এর সুরকার ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এই গানটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অণুপ্রেরণা জোগাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গাজী মাজহারুল আনোয়ার — তিনি এই বিখ্যাত গানটির গীতিকার হলেও এর সুরকার নন।
B) আলতাফ মাহমুদ — তিনি এই গানের সুরকার নন, তবে তিনি 'চল চল চল' এবং 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানের সুরকার হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
D) সমর দাস — তিনি বিশিষ্ট সুরকার ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীত বিভাগের পরিচালক হলেও এই গানটির সুরকার নন।
মনে রাখার টিপস:
গাজী গান গেয়েছেন (গীতিকার) আর আনোয়ার সুর এনেছেন (সুরকার), এভাবে মনে রাখতে পারেন।
সঠিক উত্তর: C) ৩ টি
কেন সঠিক:
- বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে তিনটি।
- এগুলো হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ টি — বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা ১টি নয়, মোট ৩টি।
B) ২ টি — অতীতের তথ্যানুযায়ী এটি সঠিক ছিল, কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা ৩টি।
C) ৩ টি — এটি সঠিক উত্তর কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে ৩টি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে।
D) ৪ টি — বাংলাদেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা ৪টি নয়, ৩টি।
মনে রাখার টিপস:
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাংলাদেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: C) এটর্নি জেনারেল
কেন সঠিক:
- সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন এটর্নি জেনারেল, যিনি সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন।
- রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দেন এবং তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য এমন কোনো ব্যক্তিকে এই পদে মনোনীত করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইন মন্ত্রী — তিনি সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রধান ও মন্ত্রী, কিন্তু সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা নন।
B) প্রধান বিচারপতি — তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান এবং বিচার বিভাগের প্রধান, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা নন।
C) এটর্নি জেনারেল — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর, তাই এই অপশনটি ভুল নয়।
D) আইন সচিব — তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান ও সচিব, যিনি দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন কিন্তু প্রধান আইন কর্মকর্তা নন।
মনে রাখার টিপস:
আদালতে সরকারের পক্ষে লড়েন যিনি, প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তিনিই এটর্নি জেনারেল।
সঠিক উত্তর: B) ২০২০-২০২৫
কেন সঠিক:
- ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয় এবং এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।
- সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের প্রণীত এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য ছিল এসডিজি অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০১৯-২০২৪ — এটি কোনো নির্ধারিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল নয়, কারণ ৭ম পরিকল্পনা শেষ হয় ২০২০ সালে।
B) ২০২০-২০২৫ — এটি সঠিক এবং এই সময়ের মধ্যে পরিকল্পনাটির মূল রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
C) ২০২১-২০২৫ — এই সময়কালটি চার বছরের হওয়ায় তা কোনো নির্দিষ্ট পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে না।
D) ২০২১-২০২৬ — এটি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল নয়, এটি অন্য কোনো পরিকল্পনা বা ভিন্ন সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মনে রাখার টিপস:
পরিকল্পনাটি ২০২০ সালে শুরু হয়ে ২০২৫ সালে শেষ হয়, তাই সাল দুটির ব্যবধান ৫ বছর হিসাব করলেই সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে।
সঠিক উত্তর: D) মিয়ানমার
কেন সঠিক:
- দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের সদস্য সংখ্যা আটটি এবং মিয়ানমার দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নয়।
- মিয়ানমার দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান এর সদস্য রাষ্ট্র।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আফগানিস্তান — এটি সার্কের অষ্টম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ২০০৭ সালে যুক্ত হয়।
B) ভুটান — এটি সার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র।
সি) মালদ্বীপ — এটি সার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে।
ডি) মিয়ানমার — এটি সার্কের সদস্য নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
মনে রাখার টিপস:
সার্কের সদস্য দেশ মনে রাখার কৌশল এমবিবিএস স্পিন (MBBS SPIN) ব্যবহার করতে পারো, যেখানে মিয়ানমারের কোনো স্থান নেই।
সঠিক উত্তর: B) জাপান
কেন সঠিক:
- নাগাসাকি জাপানের কিউশু দ্বীপে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট এই শহরের ওপর পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কম্বোডিয়া — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ, যার রাজধানী নমপেন এবং এর কোনো শহর নাগাসাকি নয়।
B) জাপান — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর, তাই এই অপশনটি সঠিক।
C) ফিলিপাইন — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যার রাজধানী ম্যানিলা এবং নাগাসাকি এখানে অবস্থিত নয়।
D) ভিয়েতনাম — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ, যার রাজধানী হ্যানয় এবং এর সঙ্গে নাগাসাকির কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমার পর নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: B) International Monetary Fund
কেন সঠিক:
- এটি জাতিসংঘের একটি প্রধান আর্থিক সংস্থা, যা বৈশ্বিক মুদ্রানীতিগত সহযোগিতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট দূর করতে এই প্রতিষ্ঠান ঋণ সহায়তা প্রদান করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) International Mandatory Fund — এই নামে আন্তর্জাতিক কোনো আর্থিক সংস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল নেই।
B) International Monetary Fund — এটি এই প্রশ্নের সঠিক ও প্রমাণিত উত্তর।
C) International Matching Fund — এটি একটি বিভ্রান্তিকর নাম এবং এই নামের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই।
D) International Mutual Fund — এটি কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা তহবিলের নাম নয়, বরং এটি এক ধরণের বিনিয়োগ তহবিল।
মনে রাখার টিপস:
আইএমএফ এর পূর্ণরূপ মনে রাখার সহজ উপায় হলো Monetary কথাটি মনে রাখা, যার অর্থ মুদ্রা বা অর্থসংক্রান্ত।
সঠিক উত্তর: C) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ
কেন সঠিক:
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা পনেরোটি, যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং দশটি অস্থায়ী রাষ্ট্র রয়েছে।
- এই পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও গণচীন, যাদের যেকোনো প্রস্তাব এককভাবে বাতিল করার ক্ষমতা বা ভেটো পাওয়ার আছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র — সাধারণ পরিষদের সব সদস্য দেশের ভেটো ক্ষমতা নেই, এখানে সব দেশের একটি করে সমান ভোট থাকে।
B) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র — নিরাপত্তা পরিষদের কেবল পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা আছে, দশটি অস্থায়ী সদস্যের এই ক্ষমতা নেই।
সি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় মূল কারণ হিসেবে উপরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
D) জাতিসংঘের মহাসচিব — জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্ব সংস্থার প্রশাসনিক প্রধান, তার কোনো রাজনৈতিক ভেটো ক্ষমতা নেই।
মনে রাখার টিপস:
স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো ক্ষমতা মনে রাখতে 'ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-চীন-রাশিয়া-আমেরিকা' এই পাঁচটি দেশ এবং তাদের আদ্যক্ষর মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: A) ২০২৬
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিইডিসি কর্তৃক নির্ধারিত সকল অর্থনৈতিক সূচক অর্জন করায় ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণ ঘটবে।
- ২০২১ সালে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় শেষে ২০২৬ সালে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০২৬ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে।
B) ২০৩০ — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বছর এটি, এলডিসি থেকে বের হওয়ার সাল নয়।
C) ২০৩৬ — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালের সঙ্গে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের কোনো ঐতিহাসিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নেই।
D) ২০৪১ — এটি ভুল অপশন কারণ ২০৪১ সালকে বাংলাদেশ উন্নত ও স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে ২০২১ সালে এবং ২০২৬ সালে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়।
সঠিক উত্তর: C) রোম
কেন সঠিক:
- খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করে।
- এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান কার্যালয় ইতালির রাজধানী রোম শহরে অবস্থিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ওয়াশিংটন — এটি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদর দপ্তর, এফএও এর নয়।
B) জেনেভা — এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদর দপ্তর, এফএও এখানে নেই।
C) রোম — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং এফএও-এর সদর দপ্তর এখানেই অবস্থিত।
D) টোকিও — এটি জাপানের রাজধানী এবং এখানে কোনো প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর নেই।
মনে রাখার টিপস:
খাবার খেয়ে সবাই রোমাঞ্চিত হয়, তাই খাদ্য সংস্থা এফএও-এর সদর দপ্তর রোমে অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: C) ASEAN
কেন সঠিক:
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ান বা আশিয়ানের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ নয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় হওয়ায় এই জোটের সদস্যপদ অর্জনের সুযোগ নেই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) BIMSTEC — বাংলাদেশ এই বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত।
B) ICD-8 — এটি আন্তর্জাতিক রোগ বিন্যাসের অষ্টম সংস্করণ যা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বাংলাদেশ এর অনুসারী।
D) [ফাঁকা] — প্রদত্ত অপশনে কোনো মানসম্মত বা প্রাসঙ্গিক উত্তর না থাকায় এটি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ সার্ক ও বিমসটেক এর সদস্য হলেও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের সদস্য নয়।
প্রশ্নের ধরন: ভূগোল ও পরিবেশ / আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
সঠিক উত্তর: C) শ্রীলংকা
কেন সঠিক:
- হাম্বানটোটা বন্দরটি শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলের হাম্বানটোটা জেলায় অবস্থিত এবং এটি দেশটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গভীর সমুদ্র বন্দর।
- অর্থনৈতিক কারণে চীন এই বন্দরটি নির্মাণে অর্থায়ন করেছে এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে এর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জিবুতি — এটি পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ, যেখানে চীনের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে কিন্তু হাম্বানটোটা বন্দরটি এখানে অবস্থিত নয়।
B) মাদাগাস্কার — এটি ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, যার সঙ্গে হাম্বানটোটা বন্দরের কোনো ভৌগোলিক সম্পর্ক নেই।
C) শ্রীলংকা — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এই বন্দরটি শ্রীলংকার দক্ষিণাংশে ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত।
D) ভারত — এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ, যার নিজস্ব অনেক বন্দর আছে তবে হাম্বানটোটা বন্দরটি এর ভূখণ্ডে নয়।
মনে রাখার টিপস:
শ্রীলংকার সাগরের জল, হাম্বানটোটা বন্দর সে তো চমৎকার।
সঠিক উত্তর: B) ২০৩০
কেন সঠিক:
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের জন্য ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
- জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রণীত এই বৈশ্বিক এজেন্ডার মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০২৫ — এটি এসডিজির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাল নয়, কারণ এটি একটি পনেরো বছর মেয়াদি পরিকল্পনা।
B) ২০৩০ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপਸ਼ਨটি সঠিক হিসেবে বিবেচিত।
সি) ২০৩৫ — এই সালটি এসডিজির মূল মেয়াদকাল বা প্রাক্কলন বছরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ডি) ২০৩৬ — এই সালটি জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমার অন্তর্ভুক্ত নয়।
মনে রাখার টিপস:
এসডিজির মেয়াদ মনে রাখতে ১৫ বছরের হিসাব মাথায় রাখুন, অর্থাৎ ২০১৫ থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালে এর প্রাক্কল মেয়াদ শেষ হয়।
সঠিক উত্তর: A) EU
কেন সঠিক:
- EU বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো ইউরোপের কয়েকটি দেশের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট, যা জাতিসংঘের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়।
- জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত এবং সচিবালয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) EU — এটি একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট, জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ বা বিশেষায়িত সংস্থা নয়।
B) ILO — এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শ্রম মান নিয়ে কাজ করে।
C) UNDP — এটি জাতিসংঘের প্রধান উন্নয়ন সহায়তা প্রদানকারী একটি অঙ্গসংগঠন।
D) WFP — এটি জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা বিষয়ক একটি অঙ্গসংগঠন।
মনে রাখার টিপস:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা EU হলো একটি স্বাধীন আঞ্চলিক জোট, তাই এটি জাতিসংঘের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়।
সঠিক উত্তর: C) অ্যান্টনিও গুতেরেস
কেন সঠিক:
- তিনি জাতিসংঘের বর্তমান ও নবম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে তিনি এই পদে আসীন রয়েছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বান কি মুন — তিনি জাতিসংঘের অষ্টম মহাসচিব ছিলেন, বর্তমান মহাসচিব নন।
B) কফি আনান — তিনি জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ছিলেন, বর্তমান মহাসচিব নন।
C) অ্যান্টনিও গুতেরেস — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) বুত্রোস গালি — তিনি জাতিসংঘের ষষ্ঠ মহাসচিব ছিলেন, বর্তমান মহাসচিব নন।
মনে রাখার টিপস:
বর্তমান মহাসচিবের নাম মনে রাখতে প্রথম অক্ষর জি (G) বা গুতেরেস মাথায় রাখুন।
সঠিক উত্তর: B) UNESCO
কেন সঠিক:
- ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ECOSOC — এটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
B) UNESCO — এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা, যা ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
C) UNCTAD — এটি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়।
D) UNICEF — এটি জাতিসংঘের শিশু তহবিল সংস্থা, যা শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করে এবং এই স্বীকৃতির সঙ্গে জড়িত নয়।
মনে রাখার টিপস:
ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কাজটি শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো করেছে।
সঠিক উত্তর: A) বাণিজ্যের ক্ষেত্রে
কেন সঠিক:
- EBA এর পূর্ণরূপ হলো এভরিথিং বাট আর্মস, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়।
- এটি মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রপ্তানি সুবিধা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ বাণিজ্য পলিসি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাণিজ্যের ক্ষেত্রে — এটি সঠিক কারণ EBA সুবিধাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।
B) পরিবহণের ক্ষেত্রে — এটি ভুল কারণ এই সুবিধার সাথে যোগাযোগ, যাতায়াত বা পরিবহন খাতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
C) শিক্ষার ক্ষেত্রে — এটি ভুল কারণ শিক্ষা বা মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলাদা স্কলারশিপ বা কর্মসূচি রয়েছে, EBA নয়।
D) যুদ্ধের ক্ষেত্রে — এটি ভুল কারণ EBA-এর পূর্ণরূপে অস্ত্র বা সামরিক বিষয় বাদ দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক পণ্যের কথা বলা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
EBA মানে অস্ত্র ছাড়া সব, আর এই বাণিজ্য সুবিধা শুধু রপ্তানি ও ব্যবসার সাথে যুক্ত।
সঠিক উত্তর: B) ইউক্রেন
কেন সঠিক:
- ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটি বা চেরোজেম মৃত্তিকা গম উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- দেশটির বিপুল পরিমাণ গম উৎপাদন ও রপ্তানির কারণে একে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাশিয়া — এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম উৎপাদনকারী দেশ হলেও একে ঐতিহাসিকভাবে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয় না।
B) ইউক্রেন — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর বিধায় এখানে ভুল অপশনের কারণ প্রযোজ্য নয়।
সি) ফ্রান্স — এটি ইউরোপের প্রধান কৃষি উৎপাদনকারী দেশ হলেও একে রুটির ঝুড়ি বলা হয় না।
ডি) স্পেন — এটি দক্ষিণ ইউরোপের একটি দেশ এবং জলবায়ু ও উৎপাদিত ফসলের পার্থক্যের কারণে এই নামে পরিচিত নয়।
মনে রাখার টিপস:
ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটিতে প্রচুর গম ফলে, তাই ইউক্রেন হলো ইউরোপের রুটির ঝুড়ি।
সঠিক উত্তর: B) ওয়াশিংটন ডিসি
কেন সঠিক:
- মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
- এখান থেকেই বিশ্বজুড়ে নাসার বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম ও মিশন পরিচালিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফ্লোরিডা — এটি নাসার প্রধান রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র কেনেডি স্পেস সেন্টারের অবস্থান, সদর দপ্তর নয়।
B) ওয়াশিংটন ডিসি — এটি নাসার মূল প্রশাসনিক সদর দপ্তর হওয়ার কারণে এই অপশনটি সঠিক।
সি) কেপ কেনেডি — এটি ফ্লোরিডার একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, যা মহাকাশযান পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
ডি) হিউস্টন — এটি নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের অবস্থান, যেখানে মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মনে রাখার টিপস:
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ডিসিতেই বসে নাসার মূল ডিসিশন বা সিদ্ধান্ত।
সঠিক উত্তর: B) মাদাম কুরি
কেন সঠিক:
- মাদাম কুরি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
- তিনিই বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পিয়ারে কুরি — তিনি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে একবার নোবেল পুরস্কার পেলেও দুবার পাননি।
B) মাদাম কুরি — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং তিনি দুবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
C) লুই পাস্তুর — তিনি জীবাণু তত্ত্ব ও টিকা আবিষ্কার করলেও নোবেল পুরস্কার পাননি।
D) রোনাল্ড রস — তিনি ম্যালেরিয়া বিষয়ক গবেষণার জন্য একবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
মনে রাখার টিপস:
পদার্থ ও রসায়নে দুইবার নোবেল জয়ী একমাত্র নারী মাদাম কুরি।
সঠিক উত্তর: D) Vit-K
১. কেন সঠিক:
- ভিটামিন কে আমাদের রক্ত জমাট বাঁধতে বা রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- শরীরে কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধ করতে প্রথ্রোমবিন নামক প্রোটিন তৈরিতে এই ভিটামিন সরাসরি সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রক্ত তঞ্চন হলো এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তরল রক্ত জমাট বেঁধে আঠালো পদার্থে পরিণত হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধ করে।
- কার্যপ্রণালি: যকৃতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা ক্লটিং ফ্যাক্টর তৈরিতে ভিটামিন কে কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: অস্ত্রোপচার বা দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীকে ভিটামিন কে সরবরাহ করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শরীরে ছোটখাটো কেটে গেলে কিছুক্ষণ পর রক্ত নিজে থেকেই জমাট বেঁধে বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এটি ভিটামিন কে এর উপস্থিতির কারণে সম্ভব হয় যা রক্তকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: নবজাতকদের জন্মলগ্নে ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যা: নবজাতকদের অন্ত্রে এই ভিটামিন উৎপাদক ব্যাকটেরিয়া থাকে না বলে রক্তক্ষরণ রোধে এটি দেওয়া হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Vit-C — এটি অ্যাসকরবিক অ্যাসিড যা স্করভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কিন্তু রক্ত জমাট বাঁধে না।
B) Vit-D — এটি ক্যালসিফিকেশন এবং হাড়ের গঠনে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায় কিন্তু রক্ত তঞ্চনে কাজ করে না।
C) Vit-B — এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা বিপাক ক্রিয়া ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় অংশ নেয় তবে রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
D) Vit-K — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি প্রথ্রোমবিন তৈրির মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রক্ত জমাট বাঁধার ইংরেজি শব্দ কোয়াগুলেশন যার সাথে ভিটামিন কে অক্ষরের মিল রয়েছে।
- এভাবে মনে রাখতে পারেন যে কে মানে কোয়াগুলেশন বা জমাট বাঁধা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভিটামিন কে এর অভাবে রক্ত তঞ্চন বা জমাট বাঁধতে দেরি হয় ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- এখান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন কোনটি অথবা কোন ভিটামিনের অভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না।
সঠিক উত্তর: A) রাইবোজোম
১. কেন সঠিক:
- জীবকোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ বা তৈরির প্রধান স্থান হলো রাইবোজোম।
- এই ক্ষুদ্র অঙ্গাণুটি অ্যামিনো এসিডকে যুক্ত করে পেপটাইড বন্ধনের মাধ্যমে প্রোটিন অণু তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা বা প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- কার্যপ্রণালি: মেসেঞ্জার আরএনএ এর বার্তা অনুযায়ী রাইবোজোম অ্যামিনো এসিড সাজিয়ে প্রোটিন বা আমিষ গঠন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমাদের পেশির প্রধান উপাদান অ্যাক্টিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন যা রাইবোজোমের মাধ্যমে কোষের ভেতরে তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: এই প্রোটিনগুলো পেশি সংকোচন ও প্রসারণে কাজ করে যা জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উদাহরণ ২: রক্তে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিন প্রোটিনও রাইবোজোমের সহায়তায় সংশ্লেষিত হয়।
ব্যাখ্যা: হিমোগ্লোবিন ছাড়া আমাদের শরীরে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হতো না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাইবোজোম — এটি সঠিক কারণ রাইবোজোমই কোষের একমাত্র প্রোটিন সংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু।
B) নিউক্লিয়াস — নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক, যেখানে ডিএনএ ও জিনগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে কিন্তু সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় না।
C) মাইটোকন্ড্রিয়া — মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউজ, যা শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি বা এটিপি উৎপন্ন করে।
D) ক্রোমোজোম — ক্রোমোজোম নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত বংশগতির মূল ভিত্তি যা পিতামাতা থেকে বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে বহন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রাইবোজোম শব্দটির সাথে প্রোটিন শব্দটিকে এভাবে মনে রাখবে যে প্রোটিন তৈরির কারখানা হলো রাইবোজোম।
- কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুর কাজের সাথে গুলিয়ে ফেলবে না যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া মানেই শক্তি আর রাইবোজোম মানেই প্রোটিন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কোষীয় অঙ্গাণুর কাজ হিসেবে বারবার আসে।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ ছাড়াও রাইবোজোমকে কেন কোষের সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয় তা জেনে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: A) CO
১. কেন সঠিক:
- কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অত্যন্ত শক্তভাবে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন নামক স্থায়ী যৌগ গঠন করে।
- এর ফলে রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং কোষে কোষে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রক্তে উপস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে শরীরের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে থাকে।
- কার্যপ্রণালি: কার্বন মনোক্সাইডের হিমোগ্লোবিনের প্রতি আকর্ষণ অক্সিজেনের তুলনায় প্রায় দুইশো থেকে আড়াইশো গুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।
- কারণ ও ফলাফল: তাই বাতাসে সামান্য পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড থাকলেও তা অক্সিজেনের আগেই হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবনঘাতী অবস্থার সৃষ্টি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বন্ধ ঘরে কয়লার চুলা জ্বালিয়ে ঘুমালে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
ব্যাখ্যা: বন্ধ ঘরে কয়লা অসম্পূর্ণভাবে দহন হয়ে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে যা রক্তে মিশে অক্সিজেন সরবরাহ চিরতরে বন্ধ করে দেয়।
উদাহরণ ২: দীর্ঘ সময় যানজটপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা: যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CO — এটি সঠিক উত্তর কারণ কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহনের স্বাভাবিক ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয়।
B) CO₂ — এটি কার্বন ডাই অক্সাইড যা প্রধানত কোষীয় শ্বসনের উপজাত এবং রক্তে প্রধানত বাইকার্বোনেট রূপে পরিবাহিত হয়।
C) CH₄ — এটি মিথেন গ্যাস যা প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান এবং এটি সরাসরি হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহনে বাধা দেয় না।
D) Cl₂ — এটি ক্লোরিন গ্যাস যা একটি তীব্র বিষাক্ত হ্যালোজেন এবং এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের পর্দায় তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সিও অর্থাৎ কার্বন মনোক্সাইডকে রক্তের অক্সিজেন চোর হিসেবে মনে রাখতে পারো।
- হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে এর সম্পর্ক অক্সিজেনের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই গ্যাসকে নীরব ঘাতক বলা হয় কারণ এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন।
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে দ্রুত যৌগ গঠন করে।
সঠিক উত্তর: C) CH₃Cl (শিক্ষার্থীর জ্ঞাতার্থে সংশোধন: প্রশ্নপত্রে ভুল উত্তর দেওয়া ছিল। মিথাইল ক্লোরাইড বা CH₃Cl অম্লীয় নয়, বরং প্রদত্ত প্রশ্ন ও অপশনগুলোর সঠিক মূল্যায়ন নিচে দেওয়া হলো। মূলত লুইস অ্যাসিড হিসেবে FeCl₃ এবং জৈব যৌগের অম্লত্ব বা অন্যান্য যৌগ বিশ্লেષণে সঠিক উত্তরটি হবে A) FeCl₃। তবে প্রদত্ত প্রশ্নটির অপشنগুলোর মধ্যে একমাত্র ধাতব হ্যালাইড ও লুইস অ্যাসিড হিসেবে FeCl₃ অম্লধর্মী আচরণ করে। পরীক্ষামূলক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো A) FeCl₃।)
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি হলো A) FeCl₃ (আয়রন ট্রাইক্লোরাইড)। এটি একটি লুইস অ্যাসিড যা ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে।
- লুইস তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থ ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে তাদেরকে অম্ল বা অ্যাসিড বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: লুইস অম্ল হলো এমন রাসায়নিক প্রজাতি যা অন্য কোনো পরমাণু বা অণু থেকে এক জোড়া ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে।
- রাসায়নিক গঠন: আয়রন ট্রাইক্লোরাইড যৌগে আয়রনের যোজ্যতা কক্ষের অসম্পূর্ণতার কারণে এটি ইলেকট্রন গ্রহণে অত্যন্ত পটু।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অ্যামোনিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা: FeCl₃ অ্যামোনিয়ার মুক্ত ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে জটিল যৌগ গঠন করে, যা এর অম্লীয় প্রকৃতির প্রমাণ।
উদাহরণ ২: ফ্রিডেল ক্রাফটস বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা: জৈব রসায়নে এটি লুইস অ্যাসিড catalyst হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ইলেকট্রোফাইল তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FeCl₃ - এটি লুইস অম্ল প্রকৃতির হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়।
B) KCl - এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার ও সবল অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত নিরপেক্ষ লবণ।
C) CH₃Cl - এটি একটি অ্যালকাইল হ্যালাইড যা মূলত নিরপেক্ষ প্রকৃতির জৈব যৌগ।
D) C₆H₅Cl - এটি ক্লোরোবেনজিন যা একটি নিষ্ক্রিয় এবং নিরপেক্ষ অ্যারোমেটিক যৌগ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অবস্থান্তর ধাতুর ক্লোরাইড যেমন ফেরিক ক্লোরাইড সাধারণত লুইস অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে।
- অ্যালকাইল হ্যালাইড ও অ্যারাইল হ্যালাইডগুলো নিরপেক্ষ যৌগ হিসেবে পরিচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- লুইস অম্ল ও ক্ষারের সংজ্ঞা বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- লুইস অ্যাসিড ও লুইস ক্ষারের উদাহরণগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) 0.4g
১. কেন সঠিক:
- দ্রবণের মোলারিটি সরাসরি তার দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে পরিবর্তিত হয়।
- মোলারিটি দশ গুণ হ্রাস পেলে প্রয়োজনীয় পদার্থের পরিমাণও ঠিক দশ গুণ কমে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মোলারিটি হলো প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত পদার্থের মূল সংখ্যা, যা পদার্থের ভরের ওপর নির্ভর করে।
- সূত্র/তত্ত্ব: W = S × M × V, এখানে W হলো দ্রবের ভর, S হলো মোলারিটি, M হলো মোলার ভর এবং V হলো আয়তন।
- কার্যপ্রণালি: প্রথম ক্ষেত্রে W১ = ১ × ৪০ × ১ = ৪০ গ্রাম, কিন্তু প্রশ্নে ১ মোলার ১ লিটার দ্রবণের জন্য ৪০ গ্রাম বলা থাকলেও, আমাদের মূলত অনুপাত হিসাব করতে হবে।
- কারণ ও ফলাফল: ঘনমাত্রা ১ মোলার থেকে কমিয়ে ০.০১০ মোলার করার অর্থ হলো ঘনমাত্রা একশ ভাগ কমে যাওয়া, ফলে দ্রবের পরিমাণও একশ ভাগ কমে ০.৪ গ্রাম হবে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১ লিটার চায়ে ১০ গ্রাম চিনি মেশালে মিষ্টির ঘনত্ব যা হয়, তার চেয়ে দশ ভাগ চিনি দিলে মিষ্টি অনেক কমে যায়।
ব্যাখ্যা: দ্রবণের পরিমাণ নির্দিষ্ট রেখে দ্রবের পরিমাণ কমালে তার মোলার ঘনমাত্রাও কমে যায়।
উদাহরণ ২: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ গুললে যে ঘন দ্রবণ হয়, তাতে সমপরিমাণ পানি যোগ করে লবণ দশ ভাগ করলে হালকা দ্রবণ তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: আয়তন অপরিবর্তিত থাকলে ঘনমাত্রা ও দ্রবের ভর সমান অনুপাতে পরিবর্তিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 0.4g — এটি সঠিক হিসাব অনুযায়ী নির্ণয় করা হয়েছে, যেখানে ৪০ গ্রামের সঙ্গে ০.০১ গুণ করে ০.৪ গ্রাম পাওয়া যায়।
B) 4g — এটি দশ গুণ বেশি মান নির্দেশ করে, যা ০.১ মোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো।
C) 0.8g — এটি ভুল হিসাবের ফল এবং এর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সূত্রের কোনো মিল নেই।
D) 10g — এটি চার ভাগের এক ভাগ মান নির্দেশ করে, যা সঠিক মোলারিটি পরিবর্তনের নিয়মের সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মোলারিটির অঙ্ক করার সময় ঘনমাত্রার অনুপাত এবং ভরের অনুপাত সমান ধরে হিসাব করতে হয়।
- দশমিকের হিসাব করার সময় শূন্যের সংখ্যা ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ভুল না হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের গাণিতিক সমস্যা বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- ঘনমাত্রা পরিবর্তন সংক্রান্ত সূত্র ব্যবহার করে যেকোনো দ্রবণের ভর খুব সহজেই বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: A) জলীয় AgNO₃
১. কেন সঠিক:
ক্লোরাইডায়ন সনাক্ত করতে জলীয় সিলভার নাইট্রেট দ্রবণ ব্যবহার করা হয় কারণ এটি ক্লোরাইডের সাথে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইডের সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি করে।
এই বিক্রিয়াটি আয়ন শনাক্তকরণের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষাগারে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: অ্যানায়ন বা ঋণাত্মক আয়ন শনাক্তকরণের জন্য সিলভার নাইট্রেট পরীক্ষা করা হয়।
কার্যপ্রণালি: দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট যোগ করলে সিলভার আয়ন ক্লোরাইড আয়নের সাথে যুক্ত হয়ে সিলভার ক্লোরাইডের কঠিন সাদা অধঃক্ষেপ ফেলে যা নাইট্রিক এসিডে অদ্রবণীয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়া: সোডিয়াম ক্লোরাইড + সিলভার নাইট্রেট = সিলভার ক্লোরাইডের সাদা অধঃক্ষেপ + সোডিয়াম নাইট্রেট।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লবণের জলীয় দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট যোগ করা।
ব্যাখ্যা: খাবার লবণের জলীয় দ্রবণে এই দ্রবণ ফোঁটায় ফোঁটায় ফেললে তৎক্ষণাৎ সাদা রঙের অধঃক্ষেপ পড়ে যা ক্লোরাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
উদাহরণ ২: পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিড পরীক্ষা।
ব্যাখ্যা: পরীক্ষাগারে জৈব যৌগে ক্লোরিন আছে কি না তা জানতে সোডিয়াম লবণের নির্যাসের সাথে এই পরীক্ষা করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জলীয় AgNO₃ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ক্লোরাইড আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে সাদা অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে।
B) অ্যালকোহলীয় KOH — এটি হ্যালোজেন অ্যালকেন থেকে অপসারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যালকিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
C) জলীয় BaCl₂ — এটি সালফেট আয়ন বা কার্বনেট আয়ন শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়, ক্লোরাইডে নয়।
D) জলীয় NaCl — এটি নিজে ক্লোরাইড আয়নের উৎস, তাই এটি দিয়ে অন্য কোনো অজানা দ্রবণের ক্লোরাইড শনাক্ত করা যায় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
ক্লোরাইড সনাক্তকরণে সিলভার নাইট্রেট ব্যবহার করা হয় এবং সিলভার ক্লোরাইডের সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে।
পরীক্ষাগারে লবণের আয়ন শনাক্ত করার সময় অ্যানায়ন পরীক্ষার জন্য সিলভার নাইট্রেট এবং ক্যাটায়ন পরীক্ষার জন্য সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই বিক্রিয়ায় উৎপাদিত সিলভার ক্লোরাইড সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি করে যা অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডে দ্রবণীয়।
এই একই ধারণার ওপর ভিত্তি করে ব্রোমাইড ও আয়োডাইড আয়নের জন্যও যথাক্রমে হালকা হলুদ ও গাঢ় হলুদ অধঃক্ষেপের প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) গ্লুকোজ
১. কেন সঠিক:
- স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো একটি পলিস্যাকারাইড, যা অসংখ্য গ্লুকোজ অণু পরস্পরের সঙ্গে গ্লাইকোসাইড বন্ধনে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
- উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সরল শর্করা পলিমারাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল স্টার্চে রূপান্তরিত হয় এবং সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো উদ্ভিদের প্রধান খাদ্য সঞ্চয়কারী পলিমার, যার রাসায়নিক সংকেত হলো বন্ধনীভিত্তিক (C6H10O5)n।
- কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানির সাহায্যে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তা ঘনীভূত করে স্টার্চ হিসেবে সঞ্চয় করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাত, আলু ও গমের আটা।
ব্যাখ্যা: এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে শরীরে শক্তি জোগায়।
উদাহরণ ২: কাঁচা কলার শাঁস।
ব্যাখ্যা: কাঁচা কলায় স্টার্চ বা শ্বেতসার বেশি থাকে, যা পাকা অবস্থায় ভেঙে সরল শর্করা বা গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং কলা মিষ্টি লাগে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেলুলোজ — এটি উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান এবং উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হলেও স্টার্চের মূল উপাদান নয়।
B) গ্লুকোজ — এটি স্টার্চের মূল একক বা মনোমার, যা অসংখ্য সংখ্যায় যুক্ত হয়ে স্টার্চ গঠন করে।
C) ফ্রুক্টোজ — এটি ফলমূলের মিষ্টি স্বাদের জন্য দায়ী এক ধরনের মনোস্যাকারাইড বা সরল শর্করা, যা স্টার্চের অংশ নয়।
D) ল্যাকটোজ — এটি দুধে প্রাপ্ত এক প্রকার ডাইস্যাকারাইড যা গ্যালাকটোজ ও গ্লুকোজের সমন্বয়ে গঠিত, উদ্ভিজ্জ স্টার্চের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে স্টার্চ হলো গ্লুকোজের দীর্ঘ শৃঙ্খলা। উদ্ভিদের সঞ্চিত খাবার মানেই তা গ্লুকোজের বহুগুণ সমাহার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে স্টার্চের পলিমার কোনটি বা শ্বেতসারের একক কী। এর উত্তর সবসময় গ্লুকোজ হবে।
সঠিক উত্তর: C) ল্যাকটোজ
১. কেন সঠিক:
- দুধে প্রাকৃতিকভাবে যে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়, তাকে ল্যাকটোজ বলা হয় এবং এটি ডাইস্যাকারাইড প্রকৃতির।
- এটি ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ উৎপন্ন হয়, যা মানবদেহে সহজে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: কার্বোহাইড্রেটের একটি প্রকার হলো ডাইস্যাকারাইড, যা দুটি মনোস্যাকারাইড মিলে গঠিত হয় এবং ল্যাকটোজ তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
- কার্যপ্রণালি: মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রে ল্যাকটেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ল্যাকটোজ ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত হয় এবং রক্তে শোষিত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: দুগ্ধজাত খাবার যেমন দুধ, দই ও পনির হজম করার জন্য আমাদের শরীরে ল্যাকটোজ ভাঙার জৈবিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গরুর দুধ পান করলে শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: গরুর দুধে উপস্থিত ল্যাকটোজ পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ তৈরি করে যা কোষে শক্তি সরবরাহ করে।
উদাহরণ ২: দই খাওয়ার সময় মিষ্টি না লাগলেও সামান্য মিষ্টি ভাব অনুভূত হয়।
ব্যাখ্যা: দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটোজ বা দুগ্ধ চিনির সামান্য উপস্থিতির কারণে এই মৃদু মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গ্লুকোজ — এটি একটি মনোস্যাকারাইড বা সরল শর্করা এবং কোষের প্রধান জ্বালানি, যা সরাসরি রক্তে মিশে শক্তি দেয়।
B) সুক্রোজ — এটি সাধারণ চিনি বা আখের চিনি, যা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমন্বয়ে গঠিত ডাইস্যাকারাইড।
C) ল্যাকটোজ — এটি সঠিক উত্তর এবং এটি একমাত্র দুধে পাওয়া প্রধান শর্করা যা গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ নিয়ে গঠিত।
D) ম্যালটোজ — এটি মল্ট শর্করা যা বার্লি বা অঙ্কুরিত শস্যে পাওয়া যায় এবং দুটি গ্লুকোজ অণু নিয়ে গঠিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- দুধ বা মিল্ক এর ইংরেজি শব্দের সঙ্গে মিল রেখে দুগ্ধ চিনির নাম মনে রাখতে পারো ল্যাকটোজ, কারণ মিল্ক উৎপাদনকারী গ্রন্থিকে ল্যাকটিয়াল বা ম্যামারি গ্ল্যান্ড বলা হয়।
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের নামের শেষে ওজ যুক্ত থাকে, যেমন গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ল্যাকটোজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ল্যাকটোজ ভেঙে কোন দুটি উপাদান তৈরি হয়, এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে এবং এর উত্তর হলো গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ।
- দুধ হজম করতে সমস্যা হওয়া রোগকে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স বলা হয় যা ল্যাকটেজ এনজাইমের অভাবে ঘটে।
সঠিক উত্তর: B) টেরিথেলিক এসিড
১. কেন সঠিক:
- পিইটি পলিমার তৈরির জন্য টেরিথেলিক এসিড এবং ইথিলিন গ্লাইকলের পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া প্রয়োজন হয়।
- এটি পলিয়েস্টার পরিবারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনোমার বা একক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পিইটি অর্থ পলিইথিলিন টেরিথেলিয়েট, যা এক ধরনের পলিয়েস্টার থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়া: টেরিথেলিক এসিড এবং ইথিলিন গ্লাইকলের ঘনীভবন পলিমারাইজেশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পিইটি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: কোমল পানীয়ের বোতল, মিনারেল ওয়াটারের বোতল এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের পাত্র তৈরিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সফট ড্রিংকসের স্বচ্ছ প্লাস্টিক বোতল।
ব্যাখ্যা: এই বোতলগুলো টেকসই ও হালকা করতে টেরিথেলিক এসিডযুক্ত পিইটি উপাদান ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: সিন্থেটিক কাপড়ের ফাইবার।
ব্যাখ্যা: একই রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি পলিয়েস্টার সুতা টেক্সটাইল শিল্পে বহুল ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) থেলিক এসিড — এটি ভিন্ন একটি ডাইকার্বক্সিলিক এসিড যা অ্যালকাইড রজন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় কিন্তু পিইটি তৈরিতে সরাসরি লাগে না।
B) টেরিথেলিক এসিড — এটি পিইটি বোতল তৈরির একটি প্রধান উপাদান এবং সঠিক উত্তর।
C) বেনজোয়িক এসিড — এটি খাদ্য সংরক্ষণকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয় কিন্তু প্লাস্টিক পলিমার তৈরিতে এর ব্যবহার নেই।
D) অ্যাসেটিক এসিড — এটি ভিনেগারের মূল উপাদান এবং জৈব রাসায়নিক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, পলিয়েস্টার প্লাস্টিক উৎপাদনে নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পিইটি বোতলের টি দিয়ে টেরিথেলিক এসিড মনে রাখা সহজ।
- পলিয়েস্টার উৎপাদনের মূল চাবিকাঠি হলো টেরিথেলিক এসিড।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিমার সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- পিইটি হলো একটি থার্মোপ্লাস্টিক যা গলিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
সঠিক উত্তর: A) Ba(OH)₂
১. কেন সঠিক:
বেরিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি শক্তিশালী ক্ষারক যা জলে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন উৎপন্ন করে।
এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে এবং এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আরহেনিয়াস মতবাদ অনুযায়ী যেসব যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন দান করে তাদেরকে ক্ষার বলে।
কার্যপ্রণালি: Ba(OH)₂ জলে দ্রবীভূত হয়ে বেরিয়াম আয়ন এবং দুটি হাইড্রোক্সাইড আয়নে বিভক্ত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি শক্তিশালী ক্ষার যা পরিষ্কারক ও সাবান তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ত্বকে লাগলে পিচ্ছিল অনুভূত হয় কারণ এটি ত্বকের ফ্যাট বা চর্বিকে সাবানে পরিণত করে।
উদাহরণ ২: ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা চুনাজল একটি পরিচিত ক্ষারীয় যৌগ যা কৃষিকাজে মাটির অম্লত্ব কমাতে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি মাটির অতিরিক্ত এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে মাটির পিএইচ মাত্রা ফসলের উপযোগী রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Ba(OH)₂ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি একটি শক্তিশালী ক্ষারক যা জলে প্রচুর হাইড্রোক্সাইড আয়ন সরবরাহ করে।
B) Al(OH)₃ — এটি একটি উভধর্মী হাইড্রক্সাইড যা এসিড এবং ক্ষার উভয়টির সাথেই বিক্রিয়া করতে পারে।
C) C₂H₅OH — এটি ইথানল বা অ্যালকোহল, এটি প্রশম পদার্থ এবং এর কোনো ক্ষারধর্ম নেই।
D) C₆H₅OH — এটি ফেনল বা কার্বোলিক এসিড, এটি হালকা অম্লীয় প্রকৃতির এবং এর ক্ষারধর্ম নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
পর্যায় সারণির দ্বিতীয় গ্রুপের ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলোর হাইড্রোক্সাইড সাধারণত শক্তিশালী ক্ষার হয়।
বেরিয়াম দ্বিতীয় গ্রুপের ধাতু হওয়ায় এর হাইড্রোক্সাইড দৃঢ় ক্ষারধর্ম প্রদর্শন করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ক্ষারকের সবলতা নির্ভর করে জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন মুক্ত করার ক্ষমতার ওপর।
পরীক্ষায় প্রায়ই উভধর্মী অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যেমন অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ওপর প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) Ne
১. কেন সঠিক:
নিওন (Ne) একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর ইলেকট্রন দ্বারা সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে। পূর্ণ শক্তিস্তরের কারণে নিওন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন সরিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
পরমাণুর গ্যাসীয় অবস্থায় তার এক মোল বিচ্ছিন্ন পরমাণু থেকে প্রতিটিতে একটি করে ইলেকট্রন অপসারিত করে এক মোল ধনাত্মক আধানে পরিণত করতে যে ন্যূনতম শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে আয়নীকরণ শক্তি বলে। পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকার ছোট হয় এবং আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নিওন গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস স্থিতিশীল হওয়ায় এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না। এই স্থিতিশীলতার জন্যই এর আয়নীকরণ শক্তি অন্য মৌলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি হয়।
ব্যাখ্যা: স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস ভাঙতে বেশি শক্তি লাগে বলে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের আয়নীকরণ শক্তি সর্বাধিক হয়।
উদাহরণ ২: সোডিয়াম (Na) পরমাণু সহজেই একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারে কারণ এর শেষ কক্ষপথে একটিমাত্র ইলেকট্রন থাকে।
ব্যাখ্যা: সহজে ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতার কারণে সোডিয়ামের আয়নীকরণ শক্তি নিওনের তুলনায় অনেক কম হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Li — লিথিয়ামের আকার বড় এবং এর সর্ববহিস্থ স্তরে একটিমাত্র ইলেকট্রন থাকায় এর আয়নীকরণ শক্তি কম।
B) B — বোরনের নিউক্লিয়ার চার্জ কম এবং এর পরমাণুর আকার নিওনের চেয়ে বড় হওয়ায় আয়নীকরণ শক্তি কম।
C) C — কার্বনের আয়নীকরণ শক্তি বোরনের চেয়ে বেশি হলেও নিওনের মতো সম্পূর্ণ পূর্ণ শক্তিস্তর না থাকায় এটি কম।
D) Ne — নিওন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর ইলেকট্রন বিন্যাস অত্যন্ত স্থিতিশীল বিধায় এর আয়নীকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।
৫. মনে রাখার টিপস:
পর্যায় সারণির একেবারে ডানপাশের নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর আয়নীকরণ শক্তি সর্বদা সবচেয়ে বেশি হয়। তাই যেকোনো পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় গ্যাস দেখলে চোখ বন্ধ করে সেটির আয়নীকরণ শক্তি বেশি বলে ধরে নেওয়া যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
একই পর্যায়ে সোডিয়াম থেকে ক্লোরিন পর্যন্ত গেলে সাধারণত আয়নীকরণ শক্তি বাড়ে। এই ধারণা থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মৌলের ক্রম নির্ণয় সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।
প্রশ্নের ধরন: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বন্ধন (রসায়ন)
সঠিক উত্তর: A) CH₄
১. কেন সঠিক:
- মিথেন যৌগে কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে কেবল একক বন্ধন বা সিগমা বন্ধন গঠিত হয়।
- কার্বনের চারটি যোজ্যতা ইলেকট্রন চারটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রনের সঙ্গে শেয়ার করে চারটি সিগমা বন্ধন তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: দুটি পরমাণুর অরবিটালের মুখোমুখি অধিক্রমণের ফলে যে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন গঠিত হয় তাকে সিগমা বন্ধন বলে।
- কার্যপ্রণালি: মিথেন অণুতে কার্বন পরমাণু এসপি থ্রি সংকরায়ন ঘটিয়ে চারটি সমতুল্য অরবিটাল তৈরি করে যা সিগমা বন্ধন গঠন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইথেন অণু।
ব্যাখ্যা: ইথেন যৌগের কার্বন কার্বন এবং কার্বন হাইড্রোজেন বন্ধনগুলো কেবল সিগমা বন্ধন দ্বারা গঠিত।
উদাহরণ ২: পানি অণু।
ব্যাখ্যা: পানির অণুতে অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মাঝে কেবল সিগমা বন্ধন থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CH₄ — এই যৌগটিতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের মধ্যে কেবল সিগমা বন্ধন বিদ্যমান থাকায় এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।
B) C₂H₄ — ইথিলিন যৌগে একটি কার্বন কার্বন দ্বিবন্ধন থাকে যার মধ্যে একটি সিগমা এবং একটি পাই বন্ধন উপস্থিত।
C) C₂H₂ — অ্যাসিটিলিন যৌগে একটি কার্বন কার্বন ত্রিবন্ধন থাকে যেখানে একটি সিগমা এবং দুটি পাই বন্ধন থাকে।
D) C₆H₆ — বেনজিন চক্রে বিকল্প দ্বিবন্ধন তথা সিগমা এবং পাই উভয় প্রকার বন্ধন উপস্থিত থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একক বন্ধন মানেই সিগমা বন্ধন এবং দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন থাকলে সেখানে পাই বন্ধন যুক্ত হয়।
- অ্যালকেন পরিবারের সকল যৌগে কেবল সিগমা বন্ধন থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সমযোজী যৌগের বন্ধন সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে শুধু সিগমা বন্ধন এবং অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে পাই বন্ধন থাকে।
সঠিক উত্তর: A) ৯.০ কিলো ক্যালরি
১. কেন সঠিক:
খাদ্যপুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী এক গ্রাম ফ্যাট বা চর্বি সম্পূর্ণ জারিত হয়ে প্রায় ৯.০ কিলো ক্যালরি শক্তি উৎপন্ন করে।
এটি মানবদেহের প্রধান শক্তি সঞ্চালক উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তির জোগান দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ফ্যাট বা লিপিড হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত জটিল জৈব যৌগ যা শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে।
কার্যপ্রণালি: বিপাক প্রক্রিয়ার সময় ফ্যাটের অণু ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারিনে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে এটি শক্তি উৎপন্ন করে।
বাস্তব প্রয়োগ: শীতপ্রধান দেশের প্রাণীরা শরীরে চর্বির স্তর জমিয়ে অতিরিক্ত শক্তি ও উষ্ণতা ধরে রাখে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এক গ্রাম মাখনে উপস্থিত ফ্যাট থেকে আমাদের শরীর প্রায় নয় কিলো ক্যালরি শক্তি লাভ করে।
ব্যাখ্যা: মাখন উচ্চমাত্রার ফ্যাটযুক্ত খাদ্য হওয়ায় এটি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তি জমা হয়।
উদাহরণ ২: বাদাম ও বীজ জাতীয় খাদ্যে প্রচুর ফ্যাট থাকে।
ব্যাখ্যা: এই জাতীয় খাবার খেলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর শক্তি পায় কারণ ফ্যাট ধীরে ধীরে হজম হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৯.০ কিলো ক্যালরি - এটি পুষ্টিবিজ্ঞানের পরীক্ষিত ও সর্বজনস্বীকৃত মান যা এক গ্রাম ফ্যাট থেকে প্রাপ্ত শক্তির সঠিক পরিমাণ নির্দেশ করে।
B) ৯.৮ কিলো ক্যালরি - এই মানটি ফ্যাট বা অন্য কোনো প্রধান খাদ্য উপাদানের শক্তির পরিমাপের সঙ্গে বৈজ্ঞানিকভাবে মিলে না।
C) ৯.৩ কিলো ক্যালরি - কিছু পুরোনো বা পরিমার্জিত গবেষণায় এই মানটি উল্লেখ থাকলেও আন্তর্জাতিক পুষ্টি মানদণ্ডে ৯.০ কিলো ক্যালরি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে গৃহীত।
D) ৯.৬ কিলো ক্যালরি - এটি একটি কাল্পনিক বা ভুল মান যা পুষ্টিবিজ্ঞানের কোনো খাদ্য উপাদানের শক্তি গণনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফ্যাট শব্দটিতে তিনটি বর্ণ আছে এবং ৯ সংখ্যাটি ফ্যাটের শক্তির প্রধান অঙ্ক।
মনে রাখবে ফ্যাট মানেই বেশি শক্তি অর্থাৎ প্রতি গ্রামে প্রায় ৯ কিলো ক্যালরি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এক গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থেকে প্রায় চার কিলো ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
একই রকম প্রশ্ন আসতে পারে যে এক গ্রাম প্রোটিন বা শর্করা থেকে কত ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: B) পানি
১. কেন সঠিক:
খাদ্য পচনের প্রধান অনুঘটক হলো পানি কারণ এটি অণুজীবের বংশবৃদ্ধি ও রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
পানি ছাড়া ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো পচনকারী জীবাণু বেঁচে থাকতে ও খাদ্য পঁচাতে পারে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: খাদ্য পচন বলতে অণুজীবের দ্বারা খাদ্যের জৈব উপাদানের বিশ্লিষ্ট হওয়াকে বোঝায়।
কার্যপ্রণালি: খাদ্যে উপস্থিত জলীয় অংশ এনজাইমের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয় এবং পচন প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শুটকি মাছ বা শুকনো ফল দীর্ঘদিন ভালো থাকে কারণ এতে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে।
ব্যাখ্যা: পানির অনুপস্থিতিতে অণুজীব জন্মাতে পারে না, তাই খাদ্য পচে না।
উদাহরণ ২: ভেজা ভাত খোলা বাতাসে রাখলে দ্রুত গন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: বাতাসের আর্দ্রতা ও খাদ্যের পানি মিলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন — ভিটামিন খাদ্যের একটি পুষ্টি উপাদান যা পচনের জন্য দায়ী নয়, বরং এটি দেহের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন।
B) পানি — সঠিক উত্তর, কারণ পানি অণুজীবের বিস্তার ঘটিয়ে খাদ্য পচাতে সরাসরি সহায়তা করে।
C) লিপিড — লিপিড বা ফ্যাট রান্নার তেল বা চর্বি জাতীয় উপাদান, যা নিজে থেকে পচন ঘটায় না।
D) প্রোটিন — প্রোটিন খাদ্যের পুষ্টি উপাদান হলেও এটি পচনের মূল কারণ নয়, বরং পানি থাকলে প্রোটিন পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
খাদ্য পচনের মূল চাবিকাঠি হলো পানি, কারণ পানি না থাকলে জীবাণু বাঁচতে পারে না।
শুকিয়ে সংরক্ষণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো খাবার থেকে পানি দূর করা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
খাদ্য সংরক্ষণের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হলো শুকিয়ে ফেলা বা নিরুদন করা।
খাদ্য সংরক্ষণে লবণের ব্যবহার অণুজীবের কোষ থেকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি টেনে বের করে নেয়।
সঠিক উত্তর: B) ইমালশন
১. কেন সঠিক:
- দুধ হলো এমন একটি কোলয়েড যেখানে তরলের মধ্যে অপর একটি তরল সূক্ষ্মভাবে分散 বা বিচ্ছুরিত থাকে।
- বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ মিশ্রণটিকে ইমালশন বা পাইস বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ইমালশন হলো দুটি immiscible বা অমিশ্রণীয় তরলের কোলয়েডীয় সিস্টেম যেখানে একটি তরল অন্যটির মধ্যে ক্ষুদ্র ফোঁটায় ছড়ানো থাকে।
- কার্যপ্রণালি: দুধের ক্ষেত্রে পানিতে ফ্যাট বা চর্বির ক্ষুদ্র কণাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং কেসিন নামক প্রোটিন ইমালসিফাইং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: মাখন তোলার সময় আলোড়ন সৃষ্টির মাধ্যমে এই ইমালশন ভেঙে ফ্যাট আলাদা করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেয়োনিজ
ব্যাখ্যা: মেয়োনিজ হলো ডিমের কুসুম, তেল এবং লেবুর রসের একটি সুপরিচিত ইমালশন।
উদাহরণ ২: কোল্ড ক্রিম
ব্যাখ্যা: প্রসাধনীতে ব্যবহৃত কোল্ড ক্রিম পানি ও তেলের একটি সুষম ইমালশন যা ত্বক নরম রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেল — জেল হলো এমন একটি কোলয়েড যেখানে তরল মাধ্যмы কঠিন জালের মধ্যে আটকে থাকে, যা দুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
B) ইমালশন — এটি সঠিক কারণ দুধ হলো তরলে তরলের বিচ্ছুরিত কোলয়েডীয় মিশ্রণ।
C) দ্রবণ — দ্রবণ হলো একটি সমসত্ব মিশ্রণ যেখানে দ্রাবক ও দ্রাবক সম্পূর্ণ মিশে যায়, কিন্তু দুধ অসমসত্ব কোলয়েড।
D) সাসপেনশন — সাসপেনশনে কণাগুলোর আকার বড় হয় এবং থিতিয়ে পড়ে, কিন্তু দুধের কণা থিতিয়ে পড়ে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুধের মতো তরল পদার্থের মিশ্রণকে ইমালশন মনে রাখতে পাইস বা তরল তেলের ফোঁটার কথা মাথায় রাখবেন।
- কোলয়েড জগতের অন্যতম প্রধান ইমালসিফায়ার হলো দুধ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কোলয়েড ও ইমালশনের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই দুধ ও মাখনের নাম আসে।
- খাদ্য রসায়ন ও কোলয়েডের প্রকারভেদ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: B) 6-10% CH₃COOH
১. কেন সঠিক:
- ভিনেগার হলো মূলত ইথানুইক অ্যাসিড বা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার জলীয় দ্রবণ।
- পানিতে ছয় থেকে দশ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড মিশিয়ে বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি ব্যবহারের উপযোগী ভিনেগার তৈরি করা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অ্যাসিটিক অ্যাসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো CH₃COOH এবং এর জলীয় দ্রবণকে খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: ইথানল বা অ্যালকোহলের ওপর অ্যাসিটোভ্যাক্টর নামক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে বায়বীয় জারণ ঘটে এবং ভিনেগার উৎপন্ন হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: এটি সালাদ তৈরিতে, আচার সংরক্ষণে এবং মাংস নরম করার কাজে রান্নাঘরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাঁচা আম বা রসুনের আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি খাদ্যে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করে এবং খাদ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: ফাস্টফুড বা চাইনিজ খাবারে সস ও সালাদে টক ভাব আনতে ভিনেগার মেশানো হয়।
ব্যাখ্যা: এটি খাদ্যের স্বাদ ও ঘ্রাণ বৃদ্ধি করে এবং খাবারকে দীর্ঘ সময় ভালো রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 6-10% HCOOH — এটি মিথানইক অ্যাসিড বা ফরমায়িক অ্যাসিডের দ্রবণ, যা পিঁপড়ায় থাকে এবং ভিনেগার নয়।
B) 6-10% CH₃COOH — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ইথানুইক অ্যাসিড বা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণ যা ভিনেগার নামে পরিচিত।
C) 6-10% C₂H₅COOH — এটি প্রোপানইক অ্যাসিডের দ্রবণ, যা জৈব অম্ল হলেও ভিনেগার হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
D) 6-10% C₆H₅COOH — এটি বেনজয়িক অ্যাসিডের দ্রবণ, যা আলাদাভাবে খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভিনেগার নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ভিনেগারের মূল উপাদান অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সংকেতে সিএইচ থ্রি সিওওএইচ মনে রাখবে এবং এর শতকরা পরিমাণ ছয় থেকে দশ শতাংশ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভিনেগারের রাসায়নিক নাম ও সংকেত প্রায়ই আসে।
- খাদ্য সংরক্ষণে কোন জৈব অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়, এই প্রশ্নটি বিভিন্ন চাকরিতে বারবার এসেছে।
সঠিক উত্তর: B) অগ্ন্যাশয়
১. কেন সঠিক:
অগ্ন্যাশয় হলো মানবদেহের একটি মিশ্র গ্রন্থি যা থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক কোষগুচ্ছ থেকে এই হরমোন উৎপন্ন হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ইনসুলিন একটি পেপটাইড হরমোন যা বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
কার্যপ্রণালি: অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন রক্তে নিঃসৃত হয়ে কোষগুলোতে গ্লুকোজ প্রবেশে সাহায্য করে।
কারণ ও ফলাফল: ইনসুলিনের ঘাটতি হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাত বা মিষ্টি খাওয়ার পর আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।
ব্যাখ্যা: তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে ইনসুলিন তৈরি হয় না বা সঠিকভাবে কাজ করে না।
ব্যাখ্যা: তাই তাদের বাইরে থেকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয় যাতে শরীরের কোষগুলো শক্তি পাওয়ার জন্য গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যকৃত — যকৃত পিত্তরস উৎপন্ন করে এবং খাদ্য পরিপাক ও বিপাকে সাহায্য করে, তবে এটি ইনসুলিন তৈরি করে না।
B) অগ্ন্যাশয় — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর বিটা কোষ ইনসুলিন হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণ করে।
C) পাকস্থলী — পাকস্থলী হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পরিপাক রস নিঃসরণ করে খাদ্য হজম করে, হরমোন তৈরি এর কাজ নয়।
D) ক্ষুদ্রান্ত্র — ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাক ও পুষ্টি উপাদান শোষণ করে, তবে ইনসুলিন নিঃসরণের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
ইনসুলিনের সাথে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের সম্পর্ক মনে রাখতে ইনসু-বিটা এই কৌশলটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস ও অগ্ন্যাশয়ের সংযোগ বোঝাতে অগ্ন্যাশয়কে শরীরের ইনসুলিন কারখানা হিসেবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
অগ্ন্যাশয়ের কোন কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয় এবং অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) এটি পানিতে দ্রবণীয়
১. কেন সঠিক:
লিপিড বা চর্বিজাতীয় পদার্থ কখনো পানিতে দ্রবণীয় নয়, বরং এটি পানিতে অদ্রবণীয় বা অবদ্রবণীয়।
লিপিড হলো হাইড্রোফোবিক বা জলভীরু প্রকৃতির জৈব যৌগ, যা পোলার দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: লিপিড হলো ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারুলের এস্টার যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত।
কার্যপ্রণালি: লিপিডের অণুতে অধ্রুব হাইড্রোকার্বন শিকল থাকে যা পানির পোলার অণুর সঙ্গে আকর্ষণ তৈরি করতে পারে না।
বাস্তব প্রয়োগ: তেল বা ঘি পানিতে মিশালে তা পানির উপরে ভেসে থাকে এবং মিশ্রিত হয় না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পানিতে তেল বা ঘি মেশানো।
ব্যাখ্যা: তেল পানিতে দিলে তা দ্রবীভূত না হয়ে ওপরের স্তরে ভেসে থাকে, যা লিপিডের অদ্রবণীয়তা প্রমাণ করে।
উদাহরণ ২: সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে তৈলাক্ত হাত পরিষ্কার করা।
ব্যাখ্যা: লিপিড সরাসরি পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলেই তেল পরিষ্কার করতে ইমালসিফায়ার বা সাবানের সাহায্য নিতে হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এটি বর্ণহীন — খাঁটি লিপিড সাধারণত বর্ণহীন বা হালকা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে, যা এর একটি প্রকৃত ভৌত বৈশিষ্ট্য।
B) এটি পানিতে দ্রবণীয় — এটি ভুল বিবৃতি এবং এটিই লিপিডের বৈশিষ্ট্য নয়, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
C) এটি স্বাদহীন — বিশুদ্ধ লিপিডের নির্দিষ্ট কোনো তীব্র স্বাদ থাকে না, এটি স্বাদহীন প্রকৃতির হয়।
D) এটি গন্ধহীন — লিপিড বা ফ্যাট সাধারণত গন্ধহীন হয়, যদিও কিছু উদ্বায়ী লিপিডের হালকা গন্ধ থাকতে পারে।
৫. মনে রাখার টিপস:
লিপিড মানে তেল বা চর্বি। তেল কখনো পানিতে মেশে না, তাই লিপিড পানিতে অদ্রবণীয় এই কথাটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
লিপিড পানিতে অদ্রবণীয় হলেও এটি ইথার, ক্লোরোফর্ম ও বেনজিনের মতো জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিপিডের দ্রবণীয়তা এবং উপাদান সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) সমতল দর্পণ
১. কেন সঠিক:
- আমরা প্রতিদিন সকালে মুখ দেখার জন্য যে আয়না ব্যবহার করি, তা আসলে একটি সমতল দর্পণ।
- এই দর্পণে গঠিত বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয় এবং দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব ও বিম্বের দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সমতল দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, যার ফলে বস্তুর একটি স্পষ্ট ও সোজা বিম্ব গঠিত হয়।
- কার্যপ্রণালি: বস্তু থেকে আলো দর্পণে আপতিত হয়ে প্রতিফলিত হয় এবং আমাদের চোখে পৌঁছায়, যা মস্তিষ্কে সমশীর্ষ ও অসদ বিম্ব তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: বাসাবাড়ির ড্রেসিং টেবিল, সেলুন বা বিউটি পার্লারে নিজের চেহারা বা পোশাকের বিন্যাস দেখার জন্য সমতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সকালে চুলে চিরুনি করার সময় ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের পুরো মুখ পরিষ্কার দেখতে পাওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি সমতল দর্পণের নিয়মিত প্রতিফলনের মাধ্যমে গঠিত সমান আকারের সোজা বিম্বের একটি বাস্তব প্রয়োগ।
উদাহরণ ২: ঘরের দেওয়ালের সাথে লাগানো একটি আয়নার সামনে দাঁড়ালে ঠিক আপনার সমপরিমাণ উচ্চতার একটি অবিকল প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া।
ব্যাখ্যা: সমতল দর্পণে বস্তুর দূরত্ব এবং বিম্বের দূরত্ব সমান থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) উত্তল দর্পণ — এটি আকারে ছোট এবং চওড়া এলাকার দৃশ্য দেখায় বলে গাড়ির পেছনের ভিউ ফাইন্ডার বা রিভিয়ার মিরর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
B) অবতল দর্পণ — এটি আলোকরশ্মিকে অভিসারী করে এবং বস্তুকে বড় করে দেখায় বলে ডেন্টিস্টরা দাঁত পরীক্ষার কাজে এটি ব্যবহার করেন।
D) উভোত্তল দর্পণ — এই ধরনের কোনো নির্দিষ্ট বা বহুল ব্যবহৃত দর্পণ অপটিক্সে প্রচলিত নয়, এটি মূলত উত্তল দর্পণের একটি রূপ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সমতল মানে সমান; তাই যে আয়নায় নিজের চেহারা সমান বা ঠিকঠাক সাইজে দেখা যায়, তাকে সমতল দর্পণ বলে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে, দাড়ি কামানোর বা দাঁত পরীক্ষার জন্য কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- মনে রাখবে, চেহারা দেখার জন্য সমতল দর্পণ, ছোট জিনিস বড় দেখতে অবতল দর্পণ এবং পেছনের প্রশস্ত দৃশ্য দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) অ্যান্টিবডি
১. কেন সঠিক:
- অ্যান্টিবডি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে। এরা রক্তে থেকে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে।
- বৈজ্ঞানিক ধারণায়, এগুলো বিশেষ প্রোটিন যা অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অ্যান্টিবডি হলো ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামক বিশেষ গ্লাইকোপ্রোটিন।
- কার্যপ্রণালি: দেহের বাইরে থেকে কোনো রোগজীবাণু প্রবেশ করলে বি লিম্ফোসাইট কোষ প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
- কারণ ও ফলাফল: অ্যান্টিবডি সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষতিকর জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শরীরে বসন্ত বা হামের ভাইরাস প্রবেশ করলে অ্যান্টিবডি সেগুলোকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর ভবিষ্যতে ওই একই রোগের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা পায়।
উদাহরণ ২: করোনার টিকা নেওয়ার পর দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ভবিষ্যতে আসল ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অ্যান্টিজেন — এটি হলো ক্ষতিকর বা বিদেশি পদার্থ যা দেহে প্রবেশ করে অ্যান্টিবডি তৈরির উদ্দীপ্ত করে, নিজে সৈনিকের কাজ করে না।
B) অ্যান্টিবডি — এটি সঠিক উত্তর।
C) প্রোটিন — এটি একটি বিস্তৃত জৈব অণু। সব অ্যান্টিবডি প্রোটিন হলেও সব প্রোটিন রোগ প্রতিরোধ করে না।
ডি) রক্ত — রক্ত একটি তরল যোজক কলা, যার কাজ উপাদান পরিবহন করা, তবে রক্ত নিজে এককভাবে সৈনিক হিসেবে কাজ করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অ্যান্টিজেন হলো শত্রু এবং অ্যান্টিবডি হলো যুদ্ধ করার সৈনিক।
- প্রথম অক্ষর মিলিয়ে মনে রাখতে পারো অ্যান্টিবডি মানে বডিগার্ড বা রক্ষী।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ইমিউন সিস্টেম বা রক্তকণিকা সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- হোয়াইট ব্লাড সেল বা শ্বেত রক্তকণিকাকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল কোষ বলা হয়।
সঠিক উত্তর: C) V
১. কেন সঠিক:
মুক্তিবেরের সূত্র অনুযায়ী, কোনো গ্রহের ভর দ্বিগুণ এবং ব্যাসার্ধও দ্বিগুণ হলে নতুন গ্রহের মুক্তিবেগ পৃথিবীর সমানই থাকে।
কারণ ভরের বৃদ্ধি মুক্তিবেগ বাড়ালেও ব্যাসার্ধের বৃদ্ধি তা সমান অনুপাতে কমিয়ে দেয়, ফলে বেগের কোনো পরিবর্তন হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মুক্তিবেগ হলো সেই ন্যূনতম বেগ যে বেগে কোনো বস্তু নিক্ষেপ করলে তা মহাকর্ষ বল পেরিয়ে মহাশূন্যে চলে যায় এবং আর ফিরে আসে না।
সূত্র/তত্ত্ব: মুক্তিবেগের সূত্রটি হলো V = √(2GM ÷ R), যেখানে V হলো মুক্তিবেগ, G হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, M হলো গ্রহের ভর এবং R হলো গ্রহের ব্যাসার্ধ।
কার্যপ্রণালি: নতুন গ্রহের ভর দ্বিগুণ (2M) এবং ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ (2R) হলে সূত্রে মান বসিয়ে পাওয়া যায় নতুন মুক্তিবেগ সমান √(2G(2M) ÷ (2R)), যা সরল করলে পৃথিবীর মুক্তিবেগের সমান হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রকেট উৎক্ষেপণ
ব্যাখ্যা: পৃথিবী থেকে কোনো মহাকাশযান মহাশূন্যে পাঠাতে হলে তাকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১১ দশমিক ২ কিলোমিটার মুক্তিবেগ অর্জন করতে হয়।
উদাহরণ ২: চাঁদের মুক্তিবেগ
ব্যাখ্যা: চাঁদের ভর ও ব্যাসার্ধ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় চাঁদের মুক্তিবেগও কম, যার কারণে সেখানে বায়ুমণ্ডল ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 4V — এই মানটি ভুল কারণ ভর ও ব্যাসার্ধ উভয়ই দ্বিগুণ হলে মুক্তিবেগ চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
B) 2V — এই মানটি ভুল কারণ কেবল ভর দ্বিগুণ করলে মুক্তিবেগ রুট দুই গুণ বাড়ত, কিন্তু এখানে ব্যাসার্ধও দ্বিগুণ করা হয়েছে।
C) V — এই অপশনটি সঠিক কারণ হিসাব অনুযায়ী গ্রহের ভর ও ব্যাসার্ধ সমান অনুপাতে বাড়লে মুক্তিবেগের মান অপরিবর্তিত থাকে।
D) 1/2 V — এই মানটি ভুল কারণ ব্যাসার্ধ বাড়লে মুক্তিবেগ কমে যায় না যদি ভর একই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুক্তিবেগের সূত্রে ভর লবে এবং ব্যাসার্ধ হরে থাকে।
ভর ও ব্যাসার্ধ উভয়কে একই গুণিতকে বাড়ালে অনুপাত অপরিবর্তিত থাকে, তাই মুক্তিবেগও সমান থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের গাণিতিক অনুপাতের প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
মনে রাখতে হবে মুক্তিবেগ গ্রহের ভরের বর্গমূলের সমানুপাতিক এবং ব্যাসার্ধের বর্গমূলের ব্যাস্তানুপাতিক।
সঠিক উত্তর: D) ভাইরাস
১. কেন সঠিক:
- অ্যান্টিবায়োটিক এমন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য নির্দিষ্ট অণুজীবের কোষ প্রাচীর বা বিপাকীয় প্রক্রিয়া ধ্বংস করতে পারে।
- ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কোষীয় গঠন, বিপাকীয় তন্ত্র বা প্রোটিন সংশ্লেষণ করার নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে না বলে অ্যান্টিবায়োটিক তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অ্যান্টিবায়োটিক হলো অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াই করার ওষুধ যা জীবন্ত কোষের ওপর কাজ করে।
- কার্যপ্রণালি: ভাইরাস মূলত একটি প্রোটিন আবরণে ঘেরা নিউক্লিক এসিড কণা যা পোষক কোষের ভেতরে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: সর্দি, কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসবাহিত রোগ হওয়ায় চিকিৎসকরা এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নিউমোনিয়া রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, তার চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক সফলভাবে কাজ করে।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কোষীয় কাঠামোর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি আক্রমণ করতে পারে।
উদাহরণ ২: সাধারণ সর্দি বা ফ্লু ভাইরাসের কারণে হলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কোনো উপকার হয় না।
ব্যাখ্যা: ভাইরাস কোষে ওষুধের কোনো কার্যকারিতা না থাকায় এই রোগগুলো প্রাকৃতিকভাবেই নিরাময় করতে হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যাকটেরিয়া — ব্যাকটেরিয়া এককোষী জীব এবং অ্যান্টিবায়োটিক এদের কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে ফেলতে পারে।
B) ছত্রাক — ছত্রাক ইউক্যারিওটিক অণুজীব এবং কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক এদের বিরুদ্ধেও কার্যকর হতে পারে।
C) শৈবাল — শৈবাল সালোকসংশ্লেষকারী উদ্ভিদ এবং এদের কোষেও অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
D) ভাইরাস — ভাইরাস কোষীয় জীব নয় বরং এটি জড় ও জীবের মধ্যবর্তী অবস্থা, তাই এর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে, অ্যান্টিবায়োটিক কেবল জীবন্ত কোষযুক্ত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
- ভাইরাস কোষহীন হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর সম্পূর্ণ অকার্যকর থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাধারণ সর্দি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসবাহিত রোগ হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এগুলো সারানো যায় না।
- অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং এবং প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক হলো পেনিসিলিন।
সঠিক উত্তর: C) NaCl
১. কেন সঠিক:
- সোডিয়াম ক্লোরাইড বা সোডিয়াম ক্লোরাইড একটি আয়নিক যৌগ কারণ এটি ধাতু ও অধাতুর মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- সোডিয়াম তার বাইরের কক্ষপথ থেকে একটি ইলেকট্রন ক্লোরিনকে সম্পূর্ণভাবে দান করে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন গঠন করে স্থির তড়িৎ আকর্ষণে যুক্ত থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ার না করে আদান-প্রদানের ফলে সৃষ্ট রাসায়নিক বন্ধনকে আয়নিক বন্ধন বলে এবং গঠিত যৌগকে আয়নিক যৌগ বলা হয়।
- কার্যপ্রণালি: সোডিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক চার্জযুক্ত সোডিয়াম আয়ন এবং ক্লোরিন পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ক্লোরাইড আয়ন তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: আয়নিক যৌগগুলো পানিতে দ্রবীভূত হলে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে যেমন প্রাত্যহিক জীবনের রান্নার লবণ পানিতে মিশলে তিতড়িৎ পরিবাহী দ্রবণ তৈরি হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড।
ব্যাখ্যা: ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু অক্সিজেনকে দুটি ইলেকট্রন দান করে এই আয়নিক যৌগটি গঠন করে।
উদাহরণ ২: ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড।
ব্যাখ্যা: ক্যালসিয়াম পরমাণু দুটি ক্লোরিন পরমাণুকে দুটি ইলেকট্রন দিয়ে আয়নিক বন্ধন তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CH₄ — এটি মিথেন এবং কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে গঠিত হওয়ায় এটি একটি সমযোজী যৌগ।
B) CH₃Cl — এটি মিথাইল ক্লোরাইড যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও ক্লোরিনের মধ্যকার ইলেকট্রন শেয়ারের ফলে সৃষ্ট সমযোজী যৌগ।
C) NaCl — এটি সঠিক কারণ সোডিয়াম ধাতু ও ক্লোরিন অধাতুর মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়।
D) PCl₃ — এটি ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইড এবং ফসফরাস ও ক্লোরিন উভয়েই অধাতু হওয়ায় এদের বন্ধনটি সমযোজী প্রকৃতির।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ধাতু ও অধাতুর সংযোগে গঠিত যৌগ সাধারণত আয়নিক হয় এবং দুটিই অধাতু হলে তা সমযোজী যৌগ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আয়নিক ও সমযোজী যৌগের উদাহরণ থেকে প্রশ্ন আসে।
- যৌগগুলোর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক এবং পানিতে দ্রবণীয়তা সম্পর্কিত প্রশ্ন থেকেও এমসিকিউ আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) HDL
১. কেন সঠিক:
- HDL হলো হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা মানবদেহের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল হিসেবে কাজ করে।
- এটি রক্তনালীতে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: লাইপোপ্রোটিন হলো প্রোটিন ও চর্বির সমন্বয়, যা রক্তের মাধ্যমে চর্বি বহন করে।
- কার্যপ্রণালি: এটি ধমনীর দেওয়ালের ক্ষতি রোধ করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রক্তে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।
ব্যাখ্যা: এটি ধমনীতে প্লাক জমতে বাধা দেয়, যা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
উদাহরণ ২: নিয়মিত ব্যায়াম ও শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো যায়।
ব্যাখ্যা: জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) HDL — এটি মানবদেহের জন্য ভালো কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত।
B) VLDL — এটি ভেরি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বহন করে এবং ক্ষতিকর।
C) LDL — এটি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল।
D) TG — এটি ট্রাইগ্লিসারাইড, যা এক ধরনের রক্তে থাকা চর্বি এবং এর উচ্চ মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভালো কোলেস্টেরলের জন্য এইচ মানে হেলদি বা ভালো এবং খারাপ কোলেস্টেরলের জন্য এল মানে লো বা ক্ষতিকর মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের নাম প্রায়ই আসে।
- এইচডিএল যকৃতে কোলেস্টেরল ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং এলডিএল রক্তনালীতে চর্বি জমায়।
সঠিক উত্তর: A) দহন তাপ
১. কেন সঠিক:
- দহন তাপ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পদার্থের এক মোল সম্পূর্ণভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়ে তাপ উৎপন্ন করে।
- এই বিক্রিয়ায় সর্বদা চারিপাশে তাপ নির্গত হয় বলে এনথালপির পরিবর্তন ঋণাত্মক হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: তাপউৎপাদী বিক্রিয়ায় সিস্টেম থেকে পরিবেশে তাপ শক্তি নির্গত হয় এবং এনথালপির মান হ্রাস পায়।
- কার্যপ্রণালি: দহনের সময় পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে নতুন বন্ধন গঠিত হয় এবং অধিক শক্তিসম্পন্ন উৎপাদ তৈরি হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: রান্নার কাজে গ্যাস পোড়ানো এবং ইঞ্জিনে জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করা দহন তাপের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এক মোল মিথেন গ্যাসের সম্পূর্ণ দহনে বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়।
ব্যাখ্যা: এই বিক্রিয়ায় এনথালপির পরিবর্তন ঋণাত্মক মান প্রদর্শন করে।
উদাহরণ ২: মানুষের শরীরে গ্লুকোজের জারণ বা দহন প্রক্রিয়া।
ব্যাখ্যা: কোষে গ্লুকোজ পুড়ে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এটিও একটি তাপউৎপাদী প্রক্রিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দহন তাপ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই প্রক্রিয়ায় সবসময় তাপ নির্গত হয় এবং এর মান ঋণাত্মক হয়।
B) বিক্রিয়া তাপ — এই অপশন ভুল কারণ বিক্রিয়া তাপ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে, যা তাপহারী বা তাপউৎপাদী বিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
C) সংগঠন তাপ — এই অপশন ভুল কারণ কোনো যৌগ গঠনের সময় তাপ উৎপাদিত বা শোষিত হতে পারে, তাই এর মান ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে।
D) দ্রবণ তাপ — এই অপশন ভুল কারণ দ্রবীভূত করার সময় দ্রবণ তাপ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দহন মানে পুড়ে যাওয়া এবং পোড়া মানেই তাপ বা শক্তি বাইরে বেরিয়ে যাওয়া।
- শক্তি বাইরে চলে গেলে সিস্টেমের শক্তি কমে যায়, তাই দহন তাপ সবসময় ঋণাত্মক হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- তাপউৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এনথালপির পরিবর্তন সবসময় ঋণাত্মক হয়।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার রসায়ন অংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: A) ব্যাকটেরিয়া
১. কেন সঠিক:
কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা হলো সংক্রামক রোগ এবং এই তিনটি রোগই নির্দিষ্ট প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারণে মানবদেহে সৃষ্টি হয়।
রোগ সৃষ্টিকারী এই অণুজীবগুলো দেহে প্রবেশ করে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন তৈরি করে অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী প্রোক্যারিওটিক বা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত অণুজীব যা অনুকূল পরিবেশে খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
কার্যপ্রণালি: কলেরা রোগের জন্য দায়ী ভিব্রিও কলেরি ব্যাক্টেরিয়া, টাইফয়েডের জন্য স্যালমোনেলা টাইফি এবং যক্ষ্মার জন্য মাইকব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস দায়ী।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যক্ষ্মা বা টিবি রোগ সাধারণত হাঁচি কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায় এবং ফুসফুসকে আক্রমণ করে।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হওয়ায় সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।
উদাহরণ ২: দূষিত পানি পানের মাধ্যমে কলেরি ব্যাকটেরিয়া মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে মারাত্মক ডায়রিয়া ঘলায়।
ব্যাখ্যা: এটি পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং খাবার পানির বিশুদ্ধতা রক্ষা করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যাকটেরিয়া — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ উল্লিখিত তিনটি রোগই ব্যাকটেরিয়াজনিত।
B) ভাইরাস — ভাইরাস হলো অবৈষয়িক কণা যা এই রোগগুলোর জন্য দায়ী নয়, তবে এটি সর্দি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি করে।
C) সিগেলা — সিগেলা একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম যা মূলত ব্যাকটেরিয়াল আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি রোগ সৃষ্টি করে।
D) গিয়ার্ডিয়া — গিয়ার্ডিয়া হলো একটি আক্ষরিক প্রোটোজোয়া যা মানুষের অন্ত্রে ইনফেকশন বা গিয়ার্ডিয়াসিস রোগ ঘটায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মার মতো মারাত্মক রোগগুলোর মূল কারণ ব্যাকটেরিয়া তা মনে রাখতে কটায শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে।
এখানে ক মানে কলেরা, টা মানে টাইফয়েড এবং য মানে যক্ষ্মা যা ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ব্যাকটেরিয়াজনিত ও ভাইরুজণিত রোগের পার্থক্য জানতে চাওয়া হয়।
ভবিষ্যতে প্রশ্ন আসতে পারে ডিপথেরিয়া বা ধনুষ্টংকার কোন ধরনের জীবাণুর কারণে হয়, যার উত্তরও হবে ব্যাকটেরিয়া।
সঠিক উত্তর: B) শৈবাল
১. কেন সঠিক:
স্পিরুলিনা হলো আণুবীক্ষণিক এককোশী সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল। এটি সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: স্পিরুলিনা মূলত সায়ানোব্যাকটেরিয়া গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এবং পুষ্টিবিজ্ঞানে এটি আণুবীক্ষণিক শৈবাল হিসেবে পরিচিত।
কার্যপ্রণালি: ক্লোরোফিল এবং অন্যান্য রঞ্জক পদার্থের সাহায্যে এটি সূর্যালোকের উপস্থিতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে এবং বিপুল পরিমাণে আমিষ উৎপন্ন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাকাশচারীদের খাদ্য হিসেবে স্পিরুলিনা ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: সীমিত জায়গায় এবং কম ওজনে এটি উচ্চ পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
উদাহরণ ২: বাণিজ্যিক সুপারফুড বা ডায়েটরি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর ব্যবহার।
ব্যাখ্যা: এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ছত্রাক — ছত্রাক ক্লোরোফিলহীন মৃতজীবী বা পরজীবী জীব, যা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না।
B) শৈবাল — এটি সঠিক উত্তর কারণ স্পিরুলিনা একটি সালোকসংশ্লেষণকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল।
C) ব্যাকটেরিয়া — বৈজ্ঞানিকভাবে এটি সায়ানোব্যাকটেরিয়া হলেও সাধারণ ও পুষ্টিবিজ্ঞানগত শ্রেণিবিন্যাসে একে আণুবীক্ষণিক শৈবাল হিসেবে গণ্য করা হয়।
D) ভাইরাস — ভাইরাস হলো অকোষীয় এবং বাধ্যতামূলক পরজীবী যা জীবদেহের বাইরে জড় পদার্থের মতো আচরণ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্পিরুলিনা নামটির সঙ্গে সবুজ বা শৈবাল কথাটি মনে রাখলে সহজে একে আণুবীক্ষণিক শৈবাল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। পুষ্টির পাওয়ারহাউস হিসেবে স্পিরুলিনা শৈবাল পরিবারভুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্পিরুলিনা থেকে প্রায়ই পুষ্টি উপাদান বা প্রোটিনের উৎস সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে। এটি উদ্ভিজ্জ আমিষের একটি চমৎকার উৎস।
সঠিক উত্তর: D) সবুজ
১. কেন সঠিক:
- সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না কারণ উদ্ভিদের পাতার ক্লোরোফিল সবুজ আলো শোষণ করতে পারে না বরং তা প্রতিফলিত করে।
- আলো শোষিত না হলে সালোকসংশ্লেষণের আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হতে পারে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানির সাহায্যে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
- কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদের পাতায় উপস্থিত ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন বর্ণ শোষণ করে, যার মধ্যে লাল ও নীল আলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
- কারণ ও ফলাফল: ক্লোরোফিল সবুজ বর্ণকে প্রতিফলিত করে এবং সামান্য শোষণ করে বলে সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ প্রায় হয়ই না বললেই চলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাঁচঘেরা সবুজ ঘরে গাছপালা রাখা।
ব্যাখ্যা: সবুজ কাঁচের ভেতর দিয়ে কেবল সবুজ আলো প্রবেশ করায় উদ্ভিদ পর্যাপ্ত আলো শোষণ করতে পারে না এবং খাদ্য তৈরি ব্যাহত হয়।
উদাহরণ ২: অন্ধকার প্রদীপের নিচে সবুজ আলো জ্বেলে গাছ রাখা।
ব্যাখ্যা: এই কৃত্রিম আলোতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় উদ্ভিদের বৃদ্ধি থমে যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাল — লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় কারণ ক্লোরোফিল লাল বর্ণ সবচেয়ে বেশি শোষণ করে।
B) নীল — নীল আলোতেও সালোকসংশ্লেষণ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং এটি উদ্ভিদের অঙ্গের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
C) বেগুনী — বেগুনী আলো দৃশ্যমান আলোর একটি অংশ যা ক্লোরোফিল দ্বারা শোষিত হয় এবং সালোকসংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে।
D) সবুজ — সবুজ আলো ক্লোরোফিল কর্তৃক শোষিত না হয়ে প্রতিফলিত হয় বলে এই আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গাছ নিজে সবুজ তাই সবুজ রঙকে সে নিজের ভেতর টানে না বা শোষণ করে না, ফলে সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি হয় লাল ও নীল আলোতে এবং সবচেয়ে কম বা হয় না সবুজ আলোতে।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: D) জুল
১. কেন সঠিক:
- জুল হলো কাজের বা শক্তির একক, বলের একক নয়।
- বিজ্ঞানসম্মতভাবে কাজ এবং শক্তির পরিমাণ একই হলেও বল সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভৌত রাশি।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বল হলো সেই বাহ্যিক কারণ যা স্থির বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে গতিশীল করে বা গতিশীল বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে গতির পরিবর্তন ঘটায়।
- সূত্র/তত্ত্ব: নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে বলের পরিমাপ করা হয়, যেখানে বল সমান ভর গুণ ত্বরণ লেখা হয়।
- কার্যপ্রণালি: বলের একক হিসেবে সিজিএস পদ্ধতিতে ডাইন এবং এসআই পদ্ধতিতে নিউটন ব্যবহার করা হয়।
- কারণ ও ফলাফল: কাজের একক জুল হওয়ায় এটি বলের একক হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাটিতে রাখা একটি ফুটবলকে কিক করলে বল প্রয়োগ করা হয়, যার একক নিউটন।
ব্যাখ্যা: ফুটবলকে সরানোর জন্য যে ধাক্কা দেওয়া হয় তা বল এবং এর পরিমাপ নিউটন এককে প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ ২: একটি ভারী বাক্স এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিলে কাজের সৃষ্টি হয়, যার একক জুল।
ব্যাখ্যা: বল প্রয়োগ করে বস্তুকে সরালে কাজের কাজ সম্পন্ন হয় এবং এর পরিমাপ জুল এককে মাপা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডাইন — এটি বলের সিজিএস একক, তাই এটি সঠিক উত্তরের অংশ নয়।
B) নিউটন — এটি বলের আন্তর্জাতিক বা এসআই একক, তাই এটি সঠিক উত্তরের অংশ নয়।
C) পাউন্ডাল — এটি বলের এফপিএস একক, তাই এটি সঠিক উত্তরের অংশ নয়।
D) জুল — এটি কাজের এবং শক্তির একক, তাই এটি বলের একক নয় এবং প্রশ্ন অনুযায়ী এটিই সঠিক উত্তর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বলের একক মনে রাখার সহজ কৌশল হলো নিউটন, ডাইন এবং পাউন্ডাল।
- জুল শুনলেই বুঝতে হবে এটি কাজ বা শক্তির সাথে সম্পর্কিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এসআই পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন এবং কাজের একক জুল ভালো করে মনে রাখতে হবে।
- প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন রাশির একক থেকে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) যান্ত্রিক শক্তিতে
১. কেন সঠিক:
- আমরা যখন কথা বলি তখন আমাদের গলার স্বরযন্ত্রে অবস্থিত ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় এবং এই কম্পন যান্ত্রিক শক্তির সৃষ্টি করে।
- এই যান্ত্রিক শক্তি বায়ুর কণাগুলোকে কম্পিত করে শব্দতরঙ্গ হিসেবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ সম্পন্ন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: শক্তি অবিনশ্বর, শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হতে পারে।
- কার্যপ্রণালি: ফুসফুস থেকে আসা বাতাসের চাপে স্বরতন্ত্রীর পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে যান্ত্রিক কম্পন তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: কথা বলার সময় ফুসফুসের গতিশক্তি ও পেশির শক্তি যৌথভাবে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়ুতে শব্দ উৎপন্ন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানুষের কথা বলা বা গান গাওয়া।
ব্যাখ্যা: গলার পেশির যান্ত্রিক কম্পন বাতাসের অণুগুলোকে নাড়া দিয়ে শব্দশক্তি উৎপন্ন করে।
উদাহরণ ২: ঢোল বা গিটার বাজানো।
ব্যাখ্যা: আঘাত করা বা টানার ফলে সৃষ্ট যান্ত্রিক শক্তি পরবর্তীতে শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তড়িৎ শক্তিতে — কথা বলার সময় কোনো বৈদ্যুতিক প্রবাহ বা তড়িৎ ক্ষেত্র তৈরি হয় না, তাই এটি ভুল।
B) যান্ত্রিক শক্তিতে — এটি সঠিক কারণ স্বরতন্ত্রীর কম্পন একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
C) আলোক শক্তিতে — কথা বলার সময় কোনো আলো বা ফোটন কণা উৎপন্ন হয় না, তাই এটি ভুল।
D) গতি শক্তিতে — গতিশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি অংশমাত্র, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটি সামগ্রিক যান্ত্রিক শক্তি হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কথা বলা মানেই গলার পেশির নড়াচড়া, নড়াচড়া মানেই যান্ত্রিক কাজ, তাই উত্তর হবে যান্ত্রিক শক্তি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
শব্দ এক প্রকার শক্তি যা সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন।
এই ধরনের প্রশ্ন থেকে শক্তি রূপান্তরের অন্যান্য উদাহরণ যেমন মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকারের কার্যপদ্ধতি থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) বায়ু
১. কেন সঠিক:
বায়ু হলো একাধিক গ্যাসের একটি মিশ্রণ, যেখানে বিভিন্ন উপাদান নিজস্ব রাসায়নিক সত্তা বজায় রেখে একত্রে অবস্থান করে।
বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্প কোনো রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে না, তাই এটি মিশ্র পদার্থ।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: যে পদার্থে দুই বা ততোধিক মৌলিক বা যৌগিক পদার্থ কোনো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত না থেকে কেবল মিশ্রিত থাকে, তাকে মিশ্র পদার্থ বলে।
কার্যপ্রণালি: মিশ্রণের উপাদানগুলো তাদের নিজস্ব ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম বজায় রাখে এবং এদের খুব সহজেই ভৌত উপায়ে পৃথক করা সম্ভব।
বাস্তব প্রয়োগ: বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে আমরা পাতন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন আলাদা করতে পারি, যা চিকিৎসাবিদ্যা ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সমুদ্রের পানি
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের পানিতে লবণ, পানি এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিশ্রিত থাকে, যা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়াই একসঙ্গে থাকে।
উদাহরণ ২: শরবত
ব্যাখ্যা: চিনি, লেবুর রস এবং পানির মিশ্রণে তৈরি শরবতে প্রতিটি উপাদানের আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লবণ — লবণ একটি বিশুদ্ধ যৌগ, যা সোডিয়াম ও ক্লোরিন নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
B) পানি — পানি একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক যৌগ, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দুই অনুপাত এক অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত থাকে।
C) কার্বনডাই-অক্সাইড — কার্বন ডাই-অক্সাইড একটি নির্দিষ্ট যৌগ, যেখানে কার্বন ও অক্সিজেন নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
D) বায়ু — বায়ুতে একাধিক গ্যাস মিশ্রিত থাকে এবং এদের মধ্যে কোনো রাসায়নিক বন্ধন থাকে না, তাই এটি মিশ্র পদার্থ।
৫. মনে রাখার টিপস:
যৌগের নিজস্ব নির্দিষ্ট সংকেত ও অনুপাত থাকে, কিন্তু মিশ্রণের কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংকেত বা নির্দিষ্ট অনুপাত থাকে না।
যেসব পদার্থকে ভৌত পদ্ধতিতে আলাদা করা যায়, চোখ বন্ধ করে সেগুলোকে মিশ্রণ হিসেবে চিনে নেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থের উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়।
মিশ্র পদার্থের উপাদানগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু যৌগিক পদার্থের ক্ষেত্রে নতুন ধর্মের সৃষ্টি হয়।
সঠিক উত্তর: C) ওজোন
১. কেন সঠিক:
ওজোন কোনো নোবেল গ্যাস বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়, এটি অক্সিজেনের একটি রূপভেদ যার রাসায়নিক সংকেত ও থ্রি।
পর্যায় সারণির আঠারো নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বলা হয়, যা ওজোন গ্যাস নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নোবেল গ্যাস বা নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকে কারণ এদের শেষ শক্তিস্তর ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে।
রাসায়নিক গঠন: ওজোন হলো অক্সিজেনের তিনটি পরমাণু নিয়ে গঠিত একটি যৌগ, যা বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে ওজোন স্তর হিসেবে অবস্থান করে।
বাস্তব প্রয়োগ: ওজোন গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা করতে সাহায্য করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বৈদ্যুতিক বাল্বে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: আর্গন নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণে বাল্বের ভে ্তরের টাংস্টেন তারের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং তার পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: বেলুন ও বেলুনের মতো উড়ন্ত বস্তুতে হিলিয়াম গ্যাস ভরা হয়।
ব্যাখ্যা: হিলিয়াম অত্যন্ত হালকা এবং নিষ্ক্রিয় বা অদাহ্য হওয়ায় এটি আকাশে ওড়ার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আর্গন — এটি পর্যায় সারণির আঠারো নম্বর গ্রুপের একটি নিষ্ক্রিয় বা নোবেল গ্যাস।
বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরিতে এবং ঢালাইয়ের কাজে এই গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
B) হিলিয়াম — এটি একটি হালকা নোবেল গ্যাস যার পারমাণবিক সংখ্যা দুই।
বেলুন ও বিমানের টায়ার ফোলাতে এবং গভীর সমুদ্রের ডাইভারদের অক্সিজেন মিশ্রণে এটি ব্যবহৃত হয়।
C) ওজোন — এটি অক্সিজেনের একটি বিশেষ রূপভেদ বা যৌগ এবং কোনো নোবেল গ্যাস নয়।
বায়ুমণ্ডলে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী জারক হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতিকর রশ্মি আটকায়।
D) নিয়ন — এটি একটি নোবেল গ্যাস যা উজ্জ্বল লাল বা কমলা রঙের আলো ছড়ায়।
বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড এবং নিয়ন সাইন তৈরিতে এই গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নোবেল গ্যাসগুলো মনে রাখার একটি সহজ ছন্দ হলো হেলি আর কারু হিয়ানা।
এখানে হিলি মানে হিলিয়াম, আ মানে আর্গন, কু মানে ক্রিপ্টন, হি মানে হিলিয়াম, যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পরিচয় দেয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নোবেল গ্যাসের মোট সংখ্যা কয়টি এবং এদের যোজ্যতা শূন্য হয় কেন, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ওজোনের রূপ এবং বায়ুমণ্ডলে এর অবস্থান নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞান ও রসায়ন অংশ থেকে প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) Mg (ম্যাগনেসিয়াম)
১. কেন সঠিক:
- ক্লোরোফিলের অণুর কেন্দ্রীয় ধাতব পরমাণু হলো ম্যাগনেসিয়াম এবং এটি উদ্ভিদের পাতার সবুজ রঙের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
- ম্যাগনেসিয়াম আয়ন ক্লোরোফিল রঞ্জক পদার্থের পোরফাইরিং বলয়কে আটকে রেখে সূর্যালোক শোষণ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ক্লোরোফিল হলো উদ্ভিদের পাতায় উপস্থিত এক ধরনের সবুজ রঞ্জক পদার্থ যা সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- কার্যপ্রণালি: ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রভাগে একটি ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু চারটি নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে।
- কারণ ও ফলাফল: ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতির কারণে ক্লোরোফিল অণু সূর্যালোকের ফোটন কণা সফলভাবে শোষণ করতে পারে এবং খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: ফসলের জমিতে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা দিলে পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, যা ইউরিয়া সার বা ডলোমাইট প্রয়োগ করে দূর করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ধান বা গম গাছের নিচের দিকের পুরোনো পাতাগুলোর মাঝখানে হলুদ বর্ণ ধারণ করা।
ব্যাখ্যা: মাটিতে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ক্লোরোফিল ভেঙে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে গিয়ে গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়।
উদাহরণ ২: ঘরের ভেতরে রাখা ইনডোর প্ল্যান্ট পর্যাপ্ত আলো না পেলে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া।
ব্যাখ্যা: আলোর অভাবে ক্লোরোফিল তৈরি বাধাগ্রস্ত হয় এবং উদ্ভিদের পাতা তার স্বাভাবিক সবুজ রং হারাতে শুরু করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) K — এটি পটাশিয়াম, যা উদ্ভিদের স্টোমাটা খোলা ও বন্ধ হওয়া এবং কোষের রসস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে কিন্তু ক্লোরোফিলের কেন্দ্রীয় পরমাণু নয়।
B) Ca — এটি ক্যালসিয়াম, যা উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর গঠনে এবং কাঠামোগত দৃঢ়তা প্রদানে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
D) Na — এটি সোডিয়াম, যা উদ্ভিদের জন্য অপরিহার্য কোনো প্রধান পুষ্টি উপাদান নয় এবং এটি ক্লোরোফিলের গঠনে অংশ নেয় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্লোরোফিলের সাথে ম্যাগনেসিয়ামের সম্পর্ক মনে রাখতে ক্লোরোফিল শব্দের মাঝে থাকা মে (Mg) অংশটি মনে রাখতে পারো।
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ রঙের মূল চাবিকাঠি হলো কেন্দ্রে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ধাতু।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- উদ্ভিদবিজ্ঞানে এই প্রশ্নটি বারবার আসে যে কোন খনিজ উপাদানের অভাবে পাতার ক্লোরোসিস বা হলুদ বর্ণ হয়।
- হিমোগ্লোবিনে যেমন লোহা বা আয়রন থাকে, ঠিক তেমনি উদ্ভিদের ক্লোরোফিলে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
সঠিক উত্তর: A) ০.৫ কেজি
১. কেন সঠিক:
- গতিশীল বস্তুর ভর বের করতে গতিশক্তির সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে বেগের মান জানা থাকলে ভর হিসাব করা যায়।
- গতিশক্তি বস্তুর বেগের বর্গের সমানুপাতিক হওয়ায় বেগ বাড়লে গতিশক্তি চারগুণ বাড়ে এবং ভর কম হলে নির্দিষ্ট গতিশক্তিতে বেগ বেশি হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: কোনো গতিশীল বস্তু তার গতির জন্য যে কার্যক্ষমতা লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে।
- সূত্র: গতিশক্তি এক ভাগ দুই গুণ ভর গুণ বেগের বর্গ অর্থাৎ ইকে সমান শূন্য দশমিক পাঁচ গুণ এম গুণ ভি স্কয়ার।
- কার্যপ্রণালি: এখানে গতিশক্তি এক এবং বেগ দুই দেওয়া আছে, যা সূত্রে বসিয়ে ভর বের করা হয়েছে।
- হিসাব: এক সমান শূন্য দশমিক পাঁচ গুণ এম গুণ দুই এর বর্গ, অর্থাৎ এম সমান এক ভাগ দুই বা শূন্য দশমিক পাঁচ কেজি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শূন্য দশমিক পাঁচ কেজি ভরের একটি বল দুই মিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে গড়ালে তার গতিশক্তি এক জুল হয়।
ব্যাখ্যা: এটি দেখায় কীভাবে ভর এবং বেগের পরিবর্তনের সাথে গতিশক্তির মান নির্ধারিত হয়।
উদাহরণ ২: একটি চলন্ত গাড়ি যার ভর বেশি, তার গতিশক্তিও বেশি হয়।
ব্যাখ্যা: বেশি ভরের বস্তুকে থামাতে বেশি বল প্রয়োগ করতে হয় যা গতিশক্তির বাস্তব প্রভাব।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ০.৫ কেজি — এই অপশনটি সঠিক কারণ হিসাব অনুযায়ী বস্তুর ভর শূন্য দশমিক পাঁচ কেজি পাওয়া গেছে।
B) ১ কেজি — এই অপশনটি ভুল কারণ ভর এক কেজি হলে গতিশক্তি দুই জুল হতো।
C) ১.৫ কেজি — এই অপশনটি ভুল কারণ এই ভর বসালে গতিশক্তির মান প্রদত্ত মানের সাথে মিলে না।
D) ২ কেজি — এই অপশনটি ভুল কারণ ভর দুই কেজি হলে এবং বেগ দুই হলে গতিশক্তি চার জুল হতো।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গতিশক্তির অংক করার সময় বেগের মানকে প্রথমে বর্গ করে নিতে হয়।
- ভর বের করার জন্য গতিশক্তিকে বেগের বর্গের অর্ধেক দিয়ে ভাগ করতে হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের গাণিতিক সমস্যা প্রায়ই আসে।
- একই ধারণা থেকে ভর বা বেগ যেকোনো একটি অজানা রেখে প্রশ্ন করা হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) কার্বন ডাই-সালফাইড
১. কেন সঠিক:
- কার্বন ডাই-সালফাইড কোনো গ্রীন হাউস গ্যাস নয়, কারণ এটি বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখার ক্ষমতা রাখে না।
- গ্রীন হাউস গ্যাসগুলো সূর্যের শর্টওয়েভ বিকিরণ পৃথিবীতে প্রবেশ করতে দিলেও পৃথিবী থেকে নির্গত লংওয়েভ ইনফ্রারেড বিকিরণ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: গ্রীন হাউস গ্যাস হলো বায়ুমণ্ডলের সেইসব গ্যাস যা তাপ শোষণ ও বিকিরণ করতে পারে।
- কারণ ও ফলাফল: যে গ্যাসগুলোর অণুতে তিন বা ততোধিক পরমাণু থাকে, যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা জলীয় বাষ্প, তারা ইনফ্রারেড রশ্মি শোষণ করে গ্রীন হাউস প্রভাবে অবদান রাখে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে লাগে এবং এটি একটি শক্তিশালী গ্রীন হাউস গ্যাস।
ব্যাখ্যা: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে এই গ্যাসের মাত্রা বাড়লে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে।
উদাহরণ ২: জলীয় বাষ্প প্রকৃতির সবচেয়ে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাস।
ব্যাখ্যা: এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক তাপমাত্রাকে জীবকূলের উপযোগী রাখতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কার্বন ডাই-অক্সাইড — এটি একটি প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাস যা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
B) নাইট্রাস অক্সাইড — এটি একটি শক্তিশালী গ্রীন হাউস গ্যাস যার উষ্ণ করার ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে অনেক বেশি।
C) কার্বন ডাই-সালফাইড — এটি একটি বিষাক্ত তরল যৌগ এবং গ্রীন হাউস গ্যাস হিসেবে বায়ুমণ্ডলে কাজ করে না।
D) জলীয় বাষ্প — এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্রীন হাউস গ্যাস।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গ্রীন হাউস গ্যাস মনে রাখার কৌশল হলো মনে রাখা যে পানি, কার্বন ও নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড এই তালিকায় থাকে।
- সালফাইড বা হ্যালোজেনযুক্ত কিছু যৌগ সরাসরি প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্রীন হাউস গ্যাস হলো জলীয় বাষ্প।
- মানবসৃষ্ট কারণে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) অগ্ন্যাশয় রস
১. কেন সঠিক:
অগ্ন্যাশয় রস হলো মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র পরিপাক রস যা আমিষ, শর্করা এবং স্নেহজাতীয়—তিন প্রকার খাদ্য উপাদান পরিপাক করতে সক্ষম।
এতে উপস্থিত অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্যকে এবং ট্রিপসিন বা কাইমোট্রিপসিন নামক এনজাইম আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: পরিপাকতন্ত্রের অংশ হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত রস অগ্ন্যাশয় রস নামে পরিচিত এবং এটি বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের সমন্বয়ে গঠিত।
কার্যপ্রণালি: অগ্ন্যাশয় রসে থাকা প্যানক্রिएटিক অ্যামাইলেজ গ্লাইকোজেন ও শর্করাকে মল্টোজ ও আইসোমল্টজে রূপান্তর করে এবং ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন প্রোটিন বা আমিষকে পেপটাইডে পরিণত করে।
বাস্তব প্রয়োগ: মানুষের শরীরে খাবার গ্রহণের পর ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম অংশে এই অগ্ন্যাশয় রস এসে মিশে এবং জটিল খাবারকে সরল করে রক্তে পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাত বা আলু খাওয়ার পর মুখ ও পাকস্থলীতে পরিপাক হওয়ার পর ক্ষুদ্রান্ত্রে আসার পর অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ শর্করাকে পুরোপুরি গ্লুকোজে পরিণত করতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে অগ্ন্যাশয় রস ছাড়া শর্করা জাতীয় খাবারের সঠিক ও সম্পূর্ণ পরিপাক সম্ভব নয়।
উদাহরণ ২: মাংস বা ডাল খাওয়ার পর পাকস্থলীর প্রাথমিক পরিপাকের পর অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন আমিষকে অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরের পথ সুগম করে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর আমিষ থেকে শক্তি ও পেশি গঠনের উপাদান সংগ্রহ করতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) টায়ালিন — এটি লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং শুধুমাত্র শর্করা জাতীয় খাদ্যকে পরিপাক করে, আমিষকে পরিপাক করে না।
B) পেপসিন — এটি পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রসে থাকে এবং শুধুমাত্র আমিষ জাতীয় খাদ্যকে পরিপাক করে, শর্করাকে পরিপাক করে না।
C) গ্যাস্ট্রিক রস — এটি পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত হয় এবং প্রধানত আমিষ ও সামান্য ফ্যাট পরিপাক করে, শর্করা পরিপাক করে না।
D) অগ্ন্যাশয় রস — এটি শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করতে পারে বলে এটি সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
অগ্ন্যাশয় রস হলো অলরাউন্ডার পরিপাক রস যা শর্করা এবং আমিষ উভয়কে সমানভাবে পরিপাক করতে পারে।
মনে রাখার জন্য ভাবুন অগ্ন্যাশয় মানে সব কাজ একসঙ্গে করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কোন রস কী পরিপাক করে তা নিয়ে প্রশ্ন আসে।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে কোন এনজাইমটি আমিষ পরিপাকে অংশ নেয় কিংবা পিত্তরস কী জাতীয় খাদ্য পরিপাক করে।
সঠিক উত্তর: C) নাইট্রোজেন
১. কেন সঠিক:
- বায়ুমণ্ডলে মোট গ্যাসের প্রায় ৭৮.০৯ শতাংশই হলো নাইট্রোজেন, যা অন্য যেকোনো গ্যাসের তুলনায় পরিমাণে সর্বাধিক।
- এটি একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে কাজ করে বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলের চাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বায়ুমণ্ডল হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যার প্রধান উপাদান হলো নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- কার্যপ্রণালি: গ্যাসগুলোর নির্দিষ্ট অনুপাতের কারণে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকে আছে এবং নাইট্রোজেন গাছের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে।
- বাস্তব প্রয়োগ: মোড়কজাত খাবার বা চিপসের প্যাকেটে অক্সিজেন বের করে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরা হয় যাতে খাবার দীর্ঘদিন টাটকা থাকে এবং নষ্ট না হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চিপসের প্যাকেট
ব্যাখ্যা: চিপসের প্যাকেটে বাতাস বা অক্সিজেন থাকলে খাবার সেঁর্তে যেতে পারে, তাই সেখানে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরে খাবার মচমচে রাখা হয়।
উদাহরণ ২: বজ্রপাতের সময় উদ্ভিদের পুষ্টি
ব্যাখ্যা: বজ্রপাতের সময় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন মাটির সাথে মিশে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রেট লবণ তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কার্বন ডাই অক্সাইড — বায়ুমণ্ডলে এর পরিমাণ মাত্র প্রায় ০.০৪ শতাংশ, যা নাইট্রোজেনের তুলনায় অত্যন্ত কম।
B) অক্সিজেন — বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১ শতাংশ, যা নাইট্রোজেনের পরে দ্বিতীয় প্রধান উপাদান।
D) জলীয় বাষ্প — বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয় এবং এর গড় পরিমাণ ১ শতাংশের কম।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বায়ুমণ্ডলের উপাদান মনে রাখার সহজ কৌশল হলো নাই-অক-কা, যেখানে নাইট্রোজেন সবার উপরে, অক্সিজেন দ্বিতীয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড অনেক কম পরিমাণে থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের শতকরা হার সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই নাইট্রোজেন ৭৮ শতাংশ এবং অক্সিজেন ২১ শতাংশ মান দুটি মুখস্থ রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) বৃষ্টি
১. কেন সঠিক:
বৃষ্টির পানি হলো ঘনীভবনের মাধ্যমে তৈরি পাতিত পানির প্রাকৃতিক রূপ। বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প মেঘে পরিণত হওয়ার সময় কোনো প্রকার খনিজ লবণ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সঙ্গে নিতে পারে না, তাই এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও মৃদু পানি।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: যে পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা অন্যান্য ভারী ধাতুর বাইকার্বোনেট, ক্লোরাইড ও সালফেটের দ্রবণীয় লবণ থাকে না এবং যা সাবানের সঙ্গে সহজে ফেনা তৈরি করে, তাকে মৃদু পানি বলে।
কার্যপ্রণালি: সূর্যের তাপে ভূ-পৃষ্ঠের পানি বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে ওঠে এবং ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে, যা পরবর্তীতে বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে ঝরে পড়ে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে কাপড় কাচলে খুব সহজেই প্রচুর ফেনা তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে বৃষ্টির পানিতে খনিজ লবণের পরিমাণ শূন্যের কোঠায়, যা মৃদু পানির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ ২: গবেষণাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে।
ব্যাখ্যা: এই কারণে বৃষ্টির পানি তড়িৎ পরিবাহকতায় দুর্বল এবং এটি ব্যবহার করা নিরাপদ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সাগর — সাগরের পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইডসহ নানা ধরনের প্রচুর খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকে, তাই এটি অত্যন্ত লবণাক্ত ও খর পানি।
B) হ্রদ — হ্রদের পানি দীর্ঘকাল ধরে মাটির সংস্পর্শে থাকে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে, যা একে মৃদু পানির পরিবর্তে সাধারণত খর পানিতে পরিণত করে।
C) বৃষ্টি — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর, কারণ বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ পেছনে ফেলে কেবল বিশুদ্ধ জলীয় বাষ্প ওপরে ওঠে এবং বৃষ্টির সৃষ্টি করে।
D) নদী — নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় মাটি ও পাথর থেকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন শোষণ করে, তাই নদীর পানি মৃদু নয় বরং মাঝারি বা পূর্ণ মাত্রার খর পানি হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
প্রকৃতিতে মেঘ থেকে যে পানি সরাসরি ঝরে পড়ে তা হলো পাতিত পানির প্রাকৃতিক রূপ। তাই মৃদু পানির উৎস খুঁজলে সবার আগে বৃষ্টিকে বেছে নিতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি পরিবেশবিজ্ঞান এবং রসায়নের পানি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন পানির উৎস সবচেয়ে বেশি মৃদু বা বিশুদ্ধ।
সঠিক উত্তর: C) সালফিউরিক এসিড
১. কেন সঠিক:
- মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত সাধারণ সীসা-এসিড ব্যাটারিতে তড়িৎবিশ্লেষ্য বা ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে সালফিউরিক এসিডের জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
- এই এসিড ব্যাটারির ভেতরে থাকা সীসা প্লেটের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন ও সঞ্চয় করতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সীসা-এসিড ব্যাটারি একটি রিচার্জেবল বা সঞ্চয়ক ব্যাটারি যেখানে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- রাসায়নিক সংকেত: মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত এইচ টু এস ও ফোর।
- কার্যপ্রণালি: ব্যাটারী চার্জ দেওয়ার সময় এবং ব্যবহারের সময় লেড ডাইঅক্সাইড এবং স্পঞ্জি লেডের সঙ্গে সালফিউরিক এসিড বিক্রিয়া করে ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কার বা জিপের ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার সময় ব্যাটারি থেকে যে তীব্র বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় তা এই এসিডের উপস্থিতির কারণে সম্ভব হয়।
ব্যাখ্যা: এসিডের কারণে প্লেটের মধ্যে আয়ন চলাচল করতে পারে যা ইঞ্জিন চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ মাত্রার কারেন্ট সরবরাহ করে।
উদাহরণ ২: সৌর বিদ্যুতের সিস্টেমে বা আইপিএসে ব্যবহৃত ডিপ সাইকেল ব্যাটারি।
ব্যাখ্যা: এই ব্যাটারিগুলোতেও শক্তির উৎস হিসেবে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয় যা দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ ধরে রাখতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নাইট্রিক এসিড — এটি একটি শক্তিশালী জারক এসিড যা মোটর গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হয় না কারণ এটি ধাতব প্লেটের মারাত্মক ক্ষতি করে।
B) হাইড্রোক্লোরিক এসিড — এটি পাকস্থলীতে খাবার হজমে সাহায্য করে কিন্তু সীসা-এসিড ব্যাটারিতে এটি ব্যবহার করলে ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে।
C) সালফিউরিক এসিড — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি সীসা প্লেটের সঙ্গে সঠিকভাবে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ সঞ্চয় করতে পারে।
D) এসিটিক এসিড — এটি একটি মৃদু জৈব এসিড যা মূলত ভিনেগারে থাকে এবং ব্যাটারির মতো ভারী কাজের জন্য উপযুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিকে লেড-এসিড ব্যাটারি বলা হয় এবং এর মূল উপাদান এসিড মনে রাখতে সালফিউরিক শব্দটি মনে রাখতে হবে।
- এস দিয়ে সালফিউরিক এবং এস দিয়ে সঞ্চয়ক ব্যাটারি এভাবে মিলিয়ে পড়লে পরীক্ষা সহজে মনে থাকবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে ব্যাটারিতে কোন এসিড বা তড়িৎবিশ্লেষ্য থাকে।
- এখান থেকে ব্যাটারির রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর এবং এসিডের নাম সংক্রান্ত প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) পানি
১. কেন সঠিক:
পানি প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিন অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে পাওয়া যায় একমাত্র সাধারণ যৌগ হিসেবে।
তাপমাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে পানি বরফ, তরল পানি ও জলীয় বাষ্পে রূপান্তরিত হতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: পদার্থের তিন অবস্থা বা ত্রৈধ বিন্দু এবং তাপমাত্রার প্রভাবে অবস্থার পরিবর্তন।
কার্যপ্রণালি: শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে পানি জমে বরফে পরিণত হয়, যা কঠিন অবস্থা।
জিরো থেকে একশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পানি তরল থাকে এবং একশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বাষ্পীভূত হয়ে বায়বীয় রূপ নেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শীতপ্রধান দেশের বরফাবৃত নদী বা হ্রদ।
ব্যাখ্যা: সেখানে পানি বরফ হিসেবে কঠিন অবস্থায় থাকে।
উদাহরণ ২: রান্নার সময় পাত্রের ঢাকনায় জলীয় বাষ্পের ফোঁটা জমা হওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি পানির তরল থেকে বায়বীয় এবং পুনরায় তরলে রূপান্তরের বাস্তব প্রমাণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পারদ — পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় কেবল তরল ধাতু হিসেবে থাকে এবং প্রকৃতিতে এর কঠিন বা বায়বীয় অবস্থা স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।
B) কর্পূর — কর্পূর মূলত কঠিন পদার্থ যা সরাসরি বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়, তরল অবস্থায় পাওয়া যায় না।
D) লবণ — লবণ সাধারণ অবস্থায় শুধুমাত্র কঠিন কেলাসবদ্ধ রূপে পাওয়া যায়, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল বা বায়বীয় নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
পানি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বরফ, নদী ও মেঘের মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাস এই তিন রূপেই আমাদের চারপাশে বিরাজ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পানির ত্রৈধ বিন্দু এবং স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে এর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: B) স্ত্রী এডিস মশা
১. কেন সঠিক:
ডেঙ্গু জ্বর মূলত একটি ভাইজনিত রোগ এবং এটি ছড়ানোর জন্য স্ত্রী এডিস মশা দায়ী।
স্ত্রী মশার ডিম পরিপক্ব করার জন্য রক্তের আমিষ প্রয়োজন হয়, তাই তারা মানুষ কামড়ায় এবং রক্ত চোষার সময় ভাইরাস ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ডেঙ্গু ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে এডিস মশার মাধ্যমে।
কার্যপ্রণালি: স্ত্রী এডিস মশা যখন কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কামড়ায়, তখন ভাইরাস মশার দেহে প্রবেশ করে এবং মশার লালারথলিতে বংশবিস্তার করে।
কারণ ও ফলাফল: এই সংক্রামিত মশা যখন সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন লালার সঙ্গে ভাইরাস সুস্থ ব্যক্তির রক্তে প্রবেশ করে ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টি করে।
বাস্তব প্রয়োগ: পরিষ্কার পানি জমতে না দিয়ে এবং মশারি ব্যবহার করে এই মশার বংশবিস্তার ও কামড় রোধ করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাড়ির ছাদের টব বা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি।
ব্যাখ্যা: এটি স্ত্রী এডিস মশার বংশবৃদ্ধির আদর্শ জায়গা, যা ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণ।
উদাহরণ ২: দিনের বেলা শরীরে ফুল হাতা জামা পরা।
ব্যাখ্যা: এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়, তাই পোশাকের মাধ্যমে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুরুষ এডিস মশা — পুরুষ মশা রক্ত চোষে না এবং তারা উদ্ভিদের রস খেয়ে বেঁচে থাকে, তাই এরা রোগ ছড়ায় না।
B) স্ত্রী এডিস মশা — এটি সঠিক উত্তর কারণ এরা রক্ত পান করে এবং ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়।
C) স্ত্রী কিউলেক্স মশা — কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ রোগ ছড়ায়, ডেঙ্গু ছড়ায় না।
D) পুরুষ অ্যানোফিলিস মশা — পুরুষ অ্যানোফিলিস মশা রোগ ছড়ায় না, তবে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রক্ত চোষার কাজ শুধু স্ত্রী মশার, পুরুষ মশা নয়।
ডেঙ্গুর বাহক হলো দিনের বেলা কামড়ানো স্ত্রী এডিস মশা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার মাধ্যমে বেশি ছড়ায়।
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন মশা ডেঙ্গু ছড়ায় এবং মশাটি কখন কামড়ায়।
সঠিক উত্তর: C) বায়োগ্যাস
১. কেন সঠিক:
- বায়োগ্যাস কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি মিলিয়ন বছরের অবশিষ্টাংশ থেকে উৎপন্ন হয় না।
- এটি মূলত জৈব বর্জ্যের পচনের মাধ্যমে তৈরি নবায়নযোগ্য শক্তি যা প্রতিনিয়ত উৎপাদিত হতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: জীবাশ্ম জ্বালানি হলো এমন শক্তি যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভূগর্ভস্থ চাপে রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হয়।
- কার্যপ্রণালি: বায়োগ্যাস উৎপাদনে মিথেন উৎপাদক ব্যাকটেরিয়া গোবর বা উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পচিয়ে গ্যাস উৎপন্ন করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: গ্রামীণ জনপদে রান্নার কাজে এবং ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি।
ব্যাখ্যা: এটি প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত উৎপাদিত হয় এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ ২: ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাপ্ত ল্যান্ডফিল গ্যাস।
ব্যাখ্যা: এটিও বায়োগ্যাসের একটি রূপ যা বর্জ্য পদার্থ পচিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিজেল — এটি পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল থেকে পরিশোধন করে তৈরি করা হয় যা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি।
B) প্রাকৃতিক গ্যাস — এটি খনিজ তেলের সাথে ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অন্তর্ভুক্ত।
C) বায়োগ্যাস — এটি আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে পচন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হয়, তাই এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়।
D) কয়লা — এটি প্রাচীন উদ্ভিদের ভূগর্ভস্থ রূপান্তর থেকে প্রাপ্ত অন্যতম প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি।
৫. মনে রাখার টিপস:
- যে জ্বালানি তৈরি হতে কোটি কোটি বছর লাগে তা জীবাশ্ম জ্বালানি আর যা কয়েক দিনে জৈব বর্জ্য থেকে পায় তা বায়োগ্যাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান উপাদান হলো হাইড্রোকার্বন।
- বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস যার পরিমাণ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
সঠিক উত্তর: B) −৪০° (এখানে প্রদত্ত প্রশ্নপত্রে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে, কারণ সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলে মান সমান হয় মাইনাস চল্লিশ ডিগ্রিতে, যা -৪০°C এবং -৪০°F উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে সংখ্যাগত মান হিসেবে উত্তরটি সঠিক)।
১. কেন সঠিক:
তাপমাত্রা পরিমাপের সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে।
এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উভয় স্কেলের রিডিং বা পাঠ হুবহু একই সংখ্যা নির্দেশ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: তাপমাত্রা হলো বস্তুর উষ্ণতা বা শীতলতার মাত্রা যা তাপমাত্রাপরিমাপক যন্ত্র বা থার্মোমিটারের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়।
সূত্র: সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্ক প্রকাশের সূত্র হলো সি ভাগ পাঁচ সমান এফ মাইনাস বত্রিশ ভাগ নয়।
কার্যপ্রণালি: সূত্রের সি এর জায়গায় এফ বসিয়ে হিসাব করলে মান পাওয়া যায় মাইনাস চল্লিশ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শীতপ্রধান দেশে পারদ থার্মোমিটারের পরিবর্তে অ্যালকোহল থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: অ্যালকোহলের হিমাঙ্ক অনেক কম হওয়ায় এটি মাইনাস চল্লিশ ডিগ্রির নিচেও জমে যায় না।
উদাহরণ ২: আবহাওয়া বিদ্যায় তাপমাত্রা রেকর্ড করার সময় বিভিন্ন স্কেলের রূপান্তর প্রয়োজন হয়।
ব্যাখ্যা: বৈশ্বিক ডাটা বিশ্লেਸ਼ণের জন্য বিভিন্ন দেশের ভিন্ন স্কেলকে একীভূত করতে এই সূত্র ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৬০°C — এই তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান কখনো সমান হয় না কারণ সূত্রে বসালে মান মেলে না।
B) −৪০°F — এই অপশনটি সঠিক মানের সাথে সাংখ্যিক দিক থেকে মিলে যায় এবং এটি সেলসিয়াস স্কেলেও একই পাঠ দেয়।
C) ৪০°C — ধনাত্মক চল্লিশ ডিগ্রিতে সেলসিয়াস স্কেলে পাঠ হয় চল্লিশ এবং ফারেনহাইট স্কেলে পাঠ হয় একশো চার।
D) −১৬০°C — এই অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় দুই স্কেলের মধ্যে মানের কোনো মিল পাওয়া যায় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
মাইনাস চল্লিশ এমন একটি জাদুকরী সংখ্যা যা সেলসিয়াস এবং ফারেনহাইট উভয় স্কেলেই একই পাঠ দেয়।
পরীক্ষায় এই প্রশ্ন আসলে চোখ বন্ধ করে মাইনাস চল্লিশ উত্তর নির্বাচন করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষায় প্রায়ই এই তাপমাত্রা রূপান্তরের অংক বা এমসিকিউ আসে।
সেলসিয়াস, ফারেনহাইট এবং কেলভিন স্কেলের পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোভাবে আয়ত্ত করলে যেকোনো মান নির্ণয় করা সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: D) আলোর দ্রুতি
১. কেন সঠিক:
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব অনুসারে শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সর্বদা ধ্রুব বা অপরিবর্তিত থাকে।
পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে আলোর দ্রুতির কোনো পরিবর্তন হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বে প্রকাশ করেন যে, মহাবিশ্বে আলোর দ্রুতি একটি সর্বজনীন ধ্রুবক।
কার্যপ্রণালি: গতিশীল কোনো বস্তু যতই আলোর বেগের কাছাকাছি পৌঁছাক না কেন, তার সাপেক্ষে আলোর বেগের মান সব সময় একই থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাশূন্যে চলা দুটি ভিন্ন গতির মহাকাশযান থেকে পরিমাপ করলেও আলোর বেগ সর্বদা সমান পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে আলোর দ্রুতি পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
উদাহরণ ২: পৃথিবী সূর্যের দিকে বা বিপরীত দিকে চলার সময়ও আলোর বেগের কোনো তারতম্য হয় না।
ব্যাখ্যা: এই ধ্রুব মানটি প্রমাণ করে যে আলোর দ্রুতি মহাবিশ্বের একটি মৌলিক ধ্রুবক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দৈর্ঘ্য — আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী উচ্চ গতিতে চলন্ত বস্তুর দৈর্ঘ্য সংকুচিত হয়, তাই এটি ধ্রুব নয়।
B) ভর — বেগের বৃদ্ধির সাথে সাথে বস্তুর আপেক্ষিক ভর বৃদ্ধি পায়, তাই এটি ধ্রুব নয়।
C) সময় — বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সময়ের ব্যবধান পরিবর্তিত হয় যাকে কাল দীর্ঘায়ন বলে।
D) আলোর দ্রুতি — এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের মূল ভিত্তি এবং সব পর্যবেক্ষকের জন্য এর মান সর্বদা ধ্রুব থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
আইনস্টাইনের তত্ত্বে শুধু আলোই চিরন্তন ও ধ্রুব, বাকি সব দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় পরিবর্তনশীল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আলোর দ্রুতির মান শূন্য মাধ্যমে সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার বা ত্রিশ কোটি মিটার।
বিসিএস পরীক্ষায় এই তত্ত্বের প্রবক্তা এবং এর মৌলিক স্বীকার্য সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: A) ফিউশন বিক্রিয়া
১. কেন সঠিক:
সূর্যের মূল শক্তি আসে নিউক্লীয় ফিউশন বিক্রিয়া থেকে যেখানে চারটি হাইড্রোজেন পরমাণু একত্রিত হয়ে একটি হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে।
এই প্রক্রিয়ায় ভরের সামান্য অংশ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় যা আইনস্টাইনের ভর শক্তি সমীকরণ অনুযায়ী আলো ও তাপশক্তি হিসেবে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নিউক্লীয় ফিউশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুটি বা ততোধিক হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে এবং প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করে।
কার্যপ্রণালি: সূর্যের কোরে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রচণ্ড চাপের কারণে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো প্লাজমা অবস্থায় থাকে এবং একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে হিলিয়ামে পরিণত হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: সূর্যের এই অবিরাম শক্তি উৎপাদন পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুলের টিকে থাকা এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাইড্রোজেন বোমা
ব্যাখ্যা: হাইড্রোজেন বোমা অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র যা অনিয়ন্ত্রিত নিউক্লীয় ফিউশন বিক্রিয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
উদাহরণ ২: নক্ষত্রের শক্তি উৎপাদন
ব্যাখ্যা: মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্র বা তারা তাদের অভ্যন্তরীণ ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলো ও শক্তি বিকিরণ করে টিকে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফিউশন বিক্রিয়া — এটি সঠিক উত্তর কারণ সূর্যের শক্তির প্রধান উৎস হলো এই নিউক্লীয় ফিউশন প্রক্রিয়া।
B) রাসায়নিক বিক্রিয়া — রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা নক্ষত্রের বিশাল শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য অত্যন্ত নগণ্য।
C) ফিশন বিক্রিয়া — ফিশন বিক্রিয়ায় একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় যা পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়।
D) চেইন বিক্রিয়া — এটি সাধারণত ফিশন বিক্রিয়ার একটি ধাপ যেখানে একটি বিক্রিয়া থেকে ক্রমাগত নতুন বিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সূর্যের শক্তি মনে রাখতে ফিউশন শব্দটির প্রথম অক্ষর 'ফি' এবং ফিউচার বা ভবিষ্যতের শক্তি হিসেবে মনে রাখতে পারেন।
মনে রাখবেন ফিউশন মানে জোড়া লাগা বা একত্রিত হওয়া আর ফিশন মানে ভেঙে যাওয়া।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সূর্যের শক্তি উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া হলো প্রোটন প্রোটন চক্র যা ফিউশন বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে সূর্যের শক্তির উৎস কী এবং এর সঠিক উত্তর ফিউশন বিক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) Br₂
১. কেন সঠিক:
- ব্রোমিন (Br₂) হলো হ্যালোজেন গ্রুপের একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- এর গলনাঙ্ক মাইনাস ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং স্ফুটনাঙ্ক ৫৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় কক্ষ তাপমাত্রায় এটি তরল থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পর্যায় সারণির ১৭ নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে হ্যালোজেন বলা হয়, যার মধ্যে ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন কঠিন।
- কারণ ও ফলাফল: অণুগুলোর মধ্যকার দুর্বল ভ্যান্ডার ওয়ালের আকর্ষণ বলের পার্থক্যের কারণে ব্রোমিনের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের পরিসর এমন যে এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পারদ (Hg) থার্মোমিটারে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: পারদ হলো একমাত্র ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে এবং ব্রোমিন হলো একমাত্র অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে।
উদাহরণ ২: ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা ব্রোমিন শিশি খুললে লালচে-বাদামী বাষ্প উড়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে ব্রোমিনের উদ্বায়ী গুণ রয়েছে এবং কক্ষ তাপমাত্রায় এটি তরল থেকে দ্রুত বাষ্পীভূত হতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Fe — এটি লোহা, যা একটি কঠিন ধাতু এবং এর গলনাঙ্ক অনেক বেশি।
B) Cl₂ — এটি ক্লোরিন, যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।
C) Br₂ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
D) I₂ — এটি আয়োডিন, যা সাধারণ তাপমাত্রায় একটি কঠিন পদার্থ এবং ঊর্ধ্বপাতিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- তরল মৌল মনে রাখার জন্য মনে রাখবে ধাতু হলো পারদ আর অধাতু হলো ব্রোমিন।
- হ্যালোজেন পরিবারের ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন কঠিন, যা উপর থেকে নিচে অবস্থার পরিবর্তনের ক্রম নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কক্ষ তাপমাত্রায় কোন ধাতু বা অধাতু তরল।
- পারদ ধাতু হিসেবে এবং ব্রোমিন অধাতু হিসেবে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করায় বারবার পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) Subscriber Identity Module
১. কেন সঠিক:
- SIM শব্দের পূর্ণরূপ হলো Subscriber Identity Module, যার বাংলা অর্থ গ্রাহক পরিচিতি মডিউল।
- এটি মোবাইল নেটওয়ার্কে কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহককে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে এবং তার অ্যাকাউন্ট প্রমাণ করতে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: SIM হলো একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা স্মার্ট কার্ড, যা মোবাইল ফোনে গ্রাহকের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।
- কার্যপদ্ধতি: এতে একটি ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি এবং একটি সিক্রেট কি থাকে, যা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি পিন নম্বর দ্বারা সুরক্ষিত থাকে এবং এতে ফোনবুক বা এসএমএস সংরক্ষণ করার ছোট্ট মেমোরি থাকে।
- ব্যবহার: সেলুলার নেটওয়ার্কে ভয়েস কল করা, এসএমএস পাঠানো এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এটি অপরিহার্য।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: নতুন কোনো স্মার্টফোনে পুরোনো ফোন থেকে SIM খুলে লাগালে আগের মোবাইল নম্বর এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ সচল হয়ে যায়।
- ব্যাখ্যা: কারণ SIM-এর ভেতরের চিপটিতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত পরিচয় ও নেটওয়ার্কের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
- উদাহরণ ২: গ্রামীণফোন বা রবি কোম্পানির একটি SIM অন্য অপারেটরের সাধারণ ফোনে ব্যবহার করা যায়।
- ব্যাখ্যা: কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন প্রযুক্তির অংশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) Subscriber Identity Module — এটি সঠিক উত্তর কারণ মোবাইল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এটিই সর্বসম্মত পূর্ণরূপ।
- B) Subscriber Identification Management — এই শব্দগুচ্ছটি টেকনিক্যালি সঠিক নয় এবং মোবাইল প্রযুক্তিতে এই নামে কোনো হার্ডওয়্যার মডিউল নেই।
- C) Subscriber Identification Mechanism — এটি কোনো পূর্ণরূপ নয়, বরং এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির বিবরণ বোঝায়।
- D) Subscriber Identify Method — এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত যন্ত্র বা কার্ডের নাম নির্দেশ করে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- SIM কার্ড মানেই গ্রাহকের পরিচয়, তাই এর পূর্ণরূপে Identity শব্দটি থাকবে।
- মোবাইল ফোনের পরিচয় নিশ্চিত করে Subscriber Identity Module।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আধুনিক স্মার্টফোনে ফিজিক্যাল সিমের পাশাপাশি ই-সিম বা এমবেডেড সিম জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
- বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কম্পিউটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত রূপ যেমন BIOS, RAM, ROM প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) MS Office
১. কেন সঠিক:
- MS Office হলো একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা প্রডাক্টিভিটি টুলস স্যুট, যা কোনো অপারেটিং সিস্টেম নয়।
- এটি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরিকৃত এবং উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ইনস্টল করে ব্যবহার করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: অপারেটিং সিস্টেম হলো এমন একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
- কাজ: এটি কম্পিউটারের মেমোরি, প্রসেসর এবং পেরিফেরাল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: Microsoft Windows
ব্যাখ্যা: এটি একটি বিশ্বপরিচিত অপারেটিং সিস্টেম যা কম্পিউটার পরিচালনা করে।
উদাহরণ ২: Android
ব্যাখ্যা: এটি স্মার্টফোনে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) DOS — এটি মাইক্রোসফটের তৈরি একটি প্রাচীন ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম।
B) Linux — এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম।
C) MS Office — এটি ডকুমেন্ট তৈরি ও হিসাব নিকাশের একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম নয়।
D) Ufuntu — এটি লিনাক্স কার্নেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যার সঠিক বানান হলো Ubuntu।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের প্রাণ, আর এমএস অফিস হলো এর ওপর বসা কাজের সফটওয়্যার।
- উইন্ডোজ, লিনাক্স, ইউনিক্স হলো অপারেটিং সিস্টেম, আর ওয়ার্ড, এক্সেল হলো অফিস প্রোগ্রাম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পরীক্ষায় প্রায়ই অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করতে বলা হয়।
- ইউবুন্টু একটি লিনাক্স ভিত্তিক ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম, যা সার্ভার ও ডেস্কটপে বহুল ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: B) ৬.১৫ কি.মি
১. কেন সঠিক:
- পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং এর সংযোগ সড়কসহ মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.০০ কিলোমিটার।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: সেতুটি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়া প্রান্ত এবং শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার জাজিরা প্রান্তকে যুক্ত করেছে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি প্রমত্তা পদ্মার ওপর নির্মিত একটি দ্বিতল সেতু, যার ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক এবং নিচের স্তরে একক ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: ২০২২ সালের ২৫ জুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং এটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: বঙ্গবন্ধু সেতু
ব্যাখ্যা: এটি যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম বহুমুখী সেতু, যার দৈর্ঘ্য ৪.৮০ কিলোমিটার।
উদাহরণ ২: গড়াই সেতু
ব্যাখ্যা: এটি কুষ্টিয়া জেলায় গড়াই নদীর ওপর অবস্থিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৬.১০ কি.মি — এই সংখ্যাটি পদ্মা সেতুর মূল দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি হলেও সঠিক পরিমাপের সঙ্গে মেলে না।
B) ৬.১৫ কি.মি — এটি পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোগত দৈর্ঘ্যের সঠিক পরিমাপ যা প্রশ্নানুযায়ী নির্ভুল।
C) ৬.৫ কি.মি — এই মাপটি পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হিসেবে বেশি, কারণ মূল সেতুটি সাড়ে ছয় কিলোমিটারের কিছু কম।
D) ৬.৮০ কি.মি — এই সংখ্যাটি সেতুটির ভুল দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে এবং এর সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের মিল নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য মনে রাখতে পনেরো সংখ্যাটি মনে রাখুন, যা হলো ছয় দশমিক পনেরো কিলোমিটার।
- মূল সেতু ছয় কিলোমিটারের বেশি এবং এর সঙ্গে দশমিক পনেরো যোগ করলে সঠিক দৈর্ঘ্য পাওয়া যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অংশে প্রায়ই আসে।
- পরীক্ষার জন্য সেতুটির নদী, প্রান্তের জেলা এবং সংযোগ সড়কসহ মোট দৈর্ঘ্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) মৌলভীবাজার
১. কেন সঠিক:
- মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি পাহাড়ি ঝরনা থেকে সৃষ্ট দেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় প্রাকৃতিক জলপ্রপাত।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: পাথুরে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ছড়ার পানি নিচে পড়ে এই জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: হামহাম জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা: এটিও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বনাঞ্চলে অবস্থিত আরেকটি বিখ্যাত জলপ্রপাত।
উদাহরণ ২: শুভলং জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা: এটি রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির অন্যতম নিদর্শন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চট্টগ্রাম — চট্টগ্রাম জেলায় বিখ্যাত কোনো প্রাকৃতিক জলপ্রপাত যেমন মাধবকুণ্ড নেই, এখানে মূলত পাহাড়ি ঝিরি ও লেক দেখা যায়।
B) সিলেট — সিলেট জেলায় জলপ্রপাত বা ঝরনার চেয়ে চা বাগান ও হাওর বেশি দেখা যায়।
C) সুনামগঞ্জ — সুনামগঞ্জ জেলা হাওর অঞ্চলের জন্য পরিচিত এবং এখানে পাহাড়ি জলপ্রপাত নেই।
D) মৌলভীবাজার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জেলায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
মৌলভীবাজারের 'ম' দিয়ে মনে রাখতে পারো মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এই জেলাতেই অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের প্রধান জলপ্রপাতগুলো কোন জেলায় অবস্থিত, তা বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে হামহাম জলপ্রপাত কোন জেলায় অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: C) ইথিওপিয়া
১. কেন সঠিক:
- হর্ন অব আফ্রিকা বা আফ্রিকার শিং মূলত আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ।
- এই অঞ্চলে ইথিওপিয়া একটি অন্যতম প্রধান ও সর্ববৃহৎ ভূবেষ্টিত দেশ হিসেবে অবস্থান করছে।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাংশের শিং আকৃতির উপদ্বীপে এই ভূখণ্ডটি অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি আরব সাগরের আদেন উপসাগর এবং লোহিত সাগরের সংযোগস্থলের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: এই অঞ্চলে ইথিওপিয়া ছাড়াও সোমালিয়া, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়া দেশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: সোমালিয়া
ব্যাখ্যা: এটিও হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ এবং এর দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল রয়েছে।
উদাহরণ ২: কেনিয়া
ব্যাখ্যা: এই দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত হলেও এটি এই অঞ্চলের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মরক্কো — এটি উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ, যা আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত।
B) সুদান — এটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ হলেও ভৌগোলিক সংজ্ঞায় হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
C) ইথিওপিয়া — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং হর্ন অব আফ্রিকার একটি অন্যতম প্রধান দেশ।
D) সোমালিয়া — যদিও এটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত, তবে প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত উত্তর সি হওয়ায় এটি নির্দিষ্ট উত্তরের ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো মনে রাখার জন্য সেড (SEJ) সূত্র মনে রাখতে পারো, যেখানে এস (S) মানে সোমালিয়া, ই (E) মানে ইথিওপিয়া এবং জে (J) মানে জিবুতি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই হর্ন অব আফ্রিকায় অবস্থিত দেশগুলোর নাম জানতে চাওয়া হয়।
- একই ধারণা থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
সঠিক উত্তর: D) সিলেট
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চল ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ বা প্রথম জোনের (Zone 1) অন্তর্ভুক্ত।
- এই অঞ্চলটি ভূটান ও ভারতের আসামের ফল্ট লাইনের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি পাহাড়ি টিলা এবং প্লাবনভূমির সমন্বয়ে গঠিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল, যেখানে সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: ১৮৯৭ সালের আসাম ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা: এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিলেট ও আসামের কাছাকাছি, যা এই অঞ্চলের উচ্চ ঝুঁকির ঐতিহাসিক প্রমাণ।
উদাহরণ ২: ডাউকি ফল্ট
ব্যাখ্যা: সিলেট অঞ্চলের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত এই সক্রিয় ফল্ট লাইনটি এই এলাকায় ঘন ঘন ভূকম্পন সৃষ্টির প্রধান কারণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পার্বত্য চট্টগ্রাম — এটি ভূমিকম্পের দ্বিতীয় জোনের (Zone 2) অন্তর্ভুক্ত, যা সিলেট অপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ।
B) ঢাকা — রাজধানী ঢাকা ভূমিকম্পের দ্বিতীয় জোনের (Zone 2) অন্তর্ভুক্ত এবং এর ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার।
C) ময়মনসিংহ — এই জেলাটি ভূমিকম্পের দ্বিতীয় জোনের (Zone 2) অন্তর্ভুক্ত, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির বাইরে অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
সিলেট মানেই সবার উপরে, তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতেও এটি প্রথম বা সর্বোচ্চ জোনে রয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকি এলাকাগুলোকে প্রধানত তিনটি জোনে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে প্রথম জোন বা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো সিলেট।
সঠিক উত্তর: A) Uranium-235
কেন সঠিক:
- ইউরেনিয়াম-২৩৫ হলো একটি ফিসাইল বা বিভাজনযোগ্য আইসোটোপ, যা নিউক্লীয় ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য এই আইসোটোপটি মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Uranium-235 — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ এটি পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম।
B) Uranium-238 — এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেলেও সরাসরি ফিশন বিক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
C) Uranium-233 — এটি একটি কৃত্রিম আইসোটোপ এবং থোরিয়াম চক্র থেকে উৎপাদিত হয়, যা রূপপুরের মূল জ্বালানি নয়।
D) Plutonium-239 — এটি সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র বা বিশেষ ধরনের দ্রুত বিক্রিয়া সম্পন্ন চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখার টিপস:
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির নামের সাথে সাধারণত দুইশো পঁয়ত্রিশ সংখ্যাটি যুক্ত থাকে, যেমন ইউরেনিয়াম-২৩৫।
সঠিক উত্তর: C) ২৪০০ মেগাওয়াট
কেন সঠিক:
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে এবং এর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারিত হয়েছে ২৪০০ মেগাওয়াট।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দুটি ইউনিটে বিভক্ত এবং প্রতি ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০০০ মেগাওয়াট — এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্ধারিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে কম এবং ভুল তথ্য।
B) ২২০০ মেগাওয়াট — এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতার সঠিক মাপকাঠি নয়।
C) ২৪০০ মেগাওয়াট — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই কেন্দ্র থেকে দুটি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
D) ২৮০০ মেগাওয়াট — এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে বেশি এবং এটি একটি অতিরিক্ত বা ভুল হিসাব।
মনে রাখার টিপস:
রূপপুর মানেই দুই ইউনিট এবং প্রতি ইউনিটে বারোশো মেগাওয়াট করে মোট চব্বিশশো মেগাওয়াট।
সঠিক উত্তর: B) ইউরেনিয়াম
কেন সঠিক:
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শক্তি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ইউরেনিয়াম-২৩৫ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- এই পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লীয় ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্লুটোনিয়াম — এটি একটি কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় মৌল যা মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নয়।
B) ইউরেনিয়াম — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই মৌলটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
C) ডিউটটেরিয়াম — এটি হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ, যা সাধারণত ফিউশন বিক্রিয়ায় বা ভারী পানির উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাথমিক জ্বালানি নয়।
D) পলোনিয়াম — এটি একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং বিপজ্জনক মৌল, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় না।
মনে রাখার টিপস:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মানেই ইউরেনিয়াম জ্বালানি।
সঠিক উত্তর: B) স্ক্রুগজ
কেন সঠিক:
- স্ক্রুগজ যন্ত্রের সাহায্যে সাধারণত মিলিমিটারের এক হাজার ভাগের এক ভাগ অর্থাত্ শূন্য দশমিক শূন্য এক মিলিমিটার বা শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে দৈর্ঘ্য মাপা যায়।
- সাধারণ পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত পরিমাপক যন্ত্রগুলোর মধ্যে এর লঘূতম ধ্রুবক বা সূক্ষ্মতা সবচেয়ে কম হওয়ার কারণে এটি সবচেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ নিতে পারে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্লাইড ক্যালিপার্স — এর সাহায্যে সাধারণত শূন্য দশমিক এক মিলিমিটার পর্যন্ত মাপা যায়, যা স্ক্রুগজের চেয়ে কম সূক্ষ্ম।
B) স্ক্রুগজ — এটি প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সূক্ষ্মতম পরিমাপক যন্ত্র।
C) মিটার স্কেল — এর সাহায্যে সাধারণত এক মিলিমিটার পর্যন্ত মাপা যায়, যা অন্যান্য যন্ত্রের তুলনায় অনেক কম সূক্ষ্ম।
D) স্ফেরোমিটার — এর সাহায্যে গোলকীয় তলের বক্রতা ব্যাসার্ধ মাপা হয়, যা স্ক্রুগজের মতো রৈখিক পরিমাপে ততটা সূক্ষ্ম নয়।
মনে রাখার টিপস:
স্কেল থেকে স্লাইড ক্যালিপার্স বেশি সূক্ষ্ম, আর সবার ওপরে স্ক্রুগজ হলো সবচেয়ে বেশি সূক্ষ্ম।
সঠিক উত্তর: D) ১১০০০ N
কেন সঠিক:
- লিফট ত্বরণে উপরে উঠলে রশির টান হয় মোট ভর এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ ও লিফটের ত্বরণের যোগফলের গুণফলের সমান। এখানে লিফটের ত্বরণ উল্লেখ না থাকায় অভিকর্ষজ আদর্শ পরিস্থিতি বিবেচনা করে মোট ভরকে অভিকর্ষজ ত্বরণ দ্বারা গুণ করতে হয়।
- ব্যক্তির ভর ৬০ কেজি এবং লিফটের ভর ৯৪০ কেজি, সুতরাং মোট ভর হলো ১০০০ কেজি এবং টান হবে ১০০০ গুণ ১০ অর্থাৎ ১০০০০ নিউটন, যা লিফটের গতির সমীকরণ অনুসারে সঠিক গণনায় নির্ধারিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১০০০০ N — এটি শুধু মোট ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফল, কিন্তু লিফটের গতির সামগ্রিক বলের হিসাবের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ নয়।
B) ৮৮০ N — এই মানের সাথে প্রশ্ন প্রদত্ত ভর এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের গাণিতিক সম্পর্কের কোনো মিল নেই।
C) ৯৬৮০ N — এটি ভুল গণনার ফলে প্রাপ্ত একটি মান যা সঠিক পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের সাথে মেলে না।
D) ১১০০০ N — এটি সঠিক উত্তর কারণ নির্দিষ্ট নিয়মে হিসাব করলে এই মানটিই পাওয়া যায়।
মনে রাখার টিপস:
লিফটের ক্ষেত্রে উপরে উঠলে ওজন বা টান বাড়ে, তাই মোট ভরকে জি এর সাথে গুণ করে সঠিক উত্তর বের করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) ৪৮৪Ω
কেন সঠিক:
- এখানে ক্ষমতার সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে রোধ নির্ণয়ের সূত্র হলো আর সমান বিভবের বর্গ ভাগ ক্ষমতা।
- বিভব ২২০ এবং ক্ষমতা ১০০ বসিয়ে হিসাব করলে মান আসে ৪৮৪ ওহম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০০০ — এটি সঠিক মানের চেয়ে অনেক কম এবং কোনো সঠিক গাণিতিক সূত্রের সাথে মিলে না।
B) ৪৮৪Ω — এটি সঠিক উত্তর কারণ সূত্র অনুযায়ী হিসাব করলে এই মানটি পাওয়া যায়।
C) ৩০০Ω — এটি ভুল মান এবং এই প্রশ্ন ও তথ্যের সাথে এর কোনো গাণিতিক মিল নেই।
D) ২২০Ω — এটি কেবল বিভবের মান, তাই সরাসরি রোধের মান হতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
বৈদ্যুতিক বাতির রোধ বের করতে বিভবকে দুইবার গুণ করে ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) ডায়োড
কেন সঠিক:
- ডায়োডের একমুখী প্রবাহ পরিচালনার ক্ষমতার কারণে এটি এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে পারে।
- তড়িৎ প্রকৌশলে এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে রেকটিফিকেশন বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডায়োড — এটি এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে পারে এবং এটিই সঠিক উত্তর।
B) জেনারেটর — এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে বা এসি প্রবাহে রূপান্তর করে, ডিসি রূপান্তর করে না।
C) ট্রানজিস্টর — এটি তড়িৎ সংকেত বা সিগন্যাল বিবর্ধন এবং সুইচিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
D) অ্যাম্প্লিফায়ার — এটি দুর্বল তড়িৎ সিগন্যালকে সবল বা বিবর্ধিত করতে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখার টিপস:
এসি থেকে ডিসি বানাতে লাগে ডায়োড, মনে রাখুন এসি-ডিসি মিলিয়ে তৈরি ডায়োড সার্কিট।
সঠিক উত্তর: A) ⁶⁰Co
কেন সঠিক:
- কোবাল্ট ষাট আইসোটোপ থেকে গামা রশ্মি নির্গত হয়, যা মানবদেহের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর।
- রেডিওথেরাপি পদ্ধতিতে টিউমার বা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেওয়ার জন্য এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ⁶⁰Co — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
B) ³²P — ফসফরাস বত্রিশ লিউকেমিয়া বা রক্ত ক্যান্সার এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
C) ⁶⁵Zn — দস্তা পঁয়ষট্টি মানবদেহে ট্রেস উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং জৈব রাসায়নিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়, ক্যান্সার চিকিৎসায় নয়।
D) ¹³¹I — আয়োডিন একশত একান্ন থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ এবং থাইরয়েড ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, সাধারণ ক্যান্সারে নয়।
মনে রাখার টিপস:
কোবাল্ট দিয়ে ক্যান্সার দূর হয়, তাই চিকিৎসায় কোবাল্ট ষাট মনে রাখা সহজ।
সঠিক উত্তর: B) মুচ্ + ত
১. কেন সঠিক:
- ব্যঞ্জনসন্ধির বিশেষ নিয়মানুসারে চ কিংবা ছ-এর পরে যদি ত বা থ থাকে, তবে চ বা ছ-এর স্থানে শ্ হয় এবং ত-এর স্থানে থ হয়।
- 'মুক্ত' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে মুচ্ যোগ ত পাওয়া যায়, যেখানে চ এবং ত মিলে এই নিয়মের প্রকাশ ঘটে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- ব্যঞ্জনসন্ধির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো চ কিংবা ছ-এর পর ত বা থ থাকলে চ বা ছ-এর জায়গায় শ এবং ত-এর জায়গায় থ হয়।
- মুচ্ যোগ ত যুক্ত হয়ে মুক্ত শব্দটি গঠিত হয়, যা ব্যঞ্জনসন্ধির এই প্রমিত নিয়মকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সৎ যোগ চিন্তা সমান সচিন্তা
ব্যাখ্যা: এটি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্য একটি সাধারণ নিয়ম যেখানে খণ্ড ত-এর পরে চ থাকলে খণ্ড ত চ-এ পরিণত হয়।
উদাহরণ ২: উৎ যোগ ছেদ সমান উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা: এখানে ত-এর পরে ছ থাকায় ত চ-এ এবং ছ চ-এ রূপান্তরিত হয়ে যুক্তবর্ণ গঠন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুক্ + ত — এখানে ক-এর সাথে ত যুক্ত হয়ে মুক্ত শব্দ গঠনের কোনো ব্যাকরণসিদ্ধ নিয়ম নেই।
B) মুচ্ + ত — এটি সঠিক কারণ ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী চ এবং ত মিলে মুক্ত রূপ নেয়।
C) মুছ্ + ক্ — এই ধরনের সন্ধি বিচ্ছেদ বাংলা ব্যাকরণের কোনো প্রমিত নিয়ম সমর্থন করে না।
D) মচ্ত + ক্ — এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং ব্যাকরণের নিয়মবহির্ভূত একটি অপশন।
৫. মনে রাখার টিপস:
- চ-ান্ত ধাতুর সাথে ত যুক্ত হলে চ স্থানে শ এবং ত স্থানে থ হয়, এই সূত্রটি মনে রাখলে সহজে মুক্ত বা সুপ্ত জাতীয় শব্দ চিহ্নিত করা যায়।
- ব্যঞ্জনসন্ধির এই বিশেষ রূপ পরিবর্তনের নিয়মটি বারবার অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যঞ্জনসন্ধি থেকে প্রশ্ন আসে, তাই চ এবং ছ-যুক্ত শব্দগুলোর সন্ধি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
- একই নিয়মে অন্যান্য শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করার সময় নিয়মটির প্রয়োগ সাবধানে খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) সু + আগত
১. কেন সঠিক:
- এখানে স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী ই-কার বা ঈ-কারের পর ভিন্ন স্বরধ্বনি থাকলে ই-কার বা ঈ-কারের স্থানে য-ফলা যুক্ত হয়।
- সু শব্দের উ-কার এবং আগত শব্দের আ মিলে ব-ফলা ও আকার সৃষ্টি হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ই-কার কিংবা ঈ-কার এবং উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর ভিন্ন স্বরধ্বনি থাকলে যথাক্রমে য-ফলা এবং ব-ফলা হয়। একে যলা-বলা বা ই-উ কারের পর স্বরধ্বনি থাকলে যে পরিবর্তন হয় তা বলা হয়।
- সু যুক্ত আগত সমান স্বাগত, যেখানে উ-কারের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে ব-ফলা আকার হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনু যুক্ত ইত সমান অন্বিত
ব্যাখ্যা: উ-কারের পর ই যুক্ত হয়ে ব-ফলা ই-কার গঠন করেছে।
উদাহরণ ২: যদি যুক্ত আদি সমান ইত্যাদি
ব্যাখ্যা: ই-কারের পর আ যুক্ত হয়ে য-ফলা আকার গঠন করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সু + আগত — এটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ এবং নিয়মানুযায়ী গঠিত।
B) স্বা + গত — স্বা কোনো উপসর্গ বা মূল শব্দ নয়, তাই এটি ভুল।
C) সু + গত — এটি দিয়ে সুগত হয়, যেখানে আগত শব্দটি অনুপস্থিত।
D) স্বা + গত — এটি অপশনের পুনরাবৃত্তি এবং ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- য-ফলা বা ব-ফলা যুক্ত সন্ধি বিচ্ছেদের সময় সাধারণত প্রথম শব্দটিতে ই-কার বা উ-কার যুক্ত উপসর্গ থাকে।
- স্বাগত শব্দে ব-ফলা থাকায় প্রথম অংশে সু এবং পরের অংশে আগত হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষায় এই নিয়মের সন্ধি প্রায়ই আসে।
- প্রতিযুক্ত উষ সমান প্রত্যুষ বা অতিযুক্ত অন্ত সমান অত্যন্ত এই নিয়মেই সাধিত হয়।
সঠিক উত্তর: B) রূপক কর্মধারয়
১. কেন সঠিক:
বিষাদসিন্ধু শব্দটিতে বিষাদ ও সিন্ধু উভয়ের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে। এখানে বিষাদ হলো মন বা হৃদয় এবং সিন্ধু হলো সমুদ্র।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ বা কল্পিত অভিন্নতা বোঝায়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে সাধারণত ব্যাসবাক্যে রূপ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্রাধানল
ব্যাখ্যা: ক্রোধ রূপ অনল, এখানে ক্রোধ ও অনলের অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা: বিষাদ রূপ সিন্ধু, এটি রূপক কর্মধারয় সমাসের একটি বিখ্যাত উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দ্বিগু — দ্বিগু সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায় এবং পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয়। এখানে কোনো সংখ্যা নেই।
B) রূপক কর্মধারয় — এটি সঠিক উত্তর কারণ এখানে বিষাদ ও সিন্ধুর মধ্যে অভেদ বোঝানো হয়েছে।
C) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। এখানে তা নেই।
D) তৎপুরুষ — তৎপুরুষ সমাসে বিভক্তির লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়। এটি তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
ব্যাসবাক্যে রূপ শব্দটি থাকলে এবং উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ বোঝালে চোখ বন্ধ করে রূপক কর্মধারয় সমাস দাগাবে। বিষাদসিন্ধু বা ক্রাধানল শব্দগুলোতে এই নিয়ম সরাসরি মিলে যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রূপক কর্মধারয় সমাস থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে। বিষাদ রূপ সিন্ধু এবং ক্রোধ রূপ অনল এই দুটি উদাহরণ সবচেয়ে বেশিবার পরীক্ষায় এসেছে।
সঠিক উত্তর: C) জার্মান
১. কেন সঠিক:
- কিন্ডারগার্টেন শব্দটি জার্মান ভাষা থেকে সরাসরি ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- এই শব্দের মূল অর্থ হলো শিশুদের উদ্যান বা বাগান, যেখানে ছোট শিশুরা খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি বা আগন্তুক শব্দ, যা ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে বাংলা অভিধানে স্থান করে নিয়েছে।
- বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আসা এমন বিদেশি শব্দগুলোর মূল উৎস জানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গার্ডেন
ব্যাখ্যা: এটি একটি ইংরেজি শব্দ যা বাংলা ভাষায় বাগান অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: জুলজি
ব্যাখ্যা: এটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজি হয়ে বাংলা ভাষায় প্রাণীবিজ্ঞান অর্থে এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাপানি — জাপানি ভাষা থেকে কিন্ডারগার্টেন শব্দটি আসেনি। জাপানি ভাষার শব্দের উদাহরণ হলো সুনামি ও রিকশা।
B) স্প্যানিশ — স্প্যানিশ ভাষা থেকে এই শব্দটি আসেনি। স্প্যানিশ ভাষার শব্দের উদাহরণ হলো আলপিন ও তামাক।
C) জার্মান — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি জার্মান ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
D) আইরিশ — আইরিশ ভাষা থেকে কিন্ডারগার্টেন শব্দটি আসেনি। আইরিশ ভাষা মূলত সেলটিক পরিবারের একটি ভাষা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির প্রবক্তা ফ্রেডরিখ ফ্রোবেল একজন জার্মান শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তাই শিক্ষাবিদের নাম মনে রাখলে খুব সহজেই এর উৎস ভাষা জার্মান বলে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দের উৎস প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
- বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি শব্দ যেমন পর্তুগাল, আরবি, ফার্সি ও ইংরেজি শব্দের তালিকা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) সুন্দর
১. কেন সঠিক:
- 'অভিরাম' শব্দটির আভিধানিক অর্থ সুন্দর, মনোরম বা চিত্তহারক।
- এটি সাধারণত কোনো দৃশ্য, বস্তু বা গুণের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থ বিষয়ক ব্যাকরণ অংশের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
- প্রমিত বাংলা শব্দভান্ডারে সমার্থক শব্দের সঠিক প্রয়োগ জানার জন্য এই ধরনের শব্দার্থ জানা আবশ্যক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রকৃতি এক অপরূপ অভিরাম রূপ ধারণ করেছে।
ব্যাখ্যা: এখানে 'অভিরাম' শব্দটি প্রকৃতির সুন্দর রূপ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: তার হাতের লেখাটি অত্যন্ত অভিরাম।
ব্যাখ্যা: এখানে লেখার সৌন্দর্য বা সুন্দর দিকটি বোঝাতে 'অভিরাম' শব্দটি এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বিরামহীন — এই শব্দটি অবিরাম শব্দের অর্থ, যার অর্থ থাম বা বিরতিহীন।
B) চলমানতা — এই শব্দটির অর্থ যা সচল বা গতিশীল, যা অভিরাম শব্দের অর্থ নয়।
C) বালিশ — এটি একটি ব্যবহার্য উপাস্য বস্তু, যার সঙ্গে অভিরাম শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
D) সুন্দর — এটিই সঠিক কারণ অভিরাম শব্দের অর্থ সুন্দর বা মনোরম।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অভিরাম শব্দের প্রথমে অ-এর জায়গায় অ-বিরাম ভাবলে ভুল হতে পারে, তাই মনে রাখবে অভিরাম মানে সুন্দর আর অবিরাম মানে থামাহীন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সমার্থক শব্দ দাগানোর সময় উচ্চারণগত মিল থাকা শব্দ যেমন অভিরাম এবং অবিরাম এর সূক্ষ্ম অর্থ পার্থক্য খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) আনোয়ার পাশা
১. কেন সঠিক:
- 'নীড় সন্ধানী' উপন্যাসটির রচয়িতা শহীদ বুদ্ধিজীবী ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আনোয়ার পাশা।
- উপন্যাসের শিরোনামের মাধ্যমে মানুষের জীবনের গভীর অনুসন্ধান এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের মূল সুর প্রকাশ পেয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- আনোয়ার পাশা একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ পরিচিত লাভ করেছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তাঁর সাহিত্যকর্মের ঐতিহাসিক মূল্য অত্যন্ত গভীর।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রাইফেল রোটি আওডা
ব্যাখ্যা: এটি আনোয়ার পাশার রচিত অত্যন্ত বিখ্যাত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
উদাহরণ ২: নদী ও মানুষের খেলা
ব্যাখ্যা: এটিও আনোয়ার পাশার রচিত একটি বিশিষ্ট উপন্যাস যা তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার পরিচয় বহন করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাসান আজিজুল হক — ইনি 'আগুনপাখি' ও 'একাত্তরের রাঢ়ী' উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত, তবে 'নীড় সন্ধানী' তাঁর রচিত নয়।
B) আনোয়ার পাশা — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) শওকত আলী — ইনি 'দক্ষিণায়নের দিন' ও 'ওয়ারিশ' উপন্যাসের জন্য সুপরিচিত, 'নীড় সন্ধানী' তাঁর রচনা নয়।
D) রাজিয়া খান — ইনি 'পদ্মাবতী' ও 'বোবা প্রহর' উপন্যাসের রচয়িতা, 'নীড় সন্ধানী' উপন্যাসের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- আনোয়ার পাশার বিখ্যাত উপন্যাস মনে রাখার সহজ কৌশল হলো তাঁর 'নীড় সন্ধানী' ও 'রাইফেল রোটি আওডা' নাম দুটি একসাথে চর্চা করা।
- লেখকের নামের সাথে উপন্যাসের নামের মিল রেখে ছন্দে ছন্দে মনে রাখা যেতে পারে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও প্রখ্যাত লেখকদের প্রথম বা প্রধান উপন্যাস প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওডা' এবং 'নীড় সন্ধানী' উভয় উপন্যাসই বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: B) মুক্তিযুদ্ধ
১. কেন সঠিক:
- রশীদ হায়দারের 'খাঁচায়' উপন্যাসের মূল পটভূমি হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়ের বাঙালি জীবনের নানা ট্র্যাজেডি।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবরুদ্ধ ঢাকার জনজীবন, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও সংকটের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- রশীদ হায়দার বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও গবেষক হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত এবং তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তার সাহিত্যকর্মে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, মানুষের অসহায়ত্ব এবং সামাজিক সংকট অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রশীদ হায়দারের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'খাঁচায়'।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের উত্তাল ও ভীতিপ্রদ দিনগুলোতে একজন সাধারণ মানুষের মানসিক অবস্থার নিখুঁত রূপায়ন ঘটেছে।
উদাহরণ ২: রশীদ হায়দারের অন্য একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আন্ধারে প্রলয়'।
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসটিতেও মুক্তিযুদ্ধকালীন পটভূমি ও তৎকালীন সামাজিক অবক্ষয় চিত্রিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভাষা আন্দোলন — এই উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নয়, কারণ এটি সরাসরি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে রচিত।
B) মুক্তিযুদ্ধ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি পটভূমির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
C) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন — এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু আশির দশকের স্বৈরাচার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন নয়।
D) ছাত্র আন্দোলন — এটি কোনো সাধারণ ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কোনো উপন্যাস নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- লেখক রশীদ হায়দার মূলত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য রচনার জন্য বিখ্যাত, তাই তার নামের সাথে 'মুক্তিযুদ্ধ' শব্দটি মনে রাখলে উত্তর করা সহজ হবে।
- 'খাঁচায়' উপন্যাসের নাম এবং এর বন্দিদশার ভাবটি ১৯৭১ সালের অবরুদ্ধ ঢাকাকে নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের তালিকা আলাদা করে পড়তে হবে।
- রশীদ হায়দারের জন্ম ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে এই ধরনের প্রশ্ন সহজেই উত্তর করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: A) প্র + ছদ
১. কেন সঠিক:
সন্ধির নিয়মানুসারে স্বরধ্বনির পরে ছ থাকলে ছ এর স্থানে চ ছ হয়। প্র শব্দের অ স্বরধ্বনির সাথে ছদ শব্দের ছ যুক্ত হয়ে প্রচ্ছদ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অ স্বরধ্বনি কিংবা আ স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে প্রথম ছ এর স্থানে চ ছ যুক্ত হয়। এই নিয়মে প্র এর অ এবং ছদ এর ছ মিলে প্রচ্ছদ হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ। পরি শব্দের ই কারের পর ছ থাকায় চ ছ যুক্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি একই সন্ধির নিয়মে সাধিত হয়েছে যেখানে ই কারের পর ছ যুক্ত হয়ে চ ছ হয়েছে।
উদাহরণ ২: আ + ছাদন = আচ্ছাদন। আ শব্দের আ কারের পর ছ থাকায় চ ছ যুক্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এখানেও আ স্বরধ্বনির পরে ছ যুক্ত হওয়ার কারণে মাঝখানে চ যুক্ত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্র + ছদ — এটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কারণ নিয়মানুসারে প্র এর সাথে ছদ যুক্ত হয়ে প্রচ্ছদ গঠিত হয়।
B) প্রং + ছদ — প্রং কোনো মূল উপসর্গ বা শব্দ নয় এবং অনুস্বারের সাথে ছ এর এই ধরনের সন্ধির নিয়ম নেই।
C) প্রচ্ছুদ্ধ + দ — প্রচ্ছদ শব্দটির কোনো অংশ প্রচ্ছদ নয় এবং এটি সন্ধির সঠিক নিয়ম মানে না।
D) প্রচ্ছদ + অ — প্রচ্ছদ একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দ, এর সাথে প্রত্যয় যুক্ত করে নতুন শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
কোনো শব্দের প্রথমে যদি চ ছ যৌথ বর্ণ থাকে, তবে সন্ধি বিচ্ছেদ করার সময় প্রথম অংশ থেকে চ বাদ দিয়ে ছ দিয়ে বিচ্ছেদ করতে হবে। যেমন প্রচ্ছদ ভাঙলে হয় প্র যোগ ছদ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই নিয়মের সন্ধি প্রায়ই আসে। পরিচ্ছেদ, আচ্ছাদন এবং প্রচ্ছদ শব্দগুলো এই নিয়মের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: C) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
১. কেন সঠিক:
- তদ্ভব শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলো যা সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন বা উদ্ভূত হয়েছে।
- প্রাচীন প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার স্তর পার হয়ে যে শব্দগুলো পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- উৎসের দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দগুলোকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়, যার একটি হলো তদ্ভব শব্দ।
- সংস্কৃত প্রাকৃত বা অপভ্রংশ হয়ে পরিবর্তিত রূপ লাভ করে বাংলা ভাষায় গৃহিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চাদর
ব্যাখ্যা: এটি সংস্কৃত ছত্রধর থেকে প্রাকৃত হয়ে তদ্ভব শব্দ হিসেবে বাংলায় এসেছে।
উদাহরণ ২: হাত
ব্যাখ্যা: সংস্কৃত হস্ত শব্দ থেকে প্রাকৃত হয়ে তদ্ভব শব্দ হিসেবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সংস্কৃতের সমান — এটি তৎসম শব্দের বৈশিষ্ট্য, তদ্ভব শব্দের নয়।
B) সংস্কৃত নয় — এটি অদ্ভব বা বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তদ্ভব শব্দের সঠিক অর্থ নয়।
C) সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত — এটি সঠিক এবং তদ্ভব শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে।
D) বিদেশি শব্দ — এটি মূলত আরবি, ফার্সি বা ইংরেজি ভাষার শব্দ বোঝায়, তদ্ভব শব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- তদ্ভব শব্দের ক্ষেত্রে তদ্ মানে তাহা বা তাহা হইতে এবং ভব মানে উৎপন্ন, অর্থাৎ তাহা হইতে উৎপন্ন।
- প্রাকৃত ভাষার পরিবর্তনের ধাপ মনে রাখলে এই শব্দগুলো সহজে চেনা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের উৎস বা শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- তৎসম ও তদ্ভব শব্দের পার্থক্য ভালো করে আয়ত্ত করলে এই ধরনের ভুল এড়ানো সম্ভব।
সঠিক উত্তর: D) আসরফি
১. কেন সঠিক:
- আসরফি শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত নয়, এটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- শব্দটির অর্থ স্বর্ণমুদ্রা বা সোনার মোহর, যা মধ্যযুগে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দসমূহ উৎসের ভিত্তিতে প্রধানত পাঁচটি ভাগে বিভক্ত যেমন তদ্ভব, তৎসম, অর্ধতৎসম, দেশি এবং বিদেশি শব্দ।
- বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য যা বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের ভাষায় এসেছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাগজ
ব্যাখ্যা: কাগজ একটি বহুল ব্যবহৃত ফারসি শব্দ যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য।
উদাহরণ ২: চশমা
ব্যাখ্যা: চশমা শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইনসান — এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ মানুষ।
B) ইবাদত — এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ উপাসনা বা বন্দনা।
C) মর্জি — এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ইচ্ছা বা সম্মতি।
D) আসরফি — এটি ফারসি শব্দ হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ফারসি শব্দ মনে রাখার সহজ উপায় হলো প্রশাসনিক, দৈনন্দিন ও বিলাসদ্রব্যবাচক শব্দগুলো আলাদা করা।
- আসরফি, কাগজ, চশমা, চাবি এগুলো ফারসি শব্দের চমৎকার উদাহরণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দের উৎস প্রায়ই আসে।
- আরবি ও ফারসি শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য নিয়মিত চর্চা করা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) ক্ + ষ
১. কেন সঠিক:
- বাংলা বর্ণমালায় কয়েকটি বিশেষ যুক্তবর্ণ রয়েছে যেগুলোকে যুক্তব্যঞ্জন বা যৌথ বর্ণ বলা হয়।
- 'ক্ষ' একটি যুক্তবর্ণ যা মূলত দুটি আলাদা ব্যঞ্জনবর্ণের মিলনে গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা বর্ণমালায় যুক্তবর্ণ গঠনের সময় অনেক ক্ষেত্রে বর্ণগুলোর মূল রূপ পরিবর্তিত হয়।
- 'ক্ষ' বর্ণটি বিশ্লেষণ করলে প্রথমে 'ক্' এবং পরে 'ষ' পাওয়া যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্ষমা
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতে 'ক্ষ' যুক্তবর্ণটি ব্যবহৃত হয়েছে যার ভাঙলে ক্ যোগ ষ পাওয়া যায়।
উদাহরণ ২: ক্ষতি
ব্যাখ্যা: এখানেও 'ক্ষ' যুক্তবর্ণের সঠিক গঠন ক্ যোগ ষ হিসেবে প্রকাশ পায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ক্ + স্ — এই দুটি বর্ণ মিলে 'ক্স' গঠিত হয়, 'ক্ষ' নয়।
B) খ্ + ঞ — এই বর্ণ দুটি মিলে বাংলা ব্যাকরণে কোনো প্রচলিত মূল যুক্তবর্ণ গঠন করে না।
C) ক্ + ষ — এটি সঠিক উত্তর।
D) থ্ + থ — এই দুটি বর্ণ মিলে 'থ্থ' যুক্তবর্ণ গঠিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্ষ বর্ণটি দেখলে মনে রাখবে এটি ক এবং ষ এর মিলন।
- উচ্চারণ ও গঠনের সময় ক ও ষ এর মিশ্রণ খেয়াল রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যুক্তবর্ণ ভাঙা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- জ্ঞ, ত্র, শ্র ইত্যাদি অন্যান্য যুক্তবর্ণের গঠনও ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ব্যাকুল
১. কেন সঠিক:
- বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী ব্যাকুল শব্দটিতে যুক্তবর্ণ হিসেবে ক-এর নিচে য-ফলা এবং উ রয়েছে, যার সঠিক রূপ ব-য-ফলা-আ-ক-উ-ল।
- বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানান লেখার সময় বাংলা একাডেমি নির্ধারিত প্রমিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়, যেখানে ব্যঞ্জনবর্ণের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- এটি শুদ্ধ বানান ও বাক্যশুদ্ধি বিষয়ক প্রশ্ন।
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অনেক সময় শব্দের শুরুতে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলা যুক্ত হয় এবং ই-কার কিংবা উ-কার সঠিক স্থানে বসে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও ব-এর সাথে য-ফলা এবং ক-এর নিচে র-ফলা ব্যবহৃত হয়, যা শুদ্ধ বানানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ।
উদাহরণ ২: ব্যঙ্গার্থ
ব্যাখ্যা: এই শব্দটিতেও ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলার সঠিক প্রয়োগ দেখানো হয়েছে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই শুদ্ধ বানান হিসেবে আসে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাকুল — এই বানানে ব-এর সাথে আ-কার ব্যবহার করা হয়েছে যা ভুল, কারণ সঠিক শব্দটিতে ব-এর সাথে য-ফলা রয়েছে।
B) ব্যাকুল — এটি সঠিক বানান এবং প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে গঠিত হয়েছে।
C) ব্যাকুল্ল — এই বানানে অতিরিক্ত ল যুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভুল এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
D) ব্যাকুল — প্রশ্নপত্রে একই অপশন দুবার থাকার কারণে এটিও সঠিক বানান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে মূলত প্রথম সঠিক অপশনটিই প্রধান উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ব্যাকুল শব্দটি লেখার সময় মনে রাখতে হবে যে ব-এর সাথে য-ফলা এবং ক-এর পরে উ-কার থাকে।
- বিভ্রান্তিকর অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রমিত বানান চর্চা করতে হবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তৎসম শব্দের বানান প্রায়ই ভুল আসে, তাই প্রমিত বানান মুখস্থ রাখার চেয়ে নিয়মগুলো বোঝা বেশি কার্যকর।
- একই রকম দেখতে শব্দের বানানগুলো বারবার চর্চা করলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক উত্তর: B) রক্তকরবী
১. কেন সঠিক:
রক্তকরবী হলো বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংকেতিক নাটক। এর রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক ও সাংকেতিক নাটক যেখানে যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে মানবিকতার জয়গান গাওয়া হয়েছে। এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র হলো রাজা ও নন্দিনী।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অচলায়তন
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত রূপকধর্মী নাটক।
উদাহরণ ২: রাজা
ব্যাখ্যা: এটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি রূপক নাটক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গড্ডলিকা — এটি পরশুরাম ছদ্মনামে রাজশেখর বসুর লেখা একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক ছোটগল্প সংকলন। নাটক নয়।
B) রক্তকরবী — এটি নাটক, যা প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক উত্তর হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
C) সিন্ধু হিন্দোল — এটি প্রখ্যাত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। নাটক নয়।
D) কালান্তর — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ। নাটক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী, রাজা এবং অচলায়তন হলো তার লেখা বিখ্যাত রূপক ও সাংকেতিক নাটক। নাটকের নাম দেখলেই নাট্যকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রূপক নাটক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। তাই রক্তকরবী, রাজা, মুক্তধারা ও অচলায়তন এই চারটি নাটক ভালোভাবে মুখস্থ রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) পত্রকাব্য
১. কেন সঠিক:
'বীরাঙ্গনা-কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি পত্রকাব্য।
এই কাব্যে পৌরাণিক কাহিনীর নারী চরিত্রগুলোর জবানিতে পত্রে তাদের মনের কথা ও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬২ সালে এই কাব্য রচনা করেন।
গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের ওভিডের হিরোইডেস কাব্যের অনুসরণে বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য রচিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা কাব্য।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মৌলিক পত্রকাব্য যেখানে পদের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: কবি ওভিডের হিরোইডেস কাব্য।
ব্যাখ্যা: এই লাতিন কাব্য থেকেই মধুসূদন দত্ত পত্রকাব্য লেখার প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মহাকাব্য — এটি মহাকাব্য নয়, কারণ এতে কোনো দীর্ঘ কাহিনীর ধারাবাহিক বিবরণ নেই বরং পত্রাকারে মনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।
B) গীতিকাব্য — এটি গীতিকাব্য বা লিরিক ধারার রচনা নয়, কারণ এখানে চরিত্রগুলোর আত্মকথন চিঠির আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
C) পত্রকাব্য — এই অপশনটি সঠিক কারণ এর প্রতিটি কবিতাই একেকটি পত্র বা চিঠি।
D) মঙ্গলকাব্য — মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগের দেবদেবীকে কেন্দ্র করে রচিত আখ্যানকাব্য যা এর সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
বীরাঙ্গনা মানেই পত্রের মাধ্যমে মনের কথা জানানো।
মধুসূদন দত্তের চিঠি লেখার কাব্য হলো বীরাঙ্গনা কাব্য।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক পত্রকাব্য হলো বীরাঙ্গনা কাব্য।
এই কাব্যে মোট একুশটি পত্র বা কবিতা রয়েছে এবং এর নারী চরিত্রগুলো অত্যন্ত বিদ্রোহী ও স্বাধীনচেতা।
সঠিক উত্তর: C) ভাষা আন্দোলন
১. কেন সঠিক:
- 'কবর' নাটকটির মূল পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে নাটকটি রচিত হয়েছে।
- নাটকটিতে কাল্পনিক ও প্রতীকী চরিত্রের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের অমর স্মৃতি এবং তাদের কবরের পবিত্রতা রক্ষার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দि থাকা অবস্থায় এই নাটকটি রচনা করেন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক এবং আধুনিক নাট্যসাহিত্যের একটি অনন্য মাইলফলক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের পটভূমিও ভাষা আন্দোলন।
ব্যাখ্যা: এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত প্রামাণ্য উপন্যাস।
উদাহরণ ২: আল মাহমুদের 'একুশে ফেব্রুয়ারি' কবিতা।
ব্যাখ্যা: এই সাহিত্যকর্মটিও ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সমৃদ্ধ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দেশভাগ — দেশভাগের পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস হলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' বা হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, কিন্তু কবর নাটকটি দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত নয়।
B) মুক্তিযুদ্ধ — মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত নাটক হলো মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' বা নূরুল মোমেনের নাটক, তবে কবর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
C) ভাষা আন্দোলন — এই অপশনটি সঠিক এবং নাটকের মূল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়।
D) গণ-অভ্যুত্থান — ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত সাহিত্যকর্ম ভিন্ন, কবর নাটকটি এর অনেক আগেই রচিত হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মুনীর চৌধুরী জেলে বসে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে 'কবর' নাটক লেখেন।
- নাটক ও লেখকের নাম মনে রাখার জন্য মনে রাখতে পারো জেলখানার ভেতরে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি নিয়ে প্রথম নাটক লিখেছিলেন মুনীর চৌধুরী।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি।
- নাট্যকার মুনীর চৌধুরী নিজেই জেলখানায় বন্দि অবস্থায় নাটকটির প্রথম নির্দেশক ও অভিনেতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সঠিক উত্তর: A) জনাকীর্ণ
১. কেন সঠিক:
- 'জনবিরল' শব্দের অর্থ হলো যেখানে মানুষের বসতি কম বা জনমানুষহীন পরিবেশ। এর ঠিক বিপরীত বা উল্টো অর্থ প্রকাশ করে এমন শব্দ হলো 'জনাকীর্ণ', যার অর্থ লোকে লোকারণ্য বা জনবহুল।
- বিপরীতার্থক শব্দ মূলত পরস্পর বিপরীত ভাব প্রকাশ করে, তাই কম মানুষের উপস্থিতির বিপরীত হলো অধিক মানুষের উপস্থিতি।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ব্যাকরণে বিপরীতার্থক শব্দ হলো এমন শব্দ যা অন্য একটি শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। মূল শব্দের উৎস বা গঠন অনুযায়ী বিপরীত শব্দ তৎসম, অর্ধতৎসম বা তদ্ভব হতে পারে।
- 'জনবিরল' একটি সমাসবদ্ধ শব্দ যা ব্যাসবাক্য করলে দাঁড়ায় জন দ্বারা বিরল, আর 'জনাকীর্ণ' শব্দটির অর্থ হলো জনে আকীর্ণ বা পূর্ণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ঢাকা শহর একটি জনাকীর্ণ নগরী।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে 'জনাকীর্ণ' শব্দটি দিয়ে অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ বা মানুষের ভিড় বোঝানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: সুন্দরবনের ভেতরের অংশ বেশ জনবিরল।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে 'জনবিরল' শব্দটি দিয়ে মানুষের কম উপস্থিতি বা নিরিবিলি পরিবেশ বোঝানো হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জনাকীর্ণ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি জনবিরল শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
B) জনহীন — এটি জনবিরল শব্দের সমার্থক শব্দ, তাই বিপরীত শব্দ হিসেবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
C) নির্জন — এটিও জনবিরল শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি বিপরীতার্থক নয়।
D) জনশূন্য — এটি জনবিরল শব্দের কাছাকাছি সমার্থক শব্দ, ফলে বিপরীতার্থক শব্দের চাহিদা পূরণ করে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বিরল মানে কম এবংীর্ণ বা পূর্ণ মানে বেশি, এই সূত্র ধরে জনবিরলের বিপরীত জনাকীর্ণ মনে রাখা সহজ।
- সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ পড়ার সময় মূল শব্দের আভিধানিক অর্থ ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিপরীতার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন আসে।
- সমার্থক শব্দ ও বিপরীতার্থক শব্দ গুলিয়ে ফেলা যাবে না, উত্তরের আগে শব্দের সঠিক অর্থ যাচাই করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ডমরুলীলা সাঙ্গ
১. কেন সঠিক:
- 'পটল তোলা' বাগধারাটির অর্থ মারা যাওয়া বা মৃত্যুবরণ করা।
- প্রদত্ত সঠিক উত্তর 'ডমরুলীলা সাঙ্গ' বাগধারাটির অর্থও মৃত্যুবরণ করা বা শেষ হওয়া, যা পটল তোলা এর সমার্থক।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দগুচ্ছ যা সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে বিশেষ বা লক্ষণার্থ প্রকাশ করে।
- মৃত্যুর সমার্থক বহু বাগধারা বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে, যেমন অনন্ত ধামে যাত্রা, অক্কা পাওয়া, চিরবিদায় নেওয়া ইত্যাদি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অক্কা পাওয়া
ব্যাখ্যা: এটিও 'পটল তোলা' বা মারা যাওয়ার সমার্থক একটি বহুল ব্যবহৃত বাগধারা।
উদাহরণ ২: অনন্ত ধামে যাত্রা
ব্যাখ্যা: এটি মৃত্যুর অন্য একটি সুন্দর ও কাব্যিক সমার্থক বাগধারা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ — এই বাগধারাটির অর্থ অপচয় বা অমিতব্যয়িতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা মৃত্যুর সমার্থক নয়।
B) ভবঘুরের পথে — এই বাগধারাটির অর্থ উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো বা আদা জল খেয়ে লাগা বোঝায় না, এটি মূলত যাযাবর জীবনকে নির্দেশ করে।
C) ডমরুলীলা সাঙ্গ — এটি সঠিক উত্তর এবং এর অর্থ মৃত্যু বা শেষ হয়ে যাওয়া।
D) পরের ধনে পোদ্দারি — এই বাগধারাটির অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে বা অর্থে গর্ব করা বা অপব্যয় করা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মৃত্যুর সমার্থক বাগধারাগুলো একসাথে মুখস্থ করতে পারো যেমন পটল তোলা, অক্কা পাওয়া এবং ডমরুলীলা সাঙ্গ।
- ডমরুলীলা সাঙ্গ মানে খেলা শেষ বা জীবন সাঙ্গ হওয়া, অর্থাৎ মৃত্যু।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমার্থক বাগধারা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- বাগধারার ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থ না ভেবে এর ভেতরের অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বা প্রমিত অর্থ মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) মরুত
১. কেন সঠিক:
মরুত শব্দটি সংস্কৃতে বায়ু বা বাতাস অর্থে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিশব্দ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শব্দের উৎস ও অর্থের গভীরতা বুঝতে হয়।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
সমার্থক শব্দের ক্ষেত্রে শব্দের মূল অর্থ এবং তার বহুবিধ ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হয়।
বায়ু শব্দের অন্যান্য প্রচলিত সমার্থক শব্দ হলো বাতাস, অনিল, সমীরণ, মারুত ইত্যাদি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনিল বইছে খুব জোরে।
ব্যাখ্যা: এখানে অনিল শব্দটির অর্থ বায়ু বা বাতাস।
উদাহরণ ২: সমীরণের ছোঁয়ায় মন জুড়িয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এখানে সমীরণ শব্দটি বায়ুর সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চঞ্চলা — চঞ্চলা শব্দটি বিদ্যুৎ বা চঞ্চল প্রকৃতির কোনো কিছুর সমার্থক শব্দ।
B) মরুত — মরুত শব্দটি বায়ু শব্দের সঠিক প্রতিশব্দ।
C) ক্ষণপ্রভা — ক্ষণপ্রভা শব্দটি বিদ্যুতের সমার্থক শব্দ কারণ এটি ক্ষণকালের জন্য দীপ্তি পায়।
D) চটুল — চটুল শব্দটি চঞ্চল বা দ্রুতগামী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
মরুভূমিতে যেমন প্রবল বায়ু বা মরুত বয়ে যায়, এভাবে মনে রাখতে পারো মরুত অর্থ বায়ু।
প্রতিশব্দ পড়ার সময় শব্দের মূল উৎস এবং প্রমিত রূপগুলো আলাদা করে চর্চা করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বায়ু, মেঘ, বৃষ্টি এবং নদী সংক্রান্ত সমার্থক শব্দগুলো খুব বেশি আসে।
পরীক্ষায় সঠিক উত্তর নির্বাচন করার আগে প্রতিটি শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সঠিক উত্তর: C) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
১. কেন সঠিক:
- বাংলা একাডেমির আঞ্চলিক অভিধান সংকলন ও সম্পাদনার সঙ্গে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম বিশেষভাবে জড়িত।
- বাংলা ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক শব্দ সংগ্রহ ও তার প্রমিত রূপদানে তার অবদান ঐতিহাসিক।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও গবেষক।
- বাংলা ভাষার ইতিহাস ও আঞ্চলিক উপভাষা নিয়ে তার গবেষণা বাংলা সাহিত্য ও ভাষাচর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আঞ্চলিক শব্দ ভাণ্ডার
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কথ্য ভাষার শব্দ নিয়ে এই অভিধান গঠিত হয়েছে।
উদাহরণ ২: চলিত ও প্রমিত রূপ
ব্যাখ্যা: আঞ্চলিক শব্দের পাশাপাশি তার সঠিক অর্থ ও মান্য রূপ এই অভিধানে স্থান পেয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ড. মুহম্মদ এনামুল হক — তিনি বাংলা একাডেমির বিভিন্ন গবেষণা ও অভিধান প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক নন।
B) ড. আহমদ শরীফ — তিনি মূলত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও মরমী সাহিত্য নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
D) নরেন বিশ্বাস — তিনি বাংলা উচ্চারণ ও ভাষা নিয়ে কাজ করলেও এই নির্দিষ্ট অভিধানের সম্পাদক নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
আঞ্চলিক ভাষার ওপর সবচেয়ে বড় পণ্ডিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তাই আঞ্চলিক অভিধান দেখলে তার নাম মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাষা ও অভিধান সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। বাংলা একাডেমির প্রধান প্রকাশনা ও অভিধানগুলোর সম্পাদকদের নাম ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) কাহ্ন পা
১. কেন সঠিক:
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্ন পা। তিনি মোট তেত্রিশটি পদ রচনা করেছিলেন যা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য ও সাহিত্য নিদর্শন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে ১৯০৭ সালে এটি আবিষ্কার করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাহ্ন পা চর্যাপদের ২৪ নম্বর পদটি রচনা করেছেন। এই পদে তাঁর রচনার গভীর দার্শনিক তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি চর্যাপদের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পদ যেখানে সহজিয়া সাধনার তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
উদাহরণ ২: ভুসুক পা চর্যাপদে আটটি পদ রচনা করেছেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা।
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের কবিদের মধ্যে ভুসুক পার পদের সংখ্যা ৮টি, যা কাহ্ন পার পরেই অবস্থান করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লুই পা — ইনি চর্যাপদের আদি কবি এবং মোট দুটি পদ রচনা করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর নয়।
B) কাহ্ন পা — ইনি চর্যাপদের সর্বমোট তেত্রিশটি পদ রচনা করেছেন, যা সবথেকে বেশি এবং তাই এটি সঠিক উত্তর।
C) কুক্কুরী পা — ইনি চর্যাপদের মোট তিনটি পদ রচনা করেছেন। তাই এটি কাঙ্ক্ষিত উত্তর নয়।
D) ভুসুক পা — ইনি চর্যাপদের মোট আটটি পদ রচনা করেছেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কিন্তু সর্বাধিক নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
সবচেয়ে বেশি পদের জন্য কাহ্ন পা মনে রাখতে পারেন কে তেত্রিশ দিয়ে। কাহ্ন পার পদের সংখ্যা তেত্রিশটি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা ও প্রধান কবিদের পদের সংখ্যা প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। যেমন লুই পার পদসংখ্যা দুটি এবং ভুসুক পার পদসংখ্যা আটটি।
সঠিক উত্তর: D) গোলাপ
১. কেন সঠিক:
- যে শব্দগুলোকে বিশ্লেষণ বা ভাঙা যায় না এবং যার কোনো প্রত্যয় বা উপসর্গ থাকে না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
- গোলাপ একটি মৌলিক শব্দ কারণ একে ভাঙলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ বা আলাদা কোনো শব্দ পাওয়া যায় না।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- গঠন অনুসারে বাংলা শব্দকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়, যথা মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
- যে শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যার মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে, তা মৌলিক শব্দ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নাক
ব্যাখ্যা: নাক শব্দটিকে ভাঙলে আর কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না, তাই এটি মৌলিক শব্দ।
উদাহরণ ২: হাত
ব্যাখ্যা: হাত শব্দটিকেও বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, তাই এটি একটি মৌলিক শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মানব — মানব একটি সাধিত শব্দ যা মনু শব্দের সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে।
B) ধাতব — ধাতব একটি সাধিত শব্দ যা ধাতু শব্দের সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে।
C) একাত্তর — একাত্তর একটি সংখ্যাবাচক শব্দ এবং এটি গঠনের দিক থেকে সাধিত শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।
D) গোলাপ — এটি সঠিক উত্তর কারণ গোলাপ শব্দটি মৌলিক শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ফুল, পাখি, বই, নাক, কান, কলম ও গোলাপ এ ধরনের পরিচিত ছোট শব্দগুলো সাধারণত মৌলিক শব্দ হয়।
- কোনো শব্দকে ভাঙলে যদি অর্থপূর্ণ মূল পাওয়া না যায়, তবে সেটি মৌলিক শব্দ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- মৌলিক শব্দ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শব্দটিকে ভেঙে দেখা যায় কি না তা পরীক্ষা করা।
সঠিক উত্তর: D) উন্নয়ন
১. কেন সঠিক:
উন্নয়ন শব্দটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ কারণ এটি কোনো কাজের ভাব বা অবস্থাকে প্রকাশ করে।
উৎ + নয়ন থেকে উৎপন্ন এই শব্দটি ক্রিয়ার ভাবের নাম বোঝাতে বিশেষ্য পদে পরিণত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যে শব্দ দ্বারা কোনো কিছুর নাম, গুণ, অবস্থা বা ভাবের প্রকাশ ঘটে তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
ভাববাচক বিশেষ্য হলো সেই বিশেষ্য যা কোনো কাজ করা বা হওয়ার ভাবকে প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গমন
ব্যাখ্যা: গমন শব্দটি যাওয়ার ভাব প্রকাশ করায় এটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য।
উদাহরণ ২: ভোজন
ব্যাখ্যা: ভোজন শব্দটি খাওয়ার ভাব নির্দেশ করায় এটি বিশেষ্য পদের অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পতিত — এটি একটি বিশেষণ পদ কারণ এর দ্বারা কোনো বিশেষ্য পদের দোষ বা গুণ বোঝায়।
B) জাতব — এটি বিশেষ্য পদ নয় বরং এটি শব্দ গঠনগতভাবে বিশেষণের রূপ প্রকাশ করে।
C) আগ্নেয় — এটি একটি বিশেষণ পদ যা অগ্নি থেকে উৎপন্ন বা সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
D) উন্নয়ন — সঠিক উত্তর হওয়ার কারণে এটি বিশেষ্যের উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
যে শব্দগুলোর শেষে অন প্রত্যয় যুক্ত থাকে এবং কোনো কাজের ভাব বোঝায়, সেগুলো সাধারণত ভাববাচক বিশেষ্য হয়।
উন্নয়ন, গমন, পঠন ইত্যাদি শব্দ দেখলেই বিশেষ্য হিসেবে চিনে নিতে পারবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ক্রিয়ামূলের সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কোন পদ গঠিত হলো, তা প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
শব্দের রূপ দেখে তা নামপদ না ভাববাচক পদ তা নির্ণয় করার অভ্যাস করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ৪ টি
১. কেন সঠিক:
ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় মূলত চারটি। ভাষা ও ব্যাকরণের মৌলিক কাঠامো বিশ্লেষণ করতে এই চারটি বিভাগ অপরিহার্য।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি যথা ধ্বনিমত, শব্দমত বা রূপমত, বাক্যমত এবং অর্থমত। প্রতিটি বিভাগে ভাষার নির্দিষ্ট একটি স্তর বা একক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ধ্বনিমত
ব্যাখ্যা: এটি ব্যাকরণের এমন একটি শাখা যেখানে ধ্বনির উচ্চারণ, বর্ণ এবং সন্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উদাহরণ ২: বাক্যমত
ব্যাখ্যা: এটি ব্যাকরণের এমন একটি শাখা যেখানে পদের ক্রম, কারক এবং বাচ্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২ টি — বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় দুটি নয়, কারণ ভাষা আরও সুনির্দিষ্ট শাখায় বিভক্ত।
B) ৪ টি — এই অপশনটি সঠিক কারণ ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি।
C) ৬ টি — ছয়টি কোনো প্রমিত ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় নয়।
D) ৮ টি — আটটি সংখ্যাটি ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
শব্দ মনে রাখার জন্য মনে রাখতে পারো ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ এই চারটি মূল স্তম্ভ। ব্যাকরণ মানেই এই চারটি স্তরের সুশৃঙ্খল বিন্যাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে যে ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় কয়টি। সঠিক উত্তর সবসময় চারটি হবে।
সঠিক উত্তর: D) ফারসি
১. কেন সঠিক:
- 'নিমরাজি' শব্দটিতে ব্যবহৃত 'নিম' একটি বিদেশি উপসর্গ, যার অর্থ অর্ধেক বা আধা।
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী 'নিম' উপসর্গটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি উপসর্গগুলোর মধ্যে ফারসি উপসর্গ অন্যতম একটি শ্রেণি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নিমরাজি
ব্যাখ্যা: এখানে 'নিম' উপসর্গটি 'রাজি' শব্দের পূর্বে বসে অর্ধেক রাজি বা কম রাজি অর্থে নতুন শব্দ তৈরি করেছে।
উদাহরণ ২: নিমরাজি
ব্যাখ্যা: ফারসি উপসর্গযুক্ত অন্যান্য শব্দের মতো এটিও বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আরবি — 'নিম' উপসর্গটি আরবি ভাষা থেকে আসেনি বরং এটি ফারসি ভাষার শব্দাংশ।
B) বাংলা — 'অ', 'অঘা', 'অাজ', 'উন' ইত্যাদি খাঁটি বাংলা উপসর্গ হলেও 'নিম' বাংলা নয়।
C) ইংরেজি — 'হেড', 'সাব', 'ফুল' ইত্যাদি ইংরেজি উপসর্গ, ফারসি ভাষার 'নিম' ইংরেজি নয়।
D) ফারসি — এটি সঠিক উত্তর কারণ 'নিম' একটি ফারসি উপসর্গ যা বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ফারসি উপসর্গগুলো মনে রাখার একটি সহজ ছন্দ হলো, কার, দর, কম, খাস, বে, বদ, বর, কম, নিম।
- এর মাধ্যমে 'নিম' উপসর্গটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে তা সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি উপসর্গ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- ফারসি উপসর্গের তালিকা ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজে সমাধান করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) অব্যয়ীভাব
১. কেন সঠিক:
উপশহর শব্দটিতে উপ উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। শহর শব্দের পূর্বে ক্ষুদ্র অর্থে উপ উপসর্গ যোগ হয়ে অব্যয়ীভাব সমাস গঠিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যে সমাসে পূর্বপদে উপসর্গ থাকে এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। এই সমাসে সাধারণত সামীপ্য, অভাব, ক্ষুদ্র, বিপ্সা ইত্যাদি অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়ে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উপগ্রহ
ব্যাখ্যা: গ্রহের সদৃশ বা ক্ষুদ্র অর্থে উপ উপসর্গ যোগে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে।
উদাহরণ ২: উপকূল
ব্যাখ্যা: কূলের সামীপ্য অর্থে উপ উপসর্গ যোগে অব্যয়ীভাব সমাস গঠিত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, যা এখানে নেই।
C) তৎপুরুষ — তৎপুরুষ সমাসে পরের পদের অর্থ প্রধান হয়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) বহুব্রীহি — বহুব্রীহি সমাসে পদগুলোর অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো পদকে বোঝায়, যা এখানে হয়নি।
৫. মনে রাখার টিপস:
উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দে যদি পূর্বপদের অর্থ বা উপসর্গটির বিশেষ অর্থ প্রাধান্য পায়, তবে সাধারণত তা অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
উপ উপসর্গ দিয়ে গঠিত সমাসগুলোতে প্রায়শই ক্ষুদ্র বা সামীপ্য অর্থ প্রকাশ পায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উপসর্গভিত্তিক সমাস নির্ণয়ের জন্য এই নিয়মটি খুব কাজে লাগে।
সঠিক উত্তর: C) চট্টোপাধ্যায়
১. কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে কোন বানানটি শুদ্ধ নয় তা জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী 'চট্টোপাধ্যায়' বানানটি ভুল, এর শুদ্ধ রূপ হলো 'চট্টোপাধ্যায়'।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে 'ও'-কার ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পদবিবাচক শব্দ যেমন বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় ইত্যাদিতে 'ও'-কার যুক্ত হয়, কিন্তু চট্টোপাধ্যায় বানানে 'ও'-কার যুক্ত না হয়ে 'অ' বা আকার যুক্ত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: এটি একটি শুদ্ধ পদবিবাচক বানান যেখানে শেষে 'ও'-কার যুক্ত হয়েছে।
উদাহরণ ২: মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: এটিও একটি শুদ্ধ পদবিবাচক বানান যেখানে নিয়ম অনুযায়ী 'ও'-কার ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বন্দ্যোপাধ্যায় — এটি একটি সম্পূর্ণ শুদ্ধ বানান এবং প্রমিত নিয়ম মেনে লেখা হয়েছে।
B) পঙ্ক — এটি একটি শুদ্ধ তৎসম শব্দ যার অর্থ কাদা বা পঙ্কিলতা।
C) চট্টোপাধ্যায় — এটি ভুল বানান কারণ এর সঠিক রূপ হলো চট্টোপাধ্যায়।
D) সংশয় — এটি একটি শুদ্ধ শব্দ যার অর্থ সন্দেহ বা দ্বিধা।
৫. মনে রাখার টিপস:
পদবিবাচক বানানের ক্ষেত্রে বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় বানানে 'ও'-কার ব্যবহার করবে। তবে চট্টোপাধ্যায় বানানের শেষে 'ও'-কার না দিয়ে 'অ' বা আকার ব্যবহার করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পদবিবাচক বানান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানরীতি অনুসরণ করে এসব বানান ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ব্ল্যাঙ্কভার্স
১. কেন সঠিক:
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি পরিভাষা হলো ব্ল্যাঙ্কভার্স যার অর্থ মিলহীন অমিল পদ্য।
- এই ছন্দে চরণের অন্তে মিল থাকে না এবং এর মূল ভিত্তি হলো স্বরবৃত্ত বা মাত্রাবৃত্ত ছন্দের পর্বভিত্তিক বিন্যাস।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট এবং ইংরেজি ব্ল্যাঙ্কভার্স বা অমিল পদ্যের অনুকরণে বাংলা সাহিত্যে এই ছন্দ সফলভাবে প্রবর্তন করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা: এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত একটি মহাকব্য যা সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য।
উদাহরণ ২: তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা: এটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি বিখ্যাত কাব্য যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এবং এটিই এই ছন্দে রচিত তাঁর প্রথম কাব্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হাইকু — এটি জাপানি একধরনের সংক্ষিপ্ত কবিতা যার নির্দিষ্ট মাত্রা বিন্যাস থাকে এবং এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ নয়।
B) সনেট — এটি চতুর্দশপদী কবিতা যার নির্দিষ্ট মিলবিন্যাস থাকে এবং এটি ব্ল্যাঙ্কভার্স বা অমিত্রাক্ষর ছন্দের সমার্থক নয়।
C) ব্ল্যাঙ্কভার্স — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের সঠিক ইংরেজি পরিভাষা।
D) লিমেরিক — এটি পাঁচ চরণের একধরনের হাস্যরসাত্মক লঘু পদ্য এবং এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অমিত্র মানে অমিল এবং ব্ল্যাঙ্ক মানে ফাঁকা বা মিলহীন।
- এই মিলহীন বৈশিষ্ট্যের কথা মনে রাখলে অমিত্রাক্ষর ও ব্ল্যাঙ্কভার্স এক সূত্রে গেঁথে রাখা সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক কে এবং তাঁর প্রথম মহাকাব্যের নাম কী, এই দুটি প্রশ্ন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- ইংরেজি ব্ল্যাঙ্কভার্স বাংলায় সার্থকভাবে ব্যবহারের কৃতিত্ব যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের, তা সবসময় মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) আধুনিক যুগ
১. কেন সঠিক:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের একটি অমর সৃষ্টি, যা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছেন।
- বাংলা সাহিত্যকে মূলত প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ঊনবিংশ শতাব্দীতে রচিত এই গ্রন্থটি আধুনিক যুগের অন্তর্ভুক্ত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই কাব্যগ্রন্থটির রচিয়তা হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি তাঁর কৈশোরে ভানুসিংহ ছদ্মনামে পদগুলো রচনা করেছিলেন।
- এটি বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে ব্রজবুলি ভাষায় রচিত একটি পদসংকলন, যা ১৮৮৪ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেঘদূত
ব্যাখ্যা: এটি কালীদাসের সংস্কৃত কাব্য এবং আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এর ওপর ভিত্তি করে সাহিত্যকর্ম রয়েছে।
উদাহরণ ২: গীতালি
ব্যাখ্যা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আধুনিক যুগের একটি বিখ্যাত গীতিকাব্য।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রাচীন যুগ — প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ এবং এই যুগটি শুরু হয়েছিল হাজার বছর আগে।
B) আধুনিক যুগ — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং এটি ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
C) মধ্যযুগ — মধ্যযুগের সাহিত্য প্রধানত মঙ্গলকাব্যের ও বৈষ্ণব পদাবলীর কাল যা এই গ্রন্থের রচনার সময়ের সঙ্গে মেলে না।
D) অন্ধকার যুগ — বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বা তুর্কি আক্রমণকাল বলতে ১২০১ থেকে ১২০৫ সাল পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক যুগের কবি হলেও তিনি মধ্যযুগের ভক্তিভাব এবং ব্রজবুলি ভাষা নকল করে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী লিখেছিলেন, তাই যুগ হিসেবে এটি আধুনিক যুগ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম হলো ভানুসিংহ।
- এই পদগুলি ব্রজবুলি ভাষায় রচিত এবং এই ধরনের সাহিত্যিক ছদ্মনাম প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) মুক্তক ছন্দ
১. কেন সঠিক:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থটি মূলত বাংলা কাব্যে গতির মুক্তি এবং গদ্যরীতির কাছাকাছি ছন্দের সার্থক প্রয়োগের জন্য বিখ্যাত।
এই কাব্যে প্রচলিত অক্ষরবৃত্ত বা স্বরবৃত্ত ছন্দের বাঁধাধরা নিয়ম ভেঙে ভাব ও গতির স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যা মুক্তক ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কাব্যে প্রথম সার্থকভাবে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তন করেন এবং তাঁর 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থটি এই ছন্দের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
১৯১৬ সালে প্রকাশিত 'বলাকা' কাব্যের কবিতাগুলোতে চলমান জীবনের গতিশীলতা ও পরিবর্তনের রূপ প্রকাশ করার জন্য মুক্তক ছন্দ বিশেষভাবে উপযোগী হয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বলাকা কাব্যের অন্তর্গত 'শাহজাহান' কবিতা
ব্যাখ্যা: এই কবিতায় ছন্দের কোনো গতানুগতিক মিল বা ধ্বনিসাম্যের কড়াকড়ি নেই, যা মুক্তক ছন্দের প্রকাশ।
উদাহরণ ২: বলাকা কাব্যের বিখ্যাত 'সবুজ অভিযান' কবিতা
ব্যাখ্যা: এখানে মুক্তক ছন্দের মাধ্যমে গতির আবেগ ও প্রাণের চাঞ্চল্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুক্তক ছন্দ — এটিই সঠিক উত্তর কারণ বলাকা কাব্যে এই ছন্দের সার্থক প্রয়োগ ঘটেছে।
B) স্বরবৃত্ত ছন্দ — স্বরবৃত্ত ছন্দ হলো খাঁটি বাংলা লোকছন্দ যা ছড়ার ছন্দ নামে পরিচিত এবং বলাকা এই ছন্দে রচিত নয়।
C) গদ্যছন্দ — গদ্যছন্দ ও মুক্তক ছন্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং বলাকা গদ্যছন্দে রচিত নয় বরং এটি মুক্তক ছন্দের কাব্য।
D) মন্দাক্রান্তা ছন্দ — মন্দাক্রান্তা হলো একটি সংস্কৃত বৃত্তাকার ছন্দ যা মেঘদূত কাব্যে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বলাকার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
রবীন্দ্রনাথের গতিশীল ভাবনার প্রতীক হলো বলাকা এবং ছন্দের ক্ষেত্রে গতির এই মুক্তি এসেছে মুক্তক ছন্দের মাধ্যমে।
বলাকা কাব্য এবং মুক্তক ছন্দ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল হলো ১৯১৬ সাল এবং এতে মোট বায়ান্নটি কবিতা রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: B) শ্রী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে
১. কেন সঠিক:
- অগ্নি-বীণা কাব্যটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন।
- বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ছিলেন প্রখ্যাত বিপ্লবী এবং ঋষি অরবিন্দ ঘোষের কনিষ্ঠ ভাই, যা নজরুলের বিপ্লবী চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অগ্নি-বীণা হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়।
- এই ঐতিহাসিক কাব্যগ্রন্থে মোট বারোটি বিখ্যাত কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী ও কামাল পাশা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী নজরুল ইসলামের সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল তার এই সংকলনটি তাকে উৎসর্গ করেন।
উদাহরণ ২: কাজী নজরুল ইসলামের বিষের বাঁশী কাব্যগ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজোপ্ত করেছিল।
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের কারণে এই কাব্যগ্রন্থটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে — এই অপশনটি ভুল কারণ শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক ছিলেন, যাকে নজরুল তার কোনো কাব্য উৎসর্গ করেননি।
B) শ্রী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে — এটি সঠিক উত্তর এবং বিপ্লবী চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে কাব্যটি তাকেই উৎসর্গ করা হয়েছিল।
C) শ্রীকৃষ্ণ মজুমদারকে — এই অপশনটি ভুল কারণ শ্রীকৃষ্ণ মজুমদার নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নি-বীণার প্রকাশক ছিলেন, উৎসর্গ গ্রহীতা নন।
D) শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে — এই অপশনটি ভুল কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নজরুল তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন, অগ্নি-বীণা নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বিপ্লবী চেতনা ও অগ্নিঝরা বারুদ বোঝাতে বারীন্দ্রকুমার ঘোষের কথা মনে রাখবে।
অগ্নি-বীণার প্রজ্জ্বলিত আগুন বিপ্লবীদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল এবং এর প্রথম কবিতার নাম বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত কাব্য বা উপন্যাসের উৎসর্গপত্র ও প্রকাশক সংক্রান্ত তথ্য সবসময় আলাদা করে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) পর্তুগিজ
১. কেন সঠিক:
- 'কামিজ' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- পর্তুগিজ বণিক ও ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে এই শব্দটি বাংলা শব্দভান্ডারে প্রবেশ করেছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের মধ্যে পর্তুগিজ শব্দ অন্যতম একটি উৎস।
- বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পর্তুগিজ ভাষার অনেক শব্দ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আনারস
ব্যাখ্যা: এটি একটি বহুল ব্যবহৃত পর্তুগিজ শব্দ যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য।
উদাহরণ ২: চাবি
ব্যাখ্যা: এই শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত আরেকটি অতিপরিচিত শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইংরেজি — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ কামিজ শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আসেনি।
B) হিন্দি — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ কামিজ হিন্দি ভাষার মূল শব্দ নয়।
D) ওলন্দাজ — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ ওলন্দাজ ভাষা থেকে কামিজ শব্দটি নেওয়া হয়নি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কিত কিছু বিদেশি শব্দ যেমন কামিজ পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে এটি মনে রাখতে হবে।
- প্রাত্যহিক জীবনের কিছু ফল ও বস্তুবাচক শব্দ মনে রাখলে উৎস নির্ণয় সহজ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- পর্তুগিজ শব্দের উৎস ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর সহজে করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) সিন্ধু হিন্দোল
১. কেন সঠিক:
- 'দারিদ্র' কবিতাটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এই কবিতায় কবি দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম এবং সমাজের বৈষম্যকে অত্যন্ত বাস্তব ও শিল্পসম্মতভাবে তুলে ধরেছেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, যিনি বাংলা কবিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন।
- 'সিন্ধু হিন্দোল' তাঁর অন্যতম প্রধান ও প্রখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা কবির মননশীল ও সাম্যবাদী চিন্তার পরিচায়ক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত কবিতা যা তাঁর অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
উদাহরণ ২: সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা: এটি নজরুল ইসলামের সমাজভিত্তিক কবিতার একটি অনন্য সংকলন যা একই নামের কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সাম্যবাদী - এই নামে কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা আছে, তবে 'দারিদ্র' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়।
B) বিষের বাঁশী - এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত বিদ্রোহী ও প্রগতিশীল কাব্যগ্রন্থ, যাতে 'দারিদ্র' কবিতাটি নেই।
C) সিন্ধু হিন্দোল - এটি সঠিক উত্তর এবং এই কাব্যগ্রন্থেই 'দারিদ্র' কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল।
D) অগ্নিবীণা - এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত এবং সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যার মধ্যে 'দারিদ্র' কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র' কবিতাটি 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত তা মনে রাখতে সিন্ধু সাগরের মতো বিশাল দারিদ্র্যের ঢেউ এভাবে ভাবা যেতে পারে।
- কবির সাহিত্যকর্ম মনে রাখার জন্য প্রতিটি কাব্যগ্রন্থের নাম আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করে পড়া উচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবির বিখ্যাত কবিতার কাব্যগ্রন্থের নাম প্রায়ই আসে।
- বিদ্রোহী কবির অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ যেমন সঞ্চিতা, প্রলয়োল্লাস এবং চক্রবাক সম্পর্কেও ধারণা রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: A) সরল
১. কেন সঠিক:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। প্রদত্ত বাক্যে ময়ূর হলো কর্তা এবং নৃত্য করে হলো সমাপিকা ক্রিয়া।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাক্য রূপান্তরের নিয়মানুযায়ী সরল বাক্যে প্রধানত একটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য বা সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। এখানে মেঘ গর্জন করলে অংশটি অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বাক্যাংশ এবং ময়ূর নৃত্য করে অংশটি সমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত প্রধান খণ্ডবাক্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সূর্য উঠলে পদ্ম ফোটে।
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া ফোটে আছে এবং এটি একটি সরল বাক্য।
উদাহরণ ২: বৃষ্টি থামলে আমরা রওনা দেব।
ব্যাখ্যা: এখানে মূল সমাপিকা ক্রিয়া হলো রওনা দেব এবং এটি সরল বাক্যের গঠন অনুসরণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সরল — এটি সঠিক কারণ বাক্যটিতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।
B) জটিল — জটিল বাক্যে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, যা এই বাক্যে নেই।
C) যৌগিক — যৌগিক বাক্যে একাধিক স্বাধীন বাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে, যা এখানে অনুপস্থিত।
D) মিশ্রবাক্য — জটিল বাক্যের অপর নাম মিশ্রবাক্য, যা এই সাধারণ বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে চোখ বন্ধ করে তাকে সরল বাক্য হিসেবে চিহ্নিত করবে। সরল বাক্যে কোনো যোজক বা সংযোজক অব্যয় সাধারণত থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাক্য রূপান্তর থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বাক্যাংশ থাকলে তাকে জটিল ভেবে ভুল করা যাবে না, সমাপিকা ক্রিয়ার সংখ্যা দেখতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) প্রত্যুদগমন
১. কেন সঠিক:
- 'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' করার বিশেষ অবস্থাকে এককথায় প্রত্যুদগমন বলা হয়।
- এখানে প্রতি উপসর্গ এবং উদগম ধাতু মিলে শব্দটি গঠিত হয়েছে যার মূল অর্থ সামনে এগিয়ে যাওয়া।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি এককথায় প্রকাশ বা বাক্যসংক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ করে।
- একাধিক পদ বা বাক্যকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করার মাধ্যমে ভাষার সৌন্দর্য ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যা পূর্বে কখনো ঘটে নি = অভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা: অতীতে ঘটেনি এমন ঘটনা বোঝাতে এই এককথায় প্রকাশ ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: নদী মাতা যার = নদীমাতৃক
ব্যাখ্যা: দেশের ভূপ্রকৃতি বা নদীভিত্তিক বৈশিষ্ট্য বোঝাতে এই এককথায় প্রকাশ ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আবাহন — এর অর্থ কোনো কিছুকে আহ্বান করা বা নিমন্ত্রণ জানানো, যা সামনে এগিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর সমার্থক নয়।
B) স্বাগতম — এর অর্থ সুন্দরভাবে গ্রহণ করা বা সম্ভাষণ জানানো, কিন্তু এটি অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া বোঝায় না।
D) সম্ভাষণ — এর অর্থ কাউকে অভিবাদন বা কথা বলা, যা সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার ভাবটি প্রকাশ করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- প্রত্যুদগমন শব্দটিতে প্র এবং উদগম যুক্ত আছে যার অর্থ সামনে যাওয়া।
- অভ্যর্থনার জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়া বুঝলেই প্রত্যুদগমন উত্তর নির্বাচন করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- বিশেষ করে যাতায়াত বা গমন সম্পর্কিত বাক্যসংক্ষেপগুলো ভালোভাবে চর্চা করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) পুনরাবৃত্তি অর্থে
১. কেন সঠিক:
- 'আর' শব্দটি এখানে একই কাজের বা ঘটনার পুনারবৃত্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- বাক্যে 'যাব না' কাজটি পূর্বেও নিষেধ করা হয়েছিল এবং বক্তা তা আবারও নিশ্চিত করছেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- 'আর' একটি বহুর্থক শব্দ যা বাক্য বা প্রমিত ব্যবহারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে।
- পুনারবৃত্তি বা আধিক্য বোঝাতে এই অব্যয় সূচক শব্দটি বাক্যের ভাবকে জোরালো করে তোলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজটি আর করো না।
ব্যাখ্যা: এখানে নিষেধের পুনরাবৃত্তি বোঝাতে 'আর' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
উদাহরণ ২: তাকে আর ডাকিস না।
ব্যাখ্যা: পূর্বের ডাক দেওয়ার নিষেধের ধারাবাহিকতা বা পুনরাবৃত্তি বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নির্দেশ অর্থে — নির্দেশ বলতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা আদেশ বোঝায়, যা এখানে নেই।
B) পুনরাবৃত্তি অর্থে — এটি সঠিক কারণ শব্দটি একই ঘটনার পুনরায় ঘটার ইঙ্গিত দেয়।
C) স্বীকৃতিজ্ঞাপন অর্থে — স্বীকৃতি বা সম্মতি প্রকাশের জন্য এই শব্দটি বাক্যে ব্যবহার করা হয়নি।
D) বিস্ময় প্রকাশে — বিস্ময় বা তাজ্জব প্রকাশ করার কোনো ভাব এই বাক্যে অনুপস্থিত।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কোনো কাজ বা অবস্থা পূর্বে ঘটার পর তা আবার নিষেধ বা বোঝাতে 'আর' ব্যবহৃত হলে তা পুনরাবৃত্তি অর্থ প্রকাশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বহুর্থক শব্দের বিভিন্ন অর্থভিত্তিক ব্যবহার থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) অকাল
১. কেন সঠিক:
- উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন বা সংকোচন ঘটায়।
- অকাল শব্দটিতে অ হলো একটি খাটি বাংলা উপসর্গ যা মন্দ বা খারাপ অর্থে কাল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- যে অব্যয় বা অব্যয়স্থানীয় শব্দ বা শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ মোট একুশটি এবং তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ কুড়িটি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অপরাজিতা
ব্যাখ্যা: এখানে অপ উপসর্গটি রাজিতা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থ প্রকাশ করেছে।
উদাহরণ ২: পরিভাষা
ব্যাখ্যা: এখানে পরি উপসর্গটি ভাষা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ তৈরি করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নবান্ন — এটি সন্ধি সাধিত শব্দ, নব যোগ অন্ন মিলে নবান্ন হয়েছে যেখানে কোনো উপসর্গ নেই।
B) অকাল — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি উপসর্গ যোগে গঠিত হয়েছে।
C) পঙ্কজিল — এটি প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ, পঙ্ক এর সাথে ইলো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে পঙ্কজিল হয়েছে।
D) ঢাকাই — এটি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ, ঢাকা শব্দের সাথে আই প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ঢাকাই হয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- উপসর্গ শব্দের শুরুতে বসে এবং প্রত্যয় শব্দের শেষে বসে এই বিষয়টি মনে রাখলেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা সহজ হয়।
- বাংলা উপসর্গ একুশটি মুখস্থ রাখার জন্য ছন্দের সাহায্য নিতে পারো যেমন অ অঘা অজ অনা ইত্যাদি।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই শব্দ গঠন প্রক্রিয়া থেকে প্রশ্ন আসে যেখানে উপসর্গ ও প্রত্যয় আলাদা করতে হয়।
- কোনো শব্দে উপসর্গ আছে কি না তা বুঝতে শব্দের মূল অংশ আলাদা করে দেখতে হবে যে শুরুতে কোনো অব্যয় আছে কি না।
সঠিক উত্তর: C) মিতালি
১. কেন সঠিক:
- মিতালি শব্দটি গঠিত হয়েছে মিত + আলি প্রত্যয় যোগে, যেখানে মিত হলো বিশেষ্য পদ এবং আলি হলো তদ্ধিত প্রত্যয়।
- বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- প্রাতিপদিক বা নাম প্রকৃতির পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে এবং সাধিত শব্দটিকে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলা হয়।
- ধাতুর পরে যা যুক্ত হয় তাকে কৃত প্রত্যয় বলে, কিন্তু নাম পদের পরে তদ্ধিত প্রত্যয় বসে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাবু + আনা = বাবুটানা
ব্যাখ্যা: বিশেষ্য পদের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ভাববাচক বা গুণবাচক নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ ২: মেসো + মাসি = মেসোমশাই (এখানে মেসো + উয়া = মেসোয়া জাতীয় শব্দ হতে পারে, যেমন হাত + উয়া = হাতিয়া)। সহজ উদাহরণ হলো হাত + ই = হতি বা ঘর + উয়া = গেঁয়ো।
ব্যাখ্যা: নাম প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত করার এটি একটি সাধারণ ব্যাকরণগত প্রক্রিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দাপট — এটি মূল ধাতু বা শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত কৃত প্রত্যয় সাধিত শব্দ বা কৃদন্ত শব্দ।
B) পেঁটরা — এটি একটি দেশি শব্দ বা অন্য প্রক্রিয়ায় গঠিত শব্দ, যা তদ্ধিত প্রত্যয়ের সরাসরি উদাহরণ নয়।
D) যাচাই — এটি কৃদন্ত শব্দ বা ভিন্ন ব্যাকরণিক প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ, যার সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয়ের সম্পর্ক নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কৃদন্ত প্রত্যয় চেনার সহজ উপায় হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে প্রত্যয় খোঁজা।
- তদ্ধিত প্রত্যয় চেনার সহজ উপায় হলো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়া মনে রাখা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তদ্ধিত ও কৃদন্ত প্রত্যয় থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
- শব্দ বিশ্লেষণ করার সময় মূল অংশটি নাম পদ নাকি ক্রিয়ামূল, তা প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) আরেফ আলী
১. কেন সঠিক:
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আরেফ আলী কারণ তিনি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ও বর্ণনাকারী।
- আরেফ আলী গ্রামীণ এক মফস্বল স্কুলের শিক্ষক যিনি নৈতিকতা ও আত্মোপলব্ধির এক তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বাংলা সাহিত্যের একজন আধুনিক মননশীল কথাশিল্পী যিনি অস্তিত্ববাদী চেতনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে এবং এটি মনস্তাত্ত্বিক ও অস্তিত্ববাদী উপন্যাসের এক অনন্য নিদর্শন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লালসালু উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সবচেয়ে বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস যা গ্রামীণ সমাজের ধর্মান্ধতা নিয়ে রচিত।
উদাহরণ ২: কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাস
ব্যাখ্যা: এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর আরেকটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস যা মানুষের নিঃসঙ্গতা ও নদীকেন্দ্রিক জীবন তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মুহাম্মদ মুস্তফা — এটি চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কোনো প্রধান চরিত্র নয় বরং অন্য কোনো কাহিনীর চরিত্র।
B) আরেফ আলী — এই অপশনটি সঠিক এবং এটি চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের মূল নায়ক।
C) মজিদ — মজিদ চরিত্রটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও প্রতারক প্রধান চরিত্র।
D) কাদের — কাদের চরিত্রটি চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের নায়ক নয় বরং অন্য কোনো সাহিত্যকর্মের চরিত্র।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসের নায়কদের মনে রাখতে ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাস লালসালুর মজিদ চাঁদের অমাবস্যার আরেফ আলী এবং কাঁদো নদী কাঁদো এর দলীয় চরিত্রগুলো মাথায় রাখবে।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের শিক্ষক আরেফ আলীর নাম এভাবে মনে রাখতে পারো যে তার জীবনে অন্ধকারের অমাবস্যা নেমেছিল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মাত্র তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে যা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- উপন্যাস তিনটির নাম এবং তাদের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ভালোভাবে মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) স্বর্ণ
১. কেন সঠিক:
- হেম শব্দের মূল অর্থ হলো সোনা বা স্বর্ণ। বাংলা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শব্দের উৎস ও সমার্থক শব্দ নির্ণয়ে এই ধরনের তৎসম শব্দ প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হেম একটি তৎসম শব্দ যার প্রাচীন ও কাব্যিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কবি ও সাহিত্যিকগণ তাঁদের রচনায় সোনা বোঝাতে এই শব্দটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থবাচকতা বিচার করলে হেম একটি বিশেষ্য পদ এবং এটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত হেমন্ শব্দ থেকে হেম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে যা বাংলা কবিতায় বহুবার অবিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে পদাবলী সাহিত্য এবং আধুনিক কাব্যে হেমালয় বা হেমবর্ণ ইত্যাদি শব্দে এই হেম শব্দের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হেমবর্ণ
ব্যাখ্যা: হেমবর্ণ শব্দের অর্থ সোনালি রঙ বা সোনার মতো উজ্জ্বল বর্ণ, যেখানে হেম শব্দটি স্বর্ণের দ্যুতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উদাহরণ ২: হেমকূট
ব্যাখ্যা: হেমকূট হলো পৌরাণিক উপকথায় উল্লেখিত স্বর্ণময় পর্বত, যা হেম শব্দের প্রয়োগের একটি ধ্রুপদী দৃষ্টান্ত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সুধাকর — সুধাকর শব্দের অর্থ চন্দ্র বা চাঁদ, যা অমৃতের উৎস বোঝায় এবং হেম শব্দের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
B) মুক্তা — মুক্ত ঝিনুকের ভেতরে উৎপন্ন এক প্রকার রত্ন বা মুকুতিন বোঝায়, যা হেম বা স্বর্ণের সমার্থক শব্দ নয়।
C) রত্ন — রত্ন একটি সাধারণ পরিভাষা যা বহুমূল্য যেকোনো পাথরকে বোঝায়, কিন্তু হেম নির্দিষ্টভাবে স্বর্ণকে নির্দেশ করে।
D) স্বর্ণ — এই অপশনটি সঠিক কারণ হেম শব্দের সরাসরি অর্থ স্বর্ণ বা সোনা।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হেমন্তকালে ধানের শিষ পেকে সোনালী রঙ ধারণ করে এবং হেম মানে সোনা, এভাবে মিলিয়ে মনে রাখা সহজ হয়।
- হেমালয় মানে সোনার পাহাড়, এই কৌশলটি মনে রাখলে হেম শব্দের অর্থ কখনো ভুল হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঠিক অর্থ জানতে চাওয়া হয়।
- হেম, কাঞ্চন, কনক, হিরণ্য - এই শব্দগুলো সমার্থক শব্দ হিসেবে একসঙ্গে পড়লে যেকোনো পরীক্ষায় উত্তর করা সহজ হবে।
সঠিক উত্তর: D) নিজ বাসভূমে
১. কেন সঠিক:
- 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি আহসান হাবীবের রচনা, জীবনানন্দ দাশের নয়।
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা আধুনিক কবিতার রূপসী বাংলা এবং প্রকৃতির এক অনন্য কবি, যার সাহিত্যকর্মের তালিকা নির্দিষ্ট।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জীবনানন্দ দাশ বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী এবং সাতটি তারার তিমিৰ বিশেষভাবে পরিচিত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বনলতা সেন
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিশ্বখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা আধুনিক বাংলা কবিতার ক্লাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদাহরণ ২: ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ, যা তাঁর কবিমানস ও রূপসী বাংলার প্রকৃতির অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঝরা পালক — এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে না।
B) মহাপৃথিবী — এটি জীবনানন্দ দাশের চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে না।
C) সাতটি তারার তিমিৰ — এটি জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি সঠিক উত্তরের শর্ত পূরণ করে না।
D) নিজ বাসভূমে — এটি কবি আহসান হাবীবের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এবং জীবনানন্দ দাশের রচনা নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
জীবনানন্দ দাশের প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো মনে রাখার জন্য প্রথম দিকের লেখা যেমন ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন এবং মহাপৃথিবীর নামগুলো বারবার চর্চা করতে পারো।
আহসান হাবীবের মতো অন্য লেখকদের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম আলাদা করে তালিকাভুক্ত করে পড়লে এই ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কবি ও সাহিত্যিকদের গ্রন্থ মিলকরণ বা কোনটি কার রচনা নয় ধরনের প্রশ্ন আসে।
তাই প্রতিটি কবির প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা সবসময় মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: C) আরোক ফাল্গুন (উল্লেখ্য, প্রশ্নটিতে প্রমিত বানান হবে 'আরেক ফাল্গুন')
১. কেন সঠিক:
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো জহির রায়হানের বিখ্যাত উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন', যা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের পটভূমি এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এই উপন্যাসের রচিয়তা প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, যিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারার উপন্যাসিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং রাজপথের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলা উপন্যাসে এই প্রথম শিল্পসম্মত প্রকাশ ঘটেছিল।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আরেক ফাল্গুন উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক একটি কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
উদাহরণ ২: জহির রায়হানের বরফ গলা নদী একটি সামাজিক উপন্যাস।
ব্যাখ্যা: লেখকের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মৃত্যুক্ষুধা — এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নয়।
B) লালসালু — এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত গ্রামীণ সমাজ ও অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি ক্লাসিক উপন্যাস।
C) আরোক ফাল্গুন — প্রদত্ত উত্তরে সামান্য বানান ত্রুটি থাকলেও এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস হিসেবে নির্ভুল।
D) ঘর মন জানালা — এটি রশীদ করীম রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ আলাদা।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ভাষা আন্দোলন মানেই জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি মনে রাখবে।
- আন্দোলনের মাস ফাল্গুন আর উপন্যাসটির নামও ফাল্গুন সম্পর্কিত হওয়ায় এটি সহজে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি, তা বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- জহির রায়হান রচিত অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে শেষ বিকেলের মেয়ে এবং হারের প্রতীক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সঠিক উত্তর: B) neither do I
কেন সঠিক:
- পূর্বের নেতিবাচক বক্তব্যের সাথে নিজের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বোঝাতে Neither + auxiliary verb + subject এই গঠন ব্যবহার করা হয়।
- এখানে প্রথম বাক্যের auxiliary verb হিসেবে doesn ব্যবহৃত হয়েছে যার present indefinite রূপের জন্য Do ব্যবহার করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) neither I do — এখানে Subject এবং Auxiliary verb এর বিন্যাস ভুল রয়েছে কারণ Neither এর পর প্রথমে Auxiliary verb বসাতে হয়।
B) neither do I — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং এর গঠন সম্পূর্ণ ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী নির্ভুল।
C) either do I — Either সাধারণত নেতিবাচক বাক্যের শেষে বসে, কিন্তু বাক্যের শুরুতে নেতিবাচক সম্মতি জানাতে Neither ব্যবহার করতে হয়।
D) I do either — এই গঠনটি ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়মের সাথে মিলে না এবং অর্থ প্রকাশে ব্যর্থ হয়।
মনে রাখার টিপস:
নেতিবাচক বাক্যের সাথে একমত হতে Neither এর পর প্রথমে Auxiliary verb এবং পরে Subject বসবে।
সঠিক উত্তর: A) Show
কেন সঠিক:
- বাক্যে make হলো একটি causative verb যার পর object এবং তারপর verb এর base form বা bare infinitive বসে।
- এই নিয়মানুসারে to ছাড়া মূল verb বসে, তাই show সঠিক উত্তর।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Show — এটি সঠিক কারণ causative verb এর পর verb এর base form বসে।
B) To show — ভুল কারণ causative verb এর পর infinitives বা to বসানো যায় না।
C) Showing — ভুল কারণ causative verb এর পর verb এর সঙ্গে ing যুক্ত হয় না।
D) Have shown — ভুল কারণ এখানে perfect tense এর কোনো প্রয়োজন নেই।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যে make, let, help ইত্যাদি থাকলে পরের verb টি সর্বদা base form হয়।
সঠিক উত্তর: C) Irritate
কেন সঠিক:
- Soothe শব্দটির অর্থ শান্ত করা, সান্ত্বনা দেওয়া বা ব্যথা কমানো।
- Irritate শব্দটির অর্থ বিরক্ত করা বা উত্যক্ত করা, যা Soothe শব্দটির বিপরীতার্থক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Conceal — এর অর্থ লুকানো বা গোপন করা, যা Soothe শব্দের বিপরীত নয়।
B) Charm — এর অর্থ মুগ্ধ করা বা আকর্ষণ করা, যা Soothe শব্দের কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে।
C) Irritate — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, যার অর্থ বিরক্ত করা।
D) Tolerate — এর অর্থ সহ্য করা, যা Soothe শব্দের বিপরীত বা সঠিক এন্টোনিম নয়।
মনে রাখার টিপস:
Soothe মানে প্রশান্তি, আর Irritate মানে বিরক্তি। শান্ত করার বিপরীত হলো বিরক্ত করা।
সঠিক উত্তর: A) Transient
কেন সঠিক:
- 'Ephemeral' শব্দের অর্থ ক্ষণস্থায়ী বা অল্পস্থায়ী, যা দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
- প্রদত্ত উত্তরের 'Transient' শব্দটির অর্থও ক্ষণস্থায়ী বা স্বল্পস্থায়ী, যা মূল শব্দের সমার্থক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Transient — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ ক্ষণস্থায়ী, যা 'ephemeral' শব্দের সমার্থক।
B) Necessary — এর অর্থ প্রয়োজনীয়, যা ক্ষণস্থায়ী বা পরিবর্তনের ধারণার সাথে মেলে না।
C) Obvious — এর অর্থ স্পষ্ট বা দৃশ্যমান, যা শব্দের মূল অর্থের সাথে সম্পর্কিত নয়।
D) Custom — এর অর্থ প্রথা বা রীতিনীতি, যা এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
মনে রাখার টিপস:
'Ephemeral' এবং 'Transient' উভয় শব্দই ক্ষণস্থায়ী বা স্বল্পস্থায়ী কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: A) out
কেন সঠিক:
- Blow out একটি গ্রুপ ভার্ব, যার অর্থ নিভিয়ে ফেলা।
- বাতাস বা ফুঁ দিয়ে আগুন বা মোমবাতি নেভানোর ক্ষেত্রে out প্রিপজিশনটি ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) out — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি আগুন বা মোমবাতি নিভিয়ে ফেলার সঠিক গ্রুপ ভার্ব গঠন করে।
B) away — এটি কোনো কিছু দূরে সরিয়ে নেওয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা মোমবাতি নিভানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
C) up — এটি সাধারণত কোনো কিছু ওপরের দিকে তোলা বা ধ্বংস করা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে সঠিক নয়।
D) of — এটি সাধারণত উৎস বা অধিকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের অর্থের সঙ্গে সংগত নয়।
মনে রাখার টিপস:
বাতাস দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে ফেলা বোঝালে সবসময় Blow এর সাথে out ব্যবহার করবে।
সঠিক উত্তর: A) Discern
কেন সঠিক:
- বাক্যে 'make out' ফ্রেজাল ভার্বটি অস্পষ্ট বৃষ্টির মধ্যে ট্রাফিক সংকেত দেখতে বা বুঝতে পারার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
- 'Discern' শব্দটির অর্থ কোনো কিছু কষ্টে হলেও স্পষ্টভাবে দেখা বা উপলব্ধি করা, যা প্রদত্ত বাক্যের অর্থের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Discern — এই অপশনটি সঠিক কারণ এর অর্থ দেখা বা বুঝতে পারা, যা 'make out'-এর সমার্থক।
B) Violet — এটি একটি রঙের নাম, যার সঙ্গে দেখার বা বোঝার কোনো সম্পর্ক নেই।
C) Obey — এর অর্থ মান্য করা বা আদেশ পালন করা, যা এখানে অর্থ প্রকাশ করে না।
D) Await — এর অর্থ অপেক্ষা করা, যা বাক্যের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখার টিপস:
অস্পষ্ট কিছু কষ্ট করে চোখে পড়া বা বুঝতে পারা বোঝালে 'make out' এবং 'discern' সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) To remain neutral
কেন সঠিক:
- এই ইডিয়মটির আক্ষরিক অর্থ হলো কোনো বেড়ার ওপর বসে থাকা, যা দুটি পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থান বোঝায়।
- এটি রূপক অর্থে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষে না থেকে নিরপেক্ষ থাকা বা সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় থাকাকে নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) To keep away — এর অর্থ দূরে থাকা, যা নিরপেক্ষ থাকার সমার্থক নয়।
B) To remain neutral — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ নিরপেক্ষ থাকা।
C) To be in danger — এর অর্থ বিপদে থাকা, যা এই ইডিয়মের ভাবের সাথে মেলে না।
D) To guard someone— এর অর্থ কাউকে পাহারা দেওয়া, যা বেড়ার ওপর বসার সাথে সম্পর্কিত নয়।
মনে রাখার টিপস:
বেড়ার ওপর (Fence) বসে থাকা ব্যক্তি ঘরের ভেতরেও যায় না, বাইরেও যায় না; সে দুই দলের মাঝামাঝি অর্থাৎ নিরপেক্ষ থাকে।
বিষয়: ভাষা ও ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর: B) than
কেন সঠিক:
- No sooner এর পর সাধারণত Past Indefinite Tense এবং পরের অংশে than এর পর Past Indefinite Tense বসে।
- No sooner যুক্ত বাক্যের correlative conjunction হিসেবে हमेशा than ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) after — এটি Scarcely বা Hardly এর সাথে when ব্যবহৃত হয়, No sooner এর সাথে নয়।
B) than — এটি প্রদত্ত বাক্যের সঠিক উত্তর কারণ এটি No sooner এর সাথে জোড়া গঠন করে।
সি) before — এটি Hardly বা Barely এর সাথে ব্যবহৃত হয়, No sooner এর সাথে বসে না।
ডি) then — এটি দেখতে কাছাকাছি হলেও No sooner এর সাথে নিয়ম অনুযায়ী ভুল শব্দ।
মনে রাখার টিপস:
No sooner দেখলে মনে রাখবে জোড়ায় জোড়ায় than বসে।
সঠিক উত্তর: B) had not
কেন সঠিক:
- প্রধান ক্লজটি পাস্ট টেন্সে (We asked) থাকায় পরবর্তী ক্লজেও পাস্ট টেন্স বা তার আগের ঘটনা বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স ব্যবহৃত হয়।
- নির্দিষ্ট সময়ের (earlier) আগে কোনো কাজ সম্পন্ন না হওয়া বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্সের নেতিবাচক রূপ (had not) সঠিক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) did not — এটি প্রেজেন্ট বা পাস্ট ইনডিফিনিট টেন্সে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের পাস্ট পারফেক্ট প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মেলে না।
B) had not — এটি সঠিক উত্তর, কারণ প্রধান ক্লজ পাস্ট টেন্সে থাকায় আগের ঘটনা বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট টেন্স বসেছে।
C) has not — এটি প্রেজেন্ট পারফেক্ট টেন্স, কিন্তু প্রধান ক্লজটি পাস্ট টেন্সে থাকায় এটি এখানে ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
D) was not — এটি পাস্ট কন্টিনিউয়াস টেন্সের নেতিবাচক রূপ বা প্যাসিভ গঠন, যা এখানে অর্থপূর্ণ নয়।
মনে রাখার টিপস:
প্রধান ক্লজ পাস্ট টেন্সে থাকলে পরের অংশে আগের ঘটনা বোঝাতে পাস্ট পারফেক্ট (had + verb এর পাস্ট পার্টিসিপল) ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) does she
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি নেতিবাচক বা না-বোধক (doesn't like), তাই এর ট্যাগ কোশ্চেনটি অবশ্যই ইতিবাচক বা হ্যাঁ-বোধক হবে।
- মূল বাক্যের সাবজেক্ট হলো My sister (নারী বা স্ত্রীবাচক), যার পরিবর্তে প্রোনাউন হিসেবে she ব্যবহৃত হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) does she — এটি সঠিক উত্তর কারণ মূল বাক্য না-বোধক হওয়ায় এখানে ইতিবাচক সাহায্যকারী ভাব ও সঠিক প্রোনাউন ব্যবহার করা হয়েছে।
B) did she — বাক্যটি বর্তমান কালের (doesn't), কিন্তু এই অপশনে অতীত কালের সাহায্যকারী ভাব ব্যবহার করা হয়েছে।
C) doesn’t she — মূল বাক্যটি ইতিমধ্যে না-বোধক হওয়ায় ট্যাগ কোশ্চেনটি না-বোধক হতে পারে না।
D) won’t she — বাক্যটি বর্তমান কালের সাধারণ সত্য প্রকাশ করছে, কিন্তু এখানে ভবিষ্যৎ কালের সাহায্যকারী ভাব ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বাক্য না-বোধক হলে ট্যাগ কোশ্চেন হ্যাঁ-বোধক হয় এবং বাক্য হ্যাঁ-বোধক হলে ট্যাগ কোশ্চেন না-বোধক হয়।
সঠিক উত্তর: B) lose
কেন সঠিক:
- শূন্যস্থানের আগে infinitival marker 'to' রয়েছে, যার পরে verb-এর base form বসে।
- 'lose' হলো একটি verb যার অর্থ হারানো বা ওজন কমানো।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) loose — এটি একটি adjective যার অর্থ ঢিলা বা আলগা, যা এখানে verb-এর কাজ করতে পারে না।
B) lose — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি verb এবং ওজন কমানোর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
C) loss — এটি একটি noun যার অর্থ ক্ষতি, তাই এটি verb-এর জায়গায় বসতে পারে না।
D) lost — এটি verb-এর past বা past participle রূপ, যা 'to'-র পরে বসে না।
মনে রাখার টিপস:
Lose বানানে একটি o আছে এবং এটি verb। Loose বানানে দুটি o আছে এবং এটি adjective।
সঠিক উত্তর: A) Obligatory
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত শব্দ 'obligate' হলো একটি ভার্ব, যার সাথে '-ory'Suffix যুক্ত হয়ে অ্যাডজেক্টিভ গঠিত হয়।
- 'Obligatory' শব্দটি কোনো কিছু বাধ্যতামূলক বা অবশ্যপালনীয় বোঝাতে অ্যাডজেক্টিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Obligatory — এটি একটি সঠিক অ্যাডজেক্টিভ রূপ, যা বাধ্যতামূলক অর্থ প্রকাশ করে।
B) Obligatoriness — এটি একটি নাউন, যার অর্থ বাধ্যতামূলকতা বা আবশ্যকতা।
C) Obligative — এটি ব্যাকরণগতভাবে আদর্শ বা প্রচলিত শব্দ নয়, তাই সঠিক অ্যাডজেক্টিভ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
D) Obligation — এটি একটি নাউন, যার অর্থ বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্ব।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি শব্দে সাধারণত '-ory' যুক্ত থাকলে তা অ্যাডজেক্টিভ হয়, যেমন- obligate থেকে obligatory।
সঠিক উত্তর: A) The teacher said that Honesty is the best policy.
কেন সঠিক:
- রিপোর্টেড স্পিচটি যদি চিরন্তন সত্য বা অভ্যাসগত সত্য প্রকাশ করে, তবে ইনডাইরেক্ট ন্যারেশনে টেন্সের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এখানে Honesty is the best policy একটি চিরন্তন সত্য প্রবাদ, তাই এর ভেতরের Present Indefinite Tense অপরিবর্তিত থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The teacher said that Honesty is the best policy. — এই অপশনটি সঠিক কারণ চিরন্তন সত্যের ক্ষেত্রে টেন্সের পরিবর্তন হয় না।
B) The teacher said that Honesty was the best policy. — এই অপশনটি ভুল কারণ চিরন্তন সত্যের ক্ষেত্রে প্রেজেন্ট টেন্সকে পাস্ট টেন্সে রূপান্তর করা নিয়মবহির্ভূত।
C) The teacher said that Honesty was the best policy. — অপশন সি এবং অপশন বি একই হওয়ায় এটিও টেন্স পরিবর্তনের ভুলের কারণে সঠিক নয়।
D) The teacher said that Honesty should be the best policy. — এই অপশনটি ভুল কারণ প্রবাদের মূল অর্থ পরিবর্তন করে Modal Auxiliary যুক্ত করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ন্যারেশন পরিবর্তনের সময় রিপোর্টেড স্পিচটি চিরন্তন সত্য হলে চোখ বন্ধ করে প্রেজেন্ট টেন্স অপরিবর্তিত রাখবে।
সঠিক উত্তর: D) no article
কেন সঠিক:
- ভাষার নামের পূর্বে সাধারণত কোনো আর্টিকেল বসে না।
- স্প্যানিশ একটি ভাষা হওয়ায় এখানে শূন্য আর্টিকেল বা D অপশনটি সঠিক।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) a — ভাষার নামের পূর্বে ইনডিফিনিট আর্টিকেল বসে না।
B) an — স্বরবর্ণের উচ্চারণ থাকলেও ভাষার নামের পূর্বে an বসে না।
C) the — ভাষা বা বিষয়ের নামের পূর্বে নির্দিষ্ট করে বোঝাতেও the বসে না।
D) no article — এটি সঠিক কারণ ভাষা বা বিষয়ের নামের পূর্বে সাধারণত কোনো আর্টিকেল বসে না।
মনে রাখার টিপস:
ভাষা, খেলাধুলা এবং খাবারের নামের আগে সাধারণত কোনো আর্টিকেল বসে না।
সঠিক উত্তর: B) may
কেন সঠিক:
- বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো কাজের সম্ভাবনা বোঝাতে Modal auxiliary verb হিসেবে may ব্যবহৃত হয়।
- আজকের বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০ ভাগ বা মাঝারি প্রকৃতির হওয়ায় এখানে may সবচেয়ে উপযুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) shall — ভবিষ্যৎকালের নিশ্চয়তা বা প্রথম পুরুষের সাথে ব্যবহৃত হয়, যা সম্ভাবনার অর্থে সঠিক নয়।
B) may — এটি বর্তমান বাক্যের জন্য সঠিক উত্তর, কারণ এটি ৫০ ভাগ সম্ভাব্যতা প্রকাশ করে।
C) might — এটি অতি ক্ষীণ সম্ভাবনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা এই বাক্যের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য নয়।
D) must — এটি নিশ্চিত বাধ্যবাধকতা বা ১০০ ভাগ সম্ভাবনা বোঝায়, যা আজকের বৃষ্টির ক্ষেত্রে অতি শক্তিশালী।
মনে রাখার টিপস:
কোনো কাজের সম্ভাবনা নিশ্চিত না হয়ে যদি মাঝারি বা পঞ্চাশ ভাগ নিশ্চিত হয়, তবে সেখানে may ব্যবহার করবে।
সঠিক উত্তর: C) our
কেন সঠিক:
- 'my' হলো ফার্স্ট পারসন সিঙ্গुलर প্রোনাউনের পজিটিভ ফর্ম, যার প্লুরাল বা বহুবচন রূপ হলো 'our'।
- পজিটিভ প্রোনাউন হিসেবে 'my' এর বহুবচন হলো 'our' এবং পজিটিভ প্রোনাউন হিসেবে 'mine' এর বহুবচন হলো 'ours'।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) we — এটি ফার্স্ট পারসন প্রোনাউনের সাবজেক্টিভ ফর্ম, পজিটিভ ফর্ম নয়।
B) me — এটি ফার্স্ট পারসন সিঙ্গুলার প্রোনাউনের অবজেক্টিভ ফর্ম, পজিটিভ ফর্ম নয়।
C) our — এটি সঠিক পজিটিভ প্রোনাউনের প্লুরাল ফর্ম।
D) us — এটি ফার্স্ট পারসন প্রোনাউনের অবজেক্টিভ ফর্ম, পজিটিভ ফর্ম নয়।
মনে রাখার টিপস:
আই প্রোনাউনের প্লুরাল উই, মি প্রোনাউনের প্লুরাল আস এবং মাই প্রোনাউনের প্লুরাল আওয়ার।
সঠিক উত্তর: D) as soon as
কেন সঠিক:
- শূন্যস্থানের উভয় পাশের দুটি ক্লজ বা খণ্ডবাক্যের মধ্যে একটি কাজ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আরেকটি কাজ শুরু হওয়ার তাৎক্ষণিক সম্পর্ক বোঝাতে এই linker ব্যবহৃত হয়।
- প্রধান ক্লজটি ভবিষ্যতের নির্দেশ করলেও সময় নির্দেশক এই subordinating conjunction-এর পরের অংশটি Present Indefinite Tense-এ গঠিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Whereas — এটি দুটি বিপরীতধর্মী ধারণার মধ্যে তুলনা করতে ব্যবহৃত হয়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
B) so — এটি ফলাফল বা পরিণাম প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়, যা দুটি কাজের ধারাবাহিক সময় নির্দেশ করে না।
C) but — এটি দুটি বিপরীত বা অসঙ্গতিপূর্ণ বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটাতে ব্যবহৃত হয়, যা এখানে অর্থসংগত নয়।
D) as soon as — এটি সঠিক কারণ এটি ঘরের কাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে দেখা করার তাৎক্ষণিক সময় বুঝিয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
কোনো কাজ মাত্রই শেষ হওয়া মাত্রই আরেকটি কাজ ঘটবে এমন তাৎক্ষণিক সময় বোঝাতে as soon as ব্যবহার করবে।
সঠিক উত্তর: D) has been
কেন সঠিক:
- বাক্যে since-এর পর অতীতকালের একটি নির্দিষ্ট সময় বা ক্লজ (since I was a young boy) থাকলে তার আগের অংশ সাধারণত Present Perfect Tense হয়।
- আমার চাচা অতীতের কোনো এক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন, যা বোঝাতে Present Perfect Tense (has been) ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) was being — এটি Past Continuous Tense, যা অতীতের চলমান কাজ বোঝায় এবং এখানে বর্তমান পর্যন্ত ব্যাপ্তির নিয়ম লঙ্ঘন করে।
B) will be — এটি Future Indefinite Tense, যা ভবিষ্যৎকালের ঘটনা নির্দেশ করে কিন্তু বাক্যের since clause-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
C) is being — এটি Present Continuous Tense, যা বর্তমানের চলমান বা সাময়িক অবস্থা বোঝায় এবং এখানে অব্যাহত অতীত বোঝাতে ব্যর্থ।
D) has been — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, কারণ এটি অতীত থেকে শুরু হওয়া কাজ বা অবস্থা বর্তমান পর্যন্ত বজায় থাকা বোঝায়।
মনে রাখার টিপস:
বাক্যে since-এর সাথে Past Indefinite Tense থাকলে অপর অংশে Present Perfect Tense (have/has + V3) ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) A day dreamer
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণ অংশের এই প্রশ্নটিতে একটি জনপ্রিয় Idiom বা বাগধারা এর অর্থ চাওয়া হয়েছে।
- head in the clouds এই বাগধারাটির শাব্দিক অর্থ মাথায় মেঘ থাকা হলেও ভাবার্থ হলো দিবাগত স্বপ্ন দেখা বা বাস্তববিমুখ হওয়া।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Extraordinary — এই শব্দটির অর্থ অসাধারণ, যা বাস্তববিমুখ বা দিবাগত স্বপ্ন দেখার ধারণার সাথে মিলে না।
B) A day dreamer — প্রদত্ত সঠিক উত্তর, যার অর্থ দিবাগত স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এটি head in the clouds বাগধারাটির সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
C) An aviator — এই শব্দটির অর্থ বিমানচালক বা বৈমানিক, যা এই বাগধারার সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
D) Proud — এই শব্দটির অর্থ অহংকারী বা গর্বিত, যা এই বিশেষ বাগধারার ভাবার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মনে রাখার টিপস:
মেঘের মধ্যে মাথা থাকা মানে মাটিতে পা না রেখে কল্পনার জগতে ভেসে বেড়ানো বা দিবাগত স্বপ্ন দেখা।
সঠিক উত্তর: A) Pledged
কেন সঠিক:
- Pledged শব্দের অর্থ প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা জোরালোভাবে সমর্থন ঘোষণা করা।
- বাক্যের অর্থ দাঁড়াচ্ছে তারা আমাদের পক্ষে তাদের সমর্থন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে বা ঘোষণা করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Pledged — সমর্থনের ক্ষেত্রে এটি সঠিক প্রতিশ্রুতি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
B) Discovered — আবিষ্কৃত করা, যা সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে অর্থহীন।
C) Provided — সরবরাহ করা, কিন্তু সমর্থন সরবরাহের চেয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা Pledge করা অধিক উপযুক্ত।
D) Deferred — স্থগিত করা, যা বাক্যের মূল অর্থের সঙ্গে বিপরীত।
মনে রাখার টিপস:
সমর্থন বা প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে Pledge শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: C) adverb
কেন সঠিক:
- এখানে 'high' শব্দটি 'flew' ভার্বটিকে মডিফাই বা বিশেষিত করছে।
- ভার্বকে বিশেষিত করায় এটি একটি অ্যাডভার্ব হিসেবে কাজ করেছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) noun — এটি কোনো নাম বা বিশেষ্য নয়, কারণ এটি কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের নাম বোঝায় না।
B) adjective — এটি কোনো নাউন বা প্রোনাউনের দোষ, গুণ বা সংখ্যা প্রকাশ করছে না।
C) adverb — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি ভার্বকে মডিফাই করেছে।
D) verb — এটি কোনো কাজ করা বোঝায় না, এটি একটি অ্যাডভার্ব।
মনে রাখার টিপস:
ভার্ব কীভাবে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে তা বোঝালে সাধারণত অ্যাডভার্ব হয়।
সঠিক উত্তর: B) Closing
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী Would you mind এর পরে verb এর সাথে ing যোগ করতে হয়।
- প্রদত্ত বাক্যে mind এর পরে শূন্যস্থান থাকায় সঠিক উত্তরটি gerund বা closing হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Close — এটি verb এর base form, যা would you mind এর পরে সরাসরি বসতে পারে না।
B) Closing — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য।
C) Closed — এটি verb এর past form, যা এই শূন্যস্থানে grammatically ভুল।
D) To close — এটি infinitive form, যা would you mind এর পরে ব্যবহার করা নিয়মবিরুদ্ধ।
মনে রাখার টিপস:
Would you mind দেখলেই verb এর সাথে ing যুক্ত করবে।
সঠিক উত্তর: C) Bacterium
কেন সঠিক:
- ল্যাটিন বা গ্রিক মূলের যেসব শব্দের শেষে um থাকে, সাধারণত তাদের শেষে a যোগ করে বহুবচন বা Plural করা হয়।
- এখানে Bacterium শব্দটির শেষে um থাকায় এটি একটি একবচন বা Singular number।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Fungi — এটি Fungus শব্দের বহুবচন রূপ, তাই এটি Singular নয়।
B) Foci — এটি Focus শব্দের বহুবচন রূপ, তাই এটি Singular নয়।
C) Bacterium — এটি সঠিক Singular রূপ, যার বহুবচন হলো Bacteria।
D) Errata — এটি Erratum শব্দের বহুবচন রূপ, তাই এটি Singular নয়।
মনে রাখার টিপস:
শব্দের শেষে um থাকলে সাধারণত তা Singular এবং a থাকলে Plural হয়।
সঠিক উত্তর: B) The wearer best knows where the shoe pinches
কেন সঠিক:
- এটি একটি বিখ্যাত ইংরেজি প্রবাদ, যার শাব্দিক অর্থ হলো জুতো কোথায় কামড়ায় বা মাপে কষ্ট দেয় তা একমাত্র পরিধানকারীই ভালো জানে।
- বাংলায় এই প্রবাদের উপযুক্ত ভাবানুবাদ হলো যার জ্বালা বা কষ্ট সেই বোঝে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The player best knows where he is defeated — এটি পরাজয়ের স্থান বা খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা বোঝায়, যা প্রবাদের ভাবার্থের সঙ্গে মিলে না।
B) The wearer best knows where the shoe pinches — এটি সঠিক প্রবাদ এবং এর ভাবার্থের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
C) The salesman best knows where he loses — এটি ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রসঙ্গ বোঝায়, যা সাধারণ প্রবাদের অর্থের আওতাভুক্ত নয়।
D) The king best knows when the subject suffers — এটি রাজার প্রজার কষ্ট বোঝার রাজকীয় প্রসঙ্গ নির্দেশ করে, যা সার্বজনীন প্রবাদ নয়।
মনে রাখার টিপস:
জুতো পরার সঙ্গে কষ্টের সম্পর্কযুক্ত এই প্রবাদে wearer এবং shoe pinches শব্দগুলো মনে রাখলেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা সহজ হবে।
সঠিক উত্তর: B) William Shakespeare
কেন সঠিক:
- জুলিয়াস সিজার বা Julius Caesar হলো বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের লেখা একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নাটক।
- এই নাটকে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের হত্যাকাণ্ড এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিণতির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Francis Bacon — তিনি একজন প্রখ্যাত ইংরেজি প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক ছিলেন, কোনো নাটক বা জুলিয়াস সিজার রচনা করেননি।
B) William Shakespeare — প্রদত্ত এই অপশনটি সঠিক কারণ তিনি এই ঐতিহাসিক নাটকটির রচয়িতা।
C) P.B. Shelley — তিনি রোমান্টিক যুগের একজন বিখ্যাত কবি ও নাট্যকার ছিলেন, জুলিয়াস সিজার তার লেখা নয়।
D) Bernard Shaw — তিনি আধুনিক যুগের একজন বিখ্যাত আইরিশ নাট্যকার ছিলেন, এলিজাবেথীয় যুগের এই নাটকের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
রোমান সম্রাট সিজারের নাম মনে এলেই শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটকের কথা মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: B) Medicine
কেন সঠিক:
- 'Oncology' শব্দটির অর্থ হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা যা ক্যান্সার এবং টিউমার নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা করে।
- এটি সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য এবং রোগ নিরাময়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি মেডিসিন বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Law — এটি আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়, যার সঙ্গে ক্যানসার বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।
B) Medicine — এটি চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কিত সঠিক ক্ষেত্র, যা টিউমার ও ক্যানসার নিরাময় নিয়ে কাজ করে।
C) Ecology — এটি পরিবেশের সঙ্গে জীবজগতের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে, যা ক্যানসার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
D) Environment — এটি আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝায়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি আলাদা শাখা অনকোলজির পরিধিভুক্ত নয়।
মনে রাখার টিপস:
'Onco' শব্দের অর্থ টিউমার বা ভর, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের (Medicine) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
সঠিক উত্তর: D) Normal or usual
কেন সঠিক:
- অর্ডিনারি শব্দের বাংলা অর্থ সাধারণ বা স্বাভাবিক, যা নরমাল বা ইউজুয়াল শব্দের সমার্থক।
- এটি কোনো বিশেষ বা অসাধারণ কিছু বোঝায় না, বরং প্রাত্যহিক বা প্রচলিত অবস্থাকে নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Best and cleanest — এটি সবচেয়ে ভালো এবং পরিষ্কার বোঝায়, যা সাধারণ শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
B) Normal and usual — এটি অর্থের দিক থেকে সঠিক হলেও প্রদত্ত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত বিন্যাস ডি অপশনে রয়েছে।
C) Oldest and dirtiest — এটি সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে নোংরা বোঝায়, যার সঙ্গে সাধারণ শব্দের কোনো মিল নেই।
D) Normal or usual — এটি অর্ডিনারি শব্দের সঠিক সমার্থক শব্দ হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
অর্ডিনারি মানে সাধারণ, তাই এর সমার্থক হিসেবে নরমাল বা ইউজুয়াল শব্দটি মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) Lifebuoy
কেন সঠিক:
- ইংরেজি বানান নিয়মে জীবনরক্ষাকারী বল বোঝাতে Life এবং buoy শব্দ দুটি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
- অপশন A-তে থাকা বানানটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ও সঠিক ইংরেজি শব্দ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Lifebuoy — এটি সঠিক বানান এবং সঠিক উত্তর।
B) Lifeboy — এখানে buoy শব্দের পরিবর্তে boy লেখা হয়েছে, যা বানান ভুল।
C) Liveboy — এখানে Life-এর পরিবর্তে Live এবং buoy-এর পরিবর্তে boy ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল।
D) Liveboyee — এটি বানান এবং প্রত্যয় ব্যবহারের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল একটি শব্দ।
মনে রাখার টিপস:
জীবনরক্ষাকারী বল বা সাবানের নামের ক্ষেত্রে Life-এর সাথে পানিতে ভাসার বস্তু buoy যুক্ত হয়, boy নয়।
সঠিক উত্তর: C) 19ᵗʰ Century
কেন সঠিক:
- রানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকাল ১৮৩৭ সাল থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যা ইংরেজি সাহিত্যে ভিক্টোরিয়ান যুগ নামে পরিচিত।
- এই পুরো সময়কালটি ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ১৯ শতকের অন্তর্ভুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 17ᵗʰ Century — ১৭ শতক বলতে ১৬০১ থেকে ১৭০০ সালকে বোঝায়, যা রানী ভিক্টোরিয়ার অনেক আগের সময়কাল।
B) 18ᵗʰ Century — ১৮ শতক বলতে ১৭০১ থেকে ১৮০০ সালকে বোঝায়, যা ভিক্টোরিয়ান যুগের আগের জর্জিয়ান যুগের সময়কাল।
C) 19ᵗʰ Century — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এটি এখানে প্রযোজ্য নয় কারণ এটিই সঠিক উত্তর।
D) 20ᵗʰ Century — ২০ শতক বলতে ১৯০১ থেকে ২০০০ সালকে বোঝায়, যা ভিক্টোরিয়ান যুগের পরবর্তী এডওয়ার্ডিয়ান ও আধুনিক যুগের সময়কাল।
মনে রাখার টিপস:
রানী ভিক্টোরিয়া রাজত্ব করেছেন ১৮৩৭ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত, আর এই শতকের সংখ্যাটি ১৯ শতক।
সঠিক উত্তর: A) The captain commanded the soldiers to fire on.
কেন সঠিক:
- ক্যাপ্টেন বা সেনাপতি অধীনস্থ সৈন্যদের আদেশ বা নির্দেশ দেন, তাই এখানে 'commanded' শব্দটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
- রিপোর্টিং ভার্ব হিসেবে আদেশমূলক বাক্যে 'command' ব্যবহৃত হলে ইনফিনিটিভ 'to fire on' সঠিক ব্যাকরণগত গঠন তৈরি করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The captain commanded the soldiers to fire on. — এটি সঠিক এবং প্রশ্ন অনুযায়ী প্রশ্নটির সঠিক উত্তর।
B) The captain told the soldiers to fire on. — 'told' সাধারণ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে আদেশ বোঝাতে 'command' অধিকতর মানানসই।
C) The captain proposed the soldiers to fire on. — 'proposed' মানে প্রস্তাব করা, যা অধস্তন সৈন্যদের ক্ষেত্রে আদেশের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় না।
D) The captain requested the soldiers to fire on. — ক্যাপ্টেন বা সেনাপতি সৈন্যকে অনুরোধ করেন না, বরং আদেশ দেন তাই এটি ভুল।
মনে রাখার টিপস:
সেনাপতি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আদেশ বোঝাতে 'command' ব্যবহার করতে হয়, অনুরোধ বা প্রস্তাব নয়।
সঠিক উত্তর: B) Sow
কেন সঠিক:
- 'Sow' শব্দের অর্থ হলো মাদী শুকর, যা পুংলিঙ্গ 'Boar' শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ।
- এটি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশ করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Buck — এটি একটি পুরুষ হরিণ বা খরগোশ বোঝায়, যার স্ত্রীবাচক রূপ হলো Doe।
B) Sow — এটি নিজেই সঠিক উত্তর এবং মাদী শুকর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
C) Hunter — এটি একটি সাধারণ লিঙ্গ বা পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যার স্ত্রীবাচক রূপ Huntress।
D) Baron — এটি একজন পুরুষ সামন্তপ্রভু বোঝায়, যার স্ত্রীবাচক রূপ হলো Baroness।
মনে রাখার টিপস:
শুকরের ক্ষেত্রে পুরুষ হলো Boar এবং স্ত্রী হলো Sow, যা জুটি মনে রাখলে সহজেই উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: A) The unnecessary things were done for me by him.
কেন সঠিক:
- Active Voice-এর বাক্যে দুটি অবজেক্ট (the unnecessary things এবং me) থাকলে বস্তুবাচক অবজেক্টটিকে Subject বানাতে হয়।
- প্রদত্ত বাক্যটি Past Indefinite Tense-এ থাকায় Passive করার সময় Number ও Person অনুযায়ী were বসে এবং মূল verb-এর Past Participle রূপ বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) The unnecessary things were done for me by him. — এটি সঠিক অপশন, তাই এখানে ভুল ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়।
B) The unnecessary things was done by him for me. — এখানে subject plural হওয়া সত্ত্বেও singular verb was ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
C) The unnecessary things had been done for me by him. — বাক্যটি Past Perfect Tense-এ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা মূল Past Indefinite Tense-এর নিয়মের সাথে মেলে না।
D) The unnecessary things had to be done form me by him. — এখানে বাক্যের অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে এবং ভুল preposition ও structure ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
Past Indefinite Tense-এর Active voice-কে Passive করার সময় Subject-এর পরে was বা were এবং মূল verb-এর Past Participle ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) Emphatic pronoun
কেন সঠিক:
- বাক্যে জোর বা গুরুত্ব বোঝাতে Subject-এর ঠিক পরেই Emphatic pronoun ব্যবহৃত হয়।
- এখানে 'myself' শব্দটি Subject 'I'-এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Reciprocal pronoun — পরস্পর সম্পর্ক বোঝাতে each other বা one another বসে, যা এখানে নেই।
B) Emphatic pronoun — Subject-কে জোর দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটিই সঠিক উত্তর।
C) Reflexive pronoun — Verb-এর Object যখন Subject-কে নির্দেশ করে তখন তা Reflexive হয়, কিন্তু এখানে Object নেই।
D) Distributive pronoun — আলাদাভাবে ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করতে each, either, neither বসে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
Subject-এর ঠিক পরেই বসে যখন জোর দেয়, তখন তা Emphatic pronoun হয় এবং মূল Verb-এর পরে Object হিসেবে বসলে তা Reflexive pronoun হয়।
সঠিক উত্তর: A) Photos
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অনেক বিদেশি বা সংক্ষিপ্ত শব্দের শেষে কেবল এস যোগ করে বহুবচন করা হয়।
- ফটো শব্দের ক্ষেত্রেও সাধারণ নিয়মে শুধু এস যোগ করে ফোটোস লেখা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Photos — এটি সঠিক কারণ এটি নিয়ম মেনে গঠিত বহুবচন রূপ।
B) Photo — এটি সঠিক নয় কারণ এটি শব্দটির একবচন রূপ।
C) Photoes — এটি ভুল কারণ ও দিয়ে শেষ হওয়া সব শব্দের সঙ্গে ইএস যোগ হয় না।
D) Phottos — এটি ভুল কারণ বানানটিতে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত টি ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ও দিয়ে শেষ হওয়া সব সংক্ষিপ্ত শব্দের বহুবচনে শুধু এস যোগ হয় যেমন ফটো থেকে ফোটোস এবং পিয়ানো থেকে পিয়ানোস।
সঠিক উত্তর: C) Collective
কেন সঠিক:
- 'Cavalry' শব্দের অর্থ অশ্বারোহী বাহিনী, যা একদল সৈন্যকে একত্রে বোঝায়।
- এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর নাম নয়, বরং একই জাতীয় একাধিক প্রাণীর সমষ্টিগত রূপ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Proper — এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা গ্রন্থের নাম বোঝায় না, তাই এটি Proper Noun নয়।
B) Common — এটি কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা বস্তুর সাধারণ নাম নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট দলের সমষ্টি।
C) Collective — প্রদত্ত উত্তরটি সঠিক কারণ এটি একাধিক অশ্বারোহী সেনার সমষ্টিকে নির্দেশ করে।
D) Abstract — এটি কোনো গুণ, অবস্থা বা কাজের নাম নয় যা ছোঁয়া যায় না, বরং এটি দৃশ্যমান প্রাণীর সমষ্টি।
মনে রাখার টিপস:
যেসকল নাউন কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়, যেমন Army, Navy, Cavalry, সেগুলোকে Collective Noun বলে।
সঠিক উত্তর: A) If you had come, I would have helped you.
কেন সঠিক:
- এটি থার্ড কন্ডিশনাল (Third Conditional) বাক্যের সঠিক গঠন, যেখানে প্রথম অংশে Past Perfect tense এবং দ্বিতীয় অংশে would have + verb-এর পাস্ট পার্টিসিপল বসে।
- অতীতের এমন একটি অসমাপ্ত ঘটনা প্রকাশ করে যার ফল আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) If you had come, I would have helped you. — এটি সঠিক বাক্য হওয়ায় ভুল নয়, এটিই উত্তর।
B) If you have have, I would have helped you. — প্রথম অংশে Present tense এবং দ্বিতীয় অংশে would have থাকায় কন্ডিশনালের নিয়ম অনুযায়ী এটি ভুল।
C) If you have had come, I will help you. — গঠনে have had এর সাথে come এবং প্রধান অংশে will থাকায় বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
D) If you had come, I would help you. — প্রথম অংশ Past Perfect হলেও দ্বিতীয় অংশে শুধু would থাকায় এটি সেকেন্ড ও থার্ড কন্ডিশনালের ভুল মিশ্রণ হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
থার্ড কন্ডিশনালে if এর সাথে Past Perfect থাকলে অপর অংশে would have + V3 বসে।
সঠিক উত্তর: A) To keep under careful observation
কেন সঠিক:
- Keep an eye on একটি প্রচলিত ইংরেজি ইডিওম যার বাংলা অর্থ হলো সতর্ক দৃষ্টি রাখা বা সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা।
- এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর বিশেষ নজরদারি বা বিশেষ খেয়াল রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) To keep under careful observation — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অর্থ সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা যা মূল ফ্রেজের অর্থের সাথে মিলে যায়।
B) To remain awake — এর অর্থ জেগে থাকা, যা সতর্ক দৃষ্টি রাখার ধারণার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) To continue doing something — এর অর্থ কোনো কিছু চালিয়ে যাওয়া, যা এই ইডিওমের নির্ধারিত অর্থের সাথে মেলে না।
D) To look at someone — এর অর্থ কেবল কারো দিকে তাকানো, কিন্তু নজর রাখা বা পর্যবেক্ষণের গভীর অর্থ এখানে প্রকাশ পায় না।
মনে রাখার টিপস:
চোখ (eye) কোনো কিছুর ওপর রাখা মানেই হলো সেটির প্রতি বিশেষ নজর রাখা বা পর্যবেক্ষণ করা।
সঠিক উত্তর: B) Auxiliary
কেন সঠিক:
- বানানটিতে 'Auxili' অংশের পরে 'ary' যুক্ত হয়ে সঠিক রূপ গঠিত হয়েছে।
- এটি ইংরেজি বানানের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ নির্ভুল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Auxilary — এই বানানটিতে মাঝের 'i' বর্ণটি বাদ পড়েছে, তাই এটি ভুল।
B) Auxiliary — এটি প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক উত্তর।
C) Auxilery — এই বানানটিতে 'ary'-এর জায়গায় ভুল করে 'ery' লেখা হয়েছে।
D) Auxilliary — এই বানানটিতে অতিরিক্ত একটি 'l' ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এটি ভুল।
মনে রাখার টিপস:
বানানটি মনে রাখার জন্য শব্দটিকে ভেঙে পড়তে পারেন, যেমন Aux + ili + ary।
সঠিক উত্তর: D) Imperative
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত বাক্যটি দিয়ে কোনো আদেশ, উপদেশ বা অনুরোধ বোঝানো হয়েছে।
- যে Sentence দ্বারা আদেশ, নিষেধ, উপদেশ বা অনুরোধ প্রকাশ করা হয়, তাকে Imperative sentence বলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Assertive — এটি কোনো সাধারণ বিবৃতিমূলক বাক্য নয়, কারণ এটি কোনো তথ্য বা ঘটনা বর্ণনা করে না।
B) Interrogative — এটি কোনো প্রশ্নবোধক বাক্য নয়, কারণ এর শেষে কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন নেই এবং এটি কিছু জানতে চায় না।
C) Optative — এটি কোনো ইচ্ছা বা প্রার্থনা প্রকাশকারী বাক্য নয়, কারণ এটি দ্বারা কারো মঙ্গল কামনা করা হচ্ছে না।
D) Imperative — এটি সঠিক উত্তর কারণ বাক্যটি দ্বারা সত্য কথা বলার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
যে বাক্য শুরু হয় মূল Verb দিয়ে এবং আদেশ, উপদেশ বা অনুরোধ বোঝায়, সেটিই Imperative sentence.
সঠিক উত্তর: D) Make known publicly
কেন সঠিক:
- 'Proclaim' একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ কোনো কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বা জনসমক্ষে ঘোষণা করা।
- অপশন ডি-তে থাকা 'Make known publicly' কথাটির অর্থ সবার সামনে কোনো বিষয় প্রকাশ করা, যা মূল শব্দের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Claim loudly — এর অর্থ উচ্চস্বরে দাবি করা, যা 'Proclaim' শব্দের সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না।
B) Shout — এর অর্থ চিৎকার করা, যা কেবল শব্দ করার সাথে সম্পর্কিত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সমার্থক নয়।
সি) Make known publicly through cry — এর অর্থ কান্নার মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা, যা ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক।
D) Make known publicly — এই অপশনটি সঠিক কারণ এটি 'Proclaim' শব্দের আসল ও সর্বজনস্বীকৃত অর্থ নির্দেশ করে।
মনে রাখার টিপস:
Proclaim শব্দের প্রো (Pro) অর্থ সামনে এবং ক্লেইম (Claim) অর্থ দাবি করা, অর্থাৎ সবার সামনে কিছু ঘোষণা করা।
সঠিক উত্তর: B) ৪৮ মিটার
প্রদত্ত তথ্য:
আয়তাকার ঘরের ক্ষেত্রফল = ১২৮ বর্গমিটার
দৈর্ঘ্য বিস্তারের দ্বিগুণ
ধরি,
ঘরের বিস্তার = ক মিটার
ঘরের দৈর্ঘ্য = ২ক মিটার
অতএব,
ক্ষেত্রফল = (২ক × ক) বর্গমিটার
২ক বর্গ = ১২৮ বর্গমিটার
ক বর্গ = ৬৪ বর্গমিটার
সুতরাং,
ক = ৮ মিটার
বিস্তার = ৮ মিটার এবং দৈর্ঘ্য = ১৬ মিটার
উত্তর: পরিসীমা = ২ × (১৬ + ৮) = ৪৮ মিটার
সঠিক উত্তর: B) a vector perpendicular to b vector
প্রدত্ত তথ্য:
দেওয়া আছে মডুলাস এর ভেতরে a vector + b vector সমান মডুলাস এর ভেতরে a vector − b vector
ধরি,
উভয় পক্ষের সমীকরণ বর্গ করা হলো যাতে মডুলাস চিহ্ন তুলে ফেলা যায়
অতএব,
প্রথম পক্ষের বর্গ সমান a vector এর বর্গ + b vector এর বর্গ + ২ ডট গুণন a vector এবং b vector
দ্বিতীয় পক্ষের বর্গ সমান a vector এর বর্গ + b vector এর বর্গ − ২ ডট গুণন a vector এবং b vector
সুতরাং,
উভয় পক্ষ থেকে a vector এর বর্গ এবং b vector এর বর্গ বাদ দিয়ে পাই ৪ ডট গুণন a vector এবং b vector সমান শূন্য
উত্তর: a vector perpendicular to b vector
সঠিক উত্তর: C) ৭.৪৭ kmh⁻¹
প্রদত্ত তথ্য:
যাওয়ার বেগ = ৮ kmh⁻¹
আসার বেগ = ৭ kmh⁻¹
ধরি,
নির্দিষ্ট দূরত্ব = d কিলোমিটার
অতএব,
যাওয়ার সময় = d ÷ ৮ ঘণ্টা
আসার সময় = d ÷ ৭ ঘণ্টা
সুতরাং,
মোট দূরত্ব = d + d = ২d কিলোমিটার
মোট সময় = (d ÷ ৮) + (d ÷ ৭) = ১৫d ÷ ৫৬ ঘণ্টা
উত্তর: গড়বেগ = মোট দূরত্ব ÷ মোট সময় = ২d ÷ (১৫d ÷ ৫৬) = ৭.৪৭ kmh⁻¹
সঠিক উত্তর: D) ৮ টি
প্রদত্ত তথ্য:
সেটের উপাদান সংখ্যা = ৩ টি
ধরি,
সেটটি A = a, b, c
অতএব,
উপাদান সংখ্যা n = ৩
সুতরাং,
শক্তি সেটের উপাদান সংখ্যা = ২ এর উপর পাওয়ার n = ২ × ২ × ২
উত্তর: ৮ টি
সঠিক উত্তর: C) ৩ বছরে
প্রদত্ত তথ্য:
আসল (P) = ৯৬ টাকা
মুনাফার হার (r) = ২৫/৪% বা ৬.২৫%
মোট মুনাফা (I) = ১৮ টাকা
ধরি,
সময় = n বছর
আমরা জানি, মুনাফা (I) = P × n × r ÷ ১০০
অতএব,
১৮ = ৯৬ × n × (২৫ ÷ ১০০) ÷ ১০০
১৮ = ৯৬ × n × (১ ÷ ৪) ÷ ১০০
সুতরাং,
২৪ × n ÷ ১০০ = ১৮
n = (১৮ × ১০০) ÷ ২৪
উত্তর: ৩ বছরে
সঠিক উত্তর: B) ১
প্রদত্ত তথ্য:
x বর্গ − ৪x + ১ = ০
ধরি,
x বর্গ + ১ = ৪x
প্রদত্ত রাশির হর হলো (x বর্গ − ৩x + ১)
অতএব,
হর = (x বর্গ + ১) − ৩x
হর = ৪x − ৩x
সুতরাং,
হর = x
উত্তর: x + (১ ÷ x) = x + (১ ÷ x), মান নির্ণয় শেষে উত্তর পাওয়া যায় ১
সঠিক উত্তর: D) ৩৩০
প্রদত্ত তথ্য:
ধারাটি হলো ৬ + ১২ + ১৮ + ২৪ + ......
ধারার প্রথম পদ (a) = ৬
সাধারণ অন্তর (d) = ১২ − ৬ = ৬
ধরি,
পদের সংখ্যা (n) = ১০
অতএব,
সমান্তর ধারার যোগফলের সূত্র হলো (n ÷ ২) × ২ × a + (n − ১) × d
মানগুলো বসিয়ে পাই, (১০ ÷ ২) × ২ × ৬ + (১০ − ১) × ৬
সুতরাং,
হিসাব করে পাই, ৫ × (১২ + ৯ × ৬)
বা, ৫ × (১২ + ৫৪) = ৫ × ৬৬ = ৩৩০
উত্তর: ৩৩০
সঠিক উত্তর: C) ১৫
প্রদত্ত তথ্য:
তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফল = ১২০
ধরি,
সংখ্যা তিনটি যথাক্রমে ক − ১, ক এবং ক + ১
অতএব,
(ক − ১) × ক × (ক + ১) = ১২০
ক × (ক × ক − ১) = ১২০
সুতরাং,
সংখ্যা তিনটি ৪, ৫ এবং ৬
কারণ ৪ × ৫ × ৬ = ১২০
উত্তর: ৪ + ৫ + ৬ = ১৫
সঠিক উত্তর: B) ৩৬
প্রদত্ত তথ্য:
৩ এর বর্গ = ৩ × ৩
যোগ করতে হবে = ৩
ধরি,
অজানা সংখ্যাটি = ক
অতএব,
৩ এর বর্গ = ৯
বর্গমূলের সাথে ৩ যোগ করলে হয় = ৯
সুতরাং,
সংখ্যাটির বর্গমূল = ৯ − ৩ = ৬
উত্তর: ৬ এর বর্গ = ৩৬
সঠিক উত্তর: D) ১৭
প্রদত্ত তথ্য:
দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর ১৭
ধরি,
ছোট সংখ্যাটি = ক
বড় সংখ্যাটি = ক + ১
অতএব,
(ক + ১)এর বর্গ − ক এর বর্গ = ১৭
ক এর বর্গ + ২ক + ১ − ক এর বর্গ = ১৭
২ক + ১ = ১৭
সুতরাং,
২ক = ১৭ − ১
২ক = ১৬
ক = ৮
উত্তর: সংখ্যা দুইটি ৮ ও ৯ এবং সংখ্যাদ্বয়ের যোগফল = ৮ + ৯ = ১৭
সঠিক উত্তর: A) ১/৪৫
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম ভগ্নাংশটি = ২/৫
দ্বিতীয় ভগ্নাংশটি = ৫/৯
ধরি,
লব দুটি = ২ এবং ৫
হর দুটি = ৫ এবং ৯
অতএব,
লব দুটির গসাসু = ১
হর দুটির লসাসু = ৫ × ৯ = ৪৫
সুতরাং,
ভগ্নাংশ দুটির গসাসু = লব দুটির গসাসু ÷ হর দুটির লসাসু
উত্তর: ১/৪৫
সঠিক উত্তর: D) ১১
প্রদত্ত তথ্য:
ধারাটি হলো ৫ + ১১ + ১৭ + ...... + ৬৫
এটি একটি সমান্তর ধারা
ধরি,
প্রথম পদ, ক = ৫
সাধারণ অন্তর, সাধারণ পার্থক্য = ১১ − ৫ = ৬
শেষ পদ = ৬৫
অতএব,
ধরি, পদসংখ্যা = ন
আমরা জানি, শেষ পদ = ক + (ন − ১) × সাধারণ অন্তর
সুতরাং, ৬৫ = ৫ + (ন − ১) × ৬
সুতরাং,
৬৫ − ৫ = (ন − ১) × ৬
৬০ = (ন − ১) × ৬
ন − ১ = ৬০ ÷ ৬ = ১০
উত্তর: ন = ১০ + ১ = ১১
সঠিক উত্তর: A) ৬ একক
প্রদত্ত তথ্য:
সমকোণী ত্রিভুজের উচ্চতা ভূমির এক-তৃতীয়াংশ
সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল ৬ বর্গএকক
ধরি,
ভূমির দৈর্ঘ্য = ক একক
উচ্চতা = ক ÷ ৩ একক
অতএব,
ক্ষেত্রফল = ১ ÷ ২ × ভূমি × উচ্চতা
ক্ষেত্রফল = ১ ÷ ২ × ক × (ক ÷ ৩)
সুতরাং,
৬ = ক × ক ÷ ৬
ক গুণ ক = ৩৬
উত্তর: ক = ৬ একক
সঠিক উত্তর: D) ১৩ : ১২ : ৫
প্রদত্ত তথ্য:
সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর অনুপাত যাচাই করতে হবে
পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী অতিভুজের ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল অপর দুই বাহুর ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলের সমষ্টির সমান
ধরি,
ত্রিভুজটির বাহু তিনটি ১৩, ১২ এবং ৫
এখানে সবচেয়ে বড় বাহু অর্থাৎ অতিভুজ = ১৩
অপর বাহু দুটি ১২ এবং ৫
অতএব,
অতিভুজের বর্গ = ১৩ গুণ ১৩ = ১৬৯
লম্বের বর্গ = ১২ গুণ ১২ = ১৪৪
ভূমির বর্গ = ৫ গুণ ৫ = ২৫
সুতরাং,
অপর দুই বাহুর বর্গের সমষ্টি = ১৪৪ + ২৫ = ১৬৯
যা অতিভুজের বর্গের মানের সমান অর্থাৎ ১৬৯ = ১৬৯
উত্তর: ১৩ : ১২ : ৫
সঠিক উত্তর: A) a + b
প্রদত্ত তথ্য:
a এর মান = √৩
b এর মান = √১২
ধরি,
b এর মান সরল করে পাই, b = √(৪ × ৩) = ২√৩
অতএব,
অপশন এ এর হিসাব: a + b = √৩ + ২√৩ = ৩√৩
অপশন বি এর হিসাব: ab = √৩ × ২√৩ = ২ × ৩ = ৬
অপশন সি এর হিসাব: a ÷ b = √৩ ÷ (২√৩) = ১ ÷ ২
সুতরাং,
অপশন এ এর ফলাফল ৩√৩ একটি অমূলদ সংখ্যা কারণ এর নির্দিষ্ট কোনো পূর্ণবর্গ মান নেই
উত্তর: A) a + b
সঠিক উত্তর: B) ১
প্রদত্ত তথ্য:
এখানে লগারিদম ফাংশন দেওয়া আছে
যার ভিত্তি হলো ই এবং আর্গুমেন্ট হলো ই
ধরি,
লগারিদমের নিয়ম অনুযায়ী লেখা যায়
লগ এর ভিত্তি ই এবং আর্গুমেন্ট ই এর মান
যা নির্ণয় করতে হবে
অতএব,
ই এর উপর কত ঘাত বসালে ই পাওয়া যায়
সেই মানটি আমাদের বের করতে হবে
আমরা জানি যে কোনো সংখ্যার উপর ঘাত এক বসালে সেই সংখ্যাই পাওয়া যায়
সুতরাং,
ই এর ঘাত এক সমান ই লেখা যায়
তাই এই লগারিদম রাশির মান এক হয়
উত্তর: ১
সঠিক উত্তর: C) ৩
প্রদত্ত তথ্য:
প্রথম সমীকরণ ১ ভাগ x + ১ ভাগ y = ৩
দ্বিতীয় সমীকরণ ১ ভাগ x এর বর্গ − ১ ভাগ y এর বর্গ = ৯
ধরি,
১ ভাগ x এর মান = a
১ ভাগ y এর মান = b
অতএব,
a + b = ৩
a এর বর্গ − b এর বর্গ = ৯
সুতরাং,
(a + b) × (a − b) = ৯
৩ × (a − b) = ৯
উত্তর: a − b = ৩
সঠিক উত্তর: B) b² = ac
প্রদত্ত তথ্য:
a, b, c রাশি তিনটি ক্রমিক সমানুপাতিক
ধরি,
প্রথম রাশির সাথে দ্বিতীয় রাশির অনুপাত = দ্বিতীয় রাশির সাথে তৃতীয় রাশির অনুপাত
অতএব,
a অনুপাত b = b অনুপাত c
সুতরাং,
a ভাগ b = b ভাগ c
উত্তর: b² = ac
সঠিক উত্তর: C) a, b
প্রদত্ত তথ্য:
দ্বিঘাত সমীকরণটি হলো x² − (a + b)x + ab = 0
ধরি,
সমীকরণটির উৎপাদক বিশ্লেষণ করতে হবে
অতএব,
x² − ax − bx + ab = 0
x(x − a) − b(x − a) = 0
(x − a)(x − b) = 0
সুতরাং,
x − a = 0 অথবা x − b = 0
x = a অথবা x = b
উত্তর: a, b
সঠিক উত্তর: B) −৪
প্রদত্ত তথ্য:
সমীকরণটি হলো ৪ শক্তির ওপর (x + ১) সমান ২ শক্তির ওপর (x − ২)
ধরি,
বাম পক্ষের ভিত্তি ৪ কে ভেঙে লেখা যায় ২ এর বর্গ অর্থাৎ ২ গুণ ২
অতএব,
সমীকরণটি দাঁড়ায় (২ এর বর্গ) শক্তির ওপর (x + ১) সমান ২ শক্তির ওপর (x − ২)
পাওয়ারের নিয়ম অনুযায়ী গুণ করলে হয় ২ শক্তির ওপর (২x + ২) সমান ২ শক্তির ওপর (x − ২)
উভয় পক্ষ থেকে ভিত্তি ২ বাদ দিলে পাই (২x + ২) সমান (x − ২)
সুতরাং,
পক্ষান্তর করে পাই ২x − x সমান −২ − ২
উত্তর: x = −৪
সঠিক উত্তর: A) ৪
প্রদত্ত তথ্য:
লগারিদম এর ভিত্তি হলো ২√২ এবং এর মান নির্ণয় করতে হবে ৬৪ এর জন্য
ধরি,
লগ এর মান হলো x
তাহলে সূচকের নিয়মে লেখা যায় (২√২) এর পাওয়ার x সমান ৬৪
অতএব,
২√২ কে লেখা যায় ২ এর পাওয়ার ১ গুণ ২ এর পাওয়ার ১÷২
এটিকে সরল করলে পাওয়া যায় ২ এর পাওয়ার ৩÷২ এর হোল পাওয়ার x সমান ৬৪
সুতরাং,
২ এর পাওয়ার (৩x÷২) সমান ৬৪
যেহেতু ৬৪ সমান ২ এর পাওয়ার ৬, তাই ভিত্তি সমান ধরে পাই ৩x÷২ সমান ৬
উত্তর: x সমান ৪
সঠিক উত্তর: A) ০
প্রদত্ত তথ্য:
মূল রাশিটি হলো প্রথম বন্ধনীর ভেতরের অংশ এবং বাইরে বিয়োগ চিহ্ন।
রাশিটি হলো ১ বিয়োগ এক ষষ্ঠাংশ যোগ এক দ্বিতীয়াংশ এবং সবশেষে বিয়োগ এক তৃতীয়াংশ।
ধরি,
প্রথম বন্ধনীর ভেতরের হিসাবটি আগে সম্পন্ন করতে হবে।
বন্ধনীর ভেতর আছে এক ষষ্ঠাংশ যোগ এক দ্বিতীয়াংশ।
অতএব,
হরগুলোর লসাগু হবে ছয়।
এক ষষ্ঠাংশ যোগ এক দ্বিতীয়াংশ সমান এক যোগ তিন ভাগ ছয়।
যা হিসাব করলে হয় চার ভাগ ছয় বা দুই ভাগ তিন।
সুতরাং,
এখন প্রথম বন্ধনীর কাজটি শেষ করে পাই এক বিয়োগ দুই ভাগ তিন।
এক থেকে দুই ভাগ তিন বিয়োগ করলে থাকে এক ভাগ তিন।
উত্তর: এক ভাগ তিন বিয়োগ এক ভাগ তিন সমান শূন্য
সঠিক উত্তর: B) ৭ টি
প্রদত্ত তথ্য:
সেট A এর উপাদান সংখ্যা ৩ টি
ধরি,
সেট A = a, b, c
উপাদান সংখ্যা n = ৩
অতএব,
মোট উপসেট সংখ্যা = ২ এর উপর ৩ এর পাওয়ার = ৮ টি
সুতরাং,
প্রকৃত উপসেট সংখ্যা = মোট উপসেট সংখ্যা − ১
উত্তর: ৮ − ১ = ৭ টি
সঠিক উত্তর: D) ২ জটিল সংখ্যা নয়
প্রদত্ত তথ্য:
সংখ্যাটি হলো ২
যা একটি বাস্তব সংখ্যা
ধরি,
বাস্তব সংখ্যা মানেই তা জটিল সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত
কারণ সব বাস্তব সংখ্যাকে ক + খই আকারে লেখা যায়
অতএব,
২ সংখ্যাটিকে লেখা যায় ২ + ০ই
যা জটিল সংখ্যার সংজ্ঞাকে পূর্ণ করে
সুতরাং,
২ একটি জটিল সংখ্যা এবং অপশনের দাবিটি মিথ্যা
উত্তর: D) ২ জটিল সংখ্যা নয়
সঠিক উত্তর: A) √−৩
প্রদত্ত তথ্য:
অপশনগুলোতে চারটি ভিন্ন সংখ্যা দেওয়া আছে।
এর মধ্যে তিনটি বাস্তব সংখ্যা এবং একটি অমূলক বা কাল্পনিক সংখ্যা।
ধরি,
বাস্তব সংখ্যার ক্ষেত্রে বর্গমূলের ভেতরের মান ঋণাত্মক হতে পারে না।
অপশন এ এর ভেতরে মাইনাস তিন আছে যা একটি ঋণাত্মক সংখ্যা।
অতএব,
কোনো ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূল বাস্তব সংখ্যার সেটভুক্ত নয়।
এটি একটি কাল্পনিক সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।
সুতরাং,
√−৩ একটি বাস্তব সংখ্যা নয়।
উত্তর: A) √−৩
সঠিক উত্তর: C) ২
প্রদত্ত তথ্য:
সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে
মৌলিক সংখ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী ১ এর চেয়ে বড় যে সংখ্যা শুধু ১ এবং সেই সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য তা মৌলিক সংখ্যা
ধরি,
সংখ্যাগুলো হলো শূন্য, এক, দুই এবং তিন
অতএব,
শূন্য এবং এক মৌলিক সংখ্যা নয়
দুই একটি মৌলিক সংখ্যা যা কেবল এক এবং দুই দ্বারা বিভাজ্য
সুতরাং,
দুই এর চেয়ে ছোট কোনো মৌলিক সংখ্যা নেই
উত্তর: ২
সঠিক উত্তর: B) ১৩/১৫
প্রدত্ত তথ্য:
ভগ্নাংশগুলো হলো ২/৩, ১৩/১৫, ৪/৫ এবং ২৩/৩০
ধরি,
হরগুলোর লসাগু হলো ৩০
অতএব,
প্রথম ভগ্নাংশ = ২০/৩০
দ্বিতীয় ভগ্নাংশ = ২৬/৩০
তৃতীয় ভগ্নাংশ = ২৪/৩০
সুতরাং,
চতুর্থ ভগ্নাংশ = ২৩/৩০
উত্তর: ১৩/১৫
সঠিক উত্তর: A) ৮০%
প্রদত্ত তথ্য:
ভগ্নাংশটি হলো ৪ ভাগ ৫ বা ৪/৫
ধরি,
শতকরা প্রকাশ করতে হলে সংখ্যাটিকে ১০০ দিয়ে গুণ করতে হবে
অতএব,
৪ ÷ ৫ × ১০০
= ৪ × (১০০ ÷ ৫)
= ৪ × ২০
সুতরাং,
৪ × ২০ = ৮০
উত্তর: ৮০%
সঠিক উত্তর: B) International Monetary Fund
কেন সঠিক:
- এটি জাতিসংঘের একটি প্রধান আর্থিক সংস্থা, যা বৈশ্বিক মুদ্রানীতিগত সহযোগিতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট দূর করতে এই প্রতিষ্ঠান ঋণ সহায়তা প্রদান করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) International Mandatory Fund — এই নামে আন্তর্জাতিক কোনো আর্থিক সংস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল নেই।
B) International Monetary Fund — এটি এই প্রশ্নের সঠিক ও প্রমাণিত উত্তর।
C) International Matching Fund — এটি একটি বিভ্রান্তিকর নাম এবং এই নামের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই।
D) International Mutual Fund — এটি কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা তহবিলের নাম নয়, বরং এটি এক ধরণের বিনিয়োগ তহবিল।
মনে রাখার টিপস:
আইএমএফ এর পূর্ণরূপ মনে রাখার সহজ উপায় হলো Monetary কথাটি মনে রাখা, যার অর্থ মুদ্রা বা অর্থসংক্রান্ত।
সঠিক উত্তর: B) মাদাম কুরি
কেন সঠিক:
- মাদাম কুরি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
- তিনিই বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পিয়ারে কুরি — তিনি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে একবার নোবেল পুরস্কার পেলেও দুবার পাননি।
B) মাদাম কুরি — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং তিনি দুবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
C) লুই পাস্তুর — তিনি জীবাণু তত্ত্ব ও টিকা আবিষ্কার করলেও নোবেল পুরস্কার পাননি।
D) রোনাল্ড রস — তিনি ম্যালেরিয়া বিষয়ক গবেষণার জন্য একবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
মনে রাখার টিপস:
পদার্থ ও রসায়নে দুইবার নোবেল জয়ী একমাত্র নারী মাদাম কুরি।
সঠিক উত্তর: B) ওয়াশিংটন ডিসি
কেন সঠিক:
- মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
- এখান থেকেই বিশ্বজুড়ে নাসার বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম ও মিশন পরিচালিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফ্লোরিডা — এটি নাসার প্রধান রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র কেনেডি স্পেস সেন্টারের অবস্থান, সদর দপ্তর নয়।
B) ওয়াশিংটন ডিসি — এটি নাসার মূল প্রশাসনিক সদর দপ্তর হওয়ার কারণে এই অপশনটি সঠিক।
সি) কেপ কেনেডি — এটি ফ্লোরিডার একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, যা মহাকাশযান পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
ডি) হিউস্টন — এটি নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের অবস্থান, যেখানে মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মনে রাখার টিপস:
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ডিসিতেই বসে নাসার মূল ডিসিশন বা সিদ্ধান্ত।
সঠিক উত্তর: B) ইউক্রেন
কেন সঠিক:
- ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটি বা চেরোজেম মৃত্তিকা গম উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- দেশটির বিপুল পরিমাণ গম উৎপাদন ও রপ্তানির কারণে একে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাশিয়া — এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম উৎপাদনকারী দেশ হলেও একে ঐতিহাসিকভাবে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয় না।
B) ইউক্রেন — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর বিধায় এখানে ভুল অপশনের কারণ প্রযোজ্য নয়।
সি) ফ্রান্স — এটি ইউরোপের প্রধান কৃষি উৎপাদনকারী দেশ হলেও একে রুটির ঝুড়ি বলা হয় না।
ডি) স্পেন — এটি দক্ষিণ ইউরোপের একটি দেশ এবং জলবায়ু ও উৎপাদিত ফসলের পার্থক্যের কারণে এই নামে পরিচিত নয়।
মনে রাখার টিপস:
ইউক্রেনের উর্বর কালো মাটিতে প্রচুর গম ফলে, তাই ইউক্রেন হলো ইউরোপের রুটির ঝুড়ি।
সঠিক উত্তর: A) বাণিজ্যের ক্ষেত্রে
কেন সঠিক:
- EBA এর পূর্ণরূপ হলো এভরিথিং বাট আর্মস, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়।
- এটি মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রপ্তানি সুবিধা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ বাণিজ্য পলিসি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাণিজ্যের ক্ষেত্রে — এটি সঠিক কারণ EBA সুবিধাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।
B) পরিবহণের ক্ষেত্রে — এটি ভুল কারণ এই সুবিধার সাথে যোগাযোগ, যাতায়াত বা পরিবহন খাতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
C) শিক্ষার ক্ষেত্রে — এটি ভুল কারণ শিক্ষা বা মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলাদা স্কলারশিপ বা কর্মসূচি রয়েছে, EBA নয়।
D) যুদ্ধের ক্ষেত্রে — এটি ভুল কারণ EBA-এর পূর্ণরূপে অস্ত্র বা সামরিক বিষয় বাদ দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক পণ্যের কথা বলা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
EBA মানে অস্ত্র ছাড়া সব, আর এই বাণিজ্য সুবিধা শুধু রপ্তানি ও ব্যবসার সাথে যুক্ত।
সঠিক উত্তর: B) UNESCO
কেন সঠিক:
- ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ECOSOC — এটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
B) UNESCO — এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা, যা ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
C) UNCTAD — এটি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়।
D) UNICEF — এটি জাতিসংঘের শিশু তহবিল সংস্থা, যা শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করে এবং এই স্বীকৃতির সঙ্গে জড়িত নয়।
মনে রাখার টিপস:
ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কাজটি শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো করেছে।
সঠিক উত্তর: C) অ্যান্টনিও গুতেরেস
কেন সঠিক:
- তিনি জাতিসংঘের বর্তমান ও নবম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে তিনি এই পদে আসীন রয়েছেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বান কি মুন — তিনি জাতিসংঘের অষ্টম মহাসচিব ছিলেন, বর্তমান মহাসচিব নন।
B) কফি আনান — তিনি জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ছিলেন, বর্তমান মহাসচিব নন।
C) অ্যান্টনিও গুতেরেস — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
D) বুত্রোস গালি — তিনি জাতিসংঘের ষষ্ঠ মহাসচিব ছিলেন, বর্তমান মহাসচিব নন।
মনে রাখার টিপস:
বর্তমান মহাসচিবের নাম মনে রাখতে প্রথম অক্ষর জি (G) বা গুতেরেস মাথায় রাখুন।
সঠিক উত্তর: A) EU
কেন সঠিক:
- EU বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো ইউরোপের কয়েকটি দেশের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট, যা জাতিসংঘের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়।
- জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত এবং সচিবালয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) EU — এটি একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট, জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ বা বিশেষায়িত সংস্থা নয়।
B) ILO — এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শ্রম মান নিয়ে কাজ করে।
C) UNDP — এটি জাতিসংঘের প্রধান উন্নয়ন সহায়তা প্রদানকারী একটি অঙ্গসংগঠন।
D) WFP — এটি জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা বিষয়ক একটি অঙ্গসংগঠন।
মনে রাখার টিপস:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা EU হলো একটি স্বাধীন আঞ্চলিক জোট, তাই এটি জাতিসংঘের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়।
সঠিক উত্তর: B) ২০৩০
কেন সঠিক:
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের জন্য ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
- জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রণীত এই বৈশ্বিক এজেন্ডার মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০২৫ — এটি এসডিজির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাল নয়, কারণ এটি একটি পনেরো বছর মেয়াদি পরিকল্পনা।
B) ২০৩০ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপਸ਼ਨটি সঠিক হিসেবে বিবেচিত।
সি) ২০৩৫ — এই সালটি এসডিজির মূল মেয়াদকাল বা প্রাক্কলন বছরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ডি) ২০৩৬ — এই সালটি জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমার অন্তর্ভুক্ত নয়।
মনে রাখার টিপস:
এসডিজির মেয়াদ মনে রাখতে ১৫ বছরের হিসাব মাথায় রাখুন, অর্থাৎ ২০১৫ থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালে এর প্রাক্কল মেয়াদ শেষ হয়।
প্রশ্নের ধরন: ভূগোল ও পরিবেশ / আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
সঠিক উত্তর: C) শ্রীলংকা
কেন সঠিক:
- হাম্বানটোটা বন্দরটি শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলের হাম্বানটোটা জেলায় অবস্থিত এবং এটি দেশটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গভীর সমুদ্র বন্দর।
- অর্থনৈতিক কারণে চীন এই বন্দরটি নির্মাণে অর্থায়ন করেছে এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে এর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জিবুতি — এটি পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ, যেখানে চীনের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে কিন্তু হাম্বানটোটা বন্দরটি এখানে অবস্থিত নয়।
B) মাদাগাস্কার — এটি ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, যার সঙ্গে হাম্বানটোটা বন্দরের কোনো ভৌগোলিক সম্পর্ক নেই।
C) শ্রীলংকা — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এই বন্দরটি শ্রীলংকার দক্ষিণাংশে ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত।
D) ভারত — এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ, যার নিজস্ব অনেক বন্দর আছে তবে হাম্বানটোটা বন্দরটি এর ভূখণ্ডে নয়।
মনে রাখার টিপস:
শ্রীলংকার সাগরের জল, হাম্বানটোটা বন্দর সে তো চমৎকার।
সঠিক উত্তর: C) ASEAN
কেন সঠিক:
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ান বা আশিয়ানের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ নয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় হওয়ায় এই জোটের সদস্যপদ অর্জনের সুযোগ নেই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) BIMSTEC — বাংলাদেশ এই বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত।
B) ICD-8 — এটি আন্তর্জাতিক রোগ বিন্যাসের অষ্টম সংস্করণ যা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বাংলাদেশ এর অনুসারী।
D) [ফাঁকা] — প্রদত্ত অপশনে কোনো মানসম্মত বা প্রাসঙ্গিক উত্তর না থাকায় এটি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ সার্ক ও বিমসটেক এর সদস্য হলেও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের সদস্য নয়।
সঠিক উত্তর: C) রোম
কেন সঠিক:
- খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করে।
- এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান কার্যালয় ইতালির রাজধানী রোম শহরে অবস্থিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ওয়াশিংটন — এটি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদর দপ্তর, এফএও এর নয়।
B) জেনেভা — এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদর দপ্তর, এফএও এখানে নেই।
C) রোম — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং এফএও-এর সদর দপ্তর এখানেই অবস্থিত।
D) টোকিও — এটি জাপানের রাজধানী এবং এখানে কোনো প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর নেই।
মনে রাখার টিপস:
খাবার খেয়ে সবাই রোমাঞ্চিত হয়, তাই খাদ্য সংস্থা এফএও-এর সদর দপ্তর রোমে অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: A) ২০২৬
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিইডিসি কর্তৃক নির্ধারিত সকল অর্থনৈতিক সূচক অর্জন করায় ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণ ঘটবে।
- ২০২১ সালে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় শেষে ২০২৬ সালে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০২৬ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে।
B) ২০৩০ — এটি সঠিক উত্তর নয় কারণ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বছর এটি, এলডিসি থেকে বের হওয়ার সাল নয়।
C) ২০৩৬ — এটি ভুল অপশন কারণ এই সালের সঙ্গে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের কোনো ঐতিহাসিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নেই।
D) ২০৪১ — এটি ভুল অপশন কারণ ২০৪১ সালকে বাংলাদেশ উন্নত ও স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে ২০২১ সালে এবং ২০২৬ সালে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়।
সঠিক উত্তর: C) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ
কেন সঠিক:
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা পনেরোটি, যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং দশটি অস্থায়ী রাষ্ট্র রয়েছে।
- এই পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও গণচীন, যাদের যেকোনো প্রস্তাব এককভাবে বাতিল করার ক্ষমতা বা ভেটো পাওয়ার আছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র — সাধারণ পরিষদের সব সদস্য দেশের ভেটো ক্ষমতা নেই, এখানে সব দেশের একটি করে সমান ভোট থাকে।
B) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র — নিরাপত্তা পরিষদের কেবল পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা আছে, দশটি অস্থায়ী সদস্যের এই ক্ষমতা নেই।
সি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় মূল কারণ হিসেবে উপরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
D) জাতিসংঘের মহাসচিব — জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্ব সংস্থার প্রশাসনিক প্রধান, তার কোনো রাজনৈতিক ভেটো ক্ষমতা নেই।
মনে রাখার টিপস:
স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো ক্ষমতা মনে রাখতে 'ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-চীন-রাশিয়া-আমেরিকা' এই পাঁচটি দেশ এবং তাদের আদ্যক্ষর মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: B) হামিদুর রহমান
কেন সঠিক:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশা ও স্থপতি ছিলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সরকারের সহযোগিতায় তাঁর নকশা অনুযায়ী শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শামীম শিকদার — তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ভাস্কর হলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি নন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর।
B) হামিদুর রহমান — ইনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল স্থপতি ও নকশাবিদ, যিনি এই ঐতিহাসিক সৌধটির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করেছিলেন।
C) মৃণাল হক — তিনি একজন আধুনিক ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী, যিনি পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্মাণ করলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
D) কামরুল হাসান — তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পটুয়া, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরের স্বোপার্জিত স্বাধীনতার ভাস্কর্য বা শহীদ মিনারের স্থপতি নন।
মনে রাখার টিপস:
শহীদ মিনারের নকশাকার বা স্থপতি মনে রাখতে নামের শুরুটি মনে রাখুন, শহীদ মিনার ও হামিদুর রহমান উভয়েই 'হ' বর্ণ দিয়ে শুরু।
সঠিক উত্তর: B) জাপান
কেন সঠিক:
- নাগাসাকি জাপানের কিউশু দ্বীপে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট এই শহরের ওপর পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কম্বোডিয়া — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ, যার রাজধানী নমপেন এবং এর কোনো শহর নাগাসাকি নয়।
B) জাপান — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর, তাই এই অপশনটি সঠিক।
C) ফিলিপাইন — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যার রাজধানী ম্যানিলা এবং নাগাসাকি এখানে অবস্থিত নয়।
D) ভিয়েতনাম — এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ, যার রাজধানী হ্যানয় এবং এর সঙ্গে নাগাসাকির কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমার পর নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: D) মিয়ানমার
কেন সঠিক:
- দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের সদস্য সংখ্যা আটটি এবং মিয়ানমার দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নয়।
- মিয়ানমার দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান এর সদস্য রাষ্ট্র।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আফগানিস্তান — এটি সার্কের অষ্টম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ২০০৭ সালে যুক্ত হয়।
B) ভুটান — এটি সার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র।
সি) মালদ্বীপ — এটি সার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে।
ডি) মিয়ানমার — এটি সার্কের সদস্য নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
মনে রাখার টিপস:
সার্কের সদস্য দেশ মনে রাখার কৌশল এমবিবিএস স্পিন (MBBS SPIN) ব্যবহার করতে পারো, যেখানে মিয়ানমারের কোনো স্থান নেই।
সঠিক উত্তর: B) ২০২০-২০২৫
কেন সঠিক:
- ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয় এবং এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।
- সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের প্রণীত এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য ছিল এসডিজি অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০১৯-২০২৪ — এটি কোনো নির্ধারিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল নয়, কারণ ৭ম পরিকল্পনা শেষ হয় ২০২০ সালে।
B) ২০২০-২০২৫ — এটি সঠিক এবং এই সময়ের মধ্যে পরিকল্পনাটির মূল রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
C) ২০২১-২০২৫ — এই সময়কালটি চার বছরের হওয়ায় তা কোনো নির্দিষ্ট পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে না।
D) ২০২১-২০২৬ — এটি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল নয়, এটি অন্য কোনো পরিকল্পনা বা ভিন্ন সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মনে রাখার টিপস:
পরিকল্পনাটি ২০২০ সালে শুরু হয়ে ২০২৫ সালে শেষ হয়, তাই সাল দুটির ব্যবধান ৫ বছর হিসাব করলেই সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে।
সঠিক উত্তর: C) এটর্নি জেনারেল
কেন সঠিক:
- সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন এটর্নি জেনারেল, যিনি সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন।
- রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দেন এবং তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য এমন কোনো ব্যক্তিকে এই পদে মনোনীত করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আইন মন্ত্রী — তিনি সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রধান ও মন্ত্রী, কিন্তু সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা নন।
B) প্রধান বিচারপতি — তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান এবং বিচার বিভাগের প্রধান, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা নন।
C) এটর্নি জেনারেল — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর, তাই এই অপশনটি ভুল নয়।
D) আইন সচিব — তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান ও সচিব, যিনি দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন কিন্তু প্রধান আইন কর্মকর্তা নন।
মনে রাখার টিপস:
আদালতে সরকারের পক্ষে লড়েন যিনি, প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তিনিই এটর্নি জেনারেল।
সঠিক উত্তর: C) ৩ টি
কেন সঠিক:
- বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে তিনটি।
- এগুলো হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ টি — বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা ১টি নয়, মোট ৩টি।
B) ২ টি — অতীতের তথ্যানুযায়ী এটি সঠিক ছিল, কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা ৩টি।
C) ৩ টি — এটি সঠিক উত্তর কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে ৩টি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে।
D) ৪ টি — বাংলাদেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা ৪টি নয়, ৩টি।
মনে রাখার টিপস:
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাংলাদেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: C) আনোয়ার পারভেজ
কেন সঠিক:
- 'জয় বাংলা, বাংলার জয়' গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার হলেও এর সুরকার ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এই গানটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অণুপ্রেরণা জোগাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গাজী মাজহারুল আনোয়ার — তিনি এই বিখ্যাত গানটির গীতিকার হলেও এর সুরকার নন।
B) আলতাফ মাহমুদ — তিনি এই গানের সুরকার নন, তবে তিনি 'চল চল চল' এবং 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানের সুরকার হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
D) সমর দাস — তিনি বিশিষ্ট সুরকার ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীত বিভাগের পরিচালক হলেও এই গানটির সুরকার নন।
মনে রাখার টিপস:
গাজী গান গেয়েছেন (গীতিকার) আর আনোয়ার সুর এনেছেন (সুরকার), এভাবে মনে রাখতে পারেন।
সঠিক উত্তর: C) ৮ নম্বর
কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা তথা বর্তমান মুজিবনগর ৮ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে পরিচালিত হতো এবং এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও পরবর্তীকালে মেজর এস এম হামজা হোসেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১ নম্বর — এই সেক্টরটি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল, যা মুজিবনগর এলাকার আওতাভুক্ত ছিল না।
B) ৫ নম্বর — এই সেক্টরটি মূলত বৃহত্তর সিলেট জেলার কিছু অংশ এবং ময়মনসিংহের কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।
C) ৮ নম্বর — এটি সঠিক উত্তর, কারণ মুজিবনগর এই সেক্টরের ভৌগোলিক সীমানা ও সামরিক অপারেশনের আওতাধীন ছিল।
D) ১০ নম্বর — এটি নৌ সেক্টর ছিল, যা নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক এলাকার পরিবর্তে নদী ও সমুদ্রপথে সাবমেরিন এবং গানবোটের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
মনে রাখার টিপস:
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান মেহেরপুর কুষ্টিয়া অঞ্চলের অংশ হওয়ায় এটি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে পরিচালিত হতো।
সঠিক উত্তর: C) আইন
কেন সঠিক:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
- চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায় আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ১৯৪৯ সালে বহিষ্কার করেছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাষ্ট্রবিজ্ঞান — এটি সঠিক নয় কারণ তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হননি, বরং আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
B) সমাজবিজ্ঞান — এটি সঠিক নয় কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন এই বিভাগটি তার ভর্তির সময় প্রধান পঠিত বিষয় ছিল না।
C) আইন — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং তিনি এই বিভাগেই ভর্তি হয়েছিলেন।
D) অর্থনীতি — এটি সঠিক নয় কারণ তিনি অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হননি, তার মূল শিক্ষাগত ঝোঁক ছিল আইনের প্রতি।
মনে রাখার টিপস:
বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি বহিষ্কৃত হন।
সঠিক উত্তর: C) তিতাস
কেন সঠিক:
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র।
- এখান থেকে প্রতিদিন দেশের একটি বিশাল অংশে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাখরাবাদ — এটি কুমিল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র হলেও বৃহত্তম নয়।
B) হরিপুর — এটি সিলেটের হরিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র।
D) হবিগঞ্জ — এটি তুলনামূলকভাবে বড় গ্যাসক্ষেত্র হলেও আয়তন ও উৎপাদনে তিতাসের চেয়ে ছোট।
মনে রাখার টিপস:
বৃহৎ মানে তিতাস নদী যেমন বড়, তেমনি তিতাস গ্যাসক্ষেত্রও দেশের সবচেয়ে বড়।
সঠিক উত্তর: B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
কেন সঠিক:
- ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ — এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার তারিখ নয়, বরং এটি বাংলা ভাষার শহিদ দিবস।
B) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এই দিনেই ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
C) ১৯ নভেম্বর ২০০০ — এটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতির তারিখের সঙ্গে মিলে না এবং এটি একটি ভুল সাল।
D) ২০ নভেম্বর ২০০০ — এটিও সঠিক স্বীকৃতির তারিখ নয় এবং এটি পরের বছরের একটি কাল্পনিক সাল।
মনে রাখার টিপস:
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেয় এবং পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।
সঠিক উত্তর: B) পুণ্ড্র
কেন সঠিক:
- ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র মতে পুণ্ড্র জনপদটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ হিসেবে স্বীকৃত।
- মৌর্য আমল থেকেই পুণ্ড্রবর্ধন নামের এই জনপদের প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অস্তিত্বের শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গৌড় — এটি বাংলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন অঞ্চল হলেও পুণ্ড্রর মতো সর্বপ্রাচীন জনপদ নয়।
B) পুণ্ড্র — এটিই বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ এবং এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা বর্তমান মহাস্থানগড়।
C) সমতট — এটি প্রাচীন বাংলার একটি জনপদ হলেও তা পুণ্ড্রর চেয়ে পরবর্তীকালের জনপদ।
D) হরিকেল — এটি প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি জনপদ, যা সর্বপ্রাচীন নয়।
মনে রাখার টিপস:
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ মনে রাখতে আদি অক্ষর প দিয়ে পুণ্ড্র মনে রাখতে পারো।
সঠিক উত্তর: A) কক্সবাজার
কেন সঠিক:
- মাতারবাড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত একটি দ্বীপ এলাকা।
- এখানে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত হওয়ার কারণে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কক্সবাজার — এটি সঠিক উত্তর কারণ মাতারবাড়ি ভৌগোলিকভাবে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত।
B) কুমিল্লা — এটি দেশের পূর্বাঞ্চলের একটি জেলা এবং মাতারবাড়ি প্রকল্পের সঙ্গে এর কোনো ভৌগোলিক বা প্রশাসনিক সংযোগ নেই।
C) নোয়াখালী — এটি উপকূলীয় জেলা হলেও মাতারবাড়ি এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়, এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত।
D) ভোলা — এটি দেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা হলেও মাতারবাড়ি দ্বীপটি ভোলায় নয়, বরং কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত।
মনে রাখার টিপস:
মাতারবাড়ি ও মহেশখালী উভয়ই 'ম' দিয়ে শুরু এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: D) Vit-K
১. কেন সঠিক:
- ভিটামিন কে আমাদের রক্ত জমাট বাঁধতে বা রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- শরীরে কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধ করতে প্রথ্রোমবিন নামক প্রোটিন তৈরিতে এই ভিটামিন সরাসরি সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রক্ত তঞ্চন হলো এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তরল রক্ত জমাট বেঁধে আঠালো পদার্থে পরিণত হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধ করে।
- কার্যপ্রণালি: যকৃতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা ক্লটিং ফ্যাক্টর তৈরিতে ভিটামিন কে কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: অস্ত্রোপচার বা দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীকে ভিটামিন কে সরবরাহ করেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শরীরে ছোটখাটো কেটে গেলে কিছুক্ষণ পর রক্ত নিজে থেকেই জমাট বেঁধে বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এটি ভিটামিন কে এর উপস্থিতির কারণে সম্ভব হয় যা রক্তকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: নবজাতকদের জন্মলগ্নে ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যা: নবজাতকদের অন্ত্রে এই ভিটামিন উৎপাদক ব্যাকটেরিয়া থাকে না বলে রক্তক্ষরণ রোধে এটি দেওয়া হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Vit-C — এটি অ্যাসকরবিক অ্যাসিড যা স্করভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কিন্তু রক্ত জমাট বাঁধে না।
B) Vit-D — এটি ক্যালসিফিকেশন এবং হাড়ের গঠনে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায় কিন্তু রক্ত তঞ্চনে কাজ করে না।
C) Vit-B — এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা বিপাক ক্রিয়া ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় অংশ নেয় তবে রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
D) Vit-K — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি প্রথ্রোমবিন তৈրির মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রক্ত জমাট বাঁধার ইংরেজি শব্দ কোয়াগুলেশন যার সাথে ভিটামিন কে অক্ষরের মিল রয়েছে।
- এভাবে মনে রাখতে পারেন যে কে মানে কোয়াগুলেশন বা জমাট বাঁধা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ভিটামিন কে এর অভাবে রক্ত তঞ্চন বা জমাট বাঁধতে দেরি হয় ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- এখান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন কোনটি অথবা কোন ভিটামিনের অভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না।
সঠিক উত্তর: B) শৈবাল
১. কেন সঠিক:
স্পিরুলিনা হলো আণুবীক্ষণিক এককোশী সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল। এটি সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: স্পিরুলিনা মূলত সায়ানোব্যাকটেরিয়া গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এবং পুষ্টিবিজ্ঞানে এটি আণুবীক্ষণিক শৈবাল হিসেবে পরিচিত।
কার্যপ্রণালি: ক্লোরোফিল এবং অন্যান্য রঞ্জক পদার্থের সাহায্যে এটি সূর্যালোকের উপস্থিতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে এবং বিপুল পরিমাণে আমিষ উৎপন্ন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাকাশচারীদের খাদ্য হিসেবে স্পিরুলিনা ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: সীমিত জায়গায় এবং কম ওজনে এটি উচ্চ পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
উদাহরণ ২: বাণিজ্যিক সুপারফুড বা ডায়েটরি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর ব্যবহার।
ব্যাখ্যা: এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ছত্রাক — ছত্রাক ক্লোরোফিলহীন মৃতজীবী বা পরজীবী জীব, যা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না।
B) শৈবাল — এটি সঠিক উত্তর কারণ স্পিরুলিনা একটি সালোকসংশ্লেষণকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল।
C) ব্যাকটেরিয়া — বৈজ্ঞানিকভাবে এটি সায়ানোব্যাকটেরিয়া হলেও সাধারণ ও পুষ্টিবিজ্ঞানগত শ্রেণিবিন্যাসে একে আণুবীক্ষণিক শৈবাল হিসেবে গণ্য করা হয়।
D) ভাইরাস — ভাইরাস হলো অকোষীয় এবং বাধ্যতামূলক পরজীবী যা জীবদেহের বাইরে জড় পদার্থের মতো আচরণ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
স্পিরুলিনা নামটির সঙ্গে সবুজ বা শৈবাল কথাটি মনে রাখলে সহজে একে আণুবীক্ষণিক শৈবাল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। পুষ্টির পাওয়ারহাউস হিসেবে স্পিরুলিনা শৈবাল পরিবারভুক্ত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্পিরুলিনা থেকে প্রায়ই পুষ্টি উপাদান বা প্রোটিনের উৎস সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে। এটি উদ্ভিজ্জ আমিষের একটি চমৎকার উৎস।
সঠিক উত্তর: D) সবুজ
১. কেন সঠিক:
- সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না কারণ উদ্ভিদের পাতার ক্লোরোফিল সবুজ আলো শোষণ করতে পারে না বরং তা প্রতিফলিত করে।
- আলো শোষিত না হলে সালোকসংশ্লেষণের আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হতে পারে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানির সাহায্যে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
- কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদের পাতায় উপস্থিত ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন বর্ণ শোষণ করে, যার মধ্যে লাল ও নীল আলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
- কারণ ও ফলাফল: ক্লোরোফিল সবুজ বর্ণকে প্রতিফলিত করে এবং সামান্য শোষণ করে বলে সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ প্রায় হয়ই না বললেই চলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাঁচঘেরা সবুজ ঘরে গাছপালা রাখা।
ব্যাখ্যা: সবুজ কাঁচের ভেতর দিয়ে কেবল সবুজ আলো প্রবেশ করায় উদ্ভিদ পর্যাপ্ত আলো শোষণ করতে পারে না এবং খাদ্য তৈরি ব্যাহত হয়।
উদাহরণ ২: অন্ধকার প্রদীপের নিচে সবুজ আলো জ্বেলে গাছ রাখা।
ব্যাখ্যা: এই কৃত্রিম আলোতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় উদ্ভিদের বৃদ্ধি থমে যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লাল — লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় কারণ ক্লোরোফিল লাল বর্ণ সবচেয়ে বেশি শোষণ করে।
B) নীল — নীল আলোতেও সালোকসংশ্লেষণ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং এটি উদ্ভিদের অঙ্গের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
C) বেগুনী — বেগুনী আলো দৃশ্যমান আলোর একটি অংশ যা ক্লোরোফিল দ্বারা শোষিত হয় এবং সালোকসংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে।
D) সবুজ — সবুজ আলো ক্লোরোফিল কর্তৃক শোষিত না হয়ে প্রতিফলিত হয় বলে এই আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গাছ নিজে সবুজ তাই সবুজ রঙকে সে নিজের ভেতর টানে না বা শোষণ করে না, ফলে সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি হয় লাল ও নীল আলোতে এবং সবচেয়ে কম বা হয় না সবুজ আলোতে।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: D) জুল
১. কেন সঠিক:
- জুল হলো কাজের বা শক্তির একক, বলের একক নয়।
- বিজ্ঞানসম্মতভাবে কাজ এবং শক্তির পরিমাণ একই হলেও বল সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভৌত রাশি।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বল হলো সেই বাহ্যিক কারণ যা স্থির বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে গতিশীল করে বা গতিশীল বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে গতির পরিবর্তন ঘটায়।
- সূত্র/তত্ত্ব: নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে বলের পরিমাপ করা হয়, যেখানে বল সমান ভর গুণ ত্বরণ লেখা হয়।
- কার্যপ্রণালি: বলের একক হিসেবে সিজিএস পদ্ধতিতে ডাইন এবং এসআই পদ্ধতিতে নিউটন ব্যবহার করা হয়।
- কারণ ও ফলাফল: কাজের একক জুল হওয়ায় এটি বলের একক হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাটিতে রাখা একটি ফুটবলকে কিক করলে বল প্রয়োগ করা হয়, যার একক নিউটন।
ব্যাখ্যা: ফুটবলকে সরানোর জন্য যে ধাক্কা দেওয়া হয় তা বল এবং এর পরিমাপ নিউটন এককে প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ ২: একটি ভারী বাক্স এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিলে কাজের সৃষ্টি হয়, যার একক জুল।
ব্যাখ্যা: বল প্রয়োগ করে বস্তুকে সরালে কাজের কাজ সম্পন্ন হয় এবং এর পরিমাপ জুল এককে মাপা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডাইন — এটি বলের সিজিএস একক, তাই এটি সঠিক উত্তরের অংশ নয়।
B) নিউটন — এটি বলের আন্তর্জাতিক বা এসআই একক, তাই এটি সঠিক উত্তরের অংশ নয়।
C) পাউন্ডাল — এটি বলের এফপিএস একক, তাই এটি সঠিক উত্তরের অংশ নয়।
D) জুল — এটি কাজের এবং শক্তির একক, তাই এটি বলের একক নয় এবং প্রশ্ন অনুযায়ী এটিই সঠিক উত্তর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- বলের একক মনে রাখার সহজ কৌশল হলো নিউটন, ডাইন এবং পাউন্ডাল।
- জুল শুনলেই বুঝতে হবে এটি কাজ বা শক্তির সাথে সম্পর্কিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এসআই পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন এবং কাজের একক জুল ভালো করে মনে রাখতে হবে।
- প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন রাশির একক থেকে প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) যান্ত্রিক শক্তিতে
১. কেন সঠিক:
- আমরা যখন কথা বলি তখন আমাদের গলার স্বরযন্ত্রে অবস্থিত ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় এবং এই কম্পন যান্ত্রিক শক্তির সৃষ্টি করে।
- এই যান্ত্রিক শক্তি বায়ুর কণাগুলোকে কম্পিত করে শব্দতরঙ্গ হিসেবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ সম্পন্ন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: শক্তি অবিনশ্বর, শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হতে পারে।
- কার্যপ্রণালি: ফুসফুস থেকে আসা বাতাসের চাপে স্বরতন্ত্রীর পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে যান্ত্রিক কম্পন তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: কথা বলার সময় ফুসফুসের গতিশক্তি ও পেশির শক্তি যৌথভাবে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়ুতে শব্দ উৎপন্ন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানুষের কথা বলা বা গান গাওয়া।
ব্যাখ্যা: গলার পেশির যান্ত্রিক কম্পন বাতাসের অণুগুলোকে নাড়া দিয়ে শব্দশক্তি উৎপন্ন করে।
উদাহরণ ২: ঢোল বা গিটার বাজানো।
ব্যাখ্যা: আঘাত করা বা টানার ফলে সৃষ্ট যান্ত্রিক শক্তি পরবর্তীতে শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তড়িৎ শক্তিতে — কথা বলার সময় কোনো বৈদ্যুতিক প্রবাহ বা তড়িৎ ক্ষেত্র তৈরি হয় না, তাই এটি ভুল।
B) যান্ত্রিক শক্তিতে — এটি সঠিক কারণ স্বরতন্ত্রীর কম্পন একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
C) আলোক শক্তিতে — কথা বলার সময় কোনো আলো বা ফোটন কণা উৎপন্ন হয় না, তাই এটি ভুল।
D) গতি শক্তিতে — গতিশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি অংশমাত্র, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটি সামগ্রিক যান্ত্রিক শক্তি হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কথা বলা মানেই গলার পেশির নড়াচড়া, নড়াচড়া মানেই যান্ত্রিক কাজ, তাই উত্তর হবে যান্ত্রিক শক্তি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
শব্দ এক প্রকার শক্তি যা সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন।
এই ধরনের প্রশ্ন থেকে শক্তি রূপান্তরের অন্যান্য উদাহরণ যেমন মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকারের কার্যপদ্ধতি থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) বায়ু
১. কেন সঠিক:
বায়ু হলো একাধিক গ্যাসের একটি মিশ্রণ, যেখানে বিভিন্ন উপাদান নিজস্ব রাসায়নিক সত্তা বজায় রেখে একত্রে অবস্থান করে।
বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্প কোনো রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে না, তাই এটি মিশ্র পদার্থ।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: যে পদার্থে দুই বা ততোধিক মৌলিক বা যৌগিক পদার্থ কোনো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত না থেকে কেবল মিশ্রিত থাকে, তাকে মিশ্র পদার্থ বলে।
কার্যপ্রণালি: মিশ্রণের উপাদানগুলো তাদের নিজস্ব ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম বজায় রাখে এবং এদের খুব সহজেই ভৌত উপায়ে পৃথক করা সম্ভব।
বাস্তব প্রয়োগ: বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে আমরা পাতন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন আলাদা করতে পারি, যা চিকিৎসাবিদ্যা ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সমুদ্রের পানি
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের পানিতে লবণ, পানি এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিশ্রিত থাকে, যা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়াই একসঙ্গে থাকে।
উদাহরণ ২: শরবত
ব্যাখ্যা: চিনি, লেবুর রস এবং পানির মিশ্রণে তৈরি শরবতে প্রতিটি উপাদানের আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) লবণ — লবণ একটি বিশুদ্ধ যৌগ, যা সোডিয়াম ও ক্লোরিন নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
B) পানি — পানি একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক যৌগ, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দুই অনুপাত এক অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত থাকে।
C) কার্বনডাই-অক্সাইড — কার্বন ডাই-অক্সাইড একটি নির্দিষ্ট যৌগ, যেখানে কার্বন ও অক্সিজেন নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
D) বায়ু — বায়ুতে একাধিক গ্যাস মিশ্রিত থাকে এবং এদের মধ্যে কোনো রাসায়নিক বন্ধন থাকে না, তাই এটি মিশ্র পদার্থ।
৫. মনে রাখার টিপস:
যৌগের নিজস্ব নির্দিষ্ট সংকেত ও অনুপাত থাকে, কিন্তু মিশ্রণের কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংকেত বা নির্দিষ্ট অনুপাত থাকে না।
যেসব পদার্থকে ভৌত পদ্ধতিতে আলাদা করা যায়, চোখ বন্ধ করে সেগুলোকে মিশ্রণ হিসেবে চিনে নেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থের উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়।
মিশ্র পদার্থের উপাদানগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু যৌগিক পদার্থের ক্ষেত্রে নতুন ধর্মের সৃষ্টি হয়।
সঠিক উত্তর: C) ওজোন
১. কেন সঠিক:
ওজোন কোনো নোবেল গ্যাস বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়, এটি অক্সিজেনের একটি রূপভেদ যার রাসায়নিক সংকেত ও থ্রি।
পর্যায় সারণির আঠারো নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বলা হয়, যা ওজোন গ্যাস নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নোবেল গ্যাস বা নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকে কারণ এদের শেষ শক্তিস্তর ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে।
রাসায়নিক গঠন: ওজোন হলো অক্সিজেনের তিনটি পরমাণু নিয়ে গঠিত একটি যৌগ, যা বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে ওজোন স্তর হিসেবে অবস্থান করে।
বাস্তব প্রয়োগ: ওজোন গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা করতে সাহায্য করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বৈদ্যুতিক বাল্বে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: আর্গন নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণে বাল্বের ভে ্তরের টাংস্টেন তারের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং তার পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: বেলুন ও বেলুনের মতো উড়ন্ত বস্তুতে হিলিয়াম গ্যাস ভরা হয়।
ব্যাখ্যা: হিলিয়াম অত্যন্ত হালকা এবং নিষ্ক্রিয় বা অদাহ্য হওয়ায় এটি আকাশে ওড়ার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আর্গন — এটি পর্যায় সারণির আঠারো নম্বর গ্রুপের একটি নিষ্ক্রিয় বা নোবেল গ্যাস।
বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরিতে এবং ঢালাইয়ের কাজে এই গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
B) হিলিয়াম — এটি একটি হালকা নোবেল গ্যাস যার পারমাণবিক সংখ্যা দুই।
বেলুন ও বিমানের টায়ার ফোলাতে এবং গভীর সমুদ্রের ডাইভারদের অক্সিজেন মিশ্রণে এটি ব্যবহৃত হয়।
C) ওজোন — এটি অক্সিজেনের একটি বিশেষ রূপভেদ বা যৌগ এবং কোনো নোবেল গ্যাস নয়।
বায়ুমণ্ডলে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী জারক হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতিকর রশ্মি আটকায়।
D) নিয়ন — এটি একটি নোবেল গ্যাস যা উজ্জ্বল লাল বা কমলা রঙের আলো ছড়ায়।
বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড এবং নিয়ন সাইন তৈরিতে এই গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
নোবেল গ্যাসগুলো মনে রাখার একটি সহজ ছন্দ হলো হেলি আর কারু হিয়ানা।
এখানে হিলি মানে হিলিয়াম, আ মানে আর্গন, কু মানে ক্রিপ্টন, হি মানে হিলিয়াম, যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পরিচয় দেয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
নোবেল গ্যাসের মোট সংখ্যা কয়টি এবং এদের যোজ্যতা শূন্য হয় কেন, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ওজোনের রূপ এবং বায়ুমণ্ডলে এর অবস্থান নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞান ও রসায়ন অংশ থেকে প্রশ্ন হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) Mg (ম্যাগনেসিয়াম)
১. কেন সঠিক:
- ক্লোরোফিলের অণুর কেন্দ্রীয় ধাতব পরমাণু হলো ম্যাগনেসিয়াম এবং এটি উদ্ভিদের পাতার সবুজ রঙের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
- ম্যাগনেসিয়াম আয়ন ক্লোরোফিল রঞ্জক পদার্থের পোরফাইরিং বলয়কে আটকে রেখে সূর্যালোক শোষণ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ক্লোরোফিল হলো উদ্ভিদের পাতায় উপস্থিত এক ধরনের সবুজ রঞ্জক পদার্থ যা সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- কার্যপ্রণালি: ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রভাগে একটি ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু চারটি নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে।
- কারণ ও ফলাফল: ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতির কারণে ক্লোরোফিল অণু সূর্যালোকের ফোটন কণা সফলভাবে শোষণ করতে পারে এবং খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: ফসলের জমিতে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা দিলে পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, যা ইউরিয়া সার বা ডলোমাইট প্রয়োগ করে দূর করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ধান বা গম গাছের নিচের দিকের পুরোনো পাতাগুলোর মাঝখানে হলুদ বর্ণ ধারণ করা।
ব্যাখ্যা: মাটিতে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ক্লোরোফিল ভেঙে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে গিয়ে গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়।
উদাহরণ ২: ঘরের ভেতরে রাখা ইনডোর প্ল্যান্ট পর্যাপ্ত আলো না পেলে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া।
ব্যাখ্যা: আলোর অভাবে ক্লোরোফিল তৈরি বাধাগ্রস্ত হয় এবং উদ্ভিদের পাতা তার স্বাভাবিক সবুজ রং হারাতে শুরু করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) K — এটি পটাশিয়াম, যা উদ্ভিদের স্টোমাটা খোলা ও বন্ধ হওয়া এবং কোষের রসস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে কিন্তু ক্লোরোফিলের কেন্দ্রীয় পরমাণু নয়।
B) Ca — এটি ক্যালসিয়াম, যা উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর গঠনে এবং কাঠামোগত দৃঢ়তা প্রদানে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
D) Na — এটি সোডিয়াম, যা উদ্ভিদের জন্য অপরিহার্য কোনো প্রধান পুষ্টি উপাদান নয় এবং এটি ক্লোরোফিলের গঠনে অংশ নেয় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্লোরোফিলের সাথে ম্যাগনেসিয়ামের সম্পর্ক মনে রাখতে ক্লোরোফিল শব্দের মাঝে থাকা মে (Mg) অংশটি মনে রাখতে পারো।
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ রঙের মূল চাবিকাঠি হলো কেন্দ্রে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ধাতু।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- উদ্ভিদবিজ্ঞানে এই প্রশ্নটি বারবার আসে যে কোন খনিজ উপাদানের অভাবে পাতার ক্লোরোসিস বা হলুদ বর্ণ হয়।
- হিমোগ্লোবিনে যেমন লোহা বা আয়রন থাকে, ঠিক তেমনি উদ্ভিদের ক্লোরোফিলে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
সঠিক উত্তর: A) ০.৫ কেজি
১. কেন সঠিক:
- গতিশীল বস্তুর ভর বের করতে গতিশক্তির সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে বেগের মান জানা থাকলে ভর হিসাব করা যায়।
- গতিশক্তি বস্তুর বেগের বর্গের সমানুপাতিক হওয়ায় বেগ বাড়লে গতিশক্তি চারগুণ বাড়ে এবং ভর কম হলে নির্দিষ্ট গতিশক্তিতে বেগ বেশি হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: কোনো গতিশীল বস্তু তার গতির জন্য যে কার্যক্ষমতা লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে।
- সূত্র: গতিশক্তি এক ভাগ দুই গুণ ভর গুণ বেগের বর্গ অর্থাৎ ইকে সমান শূন্য দশমিক পাঁচ গুণ এম গুণ ভি স্কয়ার।
- কার্যপ্রণালি: এখানে গতিশক্তি এক এবং বেগ দুই দেওয়া আছে, যা সূত্রে বসিয়ে ভর বের করা হয়েছে।
- হিসাব: এক সমান শূন্য দশমিক পাঁচ গুণ এম গুণ দুই এর বর্গ, অর্থাৎ এম সমান এক ভাগ দুই বা শূন্য দশমিক পাঁচ কেজি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শূন্য দশমিক পাঁচ কেজি ভরের একটি বল দুই মিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে গড়ালে তার গতিশক্তি এক জুল হয়।
ব্যাখ্যা: এটি দেখায় কীভাবে ভর এবং বেগের পরিবর্তনের সাথে গতিশক্তির মান নির্ধারিত হয়।
উদাহরণ ২: একটি চলন্ত গাড়ি যার ভর বেশি, তার গতিশক্তিও বেশি হয়।
ব্যাখ্যা: বেশি ভরের বস্তুকে থামাতে বেশি বল প্রয়োগ করতে হয় যা গতিশক্তির বাস্তব প্রভাব।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ০.৫ কেজি — এই অপশনটি সঠিক কারণ হিসাব অনুযায়ী বস্তুর ভর শূন্য দশমিক পাঁচ কেজি পাওয়া গেছে।
B) ১ কেজি — এই অপশনটি ভুল কারণ ভর এক কেজি হলে গতিশক্তি দুই জুল হতো।
C) ১.৫ কেজি — এই অপশনটি ভুল কারণ এই ভর বসালে গতিশক্তির মান প্রদত্ত মানের সাথে মিলে না।
D) ২ কেজি — এই অপশনটি ভুল কারণ ভর দুই কেজি হলে এবং বেগ দুই হলে গতিশক্তি চার জুল হতো।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গতিশক্তির অংক করার সময় বেগের মানকে প্রথমে বর্গ করে নিতে হয়।
- ভর বের করার জন্য গতিশক্তিকে বেগের বর্গের অর্ধেক দিয়ে ভাগ করতে হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের গাণিতিক সমস্যা প্রায়ই আসে।
- একই ধারণা থেকে ভর বা বেগ যেকোনো একটি অজানা রেখে প্রশ্ন করা হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) কার্বন ডাই-সালফাইড
১. কেন সঠিক:
- কার্বন ডাই-সালফাইড কোনো গ্রীন হাউস গ্যাস নয়, কারণ এটি বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখার ক্ষমতা রাখে না।
- গ্রীন হাউস গ্যাসগুলো সূর্যের শর্টওয়েভ বিকিরণ পৃথিবীতে প্রবেশ করতে দিলেও পৃথিবী থেকে নির্গত লংওয়েভ ইনফ্রারেড বিকিরণ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: গ্রীন হাউস গ্যাস হলো বায়ুমণ্ডলের সেইসব গ্যাস যা তাপ শোষণ ও বিকিরণ করতে পারে।
- কারণ ও ফলাফল: যে গ্যাসগুলোর অণুতে তিন বা ততোধিক পরমাণু থাকে, যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা জলীয় বাষ্প, তারা ইনফ্রারেড রশ্মি শোষণ করে গ্রীন হাউস প্রভাবে অবদান রাখে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে লাগে এবং এটি একটি শক্তিশালী গ্রীন হাউস গ্যাস।
ব্যাখ্যা: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে এই গ্যাসের মাত্রা বাড়লে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে।
উদাহরণ ২: জলীয় বাষ্প প্রকৃতির সবচেয়ে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাস।
ব্যাখ্যা: এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক তাপমাত্রাকে জীবকূলের উপযোগী রাখতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কার্বন ডাই-অক্সাইড — এটি একটি প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাস যা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
B) নাইট্রাস অক্সাইড — এটি একটি শক্তিশালী গ্রীন হাউস গ্যাস যার উষ্ণ করার ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে অনেক বেশি।
C) কার্বন ডাই-সালফাইড — এটি একটি বিষাক্ত তরল যৌগ এবং গ্রীন হাউস গ্যাস হিসেবে বায়ুমণ্ডলে কাজ করে না।
D) জলীয় বাষ্প — এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্রীন হাউস গ্যাস।
৫ মনে রাখার টিপস:
- গ্রীন হাউস গ্যাস মনে রাখার কৌশল হলো মনে রাখা যে পানি, কার্বন ও নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড এই তালিকায় থাকে।
- সালফাইড বা হ্যালোজেনযুক্ত কিছু যৌগ সরাসরি প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্রীন হাউস গ্যাস হলো জলীয় বাষ্প।
- মানবসৃষ্ট কারণে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) অগ্ন্যাশয় রস
১. কেন সঠিক:
অগ্ন্যাশয় রস হলো মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র পরিপাক রস যা আমিষ, শর্করা এবং স্নেহজাতীয়—তিন প্রকার খাদ্য উপাদান পরিপাক করতে সক্ষম।
এতে উপস্থিত অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্যকে এবং ট্রিপসিন বা কাইমোট্রিপসিন নামক এনজাইম আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: পরিপাকতন্ত্রের অংশ হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত রস অগ্ন্যাশয় রস নামে পরিচিত এবং এটি বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের সমন্বয়ে গঠিত।
কার্যপ্রণালি: অগ্ন্যাশয় রসে থাকা প্যানক্রिएटিক অ্যামাইলেজ গ্লাইকোজেন ও শর্করাকে মল্টোজ ও আইসোমল্টজে রূপান্তর করে এবং ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন প্রোটিন বা আমিষকে পেপটাইডে পরিণত করে।
বাস্তব প্রয়োগ: মানুষের শরীরে খাবার গ্রহণের পর ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম অংশে এই অগ্ন্যাশয় রস এসে মিশে এবং জটিল খাবারকে সরল করে রক্তে পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাত বা আলু খাওয়ার পর মুখ ও পাকস্থলীতে পরিপাক হওয়ার পর ক্ষুদ্রান্ত্রে আসার পর অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ শর্করাকে পুরোপুরি গ্লুকোজে পরিণত করতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে অগ্ন্যাশয় রস ছাড়া শর্করা জাতীয় খাবারের সঠিক ও সম্পূর্ণ পরিপাক সম্ভব নয়।
উদাহরণ ২: মাংস বা ডাল খাওয়ার পর পাকস্থলীর প্রাথমিক পরিপাকের পর অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন আমিষকে অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরের পথ সুগম করে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর আমিষ থেকে শক্তি ও পেশি গঠনের উপাদান সংগ্রহ করতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) টায়ালিন — এটি লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং শুধুমাত্র শর্করা জাতীয় খাদ্যকে পরিপাক করে, আমিষকে পরিপাক করে না।
B) পেপসিন — এটি পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রসে থাকে এবং শুধুমাত্র আমিষ জাতীয় খাদ্যকে পরিপাক করে, শর্করাকে পরিপাক করে না।
C) গ্যাস্ট্রিক রস — এটি পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত হয় এবং প্রধানত আমিষ ও সামান্য ফ্যাট পরিপাক করে, শর্করা পরিপাক করে না।
D) অগ্ন্যাশয় রস — এটি শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করতে পারে বলে এটি সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
অগ্ন্যাশয় রস হলো অলরাউন্ডার পরিপাক রস যা শর্করা এবং আমিষ উভয়কে সমানভাবে পরিপাক করতে পারে।
মনে রাখার জন্য ভাবুন অগ্ন্যাশয় মানে সব কাজ একসঙ্গে করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কোন রস কী পরিপাক করে তা নিয়ে প্রশ্ন আসে।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে কোন এনজাইমটি আমিষ পরিপাকে অংশ নেয় কিংবা পিত্তরস কী জাতীয় খাদ্য পরিপাক করে।
প্রশ্নের ধরন: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বন্ধন (রসায়ন)
সঠিক উত্তর: A) CH₄
১. কেন সঠিক:
- মিথেন যৌগে কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে কেবল একক বন্ধন বা সিগমা বন্ধন গঠিত হয়।
- কার্বনের চারটি যোজ্যতা ইলেকট্রন চারটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রনের সঙ্গে শেয়ার করে চারটি সিগমা বন্ধন তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: দুটি পরমাণুর অরবিটালের মুখোমুখি অধিক্রমণের ফলে যে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন গঠিত হয় তাকে সিগমা বন্ধন বলে।
- কার্যপ্রণালি: মিথেন অণুতে কার্বন পরমাণু এসপি থ্রি সংকরায়ন ঘটিয়ে চারটি সমতুল্য অরবিটাল তৈরি করে যা সিগমা বন্ধন গঠন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ইথেন অণু।
ব্যাখ্যা: ইথেন যৌগের কার্বন কার্বন এবং কার্বন হাইড্রোজেন বন্ধনগুলো কেবল সিগমা বন্ধন দ্বারা গঠিত।
উদাহরণ ২: পানি অণু।
ব্যাখ্যা: পানির অণুতে অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মাঝে কেবল সিগমা বন্ধন থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CH₄ — এই যৌগটিতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের মধ্যে কেবল সিগমা বন্ধন বিদ্যমান থাকায় এটি সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।
B) C₂H₄ — ইথিলিন যৌগে একটি কার্বন কার্বন দ্বিবন্ধন থাকে যার মধ্যে একটি সিগমা এবং একটি পাই বন্ধন উপস্থিত।
C) C₂H₂ — অ্যাসিটিলিন যৌগে একটি কার্বন কার্বন ত্রিবন্ধন থাকে যেখানে একটি সিগমা এবং দুটি পাই বন্ধন থাকে।
D) C₆H₆ — বেনজিন চক্রে বিকল্প দ্বিবন্ধন তথা সিগমা এবং পাই উভয় প্রকার বন্ধন উপস্থিত থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একক বন্ধন মানেই সিগমা বন্ধন এবং দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন থাকলে সেখানে পাই বন্ধন যুক্ত হয়।
- অ্যালকেন পরিবারের সকল যৌগে কেবল সিগমা বন্ধন থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সমযোজী যৌগের বন্ধন সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে শুধু সিগমা বন্ধন এবং অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে পাই বন্ধন থাকে।
সঠিক উত্তর: A) ব্যাকটেরিয়া
১. কেন সঠিক:
কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা হলো সংক্রামক রোগ এবং এই তিনটি রোগই নির্দিষ্ট প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারণে মানবদেহে সৃষ্টি হয়।
রোগ সৃষ্টিকারী এই অণুজীবগুলো দেহে প্রবেশ করে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন তৈরি করে অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী প্রোক্যারিওটিক বা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত অণুজীব যা অনুকূল পরিবেশে খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
কার্যপ্রণালি: কলেরা রোগের জন্য দায়ী ভিব্রিও কলেরি ব্যাক্টেরিয়া, টাইফয়েডের জন্য স্যালমোনেলা টাইফি এবং যক্ষ্মার জন্য মাইকব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস দায়ী।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: যক্ষ্মা বা টিবি রোগ সাধারণত হাঁচি কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায় এবং ফুসফুসকে আক্রমণ করে।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হওয়ায় সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।
উদাহরণ ২: দূষিত পানি পানের মাধ্যমে কলেরি ব্যাকটেরিয়া মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে মারাত্মক ডায়রিয়া ঘলায়।
ব্যাখ্যা: এটি পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং খাবার পানির বিশুদ্ধতা রক্ষা করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যাকটেরিয়া — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ উল্লিখিত তিনটি রোগই ব্যাকটেরিয়াজনিত।
B) ভাইরাস — ভাইরাস হলো অবৈষয়িক কণা যা এই রোগগুলোর জন্য দায়ী নয়, তবে এটি সর্দি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি করে।
C) সিগেলা — সিগেলা একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম যা মূলত ব্যাকটেরিয়াল আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি রোগ সৃষ্টি করে।
D) গিয়ার্ডিয়া — গিয়ার্ডিয়া হলো একটি আক্ষরিক প্রোটোজোয়া যা মানুষের অন্ত্রে ইনফেকশন বা গিয়ার্ডিয়াসিস রোগ ঘটায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মার মতো মারাত্মক রোগগুলোর মূল কারণ ব্যাকটেরিয়া তা মনে রাখতে কটায শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে।
এখানে ক মানে কলেরা, টা মানে টাইফয়েড এবং য মানে যক্ষ্মা যা ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ব্যাকটেরিয়াজনিত ও ভাইরুজণিত রোগের পার্থক্য জানতে চাওয়া হয়।
ভবিষ্যতে প্রশ্ন আসতে পারে ডিপথেরিয়া বা ধনুষ্টংকার কোন ধরনের জীবাণুর কারণে হয়, যার উত্তরও হবে ব্যাকটেরিয়া।
সঠিক উত্তর: A) রাইবোজোম
১. কেন সঠিক:
- জীবকোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ বা তৈরির প্রধান স্থান হলো রাইবোজোম।
- এই ক্ষুদ্র অঙ্গাণুটি অ্যামিনো এসিডকে যুক্ত করে পেপটাইড বন্ধনের মাধ্যমে প্রোটিন অণু তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা বা প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- কার্যপ্রণালি: মেসেঞ্জার আরএনএ এর বার্তা অনুযায়ী রাইবোজোম অ্যামিনো এসিড সাজিয়ে প্রোটিন বা আমিষ গঠন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আমাদের পেশির প্রধান উপাদান অ্যাক্টিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন যা রাইবোজোমের মাধ্যমে কোষের ভেতরে তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: এই প্রোটিনগুলো পেশি সংকোচন ও প্রসারণে কাজ করে যা জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উদাহরণ ২: রক্তে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিন প্রোটিনও রাইবোজোমের সহায়তায় সংশ্লেষিত হয়।
ব্যাখ্যা: হিমোগ্লোবিন ছাড়া আমাদের শরীরে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হতো না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাইবোজোম — এটি সঠিক কারণ রাইবোজোমই কোষের একমাত্র প্রোটিন সংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু।
B) নিউক্লিয়াস — নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক, যেখানে ডিএনএ ও জিনগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে কিন্তু সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় না।
C) মাইটোকন্ড্রিয়া — মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউজ, যা শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি বা এটিপি উৎপন্ন করে।
D) ক্রোমোজোম — ক্রোমোজোম নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত বংশগতির মূল ভিত্তি যা পিতামাতা থেকে বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে বহন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- রাইবোজোম শব্দটির সাথে প্রোটিন শব্দটিকে এভাবে মনে রাখবে যে প্রোটিন তৈরির কারখানা হলো রাইবোজোম।
- কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুর কাজের সাথে গুলিয়ে ফেলবে না যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া মানেই শক্তি আর রাইবোজোম মানেই প্রোটিন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কোষীয় অঙ্গাণুর কাজ হিসেবে বারবার আসে।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ ছাড়াও রাইবোজোমকে কেন কোষের সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয় তা জেনে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: A) CO
১. কেন সঠিক:
- কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অত্যন্ত শক্তভাবে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন নামক স্থায়ী যৌগ গঠন করে।
- এর ফলে রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং কোষে কোষে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রক্তে উপস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে শরীরের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে থাকে।
- কার্যপ্রণালি: কার্বন মনোক্সাইডের হিমোগ্লোবিনের প্রতি আকর্ষণ অক্সিজেনের তুলনায় প্রায় দুইশো থেকে আড়াইশো গুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।
- কারণ ও ফলাফল: তাই বাতাসে সামান্য পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড থাকলেও তা অক্সিজেনের আগেই হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবনঘাতী অবস্থার সৃষ্টি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বন্ধ ঘরে কয়লার চুলা জ্বালিয়ে ঘুমালে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
ব্যাখ্যা: বন্ধ ঘরে কয়লা অসম্পূর্ণভাবে দহন হয়ে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে যা রক্তে মিশে অক্সিজেন সরবরাহ চিরতরে বন্ধ করে দেয়।
উদাহরণ ২: দীর্ঘ সময় যানজটপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা: যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CO — এটি সঠিক উত্তর কারণ কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহনের স্বাভাবিক ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয়।
B) CO₂ — এটি কার্বন ডাই অক্সাইড যা প্রধানত কোষীয় শ্বসনের উপজাত এবং রক্তে প্রধানত বাইকার্বোনেট রূপে পরিবাহিত হয়।
C) CH₄ — এটি মিথেন গ্যাস যা প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান এবং এটি সরাসরি হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহনে বাধা দেয় না।
D) Cl₂ — এটি ক্লোরিন গ্যাস যা একটি তীব্র বিষাক্ত হ্যালোজেন এবং এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের পর্দায় তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সিও অর্থাৎ কার্বন মনোক্সাইডকে রক্তের অক্সিজেন চোর হিসেবে মনে রাখতে পারো।
- হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে এর সম্পর্ক অক্সিজেনের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই গ্যাসকে নীরব ঘাতক বলা হয় কারণ এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন।
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে দ্রুত যৌগ গঠন করে।
সঠিক উত্তর: C) CH₃Cl (শিক্ষার্থীর জ্ঞাতার্থে সংশোধন: প্রশ্নপত্রে ভুল উত্তর দেওয়া ছিল। মিথাইল ক্লোরাইড বা CH₃Cl অম্লীয় নয়, বরং প্রদত্ত প্রশ্ন ও অপশনগুলোর সঠিক মূল্যায়ন নিচে দেওয়া হলো। মূলত লুইস অ্যাসিড হিসেবে FeCl₃ এবং জৈব যৌগের অম্লত্ব বা অন্যান্য যৌগ বিশ্লেષণে সঠিক উত্তরটি হবে A) FeCl₃। তবে প্রদত্ত প্রশ্নটির অপشنগুলোর মধ্যে একমাত্র ধাতব হ্যালাইড ও লুইস অ্যাসিড হিসেবে FeCl₃ অম্লধর্মী আচরণ করে। পরীক্ষামূলক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো A) FeCl₃।)
১. কেন সঠিক:
- সঠিক উত্তরটি হলো A) FeCl₃ (আয়রন ট্রাইক্লোরাইড)। এটি একটি লুইস অ্যাসিড যা ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে।
- লুইস তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থ ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে তাদেরকে অম্ল বা অ্যাসিড বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: লুইস অম্ল হলো এমন রাসায়নিক প্রজাতি যা অন্য কোনো পরমাণু বা অণু থেকে এক জোড়া ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে।
- রাসায়নিক গঠন: আয়রন ট্রাইক্লোরাইড যৌগে আয়রনের যোজ্যতা কক্ষের অসম্পূর্ণতার কারণে এটি ইলেকট্রন গ্রহণে অত্যন্ত পটু।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অ্যামোনিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা: FeCl₃ অ্যামোনিয়ার মুক্ত ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে জটিল যৌগ গঠন করে, যা এর অম্লীয় প্রকৃতির প্রমাণ।
উদাহরণ ২: ফ্রিডেল ক্রাফটস বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা: জৈব রসায়নে এটি লুইস অ্যাসিড catalyst হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ইলেকট্রোফাইল তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) FeCl₃ - এটি লুইস অম্ল প্রকৃতির হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়।
B) KCl - এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার ও সবল অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত নিরপেক্ষ লবণ।
C) CH₃Cl - এটি একটি অ্যালকাইল হ্যালাইড যা মূলত নিরপেক্ষ প্রকৃতির জৈব যৌগ।
D) C₆H₅Cl - এটি ক্লোরোবেনজিন যা একটি নিষ্ক্রিয় এবং নিরপেক্ষ অ্যারোমেটিক যৌগ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অবস্থান্তর ধাতুর ক্লোরাইড যেমন ফেরিক ক্লোরাইড সাধারণত লুইস অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে।
- অ্যালকাইল হ্যালাইড ও অ্যারাইল হ্যালাইডগুলো নিরপেক্ষ যৌগ হিসেবে পরিচিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- লুইস অম্ল ও ক্ষারের সংজ্ঞা বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- লুইস অ্যাসিড ও লুইস ক্ষারের উদাহরণগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) 0.4g
১. কেন সঠিক:
- দ্রবণের মোলারিটি সরাসরি তার দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে পরিবর্তিত হয়।
- মোলারিটি দশ গুণ হ্রাস পেলে প্রয়োজনীয় পদার্থের পরিমাণও ঠিক দশ গুণ কমে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মোলারিটি হলো প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত পদার্থের মূল সংখ্যা, যা পদার্থের ভরের ওপর নির্ভর করে।
- সূত্র/তত্ত্ব: W = S × M × V, এখানে W হলো দ্রবের ভর, S হলো মোলারিটি, M হলো মোলার ভর এবং V হলো আয়তন।
- কার্যপ্রণালি: প্রথম ক্ষেত্রে W১ = ১ × ৪০ × ১ = ৪০ গ্রাম, কিন্তু প্রশ্নে ১ মোলার ১ লিটার দ্রবণের জন্য ৪০ গ্রাম বলা থাকলেও, আমাদের মূলত অনুপাত হিসাব করতে হবে।
- কারণ ও ফলাফল: ঘনমাত্রা ১ মোলার থেকে কমিয়ে ০.০১০ মোলার করার অর্থ হলো ঘনমাত্রা একশ ভাগ কমে যাওয়া, ফলে দ্রবের পরিমাণও একশ ভাগ কমে ০.৪ গ্রাম হবে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১ লিটার চায়ে ১০ গ্রাম চিনি মেশালে মিষ্টির ঘনত্ব যা হয়, তার চেয়ে দশ ভাগ চিনি দিলে মিষ্টি অনেক কমে যায়।
ব্যাখ্যা: দ্রবণের পরিমাণ নির্দিষ্ট রেখে দ্রবের পরিমাণ কমালে তার মোলার ঘনমাত্রাও কমে যায়।
উদাহরণ ২: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ গুললে যে ঘন দ্রবণ হয়, তাতে সমপরিমাণ পানি যোগ করে লবণ দশ ভাগ করলে হালকা দ্রবণ তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: আয়তন অপরিবর্তিত থাকলে ঘনমাত্রা ও দ্রবের ভর সমান অনুপাতে পরিবর্তিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 0.4g — এটি সঠিক হিসাব অনুযায়ী নির্ণয় করা হয়েছে, যেখানে ৪০ গ্রামের সঙ্গে ০.০১ গুণ করে ০.৪ গ্রাম পাওয়া যায়।
B) 4g — এটি দশ গুণ বেশি মান নির্দেশ করে, যা ০.১ মোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো।
C) 0.8g — এটি ভুল হিসাবের ফল এবং এর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সূত্রের কোনো মিল নেই।
D) 10g — এটি চার ভাগের এক ভাগ মান নির্দেশ করে, যা সঠিক মোলারিটি পরিবর্তনের নিয়মের সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মোলারিটির অঙ্ক করার সময় ঘনমাত্রার অনুপাত এবং ভরের অনুপাত সমান ধরে হিসাব করতে হয়।
- দশমিকের হিসাব করার সময় শূন্যের সংখ্যা ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ভুল না হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই ধরনের গাণিতিক সমস্যা বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- ঘনমাত্রা পরিবর্তন সংক্রান্ত সূত্র ব্যবহার করে যেকোনো দ্রবণের ভর খুব সহজেই বের করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: A) জলীয় AgNO₃
১. কেন সঠিক:
ক্লোরাইডায়ন সনাক্ত করতে জলীয় সিলভার নাইট্রেট দ্রবণ ব্যবহার করা হয় কারণ এটি ক্লোরাইডের সাথে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইডের সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি করে।
এই বিক্রিয়াটি আয়ন শনাক্তকরণের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষাগারে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: অ্যানায়ন বা ঋণাত্মক আয়ন শনাক্তকরণের জন্য সিলভার নাইট্রেট পরীক্ষা করা হয়।
কার্যপ্রণালি: দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট যোগ করলে সিলভার আয়ন ক্লোরাইড আয়নের সাথে যুক্ত হয়ে সিলভার ক্লোরাইডের কঠিন সাদা অধঃক্ষেপ ফেলে যা নাইট্রিক এসিডে অদ্রবণীয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়া: সোডিয়াম ক্লোরাইড + সিলভার নাইট্রেট = সিলভার ক্লোরাইডের সাদা অধঃক্ষেপ + সোডিয়াম নাইট্রেট।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: লবণের জলীয় দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট যোগ করা।
ব্যাখ্যা: খাবার লবণের জলীয় দ্রবণে এই দ্রবণ ফোঁটায় ফোঁটায় ফেললে তৎক্ষণাৎ সাদা রঙের অধঃক্ষেপ পড়ে যা ক্লোরাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
উদাহরণ ২: পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিড পরীক্ষা।
ব্যাখ্যা: পরীক্ষাগারে জৈব যৌগে ক্লোরিন আছে কি না তা জানতে সোডিয়াম লবণের নির্যাসের সাথে এই পরীক্ষা করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জলীয় AgNO₃ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ক্লোরাইড আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে সাদা অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে।
B) অ্যালকোহলীয় KOH — এটি হ্যালোজেন অ্যালকেন থেকে অপসারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যালকিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
C) জলীয় BaCl₂ — এটি সালফেট আয়ন বা কার্বনেট আয়ন শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়, ক্লোরাইডে নয়।
D) জলীয় NaCl — এটি নিজে ক্লোরাইড আয়নের উৎস, তাই এটি দিয়ে অন্য কোনো অজানা দ্রবণের ক্লোরাইড শনাক্ত করা যায় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
ক্লোরাইড সনাক্তকরণে সিলভার নাইট্রেট ব্যবহার করা হয় এবং সিলভার ক্লোরাইডের সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে।
পরীক্ষাগারে লবণের আয়ন শনাক্ত করার সময় অ্যানায়ন পরীক্ষার জন্য সিলভার নাইট্রেট এবং ক্যাটায়ন পরীক্ষার জন্য সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই বিক্রিয়ায় উৎপাদিত সিলভার ক্লোরাইড সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি করে যা অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডে দ্রবণীয়।
এই একই ধারণার ওপর ভিত্তি করে ব্রোমাইড ও আয়োডাইড আয়নের জন্যও যথাক্রমে হালকা হলুদ ও গাঢ় হলুদ অধঃক্ষেপের প্রশ্ন আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) গ্লুকোজ
১. কেন সঠিক:
- স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো একটি পলিস্যাকারাইড, যা অসংখ্য গ্লুকোজ অণু পরস্পরের সঙ্গে গ্লাইকোসাইড বন্ধনে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
- উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সরল শর্করা পলিমারাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল স্টার্চে রূপান্তরিত হয় এবং সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো উদ্ভিদের প্রধান খাদ্য সঞ্চয়কারী পলিমার, যার রাসায়নিক সংকেত হলো বন্ধনীভিত্তিক (C6H10O5)n।
- কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানির সাহায্যে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তা ঘনীভূত করে স্টার্চ হিসেবে সঞ্চয় করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাত, আলু ও গমের আটা।
ব্যাখ্যা: এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে শরীরে শক্তি জোগায়।
উদাহরণ ২: কাঁচা কলার শাঁস।
ব্যাখ্যা: কাঁচা কলায় স্টার্চ বা শ্বেতসার বেশি থাকে, যা পাকা অবস্থায় ভেঙে সরল শর্করা বা গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং কলা মিষ্টি লাগে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেলুলোজ — এটি উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান এবং উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হলেও স্টার্চের মূল উপাদান নয়।
B) গ্লুকোজ — এটি স্টার্চের মূল একক বা মনোমার, যা অসংখ্য সংখ্যায় যুক্ত হয়ে স্টার্চ গঠন করে।
C) ফ্রুক্টোজ — এটি ফলমূলের মিষ্টি স্বাদের জন্য দায়ী এক ধরনের মনোস্যাকারাইড বা সরল শর্করা, যা স্টার্চের অংশ নয়।
D) ল্যাকটোজ — এটি দুধে প্রাপ্ত এক প্রকার ডাইস্যাকারাইড যা গ্যালাকটোজ ও গ্লুকোজের সমন্বয়ে গঠিত, উদ্ভিজ্জ স্টার্চের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে স্টার্চ হলো গ্লুকোজের দীর্ঘ শৃঙ্খলা। উদ্ভিদের সঞ্চিত খাবার মানেই তা গ্লুকোজের বহুগুণ সমাহার।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে স্টার্চের পলিমার কোনটি বা শ্বেতসারের একক কী। এর উত্তর সবসময় গ্লুকোজ হবে।
সঠিক উত্তর: C) ল্যাকটোজ
১. কেন সঠিক:
- দুধে প্রাকৃতিকভাবে যে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়, তাকে ল্যাকটোজ বলা হয় এবং এটি ডাইস্যাকারাইড প্রকৃতির।
- এটি ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ উৎপন্ন হয়, যা মানবদেহে সহজে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: কার্বোহাইড্রেটের একটি প্রকার হলো ডাইস্যাকারাইড, যা দুটি মনোস্যাকারাইড মিলে গঠিত হয় এবং ল্যাকটোজ তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
- কার্যপ্রণালি: মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রে ল্যাকটেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ল্যাকটোজ ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত হয় এবং রক্তে শোষিত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: দুগ্ধজাত খাবার যেমন দুধ, দই ও পনির হজম করার জন্য আমাদের শরীরে ল্যাকটোজ ভাঙার জৈবিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গরুর দুধ পান করলে শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: গরুর দুধে উপস্থিত ল্যাকটোজ পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ তৈরি করে যা কোষে শক্তি সরবরাহ করে।
উদাহরণ ২: দই খাওয়ার সময় মিষ্টি না লাগলেও সামান্য মিষ্টি ভাব অনুভূত হয়।
ব্যাখ্যা: দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটোজ বা দুগ্ধ চিনির সামান্য উপস্থিতির কারণে এই মৃদু মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গ্লুকোজ — এটি একটি মনোস্যাকারাইড বা সরল শর্করা এবং কোষের প্রধান জ্বালানি, যা সরাসরি রক্তে মিশে শক্তি দেয়।
B) সুক্রোজ — এটি সাধারণ চিনি বা আখের চিনি, যা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমন্বয়ে গঠিত ডাইস্যাকারাইড।
C) ল্যাকটোজ — এটি সঠিক উত্তর এবং এটি একমাত্র দুধে পাওয়া প্রধান শর্করা যা গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ নিয়ে গঠিত।
D) ম্যালটোজ — এটি মল্ট শর্করা যা বার্লি বা অঙ্কুরিত শস্যে পাওয়া যায় এবং দুটি গ্লুকোজ অণু নিয়ে গঠিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- দুধ বা মিল্ক এর ইংরেজি শব্দের সঙ্গে মিল রেখে দুগ্ধ চিনির নাম মনে রাখতে পারো ল্যাকটোজ, কারণ মিল্ক উৎপাদনকারী গ্রন্থিকে ল্যাকটিয়াল বা ম্যামারি গ্ল্যান্ড বলা হয়।
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের নামের শেষে ওজ যুক্ত থাকে, যেমন গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ল্যাকটোজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ল্যাকটোজ ভেঙে কোন দুটি উপাদান তৈরি হয়, এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে এবং এর উত্তর হলো গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ।
- দুধ হজম করতে সমস্যা হওয়া রোগকে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স বলা হয় যা ল্যাকটেজ এনজাইমের অভাবে ঘটে।
সঠিক উত্তর: B) টেরিথেলিক এসিড
১. কেন সঠিক:
- পিইটি পলিমার তৈরির জন্য টেরিথেলিক এসিড এবং ইথিলিন গ্লাইকলের পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া প্রয়োজন হয়।
- এটি পলিয়েস্টার পরিবারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনোমার বা একক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পিইটি অর্থ পলিইথিলিন টেরিথেলিয়েট, যা এক ধরনের পলিয়েস্টার থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়া: টেরিথেলিক এসিড এবং ইথিলিন গ্লাইকলের ঘনীভবন পলিমারাইজেশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পিইটি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: কোমল পানীয়ের বোতল, মিনারেল ওয়াটারের বোতল এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের পাত্র তৈরিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সফট ড্রিংকসের স্বচ্ছ প্লাস্টিক বোতল।
ব্যাখ্যা: এই বোতলগুলো টেকসই ও হালকা করতে টেরিথেলিক এসিডযুক্ত পিইটি উপাদান ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ ২: সিন্থেটিক কাপড়ের ফাইবার।
ব্যাখ্যা: একই রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি পলিয়েস্টার সুতা টেক্সটাইল শিল্পে বহুল ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) থেলিক এসিড — এটি ভিন্ন একটি ডাইকার্বক্সিলিক এসিড যা অ্যালকাইড রজন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় কিন্তু পিইটি তৈরিতে সরাসরি লাগে না।
B) টেরিথেলিক এসিড — এটি পিইটি বোতল তৈরির একটি প্রধান উপাদান এবং সঠিক উত্তর।
C) বেনজোয়িক এসিড — এটি খাদ্য সংরক্ষণকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয় কিন্তু প্লাস্টিক পলিমার তৈরিতে এর ব্যবহার নেই।
D) অ্যাসেটিক এসিড — এটি ভিনেগারের মূল উপাদান এবং জৈব রাসায়নিক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, পলিয়েস্টার প্লাস্টিক উৎপাদনে নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পিইটি বোতলের টি দিয়ে টেরিথেলিক এসিড মনে রাখা সহজ।
- পলিয়েস্টার উৎপাদনের মূল চাবিকাঠি হলো টেরিথেলিক এসিড।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিমার সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
- পিইটি হলো একটি থার্মোপ্লাস্টিক যা গলিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
সঠিক উত্তর: A) Ba(OH)₂
১. কেন সঠিক:
বেরিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি শক্তিশালী ক্ষারক যা জলে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন উৎপন্ন করে।
এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে এবং এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আরহেনিয়াস মতবাদ অনুযায়ী যেসব যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন দান করে তাদেরকে ক্ষার বলে।
কার্যপ্রণালি: Ba(OH)₂ জলে দ্রবীভূত হয়ে বেরিয়াম আয়ন এবং দুটি হাইড্রোক্সাইড আয়নে বিভক্ত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি শক্তিশালী ক্ষার যা পরিষ্কারক ও সাবান তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ত্বকে লাগলে পিচ্ছিল অনুভূত হয় কারণ এটি ত্বকের ফ্যাট বা চর্বিকে সাবানে পরিণত করে।
উদাহরণ ২: ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা চুনাজল একটি পরিচিত ক্ষারীয় যৌগ যা কৃষিকাজে মাটির অম্লত্ব কমাতে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি মাটির অতিরিক্ত এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে মাটির পিএইচ মাত্রা ফসলের উপযোগী রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Ba(OH)₂ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি একটি শক্তিশালী ক্ষারক যা জলে প্রচুর হাইড্রোক্সাইড আয়ন সরবরাহ করে।
B) Al(OH)₃ — এটি একটি উভধর্মী হাইড্রক্সাইড যা এসিড এবং ক্ষার উভয়টির সাথেই বিক্রিয়া করতে পারে।
C) C₂H₅OH — এটি ইথানল বা অ্যালকোহল, এটি প্রশম পদার্থ এবং এর কোনো ক্ষারধর্ম নেই।
D) C₆H₅OH — এটি ফেনল বা কার্বোলিক এসিড, এটি হালকা অম্লীয় প্রকৃতির এবং এর ক্ষারধর্ম নেই।
৫ মনে রাখার টিপস:
পর্যায় সারণির দ্বিতীয় গ্রুপের ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলোর হাইড্রোক্সাইড সাধারণত শক্তিশালী ক্ষার হয়।
বেরিয়াম দ্বিতীয় গ্রুপের ধাতু হওয়ায় এর হাইড্রোক্সাইড দৃঢ় ক্ষারধর্ম প্রদর্শন করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ক্ষারকের সবলতা নির্ভর করে জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন মুক্ত করার ক্ষমতার ওপর।
পরীক্ষায় প্রায়ই উভধর্মী অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যেমন অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ওপর প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) Ne
১. কেন সঠিক:
নিওন (Ne) একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর ইলেকট্রন দ্বারা সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে। পূর্ণ শক্তিস্তরের কারণে নিওন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন সরিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
পরমাণুর গ্যাসীয় অবস্থায় তার এক মোল বিচ্ছিন্ন পরমাণু থেকে প্রতিটিতে একটি করে ইলেকট্রন অপসারিত করে এক মোল ধনাত্মক আধানে পরিণত করতে যে ন্যূনতম শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে আয়নীকরণ শক্তি বলে। পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকার ছোট হয় এবং আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নিওন গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস স্থিতিশীল হওয়ায় এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না। এই স্থিতিশীলতার জন্যই এর আয়নীকরণ শক্তি অন্য মৌলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি হয়।
ব্যাখ্যা: স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস ভাঙতে বেশি শক্তি লাগে বলে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের আয়নীকরণ শক্তি সর্বাধিক হয়।
উদাহরণ ২: সোডিয়াম (Na) পরমাণু সহজেই একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারে কারণ এর শেষ কক্ষপথে একটিমাত্র ইলেকট্রন থাকে।
ব্যাখ্যা: সহজে ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতার কারণে সোডিয়ামের আয়নীকরণ শক্তি নিওনের তুলনায় অনেক কম হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Li — লিথিয়ামের আকার বড় এবং এর সর্ববহিস্থ স্তরে একটিমাত্র ইলেকট্রন থাকায় এর আয়নীকরণ শক্তি কম।
B) B — বোরনের নিউক্লিয়ার চার্জ কম এবং এর পরমাণুর আকার নিওনের চেয়ে বড় হওয়ায় আয়নীকরণ শক্তি কম।
C) C — কার্বনের আয়নীকরণ শক্তি বোরনের চেয়ে বেশি হলেও নিওনের মতো সম্পূর্ণ পূর্ণ শক্তিস্তর না থাকায় এটি কম।
D) Ne — নিওন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর ইলেকট্রন বিন্যাস অত্যন্ত স্থিতিশীল বিধায় এর আয়নীকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।
৫. মনে রাখার টিপস:
পর্যায় সারণির একেবারে ডানপাশের নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর আয়নীকরণ শক্তি সর্বদা সবচেয়ে বেশি হয়। তাই যেকোনো পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় গ্যাস দেখলে চোখ বন্ধ করে সেটির আয়নীকরণ শক্তি বেশি বলে ধরে নেওয়া যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
একই পর্যায়ে সোডিয়াম থেকে ক্লোরিন পর্যন্ত গেলে সাধারণত আয়নীকরণ শক্তি বাড়ে। এই ধারণা থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মৌলের ক্রম নির্ণয় সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) ইমালশন
১. কেন সঠিক:
- দুধ হলো এমন একটি কোলয়েড যেখানে তরলের মধ্যে অপর একটি তরল সূক্ষ্মভাবে分散 বা বিচ্ছুরিত থাকে।
- বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ মিশ্রণটিকে ইমালশন বা পাইস বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ইমালশন হলো দুটি immiscible বা অমিশ্রণীয় তরলের কোলয়েডীয় সিস্টেম যেখানে একটি তরল অন্যটির মধ্যে ক্ষুদ্র ফোঁটায় ছড়ানো থাকে।
- কার্যপ্রণালি: দুধের ক্ষেত্রে পানিতে ফ্যাট বা চর্বির ক্ষুদ্র কণাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং কেসিন নামক প্রোটিন ইমালসিফাইং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: মাখন তোলার সময় আলোড়ন সৃষ্টির মাধ্যমে এই ইমালশন ভেঙে ফ্যাট আলাদা করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মেয়োনিজ
ব্যাখ্যা: মেয়োনিজ হলো ডিমের কুসুম, তেল এবং লেবুর রসের একটি সুপরিচিত ইমালশন।
উদাহরণ ২: কোল্ড ক্রিম
ব্যাখ্যা: প্রসাধনীতে ব্যবহৃত কোল্ড ক্রিম পানি ও তেলের একটি সুষম ইমালশন যা ত্বক নরম রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জেল — জেল হলো এমন একটি কোলয়েড যেখানে তরল মাধ্যмы কঠিন জালের মধ্যে আটকে থাকে, যা দুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
B) ইমালশন — এটি সঠিক কারণ দুধ হলো তরলে তরলের বিচ্ছুরিত কোলয়েডীয় মিশ্রণ।
C) দ্রবণ — দ্রবণ হলো একটি সমসত্ব মিশ্রণ যেখানে দ্রাবক ও দ্রাবক সম্পূর্ণ মিশে যায়, কিন্তু দুধ অসমসত্ব কোলয়েড।
D) সাসপেনশন — সাসপেনশনে কণাগুলোর আকার বড় হয় এবং থিতিয়ে পড়ে, কিন্তু দুধের কণা থিতিয়ে পড়ে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দুধের মতো তরল পদার্থের মিশ্রণকে ইমালশন মনে রাখতে পাইস বা তরল তেলের ফোঁটার কথা মাথায় রাখবেন।
- কোলয়েড জগতের অন্যতম প্রধান ইমালসিফায়ার হলো দুধ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কোলয়েড ও ইমালশনের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই দুধ ও মাখনের নাম আসে।
- খাদ্য রসায়ন ও কোলয়েডের প্রকারভেদ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: C) বৃষ্টি
১. কেন সঠিক:
বৃষ্টির পানি হলো ঘনীভবনের মাধ্যমে তৈরি পাতিত পানির প্রাকৃতিক রূপ। বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প মেঘে পরিণত হওয়ার সময় কোনো প্রকার খনিজ লবণ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সঙ্গে নিতে পারে না, তাই এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও মৃদু পানি।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: যে পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা অন্যান্য ভারী ধাতুর বাইকার্বোনেট, ক্লোরাইড ও সালফেটের দ্রবণীয় লবণ থাকে না এবং যা সাবানের সঙ্গে সহজে ফেনা তৈরি করে, তাকে মৃদু পানি বলে।
কার্যপ্রণালি: সূর্যের তাপে ভূ-পৃষ্ঠের পানি বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে ওঠে এবং ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে, যা পরবর্তীতে বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে ঝরে পড়ে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে কাপড় কাচলে খুব সহজেই প্রচুর ফেনা তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে বৃষ্টির পানিতে খনিজ লবণের পরিমাণ শূন্যের কোঠায়, যা মৃদু পানির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ ২: গবেষণাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে।
ব্যাখ্যা: এই কারণে বৃষ্টির পানি তড়িৎ পরিবাহকতায় দুর্বল এবং এটি ব্যবহার করা নিরাপদ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সাগর — সাগরের পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইডসহ নানা ধরনের প্রচুর খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকে, তাই এটি অত্যন্ত লবণাক্ত ও খর পানি।
B) হ্রদ — হ্রদের পানি দীর্ঘকাল ধরে মাটির সংস্পর্শে থাকে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে, যা একে মৃদু পানির পরিবর্তে সাধারণত খর পানিতে পরিণত করে।
C) বৃষ্টি — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর, কারণ বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ পেছনে ফেলে কেবল বিশুদ্ধ জলীয় বাষ্প ওপরে ওঠে এবং বৃষ্টির সৃষ্টি করে।
D) নদী — নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় মাটি ও পাথর থেকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন শোষণ করে, তাই নদীর পানি মৃদু নয় বরং মাঝারি বা পূর্ণ মাত্রার খর পানি হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
প্রকৃতিতে মেঘ থেকে যে পানি সরাসরি ঝরে পড়ে তা হলো পাতিত পানির প্রাকৃতিক রূপ। তাই মৃদু পানির উৎস খুঁজলে সবার আগে বৃষ্টিকে বেছে নিতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি পরিবেশবিজ্ঞান এবং রসায়নের পানি অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন পানির উৎস সবচেয়ে বেশি মৃদু বা বিশুদ্ধ।
সঠিক উত্তর: C) সালফিউরিক এসিড
১. কেন সঠিক:
- মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত সাধারণ সীসা-এসিড ব্যাটারিতে তড়িৎবিশ্লেষ্য বা ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে সালফিউরিক এসিডের জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
- এই এসিড ব্যাটারির ভেতরে থাকা সীসা প্লেটের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন ও সঞ্চয় করতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সীসা-এসিড ব্যাটারি একটি রিচার্জেবল বা সঞ্চয়ক ব্যাটারি যেখানে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- রাসায়নিক সংকেত: মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত এইচ টু এস ও ফোর।
- কার্যপ্রণালি: ব্যাটারী চার্জ দেওয়ার সময় এবং ব্যবহারের সময় লেড ডাইঅক্সাইড এবং স্পঞ্জি লেডের সঙ্গে সালফিউরিক এসিড বিক্রিয়া করে ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কার বা জিপের ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার সময় ব্যাটারি থেকে যে তীব্র বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় তা এই এসিডের উপস্থিতির কারণে সম্ভব হয়।
ব্যাখ্যা: এসিডের কারণে প্লেটের মধ্যে আয়ন চলাচল করতে পারে যা ইঞ্জিন চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ মাত্রার কারেন্ট সরবরাহ করে।
উদাহরণ ২: সৌর বিদ্যুতের সিস্টেমে বা আইপিএসে ব্যবহৃত ডিপ সাইকেল ব্যাটারি।
ব্যাখ্যা: এই ব্যাটারিগুলোতেও শক্তির উৎস হিসেবে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয় যা দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ ধরে রাখতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নাইট্রিক এসিড — এটি একটি শক্তিশালী জারক এসিড যা মোটর গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হয় না কারণ এটি ধাতব প্লেটের মারাত্মক ক্ষতি করে।
B) হাইড্রোক্লোরিক এসিড — এটি পাকস্থলীতে খাবার হজমে সাহায্য করে কিন্তু সীসা-এসিড ব্যাটারিতে এটি ব্যবহার করলে ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে।
C) সালফিউরিক এসিড — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি সীসা প্লেটের সঙ্গে সঠিকভাবে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ সঞ্চয় করতে পারে।
D) এসিটিক এসিড — এটি একটি মৃদু জৈব এসিড যা মূলত ভিনেগারে থাকে এবং ব্যাটারির মতো ভারী কাজের জন্য উপযুক্ত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিকে লেড-এসিড ব্যাটারি বলা হয় এবং এর মূল উপাদান এসিড মনে রাখতে সালফিউরিক শব্দটি মনে রাখতে হবে।
- এস দিয়ে সালফিউরিক এবং এস দিয়ে সঞ্চয়ক ব্যাটারি এভাবে মিলিয়ে পড়লে পরীক্ষা সহজে মনে থাকবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে ব্যাটারিতে কোন এসিড বা তড়িৎবিশ্লেষ্য থাকে।
- এখান থেকে ব্যাটারির রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর এবং এসিডের নাম সংক্রান্ত প্রশ্নও পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) পানি
১. কেন সঠিক:
পানি প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিন অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে পাওয়া যায় একমাত্র সাধারণ যৌগ হিসেবে।
তাপমাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে পানি বরফ, তরল পানি ও জলীয় বাষ্পে রূপান্তরিত হতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: পদার্থের তিন অবস্থা বা ত্রৈধ বিন্দু এবং তাপমাত্রার প্রভাবে অবস্থার পরিবর্তন।
কার্যপ্রণালি: শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে পানি জমে বরফে পরিণত হয়, যা কঠিন অবস্থা।
জিরো থেকে একশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পানি তরল থাকে এবং একশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বাষ্পীভূত হয়ে বায়বীয় রূপ নেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শীতপ্রধান দেশের বরফাবৃত নদী বা হ্রদ।
ব্যাখ্যা: সেখানে পানি বরফ হিসেবে কঠিন অবস্থায় থাকে।
উদাহরণ ২: রান্নার সময় পাত্রের ঢাকনায় জলীয় বাষ্পের ফোঁটা জমা হওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি পানির তরল থেকে বায়বীয় এবং পুনরায় তরলে রূপান্তরের বাস্তব প্রমাণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পারদ — পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় কেবল তরল ধাতু হিসেবে থাকে এবং প্রকৃতিতে এর কঠিন বা বায়বীয় অবস্থা স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।
B) কর্পূর — কর্পূর মূলত কঠিন পদার্থ যা সরাসরি বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়, তরল অবস্থায় পাওয়া যায় না।
D) লবণ — লবণ সাধারণ অবস্থায় শুধুমাত্র কঠিন কেলাসবদ্ধ রূপে পাওয়া যায়, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল বা বায়বীয় নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
পানি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বরফ, নদী ও মেঘের মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাস এই তিন রূপেই আমাদের চারপাশে বিরাজ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
পানির ত্রৈধ বিন্দু এবং স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে এর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: B) স্ত্রী এডিস মশা
১. কেন সঠিক:
ডেঙ্গু জ্বর মূলত একটি ভাইজনিত রোগ এবং এটি ছড়ানোর জন্য স্ত্রী এডিস মশা দায়ী।
স্ত্রী মশার ডিম পরিপক্ব করার জন্য রক্তের আমিষ প্রয়োজন হয়, তাই তারা মানুষ কামড়ায় এবং রক্ত চোষার সময় ভাইরাস ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ডেঙ্গু ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে এডিস মশার মাধ্যমে।
কার্যপ্রণালি: স্ত্রী এডিস মশা যখন কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কামড়ায়, তখন ভাইরাস মশার দেহে প্রবেশ করে এবং মশার লালারথলিতে বংশবিস্তার করে।
কারণ ও ফলাফল: এই সংক্রামিত মশা যখন সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন লালার সঙ্গে ভাইরাস সুস্থ ব্যক্তির রক্তে প্রবেশ করে ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টি করে।
বাস্তব প্রয়োগ: পরিষ্কার পানি জমতে না দিয়ে এবং মশারি ব্যবহার করে এই মশার বংশবিস্তার ও কামড় রোধ করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাড়ির ছাদের টব বা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি।
ব্যাখ্যা: এটি স্ত্রী এডিস মশার বংশবৃদ্ধির আদর্শ জায়গা, যা ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণ।
উদাহরণ ২: দিনের বেলা শরীরে ফুল হাতা জামা পরা।
ব্যাখ্যা: এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়, তাই পোশাকের মাধ্যমে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুরুষ এডিস মশা — পুরুষ মশা রক্ত চোষে না এবং তারা উদ্ভিদের রস খেয়ে বেঁচে থাকে, তাই এরা রোগ ছড়ায় না।
B) স্ত্রী এডিস মশা — এটি সঠিক উত্তর কারণ এরা রক্ত পান করে এবং ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়।
C) স্ত্রী কিউলেক্স মশা — কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ রোগ ছড়ায়, ডেঙ্গু ছড়ায় না।
D) পুরুষ অ্যানোফিলিস মশা — পুরুষ অ্যানোফিলিস মশা রোগ ছড়ায় না, তবে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রক্ত চোষার কাজ শুধু স্ত্রী মশার, পুরুষ মশা নয়।
ডেঙ্গুর বাহক হলো দিনের বেলা কামড়ানো স্ত্রী এডিস মশা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার মাধ্যমে বেশি ছড়ায়।
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কোন মশা ডেঙ্গু ছড়ায় এবং মশাটি কখন কামড়ায়।
সঠিক উত্তর: C) বায়োগ্যাস
১. কেন সঠিক:
- বায়োগ্যাস কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি মিলিয়ন বছরের অবশিষ্টাংশ থেকে উৎপন্ন হয় না।
- এটি মূলত জৈব বর্জ্যের পচনের মাধ্যমে তৈরি নবায়নযোগ্য শক্তি যা প্রতিনিয়ত উৎপাদিত হতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: জীবাশ্ম জ্বালানি হলো এমন শক্তি যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভূগর্ভস্থ চাপে রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হয়।
- কার্যপ্রণালি: বায়োগ্যাস উৎপাদনে মিথেন উৎপাদক ব্যাকটেরিয়া গোবর বা উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পচিয়ে গ্যাস উৎপন্ন করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: গ্রামীণ জনপদে রান্নার কাজে এবং ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি।
ব্যাখ্যা: এটি প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত উৎপাদিত হয় এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ ২: ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাপ্ত ল্যান্ডফিল গ্যাস।
ব্যাখ্যা: এটিও বায়োগ্যাসের একটি রূপ যা বর্জ্য পদার্থ পচিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিজেল — এটি পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল থেকে পরিশোধন করে তৈরি করা হয় যা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি।
B) প্রাকৃতিক গ্যাস — এটি খনিজ তেলের সাথে ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অন্তর্ভুক্ত।
C) বায়োগ্যাস — এটি আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে পচন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হয়, তাই এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়।
D) কয়লা — এটি প্রাচীন উদ্ভিদের ভূগর্ভস্থ রূপান্তর থেকে প্রাপ্ত অন্যতম প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি।
৫. মনে রাখার টিপস:
- যে জ্বালানি তৈরি হতে কোটি কোটি বছর লাগে তা জীবাশ্ম জ্বালানি আর যা কয়েক দিনে জৈব বর্জ্য থেকে পায় তা বায়োগ্যাস।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান উপাদান হলো হাইড্রোকার্বন।
- বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস যার পরিমাণ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
সঠিক উত্তর: B) −৪০° (এখানে প্রদত্ত প্রশ্নপত্রে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে, কারণ সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলে মান সমান হয় মাইনাস চল্লিশ ডিগ্রিতে, যা -৪০°C এবং -৪০°F উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে সংখ্যাগত মান হিসেবে উত্তরটি সঠিক)।
১. কেন সঠিক:
তাপমাত্রা পরিমাপের সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে।
এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উভয় স্কেলের রিডিং বা পাঠ হুবহু একই সংখ্যা নির্দেশ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: তাপমাত্রা হলো বস্তুর উষ্ণতা বা শীতলতার মাত্রা যা তাপমাত্রাপরিমাপক যন্ত্র বা থার্মোমিটারের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়।
সূত্র: সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্ক প্রকাশের সূত্র হলো সি ভাগ পাঁচ সমান এফ মাইনাস বত্রিশ ভাগ নয়।
কার্যপ্রণালি: সূত্রের সি এর জায়গায় এফ বসিয়ে হিসাব করলে মান পাওয়া যায় মাইনাস চল্লিশ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শীতপ্রধান দেশে পারদ থার্মোমিটারের পরিবর্তে অ্যালকোহল থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: অ্যালকোহলের হিমাঙ্ক অনেক কম হওয়ায় এটি মাইনাস চল্লিশ ডিগ্রির নিচেও জমে যায় না।
উদাহরণ ২: আবহাওয়া বিদ্যায় তাপমাত্রা রেকর্ড করার সময় বিভিন্ন স্কেলের রূপান্তর প্রয়োজন হয়।
ব্যাখ্যা: বৈশ্বিক ডাটা বিশ্লেਸ਼ণের জন্য বিভিন্ন দেশের ভিন্ন স্কেলকে একীভূত করতে এই সূত্র ব্যবহার করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৬০°C — এই তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান কখনো সমান হয় না কারণ সূত্রে বসালে মান মেলে না।
B) −৪০°F — এই অপশনটি সঠিক মানের সাথে সাংখ্যিক দিক থেকে মিলে যায় এবং এটি সেলসিয়াস স্কেলেও একই পাঠ দেয়।
C) ৪০°C — ধনাত্মক চল্লিশ ডিগ্রিতে সেলসিয়াস স্কেলে পাঠ হয় চল্লিশ এবং ফারেনহাইট স্কেলে পাঠ হয় একশো চার।
D) −১৬০°C — এই অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় দুই স্কেলের মধ্যে মানের কোনো মিল পাওয়া যায় না।
৫ মনে রাখার টিপস:
মাইনাস চল্লিশ এমন একটি জাদুকরী সংখ্যা যা সেলসিয়াস এবং ফারেনহাইট উভয় স্কেলেই একই পাঠ দেয়।
পরীক্ষায় এই প্রশ্ন আসলে চোখ বন্ধ করে মাইনাস চল্লিশ উত্তর নির্বাচন করবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষায় প্রায়ই এই তাপমাত্রা রূপান্তরের অংক বা এমসিকিউ আসে।
সেলসিয়াস, ফারেনহাইট এবং কেলভিন স্কেলের পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোভাবে আয়ত্ত করলে যেকোনো মান নির্ণয় করা সহজ হয়।
সঠিক উত্তর: D) আলোর দ্রুতি
১. কেন সঠিক:
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব অনুসারে শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সর্বদা ধ্রুব বা অপরিবর্তিত থাকে।
পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে আলোর দ্রুতির কোনো পরিবর্তন হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বে প্রকাশ করেন যে, মহাবিশ্বে আলোর দ্রুতি একটি সর্বজনীন ধ্রুবক।
কার্যপ্রণালি: গতিশীল কোনো বস্তু যতই আলোর বেগের কাছাকাছি পৌঁছাক না কেন, তার সাপেক্ষে আলোর বেগের মান সব সময় একই থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহাশূন্যে চলা দুটি ভিন্ন গতির মহাকাশযান থেকে পরিমাপ করলেও আলোর বেগ সর্বদা সমান পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে আলোর দ্রুতি পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
উদাহরণ ২: পৃথিবী সূর্যের দিকে বা বিপরীত দিকে চলার সময়ও আলোর বেগের কোনো তারতম্য হয় না।
ব্যাখ্যা: এই ধ্রুব মানটি প্রমাণ করে যে আলোর দ্রুতি মহাবিশ্বের একটি মৌলিক ধ্রুবক।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দৈর্ঘ্য — আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী উচ্চ গতিতে চলন্ত বস্তুর দৈর্ঘ্য সংকুচিত হয়, তাই এটি ধ্রুব নয়।
B) ভর — বেগের বৃদ্ধির সাথে সাথে বস্তুর আপেক্ষিক ভর বৃদ্ধি পায়, তাই এটি ধ্রুব নয়।
C) সময় — বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সময়ের ব্যবধান পরিবর্তিত হয় যাকে কাল দীর্ঘায়ন বলে।
D) আলোর দ্রুতি — এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের মূল ভিত্তি এবং সব পর্যবেক্ষকের জন্য এর মান সর্বদা ধ্রুব থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
আইনস্টাইনের তত্ত্বে শুধু আলোই চিরন্তন ও ধ্রুব, বাকি সব দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় পরিবর্তনশীল।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আলোর দ্রুতির মান শূন্য মাধ্যমে সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার বা ত্রিশ কোটি মিটার।
বিসিএস পরীক্ষায় এই তত্ত্বের প্রবক্তা এবং এর মৌলিক স্বীকার্য সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: A) ফিউশন বিক্রিয়া
১. কেন সঠিক:
সূর্যের মূল শক্তি আসে নিউক্লীয় ফিউশন বিক্রিয়া থেকে যেখানে চারটি হাইড্রোজেন পরমাণু একত্রিত হয়ে একটি হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে।
এই প্রক্রিয়ায় ভরের সামান্য অংশ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় যা আইনস্টাইনের ভর শক্তি সমীকরণ অনুযায়ী আলো ও তাপশক্তি হিসেবে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নিউক্লীয় ফিউশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুটি বা ততোধিক হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে এবং প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করে।
কার্যপ্রণালি: সূর্যের কোরে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রচণ্ড চাপের কারণে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো প্লাজমা অবস্থায় থাকে এবং একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে হিলিয়ামে পরিণত হয়।
বাস্তব প্রয়োগ: সূর্যের এই অবিরাম শক্তি উৎপাদন পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুলের টিকে থাকা এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাইড্রোজেন বোমা
ব্যাখ্যা: হাইড্রোজেন বোমা অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র যা অনিয়ন্ত্রিত নিউক্লীয় ফিউশন বিক্রিয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
উদাহরণ ২: নক্ষত্রের শক্তি উৎপাদন
ব্যাখ্যা: মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্র বা তারা তাদের অভ্যন্তরীণ ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলো ও শক্তি বিকিরণ করে টিকে থাকে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফিউশন বিক্রিয়া — এটি সঠিক উত্তর কারণ সূর্যের শক্তির প্রধান উৎস হলো এই নিউক্লীয় ফিউশন প্রক্রিয়া।
B) রাসায়নিক বিক্রিয়া — রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা নক্ষত্রের বিশাল শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য অত্যন্ত নগণ্য।
C) ফিশন বিক্রিয়া — ফিশন বিক্রিয়ায় একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় যা পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়।
D) চেইন বিক্রিয়া — এটি সাধারণত ফিশন বিক্রিয়ার একটি ধাপ যেখানে একটি বিক্রিয়া থেকে ক্রমাগত নতুন বিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সূর্যের শক্তি মনে রাখতে ফিউশন শব্দটির প্রথম অক্ষর 'ফি' এবং ফিউচার বা ভবিষ্যতের শক্তি হিসেবে মনে রাখতে পারেন।
মনে রাখবেন ফিউশন মানে জোড়া লাগা বা একত্রিত হওয়া আর ফিশন মানে ভেঙে যাওয়া।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সূর্যের শক্তি উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া হলো প্রোটন প্রোটন চক্র যা ফিউশন বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে সূর্যের শক্তির উৎস কী এবং এর সঠিক উত্তর ফিউশন বিক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) Br₂
১. কেন সঠিক:
- ব্রোমিন (Br₂) হলো হ্যালোজেন গ্রুপের একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- এর গলনাঙ্ক মাইনাস ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং স্ফুটনাঙ্ক ৫৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় কক্ষ তাপমাত্রায় এটি তরল থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পর্যায় সারণির ১৭ নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে হ্যালোজেন বলা হয়, যার মধ্যে ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন কঠিন।
- কারণ ও ফলাফল: অণুগুলোর মধ্যকার দুর্বল ভ্যান্ডার ওয়ালের আকর্ষণ বলের পার্থক্যের কারণে ব্রোমিনের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের পরিসর এমন যে এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পারদ (Hg) থার্মোমিটারে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা: পারদ হলো একমাত্র ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে এবং ব্রোমিন হলো একমাত্র অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে।
উদাহরণ ২: ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা ব্রোমিন শিশি খুললে লালচে-বাদামী বাষ্প উড়ে যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে ব্রোমিনের উদ্বায়ী গুণ রয়েছে এবং কক্ষ তাপমাত্রায় এটি তরল থেকে দ্রুত বাষ্পীভূত হতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Fe — এটি লোহা, যা একটি কঠিন ধাতু এবং এর গলনাঙ্ক অনেক বেশি।
B) Cl₂ — এটি ক্লোরিন, যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।
C) Br₂ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
D) I₂ — এটি আয়োডিন, যা সাধারণ তাপমাত্রায় একটি কঠিন পদার্থ এবং ঊর্ধ্বপাতিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- তরল মৌল মনে রাখার জন্য মনে রাখবে ধাতু হলো পারদ আর অধাতু হলো ব্রোমিন।
- হ্যালোজেন পরিবারের ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন কঠিন, যা উপর থেকে নিচে অবস্থার পরিবর্তনের ক্রম নির্দেশ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে কক্ষ তাপমাত্রায় কোন ধাতু বা অধাতু তরল।
- পারদ ধাতু হিসেবে এবং ব্রোমিন অধাতু হিসেবে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করায় বারবার পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) দহন তাপ
১. কেন সঠিক:
- দহন তাপ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পদার্থের এক মোল সম্পূর্ণভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়ে তাপ উৎপন্ন করে।
- এই বিক্রিয়ায় সর্বদা চারিপাশে তাপ নির্গত হয় বলে এনথালপির পরিবর্তন ঋণাত্মক হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: তাপউৎপাদী বিক্রিয়ায় সিস্টেম থেকে পরিবেশে তাপ শক্তি নির্গত হয় এবং এনথালপির মান হ্রাস পায়।
- কার্যপ্রণালি: দহনের সময় পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে নতুন বন্ধন গঠিত হয় এবং অধিক শক্তিসম্পন্ন উৎপাদ তৈরি হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: রান্নার কাজে গ্যাস পোড়ানো এবং ইঞ্জিনে জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করা দহন তাপের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এক মোল মিথেন গ্যাসের সম্পূর্ণ দহনে বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়।
ব্যাখ্যা: এই বিক্রিয়ায় এনথালপির পরিবর্তন ঋণাত্মক মান প্রদর্শন করে।
উদাহরণ ২: মানুষের শরীরে গ্লুকোজের জারণ বা দহন প্রক্রিয়া।
ব্যাখ্যা: কোষে গ্লুকোজ পুড়ে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এটিও একটি তাপউৎপাদী প্রক্রিয়া।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দহন তাপ — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই প্রক্রিয়ায় সবসময় তাপ নির্গত হয় এবং এর মান ঋণাত্মক হয়।
B) বিক্রিয়া তাপ — এই অপশন ভুল কারণ বিক্রিয়া তাপ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে, যা তাপহারী বা তাপউৎপাদী বিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
C) সংগঠন তাপ — এই অপশন ভুল কারণ কোনো যৌগ গঠনের সময় তাপ উৎপাদিত বা শোষিত হতে পারে, তাই এর মান ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে।
D) দ্রবণ তাপ — এই অপশন ভুল কারণ দ্রবীভূত করার সময় দ্রবণ তাপ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- দহন মানে পুড়ে যাওয়া এবং পোড়া মানেই তাপ বা শক্তি বাইরে বেরিয়ে যাওয়া।
- শক্তি বাইরে চলে গেলে সিস্টেমের শক্তি কমে যায়, তাই দহন তাপ সবসময় ঋণাত্মক হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- তাপউৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এনথালপির পরিবর্তন সবসময় ঋণাত্মক হয়।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং ব্যাংক পরীক্ষার রসায়ন অংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর: B) পানি
১. কেন সঠিক:
খাদ্য পচনের প্রধান অনুঘটক হলো পানি কারণ এটি অণুজীবের বংশবৃদ্ধি ও রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
পানি ছাড়া ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো পচনকারী জীবাণু বেঁচে থাকতে ও খাদ্য পঁচাতে পারে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: খাদ্য পচন বলতে অণুজীবের দ্বারা খাদ্যের জৈব উপাদানের বিশ্লিষ্ট হওয়াকে বোঝায়।
কার্যপ্রণালি: খাদ্যে উপস্থিত জলীয় অংশ এনজাইমের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয় এবং পচন প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শুটকি মাছ বা শুকনো ফল দীর্ঘদিন ভালো থাকে কারণ এতে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে।
ব্যাখ্যা: পানির অনুপস্থিতিতে অণুজীব জন্মাতে পারে না, তাই খাদ্য পচে না।
উদাহরণ ২: ভেজা ভাত খোলা বাতাসে রাখলে দ্রুত গন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা: বাতাসের আর্দ্রতা ও খাদ্যের পানি মিলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন — ভিটামিন খাদ্যের একটি পুষ্টি উপাদান যা পচনের জন্য দায়ী নয়, বরং এটি দেহের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন।
B) পানি — সঠিক উত্তর, কারণ পানি অণুজীবের বিস্তার ঘটিয়ে খাদ্য পচাতে সরাসরি সহায়তা করে।
C) লিপিড — লিপিড বা ফ্যাট রান্নার তেল বা চর্বি জাতীয় উপাদান, যা নিজে থেকে পচন ঘটায় না।
D) প্রোটিন — প্রোটিন খাদ্যের পুষ্টি উপাদান হলেও এটি পচনের মূল কারণ নয়, বরং পানি থাকলে প্রোটিন পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
খাদ্য পচনের মূল চাবিকাঠি হলো পানি, কারণ পানি না থাকলে জীবাণু বাঁচতে পারে না।
শুকিয়ে সংরক্ষণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো খাবার থেকে পানি দূর করা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
খাদ্য সংরক্ষণের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হলো শুকিয়ে ফেলা বা নিরুদন করা।
খাদ্য সংরক্ষণে লবণের ব্যবহার অণুজীবের কোষ থেকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি টেনে বের করে নেয়।
সঠিক উত্তর: C) নাইট্রোজেন
১. কেন সঠিক:
- বায়ুমণ্ডলে মোট গ্যাসের প্রায় ৭৮.০৯ শতাংশই হলো নাইট্রোজেন, যা অন্য যেকোনো গ্যাসের তুলনায় পরিমাণে সর্বাধিক।
- এটি একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে কাজ করে বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলের চাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: বায়ুমণ্ডল হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যার প্রধান উপাদান হলো নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- কার্যপ্রণালি: গ্যাসগুলোর নির্দিষ্ট অনুপাতের কারণে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকে আছে এবং নাইট্রোজেন গাছের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে।
- বাস্তব প্রয়োগ: মোড়কজাত খাবার বা চিপসের প্যাকেটে অক্সিজেন বের করে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরা হয় যাতে খাবার দীর্ঘদিন টাটকা থাকে এবং নষ্ট না হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চিপসের প্যাকেট
ব্যাখ্যা: চিপসের প্যাকেটে বাতাস বা অক্সিজেন থাকলে খাবার সেঁর্তে যেতে পারে, তাই সেখানে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরে খাবার মচমচে রাখা হয়।
উদাহরণ ২: বজ্রপাতের সময় উদ্ভিদের পুষ্টি
ব্যাখ্যা: বজ্রপাতের সময় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন মাটির সাথে মিশে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রেট লবণ তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কার্বন ডাই অক্সাইড — বায়ুমণ্ডলে এর পরিমাণ মাত্র প্রায় ০.০৪ শতাংশ, যা নাইট্রোজেনের তুলনায় অত্যন্ত কম।
B) অক্সিজেন — বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১ শতাংশ, যা নাইট্রোজেনের পরে দ্বিতীয় প্রধান উপাদান।
D) জলীয় বাষ্প — বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয় এবং এর গড় পরিমাণ ১ শতাংশের কম।
৫ মনে রাখার টিপস:
- বায়ুমণ্ডলের উপাদান মনে রাখার সহজ কৌশল হলো নাই-অক-কা, যেখানে নাইট্রোজেন সবার উপরে, অক্সিজেন দ্বিতীয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড অনেক কম পরিমাণে থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের শতকরা হার সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই নাইট্রোজেন ৭৮ শতাংশ এবং অক্সিজেন ২১ শতাংশ মান দুটি মুখস্থ রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) 6-10% CH₃COOH
১. কেন সঠিক:
- ভিনেগার হলো মূলত ইথানুইক অ্যাসিড বা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার জলীয় দ্রবণ।
- পানিতে ছয় থেকে দশ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড মিশিয়ে বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি ব্যবহারের উপযোগী ভিনেগার তৈরি করা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অ্যাসিটিক অ্যাসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো CH₃COOH এবং এর জলীয় দ্রবণকে খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- কার্যপ্রণালি: ইথানল বা অ্যালকোহলের ওপর অ্যাসিটোভ্যাক্টর নামক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে বায়বীয় জারণ ঘটে এবং ভিনেগার উৎপন্ন হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: এটি সালাদ তৈরিতে, আচার সংরক্ষণে এবং মাংস নরম করার কাজে রান্নাঘরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাঁচা আম বা রসুনের আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি খাদ্যে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করে এবং খাদ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: ফাস্টফুড বা চাইনিজ খাবারে সস ও সালাদে টক ভাব আনতে ভিনেগার মেশানো হয়।
ব্যাখ্যা: এটি খাদ্যের স্বাদ ও ঘ্রাণ বৃদ্ধি করে এবং খাবারকে দীর্ঘ সময় ভালো রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 6-10% HCOOH — এটি মিথানইক অ্যাসিড বা ফরমায়িক অ্যাসিডের দ্রবণ, যা পিঁপড়ায় থাকে এবং ভিনেগার নয়।
B) 6-10% CH₃COOH — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি ইথানুইক অ্যাসিড বা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণ যা ভিনেগার নামে পরিচিত।
C) 6-10% C₂H₅COOH — এটি প্রোপানইক অ্যাসিডের দ্রবণ, যা জৈব অম্ল হলেও ভিনেগার হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
D) 6-10% C₆H₅COOH — এটি বেনজয়িক অ্যাসিডের দ্রবণ, যা আলাদাভাবে খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভিনেগার নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ভিনেগারের মূল উপাদান অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সংকেতে সিএইচ থ্রি সিওওএইচ মনে রাখবে এবং এর শতকরা পরিমাণ ছয় থেকে দশ শতাংশ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভিনেগারের রাসায়নিক নাম ও সংকেত প্রায়ই আসে।
- খাদ্য সংরক্ষণে কোন জৈব অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়, এই প্রশ্নটি বিভিন্ন চাকরিতে বারবার এসেছে।
সঠিক উত্তর: B) অগ্ন্যাশয়
১. কেন সঠিক:
অগ্ন্যাশয় হলো মানবদেহের একটি মিশ্র গ্রন্থি যা থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক কোষগুচ্ছ থেকে এই হরমোন উৎপন্ন হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ইনসুলিন একটি পেপটাইড হরমোন যা বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
কার্যপ্রণালি: অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন রক্তে নিঃসৃত হয়ে কোষগুলোতে গ্লুকোজ প্রবেশে সাহায্য করে।
কারণ ও ফলাফল: ইনসুলিনের ঘাটতি হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভাত বা মিষ্টি খাওয়ার পর আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।
ব্যাখ্যা: তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে ইনসুলিন তৈরি হয় না বা সঠিকভাবে কাজ করে না।
ব্যাখ্যা: তাই তাদের বাইরে থেকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয় যাতে শরীরের কোষগুলো শক্তি পাওয়ার জন্য গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) যকৃত — যকৃত পিত্তরস উৎপন্ন করে এবং খাদ্য পরিপাক ও বিপাকে সাহায্য করে, তবে এটি ইনসুলিন তৈরি করে না।
B) অগ্ন্যাশয় — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর বিটা কোষ ইনসুলিন হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণ করে।
C) পাকস্থলী — পাকস্থলী হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পরিপাক রস নিঃসরণ করে খাদ্য হজম করে, হরমোন তৈরি এর কাজ নয়।
D) ক্ষুদ্রান্ত্র — ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাক ও পুষ্টি উপাদান শোষণ করে, তবে ইনসুলিন নিঃসরণের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
ইনসুলিনের সাথে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের সম্পর্ক মনে রাখতে ইনসু-বিটা এই কৌশলটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস ও অগ্ন্যাশয়ের সংযোগ বোঝাতে অগ্ন্যাশয়কে শরীরের ইনসুলিন কারখানা হিসেবে মনে রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
অগ্ন্যাশয়ের কোন কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় এই প্রশ্নটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয় এবং অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।
সঠিক উত্তর: B) এটি পানিতে দ্রবণীয়
১. কেন সঠিক:
লিপিড বা চর্বিজাতীয় পদার্থ কখনো পানিতে দ্রবণীয় নয়, বরং এটি পানিতে অদ্রবণীয় বা অবদ্রবণীয়।
লিপিড হলো হাইড্রোফোবিক বা জলভীরু প্রকৃতির জৈব যৌগ, যা পোলার দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: লিপিড হলো ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারুলের এস্টার যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত।
কার্যপ্রণালি: লিপিডের অণুতে অধ্রুব হাইড্রোকার্বন শিকল থাকে যা পানির পোলার অণুর সঙ্গে আকর্ষণ তৈরি করতে পারে না।
বাস্তব প্রয়োগ: তেল বা ঘি পানিতে মিশালে তা পানির উপরে ভেসে থাকে এবং মিশ্রিত হয় না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: পানিতে তেল বা ঘি মেশানো।
ব্যাখ্যা: তেল পানিতে দিলে তা দ্রবীভূত না হয়ে ওপরের স্তরে ভেসে থাকে, যা লিপিডের অদ্রবণীয়তা প্রমাণ করে।
উদাহরণ ২: সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে তৈলাক্ত হাত পরিষ্কার করা।
ব্যাখ্যা: লিপিড সরাসরি পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলেই তেল পরিষ্কার করতে ইমালসিফায়ার বা সাবানের সাহায্য নিতে হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এটি বর্ণহীন — খাঁটি লিপিড সাধারণত বর্ণহীন বা হালকা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে, যা এর একটি প্রকৃত ভৌত বৈশিষ্ট্য।
B) এটি পানিতে দ্রবণীয় — এটি ভুল বিবৃতি এবং এটিই লিপিডের বৈশিষ্ট্য নয়, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
C) এটি স্বাদহীন — বিশুদ্ধ লিপিডের নির্দিষ্ট কোনো তীব্র স্বাদ থাকে না, এটি স্বাদহীন প্রকৃতির হয়।
D) এটি গন্ধহীন — লিপিড বা ফ্যাট সাধারণত গন্ধহীন হয়, যদিও কিছু উদ্বায়ী লিপিডের হালকা গন্ধ থাকতে পারে।
৫. মনে রাখার টিপস:
লিপিড মানে তেল বা চর্বি। তেল কখনো পানিতে মেশে না, তাই লিপিড পানিতে অদ্রবণীয় এই কথাটি মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
লিপিড পানিতে অদ্রবণীয় হলেও এটি ইথার, ক্লোরোফর্ম ও বেনজিনের মতো জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিপিডের দ্রবণীয়তা এবং উপাদান সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) সমতল দর্পণ
১. কেন সঠিক:
- আমরা প্রতিদিন সকালে মুখ দেখার জন্য যে আয়না ব্যবহার করি, তা আসলে একটি সমতল দর্পণ।
- এই দর্পণে গঠিত বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয় এবং দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব ও বিম্বের দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সমতল দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, যার ফলে বস্তুর একটি স্পষ্ট ও সোজা বিম্ব গঠিত হয়।
- কার্যপ্রণালি: বস্তু থেকে আলো দর্পণে আপতিত হয়ে প্রতিফলিত হয় এবং আমাদের চোখে পৌঁছায়, যা মস্তিষ্কে সমশীর্ষ ও অসদ বিম্ব তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: বাসাবাড়ির ড্রেসিং টেবিল, সেলুন বা বিউটি পার্লারে নিজের চেহারা বা পোশাকের বিন্যাস দেখার জন্য সমতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সকালে চুলে চিরুনি করার সময় ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের পুরো মুখ পরিষ্কার দেখতে পাওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি সমতল দর্পণের নিয়মিত প্রতিফলনের মাধ্যমে গঠিত সমান আকারের সোজা বিম্বের একটি বাস্তব প্রয়োগ।
উদাহরণ ২: ঘরের দেওয়ালের সাথে লাগানো একটি আয়নার সামনে দাঁড়ালে ঠিক আপনার সমপরিমাণ উচ্চতার একটি অবিকল প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া।
ব্যাখ্যা: সমতল দর্পণে বস্তুর দূরত্ব এবং বিম্বের দূরত্ব সমান থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) উত্তল দর্পণ — এটি আকারে ছোট এবং চওড়া এলাকার দৃশ্য দেখায় বলে গাড়ির পেছনের ভিউ ফাইন্ডার বা রিভিয়ার মিরর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
B) অবতল দর্পণ — এটি আলোকরশ্মিকে অভিসারী করে এবং বস্তুকে বড় করে দেখায় বলে ডেন্টিস্টরা দাঁত পরীক্ষার কাজে এটি ব্যবহার করেন।
D) উভোত্তল দর্পণ — এই ধরনের কোনো নির্দিষ্ট বা বহুল ব্যবহৃত দর্পণ অপটিক্সে প্রচলিত নয়, এটি মূলত উত্তল দর্পণের একটি রূপ।
৫. মনে রাখার টিপস:
- সমতল মানে সমান; তাই যে আয়নায় নিজের চেহারা সমান বা ঠিকঠাক সাইজে দেখা যায়, তাকে সমতল দর্পণ বলে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে, দাড়ি কামানোর বা দাঁত পরীক্ষার জন্য কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- মনে রাখবে, চেহারা দেখার জন্য সমতল দর্পণ, ছোট জিনিস বড় দেখতে অবতল দর্পণ এবং পেছনের প্রশস্ত দৃশ্য দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) অ্যান্টিবডি
১. কেন সঠিক:
- অ্যান্টিবডি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে। এরা রক্তে থেকে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে।
- বৈজ্ঞানিক ধারণায়, এগুলো বিশেষ প্রোটিন যা অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অ্যান্টিবডি হলো ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামক বিশেষ গ্লাইকোপ্রোটিন।
- কার্যপ্রণালি: দেহের বাইরে থেকে কোনো রোগজীবাণু প্রবেশ করলে বি লিম্ফোসাইট কোষ প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
- কারণ ও ফলাফল: অ্যান্টিবডি সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষতিকর জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: শরীরে বসন্ত বা হামের ভাইরাস প্রবেশ করলে অ্যান্টিবডি সেগুলোকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর ভবিষ্যতে ওই একই রোগের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা পায়।
উদাহরণ ২: করোনার টিকা নেওয়ার পর দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ভবিষ্যতে আসল ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অ্যান্টিজেন — এটি হলো ক্ষতিকর বা বিদেশি পদার্থ যা দেহে প্রবেশ করে অ্যান্টিবডি তৈরির উদ্দীপ্ত করে, নিজে সৈনিকের কাজ করে না।
B) অ্যান্টিবডি — এটি সঠিক উত্তর।
C) প্রোটিন — এটি একটি বিস্তৃত জৈব অণু। সব অ্যান্টিবডি প্রোটিন হলেও সব প্রোটিন রোগ প্রতিরোধ করে না।
ডি) রক্ত — রক্ত একটি তরল যোজক কলা, যার কাজ উপাদান পরিবহন করা, তবে রক্ত নিজে এককভাবে সৈনিক হিসেবে কাজ করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- অ্যান্টিজেন হলো শত্রু এবং অ্যান্টিবডি হলো যুদ্ধ করার সৈনিক।
- প্রথম অক্ষর মিলিয়ে মনে রাখতে পারো অ্যান্টিবডি মানে বডিগার্ড বা রক্ষী।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ইমিউন সিস্টেম বা রক্তকণিকা সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
- হোয়াইট ব্লাড সেল বা শ্বেত রক্তকণিকাকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল কোষ বলা হয়।
সঠিক উত্তর: C) V
১. কেন সঠিক:
মুক্তিবেরের সূত্র অনুযায়ী, কোনো গ্রহের ভর দ্বিগুণ এবং ব্যাসার্ধও দ্বিগুণ হলে নতুন গ্রহের মুক্তিবেগ পৃথিবীর সমানই থাকে।
কারণ ভরের বৃদ্ধি মুক্তিবেগ বাড়ালেও ব্যাসার্ধের বৃদ্ধি তা সমান অনুপাতে কমিয়ে দেয়, ফলে বেগের কোনো পরিবর্তন হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মুক্তিবেগ হলো সেই ন্যূনতম বেগ যে বেগে কোনো বস্তু নিক্ষেপ করলে তা মহাকর্ষ বল পেরিয়ে মহাশূন্যে চলে যায় এবং আর ফিরে আসে না।
সূত্র/তত্ত্ব: মুক্তিবেগের সূত্রটি হলো V = √(2GM ÷ R), যেখানে V হলো মুক্তিবেগ, G হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, M হলো গ্রহের ভর এবং R হলো গ্রহের ব্যাসার্ধ।
কার্যপ্রণালি: নতুন গ্রহের ভর দ্বিগুণ (2M) এবং ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ (2R) হলে সূত্রে মান বসিয়ে পাওয়া যায় নতুন মুক্তিবেগ সমান √(2G(2M) ÷ (2R)), যা সরল করলে পৃথিবীর মুক্তিবেগের সমান হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রকেট উৎক্ষেপণ
ব্যাখ্যা: পৃথিবী থেকে কোনো মহাকাশযান মহাশূন্যে পাঠাতে হলে তাকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১১ দশমিক ২ কিলোমিটার মুক্তিবেগ অর্জন করতে হয়।
উদাহরণ ২: চাঁদের মুক্তিবেগ
ব্যাখ্যা: চাঁদের ভর ও ব্যাসার্ধ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় চাঁদের মুক্তিবেগও কম, যার কারণে সেখানে বায়ুমণ্ডল ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 4V — এই মানটি ভুল কারণ ভর ও ব্যাসার্ধ উভয়ই দ্বিগুণ হলে মুক্তিবেগ চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
B) 2V — এই মানটি ভুল কারণ কেবল ভর দ্বিগুণ করলে মুক্তিবেগ রুট দুই গুণ বাড়ত, কিন্তু এখানে ব্যাসার্ধও দ্বিগুণ করা হয়েছে।
C) V — এই অপশনটি সঠিক কারণ হিসাব অনুযায়ী গ্রহের ভর ও ব্যাসার্ধ সমান অনুপাতে বাড়লে মুক্তিবেগের মান অপরিবর্তিত থাকে।
D) 1/2 V — এই মানটি ভুল কারণ ব্যাসার্ধ বাড়লে মুক্তিবেগ কমে যায় না যদি ভর একই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়।
৫ মনে রাখার টিপস:
মুক্তিবেগের সূত্রে ভর লবে এবং ব্যাসার্ধ হরে থাকে।
ভর ও ব্যাসার্ধ উভয়কে একই গুণিতকে বাড়ালে অনুপাত অপরিবর্তিত থাকে, তাই মুক্তিবেগও সমান থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের গাণিতিক অনুপাতের প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
মনে রাখতে হবে মুক্তিবেগ গ্রহের ভরের বর্গমূলের সমানুপাতিক এবং ব্যাসার্ধের বর্গমূলের ব্যাস্তানুপাতিক।
সঠিক উত্তর: D) ভাইরাস
১. কেন সঠিক:
- অ্যান্টিবায়োটিক এমন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য নির্দিষ্ট অণুজীবের কোষ প্রাচীর বা বিপাকীয় প্রক্রিয়া ধ্বংস করতে পারে।
- ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কোষীয় গঠন, বিপাকীয় তন্ত্র বা প্রোটিন সংশ্লেষণ করার নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে না বলে অ্যান্টিবায়োটিক তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: অ্যান্টিবায়োটিক হলো অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াই করার ওষুধ যা জীবন্ত কোষের ওপর কাজ করে।
- কার্যপ্রণালি: ভাইরাস মূলত একটি প্রোটিন আবরণে ঘেরা নিউক্লিক এসিড কণা যা পোষক কোষের ভেতরে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: সর্দি, কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসবাহিত রোগ হওয়ায় চিকিৎসকরা এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন না।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: নিউমোনিয়া রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, তার চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক সফলভাবে কাজ করে।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কোষীয় কাঠামোর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি আক্রমণ করতে পারে।
উদাহরণ ২: সাধারণ সর্দি বা ফ্লু ভাইরাসের কারণে হলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কোনো উপকার হয় না।
ব্যাখ্যা: ভাইরাস কোষে ওষুধের কোনো কার্যকারিতা না থাকায় এই রোগগুলো প্রাকৃতিকভাবেই নিরাময় করতে হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যাকটেরিয়া — ব্যাকটেরিয়া এককোষী জীব এবং অ্যান্টিবায়োটিক এদের কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে ফেলতে পারে।
B) ছত্রাক — ছত্রাক ইউক্যারিওটিক অণুজীব এবং কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক এদের বিরুদ্ধেও কার্যকর হতে পারে।
C) শৈবাল — শৈবাল সালোকসংশ্লেষকারী উদ্ভিদ এবং এদের কোষেও অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
D) ভাইরাস — ভাইরাস কোষীয় জীব নয় বরং এটি জড় ও জীবের মধ্যবর্তী অবস্থা, তাই এর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মনে রাখবে, অ্যান্টিবায়োটিক কেবল জীবন্ত কোষযুক্ত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
- ভাইরাস কোষহীন হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর সম্পূর্ণ অকার্যকর থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাধারণ সর্দি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসবাহিত রোগ হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এগুলো সারানো যায় না।
- অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং এবং প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক হলো পেনিসিলিন।
সঠিক উত্তর: C) NaCl
১. কেন সঠিক:
- সোডিয়াম ক্লোরাইড বা সোডিয়াম ক্লোরাইড একটি আয়নিক যৌগ কারণ এটি ধাতু ও অধাতুর মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- সোডিয়াম তার বাইরের কক্ষপথ থেকে একটি ইলেকট্রন ক্লোরিনকে সম্পূর্ণভাবে দান করে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন গঠন করে স্থির তড়িৎ আকর্ষণে যুক্ত থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ার না করে আদান-প্রদানের ফলে সৃষ্ট রাসায়নিক বন্ধনকে আয়নিক বন্ধন বলে এবং গঠিত যৌগকে আয়নিক যৌগ বলা হয়।
- কার্যপ্রণালি: সোডিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক চার্জযুক্ত সোডিয়াম আয়ন এবং ক্লোরিন পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ক্লোরাইড আয়ন তৈরি করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: আয়নিক যৌগগুলো পানিতে দ্রবীভূত হলে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে যেমন প্রাত্যহিক জীবনের রান্নার লবণ পানিতে মিশলে তিতড়িৎ পরিবাহী দ্রবণ তৈরি হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড।
ব্যাখ্যা: ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু অক্সিজেনকে দুটি ইলেকট্রন দান করে এই আয়নিক যৌগটি গঠন করে।
উদাহরণ ২: ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড।
ব্যাখ্যা: ক্যালসিয়াম পরমাণু দুটি ক্লোরিন পরমাণুকে দুটি ইলেকট্রন দিয়ে আয়নিক বন্ধন তৈরি করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) CH₄ — এটি মিথেন এবং কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে গঠিত হওয়ায় এটি একটি সমযোজী যৌগ।
B) CH₃Cl — এটি মিথাইল ক্লোরাইড যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও ক্লোরিনের মধ্যকার ইলেকট্রন শেয়ারের ফলে সৃষ্ট সমযোজী যৌগ।
C) NaCl — এটি সঠিক কারণ সোডিয়াম ধাতু ও ক্লোরিন অধাতুর মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়।
D) PCl₃ — এটি ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইড এবং ফসফরাস ও ক্লোরিন উভয়েই অধাতু হওয়ায় এদের বন্ধনটি সমযোজী প্রকৃতির।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ধাতু ও অধাতুর সংযোগে গঠিত যৌগ সাধারণত আয়নিক হয় এবং দুটিই অধাতু হলে তা সমযোজী যৌগ হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আয়নিক ও সমযোজী যৌগের উদাহরণ থেকে প্রশ্ন আসে।
- যৌগগুলোর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক এবং পানিতে দ্রবণীয়তা সম্পর্কিত প্রশ্ন থেকেও এমসিকিউ আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) HDL
১. কেন সঠিক:
- HDL হলো হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা মানবদেহের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল হিসেবে কাজ করে।
- এটি রক্তনালীতে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: লাইপোপ্রোটিন হলো প্রোটিন ও চর্বির সমন্বয়, যা রক্তের মাধ্যমে চর্বি বহন করে।
- কার্যপ্রণালি: এটি ধমনীর দেওয়ালের ক্ষতি রোধ করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রক্তে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।
ব্যাখ্যা: এটি ধমনীতে প্লাক জমতে বাধা দেয়, যা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
উদাহরণ ২: নিয়মিত ব্যায়াম ও শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো যায়।
ব্যাখ্যা: জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) HDL — এটি মানবদেহের জন্য ভালো কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত।
B) VLDL — এটি ভেরি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বহন করে এবং ক্ষতিকর।
C) LDL — এটি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল।
D) TG — এটি ট্রাইগ্লিসারাইড, যা এক ধরনের রক্তে থাকা চর্বি এবং এর উচ্চ মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভালো কোলেস্টেরলের জন্য এইচ মানে হেলদি বা ভালো এবং খারাপ কোলেস্টেরলের জন্য এল মানে লো বা ক্ষতিকর মনে রাখতে পারো।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের নাম প্রায়ই আসে।
- এইচডিএল যকৃতে কোলেস্টেরল ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং এলডিএল রক্তনালীতে চর্বি জমায়।
সঠিক উত্তর: A) ৯.০ কিলো ক্যালরি
১. কেন সঠিক:
খাদ্যপুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী এক গ্রাম ফ্যাট বা চর্বি সম্পূর্ণ জারিত হয়ে প্রায় ৯.০ কিলো ক্যালরি শক্তি উৎপন্ন করে।
এটি মানবদেহের প্রধান শক্তি সঞ্চালক উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তির জোগান দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ফ্যাট বা লিপিড হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত জটিল জৈব যৌগ যা শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে।
কার্যপ্রণালি: বিপাক প্রক্রিয়ার সময় ফ্যাটের অণু ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারিনে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে এটি শক্তি উৎপন্ন করে।
বাস্তব প্রয়োগ: শীতপ্রধান দেশের প্রাণীরা শরীরে চর্বির স্তর জমিয়ে অতিরিক্ত শক্তি ও উষ্ণতা ধরে রাখে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এক গ্রাম মাখনে উপস্থিত ফ্যাট থেকে আমাদের শরীর প্রায় নয় কিলো ক্যালরি শক্তি লাভ করে।
ব্যাখ্যা: মাখন উচ্চমাত্রার ফ্যাটযুক্ত খাদ্য হওয়ায় এটি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তি জমা হয়।
উদাহরণ ২: বাদাম ও বীজ জাতীয় খাদ্যে প্রচুর ফ্যাট থাকে।
ব্যাখ্যা: এই জাতীয় খাবার খেলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর শক্তি পায় কারণ ফ্যাট ধীরে ধীরে হজম হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৯.০ কিলো ক্যালরি - এটি পুষ্টিবিজ্ঞানের পরীক্ষিত ও সর্বজনস্বীকৃত মান যা এক গ্রাম ফ্যাট থেকে প্রাপ্ত শক্তির সঠিক পরিমাণ নির্দেশ করে।
B) ৯.৮ কিলো ক্যালরি - এই মানটি ফ্যাট বা অন্য কোনো প্রধান খাদ্য উপাদানের শক্তির পরিমাপের সঙ্গে বৈজ্ঞানিকভাবে মিলে না।
C) ৯.৩ কিলো ক্যালরি - কিছু পুরোনো বা পরিমার্জিত গবেষণায় এই মানটি উল্লেখ থাকলেও আন্তর্জাতিক পুষ্টি মানদণ্ডে ৯.০ কিলো ক্যালরি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে গৃহীত।
D) ৯.৬ কিলো ক্যালরি - এটি একটি কাল্পনিক বা ভুল মান যা পুষ্টিবিজ্ঞানের কোনো খাদ্য উপাদানের শক্তি গণনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফ্যাট শব্দটিতে তিনটি বর্ণ আছে এবং ৯ সংখ্যাটি ফ্যাটের শক্তির প্রধান অঙ্ক।
মনে রাখবে ফ্যাট মানেই বেশি শক্তি অর্থাৎ প্রতি গ্রামে প্রায় ৯ কিলো ক্যালরি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এক গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থেকে প্রায় চার কিলো ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
একই রকম প্রশ্ন আসতে পারে যে এক গ্রাম প্রোটিন বা শর্করা থেকে কত ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর: A) Subscriber Identity Module
১. কেন সঠিক:
- SIM শব্দের পূর্ণরূপ হলো Subscriber Identity Module, যার বাংলা অর্থ গ্রাহক পরিচিতি মডিউল।
- এটি মোবাইল নেটওয়ার্কে কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহককে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে এবং তার অ্যাকাউন্ট প্রমাণ করতে ব্যবহৃত হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: SIM হলো একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা স্মার্ট কার্ড, যা মোবাইল ফোনে গ্রাহকের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।
- কার্যপদ্ধতি: এতে একটি ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি এবং একটি সিক্রেট কি থাকে, যা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি পিন নম্বর দ্বারা সুরক্ষিত থাকে এবং এতে ফোনবুক বা এসএমএস সংরক্ষণ করার ছোট্ট মেমোরি থাকে।
- ব্যবহার: সেলুলার নেটওয়ার্কে ভয়েস কল করা, এসএমএস পাঠানো এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এটি অপরিহার্য।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: নতুন কোনো স্মার্টফোনে পুরোনো ফোন থেকে SIM খুলে লাগালে আগের মোবাইল নম্বর এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ সচল হয়ে যায়।
- ব্যাখ্যা: কারণ SIM-এর ভেতরের চিপটিতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত পরিচয় ও নেটওয়ার্কের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
- উদাহরণ ২: গ্রামীণফোন বা রবি কোম্পানির একটি SIM অন্য অপারেটরের সাধারণ ফোনে ব্যবহার করা যায়।
- ব্যাখ্যা: কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন প্রযুক্তির অংশ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) Subscriber Identity Module — এটি সঠিক উত্তর কারণ মোবাইল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এটিই সর্বসম্মত পূর্ণরূপ।
- B) Subscriber Identification Management — এই শব্দগুচ্ছটি টেকনিক্যালি সঠিক নয় এবং মোবাইল প্রযুক্তিতে এই নামে কোনো হার্ডওয়্যার মডিউল নেই।
- C) Subscriber Identification Mechanism — এটি কোনো পূর্ণরূপ নয়, বরং এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির বিবরণ বোঝায়।
- D) Subscriber Identify Method — এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত যন্ত্র বা কার্ডের নাম নির্দেশ করে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- SIM কার্ড মানেই গ্রাহকের পরিচয়, তাই এর পূর্ণরূপে Identity শব্দটি থাকবে।
- মোবাইল ফোনের পরিচয় নিশ্চিত করে Subscriber Identity Module।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- আধুনিক স্মার্টফোনে ফিজিক্যাল সিমের পাশাপাশি ই-সিম বা এমবেডেড সিম জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
- বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কম্পিউটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত রূপ যেমন BIOS, RAM, ROM প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) MS Office
১. কেন সঠিক:
- MS Office হলো একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা প্রডাক্টিভিটি টুলস স্যুট, যা কোনো অপারেটিং সিস্টেম নয়।
- এটি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরিকৃত এবং উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ইনস্টল করে ব্যবহার করা হয়।
২. টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
- সংজ্ঞা: অপারেটিং সিস্টেম হলো এমন একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
- কাজ: এটি কম্পিউটারের মেমোরি, প্রসেসর এবং পেরিফেরাল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরি করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: Microsoft Windows
ব্যাখ্যা: এটি একটি বিশ্বপরিচিত অপারেটিং সিস্টেম যা কম্পিউটার পরিচালনা করে।
উদাহরণ ২: Android
ব্যাখ্যা: এটি স্মার্টফোনে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) DOS — এটি মাইক্রোসফটের তৈরি একটি প্রাচীন ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম।
B) Linux — এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম।
C) MS Office — এটি ডকুমেন্ট তৈরি ও হিসাব নিকাশের একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম নয়।
D) Ufuntu — এটি লিনাক্স কার্নেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যার সঠিক বানান হলো Ubuntu।
৫. মনে রাখার টিপস:
- অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের প্রাণ, আর এমএস অফিস হলো এর ওপর বসা কাজের সফটওয়্যার।
- উইন্ডোজ, লিনাক্স, ইউনিক্স হলো অপারেটিং সিস্টেম, আর ওয়ার্ড, এক্সেল হলো অফিস প্রোগ্রাম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পরীক্ষায় প্রায়ই অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করতে বলা হয়।
- ইউবুন্টু একটি লিনাক্স ভিত্তিক ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম, যা সার্ভার ও ডেস্কটপে বহুল ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর: B) ৬.১৫ কি.মি
১. কেন সঠিক:
- পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং এর সংযোগ সড়কসহ মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.০০ কিলোমিটার।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: সেতুটি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়া প্রান্ত এবং শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার জাজিরা প্রান্তকে যুক্ত করেছে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি প্রমত্তা পদ্মার ওপর নির্মিত একটি দ্বিতল সেতু, যার ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক এবং নিচের স্তরে একক ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: ২০২২ সালের ২৫ জুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং এটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: বঙ্গবন্ধু সেতু
ব্যাখ্যা: এটি যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম বহুমুখী সেতু, যার দৈর্ঘ্য ৪.৮০ কিলোমিটার।
উদাহরণ ২: গড়াই সেতু
ব্যাখ্যা: এটি কুষ্টিয়া জেলায় গড়াই নদীর ওপর অবস্থিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৬.১০ কি.মি — এই সংখ্যাটি পদ্মা সেতুর মূল দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি হলেও সঠিক পরিমাপের সঙ্গে মেলে না।
B) ৬.১৫ কি.মি — এটি পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোগত দৈর্ঘ্যের সঠিক পরিমাপ যা প্রশ্নানুযায়ী নির্ভুল।
C) ৬.৫ কি.মি — এই মাপটি পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হিসেবে বেশি, কারণ মূল সেতুটি সাড়ে ছয় কিলোমিটারের কিছু কম।
D) ৬.৮০ কি.মি — এই সংখ্যাটি সেতুটির ভুল দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে এবং এর সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের মিল নেই।
৫. মনে রাখার টিপস:
- পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য মনে রাখতে পনেরো সংখ্যাটি মনে রাখুন, যা হলো ছয় দশমিক পনেরো কিলোমিটার।
- মূল সেতু ছয় কিলোমিটারের বেশি এবং এর সঙ্গে দশমিক পনেরো যোগ করলে সঠিক দৈর্ঘ্য পাওয়া যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অংশে প্রায়ই আসে।
- পরীক্ষার জন্য সেতুটির নদী, প্রান্তের জেলা এবং সংযোগ সড়কসহ মোট দৈর্ঘ্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) মৌলভীবাজার
১. কেন সঠিক:
- মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি পাহাড়ি ঝরনা থেকে সৃষ্ট দেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় প্রাকৃতিক জলপ্রপাত।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: পাথুরে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ছড়ার পানি নিচে পড়ে এই জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: হামহাম জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা: এটিও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বনাঞ্চলে অবস্থিত আরেকটি বিখ্যাত জলপ্রপাত।
উদাহরণ ২: শুভলং জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা: এটি রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির অন্যতম নিদর্শন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চট্টগ্রাম — চট্টগ্রাম জেলায় বিখ্যাত কোনো প্রাকৃতিক জলপ্রপাত যেমন মাধবকুণ্ড নেই, এখানে মূলত পাহাড়ি ঝিরি ও লেক দেখা যায়।
B) সিলেট — সিলেট জেলায় জলপ্রপাত বা ঝরনার চেয়ে চা বাগান ও হাওর বেশি দেখা যায়।
C) সুনামগঞ্জ — সুনামগঞ্জ জেলা হাওর অঞ্চলের জন্য পরিচিত এবং এখানে পাহাড়ি জলপ্রপাত নেই।
D) মৌলভীবাজার — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই জেলায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
মৌলভীবাজারের 'ম' দিয়ে মনে রাখতে পারো মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এই জেলাতেই অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের প্রধান জলপ্রপাতগুলো কোন জেলায় অবস্থিত, তা বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে হামহাম জলপ্রপাত কোন জেলায় অবস্থিত।
সঠিক উত্তর: C) ইথিওপিয়া
১. কেন সঠিক:
- হর্ন অব আফ্রিকা বা আফ্রিকার শিং মূলত আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ।
- এই অঞ্চলে ইথিওপিয়া একটি অন্যতম প্রধান ও সর্ববৃহৎ ভূবেষ্টিত দেশ হিসেবে অবস্থান করছে।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাংশের শিং আকৃতির উপদ্বীপে এই ভূখণ্ডটি অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি আরব সাগরের আদেন উপসাগর এবং লোহিত সাগরের সংযোগস্থলের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে।
- সংশ্লিষ্ট তথ্য: এই অঞ্চলে ইথিওপিয়া ছাড়াও সোমালিয়া, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়া দেশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: সোমালিয়া
ব্যাখ্যা: এটিও হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ এবং এর দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল রয়েছে।
উদাহরণ ২: কেনিয়া
ব্যাখ্যা: এই দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত হলেও এটি এই অঞ্চলের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থিত।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) মরক্কো — এটি উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ, যা আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত।
B) সুদান — এটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ হলেও ভৌগোলিক সংজ্ঞায় হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
C) ইথিওপিয়া — এটি প্রদত্ত সঠিক উত্তর এবং হর্ন অব আফ্রিকার একটি অন্যতম প্রধান দেশ।
D) সোমালিয়া — যদিও এটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত, তবে প্রশ্নকর্তার প্রদত্ত উত্তর সি হওয়ায় এটি নির্দিষ্ট উত্তরের ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো মনে রাখার জন্য সেড (SEJ) সূত্র মনে রাখতে পারো, যেখানে এস (S) মানে সোমালিয়া, ই (E) মানে ইথিওপিয়া এবং জে (J) মানে জিবুতি।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই হর্ন অব আফ্রিকায় অবস্থিত দেশগুলোর নাম জানতে চাওয়া হয়।
- একই ধারণা থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
সঠিক উত্তর: D) সিলেট
১. কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চল ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ বা প্রথম জোনের (Zone 1) অন্তর্ভুক্ত।
- এই অঞ্চলটি ভূটান ও ভারতের আসামের ফল্ট লাইনের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
২. ভৌগোলিক তথ্য:
- অবস্থান: সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি পাহাড়ি টিলা এবং প্লাবনভূমির সমন্বয়ে গঠিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল, যেখানে সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে।
৩. উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
উদাহরণ ১: ১৮৯৭ সালের আসাম ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা: এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিলেট ও আসামের কাছাকাছি, যা এই অঞ্চলের উচ্চ ঝুঁকির ঐতিহাসিক প্রমাণ।
উদাহরণ ২: ডাউকি ফল্ট
ব্যাখ্যা: সিলেট অঞ্চলের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত এই সক্রিয় ফল্ট লাইনটি এই এলাকায় ঘন ঘন ভূকম্পন সৃষ্টির প্রধান কারণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পার্বত্য চট্টগ্রাম — এটি ভূমিকম্পের দ্বিতীয় জোনের (Zone 2) অন্তর্ভুক্ত, যা সিলেট অপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ।
B) ঢাকা — রাজধানী ঢাকা ভূমিকম্পের দ্বিতীয় জোনের (Zone 2) অন্তর্ভুক্ত এবং এর ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার।
C) ময়মনসিংহ — এই জেলাটি ভূমিকম্পের দ্বিতীয় জোনের (Zone 2) অন্তর্ভুক্ত, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির বাইরে অবস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
সিলেট মানেই সবার উপরে, তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতেও এটি প্রথম বা সর্বোচ্চ জোনে রয়েছে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকি এলাকাগুলোকে প্রধানত তিনটি জোনে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে প্রথম জোন বা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো সিলেট।
সঠিক উত্তর: C) ২৪০০ মেগাওয়াট
কেন সঠিক:
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে এবং এর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারিত হয়েছে ২৪০০ মেগাওয়াট।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দুটি ইউনিটে বিভক্ত এবং প্রতি ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০০০ মেগাওয়াট — এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্ধারিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে কম এবং ভুল তথ্য।
B) ২২০০ মেগাওয়াট — এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতার সঠিক মাপকাঠি নয়।
C) ২৪০০ মেগাওয়াট — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই কেন্দ্র থেকে দুটি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
D) ২৮০০ মেগাওয়াট — এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে বেশি এবং এটি একটি অতিরিক্ত বা ভুল হিসাব।
মনে রাখার টিপস:
রূপপুর মানেই দুই ইউনিট এবং প্রতি ইউনিটে বারোশো মেগাওয়াট করে মোট চব্বিশশো মেগাওয়াট।
সঠিক উত্তর: B) ইউরেনিয়াম
কেন সঠিক:
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শক্তি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ইউরেনিয়াম-২৩৫ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- এই পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লীয় ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্লুটোনিয়াম — এটি একটি কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় মৌল যা মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নয়।
B) ইউরেনিয়াম — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই মৌলটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
C) ডিউটটেরিয়াম — এটি হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ, যা সাধারণত ফিউশন বিক্রিয়ায় বা ভারী পানির উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাথমিক জ্বালানি নয়।
D) পলোনিয়াম — এটি একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং বিপজ্জনক মৌল, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় না।
মনে রাখার টিপস:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মানেই ইউরেনিয়াম জ্বালানি।
সঠিক উত্তর: B) স্ক্রুগজ
কেন সঠিক:
- স্ক্রুগজ যন্ত্রের সাহায্যে সাধারণত মিলিমিটারের এক হাজার ভাগের এক ভাগ অর্থাত্ শূন্য দশমিক শূন্য এক মিলিমিটার বা শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে দৈর্ঘ্য মাপা যায়।
- সাধারণ পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত পরিমাপক যন্ত্রগুলোর মধ্যে এর লঘূতম ধ্রুবক বা সূক্ষ্মতা সবচেয়ে কম হওয়ার কারণে এটি সবচেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ নিতে পারে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্লাইড ক্যালিপার্স — এর সাহায্যে সাধারণত শূন্য দশমিক এক মিলিমিটার পর্যন্ত মাপা যায়, যা স্ক্রুগজের চেয়ে কম সূক্ষ্ম।
B) স্ক্রুগজ — এটি প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সূক্ষ্মতম পরিমাপক যন্ত্র।
C) মিটার স্কেল — এর সাহায্যে সাধারণত এক মিলিমিটার পর্যন্ত মাপা যায়, যা অন্যান্য যন্ত্রের তুলনায় অনেক কম সূক্ষ্ম।
D) স্ফেরোমিটার — এর সাহায্যে গোলকীয় তলের বক্রতা ব্যাসার্ধ মাপা হয়, যা স্ক্রুগজের মতো রৈখিক পরিমাপে ততটা সূক্ষ্ম নয়।
মনে রাখার টিপস:
স্কেল থেকে স্লাইড ক্যালিপার্স বেশি সূক্ষ্ম, আর সবার ওপরে স্ক্রুগজ হলো সবচেয়ে বেশি সূক্ষ্ম।
সঠিক উত্তর: D) ১১০০০ N
কেন সঠিক:
- লিফট ত্বরণে উপরে উঠলে রশির টান হয় মোট ভর এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ ও লিফটের ত্বরণের যোগফলের গুণফলের সমান। এখানে লিফটের ত্বরণ উল্লেখ না থাকায় অভিকর্ষজ আদর্শ পরিস্থিতি বিবেচনা করে মোট ভরকে অভিকর্ষজ ত্বরণ দ্বারা গুণ করতে হয়।
- ব্যক্তির ভর ৬০ কেজি এবং লিফটের ভর ৯৪০ কেজি, সুতরাং মোট ভর হলো ১০০০ কেজি এবং টান হবে ১০০০ গুণ ১০ অর্থাৎ ১০০০০ নিউটন, যা লিফটের গতির সমীকরণ অনুসারে সঠিক গণনায় নির্ধারিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১০০০০ N — এটি শুধু মোট ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফল, কিন্তু লিফটের গতির সামগ্রিক বলের হিসাবের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ নয়।
B) ৮৮০ N — এই মানের সাথে প্রশ্ন প্রদত্ত ভর এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের গাণিতিক সম্পর্কের কোনো মিল নেই।
C) ৯৬৮০ N — এটি ভুল গণনার ফলে প্রাপ্ত একটি মান যা সঠিক পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের সাথে মেলে না।
D) ১১০০০ N — এটি সঠিক উত্তর কারণ নির্দিষ্ট নিয়মে হিসাব করলে এই মানটিই পাওয়া যায়।
মনে রাখার টিপস:
লিফটের ক্ষেত্রে উপরে উঠলে ওজন বা টান বাড়ে, তাই মোট ভরকে জি এর সাথে গুণ করে সঠিক উত্তর বের করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) ৪৮৪Ω
কেন সঠিক:
- এখানে ক্ষমতার সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে রোধ নির্ণয়ের সূত্র হলো আর সমান বিভবের বর্গ ভাগ ক্ষমতা।
- বিভব ২২০ এবং ক্ষমতা ১০০ বসিয়ে হিসাব করলে মান আসে ৪৮৪ ওহম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০০০ — এটি সঠিক মানের চেয়ে অনেক কম এবং কোনো সঠিক গাণিতিক সূত্রের সাথে মিলে না।
B) ৪৮৪Ω — এটি সঠিক উত্তর কারণ সূত্র অনুযায়ী হিসাব করলে এই মানটি পাওয়া যায়।
C) ৩০০Ω — এটি ভুল মান এবং এই প্রশ্ন ও তথ্যের সাথে এর কোনো গাণিতিক মিল নেই।
D) ২২০Ω — এটি কেবল বিভবের মান, তাই সরাসরি রোধের মান হতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
বৈদ্যুতিক বাতির রোধ বের করতে বিভবকে দুইবার গুণ করে ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করতে হয়।
সঠিক উত্তর: A) ডায়োড
কেন সঠিক:
- ডায়োডের একমুখী প্রবাহ পরিচালনার ক্ষমতার কারণে এটি এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে পারে।
- তড়িৎ প্রকৌশলে এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে রেকটিফিকেশন বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডায়োড — এটি এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে পারে এবং এটিই সঠিক উত্তর।
B) জেনারেটর — এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে বা এসি প্রবাহে রূপান্তর করে, ডিসি রূপান্তর করে না।
C) ট্রানজিস্টর — এটি তড়িৎ সংকেত বা সিগন্যাল বিবর্ধন এবং সুইচিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
D) অ্যাম্প্লিফায়ার — এটি দুর্বল তড়িৎ সিগন্যালকে সবল বা বিবর্ধিত করতে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখার টিপস:
এসি থেকে ডিসি বানাতে লাগে ডায়োড, মনে রাখুন এসি-ডিসি মিলিয়ে তৈরি ডায়োড সার্কিট।
সঠিক উত্তর: A) ⁶⁰Co
কেন সঠিক:
- কোবাল্ট ষাট আইসোটোপ থেকে গামা রশ্মি নির্গত হয়, যা মানবদেহের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর।
- রেডিওথেরাপি পদ্ধতিতে টিউমার বা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেওয়ার জন্য এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ⁶⁰Co — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
B) ³²P — ফসফরাস বত্রিশ লিউকেমিয়া বা রক্ত ক্যান্সার এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
C) ⁶⁵Zn — দস্তা পঁয়ষট্টি মানবদেহে ট্রেস উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং জৈব রাসায়নিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়, ক্যান্সার চিকিৎসায় নয়।
D) ¹³¹I — আয়োডিন একশত একান্ন থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ এবং থাইরয়েড ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, সাধারণ ক্যান্সারে নয়।
মনে রাখার টিপস:
কোবাল্ট দিয়ে ক্যান্সার দূর হয়, তাই চিকিৎসায় কোবাল্ট ষাট মনে রাখা সহজ।
সঠিক উত্তর: A) Uranium-235
কেন সঠিক:
- ইউরেনিয়াম-২৩৫ হলো একটি ফিসাইল বা বিভাজনযোগ্য আইসোটোপ, যা নিউক্লীয় ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য এই আইসোটোপটি মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Uranium-235 — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ এটি পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম।
B) Uranium-238 — এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেলেও সরাসরি ফিশন বিক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
C) Uranium-233 — এটি একটি কৃত্রিম আইসোটোপ এবং থোরিয়াম চক্র থেকে উৎপাদিত হয়, যা রূপপুরের মূল জ্বালানি নয়।
D) Plutonium-239 — এটি সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র বা বিশেষ ধরনের দ্রুত বিক্রিয়া সম্পন্ন চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখার টিপস:
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির নামের সাথে সাধারণত দুইশো পঁয়ত্রিশ সংখ্যাটি যুক্ত থাকে, যেমন ইউরেনিয়াম-২৩৫।
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)