সঠিক উত্তর: B) ধর্মপাল
১. কেন সঠিক:
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা হলেন পাল রাজবংশের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল।
- সোমপুর মহাবিহার পাল সাম্রাজ্যের আমলে নির্মিত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষা কেন্দ্র।
২. সাহিত্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা:
- ধর্মপাল ছিলেন বাংলা ও বিহারের পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট যিনি প্রায় আট শতকের শেষ থেকে নয় শতকের শুরুর দিকে রাজত্ব করেন।
- ঐতিহাসিক এই বৌদ্ধ বিহারটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং এটি প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিক্রমশীল বিহার
ব্যাখ্যা: এটিও পাল রাজবংশেরই আরেক বিখ্যাত রাজা ধর্মপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বৌদ্ধ মহাবিহার।
উদাহরণ ২: ওদন্তপুর বিহার
ব্যাখ্যা: পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এই বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহারটি স্থাপন করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গোপাল — গোপাল ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা, তবে তিনি সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা নন।
B) ধর্মপাল — এই অপশনটি সঠিক এবং পরীক্ষিত ঐতিহাসিক সত্য।
C) মহীপাল — প্রথম মহীপাল পাল সাম্রাজ্যের শাসন পুনরুদ্ধার করলেও তিনি সোমপুর বিহার নির্মাণ করেননি।
D) বিগ্রহপাল — বিগ্রহপাল পাল বংশের একজন দুর্বল শাসক ছিলেন এবং তিনি এই বিহার স্থাপন করেননি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পাহাড়পুর বিহার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে রাজা ধর্মপালের নাম মনে রাখতে ধর্ম ও ভূমির সংযোগ সূত্র মাথায় রাখতে পারো।
- ধর্মপাল মানে ধর্মের বিস্তার, আর তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে পাহাড়পুর ও বিক্রমশীল বিহার নির্মাণ করেছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাল রাজাদের গড়া কীর্তি নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- সোমপুর বিহার এবং বিক্রমশীল বিহার দুটিই রাজা ধর্মপালের কীর্তি, যা একনজরে মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ভারতের চুরুলিয়া
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরে ভুল রয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর সমাধি ভারতের চুরুলিয়ায় নয়, বরং তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের চুরুলিয়ায় মৃত্যুবরণ করেননি। প্রমীলা দেবীর সমাধি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়ায় নয়, বরং কবিকে সমাহিত করা হয়েছিল বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে এবং তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীকে সমাহিত করা হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়াতেই। তবে প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরে সামান্য বিভ্রান্তি থাকতে পারে, কেননা প্রমীলা দেবীকে মৃত্যুর পর চুরুলিয়াতেই সমাহিত করা হয়েছিল।
- প্রশ্নটিতে প্রমীলা দেবীর অন্তিম শয্যা বা সমাধিস্থল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে, যা তাঁর জন্মস্থান ও পৈতৃক নিবাস ভারতের চুরুলিয়ায় অবস্থিত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সহধর্মিণী প্রমীলা দেবী ১৯০৮ সালের জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
- প্রমীলা দেবীর আদি নাম আশালতা সেনগুপ্তা, তবে নজরুল ভালোবেসে তাঁর নাম রাখেন প্রমীলা।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সৃষ্টি যা কবিকে বিদ্রোহী কবির খ্যাতি এনে দেয়।
উদাহরণ ২: কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
ব্যাখ্যা: এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যা বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঢাকা — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সমাহিত করা হলেও তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীকে এখানে সমাহিত করা হয়নি।
B) কুমিল্লা — প্রমীলা দেবীর জীবনের একটি বড় অংশ কুমিল্লার দুল্লা গ্রামে কাটলেও তাঁর সমাধি সেখানে অবস্থিত নয়।
C) মানিকগঞ্জ — মানিকগঞ্জের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম বা তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীর সমাধির কোনো ঐতিহাসিক সংযোগ নেই।
D) ভারতের চুরুলিয়া — প্রমীলা দেবীকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামেই সমাহিত করা হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জাতীয় কবির সমাধি ঢাকায় হলেও তাঁর স্ত্রী প্রমীলার সমাধি তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত ভারতের চুরুলিয়া গ্রামে অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাহিত্যিকদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের সমাধিস্থল বা জন্মস্থান প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- বিদ্রোহী কবির জীবন ও পরিবার সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে তাঁর জীবনী পাঠ করা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: A) ৬ (ছয়) প্রকার
১. কেন সঠিক:
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। বাংলা ব্যাকরণে এই সম্পর্ক বা কারক প্রধানত ছয় প্রকার।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় ভাগে বিভক্ত যথা কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদানকারক, অপাদানকারক এবং অধিকরণকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত থাকলে কর্তৃকারক এবং কী বা কাাকে যুক্ত থাকলে কর্মকারক হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গাছে ফুল ফুটেছে।
ব্যাখ্যা: এখানে কোথায় ফুটেছে প্রশ্নের উত্তরে অধিকরণ কারক বোঝানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: জেলে মাছ ধরে।
ব্যাখ্যা: এখানে কে ধরে প্রশ্নের উত্তরে কর্তৃকারক এবং কী ধরে প্রশ্নের উত্তরে কর্মকারক পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৬ (ছয়) প্রকার — এটি সঠিক উত্তর কারণ কারকের নির্ধারিত সংখ্যা ছয়টি।
B) ৫ (পাঁচ) প্রকার — এই সংখ্যাটি ভুল কারণ বাংলা ব্যাকরণে কারক পাঁচ প্রকার নয়।
C) ৩ (তিন) প্রকার — এই সংখ্যাটি ভুল কারণ কারক তিন প্রকার হতে পারে না।
D) ৭ (সাত) প্রকার — এই সংখ্যাটি ভুল কারণ বিভক্তি সাত প্রকার হলেও কারক ছয় প্রকার।
৫ মনে রাখার টিপস:
কারকের প্রকারভেদ মনে রাখার জন্য বাক্যটি মনে রাখতে পারো বাক্যে নামপদের ছয়টি সম্পর্কই কারক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কারকের সংখ্যা নিয়ে প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করার সময় ক্রিয়াপদকে প্রশ্ন করে সঠিক কারক নির্ধারণ করতে হয়। বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই টপিক থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: A) তাম্র
কেন সঠিক:
১. এই সভ্যতায় মানুষ প্রথম পাথরের পাশাপাশি তামা ও ব্রোঞ্জের ব্যবহার শুরু করেছিল।
২. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে প্রচুর পরিমাণে তামার তৈরি অস্ত্র ও বাসনপত্র পাওয়া গেছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে মানব সভ্যতার বিকাশকে প্রধানত পাথরের যুগ ও ধাতুর যুগ হিসেবে ভাগ করা হয়।
২. সিন্ধু সভ্যতা মেসোপটেমিয়া ও মিশরীয় সভ্যতার সমসাময়িক এবং এটি ব্রোঞ্জ বা তাম্র যুগের অন্তর্ভুক্ত।
৩. যেমন, এই সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো শহরে তামা ও টিনের সংকর ধাতু ব্যবহারের প্রমাণ মেলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তাম্র — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয় এবং এর কোনো ভুল নেই।
B) আর্য — আর্যরা পরবর্তীতে ভারতে আসে এবং তাদের সময়কাল বৈদিক যুগ নামে পরিচিত।
C) সুমেরীয় — সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ায় গড়ে উঠেছিল, যা সিন্ধু সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
D) শহরভিত্তিক — সিন্ধু সভ্যতা শহরভিত্তিক হলেও এটি মূলত তাম্র বা ধাতু যুগের একটি সভ্যতা হিসেবে চিহ্নিত।
মনে রাখার টিপস:
১. সিন্ধু মানেই ধাতু এবং এই সভ্যতায় লোহার ব্যবহার জানা ছিল না, তাই এটি তাম্র যুগ।
২. তামার সাথে টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি হতো বলে একে ব্রোঞ্জ বা তাম্র যুগ বলা হয়।
সঠিক উত্তর: B) নক্সী কাঁথার মাঠ
১. কেন সঠিক:
- 'রূপাই' চরিত্রটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থের অন্যতম প্রধান এবং প্রাণকেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র।
- এই কাব্যে রূপাইকে একজন গ্রামীণ যুবক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যার সাথে সাজুর গভীর প্রেম ও গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখের চিত্র ফুটে ওঠে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীন আধুনিক বাংলা কবিতার ধারায় পল্লীপ্রকৃতির রূপ ও মানুষের জীবন অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি দীর্ঘ গীতি কবিতা বা কাহিনী কাব্য, যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর লোকায়ত সুর একে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সাজু
ব্যাখ্যা: সাজু হলো 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নারী চরিত্র এবং রূপাইয়ের স্ত্রী।
উদাহরণ ২: হাসু
ব্যাখ্যা: হাসু হলো জসীমউদ্দীনের আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'-এর একটি চরিত্র।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সোজন বাদিয়ার ঘাট — এটি জসীমউদ্দীনের আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলেও এর প্রধান চরিত্র সোজন ও দুলুদি, রূপাই নয়।
B) নক্সী কাঁথার মাঠ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়, কারণ রূপাই এই কাব্যগ্রন্থেরই চরিত্র।
C) রাখালী — এটি জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে এবং এতে কোনো রূপাই চরিত্র নেই।
D) বালুচর — এটি জসীমউদ্দীনের একটি বিশিষ্ট কাব্যগ্রন্থ যা ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়, তবে এতে রূপাই চরিত্রটি অনুপস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- জসীমউদ্দীনের পল্লীগীতির মতো প্রেম ও বেদনার কাহিনী মনে রাখতে রূপাই ও সাজুর নাম 'নক্সী কাঁথার মাঠ'-এর সাথে মনে রাখবে।
- রাখালী হলো কবির প্রথম কাব্য, যা দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- কবি জসীমউদ্দীনের শ্রেষ্ঠ দুটি কাহিনী কাব্য হলো 'নক্সী কাঁথার মাঠ' এবং 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'।
সঠিক উত্তর: C) সূর্য
১. কেন সঠিক:
- 'ভানু' একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ যার মূল অর্থ হলো সূর্য বা দিবাকর।
- বাংলা সাহিত্যে এবং প্রাচীন অভিধানে সূর্য অর্থে এই শব্দের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- 'ভানু' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দের মধ্যে রয়েছে রবি, তপন, ভাস্কর ও মার্তণ্ড।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভানুমতি
ব্যাখ্যা: ভানুমতি শব্দটি ভানু শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর অর্থ সূর্যের দীপ্তি বা প্রভা।
উদাহরণ ২: ভানুসিংহ
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভানুসিংহ ঠাকুরে ভণিতা দিয়ে পদ রচনা করতেন যেখানে ভানু অর্থ সূর্য বা রবি বোঝানো হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ধোকা — ধোকা বা প্রবঞ্চনা অর্থে ভানু শব্দটি ব্যবহৃত হয় না।
B) নক্ষত্র — নক্ষত্র হলো আকাশের মিটমিটে তারা যার সঙ্গে ভানুর অর্থ মেলে না।
D) চন্দ্র — চন্দ্র হলো চাঁদ, যা সূর্যের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকনাম বা সাহিত্যিক নাম ভানুসিংহ মনে রাখলে ভানু অর্থ সূর্য বা রবি সহজে মনে থাকবে।
- রবি ও ভানু সমার্থক শব্দ হিসেবে একই ধারণায় রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমার্থক শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- তৎসম শব্দের অর্থ ও উৎস ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এই ধরনের শব্দার্থ সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) পাঁচ
কেন সঠিক:
উৎস বা ঐতিহাসিক বিকাশ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে মূলত পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে বাংলা শব্দভাণ্ডারের সঠিক উৎস নির্দেশ করতে এই পাঁচটি ভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
উৎস বা উৎপত্তি অনুযায়ী বাংলা শব্দগুলোকে তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়।
বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারের ক্রমবিকাশ এবং রূপান্তরের ইতিহাস বোঝাতে এই শ্রেণিবিভাগটি ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় চন্দ্র তৎসম শব্দ, চাঁদ তদ্ভব শব্দ এবং কুড়ি দেশি শব্দ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তিন — উৎস বা উৎপত্তি অনুসারে শব্দের শ্রেণি কখনো তিনটি হতে পারে না কারণ দেশি ও বিদেশি শব্দ বাদ পড়ে যাবে।
B) দুই — এই সংখ্যাটি বাংলা শব্দের উৎসের ক্ষেত্রে সঠিক নয় কারণ মূল ভাষা এবং আগত ভাষাগুলোকে অন্তত পাঁচটি ভাগে দেখা যায়।
C) পাঁচ — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই কারণ এটি নির্দেশ করে পাঁচটি প্রধান উৎস।
D) চার — চারটি ভাগ ধরলে তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের মধ্যে যেকোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাদ পড়ে যায়।
মনে রাখার টিপস:
পাঁচটি উৎস মনে রাখার জন্য 'ত অ ত দে বে' এই কৌশলটি মনে রাখতে পারো যেখানে ত তে তৎসম, অ তে অর্ধতৎসম, ত তে তদ্ভব, দে তে দেশি এবং বে তে বিদেশি বোঝায়।
উৎস শব্দের সাথে পাঁচ সংখ্যাটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত কারণ ভাষার মূল উৎস বিশ্লেষণ করতে এই পাঁচটি ধারা অপরিহার্য।
সঠিক উত্তর: C) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
১. কেন সঠিক:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির গীতিকার বা রচয়িতা সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই গানটি বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতীক।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির পরপরই আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে এই গানটির কথা লেখেন।
- শুরুতে এর সুরকার ছিলেন আব্দুল লতিফ, তবে পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গাওয়া বর্তমান রূপটিই সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: 'মোরা একটি নদী ট্রানজিট পার হয়ে'
ব্যাখ্যা: এটিও ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বিখ্যাত গান, যা এই ধারার গানের ঐতিহ্য বহন করে।
উদাহরণ ২: 'একুশে ফেব্রুয়ারি মানে মাথা না নোয়াবার দিন'
ব্যাখ্যা: এটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত আরেকটি জনপ্রিয় কবিতা, যা একুশের চেতনাকে ধারণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সৈয়দ শামসুল হক — তিনি একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক হলেও এই বিখ্যাত গানটির রচয়িতা নন।
B) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান — তিনি বিশিষ্ট গীতিকার ও অধ্যাপক হলেও এই গানটির সঙ্গে যুক্ত নন।
C) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী — এটি সঠিক উত্তর, তাই কোনো ভুল নেই।
D) আবদুল লতিফ — তিনি এই গানের প্রথম সুরকার ছিলেন, তবে গানটির মূল রচয়িতা বা গীতিকার নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একুশের বিখ্যাত গানটির কথা লিখেছিলেন গাফ্ফার চৌধুরী আর সুর দিয়েছিলেন আলতাফ মাহমুদ।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে চৌধুরী সাহেব কথা লিখেছেন আর মাহমুদ সাহেব সুর দিয়েছেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিখ্যাত গান, কবিতা ও উপন্যাসের রচয়িতা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্মগুলো আলাদা করে নোট করে পড়া উচিত।
সঠিক উত্তর: D) আবগারী শুল্ক
১. কেন সঠিক:
- 'Excise duty' একটি সুপরিচিত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পারিভাষিক শব্দ।
- এর সঠিক বাংলা অর্থ হলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত পণ্যের ওপর ধার্য করা কর বা আবগারী শুল্ক।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন প্রশাসনিক, আইনি ও অর্থনৈতিক ইংরেজি শব্দের সঠিক বাংলা পারিভাষিক রূপ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়।
- এ ধরনের শব্দ মুখস্থ করার পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগ ও ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা রাখা আবশ্যক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: Customs duty
ব্যাখ্যা: এর সঠিক বাংলা পারিভাষিক রূপ হলো শুল্ক বা কাস্টমস ডিউটি যা আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ধার্য করা হয়।
উদাহরণ ২: Income tax
ব্যাখ্যা: এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো আয়কর যা কোনো ব্যক্তির আয়ের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে ধার্য করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অতিরিক্ত কর — এই শব্দটি Excise duty শব্দের নির্দিষ্ট ও প্রমিত পারিভাষিক রূপ নয়। এটি সাধারণ অর্থে অতিরিক্ত যেকোনো করকে বোঝাতে পারে।
B) অর্পিত দায়িত্ব — এই শব্দগুচ্ছটি Assigned duty বা Delegated duty-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
C) অতিরিক্ত কাজ — এই কথাটি Extra work বা Additional work-এর বাংলা অর্থ প্রকাশ করে যা কোনো কর নয়।
D) আবগারী শুল্ক — এটিই একমাত্র সঠিক ও প্রমিত পারিভাষিক শব্দ যা Excise duty-এর জন্য নির্ধারিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- Excise শব্দটির সাথে উৎপাদনের বা স্থানীয় শুল্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- শুল্ক সংক্রান্ত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে কাস্টমস এবং আবগারীর পার্থক্য মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পারিভাষিক শব্দ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- বিগত বছরের বিভিন্ন পরীক্ষার পারিভাষিক শব্দগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে নিয়মিত চর্চা করলে ভালো করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) গুজরাটি
১. কেন সঠিক:
- 'হরতাল' শব্দটি গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- এই শব্দটি মূলত ভারতের গুজরাট অঞ্চলে আন্দোলন বা কর্মবিরতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষা বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ ধার করে সমৃদ্ধ হয়েছে।
- বিদেশি শব্দের উৎস অনুযায়ী 'হরতাল' একটি গুজরাটি শব্দ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: খদ্দর
ব্যাখ্যা: এটিও একটি গুজরাটি ভাষার শব্দ যা বাংলায় বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ঘাগরা
ব্যাখ্যা: পোশাক অর্থে ব্যবহৃত এই শব্দটিও গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাংলা — এটি দেশীয় বা মৌলিক বাংলা শব্দ নয়, কারণ এর উৎস বিদেশি ভাষা।
B) আসামী (অসমিয়া) — এটি অসমিয়া ভাষার শব্দ নয়, যদিও এটি ভারতের একটি আঞ্চলিক ভাষা থেকে এসেছে।
D) জাপানি — রিকশা বা সুনামি জাপানি শব্দ হলেওরতাল জাপানি শব্দ নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- গুজরাটি ভাষার প্রধান দুটি পরিচিত শব্দ মনে রাখতে পারো হরতাল ও খদ্দর।
- আন্দোলন বোঝাতে যে 'হরতাল' করা হয়, তা এসেছে গুজরাট থেকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দের উৎস প্রায়ই আসে।
- বিভিন্ন ভাষার নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আলাদা করে তালিকা করে পড়লে সহজে উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: খ) প্রমথ চৌধুরী
কেন সঠিক:
১. বাংলা সাহিত্যের প্রমথ চৌধুরী বীরবল ছদ্মনামে বিভিন্ন মননশীল প্রবন্ধ ও রম্যরচনা লিখেছেন।
২. তাঁর সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় তিনি এই ছদ্মনামে অনেক প্রাবন্ধিক লেখা প্রকাশ করেছিলেন।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. বাংলা সাহিত্যে ছদ্মনাম ব্যবহার করার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এবং লেখকরা অনেক সময় ভিন্ন পরিচয়ে লিখতে পছন্দ করতেন।
২. প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতি প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং বীরবল ছদ্মনামে তিনি বিখ্যাত হন।
৩. তাঁর এই ছদ্মনামে প্রকাশিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলনের মধ্যে বীরবলের হালখাতা অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য বই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় — এই লেখকের বিখ্যাত ছদ্মনাম ছিল সনাতন পাঠক এবং নীললোহিত।
খ) প্রমথ চৌধুরী — এই অপশনটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
গ) শামসুর রাহমান — এই বিখ্যাত কবির কোনো উল্লেখযোগ্য প্রচলিত ছদ্মনাম ছিল না।
ঘ) অন্নদাশংকর রায় — এই লেখকের জনপ্রিয় ছদ্মনাম ছিল লীলামময় রায়।
মনে রাখার টিপস:
প্রমথ চৌধুরীর নামের সাথে বীরবল নামটি মনে রাখার জন্য বীরবলের হালখাতা বইটি বারবার পড়তে পারো।
বাংলা সাহিত্যে চলতি রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী বীরবল ছদ্মনামে লিখতেন কথাটি এভাবে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: C) রূপসী বাংলা
১. কেন সঠিক:
- রূপসী বাংলা আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের একটি অমর কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে বাংলার প্রকৃতি, রূপ, সৌন্দর্য এবং নিসর্গচেতনা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যে রূপসী বাংলার কবি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি আধুনিকতার এক অনন্য প্রতিকৃ্তি।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ঝরাপল্লক, ধূসর পান্ডুলিপি, বেলা অবেলা কালবেলা এবং বনলতা সেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বনলতা সেন
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের অন্যতম বিখ্যাত ও বহুল পঠিত একটি কাব্যগ্রন্থ এবং কবিতা।
উদাহরণ ২: মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা: এটিও কবি জীবনানন্দ দাশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গভীর ভাবসমৃদ্ধ কাব্যগ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কচক্রবাক — এটি জীবনানন্দ দাশের কোনো মৌলিক বা বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ নয়, বরং এটি একটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর অপশন।
B) এক পয়সার বাঁশি — এটি কবি ও প্রাবন্ধিক বিনয় মজুমদারের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, জীবনানন্দ দাশের নয়।
C) রূপসী বাংলা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি জীবনানন্দ দাশের রচনা হিসেবে শতভাগ নির্ভুল।
D) কঙ্কাবতী — এটি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সম্পাদক স্বয়ংপ্রণোদিত ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
৫ মনে রাখার টিপস:
জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিভিত্তিক রচনা মনে রাখতে রূপসী বাংলা নামটি সবার আগে মাথায় রাখবে।
তাঁর বিখ্যাত সব কাব্যের নাম মনে রাখার জন্য নামের তালিকাটি নিয়মিত একবার করে চোখ বুলিয়ে নেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জীবনানন্দ দাশকে রূপসী বাংলার কবি বলা হয় এবং তাঁর অধিকাংশ কবিতায় বাংলার নিসর্গ রূপ ফুটে ওঠে।
বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাঁর কাব্যগ্রন্থের নাম থেকে প্রায়শই প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: B) সামাজিক প্রহসন
১. কেন সঠিক:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'একেই কি বলে সভ্যতা' একটি সামাজিক প্রহসন। উনিশ শতকের বাংলার নব্য বাবু সমাজের অবক্ষয়, মদ্যপান ও নৈতিক পতন এর মূল বিষয়বস্তু।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নাটকের ধারায় প্রহসন ও ট্রাজেডি ঘরানার প্রবক্তা। এই নাটকে তিনি সমাজের তৎকালীন অসংগতি ও যুবসমাজের অবক্ষয় অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা: এটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক প্রহসন।
উদাহরণ ২: একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা: এই প্রহসনের মাধ্যমে মধুসূদন দত্ত তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধানুকরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কমেডি — কমেডি হলো সাধারণ হাস্যরসাত্মক নাটক, যা প্রহসনের মতো তীব্র সামাজিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ উপস্থাপন করে না।
B) সামাজিক প্রহসন — এই অপশনটি সঠিক এবং নাটকের মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
C) ট্রাজেডি — ট্রাজেডিতে নাটকের নায়কের পতন বা করুণ পরিণতি দেখানো হয়, যা প্রহসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
D) মেলোড্রামা — মেলোড্রামাতে অতিরিক্ত আবেগ ও চমকপ্রদ ঘটনা থাকে, যা এই নাটকের ঘরানার সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন দুটি মনে রাখার কৌশল হলো মধুসূদন তার জীবনে দুটি প্রহসন লিখেছেন, যার একটি বাবু সমাজের সভ্যতা নিয়ে এবং অন্যটি বয়স্ক মানুষের কুপ্রবৃত্তি নিয়ে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক ও প্রহসনের নাম আলাদা করতে বলা হয়। তার প্রহসন দুটি হলো একেই কি বলে সভ্যতা এবং বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
সঠিক উত্তর: C) ওষধি
কেন সঠিক:
- যে উদ্ভিদ বা গাছ ফল পাকলে মারা যায়, তাকে ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী ওষধি বলা হয়।
- বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী এই অর্থে হ্রস্বইকারযুক্ত ওষধি শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদবাচক শব্দ।
- গাছপালা ও প্রকৃতির বিভিন্ন অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বাংলা ভাষায় এরকম বিশেষ শব্দ তৈরি হয়েছে।
- যেমন ধান, গম, বিভিন্ন শাকসবজি জাতীয় উদ্ভিদ ফল ধরার পর মরে যায়, তাই এগুলো ওষধি উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) ঔষধি — এই বানানটি মূলত ঔষদ গাছের চিকিৎসাগত গুণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ভুল রূপ।
- B) বনস্পতি — যে সকল বিশাল গাছের ফলফুল সচরাচর দেখা যায় না কিন্তু গাছগুলো অনেক বড় হয়, তাদের বনস্পতি বলে।
- C) ওষধি — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি এখানে প্রযোজ্য নয়।
- D) নিসর্গ — প্রকৃতি বা পরিবেশকে এককথায় নিসর্গ বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট গাছকে নয়।
মনে রাখার টিপস:
- ফল পাকলে মরে যায় এমন ছোট গাছ বা উদ্ভিদ বোঝাতে সবসময় হ্রস্বইকারযুক্ত ওষধি শব্দটি মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) মারা যাওয়া
১. কেন সঠিক:
- 'পটল তোলা' একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থ পটল সবজি খেত থেকে সংগ্রহ করা হলেও এর ভাবার্থ সম্পূর্ণ আলাদা।
- বাংলা ভাষায় বিশেষ এই প্রয়োগে মানুষ বা জীবের মৃত্যুকে অত্যন্ত রূপক অর্থে পটল তোলা বলা হয়।
২. ব্যাকরণ বা সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দ বা বাক্যাংশ যা তাদের সাধারণ বা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও প্রচ্ছন্ন ভাব প্রকাশ করে।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বাগধারা ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং ভাবকে সংক্ষেপে ও আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশ করতে সহায়তা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বৃদ্ধ লোকটি অবশেষে পটল তুললেন।
ব্যাখ্যা: এখানে পটল তোলা বলতে বৃদ্ধ ব্যক্তির মারা যাওয়া বা জীবনাবসান ঘটার কথা বোঝানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: রহিম সাহেবের গাড়িটি গতকাল দুর্ঘটনায় পড়ে পটল তুলেছে।
ব্যাখ্যা: রূপক অর্থে কখনো কখনো সচল কোনো যন্ত্র বা বস্তুর স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া বোঝাতেও এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পটল গাছ থেকে পটল তোলা — এটি কোনো বাগধারা নয়, বরং পটল সবজি তোলার সাধারণ আক্ষরিক কাজকে বোঝায়।
B) পটল খাওয়া — এটি পটল তোলার কোনো সমার্থক বাগধারা বা প্রচলিত অর্থ নয়।
D) ফেল করা — পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বোঝাতে ফেল করা বলা হয়, মারা যাওয়া বোঝাতে নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কোনো ব্যক্তি মারা গেলে যেমন তাকে আর জীবিত করা যায় না, তেমনি পটল গাছ থেকেও একবার পটল তুলে ফেললে তা আর গাছে ফিরে যায় না।
- এই মিল থেকেই পটল তোলা মানে মারা যাওয়া, এই কথাটি সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জীবনাবসান বা মৃত্যু বোঝাতে বেশ কিছু বাগধারা আসে, যেমন— অক্কা পাওয়া, অনন্তধামে গমন, পটল তোলা ইত্যাদি।
- পরীক্ষার হলে বাগধারার আক্ষরিক অর্থ দাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সর্বদা এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বা প্রবচনের অর্থ খুঁজে বের করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন-B
১. কেন সঠিক:
ভিটামিন বি হলো জলে দ্রবণীয় ভিটামিন যা মানবদেহে জমা থাকে না এবং অতিরিক্ত অংশ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
এই ভিটামিনগুলো আমাদের শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণ বিজ্ঞান থেকে এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পুষ্টিবিজ্ঞান সম্পর্কিত মৌলিক ধারণাকে যাচাই করে।
ভিটামিন প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত, যথা জলে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা: এটিও ভিটামিন বি এর মতো জলে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন যা মানবদেহে সংরক্ষণ করা যায় না।
উদাহরণ ২: ফলিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা: এটি ভিটামিন বি জটিল গ্রুপের একটি অংশ যা জলে দ্রবণীয় এবং রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন-A — এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, জলে দ্রবণীয় নয়।
B) ভিটামিন-E — এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, জলে দ্রবণীয় নয়।
C) ভিটামিন-B — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি জলে দ্রবণীয়।
D) ভিটামিন-D — এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, জলে দ্রবণীয় নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো মনে রাখার সহজ ছন্দ হলো বি এবং সি জলে ভাসে, বাকিগুলো চর্বিতে মেশে।
অর্থাৎ ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি জলে দ্রবণীয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই ভিটামিন কোন মাধ্যমে দ্রবণীয় তা জানতে চাওয়া হয়।
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে।
সঠিক উত্তর: D) একুশ
১. কেন সঠিক:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ মূলত বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত দেশি উপসর্গ। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের উপসর্গ বলে। বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার, যথা খাঁটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনা বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি।
ব্যাখ্যা: এখানে খাঁটি বাংলা উপসর্গ অনা যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করেছে।
উদাহরণ ২: পাতি হাঁস = পাতিহাঁস।
ব্যাখ্যা: এখানে খাঁটি বাংলা উপসর্গ পাতি যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আঠারো — এটি কোনো সঠিক সংখ্যা নির্দেশ করছে না কারণ বাংলা ব্যাকরণে খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা আঠারোটি নয়।
B) উনিশ — এটি ভুল তথ্য বহন করে কারণ বাংলা ব্যাকরণে খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা উনিশটি হিসেবে ধরা হয় না।
C) বিশ — এই সংখ্যাটি বাংলা ব্যাকরণের নির্ধারিত একুশটি খাঁটি বাংলা উপসর্গের নিয়মের সঙ্গে মিলছে না।
D) একুশ — এটি সঠিক সংখ্যা নির্দেশ করে কারণ প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি রয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
খাঁটি বাংলা উপসর্গের মোট সংখ্যা মনে রাখার জন্য এই ছড়াটি পড়তে পারো: সু-বি-নি-আ-পা-তে আ-আবা-ইতি-অনা-অঘা-উজ-পাতি-হা-হিস-রাম-সা-সুব-সাজে একুশটি উপসর্গ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় খাঁটি বাংলা ও তৎসম উপসর্গের সংখ্যা প্রায়ই কনফিউজড করে। মনে রাখবে খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি এবং তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ কুড়িটি।
সঠিক উত্তর: A) অগ্নিবীণা
১. কেন সঠিক:
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নয়, এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবি ও তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ নিয়ে প্রায়ই এমন প্রশ্ন আসে, তাই রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রধান গ্রন্থগুলো আলাদা করা জরুরি।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২৯ সনের কার্তিক মাসে (১৯২২ খ্রিস্টাব্দ)।
- এই কাব্যগ্রন্থে বিদ্রোহী, প্রলয়োল্লাস, কামাল পাশা ও বিদায় হিয়ার মতো বিখ্যাত কবিতাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত সংকলিত কবিতা গ্রন্থ, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
উদাহরণ ২: বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা: এটিও কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী কাব্যগ্রন্থ, যা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অগ্নিবীণা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নয়, বরং কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
B) চিত্রা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
C) সোনার তরী — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
D) বলাকা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- নজরুল মানেই অগ্নিবীণা, বিদ্রোহী ও ধূমকেতু আর রবীন্দ্রনাথ মানেই সোনার তরী, চিত্রা ও বলাকা।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ মনে রাখার জন্য নজরুলের অগ্নিবীণা নামটি বিশেষভাবে মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ কোনটি, তা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- কবিদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশের সালগুলো আলাদা করে নোট করে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: C) চন্দ্রকুমার দে
১. কেন সঠিক:
'মৈমনসিংহ গীতিকা' বাংলা লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ যা সংকলনের পেছনে মূল মাঠপর্যায়ের কাজ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
দীনেশচন্দ্র সেন সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে-র সংগ্রহ করা গীতিগুলো সম্পাদন ও প্রকাশ করেছিলেন বলে অনেকেই দীনেশচন্দ্র সেনকে সংগ্রাহক মনে করেন, কিন্তু মূল মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মৈমনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকসংগীত ও গাথা বা ballads এর একটি সংকলন।
এই গ্রন্থটি প্রথম ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ইংরেজিতে এবং পরবর্তীতে বাংলায় প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা: এটি মৈমনসিংহ গীতিকার সবচেয়ে বিখ্যাত একটি পালা যার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
উদাহরণ ২: মলুয়া পালা
ব্যাখ্যা: এটিও মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় একটি ট্রেজিক লোকগাথা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আশুতোষ ভট্টাচার্য — তিনি বাংলার লোকসাহিত্য নিয়ে অনেক গবেষণা ও গ্রন্থ রচনা করলেও মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক নন।
B) দীনেশচন্দ্র সেন — তিনি মৈমনসিংহ গীতিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন, কিন্তু সরাসরি মাঠপর্যায়ের মূল সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে।
D) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র — তিনি বাংলা রূপকথা সংগ্রহ ও রচনার জন্য বিখ্যাত, যেমন ঠাকুমার ঝুলি, কিন্তু মৈমনসিংহ গীতিকার সঙ্গে যুক্ত নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাটি থেকে গান সংগ্রহ করে যিনি দে (দিয়েছেন), তিনি হলেন চন্দ্রকুমার দে।
এই কৌশলটি মনে রাখলে সংগ্রাহক ও সম্পাদকের মধ্যে আর কোনো বিভ্রান্তি হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে এবং সম্পাদক দীনেশচন্দ্র সেন সংক্রান্ত প্রশ্ন কনফিউজ করার জন্য দেওয়া হয়।
উভয়ের ভূমিকা আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে যাতে পরীক্ষায় ভুল না হয়।
সঠিক উত্তর: D) কবর
১. কেন সঠিক:
- কবর নাটকটি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক।
- ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে নাটকটি রচিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কবর নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
- তিনি কারাগারে বন্দि থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে নাটকটি রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জেলখানার ভেতরেই নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা: জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
উদাহরণ ২: আর্তনাদ
ব্যাখ্যা: শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত একটি বিশিষ্ট উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নুরুলদীনের সারা জীবন - এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কাব্যনাট্য যার পটভূমি কৃষক বিদ্রোহ।
B) ক্রীতদাসের হাসি - এটি শওকত ওসমান রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস যার পটভূমি আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ও বাকস্বাধীনতা হরণ।
C) ওরা কদম আলী - এটি মামুনুর রশীদ রচিত একটি প্রতিবাদী ও সমাজসচেতন নাটক যার পটভূমি বঞ্চিত মানুষের জীবন সংগ্রাম।
D) কবর - এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভাষা আন্দোলন মানেই মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটি মনে রাখতে হবে।
- কারাগار বন্দि অবস্থায় রচিত এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্যকর্ম হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কবর নাটকটি মুনীর চৌধুরী রচিত এবং এটি বাংলা সাহিত্যে ভাষা আন্দোলনের প্রথম নাটক।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস, নাটক ও কাব্যগ্রন্থের নাম আলাদা করতে বলা হয়।
সঠিক উত্তর: D) কর্মধারয়
১. কেন সঠিক:
- কর্মধারয় সমাসে বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলনে নতুন পদ গঠিত হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এখানে জজ সাহেব বলতে এমন একজন সাহেবকে বোঝানো হচ্ছে যিনি একই সঙ্গে জজ পদে আসীন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয় এবং পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- জজ সাহেব কথাটির ব্যাসবাক্য হলো যিনি জজ তিনিই সাহেব, যা মধ্যপদলপী কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হেডমাস্টার
ব্যাখ্যা: যিনি হেড তিনিই মাস্টার, এটি কর্মধারয় সমাসের একটি পরিচিত উদাহরণ।
উদাহরণ ২: জজসাহেব
ব্যাখ্যা: যিনি জজ তিনিই সাহেব, এটি কর্মধারয় সমাসের নিয়মে গঠিত বিশেষ শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দ্বিগু — দ্বিগু সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায় কিন্তু এখানে কোনো সমষ্টি বা সংখ্যা বোঝানো হয়নি।
B) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে কিন্তু এখানে পরপদের অর্থ প্রধান।
C) বহুব্রীহি — বহুব্রীহি সমাসে পদগুলোর বাইরে অন্য কোনো নতুন অর্থ প্রকাশ পায় কিন্তু এখানে তা নেই।
D) কর্মধারয় — এটি সঠিক অপশন কারণ এখানে বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলন ঘটেছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- যিনি তিনি দিয়ে ব্যাসবাক্য করলে সাধারণত কর্মধারয় সমাস হয়।
- উপাধি বা পদবাচক বিশেষণের সঙ্গে সাধারণ বিশেষ্য যুক্ত হলে কর্মধারয় সমাস হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়।
সঠিক উত্তর: A) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
কেন সঠিক:
- ফা হিয়েন ছিলেন একজন বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক যিনি বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতে আসেন।
- তিনি গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে ভারত ও বাংলা অঞ্চল সফর করেন।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সাহিত্য বিষয়ক একটি সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন।
- প্রাচীন যুগে বহু বিদেশি পর্যটক জ্ঞান অন্বেষণ ও ধর্ম প্রচারের জন্য বাংলায় এসেছিলেন।
- ফা হিয়েনের ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
- B) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ — ইনি মধ্যযুগের একজন স্বাধীন সুলতান ছিলেন, তাই এই অপশনটি ভুল।
- C) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত — ইনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম দিকে শাসন করতেন যখন ফা হিয়েন আসেননি।
- D) হর্ষবর্ধন — ইনি পরবর্তী যুগের একজন সম্রাট ছিলেন, যার আমলে হিউয়েন সাং এসেছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময় মেগাস্থিনিস, আর দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ফা হিয়েন ভারতে আসেন।
সঠিক উত্তর: A) প্রাতিপদিক
১. কেন সঠিক:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। এটি মূলত শব্দের মূল রূপ যার সাথে কোনো কারক বা বিভক্তি যুক্ত থাকে না।
- ব্যাকরণের ভাষায় প্রাতিপদিককে শব্দের মূল বা নামশব্দের মূল বলা হয় যা থেকে পরবর্তীতে বিভক্তি যুক্ত হয়ে পদ গঠিত হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- প্রাতিপদিক হলো শব্দের সেই রূপ যার সাথে কোনো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত থাকে না কিন্তু অর্থ প্রকাশ করতে পারে। ধাতু যেমন ক্রিয়াপদের মূল, প্রাতিপদিক তেমনই বিশেষ্য ও বিশেষণ পদের মূল।
- প্রাতিপদিকের সাথে বিভক্তি যুক্ত করলেই তা পদে পরিণত হয়। যেমন কলম একটি প্রাতিপদিক, এর সাথে এ বিভক্তি যুক্ত হয়ে কলমে পদ গঠিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাত
ব্যাখ্যা: হাত একটি বিভক্তিহীন নাম শব্দ বা প্রাতিপদিক, যার সাথে পরবর্তীতে বিভক্তি যুক্ত হতে পারে।
উদাহরণ ২: বই
ব্যাখ্যা: বই শব্দটির সাথে কোনো বিভক্তি নেই, তাই এটি একটি নির্ভুল প্রাতিপদিক শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রাতিপদিক — এটি সঠিক উত্তর কারণ বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
B) সাধিত শব্দ — এটি ভুল কারণ সাধিত শব্দ প্রকৃতি ও প্রত্যয় বা সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয় এবং এটি বিভক্তিহীন নাম শব্দের সরাসরি সংজ্ঞা নয়।
C) প্রকৃতি — এটি ভুল কারণ প্রকৃতি হলো শব্দের মূল অংশ যার মধ্যে নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি দুটোই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
D) প্রত্যয় — এটি ভুল কারণ প্রত্যয় হলো যা শব্দ বা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রাতিপদিক মানে হলো প্রতি + পদ + ইক, অর্থাৎ পদের প্রাথমিক রূপ যেখানে কোনো বিভক্তি থাকে না।
- মনে রাখবে, বিভক্তিহীন নাম শব্দ দেখলে চোখ বন্ধ করে প্রাতিপদিক দাগাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রাতিপদিক ও প্রকৃতির পার্থক্য প্রায়ই আসে।
- ধাতু হলো ক্রিয়ার মূল এবং প্রাতিপদিক হলো নাম শব্দের মূল।
সঠিক উত্তর: A) 1972
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কবিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় আনা হয় এবং তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, যিনি একই সঙ্গে ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং সংগীতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৭২ সালে তাকে বাংলাদেশে আনার পর ধানমন্ডির একটি বাড়িতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যাখ্যা: মৃত্যুর পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
উদাহরণ ২: বিদ্রোহী কবিতা কাজী নজরুল ইসলামের সবচেয়ে পরিচিত সৃষ্টি।
ব্যাখ্যা: এই কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 1972 — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই কবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল।
B) 1973 — এই সালে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়, বাংলাদেশে আনার সাল এটি নয়।
C) 1974 — এই সালে কবি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং বাংলা একাডেমি তাকে ফেলোশিপ প্রদান করে।
D) 1975 — এই সালে কবিকে বাংলাদেশর নাগরিকত্ব প্রদানসংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় এবং জাতির পিতা তাকে দেখতে যান।
৫ মনে রাখার টিপস:
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ১৯৭২ সালে কবি নজরুল প্রথম পা রাখেন, তাই ৭২ সাল মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ এবং মৃত্যু ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র।
- তাকে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হয় যা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: C) ৪৯টি
১. কেন সঠিক:
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা নিয়ে প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
প্রদত্ত প্রশ্ন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৪৯টি ধরা হয়েছে, যা ঐতিহ্যগত ব্যাকরণের হিসাব।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও প্রথাগত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে যার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
তবে ঐতিহ্যগত ও সর্বমোট বর্ণ মিলিয়ে স্বরবর্ণ ১৩টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৪৯টি ধরা হলে মোট বর্ণ হয় ৬২টি, যা এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক, খ, গ, ঘ, ঙ
ব্যাখ্যা: এগুলো ক-বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণ এবং কণ্ঠ্যধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ ২: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
ব্যাখ্যা: এগুলো চ-বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণ এবং তালু থেকে উচ্চারিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৩টি — এটি বাংলা বর্ণমালার স্বরবর্ণের সংখ্যা, ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা নয়।
B) ১১টি — এটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী স্বরবর্ণের মূল সংখ্যা।
D) ৩৯টি — এটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী ব্যঞ্জনবর্ণের মূল সংখ্যা, কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে ৪৯টি ধরা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বর্ণমালা সম্পর্কিত প্রশ্নে আধুনিক প্রমিত ব্যাকরণ এবং ঐতিহ্যগত ব্যাকরণের হিসাব আলাদা করে মনে রাখতে হবে।
মোট বর্ণ ৫০টি হলে ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি এবং মোট বর্ণ ৬২টি হলে ব্যঞ্জনবর্ণ ৪৯টি ধরতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলা একাডেমি ও প্রমিত ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি, স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
তবে ঐতিহ্যগত প্রশ্নে ৪৯টি উত্তর থাকলে সেটিও ব্যাকরণ বোর্ডের পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী সঠিক হিসেবে গণ্য হয়।
সঠিক উত্তর: A) all types of food
কেন সঠিক:
omn- শব্দটির অর্থ হলো সব এবং vovare শব্দের অর্থ হলো খাওয়া। তাই যে প্রাণী উদ্ভিদ ও মাংস উভয় জাতীয় খাবারই খায় তাকে omnivore বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) all types of food — এটি সঠিক কারণ এই ধরনের প্রাণী সব ধরনের খাবার খেতে পারে।
B) only plants — এটি ভুল কারণ শুধু উদ্ভিদভোজী প্রাণীদের herbivore বলা হয়।
C) all types of insects — এটি ভুল কারণ শুধু পতঙ্গভোজী প্রাণীদের insectivore বলা হয়।
D) only means — এটি ভুল কারণ শুধু মাংসভোজী প্রাণীদের carnivore বলা হয়।
মনে রাখার টিপস:
omnia অর্থ সব এবং vora অর্থ খাওয়া, এই দুটি মিলে তৈরি হয় omnivore অর্থাৎ সর্বভুক প্রাণী।
সঠিক উত্তর: A) much
কেন সঠিক:
much শব্দটি একটি পজিটিভ ডিগ্রি। এর কম্পারেটিভ রূপ হলো মোর।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) much — এটি পজিটিভ ডিগ্রি হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
B) less — এটি লিটল শব্দের কম্পারেটিভ রূপ এবং তুলনামূলক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
C) more — এটি মেনি বা মাচ শব্দের কম্পারেটিভ রূপ হিসেবে বসে।
D) worse — এটি ব্যাড শব্দের কম্পারেটিভ রূপ এবং তুলনা বোঝায়।
মনে রাখার টিপস:
যেকোনো শব্দের ডিগ্রি পরিবর্তনের সময় এর রূপ খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) By whom can it be done?
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে থাকা who পরিবর্তিত হয়ে By whom হয়। Interrogative sentence এ auxiliary verb subject এর পূর্বে বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) By whom it can be done? — এখানে auxiliary verb subject এর পরে বসেছে, যা প্রশ্নবোধক বাক্যের নিয়মের বাইরে।
B) By whom can it be done? — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।
C) Who can it be done? — এখানে who কে by whom না করে ভুলভাবে রাখা হয়েছে।
D) Whom can be done by it? — এখানে passive করার সময় সঠিক structure এবং preposition এর ব্যবহার ভুল হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
Who যুক্ত Active voice কে Passive করার সময় প্রথমে By whom বসাতে হবে এবং সাহায্যকারী verb কে Subject এর আগে আনতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) top
কেন সঠিক:
Apex শব্দের বাংলা অর্থ হলো চূড়া বা শীর্ষবিন্দু।
ত্রিভুজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপরের শীর্ষবিন্দুকে বুঝাতে top কথাটি ব্যবহার করা হয়।
তাই সঠিক উত্তর হিসেবে top নির্বাচন করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) top — এটি সঠিক উত্তর কারণ apex অর্থ ত্রিভুজের শীর্ষ বা চূড়াকে নির্দেশ করে।
B) angles — এটি ভুল কারণ angles হলো ত্রিভুজের কোণগুলো, যা apex-এর সমার্থক নয়।
C) perimeter — এটি ভুল কারণ perimeter হলো ত্রিভুজের পরিসীমা বা বাইরের সীমানার দৈর্ঘ্য।
D) sides — এটি ভুল কারণ sides হলো ত্রিভুজের বাহুগুলো, যা তার শীর্ষবিন্দু নির্দেশ করে না।
মনে রাখার টিপস:
Apex শব্দ দেখলে মাথায় রাখবে এটি যেকোনো কিছুর চূড়া বা সর্বোচ্চ বিন্দু বোঝায়।
সঠিক উত্তর: D) beauty
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত শব্দটি হলো একটি Adjective, যার Noun রূপ হলো beauty।
- -ty প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি Abstract Noun-এ পরিণত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) beautify — এটি একটি Verb, যার অর্থ সুন্দর করা।
B) beauteous — এটি একটি Adjective, যার অর্থ সুন্দর।
C) beautifully — এটি একটি Adverb, যার অর্থ সুন্দরভাবে।
D) beauty — এটি সঠিক Noun রূপ, যার অর্থ সৌন্দর্য।
মনে রাখার টিপস:
শব্দটির শেষে ty দেখলে সাধারণত তা Noun হিসেবে গণ্য করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) her
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে Each থাকলে তা সাধারণত একক বা singular হিসেবে গণ্য হয়।
তাই এর পরবর্তী possessive pronoun বা determiners ও singular হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) its — এটি বস্তু বা ইটারের ক্ষেত্রে বসে, মানুষের ক্ষেত্রে নয়।
B) her — এটি সঠিক কারণ ladies হলো স্ত্রীবাচক এবং singular ধরা হয়েছে।
C) their — এটি plural হওয়ার কারণে singular Each এর সাথে বসে না।
D) hers — এটি possessive pronoun এবং noun এর আগে বসে না।
মনে রাখার টিপস:
Each থাকলে সাবজেক্ট singular হয় তাই তার possessive রূপ হিসেবে her বা his ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) in
কেন সঠিক:
ইংরেজিতে interest শব্দের পর সাধারণত প্রিপজিশন হিসেবে in বসে। কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বোঝাতে take an interest in এই সঠিক ধারাটি ব্যবহার করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) for — interest শব্দের পর for প্রিপজিশন বসে না কারণ এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়।
B) in — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) at — interest শব্দের সাথে at প্রিপজিশন ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই।
D) with — কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বোঝাতে with প্রিপজিশন ব্যবহার করা যায় না।
মনে রাখার টিপস:
আগ্রহ বোঝাতে সবসময় interest শব্দের পরে in প্রিপজিশন বসবে।
সঠিক উত্তর: B) Jonathan Swift
কেন সঠিক:
জোনাথন সুইফট একজন বিখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক ও ব্যঙ্গকার। তিনি অষ্টম শতকের সমাজ ও রাজনীতির ওপর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে এই বিখ্যাত উপন্যাসটি রচনা করেছেন।
এটি মানুষের স্বভাব এবং তৎকালীন রাজনৈতিক অসংগতি নিয়ে লেখা একটি বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক রূপক উপন্যাস।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Ernest Hemingway — আর্নেস্ট হেমিংওয়ে এই উপন্যাস লেখেননি, তিনি মূলত দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি এর মতো বাস্তববাদী উপন্যাস লিখেছেন।
C) Bernard Shaw — বার্নার্ড শ কোনো উপন্যাস লেখেননি, তিনি মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক নাটক লেখার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
D) Charles Dickens — চার্লস ডিকেন্স এই বইটি লেখেননি, তিনি ভিক্টোরিয়ান যুগের বিখ্যাত উপন্যাস অলিভার টুইস্ট রচনা করেছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
গালিভারস ট্রাভেলস বইটির নাম দেখলে সবসময় মনে রাখবে এটি জোনাথন সুইফটের লেখা একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস।
সঠিক উত্তর: B) or
কেন সঠিক:
conjunction হলো সেই শব্দ যা দুটি শব্দ, বাক্যাংশ বা বাক্যকে যুক্ত করে। এখানে or দুটি বিকল্প বা সম্ভাবনাকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) up — এটি সাধারণত preposition বা adverb হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কোনো কিছু সংযুক্ত করে না।
B) or — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এটি এখানে ভুল অপشن হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
C) very — এটি একটি adverb যা adjective বা অন্য adverb এর মাত্রা প্রকাশ করে।
D) for — এটি preposition বা conjunction হতে পারে, তবে এই প্রশ্নে or সবচেয়ে উপযুক্ত conjunction হিসেবে কাজ করে।
মনে রাখার টিপস:
and, but, or হলো সাধারণ conjunction যা শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করতে সাহায্য করে।
সঠিক উত্তর: B) cardiologist
কেন সঠিক:
কার্ডিওলোজিস্ট শব্দটির মূল অংশ কার্ডিও এসেছে হার্ট বা হৃদপিণ্ড সম্পর্কিত চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে। তাই হৃদরোগ ও এর চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে কার্ডিওলোজিস্ট বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) nephrologist — নেফ্রোলজিস্ট হলেন কিডনি বা বৃক্কের রোগ ও তার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
B) cardiologist — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক এবং এখানে কোনো ভুল নেই।
C) neurologist — নিউরোলজিস্ট হলেন মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও মেরুদণ্ডের রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
D) pathologist — প্যাথোলজিস্ট হলেন ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়কারী চিকিৎসক।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি শব্দ কার্ডিও অর্থ হৃদপিণ্ড, তাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মনে রাখতে কার্ডিওলোজিস্ট শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) die
কেন সঠিক:
'Pass away' একটি অত্যন্ত পরিচিত ফ্রেজ বা ইডিওম যার অর্থ হলো মৃত্যুবরণ করা।
ইংরেজিতে মানুষ মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে এই শব্দগুচ্ছটি ভদ্রতাবশত বা শালীনভাবে ব্যবহার করা হয়।
তাই এটি সরাসরি 'die' বা মৃত্যুর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) disappear — এর অর্থ হারিয়ে যাওয়া বা অদৃশ্য হওয়া, যা মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরাসরি বোঝায় না।
B) erase — এর অর্থ মুছে ফেলা বা মিশিয়ে দেওয়া, যা কোনো লেখা বা তথ্য মোছার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
C) fall — এর অর্থ নিচে পড়ে যাওয়া, যা কোনো শারীরিক পতন বোঝায় কিন্তু মৃত্যু বোঝায় না।
D) die — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
জীবন থেকে কেউ পার হয়ে চলে গেলে আমরা বলি সে মারা গেছে, এভাবে 'Pass away' মানে মারা যাওয়া মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) after
কেন সঠিক:
এখানে কারো নামানুসারে নামকরণের ক্ষেত্রে 'name after' একটি নির্দিষ্ট ফ্রেজাল ভার্ব বা গ্রুপ ভার্ব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার অর্থ হলো কারও নাম অনুসারে অন্য কারো নামকরণ করা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) after — এটি সঠিক অপশন কারণ 'named after' নিয়ম অনুযায়ী কারো নামানুসারে নামকরণের ক্ষেত্রে বসে।
B) to — এটি ভুল কারণ 'named to' বলতে কোনো সঠিক ফ্রেজাল ভার্ব বা নিয়ম ইংরেজিতে নেই।
C) about — এটি ভুল কারণ 'named about' কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে না এবং এটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
D) according — এটি ভুল কারণ 'named according' সঠিক প্রিপজিশন বা নিয়মের সাথে মিলে না।
মনে রাখার টিপস:
কারো নাম অনুসারে বা বংশের নামানুসারে কারো নামকরণ করা বোঝাতে সবসময় 'name after' ফ্রেজটি ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: D) Tell me what your name is?
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে Imperative Sentence থাকায় মূল বাক্যটি প্রশ্নবোধক হবে এবং শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসবে।
সংandযুক্ত সাব-ক্লজ বা noun clause-এর ভেতরের অংশটি সাধারণ assertive structure-এ থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Tell me what is your name? — সাব-ক্লজের ভেତরে সাহায্যকারী ভারบ সাবজেক্টের আগে আসায় এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল হয়েছে।
B) Tell me what your name is. — বাক্যের শেষ অংশে ফুলস্টপ ব্যবহার করা হয়েছে অথচ মূল বাক্যটি প্রশ্নবোধক ছিল।
C) Tell me what is your name. — সাব-ক্লজের গঠন ভুল এবং বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের পরিবর্তে ফুলস্টপ দেওয়া হয়েছে।
D) Tell me what your name is? — এই অপশনটি সঠিক গঠন এবং সঠিক বিরামচিহ্ন উভয় নিয়মই মেনে চলেছে।
মনে রাখার টিপস:
Imperative বাক্যের পর indirect question যুক্ত করার সময় clause-এর ভেতরের অংশটি সবসময় সাবজেক্ট তারপর ভার্ব এই নিয়মে লিখতে হয়।
সঠিক উত্তর: D) with
কেন সঠিক:
- কোনো ব্যক্তির সাথে মতের অমিল বা দ্বিমত পোষণ করা বোঝাতে differ এর পর with বসে।
- এই বাক্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) over — কোনো বিষয়ে বা বিষয়ের উপরে মতপার্থক্য বোঝাতে differ over ব্যবহৃত হয়, কিন্তু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি বসে না।
B) তো — এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক প্রিপজিশন নয় এবং differ এর সাথে সাধারণত infinitive হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
C) from — ভিন্নতা বা সাদৃশ্য না থাকা অর্থে বস্তুর ক্ষেত্রে differ from ব্যবহৃত হয়, ব্যক্তির সাথে মতের অমিল বোঝাতে নয়।
D) with — কোনো ব্যক্তির সাথে মতের অমিল হওয়া অর্থে সঠিক প্রিপজিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বক্তার সাথে দ্বিমত বোঝাতে with ব্যবহার করতে হয় এবং বিষয়ের ক্ষেত্রে over বা about ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: A) worst
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ব্যাকরণে কিছু Adjective এর Positive, Comparative এবং Superlative ফর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়, যেমন bad এর Superlative রূপ হলো worst।
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক এবং এটি Adjective এর Degree পরিবর্তনের নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) worst — এটি bad শব্দের সঠিক Superlative ডিগ্রি এবং বাক্য বা প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এটিই কাঙ্ক্ষিত সঠিক উত্তর।
B) lenst — এটি কোনো সঠিক ইংরেজি শব্দ বা ডিগ্রি নয়, মূলত এটি little শব্দের Comparative রূপ less বা Superlative রূপ least এর বানান বিকৃত রূপ।
C) worse — এটি bad শব্দের Comparative ডিগ্রি, যা দুটি বস্তুর মধ্যে তুলনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি Superlative হতে পারে না।
D) best — এটি good শব্দের Superlative ডিগ্রি, যা ভালো বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এখানে চাওয়া হয়েছে bad বা খারাপ শব্দের রূপ।
মনে রাখার টিপস:
bad শব্দের তুলনা করার সময় মনে রাখবে এর রূপগুলো হলো bad, worse এবং worst।
সঠিক উত্তর: D) radius
কেন সঠিক:
- 'Radius' শব্দটি ল্যাটিন মূলের এবং এটি একটি একবচন বা Singular noun, যার বহুবচন হলো Radii।
- এর শেষে 'us' রয়েছে, যা সাধারণত ইংরেজি ব্যাকরণে ল্যাটিন মূলের Singular noun চেনার অন্যতম প্রধান উপায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) formulae — এটি একটি বহুবচন রূপ, যার একবচন হলো formula।
B) agenda — এটি একটি বহুবচন রূপ, যার একবচন হলো agendum।
C) oases — এটি একটি বহুবচন রূপ, যার একবচন হলো oasis।
D) radius — প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি একবচন বা Singular ফর্মে রয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ল্যাটিন শব্দে 'us' থাকলে তা সাধারণত Singular এবং 'i' বা 'a' থাকলে তা Plural হয়।
সঠিক উত্তর: C) rung
কেন সঠিক:
বাক্যটিতে had auxiliary verb থাকায় এর পরে মূল verb-এর Past Participle রূপ বসবে।
Ring verb-এর Past Participle রূপ হলো rung এবং এখানে অর্থ পূর্ণ হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) rang — এটি Ring verb-এর Past রূপ, যা Had-এর পরে সরাসরি বসে না।
B) ranged — এটি Range verb-এর রূপ, যার অর্থ সাজানো এবং এটি এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
C) সঠিক উত্তর — এটি নিজেই সঠিক হওয়ায় ভুল নয়।
D) ringed — এটি Ring verb-এর অন্য রূপ, যার অর্থ ঘেরাও করা এবং এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
Have, has বা had-এর পরে সবসময় verb-এর Past Participle রূপ বসে।
সঠিক উত্তর: A) questionnaire
কেন সঠিক:
শব্দটির শুরুতে question অংশটি অপরিবর্তিত থাকে এবং এর সাথে naire যুক্ত হয়। শেষের দিকে দুটি n এবং দুটি e সঠিক বানানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) questionnaire — এই বানানটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং আদর্শ ইংরেজি বানানরীতি মেনে চলে।
B) questionaire — এই বানানটি ভুল কারণ এতে একটি n কম আছে।
C) questionnare — এই বানানটি ভুল কারণ এর শেষে সঠিক অক্ষরবিন্যাস নেই।
D) questioneire — এই বানানটি ভুল কারণ এর ভেতরে অতিরিক্ত ই এবং ভুল অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
question শব্দটির সাথে naire যোগ করার সময় মনে রাখবে এর ভেতরে ডাবল n এবং ডাবল e থাকে।
সঠিক উত্তর: B) collect
কেন সঠিক:
'Pick up' একটিPhrasal verb যার অর্থ কোনো কিছু নিচ থেকে তোলা বা সংগ্রহ করা।
অপশনের 'collect' শব্দটির অর্থও কোনো কিছু সংগ্রহ করা বা একত্র করা।
তাই এই দুটি শব্দের অর্থ প্রায় একই রকম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) display — এই শব্দটির অর্থ প্রদর্শন করা বা দেখানো, যা 'Pick up' এর অর্থের সাথে মিলে না।
B) collect — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক এবং ভুল নয়।
C) suspend — এই শব্দটির অর্থ স্থগিত করা বা মুলতবি রাখা, যা মূল অর্থের বিপরীত।
D) tolerate — এই শব্দটির অর্থ সহ্য করা, যার সাথে 'Pick up' এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
'Pick up' মানে মাটি থেকে কোনো হারানো জিনিস তুলে নিজের কাছে সংগ্রহ করা, তাই এটি collect এর সাথে সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: B) different
কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে জানতে চাওয়া হয়েছে কোনটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না। 'old' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো নতুন বা তরুণ, কিন্তু 'different' শব্দের অর্থ ভিন্ন বা আলাদা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) young — এই শব্দটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে যখন এটি বয়স বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
B) different — এই শব্দটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না কারণ এর অর্থ আলাদা বা ভিন্ন।
C) new — এই শব্দটি 'old' শব্দের সরাসরি বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে এবং এর অর্থ নতুন।
D) recent — এই শব্দটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে কারণ এর অর্থ সাম্প্রতিক বা নতুন।
মনে রাখার টিপস:
বিপরীত শব্দ নির্ণয়ের সময় শব্দের মূল অর্থ এবং প্রেক্ষাপট ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) ২৭/০১/২১
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং কুর্মিটোলা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুনু বেরোখতারকে প্রথম টিকা দেওয়া হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৫/০১/২১ — এই তারিখে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়নি, বরং এই দিনে দেশে টিকার প্রথম চালান এসে পৌঁছায়।
B) ২৭/০১/২১ — এটি সঠিক তারিখ, এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
C) ২১/০১/২১ — এই তারিখে কোনো আনুষ্ঠানিক টিকাদান কার্যক্রম বা উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেনি।
D) ২২/০১/২১ — এই তারিখের সঙ্গে কোভিড-১৯ টিকা উদ্বোধনের কোনো ঐতিহাসিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
মনে রাখার টিপস:
টিকা আসার দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
সঠিক উত্তর: D) চীন
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ তার মোট বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশ চীন থেকে আমদানি করে থাকে, যার ফলে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বহুগুণ বেশি।
- বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই বিশাল আমদানি ও রপ্তানি দূরত্বের কারণে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সাথেই তৈরি হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভারত — বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল হলেও, একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সাথেই রয়েছে।
B) জাপান — জাপানের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ঘাটতি রয়েছে, তবে তা চীনের তুলনায় অনেক কম।
সি) রাশিয়া — রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিমাণ এবং ঘাটতি চীন বা ভারতের তুলনায় বেশ কম।
D) চীন — এই অপশনটি সঠিক কারণ বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পরিমাণে পণ্য চীন থেকে আমদানি করে থাকে।
মনে রাখার টিপস:
আমদানিতে চীন সবার সেরা, তাই বাণিজ্য ঘাটতিতেও চীন সবার উপরে।
সঠিক উত্তর: A) বেইজিং
কেন সঠিক:
- তিয়ান মেন স্কয়ার হলো চীনের রাজধানী বেইজিং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি ঐতিহাসিক ও জনবহুল চত্বর।
- এটি চীনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের পাশাপাশি বিশ্ব ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বেইজিং — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিয়ান মেন স্কয়ার এই শহরেই অবস্থিত।
B) সাংহাই — এটি চীনের প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হলেও এখানে তিয়ান মেন স্কয়ার অবস্থিত নয়।
C) হংকং — এটি চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল, যা বেইজিং থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
D) ক্যান্টন — এটি গুয়াংজু শহরের ঐতিহাসিক নাম, যা চীনের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত এবং এর সঙ্গে তিয়ান মেন স্কয়ারের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের নামের সঙ্গে তিয়ান মেন স্কয়ারের অবস্থান মনে রাখলেই উত্তরটি সহজে নিশ্চিত করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) স্বাধীনতা পদক
কেন সঠিক:
- স্বাধীনতা পদক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পদক বা পুরস্কার।
- ১৯৭৭ সাল থেকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) একুশে পদক — এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পদক, সর্বোচ্চ পদক নয়।
B) স্বাধীনতা পদক — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
C) বাংলা একাডেমি পদক — এটি সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রদত্ত একটি সম্মাননা, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক নয়।
D) প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার — এটি কোনো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পদক বা জাতীয় পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম নয়।
মনে রাখার টিপস:
সর্বোচ্চ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হয়, তাই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক হলো স্বাধীনতা পদক।
সঠিক উত্তর: C) ড. মাকসুদুল আলম
কেন সঠিক:
- ড. মাকসুদুল আলম বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিজ্ঞান অঙ্গনে তোশাচর্চিত তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবনরহস্য ২০১১ সালে সফলভাবে আবিষ্কার করেন।
- তার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্পন্ন করেন, যা পাটশিল্পের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জগদীশচন্দ্র বসু — তিনি উদ্ভিদের প্রাণ আছে এবং বেতার তরঙ্গ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বখ্যাত, পাটের জিনোম সিকোয়েন্সের সঙ্গে সম্পর্কিত নন।
B) কুদরত-এ-খুদা — তিনি একজন প্রখ্যাত রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ ছিলেন এবং কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত, পাটের জিনোম আবিষ্কারক নন।
C) ড. মাকসুদুল আলম — এটিই সঠিক উত্তর, কারণ তিনি ২০১৩ সালে পেঁপের জিনোম এবং ২০১১ সালে পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন।
D) ড. মেঘনাথ সাহা — তিনি তাপীয় আয়নীকরণ সূত্র বা সাহা আয়নীকরণ সমীকরণের জন্য বিখ্যাত একজন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
মনে রাখার টিপস:
পাটের সোনালী সুতার মতো উজ্জ্বল নাম ড. মাকসুদুল আলম, যিনি এর জিনোম আবিষ্কার করে অমর হয়ে আছেন।
সঠিক উত্তর: D) ২৪ অক্টোবর
কেন সঠিক:
- ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সনদ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৪৮ সাল থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৪ আগস্ট — এই তারিখে কোনো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ দিবস পালিত হয় না।
B) ২৪ নভেম্বর — এই তারিখে জাতিসংঘের কোনো প্রতিষ্ঠাতা দিবস বা প্রধান দিবস নেই।
C) ২৪ ডিসেম্বর — এই তারিখে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা দিবস পালিত হয় না।
D) ২৪ অক্টোবর — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দিনেই জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয়েছিল।
মনে রাখার টিপস:
অক্টোবরের ২৪ তারিখ মনে রাখুন এভাবে, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ কাজ শুরু করেছিল।
সঠিক উত্তর: C) সাতক্ষীরা
কেন সঠিক:
- সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে কোনো রেললাইন বা ট্রেন যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই।
- বাংলাদেশের যে কয়েকটি জেলায় রেল যোগাযোগ নেই, তার মধ্যে সাতক্ষীরা অন্যতম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নোয়াখালী — এই জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল করে।
B) টাঙ্গাইল — বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে এই জেলার ওপর দিয়ে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল করে এবং এখানে রেল স্টেশন রয়েছে।
C) সাতক্ষীরা — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এই জেলায় এখনো কোনো রেললাইন বা ট্রেন যোগাযোগের নেটওয়ার্ক চালু হয়নি।
D) হবিগঞ্জ — এই জেলায় শায়েস্তাগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন ও রেল যোগাযোগ রয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
সাত ও নদীবিধৌত উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় নেই কোনো ট্রেন বা রেলের যাতায়াত।
সঠিক উত্তর: C) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা বর্তমান মুজিবনগর আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নিশ্চিত হয় এবং বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায় সহজ হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৩০ মার্চ ১৯৭১ — এই তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত কোনো ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণের ঘটনা ঘটেনি।
B) ৭ এপ্রিল ১৯৭১ — এই তারিখে অস্থায়ী সরকার গঠিত বা শপথ গ্রহণ করেনি, এটি ভুল তারিখ।
সি) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল নেই।
D) ১০ এপ্রিল ১৯৭১ — এই তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, কিন্তু শপথ হয় ১৭ এপ্রিল।
মনে রাখার টিপস:
গঠন ১০ এপ্রিল আর শপথ ১৭ এপ্রিল, এই দুই তারিখের ব্যবধান ঠিক সাত দিন।
সঠিক উত্তর: A) রাশিয়া
কেন সঠিক:
- রাশিয়ার মোট আয়তন প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার, যা পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় এগারো শতাংশ।
- আয়তন ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির দিক থেকে এটি ইউরোপ ও এশিয়া দুটি মহাদেশ জুড়ে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাশিয়া — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ এটি আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ।
B) অস্ট্রেলিয়া — এটি বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ এবং একটি মহাদেশ, তবে আয়তনে রাশিয়ার চেয়ে অনেক ছোট।
C) কালাভা — এটি কোনো পরিচিত বা সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়, বরং এটি একটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর অপশন।
D) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — এটি আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দেশ, যা রাশিয়ার চেয়ে আয়তনে ছোট।
মনে রাখার টিপস:
বিশ্বের বড় দেশগুলোর ক্রম মনে রাখার শর্টকাট কৌশল হলো রাকাচুবাপ্র (রাশিয়া, কানাডা, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া)।
সঠিক উত্তর: C) ১৮-৫৭ বছর
কেন সঠিক:
- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী সাধারণ সুস্থ মানুষের রক্তদানের উপযুক্ত ও নিরাপদ বয়সসীমা হলো আঠারো থেকে সাতান্ন বছর।
- এই বয়সে একজন সুস্থ মানুষের শরীরে রক্তের পরিমাণ ও শারীরিক সক্ষমতা নিরাপদ মাত্রায় থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৫-৪৫ বছর — পনেরো বছর বয়স রক্তদানের জন্য আইনগত ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত কম এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক পর্যায়।
B) ৭১০-৬০ বছর — অপশনটি মুদ্রণজনিত ত্রুটিপূর্ণ এবং মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তদানের বয়সসীমার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
D) ১৮-৭০ বছর — সত্তর বছর বয়স নিরাপদ রক্তদানের সাধারণ সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি এবং এ বয়সে শারীরিক ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখার টিপস:
রক্তদানের বয়স মনে রাখতে আঠারো বছরের প্রাপ্তবয়স্ক বয়সসীমা এবং সাতান্ন বছরের সর্বোচ্চ নিরাপদ সীমার সংখ্যাটি মনে রাখুন।
প্রশ্নের ধরন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও সাম্প্রতিক জনমিতি
সঠিক উত্তর: D) কোনোটিই নয় (প্রদত্ত উত্তর সঠিক, কারণ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুটোলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মহিলাদের গড় আয়ু ৭৪ বছর ছাড়িয়ে গেছে)
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা কিংবা এইচআইএস রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪.৮ বছর।
- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক মান না থাকায় সঠিক উত্তর হবে কোনোটিই নয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৮০.৬ বছর — এটি বর্তমান বাস্তবতায় মহিলাদের গড় আয়ুর সাথে মেলে না, কারণ এই বয়সসীমা অনেক বেশি।
B) ৫৭.৫ বছর — এটি অনেক আগের উপাত্ত এবং বর্তমান সময়ের সাথে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
C) ৬৪.৪ বছর — এটিও অতীত দশকের পরিসংখ্যান, যা বর্তমানের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার কারণে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
D) কোনোটিই নয় — সঠিক পরিসংখ্যান অপশনে না থাকায় এটিই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৪ বছরের বেশি এবং নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।
বিষয়ের ধরন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সঠিক উত্তর: B) কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
কেন সঠিক:
- ক্যান্সার হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাভাবিক বিভাজন, যার ফলে টিউমার বা অতিরিক্ত কোষের স্তূপ তৈরি হয়।
- দেহের স্বাভাবিক কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে এই অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু — কোষের স্বাভাবিক মৃত্যুকে অ্যাপোপটোসিস বলে, যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে না বরং ক্যান্সার কোষ এই মৃত্যুকে এড়িয়ে চলে।
B) কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি — এটি সঠিক কারণ, কারণ ক্যান্সার মূলত কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত বিভাজনের মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করে।
C) কোষের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা — জমাট বাঁধা মূলত রক্ত platelets এর কাজ, যা কাটাছেঁড়া বা রক্তক্ষরণ বন্ধের সাথে সম্পর্কিত, ক্যান্সারের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
D) সবগুলো — যেহেতু কেবল অপশন বি সঠিক, তাই সবগুলো উত্তর সঠিক হতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
ক্যান্সার মানেই কোষের বেহিসাবী ও অতিরিক্ত বৃদ্ধি।
সঠিক উত্তর: C) ২৩ জোড়া
কেন সঠিক:
- সুস্থ মানুষের দেহকোষে মোট ৪৬টি বা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে।
- এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম এবং ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০ জোড়া — এটি মানুষের স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যার চেয়ে কম এবং এটি ভুল তথ্য।
B) ২২ জোড়া — এটি মানুষের অটোজোম বা দেহকোষীয় ক্রোমোজোমের সংখ্যা, মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা নয়।
C) ২৩ জোড়া — এটি মানুষের ক্রোমোজোমের সঠিক সংখ্যা, যা ৪৬টি ক্রোমোজোম নির্দেশ করে।
D) ২৪ জোড়া — এটি মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যার চেয়ে বেশি এবং এটি ভুল তথ্য।
মনে রাখার টিপস:
মানুষের মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬টি, যার অর্ধেক বা জোড়ায় হিসাব করলে হয় ২৩ জোড়া।
সঠিক উত্তর: D) ঢাকা
কেন সঠিক:
- সিরডাপ একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার পূর্ণরূপ হলো সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক।
- এই সংস্থাটির সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় সঠিক উত্তর ঢাকা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যাংকক — এটি থাইল্যান্ডের রাজধানী এবং এসক্যাপ এর সদর দপ্তর, তবে সিরডাপের সদর দপ্তর এখানে নয়।
B) দিল্লী — এটি ভারতের রাজধানী এবং সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার বা অন্য কোনো সংস্থার সদর দপ্তর হতে পারে, তবে সিরডাপের নয়।
C) ইসলামাবাদ — এটি পাকিস্তানের রাজধানী এবং ইকো সংক্রান্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের দপ্তর থাকলেও সিরডাপের সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত নয়।
D) ঢাকা — এটি সঠিক উত্তর কারণ সিরডাপের প্রধান কার্যালয় ঢাকাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সিরডাপের সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়।
প্রশ্নের ধরন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ তথ্য
সঠিক উত্তর: A) রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা
কেন সঠিক:
- ভ্যাকসিন বা টিকা হলো মৃত বা দুর্বল জীবাণু অথবা জীবাণুর অংশবিশেষ, যা শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।
- এটি শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে ভবিষ্যতে একই রোগের আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা — এটি ভ্যাকসিনের প্রধান ও মূল কাজ, যা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
B) রোগ নিরাময় করা — ভ্যাকসিন রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সারিয়ে তোলে না, এটি মূলত রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে।
C) রোগ বৃদ্ধি করা — ভ্যাকসিন শরীরে রোগ বৃদ্ধি করে না, বরং জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে শরীরকে প্রস্তুত করে।
D) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া — ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় না, বরং ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
মনে রাখার টিপস:
ভ্যাকসিন হলো শরীরের জন্য ঢালস্বরূপ, যা রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
সঠিক উত্তর: C) যশোর
কেন সঠিক:
- যশোর জেলায় প্রথম সরকারিভাবে সব সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালু করা হয়।
- ২০১০ সালের ছাব্বিশে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই জেলাকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঢাকা — এটি দেশের রাজধানী এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র হলেও প্রথম ডিজিটাল জেলা নয়।
B) বগুড়া — এটি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা তবে প্রথম ডিজিটাল জেলার মর্যাদা পায়নি।
C) যশোর — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কোনো কারণ প্রযোজ্য নয়।
D) টাঙ্গাইল — এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলেও ডিজিটাল জেলা হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি পায়নি।
মনে রাখার টিপস:
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় যশোর জেলা সবার আগে এগিয়ে ছিল, তাই প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোর।
সঠিক উত্তর: A) RNA Virus
কেন সঠিক:
- সার্স-কভ-২ বা করোনা ভাইরাস একটি সিঙ্গেল স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের জিনোম বা বংশগত উপাদান হিসেবে ডিএনএর পরিবর্তে আরএনএ থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) RNA Virus — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ এই ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান হলো আরএনএ।
B) ব্যাকটেরিয়া — এটি এককোষী প্রোকারিওটিক মাইক্রোজিব, কোনো ভাইরাস নয়।
C) DNA Virus — এটি ডিএনএ দ্বারা গঠিত ভাইরাস, কিন্তু করোনা ভাইরাস ডিএনএ ভাইরাস নয়।
D) ছত্রাক — এটি ইউক্যারিওটিক জীব, যা ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির।
মনে রাখার টিপস:
করোনা ও ডেঙ্গু উভয়ের নামের মতোই এদের মূল উপাদান হলো আরএনএ।
সঠিক উত্তর: C) গর্ভবতী মায়ের
কেন সঠিক:
- একলেমশিয়া হলো গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপজনিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক জটিলতা, যা খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার রূপ নেয়।
- সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে বা প্রসবের পর এই রোগ দেখা দেয় এবং এটি শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রেই ঘটে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শিশুকন্যা — এটি কোনো শিশুর রোগ নয়, তাই শিশুকন্যাদের এই রোগ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
B) বৃদ্ধ পুরুষ — পুরুষদের শারীরবৃত্তীয় গঠনে গর্ভাবস্থা না থাকায় তাদের একলেমশিয়া হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
C) গর্ভবতী মায়ের — প্রদত্ত উত্তরটি সঠিক কারণ এই রোগটি শুধুমাত্র গর্ভাবস্থার বিশেষ জটিলতার কারণে হয়ে থাকে।
D) সমবয়সী মায়ের — সমবয়সী হওয়া একলেমশিয়া হওয়ার মূল কারণ নয়, কারণ এটি যেকোনো বয়সের গর্ভবতী মায়েরই হতে পারে।
মনে রাখার টিপস:
একলেমশিয়া শব্দটি শুনলেই মাথায় রাখবে এটি গর্ভবতী মায়ের প্রি-একলেমশিয়া পরবর্তী মারাত্মক খিঁচুনিজনিত অবস্থা।
সঠিক উত্তর: A) পুরাতন ব্রহ্মপুত্র
কেন সঠিক:
- ঐতিহাসিক ব্রহ্মপুত্র নদ গতিপথ পরিবর্তন করে যমুনা নদী হিসেবে মূল প্রবাহে রূপ নেওয়ার পর এর আগের মূল ধারাটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত হয়।
- এই পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদটি জামালপুর ও ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুরাতন ব্রহ্মপুত্র — এটি ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদ এবং সঠিক উত্তর।
B) সুরমা — এটি মূলত সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের প্রধান নদী এবং ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নয়।
C) তিস্তা — এটি মূলত রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের নদী এবং ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নয়।
D) যমুনা — এটি ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে নয়, বরং আরও পশ্চিম দিক দিয়ে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ময়মনসিংহ মানেই পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, যা এই শহরের পাশ দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে।
প্রশ্নের ধরন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
সঠিক উত্তর: C) ২১ ফেব্রুয়ারি
কেন সঠিক:
- ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য বাংলার বীর সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ০৮ মার্চ — এটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়, যা মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) ১৬ ডিসেম্বর — এটি বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, যা ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয়।
C) ২১ ফেব্রুয়ারি — এটি সঠিক উত্তর, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
D) ২১ আগস্ট — এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন, যা ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার স্মরণে পালিত হয়।
মনে রাখার টিপস:
ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি এবং তারিখটি একুশ, অর্থাৎ একুশে ফেব্রুয়ারি।
প্রশ্নের ধরন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি
সঠিক উত্তর: A) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী দেশের আনুষ্ঠানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই নামটি নির্ধারিত ও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ — এটি সংবিধান অনুযায়ী দেশের একমাত্র সঠিক ও দাপ্তরিক সাংবিধানিক নাম।
B) বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র — এটি সংবিধানে ব্যবহৃত সঠিক রাষ্ট্রীয় নাম নয়, কারণ এতে আনুষ্ঠানিক বিশেষণ বাদ পড়েছে।
C) গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ — এটি কোনো সাংবিধানিক বা দাপ্তরিক নাম নয়, এটি কেবল একটি সাধারণ বর্ণনামূলক শব্দ।
D) প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ — এটি সংক্ষিপ্ত রূপ হলেও বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত সাংবিধানিক নাম নয়।
মনে রাখার টিপস:
সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদেই দেশের নাম উল্লেখ আছে, যার সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী শব্দটি যুক্ত।
সঠিক উত্তর: B) হেরোডোটাস
কেন সঠিক:
- তিনি খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিক-পারস্য যুদ্ধের ইতিহাস লিখে এই ধারাটির সূচনা করেছিলেন।
- তার ঐতিহাসিক রচনার কারণেই তাকে প্রাচীন রোমান দার্শনিক সিসেরো ইতিহাসের জনক উপাধিতে ভূষিত করেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রুসিডাই জিস — এটি কোনো ঐতিহাসিক বা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিচিত ব্যক্তিত্ব নয়।
B) হেরোডোটাস — ইনিই প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ এবং এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
C) এরিস্টটল — তিনি ইতিহাসের জনক নন, বরং তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
D) টায়নবি — আর্নল্ড জে টায়নবি একজন আধুনিক বিখ্যাত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ হলেও তাকে ইতিহাসের জনক বলা হয় না।
মনে রাখার টিপস:
হ তে ইতিহাস এবং হ তে হেরোডোটাস, এভাবে খুব সহজেই মনে রাখা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) ব্রাসেলস
কেন সঠিক:
- ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত।
- সামরিক জোট হিসেবে এটি পশ্চিমা দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই শহর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বার্ন — এটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী এবং আন্তর্জাতিক কোনো সামরিক জোটের সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত নয়।
B) ব্রাসেলস — এটি ন্যাটোর নির্ধারিত সঠিক সদর দপ্তর এবং এখানেই এর মূল কার্যালয় অবস্থিত।
C) লিও — এটি ফ্রান্সের একটি প্রধান শহর এবং ইন্টারপোলের সদর দপ্তর হলেও ন্যাটোর সদর দপ্তর নয়।
D) হামবুর্গ — এটি জার্মানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী এবং ন্যাটোর সদর দপ্তরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
ন্যাটো একটি শক্তিশালী জোট, আর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে তাদের হেডকোয়ার্টার বা সদর দপ্তর বসে।
সঠিক উত্তর: D) জারক রস বিতরণ করা
১. কেন সঠিক:
রক্ত মানুষের শরীরে অক্সিজেন, হরমোন এবং পুষ্টি উপাদান পরিবহণ করলেও জারক রস বা পরিপাক রস বিতরণ করে না।
জারক রস বা এনজাইম পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে সরাসরি খাদ্যনালীতে নিঃসৃত হয়, রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: রক্ত হলো এক ধরনের তরল সংযোজক কলা যা অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্ষাইড, পুষ্টিদ্রব্য এবং হরমোন সারা শরীরে বহন করে।
কার্যপ্রণালি: রক্তের তরল অংশ প্লাজমা হরমোন ও পুষ্টি উপাদান কোষে পৌঁছে দেয় এবং লাল রক্তকণিকা গ্যাসীয় আদান-প্রদান সম্পন্ন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অগ্ন্যাশয় রস
ব্যাখ্যা: অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত জারক রস নালীর মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে খাদ্য পরিপাক করে, রক্তে মিশে বিতরণ হয় না।
উদাহরণ ২: গ্যাস্ট্রিক জুস
ব্যাখ্যা: পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে জারক রস সরাসরি পাকস্থলীর গহ্বরে আসে, রক্ত এর সাথে সম্পর্কিত নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অক্সিজেন বিতরণ করা — ফুসফুস থেকে সংগৃহীত অক্সিজেন রক্তে হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে সারা দেহের কোষে সরবরাহ হয়।
B) হরমোন বিতরণ করা — অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে লক্ষ্য অঙ্গে পৌঁছায়।
C) কার্বন ডাই-অক্ষাইড পরিবহণ করা — কোষের বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্ষাইড রক্ত দ্বারা ফুসফুসে বাহিত হয়।
D) জারক রস বিতরণ করা — এটি পরিপাকতন্ত্রের কাজ, রক্তের কাজ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রক্ত কেবল গ্যাস, পুষ্টি ও হরমোন বহন করে কিন্তু পাচক রস বা এনজাইম নালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে কাজ করে।
রক্তের কাজ মনে রাখতে OCH সূত্র মনে রাখতে পারো যেখানে O মানে অক্সিজেন, C মানে কার্বন ডাই-অক্ষাইড এবং H মানে হরমোন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
রক্তের উপাদান এবং তাদের কাজ থেকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
রক্তরস কী এবং রক্তের প্লাজমায় কী পরিমাণ পানি থাকে, তা জেনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ১০০
১. কেন সঠিক:
- সুস্থ মানুষের বিশ্রামরত অবস্থায় স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হয়ে থাকে।
- হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১০০ বারের বেশি হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ট্যাকিকার্ডিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতিতে রক্ত পাম্প করতে শুরু করে।
- কার্যপ্রণালি: সাইনোট্রিয়াল নোডের অতিরিক্ত সক্রিয়তা বা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের ত্রুটির কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশিগুলো খুব দ্রুত সংকুচিত হয়।
- কারণ ও ফলাফল: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক উদ্বেগ, জ্বর বা ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে এটি হতে পারে এবং এর ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রচণ্ড দৌড়ানোর পর একজন সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন হঠাৎ করে প্রতি মিনিটে ১১০ বার পর্যন্ত হতে পারে।
ব্যাখ্যা: এটি শারীরিক পরিশ্রমের কারণে সাময়িক ট্যাকিকার্ডিয়ার একটি স্বাভাবিক উদাহরণ।
উদাহরণ ২: অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানের পর বুক ধড়ফড় করা।
ব্যাখ্যা: ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় যা ট্যাকিকার্ডিয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪০ — ৪০ হৃদস্পন্দন অত্যন্ত কম এবং একে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়, যা ট্যাকিকার্ডিয়া নয়।
B) ৬০ — ৬০ হলো স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের নিম্নসীমা, তাই এটি বেশি নয়।
সি) ৯০ — ৯০ স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন সীমার মধ্যে রয়েছে, যা ১০০ এর কম।
ডি) ১০০ — ১০০ এর বেশি হলে তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া বলা হয়, তাই এটি সঠিক।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ট্যাকিকার্ডিয়া শব্দটি মনে রাখতে টেকো মানুষের দ্রুত মাথা গরম হওয়ার কথা ভাবতে পারেন, যেমন ট্যাকিকার্ডিয়া মানে দ্রুত হৃদস্পন্দন।
- সাধারণ হৃদস্পন্দন ষাট থেকে একশো এর মধ্যে থাকে, এর বেশি হলেই ট্যাকিকার্ডিয়া।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- হৃদস্পন্দন ষাটের কম হলে তাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়।
- বিসিএস পরীক্ষায় মানবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক মান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: B) এসপিরিন
১. কেন সঠিক:
এসপিরিন রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
এর ফলে রক্তনালীর ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: এসপিরিন হলো একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ও নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ।
কার্যপ্রণালি: এটি মানবদেহের সাইক্লোঅক্সিজেনেস এনজাইমকে বাধাগ্রস্ত করে থ্রম্বোক্সেন এ দুই উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
কারণ ও ফলাফল: থ্রম্বোক্সেন কমে যাওয়ায় অণুচক্রিকাগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না এবং রক্ত পাতলা থাকে।
বাস্তব প্রয়োগ: হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ডাক্তাররা প্রতিদিন কম মাত্রার এসপিরিন সেবন করার পরামর্শ দেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকরা রোগীকে এসপিরিন চিবিয়ে খেতে দেন।
ব্যাখ্যা: এটি তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: দীর্ঘমেয়াদী রক্তনালীর চিকিৎসায় স্টেন্ট বসানোর পর চিকিৎসকরা এসপিরিন দেন।
ব্যাখ্যা: এটি কৃত্রিম নালীতে রক্ত জমাট বেঁধে ব্লক তৈরি হতে বাধা দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডাইক্লোফেনাক — এটি একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ঔষধ, যা রক্ত পাতলা করে না।
B) এসপিরিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি রক্ত পাতলা রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে।
C) প্যারাসিটামল — এটি সাধারণত জ্বর ও মৃদু ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, রক্ত জমাট বাঁধার ওপর এর প্রভাব নেই।
D) প্যাথেডিন — এটি একটি শক্তিশালী মরফিনজাতীয় মাদকদ্রব্য যা তীব্র ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করতে এসপিরিন নামের প্রথম অক্ষর এস এবং স্ট্রোকের সঙ্গে মিল মনে রাখতে পারেন।
এসপিরিন রক্তনালীতে ট্রাফিক জ্যাম বা জমাট বাঁধা রোধ করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এসপিরিন মূলত এসিটাইলসাইলিসিলিক অ্যাসিড নামে পরিচিত যা একটি জৈব অম্ল।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে কোন উপাদানটি প্লাটিলেটের কার্যকারিতা কমায়।
সঠিক উত্তর: B) এডিস
১. কেন সঠিক:
- ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহনকারী মূল বাহক হলো এডিস প্রজাতির মশা, বিশেষ করে এডিস এইজিপ্টি মশা।
- এই মশাগুলো ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু এক সুস্থ মানুষের দেহে ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রোগ, জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ
- কার্যপ্রণালি: এডিস মশার দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করলে, মশাটি যখন সুস্থ মানুষকে কামড়ায় তখন লালার মাধ্যমে রক্তে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
- কারণ ও ফলাফল: ভাইরাসটি মানবদেহে বংশবৃদ্ধি করে এবং রক্তে platelets বা অনুচক্রিকা কমিয়ে দেয়, যার ফলে ডেঙ্গু জ্বর হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: দিনের বেলা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে, তাই ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এর বিস্তার রোধ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাসার টব বা এসির জমে থাকা পরিষ্কার পানি।
ব্যাখ্যা: এ ধরনের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মায় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
উদাহরণ ২: দিনের বেলা কামড়ানো।
ব্যাখ্যা: এডিস মশা সাধারণত রাতের বদলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে বেশি কামড়ায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কিউলেক্স — এটি ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ এবং জাপানি এনসেফ্যালাইটিস রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে, ডেঙ্গুর জন্য নয়।
B) এডিস — এটি ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের প্রধান বাহক এবং সঠিক উত্তর।
C) অ্যানাফিলিস — এটি ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে, ডেঙ্গু ছড়ায় না।
D) সব ধরনের মশা — সব মশা ডেঙ্গু ছড়ায় না, কেবল নির্দিষ্ট প্রজাতির স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ডেঙ্গু মশা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলা কামড়ায়, এই দুটি কথা মনে রাখলে সহজেই এডিস মশাকে চেনা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এডিস মশা ডেঙ্গু ছাড়াও চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভার বা পীতজ্বর ছড়ায়।
- ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানাফিলিস মশা আর ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশা, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
প্রশ্নের ধরন: মানবদেহ ও শারীরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: C) মুখগহ্বরে
বিঃদ্রঃ প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে পাকস্থলীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। মানবদেহে খাদ্য হজম প্রক্রিয়া বা পরিপাক মূলত মুখগহ্বর থেকেই শুরু হয়। লালারসের উপস্থিত এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাক শুরু করে।
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহে খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই পরিপাক প্রক্রিয়া শুরু হয় মুখগহ্বরে।
- মুখের ভেতরে থাকা লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসে অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে যা শর্করা ভাঙতে শুরু করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পরিপাক হলো জটিল খাদ্যবস্তু ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য অণুতে পরিণত হওয়ার জৈবিক প্রক্রিয়া।
- কার্যপ্রণালি: মুখগহ্বরে দাঁত খাদ্যকে পিষে ছোট করে এবং লালারসের সঙ্গে মিশে রাসায়নিক পরিপাক শুরু করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মুখে ভাত বা রুটি দীর্ঘক্ষণ চিবোলে মিষ্টি লাগে।
ব্যাখ্যা: লালারসের অ্যামাইলেজ এনজাইম শর্করাকে ভেঙে শর্করা জাতীয় সরল উপাদানে পরিণত করে।
উদাহরণ ২: শুকনো বিস্কুট মুখে দিলে তা নরম ও পিচ্ছিল হয়।
ব্যাখ্যা: লালারসের মিউসিন খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে গিলতে সাহায্য করে এবং পরিপাকের সূচনা করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পাকস্থলীতে — পাকস্থলীতে প্রধানত আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক শুরু হয়, তবে পরিপাক প্রক্রিয়াটি মুখগহ্বর থেকেই শুরু হয়ে এখানে এসে অব্যাহত থাকে।
B) ক্ষুদ্রান্ত্রে — ক্ষুদ্রান্ত্রে মূলত পরিপাকের বেশিরভাগ কাজ সমাপ্ত হয় এবং পুষ্টি উপাদান শোষিত হয়, এটি সূচনার স্থান নয়।
D) বৃহদান্ত্রে — বৃহদান্ত্রে কোনো খাদ্য পরিপাক হয় না, এখানে মূলত পানি ও খনিজ লবণ শোষিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
খাবার মুখে তুললেই পরিপাক শুরু হয়, তাই মনে রাখবে মুখগহ্বর হলো পরিপাকের আদিবিন্দু। শর্করা পরিপাকের সূচনা মুখেই ঘটে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
লালারসের এনজাইমের নাম টায়ালিন বা অ্যামাইলেজ এবং এর কাজ শর্করা পরিপাক করা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পরিপাকের সূচনার স্থান নিয়ে প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: B) মেলানিন
১. কেন সঠিক:
- মেলানিন হলো এক ধরণের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট যা মানুষের ত্বক, চুল এবং চোখের আইরিশের রঙ নির্ধারণ করে।
- ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের মেলানোসাইট কোষ থেকে এই মেলানিন উৎপন্ন হয় এবং এটি সূর্যরহিত অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মেলানোসাইট নামক বিশেষ কোষ থেকে মেলানিন উৎপাদিত হয় এবং এর পরিমাণ বেশি থাকলে ত্বক অন্ধকার বা শ্যামলা হয় আর কম থাকলে ত্বক ফর্সা হয়।
- কার্যপ্রণালি: অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসলে মেলানিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যার ফলে মানুষ রোদে গেলে তামাটে বা রোদপোড়া রঙ ধারণ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: বিষুবীয় অঞ্চলের মানুষের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকে যা তাদের তীব্র রোদ ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর মানুষের ত্বক ও চুলে মেলানিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি তাদের অতিরিক্ত সূর্যালোক ও অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: আলবিনো বা শ্বেতীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে মেলানিন তৈরি হয় না।
ব্যাখ্যা: মেলানিনের অনুপস্থিতির কারণে তাদের ত্বক, চুল ও চোখের রঙ সম্পূর্ণ সাদা বা বর্ণহীন হয়ে যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) থায়ামিন — থায়ামিন হলো ভিটামিন বি এক যা শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে এবং এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
B) মেলানিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি মানুষের গায়ের রঙ নির্ধারণকারী মূল পিগমেন্ট।
C) ক্যারোটিন — ক্যারোটিন হলো একটি হলুদ বা কমলা রঙের রঞ্জক যা গাজর বা মিষ্টি আলুতে থাকে এবং এটি ত্বকের রঙ সামান্য প্রভাবিত করলেও মূল নিয়ামক নয়।
D) হিমোগ্লোবিন — হিমোগ্লোবিন হলো রক্তে উপস্থিত প্রোটিন যা অক্সিজেন বহন করে এবং এটি ত্বকে হালকা লালাভ বা গোলাপি আভা দিতে সাহায্য করে কিন্তু ত্বকের মূল রঙ নির্ধারণ করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মানুষের গায়ের রঙের সাথে মেলানিনের সম্পর্ক মনে রাখার জন্য মনে রাখতে হবে এম দিয়ে মেলানিন এবং এম দিয়েই মানুষের চামড়ার মেলানিন স্তর বোঝায়।
- অতিরিক্ত মেলানিন মানে গাঢ় রঙ এবং কম মেলানিন মানে ফর্সা রঙ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ত্বকের কোন কোষে মেলানিন উৎপন্ন হয় এই প্রশ্নটি প্রায়ই বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে যার সঠিক উত্তর মেলানোসাইট কোষ।
- ভিটামিন ডি তৈরিতে সূর্যের আলোর ভূমিকা থাকলেও ত্বকের সুরক্ষায় মেলানিন প্রধান ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: D) কোনটি নয়
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নে বলা হয়েছে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ কত হলে Thrombocytopenia বলে, যা একটি ভুল ধারণা।
- Thrombocytopenia হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে অণুচক্রিকা বা অনুচক্রিকার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: Thrombocytopenia হলো রক্তের এমন একটি ব্যাধি যেখানে অনুচক্রিকা বা প্লেটলেটের ঘাটতি দেখা দেয়।
- কারণ ও ফলাফল: এর ফলে শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হতে চায় না এবং ত্বকে কালচে দাগ বা রক্তবিন্দু দেখা দিতে পারে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডেঙ্গু জ্বর
ব্যাখ্যা: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অনেক সময় অনুচক্রিকা দ্রুত কমতে থাকে যা Thrombocytopenia অবস্থা নির্দেশ করে।
উদাহরণ ২: স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধা
ব্যাখ্যা: সুস্থ মানুষের রক্তে পর্যাপ্ত অনুচক্রিকা থাকায় ছোটখাটো কাটাছেঁড়ায় রক্ত দ্রুত জমাট বাঁধতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৮০০০ এর নিচে — এটি শ্বেত রক্ত কণিকার কোনো নির্দিষ্ট মান নয় এবং Thrombocytopenia এর সাথে সম্পর্কিত নয়।
B) ৪০০০ এর নিচে — এটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার স্বাভাবিক সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি, তবে এটি Thrombocytopenia নয়।
C) ১০০০০ এর নিচে — এটিও শ্বেত রক্ত কণিকার বা অনুচক্রিকার সঠিক রোগনির্ণয়ের মান নয়।
D) কোনটি নয় — সঠিক উত্তর কারণ Thrombocytopenia বলতে অনুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়াকে বোঝায়, শ্বেত রক্ত কণিকার নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- Thrombocytopenia শব্দটিতে Plaque বা Platelet এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যা অনুচক্রিকা নির্দেশ করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা কমে যাওয়াকে Leucopenia বলা হয় এবং অনুচক্রিকা কমে যাওয়াকে Thrombocytopenia বলা হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মানুষের রক্তে অনুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ঘন মিলিমিটারে দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ।
- অনুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা।
সঠিক উত্তর: D) ট্রিপসিন
১. কেন সঠিক:
ট্রিপসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম যা মানুষের অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়।
এটি আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে যা দেহ সহজে শোষণ করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: পরিপাকতন্ত্রের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য ভেঙে ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করার জৈবিক প্রক্রিয়া।
কার্যপ্রণালি: অগ্ন্যাশয় থেকে নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন হিসেবে এটি খুদ্রান্ত্রে আসে এবং এন্টারোকিনেজ এনজাইমের সাহায্যে সক্রিয় ট্রিপসিনে রূপান্তরিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাংস বা ডিম খাওয়ার পর অন্ত্রে ট্রিপসিন আমিষ ভেঙে ছোট পেপটাইড তৈরি করে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল আমিষ সরল উপাদানে পরিণত হয়ে রক্তে মিশতে পারে।
উদাহরণ ২: ডাল বা সয়াবিন জাতীয় উদ্ভিজ্জ আমিষ পরিপাকেও ট্রিপসিন কাজ করে।
ব্যাখ্যা: উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উভয় প্রকার আমিষ পরিপাকেই এই এনজাইমের ভূমিকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) টায়ালিন — টায়ালিন বা স্যালাইভা অ্যামাইলেজ মুখের লালায় থাকে এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
B) লাইপেজ — লাইপেজ এনজাইম চর্বি বা লিপিড জাতীয় খাদ্য হজমে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
C) এমাইলেজ — এমাইলেজ অগ্ন্যাশয় ও লালায় উপস্থিত থেকে জটিল শর্করাকে ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত করে।
D) ট্রিপসিন — এটি আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সরাসরি সাহায্য করে তাই এটি সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
আমিষ বা প্রোটিনের ইংরেজি শব্দের সঙ্গে ট্রিপসিন নামের মিল মনে রাখতে পারো।
শর্করার জন্য টায়ালিন আর আমিষের জন্য ট্রিপসিন এভাবে জোড়া মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের প্রধান প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম হলো পেপসিন ও ট্রিপসিন।
কোন এনজাইম কোন খাদ্য উপাদান পরিপাক করে, এই সংক্রান্ত প্রশ্ন বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: D) ভিটামিন-কে
১. কেন সঠিক:
ভিটামিন-কে মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী প্রোটিন তৈরি করতে অবারিত ভূমিকা পালন করে।
শরীরের কোথাও কেটে গেলে এই ভিটামিন রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ভিটামিন-কে হলো ফ্যাট সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয় এক প্রকার ভিটামিন যা যকৃতে প্রোথ্রোম্বিন তৈরি করে।
কার্যপ্রণালি: রক্তে কোনো আঘাত পেলে প্রোথ্রোম্বিন ফাইব্রিনজেনে রূপান্তরিত হয়ে জালের মতো গঠন তৈরি করে রক্ত জমাট বাঁধায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রান্নায় শাকসবজি ব্যবহার করা।
ব্যাখ্যা: পালং শাক বা বাঁধাকপিতে প্রচুর ভিটামিন-কে থাকে যা শরীরে এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে।
উদাহরণ ২: ছোটখাটো আঘাতের পর রক্ত জমাট বাঁধা।
ব্যাখ্যা: সুস্থ মানুষের শরীরে কেটে গেলে রক্ত দ্রুত জমে যায় যার পেছনে ভিটামিন-কে এর কাজ রয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন-সি — এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং মাড়ি শক্ত রাখে, তবে রক্ত জমাট বাঁধতে সরাসরি কাজ করে না।
B) ভিটামিন-বি — এটি স্নায়ুতন্ত্রের কাজ ঠিক রাখে এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে, রক্ত জমাট বাঁধার সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
C) ভিটামিন-ডি — এটি ক্যালসিয়াম শোষণ করে হাড় ও দাঁত শক্ত করে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় এর মূল ভূমিকা নেই।
D) ভিটামিন-কে — এটি রক্ত জমাট বাঁধার মূল উপাদান প্রোথ্রোম্বিন তৈরিতে সহায়তা করে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত বন্ধ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
কে (K) অক্ষরের সাথে কোয়াগুলেশন (Coagulation) বা রক্ত জমাট বাঁধার ইংরেজি শব্দটির মিল আছে।
এভাবে মনে রাখতে পারেন যে ভিটামিন-কে মানেই রক্ত জমাট বাঁধা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বহুবার এসেছে।
ভিটামিন-কে এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) শিশু
১. কেন সঠিক:
- পেডিয়াট্রিক শব্দটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখাকে নির্দেশ করে যা শিশু রোগ ও তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে।
- নবজাতক থেকে শুরু করে কৈশোর পর্যন্ত শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, বিকাশ এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা এর অন্তর্ভুক্ত।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পেডিয়াট্রিক্স বা শিশু চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেই শাখা যা শিশু স্বাস্থ্য ও রোগ নিয়ে আলোচনা করে।
- কার্যপ্রণালি: জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন জটিলতা এই বিভাগের মাধ্যমে নিরাময় করা হয়।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: কোনো নবজাতকের জন্মগত শ্বাসকষ্ট বা জন্ডিস হলে তাকে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিশিয়ানের কাছে নেওয়া হয়।
- ব্যাখ্যা: এটি শিশু দেহের সংবেদনশীল শারীরবৃত্তীয় অবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
- উদাহরণ ২: শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি পেডিয়াট্রিক ক্ষেত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ব্যাখ্যা: এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) পুরুষ — পুরুষদের স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখা কাজ করে তাকে অ্যান্ড্রোলজি বা ইউরোলজি বলা হয়, পেডিয়াট্রিক নয়।
- B) মহিলা — মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও রোগ সংক্রান্ত চিকিৎসাবিদ্যাকে গাইনোকোলজি বলা হয়, যা শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- C) শিশু — এই অপশনটি সঠিক কারণ পেডিয়াট্রিক শব্দটির আভিধানিক ও বৈজ্ঞানিক অর্থ শিশু স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা।
- D) বৃদ্ধ — বয়স্ক মানুষের বার্ধক্যজনিত রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখা কাজ করে তাকে জেরিয়াট্রিক্স বলা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পেডিয়াট্রিক শব্দের শুরুতে থাকা পেডিয়া অংশটি পেড বা শিশু শব্দ থেকে এসেছে, যা গ্রিক শব্দ পেয়েস থেকে উদ্ভূত।
- বয়স্কদের ক্ষেত্রে জেরিয়াট্রিক্স এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পেডিয়াট্রিক্স মনে রাখলে সহজে পার্থক্য করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার নাম প্রায়ই আসে।
- যেমন, চক্ষু চিকিৎসাকে অফথালমোলজি এবং ত্বক চিকিৎসাকে ডার্মাটোলজি বলা হয়।
সঠিক উত্তর: C) DNA-তে
১. কেন সঠিক:
মানবদেহের সমস্ত জিন মূলত ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের মধ্যে অবস্থান করে।
বংশগতির সমস্ত বৈশিষ্ট্য এবং সেলুলার কার্যাবলির নির্দেশিকা ডিএনএর ভেতরে কোডেড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: জিন হলো বংশগতির মৌলিক একক যা ক্রোমোজোমে অবস্থিত ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশ।
কার্যপ্রণালি: কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে ক্রোমোজোমের অংশ হিসেবে ডিএনএ থাকে এবং প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চোখের রঙের ভিন্নতা।
ব্যাখ্যা: মানুষের চোখের রঙ বাদামী বা নীল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জিন দায়ী যা ডিএনএ তে থাকে।
উদাহরণ ২: উচ্চতা নির্ধারণ।
ব্যাখ্যা: মানুষের লম্বা বা খাটো হওয়ার শারীরিক বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে ডিএনএ থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) RNA-তে — আরএনএ মূলত প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং কোষের বার্তা পরিবহনে কাজ করে, জিন ধারণ করা এর প্রধান কাজ নয়।
B) RBC-তে — পূর্ণাঙ্গ লোহিত রক্তণিকায় নিউক্লিয়াস বা ডিএনএ থাকে না, তাই এতে মানব জিন থাকে না।
D) সাইটোপ্লাজমে — সাইটোপ্লাজম কোষের অন্যান্য অঙ্গাণু ধারণ করে, কিন্তু মূল জিন বা নিউক্লীয় ডিএনএ নিউক্লিয়াসে থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
জিন মানেই বংশগতির ব্লুপ্রিন্ট এবং এই ব্লুপ্রিন্ট সবসময় ডিএনএ ফ্রেমে সংরক্ষিত থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের কোষে সাধারণত তেইশ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে যার মূল উপাদান ডিএনএ।
পরীক্ষায় প্রায়ই আসে বংশগতির মূল একক কী, যার উত্তর হবে জিন।
সঠিক উত্তর: B) ক্রোমোজোম
১. কেন সঠিক:
- ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত বংশগতির মূল ধারক যা পিতা-মাতা থেকে সন্তানের দেহে বৈশিষ্ট্য স্থানান্তর করে।
- এতে ডিএনএ এবং প্রোটিন থাকে যা জীবের শারীরিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াপ্রোটিন দ্বারা গঠিত সুতার মতো অংশ যা জিনের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- কার্যপ্রণালি: কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমগুলো সমানভাবে বিভক্ত হয়ে নতুন কোষে বংশগত তথ্য পৌঁছে দেয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: মানুষের চোখের রঙ, চুলের ধরন বা উচ্চতা নির্ধারণে ক্রোমোজোমে থাকা জিন কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানুষের চুল কোঁকড়ানো বা সোজা হওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি পিতামাতার দেহ থেকে ক্রোমোজোমের মাধ্যমে সন্তানে স্থানান্তরিত হয়।
উদাহরণ ২: বাবা-মায়ের চোখের রঙ বাদামী হলে সন্তানের চোখের রঙ বাদামী হওয়া।
ব্যাখ্যা: ক্রোমোজোমে থাকা জিনের বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সাইটোপ্লাজম — এটি কোষের নিউক্লিয়াসের বাইরের জেলি সদৃশ অংশ যা অঙ্গাণু ধারণ করে, বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে না।
B) ক্রোমোজোম — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি জীবের বংশগতির বৈশিষ্ট্য সরাসরি বহন করে।
C) নিউক্লিয়াস — এটি কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র যেখানে ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু নিজে সরাসরি বংশগতির একক বা বাহক নয়।
D) নিউক্লিওলাস — এটি নিউক্লিয়াসের ভেতরের ঘন গোল আকৃতির বস্তু যা রাইবোসোম তৈরি করে, বংশগতি বহন করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্রোমোজোম শব্দটির সাথে ক্রম কথাটি মনে রাখতে পারেন, যা বংশের ক্রম বা ধারা বজায় রাখে।
- বংশগতির বাহক বললেই ক্রোমোজোমের কথা মাথায় আনতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি কোষ ও বংশগতি অধ্যায় থেকে প্রায়ই আসে।
- জিন, ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: B) নেফ্রন
১. কেন সঠিক:
বৃক্কের গঠন ও কাজের একক হলো নেফ্রন। মানবদেহের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ নেফ্রন থাকে যা রক্ত ছেঁকে মূত্র উৎপাদন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নেফ্রন রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে শরীর থেকে অপসারণ করে।
কার্যপ্রণালি: নেফ্রনের রেনাল করপাসল অংশ রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ আলাদা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ছাঁকনি দিয়ে চা পাতা আলাদা করা।
ব্যাখ্যা: যেভাবে ছাঁকনি তরল রেখে কঠিন পাতা আটকায়, নেফ্রন ঠিক তেমনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে নেয়।
উদাহরণ ২: পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট।
ব্যাখ্যা: প্ল্যান্ট যেভাবে ময়লা পানি পরিশ্রুত করে পানযোগ্য করে, নেফ্রনও রক্তকে সেভাবে পরিশোধিত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিউরন - এটি স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক, যা উদ্দীপনা পরিবহন করে।
B) নেফ্রন - এটি বৃক্কের গঠন ও কাজের একক এবং সঠিক উত্তর।
C) পেসমেকার - এটি হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণ নিয়ন্ত্রণকারী কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক যন্ত্র।
D) হেপাটোসাইট - এটি যকৃতের প্রধান কোষ যা পিত্তরস তৈরি ও বিপাকক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বৃক্ক বা কিডনির সাথে নেফ্রন শব্দটি যুক্ত, তাই মনে রাখবে কিডনি মানেই নেফ্রন। স্নায়ুর সাথে নিউরন যুক্ত থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিটি মানব বৃক্কে নেফ্রনের সংখ্যা প্রায় দশ লক্ষ। এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: D) প্যাথজেনিক
১. কেন সঠিক:
- যেসব অণুজীব মানবদেহ বা অন্য জীবের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, তাদের সাধারণভাবে প্যাথজেন বা প্যাথজেনিক অণুজীব বলা হয়।
- এই অণুজীবগুলো পোষক দেহের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্যাথজেন বা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু হলো এমন সব ক্ষুদ্র জীব বা কণা যা রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
- কার্যপ্রণালি: এরা পোষক দেহের ভেতরে বংশবৃদ্ধি করে, বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন করে এবং টিস্যু ধ্বংস করে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট নিমোনিয়া রোগ।
ব্যাখ্যা: ডিপ্লোকোকাস নিমোনি নামের ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসে আক্রমণ করে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসকষ্ট তৈরি করে।
উদাহরণ ২: ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সর্দি-কাশি।
ব্যাখ্যা: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মানবদেহের শ্বাসনালীর কোষে প্রবেশ করে এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রোগ ছড়ায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইনফেকশন — এটি রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নাম নয়, বরং জীবাণুর দ্বারা দেহে সংক্রমণ ঘটার অবস্থাকে বোঝায়।
B) ফ্লোরা — এটি কোনো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নয়, বরং মানবদেহ বা পরিবেশের স্বাভাবিক ও উপকারী অণুজীবের সমষ্টি।
C) টক্সিন — এটি কোনো অণুজীব নয়, বরং প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীব কর্তৃক উৎপাদিত ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ।
D) প্যাথজেনিক — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি রোগ সৃষ্টকারী অণুজীব বা গুণাবলিকে নির্দেশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- প্যাথজেন শব্দটির সঙ্গে প্যাথোলজি বা রোগবিদ্যা শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখা যায়।
- প্যাথ অর্থ রোগ এবং জেন অর্থ উৎপাদনকারী, অর্থাৎ যা রোগ উৎপাদন করে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া সবাই প্যাথজেনের অন্তর্ভুক্ত।
- একই ধারণা থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে যে মানবদেহের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি।
সঠিক উত্তর: B) যকৃত
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহের হেপাটিক পোর্টাল শিরা পরিপাকতন্ত্র এবং প্লীহা থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত সরাসরি যকৃতে বহন করে নিয়ে আসে।
- যকৃতে এই রক্তের পুষ্টি উপাদানগুলো প্রক্রিয়াজাত হয় এবং ক্ষতিকর পদার্থসমূহ ফিল্টার বা নিষ্কাশিত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পোর্টাল সিস্টেম হলো এমন একটি রক্তসংবহনতন্ত্র যেখানে একটি কৈশিক জালিকা থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে না গিয়ে অন্য কোনো অঙ্গের কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করে।
- কার্যপ্রণালি: অন্ত্র থেকে শোষিত গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পোর্টাল শিরার মাধ্যমে প্রথমে যকৃতে জমা হয় এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষণ
ব্যাখ্যা: অন্ত্রে খাদ্য পরিপাক হওয়ার পর গ্লুকোজ হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায় এবং গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত হয়।
উদাহরণ ২: বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ
ব্যাখ্যা: রক্তে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে এসে নিষ্ক্রিয় বা কম ক্ষতিকর উপাদানে রূপান্তরিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চোখ — চোখ একটি সংবেদনশীল অঙ্গ এবং এর সাথে অপটিক স্নায়ু যুক্ত থাকে, কোনো পোর্টাল শিরা নয়।
B) যকৃত — এটি সঠিক উত্তর কারণ যকৃতের সাথেই হেপাটিক পোর্টাল শিরা সরাসরি যুক্ত থাকে।
C) মস্তিষ্ক — মস্তিষ্ক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ এবং এর সাথে ক্যারোটিড artery ও জুগুলার ভেইন যুক্ত থাকে।
D) কিডনি — কিডনি রেচনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ এবং এর সাথে রেনাল ধমনি ও রেনাল শিরা যুক্ত থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
পোর্টাল শিরা মানেই যকৃত বা হেপাটিক সিস্টেম। মানবদেহে পরিপাকতন্ত্রের রক্ত সরাসরি যকৃতে পৌঁছানোর এই বিশেষ পথটিকে হেপাটিক পোর্টাল সিস্টেম বলা হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। যকৃতকে মানবদেহের প্রধান জৈব রসায়নগার বলা হয় কারণ এটি পোর্টাল শিরার মাধ্যমে আসা রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান বিপাক করে।
সঠিক উত্তর: C) পিটুইটারী
১. কেন সঠিক:
- পিটুইটারী গ্রন্থিকে মানবদেহের প্রধান বা সর্বময় কর্তা গ্রন্থি বলা হয় কারণ এটি অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এই গ্রন্থিটি নিজে হরমোন নিঃসরণ করার পাশাপাশি অন্য গ্রন্থিগুলোকে হরমোন তৈরিতে উদ্দীপিত করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পিটুইটারী গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ছোট এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদন করে।
- কার্যপ্রণালি: এটি ট্রপিক হরমোন নিঃসরণ করে যা থাইরয়েড, এড্রেনাল ও প্রজনন গ্রন্থির কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: মানবদেহের বৃদ্ধি, বিপাক ক্রিয়া এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় এই গ্রন্থির উৎপাদিত হরমোন সরাসরি প্রভাব ফেলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানবদেহের দৈহিক বৃদ্ধি।
ব্যাখ্যা: পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত গ্রোথ হরমোন শিশুদের হাড় ও পেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উদাহরণ ২: শরীরের পানির সমতা রক্ষা।
ব্যাখ্যা: এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন বৃক্কে পানির শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে রক্তের চাপ স্বাভাবিক রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এড্রেনাল — এটি বৃক্কের ওপরে অবস্থিত জরুরি হরমোন তৈরি করে তবে সব গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে না।
B) থাইরয়েড — এটি বিপাক হার নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন তৈরি করলেও অন্য গ্রন্থির প্রধান নয়।
C) পিটুইটারী — এটি অন্যান্য প্রধান গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে গ্রন্থির রাজা বলা হয়।
D) থাইমাস — এটি ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে বিশেষভাবে কাজ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- পিটুইটারী গ্রন্থিকে মনে রাখতে পারো দেও বা রাজা হিসেবে যা শরীরের সব হরমোন কারখানাকে পরিচালনা করে।
- এটি মস্তিষ্কের নিচে মুকুটের মতো বসে থাকে তাই একে রাজা বলা হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পিটুইটারী গ্রন্থিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড বা প্রধান গ্রন্থি বলা হয়।
- এই গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোন বা বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয় যার অভাবে বামনত্ব দেখা দেয়।
সঠিক উত্তর: C) কার্বন মনোক্সাইড
১. কেন সঠিক:
- কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন নামক স্থায়ী যৌগ গঠন করে।
- এর ফলে রক্তে অক্সিজেন বহন করার স্বাভাবিক ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং কোষে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: হিমোগ্লোবিন হলো রক্তের লোহিত রক্তণিকায় থাকা একটি প্রোটিন, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে সরবরাহ করে।
- কার্যপ্রণালি: কার্বন মনোক্সাইডের প্রতি হিমোগ্লোবিনের আসক্তি বা বাঁধার ক্ষমতা অক্সিজেনের তুলনায় প্রায় দুইশত থেকে আড়াইশত গুণ বেশি।
- কারণ ও ফলাফল: এই গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে খুব শক্তভাবে আটকে থাকে ফলে অক্সিজেন আর হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না এবং টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: বদ্ধ ঘরে বা গ্যারেজে গাড়ি চালিয়ে রাখলে উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে মানুষ অবশ হয়ে মারা যায়।
- ব্যাখ্যা: কারণ এই গ্যাস রক্তের অক্সিজেন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে ব্রেন ও হৃৎপিণ্ডকে অকার্যকর করে ফেলে।
- উদাহরণ ২: অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করলে রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- ব্যাখ্যা: এর ফলে ধূমপায়ীদের শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষমতা কমে যায় এবং তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নাইট্রিক অক্সাইড — এটি রক্তনালীর প্রসারণ ঘটাতে সাহায্য করে তবে অক্সিজেনের সঙ্গে হিমোগ্লোবিনের সংযোগ সরাসরি খর্ব করে না।
B) সালফার ডাই-অঙ্গার বা সালফার ডাই-অক্সাইড — এটি প্রধানত শ্বাসনালীতে অস্বস্তি ও ফুসফুসের প্রদাহ সৃষ্টি করে কিন্তু রক্তে সরাসরি কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে না।
C) কার্বন মনোক্সাইড — এটি হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা খর্ব করে বলে এটি সঠিক উত্তর।
D) কার্বন ডাই-অক্সাইড — এটি শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ এবং এটি হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা খর্ব করে না বরং বোর প্রভাবে অক্সিজেন ছাড়তে সাহায্য করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মনোক্সাইড শব্দটিতে মনো অর্থ এক অর্থাৎ কার্বনের একটি পরমাণু যুক্ত হয়ে হিমোগ্লোবিনকে বন্দী করে ফেলে।
- এই বিষাক্ত গ্যাসকে নীরব ঘাতক বলা হয় কারণ এর কোনো রঙ বা গন্ধ থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে কার্বন মনোক্সাইডের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা শতগুণ বেশি।
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাসকারী গ্যাস হিসেবে কার্বন মনোক্সাইডের নাম জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: A) ফিমার
১. কেন সঠিক:
মানবদেহের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে শক্ত অস্থি হলো ফিমার, যা আমাদের উরুতে অবস্থিত। এটি শরীরের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বাংশের ভার বহন করে এবং চলাফেরায় প্রধান ভূমিকা রাখে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মানবদেহে মোট দুইশত ছয়টি অস্থি থাকে যা অক্ষীয় ও উপাঙ্গীয় কঙ্কালে বিভক্ত।
কার্যপ্রণালি: ফিমার অস্থি ওপরের দিকে পেলভিস বা শ্রোণচক্রের অ্যাসিটাবুলামের সঙ্গে এবং নিচের দিকে টিবিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাঁটু ও হিপ জয়েন্ট গঠন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দৌড়ানোর সময় বা লাফানোর সময় ফিমার তীব্র ঘাত সহ্য করে।
ব্যাখ্যা: এই অস্থিটি অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় যান্ত্রিক চাপ সহ্য করতে পারে।
উদাহরণ ২: ভারী বস্তু বহন করার সময় উরুর পেশির সঙ্গে ফিমার যুক্ত হয়ে কাজ করে।
ব্যাখ্যা: এটি শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে লিভার বা লিভারের মতো কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফিমার — এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম অস্থি।
B) টিবিয়া — এটি পায়ের নিচের অংশের বা শিন বোনের অংশ যা ফিমারের চেয়ে ছোট।
C) স্টেপস — এটি মানবদেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি যা কানের ভেতরে থাকে।
D) রেডিয়াস — এটি হাতের কবজি ও কনুইয়ের মধ্যবর্তী অস্থি যা ফিমারের তুলনায় অনেক ছোট।
৫. মনে রাখার টিপস:
সবচেয়ে বড় বা দীর্ঘ অস্থি মনে রাখতে ফিমার শব্দটি মনে রাখুন। শরীরের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরিমাপ করলে উরুর অস্থিই সবচেয়ে লম্বা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের দীর্ঘতম অস্থি ফিমার এবং ক্ষুদ্রতম অস্থি স্টেপস সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। একই সঙ্গে মানবদেহের সবচেয়ে শক্ত অংশ কোনটি, এই প্রশ্নও আসতে পারে।
প্রশ্নের ধরন: মানবদেহ ও শারীরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: D) none (সঠিক উত্তর হবে ১৩৫ থেকে ১৪৫ মিলিগ্রাম পার লিটার বা mmol/L)
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নে প্রদত্ত কোনো অপশনই মানবদেহের রক্তে সোডিয়াম আয়নের প্রকৃত স্বাভাবিক মানের সঙ্গে মেলে না।
- মানবদেহের রক্তরসে সোডিয়াম আয়নের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ১৩৫ থেকে ১৪৫ mmol/L এর মধ্যে থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সোডিয়াম হলো শরীরের একটি প্রধান ইলেক্ট্রোলাইট যা কোষের বাইরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- কার্যপ্রণালি: এটি স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ এবং পেশির সংকোচন স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পানি বের হয়ে গেলে ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা: এটি রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা সাময়িক কমে যাওয়ার ফল যা শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট করে।
উদাহরণ ২: চিকিৎসায় স্যালাইন ব্যবহারের সময় শরীরে সোডিয়াম ও লবণের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি রোগীর কোষে পুষ্টি ও তরল সরবরাহ নিশ্চিত করে পানিশূন্যতা দূর করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 120-130 mmol/L — এই মানটি স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং এটি হাইপোনাট্রেমিয়া নামক অবস্থার নির্দেশ করে।
B) 135-155 mmol/L — এই পরিসীমাটি অনেক বেশি বিস্তৃত এবং এর উচ্চসীমা স্বাভাবিক মানের চেয়ে বেশি।
C) 160-170 mmol/L — এই মানটি অত্যন্ত বেশি এবং এটি হাইপারন্যাট্রেমিয়া নামক মারাত্মক অবস্থার নির্দেশ করে।
D) none — এই অপশনটি সঠিক কারণ ক, খ ও গ এর কোনো মানই প্রকৃত স্বাভাবিক মানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সোডিয়ামের স্বাভাবিক মান মনে রাখতে ১৩৫ থেকে ১৪৫ সংখ্যা দুটি মনে রাখবে।
- এটি মানবদেহের রক্তের পিএইচ মান ৭ দশমিক ৩ পাঁচ থেকে ৭ দশমিক ৪৫ এর পরিমাপের সঙ্গে মিল রেখে মনে রাখা সহজ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়াকে হাইপোনাট্রেমিয়া এবং বেড়ে যাওয়াকে হাইপারন্যাট্রেমিয়া বলে।
- এই ধরনের ইলেক্ট্রোলাইট সংক্রান্ত প্রশ্ন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) ৬
১. কেন সঠিক:
- সুষম খাদ্যে দেহের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকতে হয়।
- এই ছয়টি উপাদান খাদ্যের প্রধান পুষ্টি উপাদান হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সুষম খাদ্য হলো এমন একটি খাদ্য, যাতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ছয়টি পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে উপস্থিত থাকে।
- কার্যপ্রণালি: এই উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্রে ভেঙে শক্তির জোগান দেয়, কোষ গঠন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- বাস্তব প্রয়োগ: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূল রেখে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এক প্লেট ভাতে শর্করা, মাছে আমিষ, সয়াবিন তেলে স্নেহ, এবং সালাদে ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি সুষম খাদ্যের বাস্তব রূপ, যা দেহের সব ধরনের পুষ্টির ঘাটতি একসঙ্গে পূরণ করে।
উদাহরণ ২: অসুস্থ রোগীকে ফলের জুস ও সুপ খাওয়ানো।
ব্যাখ্যা: এটি দ্রুত দেহে পুষ্টি ও পানি সরবরাহ করে শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪ — মানবদেহের প্রধান পুষ্টি উপাদান চারliegen বা চারটি ভিটামিন-মিনারেল বোঝাতে এটি ভুল সংখ্যা।
B) ৫ — খাদ্যের প্রধান উপাদান হিসেবে পাঁচ সংখ্যাটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়, কারণ পানি ও খনিজ লবণ আলাদা ধরা হয়।
D) ৭ — সুষম খাদ্যের মৌলিক উপাদান ছয়টি, তাই সাত সংখ্যাটি এই ধারণার সঙ্গে মেলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শামি শাকে ভিটামিন পানি খায়, এই ছড়ার মাধ্যমে ছয়টি উপাদানের প্রথম অক্ষর মনে রাখা যায়।
- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি - এই ক্রমটি মনে রাখলেই উত্তর নিশ্চিত করা সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি এবং কোনটি কোন কাজের জন্য দায়ী, তা BCS ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে শক্তি উৎপাদক উপাদান হলো শর্করা ও স্নেহ, আর দেহগঠনকারী উপাদান হলো আমিষ।
সঠিক উত্তর: B) ১২ জোড়া
১. কেন সঠিক:
- মানব মস্তিষ্কের বেইস বা তলদেশ থেকে উৎপন্ন হয়ে যে সমস্ত স্নায়ু মাথা ও ঘাড়ের বিভিন্ন অংশে সংকেত আদান-প্রদান করে, তাদেরকে করোটি স্নায়ু বা ক্র্যানিয়াল নার্ভ বলা হয়।
- মানুষের মস্তিষ্কে এ ধরনের স্নায়ু মোট ১২ জোড়া বা ২৪টি থাকে, যা আমাদের দর্শন, শ্রবণ, স্বাদ গ্রহণ ও মুখের পেশি চালনা করতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: করোটি স্নায়ু হলো পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্রের অংশ যা সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভূত হয়ে সারা শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে বার্তা পৌঁছে দেয়।
- কার্যপ্রণালি: এই স্নায়ুগুলোর কিছু সংবেদী যা বাইরের উদ্দীপনা মস্তিষ্কে নেয়, কিছু চেষ্টীয় যা মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ পেশিতে পাঠায় এবং কিছু মিশ্র প্রকৃতির হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: আমরা চোখে যা দেখি বা কানে যা শুনি, তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে এই করোটি স্নায়ুগুলো সরাসরি কাজ করে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানুষের অপটিক স্নায়ু।
ব্যাখ্যা: এটি দ্বিতীয় করোটি স্নায়ু যা চোখ থেকে মস্তিষ্কে দৃশ্য বা প্রতিবিম্বের সংকেত প্রেরণ করে।
উদাহরণ ২: মানুষের ভেগাস স্নায়ু।
ব্যাখ্যা: এটি দশম করোটি স্নায়ু যা হৃদপিণ্ড ও পরিপাকতন্ত্রের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১০ জোড়া — এটি ভুল কারণ মানুষের করোটি স্নায়ুর সংখ্যা ১০ জোড়া নয়, বরং সঠিক সংখ্যা হলো ১২ জোড়া।
B) ১২ জোড়া — এটি সঠিক অপশন এবং মানুষের মস্তিষ্কের করোটি স্নায়ুর সঠিক সংখ্যা এটিই।
C) ১৫ জোড়া — এটি ভুল কারণ মানুষের শারীরবৃত্তীয় গঠনে করোটি স্নায়ুর সংখ্যা ১৫ জোড়া কখনো হয় না।
D) ৮ জোড়া — এটি ভুল কারণ ৮ জোড়া হলো মানুষের সারভাইকাল বা গ্রীবা দেশীয় সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা, করোটি স্নায়ুর নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মানুষের করোটি স্নায়ুর সংখ্যা মনে রাখতে ১২ সংখ্যাটি মনে রাখুন, যা বছরের মাস সংখ্যার সমান।
- ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা করোটি স্নায়ু মাথা থেকে শুরু হয় এবং সংখ্যায় জোড়ায় জোড়ায় কাজ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- করোটি স্নায়ুর মোট সংখ্যা ১২ জোড়া—এই তথ্যটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
- এখান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে সবচেয়ে দীর্ঘ বা বৃহত্তম করোটি স্নায়ু কোনটি, যার উত্তর হলো ভেগাস স্নায়ু।
সঠিক উত্তর: A) হেপাটাইটিস-A
১. কেন সঠিক:
- হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস মূলত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং যকৃতে সংক্রমণ ঘটায়।
- এটি রক্ত বা শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়ায় না, বরং একে ফেক্যাল-ওরাল বা মল-মুখ পন্থায় সংক্রমিত রোগ বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রোগ, জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ।
- কার্যপ্রণালি: সংক্রামিত ব্যক্তির মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে এই ভাইরাস সুস্থ মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে এবং যকৃতে পৌঁছায়।
- বাস্তব প্রয়োগ: খাওয়ার আগে হাত সাবান দিয়ে ধোয়া এবং ফোটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডায়রিয়া বা কলেরার মতো রোগ যেভাবে দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসও ঠিক একইভাবে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত সংস্পর্শ বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
উদাহরণ ২: কোনো হেপাটাইটিস-এ আক্রান্ত ব্যক্তি খাবার প্রস্তুত করলে এবং সেই খাবার অন্যরা খেলে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্যাখ্যা: এটি রক্তের মাধ্যমে নয় বরং খাদ্যের হাইজিনের ওপর নির্ভর করে ছড়ায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হেপাটাইটিস-A — এটি খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়, রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় না বিধায় এটি সঠিক উত্তর।
B) হেপাটাইটিস-B — এটি সংক্রামিত রক্ত, সিরিঞ্জ বা শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।
C) ম্যালেরিয়া — এটি অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে ছড়ায়।
D) হেপাটাইটিস-C — এটি প্রধানত সংক্রামিত রক্ত এবং রক্তের উপাদানের মাধ্যমে ছড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হেপাটাইটিস এর বর্ণমালা মনে রাখলে সহজ হয় যে এ (A) মানে অলিম্পিক বা খাবার-পানির আয়োজন অর্থাৎ অন্ত্র ও মুখ সংশ্লিষ্ট রোগ।
- বি (B) এবং সি (C) রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কোন রোগ রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় আর কোনটি খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায় তা জানতে চাওয়া হয়।
- হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস রক্তবাহিত হলেও হেপাটাইটিস এ এবং ই খাদ্যবাহিত রোগ।
সঠিক উত্তর: A) ক্ষতিকর
প্রদত্ত তথ্য:
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রায় একুশ শতাংশ
শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন মানবদেহের জন্য বিষাক্ত হিসেবে কাজ করে
ধরি,
মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার জন্য মিশ্র গ্যাস দরকার
১০০% অক্সিজেন সরাসরি গ্রহণ করলে ফুসফুসের কোষ নষ্ট হয়
অতএব,
অতিরিক্ত অক্সিজেনের কারণে ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়
এই ফ্রি রেডিক্যালগুলো কোষের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে
সুতরাং,
চিকিৎসাক্ষেত্রে শুধু বিশেষ প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় অক্সিজেন দেওয়া হয়
তাই শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন শরীরের জন্য সরাসরি অত্যন্ত ক্ষতিকর
উত্তর: A) ক্ষতিকর
সঠিক উত্তর: C) প্লাজমা
১. কেন সঠিক:
- কোষের প্রধান তিনটি অংশ হলো কোষঝিল্লি বা সেলমেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস।
- প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ, যা কোষের কোনো মৌলিক অংশ নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: জীবদেহের গঠন ও কাজের একক হলো কোষ এবং কোষের ভেতরে প্রধান উপাদানগুলোর সুনির্দিষ্ট কাজ রয়েছে।
- কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে সেলমেমব্রেন চারপাশ ঘিরে রাখে, সাইটোপ্লাজম অঙ্গাণু ধারণ করে এবং নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: রক্ত পরীক্ষা করার সময় রক্তের কোষগুলো থেকে প্লাজমা বা রক্তরস আলাদা করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উদ্ভিদের পেঁয়াজ কোষ মাইক্রোস্কোপে দেখলে সেলমেমব্রেন ও নিউক্লিয়াস স্পষ্ট দেখা যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে কোষের নির্দিষ্ট গাঠনিক উপাদান থাকে।
উদাহরণ ২: মানুষের রক্তের তরল অংশ হলো ব্লাড প্লাজমা।
ব্যাখ্যা: এটি কোষে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করলেও নিজে কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেলমেমব্রেন — এটি কোষের বাইরের আবরণ, যা কোষের ভেতরের অংশকে সুরক্ষা দেয় এবং কোষের অংশ।
B) সাইটোপ্লাজম — এটি কোষের ভেতরে জেলের মতো তরল পদার্থ, যেখানে বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু থাকে।
C) প্লাজমা — এটি কোষের অংশ নয়, বরং এটি রক্তের তরল উপাদান বা রক্তরস।
D) নিউক্লিয়াস — এটি কোষের মস্তিষ্ক বা নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র, যা কোষের অংশ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কোষের প্রধান অংশ মনে রাখার সহজ উপায় হলো কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস।
- প্লাজমা শব্দটি রক্ত বা পদার্থবিদ্যার পদার্থের চতুর্থ অবস্থার সাথে সম্পর্কিত, কোষের সাথে নয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কোষের প্রধান তিনটি অংশ সম্পর্কে প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
- প্লাজমা রক্তরস হিসেবে মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: B) ইনসুলিন
১. কেন সঠিক:
ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি বা এর কার্যকারিতা হ্রাসের কারণেই মূলত ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগটি দেখা দেয়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষগুলোতে গ্লুকোজ প্রবেশে এই হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহান্স কোষের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত একটি পেপটাইড হরমোন।
কার্যপ্রণালি: খাবার হজমের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়লে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় এবং যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুস্থ মানুষের দেহে খাবার গ্রহণের পর অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে।
ব্যাখ্যা: এর ফলে কোষে শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত শর্করা রক্তে জমে থাকে না।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ইনসুলিনের অপর্যাপ্ততার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা: একে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলা হয়, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গুকাগন — এটি অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকলে তা বাড়াতে সাহায্য করে।
B) ইনসুলিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস হয়।
C) কর্টিসল — এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং বিপাকক্রিয়া ও ধকল মোকাবেলায় কাজ করে।
D) ইস্ট্রোজেন — এটি মূলত নারী দেহঘটিত যৌন হরমোন যা সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ইনসুলিনের সাথে মিষ্টি বা শর্করার সম্পর্ক মনে রাখলেই ডায়াবেটিসের সাথে এর যোগসূত্র সহজে মনে রাখা যায়।
অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে এবং এর অভাবেই শর্করা নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডায়াবেটিস মেলিটাস সম্পর্কিত প্রশ্ন বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
অগ্ন্যাশয়ের কোন কোষ থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়, তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: A) ধমনীর ভিতর
১. কেন সঠিক:
হৃদপিণ্ড থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারা দেহে বহন করার প্রধান রক্তনালী হলো ধমনী।
হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে ধমনীর প্রাচীরে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তাকেই নাড়ীর স্পন্দন বা পালস বলে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মানবদেহের রক্তসংবহন তন্ত্রের প্রধান অংশ হলো ধমনী, শিরা এবং capillaries বা কেশিকা।
কার্যপ্রণালি: বাম নিলয় থেকে রক্ত ধমনীতে পাম্প হয়ে ঢোকার সময় ধাক্কার সৃষ্টি করে, যা হাত বা গলার নির্দিষ্ট স্থানে আঙুল রাখলে স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডাক্তাররা কব্জিতে আঙুল রেখে রোগীর নাড়ির গতি বা পালস রেট পরিমাপ করেন।
ব্যাখ্যা: এটি হৃদপিণ্ডের স্পন্দন হার এবং রক্তপ্রবাহের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
উদাহরণ ২: শারীরিক ব্যায়াম বা দৌড়ানোর পর নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যায়।
ব্যাখ্যা: পেশিতে বেশি অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হৃদপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাম্প করায় ধমনীতে স্পন্দন দ্রুত অনুভূত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ধমনীর ভিতর — এই অপশনটি সঠিক কারণ হৃদপিণ্ডের পাম্প করার চাপ সরাসরি ধমনীর মাধ্যমে বাহিত হয়।
B) শিরার ভিতর — শিরা হলো এমন রক্তনালী যা দেহ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে এবং এতে কোনো দৃশ্যমান স্পন্দন থাকে না।
C) স্নায়ুর ভিতর — স্নায়ু শরীরে বৈদ্যুতিক সংকেত বা অনুভূতি বহন করে, কিন্তু এর ভেতর দিয়ে রক্ত বা নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয় না।
D) নাসিকা নালীর ভিতর — নাসিকা নালী শ্বাসকার্য পরিচালনার সাথে যুক্ত এবং এর ভেতর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হয়, রক্তসংবহন বা নাড়ির স্পন্দন এখানে হয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় ধমনী এবং এর প্রাচীর শক্ত হওয়ায় নাড়ির স্পন্দন অনুভূত হয়।
শিরা রক্ত ফিরিয়ে আনে এবং এর প্রাচীর তুলনামূলক নরম ও পাতলা হওয়ায় স্পন্দন থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুস্থ মানুষের সাধারণ অবস্থায় প্রতি মিনিটে নাড়ির স্পন্দন বা পালস রেট সাধারণত সত্তর থেকে আশি বার হয়ে থাকে।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে কোন রক্তনালী হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত দূরে বহন করে।
সঠিক উত্তর: D) ইলিয়াম
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে বৃহদান্ত্র বা লার্জ ইন্টেস্টাইনের শেষ অংশ এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে।
- প্রদত্ত প্রশ্নটি নিয়ে একটু সংশোধন প্রয়োজন, কারণ ইলিয়াম আসলে বৃহদান্ত্রের অংশ নয়, এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মানবদেহের পরিপাকনালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত, যার মধ্যে ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র প্রধান দুটি অংশ।
- কার্যপ্রণালি: ক্ষুদ্রান্ত্র ডিওডেনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম এই তিনটি অংশে বিভক্ত, যেখানে খাদ্যের প্রধান পরিপাক ও শোষণ ঘটে।
- কারণ ও ফলাফল: ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ অর্থাৎ ইলিয়ামের মাধ্যমেই অপাচ্য খাদ্যসার বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্ষুদ্রান্ত্রের গঠন
ব্যাখ্যা: মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্র প্রায় ৬ মিটার লম্বা হয় যার শেষ অংশ হলো ইলিয়াম।
উদাহরণ ২: পরিপাকতন্ত্রের সংযোগ
ব্যাখ্যা: ইলিয়াম নামক অংশটি সিকামের মাধ্যমে বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিওডেনাম — এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ, যা পাকস্থলীর ঠিক পরেই অবস্থিত এবং বৃহদান্ত্রের অংশ নয়।
B) জেজুনাম — এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যবর্তী অংশ, যা ডিওডেনাম ও ইলিয়ামের মাঝে থাকে।
C) এপেনডিক্স — এটি বৃহদান্ত্রের সিকাম অংশের সঙ্গে যুক্ত একটি ক্ষুদ্র প্রবর্ধিত অংশ, যা সরাসরি বৃহদান্ত্রের মূল নালির অংশ নয়।
D) ইলিয়াম — প্রদত্ত প্রশ্ন অনুযায়ী এটি সঠিক উত্তর হিসেবে নির্দেশিত হলেও বৈজ্ঞানিক সত্য হলো এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্ষুদ্রান্ত্রের তিনটি অংশ মনে রাখার সহজ শব্দ হলো ডি-জে-ই অর্থাৎ ডিওডেনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম।
- বৃহদান্ত্রের অংশগুলো হলো সিকাম, কোলন এবং মলাশয় বা রেক্টাম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্র দীর্ঘতম অংশ হলেও এর শেষ অংশের নাম ইলিয়াম।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই খাদ্যনালির গঠন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে আসে।
সঠিক উত্তর: D) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
১. কেন সঠিক:
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১৮৫৪ থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত চলা ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় আহত ব্রিটিশ ও মিত্রবাহিনীর সৈনিকদের সেবাশুশ্রূষা করেছিলেন।
যুদ্ধের ময়দানে লণ্ঠন হাতে আহত সৈনিকদের সেবা করার জন্য তাকে লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প বা দীপ্তিময়ী নারী বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আধুনিক নার্সিংয়ের জনক ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল চিকিৎসালয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
কার্যপ্রণালি: তিনি হাসপাতালের ওয়ার্ডে নিয়মিত বাতাস চলাচল, রোগীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করে মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আধুনিক হাসপাতালের আইসিইউ বা সাধারণ ওয়ার্ডে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
ব্যাখ্যা: এটি ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের প্রবর্তित স্বাস্থ্যসম্মত সেবার বৈজ্ঞানিক নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
উদাহরণ ২: মহামারী বা দুর্যোগের সময় রেড ক্রিসেন্ট বা স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের আহতদের সেবা প্রদান।
ব্যাখ্যা: এটি যুদ্ধ বা সংকটের সময় মানবসেবা এবং নার্সিং পেশার মূল আদর্শকে তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ওয়াটার লু'র যুদ্ধ — এটি ১৮১৫ সালে সংঘটিত হয় যেখানে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন।
B) আমেরিকার গৃহযুদ্ধ — এটি ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত হয় এবং এই যুদ্ধে অন্য নারীরা ভূমিকা রেখেছিলেন।
C) ফরাসি বিপ্লব — এটি ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে সংঘটিত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন যা চিকিৎসা ইতিহাসের চেয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত।
D) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ — এই যুদ্ধের সময় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল নার্সিং সেবার অভূতপূর্ব সংস্কার সাধন করেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল মানেই ক্রিমিয়ার যুদ্ধ এবং লহ্মী বা ল্যাম্প হাতে সেবা করার ইতিহাস।
নার্সিং পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই নামটি পরীক্ষার হলে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ অপশনের সঙ্গে মিলিয়ে দাগাতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১২ মে জন্মগ্রহণের দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস পালন করা হয়।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নার্সিংয়ের ইতিহাস ও রেড ক্রস সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) ফেনল
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নটিতে বলা হয়েছে কোনটি ডিসইনফেকট্যান্ট বা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তবে প্রকৃতপক্ষে ফেনল একটি শক্তিশালী এবং ঐতিহ্যবাহী ডিসইনফেকট্যান্ট হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়।
- প্রদত্ত সঠিক উত্তর হিসেবে ফেনলকে চিহ্নিত করা হলেও বিজ্ঞানসম্মতভাবে ফেনল, লাইজল এবং ইথাইল অ্যালকোহল সবই জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কার্যকর।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ডিসইনফেকট্যান্ট হলো এমন রাসায়নিক এজেন্ট যা জড় বস্তুর ওপর উপস্থিত রোগ সৃষ্টকারী অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্যপ্রণালি: ফেনল অণুজীবের কোষের প্রোটিন জমাট বাঁধিয়ে এবং কোষঝিল্লি ধ্বংস করে জীবাণু নিষ্ক্রিয় করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: হাসপাতাল এবং শৌচাগার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জীবাণুমুক্ত করতে ফেনলভিত্তিক তরল বহুল ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাসপাতাল বা মেঝেন পরিষ্কারের কাজে ফেনল বা কার্বলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি মেঝেতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধ্বংস করে পরিবেশ নিরাপদ রাখে।
উদাহরণ ২: ঘরের মেঝে মোছার পানিতে লাইজল বা স্যাভলন মেশানো হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ঘরের পৃষ্ঠতল থেকে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে এবং সংক্রমণ রোধ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্যাভলন — এটি মূলত ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট এবং সেট্রিমাইডের মিশ্রণ যা ত্বক এবং কাটাছেঁড়ায় অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
B) লাইজল — এটি একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ডিসইনফেকট্যান্ট যা ঘরের মেঝে ও বাথরুম পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয়।
C) ফেনল — এটি একটি ক্লাসিক্যাল জীবাণুনাশক বা ডিসইনফেকট্যান্ট যা জোসেফ লিস্টার প্রথম সার্জিক্যাল অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
D) ইথাইল অ্যালকোহল — এটি একটি কার্যকর জীবাণুনাশক যা হাত এবং চিকিৎসা উপকরণের জীবাণু ধ্বংস করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ফেনল, লাইজল এবং অ্যালকোহল প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে জীবাণু ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- পরীক্ষামূলক প্রশ্নে এমন কোনো উত্তর সঠিক হিসেবে থাকতে পারে যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল, তাই কার্যকারিতা বুঝে উত্তর নির্বাচন করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জোসেফ লিস্টার প্রথম সার্জারিতে ফেনল ব্যবহার করে অ্যান্টিসেপ্টিক ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন।
- ডিসইনফেকট্যান্ট এবং অ্যান্টিসেপ্টিকের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ডিসইনফেকট্যান্ট জড় বস্তুতে এবং অ্যান্টিসেপ্টিক জীবদেহে ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: C) মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন
১. কেন সঠিক:
হাতের কনুইয়ের সামনের অংশে অবস্থিত মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন শিরাটি তুলনামূলক মোটা ও ত্বকের কাছাকাছি থাকে।
তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্যালাইন পুশ করা বা রক্ত সংগ্রহের জন্য এই শিরাটি সবচেয়ে নিরাপদ ও আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মানবদেহের রক্তসংবহনতন্ত্রে ধমনি ও শিরা রক্ত পরিবহন করে এবং শিরাগুলো সাধারণত ত্বক ভেদ করে সহজে ইনজেকশন দেওয়ার উপযুক্ত হয়।
কার্যপ্রণালি: এই শিরাটি পৃষ্ঠীয় শিরা জালিকাকে সেফেনাস ও ব্যাসিলিক শিরার সঙ্গে যুক্ত করে এবং এর নিচে গুরুত্বপূর্ণ ধমনি বা স্নায়ু কম থাকে।
বাস্তব প্রয়োগ: হাসপাতালে চিকিৎসকরা রোগীর শরীরে শিরায় স্যালাইন বা ওষুধ দেওয়ার সময় এই মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইনকেই প্রথম প্রাধান্য দেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে ডিহাইড্রেশন দূর করতে স্যালাইন পুশ করার সময় নার্সরা কনুইয়ের ভেতরের এই শিরাটি নির্বাচন করেন।
ব্যাখ্যা: এটি বড় ও স্থির থাকায় সুই প্রবেশ করানো সহজ হয় এবং রোগীর ব্যথা কম অনুভূত হয়।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য বা রক্তের রুটিন পরীক্ষার সময় ল্যাবরেটরিতে এই শিরা থেকেই সিরিঞ্জের সাহায্যে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি রক্ত সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রধান শিরা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ল্যাটারাল কিউটেনিয়াস ভেইন — এটি হাতের বাইরের দিকের চামড়ার স্নায়ু সরবরাহ করে, কোনো প্রধান রক্তবাহী শিরা নয়।
B) মিডিয়াল কিউটেনিয়াস ভেইন — এটিও মূলত ত্বকের সংবেদনশীল স্নায়ুর সঙ্গে যুক্ত এবং স্যালাইন পুশ করার প্রধান শিরা নয়।
C) মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন — এটি সঠিক উত্তর এবং স্যালাইন পুশ করার জন্য ব্যবহৃত প্রধান শিরা।
D) সবগুলো — বাকি অপশনগুলো সঠিক শিরা না হওয়ায় এই অপশনটি ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
কনুই বা এলবো কথাটি থেকে কিউবিটাল শব্দটি মনে রাখতে পারেন।
তাই কনুইয়ের ভেতরের প্রধান শিরাটির নাম মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন, যা স্যালাইন দেওয়ার কাজে লাগে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাঠামোর শিরা ও উপশিরার অবস্থান থেকে বিসিএস ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
একই ধারণা থেকে রক্ত সংগ্রহের আদর্শ স্থান কোনটি, এই ধরনের প্রশ্নও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) এইডস
১. কেন সঠিক:
এইডস হলো একটি সংক্রামক ব্যাধি যা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস নামক জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়।
এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় ফলে অন্যান্য সংক্রামক রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: সংক্রামক ব্যাধি হলো সেইসব রোগ যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা পরজীবীর মতো অণুজীবের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়।
কার্যপ্রণালি: এইডস ভাইরাস রক্ত, বীর্য বা অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং শ্বেত রক্তকণিকা বা টি সেল ধ্বংস করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: করোনা ভাইরাস বা কোভিড উনিশ একটি সংক্রামক ব্যাধি যা হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়ায়।
ব্যাখ্যা: এটি সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করে।
উদাহরণ ২: যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ যা মাইকব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ফুসফুসে হয়।
ব্যাখ্যা: এটিও বায়ুবাহিত সংক্রামক ব্যাধির একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এইডস — এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি যা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয় এবং সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত।
B) উচ্চ রক্তচাপ — এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয় বরং জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও জিনগত কারণে হওয়া একটি অসংক্রামক রোগ।
C) ডায়াবেটিস — এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিপাকীয় ও অসংক্রামক ব্যাধি যা ছড়ায় না।
D) রেনাল ফেইলিউর — এটি বৃক্কের বা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা এবং এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সংক্রামক রোগ মানেই জীবাণুর আক্রমণ যেমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া।
অসংক্রামক রোগগুলো জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত এবং এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায় না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের পার্থক্য থেকে প্রশ্ন আসে।
এইডস রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস হলো এইচআইভি এবং এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে।
সঠিক উত্তর: D) লিম্ফোসাইট
১. কেন সঠিক:
লিম্ফোসাইট হলো এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা যা মানবদেহের অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান যোদ্ধা।
এগুলো বি লিম্ফোসাইট এবং টি লিম্ফোসাইট হিসেবে বিভক্ত হয়ে নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: লিম্ফোসাইট হলো দানাদারহীন শ্বেত রক্তকণিকা যা অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় এবং রক্তে পরিবাহিত হয়।
কার্যপ্রণালি: দেহে কোনো ক্ষতিকর ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে লিম্ফোসাইট তাকে শনাক্ত করে এবং বিশেষ প্রোটিন বা এন্টিবডি উৎপাদন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: টিকাদান কার্যক্রম।
ব্যাখ্যা: টিকা শরীরে মৃত বা দুর্বল জীবাণু প্রবেশ করিয়ে লিম্ফোসাইটকে উদ্দীপিত করে যাতে ভবিষ্যতে প্রকৃত জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত এন্টিবডি তৈরি হতে পারে।
উদাহরণ ২: বসন্ত বা হাম রোগের আক্রমণ।
ব্যাখ্যা: একবার এই রোগগুলো হলে লিম্ফোসাইট এদের বিরুদ্ধে স্থায়ী এন্টিবডি তৈরি করে রাখে, ফলে দ্বিতীয়বার সচরাচর সেই রোগ হয় না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিউট্রোফিল — এটি ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণু ধ্বংস করে, কিন্তু এন্টিবডি তৈরি করে না।
B) বেসোফিল — এটি হেপারিন ও হিস্টামিন ক্ষরণ করে এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
C) ইওসিনোফিল — এটি কৃমি ও অন্যান্য পরজীবীর সংক্রমণ প্রতিহত করতে এবং অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
D) লিম্ফোসাইট — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি দেহে নির্দিষ্ট এন্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
লিম্ফোসাইট শব্দের প্রথম অক্ষর ল এবং ল্যাটিন বা ইংরেজি অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতার সাথে এটি যুক্ত।
শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে লিম্ফোসাইটই মূলত এন্টিবডি তৈরির মূল কারখানা হিসেবে কাজ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে নিউট্রোফিল ও মনোসাইট।
এন্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করার জন্য লিম্ফোসাইট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: C) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
১. কেন সঠিক:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির গীতিকার বা রচয়িতা সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই গানটি বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতীক।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির পরপরই আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে এই গানটির কথা লেখেন।
- শুরুতে এর সুরকার ছিলেন আব্দুল লতিফ, তবে পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গাওয়া বর্তমান রূপটিই সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: 'মোরা একটি নদী ট্রানজিট পার হয়ে'
ব্যাখ্যা: এটিও ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বিখ্যাত গান, যা এই ধারার গানের ঐতিহ্য বহন করে।
উদাহরণ ২: 'একুশে ফেব্রুয়ারি মানে মাথা না নোয়াবার দিন'
ব্যাখ্যা: এটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত আরেকটি জনপ্রিয় কবিতা, যা একুশের চেতনাকে ধারণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সৈয়দ শামসুল হক — তিনি একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক হলেও এই বিখ্যাত গানটির রচয়িতা নন।
B) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান — তিনি বিশিষ্ট গীতিকার ও অধ্যাপক হলেও এই গানটির সঙ্গে যুক্ত নন।
C) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী — এটি সঠিক উত্তর, তাই কোনো ভুল নেই।
D) আবদুল লতিফ — তিনি এই গানের প্রথম সুরকার ছিলেন, তবে গানটির মূল রচয়িতা বা গীতিকার নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
- একুশের বিখ্যাত গানটির কথা লিখেছিলেন গাফ্ফার চৌধুরী আর সুর দিয়েছিলেন আলতাফ মাহমুদ।
- এভাবে মনে রাখতে পারো যে চৌধুরী সাহেব কথা লিখেছেন আর মাহমুদ সাহেব সুর দিয়েছেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই বিখ্যাত গান, কবিতা ও উপন্যাসের রচয়িতা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্মগুলো আলাদা করে নোট করে পড়া উচিত।
সঠিক উত্তর: B) ধর্মপাল
১. কেন সঠিক:
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা হলেন পাল রাজবংশের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল।
- সোমপুর মহাবিহার পাল সাম্রাজ্যের আমলে নির্মিত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষা কেন্দ্র।
২. সাহিত্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা:
- ধর্মপাল ছিলেন বাংলা ও বিহারের পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট যিনি প্রায় আট শতকের শেষ থেকে নয় শতকের শুরুর দিকে রাজত্ব করেন।
- ঐতিহাসিক এই বৌদ্ধ বিহারটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং এটি প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বিক্রমশীল বিহার
ব্যাখ্যা: এটিও পাল রাজবংশেরই আরেক বিখ্যাত রাজা ধর্মপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বৌদ্ধ মহাবিহার।
উদাহরণ ২: ওদন্তপুর বিহার
ব্যাখ্যা: পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এই বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহারটি স্থাপন করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গোপাল — গোপাল ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা, তবে তিনি সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা নন।
B) ধর্মপাল — এই অপশনটি সঠিক এবং পরীক্ষিত ঐতিহাসিক সত্য।
C) মহীপাল — প্রথম মহীপাল পাল সাম্রাজ্যের শাসন পুনরুদ্ধার করলেও তিনি সোমপুর বিহার নির্মাণ করেননি।
D) বিগ্রহপাল — বিগ্রহপাল পাল বংশের একজন দুর্বল শাসক ছিলেন এবং তিনি এই বিহার স্থাপন করেননি।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পাহাড়পুর বিহার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে রাজা ধর্মপালের নাম মনে রাখতে ধর্ম ও ভূমির সংযোগ সূত্র মাথায় রাখতে পারো।
- ধর্মপাল মানে ধর্মের বিস্তার, আর তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে পাহাড়পুর ও বিক্রমশীল বিহার নির্মাণ করেছিলেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাল রাজাদের গড়া কীর্তি নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- সোমপুর বিহার এবং বিক্রমশীল বিহার দুটিই রাজা ধর্মপালের কীর্তি, যা একনজরে মনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: D) ভারতের চুরুলিয়া
১. কেন সঠিক:
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরে ভুল রয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর সমাধি ভারতের চুরুলিয়ায় নয়, বরং তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের চুরুলিয়ায় মৃত্যুবরণ করেননি। প্রমীলা দেবীর সমাধি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়ায় নয়, বরং কবিকে সমাহিত করা হয়েছিল বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে এবং তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীকে সমাহিত করা হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়াতেই। তবে প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরে সামান্য বিভ্রান্তি থাকতে পারে, কেননা প্রমীলা দেবীকে মৃত্যুর পর চুরুলিয়াতেই সমাহিত করা হয়েছিল।
- প্রশ্নটিতে প্রমীলা দেবীর অন্তিম শয্যা বা সমাধিস্থল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে, যা তাঁর জন্মস্থান ও পৈতৃক নিবাস ভারতের চুরুলিয়ায় অবস্থিত।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সহধর্মিণী প্রমীলা দেবী ১৯০৮ সালের জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
- প্রমীলা দেবীর আদি নাম আশালতা সেনগুপ্তা, তবে নজরুল ভালোবেসে তাঁর নাম রাখেন প্রমীলা।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা।
ব্যাখ্যা: এটি বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সৃষ্টি যা কবিকে বিদ্রোহী কবির খ্যাতি এনে দেয়।
উদাহরণ ২: কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
ব্যাখ্যা: এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যা বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঢাকা — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সমাহিত করা হলেও তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীকে এখানে সমাহিত করা হয়নি।
B) কুমিল্লা — প্রমীলা দেবীর জীবনের একটি বড় অংশ কুমিল্লার দুল্লা গ্রামে কাটলেও তাঁর সমাধি সেখানে অবস্থিত নয়।
C) মানিকগঞ্জ — মানিকগঞ্জের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম বা তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীর সমাধির কোনো ঐতিহাসিক সংযোগ নেই।
D) ভারতের চুরুলিয়া — প্রমীলা দেবীকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামেই সমাহিত করা হয়েছিল।
৫ মনে রাখার টিপস:
- জাতীয় কবির সমাধি ঢাকায় হলেও তাঁর স্ত্রী প্রমীলার সমাধি তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত ভারতের চুরুলিয়া গ্রামে অবস্থিত।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সাহিত্যিকদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের সমাধিস্থল বা জন্মস্থান প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
- বিদ্রোহী কবির জীবন ও পরিবার সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে তাঁর জীবনী পাঠ করা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: C) সূর্য
১. কেন সঠিক:
- 'ভানু' একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ যার মূল অর্থ হলো সূর্য বা দিবাকর।
- বাংলা সাহিত্যে এবং প্রাচীন অভিধানে সূর্য অর্থে এই শব্দের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি শব্দের উৎস ও শব্দের অর্থ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- 'ভানু' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দের মধ্যে রয়েছে রবি, তপন, ভাস্কর ও মার্তণ্ড।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভানুমতি
ব্যাখ্যা: ভানুমতি শব্দটি ভানু শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর অর্থ সূর্যের দীপ্তি বা প্রভা।
উদাহরণ ২: ভানুসিংহ
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভানুসিংহ ঠাকুরে ভণিতা দিয়ে পদ রচনা করতেন যেখানে ভানু অর্থ সূর্য বা রবি বোঝানো হয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ধোকা — ধোকা বা প্রবঞ্চনা অর্থে ভানু শব্দটি ব্যবহৃত হয় না।
B) নক্ষত্র — নক্ষত্র হলো আকাশের মিটমিটে তারা যার সঙ্গে ভানুর অর্থ মেলে না।
D) চন্দ্র — চন্দ্র হলো চাঁদ, যা সূর্যের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকনাম বা সাহিত্যিক নাম ভানুসিংহ মনে রাখলে ভানু অর্থ সূর্য বা রবি সহজে মনে থাকবে।
- রবি ও ভানু সমার্থক শব্দ হিসেবে একই ধারণায় রাখা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমার্থক শব্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
- তৎসম শব্দের অর্থ ও উৎস ভালোভাবে আয়ত্ত করলে এই ধরনের শব্দার্থ সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: C) পাঁচ
কেন সঠিক:
উৎস বা ঐতিহাসিক বিকাশ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে মূলত পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে বাংলা শব্দভাণ্ডারের সঠিক উৎস নির্দেশ করতে এই পাঁচটি ভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
উৎস বা উৎপত্তি অনুযায়ী বাংলা শব্দগুলোকে তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়।
বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারের ক্রমবিকাশ এবং রূপান্তরের ইতিহাস বোঝাতে এই শ্রেণিবিভাগটি ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় চন্দ্র তৎসম শব্দ, চাঁদ তদ্ভব শব্দ এবং কুড়ি দেশি শব্দ।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তিন — উৎস বা উৎপত্তি অনুসারে শব্দের শ্রেণি কখনো তিনটি হতে পারে না কারণ দেশি ও বিদেশি শব্দ বাদ পড়ে যাবে।
B) দুই — এই সংখ্যাটি বাংলা শব্দের উৎসের ক্ষেত্রে সঠিক নয় কারণ মূল ভাষা এবং আগত ভাষাগুলোকে অন্তত পাঁচটি ভাগে দেখা যায়।
C) পাঁচ — এই অপশনটি সঠিক হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই কারণ এটি নির্দেশ করে পাঁচটি প্রধান উৎস।
D) চার — চারটি ভাগ ধরলে তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের মধ্যে যেকোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাদ পড়ে যায়।
মনে রাখার টিপস:
পাঁচটি উৎস মনে রাখার জন্য 'ত অ ত দে বে' এই কৌশলটি মনে রাখতে পারো যেখানে ত তে তৎসম, অ তে অর্ধতৎসম, ত তে তদ্ভব, দে তে দেশি এবং বে তে বিদেশি বোঝায়।
উৎস শব্দের সাথে পাঁচ সংখ্যাটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত কারণ ভাষার মূল উৎস বিশ্লেষণ করতে এই পাঁচটি ধারা অপরিহার্য।
সঠিক উত্তর: B) নক্সী কাঁথার মাঠ
১. কেন সঠিক:
- 'রূপাই' চরিত্রটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থের অন্যতম প্রধান এবং প্রাণকেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র।
- এই কাব্যে রূপাইকে একজন গ্রামীণ যুবক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যার সাথে সাজুর গভীর প্রেম ও গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখের চিত্র ফুটে ওঠে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীন আধুনিক বাংলা কবিতার ধারায় পল্লীপ্রকৃতির রূপ ও মানুষের জীবন অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি দীর্ঘ গীতি কবিতা বা কাহিনী কাব্য, যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর লোকায়ত সুর একে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সাজু
ব্যাখ্যা: সাজু হলো 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নারী চরিত্র এবং রূপাইয়ের স্ত্রী।
উদাহরণ ২: হাসু
ব্যাখ্যা: হাসু হলো জসীমউদ্দীনের আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'-এর একটি চরিত্র।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সোজন বাদিয়ার ঘাট — এটি জসীমউদ্দীনের আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলেও এর প্রধান চরিত্র সোজন ও দুলুদি, রূপাই নয়।
B) নক্সী কাঁথার মাঠ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়, কারণ রূপাই এই কাব্যগ্রন্থেরই চরিত্র।
C) রাখালী — এটি জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে এবং এতে কোনো রূপাই চরিত্র নেই।
D) বালুচর — এটি জসীমউদ্দীনের একটি বিশিষ্ট কাব্যগ্রন্থ যা ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়, তবে এতে রূপাই চরিত্রটি অনুপস্থিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- জসীমউদ্দীনের পল্লীগীতির মতো প্রেম ও বেদনার কাহিনী মনে রাখতে রূপাই ও সাজুর নাম 'নক্সী কাঁথার মাঠ'-এর সাথে মনে রাখবে।
- রাখালী হলো কবির প্রথম কাব্য, যা দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- কবি জসীমউদ্দীনের শ্রেষ্ঠ দুটি কাহিনী কাব্য হলো 'নক্সী কাঁথার মাঠ' এবং 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'।
সঠিক উত্তর: A) তাম্র
কেন সঠিক:
১. এই সভ্যতায় মানুষ প্রথম পাথরের পাশাপাশি তামা ও ব্রোঞ্জের ব্যবহার শুরু করেছিল।
২. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে প্রচুর পরিমাণে তামার তৈরি অস্ত্র ও বাসনপত্র পাওয়া গেছে।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে মানব সভ্যতার বিকাশকে প্রধানত পাথরের যুগ ও ধাতুর যুগ হিসেবে ভাগ করা হয়।
২. সিন্ধু সভ্যতা মেসোপটেমিয়া ও মিশরীয় সভ্যতার সমসাময়িক এবং এটি ব্রোঞ্জ বা তাম্র যুগের অন্তর্ভুক্ত।
৩. যেমন, এই সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো শহরে তামা ও টিনের সংকর ধাতু ব্যবহারের প্রমাণ মেলে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) তাম্র — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি প্রযোজ্য নয় এবং এর কোনো ভুল নেই।
B) আর্য — আর্যরা পরবর্তীতে ভারতে আসে এবং তাদের সময়কাল বৈদিক যুগ নামে পরিচিত।
C) সুমেরীয় — সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ায় গড়ে উঠেছিল, যা সিন্ধু সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
D) শহরভিত্তিক — সিন্ধু সভ্যতা শহরভিত্তিক হলেও এটি মূলত তাম্র বা ধাতু যুগের একটি সভ্যতা হিসেবে চিহ্নিত।
মনে রাখার টিপস:
১. সিন্ধু মানেই ধাতু এবং এই সভ্যতায় লোহার ব্যবহার জানা ছিল না, তাই এটি তাম্র যুগ।
২. তামার সাথে টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি হতো বলে একে ব্রোঞ্জ বা তাম্র যুগ বলা হয়।
সঠিক উত্তর: A) ৬ (ছয়) প্রকার
১. কেন সঠিক:
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। বাংলা ব্যাকরণে এই সম্পর্ক বা কারক প্রধানত ছয় প্রকার।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় ভাগে বিভক্ত যথা কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদানকারক, অপাদানকারক এবং অধিকরণকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত থাকলে কর্তৃকারক এবং কী বা কাাকে যুক্ত থাকলে কর্মকারক হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: গাছে ফুল ফুটেছে।
ব্যাখ্যা: এখানে কোথায় ফুটেছে প্রশ্নের উত্তরে অধিকরণ কারক বোঝানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: জেলে মাছ ধরে।
ব্যাখ্যা: এখানে কে ধরে প্রশ্নের উত্তরে কর্তৃকারক এবং কী ধরে প্রশ্নের উত্তরে কর্মকারক পাওয়া যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৬ (ছয়) প্রকার — এটি সঠিক উত্তর কারণ কারকের নির্ধারিত সংখ্যা ছয়টি।
B) ৫ (পাঁচ) প্রকার — এই সংখ্যাটি ভুল কারণ বাংলা ব্যাকরণে কারক পাঁচ প্রকার নয়।
C) ৩ (তিন) প্রকার — এই সংখ্যাটি ভুল কারণ কারক তিন প্রকার হতে পারে না।
D) ৭ (সাত) প্রকার — এই সংখ্যাটি ভুল কারণ বিভক্তি সাত প্রকার হলেও কারক ছয় প্রকার।
৫ মনে রাখার টিপস:
কারকের প্রকারভেদ মনে রাখার জন্য বাক্যটি মনে রাখতে পারো বাক্যে নামপদের ছয়টি সম্পর্কই কারক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কারকের সংখ্যা নিয়ে প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করার সময় ক্রিয়াপদকে প্রশ্ন করে সঠিক কারক নির্ধারণ করতে হয়। বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই টপিক থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: D) কর্মধারয়
১. কেন সঠিক:
- কর্মধারয় সমাসে বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলনে নতুন পদ গঠিত হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এখানে জজ সাহেব বলতে এমন একজন সাহেবকে বোঝানো হচ্ছে যিনি একই সঙ্গে জজ পদে আসীন।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয় এবং পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- জজ সাহেব কথাটির ব্যাসবাক্য হলো যিনি জজ তিনিই সাহেব, যা মধ্যপদলপী কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হেডমাস্টার
ব্যাখ্যা: যিনি হেড তিনিই মাস্টার, এটি কর্মধারয় সমাসের একটি পরিচিত উদাহরণ।
উদাহরণ ২: জজসাহেব
ব্যাখ্যা: যিনি জজ তিনিই সাহেব, এটি কর্মধারয় সমাসের নিয়মে গঠিত বিশেষ শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) দ্বিগু — দ্বিগু সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায় কিন্তু এখানে কোনো সমষ্টি বা সংখ্যা বোঝানো হয়নি।
B) দ্বন্দ্ব — দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে কিন্তু এখানে পরপদের অর্থ প্রধান।
C) বহুব্রীহি — বহুব্রীহি সমাসে পদগুলোর বাইরে অন্য কোনো নতুন অর্থ প্রকাশ পায় কিন্তু এখানে তা নেই।
D) কর্মধারয় — এটি সঠিক অপশন কারণ এখানে বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলন ঘটেছে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- যিনি তিনি দিয়ে ব্যাসবাক্য করলে সাধারণত কর্মধারয় সমাস হয়।
- উপাধি বা পদবাচক বিশেষণের সঙ্গে সাধারণ বিশেষ্য যুক্ত হলে কর্মধারয় সমাস হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়।
সঠিক উত্তর: A) প্রাতিপদিক
১. কেন সঠিক:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। এটি মূলত শব্দের মূল রূপ যার সাথে কোনো কারক বা বিভক্তি যুক্ত থাকে না।
- ব্যাকরণের ভাষায় প্রাতিপদিককে শব্দের মূল বা নামশব্দের মূল বলা হয় যা থেকে পরবর্তীতে বিভক্তি যুক্ত হয়ে পদ গঠিত হয়।
২. ব্যাকরণ ব্যাখ্যা:
- প্রাতিপদিক হলো শব্দের সেই রূপ যার সাথে কোনো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত থাকে না কিন্তু অর্থ প্রকাশ করতে পারে। ধাতু যেমন ক্রিয়াপদের মূল, প্রাতিপদিক তেমনই বিশেষ্য ও বিশেষণ পদের মূল।
- প্রাতিপদিকের সাথে বিভক্তি যুক্ত করলেই তা পদে পরিণত হয়। যেমন কলম একটি প্রাতিপদিক, এর সাথে এ বিভক্তি যুক্ত হয়ে কলমে পদ গঠিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাত
ব্যাখ্যা: হাত একটি বিভক্তিহীন নাম শব্দ বা প্রাতিপদিক, যার সাথে পরবর্তীতে বিভক্তি যুক্ত হতে পারে।
উদাহরণ ২: বই
ব্যাখ্যা: বই শব্দটির সাথে কোনো বিভক্তি নেই, তাই এটি একটি নির্ভুল প্রাতিপদিক শব্দ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) প্রাতিপদিক — এটি সঠিক উত্তর কারণ বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
B) সাধিত শব্দ — এটি ভুল কারণ সাধিত শব্দ প্রকৃতি ও প্রত্যয় বা সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয় এবং এটি বিভক্তিহীন নাম শব্দের সরাসরি সংজ্ঞা নয়।
C) প্রকৃতি — এটি ভুল কারণ প্রকৃতি হলো শব্দের মূল অংশ যার মধ্যে নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি দুটোই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
D) প্রত্যয় — এটি ভুল কারণ প্রত্যয় হলো যা শব্দ বা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- প্রাতিপদিক মানে হলো প্রতি + পদ + ইক, অর্থাৎ পদের প্রাথমিক রূপ যেখানে কোনো বিভক্তি থাকে না।
- মনে রাখবে, বিভক্তিহীন নাম শব্দ দেখলে চোখ বন্ধ করে প্রাতিপদিক দাগাবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রাতিপদিক ও প্রকৃতির পার্থক্য প্রায়ই আসে।
- ধাতু হলো ক্রিয়ার মূল এবং প্রাতিপদিক হলো নাম শব্দের মূল।
সঠিক উত্তর: D) কবর
১. কেন সঠিক:
- কবর নাটকটি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক।
- ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে নাটকটি রচিত হয়েছে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কবর নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
- তিনি কারাগারে বন্দि থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে নাটকটি রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জেলখানার ভেতরেই নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা: জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
উদাহরণ ২: আর্তনাদ
ব্যাখ্যা: শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত একটি বিশিষ্ট উপন্যাস।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নুরুলদীনের সারা জীবন - এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কাব্যনাট্য যার পটভূমি কৃষক বিদ্রোহ।
B) ক্রীতদাসের হাসি - এটি শওকত ওসমান রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস যার পটভূমি আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ও বাকস্বাধীনতা হরণ।
C) ওরা কদম আলী - এটি মামুনুর রশীদ রচিত একটি প্রতিবাদী ও সমাজসচেতন নাটক যার পটভূমি বঞ্চিত মানুষের জীবন সংগ্রাম।
D) কবর - এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ভাষা আন্দোলন মানেই মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটি মনে রাখতে হবে।
- কারাগار বন্দि অবস্থায় রচিত এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্যকর্ম হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কবর নাটকটি মুনীর চৌধুরী রচিত এবং এটি বাংলা সাহিত্যে ভাষা আন্দোলনের প্রথম নাটক।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস, নাটক ও কাব্যগ্রন্থের নাম আলাদা করতে বলা হয়।
সঠিক উত্তর: C) চন্দ্রকুমার দে
১. কেন সঠিক:
'মৈমনসিংহ গীতিকা' বাংলা লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ যা সংকলনের পেছনে মূল মাঠপর্যায়ের কাজ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
দীনেশচন্দ্র সেন সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে-র সংগ্রহ করা গীতিগুলো সম্পাদন ও প্রকাশ করেছিলেন বলে অনেকেই দীনেশচন্দ্র সেনকে সংগ্রাহক মনে করেন, কিন্তু মূল মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মৈমনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকসংগীত ও গাথা বা ballads এর একটি সংকলন।
এই গ্রন্থটি প্রথম ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ইংরেজিতে এবং পরবর্তীতে বাংলায় প্রকাশিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা: এটি মৈমনসিংহ গীতিকার সবচেয়ে বিখ্যাত একটি পালা যার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
উদাহরণ ২: মলুয়া পালা
ব্যাখ্যা: এটিও মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় একটি ট্রেজিক লোকগাথা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আশুতোষ ভট্টাচার্য — তিনি বাংলার লোকসাহিত্য নিয়ে অনেক গবেষণা ও গ্রন্থ রচনা করলেও মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক নন।
B) দীনেশচন্দ্র সেন — তিনি মৈমনসিংহ গীতিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন, কিন্তু সরাসরি মাঠপর্যায়ের মূল সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে।
D) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র — তিনি বাংলা রূপকথা সংগ্রহ ও রচনার জন্য বিখ্যাত, যেমন ঠাকুমার ঝুলি, কিন্তু মৈমনসিংহ গীতিকার সঙ্গে যুক্ত নন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাটি থেকে গান সংগ্রহ করে যিনি দে (দিয়েছেন), তিনি হলেন চন্দ্রকুমার দে।
এই কৌশলটি মনে রাখলে সংগ্রাহক ও সম্পাদকের মধ্যে আর কোনো বিভ্রান্তি হবে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে এবং সম্পাদক দীনেশচন্দ্র সেন সংক্রান্ত প্রশ্ন কনফিউজ করার জন্য দেওয়া হয়।
উভয়ের ভূমিকা আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে যাতে পরীক্ষায় ভুল না হয়।
সঠিক উত্তর: C) রূপসী বাংলা
১. কেন সঠিক:
- রূপসী বাংলা আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের একটি অমর কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে বাংলার প্রকৃতি, রূপ, সৌন্দর্য এবং নিসর্গচেতনা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যে রূপসী বাংলার কবি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি আধুনিকতার এক অনন্য প্রতিকৃ্তি।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ঝরাপল্লক, ধূসর পান্ডুলিপি, বেলা অবেলা কালবেলা এবং বনলতা সেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বনলতা সেন
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের অন্যতম বিখ্যাত ও বহুল পঠিত একটি কাব্যগ্রন্থ এবং কবিতা।
উদাহরণ ২: মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা: এটিও কবি জীবনানন্দ দাশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গভীর ভাবসমৃদ্ধ কাব্যগ্রন্থ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কচক্রবাক — এটি জীবনানন্দ দাশের কোনো মৌলিক বা বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ নয়, বরং এটি একটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর অপশন।
B) এক পয়সার বাঁশি — এটি কবি ও প্রাবন্ধিক বিনয় মজুমদারের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, জীবনানন্দ দাশের নয়।
C) রূপসী বাংলা — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি জীবনানন্দ দাশের রচনা হিসেবে শতভাগ নির্ভুল।
D) কঙ্কাবতী — এটি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সম্পাদক স্বয়ংপ্রণোদিত ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
৫ মনে রাখার টিপস:
জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিভিত্তিক রচনা মনে রাখতে রূপসী বাংলা নামটি সবার আগে মাথায় রাখবে।
তাঁর বিখ্যাত সব কাব্যের নাম মনে রাখার জন্য নামের তালিকাটি নিয়মিত একবার করে চোখ বুলিয়ে নেবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
জীবনানন্দ দাশকে রূপসী বাংলার কবি বলা হয় এবং তাঁর অধিকাংশ কবিতায় বাংলার নিসর্গ রূপ ফুটে ওঠে।
বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাঁর কাব্যগ্রন্থের নাম থেকে প্রায়শই প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: D) আবগারী শুল্ক
১. কেন সঠিক:
- 'Excise duty' একটি সুপরিচিত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পারিভাষিক শব্দ।
- এর সঠিক বাংলা অর্থ হলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত পণ্যের ওপর ধার্য করা কর বা আবগারী শুল্ক।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন প্রশাসনিক, আইনি ও অর্থনৈতিক ইংরেজি শব্দের সঠিক বাংলা পারিভাষিক রূপ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়।
- এ ধরনের শব্দ মুখস্থ করার পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগ ও ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা রাখা আবশ্যক।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: Customs duty
ব্যাখ্যা: এর সঠিক বাংলা পারিভাষিক রূপ হলো শুল্ক বা কাস্টমস ডিউটি যা আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ধার্য করা হয়।
উদাহরণ ২: Income tax
ব্যাখ্যা: এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো আয়কর যা কোনো ব্যক্তির আয়ের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে ধার্য করা হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অতিরিক্ত কর — এই শব্দটি Excise duty শব্দের নির্দিষ্ট ও প্রমিত পারিভাষিক রূপ নয়। এটি সাধারণ অর্থে অতিরিক্ত যেকোনো করকে বোঝাতে পারে।
B) অর্পিত দায়িত্ব — এই শব্দগুচ্ছটি Assigned duty বা Delegated duty-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
C) অতিরিক্ত কাজ — এই কথাটি Extra work বা Additional work-এর বাংলা অর্থ প্রকাশ করে যা কোনো কর নয়।
D) আবগারী শুল্ক — এটিই একমাত্র সঠিক ও প্রমিত পারিভাষিক শব্দ যা Excise duty-এর জন্য নির্ধারিত।
৫. মনে রাখার টিপস:
- Excise শব্দটির সাথে উৎপাদনের বা স্থানীয় শুল্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- শুল্ক সংক্রান্ত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে কাস্টমস এবং আবগারীর পার্থক্য মনে রাখতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পারিভাষিক শব্দ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
- বিগত বছরের বিভিন্ন পরীক্ষার পারিভাষিক শব্দগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে নিয়মিত চর্চা করলে ভালো করা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: খ) প্রমথ চৌধুরী
কেন সঠিক:
১. বাংলা সাহিত্যের প্রমথ চৌধুরী বীরবল ছদ্মনামে বিভিন্ন মননশীল প্রবন্ধ ও রম্যরচনা লিখেছেন।
২. তাঁর সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় তিনি এই ছদ্মনামে অনেক প্রাবন্ধিক লেখা প্রকাশ করেছিলেন।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
১. বাংলা সাহিত্যে ছদ্মনাম ব্যবহার করার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এবং লেখকরা অনেক সময় ভিন্ন পরিচয়ে লিখতে পছন্দ করতেন।
২. প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতি প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং বীরবল ছদ্মনামে তিনি বিখ্যাত হন।
৩. তাঁর এই ছদ্মনামে প্রকাশিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলনের মধ্যে বীরবলের হালখাতা অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য বই।
বাকি অপশন কেন ভুল:
ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় — এই লেখকের বিখ্যাত ছদ্মনাম ছিল সনাতন পাঠক এবং নীললোহিত।
খ) প্রমথ চৌধুরী — এই অপশনটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে কোনো ভুল নেই।
গ) শামসুর রাহমান — এই বিখ্যাত কবির কোনো উল্লেখযোগ্য প্রচলিত ছদ্মনাম ছিল না।
ঘ) অন্নদাশংকর রায় — এই লেখকের জনপ্রিয় ছদ্মনাম ছিল লীলামময় রায়।
মনে রাখার টিপস:
প্রমথ চৌধুরীর নামের সাথে বীরবল নামটি মনে রাখার জন্য বীরবলের হালখাতা বইটি বারবার পড়তে পারো।
বাংলা সাহিত্যে চলতি রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী বীরবল ছদ্মনামে লিখতেন কথাটি এভাবে মনে রাখা যায়।
সঠিক উত্তর: C) গুজরাটি
১. কেন সঠিক:
- 'হরতাল' শব্দটি গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- এই শব্দটি মূলত ভারতের গুজরাট অঞ্চলে আন্দোলন বা কর্মবিরতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাংলা ভাষা বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ ধার করে সমৃদ্ধ হয়েছে।
- বিদেশি শব্দের উৎস অনুযায়ী 'হরতাল' একটি গুজরাটি শব্দ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: খদ্দর
ব্যাখ্যা: এটিও একটি গুজরাটি ভাষার শব্দ যা বাংলায় বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ২: ঘাগরা
ব্যাখ্যা: পোশাক অর্থে ব্যবহৃত এই শব্দটিও গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বাংলা — এটি দেশীয় বা মৌলিক বাংলা শব্দ নয়, কারণ এর উৎস বিদেশি ভাষা।
B) আসামী (অসমিয়া) — এটি অসমিয়া ভাষার শব্দ নয়, যদিও এটি ভারতের একটি আঞ্চলিক ভাষা থেকে এসেছে।
D) জাপানি — রিকশা বা সুনামি জাপানি শব্দ হলেওরতাল জাপানি শব্দ নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- গুজরাটি ভাষার প্রধান দুটি পরিচিত শব্দ মনে রাখতে পারো হরতাল ও খদ্দর।
- আন্দোলন বোঝাতে যে 'হরতাল' করা হয়, তা এসেছে গুজরাট থেকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিদেশি শব্দের উৎস প্রায়ই আসে।
- বিভিন্ন ভাষার নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আলাদা করে তালিকা করে পড়লে সহজে উত্তর করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) সামাজিক প্রহসন
১. কেন সঠিক:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'একেই কি বলে সভ্যতা' একটি সামাজিক প্রহসন। উনিশ শতকের বাংলার নব্য বাবু সমাজের অবক্ষয়, মদ্যপান ও নৈতিক পতন এর মূল বিষয়বস্তু।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নাটকের ধারায় প্রহসন ও ট্রাজেডি ঘরানার প্রবক্তা। এই নাটকে তিনি সমাজের তৎকালীন অসংগতি ও যুবসমাজের অবক্ষয় অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা: এটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক প্রহসন।
উদাহরণ ২: একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা: এই প্রহসনের মাধ্যমে মধুসূদন দত্ত তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধানুকরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কমেডি — কমেডি হলো সাধারণ হাস্যরসাত্মক নাটক, যা প্রহসনের মতো তীব্র সামাজিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ উপস্থাপন করে না।
B) সামাজিক প্রহসন — এই অপশনটি সঠিক এবং নাটকের মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
C) ট্রাজেডি — ট্রাজেডিতে নাটকের নায়কের পতন বা করুণ পরিণতি দেখানো হয়, যা প্রহসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
D) মেলোড্রামা — মেলোড্রামাতে অতিরিক্ত আবেগ ও চমকপ্রদ ঘটনা থাকে, যা এই নাটকের ঘরানার সঙ্গে মেলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন দুটি মনে রাখার কৌশল হলো মধুসূদন তার জীবনে দুটি প্রহসন লিখেছেন, যার একটি বাবু সমাজের সভ্যতা নিয়ে এবং অন্যটি বয়স্ক মানুষের কুপ্রবৃত্তি নিয়ে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক ও প্রহসনের নাম আলাদা করতে বলা হয়। তার প্রহসন দুটি হলো একেই কি বলে সভ্যতা এবং বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
সঠিক উত্তর: C) ওষধি
কেন সঠিক:
- যে উদ্ভিদ বা গাছ ফল পাকলে মারা যায়, তাকে ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী ওষধি বলা হয়।
- বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী এই অর্থে হ্রস্বইকারযুক্ত ওষধি শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদবাচক শব্দ।
- গাছপালা ও প্রকৃতির বিভিন্ন অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বাংলা ভাষায় এরকম বিশেষ শব্দ তৈরি হয়েছে।
- যেমন ধান, গম, বিভিন্ন শাকসবজি জাতীয় উদ্ভিদ ফল ধরার পর মরে যায়, তাই এগুলো ওষধি উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) ঔষধি — এই বানানটি মূলত ঔষদ গাছের চিকিৎসাগত গুণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ভুল রূপ।
- B) বনস্পতি — যে সকল বিশাল গাছের ফলফুল সচরাচর দেখা যায় না কিন্তু গাছগুলো অনেক বড় হয়, তাদের বনস্পতি বলে।
- C) ওষধি — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি এখানে প্রযোজ্য নয়।
- D) নিসর্গ — প্রকৃতি বা পরিবেশকে এককথায় নিসর্গ বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট গাছকে নয়।
মনে রাখার টিপস:
- ফল পাকলে মরে যায় এমন ছোট গাছ বা উদ্ভিদ বোঝাতে সবসময় হ্রস্বইকারযুক্ত ওষধি শব্দটি মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: C) মারা যাওয়া
১. কেন সঠিক:
- 'পটল তোলা' একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থ পটল সবজি খেত থেকে সংগ্রহ করা হলেও এর ভাবার্থ সম্পূর্ণ আলাদা।
- বাংলা ভাষায় বিশেষ এই প্রয়োগে মানুষ বা জীবের মৃত্যুকে অত্যন্ত রূপক অর্থে পটল তোলা বলা হয়।
২. ব্যাকরণ বা সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- বাগধারা হলো এমন কিছু শব্দ বা বাক্যাংশ যা তাদের সাধারণ বা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে একটি বিশেষ ও প্রচ্ছন্ন ভাব প্রকাশ করে।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বাগধারা ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং ভাবকে সংক্ষেপে ও আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশ করতে সহায়তা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বৃদ্ধ লোকটি অবশেষে পটল তুললেন।
ব্যাখ্যা: এখানে পটল তোলা বলতে বৃদ্ধ ব্যক্তির মারা যাওয়া বা জীবনাবসান ঘটার কথা বোঝানো হয়েছে।
উদাহরণ ২: রহিম সাহেবের গাড়িটি গতকাল দুর্ঘটনায় পড়ে পটল তুলেছে।
ব্যাখ্যা: রূপক অর্থে কখনো কখনো সচল কোনো যন্ত্র বা বস্তুর স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া বোঝাতেও এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পটল গাছ থেকে পটল তোলা — এটি কোনো বাগধারা নয়, বরং পটল সবজি তোলার সাধারণ আক্ষরিক কাজকে বোঝায়।
B) পটল খাওয়া — এটি পটল তোলার কোনো সমার্থক বাগধারা বা প্রচলিত অর্থ নয়।
D) ফেল করা — পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বোঝাতে ফেল করা বলা হয়, মারা যাওয়া বোঝাতে নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কোনো ব্যক্তি মারা গেলে যেমন তাকে আর জীবিত করা যায় না, তেমনি পটল গাছ থেকেও একবার পটল তুলে ফেললে তা আর গাছে ফিরে যায় না।
- এই মিল থেকেই পটল তোলা মানে মারা যাওয়া, এই কথাটি সহজে মনে রাখা যায়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জীবনাবসান বা মৃত্যু বোঝাতে বেশ কিছু বাগধারা আসে, যেমন— অক্কা পাওয়া, অনন্তধামে গমন, পটল তোলা ইত্যাদি।
- পরীক্ষার হলে বাগধারার আক্ষরিক অর্থ দাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সর্বদা এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ বা প্রবচনের অর্থ খুঁজে বের করতে হবে।
সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন-B
১. কেন সঠিক:
ভিটামিন বি হলো জলে দ্রবণীয় ভিটামিন যা মানবদেহে জমা থাকে না এবং অতিরিক্ত অংশ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
এই ভিটামিনগুলো আমাদের শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণ বিজ্ঞান থেকে এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পুষ্টিবিজ্ঞান সম্পর্কিত মৌলিক ধারণাকে যাচাই করে।
ভিটামিন প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত, যথা জলে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা: এটিও ভিটামিন বি এর মতো জলে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন যা মানবদেহে সংরক্ষণ করা যায় না।
উদাহরণ ২: ফলিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা: এটি ভিটামিন বি জটিল গ্রুপের একটি অংশ যা জলে দ্রবণীয় এবং রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন-A — এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, জলে দ্রবণীয় নয়।
B) ভিটামিন-E — এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, জলে দ্রবণীয় নয়।
C) ভিটামিন-B — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি জলে দ্রবণীয়।
D) ভিটামিন-D — এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, জলে দ্রবণীয় নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো মনে রাখার সহজ ছন্দ হলো বি এবং সি জলে ভাসে, বাকিগুলো চর্বিতে মেশে।
অর্থাৎ ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি জলে দ্রবণীয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস এবং অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই ভিটামিন কোন মাধ্যমে দ্রবণীয় তা জানতে চাওয়া হয়।
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে।
সঠিক উত্তর: D) একুশ
১. কেন সঠিক:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ মূলত বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত দেশি উপসর্গ। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের উপসর্গ বলে। বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার, যথা খাঁটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অনা বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি।
ব্যাখ্যা: এখানে খাঁটি বাংলা উপসর্গ অনা যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করেছে।
উদাহরণ ২: পাতি হাঁস = পাতিহাঁস।
ব্যাখ্যা: এখানে খাঁটি বাংলা উপসর্গ পাতি যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করেছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) আঠারো — এটি কোনো সঠিক সংখ্যা নির্দেশ করছে না কারণ বাংলা ব্যাকরণে খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা আঠারোটি নয়।
B) উনিশ — এটি ভুল তথ্য বহন করে কারণ বাংলা ব্যাকরণে খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা উনিশটি হিসেবে ধরা হয় না।
C) বিশ — এই সংখ্যাটি বাংলা ব্যাকরণের নির্ধারিত একুশটি খাঁটি বাংলা উপসর্গের নিয়মের সঙ্গে মিলছে না।
D) একুশ — এটি সঠিক সংখ্যা নির্দেশ করে কারণ প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি রয়েছে।
৫ মনে রাখার টিপস:
খাঁটি বাংলা উপসর্গের মোট সংখ্যা মনে রাখার জন্য এই ছড়াটি পড়তে পারো: সু-বি-নি-আ-পা-তে আ-আবা-ইতি-অনা-অঘা-উজ-পাতি-হা-হিস-রাম-সা-সুব-সাজে একুশটি উপসর্গ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় খাঁটি বাংলা ও তৎসম উপসর্গের সংখ্যা প্রায়ই কনফিউজড করে। মনে রাখবে খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি এবং তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ কুড়িটি।
সঠিক উত্তর: A) অগ্নিবীণা
১. কেন সঠিক:
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নয়, এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কবি ও তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ নিয়ে প্রায়ই এমন প্রশ্ন আসে, তাই রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রধান গ্রন্থগুলো আলাদা করা জরুরি।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২৯ সনের কার্তিক মাসে (১৯২২ খ্রিস্টাব্দ)।
- এই কাব্যগ্রন্থে বিদ্রোহী, প্রলয়োল্লাস, কামাল পাশা ও বিদায় হিয়ার মতো বিখ্যাত কবিতাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত সংকলিত কবিতা গ্রন্থ, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
উদাহরণ ২: বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা: এটিও কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী কাব্যগ্রন্থ, যা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছিল।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অগ্নিবীণা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নয়, বরং কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
B) চিত্রা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
C) সোনার তরী — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
D) বলাকা — এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- নজরুল মানেই অগ্নিবীণা, বিদ্রোহী ও ধূমকেতু আর রবীন্দ্রনাথ মানেই সোনার তরী, চিত্রা ও বলাকা।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ মনে রাখার জন্য নজরুলের অগ্নিবীণা নামটি বিশেষভাবে মাথায় রাখবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ কোনটি, তা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
- কবিদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশের সালগুলো আলাদা করে নোট করে রাখা ভালো।
সঠিক উত্তর: C) ৪৯টি
১. কেন সঠিক:
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা নিয়ে প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
প্রদত্ত প্রশ্ন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৪৯টি ধরা হয়েছে, যা ঐতিহ্যগত ব্যাকরণের হিসাব।
২. ব্যাকরণ / সাহিত্য ব্যাখ্যা:
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও প্রথাগত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে যার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
তবে ঐতিহ্যগত ও সর্বমোট বর্ণ মিলিয়ে স্বরবর্ণ ১৩টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৪৯টি ধরা হলে মোট বর্ণ হয় ৬২টি, যা এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক, খ, গ, ঘ, ঙ
ব্যাখ্যা: এগুলো ক-বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণ এবং কণ্ঠ্যধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ ২: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
ব্যাখ্যা: এগুলো চ-বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণ এবং তালু থেকে উচ্চারিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৩টি — এটি বাংলা বর্ণমালার স্বরবর্ণের সংখ্যা, ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা নয়।
B) ১১টি — এটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী স্বরবর্ণের মূল সংখ্যা।
D) ৩৯টি — এটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী ব্যঞ্জনবর্ণের মূল সংখ্যা, কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে ৪৯টি ধরা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বর্ণমালা সম্পর্কিত প্রশ্নে আধুনিক প্রমিত ব্যাকরণ এবং ঐতিহ্যগত ব্যাকরণের হিসাব আলাদা করে মনে রাখতে হবে।
মোট বর্ণ ৫০টি হলে ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি এবং মোট বর্ণ ৬২টি হলে ব্যঞ্জনবর্ণ ৪৯টি ধরতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলা একাডেমি ও প্রমিত ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি, স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
তবে ঐতিহ্যগত প্রশ্নে ৪৯টি উত্তর থাকলে সেটিও ব্যাকরণ বোর্ডের পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী সঠিক হিসেবে গণ্য হয়।
সঠিক উত্তর: A) 1972
১. কেন সঠিক:
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কবিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় আনা হয় এবং তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
২. সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, যিনি একই সঙ্গে ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং সংগীতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৭২ সালে তাকে বাংলাদেশে আনার পর ধানমন্ডির একটি বাড়িতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যাখ্যা: মৃত্যুর পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
উদাহরণ ২: বিদ্রোহী কবিতা কাজী নজরুল ইসলামের সবচেয়ে পরিচিত সৃষ্টি।
ব্যাখ্যা: এই কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 1972 — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই সালেই কবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল।
B) 1973 — এই সালে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়, বাংলাদেশে আনার সাল এটি নয়।
C) 1974 — এই সালে কবি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং বাংলা একাডেমি তাকে ফেলোশিপ প্রদান করে।
D) 1975 — এই সালে কবিকে বাংলাদেশর নাগরিকত্ব প্রদানসংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় এবং জাতির পিতা তাকে দেখতে যান।
৫ মনে রাখার টিপস:
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ১৯৭২ সালে কবি নজরুল প্রথম পা রাখেন, তাই ৭২ সাল মনে রাখা সহজ।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ এবং মৃত্যু ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র।
- তাকে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হয় যা প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর: A) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
কেন সঠিক:
- ফা হিয়েন ছিলেন একজন বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক যিনি বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতে আসেন।
- তিনি গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে ভারত ও বাংলা অঞ্চল সফর করেন।
ব্যাকরণ/সাহিত্য ব্যাখ্যা:
- এটি প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সাহিত্য বিষয়ক একটি সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন।
- প্রাচীন যুগে বহু বিদেশি পর্যটক জ্ঞান অন্বেষণ ও ধর্ম প্রচারের জন্য বাংলায় এসেছিলেন।
- ফা হিয়েনের ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
- B) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ — ইনি মধ্যযুগের একজন স্বাধীন সুলতান ছিলেন, তাই এই অপশনটি ভুল।
- C) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত — ইনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম দিকে শাসন করতেন যখন ফা হিয়েন আসেননি।
- D) হর্ষবর্ধন — ইনি পরবর্তী যুগের একজন সম্রাট ছিলেন, যার আমলে হিউয়েন সাং এসেছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময় মেগাস্থিনিস, আর দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ফা হিয়েন ভারতে আসেন।
সঠিক উত্তর: A) much
কেন সঠিক:
much শব্দটি একটি পজিটিভ ডিগ্রি। এর কম্পারেটিভ রূপ হলো মোর।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) much — এটি পজিটিভ ডিগ্রি হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
B) less — এটি লিটল শব্দের কম্পারেটিভ রূপ এবং তুলনামূলক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
C) more — এটি মেনি বা মাচ শব্দের কম্পারেটিভ রূপ হিসেবে বসে।
D) worse — এটি ব্যাড শব্দের কম্পারেটিভ রূপ এবং তুলনা বোঝায়।
মনে রাখার টিপস:
যেকোনো শব্দের ডিগ্রি পরিবর্তনের সময় এর রূপ খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) different
কেন সঠিক:
প্রশ্নটিতে জানতে চাওয়া হয়েছে কোনটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না। 'old' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো নতুন বা তরুণ, কিন্তু 'different' শব্দের অর্থ ভিন্ন বা আলাদা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) young — এই শব্দটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে যখন এটি বয়স বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
B) different — এই শব্দটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না কারণ এর অর্থ আলাদা বা ভিন্ন।
C) new — এই শব্দটি 'old' শব্দের সরাসরি বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে এবং এর অর্থ নতুন।
D) recent — এই শব্দটি 'old' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে কারণ এর অর্থ সাম্প্রতিক বা নতুন।
মনে রাখার টিপস:
বিপরীত শব্দ নির্ণয়ের সময় শব্দের মূল অর্থ এবং প্রেক্ষাপট ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) By whom can it be done?
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে থাকা who পরিবর্তিত হয়ে By whom হয়। Interrogative sentence এ auxiliary verb subject এর পূর্বে বসে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) By whom it can be done? — এখানে auxiliary verb subject এর পরে বসেছে, যা প্রশ্নবোধক বাক্যের নিয়মের বাইরে।
B) By whom can it be done? — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।
C) Who can it be done? — এখানে who কে by whom না করে ভুলভাবে রাখা হয়েছে।
D) Whom can be done by it? — এখানে passive করার সময় সঠিক structure এবং preposition এর ব্যবহার ভুল হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
Who যুক্ত Active voice কে Passive করার সময় প্রথমে By whom বসাতে হবে এবং সাহায্যকারী verb কে Subject এর আগে আনতে হবে।
সঠিক উত্তর: B) or
কেন সঠিক:
conjunction হলো সেই শব্দ যা দুটি শব্দ, বাক্যাংশ বা বাক্যকে যুক্ত করে। এখানে or দুটি বিকল্প বা সম্ভাবনাকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) up — এটি সাধারণত preposition বা adverb হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কোনো কিছু সংযুক্ত করে না।
B) or — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এটি এখানে ভুল অপشن হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
C) very — এটি একটি adverb যা adjective বা অন্য adverb এর মাত্রা প্রকাশ করে।
D) for — এটি preposition বা conjunction হতে পারে, তবে এই প্রশ্নে or সবচেয়ে উপযুক্ত conjunction হিসেবে কাজ করে।
মনে রাখার টিপস:
and, but, or হলো সাধারণ conjunction যা শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করতে সাহায্য করে।
সঠিক উত্তর: B) cardiologist
কেন সঠিক:
কার্ডিওলোজিস্ট শব্দটির মূল অংশ কার্ডিও এসেছে হার্ট বা হৃদপিণ্ড সম্পর্কিত চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে। তাই হৃদরোগ ও এর চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে কার্ডিওলোজিস্ট বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) nephrologist — নেফ্রোলজিস্ট হলেন কিডনি বা বৃক্কের রোগ ও তার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
B) cardiologist — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক এবং এখানে কোনো ভুল নেই।
C) neurologist — নিউরোলজিস্ট হলেন মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও মেরুদণ্ডের রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
D) pathologist — প্যাথোলজিস্ট হলেন ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়কারী চিকিৎসক।
মনে রাখার টিপস:
ইংরেজি শব্দ কার্ডিও অর্থ হৃদপিণ্ড, তাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মনে রাখতে কার্ডিওলোজিস্ট শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: A) worst
কেন সঠিক:
- ইংরেজি ব্যাকরণে কিছু Adjective এর Positive, Comparative এবং Superlative ফর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়, যেমন bad এর Superlative রূপ হলো worst।
- প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক এবং এটি Adjective এর Degree পরিবর্তনের নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) worst — এটি bad শব্দের সঠিক Superlative ডিগ্রি এবং বাক্য বা প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এটিই কাঙ্ক্ষিত সঠিক উত্তর।
B) lenst — এটি কোনো সঠিক ইংরেজি শব্দ বা ডিগ্রি নয়, মূলত এটি little শব্দের Comparative রূপ less বা Superlative রূপ least এর বানান বিকৃত রূপ।
C) worse — এটি bad শব্দের Comparative ডিগ্রি, যা দুটি বস্তুর মধ্যে তুলনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি Superlative হতে পারে না।
D) best — এটি good শব্দের Superlative ডিগ্রি, যা ভালো বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এখানে চাওয়া হয়েছে bad বা খারাপ শব্দের রূপ।
মনে রাখার টিপস:
bad শব্দের তুলনা করার সময় মনে রাখবে এর রূপগুলো হলো bad, worse এবং worst।
সঠিক উত্তর: D) die
কেন সঠিক:
'Pass away' একটি অত্যন্ত পরিচিত ফ্রেজ বা ইডিওম যার অর্থ হলো মৃত্যুবরণ করা।
ইংরেজিতে মানুষ মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে এই শব্দগুচ্ছটি ভদ্রতাবশত বা শালীনভাবে ব্যবহার করা হয়।
তাই এটি সরাসরি 'die' বা মৃত্যুর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) disappear — এর অর্থ হারিয়ে যাওয়া বা অদৃশ্য হওয়া, যা মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরাসরি বোঝায় না।
B) erase — এর অর্থ মুছে ফেলা বা মিশিয়ে দেওয়া, যা কোনো লেখা বা তথ্য মোছার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
C) fall — এর অর্থ নিচে পড়ে যাওয়া, যা কোনো শারীরিক পতন বোঝায় কিন্তু মৃত্যু বোঝায় না।
D) die — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
জীবন থেকে কেউ পার হয়ে চলে গেলে আমরা বলি সে মারা গেছে, এভাবে 'Pass away' মানে মারা যাওয়া মনে রাখবে।
সঠিক উত্তর: A) all types of food
কেন সঠিক:
omn- শব্দটির অর্থ হলো সব এবং vovare শব্দের অর্থ হলো খাওয়া। তাই যে প্রাণী উদ্ভিদ ও মাংস উভয় জাতীয় খাবারই খায় তাকে omnivore বলা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) all types of food — এটি সঠিক কারণ এই ধরনের প্রাণী সব ধরনের খাবার খেতে পারে।
B) only plants — এটি ভুল কারণ শুধু উদ্ভিদভোজী প্রাণীদের herbivore বলা হয়।
C) all types of insects — এটি ভুল কারণ শুধু পতঙ্গভোজী প্রাণীদের insectivore বলা হয়।
D) only means — এটি ভুল কারণ শুধু মাংসভোজী প্রাণীদের carnivore বলা হয়।
মনে রাখার টিপস:
omnia অর্থ সব এবং vora অর্থ খাওয়া, এই দুটি মিলে তৈরি হয় omnivore অর্থাৎ সর্বভুক প্রাণী।
সঠিক উত্তর: B) Jonathan Swift
কেন সঠিক:
জোনাথন সুইফট একজন বিখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক ও ব্যঙ্গকার। তিনি অষ্টম শতকের সমাজ ও রাজনীতির ওপর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে এই বিখ্যাত উপন্যাসটি রচনা করেছেন।
এটি মানুষের স্বভাব এবং তৎকালীন রাজনৈতিক অসংগতি নিয়ে লেখা একটি বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক রূপক উপন্যাস।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Ernest Hemingway — আর্নেস্ট হেমিংওয়ে এই উপন্যাস লেখেননি, তিনি মূলত দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি এর মতো বাস্তববাদী উপন্যাস লিখেছেন।
C) Bernard Shaw — বার্নার্ড শ কোনো উপন্যাস লেখেননি, তিনি মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক নাটক লেখার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
D) Charles Dickens — চার্লস ডিকেন্স এই বইটি লেখেননি, তিনি ভিক্টোরিয়ান যুগের বিখ্যাত উপন্যাস অলিভার টুইস্ট রচনা করেছিলেন।
মনে রাখার টিপস:
গালিভারস ট্রাভেলস বইটির নাম দেখলে সবসময় মনে রাখবে এটি জোনাথন সুইফটের লেখা একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস।
সঠিক উত্তর: A) top
কেন সঠিক:
Apex শব্দের বাংলা অর্থ হলো চূড়া বা শীর্ষবিন্দু।
ত্রিভুজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপরের শীর্ষবিন্দুকে বুঝাতে top কথাটি ব্যবহার করা হয়।
তাই সঠিক উত্তর হিসেবে top নির্বাচন করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) top — এটি সঠিক উত্তর কারণ apex অর্থ ত্রিভুজের শীর্ষ বা চূড়াকে নির্দেশ করে।
B) angles — এটি ভুল কারণ angles হলো ত্রিভুজের কোণগুলো, যা apex-এর সমার্থক নয়।
C) perimeter — এটি ভুল কারণ perimeter হলো ত্রিভুজের পরিসীমা বা বাইরের সীমানার দৈর্ঘ্য।
D) sides — এটি ভুল কারণ sides হলো ত্রিভুজের বাহুগুলো, যা তার শীর্ষবিন্দু নির্দেশ করে না।
মনে রাখার টিপস:
Apex শব্দ দেখলে মাথায় রাখবে এটি যেকোনো কিছুর চূড়া বা সর্বোচ্চ বিন্দু বোঝায়।
সঠিক উত্তর: A) after
কেন সঠিক:
এখানে কারো নামানুসারে নামকরণের ক্ষেত্রে 'name after' একটি নির্দিষ্ট ফ্রেজাল ভার্ব বা গ্রুপ ভার্ব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার অর্থ হলো কারও নাম অনুসারে অন্য কারো নামকরণ করা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) after — এটি সঠিক অপশন কারণ 'named after' নিয়ম অনুযায়ী কারো নামানুসারে নামকরণের ক্ষেত্রে বসে।
B) to — এটি ভুল কারণ 'named to' বলতে কোনো সঠিক ফ্রেজাল ভার্ব বা নিয়ম ইংরেজিতে নেই।
C) about — এটি ভুল কারণ 'named about' কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে না এবং এটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
D) according — এটি ভুল কারণ 'named according' সঠিক প্রিপজিশন বা নিয়মের সাথে মিলে না।
মনে রাখার টিপস:
কারো নাম অনুসারে বা বংশের নামানুসারে কারো নামকরণ করা বোঝাতে সবসময় 'name after' ফ্রেজটি ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: D) beauty
কেন সঠিক:
- প্রদত্ত শব্দটি হলো একটি Adjective, যার Noun রূপ হলো beauty।
- -ty প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি Abstract Noun-এ পরিণত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) beautify — এটি একটি Verb, যার অর্থ সুন্দর করা।
B) beauteous — এটি একটি Adjective, যার অর্থ সুন্দর।
C) beautifully — এটি একটি Adverb, যার অর্থ সুন্দরভাবে।
D) beauty — এটি সঠিক Noun রূপ, যার অর্থ সৌন্দর্য।
মনে রাখার টিপস:
শব্দটির শেষে ty দেখলে সাধারণত তা Noun হিসেবে গণ্য করা হয়।
সঠিক উত্তর: B) her
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে Each থাকলে তা সাধারণত একক বা singular হিসেবে গণ্য হয়।
তাই এর পরবর্তী possessive pronoun বা determiners ও singular হবে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) its — এটি বস্তু বা ইটারের ক্ষেত্রে বসে, মানুষের ক্ষেত্রে নয়।
B) her — এটি সঠিক কারণ ladies হলো স্ত্রীবাচক এবং singular ধরা হয়েছে।
C) their — এটি plural হওয়ার কারণে singular Each এর সাথে বসে না।
D) hers — এটি possessive pronoun এবং noun এর আগে বসে না।
মনে রাখার টিপস:
Each থাকলে সাবজেক্ট singular হয় তাই তার possessive রূপ হিসেবে her বা his ব্যবহার করতে হয়।
সঠিক উত্তর: B) in
কেন সঠিক:
ইংরেজিতে interest শব্দের পর সাধারণত প্রিপজিশন হিসেবে in বসে। কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বোঝাতে take an interest in এই সঠিক ধারাটি ব্যবহার করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) for — interest শব্দের পর for প্রিপজিশন বসে না কারণ এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়।
B) in — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে প্রযোজ্য নয়।
C) at — interest শব্দের সাথে at প্রিপজিশন ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই।
D) with — কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বোঝাতে with প্রিপজিশন ব্যবহার করা যায় না।
মনে রাখার টিপস:
আগ্রহ বোঝাতে সবসময় interest শব্দের পরে in প্রিপজিশন বসবে।
সঠিক উত্তর: D) Tell me what your name is?
কেন সঠিক:
বাক্যের শুরুতে Imperative Sentence থাকায় মূল বাক্যটি প্রশ্নবোধক হবে এবং শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসবে।
সংandযুক্ত সাব-ক্লজ বা noun clause-এর ভেতরের অংশটি সাধারণ assertive structure-এ থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) Tell me what is your name? — সাব-ক্লজের ভেତরে সাহায্যকারী ভারบ সাবজেক্টের আগে আসায় এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল হয়েছে।
B) Tell me what your name is. — বাক্যের শেষ অংশে ফুলস্টপ ব্যবহার করা হয়েছে অথচ মূল বাক্যটি প্রশ্নবোধক ছিল।
C) Tell me what is your name. — সাব-ক্লজের গঠন ভুল এবং বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের পরিবর্তে ফুলস্টপ দেওয়া হয়েছে।
D) Tell me what your name is? — এই অপশনটি সঠিক গঠন এবং সঠিক বিরামচিহ্ন উভয় নিয়মই মেনে চলেছে।
মনে রাখার টিপস:
Imperative বাক্যের পর indirect question যুক্ত করার সময় clause-এর ভেতরের অংশটি সবসময় সাবজেক্ট তারপর ভার্ব এই নিয়মে লিখতে হয়।
সঠিক উত্তর: C) rung
কেন সঠিক:
বাক্যটিতে had auxiliary verb থাকায় এর পরে মূল verb-এর Past Participle রূপ বসবে।
Ring verb-এর Past Participle রূপ হলো rung এবং এখানে অর্থ পূর্ণ হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) rang — এটি Ring verb-এর Past রূপ, যা Had-এর পরে সরাসরি বসে না।
B) ranged — এটি Range verb-এর রূপ, যার অর্থ সাজানো এবং এটি এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
C) সঠিক উত্তর — এটি নিজেই সঠিক হওয়ায় ভুল নয়।
D) ringed — এটি Ring verb-এর অন্য রূপ, যার অর্থ ঘেরাও করা এবং এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখার টিপস:
Have, has বা had-এর পরে সবসময় verb-এর Past Participle রূপ বসে।
সঠিক উত্তর: A) questionnaire
কেন সঠিক:
শব্দটির শুরুতে question অংশটি অপরিবর্তিত থাকে এবং এর সাথে naire যুক্ত হয়। শেষের দিকে দুটি n এবং দুটি e সঠিক বানানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) questionnaire — এই বানানটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং আদর্শ ইংরেজি বানানরীতি মেনে চলে।
B) questionaire — এই বানানটি ভুল কারণ এতে একটি n কম আছে।
C) questionnare — এই বানানটি ভুল কারণ এর শেষে সঠিক অক্ষরবিন্যাস নেই।
D) questioneire — এই বানানটি ভুল কারণ এর ভেতরে অতিরিক্ত ই এবং ভুল অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
question শব্দটির সাথে naire যোগ করার সময় মনে রাখবে এর ভেতরে ডাবল n এবং ডাবল e থাকে।
সঠিক উত্তর: B) collect
কেন সঠিক:
'Pick up' একটিPhrasal verb যার অর্থ কোনো কিছু নিচ থেকে তোলা বা সংগ্রহ করা।
অপশনের 'collect' শব্দটির অর্থও কোনো কিছু সংগ্রহ করা বা একত্র করা।
তাই এই দুটি শব্দের অর্থ প্রায় একই রকম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) display — এই শব্দটির অর্থ প্রদর্শন করা বা দেখানো, যা 'Pick up' এর অর্থের সাথে মিলে না।
B) collect — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক এবং ভুল নয়।
C) suspend — এই শব্দটির অর্থ স্থগিত করা বা মুলতবি রাখা, যা মূল অর্থের বিপরীত।
D) tolerate — এই শব্দটির অর্থ সহ্য করা, যার সাথে 'Pick up' এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
'Pick up' মানে মাটি থেকে কোনো হারানো জিনিস তুলে নিজের কাছে সংগ্রহ করা, তাই এটি collect এর সাথে সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: D) radius
কেন সঠিক:
- 'Radius' শব্দটি ল্যাটিন মূলের এবং এটি একটি একবচন বা Singular noun, যার বহুবচন হলো Radii।
- এর শেষে 'us' রয়েছে, যা সাধারণত ইংরেজি ব্যাকরণে ল্যাটিন মূলের Singular noun চেনার অন্যতম প্রধান উপায়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) formulae — এটি একটি বহুবচন রূপ, যার একবচন হলো formula।
B) agenda — এটি একটি বহুবচন রূপ, যার একবচন হলো agendum।
C) oases — এটি একটি বহুবচন রূপ, যার একবচন হলো oasis।
D) radius — প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি একবচন বা Singular ফর্মে রয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ল্যাটিন শব্দে 'us' থাকলে তা সাধারণত Singular এবং 'i' বা 'a' থাকলে তা Plural হয়।
সঠিক উত্তর: D) with
কেন সঠিক:
- কোনো ব্যক্তির সাথে মতের অমিল বা দ্বিমত পোষণ করা বোঝাতে differ এর পর with বসে।
- এই বাক্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) over — কোনো বিষয়ে বা বিষয়ের উপরে মতপার্থক্য বোঝাতে differ over ব্যবহৃত হয়, কিন্তু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি বসে না।
B) তো — এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক প্রিপজিশন নয় এবং differ এর সাথে সাধারণত infinitive হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
C) from — ভিন্নতা বা সাদৃশ্য না থাকা অর্থে বস্তুর ক্ষেত্রে differ from ব্যবহৃত হয়, ব্যক্তির সাথে মতের অমিল বোঝাতে নয়।
D) with — কোনো ব্যক্তির সাথে মতের অমিল হওয়া অর্থে সঠিক প্রিপজিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বক্তার সাথে দ্বিমত বোঝাতে with ব্যবহার করতে হয় এবং বিষয়ের ক্ষেত্রে over বা about ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) ২৪ অক্টোবর
কেন সঠিক:
- ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সনদ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৪৮ সাল থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৪ আগস্ট — এই তারিখে কোনো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ দিবস পালিত হয় না।
B) ২৪ নভেম্বর — এই তারিখে জাতিসংঘের কোনো প্রতিষ্ঠাতা দিবস বা প্রধান দিবস নেই।
C) ২৪ ডিসেম্বর — এই তারিখে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা দিবস পালিত হয় না।
D) ২৪ অক্টোবর — এটি সঠিক উত্তর কারণ এই দিনেই জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয়েছিল।
মনে রাখার টিপস:
অক্টোবরের ২৪ তারিখ মনে রাখুন এভাবে, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ কাজ শুরু করেছিল।
সঠিক উত্তর: D) চীন
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ তার মোট বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশ চীন থেকে আমদানি করে থাকে, যার ফলে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বহুগুণ বেশি।
- বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই বিশাল আমদানি ও রপ্তানি দূরত্বের কারণে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সাথেই তৈরি হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভারত — বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল হলেও, একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সাথেই রয়েছে।
B) জাপান — জাপানের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ঘাটতি রয়েছে, তবে তা চীনের তুলনায় অনেক কম।
সি) রাশিয়া — রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিমাণ এবং ঘাটতি চীন বা ভারতের তুলনায় বেশ কম।
D) চীন — এই অপশনটি সঠিক কারণ বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পরিমাণে পণ্য চীন থেকে আমদানি করে থাকে।
মনে রাখার টিপস:
আমদানিতে চীন সবার সেরা, তাই বাণিজ্য ঘাটতিতেও চীন সবার উপরে।
সঠিক উত্তর: A) বেইজিং
কেন সঠিক:
- তিয়ান মেন স্কয়ার হলো চীনের রাজধানী বেইজিং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি ঐতিহাসিক ও জনবহুল চত্বর।
- এটি চীনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের পাশাপাশি বিশ্ব ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বেইজিং — এটি সঠিক উত্তর কারণ তিয়ান মেন স্কয়ার এই শহরেই অবস্থিত।
B) সাংহাই — এটি চীনের প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হলেও এখানে তিয়ান মেন স্কয়ার অবস্থিত নয়।
C) হংকং — এটি চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল, যা বেইজিং থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
D) ক্যান্টন — এটি গুয়াংজু শহরের ঐতিহাসিক নাম, যা চীনের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত এবং এর সঙ্গে তিয়ান মেন স্কয়ারের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের নামের সঙ্গে তিয়ান মেন স্কয়ারের অবস্থান মনে রাখলেই উত্তরটি সহজে নিশ্চিত করা যায়।
সঠিক উত্তর: B) স্বাধীনতা পদক
কেন সঠিক:
- স্বাধীনতা পদক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পদক বা পুরস্কার।
- ১৯৭৭ সাল থেকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করা হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) একুশে পদক — এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পদক, সর্বোচ্চ পদক নয়।
B) স্বাধীনতা পদক — এটি নিজেই সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনটি সঠিক।
C) বাংলা একাডেমি পদক — এটি সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রদত্ত একটি সম্মাননা, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক নয়।
D) প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার — এটি কোনো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পদক বা জাতীয় পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম নয়।
মনে রাখার টিপস:
সর্বোচ্চ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হয়, তাই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক হলো স্বাধীনতা পদক।
সঠিক উত্তর: B) ২৭/০১/২১
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং কুর্মিটোলা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুনু বেরোখতারকে প্রথম টিকা দেওয়া হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২৫/০১/২১ — এই তারিখে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়নি, বরং এই দিনে দেশে টিকার প্রথম চালান এসে পৌঁছায়।
B) ২৭/০১/২১ — এটি সঠিক তারিখ, এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
C) ২১/০১/২১ — এই তারিখে কোনো আনুষ্ঠানিক টিকাদান কার্যক্রম বা উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেনি।
D) ২২/০১/২১ — এই তারিখের সঙ্গে কোভিড-১৯ টিকা উদ্বোধনের কোনো ঐতিহাসিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
মনে রাখার টিপস:
টিকা আসার দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
সঠিক উত্তর: C) ড. মাকসুদুল আলম
কেন সঠিক:
- ড. মাকসুদুল আলম বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিজ্ঞান অঙ্গনে তোশাচর্চিত তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবনরহস্য ২০১১ সালে সফলভাবে আবিষ্কার করেন।
- তার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্পন্ন করেন, যা পাটশিল্পের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) জগদীশচন্দ্র বসু — তিনি উদ্ভিদের প্রাণ আছে এবং বেতার তরঙ্গ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বখ্যাত, পাটের জিনোম সিকোয়েন্সের সঙ্গে সম্পর্কিত নন।
B) কুদরত-এ-খুদা — তিনি একজন প্রখ্যাত রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ ছিলেন এবং কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত, পাটের জিনোম আবিষ্কারক নন।
C) ড. মাকসুদুল আলম — এটিই সঠিক উত্তর, কারণ তিনি ২০১৩ সালে পেঁপের জিনোম এবং ২০১১ সালে পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন।
D) ড. মেঘনাথ সাহা — তিনি তাপীয় আয়নীকরণ সূত্র বা সাহা আয়নীকরণ সমীকরণের জন্য বিখ্যাত একজন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
মনে রাখার টিপস:
পাটের সোনালী সুতার মতো উজ্জ্বল নাম ড. মাকসুদুল আলম, যিনি এর জিনোম আবিষ্কার করে অমর হয়ে আছেন।
সঠিক উত্তর: C) গর্ভবতী মায়ের
কেন সঠিক:
- একলেমশিয়া হলো গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপজনিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক জটিলতা, যা খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার রূপ নেয়।
- সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে বা প্রসবের পর এই রোগ দেখা দেয় এবং এটি শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রেই ঘটে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) শিশুকন্যা — এটি কোনো শিশুর রোগ নয়, তাই শিশুকন্যাদের এই রোগ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
B) বৃদ্ধ পুরুষ — পুরুষদের শারীরবৃত্তীয় গঠনে গর্ভাবস্থা না থাকায় তাদের একলেমশিয়া হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
C) গর্ভবতী মায়ের — প্রদত্ত উত্তরটি সঠিক কারণ এই রোগটি শুধুমাত্র গর্ভাবস্থার বিশেষ জটিলতার কারণে হয়ে থাকে।
D) সমবয়সী মায়ের — সমবয়সী হওয়া একলেমশিয়া হওয়ার মূল কারণ নয়, কারণ এটি যেকোনো বয়সের গর্ভবতী মায়েরই হতে পারে।
মনে রাখার টিপস:
একলেমশিয়া শব্দটি শুনলেই মাথায় রাখবে এটি গর্ভবতী মায়ের প্রি-একলেমশিয়া পরবর্তী মারাত্মক খিঁচুনিজনিত অবস্থা।
প্রশ্নের ধরন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
সঠিক উত্তর: C) ২১ ফেব্রুয়ারি
কেন সঠিক:
- ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য বাংলার বীর সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ০৮ মার্চ — এটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়, যা মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
B) ১৬ ডিসেম্বর — এটি বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, যা ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয়।
C) ২১ ফেব্রুয়ারি — এটি সঠিক উত্তর, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
D) ২১ আগস্ট — এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন, যা ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার স্মরণে পালিত হয়।
মনে রাখার টিপস:
ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি এবং তারিখটি একুশ, অর্থাৎ একুশে ফেব্রুয়ারি।
সঠিক উত্তর: C) ২৩ জোড়া
কেন সঠিক:
- সুস্থ মানুষের দেহকোষে মোট ৪৬টি বা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে।
- এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম এবং ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ২০ জোড়া — এটি মানুষের স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যার চেয়ে কম এবং এটি ভুল তথ্য।
B) ২২ জোড়া — এটি মানুষের অটোজোম বা দেহকোষীয় ক্রোমোজোমের সংখ্যা, মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা নয়।
C) ২৩ জোড়া — এটি মানুষের ক্রোমোজোমের সঠিক সংখ্যা, যা ৪৬টি ক্রোমোজোম নির্দেশ করে।
D) ২৪ জোড়া — এটি মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যার চেয়ে বেশি এবং এটি ভুল তথ্য।
মনে রাখার টিপস:
মানুষের মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬টি, যার অর্ধেক বা জোড়ায় হিসাব করলে হয় ২৩ জোড়া।
সঠিক উত্তর: C) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
কেন সঠিক:
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা বর্তমান মুজিবনগর আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নিশ্চিত হয় এবং বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায় সহজ হয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৩০ মার্চ ১৯৭১ — এই তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত কোনো ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণের ঘটনা ঘটেনি।
B) ৭ এপ্রিল ১৯৭১ — এই তারিখে অস্থায়ী সরকার গঠিত বা শপথ গ্রহণ করেনি, এটি ভুল তারিখ।
সি) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ — এটি সঠিক উত্তর হওয়ায় এই অপশনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল নেই।
D) ১০ এপ্রিল ১৯৭১ — এই তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, কিন্তু শপথ হয় ১৭ এপ্রিল।
মনে রাখার টিপস:
গঠন ১০ এপ্রিল আর শপথ ১৭ এপ্রিল, এই দুই তারিখের ব্যবধান ঠিক সাত দিন।
প্রশ্নের ধরন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও সাম্প্রতিক জনমিতি
সঠিক উত্তর: D) কোনোটিই নয় (প্রদত্ত উত্তর সঠিক, কারণ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুটোলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মহিলাদের গড় আয়ু ৭৪ বছর ছাড়িয়ে গেছে)
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা কিংবা এইচআইএস রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪.৮ বছর।
- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক মান না থাকায় সঠিক উত্তর হবে কোনোটিই নয়।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৮০.৬ বছর — এটি বর্তমান বাস্তবতায় মহিলাদের গড় আয়ুর সাথে মেলে না, কারণ এই বয়সসীমা অনেক বেশি।
B) ৫৭.৫ বছর — এটি অনেক আগের উপাত্ত এবং বর্তমান সময়ের সাথে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
C) ৬৪.৪ বছর — এটিও অতীত দশকের পরিসংখ্যান, যা বর্তমানের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার কারণে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
D) কোনোটিই নয় — সঠিক পরিসংখ্যান অপশনে না থাকায় এটিই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৪ বছরের বেশি এবং নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।
সঠিক উত্তর: C) সাতক্ষীরা
কেন সঠিক:
- সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে কোনো রেললাইন বা ট্রেন যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই।
- বাংলাদেশের যে কয়েকটি জেলায় রেল যোগাযোগ নেই, তার মধ্যে সাতক্ষীরা অন্যতম।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নোয়াখালী — এই জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল করে।
B) টাঙ্গাইল — বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে এই জেলার ওপর দিয়ে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল করে এবং এখানে রেল স্টেশন রয়েছে।
C) সাতক্ষীরা — এটি সঠিক উত্তর, কারণ এই জেলায় এখনো কোনো রেললাইন বা ট্রেন যোগাযোগের নেটওয়ার্ক চালু হয়নি।
D) হবিগঞ্জ — এই জেলায় শায়েস্তাগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন ও রেল যোগাযোগ রয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
সাত ও নদীবিধৌত উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় নেই কোনো ট্রেন বা রেলের যাতায়াত।
সঠিক উত্তর: A) পুরাতন ব্রহ্মপুত্র
কেন সঠিক:
- ঐতিহাসিক ব্রহ্মপুত্র নদ গতিপথ পরিবর্তন করে যমুনা নদী হিসেবে মূল প্রবাহে রূপ নেওয়ার পর এর আগের মূল ধারাটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত হয়।
- এই পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদটি জামালপুর ও ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পুরাতন ব্রহ্মপুত্র — এটি ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদ এবং সঠিক উত্তর।
B) সুরমা — এটি মূলত সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের প্রধান নদী এবং ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নয়।
C) তিস্তা — এটি মূলত রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের নদী এবং ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নয়।
D) যমুনা — এটি ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে নয়, বরং আরও পশ্চিম দিক দিয়ে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
ময়মনসিংহ মানেই পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, যা এই শহরের পাশ দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর: C) ১৮-৫৭ বছর
কেন সঠিক:
- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী সাধারণ সুস্থ মানুষের রক্তদানের উপযুক্ত ও নিরাপদ বয়সসীমা হলো আঠারো থেকে সাতান্ন বছর।
- এই বয়সে একজন সুস্থ মানুষের শরীরে রক্তের পরিমাণ ও শারীরিক সক্ষমতা নিরাপদ মাত্রায় থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১৫-৪৫ বছর — পনেরো বছর বয়স রক্তদানের জন্য আইনগত ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত কম এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক পর্যায়।
B) ৭১০-৬০ বছর — অপশনটি মুদ্রণজনিত ত্রুটিপূর্ণ এবং মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তদানের বয়সসীমার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
D) ১৮-৭০ বছর — সত্তর বছর বয়স নিরাপদ রক্তদানের সাধারণ সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি এবং এ বয়সে শারীরিক ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখার টিপস:
রক্তদানের বয়স মনে রাখতে আঠারো বছরের প্রাপ্তবয়স্ক বয়সসীমা এবং সাতান্ন বছরের সর্বোচ্চ নিরাপদ সীমার সংখ্যাটি মনে রাখুন।
প্রশ্নের ধরন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ তথ্য
সঠিক উত্তর: A) রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা
কেন সঠিক:
- ভ্যাকসিন বা টিকা হলো মৃত বা দুর্বল জীবাণু অথবা জীবাণুর অংশবিশেষ, যা শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।
- এটি শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে ভবিষ্যতে একই রোগের আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা — এটি ভ্যাকসিনের প্রধান ও মূল কাজ, যা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
B) রোগ নিরাময় করা — ভ্যাকসিন রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সারিয়ে তোলে না, এটি মূলত রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে।
C) রোগ বৃদ্ধি করা — ভ্যাকসিন শরীরে রোগ বৃদ্ধি করে না, বরং জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে শরীরকে প্রস্তুত করে।
D) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া — ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় না, বরং ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
মনে রাখার টিপস:
ভ্যাকসিন হলো শরীরের জন্য ঢালস্বরূপ, যা রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
বিষয়ের ধরন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সঠিক উত্তর: B) কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
কেন সঠিক:
- ক্যান্সার হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাভাবিক বিভাজন, যার ফলে টিউমার বা অতিরিক্ত কোষের স্তূপ তৈরি হয়।
- দেহের স্বাভাবিক কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে এই অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু — কোষের স্বাভাবিক মৃত্যুকে অ্যাপোপটোসিস বলে, যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে না বরং ক্যান্সার কোষ এই মৃত্যুকে এড়িয়ে চলে।
B) কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি — এটি সঠিক কারণ, কারণ ক্যান্সার মূলত কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত বিভাজনের মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করে।
C) কোষের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা — জমাট বাঁধা মূলত রক্ত platelets এর কাজ, যা কাটাছেঁড়া বা রক্তক্ষরণ বন্ধের সাথে সম্পর্কিত, ক্যান্সারের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
D) সবগুলো — যেহেতু কেবল অপশন বি সঠিক, তাই সবগুলো উত্তর সঠিক হতে পারে না।
মনে রাখার টিপস:
ক্যান্সার মানেই কোষের বেহিসাবী ও অতিরিক্ত বৃদ্ধি।
সঠিক উত্তর: D) ঢাকা
কেন সঠিক:
- সিরডাপ একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার পূর্ণরূপ হলো সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক।
- এই সংস্থাটির সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় সঠিক উত্তর ঢাকা।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ব্যাংকক — এটি থাইল্যান্ডের রাজধানী এবং এসক্যাপ এর সদর দপ্তর, তবে সিরডাপের সদর দপ্তর এখানে নয়।
B) দিল্লী — এটি ভারতের রাজধানী এবং সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার বা অন্য কোনো সংস্থার সদর দপ্তর হতে পারে, তবে সিরডাপের নয়।
C) ইসলামাবাদ — এটি পাকিস্তানের রাজধানী এবং ইকো সংক্রান্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের দপ্তর থাকলেও সিরডাপের সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত নয়।
D) ঢাকা — এটি সঠিক উত্তর কারণ সিরডাপের প্রধান কার্যালয় ঢাকাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মনে রাখার টিপস:
এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সিরডাপের সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়।
সঠিক উত্তর: C) যশোর
কেন সঠিক:
- যশোর জেলায় প্রথম সরকারিভাবে সব সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালু করা হয়।
- ২০১০ সালের ছাব্বিশে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই জেলাকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ঢাকা — এটি দেশের রাজধানী এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র হলেও প্রথম ডিজিটাল জেলা নয়।
B) বগুড়া — এটি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা তবে প্রথম ডিজিটাল জেলার মর্যাদা পায়নি।
C) যশোর — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হওয়ায় এখানে অন্য কোনো কারণ প্রযোজ্য নয়।
D) টাঙ্গাইল — এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলেও ডিজিটাল জেলা হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি পায়নি।
মনে রাখার টিপস:
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় যশোর জেলা সবার আগে এগিয়ে ছিল, তাই প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোর।
সঠিক উত্তর: A) RNA Virus
কেন সঠিক:
- সার্স-কভ-২ বা করোনা ভাইরাস একটি সিঙ্গেল স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের জিনোম বা বংশগত উপাদান হিসেবে ডিএনএর পরিবর্তে আরএনএ থাকে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) RNA Virus — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ এই ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান হলো আরএনএ।
B) ব্যাকটেরিয়া — এটি এককোষী প্রোকারিওটিক মাইক্রোজিব, কোনো ভাইরাস নয়।
C) DNA Virus — এটি ডিএনএ দ্বারা গঠিত ভাইরাস, কিন্তু করোনা ভাইরাস ডিএনএ ভাইরাস নয়।
D) ছত্রাক — এটি ইউক্যারিওটিক জীব, যা ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির।
মনে রাখার টিপস:
করোনা ও ডেঙ্গু উভয়ের নামের মতোই এদের মূল উপাদান হলো আরএনএ।
সঠিক উত্তর: A) রাশিয়া
কেন সঠিক:
- রাশিয়ার মোট আয়তন প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার, যা পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় এগারো শতাংশ।
- আয়তন ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির দিক থেকে এটি ইউরোপ ও এশিয়া দুটি মহাদেশ জুড়ে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রাশিয়া — এটি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কারণ এটি আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ।
B) অস্ট্রেলিয়া — এটি বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ এবং একটি মহাদেশ, তবে আয়তনে রাশিয়ার চেয়ে অনেক ছোট।
C) কালাভা — এটি কোনো পরিচিত বা সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়, বরং এটি একটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর অপশন।
D) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — এটি আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দেশ, যা রাশিয়ার চেয়ে আয়তনে ছোট।
মনে রাখার টিপস:
বিশ্বের বড় দেশগুলোর ক্রম মনে রাখার শর্টকাট কৌশল হলো রাকাচুবাপ্র (রাশিয়া, কানাডা, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া)।
প্রশ্নের ধরন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি
সঠিক উত্তর: A) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
কেন সঠিক:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী দেশের আনুষ্ঠানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই নামটি নির্ধারিত ও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ — এটি সংবিধান অনুযায়ী দেশের একমাত্র সঠিক ও দাপ্তরিক সাংবিধানিক নাম।
B) বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র — এটি সংবিধানে ব্যবহৃত সঠিক রাষ্ট্রীয় নাম নয়, কারণ এতে আনুষ্ঠানিক বিশেষণ বাদ পড়েছে।
C) গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ — এটি কোনো সাংবিধানিক বা দাপ্তরিক নাম নয়, এটি কেবল একটি সাধারণ বর্ণনামূলক শব্দ।
D) প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ — এটি সংক্ষিপ্ত রূপ হলেও বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত সাংবিধানিক নাম নয়।
মনে রাখার টিপস:
সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদেই দেশের নাম উল্লেখ আছে, যার সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী শব্দটি যুক্ত।
সঠিক উত্তর: B) হেরোডোটাস
কেন সঠিক:
- তিনি খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিক-পারস্য যুদ্ধের ইতিহাস লিখে এই ধারাটির সূচনা করেছিলেন।
- তার ঐতিহাসিক রচনার কারণেই তাকে প্রাচীন রোমান দার্শনিক সিসেরো ইতিহাসের জনক উপাধিতে ভূষিত করেন।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) রুসিডাই জিস — এটি কোনো ঐতিহাসিক বা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিচিত ব্যক্তিত্ব নয়।
B) হেরোডোটাস — ইনিই প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ এবং এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
C) এরিস্টটল — তিনি ইতিহাসের জনক নন, বরং তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
D) টায়নবি — আর্নল্ড জে টায়নবি একজন আধুনিক বিখ্যাত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ হলেও তাকে ইতিহাসের জনক বলা হয় না।
মনে রাখার টিপস:
হ তে ইতিহাস এবং হ তে হেরোডোটাস, এভাবে খুব সহজেই মনে রাখা সম্ভব।
সঠিক উত্তর: B) ব্রাসেলস
কেন সঠিক:
- ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত।
- সামরিক জোট হিসেবে এটি পশ্চিমা দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই শহর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বাকি অপশন কেন ভুল:
A) বার্ন — এটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী এবং আন্তর্জাতিক কোনো সামরিক জোটের সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত নয়।
B) ব্রাসেলস — এটি ন্যাটোর নির্ধারিত সঠিক সদর দপ্তর এবং এখানেই এর মূল কার্যালয় অবস্থিত।
C) লিও — এটি ফ্রান্সের একটি প্রধান শহর এবং ইন্টারপোলের সদর দপ্তর হলেও ন্যাটোর সদর দপ্তর নয়।
D) হামবুর্গ — এটি জার্মানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী এবং ন্যাটোর সদর দপ্তরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার টিপস:
ন্যাটো একটি শক্তিশালী জোট, আর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে তাদের হেডকোয়ার্টার বা সদর দপ্তর বসে।
সঠিক উত্তর: C) প্লাজমা
১. কেন সঠিক:
- কোষের প্রধান তিনটি অংশ হলো কোষঝিল্লি বা সেলমেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস।
- প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ, যা কোষের কোনো মৌলিক অংশ নয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: জীবদেহের গঠন ও কাজের একক হলো কোষ এবং কোষের ভেতরে প্রধান উপাদানগুলোর সুনির্দিষ্ট কাজ রয়েছে।
- কার্যপ্রণালি: উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে সেলমেমব্রেন চারপাশ ঘিরে রাখে, সাইটোপ্লাজম অঙ্গাণু ধারণ করে এবং নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: রক্ত পরীক্ষা করার সময় রক্তের কোষগুলো থেকে প্লাজমা বা রক্তরস আলাদা করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: উদ্ভিদের পেঁয়াজ কোষ মাইক্রোস্কোপে দেখলে সেলমেমব্রেন ও নিউক্লিয়াস স্পষ্ট দেখা যায়।
ব্যাখ্যা: এটি প্রমাণ করে যে কোষের নির্দিষ্ট গাঠনিক উপাদান থাকে।
উদাহরণ ২: মানুষের রক্তের তরল অংশ হলো ব্লাড প্লাজমা।
ব্যাখ্যা: এটি কোষে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করলেও নিজে কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সেলমেমব্রেন — এটি কোষের বাইরের আবরণ, যা কোষের ভেতরের অংশকে সুরক্ষা দেয় এবং কোষের অংশ।
B) সাইটোপ্লাজম — এটি কোষের ভেতরে জেলের মতো তরল পদার্থ, যেখানে বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু থাকে।
C) প্লাজমা — এটি কোষের অংশ নয়, বরং এটি রক্তের তরল উপাদান বা রক্তরস।
D) নিউক্লিয়াস — এটি কোষের মস্তিষ্ক বা নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র, যা কোষের অংশ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- কোষের প্রধান অংশ মনে রাখার সহজ উপায় হলো কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস।
- প্লাজমা শব্দটি রক্ত বা পদার্থবিদ্যার পদার্থের চতুর্থ অবস্থার সাথে সম্পর্কিত, কোষের সাথে নয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- কোষের প্রধান তিনটি অংশ সম্পর্কে প্রায়ই বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
- প্লাজমা রক্তরস হিসেবে মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: C) মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন
১. কেন সঠিক:
হাতের কনুইয়ের সামনের অংশে অবস্থিত মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন শিরাটি তুলনামূলক মোটা ও ত্বকের কাছাকাছি থাকে।
তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্যালাইন পুশ করা বা রক্ত সংগ্রহের জন্য এই শিরাটি সবচেয়ে নিরাপদ ও আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মানবদেহের রক্তসংবহনতন্ত্রে ধমনি ও শিরা রক্ত পরিবহন করে এবং শিরাগুলো সাধারণত ত্বক ভেদ করে সহজে ইনজেকশন দেওয়ার উপযুক্ত হয়।
কার্যপ্রণালি: এই শিরাটি পৃষ্ঠীয় শিরা জালিকাকে সেফেনাস ও ব্যাসিলিক শিরার সঙ্গে যুক্ত করে এবং এর নিচে গুরুত্বপূর্ণ ধমনি বা স্নায়ু কম থাকে।
বাস্তব প্রয়োগ: হাসপাতালে চিকিৎসকরা রোগীর শরীরে শিরায় স্যালাইন বা ওষুধ দেওয়ার সময় এই মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইনকেই প্রথম প্রাধান্য দেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে ডিহাইড্রেশন দূর করতে স্যালাইন পুশ করার সময় নার্সরা কনুইয়ের ভেতরের এই শিরাটি নির্বাচন করেন।
ব্যাখ্যা: এটি বড় ও স্থির থাকায় সুই প্রবেশ করানো সহজ হয় এবং রোগীর ব্যথা কম অনুভূত হয়।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য বা রক্তের রুটিন পরীক্ষার সময় ল্যাবরেটরিতে এই শিরা থেকেই সিরিঞ্জের সাহায্যে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি রক্ত সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রধান শিরা।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ল্যাটারাল কিউটেনিয়াস ভেইন — এটি হাতের বাইরের দিকের চামড়ার স্নায়ু সরবরাহ করে, কোনো প্রধান রক্তবাহী শিরা নয়।
B) মিডিয়াল কিউটেনিয়াস ভেইন — এটিও মূলত ত্বকের সংবেদনশীল স্নায়ুর সঙ্গে যুক্ত এবং স্যালাইন পুশ করার প্রধান শিরা নয়।
C) মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন — এটি সঠিক উত্তর এবং স্যালাইন পুশ করার জন্য ব্যবহৃত প্রধান শিরা।
D) সবগুলো — বাকি অপশনগুলো সঠিক শিরা না হওয়ায় এই অপশনটি ভুল।
৫. মনে রাখার টিপস:
কনুই বা এলবো কথাটি থেকে কিউবিটাল শব্দটি মনে রাখতে পারেন।
তাই কনুইয়ের ভেতরের প্রধান শিরাটির নাম মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন, যা স্যালাইন দেওয়ার কাজে লাগে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাঠামোর শিরা ও উপশিরার অবস্থান থেকে বিসিএস ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
একই ধারণা থেকে রক্ত সংগ্রহের আদর্শ স্থান কোনটি, এই ধরনের প্রশ্নও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: C) ফেনল
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নটিতে বলা হয়েছে কোনটি ডিসইনফেকট্যান্ট বা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তবে প্রকৃতপক্ষে ফেনল একটি শক্তিশালী এবং ঐতিহ্যবাহী ডিসইনফেকট্যান্ট হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়।
- প্রদত্ত সঠিক উত্তর হিসেবে ফেনলকে চিহ্নিত করা হলেও বিজ্ঞানসম্মতভাবে ফেনল, লাইজল এবং ইথাইল অ্যালকোহল সবই জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কার্যকর।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ডিসইনফেকট্যান্ট হলো এমন রাসায়নিক এজেন্ট যা জড় বস্তুর ওপর উপস্থিত রোগ সৃষ্টকারী অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্যপ্রণালি: ফেনল অণুজীবের কোষের প্রোটিন জমাট বাঁধিয়ে এবং কোষঝিল্লি ধ্বংস করে জীবাণু নিষ্ক্রিয় করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: হাসপাতাল এবং শৌচাগার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জীবাণুমুক্ত করতে ফেনলভিত্তিক তরল বহুল ব্যবহৃত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হাসপাতাল বা মেঝেন পরিষ্কারের কাজে ফেনল বা কার্বলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি মেঝেতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধ্বংস করে পরিবেশ নিরাপদ রাখে।
উদাহরণ ২: ঘরের মেঝে মোছার পানিতে লাইজল বা স্যাভলন মেশানো হয়।
ব্যাখ্যা: এটি ঘরের পৃষ্ঠতল থেকে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে এবং সংক্রমণ রোধ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) স্যাভলন — এটি মূলত ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট এবং সেট্রিমাইডের মিশ্রণ যা ত্বক এবং কাটাছেঁড়ায় অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
B) লাইজল — এটি একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ডিসইনফেকট্যান্ট যা ঘরের মেঝে ও বাথরুম পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয়।
C) ফেনল — এটি একটি ক্লাসিক্যাল জীবাণুনাশক বা ডিসইনফেকট্যান্ট যা জোসেফ লিস্টার প্রথম সার্জিক্যাল অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
D) ইথাইল অ্যালকোহল — এটি একটি কার্যকর জীবাণুনাশক যা হাত এবং চিকিৎসা উপকরণের জীবাণু ধ্বংস করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ফেনল, লাইজল এবং অ্যালকোহল প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে জীবাণু ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- পরীক্ষামূলক প্রশ্নে এমন কোনো উত্তর সঠিক হিসেবে থাকতে পারে যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল, তাই কার্যকারিতা বুঝে উত্তর নির্বাচন করতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- জোসেফ লিস্টার প্রথম সার্জারিতে ফেনল ব্যবহার করে অ্যান্টিসেপ্টিক ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন।
- ডিসইনফেকট্যান্ট এবং অ্যান্টিসেপ্টিকের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ডিসইনফেকট্যান্ট জড় বস্তুতে এবং অ্যান্টিসেপ্টিক জীবদেহে ব্যবহার করা হয়।
সঠিক উত্তর: D) ইলিয়াম
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে বৃহদান্ত্র বা লার্জ ইন্টেস্টাইনের শেষ অংশ এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে।
- প্রদত্ত প্রশ্নটি নিয়ে একটু সংশোধন প্রয়োজন, কারণ ইলিয়াম আসলে বৃহদান্ত্রের অংশ নয়, এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মানবদেহের পরিপাকনালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত, যার মধ্যে ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র প্রধান দুটি অংশ।
- কার্যপ্রণালি: ক্ষুদ্রান্ত্র ডিওডেনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম এই তিনটি অংশে বিভক্ত, যেখানে খাদ্যের প্রধান পরিপাক ও শোষণ ঘটে।
- কারণ ও ফলাফল: ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ অর্থাৎ ইলিয়ামের মাধ্যমেই অপাচ্য খাদ্যসার বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ক্ষুদ্রান্ত্রের গঠন
ব্যাখ্যা: মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্র প্রায় ৬ মিটার লম্বা হয় যার শেষ অংশ হলো ইলিয়াম।
উদাহরণ ২: পরিপাকতন্ত্রের সংযোগ
ব্যাখ্যা: ইলিয়াম নামক অংশটি সিকামের মাধ্যমে বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডিওডেনাম — এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ, যা পাকস্থলীর ঠিক পরেই অবস্থিত এবং বৃহদান্ত্রের অংশ নয়।
B) জেজুনাম — এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যবর্তী অংশ, যা ডিওডেনাম ও ইলিয়ামের মাঝে থাকে।
C) এপেনডিক্স — এটি বৃহদান্ত্রের সিকাম অংশের সঙ্গে যুক্ত একটি ক্ষুদ্র প্রবর্ধিত অংশ, যা সরাসরি বৃহদান্ত্রের মূল নালির অংশ নয়।
D) ইলিয়াম — প্রদত্ত প্রশ্ন অনুযায়ী এটি সঠিক উত্তর হিসেবে নির্দেশিত হলেও বৈজ্ঞানিক সত্য হলো এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্ষুদ্রান্ত্রের তিনটি অংশ মনে রাখার সহজ শব্দ হলো ডি-জে-ই অর্থাৎ ডিওডেনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম।
- বৃহদান্ত্রের অংশগুলো হলো সিকাম, কোলন এবং মলাশয় বা রেক্টাম।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্র দীর্ঘতম অংশ হলেও এর শেষ অংশের নাম ইলিয়াম।
- এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই খাদ্যনালির গঠন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে আসে।
সঠিক উত্তর: A) ধমনীর ভিতর
১. কেন সঠিক:
হৃদপিণ্ড থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারা দেহে বহন করার প্রধান রক্তনালী হলো ধমনী।
হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে ধমনীর প্রাচীরে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তাকেই নাড়ীর স্পন্দন বা পালস বলে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মানবদেহের রক্তসংবহন তন্ত্রের প্রধান অংশ হলো ধমনী, শিরা এবং capillaries বা কেশিকা।
কার্যপ্রণালি: বাম নিলয় থেকে রক্ত ধমনীতে পাম্প হয়ে ঢোকার সময় ধাক্কার সৃষ্টি করে, যা হাত বা গলার নির্দিষ্ট স্থানে আঙুল রাখলে স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডাক্তাররা কব্জিতে আঙুল রেখে রোগীর নাড়ির গতি বা পালস রেট পরিমাপ করেন।
ব্যাখ্যা: এটি হৃদপিণ্ডের স্পন্দন হার এবং রক্তপ্রবাহের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
উদাহরণ ২: শারীরিক ব্যায়াম বা দৌড়ানোর পর নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যায়।
ব্যাখ্যা: পেশিতে বেশি অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হৃদপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাম্প করায় ধমনীতে স্পন্দন দ্রুত অনুভূত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ধমনীর ভিতর — এই অপশনটি সঠিক কারণ হৃদপিণ্ডের পাম্প করার চাপ সরাসরি ধমনীর মাধ্যমে বাহিত হয়।
B) শিরার ভিতর — শিরা হলো এমন রক্তনালী যা দেহ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে এবং এতে কোনো দৃশ্যমান স্পন্দন থাকে না।
C) স্নায়ুর ভিতর — স্নায়ু শরীরে বৈদ্যুতিক সংকেত বা অনুভূতি বহন করে, কিন্তু এর ভেতর দিয়ে রক্ত বা নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয় না।
D) নাসিকা নালীর ভিতর — নাসিকা নালী শ্বাসকার্য পরিচালনার সাথে যুক্ত এবং এর ভেতর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হয়, রক্তসংবহন বা নাড়ির স্পন্দন এখানে হয় না।
৫. মনে রাখার টিপস:
হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় ধমনী এবং এর প্রাচীর শক্ত হওয়ায় নাড়ির স্পন্দন অনুভূত হয়।
শিরা রক্ত ফিরিয়ে আনে এবং এর প্রাচীর তুলনামূলক নরম ও পাতলা হওয়ায় স্পন্দন থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
সুস্থ মানুষের সাধারণ অবস্থায় প্রতি মিনিটে নাড়ির স্পন্দন বা পালস রেট সাধারণত সত্তর থেকে আশি বার হয়ে থাকে।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে কোন রক্তনালী হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত দূরে বহন করে।
সঠিক উত্তর: D) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
১. কেন সঠিক:
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১৮৫৪ থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত চলা ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় আহত ব্রিটিশ ও মিত্রবাহিনীর সৈনিকদের সেবাশুশ্রূষা করেছিলেন।
যুদ্ধের ময়দানে লণ্ঠন হাতে আহত সৈনিকদের সেবা করার জন্য তাকে লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প বা দীপ্তিময়ী নারী বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: আধুনিক নার্সিংয়ের জনক ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল চিকিৎসালয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
কার্যপ্রণালি: তিনি হাসপাতালের ওয়ার্ডে নিয়মিত বাতাস চলাচল, রোগীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করে মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আধুনিক হাসপাতালের আইসিইউ বা সাধারণ ওয়ার্ডে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
ব্যাখ্যা: এটি ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের প্রবর্তित স্বাস্থ্যসম্মত সেবার বৈজ্ঞানিক নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
উদাহরণ ২: মহামারী বা দুর্যোগের সময় রেড ক্রিসেন্ট বা স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের আহতদের সেবা প্রদান।
ব্যাখ্যা: এটি যুদ্ধ বা সংকটের সময় মানবসেবা এবং নার্সিং পেশার মূল আদর্শকে তুলে ধরে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ওয়াটার লু'র যুদ্ধ — এটি ১৮১৫ সালে সংঘটিত হয় যেখানে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন।
B) আমেরিকার গৃহযুদ্ধ — এটি ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত হয় এবং এই যুদ্ধে অন্য নারীরা ভূমিকা রেখেছিলেন।
C) ফরাসি বিপ্লব — এটি ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে সংঘটিত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন যা চিকিৎসা ইতিহাসের চেয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত।
D) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ — এই যুদ্ধের সময় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল নার্সিং সেবার অভূতপূর্ব সংস্কার সাধন করেন।
৫ মনে রাখার টিপস:
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল মানেই ক্রিমিয়ার যুদ্ধ এবং লহ্মী বা ল্যাম্প হাতে সেবা করার ইতিহাস।
নার্সিং পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই নামটি পরীক্ষার হলে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ অপশনের সঙ্গে মিলিয়ে দাগাতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১২ মে জন্মগ্রহণের দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস পালন করা হয়।
বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নার্সিংয়ের ইতিহাস ও রেড ক্রস সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: A) এইডস
১. কেন সঠিক:
এইডস হলো একটি সংক্রামক ব্যাধি যা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস নামক জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়।
এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় ফলে অন্যান্য সংক্রামক রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: সংক্রামক ব্যাধি হলো সেইসব রোগ যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা পরজীবীর মতো অণুজীবের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়।
কার্যপ্রণালি: এইডস ভাইরাস রক্ত, বীর্য বা অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং শ্বেত রক্তকণিকা বা টি সেল ধ্বংস করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: করোনা ভাইরাস বা কোভিড উনিশ একটি সংক্রামক ব্যাধি যা হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়ায়।
ব্যাখ্যা: এটি সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করে।
উদাহরণ ২: যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ যা মাইকব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ফুসফুসে হয়।
ব্যাখ্যা: এটিও বায়ুবাহিত সংক্রামক ব্যাধির একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এইডস — এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি যা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয় এবং সঠিক উত্তর হিসেবে নির্বাচিত।
B) উচ্চ রক্তচাপ — এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয় বরং জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও জিনগত কারণে হওয়া একটি অসংক্রামক রোগ।
C) ডায়াবেটিস — এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিপাকীয় ও অসংক্রামক ব্যাধি যা ছড়ায় না।
D) রেনাল ফেইলিউর — এটি বৃক্কের বা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা এবং এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
সংক্রামক রোগ মানেই জীবাণুর আক্রমণ যেমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া।
অসংক্রামক রোগগুলো জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত এবং এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায় না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের পার্থক্য থেকে প্রশ্ন আসে।
এইডস রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস হলো এইচআইভি এবং এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে।
সঠিক উত্তর: D) লিম্ফোসাইট
১. কেন সঠিক:
লিম্ফোসাইট হলো এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা যা মানবদেহের অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান যোদ্ধা।
এগুলো বি লিম্ফোসাইট এবং টি লিম্ফোসাইট হিসেবে বিভক্ত হয়ে নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: লিম্ফোসাইট হলো দানাদারহীন শ্বেত রক্তকণিকা যা অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় এবং রক্তে পরিবাহিত হয়।
কার্যপ্রণালি: দেহে কোনো ক্ষতিকর ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে লিম্ফোসাইট তাকে শনাক্ত করে এবং বিশেষ প্রোটিন বা এন্টিবডি উৎপাদন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: টিকাদান কার্যক্রম।
ব্যাখ্যা: টিকা শরীরে মৃত বা দুর্বল জীবাণু প্রবেশ করিয়ে লিম্ফোসাইটকে উদ্দীপিত করে যাতে ভবিষ্যতে প্রকৃত জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত এন্টিবডি তৈরি হতে পারে।
উদাহরণ ২: বসন্ত বা হাম রোগের আক্রমণ।
ব্যাখ্যা: একবার এই রোগগুলো হলে লিম্ফোসাইট এদের বিরুদ্ধে স্থায়ী এন্টিবডি তৈরি করে রাখে, ফলে দ্বিতীয়বার সচরাচর সেই রোগ হয় না।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিউট্রোফিল — এটি ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণু ধ্বংস করে, কিন্তু এন্টিবডি তৈরি করে না।
B) বেসোফিল — এটি হেপারিন ও হিস্টামিন ক্ষরণ করে এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
C) ইওসিনোফিল — এটি কৃমি ও অন্যান্য পরজীবীর সংক্রমণ প্রতিহত করতে এবং অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
D) লিম্ফোসাইট — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি দেহে নির্দিষ্ট এন্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
লিম্ফোসাইট শব্দের প্রথম অক্ষর ল এবং ল্যাটিন বা ইংরেজি অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতার সাথে এটি যুক্ত।
শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে লিম্ফোসাইটই মূলত এন্টিবডি তৈরির মূল কারখানা হিসেবে কাজ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে নিউট্রোফিল ও মনোসাইট।
এন্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করার জন্য লিম্ফোসাইট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: B) ইনসুলিন
১. কেন সঠিক:
ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি বা এর কার্যকারিতা হ্রাসের কারণেই মূলত ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগটি দেখা দেয়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষগুলোতে গ্লুকোজ প্রবেশে এই হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহান্স কোষের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত একটি পেপটাইড হরমোন।
কার্যপ্রণালি: খাবার হজমের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়লে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় এবং যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: সুস্থ মানুষের দেহে খাবার গ্রহণের পর অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে।
ব্যাখ্যা: এর ফলে কোষে শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত শর্করা রক্তে জমে থাকে না।
উদাহরণ ২: ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ইনসুলিনের অপর্যাপ্ততার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা: একে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলা হয়, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) গুকাগন — এটি অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকলে তা বাড়াতে সাহায্য করে।
B) ইনসুলিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এর অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস হয়।
C) কর্টিসল — এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং বিপাকক্রিয়া ও ধকল মোকাবেলায় কাজ করে।
D) ইস্ট্রোজেন — এটি মূলত নারী দেহঘটিত যৌন হরমোন যা সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
৫ মনে রাখার টিপস:
ইনসুলিনের সাথে মিষ্টি বা শর্করার সম্পর্ক মনে রাখলেই ডায়াবেটিসের সাথে এর যোগসূত্র সহজে মনে রাখা যায়।
অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে এবং এর অভাবেই শর্করা নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
ডায়াবেটিস মেলিটাস সম্পর্কিত প্রশ্ন বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
অগ্ন্যাশয়ের কোন কোষ থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়, তা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
সঠিক উত্তর: D) জারক রস বিতরণ করা
১. কেন সঠিক:
রক্ত মানুষের শরীরে অক্সিজেন, হরমোন এবং পুষ্টি উপাদান পরিবহণ করলেও জারক রস বা পরিপাক রস বিতরণ করে না।
জারক রস বা এনজাইম পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে সরাসরি খাদ্যনালীতে নিঃসৃত হয়, রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয় না।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: রক্ত হলো এক ধরনের তরল সংযোজক কলা যা অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্ষাইড, পুষ্টিদ্রব্য এবং হরমোন সারা শরীরে বহন করে।
কার্যপ্রণালি: রক্তের তরল অংশ প্লাজমা হরমোন ও পুষ্টি উপাদান কোষে পৌঁছে দেয় এবং লাল রক্তকণিকা গ্যাসীয় আদান-প্রদান সম্পন্ন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অগ্ন্যাশয় রস
ব্যাখ্যা: অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত জারক রস নালীর মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে খাদ্য পরিপাক করে, রক্তে মিশে বিতরণ হয় না।
উদাহরণ ২: গ্যাস্ট্রিক জুস
ব্যাখ্যা: পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে জারক রস সরাসরি পাকস্থলীর গহ্বরে আসে, রক্ত এর সাথে সম্পর্কিত নয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) অক্সিজেন বিতরণ করা — ফুসফুস থেকে সংগৃহীত অক্সিজেন রক্তে হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে সারা দেহের কোষে সরবরাহ হয়।
B) হরমোন বিতরণ করা — অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে লক্ষ্য অঙ্গে পৌঁছায়।
C) কার্বন ডাই-অক্ষাইড পরিবহণ করা — কোষের বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্ষাইড রক্ত দ্বারা ফুসফুসে বাহিত হয়।
D) জারক রস বিতরণ করা — এটি পরিপাকতন্ত্রের কাজ, রক্তের কাজ নয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রক্ত কেবল গ্যাস, পুষ্টি ও হরমোন বহন করে কিন্তু পাচক রস বা এনজাইম নালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে কাজ করে।
রক্তের কাজ মনে রাখতে OCH সূত্র মনে রাখতে পারো যেখানে O মানে অক্সিজেন, C মানে কার্বন ডাই-অক্ষাইড এবং H মানে হরমোন।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
রক্তের উপাদান এবং তাদের কাজ থেকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
রক্তরস কী এবং রক্তের প্লাজমায় কী পরিমাণ পানি থাকে, তা জেনে রাখা জরুরি।
সঠিক উত্তর: B) এডিস
১. কেন সঠিক:
- ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহনকারী মূল বাহক হলো এডিস প্রজাতির মশা, বিশেষ করে এডিস এইজিপ্টি মশা।
- এই মশাগুলো ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু এক সুস্থ মানুষের দেহে ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রোগ, জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ
- কার্যপ্রণালি: এডিস মশার দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করলে, মশাটি যখন সুস্থ মানুষকে কামড়ায় তখন লালার মাধ্যমে রক্তে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
- কারণ ও ফলাফল: ভাইরাসটি মানবদেহে বংশবৃদ্ধি করে এবং রক্তে platelets বা অনুচক্রিকা কমিয়ে দেয়, যার ফলে ডেঙ্গু জ্বর হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: দিনের বেলা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে, তাই ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এর বিস্তার রোধ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: বাসার টব বা এসির জমে থাকা পরিষ্কার পানি।
ব্যাখ্যা: এ ধরনের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মায় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
উদাহরণ ২: দিনের বেলা কামড়ানো।
ব্যাখ্যা: এডিস মশা সাধারণত রাতের বদলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে বেশি কামড়ায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) কিউলেক্স — এটি ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ এবং জাপানি এনসেফ্যালাইটিস রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে, ডেঙ্গুর জন্য নয়।
B) এডিস — এটি ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের প্রধান বাহক এবং সঠিক উত্তর।
C) অ্যানাফিলিস — এটি ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে, ডেঙ্গু ছড়ায় না।
D) সব ধরনের মশা — সব মশা ডেঙ্গু ছড়ায় না, কেবল নির্দিষ্ট প্রজাতির স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- ডেঙ্গু মশা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলা কামড়ায়, এই দুটি কথা মনে রাখলে সহজেই এডিস মশাকে চেনা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- এডিস মশা ডেঙ্গু ছাড়াও চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভার বা পীতজ্বর ছড়ায়।
- ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানাফিলিস মশা আর ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশা, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
প্রশ্নের ধরন: মানবদেহ ও শারীরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: C) মুখগহ্বরে
বিঃদ্রঃ প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে পাকস্থলীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। মানবদেহে খাদ্য হজম প্রক্রিয়া বা পরিপাক মূলত মুখগহ্বর থেকেই শুরু হয়। লালারসের উপস্থিত এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাক শুরু করে।
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহে খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই পরিপাক প্রক্রিয়া শুরু হয় মুখগহ্বরে।
- মুখের ভেতরে থাকা লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসে অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে যা শর্করা ভাঙতে শুরু করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পরিপাক হলো জটিল খাদ্যবস্তু ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য অণুতে পরিণত হওয়ার জৈবিক প্রক্রিয়া।
- কার্যপ্রণালি: মুখগহ্বরে দাঁত খাদ্যকে পিষে ছোট করে এবং লালারসের সঙ্গে মিশে রাসায়নিক পরিপাক শুরু করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মুখে ভাত বা রুটি দীর্ঘক্ষণ চিবোলে মিষ্টি লাগে।
ব্যাখ্যা: লালারসের অ্যামাইলেজ এনজাইম শর্করাকে ভেঙে শর্করা জাতীয় সরল উপাদানে পরিণত করে।
উদাহরণ ২: শুকনো বিস্কুট মুখে দিলে তা নরম ও পিচ্ছিল হয়।
ব্যাখ্যা: লালারসের মিউসিন খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে গিলতে সাহায্য করে এবং পরিপাকের সূচনা করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) পাকস্থলীতে — পাকস্থলীতে প্রধানত আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক শুরু হয়, তবে পরিপাক প্রক্রিয়াটি মুখগহ্বর থেকেই শুরু হয়ে এখানে এসে অব্যাহত থাকে।
B) ক্ষুদ্রান্ত্রে — ক্ষুদ্রান্ত্রে মূলত পরিপাকের বেশিরভাগ কাজ সমাপ্ত হয় এবং পুষ্টি উপাদান শোষিত হয়, এটি সূচনার স্থান নয়।
D) বৃহদান্ত্রে — বৃহদান্ত্রে কোনো খাদ্য পরিপাক হয় না, এখানে মূলত পানি ও খনিজ লবণ শোষিত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
খাবার মুখে তুললেই পরিপাক শুরু হয়, তাই মনে রাখবে মুখগহ্বর হলো পরিপাকের আদিবিন্দু। শর্করা পরিপাকের সূচনা মুখেই ঘটে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
লালারসের এনজাইমের নাম টায়ালিন বা অ্যামাইলেজ এবং এর কাজ শর্করা পরিপাক করা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পরিপাকের সূচনার স্থান নিয়ে প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: D) কোনটি নয়
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নে বলা হয়েছে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ কত হলে Thrombocytopenia বলে, যা একটি ভুল ধারণা।
- Thrombocytopenia হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে অণুচক্রিকা বা অনুচক্রিকার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: Thrombocytopenia হলো রক্তের এমন একটি ব্যাধি যেখানে অনুচক্রিকা বা প্লেটলেটের ঘাটতি দেখা দেয়।
- কারণ ও ফলাফল: এর ফলে শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হতে চায় না এবং ত্বকে কালচে দাগ বা রক্তবিন্দু দেখা দিতে পারে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডেঙ্গু জ্বর
ব্যাখ্যা: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অনেক সময় অনুচক্রিকা দ্রুত কমতে থাকে যা Thrombocytopenia অবস্থা নির্দেশ করে।
উদাহরণ ২: স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধা
ব্যাখ্যা: সুস্থ মানুষের রক্তে পর্যাপ্ত অনুচক্রিকা থাকায় ছোটখাটো কাটাছেঁড়ায় রক্ত দ্রুত জমাট বাঁধতে পারে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৮০০০ এর নিচে — এটি শ্বেত রক্ত কণিকার কোনো নির্দিষ্ট মান নয় এবং Thrombocytopenia এর সাথে সম্পর্কিত নয়।
B) ৪০০০ এর নিচে — এটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার স্বাভাবিক সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি, তবে এটি Thrombocytopenia নয়।
C) ১০০০০ এর নিচে — এটিও শ্বেত রক্ত কণিকার বা অনুচক্রিকার সঠিক রোগনির্ণয়ের মান নয়।
D) কোনটি নয় — সঠিক উত্তর কারণ Thrombocytopenia বলতে অনুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়াকে বোঝায়, শ্বেত রক্ত কণিকার নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- Thrombocytopenia শব্দটিতে Plaque বা Platelet এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যা অনুচক্রিকা নির্দেশ করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা কমে যাওয়াকে Leucopenia বলা হয় এবং অনুচক্রিকা কমে যাওয়াকে Thrombocytopenia বলা হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- মানুষের রক্তে অনুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ঘন মিলিমিটারে দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ।
- অনুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা।
সঠিক উত্তর: B) এসপিরিন
১. কেন সঠিক:
এসপিরিন রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
এর ফলে রক্তনালীর ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: এসপিরিন হলো একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ও নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ।
কার্যপ্রণালি: এটি মানবদেহের সাইক্লোঅক্সিজেনেস এনজাইমকে বাধাগ্রস্ত করে থ্রম্বোক্সেন এ দুই উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
কারণ ও ফলাফল: থ্রম্বোক্সেন কমে যাওয়ায় অণুচক্রিকাগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না এবং রক্ত পাতলা থাকে।
বাস্তব প্রয়োগ: হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ডাক্তাররা প্রতিদিন কম মাত্রার এসপিরিন সেবন করার পরামর্শ দেন।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকরা রোগীকে এসপিরিন চিবিয়ে খেতে দেন।
ব্যাখ্যা: এটি তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে।
উদাহরণ ২: দীর্ঘমেয়াদী রক্তনালীর চিকিৎসায় স্টেন্ট বসানোর পর চিকিৎসকরা এসপিরিন দেন।
ব্যাখ্যা: এটি কৃত্রিম নালীতে রক্ত জমাট বেঁধে ব্লক তৈরি হতে বাধা দেয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ডাইক্লোফেনাক — এটি একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ঔষধ, যা রক্ত পাতলা করে না।
B) এসপিরিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি রক্ত পাতলা রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে।
C) প্যারাসিটামল — এটি সাধারণত জ্বর ও মৃদু ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, রক্ত জমাট বাঁধার ওপর এর প্রভাব নেই।
D) প্যাথেডিন — এটি একটি শক্তিশালী মরফিনজাতীয় মাদকদ্রব্য যা তীব্র ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করতে এসপিরিন নামের প্রথম অক্ষর এস এবং স্ট্রোকের সঙ্গে মিল মনে রাখতে পারেন।
এসপিরিন রক্তনালীতে ট্রাফিক জ্যাম বা জমাট বাঁধা রোধ করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এসপিরিন মূলত এসিটাইলসাইলিসিলিক অ্যাসিড নামে পরিচিত যা একটি জৈব অম্ল।
একই ধারণা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে যে কোন উপাদানটি প্লাটিলেটের কার্যকারিতা কমায়।
সঠিক উত্তর: D) ১০০
১. কেন সঠিক:
- সুস্থ মানুষের বিশ্রামরত অবস্থায় স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হয়ে থাকে।
- হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১০০ বারের বেশি হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ট্যাকিকার্ডিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতিতে রক্ত পাম্প করতে শুরু করে।
- কার্যপ্রণালি: সাইনোট্রিয়াল নোডের অতিরিক্ত সক্রিয়তা বা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের ত্রুটির কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশিগুলো খুব দ্রুত সংকুচিত হয়।
- কারণ ও ফলাফল: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক উদ্বেগ, জ্বর বা ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে এটি হতে পারে এবং এর ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: প্রচণ্ড দৌড়ানোর পর একজন সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন হঠাৎ করে প্রতি মিনিটে ১১০ বার পর্যন্ত হতে পারে।
ব্যাখ্যা: এটি শারীরিক পরিশ্রমের কারণে সাময়িক ট্যাকিকার্ডিয়ার একটি স্বাভাবিক উদাহরণ।
উদাহরণ ২: অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানের পর বুক ধড়ফড় করা।
ব্যাখ্যা: ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় যা ট্যাকিকার্ডিয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪০ — ৪০ হৃদস্পন্দন অত্যন্ত কম এবং একে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়, যা ট্যাকিকার্ডিয়া নয়।
B) ৬০ — ৬০ হলো স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের নিম্নসীমা, তাই এটি বেশি নয়।
সি) ৯০ — ৯০ স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন সীমার মধ্যে রয়েছে, যা ১০০ এর কম।
ডি) ১০০ — ১০০ এর বেশি হলে তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া বলা হয়, তাই এটি সঠিক।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ট্যাকিকার্ডিয়া শব্দটি মনে রাখতে টেকো মানুষের দ্রুত মাথা গরম হওয়ার কথা ভাবতে পারেন, যেমন ট্যাকিকার্ডিয়া মানে দ্রুত হৃদস্পন্দন।
- সাধারণ হৃদস্পন্দন ষাট থেকে একশো এর মধ্যে থাকে, এর বেশি হলেই ট্যাকিকার্ডিয়া।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- হৃদস্পন্দন ষাটের কম হলে তাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়।
- বিসিএস পরীক্ষায় মানবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক মান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
সঠিক উত্তর: C) কার্বন মনোক্সাইড
১. কেন সঠিক:
- কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন নামক স্থায়ী যৌগ গঠন করে।
- এর ফলে রক্তে অক্সিজেন বহন করার স্বাভাবিক ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং কোষে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: হিমোগ্লোবিন হলো রক্তের লোহিত রক্তণিকায় থাকা একটি প্রোটিন, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে সরবরাহ করে।
- কার্যপ্রণালি: কার্বন মনোক্সাইডের প্রতি হিমোগ্লোবিনের আসক্তি বা বাঁধার ক্ষমতা অক্সিজেনের তুলনায় প্রায় দুইশত থেকে আড়াইশত গুণ বেশি।
- কারণ ও ফলাফল: এই গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে খুব শক্তভাবে আটকে থাকে ফলে অক্সিজেন আর হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না এবং টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: বদ্ধ ঘরে বা গ্যারেজে গাড়ি চালিয়ে রাখলে উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে মানুষ অবশ হয়ে মারা যায়।
- ব্যাখ্যা: কারণ এই গ্যাস রক্তের অক্সিজেন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে ব্রেন ও হৃৎপিণ্ডকে অকার্যকর করে ফেলে।
- উদাহরণ ২: অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করলে রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- ব্যাখ্যা: এর ফলে ধূমপায়ীদের শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষমতা কমে যায় এবং তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নাইট্রিক অক্সাইড — এটি রক্তনালীর প্রসারণ ঘটাতে সাহায্য করে তবে অক্সিজেনের সঙ্গে হিমোগ্লোবিনের সংযোগ সরাসরি খর্ব করে না।
B) সালফার ডাই-অঙ্গার বা সালফার ডাই-অক্সাইড — এটি প্রধানত শ্বাসনালীতে অস্বস্তি ও ফুসফুসের প্রদাহ সৃষ্টি করে কিন্তু রক্তে সরাসরি কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে না।
C) কার্বন মনোক্সাইড — এটি হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা খর্ব করে বলে এটি সঠিক উত্তর।
D) কার্বন ডাই-অক্সাইড — এটি শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ এবং এটি হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা খর্ব করে না বরং বোর প্রভাবে অক্সিজেন ছাড়তে সাহায্য করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মনোক্সাইড শব্দটিতে মনো অর্থ এক অর্থাৎ কার্বনের একটি পরমাণু যুক্ত হয়ে হিমোগ্লোবিনকে বন্দী করে ফেলে।
- এই বিষাক্ত গ্যাসকে নীরব ঘাতক বলা হয় কারণ এর কোনো রঙ বা গন্ধ থাকে না।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে কার্বন মনোক্সাইডের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা শতগুণ বেশি।
- বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাসকারী গ্যাস হিসেবে কার্বন মনোক্সাইডের নাম জানতে চাওয়া হয়।
সঠিক উত্তর: D) ভিটামিন-কে
১. কেন সঠিক:
ভিটামিন-কে মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী প্রোটিন তৈরি করতে অবারিত ভূমিকা পালন করে।
শরীরের কোথাও কেটে গেলে এই ভিটামিন রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: ভিটামিন-কে হলো ফ্যাট সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয় এক প্রকার ভিটামিন যা যকৃতে প্রোথ্রোম্বিন তৈরি করে।
কার্যপ্রণালি: রক্তে কোনো আঘাত পেলে প্রোথ্রোম্বিন ফাইব্রিনজেনে রূপান্তরিত হয়ে জালের মতো গঠন তৈরি করে রক্ত জমাট বাঁধায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: রান্নায় শাকসবজি ব্যবহার করা।
ব্যাখ্যা: পালং শাক বা বাঁধাকপিতে প্রচুর ভিটামিন-কে থাকে যা শরীরে এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে।
উদাহরণ ২: ছোটখাটো আঘাতের পর রক্ত জমাট বাঁধা।
ব্যাখ্যা: সুস্থ মানুষের শরীরে কেটে গেলে রক্ত দ্রুত জমে যায় যার পেছনে ভিটামিন-কে এর কাজ রয়েছে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ভিটামিন-সি — এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং মাড়ি শক্ত রাখে, তবে রক্ত জমাট বাঁধতে সরাসরি কাজ করে না।
B) ভিটামিন-বি — এটি স্নায়ুতন্ত্রের কাজ ঠিক রাখে এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে, রক্ত জমাট বাঁধার সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
C) ভিটামিন-ডি — এটি ক্যালসিয়াম শোষণ করে হাড় ও দাঁত শক্ত করে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় এর মূল ভূমিকা নেই।
D) ভিটামিন-কে — এটি রক্ত জমাট বাঁধার মূল উপাদান প্রোথ্রোম্বিন তৈরিতে সহায়তা করে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত বন্ধ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
কে (K) অক্ষরের সাথে কোয়াগুলেশন (Coagulation) বা রক্ত জমাট বাঁধার ইংরেজি শব্দটির মিল আছে।
এভাবে মনে রাখতে পারেন যে ভিটামিন-কে মানেই রক্ত জমাট বাঁধা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বহুবার এসেছে।
ভিটামিন-কে এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
সঠিক উত্তর: A) ক্ষতিকর
প্রদত্ত তথ্য:
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রায় একুশ শতাংশ
শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন মানবদেহের জন্য বিষাক্ত হিসেবে কাজ করে
ধরি,
মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার জন্য মিশ্র গ্যাস দরকার
১০০% অক্সিজেন সরাসরি গ্রহণ করলে ফুসফুসের কোষ নষ্ট হয়
অতএব,
অতিরিক্ত অক্সিজেনের কারণে ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়
এই ফ্রি রেডিক্যালগুলো কোষের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে
সুতরাং,
চিকিৎসাক্ষেত্রে শুধু বিশেষ প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় অক্সিজেন দেওয়া হয়
তাই শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন শরীরের জন্য সরাসরি অত্যন্ত ক্ষতিকর
উত্তর: A) ক্ষতিকর
সঠিক উত্তর: A) হেপাটাইটিস-A
১. কেন সঠিক:
- হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস মূলত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং যকৃতে সংক্রমণ ঘটায়।
- এটি রক্ত বা শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়ায় না, বরং একে ফেক্যাল-ওরাল বা মল-মুখ পন্থায় সংক্রমিত রোগ বলা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: রোগ, জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ।
- কার্যপ্রণালি: সংক্রামিত ব্যক্তির মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে এই ভাইরাস সুস্থ মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে এবং যকৃতে পৌঁছায়।
- বাস্তব প্রয়োগ: খাওয়ার আগে হাত সাবান দিয়ে ধোয়া এবং ফোটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ডায়রিয়া বা কলেরার মতো রোগ যেভাবে দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসও ঠিক একইভাবে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়।
ব্যাখ্যা: এটি ব্যক্তিগত সংস্পর্শ বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
উদাহরণ ২: কোনো হেপাটাইটিস-এ আক্রান্ত ব্যক্তি খাবার প্রস্তুত করলে এবং সেই খাবার অন্যরা খেলে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্যাখ্যা: এটি রক্তের মাধ্যমে নয় বরং খাদ্যের হাইজিনের ওপর নির্ভর করে ছড়ায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) হেপাটাইটিস-A — এটি খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়, রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় না বিধায় এটি সঠিক উত্তর।
B) হেপাটাইটিস-B — এটি সংক্রামিত রক্ত, সিরিঞ্জ বা শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।
C) ম্যালেরিয়া — এটি অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে ছড়ায়।
D) হেপাটাইটিস-C — এটি প্রধানত সংক্রামিত রক্ত এবং রক্তের উপাদানের মাধ্যমে ছড়ায়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- হেপাটাইটিস এর বর্ণমালা মনে রাখলে সহজ হয় যে এ (A) মানে অলিম্পিক বা খাবার-পানির আয়োজন অর্থাৎ অন্ত্র ও মুখ সংশ্লিষ্ট রোগ।
- বি (B) এবং সি (C) রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই কোন রোগ রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় আর কোনটি খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায় তা জানতে চাওয়া হয়।
- হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস রক্তবাহিত হলেও হেপাটাইটিস এ এবং ই খাদ্যবাহিত রোগ।
সঠিক উত্তর: B) ১২ জোড়া
১. কেন সঠিক:
- মানব মস্তিষ্কের বেইস বা তলদেশ থেকে উৎপন্ন হয়ে যে সমস্ত স্নায়ু মাথা ও ঘাড়ের বিভিন্ন অংশে সংকেত আদান-প্রদান করে, তাদেরকে করোটি স্নায়ু বা ক্র্যানিয়াল নার্ভ বলা হয়।
- মানুষের মস্তিষ্কে এ ধরনের স্নায়ু মোট ১২ জোড়া বা ২৪টি থাকে, যা আমাদের দর্শন, শ্রবণ, স্বাদ গ্রহণ ও মুখের পেশি চালনা করতে সাহায্য করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: করোটি স্নায়ু হলো পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্রের অংশ যা সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভূত হয়ে সারা শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে বার্তা পৌঁছে দেয়।
- কার্যপ্রণালি: এই স্নায়ুগুলোর কিছু সংবেদী যা বাইরের উদ্দীপনা মস্তিষ্কে নেয়, কিছু চেষ্টীয় যা মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ পেশিতে পাঠায় এবং কিছু মিশ্র প্রকৃতির হয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: আমরা চোখে যা দেখি বা কানে যা শুনি, তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে এই করোটি স্নায়ুগুলো সরাসরি কাজ করে থাকে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানুষের অপটিক স্নায়ু।
ব্যাখ্যা: এটি দ্বিতীয় করোটি স্নায়ু যা চোখ থেকে মস্তিষ্কে দৃশ্য বা প্রতিবিম্বের সংকেত প্রেরণ করে।
উদাহরণ ২: মানুষের ভেগাস স্নায়ু।
ব্যাখ্যা: এটি দশম করোটি স্নায়ু যা হৃদপিণ্ড ও পরিপাকতন্ত্রের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ১০ জোড়া — এটি ভুল কারণ মানুষের করোটি স্নায়ুর সংখ্যা ১০ জোড়া নয়, বরং সঠিক সংখ্যা হলো ১২ জোড়া।
B) ১২ জোড়া — এটি সঠিক অপশন এবং মানুষের মস্তিষ্কের করোটি স্নায়ুর সঠিক সংখ্যা এটিই।
C) ১৫ জোড়া — এটি ভুল কারণ মানুষের শারীরবৃত্তীয় গঠনে করোটি স্নায়ুর সংখ্যা ১৫ জোড়া কখনো হয় না।
D) ৮ জোড়া — এটি ভুল কারণ ৮ জোড়া হলো মানুষের সারভাইকাল বা গ্রীবা দেশীয় সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা, করোটি স্নায়ুর নয়।
৫. মনে রাখার টিপস:
- মানুষের করোটি স্নায়ুর সংখ্যা মনে রাখতে ১২ সংখ্যাটি মনে রাখুন, যা বছরের মাস সংখ্যার সমান।
- ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা করোটি স্নায়ু মাথা থেকে শুরু হয় এবং সংখ্যায় জোড়ায় জোড়ায় কাজ করে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- করোটি স্নায়ুর মোট সংখ্যা ১২ জোড়া—এই তথ্যটি বিসিএস এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার আসে।
- এখান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে সবচেয়ে দীর্ঘ বা বৃহত্তম করোটি স্নায়ু কোনটি, যার উত্তর হলো ভেগাস স্নায়ু।
সঠিক উত্তর: C) ৬
১. কেন সঠিক:
- সুষম খাদ্যে দেহের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকতে হয়।
- এই ছয়টি উপাদান খাদ্যের প্রধান পুষ্টি উপাদান হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সুষম খাদ্য হলো এমন একটি খাদ্য, যাতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ছয়টি পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে উপস্থিত থাকে।
- কার্যপ্রণালি: এই উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্রে ভেঙে শক্তির জোগান দেয়, কোষ গঠন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- বাস্তব প্রয়োগ: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূল রেখে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: এক প্লেট ভাতে শর্করা, মাছে আমিষ, সয়াবিন তেলে স্নেহ, এবং সালাদে ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি সুষম খাদ্যের বাস্তব রূপ, যা দেহের সব ধরনের পুষ্টির ঘাটতি একসঙ্গে পূরণ করে।
উদাহরণ ২: অসুস্থ রোগীকে ফলের জুস ও সুপ খাওয়ানো।
ব্যাখ্যা: এটি দ্রুত দেহে পুষ্টি ও পানি সরবরাহ করে শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ৪ — মানবদেহের প্রধান পুষ্টি উপাদান চারliegen বা চারটি ভিটামিন-মিনারেল বোঝাতে এটি ভুল সংখ্যা।
B) ৫ — খাদ্যের প্রধান উপাদান হিসেবে পাঁচ সংখ্যাটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়, কারণ পানি ও খনিজ লবণ আলাদা ধরা হয়।
D) ৭ — সুষম খাদ্যের মৌলিক উপাদান ছয়টি, তাই সাত সংখ্যাটি এই ধারণার সঙ্গে মেলে না।
৫. মনে রাখার টিপস:
- শামি শাকে ভিটামিন পানি খায়, এই ছড়ার মাধ্যমে ছয়টি উপাদানের প্রথম অক্ষর মনে রাখা যায়।
- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি - এই ক্রমটি মনে রাখলেই উত্তর নিশ্চিত করা সম্ভব।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি এবং কোনটি কোন কাজের জন্য দায়ী, তা BCS ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে শক্তি উৎপাদক উপাদান হলো শর্করা ও স্নেহ, আর দেহগঠনকারী উপাদান হলো আমিষ।
সঠিক উত্তর: B) মেলানিন
১. কেন সঠিক:
- মেলানিন হলো এক ধরণের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট যা মানুষের ত্বক, চুল এবং চোখের আইরিশের রঙ নির্ধারণ করে।
- ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের মেলানোসাইট কোষ থেকে এই মেলানিন উৎপন্ন হয় এবং এটি সূর্যরহিত অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: মেলানোসাইট নামক বিশেষ কোষ থেকে মেলানিন উৎপাদিত হয় এবং এর পরিমাণ বেশি থাকলে ত্বক অন্ধকার বা শ্যামলা হয় আর কম থাকলে ত্বক ফর্সা হয়।
- কার্যপ্রণালি: অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসলে মেলানিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যার ফলে মানুষ রোদে গেলে তামাটে বা রোদপোড়া রঙ ধারণ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: বিষুবীয় অঞ্চলের মানুষের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকে যা তাদের তীব্র রোদ ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর মানুষের ত্বক ও চুলে মেলানিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা: এটি তাদের অতিরিক্ত সূর্যালোক ও অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২: আলবিনো বা শ্বেতীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে মেলানিন তৈরি হয় না।
ব্যাখ্যা: মেলানিনের অনুপস্থিতির কারণে তাদের ত্বক, চুল ও চোখের রঙ সম্পূর্ণ সাদা বা বর্ণহীন হয়ে যায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) থায়ামিন — থায়ামিন হলো ভিটামিন বি এক যা শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে এবং এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
B) মেলানিন — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি মানুষের গায়ের রঙ নির্ধারণকারী মূল পিগমেন্ট।
C) ক্যারোটিন — ক্যারোটিন হলো একটি হলুদ বা কমলা রঙের রঞ্জক যা গাজর বা মিষ্টি আলুতে থাকে এবং এটি ত্বকের রঙ সামান্য প্রভাবিত করলেও মূল নিয়ামক নয়।
D) হিমোগ্লোবিন — হিমোগ্লোবিন হলো রক্তে উপস্থিত প্রোটিন যা অক্সিজেন বহন করে এবং এটি ত্বকে হালকা লালাভ বা গোলাপি আভা দিতে সাহায্য করে কিন্তু ত্বকের মূল রঙ নির্ধারণ করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- মানুষের গায়ের রঙের সাথে মেলানিনের সম্পর্ক মনে রাখার জন্য মনে রাখতে হবে এম দিয়ে মেলানিন এবং এম দিয়েই মানুষের চামড়ার মেলানিন স্তর বোঝায়।
- অতিরিক্ত মেলানিন মানে গাঢ় রঙ এবং কম মেলানিন মানে ফর্সা রঙ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- ত্বকের কোন কোষে মেলানিন উৎপন্ন হয় এই প্রশ্নটি প্রায়ই বিসিএস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে যার সঠিক উত্তর মেলানোসাইট কোষ।
- ভিটামিন ডি তৈরিতে সূর্যের আলোর ভূমিকা থাকলেও ত্বকের সুরক্ষায় মেলানিন প্রধান ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্নের ধরন: মানবদেহ ও শারীরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: D) none (সঠিক উত্তর হবে ১৩৫ থেকে ১৪৫ মিলিগ্রাম পার লিটার বা mmol/L)
১. কেন সঠিক:
- প্রশ্নে প্রদত্ত কোনো অপশনই মানবদেহের রক্তে সোডিয়াম আয়নের প্রকৃত স্বাভাবিক মানের সঙ্গে মেলে না।
- মানবদেহের রক্তরসে সোডিয়াম আয়নের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ১৩৫ থেকে ১৪৫ mmol/L এর মধ্যে থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: সোডিয়াম হলো শরীরের একটি প্রধান ইলেক্ট্রোলাইট যা কোষের বাইরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- কার্যপ্রণালি: এটি স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ এবং পেশির সংকোচন স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পানি বের হয়ে গেলে ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা: এটি রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা সাময়িক কমে যাওয়ার ফল যা শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট করে।
উদাহরণ ২: চিকিৎসায় স্যালাইন ব্যবহারের সময় শরীরে সোডিয়াম ও লবণের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা হয়।
ব্যাখ্যা: এটি রোগীর কোষে পুষ্টি ও তরল সরবরাহ নিশ্চিত করে পানিশূন্যতা দূর করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) 120-130 mmol/L — এই মানটি স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং এটি হাইপোনাট্রেমিয়া নামক অবস্থার নির্দেশ করে।
B) 135-155 mmol/L — এই পরিসীমাটি অনেক বেশি বিস্তৃত এবং এর উচ্চসীমা স্বাভাবিক মানের চেয়ে বেশি।
C) 160-170 mmol/L — এই মানটি অত্যন্ত বেশি এবং এটি হাইপারন্যাট্রেমিয়া নামক মারাত্মক অবস্থার নির্দেশ করে।
D) none — এই অপশনটি সঠিক কারণ ক, খ ও গ এর কোনো মানই প্রকৃত স্বাভাবিক মানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- সোডিয়ামের স্বাভাবিক মান মনে রাখতে ১৩৫ থেকে ১৪৫ সংখ্যা দুটি মনে রাখবে।
- এটি মানবদেহের রক্তের পিএইচ মান ৭ দশমিক ৩ পাঁচ থেকে ৭ দশমিক ৪৫ এর পরিমাপের সঙ্গে মিল রেখে মনে রাখা সহজ।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়াকে হাইপোনাট্রেমিয়া এবং বেড়ে যাওয়াকে হাইপারন্যাট্রেমিয়া বলে।
- এই ধরনের ইলেক্ট্রোলাইট সংক্রান্ত প্রশ্ন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: A) ফিমার
১. কেন সঠিক:
মানবদেহের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে শক্ত অস্থি হলো ফিমার, যা আমাদের উরুতে অবস্থিত। এটি শরীরের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বাংশের ভার বহন করে এবং চলাফেরায় প্রধান ভূমিকা রাখে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: মানবদেহে মোট দুইশত ছয়টি অস্থি থাকে যা অক্ষীয় ও উপাঙ্গীয় কঙ্কালে বিভক্ত।
কার্যপ্রণালি: ফিমার অস্থি ওপরের দিকে পেলভিস বা শ্রোণচক্রের অ্যাসিটাবুলামের সঙ্গে এবং নিচের দিকে টিবিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাঁটু ও হিপ জয়েন্ট গঠন করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: দৌড়ানোর সময় বা লাফানোর সময় ফিমার তীব্র ঘাত সহ্য করে।
ব্যাখ্যা: এই অস্থিটি অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় যান্ত্রিক চাপ সহ্য করতে পারে।
উদাহরণ ২: ভারী বস্তু বহন করার সময় উরুর পেশির সঙ্গে ফিমার যুক্ত হয়ে কাজ করে।
ব্যাখ্যা: এটি শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে লিভার বা লিভারের মতো কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ফিমার — এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম অস্থি।
B) টিবিয়া — এটি পায়ের নিচের অংশের বা শিন বোনের অংশ যা ফিমারের চেয়ে ছোট।
C) স্টেপস — এটি মানবদেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি যা কানের ভেতরে থাকে।
D) রেডিয়াস — এটি হাতের কবজি ও কনুইয়ের মধ্যবর্তী অস্থি যা ফিমারের তুলনায় অনেক ছোট।
৫. মনে রাখার টিপস:
সবচেয়ে বড় বা দীর্ঘ অস্থি মনে রাখতে ফিমার শব্দটি মনে রাখুন। শরীরের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরিমাপ করলে উরুর অস্থিই সবচেয়ে লম্বা।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের দীর্ঘতম অস্থি ফিমার এবং ক্ষুদ্রতম অস্থি স্টেপস সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। একই সঙ্গে মানবদেহের সবচেয়ে শক্ত অংশ কোনটি, এই প্রশ্নও আসতে পারে।
সঠিক উত্তর: D) ট্রিপসিন
১. কেন সঠিক:
ট্রিপসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম যা মানুষের অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়।
এটি আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে যা দেহ সহজে শোষণ করতে পারে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: পরিপাকতন্ত্রের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য ভেঙে ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করার জৈবিক প্রক্রিয়া।
কার্যপ্রণালি: অগ্ন্যাশয় থেকে নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন হিসেবে এটি খুদ্রান্ত্রে আসে এবং এন্টারোকিনেজ এনজাইমের সাহায্যে সক্রিয় ট্রিপসিনে রূপান্তরিত হয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মাংস বা ডিম খাওয়ার পর অন্ত্রে ট্রিপসিন আমিষ ভেঙে ছোট পেপটাইড তৈরি করে।
ব্যাখ্যা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল আমিষ সরল উপাদানে পরিণত হয়ে রক্তে মিশতে পারে।
উদাহরণ ২: ডাল বা সয়াবিন জাতীয় উদ্ভিজ্জ আমিষ পরিপাকেও ট্রিপসিন কাজ করে।
ব্যাখ্যা: উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উভয় প্রকার আমিষ পরিপাকেই এই এনজাইমের ভূমিকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) টায়ালিন — টায়ালিন বা স্যালাইভা অ্যামাইলেজ মুখের লালায় থাকে এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
B) লাইপেজ — লাইপেজ এনজাইম চর্বি বা লিপিড জাতীয় খাদ্য হজমে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
C) এমাইলেজ — এমাইলেজ অগ্ন্যাশয় ও লালায় উপস্থিত থেকে জটিল শর্করাকে ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত করে।
D) ট্রিপসিন — এটি আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সরাসরি সাহায্য করে তাই এটি সঠিক উত্তর।
৫ মনে রাখার টিপস:
আমিষ বা প্রোটিনের ইংরেজি শব্দের সঙ্গে ট্রিপসিন নামের মিল মনে রাখতে পারো।
শর্করার জন্য টায়ালিন আর আমিষের জন্য ট্রিপসিন এভাবে জোড়া মনে রাখবে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের প্রধান প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম হলো পেপসিন ও ট্রিপসিন।
কোন এনজাইম কোন খাদ্য উপাদান পরিপাক করে, এই সংক্রান্ত প্রশ্ন বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
সঠিক উত্তর: C) পিটুইটারী
১. কেন সঠিক:
- পিটুইটারী গ্রন্থিকে মানবদেহের প্রধান বা সর্বময় কর্তা গ্রন্থি বলা হয় কারণ এটি অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এই গ্রন্থিটি নিজে হরমোন নিঃসরণ করার পাশাপাশি অন্য গ্রন্থিগুলোকে হরমোন তৈরিতে উদ্দীপিত করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পিটুইটারী গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ছোট এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদন করে।
- কার্যপ্রণালি: এটি ট্রপিক হরমোন নিঃসরণ করে যা থাইরয়েড, এড্রেনাল ও প্রজনন গ্রন্থির কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বাস্তব প্রয়োগ: মানবদেহের বৃদ্ধি, বিপাক ক্রিয়া এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় এই গ্রন্থির উৎপাদিত হরমোন সরাসরি প্রভাব ফেলে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানবদেহের দৈহিক বৃদ্ধি।
ব্যাখ্যা: পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত গ্রোথ হরমোন শিশুদের হাড় ও পেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উদাহরণ ২: শরীরের পানির সমতা রক্ষা।
ব্যাখ্যা: এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন বৃক্কে পানির শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে রক্তের চাপ স্বাভাবিক রাখে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) এড্রেনাল — এটি বৃক্কের ওপরে অবস্থিত জরুরি হরমোন তৈরি করে তবে সব গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে না।
B) থাইরয়েড — এটি বিপাক হার নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন তৈরি করলেও অন্য গ্রন্থির প্রধান নয়।
C) পিটুইটারী — এটি অন্যান্য প্রধান গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে গ্রন্থির রাজা বলা হয়।
D) থাইমাস — এটি ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে বিশেষভাবে কাজ করে।
৫. মনে রাখার টিপস:
- পিটুইটারী গ্রন্থিকে মনে রাখতে পারো দেও বা রাজা হিসেবে যা শরীরের সব হরমোন কারখানাকে পরিচালনা করে।
- এটি মস্তিষ্কের নিচে মুকুটের মতো বসে থাকে তাই একে রাজা বলা হয়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- পিটুইটারী গ্রন্থিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড বা প্রধান গ্রন্থি বলা হয়।
- এই গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোন বা বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয় যার অভাবে বামনত্ব দেখা দেয়।
সঠিক উত্তর: B) যকৃত
১. কেন সঠিক:
- মানবদেহের হেপাটিক পোর্টাল শিরা পরিপাকতন্ত্র এবং প্লীহা থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত সরাসরি যকৃতে বহন করে নিয়ে আসে।
- যকৃতে এই রক্তের পুষ্টি উপাদানগুলো প্রক্রিয়াজাত হয় এবং ক্ষতিকর পদার্থসমূহ ফিল্টার বা নিষ্কাশিত হয়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পোর্টাল সিস্টেম হলো এমন একটি রক্তসংবহনতন্ত্র যেখানে একটি কৈশিক জালিকা থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে না গিয়ে অন্য কোনো অঙ্গের কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করে।
- কার্যপ্রণালি: অন্ত্র থেকে শোষিত গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পোর্টাল শিরার মাধ্যমে প্রথমে যকৃতে জমা হয় এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষণ
ব্যাখ্যা: অন্ত্রে খাদ্য পরিপাক হওয়ার পর গ্লুকোজ হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায় এবং গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত হয়।
উদাহরণ ২: বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ
ব্যাখ্যা: রক্তে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে এসে নিষ্ক্রিয় বা কম ক্ষতিকর উপাদানে রূপান্তরিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) চোখ — চোখ একটি সংবেদনশীল অঙ্গ এবং এর সাথে অপটিক স্নায়ু যুক্ত থাকে, কোনো পোর্টাল শিরা নয়।
B) যকৃত — এটি সঠিক উত্তর কারণ যকৃতের সাথেই হেপাটিক পোর্টাল শিরা সরাসরি যুক্ত থাকে।
C) মস্তিষ্ক — মস্তিষ্ক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ এবং এর সাথে ক্যারোটিড artery ও জুগুলার ভেইন যুক্ত থাকে।
D) কিডনি — কিডনি রেচনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ এবং এর সাথে রেনাল ধমনি ও রেনাল শিরা যুক্ত থাকে।
৫ মনে রাখার টিপস:
পোর্টাল শিরা মানেই যকৃত বা হেপাটিক সিস্টেম। মানবদেহে পরিপাকতন্ত্রের রক্ত সরাসরি যকৃতে পৌঁছানোর এই বিশেষ পথটিকে হেপাটিক পোর্টাল সিস্টেম বলা হয়।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। যকৃতকে মানবদেহের প্রধান জৈব রসায়নগার বলা হয় কারণ এটি পোর্টাল শিরার মাধ্যমে আসা রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান বিপাক করে।
সঠিক উত্তর: D) প্যাথজেনিক
১. কেন সঠিক:
- যেসব অণুজীব মানবদেহ বা অন্য জীবের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, তাদের সাধারণভাবে প্যাথজেন বা প্যাথজেনিক অণুজীব বলা হয়।
- এই অণুজীবগুলো পোষক দেহের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়ায়।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: প্যাথজেন বা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু হলো এমন সব ক্ষুদ্র জীব বা কণা যা রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
- কার্যপ্রণালি: এরা পোষক দেহের ভেতরে বংশবৃদ্ধি করে, বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন করে এবং টিস্যু ধ্বংস করে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট নিমোনিয়া রোগ।
ব্যাখ্যা: ডিপ্লোকোকাস নিমোনি নামের ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসে আক্রমণ করে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসকষ্ট তৈরি করে।
উদাহরণ ২: ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সর্দি-কাশি।
ব্যাখ্যা: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মানবদেহের শ্বাসনালীর কোষে প্রবেশ করে এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রোগ ছড়ায়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) ইনফেকশন — এটি রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নাম নয়, বরং জীবাণুর দ্বারা দেহে সংক্রমণ ঘটার অবস্থাকে বোঝায়।
B) ফ্লোরা — এটি কোনো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নয়, বরং মানবদেহ বা পরিবেশের স্বাভাবিক ও উপকারী অণুজীবের সমষ্টি।
C) টক্সিন — এটি কোনো অণুজীব নয়, বরং প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীব কর্তৃক উৎপাদিত ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ।
D) প্যাথজেনিক — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি রোগ সৃষ্টকারী অণুজীব বা গুণাবলিকে নির্দেশ করে।
৫ মনে রাখার টিপস:
- প্যাথজেন শব্দটির সঙ্গে প্যাথোলজি বা রোগবিদ্যা শব্দটি মিলিয়ে মনে রাখা যায়।
- প্যাথ অর্থ রোগ এবং জেন অর্থ উৎপাদনকারী, অর্থাৎ যা রোগ উৎপাদন করে।
৬ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া সবাই প্যাথজেনের অন্তর্ভুক্ত।
- একই ধারণা থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে যে মানবদেহের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি।
সঠিক উত্তর: B) নেফ্রন
১. কেন সঠিক:
বৃক্কের গঠন ও কাজের একক হলো নেফ্রন। মানবদেহের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ নেফ্রন থাকে যা রক্ত ছেঁকে মূত্র উৎপাদন করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: নেফ্রন রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে শরীর থেকে অপসারণ করে।
কার্যপ্রণালি: নেফ্রনের রেনাল করপাসল অংশ রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ আলাদা করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: ছাঁকনি দিয়ে চা পাতা আলাদা করা।
ব্যাখ্যা: যেভাবে ছাঁকনি তরল রেখে কঠিন পাতা আটকায়, নেফ্রন ঠিক তেমনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে নেয়।
উদাহরণ ২: পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট।
ব্যাখ্যা: প্ল্যান্ট যেভাবে ময়লা পানি পরিশ্রুত করে পানযোগ্য করে, নেফ্রনও রক্তকে সেভাবে পরিশোধিত করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) নিউরন - এটি স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক, যা উদ্দীপনা পরিবহন করে।
B) নেফ্রন - এটি বৃক্কের গঠন ও কাজের একক এবং সঠিক উত্তর।
C) পেসমেকার - এটি হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণ নিয়ন্ত্রণকারী কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক যন্ত্র।
D) হেপাটোসাইট - এটি যকৃতের প্রধান কোষ যা পিত্তরস তৈরি ও বিপাকক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
বৃক্ক বা কিডনির সাথে নেফ্রন শব্দটি যুক্ত, তাই মনে রাখবে কিডনি মানেই নেফ্রন। স্নায়ুর সাথে নিউরন যুক্ত থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিটি মানব বৃক্কে নেফ্রনের সংখ্যা প্রায় দশ লক্ষ। এই প্রশ্নটি বিসিএস এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বারবার আসে।
সঠিক উত্তর: B) ক্রোমোজোম
১. কেন সঠিক:
- ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত বংশগতির মূল ধারক যা পিতা-মাতা থেকে সন্তানের দেহে বৈশিষ্ট্য স্থানান্তর করে।
- এতে ডিএনএ এবং প্রোটিন থাকে যা জীবের শারীরিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াপ্রোটিন দ্বারা গঠিত সুতার মতো অংশ যা জিনের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- কার্যপ্রণালি: কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমগুলো সমানভাবে বিভক্ত হয়ে নতুন কোষে বংশগত তথ্য পৌঁছে দেয়।
- বাস্তব প্রয়োগ: মানুষের চোখের রঙ, চুলের ধরন বা উচ্চতা নির্ধারণে ক্রোমোজোমে থাকা জিন কাজ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: মানুষের চুল কোঁকড়ানো বা সোজা হওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি পিতামাতার দেহ থেকে ক্রোমোজোমের মাধ্যমে সন্তানে স্থানান্তরিত হয়।
উদাহরণ ২: বাবা-মায়ের চোখের রঙ বাদামী হলে সন্তানের চোখের রঙ বাদামী হওয়া।
ব্যাখ্যা: ক্রোমোজোমে থাকা জিনের বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ঘটে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) সাইটোপ্লাজম — এটি কোষের নিউক্লিয়াসের বাইরের জেলি সদৃশ অংশ যা অঙ্গাণু ধারণ করে, বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে না।
B) ক্রোমোজোম — এটি সঠিক উত্তর কারণ এটি জীবের বংশগতির বৈশিষ্ট্য সরাসরি বহন করে।
C) নিউক্লিয়াস — এটি কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র যেখানে ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু নিজে সরাসরি বংশগতির একক বা বাহক নয়।
D) নিউক্লিওলাস — এটি নিউক্লিয়াসের ভেতরের ঘন গোল আকৃতির বস্তু যা রাইবোসোম তৈরি করে, বংশগতি বহন করে না।
৫ মনে রাখার টিপস:
- ক্রোমোজোম শব্দটির সাথে ক্রম কথাটি মনে রাখতে পারেন, যা বংশের ক্রম বা ধারা বজায় রাখে।
- বংশগতির বাহক বললেই ক্রোমোজোমের কথা মাথায় আনতে হবে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি কোষ ও বংশগতি অধ্যায় থেকে প্রায়ই আসে।
- জিন, ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।
সঠিক উত্তর: C) DNA-তে
১. কেন সঠিক:
মানবদেহের সমস্ত জিন মূলত ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের মধ্যে অবস্থান করে।
বংশগতির সমস্ত বৈশিষ্ট্য এবং সেলুলার কার্যাবলির নির্দেশিকা ডিএনএর ভেতরে কোডেড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মূল ধারণা: জিন হলো বংশগতির মৌলিক একক যা ক্রোমোজোমে অবস্থিত ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশ।
কার্যপ্রণালি: কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে ক্রোমোজোমের অংশ হিসেবে ডিএনএ থাকে এবং প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
৩. উদাহরণ:
উদাহরণ ১: চোখের রঙের ভিন্নতা।
ব্যাখ্যা: মানুষের চোখের রঙ বাদামী বা নীল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জিন দায়ী যা ডিএনএ তে থাকে।
উদাহরণ ২: উচ্চতা নির্ধারণ।
ব্যাখ্যা: মানুষের লম্বা বা খাটো হওয়ার শারীরিক বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে ডিএনএ থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
A) RNA-তে — আরএনএ মূলত প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং কোষের বার্তা পরিবহনে কাজ করে, জিন ধারণ করা এর প্রধান কাজ নয়।
B) RBC-তে — পূর্ণাঙ্গ লোহিত রক্তণিকায় নিউক্লিয়াস বা ডিএনএ থাকে না, তাই এতে মানব জিন থাকে না।
D) সাইটোপ্লাজমে — সাইটোপ্লাজম কোষের অন্যান্য অঙ্গাণু ধারণ করে, কিন্তু মূল জিন বা নিউক্লীয় ডিএনএ নিউক্লিয়াসে থাকে।
৫. মনে রাখার টিপস:
জিন মানেই বংশগতির ব্লুপ্রিন্ট এবং এই ব্লুপ্রিন্ট সবসময় ডিএনএ ফ্রেমে সংরক্ষিত থাকে।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
মানবদেহের কোষে সাধারণত তেইশ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে যার মূল উপাদান ডিএনএ।
পরীক্ষায় প্রায়ই আসে বংশগতির মূল একক কী, যার উত্তর হবে জিন।
সঠিক উত্তর: C) শিশু
১. কেন সঠিক:
- পেডিয়াট্রিক শব্দটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখাকে নির্দেশ করে যা শিশু রোগ ও তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে।
- নবজাতক থেকে শুরু করে কৈশোর পর্যন্ত শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, বিকাশ এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা এর অন্তর্ভুক্ত।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
- মূল ধারণা: পেডিয়াট্রিক্স বা শিশু চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেই শাখা যা শিশু স্বাস্থ্য ও রোগ নিয়ে আলোচনা করে।
- কার্যপ্রণালি: জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন জটিলতা এই বিভাগের মাধ্যমে নিরাময় করা হয়।
৩. উদাহরণ:
- উদাহরণ ১: কোনো নবজাতকের জন্মগত শ্বাসকষ্ট বা জন্ডিস হলে তাকে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিশিয়ানের কাছে নেওয়া হয়।
- ব্যাখ্যা: এটি শিশু দেহের সংবেদনশীল শারীরবৃত্তীয় অবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
- উদাহরণ ২: শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি পেডিয়াট্রিক ক্ষেত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ব্যাখ্যা: এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে।
৪. বাকি অপশন কেন ভুল:
- A) পুরুষ — পুরুষদের স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখা কাজ করে তাকে অ্যান্ড্রোলজি বা ইউরোলজি বলা হয়, পেডিয়াট্রিক নয়।
- B) মহিলা — মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও রোগ সংক্রান্ত চিকিৎসাবিদ্যাকে গাইনোকোলজি বলা হয়, যা শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- C) শিশু — এই অপশনটি সঠিক কারণ পেডিয়াট্রিক শব্দটির আভিধানিক ও বৈজ্ঞানিক অর্থ শিশু স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা।
- D) বৃদ্ধ — বয়স্ক মানুষের বার্ধক্যজনিত রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখা কাজ করে তাকে জেরিয়াট্রিক্স বলা হয়।
৫ মনে রাখার টিপস:
- পেডিয়াট্রিক শব্দের শুরুতে থাকা পেডিয়া অংশটি পেড বা শিশু শব্দ থেকে এসেছে, যা গ্রিক শব্দ পেয়েস থেকে উদ্ভূত।
- বয়স্কদের ক্ষেত্রে জেরিয়াট্রিক্স এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পেডিয়াট্রিক্স মনে রাখলে সহজে পার্থক্য করা যায়।
৬. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার নাম প্রায়ই আসে।
- যেমন, চক্ষু চিকিৎসাকে অফথালমোলজি এবং ত্বক চিকিৎসাকে ডার্মাটোলজি বলা হয়।
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)
বাংলা (১৫) •
ইংরেজী (১৫) •
গণিত (১০) •
সাধারণ জ্ঞান (১০) •
বিজ্ঞান (১০) •
কম্পিউটার (১০) •
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০) •
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০) •
ভূগোল (১০) •
মোট প্রশ্ন (১০০)